দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

আজকের আবহাওয়া

ঢাকা 1002.1 hPa
32.5° 66%
20° 9mm
চট্টগ্রাম 1004.9 hPa
29.1° 83%
90° 9mm
রাজশাহী 1001.4 hPa
27.5° 96%
40° 9mm
খুলনা 1001.9 hPa
31° 84%
220° 9mm
বরিশাল 1004.7 hPa
31.2° 72%
20° 6mm
সিলেট 1002.9 hPa
32.5° 70%
30° 9mm
রংপুর 1002 hPa
33.3° 65%
300° 9mm
ময়মনসিংহ 1003 hPa
28.8° 87%
9mm
Weather

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

বনানীর আবাসিক ভবনে স্পা-গেস্ট হাউজ এখন অন্ধকার জগৎ

বনানীর আবাসিক ভবনে স্পা-গেস্ট হাউজ এখন অন্ধকার জগৎ

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীতে আবাসিক ভবনকে কেন্দ্র করে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যবসা ও গেস্ট হাউজের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বনানীর ২৭ নং রোডের ৬৫ নং বাড়ির ‘করিম ভিলা’ নামের একটি আবাসিক ভবনে পরিচালিত কয়েকটি পার্লার, সেলুন ও স্পা সেন্টারকে ঘিরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক সরবরাহ এবং কথিত দালালচক্রের তৎপরতার অভিযোগের পাশাপাশি ডেল্টা ডালিয়া নামের একটি বহুতল ভবনের ষষ্ঠ তলায় পরিচালিত ‘লাক্সারি’ গেস্ট হাউজ নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ।আরও পড়ুন: গুলশান ২৬-এ কথিত গেস্ট হাউস সিন্ডিকেটের রহস্যস্থানীয় বাসিন্দা, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাংবাদিকদের মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের বিভিন্ন দিক সামনে এসেছে। তবে অনুসন্ধানে পাওয়া প্রতিটি অভিযোগ স্বাধীনভাবে এবং আইনগতভাবে চূড়ান্তভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে না দেখে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দায়িত্বশীল নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে দুটি বিষয় আবাসিক ভবনে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার বৈধতা এবং এসব প্রতিষ্ঠানে আগত ব্যক্তিদের পরিচয় ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা। স্থানীয়দের প্রশ্ন, আবাসিক ভবনে যদি বৈধ ব্যবসা পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে তার ট্রেড লাইসেন্স, ভবনের ব্যবহার অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, কর্মী গ্রাহকের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অনুমোদন কতটা সঠিকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে?আরও পড়ুন: বনানীতে শৈশবের স্পা সেন্টার ঘিরে নারী ও দালাল সিন্ডিকেটবনানীর ‘করিম ভিলা’ নামের আবাসিক ভবনের কয়েকটি ফ্ল্যাটে দীর্ঘদিন ধরে বিউটি পার্লার, সেলুন ও স্পা-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও অভিযোগ উঠেছে, কিছু প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের আড়ালে ভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতে পারে।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, দিনের তুলনায় সন্ধ্যার পর ভবনটিতে অপরিচিত নারী-পুরুষের চলাচল বেড়ে যায়। গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তির যাতায়াত নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, কোনো ব্যক্তিগত ব্যবসা পরিচালনায় আপত্তি না থাকলেও আবাসিক ভবনের পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং অন্য বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যাতে ব্যাহত না হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।অভিযোগ রয়েছে, কথিত কিছু মধ্যস্থতাকারী বা দালালের মাধ্যমে নির্দিষ্ট গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে তাদের বিভিন্ন পার্লার, সেলুন কিংবা নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটে নেওয়া হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল ফোন ব্যবহার করে যোগাযোগ করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল নথি বা আইনগতভাবে যাচাইকৃত তথ্য প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি।আরও পড়ুন: চট্রগ্রাম গোয়ালপাড়ায় মাদক সম্রাজ্ঞী "আকলিমার" মাদকের হাটমাদকদ্রব্য সরবরাহের অভিযোগও উঠেছে করিম ভিলাকে ঘিরে। অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, ইয়াবা ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সরবরাহের সঙ্গে কথিত একটি চক্র জড়িত থাকতে পারে। ফলে এ অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।অভিযোগ সূত্রে করিম ভিলাকে ঘিরে কথিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সোলেমান ওরফে সাকিব এবং মাসুদ নামের দুই ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করা হলেও স্বাধীনভাবে সেসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের আগে তার বক্তব্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত সোলেমান ওরফে সাকিব এবং মাসুদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য বা অভিযোগের বিষয়ে কোনো নথি পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে।আরও পড়ুন: https://www.youtube.com/watch?v=p5fy5JPIYPUঅভিযোগ সূত্রে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কথাও বলা হয়েছে। তবে এ ধরনের দাবিরও স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের বিষয়টি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে নয়।অভিযোগের বিভিন্ন দিক যাচাই করতে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান চালানো হয়। অনুসন্ধানের সময় কথিত মাদকদ্রব্যের মূল্য নিয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথন রেকর্ড করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কথোপকথনের প্রেক্ষাপট, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়, আর্থিক লেনদেন এবং কথিত মাদকদ্রব্যের অস্তিত্ব আইনগতভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তাই অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে উপস্থাপন করে প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।আরও পড়ুন: https://www.youtube.com/shorts/_rE9ZWrEISUকরিম ভিলার ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি বলে জানা গেছে। ফলে ভবন কর্তৃপক্ষের অবস্থান এই প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি। তবে ভবন কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক-কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে কোনো বক্তব্য, নথি বা ব্যাখ্যা দিলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।