দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

অভিযোগের পরও কেন বিলম্ব, প্রশ্ন পুলিশের কার্যক্রম

অভিযোগের পরও কেন বিলম্ব, প্রশ্ন পুলিশের কার্যক্রম

দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্ব পুলিশের। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ, অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এসব দায়িত্ব পালনে পুলিশের তৎপরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন মহলে এমন প্রশ্ন উঠছে যে, অপরাধের তথ্য পাওয়ার পরও কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের পরিবর্তে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে অপরাধ প্রতিরোধে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে জনমনে প্রত্যাশা অনেক। কোথাও মাদক বিক্রি, কোথাও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, কোথাও চাঁদাবাজি, আবার কোথাও আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস ও স্পাকেন্দ্রকে ঘিরে নানা অভিযোগ—এসব বিষয়ে নাগরিকেরা পুলিশের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পর যদি দ্রুত পদক্ষেপের পরিবর্তে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়, তাহলে অভিযোগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। একই সঙ্গে অপরাধীরা সুযোগ পেয়ে নিজেদের তৎপরতা অব্যাহত রাখতে পারে—এমন আশঙ্কাও দেখা দেয়। তবে পুলিশের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধীরগতি রয়েছে, কিংবা সব অভিযোগের পর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য ও ঘটনাভিত্তিক যাচাই প্রয়োজন। বাস্তবতা হলো, অপরাধের ধরন, অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা, সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতি, জনবল এবং আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর পদক্ষেপের ধরন নির্ভর করে। তবু জননিরাপত্তার স্বার্থে অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত যাচাই, দায়িত্ব নির্ধারণ এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিশ্চিত করা জরুরি। অপরাধসংক্রান্ত তথ্য দিতে গিয়ে কোনো নাগরিক বা সাংবাদিক যদি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে শুধু ‘সিনিয়রদের জানান’ এমন পরামর্শ পান, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, মাঠপর্যায়ের পুলিশের দায়িত্ব কোথায়? ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া যেন অপরাধ প্রতিরোধের বিকল্প হয়ে না দাঁড়ায়। একজন নাগরিক কোনো এলাকায় মাদক বিক্রি, চাঁদাবাজি, কিংবা অনৈতিক কারবার উপস্থিতি সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য দিলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত তথ্যটি গ্রহণ করা, আরও পড়ুন,আবেরা’ স্পা ঘিরে অভিযোগ, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্নপ্রয়োজনীয় বিবরণ সংগ্রহ করা এবং ঝুঁকি বিবেচনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সার্কেল কর্মকর্তা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, উপকমিশনার কিংবা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। তবে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিষয়টি যাচাই না করে কেবল অন্য দপ্তরে পাঠিয়ে দিলে কার্যকর ফল পাওয়া কঠিন। বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, একটি কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থায় দায়িত্বের স্পষ্ট বণ্টন, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জবাবদিহি এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ প্রয়োজন হলে তা দ্রুত নেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। কিন্তু সাধারণ আইনগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও যদি অপ্রয়োজনীয় অনুমতির অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে অপরাধ প্রতিরোধের গতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর কে ব্যবস্থা নেবেন, কত দ্রুত প্রাথমিক যাচাই হবে এবং পরবর্তী অগ্রগতি কী—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট কর্মপদ্ধতি থাকা প্রয়োজন। অভিযোগকারীকে বারবার বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর পরিবর্তে একটি কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে নাগরিকদের ভোগান্তি কমবে। মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, প্রতারণা এবং বিভিন্ন অনিয়ম জননিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন তদন্ত এবং অপরাধীদের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা প্রয়োজন। মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শুধু খুচরা বিক্রেতা বা মাদক বহনকারীদের গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। মাদকের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা, অর্থায়ন এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্রের ভূমিকা অনুসন্ধান করতে হবে। একই সঙ্গে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ বাড়ানো এবং তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। কিশোর গ্যাংয়ের ক্ষেত্রেও কেবল গ্রেপ্তারনির্ভর ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারামারি, ছিনতাই কিংবা অন্যান্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের পৃষ্ঠপোষকতা, অর্থের উৎস এবং সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে হবে। স্কুল-কলেজ, পরিবার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সামাজিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে প্রতিরোধমূলক কর্মসূচিও চালাতে হবে। চাঁদাবাজির অভিযোগের ক্ষেত্রেও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় ভয়ভীতি বা প্রতিশোধের আশঙ্কায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করতে চান না। তাই অভিযোগকারীর পরিচয় ও নিরাপত্তা রক্ষার ব্যবস্থা, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করার ব্যবস্থা থাকা দরকার। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, ভাড়া করা ফ্ল্যাট ও স্পাকেন্দ্রকে ঘিরে মাঝেমধ্যে নানা ধরনের অভিযোগ সামনে আসে। কোথাও অননুমোদিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম, কোথাও লাইসেন্সসংক্রান্ত অনিয়ম, আবার কোথাও মাদক, মানব পাচার, আরও পড়ুন,শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসবপ্রতারণা কিংবা যৌন শোষণের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। তবে অভিযোগ গুরুতর হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রথমে তার বৈধ কাগজপত্র, ট্রেড লাইসেন্স, ভবন ব্যবহারের অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণের বিষয় যাচাই করা যেতে পারে। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী পুলিশ, স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে মানব পাচার, জোরপূর্বক যৌন শোষণ, মাদক সরবরাহ কিংবা কোনো ব্যক্তিকে আটকে রাখার মতো অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা জরুরি। ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রমাণ সংগ্রহ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বৈধভাবে পরিচালিত হোটেল বা স্পাকেন্দ্রের কর্মীদের অযথা হয়রানি না করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় কতটা কার্যকর? একটি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে একাধিক দপ্তরের কাছে অভিযোগ থাকলে কে তদন্তের নেতৃত্ব দেবে, কে নথিপত্র যাচাই করবে এবং কে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেবে তা নির্ধারিত থাকা প্রয়োজন। সমন্বয়ের অভাবে কোনো অভিযোগ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে জনমনে প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। অপরাধ দমনে পুলিশের সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো আইন প্রয়োগের সময় সংঘবদ্ধ জনতার বাধা বা মব সৃষ্টি। কোনো অভিযান, গ্রেপ্তার কিংবা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের কাজে বাধা দিলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে। কোথাও পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা কিংবা আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে জনতার প্রতিটি সমাবেশকে মব হিসেবে বিবেচনা করা কিংবা পুলিশের প্রতিটি বলপ্রয়োগকে যথার্থ বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কোনো ঘটনার প্রকৃতি, পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, ভিডিওচিত্র এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করতে হবে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং সহিংসভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। আইন প্রয়োগের সময় পুলিশকে পেশাদারত্ব, সংযম এবং আনুপাতিক বলপ্রয়োগের নীতি অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশের বৈধ দায়িত্ব পালনে বাধা, হামলা কিংবা অপরাধীকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত কি না, তা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ার; জনতার শাস্তি দেওয়ার অধিকার নেই। পুলিশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকের অধিকার রক্ষা—দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য সংঘবদ্ধ সহিংসতা মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত জনবল, কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা এবং ঘটনার ভিডিও ও অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণের ব্যবস্থা প্রয়োজন। পাশাপাশি পুলিশের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা অসদাচরণের অভিযোগ উঠলেও তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। এতে পুলিশের প্রতি আস্থা এবং আইন প্রয়োগের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। অপরাধের ঘটনা ঘটার পর থানার পুলিশ যদি প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে নির্দেশের অপেক্ষায় থাকে, তাহলে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ ব্যাহত হতে পারে। তবে সব সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে নেওয়া সম্ভব নয়; কিছু ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন কিংবা বিশেষায়িত সংস্থার সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। তাই কোন ধরনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে এবং কোন ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের অনুমোদন লাগবে, তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা দরকার। থানায় অভিযোগ গ্রহণ, সাধারণ ডায়েরি, মামলা, জরুরি সাড়া এবং তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য কার্যকর মানদণ্ড থাকা প্রয়োজন। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পুলিশ পাঠানো, ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি থানার কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করে অযৌক্তিক বিলম্বের কারণ শনাক্ত করা জরুরি। কোনো অভিযোগের পর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তার কারণ নথিভুক্ত করতে হবে। অভিযোগটি ভিত্তিহীন, এখতিয়ারবহির্ভূত কিংবা অতিরিক্ত তদন্তের প্রয়োজন আছে কি না, আরও পড়ুন,জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হোক জাতীয় অগ্রাধিকার, সম্মিলিত দায়িত্ব হোক বাস্তবায়নের শক্তিতা স্পষ্টভাবে জানানো হলে অভিযোগকারীও বিষয়টি বুঝতে পারবেন। এতে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কমবে এবং পুলিশি সেবায় স্বচ্ছতা বাড়বে। অপরাধ দমনে কার্যকর ফল পেতে সরকারের নীতিগত নির্দেশনা এবং পুলিশ সদর দপ্তরের প্রশাসনিক তদারকি গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু কঠোর নির্দেশ জারি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য জনবল, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, জবাবদিহি এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করতে হবে। প্রথমত, অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত যাচাই ও পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সময়ভিত্তিক কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করা যেতে পারে। জরুরি অভিযোগের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সাড়া এবং অন্যান্য অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রাথমিক যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, থানা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কার্যক্রম মূল্যায়নে শুধু গ্রেপ্তার বা অভিযানের সংখ্যা নয়, অপরাধ প্রতিরোধ, অভিযোগ নিষ্পত্তি, তদন্তের মান এবং নাগরিকের নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে। তৃতীয়ত, মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করতে হবে। স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তথ্যদাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, পুলিশের ওপর হামলা কিংবা আইন প্রয়োগে বাধার ঘটনা এবং পুলিশের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ—উভয় ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা থাকতে হবে। অপরাধী যে-ই হোক, প্রমাণের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পঞ্চমত, হোটেল, গেস্ট হাউস, স্পাকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। নিয়মিত পরিদর্শন, লাইসেন্স যাচাই এবং আইনভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ষষ্ঠত, পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা বা অযৌক্তিক বিলম্বের অভিযোগ জানানোর জন্য সহজলভ্য অভিযোগব্যবস্থা রাখতে হবে। অভিযোগের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা পর্যালোচনার সুযোগ থাকলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।পুলিশের কার্যকারিতা শুধু অভিযান বা গ্রেপ্তারের সংখ্যায় পরিমাপ করা যায় না। একজন নাগরিক বিপদের সময় কত দ্রুত সহায়তা পাচ্ছেন, অভিযোগ জানানোর পর কতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং অপরাধের বিরুদ্ধে আইন কতটা নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা কমে গেলে অপরাধের তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত যাচাই ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে নাগরিকেরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতায় উৎসাহিত হন। এ কারণে পুলিশের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক উন্নয়ন, স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত মতবিনিময় এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির অগ্রগতি জানানো প্রয়োজন। সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও অপরাধসংক্রান্ত তথ্যের নিরপেক্ষ যাচাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং অভিযোগের অগ্রগতি অনুসরণ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আগাম অপরাধী হিসেবে আখ্যায়িত না করে প্রমাণ, নথিপত্র ও আইনগত অবস্থান বিবেচনায় প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। এতে জনস্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাও বজায় থাকবে। মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম প্রতিরোধে পুলিশের সক্রিয়তা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জবাবদিহির বিকল্প নেই। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগের সময় পুলিশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মব সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে হবে। অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর শুধু ‘সিনিয়রদের জানান’ বলে দায়িত্ব শেষ করা কোনো কার্যকর সমাধান হতে পারে না। প্রয়োজন তথ্য গ্রহণ, দ্রুত যাচাই, যথাযথ পদক্ষেপ এবং ফলাফল পর্যবেক্ষণের সমন্বিত ব্যবস্থা। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও মাঠপর্যায়ের পুলিশের কার্যকর উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। সরকার ও পুলিশ সদর দপ্তরের উচিত অপরাধ দমনে বাস্তবভিত্তিক নির্দেশনা, নিয়মিত তদারকি এবং দায়িত্বে অবহেলার ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা। তবে কঠোরতা মানে নির্বিচার বলপ্রয়োগ নয়।  আইনের সীমার মধ্যে দৃঢ়, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণই হওয়া উচিত পুলিশের মূলনীতি। অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা, নিরপরাধ নাগরিককে হয়রানি থেকে রক্ষা করা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই পুলিশের কার্যকারিতা প্রমাণিত হবে। আইন প্রয়োগে অযথা বিলম্ব ও দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দূর করে পেশাদার, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।আরও পড়ুন,বনানীর গেস্ট হাউসের অন্ধকার জগৎ নিয়ে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধএবিষয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেণ, অপরাধ দমনে পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে দায়িত্বশীল, পেশাদার ও তৎপর ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো অপরাধের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর তা অবহেলা করা কিংবা অযথা সময়ক্ষেপণ করা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করতে হবে, তবে এর কারণে আইনগত দায়িত্ব পালনে বিলম্ব করা যাবে না। অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, অবৈধ কর্মকাণ্ড এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ নিয়মিত কাজ করে। এসব অপরাধ নির্মূলে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ অপরাধসংক্রান্ত তথ্য দিলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা এবং তথ্যদাতার নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, পুলিশের আইনানুগ দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, হামলা করা কিংবা সংঘবদ্ধভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। একই সঙ্গে পুলিশকেও দায়িত্ব পালনের সময় আইন, মানবাধিকার ও পেশাগত আচরণবিধি অনুসরণ করতে হবে। কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা বা অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করা। জনসাধারণের বক্তব্য অনুযায়ী তারা বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ চাই, পুলিশ যেন অপরাধের তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। কোনো এলাকায় মাদক বিক্রি, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, চাঁদাবাজি কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ জানালে পুলিশ যদি শুধু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাতে বলে, তাহলে সাধারণ মানুষ হতাশ হন। অপরাধীরা সুযোগ পেলে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়, আর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। আমরা চাই, থানায় অভিযোগ জানালে পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তা যাচাই করবে এবং অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে পুলিশের দায়িত্ব পালনের সময় কেউ যেন সংঘবদ্ধভাবে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশকে যেমন দায়িত্বশীল হতে হবে, তেমনি জনগণকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করতে হবে। আমাদের দাবি, সরকার ও পুলিশ প্রশাসন অপরাধ দমনে কার্যকর নির্দেশনা দিক এবং মাঠপর্যায়ে তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করুক। পুলিশের কোনো সদস্য দায়িত্বে অবহেলা করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আবার পুলিশ আইনানুগ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়লে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাও দিতে হবে। আমরা এমন একটি নিরাপদ সমাজ চাই, যেখানে অপরাধী যে-ই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না এবং সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে বসবাস করতে পারবেন।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

ডেঙ্গুতে আরও ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৯৮২ জন

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৮২ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০৯ জনে। আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার। বুধবার ২৮ অক্টোবর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন করে ৮১৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে মারা গেছেন ছয়জন। চট্টগ্রাম বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩১৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ বিভাগে মৃত্যু হয়েছে একজনের। খুলনা বিভাগে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১৪ জন। সেখানেও একজনের মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহী বিভাগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১৭ জন এবং এ বিভাগেও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ১৯৪ জন, রংপুর বিভাগে ১১৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮৪ জন এবং সিলেট বিভাগে ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।আরো পড়ুন, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় নতুন উদ্যোগস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৬০৫ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৬ হাজার ২০৫ জন। বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। চলতি বছর এ বিভাগে মারা গেছেন ১৯২ জন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৭৭ জন, চট্টগ্রামে ৪০ জন, ময়মনসিংহে ৩৩ জন, বরিশালে ২৯ জন, রাজশাহীতে ২৮ জন, রংপুরে সাতজন এবং সিলেটে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চলায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।

গুলিস্তানে তিন ঘণ্টার অভিযানে উচ্ছেদ শতাধিক দোকান

 রাজধানীর গুলিস্তানে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করা এবং সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঢাকা ট্রেড সেন্টার ও ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেটসংলগ্ন এলাকায় ডিএসসিসি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যৌথ উদ্যোগে অভিযান চলে। এতে ডিএসসিসির চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, শতাধিক উচ্ছেদকর্মী এবং পুলিশের ছয়টি প্লাটুন অংশ নেয়। অভিযানকালে পে-লোডারসহ ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ফুটপাত ও সড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। পাশাপাশি হকারদের ফেলে যাওয়া বিভিন্ন সরঞ্জাম ও মালামাল জব্দ করা হয়।আরো পড়ুন,মিরপুর-১-এ আড়াই ঘণ্টায় দুই হাজার দোকান উচ্ছেদ, আধা ঘণ্টায়ই ফুটপাত দখল উচ্ছেদ কার্যক্রম সরেজমিনে তদারকি করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হকার নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি জানান, নির্ধারিত হলিডে ও নৈশকালীন মার্কেট ছাড়া মূল সড়কে কোনো হকারকে বসতে দেওয়া হবে না। বিশেষ করে গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক দখলমুক্ত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। উচ্ছেদের পর আবারও দখল করা হলে মালামাল জব্দের পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে বলেও জানান তিনি। অভিযান পরিচালনা করেন ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জোনায়েদ কবীর সোহাগ, সম্পত্তি কর্মকর্তা হাছিবা খান এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম। সিটি করপোরেশন সূত্রে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত থাকলে পথচারীদের চলাচল সহজ হবে এবং যানবাহন চলাচলেও শৃঙ্খলা ফিরতে পারে।

মিরপুর-১-এ আড়াই ঘণ্টায় দুই হাজার দোকান উচ্ছেদ, আধা ঘণ্টায়ই ফুটপাত দখল

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রায় আড়াই ঘণ্টার অভিযানে আনুমানিক দুই হাজার দোকান সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যেই কয়েকজন হকারকে আবারও ফুটপাতে দোকান নিয়ে বসতে দেখা যায়। এতে উচ্ছেদের স্থায়িত্ব, নজরদারি ও হকারদের পুনর্বাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।বিস্তীর্ণ এলাকায় অভিযানবুধবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মিরপুর-১-এর শাহ আলী মাজার এলাকা থেকে শাহ আলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ শপিং কমপ্লেক্স, ছিন্নমূল মার্কেট, ফেয়ার প্লাজা, মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, বাগদাদা ও সনি হল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও ফুটপাত থেকে দোকান সরানো হয়েছে। অভিযানের সময় ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এমন দখল উচ্ছেদে সিটি করপোরেশনের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।তবে অভিযান শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে আবারও ফুটপাতে বসতে দেখা যাওয়ায় উচ্ছেদ-পরবর্তী নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। একদিকে পথচারীদের চলাচলের জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তা, অন্যদিকে ফুটপাতনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা দুটি বিষয়ই সামনে এসেছে।উচ্ছেদের পরও কেন ফিরছেন হকাররা?অভিযানে দোকান সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হলেও পরবর্তী সময়ে একই স্থানে আবার দোকান বসানো ঠেকানো না গেলে উচ্ছেদের সুফল দীর্ঘস্থায়ী করা কঠিন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত তদারকি, দখল প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। হকাররা কেন আবার ফিরে আসছেন, অভিযান শেষে এলাকায় নজরদারির দায়িত্ব কার এবং পুনরায় দখল ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য প্রয়োজন।বিকল্প ব্যবস্থা চান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাউচ্ছেদ অভিযানে দোকান সরিয়ে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ফুটপাতনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থানে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তাঁরা। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া দোকান সরিয়ে দেওয়ায় পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। মো. মিলন নামে এক কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, “আমি কাপড়ের ব্যবসা করি। কিন্তু এখন কী করব, জানি না। আমাদের একটা ব্যবস্থা করে দিয়ে তারপর সরানো উচিত। আমরা কাজ করে খাই।” সাগর নামে এক জুয়েলারি ব্যবসায়ী বলেন, “এত দিন ধরে ব্যবসা করছি। এখন ফুটপাত থেকে তুলে দিচ্ছে। আমরাও উঠে যেতে চাই। তবে তার আগে বিকল্প ব্যবস্থা করা উচিত।” ব্যবসায়ীদের বক্তব্যে জীবিকা হারানোর উদ্বেগ উঠে এসেছে। তবে ফুটপাত দখলের কারণে সাধারণ পথচারীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি।আরো পড়ুন,দেশজুড়ে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা, কমতে পারে তাপমাত্রাডিএনসিসির ঘোষণা: দখলমুক্ত করা হবে সব ফুটপাতঅভিযান প্রসঙ্গে ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন সাংবাদিকদের বলেন, “আজ শুধু ফুটপাত উচ্ছেদের অভিযান নয়। আমি বারবার বলেছি, ঢাকা শহরের যেসব জায়গায় এ ধরনের জঞ্জাল রয়েছে এবং যেগুলো আমার প্রিয় নগরবাসীর হাঁটাচলায় বাধা সৃষ্টি করছে, প্রতিটি জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। প্রতিটি জায়গার ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে।”তাঁর বক্তব্যে নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার বিষয়ে সিটি করপোরেশনের কঠোর অবস্থান প্রতিফলিত হয়েছে। তবে মিরপুর-১-এর মতো ব্যস্ত এলাকায় অভিযান-পরবর্তী নজরদারি কীভাবে চলবে এবং পুনরায় দখল হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ।মালামাল বিক্রির সুযোগ চান হকাররাঅভিযান শেষ হওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে কয়েকজন দোকানিকে আবারও ফুটপাতে বসতে দেখা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফল ব্যবসায়ী বলেন, দোকানের মালামাল বিক্রি না হলে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। অন্তত মালামাল বিক্রির সুযোগ দেওয়া উচিত। ফল ব্যবসায়ীর বক্তব্যে পচনশীল পণ্য নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে পণ্য বিক্রির সুযোগ এবং পথচারীদের জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তার মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনার বিষয়।আরো পড়ুন,ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৭১মিরপুর-১০-এর ঘটনার পরও চ্যালেঞ্জএর আগে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকাতেও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মিরপুর-১-এ নতুন করে অভিযান পরিচালনা নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগকে সামনে এনেছে। তবে উচ্ছেদের পাশাপাশি দখল প্রতিরোধ, নিয়মিত তদারকি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য আইনসম্মত বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে একই স্থানে পুনরায় দোকান বসানোর প্রবণতা ঠেকানো কঠিন হতে পারে।স্থায়ী সমাধান কোথায়?ফুটপাত মূলত পথচারীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য। তাই ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখল হয়ে থাকা কাম্য নয়। একই সঙ্গে ফুটপাতনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও উপেক্ষা করা যায় না।এ অবস্থায় প্রয়োজন উচ্ছেদের পর নিয়মিত নজরদারি, পুনরায় দখল প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর সমন্বয় এবং প্রযোজ্য আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সম্ভাব্য বিকল্প ব্যবস্থার উদ্যোগ।মিরপুর-১-এর ফুটপাত শেষ পর্যন্ত কত দিন দখলমুক্ত থাকে, তা-ই বলে দেবে এই অভিযান নগরবাসীর চলাচলে স্থায়ী স্বস্তি আনতে পারছে, নাকি এটি সাময়িক উচ্ছেদ কার্যক্রম হিসেবেই থেকে যাচ্ছে।

দেশজুড়ে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা, কমতে পারে তাপমাত্রা

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করে বর্তমানে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন বিভাগে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান মৃদু তাপপ্রবাহ প্রশমিত হতে পারে এবং তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা ও বরিশাল জেলাসহ ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে।আরো পড়ুন:বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কাশুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে এদিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তনের আভাস নেই। অন্যদিকে, রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য স্থানে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন পর সারা দেশে তাপমাত্রা কমতে পারে।

রাজনীতিরাজনীতি

অভ্যুত্থানের পর সম্পদ বৃদ্ধি নিয়ে অভিযোগ ছাত্রদল নেতার

অভ্যুত্থানের পর সম্পদ বৃদ্ধি নিয়ে অভিযোগ ছাত্রদল নেতার

 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক নেতা। জুলাই অভ্যুত্থানের পর কিছু ব্যক্তির জীবনযাত্রায় আকস্মিক পরিবর্তন, অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের জবাবে হামিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ছেলেবেলা থেকেই পারিবারিকভাবে মিতব্যয়ী জীবনযাপনে অভ্যস্ত। দেশের অধিকাংশ মানুষ নিম্ন আয়ের হওয়ায় সাধারণ মানুষের বাস্তবতা বুঝতে হলে তাঁদের জীবনযাত্রা ও আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, ১৫০ টাকার খাবার খেয়েও সঠিক ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। ছাত্রদল নেতা তাঁর পোস্টে আরও দাবি করেন, অভ্যুত্থানের আগে যাঁরা সাইকেলে চলাচল করতেন কিংবা সাধারণ জুতা কেনার সামর্থ্য নিয়ে সমস্যায় ছিলেন, তাঁদের কারও কারও জীবনযাত্রায় অল্প সময়ের মধ্যে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। তাঁর অভিযোগ, অভ্যুত্থানের মাত্র তিন দিন পর থেকেই কেউ কেউ ক্যাম্পাসে প্রাডো গাড়িতে চলাচল এবং দামি ‘এয়ার জর্ডান’ জুতা ব্যবহার করতে শুরু করেন। সাধারণ আবাসিক হলের খাবার খেতে অসুবিধা হতো—এমন ব্যক্তিদের পরবর্তী সময়ে পাঁচ তারকা হোটেলে কফি পান করতেও দেখা গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আরো পড়ুন,নারীর কণ্ঠরোধ নয়, স্বাধীন মতপ্রকাশের দাবি এনসিপির বন্যার ত্রাণ ও অর্থের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হামিম। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের সহায়তার অর্থ নিয়ে অনিয়ম হয়েছে। নিজের মাসিক খরচ চালাতে হিমশিম খাওয়া ব্যক্তিদের অভ্যুত্থানের পর একাধিক ফ্ল্যাটের মালিক হওয়া এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠ সহকারীদের বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার বিষয়েও তিনি অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে হামিম বলেন, সার্বিয়া ও নেপালে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ছাত্রনেতৃত্বাধীন প্ল্যাটফর্মের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের কারণে রাজনৈতিকভাবে তাদের প্রত্যাখ্যানের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সমালোচনার ক্ষেত্রে বাস্তবতাবোধ ও যৌক্তিকতা বজায় রাখার পরামর্শও দেন তিনি। এর আগে এক বক্তব্যে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী ১৫০ টাকার খাবার খাওয়ায় পুষ্টিহীনতায় ভুগে ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তাঁর ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম। উল্লেখ্য, হামিমের পোস্টে উত্থাপিত আর্থিক অনিয়ম, সম্পদ অর্জন ও ত্রাণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগগুলো স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা তথ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বা প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

নারীর কণ্ঠরোধ নয়, স্বাধীন মতপ্রকাশের দাবি এনসিপির

নারীর কণ্ঠরোধ নয়, স্বাধীন মতপ্রকাশের দাবি এনসিপির

 বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেছেন, এখন হতাশা প্রকাশের অধিকারও চাইতে হচ্ছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ময়মনসিংহের নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তারের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপির নারী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তি এ কর্মসূচির আয়োজন করে। সাথী আক্তার গত রোববার ফেসবুকে দুটি লাইভে এসে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে তিনি বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়ে ভুক্তভোগী হওয়ার কথা বলেন। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। পরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয় এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখায়। বুধবার দুপুরে তিনি জামিন পান। আখতার হোসেন বলেন, সরকারের সমালোচনা করার কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করা উচিত নয়। সাথী আক্তার নিজের অভিজ্ঞতা ও হতাশার কথা প্রকাশ করেছিলেন।আরো পড়ুন,ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় নীতিমালা চায় জামায়াত তাঁর বক্তব্যে সরকারের সমালোচনামূলক কিছু পাওয়া যায়নি বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলো কেন? তিনি আরও বলেন, অতীতে ভোটের অধিকার ও বাক্‌স্বাধীনতার দাবিতে মানুষকে আন্দোলন করতে হয়েছে। এখন নাগরিকদের হতাশা প্রকাশের অধিকার নিয়েও কথা বলতে হচ্ছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা নিয়ে নাগরিকদের সমালোচনা ও আত্মসমালোচনার সুযোগ থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মানববন্ধনে জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য মাহমুদা আলম মিতু অভিযোগ করেন, জনসমর্থন হারালে সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করতে পারে। বর্তমান সরকারের জনসমর্থন কমে যাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। জাতীয় নারীশক্তির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম বলেন, প্রধানমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে করা সমালোচনা উপভোগ করার কথা জানালেও তাঁর আশপাশের লোকজন তা একইভাবে গ্রহণ করেন না। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নারীর নিরাপত্তা এবং সাইবার আইন সংশোধনসহ বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় নীতিমালা চায় জামায়াত

ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় নীতিমালা চায় জামায়াত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক হিজাব ও নিকাব পরিহিত নারী শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে কটাক্ষ এবং ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা এমপি। তিনি বলেছেন, এ ধরনের আচরণ নারীর পোশাকের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এমন ঘটনা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও নিন্দনীয়। প্রচার ও মিডিয়া বিভাগীয় সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলু এমপি প্রেরিত এক বিবৃতিতে নূরুন্নিসা সিদ্দীকা জানান, গত ৭ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে ওই শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে কটাক্ষ করার অভিযোগ উঠেছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, শিক্ষার্থীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে হেনস্তা করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়,আরও পড়ুন,ওলামা অ্যালায়েন্সে নতুন দায়িত্বে ইনজিমামুল ও মাহমুদনিজ নিজ ধর্ম পালন এবং পছন্দ অনুযায়ী পোশাক নির্বাচন করা প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রগতিশীলতার নামে হিজাব ও নিকাবের প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণের কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেত্রী। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখনো ফ্যাসিবাদী মানসিকতার চর্চা রয়েছে। এ ধরনের আচরণের জন্য অভিযুক্ত শিক্ষকের নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। বিবৃতিতে সহপাঠীর প্রতি কথিত অন্যায় আচরণের প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন ও প্রতিবাদী অবস্থানের প্রশংসা করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, পোশাকের অধিকার এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগের বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

ওলামা অ্যালায়েন্সে নতুন দায়িত্বে ইনজিমামুল ও মাহমুদ

ওলামা অ্যালায়েন্সে নতুন দায়িত্বে ইনজিমামুল ও মাহমুদ

ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের (এনইউএ) ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব হিসেবে মুফতি ইনজিমামুল ইসলাম এবং ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মুফতি মাহমুদ হাসানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খানের পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর নতুন এ দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সংগঠনের জরুরি কেন্দ্রীয় সাধারণ সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী। সংগঠনের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় সদস্যদের মতামত ও ভোটের ভিত্তিতে মাওলানা সানাউল্লাহ খানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে সদস্যসচিবের পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে উপস্থিত সদস্যদের সর্বোচ্চ ভোটে মুফতি ইনজিমামুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব এবং মুফতি মাহমুদ হাসানকে ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।আরো পড়ুন,সরকারের জবাবদিহি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ হাসনাতের মুফতি ইনজিমামুল ইসলাম বর্তমানে রাহবার অ্যাডভাইজরির শরিয়াহ মজলিশের চেয়ারম্যান এবং রাজধানীর বাইতুর রশিদ জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি গওহরডাঙ্গা মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস এবং জামিয়া রহিমিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে ইফতা সম্পন্ন করেছেন। অন্যদিকে, মুফতি মাহমুদ হাসান যাত্রাবাড়ীর জামিয়া মুহিউস সুন্নাহ মাদরাসায় মুহাদ্দিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি ইসলামিক স্কলারস একাডেমির পরিচালক। তিনি ২০০৮ সালে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া থেকে দাওরায়ে হাদিস এবং পরে জামিয়াতুল আসআদ থেকে ইফতা সম্পন্ন করেন। সভায় আলেম সমাজের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও মূলধারার রাজনীতিতে যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে সংগঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী বর্তমানে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

সারাবাংলা

সখীপুরে যুবদলের( ৪৮)তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

সখীপুরে যুবদলের( ৪৮)তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

টাঙ্গাইলের সখীপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের( ৪৮) তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে সখীপুর উপজেলা ও পৌর যুবদলের উদ্যোগে ডাকবাংলো চত্বরে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাড. আহমেদ আযম খান এমপি। সখীপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরহাদ ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সখীপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন মাস্টার ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ কবির হাসান। উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ ও পৌর যুবদলের সদস্য সচিব কায়সার কাশেমের সঞ্চালনায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সভায় উপজেলা ও পৌর যুবদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। আরও পড়ুন,কসবায় মাদকবিরোধী অভিযান, দুইজনের কারাদণ্ডএসময় মন্ত্রী বক্তব্যের মাধ্যমে  যুব দলকে সরকারের খারাপ কাজের সমালোচনা সহ ভালো কাজের পরামর্শ দেন। মন্ত্রী মহোদয় আরও বলেন, শহীদ  প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যুব সমাজকে উন্নয়ন করার জন্য কাজ করেছেন। বক্তব্যের মধ্যে যুবদলকে আহ্বান করেন একটি সমাজ ও রাষ্ট্রকে উন্নত করার জন্য   যুবসমাজের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  সমাজে নেশাগ্রস্থ ছেলেদের ভালো করার জন্য যুবদলকে কাজ করতে হবে।একটি সমাজ এবং রাষ্ট্র গঠনের  ক্ষেত্রে যুব সমাজের ভূমিকা অতি গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নের কথা বলতে গেলে মন্ত্রী মহোদয় বলেন,  সখিপুরের রাস্তা-ঘাট, স্কুল -কলেজ, মসজিদ -মাদ্রাসা, মন্দির-শ্মশানের জন্যে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছি।

কসবায় মাদকবিরোধী অভিযান, দুইজনের কারাদণ্ড

কসবায় মাদকবিরোধী অভিযান, দুইজনের কারাদণ্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ইয়াবা সেবন ও গাঁজা বিক্রির অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের প্রত্যেককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কসবা উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের মঈনপুর বাজারে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ইয়াবা সেবনের সময় ছবির মিয়া (৩০), পিতা ফিরোজ মিয়া এবং গাঁজা বিক্রির অভিযোগে কল্পনা বেগম (৪৫), স্বামী আলমগীর মিয়াকে হাতেনাতে আটক করা হয়। আরোও পড়ুন,কালিহাতীতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিতপরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছামিউল ইসলামের পরিচালনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাঁরা স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করলে প্রত্যেককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযান পরিচালনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা এবং কসবা থানা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ বেচাকেনা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কালিহাতীতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কালিহাতীতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য জননেতা জনাব লুৎফর রহমান মতিন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শুকুর মাহমুদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম, ডা. শাহ আলম তালুকদার, এলেঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র শাফি খান, কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহর আলী, জিয়া পরিষদ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি প্রফেসর এ কে এম আব্দুল আউয়াল, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক হিরো ও কৃষিবিদ এস এম খালিদ।আরও পড়ুন, গাজীপুরে ১৬ বোতল বিদেশি মদসহ একজন গ্রেপ্তারএ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন কালিহাতী উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক শামীম আল মামুন মুকুল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন মোল্লা, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব হাসমত আলী রেজা, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রফিক, যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফর রহমান লেলিন, এস এম আমিনুল হক, ইদ্রিস আলী, নুরুজ্জামান আহমেদ ও খন্দকার ইকবাল। এ সময় কালিহাতী পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক জনি রহমানও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কালিহাতী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক রশিদুল ইসলাম রতন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোল্লা হারুনুর রশিদ, সাবেক আহ্বায়ক শেখ আমিনুল ইসলাম এবং বর্তমান আহ্বায়ক এস এম নুরুল ইসলাম। এ সময় কালিহাতী উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি যুবদলের বিপুলসংখ্যক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। অনুষ্ঠানে যুবদলের ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়।

গাজীপুরে ১৬ বোতল বিদেশি মদসহ একজন গ্রেপ্তার

গাজীপুরে ১৬ বোতল বিদেশি মদসহ একজন গ্রেপ্তার

গাজীপুর মহানগরের ভূরুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৬ বোতল বিদেশি মদসহ কাশেম আলী (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), গাজীপুর। উদ্ধার করা মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩২ হাজার টাকা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর সদর থানাধীন ভূরুলিয়া এলাকার মার্কাজ রোডে ইদ্রিস আলীর বাড়ির সামনে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, গাজীপুর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অধিদপ্তরের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। দুপুর ১টার দিকে মো. ইদ্রিস আলীর বাড়ির পূর্ব পাশে মার্কাজ রোডে নীল রঙের একটি ট্রাভেল ব্যাগ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কাশেম আলীকে আটক করা হয়। পরে ব্যাগ তল্লাশি করে ৩৭৫ মিলিলিটার ধারণক্ষমতার কাচের বোতলে রাখা মোট ১৬ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মদের পরিমাণ ৬ হাজার মিলিলিটার, অর্থাৎ ৬ লিটার।আরও পড়ুন, শিবচরে সাব-রেজিস্ট্রার খন্দকার আহসানুল হকের বিদায়ী সংবর্ধনাগ্রেপ্তার কাশেম আলী গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভূরুলিয়া এলাকার মৃত সতু শেখের ছেলে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক এমদাদুল ইসলাম মিঠুন জানান, মাদকের বিস্তার রোধে অধিদপ্তরের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। মাদক সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) সদর থানায় মামলা করা হয়েছে। অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক জুয়েল মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

আন্তর্জাতিক

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৩৯ জনের

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৩৯ জনের

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণে দুটি ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বুধবার ২৮ অক্টোবর স্থানীয় সময় সকাল ৯টার কিছু পর এ দুর্ঘটনা ঘটে। আঞ্চলিক সরকারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় দুটি ট্রেনে ৫০০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি জানিয়েছেন, ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় তিনি মর্মাহত। পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য জানতে পরিবহনমন্ত্রীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন তিনি। দেশটির রেল পরিচালনাকারী সংস্থা আদিফ জানিয়েছে, মাদ্রিদ থেকে সেভিলগামী রেলপথে রেনফে পরিচালিত একটি ট্রেনের সঙ্গে ইরিয়ো কোম্পানির আরেকটি ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর ওই রেলপথে চলাচলকারী সব ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে থামিয়ে রাখা হয়েছে।আরো পড়ুন:ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটের হিসাবে পালাবদলএদিকে দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে জরুরি সেবাকর্মীরা। স্পেনের জরুরি পরিষেবার এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজে একাধিক দমকল বাহিনী, তিনটি হেলিকপ্টার এবং দুটি ভ্রাম্যমাণ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি সেবার অন্যান্য সরঞ্জাম ও জনবলও কাজে লাগানো হচ্ছে। তবে কী কারণে দুটি ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। দুর্ঘটনায় মোট কতজন আহত হয়েছেন, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বক্তব্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

১১ ঘন্টা আগে

রাজধানী

আবেরা’ স্পা ঘিরে অভিযোগ, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন

আবেরা’ স্পা ঘিরে অভিযোগ, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান থানাধীন বাড়িধারার ৫৫, সোহরাওয়ার্দী রোডের একটি ফ্ল্যাটে পরিচালিত ‘আবেরা’ নামের একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে দোলা নামের এক নারী এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। স্পা ব্যবসার আড়ালে সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, গ্রাহকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলার অভিযোগ এবং সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, বাড়ির মালিকের তথ্য, প্রয়োজনীয় অনুমোদনপত্র এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের তথ্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। আবেরা’ স্পা সেন্টারকে কেন্দ্র করে একটি নারীচক্র বিভিন্ন গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের প্রলোভন বা প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে। স্পা সেবার নামে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে পরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় কিংবা অন্য কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো যাচাইকৃত নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর বিস্তারিত বক্তব্য, ভুক্তভোগীর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিশ্চিত করা তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কী ধরনের সেবা দেওয়া হয়, গ্রাহকদের কাছ থেকে কীভাবে অর্থ নেওয়া হয়, সেবার মূল্যতালিকা ও রসিদ সংরক্ষণ করা হয় কি না এবং ব্যবসাটি প্রয়োজনীয় আইনগত অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে কি না এসব বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা। স্পা সেন্টারটিতে সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি সত্য হলে তা এলাকার নিরাপত্তা, আবাসিক পরিবেশ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করে। তবে মাদকদ্রব্যের লেনদেন, সংরক্ষণ কিংবা সরবরাহের মতো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে কি না, আরও পড়ুন,মহেশপুরে বাংলা বাস্তবায়ন ও সচেতনতায় র‍্যালি-আলোচনা সভাতা নির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং আইনগত প্রমাণ দরকার। এ ক্ষেত্রে গুলশান থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে আইনানুগ পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, অনুমোদন এবং অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। বাড়িধারার মতো গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকায় কোনো ফ্ল্যাটে স্পা বা এ ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুমোদন, ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার, ট্রেড লাইসেন্স এবং অন্যান্য বিধিবিধান মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ। ভবনটি কোন ধরনের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত, ফ্ল্যাটে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি রয়েছে কি না এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় নিবন্ধন বা লাইসেন্স আছে কি না এসব প্রশ্নের উত্তর নথিপত্র যাচাই ছাড়া দেওয়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ভবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রবেশপথের ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং প্রতিবেশীদের অভিযোগ থাকলে সেগুলোর নিষ্পত্তির বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে স্পা সেবা দেওয়া হচ্ছে বলেই সেটিকে অবৈধ বা অপরাধমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যা দেওয়া সমীচীন নয়। অভিযোগে যদি গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় কিংবা অন্য কোনো অপরাধের ঘটনা থেকে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তা তদন্ত করা প্রয়োজন।  কোনো ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয়ে থাকলে তাঁর উচিত সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ জানানো এবং প্রাসঙ্গিক তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ করা। গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত যেকোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আইন ও বিধিবিধানের আওতায় থাকা প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে গুলশান থানা পুলিশ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য অপরাধের বিষয়ে তথ্য চাওয়া যেতে পারে। ‘আবেরা’ স্পা সেন্টার, আরও পড়ুন,মহেশপুরে বাংলা বাস্তবায়ন ও সচেতনতায় র‍্যালি-আলোচনা সভাএর পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বলে অভিযোগে উল্লিখিত দোলা নামের নারী, বলেন, ভাই আমি এটি দিয়ে কোনমতে চলি। এখন আগের মত তেমন ব্যবসাও নেই। এসব প্রতিষ্ঠান চালাতে ব্যয়বহুল খরচ। কোনমতে দুই চারটি মেয়েদের রেখে ব্যবসা করি। এছাড়া এাঁ বাড়িধারা এখানে কাষ্টমার আসতে চায়না তেমন এবং বাড়িধারায় ঢুকতে সোসাইটির অনুমতি প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমরা সোসাইটির গার্ডদের সাথে সমন্ময় রেখে লোকজন প্রবেশ করিয়ে থাকি। ‘আবেরা’ নামের একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে গুলশান থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়। তবে অভিযোগ জানানোর পরও সংশ্লিষ্ট স্পা সেন্টারে পুলিশের কোনো দৃশ্যমান অভিযান চোখে পড়েনি। অভিযোগ রয়েছে, ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটিতে স্পা ব্যবসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াত রয়েছে।  প্রশ্ন উঠেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযোগ জানানোর পরও কেন দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না? তবে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট থানার বক্তব্য এবং সম্ভাব্য তদন্তের অগ্রগতি জানা জরুরি। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, বাড়িধারার মতো অভিজাত আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি। তাঁদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে ‘আবেরা’ স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ আমরাও শুনেছি। তাই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং প্রতিষ্ঠানটির বৈধ কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ প্রতারণা, মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধ কিংবা অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের শিকার হলে তাঁকে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণসহ পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করছি। এবিষয়ে দোলা বলেন, ভাই কোনমতে ২-৪ টি মেয়েদের রেখে ব্যবসা করছি। আগের মত ব্যবসা নেই। এখনো থানা পুলিশের পেমেন্ট দিতে পারিনাই। এছাড়া বাড়িধারা সোসাইটির কিছু লোকদের ম্যানেজ করে আমার প্রতিষ্ঠানটি চালাতে হয়। তবে বিষয়টি গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জকে জানানো হয়েছে কিন্তু তিনি এখনো দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়নি। গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ আরো বলেন, এসবের বিষয়ে আমাদের একাধিক মিটিং হয়েছে। আমি চাইলে ও অভিযান বা পদক্ষেপ নিতে পারিনা। কারন সিনিয়রদের নির্দেশনা ছাড়া আমাদের করার কিছুই থাকেনা। তাহলে প্রশ্ন হল- সাধারন স্থানীয় বাসিন্দারা অসমাজিকের মধ্যে থেকেই বসবাস করবে। নাকি তাদের সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা নেই।   

২৫ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৬ জন

খেলাধুলা

শুরুতে ধাক্কা, পরে শাদমান-হৃদয়ের প্রতিরোধ

শুরুতে ধাক্কা, পরে শাদমান-হৃদয়ের প্রতিরোধ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিন দ্বিতীয় সেশন শেষে স্বস্তির অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তিন উইকেট হারিয়ে ৫৯ ওভারে ১৭৭ রান তুলেছে টাইগাররা ওপেনার শাদমান ইসলামের দৃঢ় ব্যাটিং এবং তৌহিদ হৃদয়ের সঙ্গে তাঁর অবিচ্ছিন্ন জুটি দলকে প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে।শাদমান ১৬৭ বলে ৭৯ রান করে অপরাজিত আছেন। তাঁর ইনিংসে রয়েছে আটটি চার। অন্য প্রান্তে তৌহিদ হৃদয় ৭৪ বলে ৩৬ রান নিয়ে অপরাজিত। তিনি মেরেছেন তিনটি চার। চতুর্থ উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এসেছে ৬৭ রান। দিনের শুরুতেই মাত্র ৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ২৩ বলে ৭ রান করে জেডেন সিলসের বলে জাস্টিন গ্রিভসের হাতে ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান। এরপর শাদমান ও মুমিনুল হক দ্বিতীয় উইকেটে ৫৯ রানের জুটি গড়ে দলের ইনিংস সামাল দেন।মমিনুল ৫১ বলে ২৮ রান করে জোমেল ওয়ারিকানের বলে শামার জোসেফের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে আরও ৪২ রান যোগ করেন শাদমান। ৪২ বলে ১৯ রান করা শান্তকে ৩৫.৩ ওভারে এলবিডব্লিউ করেন ওয়ারিকান। সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নেওয়া রিভিউতেও আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।আরো পড়ুন,মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের বড় লক্ষ্য সিরিজ জয়শান্তর বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন তৌহিদ হৃদয়। এরপর দুজন মিলে দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যাটিং করে আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি। শাদমান ৯৫ বলে পাঁচটি চারের সাহায্যে অর্ধশতক পূর্ণ করেন। চা বিরতিতে যাওয়ার সময় তাঁর সংগ্রহ ৭৯ রান, আর হৃদয়ের ৩৬। বাংলাদেশের ইনিংসে অতিরিক্ত থেকে এসেছে ৮ রান ৩ বাই, ২ লেগবাই ও ৩ নো-বল। ৫৯ ওভার শেষে দলের রান তোলার হার ছিল ওভারপ্রতি ৩। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে জোমেল ওয়ারিকান ১১ ওভারে ২৮ রান দিয়ে দুটি উইকেট নিয়েছেন। জেডেন সিলস ৮ ওভারে ১৪ রান দিয়ে পেয়েছেন একটি উইকেট। চা বিরতির পর বাংলাদেশের হাতে রয়েছে আরও সাত উইকেট। লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামের ব্যাটিং এখনো বাকি। ফলে শেষ সেশনে শাদমান-হৃদয়ের জুটি কতটা বড় হয় এবং বাংলাদেশ দিন শেষে কত রান সংগ্রহ করে, সেদিকেই থাকবে সবার নজর।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!