শিশু ও কিশোরদের ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।বৃহস্পতিবার লিগ্যাল ভয়েস ফাউন্ডেশনের পক্ষে ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূরী এ নোটিশ পাঠান। ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব এবং বিটিআরসিকে এ নোটিশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।নোটিশে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, শিশু-কিশোরদের মধ্যে এসব প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে।আরও পড়ুন , আইনশৃঙ্খলা উন্নত হওয়ায় ধাপে ধাপে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফেরানো বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরনোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তির কারণে অনেক শিশু শৈশব হারাচ্ছে, খেলাধুলায় অনীহা তৈরি হচ্ছে এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি পড়াশোনায় অনাগ্রহ, মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।বলা হয়, ভুয়া তথ্য, প্রোপাগান্ডা এবং পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা শিশু-কিশোরদের মেধা ও মননে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনেক ক্ষেত্রে এটি অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।নোটিশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের মধ্যে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিশু-কিশোরদের সুরক্ষায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে
এক্সক্লুসিভ
রাজধানীর ব্যস্ততম ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর একটি মিরপুর। প্রতিদিন লাখো মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও বসবাসের কেন্দ্র এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। চুরি, ছিনতাই, মাদক, কিশোর গ্যাং বিভিন্ন অপরাধের কারণে অনেক সময় আতঙ্কে থাকতে হয় সাধারণ মানুষকে। ঠিক এমন এক প্রেক্ষাপটে মিরপুর মডেল থানার দায়িত্বে এসেছেন আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা ওসি হাফিজুর রহমান (পিপিএম)। তার আগমনকে ঘিরে মিরপুরবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা, আবার একইসঙ্গে পুরনো বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।আরও পড়ুন: পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা মব কালচারওসি হাফিজুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন। তার কর্মজীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সততা, কঠোরতা এবং দায়িত্ব পালনে আপসহীন মনোভাব। সহকর্মীদের ভাষায়, তিনি এমন একজন কর্মকর্তা যিনি দায়িত্বে অবহেলা করেন না এবং অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিতে কখনো দ্বিধা করেন না।তার কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি “বিপিএম” (বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল) অর্জন করেছেন, যা পুলিশ বাহিনীর একটি সম্মানজনক পুরস্কার। এছাড়া “শ্রেষ্ঠ অফিসার” হিসেবেও পুরস্কৃত হয়েছেন একাধিকবার। এসব অর্জন তাকে পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে।আরও পড়ুন: আইনের শাসন না মবের রাজত্ব?ওসি হাফিজুর রহমানের কাজের ধরন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন ইতিবাচক ধারণা রয়েছে, তেমনি অপরাধীদের কাছে তিনি এক আতঙ্কের নাম। দায়িত্ব পালনকালে তিনি মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী ও বিভিন্ন অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছেন। তবে শুধু প্রশংসাই নয়, দায়িত্ব পালনের সময় তাকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে নানা আলোচনা ও সমালোচনাও। বিশেষ করে অপরাধ দমনে তার কঠোর অবস্থান অনেক সময় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও সমালোচনা উঠে এসেছে। কেউ কেউ তার কর্মকাণ্ডকে অতিরিক্ত কঠোর বলে উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ বলেছেন এ ধরনের কঠোরতা ছাড়া অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।এছাড়া রাজনৈতিক চাপের বিষয়টিও তার কর্মজীবনের একটি আলোচিত দিক। বিভিন্ন সময় অপরাধ দমনে গিয়ে তিনি নানামুখী রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন বলে জানা যায়। কিন্তু এসব চাপ উপেক্ষা করে দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার কারণে অনেকেই তাকে সাহসী কর্মকর্তা হিসেবে দেখেন।আরও পড়ুন: মাঠে মব, কোণঠাসা পুলিশ বাহিনীবাংলাদেশের বাস্তবতায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাবের মুখোমুখি হতে হয়। ওসি হাফিজুর রহমানও এর ব্যতিক্রম নন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে তিনি একাধিকবার রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের চাপের সম্মুখীন হয়েছেন। তবে তার ঘনিষ্ঠরা জানান, তিনি এসব চাপকে উপেক্ষা করেই কাজ করার চেষ্টা করেছেন। তার মতে, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়” এই নীতিতে বিশ্বাসী তিনি।একজন সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একজন পুলিশ কর্মকর্তার জন্য নিরপেক্ষ থাকা খুব সহজ নয়। কিন্তু হাফিজুর রহমান চেষ্টা করেছেন নিজের অবস্থান ধরে রাখতে। এজন্যই তিনি আলোচিত।মিরপুর মডেল থানায় যোগদানের পর থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে একটি আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, তার অভিজ্ঞতা ও কঠোরতা মিরপুরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে মাদক, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে তার কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। অনেকেই চান, তিনি যেন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কোনো প্রকার প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার না করেন। আরও পড়ুন: এক সপ্তাহে শূন্য লোডশেডিং: বিদ্যুতে স্বস্তি এর নতুন রেকর্ডসাংবাদিক মহলেও ওসি হাফিজুর রহমান একটি আলোচিত নাম। তার কাজের ধরণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং বিতর্ক সবকিছুই সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছে বিভিন্ন সময়ে। তিনি একদিকে যেমন কার্যকর কর্মকর্তা, অন্যদিকে তার কিছু পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। তবে তারা মনে করেন, একজন কর্মকর্তার কাজের মূল্যায়ন করতে হলে তার সামগ্রিক অবদান বিবেচনা করা উচিত।একজন প্রতিবেদক বলেন, তিনি নিঃসন্দেহে অ্যাকটিভ অফিসার। তবে তাকে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে এটাই সবার প্রত্যাশা।মিরপুরের মতো একটি এলাকায় দায়িত্ব পালন করা সহজ নয়। এখানে রয়েছে জনসংখ্যার চাপ, অপরাধের বৈচিত্র্য এবং সামাজিক জটিলতা। তাই ওসি হাফিজুর রহমানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এই সবকিছু সামলে একটি স্থিতিশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা।আরও পড়ুন: দেশজুড়ে বাড়ছে নিষ্ঠুর অপরাধ মাদকের ভয়াল কিশোর গ্যাংসবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, ওসি হাফিজুর রহমান (বিপিএম) একজন অভিজ্ঞ, সাহসী এবং বিতর্কিত হলেও কার্যকর পুলিশ কর্মকর্তা। তার অতীত অভিজ্ঞতা এবং কাজের ধরণ মিরপুরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে যদি তিনি নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। মিরপুরবাসী এখন তাকিয়ে আছে তার কর্মকাণ্ডের দিকে। আলোচনা-সমালোচনার বাইরে গিয়ে তিনি কেমনভাবে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা শুধু পুলিশের একার দায়িত্ব নয়; এর সঙ্গে জড়িত সমাজের প্রতিটি স্তর। তবে একজন দায়িত্বশীল ও সাহসী কর্মকর্তার উপস্থিতি একটি এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। ওসি হাফিজুর রহমান (বিপিএম) সেই পরিবর্তনের প্রতীক হতে পারবেন কিনা তা সময়ই বলে দেবে। তবে আপাতত মিরপুরবাসীর প্রত্যাশা একটাই নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং অপরাধমুক্ত একটি এলাকা।
অনলাইন জরিপ
দেশে নিত্যপণ্যের দামের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে চরম চাপে পড়েছে সাধারণ মানুষ। চাল, ডিম, ভোজ্যতেল, সবজি, মাছ-মাংস থেকে শুরু করে এলপিজি গ্যাস—সব ক্ষেত্রেই বেড়েছে খরচ। একই সঙ্গে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে দেশের মূল্যস্ফীতি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.০৪ শতাংশে, যা মার্চে ছিল ৮.৭১ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসে বেড়েছে ০.৩৩ শতাংশ।আরও পড়ুন, দেশে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ল, ভরি ছাড়াল ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকাফলে সীমিত ও মধ্যবিত্ত আয়ের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক মাস ধরেই মূল্যস্ফীতি ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, যা প্রকৃত আয় কমিয়ে দিচ্ছে। বাজারে দেখা গেছে, গত তিন মাসে কিছু সবজির দাম ১৬৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এলপিজি সিলিন্ডারের দামও বেড়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ।আরও পড়ুন, ‘করের টাকা কী করেন,’ সরকারকে বিটিএমএ সভাপতির প্রশ্নব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয়ের কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ার পর ট্রাকভাড়াও কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে পাইকারি থেকে খুচরা বাজারে। সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম আরও বাড়ছে। আরও পড়ুন, আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারএদিকে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলছে, জ্বালানি, পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, জ্বালানি মূল্য নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাজারে কঠোর তদারকি ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ কঠিন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন এক কোটির বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন। ফলে প্রবাসী আয় দেশে পাঠানো ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিদিনের মুদ্রার বিনিময় হার জানা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শুক্রবার (৮ মে) বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার সর্বশেষ বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে।আরও পড়ুন, দেশে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ল, ভরি ছাড়াল ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকাতথ্য অনুযায়ী, সৌদি রিয়ালের বিনিময় হার ৩২ টাকা ৭৭ পয়সা এবং মার্কিন ডলার বা ইউএস ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। এছাড়া ইউরোর দাম দাঁড়িয়েছে ১৪৪ টাকা ১৪ পয়সা এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের বিনিময় হার ১৬৬ টাকা ৬৪ পয়সা। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে কুয়েতি দিনারের দাম ৩৯৯ টাকা ৬০ পয়সা, বাহরাইনি দিনার ৩২৬ টাকা ৮৪ পয়সা এবং ওমানি রিয়াল ৩১৯ টাকা ৩০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।আরও পড়ুন, ‘করের টাকা কী করেন,’ সরকারকে বিটিএমএ সভাপতির প্রশ্নএদিকে মালয়েশিয়ান রিংগিতের দাম ৩১ টাকা ৯৮ পয়সা, সিঙ্গাপুর ডলার ৯৬ টাকা ৮৬ পয়সা এবং কানাডিয়ান ডলার ৮৯ টাকা ৮৬ পয়সা। এছাড়া ভারতীয় রুপির বিনিময় হার ১ টাকা ৩০ পয়সা এবং জাপানি ইয়েনের দাম ৭৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজার, ডলারের চাহিদা এবং বৈদেশিক রিজার্ভ পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে যেকোনো সময় মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তিত হতে পারে।
সরকারকে উদ্দেশ করে কঠোর প্রশ্ন তুলেছেন বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-এর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। তিনি সরাসরি প্রশ্ন রাখেন, “করের টাকা কী করেন?” রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট গোলটেবিল আলোচনায় তিনি বলেন, কর আদায় হলেও সেই অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, সে বিষয়ে জবাবদিহিতা থাকা জরুরি।আরও পড়ুন, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়ে ৩৫.৩০ বিলিয়ন ডলারেতিনি সরকারের কাছে করের টাকা ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি পৃথক সেল গঠনেরও প্রস্তাব দেন। শওকত আজিজ রাসেল বলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান শিল্পায়নে নীতিসহায়তা দিয়ে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে সেই ধারাবাহিকতা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার অভিযোগ, বর্তমানে শিল্প খাতে ধস নামছে, অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।আরও পড়ুন, এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.০৪ শতাংশ, বাড়ছে জনজীবনের চাপতিনি আরও বলেন, কর না দিলে সরকার ধরপাকড় করে, জেলে দেয়—তাহলে করের অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, সেটারও জবাবদিহি থাকতে হবে। অনুষ্ঠানে তিনি আগামী বাজেটে শিল্প, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দের হার স্পষ্টভাবে ঘোষণা করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থনীতিবিদরা বলেন, প্রত্যক্ষ কর বাড়ানো, ভ্যাট ফাঁকি রোধ এবং ডিজিটাল হিসাব ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করা প্রয়োজন।আরও পড়ুন, দেশে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ল, ভরি ছাড়াল ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকাএ সময় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)-এর সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কার্যক্রম ঢেলে সাজানো না হলে বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। সরকারের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, কর ফাঁকি কমাতে হলে নাগরিকদের সঙ্গে করের সম্পর্ক দৃঢ় করতে হবে এবং করের অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে তা জানানো জরুরি।
দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন দফায় স্বর্ণের মূল্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে, ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছাড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।বৃহস্পতিবার সকালে নতুন দর ঘোষণা করে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দামের পরিবর্তনের কারণে এই সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে বর্ধিত দাম।নতুন দামে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২১৩ টাকা ।আরও পড়ুন , এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.০৪ শতাংশ, বাড়ছে জনজীবনের চাপবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।এর আগে মাত্র একদিন আগেই স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। ফলে টানা দুই দফা সমন্বয়ে বাজারে স্বর্ণের দাম আরও বেড়ে গেছে।বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৬৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা ও স্থানীয় সরবরাহ পরিস্থিতির কারণে স্বর্ণের দামে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ ক্রেতা ও গহনা ব্যবসায়ীদের ওপর।
দেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো—বিবিএসের প্রকাশিত এপ্রিল মাসের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মার্চ মাসে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ।সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ বাড়িয়েছে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতের মূল্যস্ফীতি। এপ্রিল মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশে।বিবিএস জানায়, গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৫ শতাংশে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ।আর ও পড়ুন , বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়ে ৩৫.৩০ বিলিয়ন ডলারেঅন্যদিকে শহরাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ০২ শতাংশ। শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ।অর্থনীতিবিদদের মতে, সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রভাব বাজারে সরাসরি পড়েছে। গত ১৯ এপ্রিল সরকার ডিজেলের দাম লিটারে ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ থেকে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং পেট্রলের দাম ১১৬ থেকে ১৩৫ টাকায় উন্নীত করে।জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও সরবরাহ ব্যবস্থার খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের সংকট তীব্র হতে পারে।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়েছে। সর্বশেষ তথ্যে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।মঙ্গলবার (৫ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ৫ মে পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৩০৫ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ হাজার ৬১৫ দশমিক ২৭ মিলিয়ন ডলার।আরও পড়ুন , পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পিডিবিরএর আগে ৪ মে পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৫ হাজার ২৯০ দশমিক ৬১ মিলিয়ন ডলার, আর বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩০ হাজার ৫৯৭ দশমিক ৯১ মিলিয়ন ডলার।বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিয়ে প্রকৃত বা নিট রিজার্ভ হিসাব করা হয়।বিশ্লেষকরা বলছেন, রিজার্ভের এই ধীর কিন্তু ধারাবাহিক বৃদ্ধি বৈদেশিক লেনদেন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক সংকেত।আর ও পড়ুন , ঈদে চামড়া খাতে ঋণ বিতরণের নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের
লাইফস্টাইল
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের ধরন যেমন বদলাচ্ছে, তেমনি বদলাচ্ছে সম্পর্ক বোঝার ভাষাও। বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে ডেটিং সংস্কৃতি এখন নতুন শব্দ ও ধারণার মাধ্যমে আরও ব্যাখ্যাযোগ্য হয়ে উঠছে। বর্তমানে আলোচনায় থাকা এমনই কয়েকটি নতুন ডেটিং টার্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।প্রথমটি হলো “পকেটিং”। এতে কেউ সম্পর্কে থাকলেও পরিবার বা বন্ধুদের কাছে নিজেকে সিঙ্গেল হিসেবে উপস্থাপন করেন। দীর্ঘ সময় এই আচরণ চললে তা সম্পর্কের জন্য সতর্ক সংকেত হিসেবে ধরা হয়।আরও পড়ুন, প্রিয় ফল আম সঠিকভাবে খেলেই হতে পারে স্বাস্থ্যকর ডায়েটের অংশদ্বিতীয়টি “ফিজলিং”, যেখানে কোনো ঝগড়া ছাড়াই সম্পর্ক বা যোগাযোগ ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে একসময় শেষ হয়ে যায়।তৃতীয় ধারণা “ইমোশনাল এয়ারবিএনবি”, যেখানে কেউ কেবল মানসিক সহায়তা নেওয়ার জন্য সম্পর্ক ব্যবহার করেন, কিন্তু পরে দূরে সরে যান।আরও পড়ুন, বৃষ্টিতে মন ফুরফুরে হওয়ার কারণ কীচতুর্থটি “জম্বিড”, যেখানে হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে পরে আবার অজুহাত দিয়ে ফিরে আসা হয়।পঞ্চম শব্দ “রোচিং”, যা প্রতারণামূলক সম্পর্ক বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যেখানে একজন ব্যক্তি একাধিক সম্পর্কে জড়িত থাকেন কিন্তু একটিই সম্পর্কের ভান করেন।আরও পড়ুন, দ্রুত পানি পানেই হতে পারে হজমের সমস্যা বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব নতুন টার্ম মূলত আধুনিক সম্পর্কের জটিলতা ও আচরণগত পরিবর্তনকে তুলে ধরছে, যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে।