দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

 শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব

ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন / শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব

বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। শরতের স্নিগ্ধ প্রকৃতি, ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, আলোকসজ্জায় সজ্জিত পূজামণ্ডপ এবং ভক্তদের প্রার্থনায় প্রতিবছর দুর্গোৎসব হয়ে ওঠে আনন্দ, আবেগ ও মিলনের এক অনন্য উপলক্ষ। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এ উৎসব মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করার বার্তা দেয়। শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে আয়োজন করা হয় নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। প্রতিমা দর্শন, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি, আরতি এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে উৎসবের পরিবেশ। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে পূজামণ্ডপে ঘুরতে বের হন নানা বয়সী মানুষ। উৎসবকে ঘিরে স্থানীয় বাজার, পোশাকের দোকান, খাবারের দোকান ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও বাড়ে কর্মচাঞ্চল্য। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গা শক্তি, সাহস ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রতীক। পৌরাণিক কাহিনিতে মহিষাসুরের বিরুদ্ধে দেবী দুর্গার বিজয় অশুভ শক্তির পরাজয় এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। এ বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা মানুষকে অন্যায়, অনাচার, হিংসা ও অসত্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রেরণা দেয়। দুর্গোৎসবের ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি রয়েছে মানবিক ও সামাজিক শিক্ষা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, দুর্বল ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় এ উৎসবের অন্যতম বার্তা। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে মানুষের জীবন থেকে অশুভ ও অকল্যাণ দূর হয়ে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠিত হবে। দুর্গাপূজার বিভিন্ন দিন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন ও পূজার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।আরও  পড়ুন, শীতের আগমনী বার্তা, প্রস্তুত হচ্ছে যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড় সপ্তমীতে পূজা-অর্চনা, অষ্টমীতে মহাষ্টমীর বিশেষ পূজা ও অঞ্জলি এবং নবমীতে মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়। এরপর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। তিথি ও স্থানীয় রীতিভেদে বিভিন্ন আয়োজনের সময়সূচিতে পার্থক্য থাকতে পারে। পূজার দিনগুলোতে ভক্তরা নতুন পোশাক পরে মন্দিরে যান এবং দেবীর চরণে ফুল, বেলপাতা ও অন্যান্য উপকরণ নিবেদন করেন। অনেক মণ্ডপে আয়োজন করা হয় ধর্মীয় আলোচনা, প্রসাদ বিতরণ, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসব আয়োজন উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। বিজয়া দশমী দুর্গোৎসবের একটি আবেগঘন অধ্যায়। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবীকে বিদায় জানানোর সময় ভক্তদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি বিষাদের অনুভূতিও কাজ করে। তবে এ বিদায় পরবর্তী বছরের নতুন প্রত্যাশা ও শুভাগমনের অপেক্ষা তৈরি করে। বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সহাবস্থান, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সামাজিক বন্ধন এ দেশের বহুত্ববাদী পরিচয়কে সমৃদ্ধ করেছে। শারদীয় দুর্গাপূজা সেই সম্প্রীতির চর্চাকে আরও দৃশ্যমান করার সুযোগ সৃষ্টি করে। অনেক এলাকায় বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একে অপরের উৎসবে অংশ নেন, শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। পূজামণ্ডপের আয়োজন, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম ও সামাজিক উদ্যোগে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা উৎসবের পরিবেশকে আরও সৌহার্দ্যপূর্ণ করে তোলে। ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও মানুষের মৌলিক চাহিদা, সুখ-দুঃখ ও মানবিক অনুভূতি অভিন্ন। এ উপলব্ধি থেকে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার চর্চা বাড়ানো জরুরি।আরও  পড়ুন, মব আতঙ্ক ও আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভেদ বা বিদ্বেষ নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলাই হওয়া উচিত উৎসবের অন্যতম শিক্ষা। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় শুধু উৎসবের সময় নয়, সারা বছরই দায়িত্বশীল আচরণ, সামাজিক সচেতনতা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বৈষম্য, হয়রানি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বড় ধর্মীয় উৎসবে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। ফলে পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা, যান চলাচল, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, অগ্নিনিরাপত্তা এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পূজা উদ্ধসঢ়;‌যাপন কমিটি এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। প্রতিটি পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ রাখা, বৈদ্যুতিক সংযোগ নিরাপদ রাখা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী দর্শনার্থীদের নিরাপদে চলাচলের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়া উচিত। গুজব, অপতথ্য কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো উসকানিমূলক বক্তব্য উৎসবের পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে পারে। তাই যাচাই না করা তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকা এবং কোনো সন্দেহজনক ঘটনা দেখা গেলে নিজেরা আইন হাতে না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা প্রয়োজন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনের একক দায়িত্ব নয়; পূজামণ্ডপের আয়োজক, দর্শনার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং গণমাধ্যমসহ সবার সচেতন অংশগ্রহণ প্রয়োজন। দায়িত্বশীল আচরণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়েই উৎসবকে আনন্দময় ও নিরাপদ রাখা সম্ভব।আরও  পড়ুন, যাত্রাবাড়ীর-সায়েদাবাদ এলাকায় একাধিক আবাসিক হোটেল ঘিরে অভিযোগ দুর্গাপূজাকে ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়। প্রতিমাশিল্পী, মৃৎশিল্পী, বাঁশ ও কাঠের কারিগর, আলোকসজ্জাকর্মী, পোশাক ব্যবসায়ী, ফুল বিক্রেতা, পরিবহন শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এ উৎসবের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকেন। পূজামণ্ডপ নির্মাণ, প্রতিমা তৈরি, সাজসজ্জা, পোশাক কেনাকাটা ও অতিথি আপ্যায়নের কারণে বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়ে। এতে মৌসুমি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হয়। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী প্রতিমাশিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের সৃজনশীলতা ও শ্রম দুর্গোৎসবের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া দুর্গাপূজার সাংস্কৃতিক আয়োজন বাঙালির লোকজ ঐতিহ্য, সংগীত, নৃত্য, নাটক ও শিল্পচর্চাকে উৎসাহিত করে। নতুন প্রজন্মের কাছে এসব ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রেও উৎসবটির ভূমিকা রয়েছে। তবে উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি অপচয় রোধ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি। উৎসবের প্রকৃত সার্থকতা কেবল আনুষ্ঠানিকতা বা বাহ্যিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের মধ্যেও এর প্রকাশ ঘটে। সমাজের অসচ্ছল মানুষ, অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ ও সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে দুর্গোৎসবের মানবিক তাৎপর্য আরও গভীর হতে পারে। উৎসব উপলক্ষে সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা দরিদ্র মানুষের মধ্যে খাদ্য, পোশাক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করতে পারেন। একই সঙ্গে রক্তদান, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মতো উদ্যোগও সামাজিক কল্যাণে অবদান রাখতে পারে। ধর্মীয় উৎসব মানুষকে আনন্দ দেয়, কিন্তু সেই আনন্দ যেন অন্যের অসুবিধার কারণ না হয়, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন। আরও  পড়ুন, উৎসব মূখর পরিবেশে গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কার্যালয় উদ্বোধনউচ্চ শব্দে মাইক ব্যবহার, যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা, যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি কিংবা পরিবেশদূষণ থেকে বিরত থাকা সবার দায়িত্ব। উৎসবের সৌন্দর্য তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন আনন্দের পাশাপাশি অন্যের অধিকার ও স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতিও সম্মান দেখানো হবে। বাংলাদেশের সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আইনের দৃষ্টিতে সমতার নীতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালন, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং নিরাপদে জীবনযাপনের অধিকার সম্মান করা প্রয়োজন। ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করা রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিক সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। শারদীয় দুর্গাপূজা সেই দায়িত্বের কথা নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়। ভিন্ন বিশ্বাস ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় থাকলে সমাজ আরও শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ হতে পারে। কোনো ধরনের বৈষম্য, বিদ্বেষ বা সহিংসতা যেন মানুষের উৎসবের আনন্দকে ম্লান করতে না পারে, সে বিষয়ে সবার সতর্ক থাকা জরুরি। শারদীয় দুর্গাপূজা বাঙালির ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস, শিল্প-সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের এক সম্মিলিত প্রকাশ। দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা করা হয়, তা বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন ন্যায়, সততা, সহমর্মিতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে। উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি মানুষের জীবনে। ধর্মীয় পরিচয় যেন কখনো মানুষের মধ্যে বিভেদের কারণ না হয়; বরং পারস্পরিক সম্মান ও ভালোবাসার বন্ধন আরও দৃঢ় করুক। শারদীয় দুর্গোৎসবের শিক্ষা হোক অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসা।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

অন্যের হক নষ্ট করলে পার পাওয়া যাবে না

জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মানুষ লুটপাট, চাঁদাবাজি ও অন্যায়-অবিচার প্রতিষ্ঠার জন্য রক্ত দেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণ কোনোভাবেই লুটতরাজ, চাঁদাবাজি ও অন্যায়-অবিচার মেনে নেবে না। ভবিষ্যতে প্রতিটি অপরাধের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগর শাখা আয়োজিত ছাত্র ইসলামী আন্দোলনের প্রাক্তন সাথী-সদস্য সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানুষের ওপর জুলুম করা, মানুষের অধিকার হরণ করা এবং অন্যের প্রাপ্য অধিকার কেড়ে নেওয়ার পরিণতি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অন্যায় করে কেউ পার পাবে না। প্রত্যেককে নিজ নিজ কর্মকাণ্ডের জবাব দিতে হবে। তিনি অতীতের বিভিন্ন ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জামায়াতের আমির দাবি করেন, গত ১৭ বছরে দলটির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন মাত্রার জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আরও পড়ুন,রাজশাহীতে আখচাষীদের পাশে সরকারতাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দলটির শীর্ষস্থানীয় ১২ জন নেতাকে নানা অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদী আমলে অসংখ্য নারী-পুরুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সম্মেলনে প্রাক্তন সাথী-সদস্যদের উদ্দেশে জামায়াত আমির হালাল পথে জীবিকা অর্জন এবং সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কথার প্রতিযোগিতায় না গিয়ে আদর্শ, নৈতিকতা ও কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইসলামী আন্দোলনের উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত লাভ নয়; বরং আদর্শিক বিশ্বাস ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। দেশ ও জাতির কল্যাণে ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, প্রাক্তন সাথী-সদস্যদের সম্মেলন কেবল পুনর্মিলনের আয়োজন নয়; বরং দেশের প্রয়োজনে ও সংকটকালে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার।

রাজশাহীতে আখচাষীদের পাশে সরকার

রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষীর জন্য ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর বিকেলে রাজশাহীর হাজী মুহাম্মদ মহসীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কম্পিউটারের বোতাম চেপে কৃষকদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে প্রণোদনার অর্থ পাঠানোর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার আখচাষীদের সহযোগিতার জন্য মোট ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এ অর্থ ৩৮ হাজার ৯৭০ জন চাষীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। কৃষকদের এই সহায়তা আখ চাষে কাজে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারের বোতাম চাপ দিয়ে অর্থ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করলে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এ সময় ১৫ জন আখচাষীর হাতে সরাসরি চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। আরও পড়ুন,ভাটেরারচরে সংঘর্ষ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনাঅনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক জনসভায় অংশ নেন। সরকারি এই প্রণোদনার মাধ্যমে আখচাষীদের উৎপাদন ব্যয় সামলাতে সহায়তা করা এবং আখ চাষে উৎসাহ বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কৃষি খাতে উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের আর্থিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচি রয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে দেশের সব উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সোমবার ১৯ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের দেওয়া এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করা যাবে। এসব আবেদন আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। ফলে যারা ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে চান, তাঁদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। এদিকে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভোটার ডেটাবেজে নিবন্ধিত হওয়া ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।  আরও পড়ুন,ইশরাকের পদত্যাগ অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের ৩১ অক্টোবর বা এর আগে যাঁদের জন্ম হয়েছে এবং যাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোটার ডেটাবেজে নিবন্ধিত হবেন, তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করে হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হবে। এ জন্য আগামী ৫ নভেম্বর সারা দেশে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর তালিকা নিয়ে দাবি ও আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ২৫ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ও শেষ ধাপে ২৭ মে ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব নির্বাচনের তফসিল সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা ঘোষণা করবেন বলে জানানো হয়েছে।

ইশরাকের পদত্যাগ অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগকে রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন না প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তাঁর মতে, এই পদত্যাগ ইশরাক হোসেনের সামনে আরও বৃহত্তর ও গণমুখী রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের পথ উন্মোচন করতে পারে। সোমবার, ১৯ অক্টোবর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। সেখানেই ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের খবর জানতে পারেন তিনি। পোস্টে ইশরাক হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ইশরাক হোসেনের ভূমিকা এবং তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্য সম্পর্কে সবাই অবগত। বিএনপির তরুণদের সম্পৃক্ত করা, কূটনৈতিক যোগাযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও তাঁদের একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। মাহদী আমিন আরও বলেন,আরও পড়ুন,দুর্গাপূজায় তিন বিভাগে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কাজের পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন বা মতভিন্নতা থাকতে পারে। তবে যে উদ্যোগকে কেন্দ্র করে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার লক্ষ্য, নৈতিকতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে তাঁর কোনো দ্বিধা নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রীর পদ কিংবা পদত্যাগপত্র দিয়ে ইশরাক হোসেনের রাজনৈতিক পরিচয় ও আত্মত্যাগের মূল্যায়ন করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন মাহদী আমিন। তাঁর ভাষ্য, দল, দেশ ও মানুষের কল্যাণে অবদান এবং আন্তরিক অবস্থান সাময়িক কোনো সিদ্ধান্তের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, সরকারের প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সাহসী ও জনবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বিতর্কের অবকাশ থাকলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সবশেষে মাহদী আমিন আশা প্রকাশ করেন, আত্মোপলব্ধি ও সংশোধনের মধ্য দিয়ে ইশরাক হোসেন ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেতে পারেন।

রাজনীতিরাজনীতি

পৃথক উপজেলা গঠনে সচিবকে নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

পৃথক উপজেলা গঠনে সচিবকে নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চর ও দিয়াড় অঞ্চলের সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে পৃথক উপজেলা গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। এ প্রস্তাবের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সোমবার ১৯ অক্টোবর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে পৃথক উপজেলা গঠনের প্রস্তাব তুলে ধরেন সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল। সাক্ষাৎকালে তিনি চর ও দিয়াড় অঞ্চলের সাতটি ইউনিয়নের ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক সেবা পাওয়ার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য পৃথক উপজেলা গঠনের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। আরও পড়ুন,অপপ্রচারনির্ভর রাজনীতি বর্জনের আহ্বানসংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, পৃথক উপজেলা গঠিত হলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে। প্রশাসনিক সেবা মানুষের আরও কাছে পৌঁছাবে। পাশাপাশি শিক্ষা, আধুনিক চিকিৎসা, যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের সুযোগ বাড়বে। সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সহজলভ্য হওয়ার পাশাপাশি কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এক নির্বাচনী সমাবেশে চর ও দিয়াড় অঞ্চলের সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে পৃথক উপজেলা গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এই সংসদ সদস্য। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তিনি এবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবটি তুলে ধরেছেন। সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে পৃথক উপজেলা গঠনের প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান নূরুল ইসলাম বুলবুল। প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সচিবকে নির্দেশ দেন। তবে পৃথক উপজেলা গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা বাস্তবায়নের সময়সীমা এখনো জানানো হয়নি।

অপপ্রচারনির্ভর রাজনীতি বর্জনের আহ্বান

অপপ্রচারনির্ভর রাজনীতি বর্জনের আহ্বান

মাদক বিক্রি ও সেবন এবং জুয়াসহ কোনো ধরনের অপকর্ম বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সাম্প্রতিক বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৭০টি পরিবারের মধ্যে ঢেউটিন ও অর্থসহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে ১৪০ বান্ডিল ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। আরও পড়ুন,সিটি নির্বাচন ঘোষণা হয়নি তবু মাঠে জামায়াতের প্রার্থীরাড. এম এ মুহিত বলেন, মাদক কারবারি ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসন ও পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সমাজে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। রাজনীতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনীতি করতে হলে সাধারণ মানুষের কাছে যেতে হবে। তাঁদের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। নেতাদের পেছনে ঘুরে নেতা হওয়ার রাজনীতির পরিবর্তে জনকল্যাণমূলক রাজনীতিতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব রূপরেখা বা গঠনমূলক কর্মপরিকল্পনা নেই। জনগণের উন্নয়নে কাজ না করে তারা সরকার ও অন্যদের সমালোচনায় ব্যস্ত থাকে। বিভক্তি ও অপপ্রচারনির্ভর রাজনীতি সামাজিকভাবে বর্জন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করার আহ্বানও জানান তিনি। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও সম্মান নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সিটি নির্বাচন ঘোষণা হয়নি তবু মাঠে জামায়াতের প্রার্থীরা

সিটি নির্বাচন ঘোষণা হয়নি তবু মাঠে জামায়াতের প্রার্থীরা

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না হলেও কাউন্সিলর পদে নির্বাচনী প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১২৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১১২টিতে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের নাম দলীয়ভাবে জানানো হয়েছে। এসব সম্ভাব্য প্রার্থী ইতিমধ্যে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রচারণা চালাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪৩টিতে এবং দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৯টিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ১৭টি ওয়ার্ডে চলছে যাচাই-বাছাই। তবে নাম ঘোষণা করা হলেও এখনো কাউকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। কাউন্সিলর পদের পাশাপাশি দুই সিটির মেয়র পদেও সম্ভাব্য প্রার্থী ঠিক করে রেখেছে জামায়াত। ঢাকা উত্তরে মহানগর শাখার আমির ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি মো. আবু সাদিক সাদিক কায়েম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কাজ করছেন। তবে তাঁদের নামও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। আরও পড়ুন,দুর্গাপূজার মূল বার্তা সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা রিজভীসম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেদের প্রার্থী পরিচয় দিয়ে ব্যানার-ফেস্টুন টাঙিয়েছেন। বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন তাঁরা। কোথাও কোথাও মেডিক্যাল ক্যাম্প, মশকনিধন কার্যক্রম এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের নেতারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা এখনো চূড়ান্ত নয়। যাচাই-বাছাই শেষে কারও নাম বাদ পড়তে পারে। প্রয়োজনে বিকল্প প্রার্থীও দেওয়া হবে। অন্যদিকে দলের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেয়র প্রার্থীদের নাম কেন্দ্রীয়ভাবে এবং কাউন্সিলর প্রার্থীদের নাম সংশ্লিষ্ট মহানগর শাখা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে। এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চললেও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময়সূচি এখনো জানায়নি নির্বাচন কমিশন। গত ১২ অক্টোবর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পাঁচ ধাপের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হলেও সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। ফলে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই ও মাঠপর্যায়ের প্রচারণার মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুতি এগিয়ে রাখছে জামায়াতে ইসলামী।

দুর্গাপূজার মূল বার্তা সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা রিজভী

দুর্গাপূজার মূল বার্তা সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা রিজভী

শারদীয় দুর্গাপূজার মূল মর্মবাণী হলো অসত্যকে বিনাশ করে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা। উৎসব মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে এবং ধর্মীয় বিভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে শেখায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে দর্শনার্থী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, বারবার ফিরে আসে মায়ের আগমনে শারদীয় দুর্গাপূজা। এই উৎসবের বার্তা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা সব ধর্মের মানুষ এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রযোজ্য। উৎসব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করে। অন্য ধর্মের মানুষও এই আনন্দে অংশ নেন। তিনি বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরাপত্তার সঙ্গে উদযাপিত হতে পারে, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য।আরও পড়ুন,পদত্যাগের পর মুখ খুললেন ইশরাক হোসেন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ছুটি ও সরকারি সহায়তার প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পক্ষ থেকে দুই দিনের ছুটির আবেদন করা হলেও সরকার তা বাড়িয়ে তিন দিন করেছে। এতে এবার মোট পাঁচ দিনের ছুটি উপভোগ করতে পারছেন তারা। পাশাপাশি পূজামণ্ডপ ও মন্দিরের জন্য চালের বরাদ্দ ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে রিজভী বলেন, প্রতিটি মন্দিরের পুরোহিত ও সেবায়েতকে প্রতি মাসে সম্মানী দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ চলছে। বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শত শত বছর ধরে এ দেশের মানুষ একে অন্যের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবে অংশ নিয়ে আসছে। এই ঐতিহ্য নিয়ে কেউ ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করলেও দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ তা সফল হতে দেবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস যার যার নিজস্ব বিষয়। তবে প্রত্যেক নাগরিক যেন স্বাধীনভাবে নিজের ধর্মীয় অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য অটুট থাকবে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

সারাবাংলা

পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, আর্থিক সহায়তা দিলেন ফুলবাড়ীয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক

পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, আর্থিক সহায়তা দিলেন ফুলবাড়ীয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া পৌরসভা এলাকার তিনটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে তিনি এসব পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ফুলবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বাদল, পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল ফজলসহ উপজেলা, আরও পড়ুন,গঙ্গাচড়ায় বিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয় নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা বক্তব্য, তদন্তের ঘোষণা শিক্ষা কর্মকর্তারপৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।পরিদর্শনকালে আখতারুল আলম ফারুক পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি তিনটি পূজামণ্ডপে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।পরিদর্শনকালে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন। 

গঙ্গাচড়ায় বিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয় নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা বক্তব্য, তদন্তের ঘোষণা শিক্ষা কর্মকর্তার

গঙ্গাচড়ায় বিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয় নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা বক্তব্য, তদন্তের ঘোষণা শিক্ষা কর্মকর্তার

‎রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের বাগডহরা চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোকলেছুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে প্রায় ৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন  দাতা সদস্য ও অভিভাবকরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দাবি করেছেন, বিদ্যালয়ের পাঁচটি কাজের মধ্যে চারটি সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। ‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজের জন্য বরাদ্দ করা অর্থের ব্যয়ের হিসাব নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়। অভিযোগকারীদের দাবি, দৃশ্যমান কাজের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাবের অসংগতি রয়েছে। এ নিয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তাঁরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোকলেছুর রহমানের কাছে উন্নয়ন খাতের অর্থ ব্যয়ের হিসাব চান। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি তাঁদের সন্তোষজনক হিসাব দিতে পারেননি। ‎এর পরদিন, ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁর অনুপস্থিতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে শিক্ষককে ২০ দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। ‎আরও পড়ুন,দুর্গাপূজা ঘিরে নারায়ণগঞ্জে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনারস্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়টিতে মাত্র দুজন শিক্ষক কর্মরত থাকায় একজন দীর্ঘ ছুটিতে থাকলে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।‎অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোকলেছুর রহমান বলেন, “গত পাঁচ অর্থবছরের কিছু কাজ বাকি ছিল। পূর্বের ব্যয়ের হিসাব নিষ্পত্তি করে পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঁচটি কাজ সম্পন্ন করার রেজুলেশন করা হয়। এর মধ্যে চারটি কাজ সম্পন্ন হয়েছে, একটি কাজ বাকি রয়েছে।”‎‎তিনি আরও বলেন, “এই কাজগুলোর জন্য আমার কাছে কেউ টাকা পাবে না। কাজ করার জন্য লোক নিয়ে এলে তাঁরা ফিরে যান এবং কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁরা ৪০ হাজার টাকা নিয়ে কাজ করতে দেন। পরবর্তী সময়ে কাজের জন্য টাকা উত্তোলন করলে অভিযোগকারীরা আমার কাছে ১ লাখ  টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”‎মোকলেছুর রহমান দাবি করেন, বাকি কাজ সম্পন্ন করার পর কোনো অর্থ অবশিষ্ট থাকলে রেজুলেশনের মাধ্যমে তা উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়া হবে।‎সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা  মোঃ নাজির ইসলাম বলেন, “আমি কাজগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। গত ছয় বছর ধরে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খরচ বহন করেছেন। সেসব খরচ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে তাঁর প্রাপ্য অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।আরও পড়ুন,ভাটেরারচরে সংঘর্ষ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা”‎তিনি আরও বলেন, “অবশিষ্ট টাকা দিয়ে কী কী কাজ করা হবে, তা নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে সভা করে রেজুলেশন করা হয়। সেই অনুযায়ী পাঁচটি কাজের মধ্যে চারটি সম্পন্ন হয়েছে, একটি কাজ বাকি রয়েছে।”‎গঙ্গাচড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ বলেন, “২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাগডহরা চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যালয়ের বরাদ্দের অর্থ ছয় বছর ধরে ব্যাংক হিসাবে জমা ছিল। মোকলেছুর রহমান ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন খরচ বহন করেছেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালে কমিটি গঠন করে সেই কমিটির মাধ্যমে কাজগুলো করা হয়। তিনি এককভাবে কোনো কাজ করেননি।”‎তিনি আরও বলেন, “এখন তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্তের মাধ্যমে প্রতিবেদন দাখিল করব।”‎বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, কোন খাতে কত টাকা খরচ করা হয়েছে এবং বাস্তবে কতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে—এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা।‎তাঁদের প্রত্যাশা, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা হবে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ভাটেরারচরে সংঘর্ষ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা

ভাটেরারচরে সংঘর্ষ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার নতুন ভাটেরারচর গ্রামে জমি ও চর দখলকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ব্যাপক লুটপাটের ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে তিতাস থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মমিরুল হককে সাথে নিয়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং সংঘর্ষে আহত ও সর্বস্বান্ত হওয়া পরিবারগুলোর সার্বিক খোঁজখবর নেন। পরিদর্শনকালে বসতবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও হামলায় আহত স্বজনদের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তারা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপের আকুল দাবি জানান। ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনা দিয়ে এবং আইন-শৃঙ্খলার প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামান বলেন,আরও পড়ুন,দুর্গাপূজা ঘিরে নারায়ণগঞ্জে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার "কোনো দুষ্কৃতকারী বা অপরাধী পার পাবে না। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।" উল্লেখ্য, তিতাস ও পার্শ্ববর্তী মেঘনা উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা জমি ও চর সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত ২৬ জুলাই এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। এতে টেটাবিদ্ধ হয়ে কুহিনুর আক্তার নামে এক নারী নিহত হন এবং অন্তত ৪০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে তাণ্ডব চালিয়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়। এ ঘটনায় নিহত কুহিনুর আক্তারের স্বামী বাদী হয়ে ৬১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০০ জনের বিরুদ্ধে মেঘনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে, তিতাসের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কুমিল্লা আদালতে ৮০ জনকে আসামী করে পৃথক একটি মামলা করা হয়, যা বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে।

দুর্গাপূজা ঘিরে নারায়ণগঞ্জে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার

দুর্গাপূজা ঘিরে নারায়ণগঞ্জে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার

শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা। এ সময় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।সোমবার (১৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম, ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, পিপিএম।সফরকালে বিভাগীয় কমিশনার নারায়ণগঞ্জ সদরের শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ মিশন পূজামণ্ডপ ও আমলাপাড়া সার্বজনীন পূজামণ্ডপসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তাব্যবস্থা, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং উৎসবের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।আরও পড়ুন,সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযান, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৪মতবিনিময়কালে পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।এ সময় নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এবং প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।সভায় বক্তারা ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহাবস্থানের চেতনা সমুন্নত রেখে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে উৎসবের সার্বিক পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

আন্তর্জাতিক

ইরান সংকট নিয়ে তৎপর পাকিস্তান ও রাশিয়া

ইরান সংকট নিয়ে তৎপর পাকিস্তান ও রাশিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান খুঁজতে মঙ্গলবার তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। যুদ্ধবিরতির পর দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা এগিয়ে নিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এটি তার পঞ্চম সরকারি ইরান সফর। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকেই সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। এরই ধারাবাহিকতায় আবারও তেহরানে গেলেন আসিম মুনির। তার এবারের সফরের লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। এদিকে, আসিম মুনিরের সফরের ঠিক একদিন আগে তেহরান সফর শেষ করে নিজ দেশে ফিরে গেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। সফরকালে তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন।আরও পড়ুন,সৌদির পাশে দাঁড়াল যুক্তরাজ্যবিদায়ের আগে ইরানের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন তিনি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও আলোচনা চলছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে একটি গোপন বৈঠক করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। এর পর থেকে সংঘাতের প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ছড়িয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো আন্তর্জাতিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের এই সফরে কী অগ্রগতি হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতার পথ কতটা সুগম হয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

৮ ঘন্টা আগে

রাজধানী

১ নভেম্বর থেকে ঢাকার ছয় রুটে চালু হচ্ছে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ বাসব্যবস্থা

১ নভেম্বর থেকে ঢাকার ছয় রুটে চালু হচ্ছে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ বাসব্যবস্থা

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো ও যানজট কমাতে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ পদ্ধতিতে বাস পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ঢাকার ছয়টি প্রধান রুটে পরীক্ষামূলকভাবে বাস চলাচল শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচটি নন-এসি ও একটি এসি রুটে এ কার্যক্রম চালু করা হবে।রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) আয়োজিত এক সভায় বাস চলাচলের রুট, পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, বাসের সংখ্যা ও স্টপেজ নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর দুই মাস পর আরও তিনটি সার্কুলার রুট যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।প্রথম পর্যায়ের ছয়টি রুট হলো গাজীপুর-ঢাকেশ্বরী মন্দির, গাবতলী-ডেমরা, দুয়ারীপাড়া-সদরঘাট, ঘাটারচর-ডেমরা, ঘাটারচর-কাঁচপুর এবং মিরপুর-১২-মাওয়া।পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব রুটে একাধিক পরিবহন প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিত করে যৌথভাবে বাস পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর-ঢাকেশ্বরী মন্দির রুটে বিকাশ পরিবহন, বিকাশ সেবা ট্রান্সপোর্ট ও ডিভাইস পরিবহন দায়িত্ব পালন করবে। গাবতলী-ডেমরা রুটে থাকবে আলিফ এন্টারপ্রাইজ, বৈশাখী পরিবহন ও রইছ পরিবহন।আরও  পড়ুন, ১০০ ফিট সড়কে অবশিষ্ট ১০ ফুট, দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পথচারীরাদুয়ারীপাড়া-সদরঘাট রুটে দিশারী, তানজিল, মেট্রো লিংক ও ট্রান্সসিলভা যৌথভাবে বাস পরিচালনা করবে। ঘাটারচর-ডেমরা এবং ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে দায়িত্বে থাকবে রমজান, মালঞ্চ, মিডলাইন ও রজনীগন্ধা পরিবহন। অন্যদিকে মিরপুর-১২-মাওয়া রুটে বাস চালাবে স্বাধীন, বিহঙ্গ, বিকল্প ও শিকড় পরিবহন।ডিটিসিএর ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম জানিয়েছেন, শিগগিরই এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হবে।নতুন বাসব্যবস্থা কার্যকর করতে বাসস্টপ চিহ্নিত করা, টিকিট কাউন্টার স্থাপন, ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ডিএমপি ও দুই সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিটিসিএ।সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ পদ্ধতি বাস্তবায়িত হলে একই রুটে বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা কমবে, যাত্রী ওঠানামায় শৃঙ্খলা ফিরবে এবং গণপরিবহনে যাত্রীসেবার মান বাড়বে। তবে উদ্যোগটির সফলতা নির্ভর করবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত তদারকি এবং নির্ধারিত নিয়ম কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর।

১৯ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৬ জন

খেলাধুলা

জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে কঠিন চাপে বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে কঠিন চাপে বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় হারে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে কঠিন সমীকরণের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। ফাইনালে উঠতে হলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পাশাপাশি নেট রান রেটের হিসাবেও এগিয়ে থাকতে হবে টাইগারদের। ফলে আগামী ২১ অক্টোবরের ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য কার্যত বাঁচা-মরার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৭২ রানেই অলআউট হয় বাংলাদেশ। ৯৯ রানের এই পরাজয়ে বাংলাদেশের নেট রান রেট দাঁড়ায় মাইনাস ১ দশমিক ৯৮০। তবে আফগানিস্তানের কাছে ১৫৮ রানের বড় ব্যবধানে হেরে জিম্বাবুয়েও চাপে পড়েছে। তাদের নেট রান রেট কমে দাঁড়িয়েছে মাইনাস শূন্য দশমিক ৫৯০। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে বড় জয় পাওয়ায় আফগানিস্তানের নেট রান রেট প্লাস ৩ দশমিক ১৬০। আরও পড়ুন,ফিফার সিদ্ধান্ত নিয়ে জবাব চায় উয়েফাএ অবস্থায় বাংলাদেশের সামনে রয়েছে কঠিন হিসাব। আফগানিস্তান আগে ব্যাটিং করলে তাদের সংগ্রহ অনুযায়ী নির্দিষ্ট ওভারের মধ্যে লক্ষ্য তাড়া করে জিততে হবে বাংলাদেশকে। আর বাংলাদেশ আগে ব্যাটিং করলে অন্তত ৪১ রানের ব্যবধানে জয় পেলে নেট রান রেটের হিসাবে জিম্বাবুয়েকে পেছনে ফেলার সুযোগ তৈরি হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শুধু জয় পেলেই ফাইনাল নিশ্চিত হবে না। তিন দলের পয়েন্ট ও নেট রান রেটের চূড়ান্ত হিসাবই নির্ধারণ করবে কোন দুই দল শিরোপার লড়াইয়ে খেলবে। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ২৩ অক্টোবর। তার আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে হবে বাংলাদেশকে।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!