দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

পুলিশে একের পর এক রদবদল, অপরাধ দমনে নতুন পরীক্ষা

পুলিশে একের পর এক রদবদল, অপরাধ দমনে নতুন পরীক্ষা

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে ধারাবাহিক রদবদল, বদলি ও পদায়নকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই পরিবর্তন মাঠপর্যায়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে? সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইউনিট ও জেলা পর্যায়ে একাধিক দফায় বদলি ও পদায়ন হয়েছে। আগস্ট ২০২৬-এ ২৩ জন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি এবং ছয়জনকে চাকরি থেকে অপসারণের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে জুলাই মাসেও একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে বদলি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কোনো কর্মকর্তা দীর্ঘদিন একই এলাকায় দায়িত্ব পালন করলে প্রশাসনিক ভারসাম্য, জবাবদিহি ও কার্যক্রমে নতুন গতি আনতে বদলি প্রয়োজন হতে পারে। আবার কোনো কর্মকর্তার কর্মদক্ষতা, তদন্তের অগ্রগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিংবা প্রশাসনিক প্রয়োজন বিবেচনায় নতুন দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।আরও পড়ুন: অনলাইন পোর্টাল ও ফেসবুক পেজ খুলেই কথিত ‘সাংবাদিক’!একটি থানার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ শুধু একজন ওসির ব্যক্তিগত দক্ষতার ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে বিট পুলিশিং, সোর্স নেটওয়ার্ক, স্থানীয় অপরাধীদের তথ্যভান্ডার, মামলার তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য, সিসিটিভি বিশ্লেষণ, মাদক ও অস্ত্রের উৎস শনাক্তকরণ এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ। একজন নতুন কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহণ করলে তাকে প্রথমে এলাকার অপরাধের ধরন, অপরাধী চক্র, মাদক ব্যবসার রুট, চুরি-ছিনতাইয়ের স্পট, কিশোর গ্যাংয়ের গতিবিধি এবং স্থানীয় বিরোধ সম্পর্কে ধারণা নিতে হয়। ফলে ঘন ঘন পরিবর্তন হলে তথ্য ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।অন্যদিকে নতুন কর্মকর্তার আগমন অনেক ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগও তৈরি করে। দীর্ঘদিনের কোনো সমস্যা যদি আগের নেতৃত্বের সময়ে সমাধান না হয়, নতুন কর্মকর্তা নতুন কৌশল গ্রহণ করে সেটি মোকাবিলা করতে পারেন। অর্থাৎ বদলি নিজে ভালো বা খারাপ—এমন সরল সমীকরণে বিষয়টি দেখার সুযোগ নেই। আসল বিষয় হচ্ছে, বদলির পর নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে কতটা স্বাধীনতা, প্রয়োজনীয় জনবল, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং জবাবদিহির কাঠামো দেওয়া হচ্ছে।আরও পড়ুন: বনানীতে ফের সক্রিয় অপরাধচক্র, পুলিশের মাসোহারাসাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের মধ্যে বদলি, অবসর, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও পদোন্নতি নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়ছে বলে সংবাদমাধ্যমে কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। দ্য ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অনিশ্চয়তার কারণে কিছু পুলিশ কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক হয়ে উঠছেন, বিশেষ করে যেসব সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে বিতর্কিত হতে পারে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের মনোবল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন মাঠ কর্মকর্তা যদি প্রতিটি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক দ্বিধায় থাকেন, তাহলে অপরাধী শনাক্ত, অভিযান পরিচালনা কিংবা তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তার কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। তবে একই সঙ্গে জবাবদিহিও অপরিহার্য। পুলিশের হাতে আইন প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে। সেই ক্ষমতা যেন আইনের বাইরে ব্যবহার না হয়, সেটি নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ, যেখানে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা পাবেন এবং একই সঙ্গে বেআইনি কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহিও নিশ্চিত হবে।আরও পড়ুন: বনানীতে স্পা-গেস্ট হাউজ ঘিরে ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগসাধারণ মানুষের কাছে পুলিশের কার্যকারিতা মূলত দৃশ্যমান হয় থানায়। একজন নাগরিক থানায় গিয়ে মামলা করতে পারছেন কি না, অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে কি না, বিপদের সময় পুলিশ দ্রুত পৌঁছাচ্ছে কি না, মাদক বা কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না এসব প্রশ্নের উত্তরই জনমনে পুলিশের প্রতি আস্থার ভিত্তি তৈরি করে। ২০২৬ সালের পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীও পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ককে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ যদি জনগণের কাছে আস্থা ও নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে, তাহলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। নতুন কর্মকর্তারা দায়িত্ব নেওয়ার পর যদি থানাভিত্তিক অপরাধের তালিকা তৈরি করেন, পুরোনো মামলার তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে কার্যকর অভিযান পরিচালনা করেন এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ স্থাপন করেন, তাহলে রদবদল কার্যকর ফল দিতে পারে।অন্যদিকে শুধু চেয়ার বদল হলে কিন্তু কার্যপদ্ধতিতে পরিবর্তন না এলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। বর্তমান সময়ে অপরাধের ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রচলিত চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসার পাশাপাশি কিশোর গ্যাং, অনলাইন প্রতারণা, সাইবার অপরাধ, ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অপরাধ বাড়ছে। বিশেষ করে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সরকারও গুরুত্ব দিচ্ছে। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এটি দেখিয়ে দেয়, শুধু মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা পরিবর্তন করলেই আধুনিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। প্রয়োজন দক্ষতা ও প্রযুক্তির সমন্বয়।আরও পড়ুন: অপরাধ দমনে নতুন ছকে ডিএমপিঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ মহানগরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ পুলিশের জন্য আরও জটিল। এখানে একদিকে রয়েছে চুরি-ছিনতাই, মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড; অন্যদিকে রয়েছে সাইবার অপরাধ, প্রতারণা, অবৈধ ব্যবসা এবং বিভিন্ন ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ। রাজধানীর কোনো থানায় নতুন কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে শুধু মামলা তদন্ত করলেই হবে না। এলাকার অপরাধের হটস্পট, অপরাধী চক্রের যোগাযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল, মাদক সরবরাহের পথ, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরাধীদের তৎপরতা—সবকিছু সম্পর্কে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গোয়েন্দা পুলিশ, থানা পুলিশ, সাইবার ইউনিট ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় অপরিহার্য।অপরাধ দমনে পুলিশের কার্যকারিতা বাড়াতে হলে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পেশাগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ থাকতে হবে। একই সঙ্গে তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর যথাযথ নজরদারিও থাকতে হবে। কারণ পুলিশকে একদিকে অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর হতে হয়, অন্যদিকে সাধারণ নাগরিকের অধিকারও রক্ষা করতে হয়। আইনের প্রয়োগে ভারসাম্য নষ্ট হলে পুলিশের প্রতি জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য স্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। কতগুলো মামলা তদন্তাধীন, কতজন পলাতক আসামি রয়েছে, কোন এলাকায় অপরাধ বেশি, কোন অপরাধের হার বাড়ছে এবং কোন অপরাধী চক্র সক্রিয় এসব তথ্যের ভিত্তিতে থানার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা করা যেতে পারে।আরও পড়ুন: ডিএমপির কয়েকটি থানায় দৃশ্যমান পরিবর্তনআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার দায়িত্ব শুধু পুলিশের নয়। প্রশাসন, স্থানীয় সরকার, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণকেও এতে যুক্ত হতে হবে। একটি এলাকায় কিশোর গ্যাং তৈরি হলে শুধু কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাদের পেছনের সামাজিক পরিবেশ, মাদক, বেকারত্ব, পারিবারিক সংকট এবং অপরাধী চক্রের প্রভাবও বিবেচনায় নিতে হয়। একইভাবে মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে হলে শুধু খুচরা বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করলে হবে না; সরবরাহের উৎস, অর্থের প্রবাহ ও নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে হবে।অপরাধী যদি রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক প্রভাব, অর্থনৈতিক ক্ষমতা কিংবা অন্য কোনো পরিচয়ের কারণে আইনের বাইরে থাকার সুযোগ পায়, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা কমে যেতে পারে। অপরাধ দমনে পুলিশের জন্য তাই একটি মৌলিক নীতি কার্যকর হওয়া প্রয়োজন অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধের প্রমাণ ও আইনের বিধানই হবে ব্যবস্থা গ্রহণের ভিত্তি।আরও পড়ুন: অনলাইন পোর্টাল ও ফেসবুক পেজ খুলেই কথিত ‘সাংবাদিক’!বর্তমান রদবদলের পর পুলিশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রশাসনিক পরিবর্তনকে মাঠপর্যায়ের কার্যকর পরিবর্তনে রূপ দেওয়া। নতুন কর্মকর্তারা যদি শুধু দায়িত্ব বুঝে নিয়ে নিয়মিত প্রশাসনিক কাজ চালিয়ে যান, তাহলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা কঠিন হবে। বিপরীতে তারা যদি অপরাধের ধরন বিশ্লেষণ করে তথ্যভিত্তিক পুলিশিং, দ্রুত তদন্ত, প্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্যের কার্যকর প্রয়োগ এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে পারেন, তাহলে পরিবর্তনের বাস্তব সুফল দেখা যেতে পারে। বর্তমানে সরকারও পুলিশের আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সাইবার অপরাধ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।সব মিলিয়ে পুলিশের বর্তমান রদবদলকে শুধু কর্মকর্তা পরিবর্তন হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত প্রভাব বোঝা যাবে না। এর সফলতা নির্ভর করবে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব, আইনানুগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জবাবদিহি, জনবল ও প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং সর্বোপরি জনগণের সঙ্গে পুলিশের আস্থার সম্পর্ক কতটা শক্তিশালী করা যায় তার ওপর।আরও পড়ুন: পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা মব কালচারকারণ শেষ পর্যন্ত একজন সাধারণ নাগরিকের কাছে পুলিশের সাফল্যের হিসাব খুবই সরল বিপদের সময় পুলিশ পাশে দাঁড়িয়েছে কি না, অপরাধীর বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ হয়েছে কি না এবং মানুষ নিজেকে নিরাপদ মনে করছে কি না। সুতরাং বর্তমান রদবদলের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে আগামী দিনগুলোর মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে। নতুন কর্মকর্তাদের জন্য এটি যেমন নতুন দায়িত্ব, তেমনি পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা পুনর্গঠনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। আর সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগানো যায় তার উত্তর দেবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের বাস্তব চিত্র।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

বলেশ্বর নদীতে চারজনকে হত্যার অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে মেজর সাব্বিরের সাক্ষ্য

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী নজরুল ইসলামসহ চারজনকে চোখ বেঁধে গুলি করে বলেশ্বর নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দেওয়া সাক্ষ্যে এমন দাবি করেছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর সাব্বির।বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর গুমের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। তার সাক্ষ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের মে মাসে র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার তৎকালীন প্রধান জিয়াউল আহসানের উপস্থিতি ও নির্দেশে র‍্যাব-৮-এর গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা ওই হত্যাকাণ্ড ঘটান।মেজর সাব্বির জানান, পাথরঘাটার চরদুয়ানি এলাকার বলেশ্বর নদীতে একটি ফিশিং ট্রলারে করে চারজনকে নিয়ে যাওয়া হয়। আরও  পড়ুন, কামরুল আহসান হলেন নতুন এসবি প্রধানতাদের মুখ ও পুরো শরীর ঢাকা ছিল। পরে তাদের হত্যা করে মরদেহ পানিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন তিনি।একই পদ্ধতিতে ২০১০ সালে আরও একজনকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান মেজর সাব্বির।এ ছাড়া ২০১১ সালে জিয়াউল আহসানের কথিত ‘গলফ অপারেশনে’ ব্যবহৃত ট্রলারের মাঝিদের একজন আলকাস মাঝিকেও গুম করে হত্যা করা হয় বলে সাক্ষ্য দেন তিনি।গুমের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে এর আগে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়াসহ সেনা ও র‍্যাবের কর্মকর্তারা সাক্ষ্য দিয়েছেন।মামলার পরবর্তী ধাপে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য নেওয়া হবে। এরপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচারিক কার্যক্রম এগোবে বলে জানা গেছে।

কামরুল আহসান হলেন নতুন এসবি প্রধান

পুলিশের বিশেষ শাখা বা এসবির নতুন প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান।বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখার উপসচিব তৌছিফ আহমেদ।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি অতিরিক্ত আইজিপি পদে আরও  পড়ুন, হাফেজদের অর্জন বাংলাদেশের গৌরব: প্রধানমন্ত্রীপদোন্নতি পাওয়া পুলিশ অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসানকে ঢাকায় পুলিশের বিশেষ শাখায় অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।এই বদলির ফলে তিনি পুলিশের বিশেষ শাখার প্রধানের দায়িত্বও পালন করবেন।এদিকে এত দিন এসবি প্রধানের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিনকে পুলিশ অধিদপ্তরে বদলি করা হয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

হাফেজদের অর্জন বাংলাদেশের গৌরব: প্রধানমন্ত্রী

দেশের মানুষের ভালো অর্জনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশি হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার এ কথা বলেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে ভালো কিছু অর্জন করলে সরকার রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে।আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা যে পুরস্কার অর্জন করে দেশে ফিরেছেন তা শুধু তাদের ব্যক্তিগত অর্জন নয়। তার মতে, এটি বাংলাদেশের মুসলমানদেরও অর্জন।ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতাসহ এ ধরনের আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে তা করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজেদের পাশাপাশি দেশের মানুষের জন্য সম্মান ও গৌরব বয়ে আনুক।আরও  পড়ুন, নির্বাচনি ব্যয়ে প্রার্থীর সঙ্গে এজেন্টের ব্যাংক হিসাবও দিতে হবেপ্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সবার সহযোগিতা নিয়ে দেশের জন্য ভালো পরিবর্তন করতে চায় সরকার। একই সঙ্গে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে চলার কথাও জানান তিনি।সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে বাংলাদেশের কয়েকজন হাফেজ বিভিন্ন বিভাগে সাফল্য অর্জন করেন।হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন। হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ৩০ পারা হিফজ তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় হন।এ ছাড়া হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ১৫ পারা এবং হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ ৩০ পারা হিফজ তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।

নির্বাচনি ব্যয়ে প্রার্থীর সঙ্গে এজেন্টের ব্যাংক হিসাবও দিতে হবে

নির্বাচনি ব্যয়ের তথ্য দাখিলের ক্ষেত্রে প্রার্থীর পাশাপাশি প্রার্থীর নিয়োজিত নির্বাচনি এজেন্টের ব্যাংক হিসাব নম্বর অন্তর্ভুক্ত করার বিধান করেছে নির্বাচন কমিশন।বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপনে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ২০০৮ সংশোধনের বিষয়টি জানানো হয়। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বরও সংশোধিত বিধিমালা নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে কমিশন।সংশোধিত বিধান অনুযায়ী মনোনয়নপত্রের ফরম-১-এ নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহের ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে প্রার্থী অথবা প্রার্থীর নিয়োজিত নির্বাচনি এজেন্টের হিসাব নম্বর উল্লেখ করতে হবে।একই সঙ্গে প্রার্থীর হলফনামার কয়েকটি বিধানেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। হলফনামার সংযুক্তি-১-এর বিশেষ দ্রষ্টব্য অংশে আগে যে তথ্য সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক ছিল তা এখন ঐচ্ছিক হিসেবে বিবেচিত হবে।আরও  পড়ুন, বৃত্তি পরীক্ষার দিনে ইউপি ভোটের সম্ভাব্য তারিখএ ছাড়া হলফনামায় ‘অভিযুক্ত’ শব্দটির ব্যাখ্যাও যুক্ত করা হয়েছে। সংশোধিত বিধানে বলা হয়েছে আদালত কর্তৃক যার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়েছে তাকেই অভিযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হবে।প্রার্থীর হলফনামায় স্বামী বা স্ত্রী সন্তান ও নির্ভরশীলদের আয়করসংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার বিষয়টিও ঐচ্ছিক করা হয়েছে।এদিকে নির্বাচনি প্রতীকের তালিকাতেও নতুন বিধান যুক্ত হয়েছে। গেজেটে মোট ১২০টি নির্বাচনি প্রতীকের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ নম্বর প্রতীক হিসেবে নৌকাকে স্থগিত দেখানো হয়েছে।সংশোধিত বিধান অনুযায়ী স্থগিত প্রতীক বাদ দিয়ে তালিকাভুক্ত প্রতীকগুলোর মধ্য থেকে প্রাপ্যতা সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া যাবে।

রাজনীতিরাজনীতি

চলতি বছরের শেষে ইউপি ভোট পাঁচ ধাপে চায় বিএনপি

চলতি বছরের শেষে ইউপি ভোট পাঁচ ধাপে চায় বিএনপি

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পাঁচ ধাপে আয়োজনের পক্ষে বিএনপি। চলতি বছরের শেষ দিকে প্রথম ধাপ শুরু করে আগামী বছরের মার্চের মধ্যে সব ধাপের ভোট শেষ করার পক্ষে দলটি।বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে পাঁচ ধাপে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নির্বাচন কমিশনই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।তার ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশনের সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা ভালো। স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে কোনো দূরত্ব তৈরি হবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।আরও  পড়ুন, ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে: রিজভীএর আগে নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে আগামী ১২ নভেম্বর ভোট আয়োজনের কথা জানানো হয়। তবে এগুলো ছিল প্রাথমিক পরিকল্পনা।এদিকে বিএনপি পাঁচ ধাপে ভোট আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে। দলটির পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি বছরের শেষ দিকে ভোট শুরু করে আগামী বছরের মার্চের মধ্যে তা শেষ করার কথা বলা হয়েছে।স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পরিকল্পনাও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর তিন দিনে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার কথা রয়েছে। সেখানে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মতামত নেওয়া হবে।

ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে: রিজভী

ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে: রিজভী

শেখ হাসিনাসহ গণহত্যায় অভিযুক্তদের আশ্রয় দিয়ে ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দলের আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও ভারত তাতে সাড়া দিচ্ছে না। এ নিয়ে ভারতের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তেরও প্রশংসা করেন বিএনপির এই নেতা। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রীকে সরকারপ্রধান হিসেবে আমন্ত্রণ না জানিয়ে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।রিজভীর অভিযোগ, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পরদিনই ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের ঘটনা ঘটে। আরও  পড়ুন, বিলুপ্ত হলো নীলফামারী জেলা বিএনপির ৩৩ সদস্যের কমিটিতিনি এটিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দাবি করেন। এ বক্তব্যের বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে রিজভীর অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।দেশের জ্বালানি সংকট নিয়েও বক্তব্য দেন রিজভী। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে এবং সরকার বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে।এ সময় বর্তমান সরকারের সময় দেশে আইনশৃঙ্খলা ও বাকস্বাধীনতা পরিস্থিতি নিয়ে নিজের দলের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। রিজভীর দাবি, রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে বর্তমানে কেউ গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হচ্ছেন না।এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের ঐতিহ্য নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। ঐতিহাসিক স্থানটির চরিত্র পরিবর্তনের যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করেন তিনি।সমাবেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন ।

বিলুপ্ত হলো নীলফামারী জেলা বিএনপির ৩৩ সদস্যের কমিটি

বিলুপ্ত হলো নীলফামারী জেলা বিএনপির ৩৩ সদস্যের কমিটি

নীলফামারী জেলা বিএনপির ৩৩ সদস্যবিশিষ্ট বিদ্যমান আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে বিএনপি।বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নীলফামারী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক এবং সদস্যসচিব এ এইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেলের নেতৃত্বাধীন ৩৩ সদস্যবিশিষ্ট বিদ্যমান আহ্বায়ক কমিটি নির্দেশক্রমে বিলুপ্ত করা হয়েছে। আরও  পড়ুন, শাপলা কর্নার উদ্বোধনে আসিফ মাহমুদকে ধন্যবাদ জানালেন মামুনুল হকতবে কমিটি বিলুপ্তের কারণ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।একই সঙ্গে নীলফামারী জেলা বিএনপির নতুন কমিটি শিগগিরই ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।দলের পক্ষ থেকে নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। ফলে নতুন কমিটিতে কারা দায়িত্ব পাচ্ছেন তা নিয়ে এখন দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।এদিকে বিদ্যমান আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় নীলফামারী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন নেতৃত্ব আসার প্রক্রিয়া শুরু হলো।দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।

শাপলা কর্নার উদ্বোধনে আসিফ মাহমুদকে ধন্যবাদ জানালেন মামুনুল হক

শাপলা কর্নার উদ্বোধনে আসিফ মাহমুদকে ধন্যবাদ জানালেন মামুনুল হক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।রাজধানীতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত ইসলামী বইমেলায় শাপলা কর্নারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কৃতজ্ঞতা জানান।মামুনুল হক বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় আয়োজনে সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের জন্য তিনি আসিফ মাহমুদকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।তিনি বলেন, শাপলা চত্বরের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আরও  পড়ুন, আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানি মামলার হুঁশিয়ারি ফরিদা ইয়াসমিনের২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেরণার সঙ্গেও ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার একটি যোগসূত্র রয়েছে।মামুনুল হক আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের মতো শাপলা চত্বরের নিহতদেরও পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার দাবি অব্যাহত থাকবে। এ দাবিতে সংসদ ও রাজপথে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে ঘিরে সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দাবি ও হিসাব সামনে এসেছে। ঘটনাটি নিয়ে বিচার ও তদন্তের দাবিও বিভিন্ন পক্ষ থেকে অব্যাহত রয়েছে।

সারাবাংলা

ভূলবশত ঘাসমারা ঔষধ সেবনে কালিগঞ্জে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

ভূলবশত ঘাসমারা ঔষধ সেবনে কালিগঞ্জে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে সেভেন আপের বোতলে রাখা ঘাসমারা ঔষধ সেবন করে জেহের আলী গাজী (৫৩) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু করুণ হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর '২৬) রাতে উপজেলার রতনপুর এলাকায় ঘটে। নিহত জেহের আলী গাজী কালিগঞ্জ উপজেলার উচ্ছেপাড়া গ্রামের মৃত মীর আলী গাজীর ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রতনপুর এলাকার এক মুদিদোকানে সেভেন আপের বোতলে থাকা ঘাসমারা ঔষধ সেবন করেন জেহের আলী গাজী। সেবনের কিছুক্ষণ পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত সাতক্ষীরা হাট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নিয়ে যান।আরও  পড়ুন, বৈরী আবহাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে বন্ধ হলো দৌলতদিয়া পাটুরিয়া লঞ্চ সার্ভিস সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার মরদেহ নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। বিষয়টি কালিগঞ্জ থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে পুলিশ ঘটনাটি তদন্তে আইনগত কার্যক্রম শুরু করে।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর '২৬) দুপুর ১২টার দিকে নিহতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

বৈরী আবহাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে বন্ধ হলো দৌলতদিয়া পাটুরিয়া লঞ্চ সার্ভিস

বৈরী আবহাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে বন্ধ হলো দৌলতদিয়া পাটুরিয়া লঞ্চ সার্ভিস

বৈরী আবহাওয়া ও প্রবল স্রোতের কারণে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌ রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।দুর্ঘটনা এড়াতে বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা থেকে এসব রুটে সাময়িকভাবে সব লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআইডাব্লিউটিএ।দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মরত বিআইডাব্লিউটিএর ট্রাফিক সুপারভাইজার মো. শিমুল ইসলাম লঞ্চ চলাচল বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।আরও  পড়ুন, মাদারীপুর ডাসারে ডিবির অভিযানে ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারতিনি জানান, বৈরী আবহাওয়া ও নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে সাময়িকভাবে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।বিআইডাব্লিউটিএর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে এলে আবারও লঞ্চ চলাচল চালু করা হবে।তবে লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া নৌ রুটের যাত্রীদের সাময়িক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।নৌপথে চলাচলের ক্ষেত্রে বৈরী আবহাওয়ার সময় দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্কতা অবলম্বন করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ।

মাদারীপুর ডাসারে ডিবির অভিযানে ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার

মাদারীপুর ডাসারে ডিবির অভিযানে ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার

মাদারীপুর জেলার মাননীয় পুলিশ সুপার জনাব মোঃ ফজলে এলাহী মহোদয়ের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ফোর্সের সমন্বয়ে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান সাড়াঁশি অভিযান পরিচালনা কালে মাদারীপুর জেলার ডাসার থানা এলাকা হতে ৩০০(তিনশত)পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ ০১(এক) জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার।মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ফোর্সসহ মাদকদ্রব্য উদ্ধার বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে ১৬/০৯/২০২৬ খ্রি. আরও  পড়ুন, শান্তিগঞ্জে নৌকা বাইচে হাজারো মানুষের ঢলরাত ১৯.৪৫ ঘটিকায় মাদারীপুর জেলার ডাসার থানাধীন দক্ষিন ধুয়াসার সাকিনস্থ পাথুরিয়ার পাড় গ্রামীন টাওয়ারের সামনে পাকা রাস্তার উপর হতে ধৃত আসামী ১।হোসেন ভুঁইয়া(২৫), পিতা- বাবুল ভুইয়া, মাতা- রেনু বেগম, সাং- পূর্ব মাইজপাড়া, থানা- ডাসার, জেলা- মাদারীপুরের দখল হতে ৩০০ (তিনশত)পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শান্তিগঞ্জে নৌকা বাইচে হাজারো মানুষের ঢল

শান্তিগঞ্জে নৌকা বাইচে হাজারো মানুষের ঢল

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকঢোলের বাদ্য আর বৈঠার ছন্দে বুধবার দিনভর উৎসবমুখর ছিল উপজেলার খাই হাওড়।বুধবার দুপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী এই নৌকা বাইচ। সকাল থেকেই প্রতিযোগিতা দেখতে হাওড়ের চারপাশে জড়ো হতে থাকেন দর্শনার্থীরা। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়।এবারের প্রতিযোগিতায় স্থানীয় ও বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মোট ২২টি নৌকা অংশ নেয়। তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতা।বাইচ চলাকালে ঢাকঢোল ও কাঁসরের বাদ্যের সঙ্গে মাঝিদের বৈঠার ছন্দ এবং হাঁকডাকে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নৌকার লড়াই দেখতে হাওড়ের চারপাশে হাজার হাজার দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ।আরও  পড়ুন, মাদারীপুর সদর মডেল থানা এলাকা হতে ২০০ (দুইশত) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করলেন ডিবি পুলিশ প্রতিযোগিতা শেষে চ্যাম্পিয়ন হয় জগন্নাথপুরের জাকির তরি। রানার্সআপ হয়েছে স্বপ্নের তরি-১। তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে রঙ্গিন পবন।দর্শনার্থীরা জানান, নৌকা বাইচ গ্রামবাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যের অংশ। এমন আয়োজনের মাধ্যমে হারিয়ে যেতে বসা এই সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি মানুষের বিনোদনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তাই প্রতিবছর এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার দাবি তাদের।আয়োজক আবুল হোসেন জানান, মানুষকে আনন্দ ও বিনোদন দেওয়ার লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছে। এতে ২২টি নৌকা অংশ নিয়েছে।শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমা বলেন, সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় পুরো আয়োজন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে।

আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আশাবাদ ট্রাম্পের

ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আশাবাদ ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।তার ধারণা, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামও দ্রুত কমে আসবে বলে দাবি করেছেন তিনি।আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান যতটা সম্ভব যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে জটিল করে তোলার উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ট্রাম্প বলেন, তাঁর মনে হচ্ছে খুব শিগগিরই যুদ্ধ শেষ হবে। এমনকি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পরেই যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি।মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরান যতটা সম্ভব টিকে থাকার চেষ্টা করছে। তবে মানুষ বিষয়টি বুঝতে পারছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।যুদ্ধের অবসান হলে জ্বালানি তেলের বাজারেও বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন ট্রাম্প।আড়ও পড়ুন,মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে ১০ হাজার কর্মী যাবে শূন্য খরচে তাঁর দাবি, সংঘাত শেষ হলে তেলের দাম দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসবে।তবে ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সময়সীমা নেই। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ইরানের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন।বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই প্রভাবিত করছে না, এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেল সরবরাহ ও পরিবহনব্যবস্থায় ঝুঁকি বাড়তে পারে। আর সংঘাতের অবসান হলে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং বাজারের ঝুঁকি কমার কারণে তেলের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।তবে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই যুদ্ধ শেষ হবে—ট্রাম্পের এই বক্তব্য এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা সমঝোতার ভিত্তিতে নয়। ফলে যুদ্ধ কবে এবং কীভাবে শেষ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো রয়েছে।

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানী

বনশ্রীতে দুই বাসের চাপায় শিক্ষিকা নিহত

বনশ্রীতে দুই বাসের চাপায় শিক্ষিকা নিহত

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের বনশ্রী এলাকায় দুই বাসের চাপায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন।নিহত শিক্ষিকার নাম তাসফিয়া আহমেদ তিশা। তার বয়স ৩১ বছর। বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে বনশ্রীর ফরাজী হাসপাতালের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, রমজান পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়েন তাসফিয়া। এ সময় সারা পরিবহনের আরেকটি বাসের চাপায় গুরুতর আহত হন তিনি।দুর্ঘটনার পর তাকে প্রথমে বনশ্রীর ফরাজী হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহত তাসফিয়া আহমেদ তিশা মেরাদিয়ার নয়াপাড়ায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তার বাবার নাম মো. শফিউদ্দিন আহমেদ। তিনি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আফতাবনগর শাখার শিক্ষক ছিলেন।আরও  পড়ুন,ঢাকার আকাশ মেঘলা বৃষ্টির সম্ভাবনা কমতে পারে তাপমাত্রা তিশার ভাই এনাম আহমেদ জানান, কাজে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তার বোন। সন্ধ্যায় তিনি দুর্ঘটনার খবর পান। পরে ঢামেক হাসপাতালে এসে বোনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হন।স্থানীয় টেইলার্সের মালিক মো. মূসা জানান, তিশা তার দোকান থেকে নিয়মিত কাপড় তৈরি করাতেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিশা খুব ভালো মানুষ ছিলেন।খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক অনয় চন্দ্র পাল জানান, রাত পৌনে ৯টার দিকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।দুর্ঘটনায় জড়িত বাস দুটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজন চালক ও একজন হেলপারকে আটক করেছে পুলিশ।এদিকে বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর তাসফিয়ার কক্সবাজারে বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে। কিন্তু তার আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এই শিক্ষিকা।

১ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

খেলাধুলা

বৃষ্টিতে ম্যাচ পরিত্যক্ত না খেলেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

বৃষ্টিতে ম্যাচ পরিত্যক্ত না খেলেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

বৃষ্টির কারণে চীনের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে হলো না বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলকে। ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।বৃহস্পতিবার জাপানের নাগোয়ার নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে বাংলাদেশ ও চীনের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল স্থানীয় সময় সকাল ৯টায়।মাঠে বৃষ্টি না থাকলেও আগের কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে আউটফিল্ড ভেজা থাকায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি শুরু করা সম্ভব হয়নি। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত মাঠ খেলার উপযোগী না হওয়ায় ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটে বাংলাদেশ সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দলকে বিজয়ী ঘোষণা করার নিয়ম রয়েছে।আরও  পড়ুন ,মেসির হেডে শততম গোল মায়ামির ঘরে ক্যাম্পেওনেস কাপ সেই নিয়মেই বাংলাদেশ পেয়েছে সেমিফাইনালের টিকিট।বর্তমানে টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান দশম। বিপরীতে চীনের অবস্থান ৩৬তম। ফলে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশকেই পরবর্তী রাউন্ডের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।এখন বাংলাদেশের সামনে সেমিফাইনাল। আগামীকাল ভারত ও জাপানের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দলের বিপক্ষে ২০ সেপ্টেম্বর সেমিফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ নারী দল।এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটে এর আগে বাংলাদেশ দুবার রুপা ও একবার ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে। এবারও পদকের লড়াইয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!