দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

বনানীর গেস্ট হাউসের অন্ধকার জগৎ নিয়ে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

বনানীর গেস্ট হাউসের অন্ধকার জগৎ নিয়ে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীতে কয়েকটি গেস্ট হাউসকে কেন্দ্র করে কথিত অনিয়ম, মাদক কারবার ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বনানীর ২৭ নং রোডের ৮ নং বাড়িটিতে অবস্থিত মার্ভেল ইন গেস্ট হাউস এছাড়া ২৭ নম্বর সড়কের ৬৫/এ নম্বর ভবন করিমস ভিলাকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। অভিযোগকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্ভেল ইন গেস্ট হাউসের মালিকানা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পায়েল নামের এক ব্যক্তির বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, বনানীর ২৭ নম্বর সড়কের ৬৫/এ নম্বর ভবন করিমস ভিলার সঙ্গে শাকিব ও হান্নানসহ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ব্যক্তির পরিচয়, মালিকানা এবং কথিত অনিয়মের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের দাবি উঠেছে।আরও পড়ুন: গুলশানের বাড়িধারায় ‘আবেরা’ স্পা সেন্টার ঘিরে নানা অভিযোগঅভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গেস্ট হাউসগুলোকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযোগটি ৭ সেপ্টেম্বর গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে পৌঁছায় বলে দাবি করা হয়েছে।অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে পৌঁছানোর পরও দীর্ঘ সময় দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ সম্পর্কে তাঁকে জানানো হয়নি। এ সময় সংশ্লিষ্ট উপ-পুলিশ কমিশনার বদলি হয়ে যাওয়ায় বিষয়টির অগ্রগতি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয় বলে বক্তব্য। তবে অভিযোগটি গ্রহণ, নথিভুক্তকরণ, তদন্তের দায়িত্ব বণ্টন কিংবা পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। অভিযোগ জমা পড়ার পর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে পুলিশের নথিপত্র ও তদন্তের অগ্রগতি যাচাই করা প্রয়োজন। পরবর্তী সময়ে গুলশান বিভাগের নবাগত উপ-পুলিশ কমিশনারকে বিষয়টি আবারও অবহিত করা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।আরও পড়ুন: বনানীতে মার্ভেল ইন গেষ্ট হাউজ ঘিরে আবারও পায়েলের অপরাধ সিন্ডিকেটএরপর বনানী থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও (ওসি) অভিযোগের বিষয়ে জানানো হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওসি তাঁকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান। এই বক্তব্যের সত্যতা ও প্রেক্ষাপট যাচাই করা প্রয়োজন। তবে অভিযোগের বিষয়ে একাধিক পর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের অবহিত করার পরও যদি তদন্তের অগ্রগতি দৃশ্যমান না হয়, তাহলে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।অন্যদিকে, কোনো অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা নির্ভর করে অভিযোগের প্রকৃতি, প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান এবং তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর। ফলে অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত যাচাই-বাছাই, প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অগ্রাধিকার। সংশ্লিষ্ট গেস্ট হাউসগুলোকে ঘিরে নারী শোষণ বা অবৈধ বাণিজ্য, মাদক-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড এবং অন্যান্য অপরাধের আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছেই। এ কারণে অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কোনো গেস্ট হাউসে অনিয়ম বা অপরাধ সংঘটিত হলে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কিংবা অন্য কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণের জন্য গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ প্রয়োজন। একই সঙ্গে, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই প্রতিষ্ঠানটির সব কার্যক্রম অবৈধ এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার, অতিথিদের রেজিস্টার, কর্মীদের তথ্য এবং প্রযোজ্য অন্যান্য নথিপত্র পরীক্ষা করে প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা যেতে পারে।আরও পড়ুন: বনানীতে ফের সক্রিয় অপরাধচক্র, পুলিশের মাসোহারামাদক কারবারের অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, সন্দেহজনক লেনদেন বা কর্মকাণ্ড যাচাই এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। আর নারী পাচার, জবরদস্তি, শোষণ কিংবা অন্য কোনো অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগও রয়েছে। বনানী রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকাগুলোর একটি। এখানে হোটেল, গেস্ট হাউস, আবাসিক ভবন ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা, অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ উঠলে তা যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত না হলে একদিকে যেমন প্রকৃত অপরাধ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, অন্যদিকে নির্দোষ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। তাই দ্রুত, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্তই এ ধরনের পরিস্থিতির সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। সংশ্লিষ্ট গেস্ট হাউসগুলো ঘিরে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যে রয়েছে গেস্ট হাউসগুলোর বৈধ ব্যবসায়িক অনুমোদন, অতিথিদের নিবন্ধনব্যবস্থা, ভবন ব্যবহারের অনুমতি, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সামঞ্জস্য।এ ছাড়া মাদক কারবার বা নারী শোষণের অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। প্রাসঙ্গিক সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষ্য, নথি এবং আইনসম্মতভাবে সংগৃহীত অন্যান্য আলামত তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ, পূর্ববর্তী অভিযোগের নথি এবং তদন্তের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এতে অভিযোগটি কেন নিষ্পত্তি হয়নি, তদন্তাধীন রয়েছে কি না কিংবা অন্য কোনো দপ্তরে পাঠানো হয়েছে কি না তা স্পষ্ট হতে পারে।আরও পড়ুন: বনানীতে স্পা-গেস্ট হাউজ ঘিরে ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগঅভিযোগকারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কমিশনার, গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এবং বনানী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে কি না এবং অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো যাচাই বা অভিযান পরিচালিত হয়েছে কি না এসব বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ প্রতিবেদন তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, অভিযোগের অনুলিপি কিংবা তদন্তসংক্রান্ত নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়ে থাকলে অভিযোগকারীকে তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানের অগ্রগতি জানানো প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।বনানীর মার্ভেল ইন গেস্ট হাউস ও করিমস ভিলাকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় নথি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী। তাঁর প্রত্যাশা, অভিযোগটি আর অনিষ্পন্ন অবস্থায় না রেখে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

বান্ধাবাড়িতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মাহবুব, লক্ষ্য মাদক মুক্ত সমাজ

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ৪নং বান্ধাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মাহবুব আলী খান। ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের সেবা করা, এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখা এবং মাদক নির্মূলে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। মাহবুব আলী খান মনে করেন, জনপ্রতিনিধি হওয়ার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হওয়া। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি বান্ধাবাড়ি ইউনিয়নের জনগণের কল্যাণে কাজ করতে আগ্রহী। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করা এবং একটি সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে চান তিনি। তার প্রত্যাশা, দলীয় মনোনয়ন পেলে ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের সমর্থন ও সহযোগিতা নিয়ে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারবেন। পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষের সমস্যা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।আরও পড়ুন,সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির তথ্য নেই মাদককে সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে মাহবুব আলী খান মাদক নির্মূলে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিতে চান। তার মতে, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বান্ধাবাড়ি ইউনিয়নের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে থেকে তাদের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশার পাশাপাশি জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণ, জবাবদিহি ও জনসেবার মানসিকতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বান্ধাবাড়ি ইউনিয়নকে আরও উন্নত ও বাসযোগ্য এলাকায় পরিণত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন মাহবুব আলী খান। উল্লেখ্য, মাহবুব আলী খানের মনোনয়ন প্রত্যাশার বিষয়টি সামনে রেখে বান্ধাবাড়ি ইউনিয়নের আগামী নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দলীয় মনোনয়ন ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত বিষয়টি বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচনসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের কারণে একনেক সভা স্থগিত: পিছাল ১৫ প্রকল্পের অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকে কেন্দ্র করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের ১৫টি জনগুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে পিছিয়ে গেল। রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সরকারিভাবে ‘অনিবার্য কারণ’ উল্লেখ করা হলেও পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আজ রাতে প্রধানমন্ত্রীর জাপানের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার প্রাক্কালে দাপ্তরিক কাজের আধিক্যের কারণেই গত রাতে বৈঠকটি স্থগিত করা হয়।আরও পড়ুন,অবকাশ ছুটির পর সুপ্রিম কোর্টে সৌজন্য সাক্ষাৎআজকের সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা ১৫টি প্রকল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি নতুন গ্যাসকূপ (তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩) খনন, ‘ইনোভেশন ক্লাইমেট স্মার্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট’ এবং নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প। এছাড়া তালিকায় আরও ছিল বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সড়ক ও ফুটপাত উন্নয়ন, বাংলাদেশ পুলিশের জন্য বিশেষায়িত ও অপারেশনাল যানবাহন ক্রয় এবং দেশের পাঁচটি মেডিকেল কলেজে নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টার স্থাপন প্রকল্প। সরকারের শীর্ষপর্যায়ের এই সফর শেষে পরবর্তী নতুন তারিখ নির্ধারণ করে স্থগিত হওয়া একনেক সভাটি অনুষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সফরকালে কৃষি, বাণিজ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় একাধিক সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে টোকিওর উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি। এই সফরে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাবে। সফরের দ্বিতীয় দিন আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক পর্যালোচনার পাশাপাশি বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন দিক নিয়ে গভীর আলোচনা হবে।আরও পড়ুন,১ লাখ ২৮ হাজার এনআইডি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় এছাড়া সফরকালে তিনি ‘জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরাম’-এ মূল বক্তব্য প্রদান করবেন এবং দেশটির শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের সঙ্গে এক যৌথ গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য কর্মসূচিতে জাইকা, জেট্রো, জেবিআইসি এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি স্থানীয় এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লোর সদর দপ্তর ও টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশে নতুন করে জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষিত করা, যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করাই এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত 'বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি' (EPA) দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টি আলোচনায় বিশেষ স্থান পাবে। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরকালে দুই দেশের মধ্যে কৃষি, মৎস্য, প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নতুন সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হতে পারে।

বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ক্রমান্বয়ে শক্তি সঞ্চয় করে ঘনীভূত হচ্ছে। শনিবার সকালে পূর্বমধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত এই লঘুচাপটি নিম্নচাপ এবং পরবর্তীতে গভীর নিম্নচাপ ও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। তবে এর গতিপথ নিয়ে স্বস্তির বার্তা দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসার সম্ভাবনা আপাতত বেশ কম এবং এটি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে আঘাত হানতে পারে। সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম হবে ‘অর্ণব’, যা বাংলাদেশের প্রস্তাব করা একটি নাম এবং এর অর্থ ‘সাগর’।আরও পড়ুন,আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে সুষ্ঠু বিচারের দাবিপরিস্থিতি বিবেচনায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে গভীর সাগরে বিচরণ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর বা এরপর থেকে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে। উল্লেখ্য, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণ করে এ অঞ্চলের ১৩টি দেশ, এবং ‘অর্ণব’-এর পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়টির নাম হবে ভারতের প্রস্তাবিত ‘মুরাসু’।

রাজনীতিরাজনীতি

কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য কড়া আহ্বান

কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য কড়া আহ্বান

দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক কর্তৃক নৈতিক পদস্খলন ও শিক্ষার্থী নিপীড়নের অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত—উভয় ধরনের কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। শনিবার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এই দাবি জানান। তাঁরা স্পষ্ট করে বলেন, এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র শিথিলতা বা আপস করা চলবে না। বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেকোনো ধরনের অনৈতিক আচরণ কিংবা শিশু নিপীড়ন যেমন সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য, তেমনি এর প্রতিকারে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াও সমর্থনযোগ্য নয়। সুনির্দিষ্ট নিয়মে প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। আরও পড়ুন,দায়িত্বশীল ও বিবেকবান বিরোধী দলের ভূমিকার অঙ্গীকারকওমি মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী নিপীড়ন রোধে গত ১৯ সেপ্টেম্বর আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের জারি করা নতুন নির্দেশনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নেতারা জানান, প্রতিটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি গঠন বা সচল রাখতে হবে। কোনো অভিযোগ ওঠার পর সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার অধিভুক্তি স্থগিত বা বাতিল করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। এছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডগুলোকে শক্তিশালী মনিটরিং সেল ও অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালুর আহ্বান জানান হেফাজত নেতারা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ এবং স্কুল ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কঠোর নীতিমালা অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনের ভবিষ্যৎ শিশুশিক্ষার্থীদের নিরাপদ শৈশব ও কৈশোর নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানায় সংগঠনটি।

দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপিকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর আহ্বান

দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপিকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর আহ্বান

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপি, ইঞ্জিনিয়ারিং বা নির্বাচনী টালবাহানা করা হলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। প্রয়োজনে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কঠিন আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির আশঙ্কা প্রকাশ করে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ভোটে কোনো অনিয়ম হলে ভোটকেন্দ্র থেকে শুরু  নির্বাচন অফিস পর্যন্ত ঘেরাও করা হবে। এমনকি কোনো প্রিসাইডিং কর্মকর্তা অনিয়মে জড়ালে তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখার মতো কড়া হুশিয়ারিও উচ্চারণ করেন তিনি। আরও পড়ুন,‘বসে তামাশা দেখবো না, এবার প্রতিরোধ হবে’এ সময় বিএনপিকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ এবং ইমাম-খতিবদের ভাতা ও বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপি ব্যাপক দুর্নীতি করেছে এবং নিজেদের দলীয় লোকদের অনৈতিক সুবিধা দিয়েছে।মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জনগণের পালস বুঝতে ব্যর্থ হওয়ায় বিএনপির রাজনৈতিক দিন ফুরিয়ে আসছে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করার মাধ্যমে বিএনপিকে চূড়ান্তভাবে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব ও লুটপাটের রাজনীতির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আগামী ২৯ তারিখের উপনির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য স্থানীয় ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা।

প্রশাসকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ এনসিপির

প্রশাসকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ এনসিপির

বর্তমান জাতীয় সংসদ পাঁচ বছর টিকবে কি না তা নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় আয়োজিত এক প্রচারপত্র বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। আইনশৃঙ্খলার অবনতি, লাগামহীন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবর শাহবাগে এনসিপির পক্ষ থেকে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানাতে এই প্রচার চালানো হয়।আরও পড়ুন,বিভাগীয় ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিপথসভায় নাহিদ ইসলাম বর্তমান সংসদের সমালোচনা করে বলেন, ১৬ বছর পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সংসদের জনমূল্য আর দুই আনাও নেই, কারণ এখানে বিরোধী দলের এবং সাধারণ জনগণের কণ্ঠস্বরের কোনো মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। এছাড়া সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও জেলা পরিষদে নিয়োজিত প্রশাসকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয় বলে জোরালো দাবি জানান তিনি। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামকে মেয়রের পদে প্রার্থী করার পরিকল্পনা অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। দেশে ক্রমবর্ধমান আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ও জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করে এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম বলেন, পরিস্থিতির

বিভাগীয় ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

বিভাগীয় ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে বাদানুবাদের ঘটনায় কোনো মামলা হলে সেখানে নিজেকেই এক নম্বর আসামি করার দাবি জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। তিনি জানান, গত ২৩ অক্টোবর সরাইল থানার ওসির বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে এবং ওসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচির পথ বাছবেন তিনি।আরও পড়ুন,পরিবহন ও মাদকের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে নতুন বিএনপিঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত বৃহস্পতিবার রাতে। দুর্গাপূজা চলাকালে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা না পাওয়া এবং ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সরাইল থানায় যান ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। সেখানে রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ওসির কক্ষে অবস্থানকালে ওসির সাথে তাঁর তীব্র বাদানুবাদ হয়। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করে। জিডির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়েই রুমিন ফারহানা স্পষ্ট জানান, কোনো মামলা দায়ের হলে তাঁকে যেন প্রধান আসামি করা হয়। তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আরাফাতুল ইসলাম জানিয়েছেন, জিডিটি কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নয়; থানা এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ও উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটলে পুলিশ তা জিডিমূলে নথিভুক্ত রাখে।

সারাবাংলা

৩ লাখ মানুষের চিকিৎসার ভরসা কালিগঞ্জ হাসপাতাল, চিকিৎসক সংকটে বিপর্যস্ত সেবা

৩ লাখ মানুষের চিকিৎসার ভরসা কালিগঞ্জ হাসপাতাল, চিকিৎসক সংকটে বিপর্যস্ত সেবা

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষের সরকারি চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ১৯৬৩ সালে ২০ শয্যা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটি ২০১০ সালের ২৪ ডিসেম্বর ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। কিন্তু চিকিৎসক ও জনবলসংকট, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব এবং মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জামের অব্যবহারে হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অস্ত্রোপচারের জন্য আধুনিক অপারেশন থিয়েটার থাকলেও তা কার্যত বন্ধ। রোগ নির্ণয়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রও পড়ে রয়েছে অব্যবহৃত অবস্থায়। হাসপাতালটিতে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৩৪টি। এর বিপরীতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ছাড়া কর্মরত চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র পাঁচজন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ফলে বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তব্যরতদের। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল না থাকায় বিশেষ করে প্রসূতি, অস্ত্রোপচারপ্রত্যাশী এবং জটিল রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগে মেডিকেল অফিসার ডা. রিপন বিশ্বাস রোগী দেখছেন। জরুরি বিভাগে একজন মহিলা উপস্বাস্থ্য সহকারী ছাড়া অন্য কোনো চিকিৎসককে দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।আরও পড়ুন,হিজলায় ১ নং হরিনাথপুর ইউনিয়ন মহিলা দলের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত এ সময় চিকিৎসা নিতে আসা শত শত নারী-পুরুষের দীর্ঘ সারি সামলাতে কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের হিমশিম খেতে হয়। হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের মধ্যে রয়েছেন ডা. সুজায়েত হোসেন, ডা. সাইদুর রহমান, ডা. হাবিবুর রহমান, ডা. সাইফুল ইসলাম ও ডা. রিপন বিশ্বাস। সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করায় রোগীদের অপেক্ষার সময় বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা। চিকিৎসকের পাশাপাশি নার্সিং ও অন্যান্য পদেও রয়েছে জনবলসংকট। হাসপাতালের ৩৬টি সেবিকা পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২০ জন। নিরাপদ মাতৃত্ব ও প্রসবসেবা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ১০টি মিডওয়াইফ পদের মধ্যে পাঁচটি শূন্য রয়েছে। নার্সিং সুপারভাইজার ও সিনিয়র স্টাফ নার্সের ২৬টি পদের বিপরীতে সুপারভাইজারসহ ১৭টি পদ শূন্য বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও চিকিৎসকসংকট রয়েছে। প্রথম শ্রেণির চিকিৎসক ও সহকারী সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট ১২টি পদে জনবল নেই বলে দাবি করা হয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির ১৪২টি পদের বিপরীতে ৬৮ জন কর্মরত রয়েছেন। চতুর্থ শ্রেণির ২৩টি পদের মধ্যে কর্মরত ১২ জন। অন্যদিকে আউটসোর্সিংয়ের জনবল নিয়েও রয়েছে ঘাটতি। এসব পদে প্রকৃত অনুমোদিত সংখ্যা, কর্মরত জনবল ও শূন্য পদের হিসাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন। হাসপাতালটির অন্যতম বড় সংকট হলো, আধুনিক অপারেশন থিয়েটার (ওটি) থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও কারিগরি জনবল না থাকায় সেখানে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম চালানো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। গাইনি ও সার্জারি বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞ পদ শূন্য থাকায় সিজারিয়ান সেকশনসহ বিভিন্ন অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীদের অন্য হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। ফলে জটিল অবস্থায় থাকা প্রসূতি ও মুমূর্ষু রোগীদের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ মাইল দূরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল কিংবা সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। আরও পড়ুন,মাদরাসায় ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ অস্বীকারএতে জরুরি রোগীদের চিকিৎসা পেতে বিলম্বের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছে, যেখানে ব্যয় বহন করতে হচ্ছে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রেও সংকট প্রকট। সোনোলজিস্ট, ইসিজি টেকনিশিয়ান ও এক্স-রে টেকনিশিয়ানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় আলট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি ও এক্স-রে সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে। সার্জারি টেকনিশিয়ানের অভাবে এক্স-রে কক্ষ তালাবদ্ধ থাকার অভিযোগও রয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান না থাকায় মূল্যবান যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দন্ত বিভাগে যন্ত্রপাতি থাকলেও চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানের অভাবে সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চোখের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে দূরবর্তী প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে রোগীদের। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোসাদ্দেক হোসেনকে প্রায় ছয় মাস আগে বদলি করা হলেও তিনি এখনো কালিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেননি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. ডালিয়া আক্তার গত ১২ অক্টোবর বদলি হন। তাঁর স্থলে ডা. নাসির উদ্দিনকে পদায়ন করা হলেও তিনি যোগদান না করায় পদটি শূন্য রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এ অবস্থায় আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হাবিবুর রহমান অতিরিক্তভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে মেডিকেল অফিসার ডা. রূপা রানী পাল মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় চিকিৎসকসংকট আরও বেড়েছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা আলপনা গোস্বামী, সকিনা খাতুন, মনিরা বেগম, হালিমা খাতুন ও মনোয়ারা খাতুন জানান, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তাঁরা প্রত্যাশিত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। তাঁদের অভিযোগ, চিকিৎসকের স্বল্পতার কারণে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় প্যারাসিটামল, গ্যাসের ওষুধ, অ্যালার্জির ট্যাবলেট ও ভিটামিনের মতো ওষুধ নিয়েই ফিরতে হয়। প্রয়োজনীয় অন্য ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে বলেও জানান তাঁরা।আরও পড়ুন,মহেশপুরের পাতিবিলা গ্রামের হোসেন আলীর বিরুদ্ধে অন্যের জমি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান সংবাদ দিগন্তকে বলেন, চিকিৎসক ও জনবলসংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে এখনো সমস্যার সমাধান হয়নি। সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম সংবাদ দিগন্তকে বলেন, চিকিৎসক ও জনবলসংকটের বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। নতুন চিকিৎসক নিয়োগ বা পদায়ন করা হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। নতুন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তার যোগদান না করার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, পদায়নের পর কেউ যোগদান না করলে তাঁর পক্ষে এ বিষয়ে করণীয় সীমিত। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক প্রয়োজনগুলোর অন্যতম। অথচ প্রায় তিন লাখ মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ ও কারিগরি জনবলের ঘাটতি থাকলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বেই। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানের অভাবে মূল্যবান যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত পড়ে থাকা যেমন সরকারি সম্পদের অপচয়ের আশঙ্কা তৈরি করে, তেমনি জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার থেকেও মানুষ বঞ্চিত হয়।সচেতন মহল ও উপজেলাবাসী কালিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শূন্য পদ পূরণ, গাইনি ও সার্জারি বিশেষজ্ঞসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পদায়ন, অপারেশন থিয়েটার চালু এবং এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাম ও ইসিজি সেবা সচল করার দাবি জানিয়েছেন। এ সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে উপজেলা পর্যায়ে সাধারণ মানুষের সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য আরও বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ছেলে ইটভাটায় কাজে না যাওয়ায় মাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, শ্যামনগরে চাঞ্চল্য

ছেলে ইটভাটায় কাজে না যাওয়ায় মাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, শ্যামনগরে চাঞ্চল্য

ছেলেকে ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে নেওয়ার জন্য অগ্রিম টাকা দেওয়ার দাবি করে ছেলে কাজে না যাওয়ায় তাঁর ৫২ বছর বয়সী মাকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ভাটা সরদারের বিরুদ্ধে। পরে তাঁকে একটি শ্রমিকবাহী বাসে তুলে বরিশালের একটি ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর স্বজনেরা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ জানাতে থানায় যাওয়ার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। ঘটনাটি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালি গ্রামের। ভুক্তভোগী দীপালী মণ্ডল (৫২) ওই গ্রামের পঞ্চানন মণ্ডলের স্ত্রী। অভিযুক্ত আমজাদ হোসেন একই উপজেলার শ্রীফলকাটি গ্রামের জিয়াদ আলীর ছেলে এবং ইটভাটার শ্রমিক সরদার। ভুক্তভোগীর মেয়ে একাদশী মণ্ডলের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর ভাই জগদীশ মণ্ডল ইটভাটার শ্রমিক। বরিশালের একটি ইটভাটায় কাজের জন্য জগদীশকে টাকা দেওয়া হয়েছে দাবি করে গত বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে আমজাদ তাঁদের বাড়িতে যান। এ সময় তিনি জগদীশের অবস্থান জানতে চান। জগদীশ দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে দেবহাটার টাউনশ্রীপুরে গেছেন বলে তাঁকে জানানো হয়। একাদশীর অভিযোগ, পরদিন বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দীপালীকে মুঠোফোনে ডেকে জেলেখালি এলাকার লুৎফরের দোকানের সামনে যেতে বলা হয়। সেখানে যাওয়ার পর জগদীশের সঙ্গে কথা বলার কথা বলে দীপালীকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তোলা হয়। পরে তাঁকে হরিনগরের পুরোনো বাড়ির কথা বলে শ্রীফলকাটি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশের একটি স্থানে নেওয়া হয়।আরও পড়ুন,হোটেলের চাকরির আড়ালে পতেঙ্গায় নারী সরবরাহের অন্ধকার সাম্রাজ্যএকপর্যায়ে দীপালী প্রতিবাদ করলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাঁকে শ্রমিকবোঝাই একটি বাসে উঠতে বাধ্য করা হয়। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্বজনেরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলেও বাসের নম্বর জানাতে না পারায় তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি বলে জানান একাদশী। একাদশী মণ্ডল সংবাদ দিগন্তকে জানান, ঘটনার পর তিনি তাঁর মামাতো ভাই পরেশ, ইউপি সদস্য দেবব্রত, বিএনপি নেতা একরামুল হকসহ কয়েকজনকে নিয়ে শ্যামনগর থানায় যান। তাঁর অভিযোগ, সেখানে তাঁদের বক্তব্য শোনার পরিবর্তে জগদীশ কেন ইটভাটায় কাজে যাওয়ার কথা দিয়েও যাননি, সে বিষয়ে কৈফিয়ত চাওয়া হয়। পরদিন সকালে থানায় যেতে বলা হয়। এ সময় দীপালী ও জগদীশ ইটভাটায় কাজের জন্য টাকা নিয়েছেন—এমন দাবি সমর্থনে একটি কল রেকর্ডিং শোনানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে ওই রেকর্ডিংয়ের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একাদশীর ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে থানার পক্ষ থেকে তাঁর মামাতো ভাই পরেশকে ফোন করে যেতে বলা হয়। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোর সাড়ে তিনটার দিকে তাঁরা থানায় গিয়ে দীপালীকে দেখতে পান। সেখানে উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন ও আমজাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি। একাদশীর দাবি, এ সময় এসআই আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিয়ে বেশিদূর না এগোনোর পরামর্শ দেন এবং ঘটনার জন্য ক্ষমা চান। তবে এ বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। শনিবার (২৪ অক্টোবর ) বিকেলে নিজ বাড়িতে ফিরে দীপালী মণ্ডল অভিযোগ করেন, তাঁকে এক কাপড়ে বরিশালের হিজলখালির কামালপুর এলাকার একটি ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে কাজ করার জন্য আমজাদ তাঁকে শাড়ি, সায়া ও ব্লাউজ কিনে দেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে সেগুলো ব্যবহার করেননি বলে জানান দীপালী। ক্ষোভ প্রকাশ করে দীপালী সংবাদ দিগন্তকে বলেন, তাঁর ছেলে কোনো অপরাধ করে থাকলে তার দায় তিনি কেন নেবেন? ছেলের পরিবর্তে তাঁকে কেন তুলে নিয়ে যাওয়া হবে? তিনি হিন্দু বলেই এমন আচরণের সাহস পেয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন ভুক্তভোগী নারী। দীপালী আরও অভিযোগ করেন, অসুস্থতার কারণে থানা থেকে মেয়ের বাড়িতে চলে যাওয়ার পর শনিবার আমজাদ তাঁকে ফোন করে মুনসুর সরদারের গ্যারেজ মোড়ে যেতে বলেন। অন্য ভাটা সরদারের কাছে না গেলে পরিণতি ভালো হবে না বলেও তাঁকে শাসানো হয় বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে, জগদীশের পাসপোর্ট বই আমজাদ আগে থেকেই নিজের জিম্মায় রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন একাদশী মণ্ডল। জেলেখালি গ্রামের হাবিবুর রহমান, এনামুল হক, গিরেন মণ্ডল ও উদয় মণ্ডলসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দারা সংবাদ দিগন্তকে বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত। ছেলের সঙ্গে আর্থিক বিরোধের কারণে তাঁর মাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ গুরুতর। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন। অভিযুক্ত আমজাদ হোসেন দাবি করেন, তিনি দীপালী মণ্ডলকে জোর করে নিয়ে যাননি। তবে জগদীশের পাসপোর্ট বই তাঁর জিম্মায় রয়েছে বলে স্বীকার করেন। জগদীশকে টাকা দেওয়ার বিষয়টি তাঁর মা জানেন বলেও দাবি করেন আমজাদ। পুলিশের কথামতো দীপালীকে থানায় নিয়ে এসেছিলেন বলে জানান তিনি। শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন সংবাদ দিগন্তকে বলেন, মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশের সহায়তায় দীপালী মণ্ডলকে ফিরিয়ে এনে তাঁর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারীর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।  ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মামলা হয়েছে কি না, অভিযোগের ভিত্তিতে কী ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং জগদীশের সঙ্গে কথিত আর্থিক লেনদেনের প্রকৃত অবস্থা কী এসব বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রাধাগঞ্জ ইউনিয়নে মনোনয়ন প্রত্যাশী মেরাজুর রহমান খন্দকার ইমরান

রাধাগঞ্জ ইউনিয়নে মনোনয়ন প্রত্যাশী মেরাজুর রহমান খন্দকার ইমরান

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ৫নং রাধাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির সক্রিয় নেতা মেরাজুর রহমান খন্দকার ইমরান। তিনি এলাকার মানুষের সেবা ও সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত মেরাজুর রহমান খন্দকার ইমরান রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের মানুষের পাশে থেকে জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষের চাহিদা ও এলাকার উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার অগ্রগতি এবং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে। আরও পড়ুন,হোটেলের চাকরির আড়ালে পতেঙ্গায় নারী সরবরাহের অন্ধকার সাম্রাজ্যএসব ক্ষেত্রে মানুষের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করতে চান মেরাজুর রহমান খন্দকার ইমরান। তিনি মনে করেন, জনপ্রতিনিধিত্বের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের পাশে থাকা এবং এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে জনসেবা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন এই বিএনপি নেতা। তবে তাঁর প্রার্থিতার বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কাকে দলীয়ভাবে বেছে নেওয়া হয়, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ রয়েছে। জনসেবা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি সামনে রেখে মেরাজুর রহমান খন্দকার ইমরানের মনোনয়ন প্রত্যাশা রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

হোটেলের চাকরির আড়ালে পতেঙ্গায় নারী সরবরাহের অন্ধকার সাম্রাজ্য

হোটেলের চাকরির আড়ালে পতেঙ্গায় নারী সরবরাহের অন্ধকার সাম্রাজ্য

ক্রাইম রিপোর্টার ইমাম হোসাইন ইমাম ,  চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত ও ইপিজেড এলাকায় গড়ে উঠেছে অবৈধ নারী সরবরাহ ও নানাবিধ অপরাধের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। হোটেল ব্যবসার আড়ালে অসহায় নারীদের টার্গেট করে এই অন্ধকার সাম্রাজ্য পরিচালনার মূল হোতা হিসেবে উঠেছে সমুদ্র বিলাস আবাসিক হোটেলের স্টাফ মো. আনোয়ার হোসেনের নাম। ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তৃতীয় পর্বে বেরিয়ে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।  অনুসন্ধানে জানা যায়, নোয়াখালী জেলার বাসিন্দা মো. আনোয়ার পতেঙ্গার স্যান্ডি গেট ও হোটেল স্ট্রবেরি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। পতেঙ্গা ও ইপিজেড এলাকা হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে আসা সহজ-সরল ও অসহায় নারীদের টার্গেট করে এই চক্রটি। পরে বিভিন্ন প্রলোভন ও কৌশলে তাদেরকে অনৈতিক কার্যকলাপে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। লাইফস্টাইলে আমূল পরিবর্তন ও প্রশাসনের নাম ভাঙানোর অভিযোগ: স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, হোটেল স্টাফ হিসেবে কাজ শুরু করার পর থেকেই আনোয়ারের জীবনযাত্রায় রাতারাতি বড় ধরণের পরিবর্তন আসে। বর্তমানে তিনি দামি মোটরসাইকেল নিয়ে চলাফেরা করেন এবং প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালান। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনের সাথে সখ্য গড়ে তোলার অপচেষ্টা এবং মাঝেমধ্যে ওয়াকিটকি হাতে এলাকায় মহড়া দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহারের বার্তা দিতে এসব কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও প্রায়ই তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে থাকেন। আরও পড়ুন,হিজলায় ১ নং হরিনাথপুর ইউনিয়ন মহিলা দলের কর্মী সভা অনুষ্ঠিতহোয়াটসঅ্যাপে ছবি পাঠিয়ে দরদাম: অনুসন্ধানী প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি চাঞ্চল্যকর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, খদ্দের সেজে কেউ যোগাযোগ করলেই হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন তরুণী ও নারীর ছবি পাঠিয়ে চলে আর্থিক লেনদেন ও দরকষাকষির গোপন কার্যক্রম। সাংবাদিকের প্রশ্নে আনোয়ারের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য: এ বিষয়ে অনুসন্ধানী দল থেকে সংবাদকর্মী পরিচয় দিয়ে মুঠোফোনে মো. আনোয়ারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, "আমাকে কেউ চেনে না, আপনারা নিউজ করে আমাকে একটু মানুষের কাছে পরিচিত করে দিন, যাতে মানুষ আমাকে চেনে। আমিও চাই মানুষ আমাকে চিনুক।" এ সময় তিনি নিজেকে প্রভাবশালী চক্রের সাথে যুক্ত দাবি করে ঔদ্ধত্য দেখান এবং প্রতিবেদককে জানান যে তাদের মতো অনেক সাংবাদিকই এসব হোটেলে নিয়মিত আসা-যাওয়া করেন। পতেঙ্গা এলাকার মতো একটি জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হোটেল ব্যবসার আড়ালে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও নারী পাচার চক্রের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

আন্তর্জাতিক

বিশৃঙ্খলার মাত্রা কমাতে সরকারের কড়াকড়ি ও দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারাদণ্ড

বিশৃঙ্খলার মাত্রা কমাতে সরকারের কড়াকড়ি ও দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারাদণ্ড

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেহাল দশার প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে আরেক দফা বিশাল গণবিক্ষোভ। লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে মুখরিত এই কর্মসূচি পরবর্তীতে বেশ কয়েকটি স্থানে সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) গভীর রাতে চলা এই সংঘর্ষ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে পুলিশ প্রায় ১ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এদিনের বিক্ষোভে আনুমানিক ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নিলেও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি এই সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। রাজধানী প্যারিস ছাড়াও মার্সেই ও বোর্দোর মতো বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করতে হয়। আরও পড়ুন,মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে লড়ছে রিপাবলিকান পার্টিমার্সেইয়ের বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেডে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া এবং বোর্দোতে দোকানপাটে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে গত সপ্তাহের তুলনামূলক ভয়াবহ সহিংসতা ও ব্যাপক লুটপাট এড়াতে এ দফায় আগে থেকেই কঠোর অবস্থান নেয় প্রশাসন। ফলে গত সপ্তাহের মতো নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়েছে। গত সপ্তাহে আধুনিক ফ্রান্সের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দাঙ্গার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল।চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, কেবল স্বীকৃত শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর আয়োজিত বিক্ষোভই অনুমোদন পাবে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সারা দেশে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং বিভিন্ন শহরে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পাশাপাশি দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে জড়িত অভিযোগে ইতিমধ্যে শত শত বিক্ষোভকারীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

৫৫ মিনিট আগে

রাজধানী

বনানীর গেস্ট হাউসের অন্ধকার জগৎ নিয়ে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

বনানীর গেস্ট হাউসের অন্ধকার জগৎ নিয়ে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীতে কয়েকটি গেস্ট হাউসকে কেন্দ্র করে কথিত অনিয়ম, মাদক কারবার ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বনানীর ২৭ নং রোডের ৮ নং বাড়িটিতে অবস্থিত মার্ভেল ইন গেস্ট হাউস এছাড়া ২৭ নম্বর সড়কের ৬৫/এ নম্বর ভবন করিমস ভিলাকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। অভিযোগকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্ভেল ইন গেস্ট হাউসের মালিকানা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পায়েল নামের এক ব্যক্তির বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, বনানীর ২৭ নম্বর সড়কের ৬৫/এ নম্বর ভবন করিমস ভিলার সঙ্গে শাকিব ও হান্নানসহ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ব্যক্তির পরিচয়, মালিকানা এবং কথিত অনিয়মের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের দাবি উঠেছে।আরও পড়ুন: গুলশানের বাড়িধারায় ‘আবেরা’ স্পা সেন্টার ঘিরে নানা অভিযোগঅভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গেস্ট হাউসগুলোকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযোগটি ৭ সেপ্টেম্বর গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে পৌঁছায় বলে দাবি করা হয়েছে।অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে পৌঁছানোর পরও দীর্ঘ সময় দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ সম্পর্কে তাঁকে জানানো হয়নি। এ সময় সংশ্লিষ্ট উপ-পুলিশ কমিশনার বদলি হয়ে যাওয়ায় বিষয়টির অগ্রগতি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয় বলে বক্তব্য। তবে অভিযোগটি গ্রহণ, নথিভুক্তকরণ, তদন্তের দায়িত্ব বণ্টন কিংবা পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। অভিযোগ জমা পড়ার পর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে পুলিশের নথিপত্র ও তদন্তের অগ্রগতি যাচাই করা প্রয়োজন। পরবর্তী সময়ে গুলশান বিভাগের নবাগত উপ-পুলিশ কমিশনারকে বিষয়টি আবারও অবহিত করা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।আরও পড়ুন: বনানীতে মার্ভেল ইন গেষ্ট হাউজ ঘিরে আবারও পায়েলের অপরাধ সিন্ডিকেটএরপর বনানী থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও (ওসি) অভিযোগের বিষয়ে জানানো হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওসি তাঁকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান। এই বক্তব্যের সত্যতা ও প্রেক্ষাপট যাচাই করা প্রয়োজন। তবে অভিযোগের বিষয়ে একাধিক পর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের অবহিত করার পরও যদি তদন্তের অগ্রগতি দৃশ্যমান না হয়, তাহলে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।অন্যদিকে, কোনো অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা নির্ভর করে অভিযোগের প্রকৃতি, প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান এবং তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর। ফলে অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত যাচাই-বাছাই, প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অগ্রাধিকার। সংশ্লিষ্ট গেস্ট হাউসগুলোকে ঘিরে নারী শোষণ বা অবৈধ বাণিজ্য, মাদক-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড এবং অন্যান্য অপরাধের আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছেই। এ কারণে অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কোনো গেস্ট হাউসে অনিয়ম বা অপরাধ সংঘটিত হলে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কিংবা অন্য কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণের জন্য গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ প্রয়োজন। একই সঙ্গে, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই প্রতিষ্ঠানটির সব কার্যক্রম অবৈধ এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার, অতিথিদের রেজিস্টার, কর্মীদের তথ্য এবং প্রযোজ্য অন্যান্য নথিপত্র পরীক্ষা করে প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা যেতে পারে।আরও পড়ুন: বনানীতে ফের সক্রিয় অপরাধচক্র, পুলিশের মাসোহারামাদক কারবারের অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, সন্দেহজনক লেনদেন বা কর্মকাণ্ড যাচাই এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। আর নারী পাচার, জবরদস্তি, শোষণ কিংবা অন্য কোনো অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগও রয়েছে। বনানী রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকাগুলোর একটি। এখানে হোটেল, গেস্ট হাউস, আবাসিক ভবন ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা, অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ উঠলে তা যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত না হলে একদিকে যেমন প্রকৃত অপরাধ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, অন্যদিকে নির্দোষ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। তাই দ্রুত, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্তই এ ধরনের পরিস্থিতির সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। সংশ্লিষ্ট গেস্ট হাউসগুলো ঘিরে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যে রয়েছে গেস্ট হাউসগুলোর বৈধ ব্যবসায়িক অনুমোদন, অতিথিদের নিবন্ধনব্যবস্থা, ভবন ব্যবহারের অনুমতি, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সামঞ্জস্য।এ ছাড়া মাদক কারবার বা নারী শোষণের অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। প্রাসঙ্গিক সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষ্য, নথি এবং আইনসম্মতভাবে সংগৃহীত অন্যান্য আলামত তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ, পূর্ববর্তী অভিযোগের নথি এবং তদন্তের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এতে অভিযোগটি কেন নিষ্পত্তি হয়নি, তদন্তাধীন রয়েছে কি না কিংবা অন্য কোনো দপ্তরে পাঠানো হয়েছে কি না তা স্পষ্ট হতে পারে।আরও পড়ুন: বনানীতে স্পা-গেস্ট হাউজ ঘিরে ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগঅভিযোগকারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কমিশনার, গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এবং বনানী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে কি না এবং অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো যাচাই বা অভিযান পরিচালিত হয়েছে কি না এসব বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ প্রতিবেদন তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, অভিযোগের অনুলিপি কিংবা তদন্তসংক্রান্ত নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়ে থাকলে অভিযোগকারীকে তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানের অগ্রগতি জানানো প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।বনানীর মার্ভেল ইন গেস্ট হাউস ও করিমস ভিলাকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় নথি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী। তাঁর প্রত্যাশা, অভিযোগটি আর অনিষ্পন্ন অবস্থায় না রেখে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

২ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৬ জন

খেলাধুলা

হলুদ কার্ড থেকে বাকবিতণ্ডা: মাঠে ও বাইরে চরম উত্তেজনার জন্ম দিলেন নেইমার

হলুদ কার্ড থেকে বাকবিতণ্ডা: মাঠে ও বাইরে চরম উত্তেজনার জন্ম দিলেন নেইমার

মাঠে পুনরায় নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ফুটবলার নেইমার। ম্যাচের মাঝপথে ভিএআরের (VAR) সহায়তায় লাল কার্ড দেখার পর প্রতিপক্ষ ফুটবলারের দিকে তেড়ে যান তিনি এবং মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সময় তাকে প্রকাশ্যে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি প্রদান করেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) রাতে ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সান্তোস ও বাহিয়ার মধ্যকার ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনার সূত্রপাত ম্যাচের প্রথমার্ধে। বল দখলের লড়াইয়ে বাহিয়ার মিডফিল্ডার রদ্রিগো নেস্টরের সঙ্গে সংঘর্ষের একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের দিকে রাগে বল ছুড়ে মেরে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন সান্তোসের ১০ নম্বর জার্সিধারী তারকা নেইমার। কার্ড দেখার পর আরও বেশি উত্তেজিত হয়ে তিনি নেস্টর ও বাহিয়ার অন্যান্য খেলোয়াড়দের পাশাপাশি প্রতিপক্ষ দলের কোচ রজেরিও সেনির সঙ্গেও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন। আরও পড়ুন,জাতীয় দলে ডাক পেলেন দুই প্রবাসী ফুটবলারবিরতির সময় নেস্টর অভিযোগ করেন, নেইমার তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত অসম্মানজনক আচরণ করেছেন, যা জনসমক্ষে প্রকাশের অযোগ্য। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর প্রাক্কালে দুই খেলোয়াড়ের মধ্যকার বিরোধ চরমে পৌঁছায়। নেইমার মুখের ওপর হাত রেখে নেস্টরকে উদ্দেশ্য করে কিছু একটা বলেন। নেস্টর বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রধান রেফারি সাভিও সাম্পাইওকে জানালে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে ভিএআরের সহায়তা নেন। ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে নেইমারের মন্তব্য ও আচরণকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে রেফারি তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। লাল কার্ডের আদেশের পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন নেইমার; তিনি প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তেড়ে যান এবং অন্য এক খেলোয়াড়ের গলা চেপে ধরেন বলে ম্যাচের বিবরণে উঠে আসে। সতীর্থদের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত তাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!