দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

আবেরা’ স্পা ঘিরে অভিযোগ, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন

আবেরা’ স্পা ঘিরে অভিযোগ, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান থানাধীন বাড়িধারার ৫৫, সোহরাওয়ার্দী রোডের একটি ফ্ল্যাটে পরিচালিত ‘আবেরা’ নামের একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে দোলা নামের এক নারী এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। স্পা ব্যবসার আড়ালে সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, গ্রাহকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলার অভিযোগ এবং সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, বাড়ির মালিকের তথ্য, প্রয়োজনীয় অনুমোদনপত্র এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের তথ্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। আবেরা’ স্পা সেন্টারকে কেন্দ্র করে একটি নারীচক্র বিভিন্ন গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের প্রলোভন বা প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে। স্পা সেবার নামে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে পরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় কিংবা অন্য কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো যাচাইকৃত নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর বিস্তারিত বক্তব্য, ভুক্তভোগীর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিশ্চিত করা তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কী ধরনের সেবা দেওয়া হয়, গ্রাহকদের কাছ থেকে কীভাবে অর্থ নেওয়া হয়, সেবার মূল্যতালিকা ও রসিদ সংরক্ষণ করা হয় কি না এবং ব্যবসাটি প্রয়োজনীয় আইনগত অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে কি না এসব বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা। স্পা সেন্টারটিতে সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি সত্য হলে তা এলাকার নিরাপত্তা, আবাসিক পরিবেশ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করে। তবে মাদকদ্রব্যের লেনদেন, সংরক্ষণ কিংবা সরবরাহের মতো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে কি না, আরও পড়ুন,মহেশপুরে বাংলা বাস্তবায়ন ও সচেতনতায় র‍্যালি-আলোচনা সভাতা নির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং আইনগত প্রমাণ দরকার। এ ক্ষেত্রে গুলশান থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে আইনানুগ পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, অনুমোদন এবং অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। বাড়িধারার মতো গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকায় কোনো ফ্ল্যাটে স্পা বা এ ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুমোদন, ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার, ট্রেড লাইসেন্স এবং অন্যান্য বিধিবিধান মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ। ভবনটি কোন ধরনের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত, ফ্ল্যাটে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি রয়েছে কি না এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় নিবন্ধন বা লাইসেন্স আছে কি না এসব প্রশ্নের উত্তর নথিপত্র যাচাই ছাড়া দেওয়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ভবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রবেশপথের ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং প্রতিবেশীদের অভিযোগ থাকলে সেগুলোর নিষ্পত্তির বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে স্পা সেবা দেওয়া হচ্ছে বলেই সেটিকে অবৈধ বা অপরাধমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যা দেওয়া সমীচীন নয়। অভিযোগে যদি গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় কিংবা অন্য কোনো অপরাধের ঘটনা থেকে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তা তদন্ত করা প্রয়োজন।  কোনো ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয়ে থাকলে তাঁর উচিত সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ জানানো এবং প্রাসঙ্গিক তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ করা। গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত যেকোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আইন ও বিধিবিধানের আওতায় থাকা প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে গুলশান থানা পুলিশ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য অপরাধের বিষয়ে তথ্য চাওয়া যেতে পারে। ‘আবেরা’ স্পা সেন্টার, আরও পড়ুন,মহেশপুরে বাংলা বাস্তবায়ন ও সচেতনতায় র‍্যালি-আলোচনা সভাএর পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বলে অভিযোগে উল্লিখিত দোলা নামের নারী, বলেন, ভাই আমি এটি দিয়ে কোনমতে চলি। এখন আগের মত তেমন ব্যবসাও নেই। এসব প্রতিষ্ঠান চালাতে ব্যয়বহুল খরচ। কোনমতে দুই চারটি মেয়েদের রেখে ব্যবসা করি। এছাড়া এাঁ বাড়িধারা এখানে কাষ্টমার আসতে চায়না তেমন এবং বাড়িধারায় ঢুকতে সোসাইটির অনুমতি প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমরা সোসাইটির গার্ডদের সাথে সমন্ময় রেখে লোকজন প্রবেশ করিয়ে থাকি। ‘আবেরা’ নামের একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে গুলশান থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়। তবে অভিযোগ জানানোর পরও সংশ্লিষ্ট স্পা সেন্টারে পুলিশের কোনো দৃশ্যমান অভিযান চোখে পড়েনি। অভিযোগ রয়েছে, ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটিতে স্পা ব্যবসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াত রয়েছে।  প্রশ্ন উঠেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযোগ জানানোর পরও কেন দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না? তবে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট থানার বক্তব্য এবং সম্ভাব্য তদন্তের অগ্রগতি জানা জরুরি। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, বাড়িধারার মতো অভিজাত আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি। তাঁদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে ‘আবেরা’ স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ আমরাও শুনেছি। তাই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং প্রতিষ্ঠানটির বৈধ কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ প্রতারণা, মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধ কিংবা অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের শিকার হলে তাঁকে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণসহ পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করছি। এবিষয়ে দোলা বলেন, ভাই কোনমতে ২-৪ টি মেয়েদের রেখে ব্যবসা করছি। আগের মত ব্যবসা নেই। এখনো থানা পুলিশের পেমেন্ট দিতে পারিনাই। এছাড়া বাড়িধারা সোসাইটির কিছু লোকদের ম্যানেজ করে আমার প্রতিষ্ঠানটি চালাতে হয়। তবে বিষয়টি গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জকে জানানো হয়েছে কিন্তু তিনি এখনো দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়নি। গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ আরো বলেন, এসবের বিষয়ে আমাদের একাধিক মিটিং হয়েছে। আমি চাইলে ও অভিযান বা পদক্ষেপ নিতে পারিনা। কারন সিনিয়রদের নির্দেশনা ছাড়া আমাদের করার কিছুই থাকেনা। তাহলে প্রশ্ন হল- সাধারন স্থানীয় বাসিন্দারা অসমাজিকের মধ্যে থেকেই বসবাস করবে। নাকি তাদের সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা নেই।   

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

নতুন বেতন কাঠামো ও বিল দাখিল: কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের প্রতীক্ষায় কর্মচারীরা

চলতি মাসের বেতন বিল দাখিলের প্রক্রিয়া ও আইবাস++ (iBAS++) সিস্টেমের কারিগরি জটিলতা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন দেশের সরকারি কর্মচারীদের একটি বড় অংশ। সিস্টেমে প্রয়োজনীয় ফিচার চালু না হওয়া, নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ এবং বিল দাখিলের নির্দিষ্ট সময়সূচি সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা না থাকায় এই উদ্বেগ দিন দিন আরও বাড়ছে। বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেতন বিল দাখিলের প্রয়োজনীয় ফিচার চালু না থাকা কিংবা সিস্টেমে প্রবেশ করেও বিল জমা দিতে না পারার মতো নানা সমস্যায় পড়ছেন কর্মচারীরা। তাদের প্রধান প্রশ্ন কবে নাগাদ অনলাইনে বেতন বিল দাখিল করা যাবে এবং বিল জমা দেওয়ার পর কত দিনের মধ্যে ব্যাংক হিসাবে বেতন পাওয়া সম্ভব হবে। সরকারি কর্মচারীদের মাসিক বেতন পরিশোধের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ে বিল প্রস্তুত ও যাচাই-বাছাই করে জমা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আইবাস++ সিস্টেমে বিল জমা দেওয়ার বর্তমান জটিলতা পুরো প্রক্রিয়াটিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।আরও পড়ুন,নভেম্বর থেকে চালু হচ্ছে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণএদিকে নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ ও পরিশোধ নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে চলতি মাসের বেতন নতুন কাঠামো অনুযায়ী পরিশোধ করা হবে কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, বেতন নির্ধারণের প্রস্তুতি এবং আইবাস++ সিস্টেমে নতুন কাঠামোর উপাত্ত অন্তর্ভুক্তির ওপর। অবশ্য সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বেতন বিল দাখিলে কিছুটা বিলম্ব হলেই নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়া নিয়ে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। এই পরিস্থিতিতে কর্মচারীরা জটিলতার দ্রুত অবসান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রত্যাশা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না যাওয়ায় চলতি মাসে নতুন কাঠামোতে বেতন মিলবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।

মুজগুন্নি আবাসিক এলাকায় তরুণী আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপপ্রচারের অভিযোগ

খুলনায় এক তরুণীর সঙ্গে আটক হওয়া এক যুবককে নিজের ভাতিজা হিসেবে পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও সম্মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জোরালো অভিযোগ করেছেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ। গত রোববার (২৫ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই স্পষ্টীকরণ প্রদান করেন।ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত রোববার বিকেলে খুলনা মহানগরীর খালিশপুর থানাধীন মুজগুন্নি আবাসিক এলাকার একটি ভাড়া বাসায়। স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে অপরিচিত এক তরুণীর ওই বাসায় প্রবেশকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে মোনতাসিম বিল্লাহ (২১) নামের এক যুবক ও এক তরুণীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এই ঘটনার পর ওই যুবককে সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্যের ভাতিজা বলে ফেসবুকে বিভিন্ন মহলে প্রচার শুরু হয়।আরও পড়ুন,ছেলে শিশু নির্যাতনের প্রমাণ সংগ্রহে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাবএই অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এমপি ইজ্জত উল্লাহ তাঁর ফেসবুক পোস্টে বলেন, জনগণের দোয়া ও সমর্থনে তিনি সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল খুলনার ওই ঘটনায় আটক যুবককে তাঁর ভাতিজা বানিয়ে তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্মানহানির হীন চেষ্টা চালাচ্ছে। দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, খুলনায় আটক ওই যুবক দূর-দূরান্তেও তাঁর কোনো ভাতিজা নন। এ ধরনের মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে এবং সামাজিক মাধ্যমে তা না ছড়ানোর জন্য তিনি সবার প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।

ছেলে শিশু নির্যাতনের প্রমাণ সংগ্রহে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাব

নৈতিক শিক্ষা ও নিরাপদ পরিবেশে সন্তানকে গড়ে তোলার আশায় অভিভাবকেরা মাদ্রাসায় পাঠালেও সেখানে ছেলে শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন ও বলাৎকারের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ ফ্রান্সের (জেএমবিএফ) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসেই দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় ৭২টি পৃথক ঘটনায় অন্তত ১০৯ জন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। মামলা দায়ের হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষার দুর্বলতা ও নির্দেশনার অভাবে বিচার অধরাই থেকে যাচ্ছে। জেএমবিএফের পর্যবেক্ষণ বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ছেলে শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অন্তত ১৩১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার সিংহভাগই ঘটেছে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে রাজধানীর বনশ্রীর একটি মাদ্রাসা থেকে ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আবদুল্লাহর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। যৌন নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হলেও দীর্ঘ সাত মাসেও সেই বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।আরও পড়ুন,বান্ধাবাড়িতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মাহবুব, লক্ষ্য মাদক মুক্ত সমাজআইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছেলে শিশু নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রমাণ সংগ্রহের জটিলতা। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান জানান, ছেলে শিশুদের ক্ষেত্রে শারীরিক পরীক্ষা, নমুনা সংগ্রহ ও ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফলের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট এসওপি বা দিকনির্দেশনা নেই। ফলে সংবেদনশীল প্রমাণগুলো যথাযথভাবে আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব হয় না। পাশাপাশি লোকলজ্জার ভয়ে অনেক ঘটনা আড়ালে থেকে যাওয়ায় শিশুরা চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।এই সংকট নিরসনে কেবল আইনি শাস্তি নয়, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন অধিকারকর্মীরা। অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের ‘গুড টাচ’ ও ‘ব্যাড টাচ’ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে পেশাদার কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা এবং কঠোর শিশু সুরক্ষা নীতিমালা বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

টোকিও পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী: গতি পাবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের কূটনীতি

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করতে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান পৌঁছেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।সোমবার জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৫ মিনিট) প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ নিয়মিত ফ্লাইটটি টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। বিমান অবতরণের পর বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা (NAKASONE Yasutaka)।আরও পড়ুন,জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানএই সফর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার বৈশ্বিক অংশীদারত্ব, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। বিমানবন্দরে অভ্যর্থনাকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর উচ্চপর্যায়ের সফরসঙ্গী দল উপস্থিত ছিল। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো: শাকিরুল ইসলাম খান। এ ছাড়া টোকিওস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এর আগে ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সীমিতসংখ্যক সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী। সফরকালে উভয় দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যকার প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজনীতিরাজনীতি

ভোটের নিরাপত্তায় ড্রোন, বডি ক্যামেরা ও ‘কে-৯’ ডগ ইউনিট নামাল বিজিবি

ভোটের নিরাপত্তায় ড্রোন, বডি ক্যামেরা ও ‘কে-৯’ ডগ ইউনিট নামাল বিজিবি

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের আসন্ন উপনির্বাচন সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও সতর্কতা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নির্বাচনী এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ইতিমধ্যেই মাঠপর্যায়ে কঠোর তৎপরতা শুরু করেছে বাহিনীটি। আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বহুল আলোচিত এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করে সম্পূর্ণ পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বিজিবি।আরও পড়ুন,সাঈদী মামলার সাক্ষীর দাফন ও রাষ্ট্রীয় সম্মান নিয়ে তোলপাড়সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঠাকুরগাঁও সেক্টরের অধীন ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ব্যবস্থাপনায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের তিনটি উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌরসভায় মোট ২১ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এরা মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত থেকে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনী এলাকার নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজিবির বিশেষায়িত ‘কে-৯’ ডগ ইউনিটের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সংবেদনশীল কেন্দ্রগুলোতে বিজিবি সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং আধুনিক ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। ভোটাররা যেন সম্পূর্ণ ভয়ভীতিহীন ও নিরাপদ পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় রেখে কাজ চলছে। একই সঙ্গে সীমান্ত অতিক্রম করে যাতে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড না ঘটে, সে জন্য সীমান্ত টহল কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।

ওবায়দুল কাদেরের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে বিরূপ মন্তব্য, ট্রাইব্যুনালে ক্ষমা প্রার্থনা

ওবায়দুল কাদেরের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে বিরূপ মন্তব্য, ট্রাইব্যুনালে ক্ষমা প্রার্থনা

