দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

সত্য ও জনমানুষের কথা বলার প্রত্যয়ে আরও দূর পথ

১৪ বছরে দৈনিক সংবাদ দিগন্ত / সত্য ও জনমানুষের কথা বলার প্রত্যয়ে আরও দূর পথ

একটি সংবাদপত্রের পথচলা কেবল কাগজে ছাপা কিছু সংবাদ প্রকাশের ইতিহাস নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সময়কে ধারণ করা, মানুষের কথা বলা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা এবং সমাজের বিবেককে জাগ্রত রাখার এক নিরন্তর দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধকে ধারণ করেই জাতীয় দৈনিক সংবাদ দিগন্ত আজ ১৪ বছরে পদার্পণ করছে। এই দীর্ঘ পথচলার প্রতিটি অধ্যায় আমাদের জন্য যেমন গৌরবের, তেমনি আত্মসমালোচনা ও নতুন প্রত্যয়েরও।১৪ বছর একটি সংবাদপত্রের জন্য কম সময় নয়। এই সময়ে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি ও জনজীবনে এসেছে নানা পরিবর্তন। পাল্টেছে মানুষের চিন্তা ও প্রত্যাশা। বদলে গেছে সংবাদ গ্রহণের মাধ্যম। ছাপা পত্রিকার পাশাপাশি অনলাইন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এখন মানুষের তথ্য পাওয়ার অন্যতম প্রধান উৎস। এই পরিবর্তনের মধ্যেও একটি সংবাদপত্রের মূল শক্তি একই রয়ে গেছে বিশ্বাসযোগ্যতা। দৈনিক সংবাদ দিগন্ত সেই বিশ্বাসযোগ্যতার জায়গাটি আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, সংবাদপত্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার পাঠক। পাঠকের আস্থা অর্জন করা কঠিন, কিন্তু সেই আস্থা হারানো খুব সহজ। একটি ভুল তথ্য, একটি যাচাইহীন সংবাদ কিংবা পক্ষপাতদুষ্ট উপস্থাপন অনেক বছরের অর্জনকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। তাই আমাদের কাছে প্রতিটি সংবাদ শুধু একটি প্রতিবেদন নয়; এটি দায়িত্বের একটি অংশ।আরও পড়ুন: পুলিশে একের পর এক রদবদল, অপরাধ দমনে নতুন পরীক্ষাআমরা মনে করি, সাংবাদিকতার প্রথম শর্ত সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা। সত্য কখনো কখনো কঠিন, কখনো অস্বস্তিকর। কিন্তু সত্যকে আড়াল করে সংবাদপত্র তার দায়িত্ব পালন করতে পারে না। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য, তথ্যের যথার্থতা এবং মানুষের মর্যাদার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। সংবাদ দিগন্ত আগামী দিনেও যাচাই করা তথ্য, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।বাংলাদেশের গণমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে পথ চলছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন, অর্থনৈতিক চাপ, প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার, ভুয়া তথ্যের প্রবাহ এবং পাঠকের পরিবর্তিত রুচি—সবকিছু মিলিয়ে সংবাদপত্রের সামনে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে একটি খবর প্রকাশের কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। কিন্তু দ্রুততার সঙ্গে যদি সত্যতা যাচাই না থাকে, তাহলে সেই গতি সমাজের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাই আমরা মনে করি, ভবিষ্যতের সাংবাদিকতায় গতি ও নির্ভুলতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা জরুরি। সংবাদ দ্রুত পৌঁছাতে হবে, কিন্তু তার আগে নিশ্চিত হতে হবে সংবাদটি সত্য কি না। তথ্যের উৎস কতটা নির্ভরযোগ্য, বক্তব্যের অন্য পক্ষ কী বলছে, ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট কী এসব প্রশ্ন সাংবাদিকতার অবিচ্ছেদ্য অংশ।আরও পড়ুন: বনানীতে গেস্ট হাউজ-স্পা, ওসির ভূমিকা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্নদৈনিক সংবাদ দিগন্তের ১৪ বছরের পথচলায় রাজধানীর পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংবাদকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে এসেছি। কারণ বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র কেবল রাজধানীর সংবাদে সীমাবদ্ধ নয়। গ্রামের কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, নারী, শিশু, প্রবীণ এবং প্রান্তিক মানুষের জীবন ও সংগ্রামের মধ্যেই দেশের বাস্তব গল্প লুকিয়ে আছে। একটি রাস্তা নির্মাণ, একটি বিদ্যালয়ের সংকট, কৃষকের উৎপাদন ব্যয়, নদীভাঙনে মানুষের ঘর হারানো কিংবা কোনো প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের সাফল্য এসবই সংবাদ।আমাদের বিশ্বাস, স্থানীয় সাংবাদিকতা জাতীয় সাংবাদিকতার ভিত্তি শক্তিশালী করে। তাই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের আমরা সংবাদ দিগন্ত পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখি। তাদের সাহস, শ্রম ও দায়িত্বশীলতার ওপর নির্ভর করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসংখ্য মানুষের কথা পাঠকের কাছে পৌঁছে যায়। একই সঙ্গে আমরা মনে করি, সাংবাদিকতার অন্যতম দায়িত্ব হলো ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরা। তবে প্রশ্ন করা মানেই কাউকে অভিযুক্ত করা নয়। সংবাদ ও মতামতের পার্থক্য বজায় রেখে তথ্যের ভিত্তিতে মানুষের সামনে বিষয়টি তুলে ধরাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পথ।আমরা এমন একটি সাংবাদিকতা চাই, যেখানে সমালোচনা থাকবে কিন্তু বিদ্বেষ থাকবে না; প্রশ্ন থাকবে কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার থাকবে না; অনুসন্ধান থাকবে কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে না। কারণ গণমাধ্যমের শক্তি তার ভাষার উচ্চতায় নয়, তার তথ্যের গভীরতায়। ১৪ বছরে পদার্পণের এই মুহূর্তে আমরা আমাদের পাঠক, সংবাদকর্মী, লেখক, কলাকুশলী, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সংবাদ দিগন্ত পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তাদের সহযোগিতা ও ভালোবাসাই আমাদের পথচলার শক্তি।আরও পড়ুন: পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে নরসিংদীতে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিলবিশেষ করে আমাদের সাংবাদিকদের কথা বলতে হয়। একজন সাংবাদিককে অনেক সময় প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করতে হয়। কখনো রাতের পর রাত ঘটনাস্থলে থাকতে হয়, কখনো ঝুঁকি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়, কখনো নানা চাপের মধ্যেও সত্যতা যাচাই করতে হয়। তাদের এই শ্রমের প্রতি সম্মান রেখেই আমরা সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বাধীনতার গুরুত্বকে সামনে রাখতে চাই। আগামী দিনের সংবাদ দিগন্ত কেবল একটি ছাপা পত্রিকা হিসেবে নয়, একটি আধুনিক ও দায়িত্বশীল সংবাদপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আরও এগিয়ে যেতে চায়। মুদ্রিত পত্রিকার পাশাপাশি ডিজিটাল সাংবাদিকতা, ভিডিও সংবাদ, মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণের পরিধি আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় আমাদের রয়েছে। তবে প্রযুক্তি যতই পরিবর্তিত হোক, সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি—সত্য, নিরপেক্ষতা, মানবিকতা ও জনস্বার্থ—কখনো পরিবর্তিত হবে না। আমরা জানি, পথচলা সবসময় সহজ হবে না। সামনে আরও প্রতিযোগিতা আসবে, নতুন প্রযুক্তি আসবে, নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির যুগে সাংবাদিকতার ধরনও বদলাবে। কিন্তু মানুষের সত্য জানার প্রয়োজন কখনো শেষ হবে না। বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহের এই সময়ে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রয়োজন আরও বাড়বে। তাই ১৪ বছরে দাঁড়িয়ে আমাদের অঙ্গীকার একটাই পাঠকের আস্থা ধরে রেখে আরও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করা। ভুল হলে তা সংশোধন করা, সমালোচনা থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং প্রতিদিন নিজেদের আরও উন্নত করার চেষ্টা করা।আরও পড়ুন: সাভার গেন্ডায় ঢাকা ইন গেস্ট হাউজে জুলহাসের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সিন্ডিকেটদৈনিক সংবাদ দিগন্তের এই ১৪ বছর কেবল একটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নয়; এটি নতুন করে পথচলার একটি উপলক্ষ। অতীতের অর্জন আমাদের অনুপ্রেরণা দেবে, আর সীমাবদ্ধতাগুলো আমাদের আরও সতর্ক করবে। সত্যের পথে, মানুষের পাশে এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে দৈনিক সংবাদ দিগন্ত আগামী দিনেও মানুষের কথা বলতে চায়। দেশের গণতান্ত্রিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রায় দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের যে ভূমিকা রয়েছে, সেই ভূমিকা পালনে আমরা আরও নিষ্ঠাবান হতে চাই। ১৪ বছরে পদার্পণের এই শুভক্ষণে আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা পাঠক আমাদের পাশে থাকবেন। কারণ পাঠকের আস্থা ও ভালোবাসাই একটি সংবাদপত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি। দৈনিক সংবাদ দিগন্ত এগিয়ে যাক আরও বহুদূর। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আলোয় আলোকিত হোক আগামী দিনের পথ। জনমানুষের কথা বলার এই যাত্রা অব্যাহত থাকুক নিরন্তর।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

জাতিসংঘ সফরে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস, সম্মান ও মর্যাদা বেড়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস, সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি নতুন সরকারের প্রথম জাতিসংঘ সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন।প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছে চার দিনের সফরে মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ, সাতটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য, ১১টি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে।গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলায় দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং সরকারের ‘পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠন’ কৌশল তুলে ধরেন। একই সঙ্গে নারী ও যুবসমাজের ক্ষমতায়ন, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।হুমায়ুন কবির বলেন, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ফিলিস্তিন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, উন্নয়ন অর্থায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য স্পষ্ট রূপরেখা, অব্যাহত মানবিক সহায়তা এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। সফরকালে তুরস্ক, ইরান, মালদ্বীপ, ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, হাইতি ও কুয়েতের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।আড়ও পড়ুন,শীতের আগাম বার্তা সেপ্টেম্বরেই শীতের আমেজপ্রতিমন্ত্রী সফরটিকে সফল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে নতুন সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিজেদের অগ্রাধিকার তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের সুযোগ পেয়েছে।বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী বিমান কেনা হবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন রুট চালু এবং বাংলাদেশকে এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

শীতের আগাম বার্তা সেপ্টেম্বরেই শীতের আমেজ

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে হঠাৎ কমে গেছে তাপমাত্রা। গত রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) শহরটির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তন গত ২৫ বছরের মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন এবং ২০০১ সালের পর সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ঘটনা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।টানা বৃষ্টি ও মেঘলা আকাশের কারণে দিল্লিতে হঠাৎ এমন ঠান্ডা আবহাওয়া তৈরি হয়েছে। এতে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে, এবার কি আগেভাগেই শীতের আগমন ঘটছে? এর পেছনে এল নিনোর কোনো প্রভাব রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নও উঠেছে।তবে আবহাওয়াবিদদের মতে, দিল্লির এই সাময়িক ঠান্ডার সঙ্গে শীতের আগমন কিংবা এল নিনোর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। বঙ্গোপসাগর থেকে আসা একটি দীর্ঘস্থায়ী গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় টানা বৃষ্টিপাত হয়েছে। এরই প্রভাবে দিল্লিতেও তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমেছে।আরও  পড়ুন, কামাল মজুমদারসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জমৌসুমি বায়ু বিদায়ের সময় ওই নিম্নচাপ ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ, দিল্লি ও রাজস্থানসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ঘটায়। মেঘলা আকাশ ও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে দিনের বেলা তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারেনি। একই সঙ্গে রাতে তুলনামূলক ঠান্ডা অনুভূত হয়েছে।আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এটি স্থায়ী কোনো আবহাওয়াগত পরিবর্তন নয়; বরং নির্দিষ্ট একটি আবহাওয়া ব্যবস্থার সাময়িক প্রভাব। নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে যাওয়ার পর উত্তর ভারতে শুষ্ক পশ্চিমা বাতাসের প্রভাব বাড়বে।ফলে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবর থেকে দিল্লি, পাঞ্জাব ও উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় আকাশ পরিষ্কার হয়ে রোদ উঠতে পারে এবং তাপমাত্রাও আবার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরে দিল্লির এই শীতল আবহাওয়া আপাতত শীতের আগাম আগমনের ইঙ্গিত নয়।

কামাল মজুমদারসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মিরপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর রেজিস্ট্রারের কাছে এ অভিযোগ দাখিল করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।প্রসিকিউটর জানান, কামাল আহমেদ মজুমদার, সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা, যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলসহ মোট ১৯ জনকে আসামি করে এ ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মিরপুর এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।আরও  পড়ুন, নেপালে ভারী বৃষ্টি-বন্যা-ভূমিধস, বাংলাদেশি পর্যটকদের সতর্ক করল দূতাবাসপ্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রসিকিউশনের অভিযোগে মিরপুর-১০ গোলচত্বর ও পল্লবী এলাকার বিভিন্ন ঘটনায় আন্দোলনকারী ও বেসামরিক ব্যক্তিদের ওপর হামলা, গুলি ও হত্যার অভিযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, এসব ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা ও সম্পৃক্ততার বিষয়ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগে তুলে ধরা হয়েছে।দীর্ঘ তদন্তের পর তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে এ অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতে জানানো হয়েছে। এখন ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিযোগটি আমলে নেওয়া ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।এদিকে, ফরমাল চার্জ দাখিল হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়; অভিযোগের বিচারিক মূল্যায়ন ও আসামিদের আইনি অধিকার পরবর্তী প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

নেপালে ভারী বৃষ্টি-বন্যা-ভূমিধস, বাংলাদেশি পর্যটকদের সতর্ক করল দূতাবাস

নেপালে চলমান ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি পর্যটক ও ট্রেকারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কাঠমান্ডুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।স্থানীয় সময় রোববার রাতে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় দূতাবাস বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।সতর্কবার্তায় বিশেষ করে পিসাং, চামে, মানাং ও আশপাশের পর্যটন এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন স্থানে ভূমিধসের পাশাপাশি তুষারপাতও হচ্ছে। এতে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম কঠিন হয়ে পড়েছে।দূতাবাস জানিয়েছে, নেপালের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে মানাংয়ের বিভিন্ন এলাকায় ট্রেকিং কার্যক্রম স্থগিত করেছে। এর মধ্যে তিলিচো লেক, থরং লা পাস, আইস লেক, কাং লা ও ভীমথাং উল্লেখযোগ্য।আরও পড়ুন, সৈয়দপুরে ইএমই কোরের অধিনায়ক সম্মেলন ও ৬ষ্ঠ কোর পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিতবাংলাদেশি নাগরিকদের অন্নপূর্ণা, মানাং, মুস্তাং ও মানাসলুসহ বিভিন্ন পার্বত্য ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় ট্রেকিং, পর্বতারোহণ কিংবা ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বশেষ পরিস্থিতি যাচাই করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নেপাল সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার পাশাপাশি নদীর তীর ও ভূমিধসের আশঙ্কাযুক্ত এলাকা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। ভ্রমণের আগে সড়ক ও আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি যাচাই এবং ট্রাভেল অপারেটর ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।দূতাবাসের এই সতর্কবার্তার মূল লক্ষ্য হলো প্রতিকূল আবহাওয়াজনিত দুর্ঘটনা ও ঝুঁকি এড়িয়ে বাংলাদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

রাজনীতিরাজনীতি

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ৫০ লাখ টাকা দেবে জামায়াত: শফিকুর রহমান

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ৫০ লাখ টাকা দেবে জামায়াত: শফিকুর রহমান

রাজধানীর মিরপুরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শন করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ৫০ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শফিকুর রহমান বলেন, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় জামায়াতে ইসলামী প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ টাকা সহায়তা দেবে। প্রয়োজন হলে এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। আড়ও পড়ুন,উন্নয়ন স্থাপনায় ব্যক্তির নাম ব্যবহারে আপত্তি, ভবন উদ্বোধন করলেন না হাসনাতরাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনাটি গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ঘটে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলায় প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। পরে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে এবং সীমিত পরিসরে চিকিৎসাসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। শফিকুর রহমান বলেন, প্রাথমিক সহায়তা দিয়েই কার্যক্রম শেষ হবে না; এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সহযোগিতা করা হবে। তার ঘোষিত ৫০ লাখ টাকার সহায়তা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক করতে ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছে। 

উন্নয়ন স্থাপনায় ব্যক্তির নাম ব্যবহারে আপত্তি, ভবন উদ্বোধন করলেন না হাসনাত

উন্নয়ন স্থাপনায় ব্যক্তির নাম ব্যবহারে আপত্তি, ভবন উদ্বোধন করলেন না হাসনাত

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ উদ্বোধনী ফলকে নিজের নাম দেখে নতুন একাডেমিক ভবন উদ্বোধন না করেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেছেন।শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দেবিদ্বার উপজেলার রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। রোববার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।স্থানীয় ও আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবন উদ্বোধন এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।অনুষ্ঠান শেষে নতুন ভবনের নামফলক উন্মোচনের সময় সেখানে নিজের নাম খোদাই করা দেখতে পান তিনি। এরপর নামফলকে ব্যক্তির নাম ব্যবহারে আপত্তি জানিয়ে ভবনটি উদ্বোধন না করেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।আরও  পড়ুন, ঐক্যের পথে ৭ ইসলামী দল, ২৪ সদস্যের কমিটি গঠনের উদ্যোগএ সময় আয়োজকদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জনগণের করের অর্থে নির্মিত সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক স্থাপনায় ব্যক্তিবিশেষের নাম ব্যবহারের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে তিনি সমর্থন করেন না। জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতাদের আত্মপ্রচারের জন্য নামফলকে ব্যক্তির নাম ব্যবহার বন্ধ করা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু সাঈদ। তিনি জানান, সংসদ সদস্যের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত নামফলকটি পরিবর্তন করে পুনঃস্থাপন করা হবে।এ বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, নতুন বাংলাদেশে প্রথাগত রাজনৈতিক ব্যক্তিপূজা বা আত্মপ্রচারের সংস্কৃতি তিনি দেখতে চান না। জনগণের অর্থে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়িত হওয়ায় নামফলকে ব্যক্তির নামের পরিবর্তে দেশের নাম কিংবা প্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক তথ্য থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন।তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে তার নির্বাচনি এলাকার কোনো উন্নয়নমূলক কাজের নামফলকে তার নাম ব্যবহার না করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঐক্যের পথে ৭ ইসলামী দল, ২৪ সদস্যের কমিটি গঠনের উদ্যোগ

ঐক্যের পথে ৭ ইসলামী দল, ২৪ সদস্যের কমিটি গঠনের উদ্যোগ

মতপার্থক্য দূর করে নিজেদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বৈঠক করেছেন কওমি ধারার সাতটি ইসলামী দলের নেতারা। ঐক্য প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ২৪ সদস্যের একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে সাত দলের রাজনৈতিক ঐক্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরী মাদরাসায় সাত দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।বৈঠকে অংশ নেওয়া দলগুলো হলো—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।আলোচনার পর ঐক্য প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ২৪ সদস্যের লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।আরও  পড়ুন, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে গণক্ষোভ হতে পারে: ফয়জুল করীম সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে দুই দিনের মধ্যে নিজেদের প্রতিনিধিদের নাম হেফাজতে ইসলামের মহাসচিবের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রতিটি দল থেকে তিনজন করে প্রতিনিধি এবং হেফাজতের আরও দুই নেতাকে নিয়ে কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।বৈঠকে সাত দলের প্রস্তাবিত ঐক্যের রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হয়। তবে নেতৃত্বের কাঠামো, কমিটির মেয়াদ শেষে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এবং কোনো দল অন্য রাজনৈতিক জোটে থাকলে বা ভবিষ্যতে নতুন জোটে যেতে চাইলে কী শর্ত থাকবে—এসব বিষয়ে এখনো মতৈক্য হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ফলে লিয়াজোঁ কমিটির মাধ্যমে এসব বিষয়ে আরও আলোচনা ও সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২২ অক্টোবর ঢাকায় বৈঠকের মাধ্যমে ঐক্যের রূপরেখা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে গণক্ষোভ হতে পারে: ফয়জুল করীম

সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে গণক্ষোভ হতে পারে: ফয়জুল করীম

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও বৈষম্য নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হলে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম  (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের বিশ্বকবি ভবনে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘সীরাত কনফারেন্স ও কোয়েস্ট অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।ফয়জুল করীম বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানুষ রাজপথে আন্দোলন করেছে এবং বহু ত্যাগের বিনিময়ে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। কিন্তু এরপরও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।তিনি সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরের স্টুডিও ভাঙচুরের মতো ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এ ধরনের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আরও  পড়ুন, বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও আদর্শিক জীবন গঠনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ফয়জুল করীম। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে সঠিক মূল্যবোধ গঠনে সীরাতের শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সীরাত শুধু ইতিহাস নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখার সভাপতি মুহাম্মাদ ইউনুছ আহমেদ। প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. সাদরুদ্দীন আহমেদ। প্রধান বক্তা ছিলেন মুনতাছির আহমাদ এবং মুখ্য আলোচক ছিলেন মুফতী শামছুদ্দোহা আশরাফী।আলোচনা শেষে সীরাত কোয়েস্ট প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার ও অ্যাওয়ার্ড বিতরণ করা হয়।

সারাবাংলা

লামায় জাতীয় দৈনিক সংবাদ দিগন্তের বান্দরবান জেলা কার্যালয়ের উদ্বোধন

লামায় জাতীয় দৈনিক সংবাদ দিগন্তের বান্দরবান জেলা কার্যালয়ের উদ্বোধন

বান্দরবানের লামায় জাতীয় দৈনিক সংবাদ দিগন্ত পত্রিকার বান্দরবান জেলা কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা তথ্য কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম।এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লামা প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান, সাংবাদিক ইউনিটির সভাপতি সুজন চৌধুরী, লামা মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, দৈনিক মাতৃভূমির বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম, কালবেলার লামা উপজেলা প্রতিনিধি বিপ্লব দাস এবং লামা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বেলালসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় দৈনিক সংবাদ দিগন্তের বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি মো. ইনতাজ হোসেন।আড়ও পড়ুন,বিজিবি’র অভিযানে অস্ত্র-গুলি ও মাদক উদ্ধারবক্তারা বলেন, একটি গণমাধ্যমের জেলা কার্যালয় চালুর মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও ব্যাপকভাবে গণমাধ্যমে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়। বস্তুনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও জনকল্যাণমুখী সাংবাদিকতার মাধ্যমে সংবাদ দিগন্ত বান্দরবানের মানুষের কথা তুলে ধরবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তারা।পরে অতিথিরা ফিতা কেটে জাতীয় দৈনিক সংবাদ দিগন্তের বান্দরবান জেলা কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

বিজিবি’র অভিযানে অস্ত্র-গুলি ও মাদক উদ্ধার

বিজিবি’র অভিযানে অস্ত্র-গুলি ও মাদক উদ্ধার

ঝিনাইদহের মহেশপুর ৫৮ বিজিবি’র সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ২ রাউন্ড গুলিসহ ১টি ভারতীয় দেশী পিস্তল ও ৭৮বোতল ভারতীয় স্কাফ সিরাফ মাদক উদ্ধার করেছে।মহেশপুর ৫৮ বিজিবি’র সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমান জানান, সীমান্ত এলাকার গয়েশপুরগ্রামের গোয়ালদারের আমবাগানের মধ্যে এক ব্যাক্তিকে ধাওয়া করলে সে বিশেষ কায়দায় মোড়ানো একটিব্যাগ ও একটি বস্তা ফেলে ভারতের মধ্যে পলিয়ে যায়।আড়ও পড়ুন,মহেশপুরে হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৩পরে ফেলে যাওয়া ব্যাগ খুলে২ রাউন্ড গুলিসহ ১টি ভারতীয় দেশী পিস্তল পাওয়া যায়। অপর বস্তার ভিতর থেকে ৭৮বোতল ভারতীয় স্কাফ সিরাফ (মাদক) উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে বলেও জানান মহেশপুর ৫৮বিজিবি’র সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমান।

মহেশপুরে হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৩

মহেশপুরে হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৩

ঝিনাইদহের মহেশপুরে গোয়াল ঘরের পানি নিস্কাশনকে কেন্দ্র করে আব্দুল জব্বার হত্যা মামলার প্রধান আসামী পলাশসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। সোমবার সকালে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চত করেছেন মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজাদ রহমান। গ্রেফতার কৃতরা হলেন,আব্দুল জব্বার হত্যা মামলার প্রধান আসামী পলাশ,বিদ্যুৎ ও জেহের আলী।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৮ সেপ্টম্বর মহেশপুর উপজেলার মান্দারবাড়ীয়া ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের আব্দুল জব্বারের গোয়াল ঘরের গরু গোসলের পানি পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশি পলাশের জায়গায় যাওয়াকে কেন্দ্র করে গালিগালাজ ও মারধর করা হয় জব্বারকে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আড়ও পড়ুন,সোনারগাঁয়ে একদিনের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলার ১৩ আসামি গ্রেপ্তারএ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জাহানারা খাতুর বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় পলাশকে প্রধান আসামী করে একটি হত্যা মামমলা দায়ের করেন। মহেশপুর থানা পুলিশের তৎপরতায় আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও সিডিআর ট্যাকিং করে পলাতক আসামীদেরকে যশোর জেলার কেশবপুর ও চৌগাছা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামী পলাশসহ ৩ জনকে আটক করা হয়।মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজাদ রহমান জানান,আসামীদেরকে আদালতে প্রেরণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সোনারগাঁয়ে একদিনের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলার ১৩ আসামি গ্রেপ্তার

সোনারগাঁয়ে একদিনের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলার ১৩ আসামি গ্রেপ্তার

 নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে সন্ত্রাসবিরোধী মামলার আসামি, পুরোনো মামলার আসামি, মাদকসেবী ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সোনারগাঁ থানা এলাকায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে থানা পুলিশ। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক, পিপিএমের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক দল অভিযানে অংশ নেয়।পুলিশ জানায়, অভিযানে মাদকসেবী হিসেবেআরও পড়ুন, চট্টগ্রাম বন্দরে তামাক-মাদকসদৃশ পাউডার-ঘোষণাবহির্ভূত স্ক্র্যাপ পেপারের চালান শনাক্ত মো. রুবেল মীর (৩২), মো. আজমাইন কবির (৩০), মো. নাদিম (২৫), মো. ফরহাদ হোসেন (২৮), মো. শাহ আলম (২৭), সবুজ (২৪), মো. রাজা মিয়া (৪০), মো. ইব্রাহিম (২২) ও শিমুল মিয়া (২২)কে গ্রেপ্তার করা হয়।এছাড়া সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় কাঁচপুর ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি তাজুল ইসলাম (৪২)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পুরোনো মামলায় হযরত আলী (৫০) ও পনির মিয়া (৩৫) এবং আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামি শামীম মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মামলায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক

মণিপুরে ফের জাতিগত সহিংসতা, দুই দিনে নিহত ৭; বাড়ছে কুকি-নাগা উত্তেজনা

মণিপুরে ফের জাতিগত সহিংসতা, দুই দিনে নিহত ৭; বাড়ছে কুকি-নাগা উত্তেজনা

মণিপুরে দীর্ঘদিনের জাতিগত সংঘাতের মধ্যেই সাম্প্রতিক সময়ে কুকি-জো ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে সহিংসতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত দুই দিনে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে প্রশাসনের বরাতে জানা গেছে। এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর তামেংলং জেলার আপার এনকৌ গ্রামের ১৭ বছর বয়সী একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এনকে উইফেনবোকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ ওঠে।পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে তামেই শহরের দিকে যাওয়ার পথে সশস্ত্র হামলাকারীরা উইফেনবোকে গুলি করে। তার বাবা মাহিনলাকবোউ ছেলের হত্যায় ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করে জানতে চান, নির্দোষ ছেলের অপরাধ কী ছিল।এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে, ১৫ সেপ্টেম্বর তামেংলং জেলার লেইসাংফাই গ্রামে মাঠে কাজ করার সময় দুই নারী নিহত হন। নিহত চোঙ্গা সিটলহৌ ও কিমবোই সিংসন কুকি সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন। কিমবোই সম্প্রতি নার্সিংয়ের পড়াশোনা শেষ করেছিলেন এবং মাকে কাজে সহায়তা করে ফেরার সময় হামলার শিকার হন বলে জানা গেছে।এদিকে শনিবার সেনাপতি জেলায় একটি হামলায় একই স্থানে থাকা তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতরা সবাই নাগা সম্প্রদায়ের সদস্য। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় সাত মাসে মণিপুরে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন।মণিপুরে ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সংঘাত চলে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সহিংসতা কুকি-জো ও বিভিন্ন নাগা জনগোষ্ঠীর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উখরুল, সেনাপতি, তামেংলং, কামজং ও নোনি জেলার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীদের মতে, আড়ও পড়ুন,বেলুচিস্তানে ৯৬ ঘণ্টার অভিযানে ৭১ ‘সন্ত্রাসী’ নিহতের দাবি পাকিস্তানেরজমি ও আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে কুকি ও নাগাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ইতিহাসে ১৯৯০-এর দশকেও দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছিল। ওই সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হন।সাম্প্রতিক সহিংসতার জন্য কুকি ও নাগা—উভয় পক্ষই পরস্পরকে দায়ী করছে। নাগা সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো হামলার সঙ্গে জড়িত। অন্যদিকে কুকি-জো সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এনএসসিএন-আইএমসহ নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই সব ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি।সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ভারতীয় সেনাবাহিনী, আসাম রাইফেলস ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে হামলার ঘটনায় মামলা ও তদন্তের কথা জানানো হয়েছে। কয়েকটি গুরুতর মামলার তদন্ত ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) কাছেও দেওয়া হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।এদিকে ভারত সরকার, মণিপুর সরকার ও ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিলের ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের পর দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা এসেছে। তবে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড ও পারস্পরিক অভিযোগের কারণে রাজ্যের পার্বত্য এলাকাগুলোতে এখনো উত্তেজনা রয়েছে।

৫ ঘন্টা আগে

রাজধানী

‘লেডি সোলজার’ সেজে প্রেম, ইতালি প্রবাসীর কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা হাতানোর অভিযোগ

‘লেডি সোলজার’ সেজে প্রেম, ইতালি প্রবাসীর কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা হাতানোর অভিযোগ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের ছবি ও ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নারী পরিচয়ে ইতালি প্রবাসী এক তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিভিন্ন কৌশলে প্রায় ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।পিবিআই জানায়, ‘লেডি সোলজার/নারী যোদ্ধা’ নামে একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ওই যুবক নারী পরিচয়ে ইতালি প্রবাসী শাহাদাত খানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পেজটিতে সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের পোশাক পরা ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা হতো বলে তদন্তে জানা গেছে।পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত তোফায়েল আলম টিটু নারীর মতো কণ্ঠে শাহাদাতের সঙ্গে ফোন ও ইমোতে কথা বলতেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিভিন্ন কৌশলে শাহাদাত ও তার মায়ের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রায় ৭ লাখ টাকা নেওয়া হয়। অভিযুক্ত নিজের মায়ের অসুস্থতার কথাও বলে বিভিন্ন সময়ে টাকা নিয়েছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ।আরও  পড়ুন, রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ৪৯৯ গ্রেপ্তার, উদ্ধার জাল টাকা-মাদকপিবিআই জানায়, ভুক্তভোগীর মা প্রথমে আদালতে সিআর মামলা করেন। তদন্তে বিকাশ ও নগদের লেনদেনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ১০ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করা হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর মামলাটি স্বউদ্যোগে তদন্তের জন্য নেয় পিবিআই ঢাকা জেলা।তদন্তের একপর্যায়ে ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার দারুস সালাম এলাকা থেকে তোফায়েল আলম টিটুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় প্রতারণায় ব্যবহৃত বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের সিমসহ তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।পিবিআই আরও জানায়, গ্রেপ্তারের পর আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর টিটু আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।তদন্তকারীরা বলছেন, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না এবং আত্মসাৎ করা অর্থের বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।তবে আসামির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও জবানবন্দির বিষয়গুলো আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাচাই হবে; অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে আইনগতভাবে দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না।

১৫ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৫ জন

খেলাধুলা

শাকিব-অপুর একমাত্র ছেলে জয়ের ১০ম জন্মদিন, ভালোবাসায় ভাসছেন তারকা বাবা-মা

শাকিব-অপুর একমাত্র ছেলে জয়ের ১০ম জন্মদিন, ভালোবাসায় ভাসছেন তারকা বাবা-মা

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় তারকা শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের একমাত্র সন্তান আব্রাহাম খান জয় ১০ বছরে পা দিয়েছে। ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া জয়ের জন্মদিন ঘিরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তার বাবা-মা দুজনেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভালোবাসা, আবেগ ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা তুলে ধরেছেন তারা।জয়ের জন্মদিন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শাকিব খান। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ছেলে জয়কে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, ‘শুভ জন্মদিন, বাবা। সব সময় আকাশছোঁয়া স্বপ্ন দেখো, তারার কাছে পৌঁছানোর সাহস রাখো আর তোমার প্রতিটি স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দাও—এই কামনাই করি।’বাবার শুভেচ্ছাবার্তায় ফুটে উঠেছে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার প্রত্যাশা। ছেলের জীবনে বড় স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি সেই স্বপ্ন পূরণের সাহস ও আত্মবিশ্বাস থাকুক—এমনই প্রত্যাশা শাকিব খানের।অন্যদিকে, ছেলে জয়ের সঙ্গে কেক কাটার একটি ছবি প্রকাশ করেছেন অপু বিশ্বাস। জন্মদিনের আবেগঘন বার্তায় তিনি জয়কে তার জীবনের অন্যতম সুন্দর উপহার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ছেলের হাসি তার পৃথিবীকে আলোকিত করে বলেও অনুভূতি প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। একই সঙ্গে জয়ের সুস্থতা, সুন্দর ভবিষ্যৎ ও সাফল্যের জন্য সবার কাছে দোয়া ও শুভকামনা চেয়েছেন তিনি।আড়ও পড়ুন,বিয়ন্সেকে পেছনে ফেলে ভিএমএ ইতিহাস টেলর সুইফটের নতুন রেকর্ডশাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের পৃথক শুভেচ্ছাবার্তা প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। জয়ের জন্মদিনকে ঘিরে তারকা বাবা-মায়ের আবেগঘন পোস্টও ভক্তদের নজর কেড়েছে। এর আগেও জয়ের জন্মদিন উপলক্ষে শাকিব খান ছেলেকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঘোরাঘুরির ভিডিও এবং আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করেছিলেন।উল্লেখ্য, শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস ২০০৮ সালে বিয়ে করেন। দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন থাকার পর ২০১৭ সালে তাদের বিয়ে ও সন্তান জয়ের খবর প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে তাদের দাম্পত্য জীবনের সমাপ্তি ঘটে। তবে একমাত্র সন্তান জয়কে ঘিরে শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের বিভিন্ন পারিবারিক মুহূর্ত প্রায়ই ভক্তদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়।১০ বছরে পা দেওয়া আব্রাহাম খান জয়ের জন্মদিনে বাবা-মায়ের ভালোবাসা ও শুভকামনায় মুখর হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!