দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

অপরাধীদের দৌরাত্ম্য, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

অপরাধীদের দৌরাত্ম্য, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

দেশে একের পর এক পুলিশের ওপর হামলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল দুর্বল করার অপচেষ্টা, মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এবং মাদক কারবারের বিস্তার—সব মিলিয়ে জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকা, মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের গতি এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত আইনি সেবা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানীসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ আবাসিক হোটেল, অনুমোদনহীন স্পা সেন্টার, মাদক সংশ্লিষ্ট আস্তানা ও নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সামনে আসছে। এসব অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত ও প্রতিরোধ করা না গেলে অপরাধীদের তৎপরতা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। পুলিশ একটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধী শনাক্ত, জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা, দায়িত্ব পালনে বাধা, বিভিন্ন স্থানে সংঘবদ্ধ বিশৃঙ্খলা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, মাঠপর্যায়ে পুলিশ কতটা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে? অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, জনবল, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে? রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের আন্দোলন ও বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা এবং সংঘর্ষের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। কোনো দাবি বা অধিকার আদায়ের আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও সেই আন্দোলনের আড়ালে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি সম্পদ ভাঙচুর কিংবা সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। পুলিশের দায়িত্ব পালনের সময় তাদের ওপর হামলা হলে শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিরাপত্তাই বিঘ্নিত হয় না, বরং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে সংঘবদ্ধ হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলে সেসব অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। আইনের প্রয়োগ হতে হবে সবার জন্য সমান। পুলিশের ওপর হামলার বিচার যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগেরও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। কারণ জবাবদিহি ও পেশাদারত্বের সমন্বয় ছাড়া একটি বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করা সম্ভব নয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় মব সহিংসতা ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। বিভিন্ন এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা, মারধর, ভাঙচুর, চাঁদাবাজি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সংঘবদ্ধ হওয়ার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা আইনের শাসনের জন্য বড় হুমকি। অপরাধের অভিযোগ থাকলে তদন্ত ও বিচারের দায়িত্ব আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং আদালতের। জনতার হাতে বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের দ্রুত সাড়া, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক পৃষ্ঠপোষক, মাদক সরবরাহকারী এবং অপরাধে অর্থায়নকারীদের শনাক্ত করতে হবে। শুধু কয়েকজন কিশোরকে আটক করে অভিযান শেষ করলে সমস্যার মূল উৎপাটন হবে না। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানীকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, স্পা সেন্টার এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে মাঝেমধ্যে নানা অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অনুমোদন, বৈধ ব্যবসায়িক কাগজপত্র কিংবা নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই পরিচালিত হচ্ছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক সংশ্লিষ্টতা, অসামাজিক কার্যকলাপ এবং অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। প্রশ্ন হচ্ছে, একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে, তাদের ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে কি না, ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার কী, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর কি না এবং আবাসিক অতিথিদের তথ্য সংরক্ষণের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে তো? বিশেষ করে গুলশান ও বনানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস এবং স্পা সেন্টারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পুলিশ, সিটি করপোরেশন, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স প্রদানকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না থাকলে অনিয়ম শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়লে সেগুলো ফাইলবন্দি না রেখে তদন্তের অগ্রগতি নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সুনাম ও অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে হবে।আরও পড়ুন, পুলিশের মাসোহারা বৈধ, সাংবাদিকের উপহার অপরাধ?মাদক অপরাধের বিস্তার শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, পরিবার ও সমাজের নিরাপত্তাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে অনেক সময় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যায়। ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণকে বিচ্ছিন্ন কোনো অভিযান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মাদক কারবারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সরবরাহের উৎস, পরিবহন নেটওয়ার্ক, অর্থের লেনদেন এবং পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করা প্রয়োজন। শুধু খুচরা পর্যায়ের কয়েকজন মাদক বিক্রেতাকে আটক করে অভিযান শেষ করলে বড় চক্রগুলো আড়ালে থেকে যেতে পারে। বিশেষ করে আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, বিনোদনকেন্দ্র এবং সন্দেহজনক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা এলাকার বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ না তুলে প্রমাণভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের চিহ্নিত করাই হবে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ। জনসাধারণের মধ্যে আরেকটি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে থানায় গিয়ে প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপরাধের তথ্য নিয়ে থানায় যোগাযোগ করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সরাসরি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। অবশ্য সব ক্ষেত্রে এমন আচরণ ঘটে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তবে এ ধরনের অভিজ্ঞতা যদি কোনো নাগরিকের হয়ে থাকে, তাহলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। একজন নাগরিক যখন কোনো অপরাধের তথ্য নিয়ে থানায় যান, তখন তিনি দ্রুত সাড়া, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং আইনগত সহায়তা প্রত্যাশা করেন। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পর যদি তাঁকে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে যোগাযোগ করতে হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের প্রতি তাঁর আস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব শুধু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকা নয়, আইন ও বিধি অনুযায়ী নিজের এখতিয়ারের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাও তাঁর দায়িত্ব। কোনো অভিযোগ ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পাঠানোর প্রয়োজন হলে সেটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় পাঠাতে হবে। কিন্তু সেই অজুহাতে জরুরি অপরাধের তথ্য গ্রহণ বা প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব করা উচিত নয়। বিশেষ করে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, নারী ও শিশু নির্যাতন, সংঘবদ্ধ অপরাধ কিংবা কোনো ব্যক্তির তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাঝুঁকির তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। পুলিশের ওপর ধারাবাহিক হামলা এবং দায়িত্ব পালনে বাধার ঘটনা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ধরে রাখার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়; পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব আচরণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করাও গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ, জনবল এবং কার্যকর অপারেশনাল নির্দেশনা দিতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধ দমনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অযৌক্তিক চাপ বা বাধা থাকলে তা দূর করতে হবে। পুলিশকে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে একজন কর্মকর্তা অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবেন। আবার কোনো পুলিশ সদস্য দায়িত্বে অবহেলা করলে কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করলে তাঁকেও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মাঠপর্যায়ের ইউনিটগুলোকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং, মাদক কারবার, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান জোরদার করতে হবে। রাজধানীর গুলশান, বনানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম যাচাইয়ে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর লাইসেন্স, নিবন্ধন, ভবনের ব্যবহার, অগ্নিনিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা করতে হবে। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি থানায় নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা থাকা দরকার। অভিযোগ গ্রহণের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হলো, তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না—এসব বিষয়ে অভিযোগকারীকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, সাধারণ মানুষ যদি অপরাধের তথ্য দিয়েও দ্রুত প্রতিকার না পান, তাহলে তাঁরা নিরাপত্তার জন্য কোথায় যাবেন? অপরাধীরা যদি পুলিশের ওপর হামলা করে পার পেয়ে যায়, সংঘবদ্ধভাবে জনজীবন অস্থির করে তোলে এবং বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত না হয়, তাহলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলার নামে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ কিংবা নির্বিচারে গ্রেপ্তার কোনো সমাধান হতে পারে না। অপরাধ দমন করতে হবে আইন মেনে, নিরপেক্ষভাবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে। একই সঙ্গে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের হলেও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সামগ্রিক দায়িত্ব। এ জন্য পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন, বিচার বিভাগ, সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন। অপরাধ দমনে পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ, নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অপরাধের অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে। জনগণ পুলিশের প্রতিপক্ষ নয়; বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণই পুলিশের সবচেয়ে বড় সহযোগী হতে পারে। তাই পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক ফিরিয়ে আনা জরুরি। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি থেকেই যায়—পুলিশের ওপর হামলা, মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা প্রস্তুত? থানায় গিয়ে সাধারণ মানুষ কি সহজে আইনি সেবা পাবেন? গুলশান-বনানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অপরাধের অভিযোগগুলো কি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর শুধু বক্তব্য কিংবা আশ্বাসে নয়, প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপে। কারণ জননিরাপত্তা কোনো বিশেষ শ্রেণির মানুষের অধিকার নয়; এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও আইনগত সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী, পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক করার মধ্য দিয়েই জনগণের নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা সম্ভব।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