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ‘ক্যাঙারু কোর্টের রায়’ হিসেবে আখ্যায়িত করার ঘটনায় সশরীরে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন আওয়ামী পন্থী দুই আইনজীবী। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ হাজির হয়ে তাঁরা এই ক্ষমাপত্র দাখিল করেন। বর্তমানে শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল তাঁদের আদালত অবমাননার মাত্রা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।এই দুই আইনজীবীর আদালত অবমাননার মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রাইব্যুনাল-২-এর অন্যান্য দিনের সাধারণ মামলার শুনানি বাতিল করার পাশাপাশি সাধারণ আইনজীবীদের প্রবেশেও বিশেষ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।আরও পড়ুন,পাহাড়ের অস্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য দাবি এনসিপিরউল্লেখ্য, গত ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পরদিন (১৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় অ্যাডভোকেট হাসানুজ্জামান তুষার ও অ্যাডভোকেট হাসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। প্রসিকিউশনের মতে, পেশাজীবী আইনজীবী হয়ে ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার ফলে সাধারণ মানুষের মনে বিচারব্যবস্থা নিয়ে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর এ মামলার শুনানির দিন ধার্য থাকলেও বিচারক অসুস্থ থাকায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেদিনও উক্ত দুই আইনজীবী ব্যাখ্যা দিতে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়েছিলেন।

আসামের উচ্ছেদ ইস্যুতে শ্বেতপত্র প্রকাশ ও আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ দাবি এনসিপির

আসামের উচ্ছেদ ইস্যুতে শ্বেতপত্র প্রকাশ ও আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ দাবি এনসিপির

আসামের বাঙালি মুসলমানদের অধিকার ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইকে বাংলাদেশের নিজস্ব অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্বের লড়াই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সম্প্রতি আসামে সহস্রাধিক ঘরবাড়ি ও একাধিক মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি এটিকে বাঙালি মুসলমানদের ঐতিহাসিক উপস্থিতি মুছে ফেলার এক গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। রোববার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় নাহিদ ইসলাম জানান, গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর মাত্র দুই দিনে আসামে বাংলাভাষী মুসলমানদের ১,১০০-রও বেশি বাড়িঘর এবং ১০টির বেশি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শত বছর আগে আসামে যে ‘লাইন প্রথা’র মাধ্যমে বাঙালি কৃষকদের সীমিত করা হয়েছিল, আজও রূপ বদলে একই উচ্ছেদ রাজনীতি চালানো হচ্ছে। ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে সেখানে ৩৩টি অভিযানে ২২ হাজারের বেশি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ‘পুশইন’ করে মানুষকে রাষ্ট্রহীন করার অমানবিক চেষ্টা চলছে।আরও পড়ুন,খণ্ডিত বক্তব্য না ছড়ানোর আহ্বান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীরআসামের এই ঐতিহাসিক সংকট ও মাওলানা ভাসানীর আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপি প্রধান আরও বলেন, বরাক উপত্যকার করিমগঞ্জ ও সিলেটের ঐতিহাসিক ও ভাষাগত নাড়ির টান অত্যন্ত গভীর। ফলে ওপারে রাষ্ট্রহীনতার যে সংকট তৈরি হচ্ছে, তা সরাসরি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সম্পর্কিত। কেবল চিঠি বা সীমান্ত পাহারার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ভারত সরকারের এই আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে পুশইন ইস্যুতে সরকারকে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ওপার থেকে ধাক্কা দেওয়া মানুষকে কোনোভাবেই গ্রহণ না করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

জাতীয় নারীশক্তি: ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ

জাতীয় নারীশক্তি: ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নারী সংগঠন 'জাতীয় নারীশক্তি'র বিদ্যমান কমিটি বাতিল করে নতুন আংশিক আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পুনর্গঠিত এই নতুন কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডা. মাহমুদা আলম মিতু। কমিটিতে সদস্যসচিব পদে দায়িত্ব পেয়েছেন নুসরাত তাবাসসুম এবং মুখ্য সংগঠক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। পরবর্তীতে এনসিপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বিজ্ঞপ্তির তথ্য প্রকাশ করা হয়।আরও পড়ুন,জনগণের অধিকারের দাবিতে জামায়াত মাঠে নেমেছে, কোনো দলীয় দাবি নিয়ে নয়বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের প্রত্যক্ষ নির্দেশক্রমে জাতীয় নারীশক্তির পূর্বের কমিটি বাতিল করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নতুন অনুমোদিত আংশিক আহ্বায়ক কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে 'জাতীয় নারীশক্তি'। সূচনা লগ্নে সংগঠনটির আহ্বায়ক পদে মনিরা শারমিন, সদস্যসচিব পদে মাহমুদা আলম মিতু এবং মুখ্য সংগঠক পদে নুসরাত তাবাসসুমের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ১৮ এপ্রিল সংগঠনের ৫৩ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হয়। এবার সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পুরোনো কমিটি ভেঙে নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব তুলে দিল মূল দল এনসিপি।

সারাবাংলা

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের ৫ লাখ টাকা ছিনতাই

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের ৫ লাখ টাকা ছিনতাই

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক এ এম এম তৌহিদুর রশিদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের হিজলতলী এলাকায় বংশাই সেতুর কাছে এ ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে কালিয়াকৈর সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে তাঁর বাবা এস এম হারুনুর রশিদের ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে ৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেন তৌহিদুর রশিদ। পরে অটোরিকশাযোগে হিজলতলী এলাকায় নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি। পথিমধ্যে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বংশাই সেতুর কাছে পৌঁছালে পেছন থেকে একটি প্রাইভেটকার নিয়ে কয়েকজন ছিনতাইকারী তাঁর অটোরিকশার গতিরোধ করে। এ সময় প্রাইভেটকার থেকে নেমে দুর্বৃত্তরা জোরপূর্বক তাঁর কাছে থাকা টাকার ব্যাগটি টানাহেঁচড়া করে নিয়ে যায়। পরে তারা দ্রুত প্রাইভেটকারে করে টাঙ্গাইলের দিকে পালিয়ে যায়।আরও পড়ুন,চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের জিম্মিতে ইপিজেডের ব্যবসায়ীরাঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী কর্মকর্তা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও এর আগেই ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক এ এম এম তৌহিদুর রশিদ বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও টাকা উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।”ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত, ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধার এবং মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন স্থানীয়রা।

নগর পুনরুজ্জীবনে বস্তিবাসীর জন্য পরিকল্পিত আবাসন নিশ্চিতের দাবি সাতক্ষীরায়

নগর পুনরুজ্জীবনে বস্তিবাসীর জন্য পরিকল্পিত আবাসন নিশ্চিতের দাবি সাতক্ষীরায়

নগরকে সুন্দর, আধুনিক ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে যাঁরা প্রতিনিয়ত শ্রম দিচ্ছেন, সেই সুবিধাবঞ্চিত শ্রমজীবী মানুষকে বস্তিবাসী হিসেবে অবহেলা না করে পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থার আওতায় আনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের নিরাপদ বাসস্থান ও পর্যাপ্ত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে সাতক্ষীরার শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের প্রধান ফটকের সামনে 'বিশ্ব নগর দিবস ২০২৬' উপলক্ষে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিম যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে। এ বছরের বিশ্ব নগর দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল—‘শহরের পুনরুজ্জীবন: সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’।আরও পড়ুন,বাড়িয়া ইউনিয়নের হাজারো মানুষের ভালোবাসার নাম আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান খান হাবিবমানবাধিকারকর্মী মাধব চন্দ্র দত্তের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক আজাদ হোসেন বেলাল, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, যুগ্ম সদস্যসচিব আলী নূর খান বাবুলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা উল্লেখ করেন, সাতক্ষীরা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও এখানকার অনেক মানুষ এখনো মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত। নগরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে শ্রমজীবী মানুষের অবদান অপরিসীম হলেও তাঁরা থেকে যাচ্ছেন অবহেলিত। সমাবেশ থেকে সাতক্ষীরা শহরকে আধুনিক ও বাসযোগ্য করতে আগামী ১০০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি সুদূরপ্রসারী মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন সংকট রোধে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং নগরায়ণের প্রক্রিয়ায় সবার অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

আলিপুর ইউপি নির্বাচন: উন্নয়ন, সুশাসন ও সততার প্রতিশ্রুতিতে রাদমিরের জনসংযোগ

আলিপুর ইউপি নির্বাচন: উন্নয়ন, সুশাসন ও সততার প্রতিশ্রুতিতে রাদমিরের জনসংযোগ

 স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য নির্বাচনী তৎপরতা বাড়তে শুরু করেছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৭ নম্বর আলিপুর ইউনিয়নে। চায়ের দোকান, হাটবাজার থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা সবখানেই এখন আলোচনায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। এ পরিস্থিতিতে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনায় এসেছেন তরুণ সামির সোয়েব রাদমির। রাদমিরের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আলিপুর ইউনিয়নের রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধিত্বের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর দাদা আলহাজ্ব মো. আব্দুর রউফ এই ইউনিয়নের একাধিকবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর পরিবারের জনসম্পৃক্ততা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতাকে সামনে রেখে এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন সামির সোয়েব রাদমির। রাদমিরের সমর্থকদের প্রত্যাশা, তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা এবং তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান ও ভোটারদের সমর্থন নির্ধারিত হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে। উন্নয়ন ও জনসেবাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা- স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আব্দুর রউফের সময়ে আলিপুর ইউনিয়নে বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। রাস্তাঘাট, সেতু-কালভার্ট, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণ এবং সংস্কারকাজের কথা উল্লেখ করেন তাঁরা। আরও পড়ুন,টঙ্গীতে শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ: মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহমেদের জামিন নামঞ্জুর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা-২ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগের মধ্যে আলিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন কাজও রয়েছে। শাঁখরা-কোমরপুর সেতু সংস্কার, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন এবং কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথাও তাঁরা তুলে ধরেন। এসব প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা মনে করেন, ইউনিয়নের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে অভিজ্ঞতা ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয় প্রয়োজন। তাঁদের মতে, সামির সোয়েব রাদমির তরুণদের সম্পৃক্ত করে জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারলে তা এলাকার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁরা আরও জানান, তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের মতো উদ্যোগে রাদমিরের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এসব কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তাঁরা। মডেল ও মাদকমুক্ত ইউনিয়ন গড়ার অঙ্গীকার- চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে সামির সোয়েব রাদমির বলেন, “আপনাদের সকলের প্রিয় সেবক, আলিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমার দাদার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতে এবং আলিপুর ইউনিয়নকে একটি মডেল, মাদকমুক্ত ও শিক্ষাবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসা চাই।” তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের অবহেলিত মানুষের অধিকার আদায় এবং মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। পরিবার, আত্মীয়স্বজনের পরামর্শ এবং ইউনিয়নবাসীর দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রত্যাশা করছেন তিনি। আরও পড়ুন,কুড়িগ্রামে অপবাদ সইতে না পেরে নারী প্রবাসীর প্রেমিকার আত্মহত্যা রাদমির আরও বলেন, “মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তৌফিক দান করলে এবং ইউনিয়নবাসী দোয়া ও সমর্থন দিলে নির্বাচিত হয়ে নীতি ও সততার সঙ্গে অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে থাকব, ইনশাআল্লাহ।” নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আলিপুর ইউনিয়নকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে পরিচালনা করা, সবার জন্য উন্নত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলাই হবে তাঁর অঙ্গীকার। পাশাপাশি তরুণ সমাজকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দিতে চান তিনি। ভোটারদের প্রত্যাশা সুশাসন ও জবাবদিহি- আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে আলিপুরের ভোটারদের প্রত্যাশার কেন্দ্রে রয়েছে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, নাগরিক সেবার সহজলভ্যতা, কর্মসংস্থানের সুযোগ, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং স্বচ্ছ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছে এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নযোগ্য অঙ্গীকার চান সচেতন ভোটাররা। সামির সোয়েব রাদমিরের প্রার্থিতার প্রত্যাশাকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হলেও নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার চূড়ান্ত চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের আস্থা অর্জনে ব্যক্তিগত পরিচিতির পাশাপাশি উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনসম্পৃক্ততা, সততা ও জবাবদিহির প্রতিশ্রুতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। আলিপুর ইউনিয়নবাসীর প্রত্যাশা, নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ব্যক্তিগত প্রচারের পাশাপাশি এলাকার বাস্তব সমস্যা, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দেবেন। এতে ভোটাররা যোগ্য প্রার্থী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

কুড়িগ্রামে অপবাদ সইতে না পেরে নারী প্রবাসীর প্রেমিকার আত্মহত্যা

কুড়িগ্রামে অপবাদ সইতে না পেরে নারী প্রবাসীর প্রেমিকার আত্মহত্যা

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সামাজিক অপবাদ ও মানসিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার কষ্ট সইতে না পেরে নাজমা খাতুন (৪৪) নামে এক স্বামী পরিত্যক্তা নারী আত্মহত্যা করেছেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ধামশ্রেণি ইউনিয়নের পশ্চিম নাওড়া এলাকায় নিজ বাড়ির গোয়ালঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে তিনি এই মর্মান্তিক পথ বেছে নেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া ফেলেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে ফেসবুকে সাইদুর রহমান পলাশ নামের এক যুবকের সঙ্গে নাজমা খাতুনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই যুবক নিজেকে রেলওয়ে পুলিশের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময় প্রলোভন দেখিয়ে নাজমার কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় পলাশ নাজমার বাড়িতে দেখা করতে গেলে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয় এবং স্থানীয়রা তাদের আটক করেন। পরে রাতে তাদের সম্মতিতে বিয়ের আয়োজন করা হলেও, কাবিননামা তৈরির সময় যুবকের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখলে আসল সত্য বেরিয়ে আসে। জানা যায়, আরও পড়ুন,টঙ্গীতে শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ: মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহমেদের জামিন নামঞ্জুরওই যুবকের প্রকৃত নাম দুলাল চন্দ্র (৫৩); তিনি পার্শ্ববর্তী পান্ডুল ইউনিয়নের অমল চন্দ্রের ছেলে এবং মুসলিম পরিচয়ে তিনি এতদিন প্রতারণা করে আসছিলেন। পরিচয় প্রকাশের পর বিয়ে পণ্ড হয়ে যায় এবং যুবককে আটকে রাখা হয়। এ ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় একটি সালিশি বৈঠক বসে। ধামশ্রেণি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম ও পান্ডুল ইউনিয়নের সদস্যসচিব জিয়াউল হক বাদলসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা উপস্থিত থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা নির্ধারণ করেন এবং সেই অর্থ নাজমার স্বজনদের হাতে তুলে দেন। তবে সালিশের পর থেকেই এলাকায় নানা কানাঘুষা ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার অপবাদ বাড়তে থাকে। এই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে রোববার দুপুরে নাজমা খাতুন চরম এই পদক্ষেপে যান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগ পাওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতা নিয়ে তেহরানের ভিন্নমত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতা নিয়ে তেহরানের ভিন্নমত

আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করে আজ রোববার ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে বড় ধরনের কোনো কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিতপূর্ণ এই বার্তা প্রদান করেন। ট্রাম্প জানান, সম্ভাব্য এই সামরিক পদক্ষেপ কখন নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি আগাম কিছু স্পষ্ট করতে চান না। একই সঙ্গে ইরান শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে সম্মত হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি যা-ই হোক, যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হবে বলে দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশের চলমান ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ পরিস্থিতির দ্রুত অবসান চেয়েছেন। অর্থনৈতিক মন্দা ও আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধের কারণে দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম সংকটে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।আরও পড়ুন,সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে একপেশে ধারা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে বলে তুর্কি সাংবাদিক ইউনিয়নের অভিযোগসৌদি সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন কূটনৈতিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। যেখানে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার বিনিময়ে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের শর্ত দেওয়া হয়েছে। তবে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য অস্বীকার করে জানিয়েছে, তেহরান নতুন কোনো প্রস্তাব দেয়নি বরং পূর্বের ৭টি শর্তেই অনড় রয়েছে।পূর্বে জুন মাসে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতার চেষ্টা হলেও বর্তমানে একদিকে সরাসরি সামরিক হামলার শঙ্কা এবং অন্যদিকে আলোচনার সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্কের চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

৫৪ মিনিট আগে

রাজধানী

আবেরা’ স্পা ঘিরে অভিযোগ, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন

আবেরা’ স্পা ঘিরে অভিযোগ, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান থানাধীন বাড়িধারার ৫৫, সোহরাওয়ার্দী রোডের একটি ফ্ল্যাটে পরিচালিত ‘আবেরা’ নামের একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে দোলা নামের এক নারী এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। স্পা ব্যবসার আড়ালে সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, গ্রাহকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলার অভিযোগ এবং সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, বাড়ির মালিকের তথ্য, প্রয়োজনীয় অনুমোদনপত্র এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের তথ্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। আবেরা’ স্পা সেন্টারকে কেন্দ্র করে একটি নারীচক্র বিভিন্ন গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের প্রলোভন বা প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে। স্পা সেবার নামে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে পরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় কিংবা অন্য কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো যাচাইকৃত নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর বিস্তারিত বক্তব্য, ভুক্তভোগীর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিশ্চিত করা তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কী ধরনের সেবা দেওয়া হয়, গ্রাহকদের কাছ থেকে কীভাবে অর্থ নেওয়া হয়, সেবার মূল্যতালিকা ও রসিদ সংরক্ষণ করা হয় কি না এবং ব্যবসাটি প্রয়োজনীয় আইনগত অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে কি না এসব বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা। স্পা সেন্টারটিতে সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি সত্য হলে তা এলাকার নিরাপত্তা, আবাসিক পরিবেশ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করে। তবে মাদকদ্রব্যের লেনদেন, সংরক্ষণ কিংবা সরবরাহের মতো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে কি না, আরও পড়ুন,মহেশপুরে বাংলা বাস্তবায়ন ও সচেতনতায় র‍্যালি-আলোচনা সভাতা নির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং আইনগত প্রমাণ দরকার। এ ক্ষেত্রে গুলশান থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে আইনানুগ পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, অনুমোদন এবং অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। বাড়িধারার মতো গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকায় কোনো ফ্ল্যাটে স্পা বা এ ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুমোদন, ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার, ট্রেড লাইসেন্স এবং অন্যান্য বিধিবিধান মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ। ভবনটি কোন ধরনের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত, ফ্ল্যাটে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি রয়েছে কি না এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় নিবন্ধন বা লাইসেন্স আছে কি না এসব প্রশ্নের উত্তর নথিপত্র যাচাই ছাড়া দেওয়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ভবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রবেশপথের ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং প্রতিবেশীদের অভিযোগ থাকলে সেগুলোর নিষ্পত্তির বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে স্পা সেবা দেওয়া হচ্ছে বলেই সেটিকে অবৈধ বা অপরাধমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যা দেওয়া সমীচীন নয়। অভিযোগে যদি গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় কিংবা অন্য কোনো অপরাধের ঘটনা থেকে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তা তদন্ত করা প্রয়োজন।  কোনো ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয়ে থাকলে তাঁর উচিত সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ জানানো এবং প্রাসঙ্গিক তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ করা। গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত যেকোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আইন ও বিধিবিধানের আওতায় থাকা প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে গুলশান থানা পুলিশ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য অপরাধের বিষয়ে তথ্য চাওয়া যেতে পারে। ‘আবেরা’ স্পা সেন্টার, আরও পড়ুন,মহেশপুরে বাংলা বাস্তবায়ন ও সচেতনতায় র‍্যালি-আলোচনা সভাএর পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বলে অভিযোগে উল্লিখিত দোলা নামের নারী, বলেন, ভাই আমি এটি দিয়ে কোনমতে চলি। এখন আগের মত তেমন ব্যবসাও নেই। এসব প্রতিষ্ঠান চালাতে ব্যয়বহুল খরচ। কোনমতে দুই চারটি মেয়েদের রেখে ব্যবসা করি। এছাড়া এাঁ বাড়িধারা এখানে কাষ্টমার আসতে চায়না তেমন এবং বাড়িধারায় ঢুকতে সোসাইটির অনুমতি প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমরা সোসাইটির গার্ডদের সাথে সমন্ময় রেখে লোকজন প্রবেশ করিয়ে থাকি। ‘আবেরা’ নামের একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে গুলশান থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়। তবে অভিযোগ জানানোর পরও সংশ্লিষ্ট স্পা সেন্টারে পুলিশের কোনো দৃশ্যমান অভিযান চোখে পড়েনি। অভিযোগ রয়েছে, ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটিতে স্পা ব্যবসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াত রয়েছে।  প্রশ্ন উঠেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযোগ জানানোর পরও কেন দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না? তবে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট থানার বক্তব্য এবং সম্ভাব্য তদন্তের অগ্রগতি জানা জরুরি। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, বাড়িধারার মতো অভিজাত আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি। তাঁদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে ‘আবেরা’ স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ আমরাও শুনেছি। তাই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং প্রতিষ্ঠানটির বৈধ কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ প্রতারণা, মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধ কিংবা অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের শিকার হলে তাঁকে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণসহ পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করছি। এবিষয়ে দোলা বলেন, ভাই কোনমতে ২-৪ টি মেয়েদের রেখে ব্যবসা করছি। আগের মত ব্যবসা নেই। এখনো থানা পুলিশের পেমেন্ট দিতে পারিনাই। এছাড়া বাড়িধারা সোসাইটির কিছু লোকদের ম্যানেজ করে আমার প্রতিষ্ঠানটি চালাতে হয়। তবে বিষয়টি গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জকে জানানো হয়েছে কিন্তু তিনি এখনো দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়নি। গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ আরো বলেন, এসবের বিষয়ে আমাদের একাধিক মিটিং হয়েছে। আমি চাইলে ও অভিযান বা পদক্ষেপ নিতে পারিনা। কারন সিনিয়রদের নির্দেশনা ছাড়া আমাদের করার কিছুই থাকেনা। তাহলে প্রশ্ন হল- সাধারন স্থানীয় বাসিন্দারা অসমাজিকের মধ্যে থেকেই বসবাস করবে। নাকি তাদের সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা নেই।   

২০ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৬ জন

খেলাধুলা

মিরপুর টেস্টের আগে আকস্মিক কোচ বদল: যা বললেন মোহাম্মদ আশরাফুল

মিরপুর টেস্টের আগে আকস্মিক কোচ বদল: যা বললেন মোহাম্মদ আশরাফুল

শনিবার  সকালেও বাংলাদেশ দলের অনুশীলন তদারকি করেছিলেন, ব্যাটারদের নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন মিরপুর টেস্টের কৌশল সাজিয়েছিলেন। কিন্তু সন্ধ্যার পরই সাবেক তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুল জানতে পারলেন, তিনি আর জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্বে নেই। হঠাৎ করে এমন দায়িত্ব হারানোয় তাঁর কণ্ঠে কিছুটা হাহাকারের সুর থাকলেও নিজের সঙ্গে কোনো অবিচার হয়নি বলেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।দায়িত্ব হারানোর পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আশরাফুল বলেন, মাগরিবের পর তিনি জানতে পেরেছেন যে তাঁকে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের পদ থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী তিন মাসে যখন কোনো অ্যাসাইনমেন্ট থাকবে, তখন তাঁকে জানানো হবে। তবে বিসিবির সঙ্গে চুক্তির ধরন ও কাঠামোর কথা উল্লেখ করে তিনি সব মেনে নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, বোর্ড নিয়ম মেনেই তাঁকে সরিয়ে দিয়েছে এবং প্রয়োজন মনে করলে বিসিবি তাঁকে ভিন্ন কোনো দায়িত্বে কাজে লাগাতে পারে। এটি সম্পূর্ণ বোর্ডের এখতিয়ারভুক্ত।আরও পড়ুন,ফুটবল ছাড়ার পর রাজনীতিতে সক্রিয় ও তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ওজিলএদিকে আশরাফুলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নেপথ্যে বাংলাদেশ দলের সাম্প্রতিক সময়ের চরম ব্যাটিং দুর্দশাকে মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। কদিন আগেই শেষ হওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি বাংলাদেশ দল, এমনকি দুই শ রানের গণ্ডিও পেরোতে পারেনি। এর আগে জিম্বাবুয়ে সফরেও দলের ব্যাটারদের পারফরম্যান্স ছিল বেশ হতাশাজনক। যদিও অস্ট্রেলিয়া সফরে ডারউইনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল টাইগাররা, কিন্তু ম্যাকাইয়ে দুই ইনিংসে মাত্র ৬৪ ও ৯৫ রান করে দলের ব্যাটিং দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সব মিলিয়ে ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর কোচিংসংগঠনে এই রদবদল নিয়ে নানা আলোচনা চললেও, চুক্তির মারপ্যাঁচ ও পেশাদারিত্বের কথা বলে নিজে থেকেই পুরো বিষয়টি শান্ত করার চেষ্টা করেছেন আশরাফুল।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!