দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

আজকের আবহাওয়া

ঢাকা 1003.3 hPa
33.2° 63%
9mm
চট্টগ্রাম 1004.4 hPa
32.2° 71%
80° 9mm
রাজশাহী 1004.7 hPa
34.5° 65%
20° 9mm
খুলনা 1003.4 hPa
32.2° 74%
9mm
বরিশাল 1003.5 hPa
33.2° 61%
40° 9mm
সিলেট 1003 hPa
35.5° 56%
110° 9mm
রংপুর 1003.3 hPa
36.5° 0%
700° 9mm
ময়মনসিংহ 1003.8 hPa
35.4° 55%
400° 9mm
Weather

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

গুলশানে গেস্ট হাউজ-স্পা, পেছনে মিরাজের অজানা সাম্রাজ্য?

গুলশানে গেস্ট হাউজ-স্পা, পেছনে মিরাজের অজানা সাম্রাজ্য?

বরগুনার বেতাগী উপজেলার গরিচন্না বাজার এলাকায় জম্ম মিরাজের। তিনি ঢাকার বুকে হোটেল ব্যবসায় অঙ্গনে যিনি ‘মোল্লা মিরাজ’ নামে পরিচিত বলে স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে। প্রায় এক দশক আগে ঢাকায় এসে মিরপুরের একটি আবাসিক হোটেলে ক্লিনারের চাকরি নেওয়া থেকে তার কর্মজীবনের শুরু। সময়ের ব্যবধানে সেই চাকরি থেকে হোটেল, স্পা ও গেস্ট হাউজ ব্যবসায় প্রবেশ এবং পরবর্তীতে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে ফ্ল্যাট, বাড়ি-গাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, মিরাজের বর্তমান জীবনযাপন ও সম্পদের সঙ্গে তার অতীত আর্থিক অবস্থার ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। একসময় সাধারণ কর্মচারী হিসেবে কাজ করলেও বর্তমানে তিনি ভিআইপি স্টাইলে চলাফেরা করেন। তার মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন হোটেল, স্পা ও গেস্ট হাউজকে ঘিরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক, মানবপাচার এবং ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি সূত্রগুলোর। অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।আরও পড়ুন: গুলশানে গেস্ট হাউজ ও দীর্ঘদিনের স্পা ব্যবসায় কোটিপতি মিরাজপ্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ বছর আগে বরগুনা থেকে ঢাকায় আসেন মিরাজ। তখন তার আর্থিক অবস্থা ছিল সাধারণ। রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ক্লিনার হিসেবে চাকরি নেন তিনি। হোটেলকেন্দ্রিক পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে ধীরে ধীরে ব্যবসার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা নেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে নিজেই হোটেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। সময়ের সঙ্গে স্পা ও গেস্ট হাউজ ব্যবসাতেও তার সম্পৃক্ততা বাড়তে থাকে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই বড় অঙ্কের অর্থ ও সম্পদের মালিক হয়েছেন।সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, একজন সাধারণ কর্মচারী থেকে এত অল্প সময়ে কীভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হলেন মিরাজ? তার ব্যবসার মূলধন কোথা থেকে এসেছে, কোন কোন প্রতিষ্ঠানের নামে সম্পদ রয়েছে এবং এসব ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থের উৎস কী এসব বিষয়ে যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।আরও পড়ুন: অপসাংবাদিকতার তাণ্ডব: মূলধারা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বড় সংকটঅভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে রাজধানীর গুলশানে ৩৩ নং রোডে অবৈধ গেস্ট হাউজ ও ৪১ নং রোডে একটি স্পা এবং আর এম সেন্টারে ভিআইপি সেলুন ও স্পেশাল সার্ভিসের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া  একটি ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক মিরাজ। তার নামে বা ঘনিষ্ঠদের নামে আরও সম্পদ রয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়ের অর্থের উৎস এবং আয়কর নথিতে সেগুলোর যথাযথ হিসাব রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাই প্রয়োজন। অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তার সম্পদ ও ব্যবসায়িক লেনদেন যাচাই করা গেলে অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন সাংবাদিক ও স্থানীয়রা।রাজধানীর গুলশানের একটি গেস্ট হাউজ ও স্পা সেন্টারকে ঘিরে মিরাজের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। একই সঙ্গে সেখানে মাদকসেবী, মাদক কারবারি কিংবা মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কথিত আনাগোনা রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে মাদক ব্যবসা বা মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করার মতো আদালতসিদ্ধ তথ্য এই প্রতিবেদকের হাতে নেই। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত জরুরি।আরও পড়ুন: ডেঙ্গু ঠেকাতে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রীস্থানীয়দের প্রশ্ন, আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধিত ও অনুমোদিত কি না? তাদের ট্রেড লাইসেন্স, অগ্নিনিরাপত্তা, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না এ বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন। মিরাজের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার দাবি। কয়েকটি সূত্রের ভাষ্য, হোটেল ও গেস্ট হাউজ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে একটি বড় সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যার মাধ্যমে বিপুল অর্থ লেনদেন হয়।অভিযোগ রয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণী ও তরুণদের রাজধানীতে এনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজে নিয়োগ বা অন্য সুযোগ দেওয়ার কথা বলে তাদের একটি চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে তাদের ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করা হয় বলেও অভিযোগকারীদের দাবি। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো মামলার নথি, তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় এই প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।আরও পড়ুন: অনলাইন পোর্টাল ও ফেসবুক পেজ খুলেই কথিত ‘সাংবাদিক’!মানবপাচারের অভিযোগ সত্য হলে এটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মানবপাচারবিরোধী সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উচিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা।হোটেল ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, মিরাজ রাজধানীর হোটেল অঙ্গনে ‘মোল্লা মিরাজ’ নামে পরিচিত। ব্যবসায়িক যোগাযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন মহলে তার প্রভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে তার সামাজিক ও ব্যবসায়িক প্রভাবও বেড়েছে। বর্তমানে তিনি দামি গাড়িতে চলাফেরা করেন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে এমন কথাও শোনা যায়। মিরাজকে নিয়ে ইতিপূর্বে দৈনিক সংবাদ দিগন্তে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিকদের হুমকি-ধমকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ কিংবা হয়রানির চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করতে ভয়ভীতি বা চাপ প্রয়োগ করা হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগের বিষয়। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো পক্ষ যাতে সংবাদ প্রকাশের কারণে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা।আরও পড়ুন: শিকলে বেঁধে বেল্ট দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ, পরে গৃহবধূর মৃত্যুমিরাজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি বা ভিডিওকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। তবে কার কাছ থেকে কত টাকা আদায় করা হয়েছে বা এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়েছে কি না এমন নির্ভরযোগ্য নথি প্রতিবেদকের হাতে না থাকায় অভিযোগটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। যদি সত্যিই এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে থাকে, তাহলে ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তদন্ত করা সম্ভব। একজন সাধারণ কর্মচারী থেকে কয়েক বছরের ব্যবধানে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠলে স্বাভাবিকভাবেই সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। মিরাজের আয়কর নথি, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, ব্যাংক লেনদেন, সম্পত্তি ক্রয়ের দলিল এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স যাচাই করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। বিশেষ করে তার মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন হোটেল, স্পা ও গেস্ট হাউজগুলোর বৈধতা, অনুমোদন এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠান অন্য কারও নামে পরিচালিত হলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রক কে সেটিও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।আরও পড়ুন: বাঁধনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা, ‘আমরা সবাই বিচার চাই’: পাটওয়ারীরাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে হোটেল, গেস্ট হাউজ ও স্পা ব্যবসার আড়ালে যাতে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতে না পারে, সে বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাদক, মানবপাচার, অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা উচিত। অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্টদেরও আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকা প্রয়োজন।মিরাজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তার কাছ থেকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। দৈনিক সংবাদ দিগন্তের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হচ্ছে, এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক, মানবপাচার, অবৈধ সম্পদ ও ব্ল্যাকমেইলিং সংক্রান্ত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সূত্র ও অভিযোগকারীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। রাজধানীতে একজন সাধারণ কর্মচারী থেকে দ্রুত বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠার অভিযোগ এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘিরে ওঠা গুরুতর অভিযোগগুলো তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে এনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে। তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে মিরাজের বিপুল সম্পদের প্রকৃত উৎস কী এবং তার পরিচালিত হোটেল, স্পা ও গেস্ট হাউজ ব্যবসার আড়ালে আদৌ কোনো অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না।আরও পড়ুন: আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ডিএমপি, দুই দিনে ৩২০৬ মামলাআইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবৈধ ব্যবসা, মাদক, মানবপাচার, ব্ল্যাকমেইলিং কিংবা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা যথাযথভাবে তদন্ত ও প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। গণমাধ্যমে এসব অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে অভিযোগকে সরাসরি প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন না করে ‘অভিযোগ’ বা ‘সূত্রের দাবি’ হিসেবে উল্লেখ করা উচিত।বিশেষজ্ঞরা বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, ব্যবসায়িক নথি, সম্পত্তির দলিল, আয়কর নথি ও আর্থিক লেনদেন যাচাই করলে সম্পদের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়াও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আইন বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিককে ভয়ভীতি বা হুমকি দেওয়া হলে সেটিও আইনগতভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। সংবাদে আপত্তি থাকলে আইনসম্মতভাবে প্রতিবাদ বা প্রতিকার চাওয়া যায়; কিন্তু চাপ প্রয়োগ করে সংবাদ বন্ধের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। তাই মিরাজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন জরুরি।আরও পড়ুন: সকালেই মেঘে ঢাকা রাজধানী, দুপুরের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনাএবিষয়ে মিরাজের পরিচালিত গেস্ট হাউজ ও স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, গুলশান এলাকায় কোনো হোটেল, গেস্ট হাউজ বা স্পা সেন্টারের আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে পুলিশ তা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। আরও পড়ুন: পুলিশে বড় রদবদল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তা বদলিওসি আরও বলেন, গুলশান এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় এর আগে বিভিন্ন স্পা সেন্টারে অভিযান চালিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাদক, মানবপাচার, ব্ল্যাকমেইলিং কিংবা অন্য কোনো অপরাধের সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে তা পুলিশকে জানালে তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