২০৩০ লক্ষ্য নিয়ে মনোরেল পরিকল্পনায় সরকার

রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় নতুন সংযোজন হতে যাচ্ছে মনোরেল। ২০৩০ সালের মধ্যে দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর এখন প্রস্তাবিত রুটগুলোর বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান জানিয়েছেন, মনোরেল চালু হলে রাজধানীর গণপরিবহন নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারিত হবে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই এ পরিবহনব্যবস্থা যাত্রীদের চলাচল সহজ করার পাশাপাশি মেট্রোরেলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনেও ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শকেরা ইতোমধ্যে প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। এখন বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ নকশা জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এ কাজের জন্য সরকারি রাজস্ব বাজেট থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। হালনাগাদ সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় ঢাকার জন্য প্রায় ৭৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাঁচটি মনোরেল রুটের প্রস্তাব রয়েছে। আরও পড়ুন,১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বার্তারুটগুলো হলো বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচল ও জলসিঁড়ি হয়ে বসুন্ধরা, মধ্য বাড্ডা থেকে ভুলতা, রামপুরা থেকে ডেমরা, মোহাম্মদপুর থেকে পোস্তগোলা এবং বিমানবন্দর থেকে উত্তরা সেন্টার হয়ে সাভার। প্রস্তাবিত পাঁচটি রুটের মধ্যে যাত্রী চাহিদা, কারিগরি ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা এবং পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করে চূড়ান্ত দুটি রুট নির্বাচন করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিন মাসের মধ্যে একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রুট চিহ্নিত করার কথা রয়েছে।সমীক্ষায় সম্ভাব্য স্টেশন ও ডিপোর অবস্থান, যাত্রীচাহিদা, নির্মাণ ব্যয়, পরিচালন ব্যয় এবং পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যমান ও পরিকল্পনায় থাকা মেট্রোরেলসহ অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে মনোরেলের সংযোগের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। উড়াল কাঠামোর ওপর দিয়ে চলাচল করে মনোরেল। ফলে ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকার যেসব এলাকায় সড়কের জায়গা সীমিত, সেখানে এ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, তা যাচাই করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সরকারের আশা, পরিকল্পিত এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর যানজট কমানো এবং সমন্বিত গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় দিবসটি উপলক্ষে জাতীয়ভাবে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বাণীতে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। দিনটি ছিল দেশের ইতিহাসে শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে যারা দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল, তাদের পরাজয় ঘটেছিল। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই, আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন। আরও পড়ুন,কালশীতে পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৮ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত এসব আন্দোলন ও বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি স্বনির্ভর ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যেন দেশের মানুষের অধিকার হরণ করতে কিংবা বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এ সময় তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে প্রেরণা ও পাথেয় হয়ে উঠবে।

কালশীতে পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৮

রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে তৈরি পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দাবি, শ্রমিকদের স্বাভাবিক দাবি-দাওয়াকে পুঁজি করে সহিংসতা ও নাশকতার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। গত ৩ নভেম্বর রাজধানীর কালশী-পূরবী মোড়ে শিহা ডিজাইন বাংলাদেশ লিমিটেড কারখানার সামনে পুলিশের এক কনস্টেবলের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ডিবি। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই ঘটনার নেপথ্যে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধিসহ প্রভাবশালী একটি চক্রের ইন্ধন ও অর্থায়নের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম মান্নান কচি, আরও পড়ুন,৭ নভেম্বরের চেতনায় গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতিরসাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা এবং সাবেক দুই অতিরিক্ত আইজিপির নাম উঠে এসেছে। ডিবির দাবি, আসামিদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে ১৬টি হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জার গ্রুপের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব গ্রুপে বিভিন্ন স্থানে লোকজন জড়ো করা, সহিংসতার ছবি ও ভিডিও পাঠানো এবং অর্থ লেনদেনের তথ্য আদান-প্রদান করা হতো। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন ঢাকায় এনে আন্দোলনে যুক্ত করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সাধারণ শ্রমিকদের উত্তেজিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকি পুলিশের ওপর হামলা ও যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনাও পরিকল্পনার অংশ ছিল বলে দাবি গোয়েন্দাদের। ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ সদস্যের ওপর হামলায় সরাসরি জড়িত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১১ নেতাকর্মীকেও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ডিবি জানিয়েছে, সহিংসতার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

৭ নভেম্বরের চেতনায় গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দল-মত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ৭ নভেম্বর মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। ওই সময় ঐক্যবদ্ধ সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরে আসে। এ সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। জনগণের সমর্থনে তাঁর ওপর রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় সংকট উত্তরণের দায়িত্ব অর্পিত হয়। বাণীতে তিনি বলেন, সিপাহি ও জনতার সংহতি ছিল স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত এক অভূতপূর্ব জাগরণ। একই চেতনার পুনর্জাগরণ ঘটে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে। ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসহ সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে।আরও পড়ুন, কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজের নাম পরিবর্তন, বাদ জাতীয় চার নেতার নামরাষ্ট্রপতি বলেন, ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতির ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তি, সামাজিক শান্তি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বারবার ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে দেশ আবার গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। জাতীয় সমস্যা সমাধানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আলোচনার পাশাপাশি জাতীয় সংসদকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার আহ্বান জানান তিনি। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা, জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রচর্চাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দুর্নীতি, বৈষম্য ও ষড়যন্ত্রের অবসানে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রাজনীতিরাজনীতি

এনসিপির নেতাদের ভূমিকা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ রনির

এনসিপির নেতাদের ভূমিকা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ রনির

স্ত্রী দাবি করা এক নারীকে ঘিরে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য, কলাম লেখক ও জনপ্রিয় টকশো ব্যক্তিত্ব গোলাম মওলা রনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি ওই নারীকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা এবং নিজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে গোলাম মওলা রনি দাবি করেন, ব্ল্যাকমেইলিং ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েও তিনি কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। পোস্টে তিনি জানান, ইউনূস সরকারের সময় এক নারী স্ত্রী দাবি করে তার অফিসে উপস্থিত হন। পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশ ডাকেন। ওই নারী বিয়ের কাগজপত্র থাকার দাবি করলেও তা দেখাতে পারেননি বলে জানান রনি। পরবর্তী সময়ে ওই নারী তার ধানমন্ডির বাসায় উপস্থিত হলে বিষয়টি নিয়ে শাহবাগ থানায় অভিযোগ করেন তিনি। পরে থানায় কথিত কাবিননামার একটি কপি সংগ্রহ করা হয় বলে দাবি করেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।আরও পড়ুন,কটিয়াদীতে জামায়াত নেতার সংবর্ধনায় নেতাকর্মীদের ঢলরনি জানান, আইনজীবীদের পরামর্শে দীর্ঘ আইনি জটিলতা এড়াতে কথিত কাবিন অনুযায়ী তালাকের নোটিশ পাঠান এবং দেনমোহরের ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। তার দাবি, এরপরও ওই নারীর পক্ষ থেকে সামাজিক সম্মানকে পুঁজি করে বিভিন্ন দাবি জানানো হয়। তিনি আরও বলেন, ওই নারীর সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। এ ঘটনায় পরিবার ও আত্মীয়স্বজন শুরু থেকেই তার পাশে ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নিজের পোস্টে ইউটিউবার ইলিয়াস ও বনি আমিনের বিরুদ্ধেও তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে ভিডিও ও সাক্ষাৎকার প্রচারের অভিযোগ তোলেন গোলাম মওলা রনি। এ ছাড়া পরবর্তী সময়ে এনসিপির নেতাদের ওই নারীকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। পোস্টের শেষাংশে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে গোলাম মওলা রনি বলেন, জীবনের নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করলেও অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপস করেননি। অযথা কারও সঙ্গে বিরোধে না জড়ালেও কেউ ক্ষতি করতে এলে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তা মোকাবিলা করবেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নারী ও অন্য যাদের নাম এসেছে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা প্রয়োজন।

কটিয়াদীতে জামায়াত নেতার সংবর্ধনায় নেতাকর্মীদের ঢল

কটিয়াদীতে জামায়াত নেতার সংবর্ধনায় নেতাকর্মীদের ঢল

কারাভোগ কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না। অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন। শুক্রবার সকালে কারাগার থেকে মুক্তি উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন বলেন, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাকে এক মাস দুই দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। তবে কারাগারে পাঠিয়ে কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। যত বাধাই আসুক, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।আরও পড়ুন,গণঅভ্যুত্থান ও গণভোটের রায়ের সঙ্গে বিএনপি প্রতারণা করেছে: নাহিদ ইসলামনিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে সময়ের পরিবর্তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক পথচলা শুরু করেছেন। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সত্য ও ন্যায়ের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি। এর আগে শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ যাওয়ার পথে কটিয়াদী সীমান্তে তাকে স্বাগত জানান জামায়াতের নেতাকর্মীরা। শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে তাকে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডের সংবর্ধনা মঞ্চে নিয়ে আসা হয়। কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোজাম্মেল হক জোয়ারদার। এ সময় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের জামায়াত এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্লোগানের মধ্য দিয়ে তাকে বরণ করে নেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

গণঅভ্যুত্থান ও গণভোটের রায়ের সঙ্গে বিএনপি প্রতারণা করেছে: নাহিদ ইসলাম

গণঅভ্যুত্থান ও গণভোটের রায়ের সঙ্গে বিএনপি প্রতারণা করেছে: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি গণঅভ্যুত্থান ও গণভোটের রায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তাঁর দাবি, বর্তমানে বিএনপি সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় রয়েছে। অতীতেও গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকা অনেকেই শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে গাইবান্ধায় এনসিপির আঞ্চলিক সমন্বয় সভার আগে জেলা পরিষদ হলরুমে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে এনসিপি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে দলটি সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে। এ লক্ষ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হচ্ছে। বিএনপিকে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে হলে অবশ্যই গণভোটের রায় ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতীয় ঐক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর কারা নিজেদের ক্ষমতা ও চেয়ার নিয়ে ব্যস্ত ছিল, আর কারা দেশের পরিবর্তন ও সংস্কারের কথা ভেবেছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, যারা দেশের সংস্কারের কথা ভাবেনি, তারাই অনৈক্য সৃষ্টি করেছে। এখন আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করতে না পেরে তারা ঐক্যের কথা বলছে।আরও পড়ুন, শনিবার ঢাকায় বিএনপির শোভাযাত্রা, নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমাননাহিদ ইসলাম আরও বলেন, এনসিপি ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও বিচারের মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকা ছিল। তবে বিএনপি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সমঝোতার বিষয়টি দেখা গেছে। এ অবস্থান থেকে বিএনপির সরে আসা উচিত। জিয়াউর রহমানের আমলে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ওই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক মূল্য বিএনপিকে দিতে হয়েছে। বিএনপি অতীত থেকে শিক্ষা না নিলে ভবিষ্যতে কী পরিণতি হবে, তা বলা কঠিন। এ সময় তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ, ডা. মো. কামরুল ইসলাম দর্পণ, মো. মোশারফ হোসাইনসহ এনসিপির অন্যান্য নেতা। পরে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও স্থানীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিকল্পনা প্রণয়নবিষয়ক আঞ্চলিক সমন্বয় সভায় যোগ দেন নাহিদ ইসলাম।

শনিবার ঢাকায় বিএনপির শোভাযাত্রা, নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান

শনিবার ঢাকায় বিএনপির শোভাযাত্রা, নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় শোভাযাত্রা করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আগামীকাল শনিবার (৭ নভেম্বর) অনুষ্ঠেয় এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন তিনি। উদ্বোধনী বক্তব্যের পর শুরু হবে শোভাযাত্রা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির বিস্তারিত জানান দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের কাছে গিয়ে ডান দিকে মোড় নেবে। এরপর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হবে। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধি এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবরে ফাতেহা পাঠ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।আরও পড়ুন, কারাগারের নিরাপত্তায় সাত দফা নির্দেশনা, জোরদার হচ্ছে নজরদারিসংবাদ সম্মেলনে রিজভী জানান, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির সাত দিনের কর্মসূচি গত ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগরে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শনিবার দেশের অধিকাংশ জেলা ও মহানগরে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো আলোচনা সভা, পোস্টার লাগানোসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, জোট, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও দিবসটি পালনের কর্মসূচি নিয়েছে। তাঁর দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দিবসটির রাষ্ট্রীয় আয়োজন বন্ধ করেছিল। এবার দীর্ঘদিন পর আবারও রাষ্ট্রীয় ও জাতীয়ভাবে দিবসটি পালিত হবে। তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; সাধারণ মানুষের মধ্যেও দিবসটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত তারিকুল আলম তেনজিং উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা

বাসন থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ গ্রেফতার ২

বাসন থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ গ্রেফতার ২

গাজীপুর মহানগরের বাসন থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও অন্যান্য মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (০৬ নভেম্বর ২০২৬) বাসন থানা পুলিশের পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে সিআর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মোঃ বিপ্লব মিয়া (২৮)-কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি গাজীপুর জেলার বাসন থানাধীন চান্দপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম মোঃ চুন্নু মিয়া বেপারী। আরও পড়ুন,কক্সবাজারে সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ২৭অপরদিকে, জিএমপি প্রসিকিউশন মামলার আসামি মোঃ আলামিন ওরফে শ্রাবন (২১)-কেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর এলাকার মৃত দুলালের ছেলে এবং শাহানাজ বেগমের সন্তান। বর্তমানে তিনি গাজীপুর মহানগরের সদর থানাধীন নিয়ামত সড়ক এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। বাসন থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলার এই দুই আসামিকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের তৎপরতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মামলায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

কক্সবাজারে সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ২৭

কক্সবাজারে সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ২৭

কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকা থেকে মোট ২৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৫ নভেম্বর থেকে ৬ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে ১৮ জন মাদক সেবনকারী, ৩ জন ধর্তব্য অপরাধে অভিযুক্ত এবং ৬ জন পরোয়ানাভুক্ত আসামি রয়েছেন। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চোর ও ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পরিচালিত বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে সদর থানা পুলিশের বিভিন্ন দল পৌরসভা ও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়।গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মাদক সেবনের অভিযোগে ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন আবু তালেব (৪৫), একরামুল হক খোকন (৫২), জয়নাল আবেদীন (৫০), কাদের হোসেন (৪০), আব্দুল্লাহ (২৬), আলী হোসেন (২৮), সোহেল (২৪), সোহেল (৩০), ইমন (২৬), শিবলু চৌধুরী সিফাত (২৬), হেলাল উদ্দিন (৪৫), ইউসুফ (২৫), নাসির উদ্দিন (১৯), হামিদ হোসেন বাপ্পি (২০), রনি (২২), কাইছার উদ্দিন বাবু (২৮), জান্নাত উল্লাহ (২৫) ও মোস্তফা (১৮)। আরও পড়ুন,গাজীপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযান: দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ ৯ জন গ্রেফতারএ ছাড়া ধর্তব্য অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আশরাফুল ইসলাম সাগর (২১), জসিম উদ্দিন (২২) ও বাবুল (২৪) নামের তিনজনকে। তাদের মধ্যে জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় একটি সাধারণ ডায়েরির তথ্য রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। অন্যদিকে বিভিন্ন মামলায় আদালতের জারিকৃত পরোয়ানার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ছয়জনকে। তারা হলেন ইকবাল হোসেন, মো. সেলিম রেজা, মোহাম্মদ ওমর হাছান, আনছারুল করিম (৩২), মিজানুর রহমান ও মোহাম্মদ হারুন মিয়া। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের এ বিশেষ অভিযান অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চলমান কার্যক্রমের অংশ।

গাজীপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযান: দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ ৯ জন গ্রেফতার

গাজীপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযান: দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ ৯ জন গ্রেফতার

ছিনতাইকারী, ইয়াবা কারবারি ও ৭ মাদকসেবী গ্রেফতার নিজস্ব প্রতিবেদক | মোঃ ফরিদ হোসেন, গাজীপুর প্রতিনিধি গাজীপুর, ৬ নভেম্বর ২০২৬: গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে দেশীয় অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের পরিচালিত এ অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ও ৬ গ্রাম হেরোইনসহ একজন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়।আরও পড়ুন,মাদক ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে চলো পাল্টাই যুব সংগঠনের উদ্যোগ এছাড়া ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই অভিযানে মাদক সেবনের অভিযোগে আরও সাতজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদক ও অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে।

মাদক ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে চলো পাল্টাই যুব সংগঠনের উদ্যোগ

মাদক ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে চলো পাল্টাই যুব সংগঠনের উদ্যোগ

মাদক, অনলাইন জুয়া ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ‘চলো পাল্টাই যুব সংগঠন’-এর উদ্যোগে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ৯ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় উপজেলার ঘাগটিয়া পয়েন্টে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজনকে ঘিরে সংগঠনের প্রতি সমর্থন ও শুভকামনা জানিয়ে ইতালি, স্পেন ও লন্ডন থেকে ভিডিওবার্তা দিয়েছেন ছয় প্রবাসী। তাঁরা সংগঠনের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে মাদক, অনলাইন জুয়া ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। সরকারি চাকরিজীবী সুয়েল মিয়া এক ভিডিওবার্তায় বলেন, “চলো পাল্টাই যুব সংগঠন, দিরাই, সুনামগঞ্জের পক্ষ থেকে সবাইকে অভিনন্দন ও ভালোবাসা। পদ নয়, মানবতার সেবাই আমাদের অঙ্গীকার। তরুণ সমাজকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে।” ইতালি প্রবাসী খসরুজ্জামান বলেন, “চলো পাল্টাই যুব সংগঠনের প্রতি আমার ভালোবাসা ও আন্তরিকতা রয়েছে। সংগঠনের পাশে থাকব। মাদক, জুয়া ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে আমি সব সময় সংগঠনের পাশে আছি।” তিনি সংগঠনের সব সদস্যকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। ইতালি প্রবাসী জুয়েল খান বলেন, হাজার মাইল দূরে থেকেও ‘চলো পাল্টাই যুব সংগঠন’-এর কার্যক্রম তাঁর ভালো লেগেছে। বিশেষ করে অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে সংগঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি সংগঠনের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।আরও পড়ুন, টুঙ্গিপাড়ায় যুবককে আটকে রেখে ছোট ভাইকে তুলে নিয়ে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগস্পেন প্রবাসী রাজু তালুকদার ভিডিওবার্তায় সংগঠনের প্রতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানিয়ে এর সামাজিক কার্যক্রমের সফলতা কামনা করেন। লন্ডন প্রবাসী ও দিরাই উপজেলার শুকুরনগর গ্রামের মো. আলমগীর চৌধুরী সংগঠনের সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে মাদক, অনলাইন জুয়া ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে এমন উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আয়োজকদের অভিনন্দন জানান তিনি। অন্যদিকে, লন্ডন প্রবাসী মো. আলমগীর তালুকদারও ভিডিওবার্তায় সংগঠনের প্রতি শুভেচ্ছা ও সমর্থন জানান। সংগঠনের কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এ সংগঠনের মূল লক্ষ্য তরুণ সমাজকে ইতিবাচক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা। পাশাপাশি মাদক, অনলাইন জুয়া এবং বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা। আয়োজকরা জানান, আগামী ৯ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় ঘাগটিয়া পয়েন্টে অনুষ্ঠিতব্য মতবিনিময় সভায় দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জীব সরকার, দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম, সেকেন্ড অফিসার আসাদ নূর, স্থানীয় সাংবাদিক, তরুণ সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রবাসীদের সমর্থন ও সহযোগিতা এবং স্থানীয় প্রশাসন, সাংবাদিক ও তরুণ সমাজের অংশগ্রহণ সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে। মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তাঁরা।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

আন্তর্জাতিক

শতবর্ষের ইতিহাস ভেঙে ভিপি হলেন নাশরা নাঈম

শতবর্ষের ইতিহাস ভেঙে ভিপি হলেন নাশরা নাঈম

ভারতের ঐতিহাসিক আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নতুন ইতিহাস গড়েছেন নাশরা নাঈম। বিশ্ববিদ্যালয়টির ১০৫ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো নারী শিক্ষার্থী সহসভাপতি বা ভিপি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার ৬ নভেম্বর নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হয়। এতে নাশরা নাঈম পেয়েছেন ৭ হাজার ৯১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৫ হাজার ৮১৮ ভোট। বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের প্রথম নারী ভিপি হিসেবে ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়েছেন তিনি।এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের সাফল্য ছিল উল্লেখযোগ্য। ছাত্র সংসদের মোট ১০টি ক্যাবিনেট সদস্য পদের মধ্যে পাঁচটিতেই জয় পেয়েছেন নারী প্রার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদরা এটিকে ক্যাম্পাসে নারী নেতৃত্বের অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। এদিকে সভাপতি পদে ৪ হাজার ১০০ ভোটের বেশি ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ নোমান আশরাফ। সাধারণ সম্পাদক বা জিএস পদে জয় পেয়েছেন মোহাম্মদ হামদান। নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ ও বিশ্ববিদ্যালয় কোর্ট নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অধ্যাপক জাভেদ তালিব এবং উইমেন্স কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অধ্যাপক নাজিয়া হাসান। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের মতে, এবারের নির্বাচনে জেন জি বিক্ষোভের প্রভাবও ছিল।আরও পড়ুন,যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধকে যুদ্ধের ধরন বলল ইরান আগের নির্বাচনে ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক বিষয়গুলো গুরুত্ব পেলেও এবার জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন বিষয় এবং মুসলিমদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ও প্রচারণায় উঠে এসেছে। অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নাঈমা খাতুন। তিনি নির্বাচনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেন। ছাত্র সংসদে নারীদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়ে নারী ক্ষমতায়নের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো নির্বাচনী প্রচার ও ভোট গ্রহণ চলাকালে কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। নাশরা নাঈমের এই জয় শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী নেতৃত্বের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়।

১০ মিনিট আগে

রাজধানী

রাজধানীতে বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

রাজধানীতে বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

রাজধানীর মিরপুরে যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী রয়েছেন।বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানার বেড়িবাঁধের নবাবেরবাগ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এক খুদে বার্তায় দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আরও পড়ুন,দোকানপাট খোলা রাখার সময় বাড়াতে মন্ত্রণালয়ে আবেদনতিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। এ ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে দুর্ঘটনায় আর কেউ আহত হননি বলে জানান তিনি। বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। এদিকে, নিহতদের পরিচয় এবং দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

০৪ নভেম্বর ২০২৬

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৬ জন

খেলাধুলা

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৬৮ রানে পিছিয়ে থেকে দিন শেষ করল বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৬৮ রানে পিছিয়ে থেকে দিন শেষ করল বাংলাদেশ

বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছেই না। মিরপুর টেস্টে বাজে ব্যাটিংয়ের কারণে হারের পর সিলেট টেস্টেও ব্যাট হাতে ভালো শুরু করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৫৬ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৮৮ রান। ফলে এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। দলের বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন তাওহীদ হৃদয় ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। দিন শেষে হৃদয় ২৯ এবং মুশফিক ১৬ রানে অপরাজিত রয়েছেন। আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হয়। এর আগে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৫৬ রান সংগ্রহ করে। ক্যারিবীয়দের হয়ে আমির জাঙ্গু সর্বোচ্চ ১৩৩ রান করেন। এ ছাড়া কেভিন উইকহ্যাম ৬১ ও জাস্টিন গ্রিভস ৫১ রান করেন। বাংলাদেশের পক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করে হাসান মাহমুদ ৬ উইকেট শিকার করেন। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার পঞ্চম পাঁচ উইকেটের কৃতিত্ব। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। সাদমান ইসলাম অ্যাঙ্কলের চোটে না থাকায় তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নামেন নাঈম হাসান। এর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও কখনো ওপেনিং করেননি তিনি। তবে নতুন দায়িত্বে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি নাঈম। জেইডেন সিলসের বলে মাত্র ৫ রান করে স্লিপে ব্রেন্ডন কিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।আরও পড়ুন, কোচের সঙ্গে বিরোধের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় রোনালদোর১৩ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। আগের টেস্টে কনকাশন বদলি হিসেবে খেলায় নিয়ম অনুযায়ী এ ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি মুমিনুল হক। তবে শান্তর সঙ্গে জুটি গড়ার আগেই সাজঘরে ফেরেন তানজিদ হাসান। জাস্টিন গ্রিভসের বলে পয়েন্টে অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যামের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে ১৬ রান। ২২ রানেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন অধিনায়ক শান্ত। কিন্তু তাদের ২৯ রানের জুটি ভেঙে দেন শামার জোসেফ। তার বলে বোল্ড হয়ে ১৮ রান করে ফিরে যান শান্ত। এরপর অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন হৃদয়। দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৩৭ রানের জুটিতে দিনের বাকি সময় পার করে বাংলাদেশ। আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হওয়ার পর আর মাঠে নামা হয়নি তাদের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ২৬৮ রান পিছিয়ে থেকে তৃতীয় দিন শুরু করবে বাংলাদেশ। এখন দলের প্রধান লক্ষ্য বড় জুটি গড়ে ফলোঅন এড়ানোর মতো অবস্থানে পৌঁছানো এবং প্রথম ইনিংসের ঘাটতি কমানো।

আইন আদালত

পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। ব্যবসায়ী নাসির ইউ আহমেদের করা মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় তার জামিন বাতিল করে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এদিন বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। অন্যদিকে, পরীমনির আইনজীবী সময়ের আবেদন জানিয়ে আদালতকে বলেন, অ্যালার্জিজনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। পরে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে পরীমনির জামিন বাতিল এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। এর আগে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় পরীমনিসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওই দিনও তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।আরও পড়ুন, হুমায়ূন আহমেদের হাত ধরেই বড় পর্দায় মিমের অভিষেকমামলার তদন্তে ২০২৪ সালে পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০২১ সালের ৬ জুলাই বোট ক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। অন্য দুই আসামি হলেন ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম। মামলার অভিযোগে নাসির উদ্দিন মাহমুদ দাবি করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমনি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা ক্লাবের দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার এবং পরে বসে অ্যালকোহল পান করেন। এ সময় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!