দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

 শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব

ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন / শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব

বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। শরতের স্নিগ্ধ প্রকৃতি, ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, আলোকসজ্জায় সজ্জিত পূজামণ্ডপ এবং ভক্তদের প্রার্থনায় প্রতিবছর দুর্গোৎসব হয়ে ওঠে আনন্দ, আবেগ ও মিলনের এক অনন্য উপলক্ষ। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এ উৎসব মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করার বার্তা দেয়। শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে আয়োজন করা হয় নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। প্রতিমা দর্শন, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি, আরতি এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে উৎসবের পরিবেশ। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে পূজামণ্ডপে ঘুরতে বের হন নানা বয়সী মানুষ। উৎসবকে ঘিরে স্থানীয় বাজার, পোশাকের দোকান, খাবারের দোকান ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও বাড়ে কর্মচাঞ্চল্য। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গা শক্তি, সাহস ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রতীক। পৌরাণিক কাহিনিতে মহিষাসুরের বিরুদ্ধে দেবী দুর্গার বিজয় অশুভ শক্তির পরাজয় এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। এ বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা মানুষকে অন্যায়, অনাচার, হিংসা ও অসত্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রেরণা দেয়। দুর্গোৎসবের ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি রয়েছে মানবিক ও সামাজিক শিক্ষা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, দুর্বল ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় এ উৎসবের অন্যতম বার্তা। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে মানুষের জীবন থেকে অশুভ ও অকল্যাণ দূর হয়ে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠিত হবে। দুর্গাপূজার বিভিন্ন দিন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন ও পূজার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।আরও  পড়ুন, শীতের আগমনী বার্তা, প্রস্তুত হচ্ছে যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড় সপ্তমীতে পূজা-অর্চনা, অষ্টমীতে মহাষ্টমীর বিশেষ পূজা ও অঞ্জলি এবং নবমীতে মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়। এরপর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। তিথি ও স্থানীয় রীতিভেদে বিভিন্ন আয়োজনের সময়সূচিতে পার্থক্য থাকতে পারে। পূজার দিনগুলোতে ভক্তরা নতুন পোশাক পরে মন্দিরে যান এবং দেবীর চরণে ফুল, বেলপাতা ও অন্যান্য উপকরণ নিবেদন করেন। অনেক মণ্ডপে আয়োজন করা হয় ধর্মীয় আলোচনা, প্রসাদ বিতরণ, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসব আয়োজন উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। বিজয়া দশমী দুর্গোৎসবের একটি আবেগঘন অধ্যায়। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবীকে বিদায় জানানোর সময় ভক্তদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি বিষাদের অনুভূতিও কাজ করে। তবে এ বিদায় পরবর্তী বছরের নতুন প্রত্যাশা ও শুভাগমনের অপেক্ষা তৈরি করে। বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সহাবস্থান, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সামাজিক বন্ধন এ দেশের বহুত্ববাদী পরিচয়কে সমৃদ্ধ করেছে। শারদীয় দুর্গাপূজা সেই সম্প্রীতির চর্চাকে আরও দৃশ্যমান করার সুযোগ সৃষ্টি করে। অনেক এলাকায় বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একে অপরের উৎসবে অংশ নেন, শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। পূজামণ্ডপের আয়োজন, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম ও সামাজিক উদ্যোগে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা উৎসবের পরিবেশকে আরও সৌহার্দ্যপূর্ণ করে তোলে। ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও মানুষের মৌলিক চাহিদা, সুখ-দুঃখ ও মানবিক অনুভূতি অভিন্ন। এ উপলব্ধি থেকে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার চর্চা বাড়ানো জরুরি।আরও  পড়ুন, মব আতঙ্ক ও আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভেদ বা বিদ্বেষ নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলাই হওয়া উচিত উৎসবের অন্যতম শিক্ষা। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় শুধু উৎসবের সময় নয়, সারা বছরই দায়িত্বশীল আচরণ, সামাজিক সচেতনতা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বৈষম্য, হয়রানি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বড় ধর্মীয় উৎসবে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। ফলে পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা, যান চলাচল, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, অগ্নিনিরাপত্তা এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পূজা উদ্ধসঢ়;‌যাপন কমিটি এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। প্রতিটি পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ রাখা, বৈদ্যুতিক সংযোগ নিরাপদ রাখা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী দর্শনার্থীদের নিরাপদে চলাচলের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়া উচিত। গুজব, অপতথ্য কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো উসকানিমূলক বক্তব্য উৎসবের পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে পারে। তাই যাচাই না করা তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকা এবং কোনো সন্দেহজনক ঘটনা দেখা গেলে নিজেরা আইন হাতে না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা প্রয়োজন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনের একক দায়িত্ব নয়; পূজামণ্ডপের আয়োজক, দর্শনার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং গণমাধ্যমসহ সবার সচেতন অংশগ্রহণ প্রয়োজন। দায়িত্বশীল আচরণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়েই উৎসবকে আনন্দময় ও নিরাপদ রাখা সম্ভব।আরও  পড়ুন, যাত্রাবাড়ীর-সায়েদাবাদ এলাকায় একাধিক আবাসিক হোটেল ঘিরে অভিযোগ দুর্গাপূজাকে ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়। প্রতিমাশিল্পী, মৃৎশিল্পী, বাঁশ ও কাঠের কারিগর, আলোকসজ্জাকর্মী, পোশাক ব্যবসায়ী, ফুল বিক্রেতা, পরিবহন শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এ উৎসবের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকেন। পূজামণ্ডপ নির্মাণ, প্রতিমা তৈরি, সাজসজ্জা, পোশাক কেনাকাটা ও অতিথি আপ্যায়নের কারণে বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়ে। এতে মৌসুমি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হয়। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী প্রতিমাশিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের সৃজনশীলতা ও শ্রম দুর্গোৎসবের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া দুর্গাপূজার সাংস্কৃতিক আয়োজন বাঙালির লোকজ ঐতিহ্য, সংগীত, নৃত্য, নাটক ও শিল্পচর্চাকে উৎসাহিত করে। নতুন প্রজন্মের কাছে এসব ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রেও উৎসবটির ভূমিকা রয়েছে। তবে উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি অপচয় রোধ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি। উৎসবের প্রকৃত সার্থকতা কেবল আনুষ্ঠানিকতা বা বাহ্যিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের মধ্যেও এর প্রকাশ ঘটে। সমাজের অসচ্ছল মানুষ, অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ ও সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে দুর্গোৎসবের মানবিক তাৎপর্য আরও গভীর হতে পারে। উৎসব উপলক্ষে সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা দরিদ্র মানুষের মধ্যে খাদ্য, পোশাক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করতে পারেন। একই সঙ্গে রক্তদান, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মতো উদ্যোগও সামাজিক কল্যাণে অবদান রাখতে পারে। ধর্মীয় উৎসব মানুষকে আনন্দ দেয়, কিন্তু সেই আনন্দ যেন অন্যের অসুবিধার কারণ না হয়, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন। আরও  পড়ুন, উৎসব মূখর পরিবেশে গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কার্যালয় উদ্বোধনউচ্চ শব্দে মাইক ব্যবহার, যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা, যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি কিংবা পরিবেশদূষণ থেকে বিরত থাকা সবার দায়িত্ব। উৎসবের সৌন্দর্য তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন আনন্দের পাশাপাশি অন্যের অধিকার ও স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতিও সম্মান দেখানো হবে। বাংলাদেশের সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আইনের দৃষ্টিতে সমতার নীতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালন, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং নিরাপদে জীবনযাপনের অধিকার সম্মান করা প্রয়োজন। ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করা রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিক সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। শারদীয় দুর্গাপূজা সেই দায়িত্বের কথা নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়। ভিন্ন বিশ্বাস ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় থাকলে সমাজ আরও শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ হতে পারে। কোনো ধরনের বৈষম্য, বিদ্বেষ বা সহিংসতা যেন মানুষের উৎসবের আনন্দকে ম্লান করতে না পারে, সে বিষয়ে সবার সতর্ক থাকা জরুরি। শারদীয় দুর্গাপূজা বাঙালির ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস, শিল্প-সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের এক সম্মিলিত প্রকাশ। দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা করা হয়, তা বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন ন্যায়, সততা, সহমর্মিতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে। উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি মানুষের জীবনে। ধর্মীয় পরিচয় যেন কখনো মানুষের মধ্যে বিভেদের কারণ না হয়; বরং পারস্পরিক সম্মান ও ভালোবাসার বন্ধন আরও দৃঢ় করুক। শারদীয় দুর্গোৎসবের শিক্ষা হোক অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসা।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

বিরোধিতা হতে হবে গঠনমূলক বললেন প্রধানমন্ত্রী

সরকার গঠনের শুরুর দিকে ফজরের নামাজের পর বিভিন্ন স্থানে ঝাড়ু দিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাতে দেখা গেলেও এখন আর তেমনটি দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিরোধী দলকে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, বিরোধিতা করতে গিয়ে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যাতে স্বৈরাচারের ফিরে আসার পথ তৈরি হয়। সোমবার রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও উদ্যানের আধুনিকায়ন কাজের উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বক্তব্যে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, ইদানীং বিরোধী দল বিরোধিতা করার জন্যই বিরোধিতা করছে। পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ফিরে গেলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সরকারের বিরোধিতা অবশ্যই করা যাবে, তবে তা হতে হবে গঠনমূলক। বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচারের ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত করা হলে তা মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারির শামিল হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আরও পড়ুন,দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩৫২ ছাড়াল আক্রান্ত ১ লাখ ১৪ হাজারউল্লেখ্য, জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শপথ নেওয়ার পরদিন ফজরের নামাজ শেষে মিরপুরের সড়ক পরিষ্কারে নেমেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সে সময় দলের নেতাকর্মীরা প্রতিদিন ওই এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই ও একাত্তরের শহীদদের লক্ষ্য ছিল অভিন্ন। তারা চেয়েছিলেন দেশের মানুষ সুশিক্ষা পাবে এবং পরিবেশ সুন্দর থাকবে। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ গণতন্ত্রে ফিরে এসেছে। জনগণ ভোটের মাধ্যমে বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর পরও বিরোধী দলের অংশ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব নয়। তবে দেশের স্বার্থে দ্বিমত পোষণ করার কোনো কারণ নেই। সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলে সংসদে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের মাধ্যমে জনজীবন ব্যাহত না করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। জনগণ দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ ছাড়া হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কোয়ার্টারে আকস্মিক পরিদর্শনের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ তুলনামূলক ভালো হলেও হাসপাতাল ও সরকারি কোয়ার্টারের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। সরকারি কর্মকর্তারা নিজেরা পরিবেশের বিষয়ে সচেতন না হলে সাধারণ মানুষ কী শিখবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এখন থেকেই কাজ শুরু করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩৫২ ছাড়াল আক্রান্ত ১ লাখ ১৪ হাজার

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৫১ জন ডেঙ্গুরোগী। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে ১৯২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২২০ জন, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ৩৬৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৪৮ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২৩১ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৫৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯২ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩৩ জন, রংপুর বিভাগে ৯৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ২৬ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আরও পড়ুন,নাজমুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদকস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ২৫১ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ৮৬৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায়ই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৮৩৯ জন। অন্যদিকে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৩৫২ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন চারজন। তুলনামূলক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন। ওই বছর ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪১৩ জন। ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই পরিসংখ্যান জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ, ফুলের টব ও পানির পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

নাজমুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক

ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। সোমবার, ১৯ অক্টোবর, দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। দুদক সূত্রে জানা গেছে, অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও সংস্থাটির সহকারী পরিচালক সৌরভ দাশের জমা দেওয়া প্রতিবেদন এবং অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে নাজমুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলাটি করা হবে। আইনের ২৬(২) ধারায় সম্পদের বিবরণী জমা না দেওয়া কিংবা বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার শাস্তির বিধান রয়েছে। অন্যদিকে, ২৭(১) ধারায় জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অপরাধ ও শাস্তির কথা বলা হয়েছে।আরও পড়ুন,অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে ১৩ নির্দেশনা দিল ফায়ার সার্ভিসএর আগে গত ১ অক্টোবর নাজমুল আলমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে দুদক। পরে ৫ অক্টোবর সংস্থাটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক শাহজাহান কবির তাঁর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন। আদালতে আবেদনটি করেছিলেন দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ জাফর সাদেক শিবলী। দুদকের আবেদনে অভিযোগ করা হয়, বিধিবহির্ভূতভাবে অর্থ উপার্জন করে সেই অর্থ নিজের এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন নাজমুল আলম। সিদ্দিকী নাজমুল আলম ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ ওঠে। তিনি ফারমার্স ব্যাংকের পরিচালকও ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটি পদ্মা ব্যাংক নামে কার্যক্রম শুরু করে। তবে দুদকের এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী বলা যায় না। মামলা দায়েরের পর তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।

অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে ১৩ নির্দেশনা দিল ফায়ার সার্ভিস

শুষ্ক মৌসুমে অসাবধানতা ও অসচেতনতার কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সংস্থাটি ১৩টি নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে।সোমবার (১৯ অক্টোবর) ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সচেতনতামূলক বার্তায় এসব নির্দেশনা তুলে ধরা হয়।নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩’ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। ভবন নির্মাণের সময় অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ এবং এর শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।রান্না শেষে চুলা ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ রাখতে হবে। গ্যাসের চুলা নেভাতে ফুঁ না দিয়ে চুলার নব ভালোভাবে বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত অংশ সম্পূর্ণ নিভিয়ে নিরাপদ স্থানে ফেলতে হবে। শিশুদের আগুন, দিয়াশলাই ও লাইটার নিয়ে খেলতে দেওয়া যাবে না।দাহ্যবস্তুর গুদামে খোলা বাতি ও মশার কয়েল ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। গ্যাসের চুলা জ্বালানোর আগে রান্নাঘরের দরজা-জানালা খুলে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। গ্যাস জমে থাকলে চুলা জ্বালানো বিপজ্জনক বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।আরও  পড়ুন, নিজের সন্তানের জন্য হলেও পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ে তুলুন: প্রধানমন্ত্রীবৈদ্যুতিক তার, সুইচ, সংযোগ ও যন্ত্রপাতি নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং ত্রুটিপূর্ণ তার ও অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক লোড এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাসাবাড়ি, কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখতে হবে। এসব যন্ত্রের ব্যবহার জানা এবং নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা মহড়া আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে অগ্নিপ্রতিরোধ, অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধারকাজ ও প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ঘরে প্রবেশের পর পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে বা গ্যাস জমে থাকার আশঙ্কা থাকলে বৈদ্যুতিক সুইচ, আগুন কিংবা দিয়াশলাই ব্যবহার না করে নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে জরুরি সহায়তা নিতে হবে।এ ছাড়া নিকটস্থ ফায়ার স্টেশনের নম্বর সংরক্ষণ এবং জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন ১০২ অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হোটেল ও রেস্তোরাঁয় গ্যাস সিলিন্ডার, চুলা এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করে অগ্নিনিরাপত্তাবিধি অনুসরণের ওপরও জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

রাজনীতিরাজনীতি

দুর্গাপূজার মূল বার্তা সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা রিজভী

দুর্গাপূজার মূল বার্তা সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা রিজভী

শারদীয় দুর্গাপূজার মূল মর্মবাণী হলো অসত্যকে বিনাশ করে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা। উৎসব মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে এবং ধর্মীয় বিভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে শেখায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে দর্শনার্থী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, বারবার ফিরে আসে মায়ের আগমনে শারদীয় দুর্গাপূজা। এই উৎসবের বার্তা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা সব ধর্মের মানুষ এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রযোজ্য। উৎসব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করে। অন্য ধর্মের মানুষও এই আনন্দে অংশ নেন। তিনি বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরাপত্তার সঙ্গে উদযাপিত হতে পারে, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য।আরও পড়ুন,পদত্যাগের পর মুখ খুললেন ইশরাক হোসেন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ছুটি ও সরকারি সহায়তার প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পক্ষ থেকে দুই দিনের ছুটির আবেদন করা হলেও সরকার তা বাড়িয়ে তিন দিন করেছে। এতে এবার মোট পাঁচ দিনের ছুটি উপভোগ করতে পারছেন তারা। পাশাপাশি পূজামণ্ডপ ও মন্দিরের জন্য চালের বরাদ্দ ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে রিজভী বলেন, প্রতিটি মন্দিরের পুরোহিত ও সেবায়েতকে প্রতি মাসে সম্মানী দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ চলছে। বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শত শত বছর ধরে এ দেশের মানুষ একে অন্যের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবে অংশ নিয়ে আসছে। এই ঐতিহ্য নিয়ে কেউ ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করলেও দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ তা সফল হতে দেবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস যার যার নিজস্ব বিষয়। তবে প্রত্যেক নাগরিক যেন স্বাধীনভাবে নিজের ধর্মীয় অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য অটুট থাকবে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

পদত্যাগের পর মুখ খুললেন ইশরাক হোসেন

পদত্যাগের পর মুখ খুললেন ইশরাক হোসেন

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। একই সঙ্গে মাদক নির্মূলে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। সোমবার, ১৯ অক্টোবর, দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন ইশরাক হোসেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, কোনো অনৈতিক স্বার্থ, জমি দখল কিংবা চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে নয়, বরং মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করতেই তিনি সেদিন মাঠে নেমেছিলেন। ইশরাক হোসেন বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি মাদকবিরোধী অভিযান সমন্বয় করতে গিয়েছিলেন। আরও পড়ুন,বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে সব সম্প্রদায়ের স্থান রয়েছে: রিজভীতাঁর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি ছিল লাইসেন্স করা এবং নিজের নিরাপত্তার জন্য সেটি সঙ্গে নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে ওই ঘটনার ছবি প্রকাশের পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নানা ধরনের খবর ও বর্ণনা উঠে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে হতাশা জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন তাঁকে এভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইশরাক হোসেন আরও জানান, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির পর তিনি নিজেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষ্য, দল যাতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে এবং প্রধানমন্ত্রীর কাজে কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়, সে বিবেচনা থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়লেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাওয়ার পাশাপাশি মাদক নির্মূলে কাজ করার অনুমতি চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবং সে সুযোগ পেয়েছেন। গেন্ডারিয়ার ওই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনে আলোচনার মধ্যে নিজের অবস্থান তুলে ধরলেন ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য। তবে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় ওঠা প্রশ্ন এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়ন নির্ভর করবে প্রাসঙ্গিক তথ্য ও যাচাই করা বক্তব্যের ওপর।

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে সব সম্প্রদায়ের স্থান রয়েছে: রিজভী

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে সব সম্প্রদায়ের স্থান রয়েছে: রিজভী

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এমন একটি বাগান, যেখানে বিভিন্ন রঙের ও জাতের ফুল একসঙ্গে ফোটে এবং প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব স্থান সংরক্ষিত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী।সোমবার সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।রুহুল কবীর রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রদর্শিত ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ সব সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও সম্প্রীতির কথা বলে। উৎসব কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা সামাজিক সীমানায় আবদ্ধ নয়। এর সর্বজনীন আহ্বান সব সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ নিয়ে একসঙ্গে বসবাসের অনুপ্রেরণা জোগায়।তিনি বলেন, সমাজে অসত্য ও অশুভ শক্তির বিনাশ করে সত্য, ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই দুর্গাপূজার মূল মর্মবাণী।সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস যার যার ব্যক্তিগত বিষয় হলেও রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার সমান।আরও  পড়ুন, আজ দুপুর ২টায় পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন ইশরাকপ্রত্যেকে যেন নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।বিএনপি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দুর্গাপূজার ছুটি বৃদ্ধি, পূজামণ্ডপে বরাদ্দ বাড়ানো এবং পুরোহিত ও সেবায়েতদের সম্মানি দেওয়ার বিষয়গুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শত শত বছর ধরে এ দেশের মানুষ একই ভাষা ও লোকজ সংস্কৃতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে মিলেমিশে বসবাস করছে। দেশের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য বিনষ্ট করতে দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র হতে পারে। তবে ধর্মপ্রাণ ও অসাম্প্রদায়িক মানুষ তা কখনো সফল হতে দেবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেবাশীষ পাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুর রহমান, ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আজ দুপুর ২টায় পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন ইশরাক

আজ দুপুর ২টায় পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন ইশরাক

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। আজ সোমবার দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।সোমবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ইশরাক হোসেন এ তথ্য জানান। পোস্টে তিনি লেখেন, দুপুর ২টায় প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন।পোস্টে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজনের উল্লাসসূচক মন্তব্য দেখেছেন। ভবিষ্যতে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁদের দেশে ফিরে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার কথা জানালেও মাদকের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থানে অটল থাকার কথা জানিয়েছেন ইশরাক। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করবেন।ঢাকা-৪ আসনে ২৫ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিল জামায়াত পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া এবং প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে বিভিন্ন জেলা সফরের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি এর আগে রোববার রাতে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন বিটিভিসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর প্রচারিত হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে সে সময় সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। পরে ইশরাক বিষয়টিকে গুজব বলে উল্লেখ করেন এবং গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান।উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনসংলগ্ন একটি বস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। এ সময় মাদক কারবারে জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। অভিযানের সময় তাঁর অস্ত্র প্রদর্শনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

সারাবাংলা

কক্সবাজারে পুলিশের অভিযানে ৯ জন গ্রেপ্তার

কক্সবাজারে পুলিশের অভিযানে ৯ জন গ্রেপ্তার

কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকা থেকে ৯ জনকে গ্রেপ্তার কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকা থেকে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ২ জন ছিনতাইকারী, ৫ জন মাদকসেবী, ১ জন ধর্তব্য অপরাধে অভিযুক্ত এবং ১ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছেন। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অপরাধ দমন ও ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ছিনতাইকারী দুজন হলেন—কক্সবাজার পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বৈদ্যঘোনা এলাকার জোবায়ের প্রকাশ লালু (২৪) এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের হেলাল হোসেন প্রকাশ হেলাল (২১)। এ ছাড়া মাদকসেবী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মঞ্জুর আলম (২১), মো. অপু (২৯), মো. তারেক (২১), মোহাম্মদ ছোপায়েত (২০) ও মো. মাছুম (১৯)কে। অন্যদিকে, ধর্তব্য অপরাধে সামিনুজ্জামান নামে একজনকে এবং ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে খুরুশকুল ইউনিয়নের কুলিয়াপাড়া এলাকার মো. কোরবান আলী নুরী (২২) নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে জোবায়ের প্রকাশ লালুর বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের একটি মামলা রয়েছে।আরও পড়ুন,নরসিংদীতে রায়পুরায় বিদেশি পিস্তল, গুলি ওমোটরসাইকেলসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার হেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের ১০ অক্টোবরের একটি সাধারণ ডায়েরির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ২ জন ছিনতাইকারী, ৫ জন মাদকসেবী, ১ জন ধর্তব্য অপরাধে অভিযুক্ত এবং ১ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছেন। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অপরাধ দমন ও ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃত ছিনতাইকারী দুজন হলেন—কক্সবাজার পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বৈদ্যঘোনা এলাকার জোবায়ের প্রকাশ লালু (২৪) এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের হেলাল হোসেন প্রকাশ হেলাল (২১)।এ ছাড়া মাদকসেবী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মঞ্জুর আলম (২১), মো. অপু (২৯), মো. তারেক (২১), মোহাম্মদ ছোপায়েত (২০) ও মো. মাছুম (১৯)কে। অন্যদিকে, ধর্তব্য অপরাধে সামিনুজ্জামান নামে একজনকে এবং ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে খুরুশকুল ইউনিয়নের কুলিয়াপাড়া এলাকার মো. কোরবান আলী নুরী (২২) নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে জোবায়ের প্রকাশ লালুর বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের একটি মামলা রয়েছে। হেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের ১০ অক্টোবরের একটি সাধারণ ডায়েরির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এসআরবির অভিযানে শিশু উদ্ধার গ্রেপ্তার যুবক

এসআরবির অভিযানে শিশু উদ্ধার গ্রেপ্তার যুবক

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ। এর আগে রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার নওপাড়া তাজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে নান্দাইল উপজেলার চণ্ডীপাশা এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এসআরবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মামলার এজাহার অনুযায়ী, শিশুটি মাদ্রাসায় যাওয়া-আসার পথে সাকিব তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জানতে পেরে সাকিবের পরিবারকে জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হন এবং শিশুটিকে অপহরণের হুমকি দেন। এরপর গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে শিশুটির বাড়ির কাছের একটি সড়ক থেকে সহযোগীদের সহায়তায় একটি অজ্ঞাত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে তাকে অপহরণ করা হয়।আরও পড়ুন,গঙ্গাচড়ায় বিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয় নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা বক্তব্য, তদন্তের ঘোষণা শিক্ষা কর্মকর্তার পরে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।  এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ময়মনসিংহের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পিটিশন মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে গত ১১ অক্টোবর ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ও ৯(১) ধারায় মামলা করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মামলা হওয়ার পর থেকে আসামিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামি ও শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায় এসআরবি-১৪-এর একটি দল। অভিযানে মামলার প্রধান আসামি সাকিবকে গ্রেপ্তার এবং অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরে উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে নিরাপদ হেফাজতে রাখা এবং গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

গঙ্গাচড়ায় বিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয় নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা বক্তব্য, তদন্তের ঘোষণা শিক্ষা কর্মকর্তার

গঙ্গাচড়ায় বিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয় নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা বক্তব্য, তদন্তের ঘোষণা শিক্ষা কর্মকর্তার

‎রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের বাগডহরা চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোকলেছুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে প্রায় ৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন  দাতা সদস্য ও অভিভাবকরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দাবি করেছেন, বিদ্যালয়ের পাঁচটি কাজের মধ্যে চারটি সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজের জন্য বরাদ্দ করা অর্থের ব্যয়ের হিসাব নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়। অভিযোগকারীদের দাবি, দৃশ্যমান কাজের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাবের অসংগতি রয়েছে। এ নিয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তাঁরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোকলেছুর রহমানের কাছে উন্নয়ন খাতের অর্থ ব্যয়ের হিসাব চান। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি তাঁদের সন্তোষজনক হিসাব দিতে পারেননি। ‎এর পরদিন, ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানা গেছে।আরও পড়ুন,তালায় ক্ষিতিশ হত্যা: চার দিনেও গ্রেপ্তার নেই, পরিবারকে হুমকি তাঁর অনুপস্থিতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে শিক্ষককে ২০ দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।‎স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়টিতে মাত্র দুজন শিক্ষক কর্মরত থাকায় একজন দীর্ঘ ছুটিতে থাকলে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ‎অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোকলেছুর রহমান বলেন, “গত পাঁচ অর্থবছরের কিছু কাজ বাকি ছিল। পূর্বের ব্যয়ের হিসাব নিষ্পত্তি করে পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঁচটি কাজ সম্পন্ন করার রেজুলেশন করা হয়। এর মধ্যে চারটি কাজ সম্পন্ন হয়েছে, একটি কাজ বাকি রয়েছে।” ‎তিনি আরও বলেন, “এই কাজগুলোর জন্য আমার কাছে কেউ টাকা পাবে না। কাজ করার জন্য লোক নিয়ে এলে তাঁরা ফিরে যান এবং কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁরা ৪০ হাজার টাকা নিয়ে কাজ করতে দেন। পরবর্তী সময়ে কাজের জন্য টাকা উত্তোলন করলে অভিযোগকারীরা আমার কাছে ১ লাখ  টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।” ‎মোকলেছুর রহমান দাবি করেন, বাকি কাজ সম্পন্ন করার পর কোনো অর্থ অবশিষ্ট থাকলে রেজুলেশনের মাধ্যমে তা উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়া হবে।‎সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা  মোঃ নাজির ইসলাম বলেন, “আমি কাজগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। গত ছয় বছর ধরে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খরচ বহন করেছেন। সেসব খরচ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে তাঁর প্রাপ্য অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।আরও পড়ুন,জামায়াত কোনো রাজনৈতিক দল নয়,এটি একটি সমিতি: এমপি খোকন তালুকদার”‎তিনি আরও বলেন, “অবশিষ্ট টাকা দিয়ে কী কী কাজ করা হবে, তা নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে সভা করে রেজুলেশন করা হয়। সেই অনুযায়ী পাঁচটি কাজের মধ্যে চারটি সম্পন্ন হয়েছে, একটি কাজ বাকি রয়েছে।”‎গঙ্গাচড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ বলেন, “২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাগডহরা চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যালয়ের বরাদ্দের অর্থ ছয় বছর ধরে ব্যাংক হিসাবে জমা ছিল। মোকলেছুর রহমান ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন খরচ বহন করেছেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালে কমিটি গঠন করে সেই কমিটির মাধ্যমে কাজগুলো করা হয়। তিনি এককভাবে কোনো কাজ করেননি।”‎তিনি আরও বলেন, “এখন তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্তের মাধ্যমে প্রতিবেদন দাখিল করব।”‎বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, কোন খাতে কত টাকা খরচ করা হয়েছে এবং বাস্তবে কতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে—এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা।‎তাঁদের প্রত্যাশা, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা হবে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

জামায়াত কোনো রাজনৈতিক দল নয়,এটি একটি সমিতি: এমপি খোকন তালুকদার

জামায়াত কোনো রাজনৈতিক দল নয়,এটি একটি সমিতি: এমপি খোকন তালুকদার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ্য করে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার বলেছেন,জামায়াত ১৮ কোটি মানুষের জন্য কাজ করে না। সাধারণ মানুষ বলে জামায়াতের কর্মী ছাড়া জামায়াত কাউকে ভিক্ষাও দেয় না। জামায়াত কোনো রাজনৈতিক দল না, তারা একটি সমিতি। আর সেই সমিতির আন্ডারে যারা থাকে, কেবল তাদের নিয়েই তারা নিজেদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।​সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ২৩টি পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ​মণ্ডপ পরিদর্শন ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে খোকন তালুকদার আরও বলেন,আরও পড়ুন,গোপালগঞ্জে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চান আবু সোহেল জনিস্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত সুন্দরভাবে পূজা মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে। কালকিনি উপজেলার প্রতিটি পূজা মণ্ডপে আমরা নিজেরা গিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। মণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আমাদের পাশে পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত। আমরা একে একে প্রতিটি মন্দির ও মণ্ডপ পরিদর্শন শেষ করব। ​পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্যের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন কালকিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার কিশোর কুমার দাস,কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল আলম, কালকিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বেপারী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন মুন্সি,মাদারীপুর জেলা বিএনপি আহবায়ক কমিটির সদস্য গাউছ-উর রহমান এবং বিএনপি ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

আন্তর্জাতিক

নেতানিয়াহুকে ঘিরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগ

নেতানিয়াহুকে ঘিরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগ

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলায় কারাগারে যাওয়া এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে আরেকটি যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। একই সঙ্গে তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু না করতে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছেন তিনি। রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি এসব অভিযোগ করেন। তিনি লেখেন, কারাগারের বাইরে থাকতে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকটি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে ইসরায়েল ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে, তা নেতানিয়াহু বিবেচনায় নিচ্ছেন না বলেও দাবি করেন তিনি। আরাগচি আরও সতর্ক করে বলেন, অতীতে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করা হলেও ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে এসেছে। আবারও একই ধরনের চেষ্টা করা হলে তেহরান পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত বলেও ইঙ্গিত দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের পার্লামেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারত্বের প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি ইসরায়েলিরা অন্য কাউকে নেতা হিসেবে বেছে নিলে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেকেই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দায়িত্ব নিতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। আরও পড়ুন,ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে ৩৩ শতাংশেনিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহুর পরিবর্তে অন্য কেউ ইসরায়েলের নেতা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেরাই এই দায়িত্ব নিতে হতে পারে। তবে তিনি নিজে তা করতে আগ্রহী নন বলেও উল্লেখ করেন। ২০২২ সালের শেষ দিক থেকে ইসরায়েল সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন নেতানিয়াহু। দুর্নীতির অভিযোগে নিজ দেশেই তাঁর বিচার চলছে। এসব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সাল থেকে তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।এদিকে নেতানিয়াহুর সরকারকে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে ইসরায়েলের বিরোধী দলগুলো নিজেদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করছে। আগামী ২৭ অক্টোবর দেশটিতে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পাল্টা আক্রমণ চালায় তেহরান। পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ায় নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্যে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

৫ ঘন্টা আগে

রাজধানী

১ নভেম্বর থেকে ঢাকার ছয় রুটে চালু হচ্ছে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ বাসব্যবস্থা

১ নভেম্বর থেকে ঢাকার ছয় রুটে চালু হচ্ছে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ বাসব্যবস্থা

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো ও যানজট কমাতে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ পদ্ধতিতে বাস পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ঢাকার ছয়টি প্রধান রুটে পরীক্ষামূলকভাবে বাস চলাচল শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচটি নন-এসি ও একটি এসি রুটে এ কার্যক্রম চালু করা হবে।রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) আয়োজিত এক সভায় বাস চলাচলের রুট, পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, বাসের সংখ্যা ও স্টপেজ নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর দুই মাস পর আরও তিনটি সার্কুলার রুট যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।প্রথম পর্যায়ের ছয়টি রুট হলো গাজীপুর-ঢাকেশ্বরী মন্দির, গাবতলী-ডেমরা, দুয়ারীপাড়া-সদরঘাট, ঘাটারচর-ডেমরা, ঘাটারচর-কাঁচপুর এবং মিরপুর-১২-মাওয়া।পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব রুটে একাধিক পরিবহন প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিত করে যৌথভাবে বাস পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর-ঢাকেশ্বরী মন্দির রুটে বিকাশ পরিবহন, বিকাশ সেবা ট্রান্সপোর্ট ও ডিভাইস পরিবহন দায়িত্ব পালন করবে। গাবতলী-ডেমরা রুটে থাকবে আলিফ এন্টারপ্রাইজ, বৈশাখী পরিবহন ও রইছ পরিবহন।আরও  পড়ুন, ১০০ ফিট সড়কে অবশিষ্ট ১০ ফুট, দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পথচারীরাদুয়ারীপাড়া-সদরঘাট রুটে দিশারী, তানজিল, মেট্রো লিংক ও ট্রান্সসিলভা যৌথভাবে বাস পরিচালনা করবে। ঘাটারচর-ডেমরা এবং ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে দায়িত্বে থাকবে রমজান, মালঞ্চ, মিডলাইন ও রজনীগন্ধা পরিবহন। অন্যদিকে মিরপুর-১২-মাওয়া রুটে বাস চালাবে স্বাধীন, বিহঙ্গ, বিকল্প ও শিকড় পরিবহন।ডিটিসিএর ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম জানিয়েছেন, শিগগিরই এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হবে।নতুন বাসব্যবস্থা কার্যকর করতে বাসস্টপ চিহ্নিত করা, টিকিট কাউন্টার স্থাপন, ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ডিএমপি ও দুই সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিটিসিএ।সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ পদ্ধতি বাস্তবায়িত হলে একই রুটে বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা কমবে, যাত্রী ওঠানামায় শৃঙ্খলা ফিরবে এবং গণপরিবহনে যাত্রীসেবার মান বাড়বে। তবে উদ্যোগটির সফলতা নির্ভর করবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত তদারকি এবং নির্ধারিত নিয়ম কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর।

১০ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৫ জন

খেলাধুলা

২৭২ রান তাড়া করতে না পারায় হতাশ তাসকিন

২৭২ রান তাড়া করতে না পারায় হতাশ তাসকিন

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর বাংলাদেশের ব্যাটারদের ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছেন পেসার তাসকিন আহমেদ। তার মতে, আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করার মতো সামর্থ্য বাংলাদেশের ছিল। কিন্তু ব্যাটাররা প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেননি। বিশেষ করে চাপের মুহূর্তে জুটি গড়তে না পারাকেই হারের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি। শনিবারের ম্যাচে শুরুটা অবশ্য ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের মাত্র ২৪ রানে তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে বোলাররা। তবে সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি দলটি। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ২৭১ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ধারাবাহিকতা হারায় বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসানের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৪৭ রান। আরও পড়ুন,রঞ্জি ট্রফিতে ৪০০ রানের ইতিহাস গড়লেন চিন্ময়এরপর আর কোনো বড় জুটি গড়ে তুলতে পারেননি ব্যাটাররা। একের পর এক উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৭২ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ফলে ৯৯ রানের বড় জয় পায় জিম্বাবুয়ে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন আহমেদ বলেন, এই কন্ডিশনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করা সম্ভব ছিল। বাংলাদেশের এই রান তাড়া করা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে দল ভালো খেলতে পারেনি বলে হতাশা প্রকাশ করেন এই পেসার। তাসকিন আরও বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশ কোনো ভালো জুটি গড়তে পারেনি। একটি জুটি হলেও ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারত। তার মতে, বোলিংয়ে আগের তুলনায় ধারাবাহিকতা বেড়েছে। তাই ম্যাচটি ব্যাটারদের জিতিয়ে দেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তারা তা পারেননি। বাংলাদেশের ইনিংসে নবম উইকেটে তাসকিন আহমেদ ও রিশাদ হোসেনের ২৬ বলে ৩২ রানের জুটিই ছিল উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ। তবে তা পরাজয়ের ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কোনো কাজে আসেনি। তাসকিনের মতে, বাংলাদেশের ব্যাটারদের দক্ষতার অভাব নেই। প্রত্যেকেই ভালো ব্যাটিং করার সামর্থ্য রাখেন। মূল সমস্যা হলো, চাপের মুহূর্তে দল হিসেবে দ্রুত ভেঙে পড়া। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে ম্যাচের অবস্থা বুঝে খেলার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বড় দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে এমন চাপের সময়েও দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!