এদিকে করিম ভিলাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের পাশাপাশি বনানীর ডেল্টা ডালিয়া নামের একটি বহুতল ভবনের ষষ্ঠ তলায় পরিচালিত ‘লাক্সারি’ গেস্ট হাউজ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে গেস্ট হাউজটির কার্যক্রম, অতিথি নিবন্ধন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ব্যবসায়িক বৈধতা নিয়ে একাধিক বিষয় সামনে আসে। সরেজমিনে গেস্ট হাউজটির বাইরে উল্লেখযোগ্য কোনো স্পষ্ট সাইনবোর্ড চোখে পড়েনি বলে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ষষ্ঠ তলায় গেস্ট হাউজ পরিচালনার কিছু নির্দেশনা দেখা গেলেও অতিথিদের পরিচয় যাচাই ও নিবন্ধন সংক্রান্ত নথি সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানের সময় কয়েকজন অবস্থানরত অতিথির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। তাদের কয়েকজন দাবি করেন, কক্ষ নেওয়ার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র জমা বা পরিচয় নিবন্ধনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। তবে এটি গেস্ট হাউজটির নিয়মিত নীতি কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ কারণে গেস্ট হাউজটির অতিথি নিবন্ধন খাতা, পরিচয়পত্র সংরক্ষণের তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ব্যবসা পরিচালনার বৈধ কাগজপত্র যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।আরও পড়ুন: প্রভার পোস্টে আলোড়নঅনুসন্ধানের সময় একটি কক্ষে এক তরুণী নারী ও চল্লিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ দেখা গেছে বলে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ওই কক্ষে কিছু ট্যাবলেট সদৃশ বস্তু দেখা যায় বলেও জানানো হয়েছে। তবে সেগুলো আদৌ মাদকদ্রব্য কি না, ঘটনাস্থলে বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত করার সুযোগ ছিল না। অন্য একটি কক্ষে একজন নারী ও এনামুল হক নামে পরিচয় দেওয়া এক পুরুষকে অবস্থান করতে দেখা যায়। তারা স্বামী-স্ত্রী নন বলে স্বীকার করেছেন এমন দাবি প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। তবে প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ একই গেস্ট হাউজের কক্ষে অবস্থান করলেই তা কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়। এখানে মূল প্রশ্ন হলো গেস্ট হাউজ কর্তৃপক্ষ অতিথিদের পরিচয় যাচাই করেছে কি না এবং আইন ও ব্যবসায়িক বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করছে কি না।সাংবাদিকরা গেস্ট হাউজটির অন্যান্য কক্ষ ও কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করলে আল-আমিন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে অনুসন্ধানে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করেন এবং সংবাদ প্রকাশ নিয়ে আপত্তি জানান। অনুসন্ধানের সময় তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন, সুজন ও শুভসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাদের কথিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার দাবি করেন।ডেল্টা ডালিয়া ভবনের কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে ভবনে অপরিচিত মানুষের যাতায়াত বেড়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় বিভিন্ন ব্যক্তির চলাচল নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। আবার একজন বাসিন্দার ভাষ্য, “আমরা কারও বৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে নই। কিন্তু আবাসিক ভবনে এমন কোনো কর্মকাণ্ড চললে, যার কারণে বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়, তাহলে প্রশাসনের বিষয়টি দেখা উচিত। গেস্ট হাউজ এবং করিম ভিলাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগটি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে পুলিশ চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স, ব্যবসার অনুমোদন, অতিথি নিবন্ধন খাতা, সিসিটিভি ফুটেজ, কর্মচারীদের পরিচয় এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি যাচাই করতে পারে। শুধু তাই নয় এসব আপরাধীদের যেকোন মুহুর্তে দমন করতে পারে। আরও পড়ুন: দারুসসালামে অনুমোদনহীন অনৈতিক কর্মকান্ডে জসিম ও হারুনের দাপটকোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শুধু অভিযোগ উঠলেই সেটিকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা সাংবাদিকতার নীতি নয়। একইভাবে ব্যবসার আড়ালে যদি সত্যিই মাদক সরবরাহ, মানবপাচার, প্রতারণা কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, তাহলে সেটিও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এ কারণে করিম ভিলা ও লাক্সারি গেস্ট হাউজ দুই ক্ষেত্রেই প্রয়োজন নথি ও প্রমাণভিত্তিক তদন্ত। প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বৈধ কি না, ভবনের ব্যবহার অনুমোদিত কি না, অতিথিদের পরিচয় সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না, সিসিটিভি সচল আছে কি না এবং কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করাই এখন মূল বিষয়।সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আবাসিক ভবনে বেআইনি কোনো কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। করিম ভিলা এবং লাক্সারি গেস্ট হাউজকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের মধ্যে কিছু অভিযোগ গুরুতর হলেও এখন পর্যন্ত সবকটির আইনগত সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কোথাও মাদক পাওয়া গেছে কি না, কথিত দালালচক্র সত্যিই সক্রিয় কি না, কোনো ব্যবসা অনুমোদনহীন কি না কিংবা কোনো ব্যক্তি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কি না এসব প্রশ্নের উত্তর নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।আরও পড়ুন: বনানীতে শহিদের অবৈধ স্পা সেন্টার ঘিরে অন্ধকার জগৎঅন্যদিকে কোনো অভিযোগ সত্য হলে শুধু তদন্তের আশ্বাসে বিষয়টি থেমে থাকা উচিত নয়। প্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি। কারণ বনানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দীর্ঘদিন অনিষ্পন্ন থাকলে তার প্রভাব আশপাশের বাসিন্দাদের ওপর পড়তে পারে। সবশেষে, করিম ভিলা ও ডেল্টা ডালিয়ার ‘লাক্সারি’ গেস্ট হাউজকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ এখন তদন্তের দাবি রাখে। সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যকে চূড়ান্ত রায় হিসেবে নয়, বরং তদন্তের সূত্র হিসেবে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা যেমন জরুরি, তেমনি অভিযোগ অসত্য হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানেরও দায়মুক্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

