দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

আজকের আবহাওয়া

ঢাকা 1002.8 hPa
28° 93%
940° 9mm
চট্টগ্রাম 1003.2 hPa
33° 67%
940° 9mm
রাজশাহী 1003.4 hPa
35° 56%
940° 9mm
খুলনা 1002.5 hPa
33° 69%
940° 9mm
বরিশাল 1002.3 hPa
33.5° 65%
940° 9mm
সিলেট 1002.5 hPa
34.5° 62%
940° 9mm
রংপুর 1003.9 hPa
28° 89%
940° 9mm
ময়মনসিংহ 1003.8 hPa
30.4° 89%
940° 9mm
Weather

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

গুলশানে গেস্ট হাউজ-স্পা, পেছনে মিরাজের অজানা সাম্রাজ্য?

গুলশানে গেস্ট হাউজ-স্পা, পেছনে মিরাজের অজানা সাম্রাজ্য?

বরগুনার বেতাগী উপজেলার গরিচন্না বাজার এলাকায় জম্ম মিরাজের। তিনি ঢাকার বুকে হোটেল ব্যবসায় অঙ্গনে যিনি ‘মোল্লা মিরাজ’ নামে পরিচিত বলে স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে। প্রায় এক দশক আগে ঢাকায় এসে মিরপুরের একটি আবাসিক হোটেলে ক্লিনারের চাকরি নেওয়া থেকে তার কর্মজীবনের শুরু। সময়ের ব্যবধানে সেই চাকরি থেকে হোটেল, স্পা ও গেস্ট হাউজ ব্যবসায় প্রবেশ এবং পরবর্তীতে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে ফ্ল্যাট, বাড়ি-গাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, মিরাজের বর্তমান জীবনযাপন ও সম্পদের সঙ্গে তার অতীত আর্থিক অবস্থার ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। একসময় সাধারণ কর্মচারী হিসেবে কাজ করলেও বর্তমানে তিনি ভিআইপি স্টাইলে চলাফেরা করেন। তার মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন হোটেল, স্পা ও গেস্ট হাউজকে ঘিরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক, মানবপাচার এবং ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি সূত্রগুলোর। অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।আরও পড়ুন: গুলশানে গেস্ট হাউজ ও দীর্ঘদিনের স্পা ব্যবসায় কোটিপতি মিরাজপ্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ বছর আগে বরগুনা থেকে ঢাকায় আসেন মিরাজ। তখন তার আর্থিক অবস্থা ছিল সাধারণ। রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ক্লিনার হিসেবে চাকরি নেন তিনি। হোটেলকেন্দ্রিক পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে ধীরে ধীরে ব্যবসার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা নেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে নিজেই হোটেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। সময়ের সঙ্গে স্পা ও গেস্ট হাউজ ব্যবসাতেও তার সম্পৃক্ততা বাড়তে থাকে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই বড় অঙ্কের অর্থ ও সম্পদের মালিক হয়েছেন।সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, একজন সাধারণ কর্মচারী থেকে এত অল্প সময়ে কীভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হলেন মিরাজ? তার ব্যবসার মূলধন কোথা থেকে এসেছে, কোন কোন প্রতিষ্ঠানের নামে সম্পদ রয়েছে এবং এসব ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থের উৎস কী এসব বিষয়ে যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।আরও পড়ুন: অপসাংবাদিকতার তাণ্ডব: মূলধারা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বড় সংকটঅভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে রাজধানীর গুলশানে ৩৩ নং রোডে অবৈধ গেস্ট হাউজ ও ৪১ নং রোডে একটি স্পা এবং আর এম সেন্টারে ভিআইপি সেলুন ও স্পেশাল সার্ভিসের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া  একটি ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক মিরাজ। তার নামে বা ঘনিষ্ঠদের নামে আরও সম্পদ রয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়ের অর্থের উৎস এবং আয়কর নথিতে সেগুলোর যথাযথ হিসাব রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাই প্রয়োজন। অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তার সম্পদ ও ব্যবসায়িক লেনদেন যাচাই করা গেলে অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন সাংবাদিক ও স্থানীয়রা।রাজধানীর গুলশানের একটি গেস্ট হাউজ ও স্পা সেন্টারকে ঘিরে মিরাজের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। একই সঙ্গে সেখানে মাদকসেবী, মাদক কারবারি কিংবা মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কথিত আনাগোনা রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে মাদক ব্যবসা বা মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করার মতো আদালতসিদ্ধ তথ্য এই প্রতিবেদকের হাতে নেই। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত জরুরি।আরও পড়ুন: ডেঙ্গু ঠেকাতে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রীস্থানীয়দের প্রশ্ন, আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধিত ও অনুমোদিত কি না? তাদের ট্রেড লাইসেন্স, অগ্নিনিরাপত্তা, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না এ বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন। মিরাজের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার দাবি। কয়েকটি সূত্রের ভাষ্য, হোটেল ও গেস্ট হাউজ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে একটি বড় সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যার মাধ্যমে বিপুল অর্থ লেনদেন হয়।অভিযোগ রয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণী ও তরুণদের রাজধানীতে এনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজে নিয়োগ বা অন্য সুযোগ দেওয়ার কথা বলে তাদের একটি চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে তাদের ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করা হয় বলেও অভিযোগকারীদের দাবি। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো মামলার নথি, তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় এই প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।আরও পড়ুন: অনলাইন পোর্টাল ও ফেসবুক পেজ খুলেই কথিত ‘সাংবাদিক’!মানবপাচারের অভিযোগ সত্য হলে এটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মানবপাচারবিরোধী সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উচিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা।হোটেল ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, মিরাজ রাজধানীর হোটেল অঙ্গনে ‘মোল্লা মিরাজ’ নামে পরিচিত। ব্যবসায়িক যোগাযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন মহলে তার প্রভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে তার সামাজিক ও ব্যবসায়িক প্রভাবও বেড়েছে। বর্তমানে তিনি দামি গাড়িতে চলাফেরা করেন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে এমন কথাও শোনা যায়। মিরাজকে নিয়ে ইতিপূর্বে দৈনিক সংবাদ দিগন্তে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিকদের হুমকি-ধমকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ কিংবা হয়রানির চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করতে ভয়ভীতি বা চাপ প্রয়োগ করা হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগের বিষয়। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো পক্ষ যাতে সংবাদ প্রকাশের কারণে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা।আরও পড়ুন: শিকলে বেঁধে বেল্ট দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ, পরে গৃহবধূর মৃত্যুমিরাজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি বা ভিডিওকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। তবে কার কাছ থেকে কত টাকা আদায় করা হয়েছে বা এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়েছে কি না এমন নির্ভরযোগ্য নথি প্রতিবেদকের হাতে না থাকায় অভিযোগটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। যদি সত্যিই এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে থাকে, তাহলে ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তদন্ত করা সম্ভব। একজন সাধারণ কর্মচারী থেকে কয়েক বছরের ব্যবধানে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠলে স্বাভাবিকভাবেই সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। মিরাজের আয়কর নথি, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, ব্যাংক লেনদেন, সম্পত্তি ক্রয়ের দলিল এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স যাচাই করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। বিশেষ করে তার মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন হোটেল, স্পা ও গেস্ট হাউজগুলোর বৈধতা, অনুমোদন এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠান অন্য কারও নামে পরিচালিত হলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রক কে সেটিও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।আরও পড়ুন: বাঁধনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা, ‘আমরা সবাই বিচার চাই’: পাটওয়ারীরাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে হোটেল, গেস্ট হাউজ ও স্পা ব্যবসার আড়ালে যাতে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতে না পারে, সে বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাদক, মানবপাচার, অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা উচিত। অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্টদেরও আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকা প্রয়োজন।মিরাজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তার কাছ থেকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। দৈনিক সংবাদ দিগন্তের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হচ্ছে, এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক, মানবপাচার, অবৈধ সম্পদ ও ব্ল্যাকমেইলিং সংক্রান্ত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সূত্র ও অভিযোগকারীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। রাজধানীতে একজন সাধারণ কর্মচারী থেকে দ্রুত বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠার অভিযোগ এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘিরে ওঠা গুরুতর অভিযোগগুলো তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে এনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে। তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে মিরাজের বিপুল সম্পদের প্রকৃত উৎস কী এবং তার পরিচালিত হোটেল, স্পা ও গেস্ট হাউজ ব্যবসার আড়ালে আদৌ কোনো অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না।আরও পড়ুন: আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ডিএমপি, দুই দিনে ৩২০৬ মামলাআইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবৈধ ব্যবসা, মাদক, মানবপাচার, ব্ল্যাকমেইলিং কিংবা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা যথাযথভাবে তদন্ত ও প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। গণমাধ্যমে এসব অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে অভিযোগকে সরাসরি প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন না করে ‘অভিযোগ’ বা ‘সূত্রের দাবি’ হিসেবে উল্লেখ করা উচিত।বিশেষজ্ঞরা বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, ব্যবসায়িক নথি, সম্পত্তির দলিল, আয়কর নথি ও আর্থিক লেনদেন যাচাই করলে সম্পদের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়াও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আইন বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিককে ভয়ভীতি বা হুমকি দেওয়া হলে সেটিও আইনগতভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। সংবাদে আপত্তি থাকলে আইনসম্মতভাবে প্রতিবাদ বা প্রতিকার চাওয়া যায়; কিন্তু চাপ প্রয়োগ করে সংবাদ বন্ধের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। তাই মিরাজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন জরুরি।আরও পড়ুন: সকালেই মেঘে ঢাকা রাজধানী, দুপুরের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনাএবিষয়ে মিরাজের পরিচালিত গেস্ট হাউজ ও স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, গুলশান এলাকায় কোনো হোটেল, গেস্ট হাউজ বা স্পা সেন্টারের আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে পুলিশ তা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। আরও পড়ুন: পুলিশে বড় রদবদল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তা বদলিওসি আরও বলেন, গুলশান এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় এর আগে বিভিন্ন স্পা সেন্টারে অভিযান চালিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাদক, মানবপাচার, ব্ল্যাকমেইলিং কিংবা অন্য কোনো অপরাধের সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে তা পুলিশকে জানালে তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে: আইনমন্ত্রী

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আপিলের সুযোগ পাবেন কি না, তা প্রচলিত আইন ও আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।বুধবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেশত্যাগ করা শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে, নাকি তিনি আপিলের সুযোগ পাবেন—এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে এবং আপিল করতে চাইলে, আরও  পড়ুন, জুলাই আন্দোলনের দুই মামলায় সাবেক হুইপ আ স ম ফিরোজ গ্রেফতারতিনি আপিলের সুযোগ পাবেন কি না—তা আইন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তির আপিলের অধিকার আছে কি না, সেটিকে আলাদাভাবে ব্যক্তিবিশেষের জন্য ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। প্রচলিত আইন এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।এদিকে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটালাইজেশন প্রকল্প নিয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী।তিনি জানান, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা ডিজিটাল হলে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের পাশাপাশি বহুবিবাহ ও বিয়ে সংক্রান্ত বিভিন্ন জালিয়াতি ঠেকানো সম্ভব হবে।একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তির বৈবাহিক অবস্থার তথ্যও সহজে যাচাই করা যাবে বলে জানান তিনি।

জুলাই আন্দোলনের দুই মামলায় সাবেক হুইপ আ স ম ফিরোজ গ্রেফতার

চব্বিশের জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে দায়ের করা হত্যা ও হত্যাচেষ্টার পৃথক দুই মামলায় সাবেক হুইপ ও পটুয়াখালী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আদালত।বুধবার কারাগার থেকে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে যাত্রাবাড়ী থানার দুই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা পৃথকভাবে তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন।শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারা ফারজানা হক দুই মামলায় আ স ম ফিরোজকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুলাই আন্দোলন চলাকালে যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় গুলিতে নিহত হন আন্দোলনকারী ১৭ বছর বয়সী নাইম হাওলাদার।আরও  পড়ুন, পলিথিন-প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীরএ ঘটনায় ওই বছরের ২৪ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।এদিকে, একই দিনে একই এলাকায় গুলিতে আহত হন আন্দোলনকারী ২৪ বছর বয়সী তারেক চৌকিদার। এ ঘটনায় চলতি বছরের ২৬ মার্চ যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা হয় হত্যাচেষ্টা মামলা।এই দুই মামলায়ই আ স ম ফিরোজকে গ্রেফতার দেখানো হলো।এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।আদালতের আজকের আদেশের মধ্য দিয়ে জুলাই আন্দোলনকালে যাত্রাবাড়ীর সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা আরও দুই মামলায় সাবেক এই সংসদ সদস্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হলো।

পলিথিন-প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

পলিথিন ও প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনেরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।বুধবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক পর্যালোচনা সভা।সভায় পলিথিন ও প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে আইন প্রয়োগ আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে এ বিষয়ে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।আরও  পড়ুন, অবাধ-সুষ্ঠু স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিতে ইসি প্রস্তুত: সিইসিসভায় পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি বায়ু, পানি, মাটি ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা এবং পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালামসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।পলিথিন-প্লাস্টিকের দূষণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বায়ু, পানি, মাটি ও শব্দদূষণ কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারি উদ্যোগের বাস্তবায়ন আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সভায়।

অবাধ-সুষ্ঠু স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিতে ইসি প্রস্তুত: সিইসি

জাতীয় নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় এবার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জাতিকে একটি মানসম্মত স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব।বুধবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে ‘নির্বাচনি দায়িত্ব পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ’ কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।সিইসি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনিক সংস্থাগুলোর প্রতি জনগণের যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।জাতীয় নির্বাচনে প্রশাসনিক সংস্থাগুলো নিরপেক্ষতা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।আরও  পড়ুন, ১৭ সেপ্টেম্বর ফেনী যাচ্ছেন তারেক রহমান, বন্যা নিয়ন্ত্রণসহ উন্নয়নে বড় প্রত্যাশাএ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের প্রস্তুতি আরও ত্বরান্বিত করতে কাজ চলছে। একই উচ্চ মানদণ্ড বজায় রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সফল করতে প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।সিইসির মতে, যেকোনো কাজের মূল মাপকাঠি হলো তার ফলাফল। জাতীয় নির্বাচনে প্রশাসনিক সংস্থাগুলোর ভূমিকার মাধ্যমে যে সক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেই দক্ষতা কাজে লাগাতে হবে।তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং সমন্বিত প্রচেষ্টাই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার অন্যতম ভিত্তি।জাতীয় নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জনগণের আস্থা ধরে রাখাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এরই মধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

রাজনীতিরাজনীতি

‘আওয়ামী লীগ ক্লোজড চ্যাপ্টার, ভারতে গিয়ে দাফন হয়েছে’: সারজিস

‘আওয়ামী লীগ ক্লোজড চ্যাপ্টার, ভারতে গিয়ে দাফন হয়েছে’: সারজিস

‘আওয়ামী লীগ একটি ক্লোজড চ্যাপ্টার, বাংলাদেশে তাদের পতন হয়েছে, ভারতে গিয়ে দাফন হয়েছে’—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেছেন, বিএনপিকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হলেও দলটির কোনো অন্যায়ের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নয় এনসিপি। একই সঙ্গে বিএনপি জনআকাঙ্ক্ষা থেকে সরে গেলে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকা কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।মঙ্গলবার বিকেলে পটুয়াখালীতে এনসিপির জেলা শাখার সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সারজিস আলম।আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগ একটি ‘ক্লোজড চ্যাপ্টার’। বাংলাদেশে তাদের পতন হয়েছে এবং ভারতে গিয়ে তাদের দাফন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।বিএনপির বিষয়ে সারজিস আলম বলেন, দলটিকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হলেও তাদের কোনো অন্যায়ের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে আগ্রহী নয় এনসিপি। সব অন্যায়ের প্রতিবাদ করা হবে।তিনি বলেন, বিএনপিকে এসব ঘটনার লাগাম টেনে ধরতে হবে। ভোটের নেগোসিয়েশনের জন্য খুনি ও স্বৈরাচারদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার চিন্তা করা হলে তা হিতে বিপরীত হবে। কোনো সংকট তৈরি হলে তার প্রভাব সব দলের ওপরই পড়বে এবং বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় সংকটের অগ্রভাগ তাদেরই মোকাবিলা করতে হবে।আরও  পড়ুন, বাঁধনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা, ‘আমরা সবাই বিচার চাই’: পাটওয়ারীবিচার প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, বিএনপি ও বিচার বিভাগ যদি এসব বিষয়ে শাস্তি নিশ্চিত না করে, তাহলে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের নিয়ে আবারও রাজপথে নামতে হতে পারে এনসিপিকে।গত ছয় মাসে বিএনপি জনআকাঙ্ক্ষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে বিএনপি পাঁচ বছর ক্ষমতায় স্থায়ী হতে পারবে না।দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট নিয়েও কথা বলেন সারজিস। তিনি বলেন, জাতীয় সংকটের সময়ে বিএনপিকে সহযোগিতা করতে চায় এনসিপি। তবে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি কিনে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগ প্রসঙ্গে সারজিস বলেন, নিজেদের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অযোগ্য ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের দায় বিরোধী দলের ওপর চাপিয়ে তাদের দমন করার রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবে না।তিনি বলেন, জনগণের দুর্বিষহ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে লুটপাটের রাজনীতি করা হলে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে।পটুয়াখালীর এই কর্মসূচিতে এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। পরে সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালার মাধ্যমে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

বাঁধনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা, ‘আমরা সবাই বিচার চাই’: পাটওয়ারী

বাঁধনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা, ‘আমরা সবাই বিচার চাই’: পাটওয়ারী

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ও তার পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। হামলায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বাঁধনের বক্তব্য তুলে ধরে প্রতিক্রিয়া জানান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।স্ট্যাটাসে বাঁধনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি লেখেন—‘আজ ওখানে আমার সন্তানও থাকতে পারতো। এভাবে শান্তিতে থাকা যায় না। এগুলো বন্ধ করতে হবে। আমরা সবাই বিচার চাই। রাষ্ট্রের কাছে বিচার চাই।’পাটওয়ারী বলেন, জুলাইয়ের কঠিন সময়ে আজমেরী হক বাঁধন ছাত্র-জনতার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কণ্ঠ তুলেছেন, এমনকি রাজপথেও নেমেছিলেন।তার দাবি, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসর ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে পরিবারসহ হামলার শিকার হয়েছেন বাঁধন।আরও  পড়ুন ,সার সংকটে আমন চাষ ঝুঁকিতে, সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ জামায়াতেরহামলার সময় তাকে জোর করে ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ বলানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন এনসিপির এই নেতা।রাজনৈতিক স্লোগান ভয়, হুমকি কিংবা শক্তি প্রয়োগ করে কারও মুখে তুলে দেওয়ার চেষ্টা হলে সেটিকে রাজনৈতিক আদর্শ বলা যায় না বলেও মন্তব্য করেন পাটওয়ারী।তার ভাষায়, এমন আচরণ জবরদস্তি ও অসহিষ্ণুতার রাজনীতিতে পরিণত হয়।বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, জুলাইয়ে বাঁধন ছাত্র-জনতার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তার ও তার পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি প্রতিবাদ জানাচ্ছেন এবং বিচার দাবি করছেন।ভেনিসে আজমেরী হক বাঁধন ও তার পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনায় এনসিপির পক্ষ থেকে নিন্দা ও বিচার দাবি করা হয়েছে। তবে হামলার অভিযোগের বিস্তারিত কারণ এবং জড়িতদের বিষয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

সার সংকটে আমন চাষ ঝুঁকিতে, সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ জামায়াতের

সার সংকটে আমন চাষ ঝুঁকিতে, সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ জামায়াতের

দেশজুড়ে সার সংকটে আমন ধানের চাষ ঝুঁকিতে পড়েছে—এমন দাবি করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি কৃষকদের হাতে পর্যাপ্ত সার পৌঁছে দিতে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ করেন।বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, তীব্র সার সংকটের কারণে সারা দেশে আমন ধান চাষ চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। একইসঙ্গে মৌসুমি সবজিসহ অন্যান্য কৃষিপণ্যের উৎপাদনও কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।তার অভিযোগ, সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে প্রান্তিক কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না। এতে কৃষকদের বাড়তি ভোগান্তির পাশাপাশি কোথাও কোথাও তারা সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করতে বাধ্য হচ্ছেন।গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে গোলাম পরওয়ার আরও দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশি দামে সার বিক্রির ঘটনা ঘটছে। অনুমোদিত ডিলারের দোকানে সার না মিললেও খোলা বাজারে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।আরও  পড়ুন, জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত এমপিকে কমিটিতে রাখা নিয়ে বিতর্কবিবৃতিতে বলা হয়, রাজশাহী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় পর্যাপ্ত সার সরবরাহের দাবিতে কৃষকরা বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। কোথাও সারের গোডাউন থেকে লুটপাট এবং কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীকে অবরুদ্ধ করার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন জামায়াতের এই নেতা।এসব ঘটনাকে সার সংকটের তীব্রতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, কোথাও কোথাও সরকারদলীয় সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অধিক মুনাফার সুযোগ নিচ্ছে। তার দাবি, এ ধরনের সিন্ডিকেটের কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।কৃষকদের হয়রানি বন্ধ, সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং আমনসহ কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত এমপিকে কমিটিতে রাখা নিয়ে বিতর্ক

জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত এমপিকে কমিটিতে রাখা নিয়ে বিতর্ক

জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদীয় কমিটিতে রাখা নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে। পরে বিরোধী দলের আপত্তির পর সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটি থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়।সোমবার জাতীয় সংসদে সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটি গঠনের সময় এ ঘটনা ঘটে।কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান প্রশ্ন তোলেন, গাজী নজরুল ইসলাম বিরোধী দলের কোটা থেকে কমিটিতে এসেছেন কি না।জবাবে চিফ হুইপ জানান, সংসদে থাকা প্রত্যেক সদস্যকে অন্তত একটি কমিটিতে রাখার সুযোগ রয়েছে। তবে গাজী নজরুলকে বিরোধী দলের কোটা থেকে কমিটিতে রাখা হয়নি।এরপর বিষয়টি নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হয়।ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানানআড়ও পড়ুন,সম্পত্তি হস্তান্তর আইন প্রত্যাহারের দাবি জামায়াতেরগাজী নজরুল এর আগে একাধিক স্থায়ী কমিটিতে ছিলেন। বিরোধী দলের অনুরোধে তাঁকে সেসব কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।চিফ হুইপ বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ বহাল আছে, ততক্ষণ তাঁকে কোনো না কোনো কমিটিতে রাখার পক্ষে তিনি। কারণ দল থেকে বহিষ্কার হলেও এখনো তিনি সংসদ সদস্য।অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দল থেকে বহিষ্কার করলেই সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয় না। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বিপরীতে ভোট দেওয়া বা ভোটদানে বিরত থাকার বিষয়টি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের আওতায় পড়তে পারে।এ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, গাজী নজরুলকে তাঁরা নৈতিক কারণে দল থেকে বহিষ্কার করেছেন। তাই সংসদের কোনো কমিটিতে তাঁকে না রাখাই উত্তম।পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিরোধীদলীয় নেতার অনুরোধে গাজী নজরুলকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া যেতে পারে।শেষ পর্যন্ত গাজী নজরুল ইসলামের নাম বাদ দিয়ে সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গত ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। তাঁর সংসদ সদস্য পদ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠিও দিয়েছিল দলটি। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল রয়েছে।

সারাবাংলা

ওসি একরাম উল্লাহর নেতৃত্বে সদরঘাটে বিশেষ অভিযানে জুয়ার আসর থেকে ৬ জন আটক

ওসি একরাম উল্লাহর নেতৃত্বে সদরঘাটে বিশেষ অভিযানে জুয়ার আসর থেকে ৬ জন আটক

চট্টগ্রাম মহানগরীর সদরঘাট এলাকায় অবৈধ জুয়ার আসরের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়ে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে সদরঘাট থানা পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলায় লিপ্ত থাকা ৬ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৬ হাজার ৭১০ টাকা এবং জুয়া খেলার একটি বিশেষ সরঞ্জাম উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অপরাধ দমনে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।পুলিশ জানায়, সদরঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ একরাম উল্লাহর নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মোবাইল-২৪ (নৈশ) ডিউটিতে নিয়োজিত এসআই (নিরস্ত্র) মো. মনির উদ্দিন ও সঙ্গীয় ফোর্স অংশ নেয়।গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদরঘাট থানাধীন পূর্ব মাদারবাড়ি যাত্রী পারাপার সাম্পান ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলায় জড়িত অবস্থায় ৬ জনকে আটক করা হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন,মো. হারুন (৫০), রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা, মো. জাকির (২৮), হবিগঞ্জের বানিয়াচং এলাকার বাসিন্দা (বর্তমানে সদরঘাট সাহেবপাড়া এলাকায় বসবাসরত), মো. ইমাম উদ্দিন (৪৯), নোয়াখালীর সুধারাম এলাকার বাসিন্দা (বর্তমানে বায়েজীদ বোস্তামী এলাকায় বসবাসরত),আরও  পড়ুন, আসামির জামিনের পর প্রতিপক্ষের মানববন্ধন, আদালত-প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগ মো. নিরব (৪৫), ভোলা সদর এলাকার বাসিন্দা (বর্তমানে সদরঘাট মরিচাপাড়া এলাকায় বসবাসরত), মো. আব্দুর রহমান (৩৩), নোয়াখালীর হাতিয়া এলাকার বাসিন্দা (বর্তমানে বায়েজীদ বোস্তামী এলাকায় বসবাসরত), মো. মেহেদী (২৩), কক্সবাজারের রামু এলাকার বাসিন্দা (বর্তমানে সদরঘাট সাহেবপাড়া এলাকায় বসবাসরত)।অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে নগদ ৬ হাজার ৭১০ টাকা এবং একটি জুয়া খেলার হুইল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ওই হুইলে বিভিন্ন প্রাণী ও মানুষের ছবি সংযুক্ত ছিল, যা জুয়া খেলার কাজে ব্যবহৃত হতো বলে পুলিশ জানিয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত আলামত জব্দ তালিকার মাধ্যমে জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সদরঘাট থানায় নন-এফআইআর প্রসিকিউশন নম্বর-২৬৭, তারিখ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে সিএমপি অধ্যাদেশের ৯৪ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।সিএমপি সদরঘাট থানা জানিয়েছে, নগরীতে অবৈধ জুয়া, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও জনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আসামির জামিনের পর প্রতিপক্ষের মানববন্ধন, আদালত-প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগ

আসামির জামিনের পর প্রতিপক্ষের মানববন্ধন, আদালত-প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগ

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে পৈতৃক ভিটায় বসবাসের অধিকার ও নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন একটি পক্ষ। তবে মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে আদালতের দেওয়া জামিন আদেশ, প্রশাসনের ভূমিকা এবং ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। মানববন্ধনকারীদের বিরুদ্ধে মামলার জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ করা হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের কৃষ্টপুর ঈদগাহ মাঠ এলাকায় মৎস্যজীবী শফিকুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে সাদ্দাম হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলা, বসতঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধরের অভিযোগ তুলে জামিনে থাকা আসামিদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ, এলাকা ছাড়ার ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করা হয়। তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে সাদ্দাম হোসেনের পক্ষের লোকজন বলেন, মামলার ঘটনায় একতরফাভাবে তাদের দায়ী করা হচ্ছে। আব্দুর রাজ্জাকের দাবি, বসতঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা শফিকুল ইসলামের লোকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘটিয়ে তাদের ওপর দায় চাপিয়েছে। তাই মামলার অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে মানববন্ধনের ব্যানারে ‘এলাকাবাসী’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের একটি অংশ। তাদের ভাষ্য, কর্মসূচিতে একটি পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের অংশগ্রহণ থাকলেও বৃহত্তর এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট প্রতিনিধিত্ব বা পৃথক বক্তব্য দেখা যায়নি। ফলে এটি এলাকাবাসীর সম্মিলিত কর্মসূচি নাকি একটি পক্ষের অবস্থান—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আদালত থেকে জামিন পাওয়া আসামির আইনগত অধিকার।আরও  পড়ুন, মধ্যনগরে মাদক বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে ওসি'র ব্যতিক্রমি উদ্যোগ জামিনের বিষয়ে কোনো পক্ষের আপত্তি থাকলে আইনগতভাবে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে জামিনের পর কোনো পক্ষ হুমকি বা হয়রানির শিকার হলে তারও আইনগত প্রতিকার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। উভয় পক্ষের অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করাই সমাধানের পথ। তাদের দাবি, মানববন্ধনের নামে বেআইনি বক্তব্য, উসকানি বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি উভয় পক্ষের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।অভিযোগের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। বরং প্রতিপক্ষের লোকজন বিভিন্ন সময়ে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। জামিনের পর কোনো আসামি হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকলে বাদী পক্ষ তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতকে বিষয়টি অবহিত করতে পারেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে পুলিশকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। তবে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা শফিকুল ইসলামের পক্ষ থেকে আদালত হয়ে থানায় আসেনি। মানববন্ধন করেছেন কি না, তা শফিকুল ইসলামই ভালো বলতে পারবেন।

মধ্যনগরে মাদক বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে ওসি'র ব্যতিক্রমি উদ্যোগ

মধ্যনগরে মাদক বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে ওসি'র ব্যতিক্রমি উদ্যোগ

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার সবকটি  উচ্চ বিদ্যালয়ে মধ্যনগর থানার ওসি'র মাদক বিরোধী প্রচারণা। ক্রমান্বয়ে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে, সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে মাদক বিরোধী ও সমাজে জনসচেতনতা বিষয়ক আলোচনা সভা করছেন। তাছাড়া বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধ এবং বন্ধ করতে, শিক্ষক ও ছাত্র ছাত্রীর অগ্রণী ভুমিকা পালন করার জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। এমনকি শিক্ষার্থীসহ সচেতন নাগরিকদের পরামর্শ দিতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ঘুরছেন।এরিমাঝে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টার দিকে মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয়ে অপরাধ বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়।  সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মধ্যনগর থানার অফিসার ইনচার্জ কে এম শাহাবুদ্দিন শাহীন পিপিএম। মধ্যনগর থানা পুলিশের আয়োজিত এ সভায় সুশৃঙ্খল বাংলাদেশ গড়তে,প্রতিটি মানুষের জনসচেতনতা অপরিহার্য। সমাজের অপরাধ দমন করতে যুবসমাজের সৃজনশীলতাসহ, সকল শ্রেনীর মানুষ রাষ্ট্রীয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করার জন্য আলোচনা করা হয়।এছাড়াও শিক্ষক, শিক্ষার্থী,সুধীমহলের মাঝে যৌথ মাদক বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলে অপরাধীদের চিহ্নিত করেতে হবে। তাছাড়াও বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং এবং নৈতিকতা বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টির আলোচনা করা হয়।আরও  পড়ুন, রূপপুরের ৩৩৬ কোটি টাকার রেলপথটি এখন কাশবন, চলেনি একটি ট্রেনওপ্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি কে এম শাহাবুদ্দিন শাহীন বলেন, মাদক, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং বর্তমান সমাজের জন্য বড় অভিশাপ। এই কুসংস্কার গুলোকে রুখে দিতে হলে শিক্ষার্থীদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের নজরে রাখতে হবে। মোবাইল অপব্যবহার করে যেন কেউ বিপদগামী না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে ।তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, জীবনে সফল হতে হলে সবার আগে মা-বাবার সাথে ভালো আচরণ করতে হবে। মা-বাবার দোয়া ও শিক্ষকদের পরামর্শ মেনে চললে জীবনে উন্নতি নিশ্চিত হবে। নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়ে, তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। শিক্ষার্থীদের প্রচলিত আইনের বিধি বিধান মেনে চলা এবং সাইবার অপরাধ সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়াও অবশ্যই দেশপ্রেমের উদ্বুদ্ধ হওয়া জরুরি। পরিশেষে কমল মতি ছাত্র ছাত্রীদের লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।এসময় অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবকবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে শিক্ষার্থীরা থানা প্রশাসনের এই সচেতনতামূলক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।

রূপপুরের ৩৩৬ কোটি টাকার রেলপথটি এখন কাশবন, চলেনি একটি ট্রেনও

রূপপুরের ৩৩৬ কোটি টাকার রেলপথটি এখন কাশবন, চলেনি একটি ট্রেনও

উদ্বোধনের তিন বছর অতিবাহিত হয়েছে ইতোমধ্যেই। ৩৩৬ কোটি টাকার ২৬ দশমিক ৫২ কিলোমিটারের রেলপথটি এখন কাশবন, লতাপাতা আর জঙ্গলে আবৃত। ঢাকঢোল পিটিয়ে উদ্বোধন করা ‘রূপপুর স্টেশন’ টি বর্তমানে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য দর্শনীয় স্থান হিসেবে ব্যপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।  অথচ ঈশ্বরদী ইপিজেড ও রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পের মালপত্র পরিবহনের জন্য প্রায় ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ঈশ্বরদী-রূপপুরের মধ্যে সংযোগকারী এই রেলপথ। দু-একটা শান্টিং মালবাহী খালি বগি আর রেল কর্মকর্তাদের নিয়ে মোটরট্রলি ছাড়া এ রেলপথে চলেনি কোনো ট্রেন। ২৬ দশমিক ৫২ কিলোমিটারের রেলপথটি এখন ব্যবহৃত হচ্ছে ‘ওয়াগন ইয়ার্ড’ হিসেবে। ২০২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাঁকজমক করে এমপি, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দেশি-বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে ঈশ্বরদী-রূপপুর রেলপথ এবং রূপপুর রেলস্টেশন ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী (বর্তমানে ক্ষমতাচ্যুত) শেখ হাসিনা। স্টেশনটি হার্ডিঞ্জ সেতুর কাছে ফাঁকা স্থানে হওয়ায় অনেকে সেখানে অবসর সময়ে বেড়াতে যান। কিন্তু স্টেশনের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি গত সাড়ে তিন বছরে।জানা গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভারী যন্ত্রপাতি প্রকল্পের অভ্যন্তরে পৌঁছাতে এবং লোড-আনলোডের জন্য তৈরি করা হয় রূপপুর রেলস্টেশন ও ঈশ্বরদী-রূপপুর রেলপথ। এ ছাড়া ঈশ্বরদী ইপিজেডের মালপত্র এই রেলপথে পরিবহনের কথাও ছিল। উদ্বোধনের প্রায় সাড়ে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও এক ছটাক পণ্যও পরিবহন হয়নি এই রেলপথে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেলপথ ও স্টেশন নির্মিত হলেও এখনও প্রকল্পের বিভিন্ন মালপত্র ও ভারী যন্ত্রাংশ নদী ও সড়কপথেই আনা হচ্ছে রূপপুর প্রকল্পে। রূপপুর প্রকল্প ও রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই রেলপথ ও স্টেশন নির্মাণ করে রেল কর্তৃপক্ষ। ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন থেকে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন হয়ে রূপপুর পর্যন্ত ২৬ দশমিক ৫২ কিলোমিটার রেলপথ ও রূপপুর নামে একটি রেলস্টেশন নির্মাণ করা হয়।আরও  পড়ুন, গাজীপুরে ডেঙ্গুর ভয়াবহ ছোবল, হাসপাতালে বাড়ছে চাপএর মধ্যে ১৩টি লেভেল ক্রসিং, সাতটি বক্স কালভার্ট নির্মাণ এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য কম্পিউটার বেইজ কালার লাইট সিগন্যালিং সিস্টেম স্থাপন করা হয়। এসব কর্মযজ্ঞে ব্যয় হয় ৩৩৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এই রেলস্টেশন ও রেলপথ উদ্বোধনের সময় প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছিলেন, এখান থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালপত্র ও ভারী যন্ত্রপাতি আনা-নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি ইপিজেডের মালপত্র পরিবহন করা হবে।সম্প্রতি রূপপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পাকশীর পদ্মা নদীর কোল ঘেঁষে আধুনিক স্টেশনটি জনশূন্য। রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। প্ল্যাটফর্মে ময়লা জমে আছে। টিকিট কাউন্টার, মালপত্র বুকিং কক্ষ, অতিথিশালা, ভিআইপি কক্ষ, প্রথম শ্রেণির বিশ্রামাগার, স্টেশন মাস্টার, সহকারী স্টেশন মাস্টারের কক্ষসহ সব কক্ষই তালাবন্ধ। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক সদস্য বলেন, ‘স্টেশন থেকে যে রাস্তা রয়েছে, সেটি হার্ডিঞ্জ সেতুর নিচ দিয়ে। এদিক দিয়ে মালপত্র আনা-নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। শুনেছি এজন্যই নাকি মালপত্র লোড-আনলোড করা হচ্ছে না।’পাকশী বিভাগীয় রেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই রেলপথে পাকশী বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনে মোটরট্রলি চালানো হয়ে থাকে। স্টেশন ইয়ার্ডে রেলের নতুন কিছু ওয়াগন ও কোচ রাখা হয়েছে, যেগুলো ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা। স্থান সংকুলান ও নিরাপত্তার অভাবে বর্তমানে রূপপুর স্টেশনে এসব কোচ এনে রাখা হয়েছে। নতুন রেলপথ দিয়ে রূপপুর প্রকল্পের জন্য কোনো মালপত্র এখনও আনা-নেওয়া হয়নি। পাকশী বিভাগীয় বাণ্যিজ্যিক কর্মকর্তা মোশারেফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এখনও এ রেলপথে বাণিজ্যিকভাবে কোনো ট্রেন চলাচল করেনি।রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম বলেন, রূপপুর প্রকল্পের জন্য এ রেলপথ ও স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। তারাই এটি ব্যবহার করবে। এখন হয়তো ব্যবহার হচ্ছে না, কিন্তু ভবিষ্যতে রূপপুর প্রকল্পের কাজে অনেক বেশি ব্যবহার হতে পারে।

আন্তর্জাতিক

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায় মার্কিন জাহাজ

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায় মার্কিন জাহাজ

ইরানের তৈরি ডেস্ট্রয়ার-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র প্রথমবারের মতো একটি মার্কিন জাহাজকে লক্ষ্য করে ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজায়ী।টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজায়ী বলেন, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রথমবারের মতো একটি মার্কিন জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানি ডেস্ট্রয়ার-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়।তার দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রভাবে মার্কিন জাহাজটি ওই এলাকা থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়।তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে এখনো সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড।এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের বিপ্লবী গার্ডকে কঠোর সতর্কবার্তা দেয় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি জাহাজে হামলা চালানো হলে এর চেয়েও বড় অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হবে। আড়ও পড়ুন,আগ্নেয় ছাইয়ে জাকার্তা, বাতিল ৩০১ ফ্লাইট; নেই সুনামির ঝুঁকিএকই সঙ্গে ইরানের তিনটি জাহাজ ধ্বংস করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে তারা দ্বিধা করবে না বলেও জানানো হয়েছে।এমনকি প্রয়োজনে ইরানের সীমিত ও ঝুঁকিপূর্ণ তেলবাহী জাহাজের বহর ধ্বংস করা হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সাবেক কমান্ডার মোহসেন রেজায়ী ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছেন।তার দাবি, ইরানের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া পরিচালিত জাহাজগুলোকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হতে পারে। এতে বীমা জটিলতার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এসব জাহাজের চলাচলেও নানা ধরনের বাধা তৈরি হতে পারে।ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারির মধ্যে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি।তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি এবং মার্কিন জাহাজ সরে যাওয়ার দাবির স্বাধীন কোনো নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি।

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানী

মেইন লাইন থেকে সরাসরি সংযোগ, রাজধানীতে প্রকাশ্যেই চলছে অবৈধ অটোরিকশা চার্জিং

মেইন লাইন থেকে সরাসরি সংযোগ, রাজধানীতে প্রকাশ্যেই চলছে অবৈধ অটোরিকশা চার্জিং

রাজধানীর ব্যস্ত এলাকাগুলোতে প্রকাশ্যেই চলছে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার ব্যবসা। কোথাও বিদ্যুতের মেইন লাইন থেকে সরাসরি সংযোগ, আবার কোথাও আবাসিক মিটারের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সারিবদ্ধ অটোরিকশা চার্জ দেওয়া হচ্ছে। অধিকাংশ চার্জিং পয়েন্টের অনুমোদন নেই বলে অভিযোগ। মাঝেমধ্যে অভিযান হলেও বন্ধ হচ্ছে না এই অবৈধ কার্যক্রম।রাজধানীর তেজগাঁও। মেইন লাইন থেকে টেনে নেওয়া হয়েছে তার। সেই সংযোগেই চলছে একের পর এক অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ।প্রতিটি গাড়ির জন্য নেওয়া হচ্ছে নির্দিষ্ট ফি। অথচ চার্জিং পয়েন্টটির বৈধ অনুমোদন আছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।ক্যামেরার উপস্থিতি টের পেয়ে গ্যারেজের মালিক সরে গেলেও প্রকাশ্যেই চলছিল বিদ্যুৎ ব্যবহার করে অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার কার্যক্রম।একই চিত্র মোহাম্মদপুরের একটি আবাসিক এলাকায়। সরু গলির শেষ প্রান্তে টিনশেডের গ্যারেজে প্রায় ৩০টি অটোরিকশা চার্জ দেওয়া হচ্ছে আবাসিক সংযোগের বিদ্যুতে।সংশ্লিষ্টদের দাবি, তারা নিয়ম মেনেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। তবে আবাসিক মিটারে বাণিজ্যিকভাবে এতগুলো অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার অনুমোদন আছে কি না, সে বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা মেলেনি।আরও  পড়ুন, শিকলে বেঁধে বেল্ট দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ, পরে গৃহবধূর মৃত্যুসিপিডির তথ্য অনুযায়ী, দেশে অটোরিকশার সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। এর মধ্যে রাজধানীতেই রয়েছে প্রায় ১৫ লাখ।ঢাকা মহানগর পুলিশের তথ্য বলছে, রাজধানীর আটটি অপরাধ বিভাগে রয়েছে প্রায় ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট এবং ৯৯২টি গ্যারেজ। আর এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।সিপিডির হিসাবে, দেশে দৈনিক উৎপাদিত মোট বিদ্যুতের প্রায় ৫ শতাংশ—প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াট—অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জে ব্যবহৃত হয়। এর বড় একটি অংশ অবৈধভাবে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবৈধ সংযোগের কারণে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি বাড়ছে বিদ্যুতের অপচয় ও নগরবাসীর দুর্ভোগ।অভিযোগ রয়েছে, অভিযান চালিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরও কয়েক দিনের মধ্যে অনেক জায়গায় আবার চালু হয়ে যায় এই ব্যবসা।রাজধানীতে অটোরিকশার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ব্যাটারি চার্জিংয়ের চাহিদাও। কিন্তু অনুমোদনহীন চার্জিং পয়েন্টের বিস্তার ঠেকাতে নিয়মিত ও কার্যকর নজরদারি না থাকলে বিদ্যুৎ অপচয়, রাজস্ব ক্ষতি এবং নিরাপত্তাঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

খেলাধুলা

টানা চার জয়, অপরাজিত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মেয়েরা

টানা চার জয়, অপরাজিত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মেয়েরা

জুনিয়র নারী এশিয়া কাপ হকিতে দুর্দান্ত ছন্দে বাংলাদেশ। চ্যালেঞ্জার পুলে টানা চার ম্যাচ জিতে অপরাজিত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সবশেষ ম্যাচে হংকংকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।চীনের ইনার মঙ্গোলিয়ার মোকি ট্রেনিং গ্রাউন্ডে শুরু থেকেই হংকংয়ের ওপর আক্রমণের ঝড় তোলে বাংলাদেশ।ম্যাচের নবম মিনিটেই আসে প্রথম গোল। পেনাল্টি কর্নার থেকে অধিনায়ক শারিকা রিমনের গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও থামেনি বাংলাদেশের আক্রমণ। ১৯ মিনিটে দুর্দান্ত ফিল্ড গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আইরিন আক্তার রিয়া। সাত মিনিট পর, ২৬ মিনিটে তৃতীয় গোলটি করেন কণা আক্তার।তৃতীয় কোয়ার্টারের শুরুতেই আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে আসে দুটি গোল।আরও  পড়ুন, কোর্তোয়ার দুর্দান্ত নৈপুণ্য, ইন্টারকে হারিয়ে রিয়ালের জয়৩১ মিনিটে মোসাম্মত লিমার গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০। এরপর ৩৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে বাংলাদেশের লিড আরও বাড়িয়ে দেন আইরিন রিয়া।শেষ কোয়ার্টারেও হংকংকে কোনো সুযোগ দেয়নি বাংলাদেশ। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন মোসাম্মত লিমা। তাঁর গোলে ৬-০ ব্যবধানে বিশাল জয় নিশ্চিত করে লাল-সবুজের দল।এই জয়ে চ্যালেঞ্জার পুলে চার ম্যাচ থেকে বাংলাদেশের সংগ্রহ পূর্ণ ১২ পয়েন্ট। এর আগে চাইনিজ তাইপে, পাকিস্তান ও কাজাখস্তানকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।টানা চার জয়ে অপরাজিত থেকেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা।চ্যালেঞ্জার পুল থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে কাজাখস্তান ও পাকিস্তান। আর এলিট পুল থেকে যোগ দিয়েছে স্বাগতিক চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও মালয়েশিয়া।সব মিলিয়ে শেষ আটে লড়বে এশিয়ার আটটি দল।চার ম্যাচে চার জয়, ১২ পয়েন্ট আর হংকংয়ের বিপক্ষে ছয় গোল—সব মিলিয়ে দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাস নিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল বাংলাদেশের মেয়েরা। এখন লক্ষ্য, শেষ আটের বাধা পেরিয়ে আরও বড় সাফল্য অর্জন।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর