দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

অপরাধীদের দৌরাত্ম্য, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

অপরাধীদের দৌরাত্ম্য, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

দেশে একের পর এক পুলিশের ওপর হামলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল দুর্বল করার অপচেষ্টা, মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এবং মাদক কারবারের বিস্তার—সব মিলিয়ে জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকা, মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের গতি এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত আইনি সেবা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানীসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ আবাসিক হোটেল, অনুমোদনহীন স্পা সেন্টার, মাদক সংশ্লিষ্ট আস্তানা ও নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সামনে আসছে। এসব অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত ও প্রতিরোধ করা না গেলে অপরাধীদের তৎপরতা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। পুলিশ একটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধী শনাক্ত, জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা, দায়িত্ব পালনে বাধা, বিভিন্ন স্থানে সংঘবদ্ধ বিশৃঙ্খলা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, মাঠপর্যায়ে পুলিশ কতটা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে? অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, জনবল, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে? রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের আন্দোলন ও বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা এবং সংঘর্ষের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। কোনো দাবি বা অধিকার আদায়ের আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও সেই আন্দোলনের আড়ালে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি সম্পদ ভাঙচুর কিংবা সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। পুলিশের দায়িত্ব পালনের সময় তাদের ওপর হামলা হলে শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিরাপত্তাই বিঘ্নিত হয় না, বরং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে সংঘবদ্ধ হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলে সেসব অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। আইনের প্রয়োগ হতে হবে সবার জন্য সমান। পুলিশের ওপর হামলার বিচার যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগেরও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। কারণ জবাবদিহি ও পেশাদারত্বের সমন্বয় ছাড়া একটি বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করা সম্ভব নয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় মব সহিংসতা ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। বিভিন্ন এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা, মারধর, ভাঙচুর, চাঁদাবাজি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সংঘবদ্ধ হওয়ার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা আইনের শাসনের জন্য বড় হুমকি। অপরাধের অভিযোগ থাকলে তদন্ত ও বিচারের দায়িত্ব আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং আদালতের। জনতার হাতে বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের দ্রুত সাড়া, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক পৃষ্ঠপোষক, মাদক সরবরাহকারী এবং অপরাধে অর্থায়নকারীদের শনাক্ত করতে হবে। শুধু কয়েকজন কিশোরকে আটক করে অভিযান শেষ করলে সমস্যার মূল উৎপাটন হবে না। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানীকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, স্পা সেন্টার এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে মাঝেমধ্যে নানা অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অনুমোদন, বৈধ ব্যবসায়িক কাগজপত্র কিংবা নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই পরিচালিত হচ্ছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক সংশ্লিষ্টতা, অসামাজিক কার্যকলাপ এবং অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। প্রশ্ন হচ্ছে, একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে, তাদের ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে কি না, ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার কী, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর কি না এবং আবাসিক অতিথিদের তথ্য সংরক্ষণের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে তো? বিশেষ করে গুলশান ও বনানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস এবং স্পা সেন্টারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পুলিশ, সিটি করপোরেশন, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স প্রদানকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না থাকলে অনিয়ম শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়লে সেগুলো ফাইলবন্দি না রেখে তদন্তের অগ্রগতি নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সুনাম ও অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে হবে।আরও পড়ুন, পুলিশের মাসোহারা বৈধ, সাংবাদিকের উপহার অপরাধ?মাদক অপরাধের বিস্তার শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, পরিবার ও সমাজের নিরাপত্তাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে অনেক সময় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যায়। ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণকে বিচ্ছিন্ন কোনো অভিযান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মাদক কারবারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সরবরাহের উৎস, পরিবহন নেটওয়ার্ক, অর্থের লেনদেন এবং পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করা প্রয়োজন। শুধু খুচরা পর্যায়ের কয়েকজন মাদক বিক্রেতাকে আটক করে অভিযান শেষ করলে বড় চক্রগুলো আড়ালে থেকে যেতে পারে। বিশেষ করে আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, বিনোদনকেন্দ্র এবং সন্দেহজনক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা এলাকার বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ না তুলে প্রমাণভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের চিহ্নিত করাই হবে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ। জনসাধারণের মধ্যে আরেকটি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে থানায় গিয়ে প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপরাধের তথ্য নিয়ে থানায় যোগাযোগ করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সরাসরি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। অবশ্য সব ক্ষেত্রে এমন আচরণ ঘটে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তবে এ ধরনের অভিজ্ঞতা যদি কোনো নাগরিকের হয়ে থাকে, তাহলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। একজন নাগরিক যখন কোনো অপরাধের তথ্য নিয়ে থানায় যান, তখন তিনি দ্রুত সাড়া, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং আইনগত সহায়তা প্রত্যাশা করেন। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পর যদি তাঁকে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে যোগাযোগ করতে হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের প্রতি তাঁর আস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব শুধু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকা নয়, আইন ও বিধি অনুযায়ী নিজের এখতিয়ারের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাও তাঁর দায়িত্ব। কোনো অভিযোগ ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পাঠানোর প্রয়োজন হলে সেটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় পাঠাতে হবে। কিন্তু সেই অজুহাতে জরুরি অপরাধের তথ্য গ্রহণ বা প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব করা উচিত নয়। বিশেষ করে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, নারী ও শিশু নির্যাতন, সংঘবদ্ধ অপরাধ কিংবা কোনো ব্যক্তির তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাঝুঁকির তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। পুলিশের ওপর ধারাবাহিক হামলা এবং দায়িত্ব পালনে বাধার ঘটনা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ধরে রাখার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়; পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব আচরণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করাও গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ, জনবল এবং কার্যকর অপারেশনাল নির্দেশনা দিতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধ দমনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অযৌক্তিক চাপ বা বাধা থাকলে তা দূর করতে হবে। পুলিশকে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে একজন কর্মকর্তা অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবেন। আবার কোনো পুলিশ সদস্য দায়িত্বে অবহেলা করলে কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করলে তাঁকেও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মাঠপর্যায়ের ইউনিটগুলোকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং, মাদক কারবার, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান জোরদার করতে হবে। রাজধানীর গুলশান, বনানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম যাচাইয়ে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর লাইসেন্স, নিবন্ধন, ভবনের ব্যবহার, অগ্নিনিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা করতে হবে। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি থানায় নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা থাকা দরকার। অভিযোগ গ্রহণের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হলো, তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না—এসব বিষয়ে অভিযোগকারীকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, সাধারণ মানুষ যদি অপরাধের তথ্য দিয়েও দ্রুত প্রতিকার না পান, তাহলে তাঁরা নিরাপত্তার জন্য কোথায় যাবেন? অপরাধীরা যদি পুলিশের ওপর হামলা করে পার পেয়ে যায়, সংঘবদ্ধভাবে জনজীবন অস্থির করে তোলে এবং বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত না হয়, তাহলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলার নামে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ কিংবা নির্বিচারে গ্রেপ্তার কোনো সমাধান হতে পারে না। অপরাধ দমন করতে হবে আইন মেনে, নিরপেক্ষভাবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে। একই সঙ্গে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের হলেও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সামগ্রিক দায়িত্ব। এ জন্য পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন, বিচার বিভাগ, সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন। অপরাধ দমনে পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ, নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অপরাধের অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে। জনগণ পুলিশের প্রতিপক্ষ নয়; বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণই পুলিশের সবচেয়ে বড় সহযোগী হতে পারে। তাই পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক ফিরিয়ে আনা জরুরি। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি থেকেই যায়—পুলিশের ওপর হামলা, মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা প্রস্তুত? থানায় গিয়ে সাধারণ মানুষ কি সহজে আইনি সেবা পাবেন? গুলশান-বনানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অপরাধের অভিযোগগুলো কি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর শুধু বক্তব্য কিংবা আশ্বাসে নয়, প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপে। কারণ জননিরাপত্তা কোনো বিশেষ শ্রেণির মানুষের অধিকার নয়; এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও আইনগত সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী, পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক করার মধ্য দিয়েই জনগণের নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা সম্ভব।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব

সংবাদ প্রকাশ বা প্রচারের কারণে কোনো সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যমের মালিক কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়ায়। সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষায় এ ধরনের বিধান রাখার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনা ও চূড়ান্তকরণে গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সভায় সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মতামত এবং বিভিন্ন অংশীজনের সুপারিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনের খসড়া পরিমার্জনের ওপর জোর দেওয়া হয়। আইনটি যেন সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যম কিংবা স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। আলোচনায় মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা এবং সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলো পৃথকভাবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব ওঠে। পাশাপাশি সাইবার স্পেসের সংজ্ঞা আরও সুনির্দিষ্ট করার বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়। মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।আরও পড়ুন, ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জিজ্ঞাসাবাদে ডিবিসির ক্রাইম চিফওএ ছাড়া গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞা স্পষ্ট করা, আইনে মোবাইল কোর্টের বিধান না রাখা এবং কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। কোনো কনটেন্ট ব্লক করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কারণ জানানো এবং অবমুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাবও উঠে আসে। কোনো সংবাদমাধ্যম বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ প্রদান এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সভায় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য কাঠামো ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি আলোচনায় আসে। পাশাপাশি জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগী এবং মেটার মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পরামর্শ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় সংশোধিত খসড়াটি অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে পুনরায় পরিমার্জন করে ওয়েবসাইটে প্রকাশের বিষয়ে আলোচনা হয়। জনসাধারণের মতামত গ্রহণের মাধ্যমে আইনটিকে আরও গ্রহণযোগ্য ও সময়োপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি নাগরিকের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই আইনটি চূড়ান্ত করতে হবে। সভায় জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির পক্ষ থেকে একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। এ সময় আইসিটি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো. কামরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রমিকদের দাবি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধানের চেষ্টা চলছে: শ্রমমন্ত্রী

চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে শ্রমিকদের উত্থাপিত দাবিগুলো সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এসব দাবি নিয়ে মজুরি বোর্ডে আলোচনা করে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকে শ্রমিকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বুধবার (৪ নভেম্বর) শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে চলমান সংকট নিরসনে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, গাজীপুরে শ্রমিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিক এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও পরিবারটির পাশে থাকবে সরকার। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গাজীপুরের টঙ্গীতে ১০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে অনুমোদিত সারসংক্ষেপ তাঁর কাছে পাঠানো হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের প্রক্রিয়াগত কাজ শুরু হবে বলেও জানান মন্ত্রী। চলমান সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রমিক সংগঠন ও মালিকপক্ষ আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করছে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারাও আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। দুই পক্ষের সহযোগিতায় কারখানাগুলো দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।আরও পড়ুন, আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরমন্ত্রী আরও জানান, নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও যেসব শ্রমিক কারাবরণ করেছেন, তাঁদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে। তবে ভিডিও ফুটেজে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মজুরি বোর্ডের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর রোববার মজুরি বোর্ড গঠন এবং একই দিন গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী চার দিনের মধ্যে বোর্ডের পরবর্তী সভা অনুষ্ঠিত হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি এবং মালিকদের শিল্প পরিচালনার সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শিল্পকারখানা সচল থাকলে উৎপাদন, আয় ও কর্মসংস্থান বাড়বে। এতে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হবে। তিনি শ্রমিকদের নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে দাবি উত্থাপনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আলোচনা ও লিখিত আবেদনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। কোনো আবেদন বা আলোচনা ছাড়াই কর্মবিরতি ও অচলাবস্থা সৃষ্টি করা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বন্ধ ও ছুটি ঘোষণা করা কারখানাগুলো পুনরায় খুলে উৎপাদন স্বাভাবিক করতে মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি শ্রমিক নেতাদের নিজ নিজ এলাকার কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে উদ্বুদ্ধ করার অনুরোধ করেন। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতার আশ্বাসও দেন মন্ত্রী।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি হারাচ্ছেন ২৬৮ কর্মচারী

ইউজিসির নির্দেশনা ও অর্থ বরাদ্দ না থাকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২৬৮ জন ডে-লেবার ও থোক বরাদ্দের কর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করে আসা এসব কর্মচারীর মধ্যে অনেকেই ১০ থেকে ২০ বছর ধরে স্থায়ী নিয়োগের আশায় দায়িত্ব পালন করছেন। হঠাৎ ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তে তাঁদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৬তম সিন্ডিকেট সভায় কর্মচারীদের ছাঁটাইয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় বিশেষ বিবেচনায় বিভিন্ন দপ্তরে চুক্তিভিত্তিক বা থোক বরাদ্দের কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এসব কর্মচারীর একটি অংশ পোষ্য কোটায় নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁদের অনেকেই দীর্ঘ এক থেকে দুই দশক ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করছেন।আরও পড়ুন, বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদে হরমুজ পারাপারে ইরানের নির্দেশনা মানার আহ্বান রাষ্ট্রদূতেরউপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, ইউজিসির চিঠির ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো তহবিল নেই। সরকার কিংবা ইউজিসি থেকেও এসব কর্মচারীর বেতন-ভাতা বহনের জন্য অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আপাতত তাঁদের বেতন-ভাতা বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। এটি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত। তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে জনবল সংকট থাকলে প্রয়োজনীয় পদের চাহিদাপত্র ইউজিসিতে পাঠাতে হবে। ইউজিসি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় জনবল অনুমোদন দেবে। এ প্রক্রিয়ায় বর্তমানে কর্মরতদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার চেষ্টা করা হবে। এদিকে কর্মচারীদের বকেয়া বেতন প্রসঙ্গে উপাচার্য জানান, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত তিন মাসের বকেয়া বেতন কষ্ট করে হলেও পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে।

বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদে হরমুজ পারাপারে ইরানের নির্দেশনা মানার আহ্বান রাষ্ট্রদূতের

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে হলে ইরানের নির্দেশনা মেনে তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি। তিনি বলেছেন, ইরানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া কোনো দেশের পক্ষেই এই কৌশলগত নৌপথ দিয়ে নিরাপদে জ্বালানি পরিবহন সম্ভব নয়। বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে তিনি কাজ করছেন বলেও জানান। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘হরমুজ পার হতে অবশ্যই ইরানের বেঁধে দেওয়া নির্দেশনা মানতে হবে।’ ইতোমধ্যে বাংলাদেশের কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ-সংক্রান্ত তথ্য গোপনীয়। বিষয়টি শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই জানেন। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত জানান, এ নিয়ে ইরান, কাতার ও ওমানের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে দেশটির ওপর আর কোনো হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা প্রয়োজন।আরও পড়ুন, আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরসংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনা নিয়েও কথা বলেন জলিল রহিমি। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে সমঝোতার অর্থ আত্মসমর্পণ। এ ধরনের কোনো সমঝোতা তেহরান মেনে নেবে না। ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। ইরানের ওপর পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত হুঁশিয়ারি দেন, এমন হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। যেকোনো ধরনের সংঘাত মোকাবিলায় ইরান প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি। চলমান পরিস্থিতি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে গড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল পরাজিত হলেও ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নীতিতে পরিবর্তন আসবে না বলে মনে করেন তিনি। এ ছাড়া ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের মানুষের অবস্থানের প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান যৌক্তিক। আরবের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি না থাকলে ইরান সেসব দেশে হামলা চালাত না বলেও দাবি করেন জলিল রহিমি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে বিভিন্ন হামলার ঘটনার সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন তিনি।

রাজনীতিরাজনীতি

সাদিক কায়েমকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি রাশেদ খানের

সাদিক কায়েমকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি রাশেদ খানের

শ্রমিক তৌফিক হত্যার ঘটনায় কোনো প্রমাণ ছাড়াই বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান। বুধবার (৪ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান। পোস্টে রাশেদ খান প্রশ্ন তোলেন, শ্রমিক তৌফিককে বিএনপি সরকার হত্যা করেছে—এমন অভিযোগের পক্ষে সাদিক কায়েমের কাছে কোনো প্রমাণ আছে কি না। প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ্যে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি। রাশেদ খান তাঁর পোস্টে সাদিক কায়েমের রাজনৈতিক অতীত নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাদিক কায়েম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলনের সময়ও তাঁর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। এসব অভিযোগের বিষয়ে পোস্টে কোনো প্রামাণ্য নথি উপস্থাপন করেননি তিনি।আরও পড়ুন, দমন-পীড়ন চললে আন্দোলন বিস্তৃত হওয়ার হুঁশিয়ারিশ্রমিক তৌফিক হত্যার প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, গণমাধ্যমে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, হামলা ও ভাঙচুরের ভিডিও ধারণ করায় শ্রমিক পরিচয়ধারী দুর্বৃত্তদের হামলায় তৌফিক নিহত হয়েছেন। তাই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, শ্রমিক হত্যার দায় বিএনপি সরকারের ওপর চাপিয়ে একটি মহল শ্রমিক পরিচয়ে সংঘটিত সহিংসতাকে আরও উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাশেদ খান বলেন, সরকার শ্রমিকদের কাজে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হওয়ায় একটি পক্ষ হতাশ হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সরকারকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় তারা বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। পোস্টের শেষাংশে তিনি দেশের সরকারপন্থী ও বাংলাদেশপন্থী ব্যক্তিদের এসব অভিযোগের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

দমন-পীড়ন চললে আন্দোলন বিস্তৃত হওয়ার হুঁশিয়ারি

দমন-পীড়ন চললে আন্দোলন বিস্তৃত হওয়ার হুঁশিয়ারি

শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির চলমান আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে জাতীয় শ্রমিক শক্তি। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, সরকারের অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত এবং মজুরি নির্ধারণে কার্যকর উদ্যোগের অভাবেই শ্রমিকদের আন্দোলন বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আগামী তিন দিনের মধ্যে নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনটির নেতারা। এতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি অভিযোগ করেন, মজুরি বোর্ড গঠন ও এর সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকার ও মালিকপক্ষের ভূমিকা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। শ্রমিকেরা বোর্ডের গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে সন্তুষ্ট নন। শিল্প খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। সংগঠনটির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির বলেন, নতুন মজুরি নির্ধারণের দাবিতে তাঁরা আগে থেকেই মজুরি বোর্ড গঠনের আহ্বান জানিয়ে আসছেন।আরও পড়ুন,আমির হামজার আয় ও সম্পদের তথ্য যাচাইয়ের দাবি এ বিষয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। পাশাপাশি আগামী তিন দিনের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণের দাবি জানান। জাতীয় শ্রমিক শক্তির সদস্যসচিব রিয়াজ মোর্শেদ শ্রমিকদের আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বলপ্রয়োগ না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শ্রমিকদের ওপর হামলা বা দমন-পীড়নের পরিবর্তে তাঁদের দাবি শোনার উদ্যোগ নিতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতা-কর্মী ও পুলিশের যৌথ মদদে শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে তাঁরা সতর্ক করেন, দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে।নেতারা বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বাস্তবতা বিবেচনায় শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা জরুরি। সহিংসতা এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সংকট সমাধানে সরকার ও মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

আমির হামজার আয় ও সম্পদের তথ্য যাচাইয়ের দাবি

আমির হামজার আয় ও সম্পদের তথ্য যাচাইয়ের দাবি

কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামা, আয়কর রিটার্ন ও আর্থিক তথ্যে একাধিক অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা মোঃ সিরাজুল ইসলাম। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া আবেদনে সংসদ সদস্যের নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা, কৃষিজমি, আবাসিক প্লট, স্ত্রীর সম্পদ, বাড়িভাড়া, গাড়ি, পারিবারিক ব্যয় ও নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, ২০২৫ সালের ৩০ জুনের আয়কর রিটার্নে আমির হামজার ব্যাংক ব্যালেন্স শূন্য দেখানো হলেও ইসলামী ব্যাংকের কুষ্টিয়া শাখায় একটি হিসাবে ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৭ টাকা জমা ছিল। এ ছাড়া নির্বাচনী হলফনামায় নগদ অর্থ ২ লাখ ৪৫ হাজার ১৭০ টাকা দেখানো হলেও আয়কর রিটার্নে দেখানো হয়েছে ৩৮ লাখ ৪৫ হাজার ১৭০ টাকা। দুই নথিতে পার্থক্য ৩৬ লাখ টাকা। আরও পড়ুন,মালিক-শ্রমিক সরকারের সংলাপ চায় ছাত্রশিবিরআবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কৃষিজমি, স্ত্রীর নামে থাকা জমি, আবাসিক প্লট, গাড়ি ও স্বর্ণের তথ্যেও হলফনামা এবং আয়কর রিটার্নের মধ্যে অমিল রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সম্মানী ও হাসপাতাল থেকে নিয়মিত অর্থ পাওয়ার দাবি করা হলেও এসব আয়ের তথ্য নথিতে উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ আবেদনকারীর। নির্বাচনী ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সিরাজুল ইসলাম। তার দাবি, নির্বাচনের বিভিন্ন খাতে ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য দেওয়ার পর ১০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন পরিচালনার ব্যাংক হিসাব থেকে আরও ৩৮ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। সব মিলিয়ে নির্বাচনী ব্যয় ৭২ লাখ টাকা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এ ব্যয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারী। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, যানবাহন নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ এবং ভূমি ও নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের নথিপত্র পরীক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। সিরাজুল ইসলামের দাবি, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আর্থিক তথ্যের অসংগতি নজরে আসায় তিনি অভিযোগ করেছেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য আমির হামজার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

 মালিক-শ্রমিক সরকারের সংলাপ চায় ছাত্রশিবির

মালিক-শ্রমিক সরকারের সংলাপ চায় ছাত্রশিবির

দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ, কারখানা বন্ধ এবং শ্রমিকদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করাসহ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এসব দাবি জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা, সাভার, মিরপুর, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। আন্দোলনের কারণে ঢাকা, গাজীপুর ও আশুলিয়ার অন্তত ৬৭৯টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে বলে দাবি করেন সংগঠনটির নেতারা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।আরও পড়ুন,বিমানের ছবি দিয়ে রহস্যময় পোস্ট আসিফ মাহমুদেরনেতারা বলেন, তৈরি পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। লাখো শ্রমিকের শ্রমে এ খাত রপ্তানি আয়ের বড় অংশ জোগান দিলেও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি বাড়ানো হয়নি। ২০২৩ সালে নির্ধারিত ১২ হাজার ৫০০ টাকা ন্যূনতম মজুরিতে শ্রমিকদের বর্তমান ব্যয় নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে। বিবৃতিতে শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, অসন্তোষকে রাজনৈতিকভাবে চিহ্নিত করে দমন-পীড়নের পরিবর্তে মালিক, শ্রমিক ও সরকারের মধ্যে কার্যকর সংলাপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা নাশকতার আশঙ্কা থাকলে তা সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলার আহ্বান জানানো হয়। ছাত্রশিবিরের নেতারা অবিলম্বে মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা আহ্বান, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ, গ্রেপ্তার শ্রমিকদের মুক্তি এবং সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। তাঁদের মতে, শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করেই পোশাকশিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

সারাবাংলা

হাতি সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় লামা বন বিভাগে ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

হাতি সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় লামা বন বিভাগে ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

লামা বনবিভাগের তৈন রেঞ্জ ফরেস্ট ট্রেনিং সেন্টারে 'হাতি মানুষে দ্বন্দ্ব নিরসনে' তিনদিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সমাপ্তি। হাতি সংরক্ষন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় অংশ নেন, তরুন প্রজম্মের শিক্ষার্থী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ভিডিপি, বিজবি সংবাদ, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদ্বয়, ইআরটি সদস্য। হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে করণীয় শীর্ষক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা আজ বুধবার ৪ নভেম্বর বিকেলে সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও বন কর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং বুনো হাতির আক্রমণ থেকে জানমাল রক্ষার পাশাপাশি হাতি সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।  ২রা নভেম্বর প্রশিক্ষন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বন সংরক্ষক কেন্দ্রীয অঞ্চল ও প্রকল্প পরিচালক হাতি সংরক্ষন প্রকল্প এ.এস.এম জহির উদ্দিন আকন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি তিন দিনব্যাপী কারিগরি ও সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালার রূপরেখা ও করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেন।  লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী সভায় আলোচনা করেন, লামা বন বিভাগের এসিএফ মাসুম আলম, প্রশিক্ষনার্থী লামা প্রেসক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষনার্থীরা। কর্মশালায় ১ম দিনে হাতির আচরণ বোঝা ও দ্বন্দ্বের মূল কারণ চিহ্নিতকরণ আচরণ ও বাস্তুসংস্থান জানা। হাতির মেজাজ, চলাচলের পথ (করিডোর) এবং তাদের দলবদ্ধ জীবনযাত্রা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা প্রদান করা হয়। সংঘাতের কারণ বিশ্লেষণ; বন উজাড়, বনভূমি দখল, হাতির প্রাকৃতিক খাদ্যাভাব এবং চলাচলের চেনা পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া আইনি সচেতনতা সম্পর্কে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০২৬ সম্পর্কে অংশ গ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়। আরও পড়ুন, রায়পুরায় কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির উদ্যোগে মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত২য় দিনে প্রতিরোধমূলক কৌশল ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণে হাতি তাড়ানোর নিরাপদ উপায়, বুনো হাতি লোকালয়ে বা ফসলি জমিতে এলে উগ্র পদ্ধতি ব্যবহার না করে সার্চলাইট বা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এলইডি টর্চলাইট, বাঁশি (হুইসেল) ও দূর থেকে আওয়াজ করার কৌশল শেখানোর উপর প্রশিক্ষণ দেন; প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি: হাতির অপছন্দনীয় ফসল (যেমন: মরিচ চাষ বা চিলি ফেন্স) এবং মৌমাছি চাষের (Beehive Fence) মাধ্যমে ক্ষেতের চারপাশ সুরক্ষিত করার জৈবিক কৌশল ও মরিচের ধোঁয়া তৈরির ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সম্পর্কে জ্ঞান দান করা হয়।  আদি বাসস্থান পুনরুদ্ধার; বনের ভেতর হাতির উপযোগী খাবার যেমন—বাঁশঝাড় ও কলার বাগান তৈরি করার পরিকল্পনা গ্রহণ।  ৩য় দিনে মাঠ পর্যায়ের দল গঠন ও সাড়াদান; এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ERT) গঠন: বুনো হাতির আক্রমণ ঠেকাতে স্থানীয় গ্রামবাসীদের নিয়ে তাৎক্ষণিক সাড়াদান দল বা 'হাতি সুরক্ষা দল' গঠন করা এবং তাদের দায়িত্ব বণ্টন।  লজিস্টিকস বিতরণ: প্রশিক্ষিত সদস্যদের মাঝে বন বিভাগ বা সহযোগী সংস্থার পক্ষ থেকে টর্চলাইট, হ্যান্ডমাইক, ভেস্ট এবং হুইসেল বিতরণ। ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া: হাতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে দ্রুত ও সহজে সরকারি বিধি মোতাবেক আর্থিক ক্ষতিপূরণ পায়, তার আবেদন প্রক্রিয়া ও করণীয় আইন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেন; বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ চট্টগ্রাম বিভাগ এর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজ। সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহনকারীদের প্রশিক্ষণ সম্পর্কে মুল্যায়ন ও মতামত গ্রহন করেন। প্রশিক্ষনে অংশ গ্রহনকারীরা তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা সমাজ জীবনে কাজে লাগিয়ে হাতি, জীবন প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন। এসিএফ মাসুদ আলম এর সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, ডলুছড়ি রেঞ্জ অফিসার মোঃ আলতাফ হোসেন, লামা ফায়ার সার্ভিস ইনচার্জ মোঃ আবদুল্লাহ, বিজিবি সদস্য শান্ত, কলেজ ছাত্র এমদাদুল হক মিলন, লামা প্রেসক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, মাতামুহুরি রেঞ্জ অফিসার আ.ছ.ম রিদুয়ানুল হক, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রেঞ্জ অফিসার মোঃ আরিফুল হক। শেষে প্রশিক্ষনার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন।

রায়পুরায় কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির উদ্যোগে মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

রায়পুরায় কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির উদ্যোগে মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নরসিংদীর রায়পুরায় কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির উদ্যোগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা বিষয়ক মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে রায়পুরা অডিটোরিয়াম হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। রায়পুরা থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি মোঃ ফাইজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আশরাফ উদ্দিন বকুল। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন নরসিংদীর পুলিশ সুপার মোঃ আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক, বিপিএম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ রানা।আরও পড়ুন, শ্রমিক আন্দোলনে ইন্ধনের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি সাদমা গ্রুপেরঅনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন রায়পুরা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বায়েজিদ বিন মনসুর। সভাটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মজিবুর রহমান। এ সময় রায়পুরা থানা, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির প্রবীণ ও নবীন নেতৃবৃন্দসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সভায় কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।

শ্রমিক আন্দোলনে ইন্ধনের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি সাদমা গ্রুপের

শ্রমিক আন্দোলনে ইন্ধনের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি সাদমা গ্রুপের

গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থায়ন ও ইন্ধন জোগানোর অভিযোগে দৈনিক ইনকিলাকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সাদমা গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রতিবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, মানহানিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের পেছনে একটি কুচক্রী মহলের অপতৎপরতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গত ২ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল ‘তিনটি গ্রুপের ৩৪টি গার্মেন্টস কারখানায় রয়েছে আ.লীগের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের প্রতিষ্ঠানও-শ্রমিকদের আন্দোলনে ইন্ধনদাতা ইন্টারস্টপ-মন্ডল-সাদমা গ্রুপ’। প্রতিবেদনে গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্টারস্টপ, মন্ডল ও সাদমা গ্রুপের বিরুদ্ধে শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়ন, উসকানি এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার অভিযোগ করা হয়। তবে সাদমা গ্রুপের প্রতিবাদপত্রে বলা হয়েছে, প্রকাশিত প্রতিবেদনে গ্রুপটির পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যে যোগসূত্র তুলে ধরা হয়েছে, বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। সাদমা গ্রুপ একটি অরাজনৈতিক ও দায়িত্বশীল শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি পোশাক খাতে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তারা দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাদের অধীনে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং নিয়মিত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি সচেষ্ট রয়েছে। আরও পড়ুন, রায়পুরে ককটেল ফাটিয়ে বিএনপি নেতাসহ ৪ জনকে ছুরিকাঘাত, আটক ১কোনো ধরনের রাজনৈতিক অসদুদ্দেশ্য, অস্থিতিশীলতা কিংবা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবাদপত্রে আরও বলা হয়, একটি কুচক্রী মহল ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গণমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য সরবরাহ করেছে বলে তারা মনে করছেন। প্রতিষ্ঠানটি সব সময় প্রচলিত আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও আইন ও বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে বলে জানিয়েছে। চলমান শ্রমিক আন্দোলনের কারণে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ও ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলেও দাবি করেছে সাদমা গ্রুপ। তাদের ভাষ্য, উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ক্রেতাদের অর্ডার অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে ক্রেতাদের অর্ডার বাতিল, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। উৎপাদন বন্ধ বা ব্যাহত থাকায় প্রতিদিনই প্রতিষ্ঠানটিকে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। প্রতিবাদপত্রে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রতি সঠিক তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত না থাকলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও স্বার্থ রক্ষায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাদমা গ্রুপের আওতাধীন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম ও মালিকানাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় তুলে ধরে শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগ করা হলেও প্রতিবাদপত্রে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে গ্রুপ কর্তৃপক্ষ। ফলে প্রকাশিত অভিযোগের সত্যতা, তথ্যের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য যাচাইয়ের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রায়পুরে ককটেল ফাটিয়ে বিএনপি নেতাসহ ৪ জনকে ছুরিকাঘাত, আটক ১

রায়পুরে ককটেল ফাটিয়ে বিএনপি নেতাসহ ৪ জনকে ছুরিকাঘাত, আটক ১

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চরবংশী ককটেল বিস্ফোরণের পর ছুরিকাঘাতে ইউনিয়ন বিএনপির এক সাবেক ওয়ার্ড সভাপতিসহ চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হামলার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম ওরফে সুজন (৩২) নামে এক যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেয় স্থানীয় জনতা। গণপিটুনিতে আহত অবস্থায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত  ৯টার দিকে রায়পুর উপজেলার ২ নম্বর উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট বাজারে একটি চায়ের দোকানের সামনে উক্ত ঘটনাটি ঘটে। আহতরা হলেন উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি এবায়েদ উল্যা গাজী (৫৫) মোঃ খোরশেদ আলম (২৪) জাহিদ হোসেন (১৮) ও মোঃ রায়হান (২৩)। তাঁদের মধ্যে এবায়েদ উল্যা গাজী ও জাহিদ হোসেনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই সময় চায়ের দোকানে এবায়েদ উল্যা গাজীসহ কয়েকজন মিলে আড্ডা দিচ্ছিলেন। ভোলা থেকে এসেছেন বলে পরিচিত এক যুবক হটাৎ সেখানে গিয়ে পরপর তিনটি ককটেল ফাটান। এরপর তিনি এবায়েদ উল্যা গাজীকে ছুরিকাঘাত করেন, তাঁর পেটে ও পিঠে আঘাত লাগে। হামলায় বাধা দিতে গেলে বাকি তিনজনও ছুরিকাঘাতে আহত হন। আহতদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত যুবক পালানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয় জনতা তাঁকে আটক করে গণপিটুনি দেয় এবং একটি পিলারের সঙ্গে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে হাজিমারা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাত ১০টার দিকে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে রায়পুর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে  জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।আরও পড়ুন, বকশীগঞ্জে শিক্ষকদের বেতন বন্ধ রেখে অর্থ দাবির অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাসপুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আটক সাইফুল ইসলাম ভোলা সদর থানার শ্যামপুর বেদুয়া গ্রামের মৃত সফিক মিয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, হামলায় আরও দুজন জড়িত ছিলেন, যাঁরা ঘটনাস্থল থেকেই পালিয়ে গেছেন। উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক কবিরাজের দাবি, উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সদস্যসচিব জিএম শামীম গাজীর সঙ্গে এবায়েদ উল্যা গাজীর পূর্বশত্রুতা ছিল। তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে এক লাখ টাকার বিনিময়ে ভোলা থেকে তিনজনকে ভাড়া করে আনা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, গণপিটুনির সময় আটক যুবক গ্রামবাসীর কাছে হামলার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তবে এসব দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগের রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ডিবি পুলিশ অন্য একটি মামলায় শামীম গাজীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। তবে ওই মামলার সঙ্গে রাতের হামলার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। রায়পুর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ভুঁইয়া রাত ১১টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কী কারণে এবং কার সঙ্গে এ ঘটনা ঘটেছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনার পর খাসেরহাট বাজার এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে থমথমে পরিস্থিতি দেখা গেছে। জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশের তদন্তের অপেক্ষায় আছেন স্থানীয়রা।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

আন্তর্জাতিক

সৌদি আরবে ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার সতর্কতা, টর্নেডোর আশঙ্কা

সৌদি আরবে ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার সতর্কতা, টর্নেডোর আশঙ্কা

সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বজ্রসহ বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও শিলাবৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়া এবং কোথাও কোথাও টর্নেডো বা জলস্তম্ভ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। দেশটির ন্যাশনাল সেন্টার ফর মেটিওরোলজি (এনসিএম) জানিয়েছে, অধিকাংশ অঞ্চলে হালকা থেকে ভারী বজ্রসহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। বৃষ্টির সঙ্গে তীব্র বাতাস ও ধূলিঝড়ের কারণে জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও রয়েছে। সর্বশেষ আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, জাজান, আসির, আল বাহা ও মক্কা অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ ছাড়া মদিনা, তাবুক, আল জউফ, নর্দার্ন বর্ডারস, হাইল, নাজরান এবং রিয়াদের দক্ষিণাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।আরও পড়ুন, ভারতের অনুরোধে সাড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল মালয়েশিয়াবুধবার গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পবিত্র মক্কা নগরী ও তায়েফসহ আল জুমুম, বাহরা, মাইসান, আধাম এবং আল আরদিয়াত গভর্নরেটগুলোতে শনিবার পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যদিকে, জেদ্দা, রাবিঘ ও খুলাইস এলাকায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আল লিথ ও আল কুনফুদাহ অঞ্চলেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। এনসিএম সতর্ক করেছে, বজ্রঝড়ের সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে ধূলিকণা ছড়িয়ে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, অতিভারি বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও শিলাবৃষ্টি হতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় বড় ঢেউ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। কোথাও কোথাও টর্নেডো কিংবা জলস্তম্ভ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।

৫ ঘন্টা আগে

রাজধানী

রাজধানীতে বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

রাজধানীতে বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

রাজধানীর মিরপুরে যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী রয়েছেন।বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানার বেড়িবাঁধের নবাবেরবাগ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এক খুদে বার্তায় দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আরও পড়ুন,দোকানপাট খোলা রাখার সময় বাড়াতে মন্ত্রণালয়ে আবেদনতিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। এ ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে দুর্ঘটনায় আর কেউ আহত হননি বলে জানান তিনি। বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। এদিকে, নিহতদের পরিচয় এবং দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

১৬ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৬ জন

খেলাধুলা

রেকর্ড গড়ার রাতে বার্সেলোনার বড় জয়

রেকর্ড গড়ার রাতে বার্সেলোনার বড় জয়

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে নতুন কীর্তি গড়েছেন বার্সেলোনার তরুণ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামাল। রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে প্রতিযোগিতাটিতে ২০ বছর বয়সের আগে সর্বোচ্চ গোল করা ফুটবলার হয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে গোল করে এই রেকর্ড গড়েন ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল। স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে ম্যাচের সপ্তম মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে পাঠান এই স্প্যানিশ তারকা। এই গোলের মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইয়ামালের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪টি। এর আগে ১৩ গোল নিয়ে রেকর্ডটি ছিল কিলিয়ান এমবাপ্পের দখলে। তবে পুরো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ক্যারিয়ারে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা এখন ৭২। মাত্র ৩৭ ম্যাচ খেলেই ১৪ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ইয়ামাল। আরও পড়ুন,মুস্তাফিজকে পেয়ে খুশি মেলবোর্ন কোচপ্রতিযোগিতাটিতে বয়সভিত্তিক আরও বেশ কয়েকটি রেকর্ড রয়েছে তাঁর দখলে। ১৬ বছর ৮৩ দিন বয়সে পোর্তোর বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষেক হয় তাঁর। সবচেয়ে কম বয়সে ম্যাচের শুরুর একাদশে খেলার কীর্তিও রয়েছে এই ফরোয়ার্ডের। এ ছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সবচেয়ে কম বয়সে গোল ও অ্যাসিস্ট করা এবং সেমিফাইনালে গোল করার রেকর্ডও রয়েছে ইয়ামালের। অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ম্যাচে ইয়ামালের গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল করেন রাফিনিয়া। শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। এই হারের মধ্য দিয়ে চলতি লিগ পর্বে প্রথমবার পয়েন্ট হারায় অ্যাস্টন ভিলা। অন্যদিকে, জয়ের সুবাদে সাময়িকভাবে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে বার্সেলোনা। চলতি মৌসুমেও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন ইয়ামাল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৫ ম্যাচে ১৩ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও ১১টি গোল করিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি ব্যালন ডি'অর পুরস্কারে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন বার্সেলোনার এই তরুণ তারকা।

আইন আদালত

পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। ব্যবসায়ী নাসির ইউ আহমেদের করা মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় তার জামিন বাতিল করে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এদিন বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। অন্যদিকে, পরীমনির আইনজীবী সময়ের আবেদন জানিয়ে আদালতকে বলেন, অ্যালার্জিজনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। পরে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে পরীমনির জামিন বাতিল এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। এর আগে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় পরীমনিসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওই দিনও তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।আরও পড়ুন, হুমায়ূন আহমেদের হাত ধরেই বড় পর্দায় মিমের অভিষেকমামলার তদন্তে ২০২৪ সালে পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০২১ সালের ৬ জুলাই বোট ক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। অন্য দুই আসামি হলেন ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম। মামলার অভিযোগে নাসির উদ্দিন মাহমুদ দাবি করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমনি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা ক্লাবের দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার এবং পরে বসে অ্যালকোহল পান করেন। এ সময় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!