শিক্ষক-কর্মচারীদের ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের—মাউশির আওতাধীন শিক্ষক ও কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এ জন্য গঠন করা হয়েছে বিশেষ ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিং কমিটি’।মাউশির প্রকাশিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।চিঠি অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারসংক্রান্ত নির্দেশিকা, ২০১৯’ এবং সরকারি আচরণবিধি অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।আরও  পড়ুন, মহাসড়কে আর চলবে না কোনো থ্রি-হুইলার, এআই ক্যামেরায় হবে অটো ফাইন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীএই নির্দেশনা সঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা পরিবীক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন এই কমিটিকে।মাউশির অধীন কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নীতিমালা পরিপন্থী স্ট্যাটাস, মন্তব্য, ছবি, ভিডিও বা পোস্ট প্রকাশ কিংবা প্রচার করলে তা তথ্য-প্রমাণসহ কমিটির কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।অভিযোগ বা তথ্য পাঠানোর সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্মকর্তার নাম, পদবি ও কর্মস্থল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম ও অ্যাকাউন্ট বা প্রোফাইলের লিংক, পোস্ট প্রকাশের তারিখ ও সময় এবং স্ক্রিনশটসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণ যুক্ত করতে হবে।এসব তথ্য কমিটির আহ্বায়কের ই-মেইলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মহাসড়কে আর চলবে না কোনো থ্রি-হুইলার, এআই ক্যামেরায় হবে অটো ফাইন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের কোনো মহাসড়কেই আর থ্রি-হুইলার চলতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকায় এআই ক্যামেরার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ দেশের সব মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল নিষিদ্ধ। কোনো অবস্থাতেই এসব যান মহাসড়কে উঠতে পারবে না। তবে বাজার, ফিলিং স্টেশন ও ফিডার রোডে থ্রি-হুইলার চলাচল করতে পারবে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’।আর ও পড়ুন, কারাগার ভেঙে পালানো ২,২৪৭ বন্দির ৬৯০ জন এখনো পলাতক: কারা মহাপরিদর্শকনতুন এই ব্যবস্থায় নির্ধারিত গতিসীমার বেশি গতিতে গাড়ি চালানো, অবৈধ পার্কিং, উল্টোপথে চলাচলসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করবে এআই ক্যামেরা।আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য ও জরিমানার নোটিশ পাঠানো হবে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মহাসড়কে এআই ক্যামেরা স্থাপনের ফলে পরিবহনে চাঁদাবাজিও কমবে। মালিক বা শ্রমিক—যে পক্ষই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকুক, ক্যামেরায় তা রেকর্ড থাকবে।

কারাগার ভেঙে পালানো ২,২৪৭ বন্দির ৬৯০ জন এখনো পলাতক: কারা মহাপরিদর্শক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার ভেঙে পালিয়ে যাওয়া ২ হাজার ২৪৭ বন্দির মধ্যে ৬৯০ জন এখনো পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।মঙ্গলবার কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।কারা মহাপরিদর্শক বলেন, ২০২৪ সালে বিভিন্ন কারাগার থেকে ২ হাজার ২৪৭ বন্দি পালিয়ে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।নরসিংদী কারাগার থেকে পালিয়েছিলেন ৮২৬ বন্দি। এর মধ্যে ১৬৬ বন্দির তথ্য বা ডাটা এখনো পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।আরও  পড়ুন, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে সংসদ ভবনে নতুন সংযোজন, স্পিকারের পেছনে আরবি ক্যালিগ্রাফিতে কালেমাএ সময় জঙ্গি বন্দিদের নিয়েও তথ্য দেন কারা মহাপরিদর্শক। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কারাগার থেকে নয়জন জঙ্গি বন্দি পালিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনজন পলাতক থাকার কথা বলা হলেও সবশেষ জুয়েল নামে একজন গ্রেপ্তারের পর পলাতক জঙ্গির সংখ্যা দুজনে নেমে এসেছে বলে জানান তিনি।এদিকে দেশের কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি রয়েছে। ৬০টি জেলা ও ১৫টি কেন্দ্রীয় কারাগারে মোট ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার হলেও বর্তমানে বন্দির সংখ্যা প্রায় ৯৮ হাজার।কারা মহাপরিদর্শক আরও জানান, মাদক ও আর্থিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। গত দুই বছরে এসব ঘটনায় ২১ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর এবং ৮২ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিভাগীয় মামলা হয়েছে ৮৭০ জনের বিরুদ্ধে।

প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে সংসদ ভবনে নতুন সংযোজন, স্পিকারের পেছনে আরবি ক্যালিগ্রাফিতে কালেমা

জাতীয় সংসদে স্পিকারের আসনের ঠিক পেছনের দেয়ালে স্থাপন করা হয়েছে কালেমা তাইয়্যেবা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে এটি স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি।মঙ্গলবার বিএনপির ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।পোস্টে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের ১৩তম অধিবেশন শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে স্পিকারের আসনের পেছনের দেয়ালে আরবি ক্যালিগ্রাফিতে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ স্থাপন করা হয়।আরও  পড়ুন, ২০২৭ হজের প্রস্তুতি শুরু সৌদিতে, ৭৫ দেশের সঙ্গে আগাম সমন্বয় সভাএদিকে জাতীয় সংসদের প্রবেশদ্বারগুলোতেও নতুন সংযোজনের কথা জানিয়েছে বিএনপি।দলটির পোস্ট অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সংসদের প্রবেশদ্বারগুলোতে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’—এই মূলনীতি খোদাই করে সংযোজন করা হয়েছে।সংসদে এমন ধর্মীয় বাণী ও মূলনীতি সংযোজনের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের অভ্যন্তরে এবং প্রবেশপথে এসব সংযোজন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও নির্দেশনার ভিত্তিতেই করা হয়েছে।

