দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

আজকের আবহাওয়া

ঢাকা 1004.8 hPa
27.6° 81%
15mm
চট্টগ্রাম 1005.6 hPa
29.1° 86%
30° 15mm
রাজশাহী 1003.9 hPa
26.5° 95%
50° 15mm
খুলনা 1004.5 hPa
28.8° 86%
15mm
বরিশাল 1004.7 hPa
26.6° 96%
300° 15mm
সিলেট 1005 hPa
27.6° 91%
20° 15mm
রংপুর 1004 hPa
29.5° 86%
20° 15mm
ময়মনসিংহ 1005.2 hPa
27.6° 87%
15mm
Weather

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

আলোচনা, সমালোচনা আর দায়িত্বের গল্প: ওসি দাউদ

আলোচনা, সমালোচনা আর দায়িত্বের গল্প: ওসি দাউদ

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি)  অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর গুলশান থানা| রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান শুধু একটি থানা এলাকা নয়, এটি দেশের অর্থনীতি, কূটনীতি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র| ফলে এই থানার দায়িত্বে কে আসছেন, তা সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে| আর সেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবার কাঁধে তুলে নিয়েছেন যশোরের সন্তান, অপরাধ দমনে আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা মো. দাউদ হোসেন|অরও পড়ুন: ডিএমপির কয়েকটি থানায় দৃশ্যমান পরিবর্তনপুলিশের বিভিন্ন সূত্র বলছে, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং আইন প্রয়োগে দৃঢ় অবস্থানের কারণেই গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ থানার দায়িত্ব তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে| মো. দাউদ হোসেনের কর্মজীবনের শুরু থেকেই দায়িত্বশীল ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি রয়েছে| দীর্ঘ চাকরি জীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ও থানায় দায়িত্ব পালন করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন| তবে রাজধানীর খিলগাঁও থানা এবং পরবর্তীতে ক্যান্টনমেন্ট থানায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন|সহকর্মীদের মতে, তিনি এমন একজন কর্মকর্তা যিনি অফিসকেন্দ্রিক পুলিশিংয়ের চেয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন| অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর শুধু তদন্ত নয়, অপরাধ প্রতিরোধেও তিনি গুরুত্ব দেন|অরও পড়ুন: প্রশংসা-সমালোচনার কেন্দ্রে থাকা ওসি দাউদখিলগাঁও থানায় দায়িত্ব পালনকালে মাদক, চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে একাধিক সফল অভিযান পরিচালনা করেন| তার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বেশ কয়েকটি অপরাধী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া হয়| একই সঙ্গে বিট পুলিশিং ও জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেন তিনি|খিলগাঁও থেকে ক্যান্টনমেন্ট থানায় দায়িত্ব গ্রহণের পরও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে একই ধরনের সক্রিয়তা বজায় রাখেন তিনি| বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় যখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, তখন ক্যান্টনমেন্ট থানার দায়িত্বে থেকে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করেন| চব্বিশের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে দায়ের হওয়া ˆবষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন মামলায় সাবেক সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি|অরও পড়ুন: অপরাধ দমনে নতুন ছকে ডিএমপিপুলিশ সূত্র বলছে, এসব মামলার তদন্ত ও অভিযান পরিচালনার সময় ব্যাপক চাপ ও নানা ধরনের সমালোচনার মুখোমুখি হতে হলেও তিনি আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে যাননি| বরং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন| তার কর্মকাণ্ডের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা ˆতরি হয়| আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ও সমর্থক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাকে নিয়ে একাধিক নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়| এমনকি আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজেও তাকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনামূলক পোস্ট দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়| তবে এসব বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের দায়িত্ব পালনেই মনোযোগী ছিলেন তিনি| তার ঘনিষ্ঠরা বলছেন, সমালোচনা কিংবা চাপ নয়, বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই ছিল তার মূল লক্ষ্য|একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, দাউদ হোসেন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কখনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিবেচনাকে প্রাধান্য দেন না| আইন যেদিকে নির্দেশ করে, তিনি সেদিকেই কাজ করার চেষ্টা করেন| ক্যান্টনমেন্ট থানায় দায়িত্ব পালনকালে মাদকবিরোধী অভিযান, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ, সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র শনাক্তকরণ এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেন তিনি|পুলিশের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, তার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে| ফলে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি| শুধু অপরাধ দমন নয়, জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক উন্নয়নেও তিনি কাজ করেছেন| স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়, সচেতনতামূলক সভা এবং বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে জনমুখী পুলিশিং নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন|অরও পড়ুন: মধ্যরাতে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে, পরে হেলিকপ্টারে ঢাকায় ডিসিরাজধানীর গুলশান এলাকা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক জোন| এখানে রয়েছে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, আন্তর্জাতিক সংস্থা, বহুজাতিক কোম্পানি, পাঁচতারকা হোটেল এবং দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের আবাসস্থল| ফলে গুলশান থানার দায়িত্ব শুধু সাধারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়, বরং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট|সাম্প্রতিক সময়ে এই এলাকায় সাইবার অপরাধ, আর্থিক প্রতারণা, মাদক ব্যবসা, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা রয়েছে| এছাড়া অভিজাত এলাকার আড়ালে সংঘটিত কিছু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে|অরও পড়ুন: মিরপুরে আলোচিত ওসি হাফিজুর রহমানএই বাস্তবতায় একজন অভিজ্ঞ, দৃঢ়চেতা এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ছিল বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা| গণমাধ্যমকর্মীদের কাছেও মো. দাউদ হোসেন পরিচিত একটি নাম| বিভিন্ন অভিযানের বিষয়ে তথ্যভিত্তিক বক্তব্য প্রদান এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সমš^য় করে কাজ করার কারণে সাংবাদিক মহলেও তার একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে|একাধিক অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদক জানান, তিনি তথ্য গোপন না করে আইনি সীমার মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের চেষ্টা করেন| ফলে সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও সহযোগিতামূলক মনোভাব দেখা যায় তার মধ্যে| আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞদের মতে, গুলশান থানার দায়িত্ব পাওয়া যেমন সম্মানের, তেমনি এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জও| কারণ রাজধানীর সবচেয়ে সংবেদনশীল ও আলোচিত এলাকাগুলোর একটি হলো গুলশান| এখানে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কূটনৈতিক নিরাপত্তা, বিদেশি নাগরিকদের সুরক্ষা, করপোরেট নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলা সমান গুরুত্বপূর্ণ|অরও পড়ুন: পুলিশ হত্যা, সংস্কার ও জননিরাপত্তা: সংকট উত্তরণের পথ কোথায়?বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীত অভিজ্ঞতা এবং মাঠপর্যায়ের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তিনি গুলশান থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম হবেন| ডিএমপির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, নিষ্ঠা, সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্ব পালনে দৃঢ়তার কারণেই তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে|গুলশান থানায় যোগদানের পর তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি করা| বিশেষ করে আধুনিক নগর অপরাধ, সাইবার জালিয়াতি, মাদক কারবার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে| সব মিলিয়ে ক্যান্টনমেন্ট থেকে গুলশান এই যাত্রা শুধুমাত্র একজন পুলিশ কর্মকর্তার পদায়ন নয়, বরং এটি তার কর্মদক্ষতা ও পেশাদার নেতৃত্বের প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আস্থার প্রতিফলন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা| এখন রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই থানার দায়িত্বে থেকে তিনি কতটা সফলভাবে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারেন, সেদিকেই নজর থাকবে নগরবাসী, আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষক এবং সংশ্লিষ্ট মহলের|

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

অবৈধ অভিবাসনে কঠোর ইতালি, সীমান্ত থেকেই ফেরত পাঠানোর ঘোষণা

লিবিয়া কিংবা অন্য কোনো দেশ হয়ে অবৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে আর দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ মিলবে না— বাংলাদেশিদের এমন কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত ইতালি দূতাবাস।সোমবার এক বার্তায় দূতাবাস জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় আইন কার্যকর হওয়ার পর ইতালি অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। গত ১২ জুন থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করলে সীমান্ত থেকেই আটক করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।দূতাবাস আরও বলেছে, দালাল, মানবপাচারকারী ও অপরাধী চক্রের মিথ্যা আরো পড়ুন , দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরুপ্রতিশ্রুতিতে প্রভাবিত হয়ে কেউ যেন অবৈধ পথে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা না করেন। কারণ, অর্থের বিনিময়ে এমন যাত্রা শুধু ঝুঁকিপূর্ণই নয়, এটি মানবপাচারকারী চক্রকেও উৎসাহিত করে।তবে ইতালিতে বৈধভাবে কাজ ও বসবাসের সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছে দূতাবাস। ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বাংলাদেশিদের জন্য হাজার হাজার কর্মভিত্তিক ভিসা, পারিবারিক পুনর্মিলন ভিসা এবং শিক্ষার্থী ভিসা ইস্যু করা হয়েছে।ইতালিতে যেতে আগ্রহীদের নিয়ম মেনে আবেদন এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস। এতে যেমন নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তেমনি আইনগত সুযোগ-সুবিধাও পাওয়া যাবে।অর্থাৎ, অবৈধ পথে ইউরোপ যাওয়ার ঝুঁকি না নিয়ে বৈধ পথেই ইতালিতে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার ভিত্তিতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের পর দুবাই ট্রানজিটে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে তাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধপত্র পাঠানো হবে।আরও  পড়ুন,দেশে ভয়াবহ হাম পরিস্থিতি, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যুদুদক সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিষয়টি কূটনৈতিক ও আইনি কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন হবে।এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে জানায়, রেড নোটিশের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারের পর ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি পাঠিয়ে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।উল্লেখ্য, গত ১২ জুন দুদকের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ অনুসারে তাকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থার কার্যক্রম নিয়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা চলছে। এখন নজর কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতির দিকে।

দেশে ভয়াবহ হাম পরিস্থিতি, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

দেশজুড়ে হাম রোগের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।সোমবার প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুমের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত একদিনে হামের উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগে আরও একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭১ হাজার ৪৬৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ৬৭ হাজার ৮৭৮ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।আরও  পড়ুন , তিন মামলায় হাইকোর্টের জামিন পেলেন সাবেক এমপি ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজতবে উদ্বেগের বিষয় হলো, একই সময়ে হামের উপসর্গে মোট ৫৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নিশ্চিত হাম রোগে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৩ শিশু। ফলে তিন মাসে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫৬ জনে।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ, আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে এ রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে।

তিন মামলায় হাইকোর্টের জামিন পেলেন সাবেক এমপি ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ

তিনটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। সোমবার হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।সংশ্লিষ্ট আইনজীবী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালতের এ আদেশের ফলে মমতাজ বেগমের জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন একটি পথ উন্মুক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।আরও  পড়ুন, ২০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রকাশ হবে এসএসসি ফল, শিক্ষা খাতে বড় সংস্কারের ঘোষণাউল্লেখ্য, গত বছরের ১২ মে রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর থেকে বিভিন্ন মামলার আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।রাজনীতির পাশাপাশি সংগীতাঙ্গনে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ মমতাজ বেগম সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তিনি জয়ী হতে পারেননি।হাইকোর্টের এই জামিন আদেশ এখন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

রাজনীতিরাজনীতি

সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক

সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক

জাতীয় সংসদে নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং বিরোধীদলীয় উপনেতার স্ত্রীকে নিয়ে কটাক্ষের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।রোববার (১৪ জুন) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশনে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়।বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম সংসদে ফ্লোর নিয়ে বলেন, ওই বক্তব্য সংসদীয় রীতিনীতি ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত কটাক্ষ এবং নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য তাদের ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় আঘাত হেনেছে।আরও  পড়ুন ,  জামায়াতের তিন নেতার পদ স্থগিত, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থাতিনি এ ধরনের বক্তব্যকে “হীন মানসিকতা ও বর্ণবাদী আচরণ” আখ্যা দিয়ে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানান।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার জানান, বিতর্কিত অংশ ইতোমধ্যে এক্সপাঞ্জ করা হয়েছে এবং সংসদীয় শিষ্টাচার বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সংসদে কারও ব্যক্তিগত জীবন বা স্বাধীনতা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।অধিবেশনে পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এনি বক্তব্যের পক্ষে সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করলে স্পিকার তাকে থামিয়ে দেন। পরে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ চাইলেও স্পিকার জানান, উপযুক্ত সময়ে বিষয়টি শুনবেন।শেষ পর্যন্ত উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিয়ে সংসদকে মূল বাজেট আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানানো হয়।

জামায়াতের তিন নেতার পদ স্থগিত, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা

জামায়াতের তিন নেতার পদ স্থগিত, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা

যশোরের মণিরামপুর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটনসহ তিন নেতার দলীয় পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং সংঘর্ষের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।শুক্রবার উপজেলা জামায়াতের এক সাংগঠনিক সভা শেষে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। পদ স্থগিত হওয়া অন্য দুই নেতা হলেন জেলা শুরা সদস্য মহিউল ইসলাম এবং পৌর টিম সদস্য ফারুক হোসেন।দলীয় সূত্র জানায়, গত ৩০ এপ্রিল হরিহর নদ খননের মাটি বিক্রির অর্থ ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।আরও পড়ুন , প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের আনন্দ মিছিল এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। ঘটনার পর তদন্তে নামে জেলা জামায়াত।তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তিন নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্যে আহসান হাবিব লিটনকে দুই মাস, মহিউল ইসলামকে তিন মাস এবং ফারুক হোসেনকে দুই মাসের জন্য দলীয় পদ থেকে স্থগিত করা হয়েছে।তবে এ বিষয়ে জেলা ও উপজেলা জামায়াতের নেতারা বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের আনন্দ মিছিল

প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের আনন্দ মিছিল

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে রাজধানীতে আনন্দ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে স্বেচ্ছাসেবক দল।শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে কাকরাইল মোড় থেকে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা এ মিছিল বের করেন। মিছিলটি পল্টন ও কাকরাইলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কাকরাইল মোড়ে এসে শেষ হয়।কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ১নং সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন।আরও  পড়ুন , বাজেট ও দুর্নীতি নিয়ে সরকারের সমালোচনায় নাহিদ ইসলাম  সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের কল্যাণ এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু ও দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সফলতাও কামনা করা হয়।মিছিলে কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

বাজেট ও দুর্নীতি নিয়ে সরকারের সমালোচনায় নাহিদ ইসলাম

বাজেট ও দুর্নীতি নিয়ে সরকারের সমালোচনায় নাহিদ ইসলাম

“প্রধানমন্ত্রীর মন খারাপ দেখে আমাদেরও মন খারাপ”—এমন মন্তব্য করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম।শনিবার (১৩ জুন) চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত মহাসমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সরকারের নানা নীতি ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন।নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার চাইলে জনগণের স্বার্থে বাজেট প্রণয়ন করতে পারত, কিন্তু দুর্নীতি ও লুটপাটের পথ বন্ধ করা হয়নি। তার অভিযোগ, ব্যাংক দখল ও অনিয়ম অব্যাহত রয়েছে।আরও  পড়ুন ,ভারত-বাংলাদেশ ‘এক হয়ে যাওয়ার’ মন্তব্যে উদ্বেগ, সরকারের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াত আমির তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই বাজেট বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দেশকে বিভিন্ন দেশ থেকে ঋণ নিতে হবে, যা অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলবে।বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিদ্যুতের দাম নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ এখনও অস্থিতিশীল।নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, বর্তমান বাজেট জনগণের জীবনে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবে না। দেশের পরিবর্তনের জন্য রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার এবং গণরায়ের ভিত্তিতে সরকার গঠন প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।তিনি আরও অভিযোগ করেন, চট্টগ্রামে জাতীয় দলের এক ক্রিকেটারকে মারধরের ঘটনায় পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, যা আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

সারাবাংলা

রাতের আঁধারে ঘরে ঢুকে হামলা, মুন্সীগঞ্জে মামলা দায়ের

রাতের আঁধারে ঘরে ঢুকে হামলা, মুন্সীগঞ্জে মামলা দায়ের

মুন্সীগঞ্জে বাসায় ঢুকে কাপড় ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রধান অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।রবিবার দিবাগত রাতে দায়ের করা মামলায় শান্ত খন্দকারসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।পরিবারের অভিযোগ, রবিবার সকালে মুন্সীগঞ্জ শহরের উত্তর কোটগাঁও এলাকায় কাপড় ব্যবসায়ী জনি ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায় অভিযুক্তরা। অভিযোগ অনুযায়ী, শান্ত খন্দকার ঘরে ঢুকে জনি ইসলামের স্ত্রী রিতা মনি ইসলামের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন।মায়ের চিৎকার শুনে ঘুম থেকে জেগে ওঠে তাদের ১১ বছর বয়সী মেয়ে আরো পড়ুন , মধ্যরাতে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে, পরে হেলিকপ্টারে ঢাকায় ডিসিজান্নাতুল ইসলাম হৃদী। এ সময় তাকেও পেটে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। স্ত্রী ও মেয়েকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হন ব্যবসায়ী জনি ইসলামও।পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, হামলার সময় বাড়িতে ভাঙচুর এবং নগদ অর্থ লুটের ঘটনাও ঘটে।এদিকে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রধান অভিযুক্ত শান্তকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আদালতের মাধ্যমে প্রধান অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হামলার পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

মধ্যরাতে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে, পরে হেলিকপ্টারে ঢাকায় ডিসি

মধ্যরাতে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে, পরে হেলিকপ্টারে ঢাকায় ডিসি

অতি সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়া মাগুরার জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে মাগুরা জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন মোতাকাব্বীর আহমেদ। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি মাগুরা সার্কিট হাউজে অবস্থান করছিলেন।গত মধ্যরাতে হঠাৎ পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে তাকে দ্রুত মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক আরো পড়ুন , অবৈধ অভিবাসনে কঠোর ইতালি, সীমান্ত থেকেই ফেরত পাঠানোর ঘোষণাপরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সোমবার বিকেল ৪টার দিকে মাগুরা স্টেডিয়ামে আসা বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবীর জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসক পেটে ব্যথা অনুভব করছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে ব্যথা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এনে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।অন্যদিকে, মাগুরা সদর হাসপাতালের মেডিসিন কনসালটেন্ট ডা. মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, সাধারণত পাকস্থলীর এ ধরনের সমস্যাকে ‘পারফোরেশন’ বলা হয়, যা অতিরিক্ত এসিডিটির কারণেও হতে পারে।বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে এবং পরবর্তী শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

মাদারীপুরে থানা পুলিশের অভিযানে ডাকাত চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার

মাদারীপুরে থানা পুলিশের অভিযানে ডাকাত চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাদারীপুর জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান মহোদয়ের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল জনাব ফারিহা রফিক ভাবনা মহোদয়ের তত্ত্বাবধানে মাদারীপুর সদর থানাধীন শ্রীনদী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জনাব মোঃসাজেদুল ইসলাম এর নেতৃত্বে সংগীয় অফিসার ও ফোর্সের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালীন সময়ে ০২ জন আসামীকে ডাকাতির প্রস্তুতি কালে পিক আপ, চাইনিজ কুড়াল ও লোহার তৈরি কাটারসহ গ্রেফতার করা হয়।     মাদারীপুর সদর থানাধীন মিরাকান্দি সাকিনস্থ মজিবর মেম্বারের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার উপর সংঘবদ্ধ ডাকাতদলের সদস্যরা পিক-আপ গাড়ি এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ সমবেত হয়েআরও  পড়ুন, মিঠাপুকুরে অটো–মিশুক ছিনতাই চক্রের নারী সদস্য আটক, চালককে কুপিয়ে গুরুতর জখম ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে শ্রীনদী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি চৌকষ টীম আসামী ১। হাচিবুল হাসান @ জসিম মোল্লা(৩০), পিতা-হারেজ মোল্লা, মাতা-সুফিয়া বেগম, সাং-মীরাকান্দি, থানা-সালথা, জেলা-ফরিদপুর, আসামী ২। মজনু শেখ(৩৫), পিতা-মুন্নাফ শেখ, মাতা-স্বপ্না বেগম, সাং-পশ্চিম গঙ্গাবদ্দী, থানা-কোতয়ালী, জেলা-ফরিদপুর কে গ্রেফতার এবং আসামীদের দখল হতে যথাক্রমে ০১টি চাইনিজ কুড়াল, ০১টি লোহার কাটার ও ০১ টি পিকআপ আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়। এ সংক্রান্তে মাদারীপুর সদর মডেল থানার মামলা নং- ৫০, তারিখ-১৪/০৬/২০২৬ খ্রি. পেনাল কোড ধারা- ৩৯৯/৪০২ রুজু হয়। ধৃত আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ, অজ্ঞাতনামা আসামীদের গ্রেফতার ও অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে।মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।                   ধন্যবাদান্তেফারিহা রফিক ভাবনাঅতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এবং অতিরিক্ত দায়িত্বেঅতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপ্স)

মিঠাপুকুরে অটো–মিশুক ছিনতাই চক্রের নারী সদস্য আটক, চালককে কুপিয়ে গুরুতর জখম

মিঠাপুকুরে অটো–মিশুক ছিনতাই চক্রের নারী সদস্য আটক, চালককে কুপিয়ে গুরুতর জখম

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় বলে অভিযোগ থাকা অটো ও মিশুক ছিনতাইকারী চক্রের এক নারী সদস্যকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। রোববার (১৪ জুন) রাতে উপজেলার বালারহাট ইউনিয়নের কয়েরমারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন এক মিশুক চালক।স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, আহত চালক মো. আক্তার হোসেন (৩৮) পেশায় একজন মিশুক চালক। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তিনি বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সেরুডাঙ্গা বাজার এলাকা থেকে তিনজন যাত্রী নিয়ে বালারহাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। যাত্রীদের মধ্যে আটক হওয়া নারীও ছিলেন।পথিমধ্যে কয়েরমারী গ্রামের উল্লাগাড়ী পাথার এলাকায় একটি বটগাছের নিচে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ছিনতাইকারীরা চালকের ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। চালক আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা, ঘাড় ও বাম হাতের আঙুলে একের পর এক আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।চালকের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। আরও  পড়ুন, ২৫ লাখের বেশি কর্মসংস্থান নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি গাজীপুর: জেলা প্রশাসকস্থানীয়দের ধাওয়ায় প্রায় ৪০০ গজ দূর থেকে ছিনতাই হওয়া মিশুক ভ্যানসহ এক নারীকে আটক করা হয়। তবে তার সঙ্গে থাকা অপর দুই সহযোগী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।আটক নারী আপি বেগম (২৬), উপজেলার আলীপুর নয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, পালিয়ে যাওয়া দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অটো ও মিশুক ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে তদন্ত শেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চূড়ান্ত তথ্য নিশ্চিত করবে।এদিকে নারী ছিনতাইকারী আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আটক ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যায়।গুরুতর আহত আক্তার হোসেনকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে।অটো ও মিশুক চালকদের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে এলাকায় ধারাবাহিক ছিনতাইয়ের ঘটনায় তারা আতঙ্কের মধ্যে কাজ করছেন। তাদের দাবি, দ্রুত চক্রটির বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার করে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ আহমেদ জানান, আটক নারী বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতকদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলে নির্বাচন ঘিরে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা, সরব সাবেক প্রধানমন্ত্রী

ইসরায়েলে নির্বাচন ঘিরে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা, সরব সাবেক প্রধানমন্ত্রী

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক ঝড় শুরু হয়েছে। দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক বিস্ফোরক মন্তব্য করে অভিযোগ তুলেছেন— নেতানিয়াহু আসন্ন সাধারণ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে পারেন। এমনকি পরিস্থিতি সেদিকে গেলে তাকে ‘লাঠি ও পাথর মেরে’ ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।রবিবার ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকা এহুদ বারাক বলেন, তার আশঙ্কা— নেতানিয়াহু ক্ষমতা ধরে রাখতে রাজনৈতিক সংকট বা সামরিক উত্তেজনা বাড়াতে পারেন।বারাকের অভিযোগ, লেবাননে নতুন সামরিক অভিযান চালিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হতে পারে, যাতে হিজবুল্লাহ বা ইরান পাল্টা হামলা চালায় আরো পড়ুন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ইতি জেনেভায় হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক চুক্তিএবং নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। তার ভাষায়, নেতানিয়াহু ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ চান, কারণ যুদ্ধ শেষ হলে তার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির বিচার আরও দ্রুত এগোতে পারে।শুধু তাই নয়, হামাসের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তি নিয়েও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সমালোচনা করেন বারাক। তার দাবি, রাজনৈতিক স্বার্থে বিভিন্ন সমঝোতার অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।এদিকে, বারাকের এই বক্তব্য ঘিরে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নেতানিয়াহুর দল লিকুদের আইনপ্রণেতারা বারাকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্তের দাবি তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে সহিংসতার উসকানি দিয়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েলের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে এই ঘটনা। এখন দেখার বিষয়— এই বিতর্ক কেবল রাজনৈতিক বাকযুদ্ধেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি তা নতুন সংকটের জন্ম দেয়।

৫ ঘন্টা আগে

রাজধানী

আলোচনা, সমালোচনা আর দায়িত্বের গল্প: ওসি দাউদ

আলোচনা, সমালোচনা আর দায়িত্বের গল্প: ওসি দাউদ

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি)  অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর গুলশান থানা| রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান শুধু একটি থানা এলাকা নয়, এটি দেশের অর্থনীতি, কূটনীতি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র| ফলে এই থানার দায়িত্বে কে আসছেন, তা সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে| আর সেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবার কাঁধে তুলে নিয়েছেন যশোরের সন্তান, অপরাধ দমনে আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা মো. দাউদ হোসেন|অরও পড়ুন: ডিএমপির কয়েকটি থানায় দৃশ্যমান পরিবর্তনপুলিশের বিভিন্ন সূত্র বলছে, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং আইন প্রয়োগে দৃঢ় অবস্থানের কারণেই গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ থানার দায়িত্ব তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে| মো. দাউদ হোসেনের কর্মজীবনের শুরু থেকেই দায়িত্বশীল ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি রয়েছে| দীর্ঘ চাকরি জীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ও থানায় দায়িত্ব পালন করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন| তবে রাজধানীর খিলগাঁও থানা এবং পরবর্তীতে ক্যান্টনমেন্ট থানায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন|সহকর্মীদের মতে, তিনি এমন একজন কর্মকর্তা যিনি অফিসকেন্দ্রিক পুলিশিংয়ের চেয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন| অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর শুধু তদন্ত নয়, অপরাধ প্রতিরোধেও তিনি গুরুত্ব দেন|অরও পড়ুন: প্রশংসা-সমালোচনার কেন্দ্রে থাকা ওসি দাউদখিলগাঁও থানায় দায়িত্ব পালনকালে মাদক, চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে একাধিক সফল অভিযান পরিচালনা করেন| তার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বেশ কয়েকটি অপরাধী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া হয়| একই সঙ্গে বিট পুলিশিং ও জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেন তিনি|খিলগাঁও থেকে ক্যান্টনমেন্ট থানায় দায়িত্ব গ্রহণের পরও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে একই ধরনের সক্রিয়তা বজায় রাখেন তিনি| বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় যখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, তখন ক্যান্টনমেন্ট থানার দায়িত্বে থেকে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করেন| চব্বিশের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে দায়ের হওয়া ˆবষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন মামলায় সাবেক সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি|অরও পড়ুন: অপরাধ দমনে নতুন ছকে ডিএমপিপুলিশ সূত্র বলছে, এসব মামলার তদন্ত ও অভিযান পরিচালনার সময় ব্যাপক চাপ ও নানা ধরনের সমালোচনার মুখোমুখি হতে হলেও তিনি আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে যাননি| বরং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন| তার কর্মকাণ্ডের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা ˆতরি হয়| আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ও সমর্থক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাকে নিয়ে একাধিক নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়| এমনকি আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজেও তাকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনামূলক পোস্ট দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়| তবে এসব বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের দায়িত্ব পালনেই মনোযোগী ছিলেন তিনি| তার ঘনিষ্ঠরা বলছেন, সমালোচনা কিংবা চাপ নয়, বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই ছিল তার মূল লক্ষ্য|একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, দাউদ হোসেন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কখনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিবেচনাকে প্রাধান্য দেন না| আইন যেদিকে নির্দেশ করে, তিনি সেদিকেই কাজ করার চেষ্টা করেন| ক্যান্টনমেন্ট থানায় দায়িত্ব পালনকালে মাদকবিরোধী অভিযান, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ, সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র শনাক্তকরণ এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেন তিনি|পুলিশের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, তার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে| ফলে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি| শুধু অপরাধ দমন নয়, জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক উন্নয়নেও তিনি কাজ করেছেন| স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়, সচেতনতামূলক সভা এবং বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে জনমুখী পুলিশিং নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন|অরও পড়ুন: মধ্যরাতে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে, পরে হেলিকপ্টারে ঢাকায় ডিসিরাজধানীর গুলশান এলাকা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক জোন| এখানে রয়েছে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, আন্তর্জাতিক সংস্থা, বহুজাতিক কোম্পানি, পাঁচতারকা হোটেল এবং দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের আবাসস্থল| ফলে গুলশান থানার দায়িত্ব শুধু সাধারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়, বরং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট|সাম্প্রতিক সময়ে এই এলাকায় সাইবার অপরাধ, আর্থিক প্রতারণা, মাদক ব্যবসা, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা রয়েছে| এছাড়া অভিজাত এলাকার আড়ালে সংঘটিত কিছু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে|অরও পড়ুন: মিরপুরে আলোচিত ওসি হাফিজুর রহমানএই বাস্তবতায় একজন অভিজ্ঞ, দৃঢ়চেতা এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ছিল বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা| গণমাধ্যমকর্মীদের কাছেও মো. দাউদ হোসেন পরিচিত একটি নাম| বিভিন্ন অভিযানের বিষয়ে তথ্যভিত্তিক বক্তব্য প্রদান এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সমš^য় করে কাজ করার কারণে সাংবাদিক মহলেও তার একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে|একাধিক অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদক জানান, তিনি তথ্য গোপন না করে আইনি সীমার মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের চেষ্টা করেন| ফলে সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও সহযোগিতামূলক মনোভাব দেখা যায় তার মধ্যে| আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞদের মতে, গুলশান থানার দায়িত্ব পাওয়া যেমন সম্মানের, তেমনি এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জও| কারণ রাজধানীর সবচেয়ে সংবেদনশীল ও আলোচিত এলাকাগুলোর একটি হলো গুলশান| এখানে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কূটনৈতিক নিরাপত্তা, বিদেশি নাগরিকদের সুরক্ষা, করপোরেট নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলা সমান গুরুত্বপূর্ণ|অরও পড়ুন: পুলিশ হত্যা, সংস্কার ও জননিরাপত্তা: সংকট উত্তরণের পথ কোথায়?বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীত অভিজ্ঞতা এবং মাঠপর্যায়ের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তিনি গুলশান থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম হবেন| ডিএমপির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, নিষ্ঠা, সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্ব পালনে দৃঢ়তার কারণেই তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে|গুলশান থানায় যোগদানের পর তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি করা| বিশেষ করে আধুনিক নগর অপরাধ, সাইবার জালিয়াতি, মাদক কারবার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে| সব মিলিয়ে ক্যান্টনমেন্ট থেকে গুলশান এই যাত্রা শুধুমাত্র একজন পুলিশ কর্মকর্তার পদায়ন নয়, বরং এটি তার কর্মদক্ষতা ও পেশাদার নেতৃত্বের প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আস্থার প্রতিফলন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা| এখন রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই থানার দায়িত্বে থেকে তিনি কতটা সফলভাবে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারেন, সেদিকেই নজর থাকবে নগরবাসী, আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষক এবং সংশ্লিষ্ট মহলের|

৩ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন