উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ড প্রকল্প চলতি বছরের নভেম্বরেই শেষ হচ্ছে। এরপর প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ কী হবে, সে বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।সোমবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।তিনি বলেন, স্মার্টকার্ড বা আইডিইএ প্রকল্প নভেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকবে। এরপর প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ নিয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।স্মার্টকার্ডে থাকা চিপ ব্যবহারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বীকার করেন, চিপে ডেটা থাকলেও চিপ রিডার এখনো ব্যবহার করা হয়নি। তবে তিনি বলেন, এটি অস্বীকার করার কিছু নেই।আরও পড়ুন, দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত, ২৪ ঘণ্টায় ৩ শিশুর মৃত্যুইসি সচিব জানান, চিপে নাগরিকদের মৌলিক তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে, যেমন নাম, ছবি, পিতামাতার নাম, জন্ম তারিখ, জন্মস্থান, রক্তের গ্রুপ ও ধর্ম। এসব তথ্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া ছাড়া পরিবর্তনযোগ্য নয়।তিনি আরও জানান, স্মার্টকার্ডের ডাটা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারে।উল্লেখ্য, ২০১১ সালে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় আইডিইএ প্রকল্প শুরু হয়। পরে ২০২০ সালে এটি আইডিইএ-২ প্রকল্প হিসেবে পুনর্গঠন করা হয়।তবে এখনো প্রায় ৯ কোটি নাগরিকের কাছে স্মার্টকার্ড পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি পরিকল্পিত অনেক সেবাও এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।
এক্সক্লুসিভ
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাম্প্রতিক প্রশাসনিক রদবদলে মো. দাউদ হোসেনকে গুলশান থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার পর রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজাত এলাকা গুলশান থানার দায়িত্ব পাওয়াকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে| দীর্ঘদিনের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা, অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান এবং আলোচিত বিভিন্ন মামলার তদন্তে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি ইতোমধ্যেই পুলিশের একটি পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছেন|আরও পড়ুন: সংকট থেকে সাহসিকতায় আপেল মাহমুদের গল্পযশোর জেলার কৃতি সন্তান মো. দাউদ হোসেন কর্মজীবনের শুরু থেকেই দায়িত্বশীল ও পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত| বিভিন্ন সময়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পালন করে তিনি নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন| বিশেষ করে রাজধানীর খিলগাঁও থানা এবং পরবর্তীতে ক্যান্টনমেন্ট থানায় দায়িত্ব পালনকালে তার কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পুলিশের উচ্চপর্যায়েও প্রশংসিত হয়েছে| পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খিলগাঁও থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি মাদক, চুরি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বেশ সক্রিয় ভূমিকা রাখেন| তার নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে একাধিক অপরাধী চক্র ভেঙে দেওয়া হয়| একই সঙ্গে থানাভিত্তিক জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করার ক্ষেত্রেও তিনি কাজ করেছেন| পরবর্তীতে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার দায়িত্ব পাওয়ার পরও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান বজায় রাখেন| বিশেষ করে চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভিন্ন সংবেদনশীল মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারে তার ভূমিকা ব্যাপক আলোচনায় আসে| ˆবষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় সাবেক সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের আইনের আওতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি| আরও পড়ুন: আপেল মাহমুদকে ঘিরে সংবাদ নিয়ে প্রশ্ন, ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারআইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তার এই পদক্ষেপ বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়| তবে এসব কার্যক্রমের কারণে তাকে নানা ধরনের সমালোচনারও মুখোমুখি হতে হয়েছে| সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ও সমর্থকগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাকে নিয়ে একাধিক নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়| বিশেষ করে আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে পোস্ট দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়| কিন্তু এসব প্রচারণা কিংবা সমালোচনাকে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি তার দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন| আরও পড়ুন: পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা মব কালচারআইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর মামলাগুলোতে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার কারণেই তিনি আলোচনায় আসেন| একজন পুলিশ কর্মকর্তার মূল দায়িত্ব আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং সেই জায়গা থেকে তিনি দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা| ক্যান্টনমেন্ট থানায় দায়িত্ব পালনকালে অপরাধ দমনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগেও অংশ নিতে দেখা গেছে তাকে| স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময়, বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করেছেন তিনি|রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান থানা দীর্ঘদিন ধরেই নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ| এখানে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী, কূটনীতিক, বিদেশি নাগরিক এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বসবাস| একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল, দূতাবাস, করপোরেট অফিস এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থাকায় গুলশানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়|সাম্প্রতিক সময়ে গুলশান এলাকায় সাইবার অপরাধ, প্রতারণা, মাদক ব্যবসা, অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ নিয়েও আলোচনা রয়েছে| ফলে এই থানার দায়িত্বে একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তার প্রয়োজন ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা|আরও পড়ুন: আইনের শাসন না মবের রাজত্ব?পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মো. দাউদ হোসেন মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে পছন্দ করেন| তিনি শুধুমাত্র অফিসকেন্দ্রিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম তদারকি করেন| ফলে অধস্তন কর্মকর্তাদের মধ্যেও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক চাপ ˆতরি হয়| তবে সাংবাদিক মহলেও তার কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা রয়েছে| বিভিন্ন অপরাধবিরোধী অভিযানে তথ্যভিত্তিক বক্তব্য প্রদান এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে সমš^য় রেখে কাজ করার কারণে অনেক প্রতিবেদকের কাছেও তিনি পরিচিত মুখ| তবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি বরাবরই আইনি প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন বলে জানা যায়|নগরবাসীর প্রত্যাশা, গুলশান থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি এলাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করবেন| বিশেষ করে অভিজাত এলাকার আড়ালে পরিচালিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, প্রতারণা চক্র, মাদক ব্যবসা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে|আরও পড়ুন: পুলিশ হত্যা, সংস্কার ও জননিরাপত্তা: সংকট উত্তরণের পথ কোথায়?অন্যদিকে অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান সময়ে নগর অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে| ফলে শুধু প্রচলিত পুলিশিং নয়, আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যনির্ভর কার্যক্রমও সমান গুরুত্বপূর্ণ| মো. দাউদ হোসেন তার পূর্ববর্তী দায়িত্বগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত কার্যক্রমে গুরুত্ব দিয়েছেন| গুলশান থানাতেও সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে|এদিকে তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা আলোচনা দেখা গেছে| অনেকেই তাকে একজন দৃঢ়চেতা ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করছেন| আবার কেউ কেউ তার সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোর কথাও তুলে ধরছেন| কারণ গুলশান থানা শুধু একটি সাধারণ থানা নয়, বরং দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর থানা এলাকাগুলোর একটি| পুলিশের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা, সাহসিকতা এবং কর্মদক্ষতার কারণেই তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে| অতীত অভিজ্ঞতা ও অর্জন বিবেচনায় গুলশান থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট মহল|আরও পড়ুন: পেশা নাকি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলমের যুদ্ধ?সব মিলিয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে গুলশান থানায় মো. দাউদ হোসেনের পদায়ন শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক রদবদল নয়; বরং এটি একজন আলোচিত ও অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তার প্রতি কর্তৃপক্ষের আস্থার প্রতিফলন বলেও মনে করছেন অনেকে| এখন সময়ই বলে দেবে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই থানায় দায়িত্ব পালন করে তিনি কতটা সফলতার সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারেন| তবে আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্টদের মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা, পেশাদার মনোভাব এবং অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে গুলশান থানার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে| তবে তার কর্মদক্ষতা আরো কাজে লাগিয়ে সাধারন মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
অনলাইন জরিপ
দেশের কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে আরও গতিশীল করতে ৫ হাজার কোটি টাকার নতুন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।‘সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল’ নামে এই উদ্যোগের আওতায় উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। প্রাথমিকভাবে তহবিলটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বছর।বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি মূলধনের ঘাটতির কারণে অনেক ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন ও ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছে না। আরও পড়ুন, জ্বালানি-বিদ্যুৎ ভর্তুকিতে ৭৫ হাজার কোটি টাকার চাপ, বাজেটের বড় দুশ্চিন্তাএই সমস্যা দূর করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতেই এই তহবিল গঠন করা হয়েছে।তহবিলের আওতায় ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে অর্থ পাবে এবং তা উদ্যোক্তাদের কাছে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে বিতরণ করতে পারবে।তবে ঋণখেলাপিরা এই সুবিধা পাবেন না। পাশাপাশি উদ্যোক্তারা ঋণ নেওয়ার পর ৩ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা পাবেন, অর্থাৎ এ সময়ে কোনো কিস্তি পরিশোধ করতে হবে না।অর্থনীতিবিদদের মতে, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এই তহবিল দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নতুন গতি আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।আরও পড়ুন, তেলের বাজারে অস্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে
আসন্ন জাতীয় বাজেটে সরকারের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা হয়ে উঠেছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ক্রমবর্ধমান ভর্তুকি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ আগামী অর্থবছরের জন্য মোট ৭৫ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি চেয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে ৪৯ হাজার কোটি এবং গ্যাস খাতে ২৬ হাজার কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে।এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসি জানিয়েছে, গত তিন মাসে জ্বালানি তেল আমদানি করে তাদের লোকসান হয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। এ লোকসান পূরণে বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে।আরও পড়ুন, তেলের বাজারে অস্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তা বাড়ছেসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। গত বছর এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা এবার ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে প্রতি ইউনিটে খরচ হচ্ছে প্রায় ১৩ টাকা, অথচ বিক্রি হচ্ছে গড়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সায়। ফলে বিশাল আর্থিক ঘাটতির মুখে পড়ছে সংস্থাটি।অন্যদিকে, পেট্রোবাংলা বলছে, গ্যাসের বিক্রয়মূল্য ও আমদানি ব্যয়ের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকায় প্রতি মাসেই কয়েক হাজার কোটি টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির এই চাপ আগামী বাজেট ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।আরও পড়ুন,বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধাক্কা, বাংলাদেশেও কমতে পারে ভরির দাম
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বেড়েছে।সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়।আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দামও ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৯২ দশমিক ৭৫ ডলারে।আরও পড়ুন, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধাক্কা, বাংলাদেশেও কমতে পারে ভরির দামবিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঘিরে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বাজারে এই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এবারই প্রথম ইরান ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। পাল্টা হামলায় জড়ায় ইসরায়েলও।ফলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা এখন হিসাব-নিকাশ করছেন, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।আরও পড়ুন, নিত্যপণ্যের আগুনে পুড়ছে বাজার, ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি ৯.৪২ শতাংশ
বিশ্ববাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা এবং শক্তিশালী কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের কারণে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ থেকে সরে আসছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।সোমবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৩২১ ডলার ৪৯ সেন্টে নেমে এসেছে। এর আগে শুক্রবার প্রায় ৩ শতাংশ দরপতনের মাধ্যমে স্বর্ণের দাম গত মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়।অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি বেড়েছে।আরও পড়ুন, নিত্যপণ্যের আগুনে পুড়ছে বাজার, ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি ৯.৪২ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা এবং ইরান-ইসরায়েল পরিস্থিতি ঘিরে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ফলে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।এদিকে বিশ্ববাজারে দাম কমায় বাংলাদেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম আরও কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাজুস ইতোমধ্যে ৬ জুন ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা দাম কমিয়েছে।আরও পড়ুন, জুলাই থেকে বাধ্যতামূলক অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন, নতুন নির্দেশনা এনবিআরের
দেশে মূল্যস্ফীতি আবারও ঊর্ধ্বমুখী। গত মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে, যা গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বা বিবিএসের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য। এতে দেখা যায়, টানা দুই মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে।মে মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৬ শতাংশে, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেড়েছে।আরও পড়ুন, জুলাই থেকে বাধ্যতামূলক অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন, নতুন নির্দেশনা এনবিআরেরখাদ্যবহির্ভূত খাতেও মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশে পৌঁছেছে। বাসাভাড়া, পরিবহন, জ্বালানি এবং অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপও বেড়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিয়েছে। এপ্রিল ও মে মাসে দুই দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়। এর ফলে উৎপাদন থেকে পরিবহন—সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বেড়েছে।এদিকে সম্প্রতি বিদ্যুতের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে জুন মাসে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।আরও পড়ুন , এলপিজি বাজারে বড় পরিবর্তনের আভাস, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির পথে বাংলাদেশ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর ভ্যাট ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ডিজিটাল করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ই-ভ্যাট সিস্টেমে ‘হার্ড কপি রিটার্ন এন্ট্রি’ নামে একটি নতুন সাব-মডিউল চালু করা হয়েছে।রোববার এনবিআরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করদাতারা অতীতে হার্ডকপি আকারে জমা দেওয়া মাসিক ভ্যাট রিটার্ন এখন অনলাইন সিস্টেমে সংরক্ষণ করতে পারবেন।এনবিআর জানায়, ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে সব হার্ডকপি রিটার্ন অনলাইনে এন্ট্রি করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এখনো বিপুল সংখ্যক রিটার্ন অনলাইনে এন্ট্রি হয়নি।আরও পড়ুন, এলপিজি বাজারে বড় পরিবর্তনের আভাস, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির পথে বাংলাদেশ এ কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সুবিধার্থে সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত করা হয়েছে।এনবিআর আরও জানিয়েছে, জুলাই ২০২৬ থেকে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরোনো হার্ডকপি রিটার্ন অনলাইনে এন্ট্রি করবে না, তাদের ক্লোজিং ব্যালেন্স ‘ফ্রিজ’ করা হবে এবং সেই স্থিতির বিপরীতে কোনো সমন্বয় করা যাবে না।এছাড়া ভ্যাট রিফান্ড আবেদন করতে চাইলে পূর্বের সব রিটার্ন ই-ভ্যাট সিস্টেমে এন্ট্রি থাকা বাধ্যতামূলক হবে।কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে করদাতাদের সহযোগিতা কামনা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।আরও পড়ুন , ১১ মাসে ৯ মাসই রপ্তানি আয় কমেছে, বাড়ছে অর্থনীতির উদ্বেগ
লাইফস্টাইল
এই গরমে শরীরকে সতেজ ও পানিশূন্যতামুক্ত রাখতে সবচেয়ে কার্যকর প্রাকৃতিক পানীয়গুলোর একটি হলো ডাবের পানি। পুষ্টিবিদদের মতে, ডাবের পানিতে থাকা পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়াম শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি শরীর ঠান্ডা রাখে, হজমশক্তি উন্নত করে এবং ক্লান্তি দূর করতে ভূমিকা রাখে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডাবের পানির উপকারিতা আরও বাড়াতে এর সঙ্গে কিছু স্বাস্থ্যকর উপাদান যোগ করা যেতে পারে।ডাবের পানির সঙ্গে বিট লবণ মিশালে সোডিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদান যুক্ত হয়, যা শরীরের পানির ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক। অন্যদিকে চিয়া সিডসে থাকা ফাইবার ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরকে দীর্ঘ সময় হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।আরও পড়ুন, স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে আজই ছাড়ুন ধূমপানলেবুর রস মিশিয়ে পান করলে বাড়ে ভিটামিন সি-এর যোগান। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি হজমেও সহায়তা করে।এছাড়া মধু যোগ করলে পাওয়া যায় প্রাকৃতিক শক্তি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সুবিধা। পুদিনা পাতা মিশিয়ে পান করলে শরীরে আসে বাড়তি সতেজতা এবং হজমের সমস্যাও কমে।তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ডায়াবেটিস বা কিডনিসংক্রান্ত জটিলতা থাকলে নিয়মিত বা অতিরিক্ত ডাবের পানি পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।গরমে সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডাবের পানি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।