দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

অপরাধীদের দৌরাত্ম্য, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

অপরাধীদের দৌরাত্ম্য, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

দেশে একের পর এক পুলিশের ওপর হামলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল দুর্বল করার অপচেষ্টা, মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এবং মাদক কারবারের বিস্তার—সব মিলিয়ে জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকা, মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের গতি এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত আইনি সেবা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানীসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ আবাসিক হোটেল, অনুমোদনহীন স্পা সেন্টার, মাদক সংশ্লিষ্ট আস্তানা ও নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সামনে আসছে। এসব অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত ও প্রতিরোধ করা না গেলে অপরাধীদের তৎপরতা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। পুলিশ একটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধী শনাক্ত, জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা, দায়িত্ব পালনে বাধা, বিভিন্ন স্থানে সংঘবদ্ধ বিশৃঙ্খলা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, মাঠপর্যায়ে পুলিশ কতটা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে? অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, জনবল, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে? রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের আন্দোলন ও বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা এবং সংঘর্ষের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। কোনো দাবি বা অধিকার আদায়ের আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও সেই আন্দোলনের আড়ালে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি সম্পদ ভাঙচুর কিংবা সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। পুলিশের দায়িত্ব পালনের সময় তাদের ওপর হামলা হলে শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিরাপত্তাই বিঘ্নিত হয় না, বরং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে সংঘবদ্ধ হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলে সেসব অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। আইনের প্রয়োগ হতে হবে সবার জন্য সমান। পুলিশের ওপর হামলার বিচার যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগেরও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। কারণ জবাবদিহি ও পেশাদারত্বের সমন্বয় ছাড়া একটি বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করা সম্ভব নয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় মব সহিংসতা ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। বিভিন্ন এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা, মারধর, ভাঙচুর, চাঁদাবাজি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সংঘবদ্ধ হওয়ার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা আইনের শাসনের জন্য বড় হুমকি। অপরাধের অভিযোগ থাকলে তদন্ত ও বিচারের দায়িত্ব আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং আদালতের। জনতার হাতে বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের দ্রুত সাড়া, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক পৃষ্ঠপোষক, মাদক সরবরাহকারী এবং অপরাধে অর্থায়নকারীদের শনাক্ত করতে হবে। শুধু কয়েকজন কিশোরকে আটক করে অভিযান শেষ করলে সমস্যার মূল উৎপাটন হবে না। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানীকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, স্পা সেন্টার এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে মাঝেমধ্যে নানা অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অনুমোদন, বৈধ ব্যবসায়িক কাগজপত্র কিংবা নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই পরিচালিত হচ্ছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক সংশ্লিষ্টতা, অসামাজিক কার্যকলাপ এবং অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। প্রশ্ন হচ্ছে, একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে, তাদের ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে কি না, ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার কী, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর কি না এবং আবাসিক অতিথিদের তথ্য সংরক্ষণের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে তো? বিশেষ করে গুলশান ও বনানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস এবং স্পা সেন্টারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পুলিশ, সিটি করপোরেশন, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স প্রদানকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না থাকলে অনিয়ম শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়লে সেগুলো ফাইলবন্দি না রেখে তদন্তের অগ্রগতি নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সুনাম ও অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে হবে।আরও পড়ুন, পুলিশের মাসোহারা বৈধ, সাংবাদিকের উপহার অপরাধ?মাদক অপরাধের বিস্তার শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, পরিবার ও সমাজের নিরাপত্তাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে অনেক সময় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যায়। ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণকে বিচ্ছিন্ন কোনো অভিযান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মাদক কারবারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সরবরাহের উৎস, পরিবহন নেটওয়ার্ক, অর্থের লেনদেন এবং পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করা প্রয়োজন। শুধু খুচরা পর্যায়ের কয়েকজন মাদক বিক্রেতাকে আটক করে অভিযান শেষ করলে বড় চক্রগুলো আড়ালে থেকে যেতে পারে। বিশেষ করে আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, বিনোদনকেন্দ্র এবং সন্দেহজনক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা এলাকার বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ না তুলে প্রমাণভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের চিহ্নিত করাই হবে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ। জনসাধারণের মধ্যে আরেকটি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে থানায় গিয়ে প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপরাধের তথ্য নিয়ে থানায় যোগাযোগ করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সরাসরি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। অবশ্য সব ক্ষেত্রে এমন আচরণ ঘটে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তবে এ ধরনের অভিজ্ঞতা যদি কোনো নাগরিকের হয়ে থাকে, তাহলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। একজন নাগরিক যখন কোনো অপরাধের তথ্য নিয়ে থানায় যান, তখন তিনি দ্রুত সাড়া, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং আইনগত সহায়তা প্রত্যাশা করেন। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পর যদি তাঁকে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে যোগাযোগ করতে হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের প্রতি তাঁর আস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব শুধু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকা নয়, আইন ও বিধি অনুযায়ী নিজের এখতিয়ারের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাও তাঁর দায়িত্ব। কোনো অভিযোগ ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পাঠানোর প্রয়োজন হলে সেটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় পাঠাতে হবে। কিন্তু সেই অজুহাতে জরুরি অপরাধের তথ্য গ্রহণ বা প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব করা উচিত নয়। বিশেষ করে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, নারী ও শিশু নির্যাতন, সংঘবদ্ধ অপরাধ কিংবা কোনো ব্যক্তির তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাঝুঁকির তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। পুলিশের ওপর ধারাবাহিক হামলা এবং দায়িত্ব পালনে বাধার ঘটনা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ধরে রাখার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়; পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব আচরণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করাও গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ, জনবল এবং কার্যকর অপারেশনাল নির্দেশনা দিতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধ দমনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অযৌক্তিক চাপ বা বাধা থাকলে তা দূর করতে হবে। পুলিশকে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে একজন কর্মকর্তা অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবেন। আবার কোনো পুলিশ সদস্য দায়িত্বে অবহেলা করলে কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করলে তাঁকেও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মাঠপর্যায়ের ইউনিটগুলোকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং, মাদক কারবার, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান জোরদার করতে হবে। রাজধানীর গুলশান, বনানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম যাচাইয়ে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর লাইসেন্স, নিবন্ধন, ভবনের ব্যবহার, অগ্নিনিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা করতে হবে। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি থানায় নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা থাকা দরকার। অভিযোগ গ্রহণের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হলো, তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না—এসব বিষয়ে অভিযোগকারীকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, সাধারণ মানুষ যদি অপরাধের তথ্য দিয়েও দ্রুত প্রতিকার না পান, তাহলে তাঁরা নিরাপত্তার জন্য কোথায় যাবেন? অপরাধীরা যদি পুলিশের ওপর হামলা করে পার পেয়ে যায়, সংঘবদ্ধভাবে জনজীবন অস্থির করে তোলে এবং বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত না হয়, তাহলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলার নামে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ কিংবা নির্বিচারে গ্রেপ্তার কোনো সমাধান হতে পারে না। অপরাধ দমন করতে হবে আইন মেনে, নিরপেক্ষভাবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে। একই সঙ্গে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের হলেও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সামগ্রিক দায়িত্ব। এ জন্য পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন, বিচার বিভাগ, সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন। অপরাধ দমনে পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ, নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অপরাধের অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে। জনগণ পুলিশের প্রতিপক্ষ নয়; বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণই পুলিশের সবচেয়ে বড় সহযোগী হতে পারে। তাই পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক ফিরিয়ে আনা জরুরি। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি থেকেই যায়—পুলিশের ওপর হামলা, মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা প্রস্তুত? থানায় গিয়ে সাধারণ মানুষ কি সহজে আইনি সেবা পাবেন? গুলশান-বনানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অপরাধের অভিযোগগুলো কি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর শুধু বক্তব্য কিংবা আশ্বাসে নয়, প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপে। কারণ জননিরাপত্তা কোনো বিশেষ শ্রেণির মানুষের অধিকার নয়; এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও আইনগত সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী, পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক করার মধ্য দিয়েই জনগণের নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা সম্ভব।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

১৫ দিনের মধ্যে ইউটিলিটি লাইন যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করার নির্দেশনা দিয়েছেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ। প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের নির্মাণকাজের প্রতিবন্ধকতা নিরসনে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নগরবাসীর প্রত্যাশার অন্যতম মেগা প্রকল্প। জনভোগান্তি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে। এ জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে থাকা সব জটিলতা জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করা প্রয়োজন। সভায় প্রকল্পের রুট অ্যালাইনমেন্টে বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থার ইউটিলিটি লাইন অপসারণ ও স্থানান্তর, জমি-সংক্রান্ত জটিলতা এবং নির্মাণকাজের অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।আরও পড়ুন, সকালে মিরপুরে সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত নারীসহ ৪  সভায় কমলাপুর আইসিডি-সংলগ্ন বাংলাদেশ রেলওয়ের জমিতে অননুমোদিত ট্রাক স্ট্যান্ডের কারণে কমলাপুর আপ-র‌্যাম্প নির্মাণকাজ ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ অবস্থায় ট্রাক স্ট্যান্ডটি দ্রুত অপসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়। এ ছাড়া আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টিটিপাড়া থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত সব সেবাদানকারী সংস্থার ইউটিলিটি লাইন সরেজমিনে যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রাক্কলন প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সেবাদানকারী সংস্থার প্রতিনিধি, ইউটিলিটি অপসারণ ও প্রতিস্থাপনের কাজে নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইসিবির প্রতিনিধি, প্রকল্প মনিটরিং টিমের আহ্বায়ক, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) এবং প্রকল্প দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নির্মাণকাজের বাধা দূর করে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

বিএনপি ও চীনের রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে ঢাকায় লিউ হাইশিং

তিন দিনের দ্বিপক্ষীয় সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের উপমন্ত্রী লিউ হাইশিং। বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে তাকে বহনকারী বিমান ঢাকায় অবতরণ করে। এ সফরে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগ জোরদারের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্পায়ন ও জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। বিমানবন্দরে লিউ হাইশিংকে স্বাগত জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহসহ দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তার। এ ছাড়া রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ও চীনের রাজনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেবেন লিউ হাইশিং। একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ-চায়না সেন্টার ফর পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজের উদ্বোধন করবেন তিনি। আরও পড়ুন,চারদিন গ্যাসের চাপ কমলেও সরবরাহ চালু থাকবেসফরের শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচিও রয়েছে তার। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর এটিই চীন থেকে ঢাকায় আসা প্রথম জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতার সফর। ওই সফরে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এবারের সফরে সেই সমঝোতার বাস্তবায়ন, দুই দলের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক পর্যায়ে সহযোগিতার কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জীবিকাসহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গেও বৈঠক করবেন চীনের এই জ্যেষ্ঠ নেতা।

সকালে মিরপুরে সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত নারীসহ ৪

রাজধানীর মিরপুরে বাস ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী রয়েছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মিরপুর বেরিবাঁধের শাহ আলী থানাধীন নবাবেরবাগ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে বাস ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে কল্যাণপুর ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।আরও পড়ুন,চারদিন গ্যাসের চাপ কমলেও সরবরাহ চালু থাকবেনিহতদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। দুর্ঘটনায় আর কেউ আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকাজ শেষে নিহতদের মরদেহ শাহ আলী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে কী কারণে বাস ও অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।রাজধানীর সড়কে বাস ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে এ দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

চারদিন গ্যাসের চাপ কমলেও সরবরাহ চালু থাকবে

সারা দেশে আজ থেকে টানা চারদিন গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে। তবে এ সময়ে কোথাও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে না বলে আশ্বস্ত করেছে পেট্রোবাংলা। সামিট এলএনজির ভাসমান টার্মিনালে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাবে। এতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বল্পচাপের সমস্যা দেখা দিতে পারে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, আগামী শনিবার পর্যন্ত চারদিন এই পরিস্থিতি থাকতে পারে। রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য দৈনিক প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ কমবে। বর্তমানে দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। আরও পড়ুন,বড়দিন উদযাপনে ৩ কোটি টাকা অনুদানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীরফলে আগে থেকেই দৈনিক ঘাটতি রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। পেট্রোবাংলার পরিচালক অপারেশন অ্যান্ড মাইন্স মো. শোয়েব জানিয়েছেন, রক্ষণাবেক্ষণের সময়ও জাতীয় গ্রিডে প্রায় ২ হাজার ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ থাকবে। তাই কোথাও গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা নেই। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ায় গ্রাহকদের আতঙ্কিত বা বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হবে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

রাজনীতিরাজনীতি

বিমানের ছবি দিয়ে রহস্যময় পোস্ট আসিফ মাহমুদের

বিমানের ছবি দিয়ে রহস্যময় পোস্ট আসিফ মাহমুদের

‘আপা আসবে তাই চলে যাচ্ছি। বিদায় বাংলাদেশ!’ নিজের ফেসবুক পোস্টে এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আসিফ মাহমুদ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা লেখেন তিনি।পোস্টের সঙ্গে বিমানের ভেতরে অবস্থান করা একটি ছবিও যুক্ত করেন আসিফ মাহমুদ। ছবিতে তার সঙ্গে দেখা যায় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনকে। তবে তারা কোথায় যাচ্ছেন, আরও পড়ুন,জনগণের স্বার্থে সবাইকে রাজপথে নামার আহ্বান নাহিদেরসে বিষয়ে পোস্টে কোনো তথ্য উল্লেখ করেননি আসিফ মাহমুদ। ফলে তাদের গন্তব্য নিয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। এদিকে, পোস্টটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে ৬৪ হাজার রিয়্যাকশন পড়েছে। আসিফ মাহমুদের এই পোস্টে ‘আপা আসবে’ মন্তব্যের মাধ্যমে কাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

জনগণের স্বার্থে সবাইকে রাজপথে নামার আহ্বান নাহিদের

জনগণের স্বার্থে সবাইকে রাজপথে নামার আহ্বান নাহিদের

শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, সরকারের সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবেই শ্রমিকদের আন্দোলনের এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কোনো ন্যায্য আন্দোলনকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে সরকার দায় এড়াতে পারে না। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পাবনা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এনসিপির পাবনা জেলা শাখা আয়োজিত সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিকল্পনা বিষয়ক মতবিনিময় সভার আগে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনে ফ্যাসিস্টদের অনুপ্রবেশ কিংবা নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে। এটি সরকারের গোয়েন্দা তৎপরতার ব্যর্থতা। তাঁর অভিযোগ, সরকার বিরোধী দল দমনে গোয়েন্দা সংস্থার শক্তি ব্যবহার করছে। অথচ দেশের শত্রু এবং জনগণকে হত্যার পর ভারতে পালিয়ে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো গোয়েন্দা তথ্য জাতির সামনে প্রকাশ করা হয়নি।আরও পড়ুন, জনগণের অধিকার ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: শফিকুর রহমানতিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ৫০০টি আন্দোলন মোকাবিলা করেছে। জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারলেই কেবল আন্দোলন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু বর্তমান সরকারের ওপর জনগণের আস্থা নেই বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, সরকার ৭০ শতাংশ জনগণের রায়ের সঙ্গে বেইমানি করেছে এবং নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও নির্বাচনি ইশতেহারের অঙ্গীকারও ভঙ্গ করেছে। এলপিজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, গত সোমবার আবারও সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। আগে খোলাবাজারে ১ হাজার ৮০০ টাকার সিলিন্ডার ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। নতুন মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ওপর আরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। রাজপথেই সরকারের কর্মকাণ্ডের জবাব দিতে হবে। সভায় এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

জনগণের অধিকার ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: শফিকুর রহমান

জনগণের অধিকার ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: শফিকুর রহমান

জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান যেভাবে লড়াই করেছেন, জামায়াতে ইসলামীও একইভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের কারামুক্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের প্রত্যেকটি অধিকার আদায়ের জন্য তাঁরা লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করছেন। যত দিন পর্যন্ত জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরে না আসবে, তত দিন এ লড়াই অব্যাহত থাকবে। মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের সাহসিকতার প্রশংসা করে জামায়াত আমির বলেন, তাঁর সহকর্মী প্রমাণ করেছেন, তাঁরা কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় পান না। তাঁদের ভয় শুধু মহান আল্লাহকে। এই সাহসিকতা সবার মধ্যে থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।আরও পড়ুন,রিমান্ডে চোখ বাঁধার অভিযোগ জামায়াত নেতারবিরোধী দলকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থতা, অযোগ্যতা ও অদক্ষতা আড়াল করতে বিরোধী দলকে অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। বিরোধী দলকে মোকাবিলায় যাদের ব্যবহার করার চেষ্টা হচ্ছে, একসময় তারাই পালিয়ে যাবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। উল্লেখ্য, বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। গত ১ নভেম্বর হাইকোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। পরে মঙ্গলবার সকালে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। তাঁর কারামুক্তিকে কেন্দ্র করেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রিমান্ডে চোখ বাঁধার অভিযোগ জামায়াত নেতার

রিমান্ডে চোখ বাঁধার অভিযোগ জামায়াত নেতার

কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে পুলিশের রিমান্ডে নেওয়া এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় চোখ বেঁধে জামায়াতের বিষয়ে প্রশ্ন করার অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা আখতারুজ্জামান। একই সঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার তিন নভেম্বর সকালে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর কারাফটকে সাংবাদিকদের কাছে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছেন। এক মাসের কষ্টের পরও সবার সামনে দাঁড়াতে পেরে তিনি সন্তুষ্ট। তবে তাকে কেন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল, রিমান্ডে নিয়ে কেন চোখ বেঁধে রাখা হয়েছিল এবং জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কেন প্রশ্ন করা হয়েছিল এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। আরও পড়ুন,প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শপথআখতারুজ্জামানের অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তথ্য নেওয়া গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ সময় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ভাবার আহ্বান জানান তিনি। মুক্তির পর নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা বলেন, তারা সত্য ও ন্যায়ের রাজনীতি করেন। সত্যের রাজনীতি কখনো পরাজিত হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, জনগণের পাশে থাকা এবং জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত রাখতে চান। এ জন্য সবার কাছে দোয়া চান তিনি। আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে আখতারুজ্জামান বলেন, তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। তবে পরবর্তী বক্তব্য ও কর্মসূচির বিষয়ে জামায়াতের আমিরের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবেন তিনি।এ সময় কারাফটকে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জামায়াতের এই নেতা।

সারাবাংলা

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার মোঃ আশিক সাঈদ

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার মোঃ আশিক সাঈদ

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) নতুন পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ডিআইজি মোঃ আশিক সাঈদ। বর্তমানে তিনি ডিআইজি হিসেবে রেলওয়ে পুলিশে দায়িত্ব পালন করছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়। অন্যদিকে, জিএমপির বর্তমান কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদারকে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতির পর শিল্পাঞ্চল পুলিশের দায়িত্বে পদায়ন করা হয়েছে। নতুন কমিশনার মোঃ আশিক সাঈদের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে গাজীপুর মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন, আরও পড়ুন,টেকসই বাঁধের আশ্বাস দেড় মাসেই ভাঙল জিও ব্যাগঅপরাধ দমন, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে নগরবাসী প্রত্যাশা করছেন। গাজীপুর মহানগরের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর নেতৃত্বে পুলিশ প্রশাসন আরও গতিশীল ও জনবান্ধব হবে এমন প্রত্যাশা সচেতন মহলের। নতুন দায়িত্বে ডিআইজি মোঃ আশিক সাঈদের প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। তাঁর কর্মজীবনের সফলতা কামনা করছি।

টেকসই বাঁধের আশ্বাস দেড় মাসেই ভাঙল জিও ব্যাগ

টেকসই বাঁধের আশ্বাস দেড় মাসেই ভাঙল জিও ব্যাগ

বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় পায়রা নদীর ভাঙন রোধে ফেলা বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই ধসে যাচ্ছে। এতে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে বাঁধ সংলগ্ন নিশান বাড়িয়া ইউনিয়নের ১৫ টি গ্রামের মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে বেড়িবাঁধ সংলগ্ন নদীর তীর থেকেই মাটি খনন করে বাঁধ নির্মাণ করায় মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই পুনরায় নদী গর্ভে ধসে পড়েছে। এছাড়া জিও ব্যাগগুলোতে নিয়মানুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণ বালু ভর্তি করার কথা থাকলেও, নামমাত্র বালু ও মাটি ভরে তা ডাম্পিং করা হয়। অথচ কাজ শুরুর সময়ই নিম্নমানের কাজ নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন তারা। পাউবো সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় ৫টি প্যাকেজের আওতায় ৫৯০ মিটার বেড়িবাঁধ সংস্কার এবং জিও ব্যাগ ফেলার কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। ১ কোটি ৪৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যের এই কাজটি বাস্তবায়ন করেন-মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশন, মেসার্স আর.এস কনস্ট্রাকশন, মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স মনি ট্রেডার্স। গত ২১ সেপ্টেম্বর এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। আরও পড়ুন,অভিযানে গিয়ে গুলিভর্তি পিস্তল হারালেন এএসআই, সন্ধানদাতাকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারগত ০১ নভেম্বর সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দেড় মাস আগে নির্মিত উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকা সংলগ্ন পায়রা নদীর ভাঙন রোধে বেড়িবাঁধ সংস্কার ও ফেলা বালুভর্তি জিও ব্যাগের প্রায় ৩০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে ধসে যেতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের প্রায় ২০০ মিটার অংশে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ফাটল। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধটি ভেঙে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়বে। বাঁধটি ভেঙে গেলে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া, বড় অঙ্কুজান, নলবুনিয়া ও আগাপাড়াসহ ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, আমন ধান এবং মাছের ঘের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাবুল হাওলাদার, মো. হাসান মিয়া, ও মো. নুর-আলম মাতুব্বর বলেন, ‘প্রতি বছরই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নামমাত্র বেড়িবাঁধ সংস্কার করে সরকারি অর্থ আত্মসাত করে। কাজ শুরুর সময়ই আমরা অনিয়মের প্রতিবাদ জানালেও কর্তৃপক্ষ কোনো কর্ণপাত করেনি। এখন জিও ব্যাগগুলো নদীতে ধসে যাচ্ছে এবং বাঁধে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করবে। বেড়িবাঁধে ভাঙন ও ধসের ঘটনায় মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ এবং মেসার্স মনি ট্রেডার্স-এর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অপর দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী লিমন জানান, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফিলতি নেই।আরও পড়ুন,কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের অভিযানে ২৪ জন গ্রেপ্তার যে জায়গাটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেটি আসলে একটি নদীর মোহনা। মোহনার এই জটিল প্রকৃতির কারণে সেখানে বারবার ভাঙন ধরছে। তাই নদীর এই পয়েন্টে স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজ করা ছাড়া ভাঙন রোধ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’ তবে দায় স্বীকার করে মেসার্স আর.এস. কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী রাসেল জানান, 'বাঁধের একটি অংশে ধসের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ এক সপ্তাহের ভিতরে সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হবে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এ বিষয়ে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, ‘নদীভাঙন রোধে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে নদীর তলদেশ থেকে ভাঙন শুরু হওয়ায় শুধু জিওব্যাগ ফেলে আপাতত বাঁধ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। এই এলাকায় সিসি ব্লক ও জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে একটি টেকসই বাঁধ নির্মাণের লক্ষ্যে বৈদেশিক অর্থায়ন চেয়ে প্রধান কার্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পাঠানো হয়েছে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের অভিযানে ২৪ জন গ্রেপ্তার

কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের অভিযানে ২৪ জন গ্রেপ্তার

কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকা থেকে ২৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১৭ জন মাদকসেবী, ৬ জন ধর্তব্য অপরাধে অভিযুক্ত এবং ১ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চোর ও ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পৌরসভা ও ইউনিয়ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ১৭ জন মাদকসেবী হলেন শাহাব উদ্দিন (৪০), অরুন কান্তি দে (৪৮), হাবিবুর রহমান (৩১), রুবেল (৩৫), খালেদ নুর (৩৮), আব্দুর রহমান (২৫), কাইছার আলম (৩৫), মো. নেজাম উদ্দিন (২৮), আবুল কালাম (৪৮), মো. ফয়সাল সরকার (৩৯), মো. আরিফ (১৮), মো. আলম (২৮), নুরুল আবছার (৪৭), জুয়েল (২৪), শাওন আলী (২৩), আশিকুল ইসলাম (২১) ও সাইফুল ইসলাম (৪৪)। আরও পড়ুন,অভিযানে গিয়ে গুলিভর্তি পিস্তল হারালেন এএসআই, সন্ধানদাতাকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারতাঁদের মধ্যে কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া, মহেশখালী, টেকনাফ ও চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা রয়েছেন। এ ছাড়া রাজশাহীর চারঘাট এলাকার একজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধর্তব্য অপরাধে গ্রেপ্তার হওয়া ৬ জন হলেন জাহিদুল ইসলাম প্রকাশ জাহেদ (৩৮), মোহাম্মদ লিটন (৪০), ছমিউল ইসলাম রাব্বী সামি (২১), মেহেদী হাসান (২২), মো. রাসেল করিম (২৪) ও মো. ইয়াছিন (২৮)। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে পূর্বে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। মোহাম্মদ লিটনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় ২০১৩ সালের একটি মামলা, মো. রাসেল করিমের বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড থানায় ২০২৩ সালের একটি মামলা এবং মো. ইয়াছিনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় ২০২৫ সালের একটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া ওয়ারেন্টমূলে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাব্বির আহমদ সায়মনকে। তিনি কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার উত্তর গোমাতলী এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের পূর্ব লাহারপাড়ায় বসবাস করেন।কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে এসব গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অভিযানে গিয়ে গুলিভর্তি পিস্তল হারালেন এএসআই, সন্ধানদাতাকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার

অভিযানে গিয়ে গুলিভর্তি পিস্তল হারালেন এএসআই, সন্ধানদাতাকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার

গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) বাসন থানার এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) গুলিভর্তি পিস্তল হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে দুই ব্যক্তিকে আটকের পর থানায় ফেরার সময় অস্ত্রটি হারানোর বিষয়টি বুঝতে পারেন তিনি। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। হারানো পিস্তলটির সন্ধান দিতে কিংবা উদ্ধারে সহায়তা করতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে ওসি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অস্ত্র হারানো পুলিশ সদস্যের নাম পারভেজ মল্লিক। এএসআই পারভেজ মল্লিক জানান, গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে উনিশে টাওয়ারের উত্তর দিকে অভিযান চালিয়ে মদসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেন তাঁরা। পরে আটক ব্যক্তিদের গাড়িতে তোলার সময় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। ওই সময় তাঁর সঙ্গে পিস্তলটি ছিল বলে দাবি করেন তিনি।আরও পড়ুন, বরগুনায় ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার, পলাতক জামাতাতিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের নিয়ে থানায় ফেরার পর খেয়াল করেন, তাঁর সঙ্গে থাকা পিস্তলটি আর নেই। তবে ঠিক কোথায় বা কীভাবে অস্ত্রটি হারিয়ে গেছে, তা নিশ্চিত হতে পারেননি। পারভেজ মল্লিক আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। অভিযানের সময় পুলিশের অন্য সদস্যরাও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তিনি হোন্ডা মোবাইল-২-এর দায়িত্বে ছিলেন এবং নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। হারানো পিস্তলটিতে এক রাউন্ড গুলি ছিল। এ বিষয়ে বাসন থানার ওসি হারুনুর রশিদ বলেন, মাদক মামলার আসামি ধরতে গিয়ে তাঁদের এক এএসআইয়ের পিস্তল হারিয়ে গেছে। এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে। কেউ হারানো অস্ত্রটির সন্ধান দিতে বা উদ্ধারে সহায়তা করতে পারলে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

আন্তর্জাতিক

ডেমোক্র্যাটরা জিতলে প্রশাসনের অর্জন মুছে যাবে: ট্রাম্প

ডেমোক্র্যাটরা জিতলে প্রশাসনের অর্জন মুছে যাবে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা বিজয়ী হয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে নিজের প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন নীতি ও অর্জন বাতিল হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্য নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (২ নভেম্বর) ফক্স নিউজের ‘হ্যানিটি’ অনুষ্ঠানে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে টিপস, ওভারটাইম এবং সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার ওপর কর না দেওয়ার নীতিগুলোর কী হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আরও পড়ুন,স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পর পদত্যাগ করলেন পরিবহনমন্ত্রী‘আমরা যা কিছু করেছি, সবকিছু মুছে যাবে।’ নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার আগে রিপাবলিকান বা জিওপি সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের অবশ্যই ভোট দিতে আসতে হবে।’ ভোটারদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘ভাবুন আমি ব্যালটে আছি। আপনারা যা খুশি করুন, কিন্তু আমাদের ভোট দিতেই হবে। যদি আমাদের লোকেরা ভোট দেয়, আমরা বিপুল ভোটে জিতব।’ মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্পের এই বক্তব্যে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের ভোট দেওয়ার গুরুত্ব উঠে এসেছে।

৬ মিনিট আগে

রাজধানী

রাজধানীতে বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

রাজধানীতে বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

রাজধানীর মিরপুরে যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী রয়েছেন।বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানার বেড়িবাঁধের নবাবেরবাগ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এক খুদে বার্তায় দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আরও পড়ুন,দোকানপাট খোলা রাখার সময় বাড়াতে মন্ত্রণালয়ে আবেদনতিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। এ ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে দুর্ঘটনায় আর কেউ আহত হননি বলে জানান তিনি। বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। এদিকে, নিহতদের পরিচয় এবং দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

১ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৬ জন

খেলাধুলা

এনপিএলে বাংলাদেশের ১০ ক্রিকেটারের পারফরম্যান্স

এনপিএলে বাংলাদেশের ১০ ক্রিকেটারের পারফরম্যান্স

নেপাল প্রিমিয়ার লিগে ব্যাটে-বলে দারুণ সময় পার করছেন বাংলাদেশের কয়েকজন ক্রিকেটার। বিশেষ করে ব্যাট হাতে আলো ছড়াচ্ছেন তরুণ আরিফুল ইসলাম ও সাইফ হাসান। অন্যদিকে বল হাতে উইকেট শিকারে এগিয়ে রয়েছেন সাকিব আল হাসান। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর কীর্তিপুরে চলছে নেপাল প্রিমিয়ার লিগের তৃতীয় আসর। এবারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ১০ ক্রিকেটার বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে অংশ নিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের স্বীকৃতি পাওয়া এবারের আসরে খেলছেন ডেভিড ওয়ার্নার, আন্দ্রে রাসেল, মঈন আলী ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের মতো তারকারাও। যুক্ত হয়েছে ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম বা ডিআরএস। বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন আরিফুল ইসলাম। কর্নালি ইয়াকসের হয়ে তিন ম্যাচে ১১৯ রান করেছেন তিনি। আরও পড়ুন,এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্সে বাংলাদেশের স্কোয়াড ঘোষণা১৮৮ দশমিক ৮৮ স্ট্রাইকরেটের এই পারফরম্যান্সে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকদের তালিকায় রয়েছেন তৃতীয় স্থানে। অন্যদিকে জনকপুর বোল্টসের হয়ে তিন ম্যাচে ১১২ রান করেছেন সাইফ হাসান। সর্বশেষ ম্যাচে খেলেছেন ৭১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন চারটি উইকেট। সাকিব আল হাসান পোখারা অ্যাভেঞ্জার্সের হয়ে চার ম্যাচে ব্যাট হাতে করেছেন ২৯ রান। তবে বল হাতে নিয়েছেন চার উইকেট। একই দলের মেহেদী হাসানের সংগ্রহ ৬৬ রান ও দুটি উইকেট। অন্যদিকে আকবর আলী, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও রিপন মণ্ডলরা এখনো নিজেদের সেরা পারফরম্যান্সের অপেক্ষায় রয়েছেন।লিগ পর্ব শেষে শীর্ষ চার দল খেলবে প্লে-অফে। ফলে সামনে রয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের আরও সুযোগ।

আইন আদালত

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনি নোটিশ, ১৫ দিনের মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনি নোটিশ, ১৫ দিনের মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি

পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর দাবি করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহদপ্তর সম্পাদক ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহমুদুর রহমান মিশন ভূঁইয়ার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইয়াছিন আরাফাত (সম্রাট) এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি ঢাকার একটি জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বক্তব্যের একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘এই যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আছে... জায়গায় এ্যানি চৌধুরীর ফোন কল যায় না, যে আমারে টাকা পাঠায়।’আরও পড়ুন, আজ ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে পঙ্গু করার অভিযোগে মামলার বিচার শুরুআইনি নোটিশে বলা হয়েছে, বক্তব্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, মনগড়া ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গত ৩০ অক্টোবর বিভিন্ন গণমাধ্যম, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্যটি প্রচারিত হয়। এতে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত মর্যাদা ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ। তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্য ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় বর্ণিত মানহানির অপরাধের পর্যায়ে পড়ে বলে নোটিশদাতার দাবি। নোটিশ পাওয়ার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার করে পানিসম্পদমন্ত্রীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী উপযুক্ত আদালতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কোনো প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!