দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

আজকের আবহাওয়া

ঢাকা 1001.9 hPa
31.2° 67%
300° 3mm
চট্টগ্রাম 1001.9 hPa
31° 69%
300° 3mm
রাজশাহী 1001.5 hPa
32.4° 74%
300° 3mm
খুলনা 999.9 hPa
28.8° 92%
3mm
বরিশাল 1000.5 hPa
29.4° 85%
220° 3mm
সিলেট 1003.9 hPa
32° 74%
3mm
রংপুর 1001.7 hPa
32.6° 70%
3mm
ময়মনসিংহ 1002.6 hPa
30.7° 83%
20° 3mm
Weather

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

অনলাইন পোর্টাল ও ফেসবুক পেজ খুলেই  কথিত ‘সাংবাদিক’!

অনলাইন পোর্টাল ও ফেসবুক পেজ খুলেই কথিত ‘সাংবাদিক’!

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ফেসবুক পেজ ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক তথাকথিত সংবাদ প্ল্যাটফর্মের সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে কিছু প্ল্যাটফর্ম প্রকৃত সাংবাদিকতা ও জনস্বার্থের সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও অভিযোগ রয়েছে, একটি অংশ সংবাদ প্রকাশের আড়ালে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি, মানহানি এবং চাঁদা দাবির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এতে শুধু সাধারণ মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নয়, পেশাদার ও মূলধারার সাংবাদিকরাও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।আরও পড়ুন: গ্রাহকের অর্থ কোথায়? Divine Group-এর প্রকল্প ও সম্পদসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি ও পেশাজীবীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউজ, স্পা সেন্টার, রেস্টুরেন্ট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সেক্টরে গিয়ে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তথ্য সংগ্রহের নামে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তাদের কেউ কেউ আবার কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দাবিকৃত অর্থ দিতে রাজি না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক পোস্ট দেওয়া হয়। কখনো একই ধরনের সংবাদ বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে নেওয়া হয়, যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সামাজিক ও ব্যবসায়িকভাবে চাপে পড়ে।সাংবাদিক মহলে এমন একটি ঘটনার কথাও আলোচনা রয়েছে। এক ব্যক্তি কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ভাই, ২৬টি অনলাইনে ও পেজে নিউজ হয়েছে।’ সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এ ধরনের বক্তব্য অনেক সময় আতঙ্ক তৈরি এবং নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে একটি সংবাদ কতটি পেজ বা ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে, সেটিই যে সংবাদটির সত্যতা প্রমাণ কওে এমন ধারণা সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং একই উৎস থেকে যাচাইহীন তথ্য কপি করে অসংখ্য পেজে প্রকাশিত হলে সেটি জনমনে বিভ্রান্তি আরও বাড়াতে পারে। একটি মহল কোনমতে ১৫০০-২০০০ টাকা দিয়ে অনলাইন পোর্টাল খুলেই তিনি সাংবাদিক। অথচ নেই কোন নিবন্ধন।আরও পড়ুন: বনানীতে ফের সক্রিয় অপরাধচক্র, পুলিশের মাসোহারাসাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হলো তথ্যের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া, প্রমাণ সংগ্রহ এবং জনস্বার্থ বিবেচনা করে সংবাদ প্রকাশ করা। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার পর সংবাদ মুছে ফেলা কিংবা অর্থ না দিলে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হলে তা সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থী এবং গুরুতর অপরাধের অভিযোগের জন্ম দিতে পারে। রাজধানীর কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ করেছেন, কোনো কোনো অনলাইন পেজে তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ দাবি করা হয়। অর্থ পরিশোধের পর সেই সংবাদ সরিয়ে ফেলার বা পোস্ট মুছে দেওয়ার কথাও শোনা যায়।এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কারণ কোনো সংবাদ ভুল, অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর প্রমাণিত হলে সংশোধন বা প্রত্যাহারের একটি স্বাভাবিক সম্পাদকীয় প্রক্রিয়া থাকতে পারে। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশ বা মুছে ফেলা হলে সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্টদের মতে, সংবাদ প্রকাশ ও বাণিজ্যিক লেনদেনের মধ্যে স্বচ্ছ সীমারেখা থাকা প্রয়োজন। বিজ্ঞাপন বা বৈধ বাণিজ্যিক চুক্তিকে সংবাদ প্রকাশের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলা যেমন অনৈতিক, তেমনি সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও তদন্তের আওতায় আসা উচিত।আরও পড়ুন:  বনানীতে স্পা-গেস্ট হাউজ ঘিরে ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগঅনিবন্ধিত ও পরিচয়হীন অনলাইন পেজের বিস্তারে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা পেশায় থাকা সংবাদকর্মীরা। কারণ সাধারণ মানুষ অনেক সময় একটি ফেসবুক পেজের নামের সঙ্গে ‘নিউজ’, ‘প্রেস’, ‘মিডিয়া’ বা ‘সাংবাদিক’ শব্দ থাকলেই সেটিকে গণমাধ্যম হিসেবে ধরে নেন। ফলে কে প্রকৃত সাংবাদিক, কে সংবাদমাধ্যমের অনুমোদিত প্রতিনিধি এবং কে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পেজ পরিচালনা করছেন তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। পেশাদার সাংবাদিকদের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ালে পুরো সাংবাদিক সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হলেও সাধারণ মানুষের চোখে তা অনেক সময় ‘সাংবাদিকদের কর্মকাণ্ড’ হিসেবে প্রতিভাত হয়।আরও পড়ুন: বনানীর আবাসিক ভবনে স্পা-গেস্ট হাউজ এখন অন্ধকার জগৎএকজন পেশাদার সাংবাদিক বলেন, ‘আমরা দিনের পর দিন তথ্য সংগ্রহ করি, মানুষের বক্তব্য নিই, নথিপত্র যাচাই করি। কিন্তু কেউ যদি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেন, তাহলে তার দায় শেষ পর্যন্ত আমাদের পেশার ওপর এসে পড়ে। রাজধানীর বিভিন্ন স্পা সেন্টার, আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউজ ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক পরিচয়ে অর্থ দাবির অভিযোগ সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। অভিযোগ রয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কথিত সাংবাদিকরা প্রথমে ভিডিও ধারণ, ছবি তোলা কিংবা তথ্য সংগ্রহের কথা বলেন। এরপর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘বড় নিউজ’ করার কথা বলে চাপ সৃষ্টি করা হয়। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী কখনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড, কখনো মাদক, কখনো অবৈধ ব্যবসা কিংবা প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশের মতো গুরুতর বিষয় সামনে আনা হয়।তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি সত্য কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠান সত্যিই আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের বক্তব্যসহ সংবাদ প্রকাশ করা। আর অভিযোগের আড়ালে যদি অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়, তাহলে সেটি সাংবাদিকতা নয়—বরং সাংবাদিকতার পরিচয়কে অপব্যবহারের অভিযোগ। ফেসবুকভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ দিক হলো যাচাই ছাড়াই ব্যক্তির ছবি, নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা। কোনো অভিযোগের তদন্ত বা বিচার শেষ হওয়ার আগেই কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করলে তার সামাজিক মর্যাদা, ব্যবসা এবং ব্যক্তিগত জীবনে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।বিশেষ করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাদক, যৌন হয়রানি, প্রতারণা, চাঁদাবাজি কিংবা অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে শক্ত প্রমাণ ছাড়া সিদ্ধান্তমূলক ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়। সাংবাদিকতার নীতি অনুযায়ী অভিযোগের পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য নেওয়া, প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় সংবাদ ও অপপ্রচারের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে।আরও পড়ুন: গুম-খুন ও জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকবে প্রধানমন্ত্রীসংশ্লিষ্ট মহলে সবচেয়ে গুরুতর যে অভিযোগটি ঘুরছে, তা হলো কথিত কিছু অনলাইন পেজে অর্থের বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশ বা অপসারণের ঘটনা। যদিও এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ, লেনদেনের নথি, অডিও-ভিডিও বা প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তদন্ত প্রয়োজন। যদি কোনো ব্যক্তি সত্যিই সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করেন, তাহলে ভুক্তভোগীর উচিত বিষয়টি গোপনে অর্থ দিয়ে মিটিয়ে ফেলার পরিবর্তে আইনগতভাবে অভিযোগ করা এবং প্রমাণ সংরক্ষণ করা। কারণ অর্থ প্রদান করে বিষয়টি মিটিয়ে ফেললে এ ধরনের চক্র আরও উৎসাহিত হতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয় যাচাইয়ের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলছেন পেশাজীবীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মতে, কেউ সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদা দাবি করলে বিষয়টি সাংবাদিকতার স্বাধীনতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কিন্তু সেই স্বাধীনতার আড়ালে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের আওতায় আসতে হবে।আরও পড়ুন: অপরাধ দমনে কঠোর গুলশান পুলিশ, স্পা সেন্টারে অভিযানএকই সঙ্গে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। প্রকৃত সাংবাদিকদের হয়রানি বা সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি সাংবাদিক পরিচয়ে কেউ অপরাধ করলে তাকেও পেশাগত পরিচয়ের কারণে ছাড় দেওয়া উচিত নয়।সংশ্লিষ্টদের মতে, অনলাইন গণমাধ্যমের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোনটি নিবন্ধিত বা বৈধভাবে পরিচালিত সংবাদমাধ্যম এবং কোনটি ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজ—এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। একটি ফেসবুক পেজ থাকা আর একটি প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যম পরিচালনা করা এক বিষয় নয়। সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় কাঠামো, দায়িত্বশীল সম্পাদক, প্রকাশনা সংক্রান্ত তথ্য, সাংবাদিকদের পরিচয় এবং সংবাদ প্রকাশের নীতিমালা সম্পর্কে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের উচিত বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়নের পাশাপাশি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের পরিচয় ও নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করা।সাংবাদিক নেতারা বলছেন, কোনো ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রকৃত সাংবাদিকরাই উপকৃত হবেন। কারণ অপরাধীদের কারণে পুরো পেশা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া বন্ধ হবে। তাদের মতে, সংবাদ প্রকাশের নামে অর্থ দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং অর্থের বিনিময়ে সংবাদ মুছে ফেলার মতো অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রকৃত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতাও নিশ্চিত করতে হবে।সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইহীন সংবাদ, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সামাজিক বিরোধ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। একদিকে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে প্রকৃত সাংবাদিকদের ওপরও মানুষের আস্থা কমে যেতে পারে। তাই অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী ঘোষণা না করে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা জরুরি।বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ যেমন কঠোরভাবে তদন্ত করা দরকার, তেমনি কোনো সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিককে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে হয়রানি করাও উচিত নয়। প্রমাণ, নথি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিটি ঘটনা যাচাই করা প্রয়োজন।সবশেষে বলা যায়, প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি অপব্যবহারের ঝুঁকিও বেড়েছে। একটি ফেসবুক পেজের কয়েক হাজার অনুসারী থাকা তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়িত্বশীল গণমাধ্যমে পরিণত করে না। সংবাদ হলো জনস্বার্থের বিষয়; সেটিকে ব্যক্তিগত স্বার্থ, ভয়ভীতি বা অর্থ আদায়ের হাতিয়ার বানানো হলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো সমাজ। তাই অনিবন্ধিত বা পরিচয়হীন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নামে ওঠা চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং একই সঙ্গে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি এখন জোরালো হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে একদিকে সাধারণ মানুষ সুরক্ষা পাবে, অন্যদিকে সাংবাদিকতার পেশার প্রতি মানুষের আস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অপরাধ দমনের নির্দেশ আইজিপির

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অপরাধ দমনে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক আইজিপি আলী হোসেন ফকির।শনিবার রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ত্রৈমাসিক সম্মেলনের শেষ অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে এ নির্দেশ দেন তিনি।আইজিপি বলেন, সব ধরনের অপপ্রচার ও গুজবের বিষয়ে পুলিশকে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অপরাধ বা ঘটনা ঘটার আগেই আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।তিনি বলেন, পুলিশ দেশের জন্য এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।সম্মেলনে এপ্রিল থেকে জুন ২০২৬—এই তিন মাসের দেশের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি তুলে ধরেন অতিরিক্ত আইজি ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস খোন্দকার রফিকুল ইসলাম।আরও  পড়ুন, ভারী বৃষ্টিতে বাড়বে নদীর পানি, দুই জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবনের শঙ্কাসভায় ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, ধর্ষণ, পুলিশ আক্রান্ত ও অপহরণ মামলা, মুলতবি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তদন্ত, বিচার এবং সাজার হার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।এ সময় ডাকাতি ও ধর্ষণ মামলার তদন্ত বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পুলিশ আক্রান্তের মামলাগুলো আরও গুরুত্ব দিয়ে তদারকি এবং মুলতবি মামলা কমিয়ে সাজার হার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।এছাড়া নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি বা জিডি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন আইজিপি।সম্মেলনে পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটের প্রধানরাও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।এদিকে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এ প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২৬ জন পুলিশ সদস্যকে আইজি ব্যাজ দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে আইজিপি নিজ হাতে তাদের ব্যাজ পরিয়ে দেন।

ভারী বৃষ্টিতে বাড়বে নদীর পানি, দুই জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবনের শঙ্কা

আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া সংস্থাগুলো। এর প্রভাবে কয়েকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।শনিবার এক পূর্বাভাসে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি সমতল বেড়েছে। আগামী একদিন এসব নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এরপর দুই দিন পানি স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।এ অবস্থায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। ফলে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবন দেখা দিতে পারে।আরও  পড়ুন, যানজট নিরসনে ঢাকায় বড় পরিবর্তন, প্রধানমন্ত্রীর ৭ নির্দেশনা এদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া ও ফেনী নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। আগামী একদিন এসব নদীর পানি দ্রুত বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। দ্বিতীয় দিন পানি স্থিতিশীল এবং তৃতীয় দিন কমতে পারে।পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, আগামী তিন দিন সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি আগামী একদিন স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী চার দিন বাড়তে পারে। সুরমা-কুশিয়ারার পানি আগামী তিন দিন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিতেও পরবর্তী কয়েক দিনে ওঠানামা হতে পারে।তবে আগামী পাঁচ দিন গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং এসব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

যানজট নিরসনে ঢাকায় বড় পরিবর্তন, প্রধানমন্ত্রীর ৭ নির্দেশনা

ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রাজধানীর যানজট পরিস্থিতি, গণপরিবহন, বাস টার্মিনাল, পার্কিং ও প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।বৈঠকে এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারের টোল প্লাজায় ইটিসি বা ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য একটি অ্যাপও তৈরি করা হবে। সংশ্লিষ্টদের আগামী চার মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের আশপাশের যানজট নিরসনে বুয়েটের আগের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে নতুন সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে বুয়েট।আরও  পড়ুন, শেখ হাসিনা ও হাদীর খুনিদের ফেরত দেওয়ার বার্তা দিলে ভারত সফরে যাবেন তারেক রহমান: রাশেদ খাঁনগণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণের আগে ঝিলমিল প্রকল্পের ১৫ একর জমিতে আগামী চার মাসের মধ্যে অস্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে।একইসঙ্গে গাবতলী বাস টার্মিনালের পেছনের অংশ সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর যানজট কমাতে কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটও গাবতলীতে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।সচিবালয়ের আশপাশে পার্কিং সংকট কমাতে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পার্কিংয়ের সম্ভাবনা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন এবং অনুমোদনহীন ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

শেখ হাসিনা ও হাদীর খুনিদের ফেরত দেওয়ার বার্তা দিলে ভারত সফরে যাবেন তারেক রহমান: রাশেদ খাঁন

ভারত যদি ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা এবং ওসমান হাদীর খুনিসহ অন্যান্য পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ও সঠিক মনোভাব প্রদর্শন করে, তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অবশ্যই ভারত সফরে যাবেন বলে জানিয়েছেন তাঁর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।​আজ শনিবার সকালে ঝিনাইদহে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।​ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে রাশেদ খাঁন বলেন, "বাংলাদেশের সাথে ভারত যদি কাঙ্ক্ষিত ও টেকসই ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তবে তাদের এ দেশের জনগণের সার্বিক স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে।"আরও  পড়ুন, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের প্রভাব, ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা​তিনি জোর দিয়ে বলেন, দ্বিপাক্ষিক টানাপোড়েন কমাতে এবং সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ভারতকে অনতিবিলম্বে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা এবং অবৈধ ‘পুশইন’ বন্ধ করতে হবে।​সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খাঁন আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যেভাবে চায় এবং দেশের সার্বিক স্বার্থ যেভাবে সুরক্ষিত হয়, বর্তমান সরকার ঠিক সেভাবেই ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পরিচালনা করবে। কোনো একক পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার দিন শেষ; সমান মর্যাদা ও জনগণের প্রত্যাশাই হবে সম্পর্কের মূল ভিত্তি।​অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতিরাজনীতি

মিরাজসহ সব গুমের শিকার ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার দাবি নাহিদ ইসলামের

মিরাজসহ সব গুমের শিকার ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার দাবি নাহিদ ইসলামের

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বাগেরহাটের মোংলায় গুমের শিকার মিরাজ শেখসহ ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার সব ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।শনিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে হবে এবং প্রতিটি ঘটনার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে গুমকে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের একটি ভয়াবহ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। বিরোধী দল ও ভিন্নমতের অসংখ্য মানুষ এর শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।‘আয়নাঘর’ নামের কথিত বন্দিশালায় আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, আরও  পড়ুন, মুনাফার আশায় সঞ্চয়পত্র কিনছেন? যে ভুলে কমে যেতে পারে লাভগুম হওয়া স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আকুতি এবং পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষার বেদনার ওপর দাঁড়িয়েই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ এসেছে।তবে বিপ্লব-পরবর্তী সময়েও অনেক পরিবার প্রিয়জনের সন্ধানে অপেক্ষা করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করে মোংলার কারাগারে মিরাজ শেখের গুমের অভিযোগ গভীর উদ্বেগের বলে মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক।গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, গুমের অভিযোগের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের সুস্পষ্ট বিধান রাখতে হবে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের দায়মুক্তির সুযোগ না রেখে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।দেশে যেন আর কখনো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুমের সংস্কৃতি ফিরে না আসে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মুনাফার আশায় সঞ্চয়পত্র কিনছেন? যে ভুলে কমে যেতে পারে লাভ

মুনাফার আশায় সঞ্চয়পত্র কিনছেন? যে ভুলে কমে যেতে পারে লাভ

নিরাপদ বিনিয়োগের কথা ভাবলে অনেকেরই প্রথম পছন্দ সঞ্চয়পত্র। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষের কাছে এটি দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের পাশাপাশি নিয়মিত আয়েরও একটি জনপ্রিয় মাধ্যম।তবে সঞ্চয়পত্র কেনার আগে নিয়ম-কানুন, মেয়াদ, মুনাফা ও কর সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে কাঙ্ক্ষিত লাভ নাও মিলতে পারে। এমনকি প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে পারেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের আগে প্রথমেই যে ভুলটি এড়াতে হবে, তা হলো জরুরি প্রয়োজনে লাগতে পারে এমন টাকা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আটকে রাখা। চিকিৎসা, আপৎকালীন খরচ কিংবা কয়েক মাসের মধ্যে প্রয়োজন হতে পারে এমন অর্থ সঞ্চয়পত্রে না রাখাই ভালো।দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগের সীমা ও বর্তমান নিয়ম না জেনে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করা উচিত নয়। পরিবারের অন্য সদস্যের নামে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও অর্থের উৎস, মালিকানা ও করসংক্রান্ত নিয়ম মানতে হবে।আরও  পড়ুন, অর্থনীতির চাপে বাড়ছে দারিদ্র্য, এক বছরেই ১৪ লাখ নতুন দরিদ্রতৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কর। সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় উৎসে কর প্রযোজ্য। তাই নিজের কর পরিস্থিতি এবং প্রযোজ্য করের নিয়ম না জেনে বিনিয়োগ করলে প্রত্যাশিত মুনাফা কমে যেতে পারে।চতুর্থত, শুধু বেশি মুনাফার হার দেখে স্কিম নির্বাচন করাও ভুল। কারও নিয়মিত আয় প্রয়োজন, আবার কেউ মেয়াদ শেষে একসঙ্গে অর্থ পেতে চান। তাই নিজের আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী সঞ্চয়পত্রের ধরন বেছে নিতে হবে।আর পঞ্চম ভুল হলো, নিজের সব সঞ্চয় এক খাতে বিনিয়োগ করা। জরুরি খরচের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য অর্থ রাখার পাশাপাশি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে ভারসাম্য রাখা জরুরি।তাই সঞ্চয়পত্র কেনার আগে বর্তমান মুনাফার হার, মেয়াদ, বিনিয়োগসীমা, কর এবং আগাম ভাঙানোর নিয়ম ভালোভাবে জেনে নিন। শুধু নিরাপদ মনে হচ্ছে বলেই সব সঞ্চয় এক জায়গায় না রেখে নিজের আর্থিক লক্ষ্য অনুযায়ী পরিকল্পিত বিনিয়োগই হতে পারে বুদ্ধিমানের কাজ।

‘গুম আর কখনো রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের হাতিয়ার হতে পারবে না’ : রিজভী

‘গুম আর কখনো রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের হাতিয়ার হতে পারবে না’ : রিজভী

গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে বিশ্বের সব গুমের শিকার ব্যক্তি, তাদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা ও সংহতি জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।শনিবার এক বাণীতে তিনি বাংলাদেশের বিগত বছরগুলোতে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের সময়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।রিজভী বলেন, গুম শুধু একজন মানুষকে পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ঘটনা নয়; এটি মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও জীবনের অধিকারের ওপর নির্মম আঘাত।বছরের পর বছর প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষা এবং তার ভাগ্য সম্পর্কে অনিশ্চয়তার যন্ত্রণা কোনো পরিবারের বহন করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দাবি, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে গুমকে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও ভিন্নমত স্তব্ধ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আরও  পড়ুন, সংসদে হাসনাতের বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীসহ বহু মানুষ এর শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।রিজভী বলেন, গুমের প্রতিটি ঘটনার সত্য উদঘাটন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অপরিহার্য শর্ত। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না।তিনি আরও বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার, ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও যথাযথ পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।রিজভীর ভাষ্য, এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে রাষ্ট্রের কোনো সংস্থা নাগরিকের বিরুদ্ধে গুমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না এবং আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনী জবাবদিহির আওতায় থাকবে।যারা এখনো নিখোঁজ, তাদের প্রত্যেকের ভাগ্য ও অবস্থান সম্পর্কে সত্য প্রকাশ এবং যারা ফিরে এসেছেন তাদের অভিজ্ঞতার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।একই সঙ্গে যারা আর কখনো ফিরে আসবেন না, তাদের পরিবারকে সত্য, স্বীকৃতি ও বিচার দেওয়ার দাবি জানান বিএনপির এই নেতা।

সংসদে হাসনাতের বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ

সংসদে হাসনাতের বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ

জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। তার বক্তব্যের প্রতিবাদে গভীর রাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয়রা।শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে শহরের জামিয়া ইউনিসিয়া মাদরাসা থেকে মিছিলটি বের হয়। পরে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।মিছিলে প্রায় দেড় থেকে দুইশ মানুষ অংশ নেন। এ সময় ‘বয়কট বয়কট, হাসনাত হাসনাত’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।পরে প্রেসক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আরও  পড়ুন, স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে সব উপজেলায় কমিটি গঠনের নির্দেশ এনসিপিরসংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রত্যাহার করে তাকে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির কোনো কর্মসূচি হতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।এর আগে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেন, বর্তমান সরকারের ছয় মাসে দেশে হত্যাকাণ্ড বেড়েছে। একই সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট ও নৌকাবাইচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।তার বক্তব্যের পরই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ শুরু হয়।এদিকে শনিবার বিকেল ৪টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সারাবাংলা

চরফ্যাশনে ভারতীয় অবৈধ ট্রলিংবোটসহ ১১ জাল জব্দ, পালাল জেলেরা

চরফ্যাশনে ভারতীয় অবৈধ ট্রলিংবোটসহ ১১ জাল জব্দ, পালাল জেলেরা

ভোলার চরফ্যাশনে অভিযান চালিয়ে একটি অবৈধ ভারতীয় আর্টিসানাল ট্রলিংবোট ও ১১টি ট্রলিং জাল জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। তবে অভিযান টের পেয়ে বোটে থাকা জেলেরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।শুক্রবার রাত ১০টার দিকে দুলারহাট থানার মায়া নদীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে কোস্টগার্ডের লালমোহন ও চরমানিকা আউটপোস্টের সদস্যরা।কোস্টগার্ড জানায়, অভিযানের সময় নদী থেকে একটি আর্টিসানাল ট্রলিংবোট ও ১১টি ট্রলিং জাল জব্দ করা হয়। পরে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমে পরীক্ষা করে বোটটি ভারতীয় বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।আরও  পড়ুন, লামা বাজারে যানজট নিয়ন্ত্রণে মাঠে ট্রাফিক পুলিশপ্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কিছু অসাধু বাংলাদেশি ব্যক্তি অবৈধভাবে ভারতীয় বোটটি দেশে এনে সেটি দিয়ে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে বোটে থাকা জেলেরা দ্রুত পালিয়ে যায়।কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানিয়েছেন, জব্দ করা ভারতীয় ট্রলিংবোট ও জালের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।দেশের জলসীমায় অবৈধভাবে মৎস্য আহরণ বন্ধ এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষায় কোস্টগার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

লামা বাজারে যানজট নিয়ন্ত্রণে মাঠে ট্রাফিক পুলিশ

লামা বাজারে যানজট নিয়ন্ত্রণে মাঠে ট্রাফিক পুলিশ

বান্দরবানের লামা বাজারে যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মাঠে নেমেছে ট্রাফিক পুলিশ। শনিবার (২৯ আগস্ট) ট্রাফিক ইনচার্জ গোবিন্দ চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে সদস্যরা বাজারের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দায়িত্ব পালন করেন।এ সময় সড়কে অবৈধভাবে বা এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহন সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।আরও  পড়ুন, লালদিয়ায় এপিএম টার্মিনালে বদলাবে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা চালকদেরও নির্ধারিত স্থানে গাড়ি পার্কিং এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা না করানোর বিষয়ে সচেতন করা হয়।ট্রাফিক পুলিশের এমন উদ্যোগে বাজারের ব্যস্ত সড়কগুলোতে যানজট কমে আসে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।ট্রাফিক ইনচার্জ গোবিন্দ চন্দ্র দাস বলেন, যানজট নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চালক ও পথচারীদের সচেতন করা হচ্ছে। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত অভিযান চলবে।

লালদিয়ায় এপিএম টার্মিনালে বদলাবে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা

লালদিয়ায় এপিএম টার্মিনালে বদলাবে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা

কর্ণফুলীর তীরে ছোট্ট লালদিয়া এবার বিশ্ব মেরিটাইম মানচিত্রে নতুন পরিচয়ে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগে এখানে গড়ে উঠছে আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল। ডেনমার্কভিত্তিক বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। স্থানীয় অংশীদার হিসেবে থাকছে কিউএনএস কনটেইনার সার্ভিসেস লিমিটেড।বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ী মহলের মতে, লালদিয়া টার্মিনাল কেবল চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয় এটি বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থাপনা, বিদেশি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।৩০ আগস্ট রোববার পতেঙ্গা বোট ক্লাবসংলগ্ন কর্ণফুলী নদীর তীরে প্রকল্পটির নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা হওয়ার কথা রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের অধীনে কর্ণফুলী নদীর তীরে প্রায় ৫৯ দশমিক ১৫ একর জমিতে নির্মিত হবে টার্মিনালটি। এর মধ্যে প্রায় ৩২ একরজুড়ে থাকবে মূল টার্মিনাল, ৭ দশমিক ১৫ একরে কনটেইনার ইয়ার্ড এবং ১০ একর জায়গায় তৈরি হবে ট্রাক পার্কিং সুবিধা। প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ধরা হয়েছে প্রায় তিন বছর। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।টার্মিনালে স্থাপন করা হবে ৭টি শিপ-টু-শোর (এসটিএস) গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৩২টি ইলেকট্রিক রাবার-টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন (ইআরটিজি) এবং ৪১টি ইলেকট্রিক টার্মিনাল ট্র্যাক্টর। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিনির্ভর এই অবকাঠামোতে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ও দূরনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।প্রকল্পটির বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টিইইউএস। ৬১৩ মিটার দীর্ঘ জেটিতে সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের এবং প্রায় ৬ হাজার টিইইউএস ধারণক্ষমতার জাহাজ ভেড়ানোর সক্ষমতা থাকবে।আরও  পড়ুন, মাভাবিপ্রবিতে ৩ হাজার গাছ রোপণের কার্যক্রম শুরুলালদিয়া টার্মিনালে এপিএম টার্মিনালসের সরাসরি বিনিয়োগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পাশাপাশি বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাফা, শিপিং এজেন্ট ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের মধ্যেও প্রকল্পটি ঘিরে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে লালদিয়া টার্মিনাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর মতে, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চট্টগ্রামে গ্রিনফিল্ড টার্মিনাল নির্মাণ বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং তৈরি করবে।তিনি বলেন, পিসিটি নির্মাণের পর সেটি পরিচালনার জন্য অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হলেও লালদিয়ার ক্ষেত্রে এপিএম টার্মিনালস নিজস্ব বিনিয়োগে অবকাঠামো গড়ে তুলছে। এতে বাংলাদেশের বন্দর খাতে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতা তৈরি হবে।চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের এই প্রকল্পে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা, প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, লালদিয়া টার্মিনালে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। টার্মিনালের ক্রেনগুলো দূরনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে পরিচালনার ব্যবস্থা থাকবে। ফলে পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিক ও কর্মীদের নিরাপত্তাও বাড়বে।লালদিয়া প্রকল্পে শুধু প্রযুক্তি ও অবকাঠামো নয়, মানবসম্পদ উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বন্দর খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষপ্রধান বন্দর কর্মপরিবেশে নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।আরও  পড়ুন,মেলা আয়োজন নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, গঙ্গাচড়ায় কৃষক দল নেতার সংবাদ সম্মেলন৩০ আগস্ট পতেঙ্গা বোট ক্লাবসংলগ্ন কর্ণফুলীর তীরে লালদিয়া টার্মিনালের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে। নৌপরিবহন, সড়ক ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি সম্প্রতি এ প্রকল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব গ্রিন টার্মিনাল হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন।১৩ আগস্ট নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে এপিএম টার্মিনালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মানের এই টার্মিনাল বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি সম্প্রসারণ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য যত বাড়ছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বন্দর অবকাঠামোকেও আধুনিক ও দক্ষ করে গড়ে তোলা জরুরি। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগাতে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।লালদিয়া টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সামগ্রিক কনটেইনার ব্যবস্থাপনায় নতুন সক্ষমতা যুক্ত হবে। বড় জাহাজ ভেড়ানোর সুযোগ, দ্রুত কনটেইনার হ্যান্ডলিং, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব পরিচালন ব্যবস্থা চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক বন্দর প্রতিযোগিতায় আরও শক্ত অবস্থানে নিতে পারে।ব্যবসায়ী মহলের প্রত্যাশা, লালদিয়াকে ঘিরে ভবিষ্যতে শিপিং কোম্পানি, আমদানি-রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ মেরিটাইম খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও বাড়বে। ফলে কর্ণফুলীর তীরের এই ছোট্ট লালদিয়া শুধু একটি টার্মিনালের ঠিকানা নয় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নতুন প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে।সংশ্লিষ্টদের ভাষায়, লালদিয়া টার্মিনাল হবে চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য একটি গেম চেঞ্জার যার প্রভাব শুধু বন্দরে সীমাবদ্ধ থাকবে না ছড়িয়ে পড়বে বাংলাদেশের পুরো বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে।

মাভাবিপ্রবিতে ৩ হাজার গাছ রোপণের কার্যক্রম শুরু

মাভাবিপ্রবিতে ৩ হাজার গাছ রোপণের কার্যক্রম শুরু

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) তিন হাজার গাছ রোপণেরকার্যক্রম শুরু হয়েছে।শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে একার্যক্রম শুরু করা হয়।কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএমশহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য মো. আনিছুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেনইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তফাকামাল নাসির, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ ও এস্টেট পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. আবুজাফর শিবলী।আরও  পড়ুন, মেলা আয়োজন নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, গঙ্গাচড়ায় কৃষক দল নেতার সংবাদ সম্মেলন এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ওকর্মচারীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, ুজলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব থেকেপৃথিবীকে রক্ষা করতে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। নেপালসহ বিভিন্নদেশে বন্যা ও পাহাড়ধসের মতো দুর্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতার সতর্কবার্তা।তিনি বলেন, ুএই বাস্তবতায় মাভাবিপ্রবিতে তিন হাজার গাছ রোপণের কার্যক্রম শুরু করেছি। শুধু গাছলাগালেই হবে না, প্রতিটি গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ রক্ষায়সবাইকে দায়িত্বশীল হয়ে সম্মিলিতভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।”

আন্তর্জাতিক

নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকে শত শত কর্মী, চলছে জরুরি উদ্ধার অভিযান

নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকে শত শত কর্মী, চলছে জরুরি উদ্ধার অভিযান

নেপালে ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে নিখোঁজ কর্মীদের উদ্ধারে জোরালো অভিযান চলছে। বন্যার পানিতে কাদা ও ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়ে যাওয়া টানেলের ভেতরে আটকে থাকা কর্মীদের উদ্ধারে নতুন করে বড় প্রবেশপথ তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।নেপালের ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে আনুমানিক ৮৯৮ কর্মীর এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে ৩৬১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।নেপালের জ্বালানি, পানি সম্পদ ও সেচমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ জানিয়েছেন, ত্রিশূলী–৩ ‘এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে উদ্ধার অভিযানে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। বন্যার পর কাদা ও পলিতে টানেলটি পুরোপুরি চাপা পড়ে যায়।আরও  পড়ুন, গাজা থেকে ঘুড়ি বেলুন ড্রোন পাঠালে অভিযান বাড়াবে ইসরাইলউদ্ধারকারী দল ভারী খননযন্ত্র ব্যবহার করে টানেলের ভেতর থেকে কাদা ও পলি সরানোর চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে টানেলের ওপরের অংশে প্রায় ছয় ইঞ্চি একটি গর্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে সেখানে কোনো ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়নি।ওই গর্ত দিয়ে টানেলের ভেতরে বাতাস, আলো ও শব্দ পাঠানো হলেও এখনো ভেতরে থাকা কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।উদ্ধার অভিযান আরও দ্রুত করতে এবার গর্তটি বড় করে প্রবেশপথ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই পথ দিয়ে উদ্ধারকারী দলকে টানেলের ভেতরে পাঠানো হবে। আগামীকালের মধ্যে বিদ্যমান পথ ধরে মূল টানেলে পৌঁছানোই এখন উদ্ধারকারীদের প্রধান লক্ষ্য।এর আগে নেপালি সেনাবাহিনী রসুয়া জেলার একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধারের ভিডিও প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, ঘন কাদার মধ্য দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে আসছেন জীবিতরা।

১ ঘন্টা আগে

রাজধানী

ছিনতাই করতে গিয়ে সহযোগীর ছুরিকাঘাতে ছিনতাইকারী নিহত

ছিনতাই করতে গিয়ে সহযোগীর ছুরিকাঘাতে ছিনতাইকারী নিহত

রাজধানীর কদমতলীতে ছিনতাই করতে গিয়ে নিজ সহযোগীর ছুরিকাঘাতে এক ছিনতাইকারী নিহত হয়েছেন।শনিবার ভোরে নামা-শ্যামপুরের বড়ইতলা ভাঙা ব্রিজের পাশে ঘটে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা।পুলিশ জানায়, ভোরের দিকে ওই এলাকায় দুই পথচারীর গতিরোধ করে তিনজনের একটি ছিনতাইকারী দল। চক্রের এক সদস্য পেছন থেকে এক পথচারীকে জাপটে ধরেন। এ সময় অন্য দুই সহযোগী তার কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল।একপর্যায়ে পথচারীরা চিৎকার শুরু করলে ছিনতাইকারীদের একজন সুইচ গিয়ার দিয়ে তাদের আঘাত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার আঘাত লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গিয়ে লাগে সহযোগীর বগলের নিচে।আরও পড়ুন. রাতের সড়কে তরুণীকে নিয়ে রহস্য, পরিবারের বক্তব্যে মিলল নতুন তথ্যছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে ওই ছিনতাইকারী রাস্তায় পড়ে গেলে বাকি দুই সহযোগী দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।পরে খবর পেয়ে কদমতলী থানা পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি। পুলিশের ধারণা, তার বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর।কদমতলী থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া দুই সহযোগীকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।ঘটনাটি ছিনতাইকারী চক্রের নিজেদের মধ্যকার সংঘর্ষে নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

২২ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

খেলাধুলা

৩৯ বছরেও থামেনি মেসির জাদু, ৪ গোল ও ১ অ্যাসিস্টে মন্ট্রিলকে উড়িয়ে দিলেন

৩৯ বছরেও থামেনি মেসির জাদু, ৪ গোল ও ১ অ্যাসিস্টে মন্ট্রিলকে উড়িয়ে দিলেন

বয়স ৩৯ ছুঁয়েছে। ক্যারিয়ারের প্রায় সব বড় অর্জনই এখন তার ঝুলিতে। বিশ্বকাপ থেকে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব, ব্যক্তিগত অসংখ্য পুরস্কার—কিছুই আর বাকি নেই। তবুও মাঠে নামলেই যেন নতুন কোনো রেকর্ডের পেছনে ছুটছেন লিওনেল মেসি।বাংলাদেশ সময় আজ ভোরে তার দুর্দান্ত চার গোল ও এক অ্যাসিস্টে সিএফ মন্ট্রিলকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ইন্টার মায়ামি।ম্যাচের শুরুতেই গোল উৎসবের সূচনা করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা কাসেমিরো। কর্নার থেকে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে মায়ামির হয়ে নিজের প্রথম গোল করেন তিনি।৩৭ মিনিটে একটি গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে মন্ট্রিল। তবে বিরতির ঠিক আগে মেসির ফ্রি-কিক প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মায়ামি।আরও  পড়ুন, পেসারদের আত্মবিশ্বাসে নতুন স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশদ্বিতীয়ার্ধে পুরোপুরি নিজের করে নেন মেসি। ৫২ মিনিটে দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে একের পর এক প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে ডান পায়ের নিখুঁত শটে করেন নিজের প্রথম গোল।৮০ মিনিটে নিজে গোল করার সুযোগ পেয়েও বন্ধু লুইস সুয়ারেজকে দিয়ে গোল করান আর্জেন্টাইন মহাতারকা। মাত্র তিন মিনিট পর গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল তুলে দিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি।এরপর ১৮ বছর বয়সী আলেকজান্ডার শো দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে মায়ামির পঞ্চম গোল করেন।ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে আবারও ফ্রি-কিক থেকে গোল করে নিজের চতুর্থ গোল পূর্ণ করেন মেসি। শেষ পর্যন্ত ৭-১ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইন্টার মায়ামি।৩৯ বছর বয়সেও মেসির পারফরম্যান্স যেন বলে দিচ্ছে—বয়স তার কাছে কেবলই একটি সংখ্যা। গোল, অ্যাসিস্ট আর জাদুকরী ফুটবল দিয়ে এখনো তিনি ছুটে চলেছেন নিজের সেরাটাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর