দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা মব কালচার

পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা মব কালচার

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান সূচক| আর এই সূচককে সচল রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পুলিশ| সাম্প্রতিক সময়ের নানা প্রতিকূলতা, সমালোচনা এবং বাস্তব সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশ পুলিশ আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে| তবে এই পথ মোটেও সহজ নয়; বরং এটি একটি দীর্ঘ, জটিল এবং বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া|আরো পড়ুন: আইনের শাসন না মবের রাজত্ব?ইতিপূর্বে বিভিন্ন ঘটনা, বিতর্ক এবং চাপের কারণে পুলিশের মনোবলে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে| বিশেষ করে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর (যেমন ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতি) পুলিশের মধ্যে একধরনের হতাশা, অনিশ্চয়তা এবং পেশাগত চাপ বৃদ্ধি পায়| অনেক সদস্য নিজেদের দায়িত্ব পালনে নিরুৎসাহিত বোধ করতে থাকেন| তবে সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে| প্রশাসনিক উদ্যোগ, নতুন দিকনির্দেশনা এবং অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর মধ্যে আবারও কর্মস্পৃহা ফিরে আসছে| মাঠপর্যায়ে তাদের কার্যক্রমে ধীরে ধীরে দৃঢ়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত|পুলিশ সদস্যরা যখন আইন প্রয়োগ করতে মাঠে নামেন, তখন তাদের নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়| বিশেষ করে কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী, রাজনৈতিক চাপ এবং জনতার ভুল প্রতিক্রিয়া তাদের কাজকে কঠিন করে তোলে| সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মব বা গণজমায়েতের মাধ্যমে আইন প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করা| কোনো ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক সময় যাচাই-বাছাই ছাড়াই জনতা উত্তেজিত হয়ে ওঠে| ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়|আরো পড়ুন: মাঠে মব, কোণঠাসা পুলিশ বাহিনীপুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি তাদের নিজেরাও অনেক সময় হয়রানির শিকার হচ্ছেন এমন অভিযোগও কম নয়| মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, এমনকি সরাসরি হামলার ঘটনাও ঘটছে| এতে একদিকে যেমন তাদের মানসিক চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে দায়িত্ব পালনের আগ্রহও কমে যাচ্ছে|আরো পড়ুন: মিঠাপুকুরে আলপনা ফিলিং স্টেশনে জার্কিনে তেল বিক্রি বন্ধ, পুলিশের হস্তক্ষেপে শৃঙ্খলা ফিরেছেবিশেষ করে ট্রাফিক পুলিশ বা সার্জেন্টদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়| তারা যখন সড়কে নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যানবাহন থামান বা আইনগত ব্যবস্থা নিতে চান, তখন অনেক সময় উল্টো তাদেরই হয়রানির শিকার হতে হয়| এমনকি কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক| এই ধরনের বাধা ও হয়রানি পুলিশের কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব ফেলছে| যখন একজন পুলিশ সদস্য তার দায়িত্ব পালনের সময় নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেন, তখন তার পক্ষে নিরপেক্ষ ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে| ফলে অপরাধীরা সুযোগ পায় এবং অপরাধ প্রবণতা বাড়তে থাকে| বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি যদি সামাজিকভাবে সম্মান ও সহযোগিতা না থাকে, তাহলে কোনোভাবেই টেকসই আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়| একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট বলেন, আমরা যখন গাড়ি থামাই, তখন অনেকেই মনে করে আমরা হয়রানি করছি| কিন্তু আমরা তো আইনের প্রয়োগ করছি| এই জায়গাটাই মানুষ বুঝতে চায় না|আরো পড়ুন: কোন্দলের আগুনে পুড়ছে রাজনীতিবাংলাদেশ পুলিশের কাঠামোতে রয়েছে বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিট, যারা নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করে থাকে| এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, (১) রেঞ্জ পুলিশ, (২). স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) (৩). ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি), (৪). রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) (৫). হাইওয়ে পুলিশ (৬). ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ (৭). পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) (৮). স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন (এসপিবিএন) (৯).  আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), (১০). এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ (এএপি), (১১). র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), (১২). নৌ পুলিশ (১৩). ট্যুরিষ্ট পুলিশ (১৪). পর্যটন পুলিশ (১৫). কমিউনিটি পুলিশ এসব ইউনিট দেশের বিভিন্ন খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে| তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের দক্ষতা আরও বাড়ানো, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং সমš^য় জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি|আরো পড়ুন: কক্সবাজার খুরুশকুল নতুন ব্রীজে বাইকের ধাক্কায় এক জনের মৃত্যুএদিকে রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে| ডিএমপির প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তাদের বিশেষ করে ডিসি (উপ-পুলিশ কমিশনার) এবং ওসি (থানা ইনচার্জ) আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা প্রয়োজন| তাদেরকে স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিতে হবে এবং জনগণের সাথে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে হবে| কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করা গেলে অপরাধ প্রতিরোধ অনেক সহজ হবে| পুলিশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো জনআস্থা পুনরুদ্ধার করা| অতীতে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা, অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগের কারণে জনগণের একটি অংশ পুলিশের প্রতি আস্থা হারিয়েছিল| তবে বর্তমানে সেই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে| পুলিশের কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ, মানবিক আচরণ এবং দ্রুত সেবা প্রদান জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনছে|আরো পড়ুন: পুলিশ হত্যা, সংস্কার ও জননিরাপত্তা: সংকট উত্তরণের পথ কোথায়? বিশেষজ্ঞদের মতে, জনআস্থা অর্জন করতে হলে পুলিশের আচরণ হতে হবে ¯^চ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং মানবিক| বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর একটি হলো ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনি| এটি শুধু আইনবিরোধী নয়, বরং একটি সভ্য সমাজের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর| কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তার বিচার করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের| কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, জনতা নিজেরাই বিচার করতে এগিয়ে যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে| এই প্রবণতা বন্ধ করতে হলে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে| এছাড়া পুলিশ সদস্যদের জন্য একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি|আরো পড়ুন: ব্যাংককের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডিএমপির ইন্সপেক্টর মো. আসাদুজ্জামানের মৃত্যুআইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব শুধু পুলিশের নয়; এটি একটি সম্মিলিত দায়িত্ব| জনগণ যদি সচেতন না হয় এবং আইন মেনে না চলে, তাহলে কোনোভাবেই একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়| পুলিশকে সহযোগিতা করা, আইন মেনে চলা এবং অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া—এসবই একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের কর্তব্য| সব মিলিয়ে বলা যায়, বাংলাদেশ পুলিশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে| নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও তারা আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে| এই প্রচেষ্টাকে সফল করতে হলে প্রয়োজন সমšি^ত উদ্যোগ—সরকার, প্রশাসন এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা| আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে| যদি এই সম্পর্ক শক্তিশালী করা যায়, তাহলে খুব শিগগিরই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এমনটাই আশা করা যায়|

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

হাম আতঙ্ক: ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ মৃত্যু, শিশুদের মধ্যে বাড়ছে সংক্রমণ

দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১১ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬০৭ জনে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৪৬০ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে।এদিকে, পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝা যাচ্ছে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা থেকে। এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে ২০ হাজার ৪৭৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৭ হাজার ৮১ জন।সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো মৃত্যুর সংখ্যা। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ২০৯ জন।গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৫৮ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশই শিশু।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি এবং সচেতনতার আরো পড়ুন , রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রীঅভাবের কারণেই এই প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সবাইকে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।দেশে আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে হামের প্রাদুর্ভাব। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় মাসে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন, কিছু এলাকায় টিকার ঘাটতি এবং অভিভাবকদের অসচেতনতা—এই তিনটি কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী টিকাদান জোরদার করার পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসা সেবা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রাণবন্ত সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শেষে হঠাৎ করেই তিনি স্কুল পরিদর্শনে যান।এর আগে বিআইএএম ফাউন্ডেশন-এর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও অডিটোরিয়াম ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে পাশেই অবস্থিত স্কুলের শিক্ষার্থীদের দিকে ছুটে যান প্রধানমন্ত্রী।আরো পড়ুন , তাপপ্রবাহের মাঝেই বজ্রবৃষ্টির তাণ্ডবের পূর্বাভাস তিন বিভাগে অতিভারি বর্ষণের শঙ্কাশ্রেণিকক্ষ থেকে শিশুরা হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানালে তিনি হাসিমুখে সাড়া দেন। এরপর সরাসরি বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান।প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় শ্রেণির একটি কক্ষে গিয়ে শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের আঁকা ছবি দেখেন এবং বড় হয়ে কী হতে চায়—তা জানতে চান।শিশুরাও উচ্ছ্বাস নিয়ে তাদের স্বপ্নের কথা জানায় এবং নিজের আঁকা ছবি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেয়।প্রায় ১৫ মিনিট তিনি স্কুলে অবস্থান করেন এবং শিক্ষকদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

তাপপ্রবাহের মাঝেই বজ্রবৃষ্টির তাণ্ডবের পূর্বাভাস তিন বিভাগে অতিভারি বর্ষণের শঙ্কা

দেশজুড়ে তীব্র গরমের মধ্যে নতুন করে স্বস্তি ও শঙ্কা—দুটোই নিয়ে আসছে আবহাওয়ার নতুন পূর্বাভাস।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের তিন বিভাগে অতিভারি বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি, এমনকি অতিভারি বর্ষণ হতে পারে।আরো পড়ুন , ঢাকার ১১ ফিলিং স্টেশনে কিউআর কোড ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলকএছাড়া দেশের বেশিরভাগ বিভাগেই দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতসহ বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।তবে একই সময়ে দেশের ২১ জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহও বয়ে যাচ্ছে, যা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ফলে একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি—এই দ্বৈত পরিস্থিতিতে জনজীবনে অস্বস্তি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া এবং অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

ঢাকার ১১ ফিলিং স্টেশনে কিউআর কোড ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক

দেশব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল পদ্ধতির দিকে এগোচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যেই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় রাজধানীর ১১টি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ চালু করছে।মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের আইসিটি শাখা থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এই অ্যাপ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে।আরো পড়ুন , কমলাপুর রেলস্টেশনে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে নারীর মৃত্যুনির্বাচিত ফিলিং স্টেশনগুলো ঢাকা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত, যার মধ্যে তেজগাঁও, মিরপুর, উত্তরা ও মহাখালী উল্লেখযোগ্য।এই অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিটি লেনদেন ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত হবে, ফলে জ্বালানি সরবরাহে অনিয়ম বা অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হতে পারে।সব মিলিয়ে, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে একটি আধুনিক ও স্বচ্ছ কাঠামো গড়ে তোলার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনীতিরাজনীতি

গুপ্ত রাজনীতি ও মব কালচারের অভিযোগ, শিবিরকে প্রকাশ্যে আসার আহ্বান ছাত্রদলের

গুপ্ত রাজনীতি ও মব কালচারের অভিযোগ, শিবিরকে প্রকাশ্যে আসার আহ্বান ছাত্রদলের

দেশের শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক উত্তাপ আবারও বাড়ছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব অভিযোগ করেছেন, ‘গুপ্ত রাজনীতি’ ও ‘মব কালচার’-এর মাধ্যমে ছাত্রদলকে ঘিরে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক জরুরি ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, অনেক ক্যাম্পাসে সীমিত সদস্য থাকা সত্ত্বেও কিছু সংগঠন সাধারণ শিক্ষার্থীর পরিচয়ে সংঘবদ্ধভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করছে।তার অভিযোগ, ইসলামী ছাত্রশিবির-এর নেতাকর্মীরা পরিচয় গোপন রেখে এসব কার্যক্রম চালাচ্ছে।তিনি বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংকট আরও বাড়বে এবং এর সুযোগ নিতে পারে অন্য রাজনৈতিক শক্তি।আরো পড়ুন , গণভোট বাস্তবায়নে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ঘোষণা নাহিদ ইসলামেরএকই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। দাবি করেন, ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে ছাত্রদলকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে।এ অবস্থায় সংগঠনের নেতাকর্মীদের ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।অন্যদিকে, সম্প্রতি শাহবাগে সাংবাদিকদের সঙ্গে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীর ঘটনার বিষয়ে সংগঠনটি দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।সব মিলিয়ে, শিক্ষাঙ্গনের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ও বিভাজনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 গণভোট বাস্তবায়নে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ঘোষণা নাহিদ ইসলামের

গণভোট বাস্তবায়নে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ঘোষণা নাহিদ ইসলামের

গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে সংসদ ও রাজপথ একাকার হয়ে যাবে।শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত গণসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।নাহিদ ইসলাম বলেন, আল্লামা মামুনুল হককে সংসদে যেতে বাধা দেওয়া হলেও রাজপথে তাকে থামানো সম্ভব নয়। তার ভাষায়, সংসদে তারা জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়নের দাবি তুলছেন, আর রাজপথে আন্দোলন চলছে।আরো পড়ুন , জামায়াতের জাতীয় সমাবেশ আজ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেতিনি আরও বলেন, সরকার জনগণের সমস্যার সমাধান না করে বরং প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণ করছে এবং বিচারব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে দেশজুড়ে মানুষ দুর্ভোগে আছে।তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করা হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

জামায়াতের জাতীয় সমাবেশ আজ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

জামায়াতের জাতীয় সমাবেশ আজ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ জাতীয় সমাবেশ করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সকাল ১০টায় এই সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সমাবেশে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের পরিবার এবং অংশগ্রহণকারীদের সম্মান জানানো হবে। একই সঙ্গে তাদের দাবিগুলোও তুলে ধরা হবে।আরো পড়ুন , গণভোট ইস্যুতে রাজপথ-সংসদে একযোগে আন্দোলনের ঘোষণা শফিকুর রহমানেরসমাবেশে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।এর আগে গত বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সমাবেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে জামায়াত জানায়, এটি একটি জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচি হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে, এর আগের দিন শুক্রবার একই স্থানে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে গণসমাবেশ করে ১১ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ধারাবাহিক এই সমাবেশগুলো রাজধানীর রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সক্রিয় করে তুলছে।

গণভোট ইস্যুতে রাজপথ-সংসদে একযোগে আন্দোলনের ঘোষণা শফিকুর রহমানের

গণভোট ইস্যুতে রাজপথ-সংসদে একযোগে আন্দোলনের ঘোষণা শফিকুর রহমানের

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সংসদ ও রাজপথে একযোগে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত এক গণসমাবেশে তিনি বলেন, গণভোটের রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না।তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “এই রায় যদি না মানা হয়, তবে মহান আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি—আমাদের আন্দোলনে কোনো বিরতি থাকবে না। সংসদেও চলবে, রাজপথেও চলবে।”আরো পড়ুন , ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি যুবদলেরশফিকুর রহমান আরও বলেন, অতীতে জনগণের রায় অমান্য করার পরিণতি ভালো হয়নি। ইতিহাসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যারা জনগণের মতামত উপেক্ষা করেন, তাদের পরিণতি শুভ হয় না।এসময় তিনি বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে বিভাজনের রাজনীতি করা হচ্ছে।এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে রাজপথ ও সংসদ একাকার হয়ে যাবে, আর সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।সমাবেশে তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে অতীতে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না।

সারাবাংলা

তীব্র গরমে পথচারীদের পাশে বিএনপি, চাষাড়ায় চলছে ঠাণ্ডা পানি বিতরণ

তীব্র গরমে পথচারীদের পাশে বিএনপি, চাষাড়ায় চলছে ঠাণ্ডা পানি বিতরণ

প্রচণ্ড দাবদাহে যখন হাঁসফাঁস করছে নারায়ণগঞ্জের নগরবাসী, তখন শ্রমজীবী ও পথচারীদের মাঝে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।শনিবার দুপুরে শহরের চাষাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ঠাণ্ডা বিশুদ্ধ পানি বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়।কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।আরো পড়ুন , নেত্রকোনার হাওড়ে অকালবন্যার শঙ্কা ধান কাটতে কৃষকদের জরুরি সতর্কতাতিনি জানান, তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন রিকশাচালক, দিনমজুর ও সাধারণ পথচারীরা। তাদের পাশে দাঁড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, দাবদাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই পানি বিতরণ কর্মসূচি চলবে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ আরও বাড়িয়ে শশা ও তরমুজসহ পানিসমৃদ্ধ ফলও বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। 

নেত্রকোনার হাওড়ে অকালবন্যার শঙ্কা ধান কাটতে কৃষকদের জরুরি সতর্কতা

নেত্রকোনার হাওড়ে অকালবন্যার শঙ্কা ধান কাটতে কৃষকদের জরুরি সতর্কতা

উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে টানা ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে নেত্রকোনার হাওড়াঞ্চলে বাড়ছে পাহাড়ি ঢলের চাপ। এতে নদনদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় অকালবন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ধনু-বাউলাই নদীর পানি সমতলে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং হাওড়ের অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।আরো পড়ুন , মেহেরপুরে বাথরুমের বালতির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুনেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, হাওড়ের জমিতে যদি ৮০ শতাংশ ধান পেকে যায়, তাহলে তা দ্রুত কেটে নেওয়া জরুরি। না হলে পানি ঢুকে বড় ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে।এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের দ্রুত পাকা বোরো ধান কাটতে মাইকিং করে সতর্ক করেছে প্রশাসন।বিশেষ করে সোমেশ্বরী, কংস, ধনু ও উদ্ধাখালী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাওড়াঞ্চলের ফসল হুমকির মুখে পড়েছে।

মেহেরপুরে বাথরুমের বালতির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

মেহেরপুরে বাথরুমের বালতির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

মেহেরপুরের মুজিবনগরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় পানিভর্তি বালতিতে ডুবে দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।শনিবার সকালে দারিয়াপুর খান কালিতলা মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইব্রাহিম ইবনে আরিয়ান স্থানীয় বাসিন্দা শরিয়ত হোসেন দুদুর ছেলে।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিশুটি বাড়ির আঙিনায় খেলছিল। একপর্যায়ে সবার অগোচরে সে বাথরুমে প্রবেশ করে। সেখানে রাখা পানিভর্তি একটি বালতির মধ্যে উপুড় হয়ে পড়ে যায়।আরেো পড়ুন , নোয়াখালীতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় দুইজন নিহতপরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করলে তার মা বাথরুমে গিয়ে তাকে পানির মধ্যে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। পরে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের ক্ষেত্রে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে বাড়ির ভেতরে পানিভর্তি পাত্র নিরাপদে রাখা এবং সবসময় অভিভাবকদের নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।সব মিলিয়ে, ছোট্ট একটি অসতর্কতা কীভাবে বড় ট্র্যাজেডিতে রূপ নিতে পারে—তারই আরেকটি করুণ উদাহরণ এই ঘটনা।

নোয়াখালীতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় দুইজন নিহত

নোয়াখালীতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় দুইজন নিহত

নোয়াখালীর সেনবাগে নোয়াখালী-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন।শুক্রবার সন্ধ্যায় সেনবাগ রাস্তার মাথা এলাকায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সিমেন্টবাহী কাভার্ড ভ্যানে দ্রুতগতির একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়।দুর্ঘটনায় ট্রাকচালক মো. আল আমিন (৫৫) এবং যাত্রী নার্সারি ব্যবসায়ী মো. ফয়সাল (৩৫) গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করা হয়।আরো পড়ুন ,ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের প্রকোপ বাড়ছে, ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৩৩ শিশু ভর্তিনিহত আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে নার্সারির চারা পরিবহনের কাজ করতেন বলে জানা গেছে।এ ঘটনায় ট্রাকে থাকা আরও একজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক মিল্টন মণ্ডল জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহন দুটি জব্দ করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।সব মিলিয়ে, সড়কে অসতর্কতা ও যানবাহন ব্যবস্থাপনার ঘাটতিকে কেন্দ্র করে আবারও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় শোক নেমে এসেছে এলাকায়।

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল ইরান, সরাসরি আলোচনায় অনাগ্রহ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল ইরান, সরাসরি আলোচনায় অনাগ্রহ

মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সরাসরি আলোচনায় বসতে নারাজ ইরান।হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফএবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার পাকিস্তানের রাজধানীজ্যারেড কুশনার-এ পৌঁছেছেন। তাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন ভাইস প্রেসিডেন্টজেডি ভ্যান্স।এই সফরের মূল লক্ষ্য—ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো।আরো পড়ুন ,  ৩৯ দিনের যুদ্ধ শেষে যুদ্ধবিরতি, স্থায়ী সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারঅন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীআব্বাস আরাঘচিi ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে অবস্থান করছেন। তবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে—মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো সরাসরি বৈঠক হবে না।ইরান তাদের অবস্থান পাকিস্তানের মাধ্যমে জানাতে চায় বলেও জানিয়েছে।এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। গুরুত্বপূর্ণহরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় তেলের দাম কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।

১ ঘন্টা আগে

রাজধানী

ঢাকার ১১ ফিলিং স্টেশনে কিউআর কোড ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক

ঢাকার ১১ ফিলিং স্টেশনে কিউআর কোড ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক

দেশব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল পদ্ধতির দিকে এগোচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যেই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় রাজধানীর ১১টি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ চালু করছে।মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের আইসিটি শাখা থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এই অ্যাপ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে।আরো পড়ুন , কমলাপুর রেলস্টেশনে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে নারীর মৃত্যুনির্বাচিত ফিলিং স্টেশনগুলো ঢাকা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত, যার মধ্যে তেজগাঁও, মিরপুর, উত্তরা ও মহাখালী উল্লেখযোগ্য।এই অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিটি লেনদেন ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত হবে, ফলে জ্বালানি সরবরাহে অনিয়ম বা অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হতে পারে।সব মিলিয়ে, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে একটি আধুনিক ও স্বচ্ছ কাঠামো গড়ে তোলার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

১ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

খেলাধুলা

ম্যাচ চলাকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন সাবেক নাইজেরিয়ান তারকা

ম্যাচ চলাকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন সাবেক নাইজেরিয়ান তারকা

মাঠে খেলতে নেমে হঠাৎ ঢলে পড়ে মৃত্যু হয়েছে নাইজেরিয়ার সাবেক ফুটবলার মাইকেল এনেরামোর। প্রীতি ম্যাচ চলাকালীন এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ)।জানা গেছে, কাদুনায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় হঠাৎ মাঠে পড়ে যান ৪০ বছর বয়সী এই সাবেক ফুটবলার। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন।মাঠেই চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় নাইজেরিয়ান ফুটবল অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।আরো পড়ুন , বেতিসের বিপক্ষে ড্র, শিরোপার স্বপ্নে ধাক্কা খেল রিয়ালমাইকেল এনেরামো তুরস্ক ও তিউনিশিয়ার বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন। নাইজেরিয়ার জাতীয় দল সুপার ঈগলসের হয়ে তিনি ১০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নেন।২০০৯ সালে জ্যামাইকার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জাতীয় দলে অভিষেক ঘটে তার। তিউনিশিয়ার ক্লাব এস্পেরান্স স্পোর্টিভ দে তিউনিসে তিনি বিশেষভাবে জনপ্রিয় ছিলেন, যেখানে তাকে সমর্থকরা ডাকতেন ‘ট্যাংক’ নামে।নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সানুসি বলেন, এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক একটি ঘটনা। তিনি মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

ইভেন্ট

লা লিগা
লা লিগা
ইপিএল
ইপিএল
ফ্রেঞ্চ লিগ
ফ্রেঞ্চ লিগ
ফ্রেঞ্চ ওপেন
ফ্রেঞ্চ ওপেন
উইম্বলডন
উইম্বলডন
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ
বুন্দেসলিগা
বুন্দেসলিগা
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
ইউরোপা লিগ
ইউরোপা লিগ
ইউএস ওপেন
ইউএস ওপেন

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর

অপরাধ

বনানীতে মার্ভেল ইন হোটেল ঘিরে মিজান ও পায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

বনানীতে মার্ভেল ইন হোটেল ঘিরে মিজান ও পায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীর আবাসিক পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। তবে সম্প্রতি বনানীর ২৭ নম্বর রোডে অবস্থিত একটি ভবনে পরিচালিত “মার্ভেল ইন” নামের একটি হোটেল কেন্দ্র করে নানা অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠে এসেছে। স্থানীয় সূত্র, অনুসন্ধানী তথ্য এবং পূর্ববর্তী একাধিক সংবাদ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা যায়, এই গেস্ট হাউজটি দীর্ঘদিন ধরে নারী ও মাদক সিন্ডিকেটের আড়াল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রথমদিকে এটি একটি সাধারণ আবাসিক গেস্ট হাউজ হিসেবে চালু হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর কার্যক্রমে অস্বভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন সময় অচেনা ব্যক্তিদের আসা-যাওয়া, রাতের বেলায় অস্বভাবিক ভিড় এবং স্বল্প সময়ের জন্য কক্ষ ভাড়া দেওয়ার প্রবণতা সন্দেহের জন্ম দেয়। পরে অনুসন্ধানে উঠে আসে, এখানে ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ ভাড়া দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ আবাসিক ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।একাধিক গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা এখনো গ্রহণ করা হয়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাদের অপরাধ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলেই গণমাধ্যমকর্মীদের উপর চলে আসে হুমকি। এবিষয়ে বনানী থানার অফিসার ইনচার্জকে একাধিকবার জানালে তার কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই এবং কোন এক রহস্যের বেড়াজালে তিনি পদক্ষেপ নেয়নি সেটা সবার জানার দরকার। কিন্তু তাকে একাধিকবার ফোন করে কোন সুরাহা পাওয়া যায়নি।  আরও পড়ুন, কালিয়াকৈরে শান্ত-জাকিরের হোটেলের আড়ালে অপরাধ সাম্রাজ্যঅনুসন্ধানে জানা গেছে, হোটেল মালিকপক্ষ নিজেদের বৈধতা দাবি করে আসছেন এবং তারা প্রকাশ্যে বলেছেন যে, “আমাদের বিরুদ্ধে নিউজ করে কিছু হবে না, আমাদের সবকিছু বৈধ। ” তবে এই বৈধতার দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। আরও অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী বা প্রভাবশালী মহলের পরিচয়ে পরিচিত করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করছেন। ফলে স্থানীয়রা অনেক সময় অভিযোগ জানাতে ভয় পাচ্ছেন।সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পূর্বে স্পা ব্যবসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে গুলশান থানায় মামলাও হয়েছিল। সেই ব্যবসা বন্ধ বা সীমিত হয়ে যাওয়ার পর তারা নতুনভাবে গেস্ট হাউজের আড়ালে একই ধরনের কার্যক্রম চালানোর পথ বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই রূপান্তর প্রক্রিয়াটি পরিকল্পিত কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনাকারীরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়াতে ব্যবসার ধরন পরিবর্তন করে থাকে।অভিযোগ অনুযায়ী, হোটেলটিতে “স্বামী-স্ত্রী” পরিচয়ে কক্ষ ভাড়া দেওয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে সেখানে অসামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। “এসকর্ট সার্ভিস” এর নামে নারী সরবরাহ, অশ্লীলতা বাণিজ্য এবং মাদক লেনদেনের অভিযোগও উঠে এসেছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন ব্যক্তিদের আনাগোনা দেখা যায় এবং অনেক সময় মাদকসেবীদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। এতে করে আশপাশের পরিবেশ ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। একাধিকবার অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পরও কেন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।আরও পড়ুন, সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনায় মূল হোতাসহ ৭ জন গ্রেপ্তারকিছু বাসিন্দা জানান, তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় অবহিত করলেও দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা তদন্ত চোখে পড়েনি। এতে করে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে তারা মনে করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেদন প্রকাশ করলেই সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, হুমকি ও হয়রানির আশ্রয় নিচ্ছে। গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ। যদি সত্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাংবাদিকরা হুমকির মুখে পড়েন, তাহলে সমাজে সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো আবাসিক এলাকায় গেস্ট হাউজ পরিচালনা করতে হলে নির্দিষ্ট নিয়মনীতি মেনে চলতে হয়। বিশেষ করে ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ ভাড়া দেওয়া, অসামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা বা মাদক সংশ্লিষ্টতা থাকলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়া, ভুয়া পরিচয়ে কক্ষ ভাড়া দেওয়া এবং অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা চান, আবাসিক এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রশাসন যেন কঠোর অবস্থান নেয়। একজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা এখানে পরিবার নিয়ে থাকি। প্রতিদিন এই ধরনের কার্যক্রম চললে আমাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক।আরও পড়ুন, উত্তরায় হোটেল গ্রান্ড প্লাজার কাণ্ড: ফের সক্রিয় নারী চক্রঅনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সংশ্লিষ্ট হোটেলটির এক মালিক পূর্বে গোপালগঞ্জের রাজনৈতিক পরিচয় এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হোটেল ও স্পা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, এসব স্পা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে গুলশান ও বনানী এলাকায় একাধিকবার আইনগত জটিলতায় পড়েছিলেন তিনি। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা খুব কমই পাওয়া গেছে, তবুও অতীতের ঘটনাগুলো বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে।একই সঙ্গে, এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত “মিজান” নামের এক ব্যক্তির ভূমিকাও অনুসন্ধানে সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেকে সাংবাদিকদের ঘনিষ্ঠ বা অংশীদার হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কোনো অভিযোগ উঠলেই তিনি গণমাধ্যমের নাম ব্যবহার করে বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং কখনো কখনো ভীতি প্রদর্শনের পথও অবলম্বন করেন। এতে করে সাধারণ মানুষ যেমন নিরুৎসাহিত হন, তেমনি প্রকৃত অনুসন্ধান কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশে আবাসিক এলাকায় হোটেল বা গেস্ট হাউজ পরিচালনার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং নির্দিষ্ট কিছু শর্তের ওপর নির্ভরশীল। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং সিটি কর্পোরেশনের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ভবন যদি আবাসিক হিসেবে অনুমোদিত হয়, তাহলে সেখানে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা সাধারণত অনুমোদিত নয় যদি না তা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য রূপান্তর করা হয়। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান শর্ত পূরণ না করে আবাসিক এলাকায় হোটেল বা গেস্ট হাউজ পরিচালনা করে, তাহলে তা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে তা বন্ধ করে দিতে পারে।আরও পড়ুন, গাজীপুরে দক্ষিণ বাংলায় হোটেল সিন্ডিকেট নিয়ে নতুন বিতর্কউক্ত হোটেল/গেস্ট হাউজটির মালিকপক্ষ বারবার তাদের ব্যবসা “বৈধ” বলে দাবি করলেও অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আবাসিক এলাকা ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ ভাড়া দেওয়ার নামে স্কর্ট সার্ভিস ও ভুয়া পরিচয়ে অতিথি প্রবেশ এবং অসামাজিক কার্যক্রমের অভিযোগ এসবই বৈধতার দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে কেবল ট্রেড লাইসেন্স থাকলেই একটি হোটেল বৈধ হয়ে যায় না, বরং সেটি কী ধরনের এলাকায় পরিচালিত হচ্ছে, কী ধরনের কার্যক্রম চলছে এবং আইনগত শর্তগুলো মানা হচ্ছে কিনা এসব বিষয় একত্রে বিবেচনা করতে হয়। মালিকপক্ষ ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ এবং অতীতের বিতর্কিত কার্যক্রমের তথ্য সামনে আসায় পুরো বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক পরিচয়, পেশাগত প্রভাব বা ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আইন এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে, তাহলে তা আইনের শাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু তাদের হোটেলে অনুসন্ধান করতে গেছে তারা সাংবাদিকদের বাধা প্রদান করেন এবং বলেন, এখানে পরিচিত লোক ছাড়া প্রবেশ করা নিষেধ। 

আর্কাইভ

অর্থনীতি

রপ্তানিতে টানা পতন, আমদানিতে উল্লম্ফন চাপে বৈদেশিক মুদ্রা বাজার

রপ্তানিতে টানা পতন, আমদানিতে উল্লম্ফন চাপে বৈদেশিক মুদ্রা বাজার

দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে ক্রমেই বাড়ছে চাপ। রপ্তানি আয় টানা কয়েক মাস ধরে নিম্নমুখী থাকলেও একই সময়ে আমদানি ব্যয় বেড়ে চলেছে। ফলে রপ্তানি ও আমদানির ব্যবধান দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বাণিজ্য ঘাটতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬.৯১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৩.৭১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে ঘাটতি বেড়েছে ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য বলছে, জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ৫৩৮ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ কম। বিশেষ করে মার্চ মাসে রপ্তানি বড় ধসের মুখে পড়ে, যেখানে পতন হয় প্রায় ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ।আরো পড়ুন , দেশের জ্বালানি মজুত মাত্র ৩ মাস, বড় ঝুঁকির সতর্কতা পিআরআই’র তৈরি পোশাক, চামড়া, হোম টেক্সটাইল ও পাটজাত পণ্যের মতো প্রধান খাতগুলোতে এই পতনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে।অন্যদিকে আমদানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে আমদানি দাঁড়িয়েছে ৪৬.১৪ বিলিয়ন ডলার। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ আরও বেড়েছে।অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এই সংকটকে আরও জটিল করছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ সুদহার ও জ্বালানি সংকটের কারণে রপ্তানি খাতেও অর্ডার কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অর্থনীতির ওপর আরও চাপ ফেলতে পারে।

দেশের জ্বালানি মজুত মাত্র ৩ মাস, বড় ঝুঁকির সতর্কতা পিআরআই’র

দেশের জ্বালানি মজুত মাত্র ৩ মাস, বড় ঝুঁকির সতর্কতা পিআরআই’র

দেশের জ্বালানি মজুত বর্তমানে মাত্র তিন মাসের চাহিদা মেটানোর মতো, যা একটি গুরুতর সীমাবদ্ধতা বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এ মন্তব্য করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই)-এর চেয়ারম্যান জাইদী সাত্তার।তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলছে। পিআরআই চেয়ারম্যান জানান, বাংলাদেশের জ্বালানি মজুত সীমিত হওয়ায় যেকোনো বৈশ্বিক সংকট সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে সার ও খাদ্যের দাম বাড়লে সামগ্রিক অর্থনীতি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।আরও পড়ুন, ফার্নিচার শিল্পে বাজেটে শুল্ক-ভ্যাট কমানোর প্রস্তাবতিনি আরও বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে করোনা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, সরবরাহ শৃঙ্খল সংকট এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপের মধ্যে অর্থনীতি নানা ধাক্কা সামলাচ্ছে। এর সঙ্গে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্য সংকট যুক্ত হয়েছে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআই-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি এখন ভঙ্গুর পুনরুদ্ধারের মধ্যে রয়েছে, যেখানে প্রবৃদ্ধি কমে ৩ শতাংশে নেমেছে এবং ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে।আরও পড়ুন, আইএমএফ নিজ গরজেই বাংলাদেশকে ঋণ দেবে: ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদতিনি আরও বলেন, রাজস্ব ঘাটতি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জ্বালানি, রাজস্ব ও ব্যাংক খাতে দ্রুত সংস্কার না হলে বৈশ্বিক চাপের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

ফার্নিচার শিল্পে বাজেটে শুল্ক-ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব

দেশের সম্ভাবনাময় আসবাবপত্র শিল্পকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতি। সম্প্রতি তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে পাঠানো চিঠিতে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো, ভ্যাট ব্যবস্থার সহজীকরণ এবং করপোরেট কর যৌক্তিক করার দাবি জানিয়েছে।আরও পড়ুন, মুরগির দাম কমলেও মাছের বাজারে আগুন, চাপে ক্রেতারাচিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশের ফার্নিচার শিল্প মূলত আমদানিনির্ভর কাঁচামালের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তবে করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এর পাশাপাশি উচ্চ আমদানি শুল্ক এবং এইচএস কোড জটিলতা দেশীয় শিল্পকে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।আরও পড়ুন, আইএমএফ নিজ গরজেই বাংলাদেশকে ঋণ দেবে: ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদসংগঠনটি আরও বলেছে, আমদানি কাঁচামালের এইচএস কোড নির্ধারণ সহজ করা হলে উদ্যোক্তারা দীর্ঘসূত্রিতা থেকে মুক্তি পাবেন। তারা উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ এবং খুচরা পর্যায়ে ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে, যাতে নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন ব্যয় কমবে, ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামে আসবাবপত্র পাবেন এবং রপ্তানি সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।

ফার্নিচার শিল্পে বাজেটে শুল্ক-ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব

আইএমএফ নিজ গরজেই বাংলাদেশকে ঋণ দেবে: ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ নিজস্ব স্বার্থেই বাংলাদেশকে ঋণ দেবে। তিনি বৃহস্পতিবার একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর মূল কাজই হচ্ছে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশগুলোকে সহায়তা করা।আরও পড়ুন, টাকা ছাপিয়ে ঋণ দিলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে: অর্থনীতিবিদদের সতর্কতাওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, আইএমএফ সংস্কারের শর্ত দেখিয়ে কিস্তি বিলম্বিত করার কৌশল ব্যবহার করতে পারে, তবে বাস্তবে তারা জানে এখন বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের সময় নয়। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধসহ বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে যে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে, আগে তা সামাল দেওয়া জরুরি। অধ্যাপক মাহমুদ বর্তমানে ৩৬ সদস্যের একটি অর্থনৈতিক পরামর্শক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কমিটি আগামী পাঁচ বছরের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়নে কাজ করছে।আরও পড়ুন, মুরগির দাম কমলেও মাছের বাজারে আগুন, চাপে ক্রেতারাতিনি বলেন, বড় গ্রুপের বদলে ছোট অর্থনীতিবিদদের টিম দিয়ে কাজ শুরু করা উচিত এবং পরে মন্ত্রণালয়গুলোকে যুক্ত করা প্রয়োজন। সাবেক এই উপদেষ্টা আরও বলেন, বিগত সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে তা আগে মূল্যায়ন করা জরুরি। জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সংকটে সরকারের দায় কম, তবে জনগণকে বাস্তব পরিস্থিতি খোলাখুলি জানানো উচিত। এতে আস্থা বাড়বে। আসন্ন বাজেট নিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজস্ব ঘাটতি ও বাজেট ঘাটতি বাড়তে পারে, যা বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

আইএমএফ নিজ গরজেই বাংলাদেশকে ঋণ দেবে: ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

মুরগির দাম কমলেও মাছের বাজারে আগুন, চাপে ক্রেতারা

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজধানীর বাজারে মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে একই সময়ে মাছের বাজারে নতুন করে দামের চাপ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর রামপুরা, আফতাবনগর ও ডিএনসিসি কৃষি মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।সোনালি মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায়, যা আগে ছিল আরও বেশি। ব্রয়লার মুরগির দামও কমে দাঁড়িয়েছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। দেশি মুরগির দাম কমে ৭২০ টাকায় নেমেছে। তবে লেয়ার মুরগির দাম কিছুটা বেড়ে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, খামারে উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ায় মুরগির দাম কমেছে। আগামী দিনে দাম আরও কমতে পারে বলেও তারা আশা করছেন।আরও পড়ুন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাটা গ্লোবাল সিইওর সৌজন্য সাক্ষাৎতবে বিপরীতে মাছের বাজারে দামের উল্টো চিত্র দেখা গেছে। প্রায় সব ধরনের মাছেই কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। পাঙ্গাশ মাছ এখন ২৩০ টাকায়, রুই মাছ ৩৪০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এদিকে গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে—গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।আরও পড়ুন, টাকা ছাপিয়ে ঋণ দিলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে: অর্থনীতিবিদদের সতর্কতাসবজির বাজারে অবশ্য কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। বেশিরভাগ সবজির দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। পটল ও করলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা বলছেন, মুরগি ও সবজির দাম কিছুটা কমলেও মাছের দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। অনেকের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবও বাজারে পড়ছে।

মুরগির দাম কমলেও মাছের বাজারে আগুন, চাপে ক্রেতারা

টাকা ছাপিয়ে ঋণ দিলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে: অর্থনীতিবিদদের সতর্কতা

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারকে টাকা ছাপিয়ে ঋণ দেওয়ার প্রবণতা বাড়ায় মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত এক সেমিনারে তারা এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইর প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, গত মার্চ মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা মূলত ‘হাইপাওয়ারড মানি’ বা ছাপানো অর্থ।আরও পড়ুন, শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের অর্থ বিতরণে নগদতার মতে, এই ধরনের অর্থায়ন সরাসরি বাজারে মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি রাজস্ব আয় কম থাকায় সরকার উচ্চ সুদের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে ধীরগতির পুনরুদ্ধারের মধ্যে রয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩ শতাংশে নেমেছে, যা কোভিড-পরবর্তী সময়ের মধ্যে অন্যতম নিম্ন হার। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশে পৌঁছানোয় আর্থিক খাতও চাপের মুখে রয়েছে।আরও পড়ুন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাটা গ্লোবাল সিইওর সৌজন্য সাক্ষাৎসেমিনারে প্রধান অতিথি মাহবুবুর রহমান বলেন, অতীতে এত দীর্ঘ সময় উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখা যায়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, টাকা ছাপানোর প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। পিআরআই চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার বলেন, বৈশ্বিক সংঘাত, জ্বালানি সংকট ও বাণিজ্য অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজস্ব ও আর্থিক খাতে দ্রুত সংস্কার না হলে মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি আরও বাড়বে।

টাকা ছাপিয়ে ঋণ দিলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে: অর্থনীতিবিদদের সতর্কতা

লাইফস্টাইললাইফস্টাইল

তীব্র গরমে স্বস্তির পানীয় বেলের শরবত, সুস্থ থাকতে প্রাকৃতিক সমাধান

তীব্র গরমে স্বস্তির পানীয় বেলের শরবত, সুস্থ থাকতে প্রাকৃতিক সমাধান

তীব্র গরমে শরীর যখন ক্লান্ত ও অবসন্ন, তখন এক গ্লাস ঠান্ডা বেলের শরবত এনে দিতে পারে তাত্ক্ষণিক স্বস্তি।প্রাকৃতিকভাবে শীতলকারী এই পানীয় শুধু তৃষ্ণা মেটায় না, বরং শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতেও সহায়তা করে।গরমের এই সময়ে সুস্থ থাকতে প্রাকৃতিক পানীয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এর মধ্যে বেলের শরবত অন্যতম জনপ্রিয় ও উপকারী একটি পানীয় হিসেবে বিবেচিত।বেল একটি পুষ্টিকর ফল, যা শরীরকে ঠান্ডা রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে থাকা ভিটামিন সি, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং পানিশূন্যতা রোধে সহায়তা করে।আরো পড়ুন , বিয়ের আগে ৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষাগরমে হজমের সমস্যা, পেটের অস্বস্তি বা কোষ্ঠকাঠিন্য অনেকেরই দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে বেলের শরবত পেট ঠান্ডা রেখে হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।এছাড়া এটি শরীরের অতিরিক্ত তাপ কমিয়ে ক্লান্তি দূর করে এবং দ্রুত শক্তি জোগায়।ঘরে তৈরি করার প্রক্রিয়াও বেশ সহজ। পাকা বেলের ভেতরের অংশ বের করে পানি মিশিয়ে ভালোভাবে চটকে ছেঁকে নিতে হয়। এরপর চিনি বা গুড়, সামান্য লবণ এবং ইচ্ছা অনুযায়ী গোলমরিচ মিশিয়ে বরফ দিয়ে পরিবেশন করা যায়।বাজারের কৃত্রিম কোমল পানীয়ের তুলনায় এটি অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর, কারণ এতে কোনো কেমিক্যাল বা প্রিজারভেটিভ নেই।সব মিলিয়ে, তীব্র গরমে শরীরকে ঠান্ডা ও সতেজ রাখতে বেলের শরবত হতে পারে সহজ, নিরাপদ ও কার্যকর একটি প্রাকৃতিক সমাধান।