রাজনীতিরাজনীতি

বিএনপি সরকারের ৬ মাসের মূল্যায়ন জানাবে জামায়াত, সংবাদ সম্মেলন আজ

বিএনপি সরকারের ৬ মাসের মূল্যায়ন জানাবে জামায়াত, সংবাদ সম্মেলন আজ

বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসের কর্মকাণ্ড এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের মূল্যায়ন তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘বিএনপি সরকারের ৬ মাসের মূল্যায়ন’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনে সরকারের গত ছয় মাসের কার্যক্রম, বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্ত এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরা হবে।সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।সোমবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।আরও পড়ুন, ‘জামায়াত-শিবির পুরোপুরি জালিম সংগঠনে পরিণত হয়েছে’: রাশেদ খানদলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমের পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও জামায়াতের মূল্যায়ন তুলে ধরা হবে।ফলে সরকারের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে কী ধরনের সমালোচনা বা পর্যবেক্ষণ সামনে আসে, সেদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে নজর রয়েছে।বিশেষ করে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দলটির মূল্যায়নে কী বিষয় গুরুত্ব পায়—তা সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট হতে পারে।মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রম নিয়ে দলটির আনুষ্ঠানিক অবস্থান প্রকাশ্যে আসবে।

‘জামায়াত-শিবির পুরোপুরি জালিম সংগঠনে পরিণত হয়েছে’: রাশেদ খান

‘জামায়াত-শিবির পুরোপুরি জালিম সংগঠনে পরিণত হয়েছে’: রাশেদ খান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে ‘জালিম সংগঠন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। একই সঙ্গে জামায়াত আওয়ামী লীগের ‘সব বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খান।পোস্টে তিনি দাবি করেন, কুষ্টিয়ায় গণ-অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করার পর আবারও দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জামায়াত-শিবির ‘পেশিশক্তির মহড়া’ দিয়েছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠন দুটিকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।রাশেদ খান বলেন, অতীতে বিরোধী দলগুলোকে ‘মজলুম ও বিনয়ী’ হিসেবে দেখা গেলেও প্রধান বিরোধী দল হওয়ার পর জামায়াত আওয়ামী লীগের বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে দলটি ক্ষমতায় গেলে ভিন্নমতের কোনো জায়গা থাকবে না বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।জামায়াতের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য গণ-অধিকার পরিষদের নেতাদের ধন্যবাদ জানান রাশেদ খান। আরও  পড়ুন, এনসিপির কমিটিতে মৃত তরুণের নাম, একই ব্যক্তির নামও দুইবারবিশেষ করে দলটির সভাপতি নুরুল হক নুর ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুনের প্রশংসা করেন তিনি।রাশেদ খান দাবি করেন, গণ-অধিকার পরিষদকে জামায়াতমুখী করতে চেয়েছিলেন—এমন নেতাদের বিষয়ে দলটির বর্তমান নেতৃত্ব সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।এদিকে জামায়াত ও দলটির সেক্রেটারি জেনারেল গণ-অধিকার পরিষদকে নিয়ে ‘জঘন্য বক্তব্য’ দিয়েছেন দাবি করে এর প্রতিবাদ জানান রাশেদ খান।তিনি আরও বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে দল হিসেবে জামায়াতের তুলনায় গণ-অধিকার পরিষদের অবদান বেশি। জামায়াত যখন ‘গুপ্ত’ ছিল, তখন গণ-অধিকার পরিষদ রাজপথে ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।রাশেদ খানের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড দেখে জামায়াত এমনভাবে আচরণ করছে যেন তারাই সবকিছু করেছে। তবে ইতিহাস পরিবর্তন করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনসিপির কমিটিতে মৃত তরুণের নাম, একই ব্যক্তির নামও দুইবার

এনসিপির কমিটিতে মৃত তরুণের নাম, একই ব্যক্তির নামও দুইবার

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির বর্ধিত তালিকায় ৪০ দিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক তরুণের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তালিকায় ১৫ জনের নাম দুইবার করে রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহর সই করা বর্ধিত কমিটিতে মোট ৩১২ জনের নাম রয়েছে। এর আগে গত ১৪ মে ১৬৮ সদস্যের আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।বর্ধিত কমিটির এক নম্বরে রাখা হয়েছে তাজরিন ফায়াজের নাম। অথচ গত ৭ জুলাই চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। ২৮ বছর বয়সী তাজরিন মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়ালসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কাভার্ডভ্যানের পেছনে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যান।আরও  পড়ুন, উত্তরা পূর্বে জিয়া সাইবার ফোর্সের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণাএদিকে নতুন কমিটিতে অন্তত ১৫ জনের নাম দুইবার করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি একই ব্যক্তির নামের পাশে একাধিক পদও উল্লেখ করা হয়েছে।এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, বর্ধিত কমিটিতে অসাবধানতাবশত কিছু ভুল হয়েছে। এটিকে ‘প্রিন্টিং মিসটেক’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগের ১৬৮ সদস্যের কমিটি থেকে জনবল সমন্বয়ের সময় কম্পিউটার ম্যানের ভুলে এমনটি হয়েছে।তিনি জানান, ভুলগুলো সংশোধন করা হবে এবং সংশোধিত কমিটির তালিকা আবার প্রকাশ করা হবে।

উত্তরা পূর্বে জিয়া সাইবার ফোর্সের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

উত্তরা পূর্বে জিয়া সাইবার ফোর্সের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানাধীন এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্যপ্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে ২১ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করেছে জিয়া সাইবার ফোর্স জেডসিএফ, ঢাকা মহানগর উত্তর।সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সাংগঠনিক নথিতে এ কমিটির অনুমোদনের তথ্য উঠে এসেছে। নথিতে সংগঠনের ঢাকা মহানগর উত্তরের আওতাধীন উত্তরা পূর্ব থানার ২১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির বিভিন্ন পদে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। নথিটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর থেকে প্রকাশ করা হয়েছে বলে এতে উল্লেখ রয়েছে।প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, কমিটিতে মো. সাজ্জাদ হোসেন শিশুকে আহ্বায়ক এবং আজম কানাম আজাদকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। এছাড়া আব্দুর রশিদ রানা, সায়মন ইসলাম, আশিকুর রহমান আশিক ও মো. মামুনকে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শাওন চৌধুরী লিংকনকে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে ‘প্রচার এর দায়িত্বে’ রাখা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।আরও পড়ুন: বিএনপিতে নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাসের তোড়জোড়কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে মো. মামুনুর রশিদ রানাকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন রাসেল আশিক হিমেল, শাহিন আহমদ আশিক, অভিজিৎ হোসেন, জহিরুল ইসলাম, রিয়াজুল ইসলাম রবিন, আশিক প্রামাণিক, ওবায়দুল্লাহ, আরিফুর ইসলাম, ফরিদুল ইসলাম, মো. রাকিবুল হাসান খান রিমি, মো. তানিম আহমেদ, মো. হানিফ উদ্দিন এবং মো. গোলাম হোসেন।নথির নিচের অংশে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে আহ্বায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে জমা দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত এ কমিটির দায়িত্ব হবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া।ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ, গুজব, ভুয়া তথ্য, অনলাইন হয়রানি, প্রতারণা ও ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারসহ নানা ধরনের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। এ বাস্তবতায় সাইবার সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।আরও পড়ুন: বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে চার জ্যেষ্ঠ নেতা, রিজভী-আমানসহ নতুন সদস্য মনোনীতউত্তরা পূর্ব থানার নতুন কমিটি যদি সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতনতা এবং তরুণদের ইতিবাচকভাবে প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করার মতো কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাহলে তা স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ, অনলাইনে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকা এবং সাইবার অপরাধের শিকার হলে কোথায় অভিযোগ করতে হবে—এসব বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের সুযোগ রয়েছে। কমিটিতে আহ্বায়ক থেকে শুরু করে যুগ্ম আহ্বায়ক, সদস্য সচিব ও সাধারণ সদস্য—বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। এতে সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোকে কার্যকর করার একটি প্রাথমিক রূপরেখা পাওয়া যায়।আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রচার ও জনসম্পৃক্ততার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো সংগঠনের কমিটি অনুমোদনের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঘোষিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন। শুধু কমিটি গঠন নয়, নিয়মিত সভা, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, সাইবার সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে দৃশ্যমান করা প্রয়োজন।আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকট নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জামায়াতনথিতে ৬০ দিনের মধ্যে আহ্বায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে জমা দেওয়ার নির্দেশনা থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি অন্তর্বর্তী সাংগঠনিক কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সদস্যদের সাংগঠনিক দক্ষতা, সক্রিয়তা ও স্থানীয় পর্যায়ে কাজের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের দায়িত্বশীলদের বক্তব্য পাওয়া গেলে কমিটি গঠনের উদ্দেশ্য, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে। সামাজিক সংগঠন কিংবা সাইবারভিত্তিক কোনো প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সাইবার সচেতনতার নামে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড যেন না ঘটে সে বিষয়ে সংগঠনের দায়িত্বশীলদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার সচেতনতা কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রযুক্তিকে নিরাপদ, আইনসম্মত ও ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করার বিষয়ে মানুষকে উৎসাহিত করা। একই সঙ্গে অনলাইন অপরাধের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নেওয়াও জরুরি। উত্তরা পূর্ব থানার ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনটির নতুন সাংগঠনিক কার্যক্রমের সূচনা হলো। এখন এই কমিটির সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে সক্রিয় করা এবং ৬০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা। তথ্য অনুযায়ী, কমিটির সদস্যরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে সংগঠনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিলে উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় সাইবার সচেতনতা ও সামাজিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। তবে এর বাস্তব সাফল্য নির্ভর করবে কমিটির কার্যক্রম কতটা নিয়মতান্ত্রিক, স্বচ্ছ, জনকল্যাণমুখী ও আইনসম্মতভাবে পরিচালিত হয় তার ওপর।

সারাবাংলা

আখাউড়া খরমপুর কেল্লা শাহ এর  মাজারে ১২ বস্তায় পেলো ১ কোটি ৩ লাখ ৬৫১ টাকা

আখাউড়া খরমপুর কেল্লা শাহ এর মাজারে ১২ বস্তায় পেলো ১ কোটি ৩ লাখ ৬৫১ টাকা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার খড়মপুর শাহ সৈয়দ আহাম্মদ গেছুদারাজ (রহ.) ওরফে শাহ পীর কেল্লা বাবার মাজারের ওরস উপলক্ষে চারটি দানবাক্স খোলা হয়েছে। এতে ১২ বস্তা টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার মিলেছে। প্রায় সাড়ে ১৯ ঘণ্টা গণনা শেষে মিলেছে ১ কোটি ৩ লাখ ৬৫১ টাকা। এবারই প্রথমবার দানবাক্সে মিলল কোটি টাকা। এসব টাকা আজ সোনালী ব্যাংক লিমিটেডে জমা দেওয়া হয়েছে।  আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাজার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি তাপসী রাবেয়ার নেতৃত্বে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। গতকাল সোমবার সকাল নয়টায় গণনা শুরু হয়, চলে রাত সাড়ে চারটা পর্যন্ত। মোট পাওয়া ১ কোটি ৩ লাখ ৬৫১ টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে। আখাউড়া উপজেলা প্রশাসন ও মাজার কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ১০ আগস্ট এ মাজারে সাত দিনব্যাপী ওরস শুরু হয়। ১৪ আগস্ট রাত ১২টা ১ মিনিটে মাজারের আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।আরও  পড়ুন , বান্দরবান বিক্ষত সড়কজুড়ে লাল নিশান পাহাড়ে ১৮০ কিলোমিটার সড়কে ক্ষতিগ্রস্তমোনাজাতে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। ১৬ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত ওরসের আনুষ্ঠানিকতা চলে এ সময় দেশ-বিদেশ থেকে আসা ভক্ত-আশেকানরা চারটি দানবাক্সে নগদ টাকা, সোনা-রুপা ও বিদেশি মুদ্রা দান করেন। গতকাল সকাল নয়টায় মাজারের চারটি দানবাক্স খোলা শুরু হয়। চারটি দানবাক্স থেকে ১২ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। টাকা গণনার কাজে সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা এবং মাজার শরিফ মাদ্রাসার অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মাজারটি প্রায় ৭০০ বছর পুরোনো। চারটি দানবাক্সে নগদ টাকার পাশাপাশি সোনা, রুপা ও বিভিন্ন দেশের বিদেশি মুদ্রা পাওয়া যায়। এ ছাড়া মাজার প্রাঙ্গণে ভক্তদের দেওয়া বিভিন্ন পশুপাখি ও অন্যান্য সামগ্রীর হিসাবও করা হচ্ছে। এসব সামগ্রী মাজার কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রাখা হয়েছে। কেল্লা বাবার মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ওরফে মিন্টু খাদেম সংবাদ দিগন্তকে বলেন, মাজারের দানবাক্সে ২০২৩ সালে ৮৪ লাখ টাকা, ২০২২ সালে ৬৪ লাখ টাকা ও ২০২১ সালে ৬১ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। এবারই প্রথম কোটি টাকার ওপরে পাওয়া গেছে।

বান্দরবান বিক্ষত সড়কজুড়ে লাল নিশান পাহাড়ে  ১৮০ কিলোমিটার সড়কে ক্ষতিগ্রস্ত

বান্দরবান বিক্ষত সড়কজুড়ে লাল নিশান পাহাড়ে ১৮০ কিলোমিটার সড়কে ক্ষতিগ্রস্ত

বিক্ষত সড়কজুড়ে লাল নিশান পাহাড়েবান্দরবানে সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া স্থানগুলোতে যানবাহন ও পথচারীদের সতর্ক করতে টাঙানো হয়েছে লাল নিশান। রবিবার রোয়াংছড়ি-রুমা সংযোগ সড়কের দেবতা পাহাড় ও খামতাং পাড়া এলাকায়। পাহাড়ের বুক চিরে এঁকেবেঁকে চলে গেছে পিচঢালা পথ। কিন্তু সেই সড়কজুড়ে এখন ছোট ছোট লাল নিশান।কোথাও সড়কের একাংশ ধসে গিয়ে সরু হয়ে গেছে, কোথাও পিচ উঠে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও আবার পাহাড়ি ঢলে সড়কের পাশের মাটি সরে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ভয়ঙ্কর খাদ। ঝুঁকিপূর্ণ এসব স্থানে সতর্কবার্তা হিসেবে টাঙানো হয়েছে বিপদের সংকেত হিসেবে লাল নিশান। দূর থেকে দেখলে এসব নিশান কেবল বিপজ্জনক অংশের সংকেত।কিন্তু পাহাড়ের মানুষের কাছে এগুলো এখন তার চেয়েও বড় কিছু বলে জানান রুমার সেপ্রুপাড়া কারবারি (পাড়াপ্রধান) হ্লাচিংউ মার্মা ও রোয়াংছড়ির রোনিনপাড়া কারবারি রামতিনখুপ বম। দুই পাড়াপ্রধান বলেন, এসব পতাকা যেন থমকে যাওয়া জীবন, আটকে থাকা কৃষিপণ্য, হাসপাতালে যেতে না পারা রোগী, স্কুলে যেতে দুর্ভোগে পড়া শিক্ষার্থী এবং পর্যটননির্ভর মানুষের আয়-উপার্জন হারানো প্রতীক।স্থানীয়রা বলেন, সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বাড়ে, জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। কোথাও পাহাড়ধস, কোথাও সড়কধসে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা।এখন পানি নেমে গেছে, কিন্তু ফসলি জমি, সবজি ক্ষেত, ফলের বাগান আর সড়কজুড়ে ধ্বংসের চিহ্ন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দারা জানান, ভারি বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ। সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ায় অনেক জায়গায় মাঝারি ও ভারি যানবাহন চলতে পারছে না। ফলে সময়মতো কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া যাচ্ছে না। রোগী নিয়ে হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে।আরও পড়ুন, কৃষক কে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধনশিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতেও দেখা দিয়েছে দুর্ভোগ।ট্যুরিস্ট গাইডসহ পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যাতায়াতের অসুবিধার কারণে কমেছে পর্যটক। এতে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, কটেজ, পর্যটকবাহী গাড়ি ও ট্যুরিস্ট গাইডদের আয়ে ধস নেমেছে।সরেজমিন রবিবার ও সোমবার বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি ও রুমার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে ক্ষত এখনও স্পষ্ট। অনেক জায়গায় সড়কের দুই পাশের মাটি সরে গেছে। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও সড়কের একাংশ ধসে পড়েছে। ধসের কারণে কোথাও সড়ক এতটাই সরু হয়ে গেছে যে মুখোমুখি দুটি গাড়ি পার হওয়ার সুযোগ নেই। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে লাল নিশান টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিয়ে জানা গেছে, শুধু সদর, রোয়াংছড়ি ও রুমা নয়; থানছি, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন সড়কও একইরকম ক্ষতিগ্রস্ত।রোয়াংছড়ি-কচ্ছপতলী সড়কের কচ্ছপতলী পাড়ার বাসিন্দা মংপ্রু মারমা বলেন, এবারের বন্যায় খালপারের সড়কের বেশ কিছু অংশ ধসে গেছে। এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ভোগ আরো বাড়বে।রোয়াংছড়ি ও রুমার বাসিন্দারা বলেন, পাহাড়ে একটি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানে শুধু যানবাহন চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হওয়া নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকা। যে সড়ক দিয়ে কৃষক তার ফলের বাগানে যান, একই সড়ক দিয়ে উৎপাদিত পণ্য বাজারে আসে। অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যায়। পর্যটকরা পৌঁছান পাহাড়ের প্রত্যন্ত দর্শনীয় স্থানগুলোতে। সেই সড়কও যখন ভেঙে যায়, তখন একসঙ্গে থমকে যায় এসব কার্যক্রমপাহাড়ি এলাকার বাসিন্দারা বলেন, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে জরুরি সেবায়। দুর্গম এলাকার কোনো মানুষ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও অ্যাম্বুলেন্স কিংবা বড় যানবাহন চলতে না পারায় রোগী পরিবহন হয়ে পড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ। টংকাবতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মায়াং ম্রো প্রদীপ বলেন, সড়কের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। কোনোভাবে মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারলেও মাঝারি বা বড় গাড়ি চলতে পারছে না। এতে স্থানীয়দের অনেক ভোগান্তি হচ্ছে। দ্রুত সড়ক মেরামত করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা প্রয়োজন।আরও  পড়ুন, ওসি শাহিনুর আলমের নেতৃত্বে শ্রীপুরে ৭,৭৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, আটক ১বান্দরবান হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিধি-নিষেধের কারণে জেলার হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট-কটেজ খাতে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এছাড়া রেস্টুরেন্ট, খাবারের দোকান, হস্তশিল্প, বিভিন্ন পণ্য ব্যবসা ও পরিবহনসহ পর্যটন খাতের হিসাব করলে চলতি বর্ষায় জেলার পর্যটননির্ভর বিভিন্ন সেক্টরে ৬০ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়ক সংস্কার ও পুনর্নির্মাণে তিনটি সরকারি দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী প্রয়োজন প্রায় ১৩৩ কোটি টাকা।সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়কের একটি বেইলি সেতু ধসসহ নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর-কক্সবাজার অভ্যন্তরীণ সড়কের প্রায় ৬৩ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৩ কোটি টাকা। ক্ষয়ক্ষতির হিসাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন রুমা-রোয়াংছড়ি-কচ্ছপতলী, সুয়ালক-সরই এবং ব্রিকফিল্ড বাজার-চিম্বুক সড়কসহ প্রায় ৯০ কিলোমিটার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি টাকা। তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব হেড অফিসে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।অন্যদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন প্রায় ২৫ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২১ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন ইয়াছির আরাফাত।

কৃষক কে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

কৃষক কে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ইউসুফ আলী শেখ (৫৫) নামের এক কৃষককে নির্যাতনের পর বিষ খাইয়ে হত্যার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের চরহাজিগঞ্জ গাবতলা মোড়ে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।​মানববন্ধনে স্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং নারী-পুরুষসহ দুই শতাধিক গ্রামবাসী অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে 'ইউসুফের খুনিদের ফাঁসি চাই' এবং 'প্রশাসন চুপ কেন, জবাব চাই' সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। মানববন্ধন শেষে ফরিদপুর-চরভদ্রাসন আঞ্চলিক সড়কে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।​সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চরহাজিগঞ্জ বাজার বনিক সমিতির সভাপতি কবিরুল আলম বলেন, "আমাদের শান্ত এলাকায় এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড নজিরবিহীন। ইউসুফ আলী মৃত্যুর আগে জড়িতদের নাম বলে গেছেন। পুলিশ চারজনকে ধরলেও বাকিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। আমরা দ্রুত সব আসামির গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"আরও  পড়ুন, ওসি শাহিনুর আলমের নেতৃত্বে শ্রীপুরে ৭,৭৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, আটক ১​বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ঘটনার পরপরই পুলিশ চার আসামিকে গ্রেফতার করলেও বাকি আসামিদের বিষয়ে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের মূল নেপথ্যে থাকা নিখোঁজ নারীকে দ্রুত উদ্ধার করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনেরও দাবি জানান তাঁরা।​উল্লেখ্য, গত ১ আগস্ট সন্ধ্যায় চরভদ্রাসনের গাজীরটেক ইউনিয়নের চরঅমরাপুর গ্রামের কৃষক ইউসুফ আলী শেখকে ডেকে নিয়ে দুর্গম চরে নির্যাতন চালানো হয় এবং জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে দেওয়া হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ৩ আগস্ট শেষরাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পূর্বে ইউসুফ একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে হামলাকারীদের নাম প্রকাশ করে যান।​এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ডালিয়া বেগম বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে চরভদ্রাসন থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় চারজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

ওসি শাহিনুর আলমের নেতৃত্বে শ্রীপুরে ৭,৭৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, আটক ১

ওসি শাহিনুর আলমের নেতৃত্বে শ্রীপুরে ৭,৭৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, আটক ১

গাজীপুরের শ্রীপুরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার ৭৯০ পিস কথিত ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আব্দুল কাদের (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে শ্রীপুর মডেল থানা পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শ্রীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলমের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ১৭ আগস্ট রাত ১১টা ৩৫ মিনিটের দিকে উপজেলার মুলাইদ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মুলাইদ গ্রামের আব্দুল কাদেরের চৌচালা টিনশেড ভবনের দক্ষিণ-পূর্ব কোণের একটি বেডরুম থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে ৭ হাজার ৭৯০ পিস কথিত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।আরও  পড়ুন, লামায় অবৈধ বালু উত্তোলনে বেপরোয়া ফারুক আমজাদ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: আতংঙ্কে স্থানীয়রাআটক আব্দুল কাদের মুলাইদ এলাকার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে।এ ঘটনায় ১৮ আগস্ট শ্রীপুর মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(গ) ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি শ্রীপুর মডেল থানার মামলা নম্বর-৪৯।পুলিশ জানিয়েছে, শ্রীপুরকে মাদকমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান ও মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শাহিনুর আলমের নেতৃত্বে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

আন্তর্জাতিক

আব্রাহাম লিংকনে নৌসেনাদের সংঘর্ষ নিহত ৭ দাবি তাসনিমের

আব্রাহাম লিংকনে নৌসেনাদের সংঘর্ষ নিহত ৭ দাবি তাসনিমের

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ভেতরে নৌসেনাদের মধ্যে সংঘর্ষে সাতজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন—এমন দাবি করেছে ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ।তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে রণতরীটি ওই অঞ্চলে মোতায়েন থাকায় নৌসেনাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। এমনকি নৌসেনাদের পরিবারের সদস্যরাও দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।এই অসন্তোষ নিয়ে আলোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপারের এক উপদেষ্টা রণতরীটিতে যান বলে জানিয়েছে তাসনিম।প্রতিবেদন অনুযায়ী, নৌসেনাদের এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ওই উপদেষ্টাকে দুয়োধ্বনি দেওয়া হয় এবং তার দিকে পানির বোতল ছুড়ে মারা হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ক্রুদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।আরও পড়ুন. ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীনের ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ইরানতাসনিমের দাবি, সংঘর্ষের সময় ছুরি ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এতে সাতজন নৌসেনা নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পরও রণতরীটির ভেতরে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে দাবি করা হয়েছে।ইরানি সংবাদমাধ্যমটির আরও দাবি, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন টানা ২৬৩ দিন ধরে মোতায়েন রয়েছে এবং বর্তমানে ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে। রণতরীটির অন্যতম দায়িত্ব হিসেবে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর করার কথাও উল্লেখ করেছে তারা।এ ছাড়া টানা ২০৮ দিন সমুদ্রে অবস্থানের দাবি করে তাসনিম বলেছে, আধুনিক সময়ে কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর জন্য এটি দীর্ঘতম একটানা সমুদ্র মোতায়েনের ঘটনা।তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নৌসেনাদের সংঘর্ষে সাতজন নিহত হওয়ার এই দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে নিহতের সংখ্যা ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

১৩ আগস্ট ২০২৬

রাজধানী

রাজধানীতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৮৮

রাজধানীতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৮৮

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের পৃথক অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় করা হয়েছে ৫৫টি মামলা।মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।ডিএমপি জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।গ্রেপ্তারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মিরপুর বিভাগ। এরপর মতিঝিল বিভাগ থেকে ৬১, তেজগাঁও থেকে ৫৯, গুলশান থেকে ৪৯, ওয়ারী থেকে ৪৭, উত্তরা থেকে ৪১, লালবাগ থেকে ৩৩ এবং রমনা বিভাগ থেকে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।আরও  পড়ুন, রাজধানীর সড়কে আজ থেকে ‘পিংক বাস’, চালক-কন্ডাক্টর দুজনই নারীএ ছাড়া গোয়েন্দা বিভাগ ১০ জন এবং সিটিটিসি ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।অভিযানে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১১ কেজি গাঁজা এবং ১৬ হাজার ২২২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।এ ছাড়া একটি সুইচ গিয়ার, দুটি হ্যান্ডকাফ, একটি খেলনা পিস্তল, একটি ইলেকট্রিক ট্র্যাকার, দুটি ওয়াকি-টকি, একটি ওয়েট মেশিন, ১৯টি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন অপারেটরের ২৮টি সিম উদ্ধার করা হয়েছে।অভিযানে নগদ এক হাজার ৪০০ টাকা এবং একজন ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়।ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

৫ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

খেলাধুলা

ম্যাকেইয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ, সিরিজ জয়ের স্বপ্নে বাংলাদেশ

ম্যাকেইয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ, সিরিজ জয়ের স্বপ্নে বাংলাদেশ

ডারউইনে ইতিহাস গড়ার রেশ এখনো কাটেনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নয় উইকেটের ঐতিহাসিক জয় উদযাপন করে দুই রাত ডারউইনে কাটিয়েছে বাংলাদেশ দল। এবার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ—দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।আজ দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার যাত্রা শেষে ম্যাকেইয়ে পৌঁছাবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ডারউইনের তুলনামূলক গরম আবহাওয়া পেরিয়ে এবার অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা পরিবেশে খেলতে হবে বাংলাদেশকে। ফলে নতুন কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াই হবে দলের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।তবে পরিবেশ বদলালেও লক্ষ্য বদলাচ্ছে না। প্রথম টেস্টের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ধরে রেখে দ্বিতীয় ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ।ম্যাকেইয়ে পৌঁছে একদিন বিশ্রাম নেবেন ক্রিকেটাররা। এরপর শুরু হবে অনুশীলন। ২২ আগস্ট থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। ম্যাচের আগে কয়েকটি অনুশীলন সেশনে নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগ পাবেন শান্তরা।আরও  পড়ুন, ১০ সেকেন্ডের ফাঁদে নেইমার, ১ মিনিট মাঠের বাইরেপ্রথম টেস্টে বাংলাদেশের বোলারদের দাপটে অস্বস্তিতে পড়েছিল স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। ডারউইনের গরম কন্ডিশনেও দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণে বল করেছেন বাংলাদেশের বোলাররা।এবার ঠান্ডা আবহাওয়ায় খেলতে হলেও কন্ডিশন পরিবর্তনকে বড় বাধা হিসেবে দেখছে না বাংলাদেশ দল। বরং ডারউইনের জয় থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাসকেই সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন ক্রিকেটাররা।রোববার ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত হওয়ার পর রাতে হোটেলে উদযাপনে মেতে ওঠে বাংলাদেশ দল। সোমবার মাঠে নামার প্রয়োজন না থাকায় ক্রিকেটাররা পেয়েছেন বিশ্রামের সুযোগ। কেউ হোটেলে, কেউ জিমে, আবার কেউ শহরে ঘুরে নিজেদের মতো করে সময় কাটিয়েছেন।এখন সেই উদযাপন পেছনে ফেলে সিরিজ জয়ের মিশনে ম্যাকেইয়ের পথে বাংলাদেশ।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর