দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

অভিযোগের পরও কেন বিলম্ব, প্রশ্ন পুলিশের কার্যক্রম

অভিযোগের পরও কেন বিলম্ব, প্রশ্ন পুলিশের কার্যক্রম

দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্ব পুলিশের। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ, অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এসব দায়িত্ব পালনে পুলিশের তৎপরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন মহলে এমন প্রশ্ন উঠছে যে, অপরাধের তথ্য পাওয়ার পরও কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের পরিবর্তে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে অপরাধ প্রতিরোধে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে জনমনে প্রত্যাশা অনেক। কোথাও মাদক বিক্রি, কোথাও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, কোথাও চাঁদাবাজি, আবার কোথাও আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস ও স্পাকেন্দ্রকে ঘিরে নানা অভিযোগ—এসব বিষয়ে নাগরিকেরা পুলিশের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পর যদি দ্রুত পদক্ষেপের পরিবর্তে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়, তাহলে অভিযোগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। একই সঙ্গে অপরাধীরা সুযোগ পেয়ে নিজেদের তৎপরতা অব্যাহত রাখতে পারে—এমন আশঙ্কাও দেখা দেয়। তবে পুলিশের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধীরগতি রয়েছে, কিংবা সব অভিযোগের পর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য ও ঘটনাভিত্তিক যাচাই প্রয়োজন। বাস্তবতা হলো, অপরাধের ধরন, অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা, সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতি, জনবল এবং আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর পদক্ষেপের ধরন নির্ভর করে। তবু জননিরাপত্তার স্বার্থে অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত যাচাই, দায়িত্ব নির্ধারণ এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিশ্চিত করা জরুরি। অপরাধসংক্রান্ত তথ্য দিতে গিয়ে কোনো নাগরিক বা সাংবাদিক যদি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে শুধু ‘সিনিয়রদের জানান’ এমন পরামর্শ পান, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, মাঠপর্যায়ের পুলিশের দায়িত্ব কোথায়? ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া যেন অপরাধ প্রতিরোধের বিকল্প হয়ে না দাঁড়ায়। একজন নাগরিক কোনো এলাকায় মাদক বিক্রি, চাঁদাবাজি, কিংবা অনৈতিক কারবার উপস্থিতি সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য দিলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত তথ্যটি গ্রহণ করা, আরও পড়ুন,আবেরা’ স্পা ঘিরে অভিযোগ, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্নপ্রয়োজনীয় বিবরণ সংগ্রহ করা এবং ঝুঁকি বিবেচনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সার্কেল কর্মকর্তা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, উপকমিশনার কিংবা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। তবে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিষয়টি যাচাই না করে কেবল অন্য দপ্তরে পাঠিয়ে দিলে কার্যকর ফল পাওয়া কঠিন। বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, একটি কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থায় দায়িত্বের স্পষ্ট বণ্টন, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জবাবদিহি এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ প্রয়োজন হলে তা দ্রুত নেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। কিন্তু সাধারণ আইনগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও যদি অপ্রয়োজনীয় অনুমতির অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে অপরাধ প্রতিরোধের গতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর কে ব্যবস্থা নেবেন, কত দ্রুত প্রাথমিক যাচাই হবে এবং পরবর্তী অগ্রগতি কী—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট কর্মপদ্ধতি থাকা প্রয়োজন। অভিযোগকারীকে বারবার বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর পরিবর্তে একটি কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে নাগরিকদের ভোগান্তি কমবে। মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, প্রতারণা এবং বিভিন্ন অনিয়ম জননিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন তদন্ত এবং অপরাধীদের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা প্রয়োজন। মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শুধু খুচরা বিক্রেতা বা মাদক বহনকারীদের গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। মাদকের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা, অর্থায়ন এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্রের ভূমিকা অনুসন্ধান করতে হবে। একই সঙ্গে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ বাড়ানো এবং তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। কিশোর গ্যাংয়ের ক্ষেত্রেও কেবল গ্রেপ্তারনির্ভর ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারামারি, ছিনতাই কিংবা অন্যান্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের পৃষ্ঠপোষকতা, অর্থের উৎস এবং সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে হবে। স্কুল-কলেজ, পরিবার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সামাজিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে প্রতিরোধমূলক কর্মসূচিও চালাতে হবে। চাঁদাবাজির অভিযোগের ক্ষেত্রেও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় ভয়ভীতি বা প্রতিশোধের আশঙ্কায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করতে চান না। তাই অভিযোগকারীর পরিচয় ও নিরাপত্তা রক্ষার ব্যবস্থা, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করার ব্যবস্থা থাকা দরকার। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, ভাড়া করা ফ্ল্যাট ও স্পাকেন্দ্রকে ঘিরে মাঝেমধ্যে নানা ধরনের অভিযোগ সামনে আসে। কোথাও অননুমোদিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম, কোথাও লাইসেন্সসংক্রান্ত অনিয়ম, আবার কোথাও মাদক, মানব পাচার, আরও পড়ুন,শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসবপ্রতারণা কিংবা যৌন শোষণের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। তবে অভিযোগ গুরুতর হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রথমে তার বৈধ কাগজপত্র, ট্রেড লাইসেন্স, ভবন ব্যবহারের অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণের বিষয় যাচাই করা যেতে পারে। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী পুলিশ, স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে মানব পাচার, জোরপূর্বক যৌন শোষণ, মাদক সরবরাহ কিংবা কোনো ব্যক্তিকে আটকে রাখার মতো অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা জরুরি। ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রমাণ সংগ্রহ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বৈধভাবে পরিচালিত হোটেল বা স্পাকেন্দ্রের কর্মীদের অযথা হয়রানি না করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় কতটা কার্যকর? একটি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে একাধিক দপ্তরের কাছে অভিযোগ থাকলে কে তদন্তের নেতৃত্ব দেবে, কে নথিপত্র যাচাই করবে এবং কে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেবে তা নির্ধারিত থাকা প্রয়োজন। সমন্বয়ের অভাবে কোনো অভিযোগ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে জনমনে প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। অপরাধ দমনে পুলিশের সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো আইন প্রয়োগের সময় সংঘবদ্ধ জনতার বাধা বা মব সৃষ্টি। কোনো অভিযান, গ্রেপ্তার কিংবা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের কাজে বাধা দিলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে। কোথাও পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা কিংবা আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে জনতার প্রতিটি সমাবেশকে মব হিসেবে বিবেচনা করা কিংবা পুলিশের প্রতিটি বলপ্রয়োগকে যথার্থ বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কোনো ঘটনার প্রকৃতি, পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, ভিডিওচিত্র এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করতে হবে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং সহিংসভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। আইন প্রয়োগের সময় পুলিশকে পেশাদারত্ব, সংযম এবং আনুপাতিক বলপ্রয়োগের নীতি অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশের বৈধ দায়িত্ব পালনে বাধা, হামলা কিংবা অপরাধীকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত কি না, তা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ার; জনতার শাস্তি দেওয়ার অধিকার নেই। পুলিশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকের অধিকার রক্ষা—দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য সংঘবদ্ধ সহিংসতা মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত জনবল, কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা এবং ঘটনার ভিডিও ও অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণের ব্যবস্থা প্রয়োজন। পাশাপাশি পুলিশের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা অসদাচরণের অভিযোগ উঠলেও তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। এতে পুলিশের প্রতি আস্থা এবং আইন প্রয়োগের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। অপরাধের ঘটনা ঘটার পর থানার পুলিশ যদি প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে নির্দেশের অপেক্ষায় থাকে, তাহলে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ ব্যাহত হতে পারে। তবে সব সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে নেওয়া সম্ভব নয়; কিছু ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন কিংবা বিশেষায়িত সংস্থার সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। তাই কোন ধরনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে এবং কোন ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের অনুমোদন লাগবে, তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা দরকার। থানায় অভিযোগ গ্রহণ, সাধারণ ডায়েরি, মামলা, জরুরি সাড়া এবং তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য কার্যকর মানদণ্ড থাকা প্রয়োজন। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পুলিশ পাঠানো, ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি থানার কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করে অযৌক্তিক বিলম্বের কারণ শনাক্ত করা জরুরি। কোনো অভিযোগের পর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তার কারণ নথিভুক্ত করতে হবে। অভিযোগটি ভিত্তিহীন, এখতিয়ারবহির্ভূত কিংবা অতিরিক্ত তদন্তের প্রয়োজন আছে কি না, আরও পড়ুন,জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হোক জাতীয় অগ্রাধিকার, সম্মিলিত দায়িত্ব হোক বাস্তবায়নের শক্তিতা স্পষ্টভাবে জানানো হলে অভিযোগকারীও বিষয়টি বুঝতে পারবেন। এতে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কমবে এবং পুলিশি সেবায় স্বচ্ছতা বাড়বে। অপরাধ দমনে কার্যকর ফল পেতে সরকারের নীতিগত নির্দেশনা এবং পুলিশ সদর দপ্তরের প্রশাসনিক তদারকি গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু কঠোর নির্দেশ জারি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য জনবল, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, জবাবদিহি এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করতে হবে। প্রথমত, অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত যাচাই ও পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সময়ভিত্তিক কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করা যেতে পারে। জরুরি অভিযোগের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সাড়া এবং অন্যান্য অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রাথমিক যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, থানা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কার্যক্রম মূল্যায়নে শুধু গ্রেপ্তার বা অভিযানের সংখ্যা নয়, অপরাধ প্রতিরোধ, অভিযোগ নিষ্পত্তি, তদন্তের মান এবং নাগরিকের নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে। তৃতীয়ত, মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করতে হবে। স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তথ্যদাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, পুলিশের ওপর হামলা কিংবা আইন প্রয়োগে বাধার ঘটনা এবং পুলিশের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ—উভয় ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা থাকতে হবে। অপরাধী যে-ই হোক, প্রমাণের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পঞ্চমত, হোটেল, গেস্ট হাউস, স্পাকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। নিয়মিত পরিদর্শন, লাইসেন্স যাচাই এবং আইনভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ষষ্ঠত, পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা বা অযৌক্তিক বিলম্বের অভিযোগ জানানোর জন্য সহজলভ্য অভিযোগব্যবস্থা রাখতে হবে। অভিযোগের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা পর্যালোচনার সুযোগ থাকলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।পুলিশের কার্যকারিতা শুধু অভিযান বা গ্রেপ্তারের সংখ্যায় পরিমাপ করা যায় না। একজন নাগরিক বিপদের সময় কত দ্রুত সহায়তা পাচ্ছেন, অভিযোগ জানানোর পর কতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং অপরাধের বিরুদ্ধে আইন কতটা নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা কমে গেলে অপরাধের তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত যাচাই ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে নাগরিকেরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতায় উৎসাহিত হন। এ কারণে পুলিশের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক উন্নয়ন, স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত মতবিনিময় এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির অগ্রগতি জানানো প্রয়োজন। সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও অপরাধসংক্রান্ত তথ্যের নিরপেক্ষ যাচাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং অভিযোগের অগ্রগতি অনুসরণ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আগাম অপরাধী হিসেবে আখ্যায়িত না করে প্রমাণ, নথিপত্র ও আইনগত অবস্থান বিবেচনায় প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। এতে জনস্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাও বজায় থাকবে। মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম প্রতিরোধে পুলিশের সক্রিয়তা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জবাবদিহির বিকল্প নেই। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগের সময় পুলিশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মব সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে হবে। অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর শুধু ‘সিনিয়রদের জানান’ বলে দায়িত্ব শেষ করা কোনো কার্যকর সমাধান হতে পারে না। প্রয়োজন তথ্য গ্রহণ, দ্রুত যাচাই, যথাযথ পদক্ষেপ এবং ফলাফল পর্যবেক্ষণের সমন্বিত ব্যবস্থা। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও মাঠপর্যায়ের পুলিশের কার্যকর উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। সরকার ও পুলিশ সদর দপ্তরের উচিত অপরাধ দমনে বাস্তবভিত্তিক নির্দেশনা, নিয়মিত তদারকি এবং দায়িত্বে অবহেলার ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা। তবে কঠোরতা মানে নির্বিচার বলপ্রয়োগ নয়।  আইনের সীমার মধ্যে দৃঢ়, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণই হওয়া উচিত পুলিশের মূলনীতি। অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা, নিরপরাধ নাগরিককে হয়রানি থেকে রক্ষা করা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই পুলিশের কার্যকারিতা প্রমাণিত হবে। আইন প্রয়োগে অযথা বিলম্ব ও দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দূর করে পেশাদার, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।আরও পড়ুন,বনানীর গেস্ট হাউসের অন্ধকার জগৎ নিয়ে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধএবিষয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেণ, অপরাধ দমনে পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে দায়িত্বশীল, পেশাদার ও তৎপর ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো অপরাধের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর তা অবহেলা করা কিংবা অযথা সময়ক্ষেপণ করা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করতে হবে, তবে এর কারণে আইনগত দায়িত্ব পালনে বিলম্ব করা যাবে না। অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, অবৈধ কর্মকাণ্ড এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ নিয়মিত কাজ করে। এসব অপরাধ নির্মূলে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ অপরাধসংক্রান্ত তথ্য দিলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা এবং তথ্যদাতার নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, পুলিশের আইনানুগ দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, হামলা করা কিংবা সংঘবদ্ধভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। একই সঙ্গে পুলিশকেও দায়িত্ব পালনের সময় আইন, মানবাধিকার ও পেশাগত আচরণবিধি অনুসরণ করতে হবে। কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা বা অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করা। জনসাধারণের বক্তব্য অনুযায়ী তারা বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ চাই, পুলিশ যেন অপরাধের তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। কোনো এলাকায় মাদক বিক্রি, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, চাঁদাবাজি কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ জানালে পুলিশ যদি শুধু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাতে বলে, তাহলে সাধারণ মানুষ হতাশ হন। অপরাধীরা সুযোগ পেলে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়, আর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। আমরা চাই, থানায় অভিযোগ জানালে পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তা যাচাই করবে এবং অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে পুলিশের দায়িত্ব পালনের সময় কেউ যেন সংঘবদ্ধভাবে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশকে যেমন দায়িত্বশীল হতে হবে, তেমনি জনগণকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করতে হবে। আমাদের দাবি, সরকার ও পুলিশ প্রশাসন অপরাধ দমনে কার্যকর নির্দেশনা দিক এবং মাঠপর্যায়ে তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করুক। পুলিশের কোনো সদস্য দায়িত্বে অবহেলা করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আবার পুলিশ আইনানুগ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়লে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাও দিতে হবে। আমরা এমন একটি নিরাপদ সমাজ চাই, যেখানে অপরাধী যে-ই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না এবং সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে বসবাস করতে পারবেন।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

সরকারি ফ্ল্যাট সাবলেট বন্ধে কঠোর নির্দেশনা

সরকারি আবাসিক বাসা বা ফ্ল্যাটের কোনো অংশ কিংবা পুরো বাসা ভাড়া বা সাবলেট দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। ইতোমধ্যে যারা সরকারি বাসা ভাড়া দিয়েছেন, তাদের আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভাড়াটিয়া অপসারণ করে নিজ নিজ বরাদ্দকৃত বাসায় বসবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মচারীর বরাদ্দ বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরিদপ্তরের আওতাধীন সরকারি বাসা ও ফ্ল্যাটের কয়েকজন বরাদ্দপ্রাপক এক বা একাধিক কক্ষ কিংবা পুরো বাসা অন্যের কাছে সাবলেট বা ভাড়া দিয়েছেন। এ ধরনের কার্যক্রম ‘বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২’-এর পরিপন্থি। এ অবস্থায় বরাদ্দপ্রাপকদের নিজ নামে বরাদ্দ করা বাসা বা ফ্ল্যাটের সম্পূর্ণ কিংবা আংশিক কোনো অংশ ভাড়া বা সাবলেট না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আরও পড়ুন,খাদ্য নিরাপত্তায় নিবন্ধন-লাইসেন্সের নতুন নিয়ম যারা ইতোমধ্যে ভাড়া দিয়েছেন, তাদের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভাড়াটিয়া অপসারণ করে যথানিয়মে বরাদ্দকৃত বাসায় অবস্থান করতে বলা হয়েছে। গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার পর কোনো সরকারি বাসায় সাবলেট বা ভাড়াটিয়া পাওয়া গেলে কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ বাতিল করা হতে পারে। পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২-এর ১৪(৩) বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপকের অফিসপ্রধান ও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হবে। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের এ নির্দেশনার ফলে সরকারি বাসা বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম বন্ধ এবং বরাদ্দপ্রাপকদের নিজ নিজ বাসায় বসবাস নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তায় নিবন্ধন-লাইসেন্সের নতুন নিয়ম

খাদ্য উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। আগামী ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হচ্ছে ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’। নতুন বিধানের আওতায় রাস্তার পাশের খাবারের দোকান, ছোট রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে বড় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান ও আমদানিকারকদেরও নিবন্ধনের আওতায় আসতে হবে। গত ১৬ জুলাই সরকারি গেজেটে প্রকাশিত এ প্রবিধানমালায় নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্য স্থাপনার জন্য নিবন্ধনের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক, প্রিবায়োটিক ও নিউট্রাসিউটিক্যালসহ বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের চার শ্রেণির ব্যবসার ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বাসসকে বলেন, নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থা কার্যকর হলে অনিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন নিয়ন্ত্রণ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা নির্ধারণ এবং ভোক্তাদের অভিযোগ নিষ্পত্তি সহজ হবে। নিবন্ধিত ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। নতুন বিধানের আওতায় রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ, ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী, মোড়কজাত খাবার উৎপাদনকারী এবং নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য আমদানিকারকদের নিবন্ধন নিতে হবে। রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি, পেঁয়াজুসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রেতারাও প্রযোজ্য বিধানের আওতায় আসবেন। বিধিমালার গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো খাদ্যপণ্যের মোড়কে বিএফএসএর নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করা। এতে ভোক্তারা পণ্যের উৎস ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করতে পারবেন এবং অনিয়মের অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে নম্বরটি ব্যবহার করতে পারবেন। আরও পড়ুন,এলডিসি থেকে উত্তরণ ২০২৯ সালেতবে নিবন্ধন নম্বর থাকলেই কোনো পণ্য নিরাপদ এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে না। পণ্যের মান, উপাদান, উৎপাদন ও সংরক্ষণপ্রক্রিয়ার যথাযথ তদারকিও জরুরি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ও শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আব্দুল কাদের বলেন, শিশু, প্রবীণ ও নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য তৈরি বিশেষ খাদ্যপণ্যের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণে লাইসেন্সিং ব্যবস্থা গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। বিএফএসএর তথ্য অনুযায়ী, প্রথমবার নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন বিনামূল্যে করা হবে। বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্সের ফি আয়তনভেদে ১০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ তিন বছর। নির্ধারিত ফরমে সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে আবেদন করা যাবে; পর্যায়ক্রমে শতভাগ অনলাইন আবেদন চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। নির্ধারিত ক্ষেত্রে নিবন্ধন বা লাইসেন্স ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই নতুন বিধান কার্যকরের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে বিধিমালার বাস্তব সুফল নির্ভর করবে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিয়মিত পরিদর্শন, আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ভোক্তাদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও ভ্রাম্যমাণ খাদ্য ব্যবসায়ীদের কাছে বিধিমালার শর্ত ও আবেদনপ্রক্রিয়া সহজভাবে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা গেলে খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন বিধানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এলডিসি থেকে উত্তরণ ২০২৯ সালে

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বাংলাদেশকে আরও তিন বছর সময় দিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পূর্বনির্ধারিত ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি তালিকা থেকে বের হবে বাংলাদেশ। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে উরুগুয়ের উত্থাপিত একটি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাড়তি সময়ের ফলে দেশের অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা, রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুবিধার পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া এবং প্রতিবছর জাতিসংঘের কাছে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির (ইউএন-সিডিপি) কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল সরকার। পরে কমিটি আবেদনটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার সুপারিশ করে।আরও পড়ুন,তাহসিফের মৃত্যুর রহস্য: পিবিআইয়ের হেফাজতে শেষ সাক্ষাৎকারী দীপ গত ২১ জুলাই জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) সাধারণ পরিষদকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুপারিশ পাঠায়। এর ধারাবাহিকতায় নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হলো। উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে প্রথম এলডিসি তালিকাভুক্ত হয় বাংলাদেশ। ২০১৮ ও ২০২১ সালের পর্যালোচনায় মাথাপিছু জাতীয় আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা এই তিনটি মানদণ্ড পূরণ করে দেশটি। ২০২১ সালে উত্তরণের সুপারিশ অনুমোদনের পর করোনার প্রভাব বিবেচনায় পাঁচ বছরের প্রস্তুতির সময় দেওয়া হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তে সেই সময় আরও তিন বছর বাড়ল। তবে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপানসহ বিভিন্ন বাজারে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা বা জিএসপি পরিবর্তিত হতে পারে। এতে বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি প্রতিযোগিতায় চাপ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। তাই বাড়তি তিন বছরকে অর্থনৈতিক সংস্কার, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে সক্ষমতা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তাহসিফের মৃত্যুর রহস্য: পিবিআইয়ের হেফাজতে শেষ সাক্ষাৎকারী দীপ

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর সঙ্গে শেষ সময়ে দেখা করা ‘জুনিয়র বন্ধু’ হিসেবে পরিচিত দীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তাহসিফের নিখোঁজ হওয়ার আগে দীপের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটানোর তথ্য সামনে আসার পর ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাহসিফের মৃত্যুর রহস্য উদ্‌ঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দীপকে পিবিআই সদস্যরা হেফাজতে নিয়েছেন। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের ‘বি’ ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। দীপ ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে বলে জানা গেছে। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে তাহসিফের সঙ্গে দেখা করেন দীপ। তাঁরা হাত মেলানোর পর পৃথক মোটরসাইকেলে সেখান থেকে চলে যান। পরিবারের সদস্যরা ফুটেজে থাকা ব্যক্তিকে দীপ হিসেবে শনাক্ত করেছেন। তাহসিফের পরিবারের অভিযোগ, দীপের ডাকে সাড়া দিয়েই সেদিন বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। পরে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।আরও পড়ুন,এলপিজির বাজারে অস্থিরতা, ভোক্তার স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন দীপের দাবি ছিল, তাহসিফের মোটরসাইকেলে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তাঁরা একটি ওয়ার্কশপে যান। কাজ শেষে বাসায় ফিরে একসঙ্গে খাবার খেয়ে তিনি নিজের গন্তব্যে চলে যান। তবে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের বাইরে অন্য কোনো তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় একটি মরদেহ উদ্ধার করে নদী পুলিশ। হাতে থাকা বিশেষ ঘড়ি ও পকেটে পাওয়া আইফোনের সূত্র ধরে স্বজনেরা মরদেহটি তাহসিফের বলে শনাক্ত করেন। বৃহস্পতিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা হয়। পরে ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের দাবি, তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে নদে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় কারও সম্পৃক্ততা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের অগ্রগতির মধ্য দিয়ে মৃত্যুর রহস্য উদ্‌ঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনেরা।

রাজনীতিরাজনীতি

অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই, ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট ইসি

অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই, ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট ইসি

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের পরিবেশ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে কমিশন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, বিকেল ৪টায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। সকাল থেকে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নির্বাচন কমিশনের কাছে আসেনি বলেও জানান তিনি। ভোট পড়ার হার সম্পর্কে ইসি সচিব বলেন, বেলা ২টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোট পড়ার হার ছিল ৪৮ শতাংশ। বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ হার আরও বাড়তে পারে। তবে ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর প্রকৃত ভোটের হার জানা যাবে।আরও পড়ুন,অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না: শফিকুর রহমান ইতিমধ্যে ভোট গণনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গণনা শেষে ফলাফল সাংবাদিকদের জানানো হবে। নির্বাচন নিয়ে কমিশন সন্তুষ্ট কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, কমিশন অবশ্যই সন্তুষ্ট। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সবার সহযোগিতায় একটি ভালো নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)। এ ছাড়া বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটারদের অনেকে। ভোট গণনা শেষে ফলাফল প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা।

অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না: শফিকুর রহমান

অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না: শফিকুর রহমান

আওয়ামী লীগকে ‘ফ্যাসিস্টদের একটা ক্লাব’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ কখনো স্বাভাবিকভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে পারেনি। ভবিষ্যতে কেউ একই পথ অনুসরণ করতে চাইলে তাদের পরিণতিও ভিন্ন হবে না। মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের মাল্টিপারপাস হলে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, মানুষ ফ্যাসিবাদের পরিবর্তন চায় বলেই গণভোটে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। তবে সেই রায় শুধু সংবিধান সংশোধন বা ঘষামাজার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য দেওয়া হয়নি। তাঁর মতে, জনগণ এমন রাজনৈতিক পরিবর্তন চায়, যেখানে দেশ ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত হবে এবং ফ্যাসিবাদী হওয়ার সুযোগ থাকবে না। সরকারের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদের যন্ত্রণা ভোগ করার পরও যারা এখন ক্ষমতায় আছেন, তাঁরা সেই অভিজ্ঞতা ভুলে গেছেন। আরও পড়ুন,১১-দলীয় ঐক্যে থেকেও স্বতন্ত্র পরিচয় জোরদারে তৎপর এনসিপিজনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার এই প্রত্যাশা পূরণ না করলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাবে জামায়াত। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে লগি-বৈঠা নিয়ে হামলা ও হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। তাঁর অভিযোগ, ওই ঘটনায় মামলা হলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে মামলার নথিপত্র গায়েব করে এবং মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। তিনি জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। তবে বিচার প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, তাঁরা চাপিয়ে দেওয়া কোনো বিচার চান না। তাঁর ভাষ্য, ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে অপরাধীদের শাস্তি হওয়া উচিত। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে এবং জুলাইয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের আত্মত্যাগ স্মরণ রাখার আহ্বান জানান তিনি। রাজনীতির নামে সন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ করে মানবিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশে যারা রাজনীতি করবেন, তাঁদের জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

১১-দলীয় ঐক্যে থেকেও স্বতন্ত্র পরিচয় জোরদারে তৎপর এনসিপি

১১-দলীয় ঐক্যে থেকেও স্বতন্ত্র পরিচয় জোরদারে তৎপর এনসিপি

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের কর্মসূচিতে অংশ নিলেও নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরতে তৎপর হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। যৌথ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দলটি কতটা রাজনৈতিক পরিচিতি ও সাংগঠনিক সুবিধা পাচ্ছে, তা নিয়ে দলের ভেতরে নানা মত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ১১-দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগীয় লংমার্চের আগের দিন শুক্রবার ঢাকার শাহবাগে গণবিক্ষোভের আয়োজন করেছে এনসিপি। দলটির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা যৌথভাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। গণবিক্ষোভ সফল করতে ২৩ অক্টোবর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রচারপত্র বিতরণ করছেন দলটির নেতারা। এসব কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা। এদিকে চট্টগ্রাম ও রংপুরের পর আগামী শনিবার ৩১ অক্টোবর খুলনা বিভাগে যাচ্ছে ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চের গাড়িবহর। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এবার লংমার্চে এনসিপির অংশগ্রহণ প্রতীকী পর্যায়ে থাকতে পারে। আগের দুটি কর্মসূচিতে দলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা অংশ নিলেও এবার প্রতিনিধি হিসেবে দু-একজন নেতাকে পাঠানোর আলোচনা চলছে। এনসিপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার মতে, জামায়াতের সঙ্গে মতাদর্শ ও সাংগঠনিক কাঠামোর পার্থক্য থাকলেও যৌথ কর্মসূচির কারণে জনপরিসরে দুই দলকে এক করে দেখানোর প্রবণতা রয়েছে। তাঁদের ধারণা, আরও পড়ুন,শফিকুর রহমানের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎআগের লংমার্চগুলোতে অংশ নিয়ে পৃথক দল হিসেবে এনসিপির পরিচিতি কিংবা সাংগঠনিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। এ কারণে নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান তুলে ধরতে দলীয় কর্মসূচি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দলটির রাজনৈতিক পর্ষদের এক সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, খুলনা বিভাগীয় লংমার্চে নাহিদ ইসলাম অংশ না-ও নিতে পারেন। আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিনিধি হিসেবে সারজিস আলমের যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়নি। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে নাহিদ ইসলামকে লংমার্চে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে এনসিপির একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে। বুধবার ১১-দলীয় ঐক্যের নেতাদের বৈঠকেও অংশ নেন নাহিদ ইসলাম। তবে শাহবাগে গণবিক্ষোভ আয়োজনের সঙ্গে লংমার্চের কোনো বিরোধ নেই বলে জানিয়েছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তাঁর বক্তব্য, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দলের প্রার্থী থাকায় মহানগর পর্যায়ে কমিটি পুনর্গঠন এবং জনসম্পৃক্ত বিষয়ে স্বতন্ত্র কর্মসূচির প্রয়োজন থেকেই এ গণবিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, ১১-দলীয় ঐক্যের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচিতি ও সাংগঠনিক অবস্থান জোরদার করতে চাইছে এনসিপি। খুলনার লংমার্চে দলটির অংশগ্রহণের ধরন শেষ পর্যন্ত কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

শফিকুর রহমানের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

শফিকুর রহমানের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের প্রধান ও রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। এ সময় বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় রাজধানীর বসুন্ধরায় বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূতাবাসের ফার্স্ট কাউন্সেলর ও রাজনৈতিক কর্মকর্তা মিস কামিলা পার্টিকা। বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আরও পড়ুন,জনগণের পাশে দাঁড়াতে বিরোধী নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বানজুলাই সনদ, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি দেশের চলমান সংস্কারপ্রক্রিয়া নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা। এ সময় বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করে, পারস্পরিক সহযোগিতা, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা

চাঁদা তুলে মাঠের জমি কিনলেন গ্রামবাসী

চাঁদা তুলে মাঠের জমি কিনলেন গ্রামবাসী

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামে অবশেষে পূরণ হলো দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। গ্রামবাসীর সম্মিলিত অর্থায়নে কেনা হয়েছে ৬০ শতাংশ জমি। সেখানে গড়ে উঠবে শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য খেলার মাঠ। জমি বুঝে পাওয়ার আনন্দে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে উৎসব করেন গ্রামের বাসিন্দারা। বাবুপুর গ্রামে সাত শতাধিক পরিবারের বসবাস। জনসংখ্যা সাড়ে তিন হাজারের বেশি হলেও এত দিন সেখানে নির্দিষ্ট কোনো খেলার মাঠ ছিল না। ধান কাটার পর ফাঁকা জমিতে শিশুরা খেলাধুলা করলেও নতুন করে ফসলের আবাদ শুরু হলে বন্ধ হয়ে যেত সেই সুযোগ। দীর্ঘদিন ধরে মাঠের জন্য জমি কেনার চেষ্টা করেও সফল হননি গ্রামবাসী। এবার উদ্যোগটি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেন গ্রামের সন্তান এস এম ইকবাল মাহমুদ ও ক্রীড়াব্যক্তিত্ব খোরশেদ আলম। গত ৮ সেপ্টেম্বর গ্রামবাসীকে নিয়ে মতবিনিময় সভা হয়। সভায় সবাই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। বিত্তবানদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এগিয়ে আসেন। কেউ ২০০, কেউ ৫০০ বা এক হাজার টাকা দিয়েছেন। আবার কেউ দুই হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা করেছেন। গ্রামবাসীর দেওয়া অর্থে ইকবাল হোসেন সুজনের কাছ থেকে ৬০ শতাংশ জমি কেনা হয়। প্রতি শতাংশের দাম নির্ধারণ করা হয় ৫২ হাজার টাকা। জমির মালিকও এক শতাংশ জমি দান করেন। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জমিটি গ্রামবাসীর কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। জমি বুঝে নেওয়ার দিন সকালে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে সেখানে সমবেত হন গ্রামের মানুষ। উত্তোলন করা হয় জাতীয় পতাকা।আরও পড়ুন,টাঙ্গাইলে ‘ব্যাক টু নাইন্টিজ’ কনসার্ট শনিবার, ফিরবে নব্বই দশকের ব্যান্ড সংগীতের সেই উন্মাদনা উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি গ্রামের প্রবীণদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেন তরুণেরা। উদ্যোক্তা খোরশেদ আলম জানান, আপাতত ৬০ শতাংশ জমি কেনা হয়েছে। পাশে আরও ৬০ শতাংশ জমি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। মোট ১২০ শতাংশ জমি পাওয়া গেলে সেখানে ভালো মানের খেলার মাঠ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। নতুন মাঠ পেয়ে উচ্ছ্বসিত গ্রামের কিশোরেরাও। স্থানীয় কিশোর হাবিবুল্লাহ সালমান ও রাব্বী জোহা জানায়, আগে বাড়ির উঠান কিংবা ফসলি জমিতে খেলতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হতো। এখন সারা বছর খেলার সুযোগ তৈরি হবে। গ্রামের প্রবীণ আব্দুল মান্নান ব্যাপারী বলেন, দীর্ঘদিনের চেষ্টা শেষে মাঠের জন্য জমি পাওয়ায় সবাই আনন্দিত। বাবুপুর মসজিদ কমিটির সভাপতি নজরুল শিকদারের আশা, নিয়মিত খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি হলে তরুণেরা মাদক ও সন্ত্রাস থেকে দূরে থাকতে উৎসাহিত হবে। সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের সহায়তা ছাড়াই গ্রামবাসীর এমন সম্মিলিত উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা। তাঁর মতে, বাবুপুরের এই উদ্যোগ অন্য গ্রামের মানুষকেও নিজেদের প্রয়োজনে একসঙ্গে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।

টাঙ্গাইলে ‘ব্যাক টু নাইন্টিজ’ কনসার্ট শনিবার, ফিরবে নব্বই দশকের ব্যান্ড সংগীতের সেই উন্মাদনা

টাঙ্গাইলে ‘ব্যাক টু নাইন্টিজ’ কনসার্ট শনিবার, ফিরবে নব্বই দশকের ব্যান্ড সংগীতের সেই উন্মাদনা

নব্বই দশকের জনপ্রিয় ব্যান্ড সংগীতের সোনালি দিনগুলো আবারও ফিরিয়ে আনতে টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ব্যতিক্রমী সংগীত আয়োজন ‘Back to 90s’ কনসার্ট। আগামী ৩১ অক্টোবর, শনিবার বিকেল ৫টায় টাঙ্গাইল পৌরউদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে এই কনসার্ট। নব্বই দশকের জনপ্রিয় ব্যান্ড সংগীতের সুর, স্মৃতি, আবেগ ও উন্মাদনায় সংগীতপ্রেমীদের মাতিয়ে তুলতেই এ আয়োজন। টাঙ্গাইলের জনপ্রিয় ব্যান্ড Touch the Band-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই কনসার্টকে ঘিরে সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আগ্রহ। আয়োজকদের প্রত্যাশা, নব্বই দশকের গান ভালোবাসেন এমন শ্রোতাদের পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের কাছেও এই আয়োজন বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী। তবে তাঁর উপস্থিতির বিষয়টি আয়োজকদের পক্ষ থেকে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নব্বই দশকের গান মানেই আবেগ ও উন্মাদনা নব্বই দশক বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায়। এ সময়ের গান শুধু বিনোদনের মাধ্যম ছিল না; বরং তরুণদের চিন্তা, অনুভূতি, স্বপ্ন, প্রেম, প্রতিবাদ ও জীবনবোধের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে গিয়েছিল। গিটারের ঝংকার, আরও পড়ুন,মাটি খননের সময় সন্ধান পাওয়া গেল ‘ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ, টাঙ্গাইল’ লেখা দুটি লোহার বাক্সড্রামের তালে তালে মঞ্চ মাতানো পরিবেশনা এবং হৃদয়ছোঁয়া কথার গান আজও অসংখ্য শ্রোতার মনে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। সময়ের পরিবর্তনে সংগীতের ধরন, পরিবেশনা ও শ্রোতাদের পছন্দে নানা পরিবর্তন এলেও নব্বই দশকের ব্যান্ড সংগীতের আবেদন এখনো অটুট। পুরোনো দিনের সেই জনপ্রিয় গানগুলো শুনলে অনেকের মনে ফিরে আসে কৈশোর-তারুণ্যের স্মৃতি, বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময় এবং জীবনের নানা আবেগঘন মুহূর্ত। ‘Back to 90s’ কনসার্টের মূল লক্ষ্যও সেই স্মৃতি ও আবেগকে নতুন করে জাগিয়ে তোলা। একই সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের কাছে বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য তুলে ধরার একটি সুযোগ তৈরি করা। নতুন প্রজন্মের কাছে নব্বই দশকের গান পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য কনসার্টের আয়োজন ও উদ্দেশ্য নিয়ে Touch the Band-এর ভোকাল লিজু বাউলার সঙ্গে কথা হয়। লিজু বাউলা বলেন, “বর্তমান জেন-জি প্রজন্মের মাঝে নব্বই দশকের গানকে নতুনভাবে তুলে ধরার জন্যই আমাদের এই আয়োজন। নব্বই দশকের জনপ্রিয় ব্যান্ড সংগীত মানেই একটা আবেগ, একটা উন্মাদনা। সেই আবেগ ও উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ুক বর্তমান প্রজন্মের মাঝেএটাই আমাদের প্রত্যাশা।” তিনি আরও বলেন, নব্বই দশকের ব্যান্ড সংগীতের মধ্যে এমন এক ধরনের প্রাণশক্তি রয়েছে, যা সময় পেরিয়েও শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। সেই সময়ের গান নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে তারা বাংলা ব্যান্ড সংগীতের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে পারবে। তাঁর মতে, সংগীতের কোনো প্রজন্মগত সীমাবদ্ধতা নেই। একটি প্রজন্মের কাছে যে গান স্মৃতি ও আবেগের অংশ, অন্য প্রজন্মের কাছেও সেই গান হয়ে উঠতে পারে নতুন আবিষ্কার। এভাবেই সংগীতের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে গানের ভালোবাসা। স্মৃতি ও তারুণ্যের মেলবন্ধন ঘটাবে ‘Back to 90s’ ‘Back to 90s’ কেবল একটি কনসার্ট নয়; এটি নব্বই দশকের সংগীতপ্রেমীদের জন্য স্মৃতির পাতায় ফিরে যাওয়ার একটি উপলক্ষ। অন্যদিকে বর্তমান প্রজন্মের জন্য এটি হতে পারে বাংলা ব্যান্ড সংগীতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়কে কাছ থেকে জানার সুযোগ। একসময় ক্যাসেট প্লেয়ার, অডিও ক্যাসেট, রেডিও এবং বিভিন্ন সংগীতানুষ্ঠানের মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ব্যান্ডের গান মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ ছিল। আরও পড়ুন,কসবায় ২০ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, পলাতক আরও একজনবন্ধুদের আড্ডা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সবখানেই এসব গানের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই সময়ের অনেক গান আজও শ্রোতাদের কণ্ঠে কণ্ঠে ফিরে আসে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে গান শোনার মাধ্যম বদলে গেলেও পুরোনো দিনের জনপ্রিয় ব্যান্ড সংগীতের প্রতি মানুষের ভালোবাসা কমেনি। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নতুন শ্রোতারাও পুরোনো দিনের গান আবিষ্কার করছেন। এমন বাস্তবতায় ‘Back to 90s’-এর মতো আয়োজন সংগীতের বিভিন্ন প্রজন্মকে একই মঞ্চের আবেগে যুক্ত করতে পারে। টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রার প্রত্যাশা টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও ব্যান্ড সংগীতের রয়েছে নিজস্ব পরিচিতি। স্থানীয় সংগীতশিল্পী ও ব্যান্ডপ্রেমীদের জন্য এ ধরনের আয়োজন নিজেদের সংগীতচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে। Touch the Band-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই কনসার্ট সফল হলে ভবিষ্যতে টাঙ্গাইলে আরও বড় পরিসরে সংগীতানুষ্ঠান আয়োজনের পথ তৈরি হতে পারে বলে আশা করছেন সংগীতপ্রেমীরা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, শনিবার বিকেলে পৌরউদ্যানের এই আয়োজন পরিণত হবে সংগীতপ্রেমীদের মিলনমেলায়। নব্বই দশকের গান ভালোবাসেন এমন শ্রোতারা ফিরে পাবেন প্রিয় সময়ের স্মৃতি, আর নতুন প্রজন্ম পরিচিত হবে বাংলা ব্যান্ড সংগীতের এক আবেগময় অধ্যায়ের সঙ্গে। সব মিলিয়ে ‘Back to 90s’ হতে যাচ্ছে পুরোনো দিনের গানের স্মৃতি, বর্তমান প্রজন্মের আগ্রহ এবং বাংলা ব্যান্ড সংগীতের প্রতি ভালোবাসাকে এক সুতোয় গাঁথার একটি প্রয়াস।

মাটি খননের সময় সন্ধান পাওয়া গেল ‘ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ, টাঙ্গাইল’ লেখা দুটি লোহার বাক্স

মাটি খননের সময় সন্ধান পাওয়া গেল ‘ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ, টাঙ্গাইল’ লেখা দুটি লোহার বাক্স

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় মাটি খননের সময় ‘East Pakistan Police Tangail’ লেখা দুটি লোহার বাক্স পাওয়া গেছে।  বাক্স দুটির ভেতরে গ্রেনেডসদৃশ বস্তু রয়েছে বলে জানা গেছে।  খবর পেয়ে সখীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাক্স দুটি উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উপজেলার কচুয়া থলচালা (টঙ্গীর চালা) এলাকায়,  মাটি খননের সময় বাক্স দুটি পাওয়া যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাটি খনন করতে গিয়ে শ্রমিকেরা হঠাৎ দুটি লোহার বাক্স দেখতে পান। পরে বাক্সগুলোর গায়ে ‘East Pakistan Police Tangail’ লেখা একটি নেমপ্লেট দেখতে পেয়ে বিষয়টি জানাজানি হয়।  খবর পেয়ে সখীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাক্স দুটি উদ্ধার করে। আরও পড়ুন,কসবায় ২০ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, পলাতক আরও একজনপ্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাক্স দুটি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার হতে পারে। তবে বাক্সগুলোর প্রকৃত পরিচয়, ভেতরে থাকা বস্তুগুলোর ধরন এবং এগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এদিকে, বাক্সের ভেতরে গ্রেনেডসদৃশ বস্তু থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের বস্তু বিপজ্জনক হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলো স্পর্শ বা নাড়াচাড়া না করার জন্য সতর্ক থাকা জরুরি। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

কসবায় ২০ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, পলাতক আরও একজন

কসবায় ২০ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, পলাতক আরও একজন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২০ কেজি গাঁজাসহ মোঃ আক্তার হোসেন (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মোঃ আবন মিয়া (৩৬) নামে আরও এক ব্যক্তিকে পলাতক আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ২টা ৫০ মিনিটের দিকে কসবা থানাধীন ৯ নম্বর কায়েমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চকবস্তা এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে পাকা সড়কের ওপর এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আরও পড়ুন,কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১০ আসামি গ্রেপ্তারকসবা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাগর হালদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে আক্তার হোসেনকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দখল ও হেফাজত থেকে ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে বিধি অনুযায়ী উদ্ধার করা গাঁজা জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার আক্তার হোসেন কায়েমপুর ইউনিয়নের জাজিসার এলাকার বাসিন্দা। পলাতক হিসেবে উল্লেখ করা আবন মিয়া একই ইউনিয়নের উত্তর চকবস্তা এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় কসবা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

আন্তর্জাতিক

নির্বাচনে অচলাবস্থা, আরব দল নিয়ে নেতানিয়াহুর অভিযোগ

নির্বাচনে অচলাবস্থা, আরব দল নিয়ে নেতানিয়াহুর অভিযোগ

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশটির আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য জোরদার করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও লিকুদ পার্টির নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিশ্লেষকদের ধারণা, ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা থেকেই তিনি আরব দলগুলোর সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি বিরোধী জোটকে তাদের সমর্থন নেওয়া থেকে বিরত রাখার কৌশল নিয়েছেন। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের ব্যাপক অংশগ্রহণের কারণে কোনো পক্ষই সহজে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে নেতানিয়াহুর জাতীয়তাবাদী-ধর্মীয় জোট ৫৩টি আসন এবং প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনে প্রয়োজন ৬১টি আসন। অন্যদিকে, আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো এবার রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ আরব জনগোষ্ঠী। ফলে আরব দলগুলোর সমর্থন সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আরও পড়ুন,ইরানের বন্দর অবরোধ করেছে যুক্তরাষ্ট্রনেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন, আরব দলগুলোর নজিরবিহীন সাফল্যের পেছনে ভোট জালিয়াতির ভূমিকা রয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেননি। আরব নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও উসকানিমূলক প্রচারণার অভিযোগ তুলেছেন। রাইখম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আইতান গিলবোয়ার মতে, আরব ও ইহুদি নাগরিকদের রাজনৈতিক সমঝোতাকে অগ্রহণযোগ্য করে তোলাই নেতানিয়াহুর কৌশল হতে পারে। আরব দল জয়েন্ট লিস্টের নেতা আহমাদ তিবি বলেছেন, বিরোধী নেতা আইজেনকটকে আরব দলগুলোর সমর্থন নেওয়া থেকে বিরত রাখতেই এ প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এদিকে, ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত করছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, নির্বাচনের পর দক্ষিণাঞ্চলে এ-সংক্রান্ত সন্দেহে অন্তত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আরব দল রাআমের প্রধান মনসুর আব্বাসও জালিয়াতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর ভাষ্য, আরব নাগরিকদের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর প্রচারণার কোনো ভিত্তি নেই।

৪ ঘন্টা আগে

রাজধানী

আবেরা’ স্পা ঘিরে অভিযোগ, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন

আবেরা’ স্পা ঘিরে অভিযোগ, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান থানাধীন বাড়িধারার ৫৫, সোহরাওয়ার্দী রোডের একটি ফ্ল্যাটে পরিচালিত ‘আবেরা’ নামের একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে দোলা নামের এক নারী এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। স্পা ব্যবসার আড়ালে সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, গ্রাহকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলার অভিযোগ এবং সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, বাড়ির মালিকের তথ্য, প্রয়োজনীয় অনুমোদনপত্র এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের তথ্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। আবেরা’ স্পা সেন্টারকে কেন্দ্র করে একটি নারীচক্র বিভিন্ন গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের প্রলোভন বা প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে। স্পা সেবার নামে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে পরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় কিংবা অন্য কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো যাচাইকৃত নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর বিস্তারিত বক্তব্য, ভুক্তভোগীর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিশ্চিত করা তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কী ধরনের সেবা দেওয়া হয়, গ্রাহকদের কাছ থেকে কীভাবে অর্থ নেওয়া হয়, সেবার মূল্যতালিকা ও রসিদ সংরক্ষণ করা হয় কি না এবং ব্যবসাটি প্রয়োজনীয় আইনগত অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে কি না এসব বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা। স্পা সেন্টারটিতে সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি সত্য হলে তা এলাকার নিরাপত্তা, আবাসিক পরিবেশ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করে। তবে মাদকদ্রব্যের লেনদেন, সংরক্ষণ কিংবা সরবরাহের মতো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে কি না, আরও পড়ুন,মহেশপুরে বাংলা বাস্তবায়ন ও সচেতনতায় র‍্যালি-আলোচনা সভাতা নির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং আইনগত প্রমাণ দরকার। এ ক্ষেত্রে গুলশান থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে আইনানুগ পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, অনুমোদন এবং অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। বাড়িধারার মতো গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকায় কোনো ফ্ল্যাটে স্পা বা এ ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুমোদন, ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার, ট্রেড লাইসেন্স এবং অন্যান্য বিধিবিধান মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ। ভবনটি কোন ধরনের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত, ফ্ল্যাটে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি রয়েছে কি না এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় নিবন্ধন বা লাইসেন্স আছে কি না এসব প্রশ্নের উত্তর নথিপত্র যাচাই ছাড়া দেওয়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ভবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রবেশপথের ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং প্রতিবেশীদের অভিযোগ থাকলে সেগুলোর নিষ্পত্তির বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে স্পা সেবা দেওয়া হচ্ছে বলেই সেটিকে অবৈধ বা অপরাধমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যা দেওয়া সমীচীন নয়। অভিযোগে যদি গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় কিংবা অন্য কোনো অপরাধের ঘটনা থেকে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তা তদন্ত করা প্রয়োজন।  কোনো ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয়ে থাকলে তাঁর উচিত সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ জানানো এবং প্রাসঙ্গিক তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ করা। গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত যেকোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আইন ও বিধিবিধানের আওতায় থাকা প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে গুলশান থানা পুলিশ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য অপরাধের বিষয়ে তথ্য চাওয়া যেতে পারে। ‘আবেরা’ স্পা সেন্টার, আরও পড়ুন,মহেশপুরে বাংলা বাস্তবায়ন ও সচেতনতায় র‍্যালি-আলোচনা সভাএর পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বলে অভিযোগে উল্লিখিত দোলা নামের নারী, বলেন, ভাই আমি এটি দিয়ে কোনমতে চলি। এখন আগের মত তেমন ব্যবসাও নেই। এসব প্রতিষ্ঠান চালাতে ব্যয়বহুল খরচ। কোনমতে দুই চারটি মেয়েদের রেখে ব্যবসা করি। এছাড়া এাঁ বাড়িধারা এখানে কাষ্টমার আসতে চায়না তেমন এবং বাড়িধারায় ঢুকতে সোসাইটির অনুমতি প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমরা সোসাইটির গার্ডদের সাথে সমন্ময় রেখে লোকজন প্রবেশ করিয়ে থাকি। ‘আবেরা’ নামের একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে গুলশান থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়। তবে অভিযোগ জানানোর পরও সংশ্লিষ্ট স্পা সেন্টারে পুলিশের কোনো দৃশ্যমান অভিযান চোখে পড়েনি। অভিযোগ রয়েছে, ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটিতে স্পা ব্যবসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াত রয়েছে।  প্রশ্ন উঠেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযোগ জানানোর পরও কেন দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না? তবে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট থানার বক্তব্য এবং সম্ভাব্য তদন্তের অগ্রগতি জানা জরুরি। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, বাড়িধারার মতো অভিজাত আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি। তাঁদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে ‘আবেরা’ স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ আমরাও শুনেছি। তাই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং প্রতিষ্ঠানটির বৈধ কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ প্রতারণা, মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধ কিংবা অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের শিকার হলে তাঁকে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণসহ পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করছি। এবিষয়ে দোলা বলেন, ভাই কোনমতে ২-৪ টি মেয়েদের রেখে ব্যবসা করছি। আগের মত ব্যবসা নেই। এখনো থানা পুলিশের পেমেন্ট দিতে পারিনাই। এছাড়া বাড়িধারা সোসাইটির কিছু লোকদের ম্যানেজ করে আমার প্রতিষ্ঠানটি চালাতে হয়। তবে বিষয়টি গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জকে জানানো হয়েছে কিন্তু তিনি এখনো দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়নি। গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ আরো বলেন, এসবের বিষয়ে আমাদের একাধিক মিটিং হয়েছে। আমি চাইলে ও অভিযান বা পদক্ষেপ নিতে পারিনা। কারন সিনিয়রদের নির্দেশনা ছাড়া আমাদের করার কিছুই থাকেনা। তাহলে প্রশ্ন হল- সাধারন স্থানীয় বাসিন্দারা অসমাজিকের মধ্যে থেকেই বসবাস করবে। নাকি তাদের সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা নেই।   

২৫ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৬ জন

খেলাধুলা

বাবার মতোই ধৈর্যের দেয়াল তেজনারায়ন

বাবার মতোই ধৈর্যের দেয়াল তেজনারায়ন

বাবা শিবনারায়ন চন্দরপলের ব্যাটিংয়ের কথা ক্রিকেটপ্রেমীদের নিশ্চয়ই মনে আছে। ক্রিজে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় উইকেট আগলে রাখা, অদ্ভুত ব্যাটিং স্টান্স এবং প্রতিপক্ষ বোলারদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়া ছিল তাঁর ব্যাটিংয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এবার বাবার সেই ব্যাটিং-ঐতিহ্যের ছাপ দেখা গেল ছেলে তেজনারায়ন চন্দরপলের খেলায়। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে ১৮৪ বল মোকাবিলা করে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। বাংলাদেশের করা ২৭৩ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুটা করেছিল আক্রমণাত্মকভাবে। ওভারপ্রতি প্রায় ছয় রান করে তুলছিল ক্যারিবীয়রা। তবে ৪.৫ ওভারে ২৯ রান ওঠার পর ১৫ রান করে আউট হন ওপেনার ব্রেন্ডন কিং।এরপর উইকেটে এসে ধৈর্যের পরিচয় দেন তেজনারায়ন। একের পর এক বল ঠেকিয়ে, প্রয়োজনমতো ছেড়ে দিয়ে এবং বাজে বল পেলে শাস্তি দিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন তিনি। শুরু থেকেই উইকেটে টার্ন পাচ্ছিলেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত রান তোলার চেয়ে উইকেটে টিকে থাকার কৌশলই বেছে নেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।আরও পড়ুন,কেইন বেঞ্চে, বায়ার্নের বড় জয়তেজনারায়নের ব্যাটিংয়ে বাবার ছায়া স্পষ্ট। তাঁর ব্যাটিং স্টান্স ও বল মোকাবিলার ধরনে শিবনারায়ন চন্দরপলের বৈশিষ্ট্য খুঁজে পেয়েছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। ভালো বলেও সহজে উইকেট না দেওয়া এবং বোলারদের পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাবার মতোই দৃঢ় ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে শিবনারায়ন চন্দরপলের অতীত রেকর্ডও ছিল দুর্দান্ত। তাঁর ক্যারিয়ার গড় যেখানে ৫১.৩৭, সেখানে বাংলাদেশের বিপক্ষে তা ছিল ১৪৯.৫। ১৪ ইনিংসে চারটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি করেছিলেন তিনটি অর্ধশতক। বাংলাদেশের মাটিতেই খেলেছিলেন ক্যারিয়ারসেরা ২০৩ রানের ইনিংস। ছেলের ইনিংসেও সেই পুরোনো স্মৃতি ফিরে এসেছে বাংলাদেশের বোলারদের জন্য। শেষ পর্যন্ত শরীফুল ইসলামের বলে আউট হন তেজনারায়ন। তবে তার আগে ১৮৪ বল খেলে ৫৬ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুরুত্বপূর্ণ ভিত গড়ে দেন। সিরিজের এখনো তিনটি ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ পেতে পারেন তেজনারায়ন। বাবার দেখানো পথে হাঁটতে পারলে বাংলাদেশের বোলারদের জন্য সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!