চলমান শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা বা নাশকতার হুমকি নেই বলে জানিয়েছেন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ। উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে সারা দেশে এসআরবির ১৫টি ব্যাটালিয়নের ৬ হাজারের বেশি সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দিরের নিরাপত্তাব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান এসআরবি প্রধান। তিনি বলেন, প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৪৫৭ জন সদস্য বিশেষ টহল ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।এসআরবির মহাপরিচালক জানান, পূজামণ্ডপ ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন ৫৪৯টি পিকআপ ও ৪৪৭টি মোটরসাইকেল টহল পরিচালিত হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকির তথ্য না থাকলেও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি, নাশকতা কিংবা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় বিশেষায়িত ডগ স্কোয়াড ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।আরও পড়ুন, মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট লাগাতে হবে ১৫ নভেম্বরের মধ্যেতিনি আরও জানান, মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।দেশের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে উৎসবের পরিবেশ বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা ঠেকাতে এসআরবির সাইবার মনিটরিং সেল ২৪ ঘণ্টা নজরদারি ও তথ্য যাচাইয়ের কাজ করছে। এ ছাড়া পূজামণ্ডপে আসা নারী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইভটিজিংসহ বিভিন্ন ধরনের হয়রানি প্রতিরোধে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরে আহসান হাবীব পলাশ বলেন, বিসর্জনের নির্ধারিত রুটগুলোতে বিশেষ টহল থাকবে। শান্তিপূর্ণভাবে বিসর্জন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সদস্যরা বিসর্জন ঘাটগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন।কোনো পূজামণ্ডপকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করার মতো তথ্য নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
এক্সক্লুসিভ
শীতের হিমেল হাওয়া আর ভোরের কুয়াশার অপেক্ষায় বৃহত্তর যশোরের গাছিরা, রস সংগ্রহ ও খেজুরের গুড় তৈরির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে উঠবে গ্রামবাংলা। শীত আসতে আর বেশি দেরি নেই। প্রকৃতিতে বইতে শুরু করেছে শীতের আগমনী বার্তা। আর শীতের কথা মনে এলেই বাঙালির মনে ভেসে ওঠে খেজুরের রস, টাটকা পাটালি গুড়, ঝোলা গুড় আর খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি নানা রকম পিঠাপুলির ছবি। বিশেষ করে বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড়ের স্বাদ যেন শীতের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়। শীতের মৌসুমে বৃহত্তর যশোরের গ্রামাঞ্চলে খেজুরগাছকে ঘিরে শুরু হয় এক চিরচেনা কর্মযজ্ঞ। গাছিরা খেজুরগাছের পরিচর্যা, গাছের মাথা পরিষ্কার করা এবং রস সংগ্রহের উপযোগী করে তোলার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সন্ধ্যার পর গাছের সঙ্গে বাঁধা হয় মাটির হাঁড়ি, আর রাতভর সেই হাঁড়িতে জমতে থাকে মিষ্টি রস।ভোরের আলো ফোটার আগেই গাছিরা গাছ থেকে হাঁড়ি নামিয়ে সংগ্রহ করেন টাটকা খেজুরের রস। গ্রামের পথ ধরে রস নিয়ে ফেরার সেই দৃশ্য শীতের গ্রামীণ জীবনের এক অনন্য সৌন্দর্য। কোথাও রস পান করার ধুম, কোথাও আবার রস জ্বাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু গুড়।বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের খেজুরের গুড়ের রয়েছে দীর্ঘদিনের সুনাম। ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে খেজুরের রস জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় নানা ধরনের গুড়। এর মধ্যে পাটালি গুড়, ঝোলা গুড় ও দানাদার গুড়ের কদর রয়েছে মানুষের কাছে। রস জ্বাল দেওয়ার সময় ছড়িয়ে পড়া মিষ্টি সুবাস যেন শীতের গ্রামের পরিবেশকে অন্য রকম মায়ায় ভরিয়ে তোলে।আরোও পড়ুন,মব আতঙ্ক ও আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জএই গুড় শুধু একটি খাদ্যপণ্য নয়; এটি এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শীতের সকালে খেজুরের রস, আর পিঠা-পায়েসে খেজুরের গুড়—এ যেন বাঙালির চিরন্তন শীতকালীন উৎসব। শীতের সঙ্গে বাঙালির পিঠাপুলির সম্পর্ক বহু পুরোনো। খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, পাটিসাপটা, পায়েস ও ক্ষীরের স্বাদে মুগ্ধ হন সব বয়সের মানুষ। শহরে বসবাস করা অনেক মানুষও শীতের শুরুতে গ্রামের বাড়ির খাঁটি খেজুরের গুড়ের জন্য অপেক্ষা করেন। এ সময় বাজারে খেজুরের গুড়ের চাহিদা বাড়ে। ফলে গাছি ও গুড় প্রস্তুতকারকদের জন্য এটি হয়ে ওঠে বাড়তি আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌসুম। তবে ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ গুড় নিশ্চিত করতে উৎপাদক ও ক্রেতা—উভয়কেই সচেতন থাকতে হবে। খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরি করা সহজ কাজ নয়। প্রচণ্ড ঠান্ডায় ভোরে উঠে কাজ করা, গাছে ওঠা, রস সংগ্রহ এবং দীর্ঘ সময় ধরে চুলায় রস জ্বাল দেওয়ার প্রতিটি ধাপেই রয়েছে শ্রম ও দক্ষতা। এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু পরিবারের জীবিকা। তাই বৃহত্তর যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড়ের সুনাম ধরে রাখতে গাছিদের যথাযথ মূল্য দেওয়া, নিরাপদ উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং খেজুরগাছ সংরক্ষণ করা জরুরি। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে এই লোকজ ঐতিহ্য তুলে ধরাও সময়ের দাবি।
অনলাইন জরিপ