দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

আজকের আবহাওয়া

ঢাকা 1004.6 hPa
29.1° 72%
15mm
চট্টগ্রাম 1003.5 hPa
28.7° 80%
40° 12mm
রাজশাহী 1004.5 hPa
28° 79%
20° 15mm
খুলনা 1004.5 hPa
27° 95%
20° 15mm
বরিশাল 1005 hPa
26° 93%
15mm
সিলেট 1004.8 hPa
26.5° 93%
200° 15mm
রংপুর 1003.5 hPa
30.2° 86%
20° 15mm
ময়মনসিংহ 1005.1 hPa
28° 92%
15mm
Weather

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

পুলিশ সংস্কার কতদূর, কী ভাবছে সাধারণ মানুষ?

পুলিশ সংস্কার কতদূর, কী ভাবছে সাধারণ মানুষ?

দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ| সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ প্রশাসনে একাধিক রদবদল, বদলি ও প্রশাসনিক সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের মনে এখনো একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, এই পরিবর্তন কি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে? নাকি কাঠামোগত ও নীতিগত আরও বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন? সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পুলিশ বাহিনীতে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হলেও এখনো অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে| বিশেষ করে অপরাধ দমন, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের চাপ, জনসেবার মান এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাগত স্বাধীনতা নিয়ে নানা প্রশ্ন বিদ্যমান|আরও পড়ুন: আলোচনা, সমালোচনা আর দায়িত্বের গল্প: ওসি দাউদসাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কর্মকর্তাদের বদলি, নতুন দায়িত্ব প্রদান এবং কিছু ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে| সরকারের পক্ষ থেকে জনবান্ধব পুলিশিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে| থানাগুলোতে সেবার মান বাড়ানো, অভিযোগ গ্রহণে আন্তরিকতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ব্যবস্থা চালুর মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে| তবে শুধুমাত্র প্রশাসনিক রদবদল করলেই যে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, বিষয়টি এত সহজ নয়| কারণ অপরাধের ধরন পরিবর্তন হচ্ছে, সাইবার অপরাধ বাড়ছে, মাদক ব্যবসা নতুন নতুন কৌশলে পরিচালিত হচ্ছে এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে|বিশ্লেষকরা বলছেন, পুলিশে ব্যক্তি পরিবর্তনের চেয়ে প্রতিষ্ঠানগত সংস্কার বেশি জরুরি| একজন কর্মকর্তা বদলি হলে সাময়িক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে হলে পুরো ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন| রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এখনো নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত নন| চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসা এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধের অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়| অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, থানায় গিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেতে বিল¤^ হয়| আবার কোথাও কোথাও অভিযোগ গ্রহণে অনীহা বা দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগও রয়েছে| যদিও পুলিশ কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অ¯^ীকার করে বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে সময় লাগে| তবে বাস্তবতা হলো, জনগণ দ্রুত ও কার্যকর সেবা প্রত্যাশা করে| একজন ভুক্তভোগী যখন থানায় যান, তখন তিনি আইনের জটিলতা নয়, সমস্যার সমাধান চান| সেই জায়গায় পুলিশকে আরও জনবান্ধব হতে হবে বলে মনে করেন সচেতন নাগরিকরা|আরও পড়ুন: গুলশান পুলিশকে বিতর্কিত করতেই মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারপুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক সময় বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা বা স্থানীয় ক্ষমতাবানদের চাপের মুখে পড়তে হয়| ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে জটিলতা ˆতরি হয়| সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা নানা ধরনের চাপের সম্মুখীন হন| কখনো ফোনকল, কখনো সুপারিশ, আবার কখনো রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধা সৃষ্টি হয়|বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশ যদি আইন প্রয়োগে ¯^াধীনতা না পায়, তাহলে অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে| কারণ অপরাধী যদি মনে করে তার রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব তাকে রক্ষা করবে, তাহলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব নয়|পুলিশ বাহিনীকে কার্যকর করতে হলে তাদের পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে| একজন পুলিশ কর্মকর্তা যেন আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অযাচিত হস্তক্ষেপের শিকার না হন, সেই পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি|আরও পড়ুন: প্রশংসা-সমালোচনার কেন্দ্রে থাকা ওসি দাউদআইন-শৃঙ্খলা বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি আধুনিক রাষ্ট্রে পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হয়| এতে জনগণের আস্থা বাড়ে এবং অপরাধীরা দ্রুত আইনের আওতায় আসে| বাংলাদেশে অনেক দক্ষ ও সৎ পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন| তারা আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন| কিন্তু যদি তাদের ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে তাদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়| ফলে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন|রাজধানীর কয়েকটি থানার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, অনেক পুলিশ সদস্য আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করলেও কোথাও কোথাও সিদ্ধান্তহীনতা কাজ করছে| বিশেষ করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা দেখা যায়|আরও পড়ুন: অপরাধ দমনে নতুন ছকে ডিএমপিএকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, থানায় গিয়ে অভিযোগ দেওয়ার পরও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি| পরে বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে জানালে তদন্ত শুরু হয়| যদিও সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তারা দাবি করেন, প্রতিটি অভিযোগ আইন অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়|অন্যদিকে কিছু থানায় ভালো উদাহরণও রয়েছে| সেখানে ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তারা সরাসরি অভিযোগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছেন| এমন উদ্যোগ জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে|বর্তমান সময়ে শুধু অপরাধী গ্রেফতার করাই পুলিশের একমাত্র দায়িত্ব নয়| জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অপরাধ প্রতিরোধেও পুলিশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ|বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে হবে| স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে অপরাধ প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব| অনেক উন্নত দেশে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা রয়েছে| বাংলাদেশেও সেই ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে| থানাকে ভয় নয়, আস্থার জায়গা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে|আরও পড়ুন: এনবিআরের কর্মকর্তা সহিদুল ইসলামের অবৈধ সম্পদের পাহাড়বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে| বাংলাদেশেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে, তবে তা আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন| সিসিটিভি ক্যামেরা, ডিজিটাল ডাটাবেজ, সাইবার মনিটরিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ালে অপরাধ তদন্ত আরও দ্রুত ও নির্ভুল হবে| অপরাধীরা প্রতিনিয়ত নতুন কৌশল ব্যবহার করছে| তাই পুলিশকেও প্রযুক্তিগতভাবে আরও দক্ষ হতে হবে| শুধু জনবল বৃদ্ধি নয়, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোও সময়ের দাবি| অনেক পুলিশ সদস্য দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন| উৎসব, ছুটির দিন কিংবা দুর্যোগকালেও তারা মাঠে কাজ করেন| কিন্তু তাদের কর্মপরিবেশ এবং কল্যাণমূলক সুবিধা নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন রয়েছে|বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পুলিশ সদস্যদের মানসিক চাপ কমানো, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা এবং পেশাগত প্রশিক্ষণ বাড়ানো প্রয়োজন| কারণ একজন ক্লান্ত ও মানসিকভাবে চাপে থাকা সদস্যের কাছ থেকে সর্বোচ্চ সেবা আশা করা কঠিন| যদি পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করা যায়, তাহলে তাদের কর্মদক্ষতা এবং জনগণের প্রতি সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে|আরও পড়ুন: ডিজিটাল হাইড্রোগ্রাফিতে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন তারেক রহমানপুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াতে হলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি| কোনো সদস্য ক্ষমতার অপব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে| ভালো কাজের ¯^ীকৃতির পাশাপাশি অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে| এতে পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি উন্নত হবে| সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ক্ষেত্রে অনিয়মে জড়িত সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে| তবে এই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করতে হবে|সাধারণ মানুষ একটি নিরাপদ সমাজ চায়| তারা চায় থানায় গেলে সম্মানজনক আচরণ, দ্রুত সেবা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক| পুলিশ রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করবে| অপরাধী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে সমানভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে|একজন নাগরিকের ভাষায়, “পুলিশ যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এবং জনগণের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে অপরাধ অনেকটাই কমে আসবে| পুলিশ প্রশাসনে সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ| তবে শুধুমাত্র বদলি বা প্রশাসনিক রদবদল দিয়ে জননিরাপত্তার সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়| প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার, পেশাগত ¯^াধীনতা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, জবাবদিহিতা এবং জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থা| অপরাধ দমনে পুলিশকে কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে| একই সঙ্গে জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য বাহিনীকে আরও ¯^চ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং সেবামুখী হতে হবে| রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা গেলে পুলিশ বাহিনী আরও শক্তিশালী হবে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে| আরও পড়ুন: ১৫ বছরে যা হয়নি, ৩ মাসে তার চেয়ে বেশি হয়েছে : মির্জা ফখরুলসবশেষে বলা যায়, একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে পুলিশের ভূমিকা অপরিসীম| তাই পুলিশকে প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং জনসমর্থন দিতে হবে| একই সঙ্গে বাহিনীর ভেতরে সংস্কার অব্যাহত রাখতে হবে| তাহলেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন সম্ভব হবে|

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

শিক্ষার্থী না থাকায় শতাধিক নয়, ৬২১ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বন্ধ

দীর্ঘদিন ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় দেশের ৬২১টি ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমোদন কেন বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না, তা জানতে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সচিব ও পরিদর্শক, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মো. আল মাসুদ করিম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।বোর্ডের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, মোট ৬২১টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৪৩টি এসএসসি (ভোকেশনাল) এবং ১৭৮টি দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের প্রতিষ্ঠান রয়েছে।আদেশে বলা হয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে না, সেসব আরো পড়ুন , ডিজিটাল হচ্ছে সরকারি হাসপাতাল, কমবে ভোগান্তি ও চিকিৎসা ব্যয় : স্বাস্থ্যমন্ত্রীপ্রতিষ্ঠানে আগামী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব ধরনের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে কেন তাদের পাঠদানের অনুমোদন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে যৌক্তিক ব্যাখ্যা আগামী ২২ জুলাইয়ের মধ্যে বোর্ডে জমা দিতে বলা হয়েছে।কারিগরি শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, ‘বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৪’-এর উপবিধি ৪.২, ৪.৪ এবং ৫.৪ অনুযায়ী শর্ত পূরণে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।নীতিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি, ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, লাইব্রেরি এবং পাঠদানের অনুমতি দেওয়ার সময় আরোপিত অন্যান্য শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সরকারের অনুমোদনক্রমে বোর্ড সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি বাতিল বা প্রত্যাহার করতে পারে।এ সিদ্ধান্তে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মান, কার্যকারিতা এবং বাস্তব অবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে এটি কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানো ও অকার্যকর প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করার বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডিজিটাল হচ্ছে সরকারি হাসপাতাল, কমবে ভোগান্তি ও চিকিৎসা ব্যয় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত হলো নতুন মাত্রা। ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড, ল্যাব টেস্ট ব্যবস্থাপনা, ফার্মেসি ট্র্যাকিং এবং ই-টিকিটিংসহ পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল অটোমেশন ব্যবস্থা এখন চালু হয়েছে দেশের ৮৭টি সরকারি হাসপাতালে।জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, বর্তমানে ৬১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ১৪টি জেলা হাসপাতাল, দুটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ১০টি জাতীয় পর্যায়ের হাসপাতালে এই ডিজিটাল সেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে।মন্ত্রী জানান, ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমছে এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য সহজেই সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা যাচ্ছে। আরও  পড়ুন, চীনের গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা, লালগালিচায় রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনারোগীর সম্মতির ভিত্তিতে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে চিকিৎসার তথ্য স্থানান্তরের সুবিধাও চালু হয়েছে।এছাড়া হাসপাতালের কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর পরিবর্তে এখন ঘরে বসেই ই-টিকিট সংগ্রহ করে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে দেশের ১৫টি হাসপাতালে ই-টিকিটিং সেবা চালু রয়েছে।সরকার জানিয়েছে, একটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে দেশের সব সরকারি হাসপাতালকে সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যখাতে এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সেবার মান যেমন বাড়বে, তেমনি কমবে রোগীদের ভোগান্তিও।

চীনের গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা, লালগালিচায় রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দেশটির ঐতিহাসিক গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।বৃহস্পতিবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘দিয়াওইউতাই’ থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে গ্রেট হলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী।দুই নেতার মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং উভয় দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিচয়পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনার মাধ্যমে অভিবাদন মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়।এ সময় চীনের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। বাজানো হয় বাংলাদেশ ও চীনের জাতীয় সংগীত।আরও  পড়ুন, মাদকবিরোধী যুদ্ধে কঠোর সরকার: কর্মকর্তাদের অস্ত্র, গঠন হচ্ছে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান জানিয়ে তোপধ্বনিও দেওয়া হয়।পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন।প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, গ্রেট হলে বাংলাদেশ ও চীনের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর, যা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাদকবিরোধী যুদ্ধে কঠোর সরকার: কর্মকর্তাদের অস্ত্র, গঠন হচ্ছে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশে মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের অস্ত্র প্রদান এবং মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে সচিবালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত। বিশেষ করে সিনথেটিক ও সেমি-সিনথেটিক মাদকের বিস্তারের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই তা সংসদে উত্থাপন করা হতে পারে।তিনি জানান, মাদকচক্রগুলো অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করলেও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে অস্ত্র না থাকায় কার্যকর অভিযান পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে কর্মকর্তাদের অস্ত্র দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।আরও  পড়ুন, দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য আবারও চালু ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসাএছাড়া সারাদেশে বিপুলসংখ্যক মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। শুধু ঢাকাতেই প্রায় ৮০ হাজার মামলা ঝুলে রয়েছে। এই বিচারিক জট নিরসনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে প্রচলিত আদালতেও বিচার কার্যক্রম চলমান থাকবে।অন্যদিকে, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সাতটি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদকাসক্ত নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।পাশাপাশি বেসরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোকেও উৎসাহিত করতে ৭৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এক কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আইন সংশোধন, দ্রুত বিচার এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশে মাদকের ভয়াবহতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

রাজনীতিরাজনীতি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ধরে রাখতে ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা ১১ দলের

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ধরে রাখতে ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা ১১ দলের

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় জোট।রাজধানীর মগবাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কর্মসূচি আগামী ১ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১ থেকে ১৫ জুলাই দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে সেমিনার আয়োজন করা হবে। এছাড়া ২৩, ২৪ ও ২৫ জুলাই চিত্র প্রদর্শনী ও গ্রাফিতি অঙ্কনের আয়োজন করা হবে।আরও  পড়ুন, সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় চার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করল জামায়াতজুলাই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে স্মৃতিচারণমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি ৫ আগস্ট সারাদেশের জেলা, উপজেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে।সংবাদ সম্মেলনে নেতারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরেন। তারা বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে ঘোষিত এ কর্মসূচি আগামী দিনের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় চার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করল জামায়াত

সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় চার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করল জামায়াত

রাজধানীর ধানমন্ডিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত চার সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (২৪ জুন) গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।বহিষ্কৃতরা হলেন—শফিকুল ইসলাম, খায়রুল আলম রাসেল, আবুল কালাম ও মামুন হোসেন।জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আব্দুস সাত্তার সুমন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক ঘটনার পরপরই সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই অভিযুক্ত চার সদস্যকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।আরও  পড়ুন, ‘মানহানিকর’ বক্তব্যের অভিযোগ, মুফতি ফয়জুল করিমের বিরুদ্ধে মামলাদলীয় সূত্র জানায়, ঘটনার পর জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নেতারা আহত সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান শিশিরের বাসায় গিয়ে তার খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ও মহানগর শাখার পক্ষ থেকে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিও দেওয়া হয়।উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় সংবাদ সংগ্রহের সময় কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তাদের ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিক সমাজ ও বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিজস্ব তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। তদন্ত শেষে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

‘মানহানিকর’ বক্তব্যের অভিযোগ, মুফতি ফয়জুল করিমের বিরুদ্ধে মামলা

‘মানহানিকর’ বক্তব্যের অভিযোগ, মুফতি ফয়জুল করিমের বিরুদ্ধে মামলা

কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।বুধবার (২৪ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম।তিনি জানান, গত ২০ জুন জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তিনি নিজেকে যুবদলের নেতা বলে দাবি করেছেন।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন ফেসবুক ও ইউটিউবের বিভিন্ন কনটেন্টে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে কটূক্তি, বিদ্রুপ এবং মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি ইউটিউব ভিডিওতে তার দাড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করা হয়। এছাড়া একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়।এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।আরও  পড়ুন, আওয়ামী লীগ বিচারের কাঠগড়ায়, বিএনপি জনগণের কাঠগড়ায় : নাহিদ ইসলামএদিকে মামলাটি ঘিরে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতারা।কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বলেন, জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার যুবদলের নেতা নন। তিনি পূর্বে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত একজন ব্যক্তি কীভাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমিরের বিরুদ্ধে মামলা করেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।অন্যদিকে, কুমিল্লা মহানগর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি এম এম বিলাল হোসাইন দাবি করেন, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিষয়টি তারা আইনগতভাবে মোকাবিলা করবেন।বাদী জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার বলেন, তার নেতা মনিরুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ায় তিনি মামলা করেছেন।সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সদর দক্ষিণ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, যে কেউ আইনের আশ্রয় নিয়ে মামলা করতে পারেন। অভিযোগ যাচাই করেই মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ বিচারের কাঠগড়ায়, বিএনপি জনগণের কাঠগড়ায় : নাহিদ ইসলাম

আওয়ামী লীগ বিচারের কাঠগড়ায়, বিএনপি জনগণের কাঠগড়ায় : নাহিদ ইসলাম

রাজধানীর বিজয়নগরে ১১ দলীয় ঐক্য সমাবেশে কঠোর রাজনৈতিক মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, গণহত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে, আর সংস্কার না করায় বিএনপি জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে।মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও এখনো বিচার দাবিতে রাজপথে নামতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।তিনি দাবি করেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ড, জুলাইয়ের ঘটনা এবং ওসমান হাদীর হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বর্তমান সরকারের টিকে থাকা কঠিন হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।আরও  পড়ুন, নাশকতা ও হামলার অভিযোগে সারাদেশে পুলিশের অভিযান, আটক ৮৪নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, গত চার মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কোনো নতুন রায় বা তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি, যা বিচার প্রক্রিয়ায় ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়।তিনি আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীকে ব্যর্থ বলে উল্লেখ করে তাদের পদত্যাগ দাবি করেন।আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দলটি গুম, খুন ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ছিল, যার ফলেই গণঅভ্যুত্থানের মুখে তাদের নেতৃত্ব দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা

রংপুরে হেরোইন, ঠাকুরগাঁওয়ে এসকাফ একদিনে র‌্যাবের বড় অভিযান

রংপুরে হেরোইন, ঠাকুরগাঁওয়ে এসকাফ একদিনে র‌্যাবের বড় অভিযান

রংপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৯৬ গ্রাম হেরোইন এবং ১৯৩ বোতল এসকাফসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‌্যাব।বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।র‌্যাব জানায়, বুধবার বিকেলে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড়দরগাহ ইউনিয়নে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মো. সুমন শেখ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে দুইটি প্যাকেটে থাকা ১৯৬ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়। গ্রেফতার সুমন শেখ দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার মৃত ইদ্রিশ আলীর ছেলে।অন্যদিকে, ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নে চালানো আরেকটি অভিযানে ১৯৩ বোতল এসকাফ জব্দসহ মো. মনির হোসেন আরো পড়ুন , রায়পুরে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি: মা ও দুই মেয়েকে হত্যা, গণপিটুনিতে নিহত সন্দেহভাজনওরফে মঈনুদ্দীনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ওই উপজেলার আব্দুল করিমের ছেলে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।র‌্যাব আরও জানায়, গ্রেফতার দুইজনই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে জব্দকৃত আলামতসহ আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী ও উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

রায়পুরে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি: মা ও দুই মেয়েকে হত্যা, গণপিটুনিতে নিহত সন্দেহভাজন

রায়পুরে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি: মা ও দুই মেয়েকে হত্যা, গণপিটুনিতে নিহত সন্দেহভাজন

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ঘটেছে হৃদয়বিদারক এক হত্যাকাণ্ড। মা ও দুই মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। আহত হয়েছেন পরিবারের আরেক সদস্য। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবক গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন— শাহিনুর বেগম, তার বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার। গুরুতর আহত হয়েছেন মেঝো মেয়ে কলেজছাত্রী ইকরা আক্তার। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।আরও  পড়ুন, কসবায় বিনামূল্যে বীজ-সার পেলেন ২৬০০ কৃষকপুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে পরিবারের কর্তা কামাল হোসেনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকে শাহিনুর বেগম সন্তানদের নিয়ে ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত হিসেবে অন্তর মজুমদার নামে এক যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতার ইটপাটকেলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কসবায় বিনামূল্যে বীজ-সার পেলেন ২৬০০ কৃষক

কসবায় বিনামূল্যে বীজ-সার পেলেন ২৬০০ কৃষক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ২৬০০ কৃষক-কৃষাণীর মাঝে বিনামূল্যে বীজ-সার ও বিভিন্ন প্রজাতির চারা বিতরণ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার কৃষকদের মাঝে এসব কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রণোদনার আওতায় উচ্চ ফলনশীল উফশী রোপা আমন ধানের বীজ, মরিচ বীজ, বিভিন্ন শাকসবজির বীজ, বৃক্ষ ও লেবুর চারা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি কৃষককে ১০ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার দেওয়া হয়।বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় ৩০ কেজি করে জৈব সার এবং লাউ, চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, কলমি শাক, শশা, বেগুন ও পুঁইশাকের বীজও সরবরাহ করা হয়।আরও  পড়ুন, চীনা নাগরিকের অভিযোগ: স্ত্রী ২৪ লাখ টাকার ডলার ও গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে উধাওমোঅনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাকিল মাহমুদ, উপজেলা কৃষকদল সভাপতি মো. শাম মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি বশির আহাম্মদ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি আশরাফ আলী, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা শিবলী নোমানী, বিএনপি নেতা বাদল আহমেদ ও ছাত্রদল নেতা রাজু আহমেদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।এ সময় উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ উপকারভোগী কৃষক-কৃষাণীরা উপস্থিত ছিলেন।বিতরণ অনুষ্ঠানে ইউএনও মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, সরকারি প্রণোদনার আওতায় পাওয়া বীজ-সার ও কৃষি উপকরণ গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। এক পরিবার থেকে একাধিক নামে সুবিধা নেওয়া বা এসব উপকরণ বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি কৃষকদের প্রাপ্ত উপকরণ যথাযথভাবে ব্যবহারেরও আহ্বান জানান।

চীনা নাগরিকের অভিযোগ: স্ত্রী ২৪ লাখ টাকার ডলার ও গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে উধাওমো

চীনা নাগরিকের অভিযোগ: স্ত্রী ২৪ লাখ টাকার ডলার ও গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে উধাওমো

সুদূর চীন থেকে ভালোবাসার টানে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এসে সংসার পেতেছিলেন চীনা নাগরিক আন হংওয়েই। কিন্তু সেই ভালোবাসার সংসারে নেমে এসেছে চরম ভাঙন। স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রায় ২৪ লাখ টাকা সমমূল্যের মার্কিন ডলার ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত নথিপত্র নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।এ ঘটনায় গত সোমবার রাতে ফুলবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আন হংওয়েই। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে বাংলাদেশি নারী মোর্শেদা বেগমের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে আন হংওয়েইর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ফুলবাড়ী উপজেলায় বসবাস শুরু করেন। সংসার জীবনে সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল বলে দাবি করেন আন হংওয়েই।আরও পড়ুন, বিশেষ অভিযানে ৩ সন্দেহভাজন আসামি গ্রেফতার, আদালতে প্রেরণতবে সম্প্রতি হঠাৎ করেই স্ত্রী মোর্শেদা বেগম কোনো ধরনের পূর্বাভাস ছাড়াই বাড়ি থেকে চলে যান। আন হংওয়েইর অভিযোগ, যাওয়ার সময় তিনি স্বামীর কাছে থাকা প্রায় ২৪ লাখ টাকা সমমূল্যের মার্কিন ডলার এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত ও পরিচয় সংক্রান্ত নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে গেছেন।চীনা নাগরিক আন হংওয়েই জানান, তিনি বর্তমানে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র হারিয়ে তিনি আইনি ও ব্যক্তিগত নানা জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। পুলিশ বলছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে।

আন্তর্জাতিক

দক্ষিণ লেবাননে অভিযান চলাকালে গাড়ি উল্টে ইসরায়েলি সেনা নিহত

দক্ষিণ লেবাননে অভিযান চলাকালে গাড়ি উল্টে ইসরায়েলি সেনা নিহত

দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান চালাতে গিয়ে আবারও প্রাণ হারালেন এক ইসরায়েলি সেনা। সামরিক অভিযানের সময় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি গাড়ি উল্টে ৩২ বছর বয়সী এক সার্জেন্ট নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সামরিক বিবৃতিতে বলা হয়, বুধবার লেবাননের ভূখণ্ডে একটি মাঠ পর্যায়ের অভিযানের সময় গাড়িটি উল্টে গেলে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সেনা সদস্য ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়মিত ইউনিটে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল, যখন দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে সেখানে উত্তেজনা কমেনি।এর কয়েক দিন আগেই নাবাতিহ জেলার কাফর তিবনিত এলাকায় সংঘর্ষে ইসরায়েলি বাহিনীর আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হন। শনিবার আলী আল-তাহের পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় হিজবুল্লাহর হামলায় এক সেনা নিহত এবং ১৩ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। তার আগের দিন একই এলাকায় আরেক অভিযানে ইসরায়েলি পদাতিক বাহিনীর ৫২তম ব্যাটালিয়নের এক কমান্ডার নিহত হন। সে সময় একটি ট্যাংকের আরও তিন সদস্য প্রাণ হারান।এদিকে আরো পড়ুন , দুর্যোগে নাগরিক সুরক্ষায় ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ, ফ্রি সেবা চালুলেবাননের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল গত কয়েক দিনে একাধিক বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলা চালিয়ে সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে। মঙ্গলবার ও বুধবার এসব হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।সংঘাতের এই নতুন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আঞ্চলিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে আল-মায়াদিন জানিয়েছে, বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়া ছাড়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সামনে এখন খুব বেশি বিকল্প নেই। একই সূত্রের দাবি, ইসরায়েলি নেতাদের কঠোর বক্তব্য আসলে তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ।সব মিলিয়ে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং বাহিনী প্রত্যাহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

৩ ঘন্টা আগে

রাজধানী

বংশালের আবাসিক হোটেলে রহস্যজনক মৃত্যু, কক্ষ থেকে ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

বংশালের আবাসিক হোটেলে রহস্যজনক মৃত্যু, কক্ষ থেকে ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর বংশালের একটি আবাসিক হোটেল থেকে মো. শামীম হাসনাত নামে ৪৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।বৃহস্পতিবার সকালে সিদ্দিক বাজার এলাকার ‘ঢাকা প্যালেস’ নামের আবাসিক হোটেলের চতুর্থ তলার ১২১ নম্বর কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহত শামীম হাসনাত কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার শশেয়দিঘী গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মাহফুজুল হক জানান, বুধবার রাত থেকেই শামীমের কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। আরও  পড়ুন, রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনা: মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল পথচারীরবৃহস্পতিবার সকালে হোটেলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রুম পরিষ্কার করতে গিয়ে দরজায় ধাক্কা দিলে সেটি খুলে যায়। পরে তিনি শামীমকে বিবস্ত্র অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে হোটেল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।হোটেল সূত্রে জানা গেছে, গত ঈদুল ফিতরের পর থেকেই শামীম ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন। পারিবারিক সূত্র বলছে, তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন এবং সে কারণেই বাসার পরিবর্তে হোটেলে থাকতেন।

৫ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

খেলাধুলা

চেকদের উড়িয়ে শতভাগ জয় নিয়ে শেষ ষোলোয় মেক্সিকো

চেকদের উড়িয়ে শতভাগ জয় নিয়ে শেষ ষোলোয় মেক্সিকো

নিশ্ছিদ্র আধিপত্যে গ্রুপ পর্ব শেষ করল স্বাগতিক মেক্সিকো। ‘এ’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে এল ত্রি।মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই গোলের দেখা পায়নি। বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও আক্রমণে কাঙ্ক্ষিত ধার দেখাতে পারেনি স্বাগতিকরা। অন্যদিকে টিকে থাকার লড়াইয়ে নামা চেক প্রজাতন্ত্রও কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিরতিতে স্কোরলাইন ছিল গোলশূন্য।তবে দ্বিতীয়ার্ধে যেন ভিন্ন রূপে মাঠে নামে মেক্সিকো। ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থেকে দলকে এগিয়ে দেন মাতেও চাভেজ। লুইস রোমোর নিখুঁত পাস কাজে লাগিয়ে গোল করে গ্যালারিতে উচ্ছ্বাসের জোয়ার তোলেন তিনি।প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরও বিপদে পড়ে চেকরা। আরও  পড়ুন, গ্রুপ পর্বে টানা তিন ম্যাচে গোল, ভিনিসিয়ুসে নতুন স্বপ্ন দেখছে ব্রাজিল৬১তম মিনিটে তরুণ মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরার দারুণ আক্রমণ সাজানোর পর জুলিয়ান কিনিওনেস সহজ ফিনিশে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।দুই গোলের লিড পাওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় মেক্সিকো। যোগ করা সময়ে আলভারো ফিদালগো শক্তিশালী শটে বল জালে জড়িয়ে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় নিশ্চিত করেন।তবে ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে ৭৮তম মিনিটে। বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মেক্সিকোর কিংবদন্তি গোলরক্ষক গুইয়ের্মো ওচোয়া। ৪০ বছর বয়সী এই তারকার জন্য এটি ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে ১৫৩তম ম্যাচ। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাকে আবারও মাঠে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে পুরো অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম।এই জয়ে তিন ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো। অন্যদিকে মাত্র এক পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপের তলানিতে থেকেই বিশ্বকাপ মিশন শেষ করতে হয়েছে চেক প্রজাতন্ত্রকে।

আইন আদালত

আজ ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে পঙ্গু করার অভিযোগে মামলার বিচার শুরু

আজ ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে পঙ্গু করার অভিযোগে মামলার বিচার শুরু

যশোরের চৌগাছায় ২০১৬ সালে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে আটকের পর কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা সাজিয়ে গুলি ও নির্যাতনের মাধ্যমে পঙ্গু করার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার আজ শুরু হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাটির সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।আরও পড়ুন, ‘আমি শুধু ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার’: আসামি সোহেলমামলাটি শুনানি করবেন মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার-এর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। মামলার প্রধান আসামি আনিসুর রহমান-সহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম চলবে।প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর চৌগাছা উপজেলা শাখার তৎকালীন সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন এবং সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিন-কে একটি মামলায় আটক করে পুলিশ। অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতে হাজির না করে কয়েকদিন নির্যাতন করা হয়।আরও পড়ুন, শিশু রামিসা হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানি আজপ্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ একটি সাজানো ঘটনা তৈরি করে দুই নেতার পায়ে গুলি করা হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে চিকিৎসার একপর্যায়ে তাদের পা কেটে ফেলতে হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় আরও বলা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অস্ত্র মামলাটি পরবর্তীতে আদালতে ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়।এর আগে গত ২০ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। সে সময় আদালতে উপস্থিত আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। বর্তমানে অভিযুক্তদের মধ্যে আকিকুল ইসলাম, সাজ্জাদুর রহমান এবং জহরুল হক কারাগারে রয়েছেন।আরও পড়ুন, সাইপ্রাসে এস আলমের ভবন জব্দের নির্দেশঅন্যদিকে প্রধান আসামি আনিসুর রহমান, সাবেক ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল এবং এসআই মাজেদুল পলাতক রয়েছেন বলে ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানিয়েছে। উল্লেখ্য, মামলার অভিযোগগুলো প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত অভিযোগ। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায়ের মাধ্যমে অভিযুক্তদের দায়-দায়িত্ব চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর