দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

অপরাধীদের দৌরাত্ম্য, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

অপরাধীদের দৌরাত্ম্য, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

দেশে একের পর এক পুলিশের ওপর হামলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল দুর্বল করার অপচেষ্টা, মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এবং মাদক কারবারের বিস্তার—সব মিলিয়ে জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকা, মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের গতি এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত আইনি সেবা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানীসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ আবাসিক হোটেল, অনুমোদনহীন স্পা সেন্টার, মাদক সংশ্লিষ্ট আস্তানা ও নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সামনে আসছে। এসব অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত ও প্রতিরোধ করা না গেলে অপরাধীদের তৎপরতা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। পুলিশ একটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধী শনাক্ত, জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা, দায়িত্ব পালনে বাধা, বিভিন্ন স্থানে সংঘবদ্ধ বিশৃঙ্খলা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, মাঠপর্যায়ে পুলিশ কতটা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে? অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, জনবল, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে? রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের আন্দোলন ও বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা এবং সংঘর্ষের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। কোনো দাবি বা অধিকার আদায়ের আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও সেই আন্দোলনের আড়ালে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি সম্পদ ভাঙচুর কিংবা সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। পুলিশের দায়িত্ব পালনের সময় তাদের ওপর হামলা হলে শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিরাপত্তাই বিঘ্নিত হয় না, বরং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে সংঘবদ্ধ হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলে সেসব অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। আইনের প্রয়োগ হতে হবে সবার জন্য সমান। পুলিশের ওপর হামলার বিচার যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগেরও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। কারণ জবাবদিহি ও পেশাদারত্বের সমন্বয় ছাড়া একটি বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করা সম্ভব নয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় মব সহিংসতা ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। বিভিন্ন এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা, মারধর, ভাঙচুর, চাঁদাবাজি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সংঘবদ্ধ হওয়ার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা আইনের শাসনের জন্য বড় হুমকি। অপরাধের অভিযোগ থাকলে তদন্ত ও বিচারের দায়িত্ব আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং আদালতের। জনতার হাতে বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের দ্রুত সাড়া, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক পৃষ্ঠপোষক, মাদক সরবরাহকারী এবং অপরাধে অর্থায়নকারীদের শনাক্ত করতে হবে। শুধু কয়েকজন কিশোরকে আটক করে অভিযান শেষ করলে সমস্যার মূল উৎপাটন হবে না। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানীকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, স্পা সেন্টার এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে মাঝেমধ্যে নানা অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অনুমোদন, বৈধ ব্যবসায়িক কাগজপত্র কিংবা নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই পরিচালিত হচ্ছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক সংশ্লিষ্টতা, অসামাজিক কার্যকলাপ এবং অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। প্রশ্ন হচ্ছে, একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে, তাদের ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে কি না, ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার কী, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর কি না এবং আবাসিক অতিথিদের তথ্য সংরক্ষণের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে তো? বিশেষ করে গুলশান ও বনানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস এবং স্পা সেন্টারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পুলিশ, সিটি করপোরেশন, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স প্রদানকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না থাকলে অনিয়ম শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়লে সেগুলো ফাইলবন্দি না রেখে তদন্তের অগ্রগতি নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সুনাম ও অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে হবে।আরও পড়ুন, পুলিশের মাসোহারা বৈধ, সাংবাদিকের উপহার অপরাধ?মাদক অপরাধের বিস্তার শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, পরিবার ও সমাজের নিরাপত্তাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে অনেক সময় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যায়। ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণকে বিচ্ছিন্ন কোনো অভিযান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মাদক কারবারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সরবরাহের উৎস, পরিবহন নেটওয়ার্ক, অর্থের লেনদেন এবং পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করা প্রয়োজন। শুধু খুচরা পর্যায়ের কয়েকজন মাদক বিক্রেতাকে আটক করে অভিযান শেষ করলে বড় চক্রগুলো আড়ালে থেকে যেতে পারে। বিশেষ করে আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, বিনোদনকেন্দ্র এবং সন্দেহজনক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা এলাকার বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ না তুলে প্রমাণভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের চিহ্নিত করাই হবে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ। জনসাধারণের মধ্যে আরেকটি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে থানায় গিয়ে প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপরাধের তথ্য নিয়ে থানায় যোগাযোগ করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সরাসরি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। অবশ্য সব ক্ষেত্রে এমন আচরণ ঘটে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তবে এ ধরনের অভিজ্ঞতা যদি কোনো নাগরিকের হয়ে থাকে, তাহলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। একজন নাগরিক যখন কোনো অপরাধের তথ্য নিয়ে থানায় যান, তখন তিনি দ্রুত সাড়া, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং আইনগত সহায়তা প্রত্যাশা করেন। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পর যদি তাঁকে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে যোগাযোগ করতে হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের প্রতি তাঁর আস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব শুধু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকা নয়, আইন ও বিধি অনুযায়ী নিজের এখতিয়ারের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাও তাঁর দায়িত্ব। কোনো অভিযোগ ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পাঠানোর প্রয়োজন হলে সেটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় পাঠাতে হবে। কিন্তু সেই অজুহাতে জরুরি অপরাধের তথ্য গ্রহণ বা প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব করা উচিত নয়। বিশেষ করে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, নারী ও শিশু নির্যাতন, সংঘবদ্ধ অপরাধ কিংবা কোনো ব্যক্তির তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাঝুঁকির তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। পুলিশের ওপর ধারাবাহিক হামলা এবং দায়িত্ব পালনে বাধার ঘটনা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ধরে রাখার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়; পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব আচরণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করাও গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ, জনবল এবং কার্যকর অপারেশনাল নির্দেশনা দিতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধ দমনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অযৌক্তিক চাপ বা বাধা থাকলে তা দূর করতে হবে। পুলিশকে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে একজন কর্মকর্তা অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবেন। আবার কোনো পুলিশ সদস্য দায়িত্বে অবহেলা করলে কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করলে তাঁকেও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মাঠপর্যায়ের ইউনিটগুলোকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং, মাদক কারবার, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান জোরদার করতে হবে। রাজধানীর গুলশান, বনানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম যাচাইয়ে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর লাইসেন্স, নিবন্ধন, ভবনের ব্যবহার, অগ্নিনিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা করতে হবে। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি থানায় নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা থাকা দরকার। অভিযোগ গ্রহণের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হলো, তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না—এসব বিষয়ে অভিযোগকারীকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, সাধারণ মানুষ যদি অপরাধের তথ্য দিয়েও দ্রুত প্রতিকার না পান, তাহলে তাঁরা নিরাপত্তার জন্য কোথায় যাবেন? অপরাধীরা যদি পুলিশের ওপর হামলা করে পার পেয়ে যায়, সংঘবদ্ধভাবে জনজীবন অস্থির করে তোলে এবং বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত না হয়, তাহলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলার নামে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ কিংবা নির্বিচারে গ্রেপ্তার কোনো সমাধান হতে পারে না। অপরাধ দমন করতে হবে আইন মেনে, নিরপেক্ষভাবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে। একই সঙ্গে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের হলেও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সামগ্রিক দায়িত্ব। এ জন্য পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন, বিচার বিভাগ, সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন। অপরাধ দমনে পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ, নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অপরাধের অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে। জনগণ পুলিশের প্রতিপক্ষ নয়; বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণই পুলিশের সবচেয়ে বড় সহযোগী হতে পারে। তাই পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক ফিরিয়ে আনা জরুরি। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি থেকেই যায়—পুলিশের ওপর হামলা, মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা প্রস্তুত? থানায় গিয়ে সাধারণ মানুষ কি সহজে আইনি সেবা পাবেন? গুলশান-বনানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অপরাধের অভিযোগগুলো কি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর শুধু বক্তব্য কিংবা আশ্বাসে নয়, প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপে। কারণ জননিরাপত্তা কোনো বিশেষ শ্রেণির মানুষের অধিকার নয়; এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও আইনগত সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী, পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক করার মধ্য দিয়েই জনগণের নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা সম্ভব।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

৭ নভেম্বর দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা বিজিএমইএর

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এর আগে গত ২১ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতিবছর ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত জানায়। মন্ত্রণালয়ের বিধি-৬ শাখা থেকে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপসচিব ওয়ালীউল দামান।আরও পড়ুন, গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে ১২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলবপ্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রতিবছর ৭ নভেম্বর সরকারি সাধারণ ছুটি পালন করা হবে। ফলে দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের বার্ষিক সাধারণ ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর আগে গত ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৭ নভেম্বরকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে দিবসটিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনসংক্রান্ত পরিপত্রে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। সরকারের এ সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এবার দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি কার্যকরের ঘোষণা দিল বিজিএমইএ। সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ৭ নভেম্বর পোশাকশিল্পের কারখানাগুলো বন্ধ থাকবে।

গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে ১২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব

গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ১২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এসব হিসাবের মাধ্যমে পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির কোনো কর্মকাণ্ডে অর্থ সরবরাহ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। রাজস্ব বোর্ড সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ১২টি শিল্পগ্রুপের মালিকের বিরুদ্ধে শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে। এ তালিকায় রয়েছেন সিপাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এ ছাড়া ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলবের তালিকায় রয়েছেন এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী, রেনেসাঁ গ্রুপের মালিক ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, হামিদ গ্রুপের মালিক ও সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং ফেবিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম।আরও পড়ুন, টেকসই বিনিয়োগে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্নতালিকায় আরও রয়েছেন তুসুকা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুর রহমান বাদল, ওয়েল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আবদুস ছালাম, নিপা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খসরু চৌধুরী, অ্যাক্সিস নিটওয়্যারস লিমিটেডের পরিচালক জাহিদ আহমেদ টুলু, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম মোশাররফ হোসেন এবং গিভেন্সি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুমা খাতুন লিপা। এদিকে মিরপুর এলাকায় শ্রমিক আন্দোলনে অর্থ জোগানের অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের ব্যাংক হিসাবও জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের ফলাফল এখনো জানা যায়নি। ব্যাংক হিসাব তলব বা জব্দের উদ্যোগকে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

ডিসেম্বর থেকেই নবম পে স্কেলে বেতন পেতে পারেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা দিতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এ অর্থ বরাদ্দে অর্থ বিভাগের মৌখিক সম্মতি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বর থেকেই নতুন বেতন স্কেলে বেতন পেতে পারেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্র জানায়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক চীনে অবস্থানকালে অর্থ বিভাগের সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। তাঁর উদ্যোগে ডিসেম্বর থেকে নতুন পে স্কেলে বেতন দেওয়ার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেলে বেতন দিতে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থ ছাড়ে মৌখিক সম্মতি দিয়েছেন অর্থ সচিব। এখন আনুষ্ঠানিকতা শেষে সম্মতিপত্র মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠানো হবে। চলতি মাসের মধ্যেই এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানোর কথা রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ডিসেম্বরেই যেন শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন পে স্কেলে বেতন পান, সে চেষ্টা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বর থেকে নতুন স্কেলে বেতন পাওয়া যাবে। কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে জানুয়ারি থেকে নতুন স্কেলে বেতন দেওয়া হতে পারে। এদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা দিতে অর্থ বিভাগের কাছে ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা চেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। ছয় মাসের বকেয়াসহ ১২ মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য এ অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।আরও পড়ুন, কবে হতে পারে নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, জানাল এনটিআরসিএগত রোববার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ছয় মাসের বকেয়াসহ ১২ মাসের হিসাব বিবরণী মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠায়। পরে ওই বিভাগের পক্ষ থেকে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়। হিসাব বিবরণী অনুযায়ী, বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ অতিরিক্ত ২ হাজার ৫৩১ কোটি ৫৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৫৫ টাকা প্রয়োজন। অন্যদিকে বেসরকারি কলেজগুলোর জন্য প্রয়োজন ৭৩৬ কোটি ৩৫ লাখ ৬৬ হাজার ৪০১ টাকা। দুই খাত মিলিয়ে মোট অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৮৮ লাখ ৯১ হাজার ২৫৬ টাকা। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। তাঁদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রয়োজন। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা খাতের উন্নয়ন, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, কল্যাণ এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়িত হলে শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অনুকূলে অতিরিক্ত ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিতে অর্থ বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রাজনীতিরাজনীতি

জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন

জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির নেত্রী সামান্তা শারমিন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ফেসবুক পোস্টে সামান্তা শারমিন লেখেন, ‘কিছুক্ষণ আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে আমি পদত্যাগ করেছি।’ প্রায় এক বছর আগে এনসিপির জোট গঠনের প্রশ্নে তিনি দলের ভেতরে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছিলেন বলেও জানান। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী নীতিগত কিংবা কৌশলগত কোনো ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য নয়। দলটির সঙ্গে জোট গঠনের জন্য এনসিপিকে কঠিন মূল্য দিতে হবে বলেও তিনি সে সময় সতর্ক করেছিলেন। সামান্তা শারমিনের পদত্যাগের পেছনে দলের রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শিক মতপার্থক্যের বিষয়টি তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে। তিনি জানান, গত ১১ মাস ধরে দলের অতীত কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ ও প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি দলের ভেতরে আলোচনা, বিতর্ক ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।আরও পড়ুন, নাহিদ ইসলামকে চুপ থাকার অনুরোধ ছাত্রদল সভাপতিরতাঁর ভাষ্য, দল ভুল পথে পরিচালিত হলে তা থেকে দলকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা রাজনৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেছিলেন তিনি। এ কারণে এনসিপির অভ্যন্তরে আদর্শিক সংগ্রামের পথ বেছে নিয়েছিলেন। তবে প্রায় এক বছরের সেই প্রচেষ্টার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। গত ২৩ অক্টোবর এনসিপি ঘোষিত নতুন কমিটিতে সামান্তা শারমিনকে যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়। এর আগে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। নতুন কমিটিতে তাঁর পদাবনতি হয়েছে কি না, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়। এ বিষয়ে তিনি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। পদত্যাগের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় সামান্তা আরও বলেন, এনসিপি কখনো জামায়াতের সঙ্গে জোট ত্যাগের মতো সিদ্ধান্ত নিলেও পুরোনো রাজনৈতিক ধাঁচের বাইরে নিজস্ব পরিচয়, চিন্তা ও কর্মসূচি তৈরি করতে পারবে বলে তিনি মনে করেন না। তিনি আরও লেখেন, পুরোনো ব্যবস্থার রাজনৈতিক দল নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সহায়ক হওয়ার পরিবর্তে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এতদিন দলের সঙ্গে তাঁর যেসব মতপার্থক্য ও আলোচনা হয়েছে, সেগুলো দলের নেতাকর্মী এবং দলীয় কাঠামোর বাইরের শুভানুধ্যায়ীদের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মহাখালীর মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় দিলীপ আগরওয়ালা

মহাখালীর মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় দিলীপ আগরওয়ালা

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের স্বত্বাধিকারী ও আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় করা এ মামলায় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. মাসুদূর রহমান দিলীপ আগরওয়ালাকে আদালতে হাজির করে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের ৩৫ থেকে ৪০ জন নেতা-কর্মী মহাখালী বাস টার্মিনালসংলগ্ন এলাকায় একটি মিছিল করেন। আরও পড়ুন,নাহিদ ইসলামকে চুপ থাকার অনুরোধ ছাত্রদল সভাপতিরএ সময় তারা আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে স্লোগান দেন এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। এ ঘটনায় গত ১৮ জুন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করা হয়। পুলিশের দাবি, ওই ঘটনায় অর্থদাতা ও মদদদাতা হিসেবে দিলীপ আগরওয়ালার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পলাতক সহযোগীদের পরিচয়, পরিকল্পনা এবং বিস্ফোরক সরবরাহের উৎস সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে।এর আগে গত ১৯ অক্টোবর বনানীর একটি বাসা থেকে দিলীপ আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। এরপর অর্থ পাচারের অভিযোগে করা মামলায় এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। ২১ অক্টোবর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে শিক্ষার্থী আ. জব্বারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলায় ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ২৭ অক্টোবর রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ২ নভেম্বর দুদকের একটি মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

নাহিদ ইসলামকে চুপ থাকার অনুরোধ ছাত্রদল সভাপতির

নাহিদ ইসলামকে চুপ থাকার অনুরোধ ছাত্রদল সভাপতির

পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানোয় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। একই সঙ্গে দেশের পক্ষে অবস্থান নিতে না পারলে নাহিদ ইসলামকে চুপ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব মন্তব্য করেন ছাত্রদল সভাপতি। স্ট্যাটাসে রাকিবুল ইসলাম রাকিব লেখেন, ‘জামায়াতের বি-টিমের মুখপাত্র নাহিদ ইসলামের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে অধিকাংশ পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। নিজেকে এভাবে জাতির সামনে হাস্যকর হিসেবে উপস্থাপন না করার জন্য নাহিদ ইসলামকে অনুরোধ করছি। লক্ষ লক্ষ পোশাক শ্রমিকের মাঝে কিছুসংখ্যক শ্রমিকও আপনার নির্দেশ পালন করলেন না।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আপনার এ ধরনের অপমান আমাদের মেনে নিতে কষ্ট হয়। জামায়াতকেন্দ্রিক পিছুটান থাকায় দেশের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করতে না পারলে প্রয়োজনে চুপ থাকুন। তারপরও জুলাইয়ের অগ্রসৈনিক হিসেবে নিজের ইমেজকে ভূলুণ্ঠিত করবেন না।’আরও পড়ুন, নাহিদ ইসলামকে ১০ দিনের আইনি নোটিশএর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহত গার্মেন্টস শ্রমিক তৌফিকের গায়েবানা জানাজায় বাধা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় আহত নেতাকর্মীদের দেখতে যান নাহিদ ইসলাম। সেখানে তিনি শ্রমিকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের সঙ্গে আছে। শ্রমিক ভাইবোনদের বলব, আপনারা সতর্ক থাকবেন। আমরা শ্রমিকদের ন্যায্য, অহিংস ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে আছি।’ নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সহিংসতার মাধ্যমে পরিস্থিতি থেকে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলন দমনের চেষ্টা হতে পারে। এসব শক্তির বিরুদ্ধে শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

কারাগারে থাকা দিলীপ আগরওয়ালার বিরুদ্ধে নতুন মামলা

কারাগারে থাকা দিলীপ আগরওয়ালার বিরুদ্ধে নতুন মামলা

এবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের স্বত্বাধিকারী দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় দিলীপ আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. মাসুদূর রহমান। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন। আরও পড়ুন,ট্রাভেল পাস নয় বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তিতে ফেরানোর উদ্যোগউভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের ৩৫ থেকে ৪০ জন নেতা-কর্মী মহাখালী বাস টার্মিনালসংলগ্ন এলাকায় একটি মিছিলে অংশ নেন। এ সময় তারা আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে স্লোগান দেন এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। এ ঘটনায় ২০২৬ সালের ১৮ জুন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করা হয়। পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় অর্থদাতা ও মদদদাতা হিসেবে দিলীপ আগরওয়ালার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পলাতক সহযোগীদের পরিচয়, পরিকল্পনা এবং বিস্ফোরক সরবরাহের উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।উল্লেখ্য, গত ১৯ অক্টোবর রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে দিলীপ আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর চোরাচালান ও অর্থপাচারের অভিযোগে করা মামলায় রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।পরে জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী আ. জব্বারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলায় তাকে ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ২৭ অক্টোবর রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয় তাকে। সর্বশেষ ২ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সারাবাংলা

শেরপুরে ভারতীয় তৈরি পোশাক জব্দ

শেরপুরে ভারতীয় তৈরি পোশাক জব্দ

ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া নামক স্থান দিয়ে চোরাকারবারিরা অভিনব কৌশলে ভারতীয় তৈরি পোশাক পাচারের চেষ্টা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৪ নভেম্বর রাতে অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় তৈরি পোশাক আটক করে বিজিবির টহল দল। আটক করা এসব পোশাকের সিজার মূল্য ১১ লাখ ৬ হাজার ৫শ' টাকা।আরও পড়ুন, কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩২বিজিবি জানায়, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষা এবং সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি। সীমান্তে মাদক, চোরাচালানি মালামাল ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে।

কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩২

কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩২

কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে মোট ৩২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১৬ জন মাদক সেবনকারী, ৩ জন ধর্তব্য অপরাধে জড়িত এবং ১৩ জন বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি। মাদক সেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মোহাম্মদ বাদশাহ (৩৯), ওমর ফারুক বাদশাহ (৫০), মোহাম্মদ তাসমিন হোসাইন (২৫), সালা উদ্দিন (৪০), আমজাদ হোসেন (২৭), মোহাম্মদ ইউসুফ (২৮), মোহাম্মদ রাবিন (২০), মোহাম্মদ শফিক (২২), মাহমুদ রিফাত (২০), আহাম্মদ কবির (২০), ফয়েজ আহাম্মদ (৩২), মো. তারেক (২০), আজাদ বিন আয়াত (২০), মো. খুরশেদ (২৫), গোলামুর করিম (৩৯) ও মোহাম্মদ কাশেম (২২)। ধর্তব্য অপরাধে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— তামিম ইকবাল (২০), মোহাম্মদ জালাল মিয়া (৪৬) ও হেলাল উদ্দিন (২৭)।আরও পড়ুন, মাদারগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ এর শুভ উদ্বোধনবিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মো. নাছির, রহিম উল্লাহ রকি, জাহাঙ্গীর আলম (৩০), মিজানুর রহমান (২৮), নুরুল আবছার (৩৫), নুরুল আজিম (৩৩), নুরুল কাদের (২৭), জয় বন্ধুন দে, মো. বেলাল হোসেন, দিদারুল আলম (৩৬), জাহেদুল ইসলাম নিমাত (২৬), মুহাম্মদ রিপন ও রবিউল করিম (৪৫)। পুলিশের এ বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ও মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

মাদারগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ এর শুভ উদ্বোধন

মাদারগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ এর শুভ উদ্বোধন

তৃণমূল পর্যায় থেকে উদীয়মান ও প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ খুঁজে বের করার লক্ষ্যে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়েছে জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’। আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে দেশব্যাপী একযোগে ভার্চুয়ালি এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করার পর মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে স্থানীয় ভেন্যুতে উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। বালিজুড়ী ফাজেল মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়, যা উপভোগ করতে জড়ো হন ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ। “ক্রীড়া হলো পেশা, পরিবার পাবে ভরসা” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন ক্রীড়া পরিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে দেশব্যাপী এই মেগা টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাদারগঞ্জের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, মাদক, কিশোর গ্যাং এবং মোবাইল আসক্তি থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে সরিয়ে সুস্থ ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়তে এই আয়োজন যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। একই সাথে তৃণমূলের স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পাবে।আরও পড়ুন, গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে ৩২ শ্রমিক ফেডারেশনের সঙ্গে এমপি রনির মতবিনিময়উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবারের সিজন-২ এ ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, মার্শাল আর্ট, সাঁতার, ভলিবল এবং টেবিল টেনিসসহ মোট ১০টি ইভেন্টে বালক ও বালিকা দলের বাছাই প্রক্রিয়া ও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা পর্যায়ের সফল বিজয়ীরা পরবর্তীতে জেলা, অঞ্চল ও জাতীয় স্তরে লড়ার সুযোগ পাবে এবং চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতরা বিকেএসপিতে উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে। মাদারগঞ্জ উপজেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী, মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায়, উপজেলা বিএনপি সভাপতি এ্যাডভোকেট মঞ্জুর কাদের বাবুল খান, পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল গফুর, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান আকন্দ রতন সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ক্রীড়া সংগঠক এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। উদ্বোধনী পর্ব শেষে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ মাঠ পর্যায়ে উদ্বোধনী খেলায় অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের সাথে পরিচিত হয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা করেন।

গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে ৩২ শ্রমিক ফেডারেশনের সঙ্গে এমপি রনির মতবিনিময়

গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে ৩২ শ্রমিক ফেডারেশনের সঙ্গে এমপি রনির মতবিনিময়

গাজীপুরে তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন, শিল্পকারখানার নিরাপত্তা এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে ৩২টি শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় গাজীপুর ক্লাব প্রাঙ্গণে গাজীপুর জেলা সম্মিলিত শিল্প ও শ্রমিক রক্ষা সংগঠনসমূহের উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্সের সভাপতি জহিরুদ্দিন সম্রাট। প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি। সভায় তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের কারণ, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি, কর্মস্থলের নিরাপত্তা এবং শিল্পকারখানায় স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এতে গাজীপুর গার্মেন্টস ফেডারেশন ও সংশ্লিষ্ট ৩২টি সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা অংশ নেন।আরও পড়ুন, রায়পুরা সরকারি কলেজে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এমপি আশরাফ উদ্দিনকে সংবর্ধনা ও নবীনবরণপ্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি রনি বলেন, চলমান পোশাকশিল্পের শ্রমিক আন্দোলন এখন আর শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণে নেই; এটি বিভিন্ন পরাজিত রাজনৈতিক শক্তির হাতে চলে গেছে। বিএনপি সরকার শ্রমজীবী ও মেহনতি শ্রমিক ভাই-বোনদের ভোটে নির্বাচিত সরকার। তাই শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সব সময় কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শ্রমিকেরা তাঁদের কর্মস্থলে ফিরে গেছেন। শিল্পকারখানার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া সমাধানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। সভায় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সদর মেট্রো থানা বিএমপির সভাপতি মেহেদী হাসান এলিস, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হান্নান মিয়া হান্নু, সহসভাপতি আহমদ আলী রুশদী, আলহাজ হাসান আজমল ভূঁইয়া, সহসভাপতি ড. অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শহীদউজ্জামানসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। মতবিনিময় সভায় শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া, শিল্পের নিরাপত্তা এবং গাজীপুরের তৈরি পোশাকশিল্পে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চার দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চার দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে চার দেশের বাণিজ্যিক জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। দেশগুলো হলো ভারত, চীন, ইরাক ও কাতার। অন্য দেশের জাহাজ চলাচল যখন নানা বাধার মুখে পড়ছে, তখন চার দেশের জন্য এ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। পারস্পরিক স্বার্থ ও কৌশলগত সম্পর্কের ভিত্তিতে এ ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির উপপ্রধান আমির হায়াত মোগাদ্দাম এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার ফলে দেশটি থেকে ওষুধ আমদানি করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, চীনা জাহাজকে ছাড় দেওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য বেইজিংয়ের রাজনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করা।আরও পড়ুন, জর্জিয়ার ইতিহাসে প্রথম নারী ও কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর কেইশাইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া বক্তব্যে মোগাদ্দাম বলেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের নিষেধাজ্ঞা থেকে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এসব দেশের জাহাজ অবাধে চলাচল করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও সেগুলোতে বাধা দিচ্ছে না। ইরানের এ সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি জ্বালানি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তবে চলাচলের অনুমতি পেলেও ভারতীয় জাহাজগুলোকে প্রণালি পারাপারের জন্য শুল্ক দিতে হতে পারে। অর্থাৎ, এ ছাড়ের মাধ্যমে পারাপারের খরচ পুরোপুরি মওকুফ করা হয়নি। অন্যদিকে, ইরানের তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা চীনের সঙ্গে তেহরানের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাতার ও ইরাকের সঙ্গেও ইরানের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক স্বার্থ। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ইরানের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরছে।

৫১ মিনিট আগে

রাজধানী

রাজধানীতে বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

রাজধানীতে বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

রাজধানীর মিরপুরে যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী রয়েছেন।বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানার বেড়িবাঁধের নবাবেরবাগ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এক খুদে বার্তায় দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আরও পড়ুন,দোকানপাট খোলা রাখার সময় বাড়াতে মন্ত্রণালয়ে আবেদনতিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। এ ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে দুর্ঘটনায় আর কেউ আহত হননি বলে জানান তিনি। বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। এদিকে, নিহতদের পরিচয় এবং দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

০৪ নভেম্বর ২০২৬

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৬ জন

খেলাধুলা

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্তের কথা জানান ৪১ বছর বয়সি এই ফুটবলার। পর্তুগালের জাতীয় দলের জার্সিতে ২৩৪টি ম্যাচ খেলে ১৪৬টি গোল করেছেন রোনালদো। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্তের জন্ম দেওয়া এই তারকা এবার জাতীয় দলের হয়ে খেলা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আরও পড়ুন, লিগ-২ শেষ ওমানের বিশ্বকাপযাত্রা নিশ্চিতগত মাসে পর্তুগালের কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধে জড়ান রোনালদো। নেশন্স লিগের একটি ম্যাচে তাকে মাঠে নামাতে অস্বীকৃতি জানান কোচ। এর পরপরই দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান এই ফরোয়ার্ড। ওই ঘটনার পর থেকেই জাতীয় দলে রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। অবশেষে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে সেই জল্পনার অবসান ঘটালেন পর্তুগিজ এই মহাতারকা। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ এক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।

আইন আদালত

পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। ব্যবসায়ী নাসির ইউ আহমেদের করা মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় তার জামিন বাতিল করে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এদিন বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। অন্যদিকে, পরীমনির আইনজীবী সময়ের আবেদন জানিয়ে আদালতকে বলেন, অ্যালার্জিজনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। পরে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে পরীমনির জামিন বাতিল এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। এর আগে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় পরীমনিসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওই দিনও তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।আরও পড়ুন, হুমায়ূন আহমেদের হাত ধরেই বড় পর্দায় মিমের অভিষেকমামলার তদন্তে ২০২৪ সালে পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০২১ সালের ৬ জুলাই বোট ক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। অন্য দুই আসামি হলেন ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম। মামলার অভিযোগে নাসির উদ্দিন মাহমুদ দাবি করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমনি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা ক্লাবের দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার এবং পরে বসে অ্যালকোহল পান করেন। এ সময় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!