দেশের পর্যটন খাতকে আরও সংগঠিত ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে ‘সমন্বিত জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’। এর আওতায় ইতোমধ্যে দেশের প্রায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব পর্যটনকেন্দ্রকে ঘিরে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও পর্যটনসেবার বিস্তারের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পর্যটন খাতের বর্তমান অর্থনৈতিক অবদান ২ থেকে ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে জিডিপিতে ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটন খাতের প্রকৃত অবদান ও সম্ভাবনা নিরূপণে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) আওতায় ‘ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট’ তৈরির কাজ চলছে।পরিকল্পনায় দেশের পর্যটন আকর্ষণগুলোকে আটটি অঞ্চলে ভাগ করে বিভিন্ন পর্যটন গুচ্ছ, পর্যটন পণ্য ও বিনিয়োগ প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। সুন্দরবন, কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় ও হ্রদ, সিলেটের চা-বাগান, নদী-জলাভূমি, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় স্থাপনাসহ বিভিন্ন পর্যটন সম্পদকে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।আরও পড়ুন, স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হতে পারে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব ভ্রমণব্যবস্থা নিশ্চিত করাও মহাপরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে পর্যটন অর্থনীতির বিকাশে।এদিকে পর্যটন খাতের উন্নয়নে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০টি উন্নয়ন প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনায় বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যও রাখা হয়েছে।তবে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে অপরিকল্পিত স্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানজট, নিরাপত্তা ও পরিবেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, টেকসই উন্নয়ন, আধুনিক সেবা, সহজ ভিসা ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও কার্যকর প্রচারণা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের পর্যটন খাত আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এক্সক্লুসিভ
একটি সংবাদপত্রের পথচলা কেবল কাগজে ছাপা কিছু সংবাদ প্রকাশের ইতিহাস নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সময়কে ধারণ করা, মানুষের কথা বলা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা এবং সমাজের বিবেককে জাগ্রত রাখার এক নিরন্তর দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধকে ধারণ করেই জাতীয় দৈনিক সংবাদ দিগন্ত আজ ১৪ বছরে পদার্পণ করছে। এই দীর্ঘ পথচলার প্রতিটি অধ্যায় আমাদের জন্য যেমন গৌরবের, তেমনি আত্মসমালোচনা ও নতুন প্রত্যয়েরও।১৪ বছর একটি সংবাদপত্রের জন্য কম সময় নয়। এই সময়ে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি ও জনজীবনে এসেছে নানা পরিবর্তন। পাল্টেছে মানুষের চিন্তা ও প্রত্যাশা। বদলে গেছে সংবাদ গ্রহণের মাধ্যম। ছাপা পত্রিকার পাশাপাশি অনলাইন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এখন মানুষের তথ্য পাওয়ার অন্যতম প্রধান উৎস। এই পরিবর্তনের মধ্যেও একটি সংবাদপত্রের মূল শক্তি একই রয়ে গেছে বিশ্বাসযোগ্যতা। দৈনিক সংবাদ দিগন্ত সেই বিশ্বাসযোগ্যতার জায়গাটি আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, সংবাদপত্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার পাঠক। পাঠকের আস্থা অর্জন করা কঠিন, কিন্তু সেই আস্থা হারানো খুব সহজ। একটি ভুল তথ্য, একটি যাচাইহীন সংবাদ কিংবা পক্ষপাতদুষ্ট উপস্থাপন অনেক বছরের অর্জনকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। তাই আমাদের কাছে প্রতিটি সংবাদ শুধু একটি প্রতিবেদন নয়; এটি দায়িত্বের একটি অংশ।আরও পড়ুন: পুলিশে একের পর এক রদবদল, অপরাধ দমনে নতুন পরীক্ষাআমরা মনে করি, সাংবাদিকতার প্রথম শর্ত সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা। সত্য কখনো কখনো কঠিন, কখনো অস্বস্তিকর। কিন্তু সত্যকে আড়াল করে সংবাদপত্র তার দায়িত্ব পালন করতে পারে না। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য, তথ্যের যথার্থতা এবং মানুষের মর্যাদার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। সংবাদ দিগন্ত আগামী দিনেও যাচাই করা তথ্য, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।বাংলাদেশের গণমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে পথ চলছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন, অর্থনৈতিক চাপ, প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার, ভুয়া তথ্যের প্রবাহ এবং পাঠকের পরিবর্তিত রুচি—সবকিছু মিলিয়ে সংবাদপত্রের সামনে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে একটি খবর প্রকাশের কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। কিন্তু দ্রুততার সঙ্গে যদি সত্যতা যাচাই না থাকে, তাহলে সেই গতি সমাজের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাই আমরা মনে করি, ভবিষ্যতের সাংবাদিকতায় গতি ও নির্ভুলতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা জরুরি। সংবাদ দ্রুত পৌঁছাতে হবে, কিন্তু তার আগে নিশ্চিত হতে হবে সংবাদটি সত্য কি না। তথ্যের উৎস কতটা নির্ভরযোগ্য, বক্তব্যের অন্য পক্ষ কী বলছে, ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট কী এসব প্রশ্ন সাংবাদিকতার অবিচ্ছেদ্য অংশ।আরও পড়ুন: বনানীতে গেস্ট হাউজ-স্পা, ওসির ভূমিকা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্নদৈনিক সংবাদ দিগন্তের ১৪ বছরের পথচলায় রাজধানীর পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংবাদকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে এসেছি। কারণ বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র কেবল রাজধানীর সংবাদে সীমাবদ্ধ নয়। গ্রামের কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, নারী, শিশু, প্রবীণ এবং প্রান্তিক মানুষের জীবন ও সংগ্রামের মধ্যেই দেশের বাস্তব গল্প লুকিয়ে আছে। একটি রাস্তা নির্মাণ, একটি বিদ্যালয়ের সংকট, কৃষকের উৎপাদন ব্যয়, নদীভাঙনে মানুষের ঘর হারানো কিংবা কোনো প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের সাফল্য এসবই সংবাদ।আমাদের বিশ্বাস, স্থানীয় সাংবাদিকতা জাতীয় সাংবাদিকতার ভিত্তি শক্তিশালী করে। তাই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের আমরা সংবাদ দিগন্ত পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখি। তাদের সাহস, শ্রম ও দায়িত্বশীলতার ওপর নির্ভর করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসংখ্য মানুষের কথা পাঠকের কাছে পৌঁছে যায়। একই সঙ্গে আমরা মনে করি, সাংবাদিকতার অন্যতম দায়িত্ব হলো ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরা। তবে প্রশ্ন করা মানেই কাউকে অভিযুক্ত করা নয়। সংবাদ ও মতামতের পার্থক্য বজায় রেখে তথ্যের ভিত্তিতে মানুষের সামনে বিষয়টি তুলে ধরাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পথ।আমরা এমন একটি সাংবাদিকতা চাই, যেখানে সমালোচনা থাকবে কিন্তু বিদ্বেষ থাকবে না; প্রশ্ন থাকবে কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার থাকবে না; অনুসন্ধান থাকবে কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে না। কারণ গণমাধ্যমের শক্তি তার ভাষার উচ্চতায় নয়, তার তথ্যের গভীরতায়। ১৪ বছরে পদার্পণের এই মুহূর্তে আমরা আমাদের পাঠক, সংবাদকর্মী, লেখক, কলাকুশলী, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সংবাদ দিগন্ত পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তাদের সহযোগিতা ও ভালোবাসাই আমাদের পথচলার শক্তি।আরও পড়ুন: পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে নরসিংদীতে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিলবিশেষ করে আমাদের সাংবাদিকদের কথা বলতে হয়। একজন সাংবাদিককে অনেক সময় প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করতে হয়। কখনো রাতের পর রাত ঘটনাস্থলে থাকতে হয়, কখনো ঝুঁকি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়, কখনো নানা চাপের মধ্যেও সত্যতা যাচাই করতে হয়। তাদের এই শ্রমের প্রতি সম্মান রেখেই আমরা সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বাধীনতার গুরুত্বকে সামনে রাখতে চাই। আগামী দিনের সংবাদ দিগন্ত কেবল একটি ছাপা পত্রিকা হিসেবে নয়, একটি আধুনিক ও দায়িত্বশীল সংবাদপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আরও এগিয়ে যেতে চায়। মুদ্রিত পত্রিকার পাশাপাশি ডিজিটাল সাংবাদিকতা, ভিডিও সংবাদ, মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণের পরিধি আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় আমাদের রয়েছে। তবে প্রযুক্তি যতই পরিবর্তিত হোক, সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি—সত্য, নিরপেক্ষতা, মানবিকতা ও জনস্বার্থ—কখনো পরিবর্তিত হবে না। আমরা জানি, পথচলা সবসময় সহজ হবে না। সামনে আরও প্রতিযোগিতা আসবে, নতুন প্রযুক্তি আসবে, নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির যুগে সাংবাদিকতার ধরনও বদলাবে। কিন্তু মানুষের সত্য জানার প্রয়োজন কখনো শেষ হবে না। বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহের এই সময়ে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রয়োজন আরও বাড়বে। তাই ১৪ বছরে দাঁড়িয়ে আমাদের অঙ্গীকার একটাই পাঠকের আস্থা ধরে রেখে আরও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করা। ভুল হলে তা সংশোধন করা, সমালোচনা থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং প্রতিদিন নিজেদের আরও উন্নত করার চেষ্টা করা।আরও পড়ুন: সাভার গেন্ডায় ঢাকা ইন গেস্ট হাউজে জুলহাসের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সিন্ডিকেটদৈনিক সংবাদ দিগন্তের এই ১৪ বছর কেবল একটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নয়; এটি নতুন করে পথচলার একটি উপলক্ষ। অতীতের অর্জন আমাদের অনুপ্রেরণা দেবে, আর সীমাবদ্ধতাগুলো আমাদের আরও সতর্ক করবে। সত্যের পথে, মানুষের পাশে এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে দৈনিক সংবাদ দিগন্ত আগামী দিনেও মানুষের কথা বলতে চায়। দেশের গণতান্ত্রিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রায় দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের যে ভূমিকা রয়েছে, সেই ভূমিকা পালনে আমরা আরও নিষ্ঠাবান হতে চাই। ১৪ বছরে পদার্পণের এই শুভক্ষণে আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা পাঠক আমাদের পাশে থাকবেন। কারণ পাঠকের আস্থা ও ভালোবাসাই একটি সংবাদপত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি। দৈনিক সংবাদ দিগন্ত এগিয়ে যাক আরও বহুদূর। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আলোয় আলোকিত হোক আগামী দিনের পথ। জনমানুষের কথা বলার এই যাত্রা অব্যাহত থাকুক নিরন্তর।
অনলাইন জরিপ