দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

বনানীতে গেস্ট হাউজ-স্পা, ওসির ভূমিকা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন

ফোনে মেলেনা আইগত সেবা / বনানীতে গেস্ট হাউজ-স্পা, ওসির ভূমিকা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন

রাজধানীর অভিজাত বনানী থানা এলাকায় গেস্ট হাউজ, স্পা সেন্টার ও আবাসিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ঘিরে নানা অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে কথিত মাসোহারা, অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়, মাদক সেবন, নারী পাচার ও স্কর্ট সার্ভিসের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অনিয়ম। এসব অভিযোগের সঙ্গে বনানী থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তবে অভিযোগগুলোর সবকটির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধ কাগজপত্র, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান।আরও পড়ুন: পুলিশে একের পর এক রদবদল, অপরাধ দমনে নতুন পরীক্ষাঅনুসন্ধানে জানা যায়, এসব বিষয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। পরে অভিযোগটি ৭ সেপ্টেম্বর গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়। অভিযোগটির স্মারক নম্বর ২৯৯৩৫ বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তৎকালীন গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার তানভীর আহম্মেদ আইনগত ব্যবস্থা নিতে বনানী থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশও অমাণ্য করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি তিনি। অভিযোগে বনানী এলাকার কয়েকটি গেস্ট হাউজ ও স্পা সেন্টারের কার্যক্রম খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি বনানী থানার ওসির কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।অভিযোগকারী পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে বনানী থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সংবাদকর্মীদের থানায় আসতে বলা হয়। পরে সংবাদকর্মীরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এবং সংবাদকর্মীকে গেষ্ট হাউজটিতে যেতে বলেন আমি তাদেরকে বলে দিয়েছি। তার এই ভাষ্য অনুযায়ী স্পষ্ট ফটে উঠে যাতে সংবাদকর্মীর উপর অপরাধীদেও দিয়ে মব সৃষ্টি হয়। কিন্তু এরপরও সংশ্লিষ্ট গেস্ট হাউজ ও স্পা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর অভিযান বা আইনগত পদক্ষেপ তারা দেখতে পাননি। শুধু তাই নয় তাকে একের পর এক ফোন করলেও পাওয়া যায়না ও মিলেনা আইনগত সেবাও।আরও পড়ুন: বনানীতে স্পা-গেস্ট হাউজ ঘিরে ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগএখানেই উঠছে মূল প্রশ্ন কোনো লিখিত অভিযোগ পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে থানায় পাঠানোর পর তার তদন্ত বা যাচাই প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হয়েছে? অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটি তদন্ত করে অভিযোগকারীকে কী জানানো হয়েছে এসব বিষয়ও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।বনানীর ২৭ নম্বর সড়কের ৮ নং বাড়িটিতে বিগত আ.লীগের কর্মী ও গোপালগঞ্জে তার বাড়ি  পরিচয়ে মার্ভেল ইন গেস্ট হাউজ এবং একই সড়কে ৬৫/এ নম্বরের লাক্সারী গেষ্ট হাউজ যাহার মালিক সাকিব ও হান্নানসহ বেশ কয়েকজন। এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিতভাবে নারী ও মানব পাচারচক্রের তৎপরতা, কথিত স্কর্ট সার্ভিস এবং মাদকসেবনের আসর বসার মতো কর্মকাণ্ড চলে। তবে এসব অভিযোগের কোনোটি আদালতে প্রমাণিত হয়েছে এমন তথ্য এই প্রতিবেদনের অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স, ফায়ার সেফটি ছাড়পত্র, ভবনের ব্যবহার অনুমোদন, অতিথি নিবন্ধন খাতা, সিসিটিভি ফুটেজ এবং পুলিশের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে কোনো গেস্ট হাউজ বা স্পা প্রতিষ্ঠানে মানব পাচারের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলে সেটি কেবল স্থানীয় থানার পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত ইউনিটের মাধ্যমে তদন্তের প্রয়োজন হতে পারে।আরও পড়ুন: বনানীর আবাসিক ভবনে স্পা-গেস্ট হাউজ এখন অন্ধকার জগৎঅভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশগুলোর একটি হলো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে বনানী থানার ওসির বিরুদ্ধে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ। কথিত অবৈধ ব্যবসা পরিচালনাকারী কয়েকজন ব্যক্তি তাদের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে পুলিশের স্থানীয় পর্যায়ে জানাশোনা থাকার কথা বলেছেন এবং মাসোহারা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তবে এই অভিযোগের পক্ষে ব্যাংক লেনদেন, রসিদ, অডিও-ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি কিংবা অন্য কোনো স্বাধীন প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি। ফলে অভিযোগটিকে আপাতত অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বর্তমান অভিযোগের পাশাপাশি মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলামের ২০২৩ সালের একটি ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০২৩ সালের ২৬ আগস্ট একাধিক সংবাদমাধ্যমে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানার তৎকালীন ওসি মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলামকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, ঢাকা ট্রিবিউন, ইত্তেফাক ও যুগান্তরসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বদলির আদেশ পাওয়ার পর ভূঞাপুর থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম থানায় ব্যবহৃত এসি, টেলিভিশন, আইপিএস ও সোফা খুলে নিজের কোয়ার্টারে নিয়ে যান।যুগান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৪ আগস্ট ২০২৩ তারিখে পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সারের স্বাক্ষরিত আদেশে ফরিদুল ইসলামকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। এর পরদিন রাতে থানার কক্ষ থেকে এসি, টেলিভিশন, সোফা ও আইপিএস খুলে নেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি ছিল, এসব সামগ্রী স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অনুদানে থানার উন্নয়ন ও ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছিল।আরও পড়ুন: বনানীতে মার্ভেল ইন গেষ্ট হাউজ ঘিরে আবারও পায়েলের অপরাধ সিন্ডিকেটঅন্যদিকে ফরিদুল ইসলাম তখন সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, থানা থেকে খুলে নেওয়া সামগ্রীগুলো তার ব্যক্তিগত অর্থে কেনা। তাই সেগুলো তিনি নিতে পারেন। তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপারও বলেছিলেন, যদি জিনিসগুলো ব্যক্তিগত অর্থে কেনা হয়ে থাকে, তাহলে নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা নেই; তবে অনুদানের অর্থে কেনা হলে তিনি নিতে পারবেন না।অর্থাৎ ওই ঘটনার মূল বিতর্ক ছিল সামগ্রীগুলো ব্যক্তিগত অর্থে কেনা হয়েছিল, নাকি থানার জন্য অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে স্থানীয় পক্ষের বক্তব্য এবং ফরিদুল ইসলামের বক্তব্য দুই ধরনের অবস্থানই উঠে এসেছিল।২০২৬ সালের মার্চে ডিএমপির এক আদেশে মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলামকে বনানী থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই আদেশে বনানী থানার তৎকালীন ওসি মোহাম্মদ খালিদ মুনসুরকে উত্তরা-পশ্চিম থানায় বদলি করা হয়। এরপর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও তার নতুন দায়িত্ব নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। মে ২০২৬-এ যুগান্তর ‘থানা থেকে এসি-সোফা সেট নিয়ে যাওয়া সেই ওসি এখন বনানী থানায়’ শিরোনামে ২০২৩ সালের ঘটনাটিকে সামনে এনে তার বর্তমান পদায়নের বিষয়টি তুলে ধরে।আরও পড়ুন: অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান দিলে পুরস্কার দেবে এসআরবিঅন্যদিকে ২০২৬ সালেই বনানী থানার বিভিন্ন অপরাধ দমন কার্যক্রমে ফরিদুল ইসলামের বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে এসেছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশ থেকে মুখে স্কচটেপ বাঁধা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায়ও বনানী থানার ওসি হিসেবে তিনি গণমাধ্যমকে তথ্য দেন। অর্থাৎ একদিকে ২০২৩ সালের পুরোনো বিতর্কিত ঘটনা, অন্যদিকে ২০২৬ সালে গুরুত্বপূর্ণ বনানী থানায় তার পদায়ন—এই দুই বিষয়কে কেন্দ্র করে এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।অভিযোগকারীদের বক্তব্য, বনানীর গেস্ট হাউজ ও স্পা সেন্টারগুলোতে যদি সত্যিই কোনো অপরাধী চক্রের তৎপরতা থাকে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে মানব পাচার, মাদক ব্যবসা, যৌন হয়রানি বা সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগ থাকলে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনা জরুরি।এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স, নিবন্ধন, ভবন ব্যবহারের অনুমোদন, কর্মচারীদের পরিচয়, অতিথি রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অভিযোগে উল্লেখিত কথিত আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করা যেতে পারে। কারণ একজন থানার ওসির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য প্রকাশ করাও সাংবাদিকতার মৌলিক নীতির অংশ।সব মিলিয়ে বনানীর গেস্ট হাউজ ও স্পা সেন্টার ঘিরে ওঠা অভিযোগকে কেন্দ্র করে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। ৩ সেপ্টেম্বরের অভিযোগের পর কী তদন্ত হয়েছে? ৭ সেপ্টেম্বর গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে পাঠানো অভিযোগের পর কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল? স্মারক নম্বর ২৯৯৩৫-এর অভিযোগের বর্তমান অবস্থা কী? বনানী থানায় পাঠানোর পর তদন্ত কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কি কোনো প্রতিবেদন দিয়েছেন? অভিযোগে উল্লেখ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধতা যাচাই করা হয়েছে কি না? এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওসির বিরুদ্ধে ওঠা মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা কি কোনো অনুসন্ধান করবেন? এসব প্রশ্নের উত্তর মিললেই বোঝা যাবে অভিযোগগুলো কতটা বাস্তব, কতটা অতিরঞ্জিত এবং কোথাও দায়িত্বে অবহেলা বা অন্য কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না।আরও পড়ুন: এনআইডিতে ভুল থাকলে সংশোধনে লাগতে পারে যেসব কাগজএকই সঙ্গে ২০২৩ সালের ভূঞাপুর থানার ঘটনারও একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন সেই ঘটনায় সরকারি বা অনুদানের অর্থে কেনা সামগ্রী ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত কী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হয়েছিল এবং তার কোনো তদন্ত বা নিষ্পত্তির নথি রয়েছে কি না। কারণ পুলিশের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে জনআস্থা বজায় রাখতে অভিযোগের সত্যতা যেমন নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন, তেমনি কোনো কর্মকর্তা সম্পর্কে ভিত্তিহীন অভিযোগ থাকলেও সেটির তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে আনা জরুরি।বনানীর মতো রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকায় গেস্ট হাউজ ও স্পা সেন্টারকে ঘিরে অপরাধের অভিযোগ থাকলে তার দায় শুধু একটি থানার ওপর নয়; সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষেরও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। আর যদি অভিযোগগুলো মিথ্যা হয়, তাহলেও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তা স্পষ্ট হওয়া দরকার।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বনানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকায় গেস্ট হাউজ ও স্পা সেন্টারের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ শোনা যায়। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় তদন্ত করা উচিত। তাদের ভাষ্য, অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, অনুমোদন, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও কার্যক্রম যাচাই করলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও স্বচ্ছ থাকবে। একই সঙ্গে কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে আনার দাবি জানান তারা।আরও পড়ুন: ডিএমপির অভিযানে অস্ত্র মাদকসহ গ্রেফতার ৫১৫এ বিষয়ে একজন আইন বিশেষজ্ঞ বলেন, কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাসোহারা গ্রহণ, অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় কিংবা দায়িত্বে অবহেলার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠলে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি অভিযোগটি উপেক্ষা করাও সমীচীন নয়। অভিযোগের ধরন ও গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে নিরপেক্ষভাবে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের পক্ষে অর্থ লেনদেনের তথ্য, অডিও-ভিডিও, কল রেকর্ড, সাক্ষ্য বা অন্যান্য নথি থাকলে সেগুলো আইনানুগভাবে পরীক্ষা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়াও ন্যায়সংগত তদন্তের অংশ। তিনি আরও বলেন, অভিযোগটি যদি পুলিশের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হয়, তাহলে একই চেইন অব কমান্ডের মধ্যে তদন্তের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা উপযুক্ত স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা হলে জনআস্থা বাড়বে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সেটিও স্পষ্টভাবে জানানো উচিত।এ বিষয়ে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোনো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধতা, তাদের কার্যক্রম, পুলিশের ভূমিকা এবং অভিযোগের পক্ষে থাকা তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, কোনো গেস্ট হাউজ বা স্পা সেন্টারে মাদক, মানব পাচার কিংবা অন্য কোনো অপরাধ সংঘটনের তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থ গ্রহণ বা দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তারও তদন্ত হওয়া উচিত। প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।আরও পড়ুন: পুলিশে একের পর এক রদবদল, অপরাধ দমনে নতুন পরীক্ষাপুলিশে একের পর এক রদবদল, অপরাধ দমনে নতুন পরীক্ষাওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়লে সেটির নথিভুক্তি, যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের প্রক্রিয়া রয়েছে। অভিযোগের স্মারক নম্বর থাকলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তার বর্তমান অবস্থাও জানা সম্ভব। বনানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা পুলিশের দায়িত্ব। তাই কোনো অভিযোগকে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে রেখে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা উচিত।এবিষয়ে বানানী থানার ওসির মুঠোফোনে একাধিক ফোন করলে তাকে পাওয়া যায়নি।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

অপ্রতিম হত্যা গ্রেপ্তারদের স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

cকরেছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।রোববার দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১২ ঘণ্টার মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।তিনি জানান, নিহত অপ্রতিমের আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। অন্যান্য আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে।আরও  পড়ুন, জানাজা শেষে মাটির ঠিকানায় অপ্রতিমস্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বয়স নিয়েও যাচাই চলছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন কিশোর এবং অন্তত একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী অপ্রতিমের সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল। তাদের অনেকে অপ্রতিমের চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ বছর বয়সে বড়।তিনি আরও জানান, আসামিরা ঘটনার কথা স্বীকার করেছে। এখন আইনানুগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।অপ্রতিমের ময়নাতদন্ত ও দাফন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার পর বিচার বিভাগ মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

জানাজা শেষে মাটির ঠিকানায় অপ্রতিম

কান্না আর শোকের আবহে দাফন সম্পন্ন হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের।রোববার সকাল সোয়া ১১টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতিতে তার দাফন সম্পন্ন হয়।এর আগে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয়রা অংশ নেন।জানাজায় উপস্থিত সবাই অপ্রতিমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে তার মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান তারা।১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সে।আরও  পড়ুন, পাঁচ জেলার নিম্নাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হওয়ার শঙ্কাসন্ধান না পেয়ে ওইদিনই সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।শনিবার দুপুরে কোটবাড়ি এলাকার দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।এ ঘটনায় তুহিন নামে এক যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আনাস ও ফাহিম নামে আরও দুজনকে আটকের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডে কারও সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্তাধীন।একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ পরিবার। অপ্রতিমের মৃত্যুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ।

পাঁচ জেলার নিম্নাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

বৃষ্টিপাত বাড়লে দেশের পাঁচ জেলার নিম্নাঞ্চল সাময়িক প্লাবিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।শনিবার দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার কিছু এলাকায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।পাউবো জানিয়েছে, উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী তিন দিন দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজান এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য অববাহিকায় মাঝারি থেকে মাঝারি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সমতল স্থিতিশীল ছিল। আগামী এক দিন এটি স্থিতিশীল থাকতে পারে।আরও  পড়ুন, নিখোঁজ ১৫ হাজার শিশুর মধ্যে এখনো খোঁজ নেই ২ হাজার ৩৮ জনের এরপর পরবর্তী চার দিন পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।অন্যদিকে গঙ্গা-পদ্মার পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে এবং আগামী পাঁচ দিন এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারার পানিও কমেছে। আগামী তিন দিন এই নদীগুলোর পানি সমতল হ্রাস পেতে পারে।উত্তরাঞ্চলের দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। কমেছে তিস্তার পানি। তবে আগামী দুই দিন তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলার পানি বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।এদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি নদীর পানিও আগামী ২৪ ঘণ্টায় বাড়তে পারে। ফলে ভারী বৃষ্টিপাত হলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নিখোঁজ ১৫ হাজার শিশুর মধ্যে এখনো খোঁজ নেই ২ হাজার ৩৮ জনের

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে নিখোঁজ হওয়ার পর ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে হত্যা ধর্ষণের পর হত্যা শারীরিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৫৫ শিশুর।মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে এমন চিত্র উঠে এসেছে।আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত নিখোঁজ হওয়ার পর ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া শারীরিক নির্যাতনে ৬৮ শিশু পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯ শিশু ধর্ষণের পর ২৬ শিশু এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।আরও  পড়ুন, উত্তর লঘুচাপে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা ৮ অঞ্চলেএ ছাড়া গুলিতে তিন শিশু গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই শিশু উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই শিশু এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। একই সময়ে আত্মহত্যা রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত করেছে আসক।অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছে দুই হাজার ৩৮ শিশু।সম্প্রতি কুমিল্লা পাবনা ও জামালপুরে নিখোঁজ শিশুদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও সামনে এসেছে।শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার জবাবদিহি এবং শিশুবান্ধব সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ইউনিসেফ।

রাজনীতিরাজনীতি

নারীর শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে বিএনপি উদ্যোগ নিয়েছে রিজভী

নারীর শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে বিএনপি উদ্যোগ নিয়েছে রিজভী

নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে বিএনপি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।শনিবার কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।রিজভী বলেন নারীদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলা হলে এর সুফল শুধু পরিবারে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব পড়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতেও।তিনি বলেন নারীদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বিএনপি গুরুত্ব দিয়েছে। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নারীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ স্নাতক বা অনার্স পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।আরও  পড়ুন,হাফেজদের ‘নেক্সাস’ বই উপহার নিয়ে হেফাজতের ক্ষোভশিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন একটি জাতির অগ্রগতির জন্য মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা অপরিহার্য। তাঁর অভিযোগ গত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা হয়েছে। এসব কারণে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন রিজভী।তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধুনিক অবকাঠামো প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম এবং জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থী অভিভাবক ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কৃতী এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

হাফেজদের ‘নেক্সাস’ বই উপহার নিয়ে হেফাজতের ক্ষোভ

হাফেজদের ‘নেক্সাস’ বই উপহার নিয়ে হেফাজতের ক্ষোভ

বিশ্বজয়ী কুরআনের হাফেজদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে ইউভাল নোয়াহ হারারির লেখা ‘নেক্সাস’ বই উপহার দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব শায়েখ সাজিদুর রহমান এ প্রতিবাদ জানান।হেফাজতের নেতারা বলেন, বিশ্বজয়ী হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে ওই অনুষ্ঠানে ‘নেক্সাস’ বই উপহার দেওয়া অনভিপ্রেত বলে তারা মনে করেন। বইটি কীভাবে উপহারের তালিকায় এলো তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।হেফাজত নেতারা হাফেজদের কাছ থেকে বইটি প্রত্যাহার করে ইসলামি ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থ দেওয়ার আরও পড়ুন, ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণাপাশাপাশি সরকারি ও ইসলামি অনুষ্ঠানে বই বা উপহার নির্বাচনের জন্য স্ক্রিনিং কমিটি গঠনেরও দাবি জানান।এদিকে সংবিধান প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের একটি বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছে হেফাজত। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, কুরআনের আলোকে সংবিধান প্রণয়ন করা যেতে পারে। তবে কুরআনকে সরাসরি সংবিধান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। তার ব্যাখ্যা ছিল, সংবিধান পরিবর্তনযোগ্য হলেও ধর্মীয় গ্রন্থের মূল বাণী পরিবর্তন করা যায় না।হেফাজতের নেতারা এ বক্তব্যের বিরোধিতা করে আইনমন্ত্রীর কাছে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা

ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা

ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ও ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানজীম রুবাইয়াত আফিফ এবং সদস্য সচিব মোস্তাফিজুল কবীর মমি আলসারীর স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক করা হয়েছে জিহাদুল মোতালেব মার্শালকে। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছেন রায়হান আমিন ফাহিম এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে জোবায়েল আলম পাভেলকে।আহ্বায়ক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে শাখাটির সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আরও  পড়ুন, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থেকে কাজ করতে হবে- মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ এমপিপাশাপাশি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক করা হয়েছে মো. মহিবুর রহমানকে। যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন মো. হাসান আল বান্না, আমির হাসনাত খান, জোবায়ের ইবনে আলম, জান্নাতুল ফেরদৌস প্রীতি, সাবরিনা ইসলাম তরী, আশরাফুল ইসলাম ইমন ও ফাতেমা তুজ জোহুরা।এ শাখায় সদস্য সচিব করা হয়েছে গোলাম সরোয়ার হিমেলকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন ইশতিয়াকুর রহমান, মো. এমরামুল ইসলাম নাবিল, ইয়ামিন সরকার, ঐশ্বর্য মৃধা, সিনথিয়া ইসলাম ও এস এম ইয়াসিন আহমেদ।বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন কমিটির নেতাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থেকে কাজ করতে হবে-  মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ এমপি

জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থেকে কাজ করতে হবে- মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ এমপি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ বলেছেন, জনগণের দেওয়া গণরায় বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই দেশের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি ও অনিয়মমুক্ত প্রশাসন এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের মানুষ রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি একটি জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রত্যাশা করছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থেকে কাজ করতে হবে। ক্ষমতা ভোগের বিষয় নয়; এটি জনগণের সেবা ও দায়িত্ব পালনের মাধ্যম।আরও  পড়ুন, সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচন আলোচনায় বিএনপির দুই প্রার্থীর মধ্যে মিঠু খান এগিয়েশনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর '২৬) দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরা শহরের মুন্সিপাড়াস্থ কাজী শামছুর রহমান মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত দায়িত্বশীল শিক্ষা বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।বৈঠকের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও তারবিয়াত বিভাগের সেক্রেটারি ডা. মাহমুদুল হক।বৈঠকে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা জামাতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, জেলা নায়েবে আমির শেখ নুরুল হুদা, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ, অফিস সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল আমিন প্রমুখ। কর্মশালায় সাতক্ষীরা জেলার প্রত্যেকটা ইউনিয়ন এবং পৌরসভার আমির, ও সেক্রেটারি উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা

খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণের দাবি

খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণের দাবি

সাতক্ষীরায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের উচ্চশিক্ষার আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই জনপদ শিক্ষা, কৃষি, মৎস্য, শিল্প, প্রযুক্তি ও পরিবেশের দিক থেকে অপার সম্ভাবনাময়। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে একটি আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি এর নামও হতে পারে একটি ঐতিহাসিক পরিচয় ও প্রেরণার উৎস। সেই বিবেচনায় প্রস্তাবিত সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ‘খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে।খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ছিলেন সাতক্ষীরার কৃতী সন্তান এবং উপমহাদেশের শিক্ষা ও সমাজসংস্কারের ইতিহাসে স্মরণীয় এক ব্যক্তিত্ব। তিনি এমন এক সময়ে শিক্ষার প্রসারে কাজ করেছেন, যখন সমাজের একটি বড় অংশ আধুনিক শিক্ষার সুযোগ থেকে পিছিয়ে ছিল। শিক্ষা প্রশাসনে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি শিক্ষার বিস্তার, বিশেষ করে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর মধ্যে আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।আরও  পড়ুন, সেনবাগ থানার ওসি আবদুর রহিম সরকার প্রত্যাহারতাঁর শিক্ষা-দর্শনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল জ্ঞানার্জনের সঙ্গে নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের সমন্বয়। তাঁর কাছে শিক্ষা ছিল শুধু জীবিকা অর্জনের মাধ্যম নয়; শিক্ষা মানুষের চরিত্র গঠন, সমাজের উন্নয়ন এবং মানবকল্যাণের পথ। আজকের প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে এই দর্শনের গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক তৈরি করাও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম দায়িত্ব।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাখানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার শিক্ষা-অবদানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় তাঁর সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রকাশনায়ও বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্নে তিনি দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন এবং বিশেষ কমিটির সদস্য হিসেবে বিরোধীদের যুক্তির জবাব দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া একদিনে সম্পন্ন হয়নি। ১৯১৪ সালে গঠিত হর্নেল কমিটির সঙ্গে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার খসড়া বিল পর্যালোচনার জন্য ১৯১৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের বিশেষ কমিটি গঠিত হলে তিনি সেই নয় সদস্যের কমিটির সদস্য হন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন। কমিটির প্রতিবেদনের সঙ্গে তাঁর একটি পৃথক ‘নোট অব ডিসেন্ট’ও যুক্ত হয়, যেখানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। তাঁর দেওয়া বেশ কিছু প্রস্তাব পরবর্তী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯২০-এ প্রতিফলিত হয়েছিল বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক গবেষণা ও প্রকাশনায় উল্লেখ রয়েছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ইতিহাস অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯২০ সালের ২৩ মার্চ অনুমোদিত হয় এবং ১৯২১ সালের ১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।অর্থাৎ খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার অবদান কেবল শিক্ষা প্রশাসনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না; একটি বৃহৎ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াতেও তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কর্তৃপক্ষও তাঁর এই অবদানকে স্মরণ করে বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য এবং তাঁর অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।এই ঐতিহাসিক বাস্তবতা বিবেচনায় সাতক্ষীরায় তাঁর নামে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণের প্রস্তাব নতুন তাৎপর্য পেতে পারে। একদিকে এটি হবে সাতক্ষীরার একজন কৃতী শিক্ষাবিদের প্রতি সম্মান, অন্যদিকে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার সঙ্গে তাঁর শিক্ষা-আদর্শের একটি প্রতীকী সংযোগ।সাতক্ষীরার সঙ্গে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার ঐতিহাসিক সম্পর্ক তাঁর নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলতে পারে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম যখন কোনো কৃতী ব্যক্তির জীবন ও কর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন সেই নাম শিক্ষার্থীদের কাছে ইতিহাসের একটি জীবন্ত পাঠ হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী তাঁর জীবন, শিক্ষা-চিন্তা, সমাজসংস্কার এবং উচ্চশিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারবে। এতে স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতিও নতুন প্রজন্মের আগ্রহ সৃষ্টি হবে।বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শ্রেণিকক্ষ, পরীক্ষাগার কিংবা সনদ প্রদানের প্রতিষ্ঠান নয়। এটি একটি অঞ্চলের জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও সামাজিক নেতৃত্বের কেন্দ্র। সাতক্ষীরার বাস্তবতা বিবেচনায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা, কৃষি, মৎস্য, সুন্দরবন, পরিবেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সীমান্ত অর্থনীতিসহ স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে। আরও  পড়ুন, প্রতিম হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীরাআর সেই জ্ঞানচর্চার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার নাম যুক্ত হলে তা শিক্ষা ও মানবকল্যাণের ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির একটি প্রতীকী সংযোগ তৈরি করবে।অবশ্যই নামকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, সরকারি নীতিমালা, ঐতিহাসিক তথ্য এবং সংশ্লিষ্টদের মতামত বিবেচনা করা প্রয়োজন। এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আবেগের বিষয় হিসেবে নয়, বরং সাতক্ষীরার শিক্ষা-ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে একটি জনআলোচনার বিষয় হিসেবে দেখা উচিত।প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র’, বার্ষিক স্মারক বক্তৃতা কিংবা তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম চালু করা যেতে পারে। এতে নামকরণ শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; তাঁর শিক্ষা-দর্শন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞানচর্চার অংশ হয়ে উঠবে।সাতক্ষীরার মাটিতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সঙ্গে যদি এই জনপদের এক কৃতী শিক্ষাবিদের নাম যুক্ত হয়, তাহলে তা স্থানীয় ইতিহাসের প্রতিও সম্মান প্রদর্শন হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তৈরি হবে একটি অনুপ্রেরণার ঠিকানা। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মতো ঐতিহাসিক উচ্চশিক্ষা উদ্যোগে তাঁর অবদান স্মরণে রাখলে প্রস্তাবিত নামকরণ আরও অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে।তাই ‘সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’-এর নাম ‘খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাবটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, নাগরিক সমাজ ও সাতক্ষীরার মানুষের গঠনমূলক আলোচনায় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে। এটি শুধু একটি নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নয়; বরং সাতক্ষীরার শিক্ষা-ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তি-চর্চার সঙ্গে যুক্ত করার একটি সম্ভাব্য উদ্যোগ।

সেনবাগ থানার ওসি আবদুর রহিম সরকার প্রত্যাহার

সেনবাগ থানার ওসি আবদুর রহিম সরকার প্রত্যাহার

নোয়াখালীর সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. আবদুর রহিম সরকারকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।রোববার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম অ্যান্ড অপস আহমেদ পেয়ার।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের বটতলা বাজার এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিলের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানার ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।এ ছাড়া বাতানিয়া গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শাহজাহান খোকনের বাড়িতে আয়োজিত ভূরিভোজে ওসি আবদুর রহিম সরকার অংশ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।পুলিশ জানিয়েছে, একজনের বাড়িতে দাওয়াতে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।আরও  পড়ুন, অপ্রতিম হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীরাএ ঘটনায় তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তবে এখনো তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।সেনবাগ থানার পরিদর্শক তদন্ত হযরত আলী মিলন বর্তমানে ওসির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যায় প্রত্যাহারের পর ওসি থানা থেকে চলে গেছেন। তবে কী কারণে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি জানেন না।এদিকে বটতলা এলাকায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মিছিলের ঘটনায় শনিবার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। মামলায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পাঁচ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অপ্রতিম হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীরা

অপ্রতিম হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীরা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে কিশোর ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন তারা।এ সময় অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচার এবং ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অবরোধের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।এর আগে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতিম। এরপর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।আরও  পড়ুন, ‘আমার একটাই ছেলে’ অপ্রতিমের জানাজায় বাবার আহাজারিপরে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। ছেলের সন্ধান চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আবেদন জানান তার মা ড. নাহিদা বেগম।শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুহিন নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহিম আহমেদ ও আনাস নামে আরও দুজনকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।অপ্রতিম ছিল পরিবারের একমাত্র সন্তান। তার মৃত্যুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দ্রুত বিচার ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

‘আমার একটাই ছেলে’ অপ্রতিমের জানাজায় বাবার আহাজারি

‘আমার একটাই ছেলে’ অপ্রতিমের জানাজায় বাবার আহাজারি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে অপ্রতিমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।রোববার সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে উপস্থিত ছিলেন।জানাজার আগে কান্নায় ভেঙে পড়েন অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন ‘আমার একটাই ছেলে।’তিনি আরও বলেন কুমিল্লার আবহাওয়ায় সবার ছায়ায় তার ছেলে বড় হয়েছে। অপ্রতিম কোনো ভুল করে থাকলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার পাশাপাশি ছেলের জন্য সবার কাছে দোয়া চান তিনি।আরও  পড়ুন, খাগড়াছড়িতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১০৭ কৃতী শিক্ষার্থীকে প্রথম আলোর সংবর্ধনাজানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দীন অপ্রতিমকে বিশ্ববিদ্যালয়েরই সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে তার মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।তিনি জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে বিজয় ২৪ হল পর্যন্ত সড়কে সিসিটিভি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এর আগে শনিবার সকাল ১১টার দিকে সানন্দা পশ্চিমপাড়া লালমাই পাহাড় থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।পরিবার সূত্রে জানা গেছে জানাজা শেষে অপ্রতিমের মরদেহ গন্ধমতী ঈদগাহ মাঠে নেওয়া হবে এবং সেখানেই তাকে দাফন করা হবে।

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে সৌদি তেল সরবরাহে নতুন চাপ

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে সৌদি তেল সরবরাহে নতুন চাপ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। অক্টোবরে ইউরোপের অন্তত দুটি তেল শোধনাগারে নির্ধারিত অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করতে পারবে না বলে গ্রাহকদের জানিয়েছে সৌদি আরব।ইউরোপের বিভিন্ন শোধনাগার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় সৌদি আরব থেকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনে থাকে। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে চুক্তির সরবরাহ বাতিল করার সুযোগ রয়েছে।এর আগে কাতারও হরমুজ প্রণালির সামুদ্রিক অবরোধের কারণে এলএনজি রপ্তানিতে জারি থাকা জরুরি পরিস্থিতির ঘোষণা নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত বাড়িয়েছে।সংঘাতের শুরুতে সৌদি আরব তুলনামূলক নিরাপদ অবস্থানে ছিল। কারণ দেশটির পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন পারস্য উপসাগর এড়িয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পরিবহনের সুযোগ দেয়।আরও  পড়ুন, হুতিদের ড্রোন ভূপাতিতের পর মক্কা চুক্তি নিয়ে খাজা আসিফতবে গত সপ্তাহে ড্রোন হামলায় পাইপলাইনটি অচল হয়ে পড়ে। সৌদি আরবের দাবি,হামলাটি ইরাক থেকে চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী ইয়ানবু বন্দরসহ সৌদি আরামকোর বিভিন্ন তেল স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে।হুতিদের সঙ্গে সংঘাতের প্রভাবে লোহিত সাগর ও আশপাশের নৌপথে জাহাজ চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে তেল ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়ছে অনিশ্চয়তা।শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলারে লেনদেন হয়েছে। জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের মতো পরিশোধিত জ্বালানির দাম আরও বেশি বেড়েছে।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে গত এক সপ্তাহে ডিজেলের দাম ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানী

রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণের পর জোরদার নিরাপত্তা

রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণের পর জোরদার নিরাপত্তা

রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর নগরজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।শুক্রবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অন্তত আটটি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ও ট্রাফিক পুলিশ বক্সের কাছে বিস্ফোরণের পাশাপাশি মালিবাগ রেলগেট, আগারগাঁও ও মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকায়ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। রাতে কাফরুল থানার সামনে একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় একজন রিকশাচালক আহত হওয়ার তথ্যও জানিয়েছে পুলিশ।এরপর শনিবার রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, উড়ালসড়ক ও প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি জোরদার করা হয়। মোটরসাইকেলসহ সন্দেহজনক যানবাহনে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে পিকেট ডিউটি এবং গাড়ি ও মোটরসাইকেলে টহল। হেঁটেও টহল দিচ্ছে পুলিশ।আরও  পড়ুন, পুরান ঢাকায় অজ্ঞাত যুবকের মৃত্যু ঘিরে রহস্যআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা শাখা ডিবি, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট সিটিটিসি এবং এপিবিএনের সদস্যদেরও মাঠে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিস্ফোরণের আগে ও পরে মোটরসাইকেলসহ সন্দেহজনক যানবাহনের গতিবিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাগুলোর সঙ্গে কারা জড়িত তা তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।শুক্রবারের ঘটনাগুলোর পর রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে চেকপোস্ট ও টহল বাড়ানো হয়েছে। ফলে নগরীর প্রবেশপথ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পর্যন্ত চলছে বাড়তি নজরদারি ও তল্লাশি।

১ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

খেলাধুলা

রদ্রির গোল্ডেন বুট নিয়ে প্রশ্ন তুললেন লামিন ইয়ামাল

রদ্রির গোল্ডেন বুট নিয়ে প্রশ্ন তুললেন লামিন ইয়ামাল

সবশেষ ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। শিরোপা জয়ের পথে স্পেনের মাঝমাঠের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন রদ্রি।পুরো টুর্নামেন্টে গোল না করেও মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ পাসিং বল পুনরুদ্ধার এবং রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।ফাইনালেও ছিল তার দারুণ পারফরম্যান্স। ফিফার হিসাবে ম্যাচটিতে ১০৫টি পাসের মধ্যে ১০১টি সফল করেন রদ্রি। জেতেন ৮০ শতাংশ ডুয়েল এবং তৈরি করেন দুটি গোলের সুযোগ। এসব পারফরম্যান্স বিবেচনায় তার হাতে ওঠে গোল্ডেন বুট।তবে ফিফার এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন রদ্রির স্পেন সতীর্থ লামিন ইয়ামাল। আরও   পড়ুন, আজ বাংলাদেশের সামনে ভারত মাদ্রিদ ডার্বিতে রিয়াল আতলেতিকোতার মতে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।মুভিস্টারের ‘ইউনিভার্সো ভালদানো’ অনুষ্ঠানে ইয়ামাল বলেন, তার কাছে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় মেসি। বয়সের কারণে মেসির কাছ থেকে এমন পারফরম্যান্স কেউ আশা করেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন মেসি। একটি হ্যাটট্রিকসহ করেন আট গোল। সতীর্থদের দিয়ে করান আরও চারটি গোল। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে ২১ গোল নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।দল শিরোপা না জিতলেও মেসির পারফরম্যান্স নিয়ে ইয়ামালের এমন মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এনেছে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের বিতর্ক।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!