২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে জাতীয় সংসদে। এটি দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট এবং বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট।অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থাপিত এ বাজেটে বেশ কিছু পণ্যের ওপর কর, শুল্ক, ভ্যাট ও সারচার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে বাজারে এসব পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেটের চারটি স্তরেই মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিম্নস্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরে ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৬০ টাকা এবং অতি-উচ্চ স্তরে ২১০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন , শিক্ষা বিপ্লবের পথে সরকার, বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষা ও এআইভিত্তিক শিক্ষার ঘোষণাপাশাপাশি নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকোর ওপরও অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।দেশীয় উৎপাদকদের সুরক্ষার লক্ষ্যে আমদানি করা কাজুবাদামের শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। ফলে বিদেশি কাজুবাদামের দাম বাড়তে পারে।বিলাসবহুল গাড়ির ওপরও করের চাপ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে ১২০০ থেকে ১৬০০ সিসি ক্ষমতার পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলচালিত গাড়ির করহার এবং অগ্রিম আয়কর বৃদ্ধি করা হয়েছে।এছাড়া রড, ইস্পাতজাত পণ্য, কিছু আমদানিকৃত মাছ, হেলিকপ্টার এবং জুয়ার আয়ের ওপরও নতুন কর ও শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।অর্থনীতিবিদরা বলছেন, স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ ও বিলাসী পণ্যে কর বৃদ্ধি রাজস্ব আদায়ে সহায়ক হলেও এর প্রভাব বাজারমূল্যেও পড়বে।
এক্সক্লুসিভ
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমে ধীরে ধীরে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিন পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সক্রিয়তা, জনবান্ধব আচরণ এবং অপরাধ দমনে দৃশ্যমান তৎপরতায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন নগরবাসী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও জনমুখী করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি, সেবা প্রদান সহজ করা এবং অপরাধ দমনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে পুলিশের সক্ষমতা উন্নয়নের চেষ্টা চলছে।আরও পড়ুন: অবৈধ স্পা সেন্টারে পুলিশের অভিযানের পরও থামেনি বাহারের নেটওয়ার্ক!রাজধানী ঢাকা দেশের অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক কেন্দ্র হওয়ায় এখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিন কোটি টাকার লেনদেন, হাজারো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আওতাধীন কয়েকটি থানার কার্যক্রম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। গুলশান, বনানী, মিরপুর, বংশাল, রামপুরা, পল্টন ও যাত্রাবাড়ি থানার বিভিন্ন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানীতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা, মাদক, প্রতারণা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন অভিযোগ করলে দ্রুত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের উপস্থিতিও বেড়েছে। এতে নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়ছে।আরও পড়ুন: আইনশৃঙ্খলা শক্তিশালী করতে পুলিশের জন্য ২১২ ডাবল কেবিন পিকআপ অনুমোদনরাজধানীর সবচেয়ে জনবহুল এলাকাগুলোর একটি মিরপুর। এই এলাকায় ছিনতাই, কিশোর গ্যাং ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আগের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় বলে দাবি স্থানীয়দের। রাতের টহল, সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধির ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে মনে করছেন বাসিন্দারা।আরও পড়ুন: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে বীর শান্তিরক্ষীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন তারেক রহমানপুরান ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ দুটি থানা বংশাল ও পল্টন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দৃশ্যমান হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত অভিযান, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধির ফলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।রামপুরা ও যাত্রাবাড়ি এলাকায়ও পুলিশের কার্যক্রমে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা এবং স্থানীয় সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ প্রশংসিত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, পুলিশের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব কমলে অপরাধ প্রতিরোধ আরও সহজ হবে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে জনগণের আস্থা। জনগণ যদি পুলিশের ওপর বিশ্বাস রাখে, তাহলে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা অনেক সহজ হয়ে যায়। তারা বলছেন, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে সমানভাবে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।আরও পড়ুন: প্রশংসা-সমালোচনার কেন্দ্রে থাকা ওসি দাউদবর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সিসিটিভি মনিটরিং, ডিজিটাল অভিযোগ ব্যবস্থা, অনলাইন সেবা এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। এতে অপরাধ শনাক্তকরণ ও তদন্তের গতি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়বে, অপরাধ দমনে তত বেশি সফলতা আসবে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, পুলিশের এই ইতিবাচক পরিবর্তন যেন সাময়িক না হয়। বরং এটি যেন একটি স্থায়ী সংস্কৃতিতে পরিণত হয়। দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখে জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। অনেকের মতে, রাজধানীর কয়েকটি থানায় যে পরিবর্তনের বার্তা দেখা যাচ্ছে, সেটি পুরো পুলিশ বাহিনীর জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ হতে পারে।আরও পড়ুন: সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নানের সহকারী একান্ত সচিব' হাসনাত জেল হাজতেরাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে যে চিত্র পাওয়া গেছে, তাতে স্পষ্ট পুলিশের কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত সাধারণ মানুষ অনুভব করতে শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়লে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন তারা। সব মিলিয়ে, পুলিশের পরিবর্তনের এই ধারা জনমনে নতুন আশা তৈরি করেছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।
অনলাইন জরিপ
দেশের বাজারে আবারও কমানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন—বাজুস।নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকা, যা আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, তেজাবী স্বর্ণের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য কমে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন , বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৩৪.৭৩ বিলিয়ন ডলারেবাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং সভায় দাম পুনঃনির্ধারণ করা হয়।নতুন দামে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ৪৩৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৮ টাকা।বাজুস আরও জানিয়েছে, ক্রেতাদের কাছ থেকে ৫ শতাংশ ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী আলাদা মজুরিও যুক্ত হবে।স্বর্ণের দামে এই ধারাবাহিক ওঠানামা বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা কমে ৩৪ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১০ জুন পর্যন্ত দেশের গ্রস বা মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৭৩৪ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ হাজার ৭৭ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন ডলার।আরও পড়ুন, দেশে ফের কমল রুপার দাম, ২২ ক্যারেট ভরি ৪,৮৯৯ টাকা নির্ধারণএর আগে ৩ জুন দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৪ হাজার ৮২১ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩০ হাজার ১৬০ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলার।ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে গ্রস রিজার্ভ প্রায় ৮৭ মিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ প্রায় ৮৩ মিলিয়ন ডলার কমেছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং ডলারের চাহিদার কারণে রিজার্ভে সাময়িক ওঠানামা দেখা দিতে পারে।
দেশের বাজারে আবারও কমেছে রুপার দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি রুপার মূল্য কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারেও নতুন করে মূল্য সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন—বাজুস।বুধবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, প্রতি ভরিতে ৩৫০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২২ ক্যারেট নয়—২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দামও সমন্বয় করা হয়েছে।আরও পড়ুন, বাজেটে স্বস্তির বার্তা: কমতে পারে স্বর্ণ, ফ্রিজ, সিম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নতুন দর অনুযায়ী ২১ ক্যারেট রুপার ভরি ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।সংস্থাটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি রুপার দাম কমার প্রভাবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বাজুস আরও জানায়, এর আগে সর্বশেষ গত ৬ জুন রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৪৩ দফায় রুপার দাম সমন্বয় হয়েছে, যার মধ্যে ২২ বার দাম বেড়েছে এবং ২১ বার কমানো হয়েছে।
আগামী বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হতে যাচ্ছে বর্তমান সরকারের প্রথম জাতীয় বাজেট। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ বাজেট পেশ করবেন। বাজেটকে ঘিরে ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন বাজেটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে বেশ কিছু পণ্য ও সেবায় ভ্যাট-কর হ্রাসের প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। এর ফলে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম কমতে পারে।বিশেষ করে গৃহিণীদের জন্য সুখবর হিসেবে দেখা হচ্ছে কিছু কিচেন ও গৃহস্থালি পণ্যের মূল্য হ্রাসের সম্ভাবনাকে। দেশীয় ফ্রিজ ও রেফ্রিজারেটর উৎপাদনে ভ্যাট কমানো হলে এসব পণ্যের দাম কমতে পারে। আরও পড়ুন , ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বড় সুখবর, ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলএকই সঙ্গে সিম ও ই-সিম ব্যবহারের ওপর কর কাঠামো পরিবর্তনের ফলে মোবাইল সংযোগও সাশ্রয়ী হতে পারে।এছাড়া স্বর্ণালংকার বিক্রির বিদ্যমান ভ্যাট পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হলে স্বর্ণের দামও কিছুটা কমতে পারে। চিকিৎসা খাতে হার্টের রিং ও চোখের লেন্সের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব রয়েছে, যা রোগীদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনতে পারে।কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং শিল্প খাতেও একাধিক কর ছাড়ের প্রস্তাব থাকছে। ফলে কৃষি উপকরণ, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম, কম্পিউটার ও কিছু প্রসাধনী পণ্যের দামও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।সব মিলিয়ে আসন্ন বাজেটকে ভোক্তাবান্ধব ও বিনিয়োগ সহায়ক বাজেট হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।আরও পড়ুন , জ্বালানি-বিদ্যুৎ ভর্তুকিতে ৭৫ হাজার কোটি টাকার চাপ, বাজেটের বড় দুশ্চিন্তা
দেশের কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে আরও গতিশীল করতে ৫ হাজার কোটি টাকার নতুন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।‘সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল’ নামে এই উদ্যোগের আওতায় উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। প্রাথমিকভাবে তহবিলটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বছর।বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি মূলধনের ঘাটতির কারণে অনেক ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন ও ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছে না। আরও পড়ুন, জ্বালানি-বিদ্যুৎ ভর্তুকিতে ৭৫ হাজার কোটি টাকার চাপ, বাজেটের বড় দুশ্চিন্তাএই সমস্যা দূর করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতেই এই তহবিল গঠন করা হয়েছে।তহবিলের আওতায় ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে অর্থ পাবে এবং তা উদ্যোক্তাদের কাছে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে বিতরণ করতে পারবে।তবে ঋণখেলাপিরা এই সুবিধা পাবেন না। পাশাপাশি উদ্যোক্তারা ঋণ নেওয়ার পর ৩ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা পাবেন, অর্থাৎ এ সময়ে কোনো কিস্তি পরিশোধ করতে হবে না।অর্থনীতিবিদদের মতে, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এই তহবিল দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নতুন গতি আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।আরও পড়ুন, তেলের বাজারে অস্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে
আসন্ন জাতীয় বাজেটে সরকারের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা হয়ে উঠেছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ক্রমবর্ধমান ভর্তুকি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ আগামী অর্থবছরের জন্য মোট ৭৫ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি চেয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে ৪৯ হাজার কোটি এবং গ্যাস খাতে ২৬ হাজার কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে।এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসি জানিয়েছে, গত তিন মাসে জ্বালানি তেল আমদানি করে তাদের লোকসান হয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। এ লোকসান পূরণে বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে।আরও পড়ুন, তেলের বাজারে অস্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তা বাড়ছেসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। গত বছর এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা এবার ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে প্রতি ইউনিটে খরচ হচ্ছে প্রায় ১৩ টাকা, অথচ বিক্রি হচ্ছে গড়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সায়। ফলে বিশাল আর্থিক ঘাটতির মুখে পড়ছে সংস্থাটি।অন্যদিকে, পেট্রোবাংলা বলছে, গ্যাসের বিক্রয়মূল্য ও আমদানি ব্যয়ের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকায় প্রতি মাসেই কয়েক হাজার কোটি টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির এই চাপ আগামী বাজেট ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।আরও পড়ুন,বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধাক্কা, বাংলাদেশেও কমতে পারে ভরির দাম
লাইফস্টাইল
দেশজুড়ে তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই এবং উচ্চ আর্দ্রতার কারণে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনযাত্রায় কিছু ছোট পরিবর্তনই বড় সুরক্ষা দিতে পারে।গরমে সুস্থ থাকতে হালকা রঙের সুতি বা লিনেন কাপড় পরার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ঢিলেঢালা পোশাক শরীরকে আরাম দেয় এবং ঘাম কমাতে সাহায্য করে।আরও পড়ুন, গরমে প্রাণ জুড়াবে ডাবের পানি কয়েকটি উপাদান মিশলেই পাবেন বেশি উপকারএছাড়া পর্যাপ্ত পানি পান, ডাবের পানি, লেবুর শরবত এবং পানিযুক্ত ফল খাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চিনি বেশি থাকা কোমল পানীয় এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।একটানা কাজ না করে মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নেওয়া এবং ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে।বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, দুপুরের তীব্র রোদ এড়িয়ে চলা, হালকা খাবার গ্রহণ এবং ঘর ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা নেওয়া গরমে সুস্থ থাকার অন্যতম উপায়।