জুলাই আন্দোলনের হত্যা মামলায় কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখালেন আদালত

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর কাফরুল এলাকায় তরিকুল ইসলাম রুবেল নিহতের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।পুলিশের আবেদনে বলা হয়, কারাগারে থাকা কলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে মামলার ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তার নাম ও ঠিকানা যাচাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আবেদনের পক্ষে যুক্তি দেন। তিনি দাবি করেন, কলিমউল্লাহ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যার ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী মহসিন রেজা এ আবেদনের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, কলিমউল্লাহর কোনো রাজনৈতিক পদ বা পরিচয় নেই। তিনি একজন অধ্যাপক এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।আরও  পড়ুন, সিঙ্গেল থেকে ডাবল-ডেকার, ৪১ বাসের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করল বিআরটিএআদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের বক্তব্যে কলিমউল্লাহ বলেন, ছাত্রজীবন থেকে শিক্ষকতা জীবন পর্যন্ত তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। উপাচার্যের দায়িত্ব পালনকালে জুলাই আন্দোলনে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার প্রতিবাদ এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনের কথাও আদালতকে জানান তিনি।দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত কলিমউল্লাহকে তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কাফরুল থানার এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তরিকুল ইসলাম রুবেলসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ ও আহত হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান রুবেল।এ ঘটনায় নিহত রুবেলের স্বজন আতিউর রহমান কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৫৭ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।এর আগে ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ওই দিন তার জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

সিঙ্গেল থেকে ডাবল-ডেকার, ৪১ বাসের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করল বিআরটিএ

দেশে ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের অনুমোদন না থাকলেও সিঙ্গেল-ডেকার হিসেবে রেজিস্ট্রেশন নেওয়া কিছু বাসকে বডি পরিবর্তন করে ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসে রূপান্তরের অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের ৪১টি বাসের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ—বিআরটিএ।হাইকোর্টের নির্দেশনায় গঠিত বিআরটিএর তিন সদস্যের কারিগরি কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। কমিটি জানিয়েছে, বিআরটিএ এখন পর্যন্ত কোনো ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের অনুমোদন বা রেজিস্ট্রেশন দেয়নি।প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু বাস মালিক সিঙ্গেল-ডেকার বাস হিসেবে রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার পর বডি পরিবর্তন করে সেগুলোকে ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসে রূপান্তর করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ৪১টি বাসের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সড়কে চলাচলরত তিনটি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।আরও  পড়ুন, ব্রিকস সম্মেলনে দিল্লি যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানবিআরটিএ জানিয়েছে, বডি পরিবর্তনের পর ফিটনেস নবায়নের জন্য আসা বাসগুলোর ফিটনেস নবায়ন করা হচ্ছে না। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাসের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত এবং রুট পারমিট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।কারিগরি কমিটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের জন্য কোনো জাতীয় গাইডলাইন বা নীতিমালা নেই। ফলে এ ধরনের বাসের অনুমোদন ও রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ নেই। অননুমোদিত বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ বিভাগকেও বিভিন্ন সময়ে চিঠি দিয়েছে বিআরটিএ।২০২৫ সালে অননুমোদিত স্লিপার এসি বাস চলাচলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছিল। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারির পর বিআরটিএ কারিগরি কমিটি গঠন করে। কমিটির পর্যালোচনার পরই অননুমোদিত ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ব্রিকস সম্মেলনে দিল্লি যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর বসছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। এবারের সম্মেলনের আয়োজক ভারত। এই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ দিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনারের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। পরে বিএনপির মিডিয়া সেলও এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে।বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। এ আমন্ত্রণ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছিল।আরও  পড়ুন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন ২৯ অক্টোবর, তফসিল ঘোষণাভারতের পক্ষ থেকেও একাধিকবার বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়ে তাদের কাছে নতুন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিল্লির সম্মেলনে যাচ্ছেন না বলে জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিকসে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে; বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়।একই সঙ্গে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।তবে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দরজা পুরোপুরি বন্ধ নয় বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যেতে পারেন।এর মধ্য দিয়ে ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান হলো। এখন নজর থাকবে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকে।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন ২৯ অক্টোবর, তফসিল ঘোষণা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ।তফসিল অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে।বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত আপিলের সুযোগ থাকবে। এসব আপিল নিষ্পত্তি হবে ৬ অক্টোবর।প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ অক্টোবর। ৮ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারবেন। আরও  পড়ুন, মানুষের অধিকার-নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই হবে সাইবার সুরক্ষা আইন: শামা ওবায়েদআর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ অক্টোবর।নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার পাঁচ লাখ ১৫ হাজার।গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এই আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরদিন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তার সংসদীয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।এর পরিপ্রেক্ষিতেই আসনটিতে উপনির্বাচনের আয়োজন করছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হলো ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি। এখন মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও প্রতীক বরাদ্দের ধাপ পেরিয়ে ২৯ অক্টোবর ভোটের মাঠে নামবেন প্রার্থীরা।

রাজনীতিরাজনীতি

জামায়াতের লং মার্চ ও সংসদীয় বক্তব্যে দ্বিমুখিতা আছে: চরমোনাই পীর

জামায়াতের লং মার্চ ও সংসদীয় বক্তব্যে দ্বিমুখিতা আছে: চরমোনাই পীর

জামায়াতে ইসলামীর লং মার্চের দাবির সঙ্গে দলটির আমিরের সংসদে দেওয়া বক্তব্যে দ্বিমুখিতা রয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম। তিনি জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান ও ইসলামী আইন বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের ফজলুল উলুম মাদরাসায় কর্মী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম।চরমোনাই পীরের অভিযোগ, বিভিন্ন দাবিতে জামায়াতে ইসলামী লং মার্চ করেছে। কিন্তু পরে সংসদে দলটির আমির বলেছেন, বিদ্যুতের সমস্যা বর্তমান সরকারের তৈরি নয়।তার প্রশ্ন, যদি বিদ্যুৎ সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি না হয়, তাহলে এ দাবিতে এত তেল-গ্যাস খরচ করে লং মার্চ করার কারণ কী?চরমোনাই পীরের অভিযোগের মূল প্রশ্নটি জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানকে ঘিরে। তার দাবি, মাঠের কর্মসূচিতে জামায়াত যে ধরনের দাবি তুলছে, সংসদে দলের আমিরের বক্তব্যের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য নেই। এ কারণেই তিনি এটিকে দ্বিমুখী আচরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।আরও  পড়ুন, ‘৮০-এর দশকে ফিরে যাচ্ছে সরকার, গ্যাস-বিদ্যুৎ বাদ দিচ্ছে’: নাহিদ ইসলামএ সময় জামায়াতে ইসলামীর লোগো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রেজাউল করীম। তার দাবি, দলটির লোগো থেকে ‘আকিমুদ্দিন’ শব্দটি তুলে দেওয়ার পর সেখানে ‘ইসলাম’ শব্দটিও আর নেই। ফলে দলটিকে ইসলামী দল বলা যায় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।চরমোনাই পীর আরও বলেন, গত নির্বাচনের ইশতেহারে জামায়াতে ইসলামী অনুযায়ী দেশ পরিচালনার কথা উল্লেখ করা হয়নি।তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় জামায়াতের আমির বলেছিলেন, তারা শরিয়া অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবেন না; বরং প্রচলিত আইনেই দেশ পরিচালিত হবে।সব মিলিয়ে জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সংসদে দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির।জামায়াতে ইসলামীর লং মার্চ এবং সংসদে দলটির আমিরের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এ মন্তব্য করলেন চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম। তার বক্তব্যের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

‘৮০-এর দশকে ফিরে যাচ্ছে সরকার, গ্যাস-বিদ্যুৎ বাদ দিচ্ছে’: নাহিদ ইসলাম

‘৮০-এর দশকে ফিরে যাচ্ছে সরকার, গ্যাস-বিদ্যুৎ বাদ দিচ্ছে’: নাহিদ ইসলাম

‘৮০-এর দশক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেন্ড চলছে, সরকারও মনে হয় ৮০-এর দশকে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছে’—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং সরকারি চাকরির ভাইভা পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেছেন তিনি।বুধবার বিকেলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা অডিটোরিয়ামে ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারুণ্যের রাজনৈতিক ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৮০-এর দশক নিয়ে একটি ট্রেন্ড শুরু হয়েছে।আরও  পড়ুন, দুদকের তদন্ত নিয়ে আসিফ মাহমুদের ক্ষোভ, ‘রাজনৈতিক হয়রানির’ অভিযোগ সরকারও যেন সেই ট্রেন্ডের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করছে। কারণ গ্যাস-বিদ্যুৎ বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।তবে সরকারকে ইতিবাচকভাবে সময়ের সঙ্গে থাকার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, পুরো পৃথিবী সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ কোনোভাবেই যেন পিছিয়ে না যায়, সেটাই সবার প্রত্যাশা।সরকারি চাকরির ভাইভা পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির আহ্বায়ক।তার দাবি, সরকারি চাকরির ভাইভা পরীক্ষায় ৪০০ শতাংশ নম্বর বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। সাধারণ চাকরির পরীক্ষায় ভাইভায় ২০০ নম্বর এবং বিসিএসে ৫০ নম্বর রাখার প্রস্তাব দেন তিনি।

দুদকের তদন্ত নিয়ে আসিফ মাহমুদের ক্ষোভ, ‘রাজনৈতিক হয়রানির’ অভিযোগ

দুদকের তদন্ত নিয়ে আসিফ মাহমুদের ক্ষোভ, ‘রাজনৈতিক হয়রানির’ অভিযোগ

দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে তার মানহানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।বুধবার দুপুরে রাজধানীর প্রেসক্লাবে দুদকে দায়ের হওয়া অভিযোগের বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরে তিনি এ অভিযোগ করেন।আসিফ মাহমুদ বলেন, বিএনপি সরকারের সময়ে হওয়া পদোন্নতি ও বদলির ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করা হচ্ছে। তার দাবি, এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতেই দুর্নীতি দমন কমিশন—দুদককে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।আরও  পড়ুন, ‘আওয়ামী লীগ ক্লোজড চ্যাপ্টার, ভারতে গিয়ে দাফন হয়েছে’: সারজিসআসিফ মাহমুদ বলেন, অতীতেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে দুদককে ব্যবহার করা হয়েছে। এখনো একই কায়দায় প্রতিষ্ঠানটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় দেশের স্বার্থে তাকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। জনগণের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে অনেকের বিরাগভাজন হয়েছেন এবং তারাই এখন রাজনৈতিকভাবে তার পেছনে লেগেছে বলে দাবি করেন তিনি।তবে দুদক স্বাভাবিক ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় অনুসন্ধান চালালে তাতে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন এনসিপির এই নেতা।একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, শুরু থেকেই দুদককে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

‘আওয়ামী লীগ ক্লোজড চ্যাপ্টার, ভারতে গিয়ে দাফন হয়েছে’: সারজিস

‘আওয়ামী লীগ ক্লোজড চ্যাপ্টার, ভারতে গিয়ে দাফন হয়েছে’: সারজিস

‘আওয়ামী লীগ একটি ক্লোজড চ্যাপ্টার, বাংলাদেশে তাদের পতন হয়েছে, ভারতে গিয়ে দাফন হয়েছে’—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেছেন, বিএনপিকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হলেও দলটির কোনো অন্যায়ের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নয় এনসিপি। একই সঙ্গে বিএনপি জনআকাঙ্ক্ষা থেকে সরে গেলে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকা কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।মঙ্গলবার বিকেলে পটুয়াখালীতে এনসিপির জেলা শাখার সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সারজিস আলম।আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগ একটি ‘ক্লোজড চ্যাপ্টার’। বাংলাদেশে তাদের পতন হয়েছে এবং ভারতে গিয়ে তাদের দাফন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।বিএনপির বিষয়ে সারজিস আলম বলেন, দলটিকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হলেও তাদের কোনো অন্যায়ের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে আগ্রহী নয় এনসিপি। সব অন্যায়ের প্রতিবাদ করা হবে।তিনি বলেন, বিএনপিকে এসব ঘটনার লাগাম টেনে ধরতে হবে। ভোটের নেগোসিয়েশনের জন্য খুনি ও স্বৈরাচারদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার চিন্তা করা হলে তা হিতে বিপরীত হবে। কোনো সংকট তৈরি হলে তার প্রভাব সব দলের ওপরই পড়বে এবং বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় সংকটের অগ্রভাগ তাদেরই মোকাবিলা করতে হবে।আরও  পড়ুন, বাঁধনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা, ‘আমরা সবাই বিচার চাই’: পাটওয়ারীবিচার প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, বিএনপি ও বিচার বিভাগ যদি এসব বিষয়ে শাস্তি নিশ্চিত না করে, তাহলে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের নিয়ে আবারও রাজপথে নামতে হতে পারে এনসিপিকে।গত ছয় মাসে বিএনপি জনআকাঙ্ক্ষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে বিএনপি পাঁচ বছর ক্ষমতায় স্থায়ী হতে পারবে না।দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট নিয়েও কথা বলেন সারজিস। তিনি বলেন, জাতীয় সংকটের সময়ে বিএনপিকে সহযোগিতা করতে চায় এনসিপি। তবে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি কিনে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগ প্রসঙ্গে সারজিস বলেন, নিজেদের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অযোগ্য ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের দায় বিরোধী দলের ওপর চাপিয়ে তাদের দমন করার রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবে না।তিনি বলেন, জনগণের দুর্বিষহ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে লুটপাটের রাজনীতি করা হলে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে।পটুয়াখালীর এই কর্মসূচিতে এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। পরে সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালার মাধ্যমে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

সারাবাংলা

সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের কাছে নানা ভাই বাহিনীর প্রধানসহ ১২ দস্যুর আত্মসমর্পণ

সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের কাছে নানা ভাই বাহিনীর প্রধানসহ ১২ দস্যুর আত্মসমর্পণ

সুন্দরবনে দস্যুবিরোধী অভিযানের মধ্যে কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সক্রিয় সদস্য। মঙ্গলবার বিকেলে বাগেরহাটের মোংলা থানার সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় তারা আত্মসমর্পণ করেন।বৃহস্পতিবার কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।কোস্টগার্ড জানায়, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ধারাবাহিক এসব অভিযানে সুন্দরবনের বিভিন্ন দস্যু বাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিকেল ৬টার দিকে নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে একটি এইট শুটার, একটি সিক্স শুটার, একটি ফোর শুটার, একটি সাইড হেমার, একটি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, দুটি এমথ্রি গ্যাস গান, দুটি ৭ দশমিক ৬৫ মি.মি. পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটার ও দুটি এয়ারগানসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।এ ছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭ দশমিক ৬৫ মি.মি. পিস্তলের গুলি,আরও  পড়ুন, মঠবাড়িয়ায় বিএনপি কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভাঙচুর, উদ্ধার ২ অবিস্ফোরিত ককটেল পাঁচ রাউন্ড ৮ মি.মি. তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, চারটি পিস্তল ম্যাগাজিন, দুটি এয়ারগান ম্যাগাজিন ও ছয়টি ওয়াকিটকি।কোস্টগার্ডের দাবি, আত্মসমর্পণকারীরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, নানা ভাই বাহিনীর ১২ জন ছাড়াও ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ সক্রিয় ডাকাত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেছেন।অন্যদিকে দস্যুবিরোধী বিশেষ অভিযানে এ পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যুকে আটক এবং তাদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে।

মঠবাড়িয়ায় বিএনপি কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভাঙচুর, উদ্ধার ২ অবিস্ফোরিত ককটেল

মঠবাড়িয়ায় বিএনপি কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভাঙচুর, উদ্ধার ২ অবিস্ফোরিত ককটেল

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া সদর ইউনিয়নের মিঠাখালী আলম বাজারে বিএনপির কার্যালয়ে তালা ভেঙে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার ৯ সেপ্টেম্বর রাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা কার্যালয়ের শাটারের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।কার্যালয়ের ভেতরে থাকা কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ার ও একটি এলইডি টেলিভিশন ভাঙচুর করা হয়। একই সঙ্গে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।আরও  পড়ুন, ৩০ বছরেও স্থায়ী সেতু হয়নি, ভাসমান ড্রাম সেতুই কৃষকের ভরসা facebook sharing buttonস্থানীয়দের ভাষ্য, ভাঙচুরের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসার আগেই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।পরে খবর পেয়ে মঠবাড়িয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ সেখান থেকে দুটি ভাঙা প্লাস্টিকের চেয়ার, একটি ভাঙা এলইডি টেলিভিশন, একটি তালা এবং লাল কস্টেপ দিয়ে মোড়ানো দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে।পৌর বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন ফরাজী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঠবাড়িয়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৩০ বছরেও স্থায়ী সেতু হয়নি, ভাসমান ড্রাম সেতুই কৃষকের ভরসা

৩০ বছরেও স্থায়ী সেতু হয়নি, ভাসমান ড্রাম সেতুই কৃষকের ভরসা

কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা খালের ওপর দীর্ঘ ৩০ বছরেও নির্মাণ হয়নি কোনো স্থায়ী সেতু। প্রায় ৩০০ ফুট প্রশস্ত খালটি পারাপারে কৃষকদের নিজেদের অর্থায়নে তৈরি ভাসমান ড্রাম সেতুই এখন একমাত্র ভরসা। ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন কৃষক ও সাধারণ মানুষ চলাচল করছেন। একই সঙ্গে পরিবহন করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য।স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কুমিরমারা, এলেমপুর, মজিদপুর, বাইনতলা ও ফরিদপুর এই পাঁচ গ্রামের কৃষকেরা প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার কৃষিপণ্য উৎপাদন করেন। এসব কৃষিপণ্য পাখিমারা পাইকারি বাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে পাঠানো হয়। কিন্তু স্থায়ী সেতু না থাকায় উৎপাদিত পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে যাচ্ছে। সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় নষ্ট হচ্ছে অনেক সবজিও।স্থানীয়রা জানান, ২০১৬ সালে আরপাঙ্গাশিয়া নদীর ওপর চাকামইয়া এলাকায় ভেঙে পড়া একটি আয়রন ব্রিজের কিছু মালামাল এনে পাখিমারা খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণের মাত্র দুই বছরের মধ্যেই সেতুটি নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে সেই সেতুর ধ্বংসাবশেষ খালের পাশে পড়ে আছে। এরপর কৃষকরা নিজেদের অর্থায়নে ড্রামের ওপর কাঠের পাটাতন বসিয়ে তৈরি করেন ভাসমান সেতু। কয়েক দফায় নিজেদের অর্থায়ন ও বিভিন্ন এনজিওর সহায়তায় সেতুটি মেরামত করা হলেও বর্তমানে সেটিও অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে।সামাজিক সাংস্কৃতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রংধনু প্রতিস্ঠাতা সভাপতি, নীলগন্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবির জুয়েল শিকদার জানান, “পাঁচটি গ্রাম থেকে বছরে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার কৃষিপণ্য উৎপাদন হয়। ভাসমান সেতুর কারণে পরিবহন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এখানে একটি স্থায়ী গার্ডার ব্রিজ হলে পরিবহন খরচ অনেক কমে যেত। এতে কৃষিপণ্যের দামও কমানো সম্ভব হতো।”কৃষক আজিজ হাওলাদার ও আবু বকর মৃধা বলেন, “সেতু না থাকায় অনেক সময় নৌকায় করে কৃষিপণ্য পারাপার করতে হয়। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেশি লাগে।”আরও  পড়ুন, নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের ভুলের মাশুল দিতে হবে’, হুঁশিয়ারি নাছির মোড়লেরকৃষক সুলতান গাজী বলেন, “কলাপাড়া উপজেলার প্রায় ৭০ শতাংশ সবজির চাহিদা এই এলাকার উৎপাদিত সবজি দিয়ে পূরণ হয়। প্রতিদিন বাস, ট্রাক ও পিকআপে করে এসব সবজি দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পাঠানো হয়। কিন্তু দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থার কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। আবার সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় অনেক সময় কৃষকের কষ্টে উৎপাদিত সবজি নষ্ট হয়ে যায়।”নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান, নবগঠিত হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী জহিরুল ইসলাম জহির বলেন, “কৃষকদের উদ্যোগে ড্রামের ওপর কাঠের পাটাতন বসিয়ে তৈরি করা ভাসমান সেতুটি কয়েক দফায় নিজেদের অর্থায়নে এবং বিভিন্ন এনজিওর সহায়তায় মেরামত করা হয়েছে। বর্তমানে সেতুটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন বলেন, খরিফ-২ মৌসুমে কুমিরমারা গ্রাম থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০০ মণ এবং কোন কোন দিনে সর্বোচ্চ ১ হাজর ২০০ মণ পর্যন্ত করলা সহ বিভিন্ন ধরনের সবজি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। তবে এসব কৃষি পণ্য খাল পারাপারের সময় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কৃষি পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে যায়, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “পাখিমারা খালের ওপর ব্রিজ নির্মাণের ডিজাইনের কাজ চলমান রয়েছে। শিগগিরই ডিজাইনের কাজ শেষ হবে। ইতোমধ্যেবিআইডব্লিউটিএর ক্লিয়ারেন্স পাওয়া গেছে। এখন এটি ডিপিপি আকারে পরিকল্পনা কমিশনে জমা হবে। আশা করছি, একনেকে অনুমোদন পাওয়া যাবে। ১১৪ পটুয়াখালী-৪ জাতীয় সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন ও কলাপাড়া উপজেলা বিএনপি"র সাবেক আহব্বায়ক আলহাজ্ব মো: মনিরুজ্জামান মনির এ সেতু নির্মান নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কাজ করছেন এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন নির্ভরযোগ্য সুত্র।

নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের ভুলের মাশুল দিতে হবে’, হুঁশিয়ারি নাছির মোড়লের

নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের ভুলের মাশুল দিতে হবে’, হুঁশিয়ারি নাছির মোড়লের

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত মিছিলের পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ও প্রশাসনিক তৎপরতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে গাজীপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাছির মোড়ল পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।তিনি অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে থানা ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।নাছির মোড়ল বলেন,“আমার নেতাকর্মীদের ডিস্টার্ব করে পুলিশ ভাইয়েরা ভুল করেছেন। আমি এক কথার মানুষ। আগে বলেছিলাম নেতাকর্মীদের হয়রানি করলে থানার সামনে মিছিল করব, করেছি। এবারও বলছি—এই মিছিলের পর যদি আমার নেতাকর্মীদের ডিস্টার্ব করা হয়, তাহলে পরবর্তী কর্মসূচি হবে থানা ঘেরাও।”তিনি আরও বলেন,আরও  পড়ুন, বাকেরগঞ্জে পুলিশ হেফাজতে নারীর মৃত্যু, স্বামীর অভিযোগ ‘পিটিয়ে হত্যা’“প্রস্তুত থাকেন, পরবর্তী মিছিলে থানা ঘেরাও হবেই। নেতাকর্মীদের হয়রানি বন্ধ করুন। অন্যথায় জীবন দিয়ে হলেও আমি আমার কথা রাখব। থানার সামনে মিছিল করা কোনো অপরাধ নয়। আমাদের রাজনৈতিক আদর্শ ও কর্মসূচি পালনের অধিকার রয়েছে।”স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে গাজীপুরে একটি বড় মিছিলের নেতৃত্ব দেন নাছির মোড়ল। ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে মুখরিত ওই মিছিল থানার সামনের সড়ক অতিক্রম করে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করে।পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিছিলে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাদের দাবি, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের দমনের চেষ্টা করা হচ্ছে।নাছির মোড়লের সাম্প্রতিক এই বক্তব্যের পর গাজীপুরের স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও প্রশাসনের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সে দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধ শেষ হলেই তেলের দাম কমবে, আশা ট্রাম্পের

ইরান যুদ্ধ শেষ হলেই তেলের দাম কমবে, আশা ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কবে শেষ হবে—এ নিয়ে নতুন সময়সীমার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে।শুধু যুদ্ধ শেষ হওয়ার কথা নয়, সংঘাত থামলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও দ্রুত কমে আসবে বলে আশা করছেন ট্রাম্প।তবে বাস্তব চিত্র এখনো ভিন্ন। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০১ ডলার ২১ সেন্টে স্থির হয়, যা জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে।ট্রাম্পের এই সময়সীমা নিয়ে অবশ্য রাজনৈতিক প্রশ্নও উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো অ্যালেক্স ভাতাঙ্কার মতে, আড়ও পড়ুন,সৌদিতে হুতিদের হামলা বাড়লে জবাব দেবে পাকিস্তান-তুরস্ক: খাজা আসিফনভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাপ্তির সময় হিসেবে তুলে ধরে ট্রাম্প রাজনৈতিক বার্তাই দিচ্ছেন।কারণ, তেলের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মার্কিন ভোটারদের অসন্তোষ বাড়ছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যের পরও তেলের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। বরং যুদ্ধের বিস্তার এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। আর এর প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই নয়—পরিবহন, বিমান চলাচল, পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও পড়তে পারে।এখন বড় প্রশ্ন—নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সত্যিই কি ইরান যুদ্ধ থামবে? আর যুদ্ধ থামলে ট্রাম্পের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত কমবে কি আন্তর্জাতিক বাজারের তেলের দাম? উত্তর পেতে তাকিয়ে থাকতে হবে মধ্যপ্রাচ্যের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচনের দিকে।

৩৮ মিনিট আগে

রাজধানী

ধানমণ্ডি ২৭ নম্বরে ছয়তলা ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৪ ইউনিট

ধানমণ্ডি ২৭ নম্বরে ছয়তলা ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৪ ইউনিট

রাজধানীর ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়কের একটি ছয়তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ভবনটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চারটি ইউনিট।ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়কের একটি ছয়তলা ভবনে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট।তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের সূত্রপাতের কারণ কিংবা এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানা যায়নি।রাজধানীর ব্যস্ত ধানমণ্ডি এলাকায় ছয়তলা একটি ভবনে আগুন লাগার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে ফায়ার সার্ভিস। বর্তমানে চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানানো হয়নি।ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আগুনের পর ভবনটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, ভবনের ভেতরে কেউ আটকা পড়েছেন কি না কিংবা আগুনে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—এসব তথ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।আরও  পড়ুন, অটোরিকশার চার্জিংয়ে বিদ্যুতের বড় চাপ, অবৈধ ব্যবহারে ক্ষতি ৪ হাজার কোটিফায়ার সার্ভিসের অভিযান শেষ হওয়ার পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।ধানমণ্ডি ২৭ নম্বরের ছয়তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট কাজ করছে। বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।রাজধানীর ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়কের একটি ছয়তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ভবনটিতে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট।ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়কে অবস্থিত ছয়তলা ভবনটিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে তাদের গাড়ি ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।তবে প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাতের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে আগুনে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ভবনটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। অভিযান শেষ হলে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

৪ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

খেলাধুলা

আজ মাঠে বাংলাদেশ-ভারত, রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের জমজমাট লড়াই

আজ মাঠে বাংলাদেশ-ভারত, রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের জমজমাট লড়াই

আজকের ক্রীড়া সূচিতে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল। ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে।অন্যদিকে এজবাস্টনে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান তৃতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু হবে। প্রথম দিন শেষে পাকিস্তানকে ১৩৩ রানে অলআউট করে ইংল্যান্ড ১৫৬/৪ সংগ্রহ করেছে এবং ২৩ রানে এগিয়ে রয়েছে।রাতে ইউরোপীয় ফুটবলে থাকছে চ্যাম্পিয়নস লিগের একাধিক ম্যাচ। ফেনেরবাহচে-রোমা ম্যাচের পর রাত ১টায় একই সময়ে মাঠে নামবে বায়ার্ন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও কোমো।আর টেনিসপ্রেমীদের জন্য আগামীকাল ভোরে রয়েছে ইউএস ওপেনের নারী সেমিফাইনাল।আজকের গুরুত্বপূর্ণ খেলাএজবাস্টন টেস্ট—২য় দিনইংল্যান্ড বনাম পাকিস্তানবিকেল ৪টাসনি স্পোর্টস ২নারী এশিয়া কাপ ক্রিকেট—সেমিফাইনালবাংলাদেশ বনাম ভারতরাত ৮টা ৩০ মিনিটটি স্পোর্টসউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগফেনেরবাহচে বনাম রোমারাত ১০টা ৪৫ মিনিটসনি স্পোর্টস ২বায়ার্ন মিউনিখ বনাম বোদো/গ্লিমটরাত ১টাসনি স্পোর্টস ১ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বনাম সাবাহরাত ১টাসনি স্পোর্টস ২কোমো বনাম লাইপজিগরাত ১টাসনি স্পোর্টস ৫ইউএস ওপেননারী সেমিফাইনালআগামীকাল ভোর ৫টাস্টার স্পোর্টস ১ ও ২

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর