দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

দেশে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি দমনে প্রয়োজন ‘অপারেশন  ক্লিন হান্ট’

প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ / দেশে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি দমনে প্রয়োজন ‘অপারেশন ক্লিন হান্ট’

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, সংঘর্ষ, অপহরণ, জমি ও ফ্ল্যাট দখল, মব সৃষ্টি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের নানা ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় দলবদ্ধ হামলা, সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও বাড়ছে উদ্বেগ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিবেশ ঘোলাটে হওয়ার আশঙ্কা এবং অপরাধের সঙ্গে রাজনৈতিক কিংবা প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলের উদ্বেগের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কি আবারও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে? বিশেষ করে আগে পরিচালিত ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’এর আদলে নতুন করে কোনো সমন্বিত অভিযান চালানো প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে শুধু অভিযান চালিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব কি না, নাকি এর সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি, পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, দ্রুত তদন্ত, মামলা নিষ্পত্তি এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।আরও  পড়ুন : সত্য ও জনমানুষের কথা বলার প্রত্যয়ে আরও দূর পথপুলিশ সদরদপ্তরের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মাসভিত্তিক অপরাধের তথ্য রয়েছে। এসব তথ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও হত্যা, সংঘর্ষ, অপহরণ, মব হামলা ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ে উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে। ইধহমষধফবংয চড়ষরপব জুনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, মার্চ থেকে মে এই তিন মাসে দেশে ৯১৫টি হত্যা মামলা রেকর্ড হয়েছে। একই প্রতিবেদনে রাজনৈতিক বিরোধ, অপরাধীচক্রের দ্বন্দ্ব, অবৈধ অস্ত্র এবং দুর্বল আইন প্রয়োগকে সহিংসতার বিভিন্ন কারণ হিসেবে বিশ্লেষকদের বক্তব্যে তুলে ধরা হয়।দেশে এর আগে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর দ্বিতীয় পর্যায়ের অভিযান শুরুর পর ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ২২ হাজার ৪৬৪ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধারের তথ্যও দেওয়া হয়।আরও  পড়ুন, সাভার গেন্ডায় ঢাকা ইন গেস্ট হাউজে জুলহাসের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সিন্ডিকেট এর আগে জানুয়ারির শুরুতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ১৪ হাজার ৫৬৯ জন গ্রেপ্তার এবং ২০১টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের তথ্যও জানানো হয়েছিল।তবে বিশেষ অভিযানের সাফল্য বিচার করতে হলে শুধু গ্রেপ্তারের সংখ্যা দেখলে হবে না। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কতজন প্রকৃত অপরাধী, কতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র হয়েছে, কতজনের বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং অপরাধের পুনরাবৃত্তি কতটা কমেছে—এসব সূচকও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। কারণ ব্যাপক গ্রেপ্তার সাময়িকভাবে অপরাধীদের মধ্যে ভীতি তৈরি করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে অপরাধ কমাতে হলে অপরাধের অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক ভিত্তি ভেঙে দেওয়া প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সক্ষমতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পুলিশের ওপর হামলা, জনবল সংকট, তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা এবং মাঠপর্যায়ে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা থাকলে অপরাধীরা সুযোগ পেতে পারে।আরও  পড়ুন : পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে নরসিংদীতে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিলআগস্টে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি-জুলাই সময়ে সাতটি প্রধান অপরাধের আওতায় ২১ হাজার ৭৫৬টি মামলা হয়েছে, যা আগের ছয় মাসের ২১ হাজার ২২৮টির তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। তবে একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলা সংখ্যা পুরো পরিস্থিতির চিত্র দেয় না কারণ অনেক ভুক্তভোগী থানায় মামলা করেন না কিংবা অভিযোগ সাধারণ ডায়েরি বা লিখিত অভিযোগ হিসেবে থেকে যেতে পারে।সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ সদরদপ্তরের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি সহিংস অপরাধ, কিশোর গ্যাং, সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র এবং ডিজিটাল প্রতারণাকে বড় আইনশৃঙ্খলা চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কমিটি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তিন ধাপের একটি রোডম্যাপের সুপারিশ করেছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মধ্যে দ্রুত পুলিশি সাড়া, গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।  এটি ইঙ্গিত করে যে অপরাধ মোকাবিলায় শুধু ‘বিশেষ অভিযান’ নয়, বরং পুলিশের নিয়মিত কাঠামোকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার যদি নতুন করে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষ বা পরিচয়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং প্রমাণভিত্তিক অপরাধ দমন অভিযান হিসেবে পরিচালিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অভিযানের আওতায় থাকতে পারে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র, অপহরণ, মাদক, কিশোর গ্যাং, সংঘবদ্ধ দখলবাজি, চোরাচালান এবং মব সহিংসতার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীরা। তবে অভিযানের ক্ষেত্রে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়া, প্রমাণ সংগ্রহ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত না হলে দীর্ঘমেয়াদি ফল পাওয়া কঠিন হতে পারে। দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থির হলে তার প্রভাব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর পড়তে পারে।আরও  পড়ুন :অনলাইন পোর্টাল ও ফেসবুক পেজ খুলেই কথিত ‘সাংবাদিক’! রাজনৈতিক বিরোধ যখন স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসা, পরিবহন, বাজার, জমি কিংবা অন্যান্য সম্পদ নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতায় রূপ নেয়, তখন অপরাধীচক্রও সেই সুযোগ নিতে পারে।২০২৬ সালের প্রথমার্ধের রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে ওধিকার-এর প্রতিবেদনে ৪১ জন নিহত এবং ৯৭০ জন আহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা পক্ষকে সামগ্রিকভাবে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করার আগে প্রতিটি ঘটনার পৃথক তদন্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ করা জরুরি। রাজধানীর ফুটপাতের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে আবাসিক এলাকার বাসিন্দা, জমির মালিক, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক কিংবা সাধারণ চাকরিজীবী—সবার কাছেই নিরাপত্তা একটি মৌলিক প্রত্যাশা। চাঁদাবাজির ভয়, জমি দখলের আশঙ্কা, সংঘর্ষে আটকে পড়া কিংবা হঠাৎ মব হামলার আতঙ্ক জনজীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ঢাকায় মাত্র তিন দিনে জমি বিরোধ, দখল, ভাঙচুর ও লুটপাটের চারটি ঘটনার কথা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েকটি ঘটনায় দলবদ্ধভাবে লোকজন বিভিন্ন সম্পত্তিতে প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর ও দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। কোথাও ভারী যন্ত্রপাতিও ব্যবহার করা হয়েছে। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক এক যৌথ বিবৃতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, জমি ও বাড়ি দখল এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা এসব ঘটনার নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।আরও  পড়ুন :তৃণমূলের কাণ্ডারী বকুল: ফরিদপুর বিএনপিতে ফের নেতৃত্বের আশাবাদএমন বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠছে—দেশের মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ফিরিয়ে আনতে সরকারকে কি আরও কঠোর ও সমন্বিত কোনো বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে? আর সেই সম্ভাব্য অভিযানের নাম কি হতে পারে ‘অপারেশন ক্লিন হান্ট’? তবে ‘অপারেশন ক্লিন হান্ট’ নামে বর্তমানে কোনো সরকারি অভিযান ঘোষণা হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। এখানে নামটি একটি সম্ভাব্য বিশেষ অভিযানের ধারণা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।অপরাধের সামগ্রিক চিত্র নিয়ে সরকারি বক্তব্য এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং হত্যা, অপহরণ ও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার মতো কয়েকটি বড় অপরাধ কমেছে।অন্যদিকে পুলিশের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত অপরাধের তথ্য পর্যালোচনা করে সহিংস অপরাধ, কিশোর গ্যাং, সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র এবং ডিজিটাল প্রতারণাকে বড় আইনশৃঙ্খলা চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কমিটি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তিন ধাপের একটি পরিকল্পনাও প্রস্তাব করেছে। অর্থাৎ সামগ্রিক পরিস্থিতির কিছু সূচকে উন্নতি থাকলেও অপরাধের নতুন ধরন এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। কোনো ব্যক্তি অপরাধ করেছেন কি না, তার বিচার করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের আইন ও আদালতের। কিন্তু দলবদ্ধভাবে কাউকে আক্রমণ, মারধর কিংবা শাস্তি দেওয়ার ঘটনা আইনের শাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পুলিশের সাম্প্রতিক পর্যালোচনাতেও মব হামলা, জমি বিরোধ, রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং আধিপত্য বিস্তারকে সহিংসতার বিভিন্ন কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মব তৈরি করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি ভয় সৃষ্টি করতে পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগের ওপর আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।আরও  পড়ুন : Divine Group ঘিরে এবার মামলার হিসাবএদিকে সরকার বলছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, সন্ত্রাসী, সশস্ত্র অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, এসব অপরাধীর তালিকা পুলিশ নিয়মিত হালনাগাদ করছে।বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘অপারেশন ক্লিন হান্ট’ প্রয়োজন রয়েছে। এর আওতায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র, অপহরণ, দখলবাজি এবং মব সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। তবে এমন কোনো অভিযান হলে শুধু গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ানোই যথেষ্ট হবে না। প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত করা, ঘটনার পেছনের সংগঠিত কাঠামো চিহ্নিত করা এবং মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে কার্যকর করার বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো একটি অভিযান সাময়িকভাবে অপরাধীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে হলে অপরাধের মূল কাঠামো ও পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়গুলোও সামনে আনতে হবে।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক পরিবেশের প্রভাবও আলোচনায় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। ২৯ সেপ্টেম্বর আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের অপরাধী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় যেন কোনো অপরাধীকে সুরক্ষা না দেয়।আরও  পড়ুন : বনানীতে গেস্ট হাউজ-স্পা, ওসির ভূমিকা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্নএ ধরনের বক্তব্যের বাস্তব প্রয়োগই এখন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাবশালী কারও সঙ্গে যোগাযোগের কারণে কোনো অপরাধী আইনের বাইরে থেকে গেলে সাধারণ মানুষের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কমিটি অপরাধ মোকাবিলায় গোয়েন্দাভিত্তিক পুলিশিং, দ্রুত পুলিশি সাড়া, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। কমিটি দীর্ঘমেয়াদে সিসিটিভি, উন্নত তদন্তব্যবস্থা, অপরাধের তথ্যভান্ডার এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব করেছে। এ থেকে স্পষ্ট যে অপরাধ দমনের প্রশ্নটি শুধু একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত পুলিশি কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।অন্যদিকে সরকারের দাবি অনুযায়ী সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছু ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি মূল্যায়নে শুধু বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা নয়, সরকারি পরিসংখ্যান, মামলা, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা এবং জনগণের নিরাপত্তাবোধ সবকিছুকে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। যদি সরকার ‘অপারেশন ক্লিন হান্ট’ নামে কোনো বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, আরও  পড়ুন  :চট্রগ্রাম গোয়ালপাড়ায় মাদক সম্রাজ্ঞী "আকলিমার" মাদকের হাটতাহলে সেটি যেন হয় অপরাধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর উদ্যোগ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক অবস্থান বা প্রভাব বিবেচনা না করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।সবশেষে প্রশ্নটি শুধু নতুন একটি অভিযানের নাম নিয়ে নয়। মূল প্রশ্ন হলো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখল, অপহরণ ও মব সহিংসতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কতটা কার্যকরভাবে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে। অপারেশন ক্লিন হান্ট’ হোক কিংবা অন্য কোনো উদ্যোগ—সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটাই, দেশে এমন একটি পরিবেশ ফিরে আসুক যেখানে অপরাধীচক্রের পেশিশক্তির চেয়ে আইনের শক্তি বেশি কার্যকর হবে এবং মানুষ নিজের জীবন, সম্পদ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নিরাপদ বোধ করবে।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

যানজট কমাতে সায়েদাবাদ থেকে কাঁচপুরে দূরপাল্লার বাস

রাজধানীর যানজট কমাতে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাসগুলো শিগগিরই কাঁচপুরে নির্মাণাধীন নতুন বাস টার্মিনালে স্থানান্তর করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে চট্টগ্রাম সিলেট কুমিল্লা নোয়াখালীসহ ১৬ জেলার দূরপাল্লার বাস কাঁচপুর থেকে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর কাঁচপুর বাস টার্মিনালের চলমান নির্মাণকাজ সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থা আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে কাঁচপুর বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।আবদুস সালাম জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে অস্থায়ী শেড নির্মাণ করে ১৬ জেলার দূরপাল্লার বাস সায়েদাবাদ থেকে কাঁচপুরে স্থানান্তর করা হবে। পরবর্তী সময়ে কাঁচপুরে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।দূরপাল্লার বাসগুলো রাজধানীর মূল শহরে প্রবেশ না করলে ঢাকার যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আরও  পড়ুন, অনুমতিপত্র ছাড়া সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাকাঁচপুর থেকে সায়েদাবাদে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সুবিধার্থে ডিএসসিসির উদ্যোগে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিশেষ শাটল সার্ভিস চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।এদিকে গুলিস্তান বাস টার্মিনালটি বুড়িগঙ্গার ওপারে স্থানান্তরের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান ডিএসসিসি প্রশাসক।তিনি বলেন, প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি প্যাকেজের মাধ্যমে কাঁচপুর আধুনিক বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজ চলছে। প্রকল্পটির বর্তমান গড় অগ্রগতি প্রায় ৩০ শতাংশ।এর মধ্যে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ ৭৫ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ ২৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রাথমিক কাজ শেষ করে টার্মিনালটি চালুর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।নতুন টার্মিনাল চালু হলে রাজধানীর ভেতরে দূরপাল্লার বাসের প্রবেশ কমবে। এতে ঢাকার সড়কে যানবাহনের চাপ কমার পাশাপাশি দূরপাল্লার গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

অনুমতিপত্র ছাড়া সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

যথাযথ পাস বা অনুমতিপত্র ছাড়া দর্শনার্থীদের আর বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সচিবালয়ের নিরাপত্তা শাখা থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।বুধবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বাংলাদেশ সচিবালয়ে যথাযথ অনুমতিপত্র ছাড়াই দর্শনার্থীদের প্রবেশের ঘটনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে সচিবালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়ার পাশাপাশি সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রমের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।আরও  পড়ুন, শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় শুনানি ১৫ অক্টোবরএ কারণে সচিবালয়ের নিরাপত্তার স্বার্থে দর্শনার্থীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোরভাবে অনুমতিপত্র যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাকর্মীদের বলা হয়েছে, কোনো দর্শনার্থী প্রবেশের আগে যথাযথভাবে ওটিপি অথবা অনুমতিপত্র যাচাই করতে হবে।যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই দর্শনার্থীকে সচিবালয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে। অনুমতিপত্র ছাড়া কাউকে প্রবেশের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়েও বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।সচিবালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রমের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় শুনানি ১৫ অক্টোবর

‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে আদালতের নিয়মিত বিচারক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক মিনহাজ মোসাদ্দেক নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামে একটি জুম মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দেশ-বিদেশ থেকে ৫৭৭ জন অংশ নেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় আনার এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আলোচনা ও নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।মামলার নথিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ড. রাব্বি আলমের হোস্টিংয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভার কথোপকথনের ভয়েস রেকর্ড পর্যালোচনা করে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের উপাদান পাওয়া গেছে বলে তদন্তে দাবি করা হয়েছে।আরও  পড়ুন, বন্দরকে রাজনৈতিক বলয়মুক্ত করার ঘোষণা নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীরএই অভিযোগের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্ত শুরু হয়।তদন্ত শেষে সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর মামলাটি অভিযোগ গঠনের শুনানির পর্যায়ে আসে।উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ড. রাব্বি আলম, কবিরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, এলাহী নেওয়াজ মাছুম, জাকির হোসেন জিকু, প্রফেসর তাহেরুজ্জামান, এ কে এম আক্তারুজ্জামান, সাবেক এমপি সৈয়দ রুবিনা আক্তার, সাবেক এমপি পংকজ নাথ, লায়লা বানু এবং ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনসহ আরও অনেকে।এর আগে বিভিন্ন সময়ে মামলাটির অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য একাধিক তারিখ নির্ধারণ করা হয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য মামলাটি ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।

বন্দরকে রাজনৈতিক বলয়মুক্ত করার ঘোষণা নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর

দেশের সব বন্দরকে রাজনৈতিক বলয়মুক্ত করে সুস্থ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। বন্দর পরিচালনায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর কোনো পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বা প্রটোকল ছাড়াই হঠাৎ বেনাপোল স্থলবন্দর পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি বন্দরের বিভিন্ন শেড ঘুরে দেখেন এবং পণ্য সংরক্ষণ ও খালাস কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি বন্দরের বর্তমান কার্যক্রম বিদ্যমান সমস্যা এবং উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থলবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন বন্দরে এক ধরনের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কর্তৃত্ব রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এর কারণে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা অনেক সময় স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন না। সরকার এই পরিস্থিতির পরিবর্তন চায়।তিনি বলেন, বন্দর কোনো রাজনৈতিক বলয়ের জায়গা নয়। দেশের অর্থনীতির জন্য বন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে গতিশীল করতে বন্দরে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রকৃত ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।বেনাপোল বন্দরের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আরও  পড়ুন , তিস্তা প্রকল্পে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা চান রাষ্ট্রপতিতাই বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সেবার মান আরও উন্নত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই হবে না। বন্দরের সেবার মান, পণ্য খালাসের গতি, ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পান সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।বন্দরের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশনা দেন।তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে শুনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। কোনো অনিয়ম, প্রভাব বা স্বার্থের কারণে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।মো. রাজিব আহসান আরও বলেন, বেনাপোল বন্দরের উন্নয়নের সঙ্গে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি বড় অংশ জড়িত। বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। বন্দরের উন্নয়ন ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।পরিদর্শনের সময় বাংলাদেশ স্থলবন্দর চেয়ারম্যান মানজারুল মান্নান, যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা মাসুম খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতিরাজনীতি

অপরাধী যে-ই হোক, কোনো রাজনৈতিক ছাড় নেই: মাহ্‌দী আমিন

অপরাধী যে-ই হোক, কোনো রাজনৈতিক ছাড় নেই: মাহ্‌দী আমিন

অপরাধী যে-ই হোক, তাকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক ছাড় দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক দখল, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।মাহ্‌দী আমিন বলেন, এসব ঘটনা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর বিষয়ে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। সরকার প্রতিটি ঘটনায় সুষ্ঠু আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলেও জানান তিনি।আড়ও পড়ুন,সালমান মুক্তাদিরকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বললেন ছাত্রদল নেতা আমানতিনি জানান, চাঁদ উদ্যান দখলের চেষ্টার ঘটনায় ১৩ জন, আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ে জমি দখলের চেষ্টার ঘটনায় ১১ জন, মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও মালামাল ক্ষতির ঘটনায় ১৩ জন এবং ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে নির্মোহভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।মাহ্‌দী আমিন বলেন, কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি দল বা প্রশাসনের প্রভাব ব্যবহার করে কেউ অপরাধে জড়ালেও ছাড় দেওয়া হবে না—এমন অবস্থান সরকার আগেই জানিয়েছে।

সালমান মুক্তাদিরকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বললেন ছাত্রদল নেতা আমান

সালমান মুক্তাদিরকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বললেন ছাত্রদল নেতা আমান

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের বিরুদ্ধে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ছাত্রদল নেতা আমানউল্লাহ আমান। বিতর্কিত একটি সম্পত্তিতে স্টুডিও নির্মাণ এবং ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিএনপিকে চাঁদাবাজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।এক সংবাদ সম্মেলনে আমানউল্লাহ আমান বলেন, রাজধানীর একটি বিতর্কিত সম্পত্তির দখল নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাঁর দাবি, ওই বিরোধে অন্য পক্ষের লোকজন জড়িত থাকলেও স্টুডিও ভাঙচুরের পর সালমান মুক্তাদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি বিএনপিকে চাঁদাবাজ হিসেবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন।সালমান মুক্তাদিরের কাছে প্রশ্ন রেখে আমান বলেন, বিতর্কিত ও দখলকৃত বলে অভিযোগ থাকা ওই সম্পত্তিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে স্টুডিও নির্মাণের আগে তিনি জায়গাটির মালিকানা ও অবস্থান সম্পর্কে জানতেন কি না।আরও  পড়ুন, সাবেক এমপির বাসা থেকে গ্রেপ্তার ১৫ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী রিমান্ডেকম ভাড়া বা অন্য কোনো সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁকে জায়গাটি দখলের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তবে এগুলো আমানউল্লাহ আমানের অভিযোগ ও প্রশ্ন; এ বিষয়ে সালমান মুক্তাদিরের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।একই সঙ্গে স্টুডিও ভাঙচুরের পদ্ধতিকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন আমানউল্লাহ আমান। তাঁর ভাষ্য, বিএনপিকে চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপন করায় দলটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা গেছে।আমান আরও বলেন, সালমান মুক্তাদিরের উচিত সংবাদ সম্মেলন বা সরাসরি সম্প্রচারে এসে তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়া এবং বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া। অন্যথায় তাঁর অভিযোগ করা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন এই ছাত্রদল নেতা।তবে সম্পত্তির মালিকানা, দখলসংক্রান্ত অভিযোগ এবং বিএনপির সম্পৃক্ততা নিয়ে উত্থাপিত বক্তব্যগুলোর স্বাধীন যাচাই ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে।

সাবেক এমপির বাসা থেকে গ্রেপ্তার ১৫ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী রিমান্ডে

সাবেক এমপির বাসা থেকে গ্রেপ্তার ১৫ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী রিমান্ডে

রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে সাবেক সংসদ সদস্য মো. শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসা থেকে গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ২৯সেপ্টেম্বরঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।আদালত ১৪ আসামিকে তিন দিন এবং ফারজানা নামে এক আসামিকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। পুলিশ এর আগে প্রত্যেক আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল। আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করলেও উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।রিমান্ডে যাওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মো. ইয়াকুব হোসাইন রাজিব, আরাফাত মিয়া, রিফাত হাওলাদার, হৃদয় হাসান, ফাহিম, রাজিব হোসেন রানা, মো. ফিরোজ, মো. আরিফ, মো. ওমর ফারুক, আব্দুল্লাহ আল আমান, সোহানুর হোসেন শাহিন, মো. হাসিব ও হাসিব মিয়া। এছাড়া ফারজানার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে।আরও  পড়ুন, একের পর এক হামলা ভাঙচুরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ তদন্তের আশ্বাস সরকারেরউত্তরা পশ্চিম থানার ৭ নম্বর সেক্টরে সাবেক এমপি রিমনের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীরা রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ২০ থেকে ২২ জন পালিয়ে যায় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বাসার একটি কক্ষ তল্লাশি করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের একটি ইউনিয়ন কমিটির পদপ্রার্থী ২০ জনের নাম ও জীবনবৃত্তান্ত লেখা ২০টি পাতা জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সদস্য বলে পরিচয় দিয়েছেন। এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে।তবে এসব অভিযোগ এখনো মামলার তদন্তাধীন বিষয়। আদালতে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে না; তদন্ত শেষে বিষয়টি সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যাবে।সরাসরি ক্যাপশন: সাবেক এমপি রিমনের বাসা থেকে গ্রেপ্তার ১৫ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর মধ্যে ১৪ জনের তিন দিন ও একজনের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

একের পর এক হামলা ভাঙচুরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ তদন্তের আশ্বাস সরকারের

একের পর এক হামলা ভাঙচুরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ তদন্তের আশ্বাস সরকারের

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলের অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় সরকার দুঃখিত ও বিব্রত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব ঘটনায় সরকারের অবস্থান তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন হলে, স্থাপনা ভাঙচুর হলে বা কেউ হামলার শিকার হলে সরকার দুঃখিত। তিনি বলেন, নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। একই সঙ্গে তদন্তে কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে আইনের আওতায় আনার কথাও জানান তিনি।সাম্প্রতিক দুই ঘটনায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ও রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।আরও পড়ুন,জাসদ কার্যালয় ঘেরাও ও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে উদ্বেগ জিএম কাদেরেরতবে এসব ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী বা নেপথ্যের ব্যক্তিদের সবাই এখনো আইনের আওতায় আসেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগ তদন্তের বিষয় এবং সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। সরকারও জানিয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে তদন্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে ইসিবি চত্বরে নিউগিনি প্রপার্টিজ এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সময়ে রাজধানীর আরও কয়েকটি এলাকায় জমি ও স্থাপনা দখলের চেষ্টা এবং ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে এসেছে।সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। কেউ কেউ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের পৃথক তদন্তের ফলাফলই ঘটনার প্রকৃত দায় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপরাধ সংঘটিত হলে তার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর তদন্ত কতটা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে এগোয় এবং অভিযোগে যাদের নাম আসছে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়—সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।

সারাবাংলা

সাতক্ষীরা আদালত পাড়া থেকে হাতকড়াসহ মাদক মামলার আসামি পলায়ন, ৩ ঘণ্টা পর গ্রেপ্তার

সাতক্ষীরা আদালত পাড়া থেকে হাতকড়াসহ মাদক মামলার আসামি পলায়ন, ৩ ঘণ্টা পর গ্রেপ্তার

সাতক্ষীরায় পুলিশের হেফাজতে থাকা মাদক মামলার এক আসামি আদালত থেকে হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়ার প্রায় তিন ঘণ্টা পর আবারও পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাতক্ষীরা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম প্রথম আদালতের বারান্দা থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর শহরের সদর হাসপাতালের পাশের একটি অটস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।গ্রেপ্তার শফিকুল ইসলাম সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার রাড়িপাড়া গ্রামের সবুজ সানার ছেলে। তিনি একটি মাদক মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এবং অপর একটি মাদক মামলায় বিচারাধীন ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি বলে আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি শফিকুল ইসলামকে তাঁর বাড়ি থেকে তিন বোতল ফেনসিডিল ও ১৫০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক বিজয় কুমার মজুমদার বাদী হয়ে পাটকেলঘাটা থানায় মামলা করেন।মামলাটির তদন্ত শেষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাতক্ষীরা সার্কেলের পরিদর্শক তাজুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর ২০২৫ সাল থেকে শফিকুল পলাতক ছিলেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তীতে মামলাটিতে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং আগামী ১৮ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।এদিকে পাটকেলঘাটা থানার জিআর-১৫৬/২২ নম্বর আরেকটি মাদক মামলায় শফিকুল ইসলামকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২৫ সালে সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম প্রথম আদালত তাঁর অনুপস্থিতিতে এ সাজা দেন। এরপর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন বলে পুলিশ জানায়।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।আড়ও পড়ুন,কসবায় চিলড্রেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের মেধাবৃত্তি ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্টিতবুধবার দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করার জন্য সাতক্ষীরা আদালত ভবনে নেওয়া হয়।দুপুর দেড়টা থেকে ২টার মধ্যে তাকে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম প্রথম আদালতে নেওয়ার সময় আদালত ভবনের তৃতীয় তলার বারান্দা থেকে হাতকড়াসহ পালিয়ে যান শফিকুল। এরপর তাকে ধরতে পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেন।প্রায় তিন ঘণ্টা পর বিকেল ৪টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী অটস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আদালত পুলিশ।পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, শফিকুল একটি মাদক মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এবং অপর একটি বিচারাধীন মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি।বুধবার তাকে আদালতে নেওয়ার পর তিনি আদালত চত্বর থেকে পালিয়ে যান। পরে দ্রুত অভিযান চালিয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের পাশের অটস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।তবে আদালত থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় শফিকুলের বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা করা হয়েছে কি না—এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হক বলেন, থানার পুলিশ আসামিকে আদালতে আনার পথে দুপুরের দিকে তিনি পালিয়ে যান। পরে বিকেল ৪টার দিকে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।এদিকে ঘটনার বিষয়ে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম প্রথম আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোপাল পালের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

কসবায় চিলড্রেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের মেধাবৃত্তি ও সনদপত্র  বিতরণ অনুষ্টিত

কসবায় চিলড্রেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের মেধাবৃত্তি ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্টিত

গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আনন্দঘন পরিবেশে চিলড্রেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন আয়োজিত মেধাবৃত্তি ও সনদপত্র  বিতরণ অনুষ্ঠান সিডিসি স্কুল কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।সিডিসি স্কুল প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও সংগঠনের সভাপতি মোঃ সোলেমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন; সিডিসি স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি  মাহমুদা আক্তার, সিডিসি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাসলিমা আক্তার কাকলি, ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি সাংবাদিক নেপাল চন্দ্র সাহা, কসবা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রুহুল আমিন টিটু, আড়ও পড়ুন,মৃত্যুর আগের দিনও নির্যাতনের অভিযোগ, পরদিন গৃহবধূর মৃত্যুসিডিসি স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক নাসির উদ্দিন। অন্যান্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছিলেন ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ বিজয় টিভির জেলা প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন উজ্জল, চ্যানেল এস এর জেলা প্রতিনিধি  মোঃ দীপু। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিদ্যালয় সিনিয়র শিক্ষক আমিনুল ইসলাম দুলাল। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকগন উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মেধাভিত্তিক পরীক্ষা অংশগ্রহণকারী ৩০০ ছাত্র ছাত্রীর মধ্যে ৩৭ জনকে ট্যালেন্টপুল ও ২৭ জনকে সাধারণ  গ্রেডে বৃত্তি প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য ২০২২ সাল থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডার গার্টেন বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মেধা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বৃত্তি প্রদান করা হয়।

মৃত্যুর আগের দিনও নির্যাতনের অভিযোগ, পরদিন গৃহবধূর মৃত্যু

মৃত্যুর আগের দিনও নির্যাতনের অভিযোগ, পরদিন গৃহবধূর মৃত্যু

‎রংপুরের গঙ্গাচড়ায় জ্যোতি আক্তার (৩২) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, জ্যোতিকে হত্যা করে মরদেহ ঘরের ধর্নার (তীর) সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।‎বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের পাকুরিয়া শরীফ গ্রামের নিজ বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে জ্যোতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।‎নিহত জ্যোতি আক্তার ওই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন মাস্টারের মেয়ে এবং মো. শহিদুল ইসলাম (লেবু মাস্টার)-এর স্ত্রী। তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।‎পরিবারের সদস্যরা জানান, জ্যোতিকে ঘরের ধর্নার (তীর) সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।‎তবে জ্যোতির পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়। তাঁদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় জ্যোতিকে নির্যাতন করা হতো। সেই নির্যাতনের জেরেই তাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে।আড়ও পড়ুন,সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে ভারত যাওয়ার চেষ্টা, আটক ৬নিহতের ছোট ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই আমার বোনকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। গতকালও আমার বোন ফোন করে মারধরের কথা জানিয়েছিল। তার কথাবার্তায় আমি খুব চিন্তিত হয়ে পড়ি। আজ জানতে পারলাম, তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। আমার ধারণা, তাকে হত্যা করে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।’‎নিহতের চাচি মোহসেনা বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই জ্যোতির ওপর নির্যাতন করা হতো। সে বিভিন্ন সময় আমাদের ফোন করে নির্যাতনের কথা জানাত। আমরা তাকে বুঝিয়ে বলতাম, তাদের দুটি সন্তান আছে, সময়ের সঙ্গে হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এভাবে তার মৃত্যু হবে, তা কখনো ভাবিনি। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’‎পরিবারের আরেক সদস্য অভিযোগ করেন, জ্যোতিকে নিয়ে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে সবসময় ভয়ের পরিবেশ ছিল। এলাকার লোকজনও সহজে ওই বাড়িতে যেতে পারতেন না বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।‎এদিকে ঘটনার পর থেকে জ্যোতির স্বামী মো. শহিদুল ইসলামকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। তবে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে পরিবারের করা অভিযোগের বিষয়ে শহিদুল ইসলামের কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।‎গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর ছবুর বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে ভারত যাওয়ার চেষ্টা, আটক ৬

সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে ভারত যাওয়ার চেষ্টা, আটক ৬

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টাকালে ৬ জনকে আটক করেছে ৫৮ বিজিবি’র সদস্যরা। মঙ্গলবার সন্ধা ৬টার দিকে অবৈধ ভাবে সীমান্ত অতিক্রমের সময় তাদের আটক করা হয়। মহেশপুর ৫৮ বিজিবি’র সহকারী পরিচালক মুন্সী এমদাদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আরও  পড়ুন, মহেশপুরে এক যুববকে ৫ মাসের কারাদন্ডবিজিবি সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর ৫৮ বিজিবি’র অধীনে পলিয়ানপুর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্ত থেকে আনুমানিক ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পলিয়ানপুর গ্রামের রায়পুর নামক স্থান থেকে অবৈধ ভাবে বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টাকালে ৬ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ১ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ও ২টি জন শিশু রয়েছে। এ ঘটরায় মহেশপুর থানায় মামলা হয়েছে। 

আন্তর্জাতিক

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে নতুন সমীকরণ, ইরাকের সামনে নিরাপত্তার বড় পরীক্ষা

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে নতুন সমীকরণ, ইরাকের সামনে নিরাপত্তার বড় পরীক্ষা

দুই দশকের বেশি সময় ধরে ইরাকের নিরাপত্তা ও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অধ্যায় শেষ হয়েছে। তবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় ইরাকের সামনে তৈরি হয়েছে একাধিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ।২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের সরকার উৎখাতে মার্কিন অভিযান শুরুর পর থেকেই ইরাক যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ২০১১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হলেও ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট বা আইএসের উত্থানের পর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে আবারও মার্কিন বাহিনী ইরাকে ফিরে আসে। বাগদাদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ২০২৪ সালে হওয়া সমঝোতার ধারাবাহিকতায় এবার সেই সামরিক উপস্থিতির অবসান হলো।মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ফলে ইরাকে ইরানঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরাকের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘ সীমান্ত, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং দেশটিতে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর উপস্থিতি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে মার্কিন সেনা চলে যাওয়াকে ইরানের একচ্ছত্র প্রভাব প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইরাকের নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থ, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ক্ষমতার ভারসাম্য এবং কুর্দি নেতৃত্বের অবস্থানও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করবে।নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে আছে আইএসের অবশিষ্ট নেটওয়ার্ক।আড়ও পড়ুন,পাকিস্তানের আকাশ বন্ধ, ইউরোপ যেতে হোটানের আকাশপথ চাইছে ভারত ২০১৭ সালে ইরাকে আইএসের ভূখণ্ডগত নিয়ন্ত্রণের অবসান হলেও সংগঠনটির বিচ্ছিন্ন সদস্য ও গোপন সেলগুলোর তৎপরতার ঝুঁকি রয়েছে। মার্কিন বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য, নজরদারি, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা কমে গেলে জঙ্গিদের শনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা আরও কঠিন হতে পারে।তবে ইরাকি বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় অব্যাহত থাকলে এই ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সংঘাতপ্রবণ এলাকায় কার্যকর প্রশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্য সংগ্রহের সুযোগ কমানোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল ব্যাহত হলে তেল সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তেল আয়ের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ইরাকের জন্য দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক সংঘাত অর্থনীতি ও সরকারি রাজস্বের ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে।সব মিলিয়ে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ইরাকের জন্য একদিকে সার্বভৌমত্ব ও নিজস্ব নিরাপত্তানীতি জোরদারের সুযোগ, অন্যদিকে নতুন নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পরীক্ষার সূচনা। ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে বাগদাদ কীভাবে নিজের জাতীয় স্বার্থ, রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ও আঞ্চলিক ভারসাম্য ধরে রাখে—সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

৪ ঘন্টা আগে

রাজধানী

গুলশানে বাহারের স্পা সেন্টার ঘিরে অন্ধকার জগতের অভিযোগ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁদ / গুলশানে বাহারের স্পা সেন্টার ঘিরে অন্ধকার জগতের অভিযোগ

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরেনানা অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ওসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, কথিত এই স্পা সেন্টারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। অভিযোগ রয়েছে, নারী সরবরাহ, মাদক সেবন,কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আনাগোনা এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য প্রতিষ্ঠানটির আশপাশের পরিবেশ দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। তবে দিনের তুলনায় সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় অপরিচিত তরুণ-তরুণীদের আনাগোনা বাড়ে। বিভিন্ন বয়সী নারীদের সেখানে যাতায়াত করতে দেখা যায় বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।আরও  পড়ুন, বাহরের ৯৯ রোডে স্পা সেন্টার ঘিরে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের অভিযোগ তবে এসব স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা স্পা সেন্টারের মালিক বাহার বিভিন্ন সময় নিজেকে ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে উপস্থাপন করে থাকেন এমন অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি নানা ব্যাখ্যা দিয়ে নিজেকে দায়মুক্ত রাখার চেষ্টা করেন। এমনকি তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এমন দাবিও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। তবে অভিযোগকারীদের ভাষ্য, অসুস্থতার কথা বলা হলেও বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ফলে একটি পক্ষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে, নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবেই কথিত এই কর্মকাণ্ডগুলো দীর্ঘদিন ধরে চলার সুযোগ পাচ্ছে। আরও  পড়ুন, বনানীতে গেস্ট হাউজ-স্পা, ওসির ভূমিকা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্নস্পা সেন্টারটিকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো নারী পাচার ও নারী সরবরাহ। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় ছবি ও বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে সম্ভাব্য গ্রাহকদের আকৃষ্ট করা হয়। পরে নির্দিষ্ট যোগাযোগ নম্বরের মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়ার কথা বলা হয়। নাম প্রকাশ না করার কয়েকজনের অভিযোগ করে বলেন, , সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এসব বিজ্ঞাপনের আড়ালে একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা বিভিন্ন স্থান থেকে নারীদের এনে নির্দিষ্ট স্থানে সরবরাহ করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাহারের ৯৯ রোডের একটি বাড়ির ৬ষ্ঠ তলায় স্পা সেন্টারকে কেন্দ্র করে মাদক সেবনেরও একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রাতের দিকে সেখানে কিছু তরুণের আনাগোনা দেখা যায় এবং তাদের একটি অংশ কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে বলে সন্দেহ রয়েছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের অপরাধচক্রে জড়িয়ে পড়ার পেছনে মাদক, অবৈধ আড্ডা ও অপরাধীদের সঙ্গে যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে যদি নিয়মিতভাবে অপরাধপ্রবণ তরুণদের আনাগোনা থাকে,আরও  পড়ুন, মিরপুর-১০-এ উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ তাহলে সেটি স্থানীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তবে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। আরেকটি দিক হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেগ্রাহক সংগ্রহ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে নারীদের ছবি ব্যবহার করে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সম্ভাব্য গ্রাহকদের নির্দিষ্ট নম্বর বা অনলাইন অ্যাকাউন্টে যোগাযোগ করতে বলা হয়।যোগাযোগের পর গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। কারও ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ধারণ করে পরবর্তীতে তা প্রকাশের ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করার মতো ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগও রয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি শুধু অবৈধ ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি সাইবার অপরাধের আওতায়ও পড়তে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ প্রমাণের জন্য ডিজিটাল আলামত, ভুক্তভোগীর বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত প্রয়োজন।অভিযোগগুলো যাচাই করতে গিয়ে সাংবাদিকরা নানা ধরনের বাধার মুখে পড়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। আরও  পড়ুন , গুলশানে গেস্ট হাউজ-স্পা, পেছনে মিরাজের অজানা সাম্রাজ্য?সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ কিংবা ছবি ও ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া ও বিভিন্ন রকমের ভয়ভীতি দেওয়ার চেষ্টা করেন বাহার এবং তার সহযোগিরা।সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়া হলে সেটি গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে উদ্বেগের বিষয়। কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদেরও পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ এবং কারও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি।গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজাত এলাকায় কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,সিটি করপোরেশন, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিতভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির বৈধ ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে কি না, অনুমোদিত ব্যবসার ধরন কী, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ কি না,আরও  পড়ুন, গুলশানে গেস্ট হাউজ ও দীর্ঘদিনের স্পা ব্যবসায় কোটিপতি মিরাজ ভবনটি সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে কি না এবং মাদক বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।অভিযোগের বিষয়ে স্পা সেন্টারের মালিক বাহারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করেন। দৈনিক সংবাদ দিগন্তের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মালিক ও প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানার সুযোগ রাখা হয়েছে। গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কোনো প্রতিষ্ঠানের আড়ালে যদি সত্যিই অপরাধচক্র পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে তদন্তের মাধ্যমে তা শনাক্ত করা জরুরি। আবার অভিযোগের সত্যতা না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কোনো আবাসিক বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাদক, নারী পাচার, ব্ল্যাকমেইল, কিশোর গ্যাং কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে।অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত,সিসিটিভি ফুটেজ, প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি বলেন, আরও  পড়ুন, ধামরাইয়ে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি, দুই ডিলারকে ২ লাখ টাকা জরিমানাগুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের আড়ালে অপরাধ সংঘটনের সুযোগ দেওয়া হবে না। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের সময় কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হলে বিষয়টি পুলিশকে জানাতে পারেন। একই সঙ্গে অভিযোগকারীদেরও সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।এবিষয়ে নবাগত গুলশান থানার ওসি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এলে তা যাচাই করে দেখা হবে। কোনো স্পা সেন্টার বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আড়ালে মাদক, নারী পাচার, ব্ল্যাকমেইল, কিশোর গ্যাং কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ওসি আরও বলেন, “সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের সময় কোনো বাধার সম্মুখীন হলে বিষয়টি থানাকে জানাতে পারেন। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১২ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৫ জন

খেলাধুলা

ওয়ানডেতে প্রথমবার ৪০০ রান, ইতিহাস গড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ওয়ানডেতে প্রথমবার ৪০০ রান, ইতিহাস গড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে প্রথমে ব্যাট করে নিজেদের ইতিহাসে নতুন এক কীর্তি গড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গুয়াহাটিতে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৪০৫ রান সংগ্রহ করেছে শাই হোপের দল। ওয়ানডেতে এই প্রথম ৪০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করল ক্যারিবীয়রা। এর মধ্য দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে ৪০০ বা তার বেশি রান করা অষ্টম দলে পরিণত হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওয়ানডে ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ৪০০ রানের ইনিংস হয়েছে ৩২টি। ওয়ানডেতে প্রথমবার ৪০০ রান হয়েছিল ২০০৬ সালের মার্চে। জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪৩৪ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকাও ৪০০ পেরিয়ে যায় এবং রেকর্ড রান তাড়া করে ম্যাচটি জিতে নেয়। এখন পর্যন্ত সেটিই ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড। ৪০০ রানের ইনিংসে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই দলেরই ৪০০ বা তার বেশি রানের ইনিংস রয়েছে আটটি করে। ইংল্যান্ড করেছে সাতবার। তাদেরই রয়েছে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ তিনটি দলীয় সংগ্রহ ৪৯৮, ৪৮১ ও ৪৪৪ রান।আড়ও পড়ুন,অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন রাফিনিয়া facebook sharing buttonmessenger sharing buttonঅস্ট্রেলিয়া প্রথম দল হিসেবে ৪০০ রান করলেও পরে এই মাইলফলকে পৌঁছেছে তিনবার। শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের রয়েছে দুটি করে ৪০০ রানের ইনিংস। জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের রয়েছে একটি করে। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এখনো ৪০০ রান করতে পারেনি বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড। পাকিস্তান অবশ্য খুব কাছাকাছি গিয়েছিল। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বুলাওয়েতে ১ উইকেটে ৩৯৯ রান করেছিল পাকিস্তান। বাংলাদেশের ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ৩৪৯ রান। ২০২৩ সালে সিলেটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এই রান করেছিল বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ৩৪৩/৯ এবং আয়ারল্যান্ডের সর্বোচ্চ ৩৫৯/৯। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেও ভারতের জবাব ছিল দুর্দান্ত। প্রতিবেদন লেখার সময় ২৫ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৫০ রান তুলে ফেলেছিল ভারত। ফলে রেকর্ড গড়ার পরও বল হাতে স্বস্তিতে ছিল না ক্যারিবীয় দল।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!