দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

অপরাধীদের দৌরাত্ম্য, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

অপরাধীদের দৌরাত্ম্য, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

দেশে একের পর এক পুলিশের ওপর হামলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল দুর্বল করার অপচেষ্টা, মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এবং মাদক কারবারের বিস্তার—সব মিলিয়ে জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকা, মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের গতি এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত আইনি সেবা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানীসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ আবাসিক হোটেল, অনুমোদনহীন স্পা সেন্টার, মাদক সংশ্লিষ্ট আস্তানা ও নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সামনে আসছে। এসব অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত ও প্রতিরোধ করা না গেলে অপরাধীদের তৎপরতা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। পুলিশ একটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধী শনাক্ত, জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা, দায়িত্ব পালনে বাধা, বিভিন্ন স্থানে সংঘবদ্ধ বিশৃঙ্খলা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, মাঠপর্যায়ে পুলিশ কতটা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে? অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, জনবল, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে? রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের আন্দোলন ও বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা এবং সংঘর্ষের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। কোনো দাবি বা অধিকার আদায়ের আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও সেই আন্দোলনের আড়ালে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি সম্পদ ভাঙচুর কিংবা সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। পুলিশের দায়িত্ব পালনের সময় তাদের ওপর হামলা হলে শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিরাপত্তাই বিঘ্নিত হয় না, বরং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে সংঘবদ্ধ হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলে সেসব অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। আইনের প্রয়োগ হতে হবে সবার জন্য সমান। পুলিশের ওপর হামলার বিচার যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগেরও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। কারণ জবাবদিহি ও পেশাদারত্বের সমন্বয় ছাড়া একটি বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করা সম্ভব নয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় মব সহিংসতা ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। বিভিন্ন এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা, মারধর, ভাঙচুর, চাঁদাবাজি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সংঘবদ্ধ হওয়ার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা আইনের শাসনের জন্য বড় হুমকি। অপরাধের অভিযোগ থাকলে তদন্ত ও বিচারের দায়িত্ব আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং আদালতের। জনতার হাতে বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের দ্রুত সাড়া, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক পৃষ্ঠপোষক, মাদক সরবরাহকারী এবং অপরাধে অর্থায়নকারীদের শনাক্ত করতে হবে। শুধু কয়েকজন কিশোরকে আটক করে অভিযান শেষ করলে সমস্যার মূল উৎপাটন হবে না। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানীকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, স্পা সেন্টার এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে মাঝেমধ্যে নানা অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অনুমোদন, বৈধ ব্যবসায়িক কাগজপত্র কিংবা নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই পরিচালিত হচ্ছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক সংশ্লিষ্টতা, অসামাজিক কার্যকলাপ এবং অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। প্রশ্ন হচ্ছে, একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে, তাদের ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে কি না, ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার কী, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর কি না এবং আবাসিক অতিথিদের তথ্য সংরক্ষণের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে তো? বিশেষ করে গুলশান ও বনানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস এবং স্পা সেন্টারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পুলিশ, সিটি করপোরেশন, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স প্রদানকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না থাকলে অনিয়ম শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়লে সেগুলো ফাইলবন্দি না রেখে তদন্তের অগ্রগতি নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সুনাম ও অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে হবে।আরও পড়ুন, পুলিশের মাসোহারা বৈধ, সাংবাদিকের উপহার অপরাধ?মাদক অপরাধের বিস্তার শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, পরিবার ও সমাজের নিরাপত্তাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে অনেক সময় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যায়। ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণকে বিচ্ছিন্ন কোনো অভিযান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মাদক কারবারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সরবরাহের উৎস, পরিবহন নেটওয়ার্ক, অর্থের লেনদেন এবং পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করা প্রয়োজন। শুধু খুচরা পর্যায়ের কয়েকজন মাদক বিক্রেতাকে আটক করে অভিযান শেষ করলে বড় চক্রগুলো আড়ালে থেকে যেতে পারে। বিশেষ করে আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, বিনোদনকেন্দ্র এবং সন্দেহজনক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা এলাকার বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ না তুলে প্রমাণভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের চিহ্নিত করাই হবে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ। জনসাধারণের মধ্যে আরেকটি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে থানায় গিয়ে প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপরাধের তথ্য নিয়ে থানায় যোগাযোগ করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সরাসরি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। অবশ্য সব ক্ষেত্রে এমন আচরণ ঘটে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তবে এ ধরনের অভিজ্ঞতা যদি কোনো নাগরিকের হয়ে থাকে, তাহলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। একজন নাগরিক যখন কোনো অপরাধের তথ্য নিয়ে থানায় যান, তখন তিনি দ্রুত সাড়া, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং আইনগত সহায়তা প্রত্যাশা করেন। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পর যদি তাঁকে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে যোগাযোগ করতে হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের প্রতি তাঁর আস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব শুধু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকা নয়, আইন ও বিধি অনুযায়ী নিজের এখতিয়ারের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাও তাঁর দায়িত্ব। কোনো অভিযোগ ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পাঠানোর প্রয়োজন হলে সেটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় পাঠাতে হবে। কিন্তু সেই অজুহাতে জরুরি অপরাধের তথ্য গ্রহণ বা প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব করা উচিত নয়। বিশেষ করে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, নারী ও শিশু নির্যাতন, সংঘবদ্ধ অপরাধ কিংবা কোনো ব্যক্তির তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাঝুঁকির তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। পুলিশের ওপর ধারাবাহিক হামলা এবং দায়িত্ব পালনে বাধার ঘটনা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ধরে রাখার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়; পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব আচরণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করাও গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ, জনবল এবং কার্যকর অপারেশনাল নির্দেশনা দিতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধ দমনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অযৌক্তিক চাপ বা বাধা থাকলে তা দূর করতে হবে। পুলিশকে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে একজন কর্মকর্তা অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবেন। আবার কোনো পুলিশ সদস্য দায়িত্বে অবহেলা করলে কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করলে তাঁকেও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মাঠপর্যায়ের ইউনিটগুলোকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং, মাদক কারবার, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান জোরদার করতে হবে। রাজধানীর গুলশান, বনানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম যাচাইয়ে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর লাইসেন্স, নিবন্ধন, ভবনের ব্যবহার, অগ্নিনিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা করতে হবে। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি থানায় নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা থাকা দরকার। অভিযোগ গ্রহণের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হলো, তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না—এসব বিষয়ে অভিযোগকারীকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, সাধারণ মানুষ যদি অপরাধের তথ্য দিয়েও দ্রুত প্রতিকার না পান, তাহলে তাঁরা নিরাপত্তার জন্য কোথায় যাবেন? অপরাধীরা যদি পুলিশের ওপর হামলা করে পার পেয়ে যায়, সংঘবদ্ধভাবে জনজীবন অস্থির করে তোলে এবং বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত না হয়, তাহলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলার নামে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ কিংবা নির্বিচারে গ্রেপ্তার কোনো সমাধান হতে পারে না। অপরাধ দমন করতে হবে আইন মেনে, নিরপেক্ষভাবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে। একই সঙ্গে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের হলেও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সামগ্রিক দায়িত্ব। এ জন্য পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন, বিচার বিভাগ, সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন। অপরাধ দমনে পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ, নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অপরাধের অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে। জনগণ পুলিশের প্রতিপক্ষ নয়; বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণই পুলিশের সবচেয়ে বড় সহযোগী হতে পারে। তাই পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক ফিরিয়ে আনা জরুরি। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি থেকেই যায়—পুলিশের ওপর হামলা, মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা প্রস্তুত? থানায় গিয়ে সাধারণ মানুষ কি সহজে আইনি সেবা পাবেন? গুলশান-বনানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অপরাধের অভিযোগগুলো কি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর শুধু বক্তব্য কিংবা আশ্বাসে নয়, প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপে। কারণ জননিরাপত্তা কোনো বিশেষ শ্রেণির মানুষের অধিকার নয়; এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও আইনগত সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী, পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক করার মধ্য দিয়েই জনগণের নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা সম্ভব।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

একনেকে অনুমোদন পেল ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ উন্নয়ন প্রকল্প

৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয় সংবলিত ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১১টি নতুন এবং দুটি সংশোধিত প্রকল্প। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৫০ হাজার ৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৭ হাজার ৯৭৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৭৩ কোটি ৭ লাখ টাকা। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি প্রকল্প রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন, বরিশাল নগরীর খাল পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন, জলবায়ু সহনশীল নগর উন্নয়ন এবং সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন উল্লেখযোগ্য।আরও পড়ুন, এইচএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সম্পূরক পরীক্ষার তারিখ ঘোষণাস্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত ও অপারেশনাল যানবাহন কেনা হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোড আবাসিক এলাকায় বি-টাইপ অফিসার্স বাসস্থান নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া রাজধানীর জিগাতলার গাবতলা কলোনিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় দেশের পাঁচটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস) স্থাপন করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫), তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন এবং গ্রামীণ সড়কে ১৫ মিটার পর্যন্ত সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এদিকে, ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদিত আরও পাঁচটি প্রকল্প সম্পর্কে একনেক সভায় অবহিত করা হয়। এর মধ্যে হৃদরোগ চিকিৎসাসেবার আধুনিকায়ন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার, সড়ক নিরাপত্তা, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের আধুনিকায়ন এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের প্রকল্প রয়েছে।

এইচএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সম্পূরক পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য আগামী ১ ডিসেম্বর সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে গত ৩১ অক্টোবর সচিবালয়ে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেছিলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের একটি বছর যেন নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যেই এক মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার আয়োজন করা হবে। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। আরও পড়ুন, বিচারক সৈয়দ আজাদ সুবহানী পেলেন নতুন দায়িত্বএর মধ্যে এক বিষয়ে অকৃতকার্য ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে অকৃতকার্য ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। দুই শ্রেণি মিলিয়ে মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রী অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে নতুন করে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল জীবনের শেষ নয়। যথাযথ প্রস্তুতি ও প্রচেষ্টা থাকলে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী সময়ে ভালো ফল করতে পারবে। সরকারের এ উদ্যোগের ফলে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ১ ডিসেম্বরের পরীক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরাও অংশ নিতে পারবে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের বিস্তারিত নির্দেশনা জানা প্রয়োজন।

চার দিনের রিমান্ড শেষে ফের তিন দিনের রিমান্ডে দিশা

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জেরিকা তাসনীম দিশার (১৯) আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর আগে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন দিশাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, গত ২৭ অক্টোবর রাতে নিহত তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন দিশা। এর আগে তাঁরা একাধিকবার সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকসে গেছেন। মামলার অপর আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের (২৩) সঙ্গেও একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে দিশাকে দেখা গেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।আরও পড়ুন,রাজশাহী ঢাকা ও খুলনায় বৃষ্টির সম্ভাবনা তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, তাহসিফের মুঠোফোনের কললিস্ট পর্যালোচনায় হত্যাকাণ্ডের আগে দিশার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া প্রাথমিক তদন্তে তাঁর সংশ্লিষ্টতার তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার কথাও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত, ঘটনাস্থল নির্ধারণ ও আলামত উদ্ধারের জন্য দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে অপর আসামি দীপের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য যাচাই করার কথা বলা হয়েছে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। রাতে মায়ের ফোন পেয়ে শিগগির বাসায় ফেরার কথা জানালেও আর ফেরেননি। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাঁর মুঠোফোন থেকে মেসেঞ্জারে বাসায় ফেরার কথা জানিয়ে একটি ভয়েস বার্তা পাঠানো হয়। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এ ঘটনায় ৩০ অক্টোবর তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন।

রাজশাহী ঢাকা ও খুলনায় বৃষ্টির সম্ভাবনা

সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার মধ্যে দেশের তিন বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। দিনের তাপমাত্রাও সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার মধ্যে রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে।আরও পড়ুন,বিচারক সৈয়দ আজাদ সুবহানী পেলেন নতুন দায়িত্ব দেশের অন্যান্য এলাকায় আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ ও আশপাশের এলাকায় স্থল নিম্নচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। সব মিলিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা কমার পাশাপাশি রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু স্থানে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজনীতিরাজনীতি

দমন-পীড়ন চললে আন্দোলন বিস্তৃত হওয়ার হুঁশিয়ারি

দমন-পীড়ন চললে আন্দোলন বিস্তৃত হওয়ার হুঁশিয়ারি

শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির চলমান আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে জাতীয় শ্রমিক শক্তি। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, সরকারের অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত এবং মজুরি নির্ধারণে কার্যকর উদ্যোগের অভাবেই শ্রমিকদের আন্দোলন বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আগামী তিন দিনের মধ্যে নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনটির নেতারা। এতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি অভিযোগ করেন, মজুরি বোর্ড গঠন ও এর সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকার ও মালিকপক্ষের ভূমিকা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। শ্রমিকেরা বোর্ডের গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে সন্তুষ্ট নন। শিল্প খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। সংগঠনটির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির বলেন, নতুন মজুরি নির্ধারণের দাবিতে তাঁরা আগে থেকেই মজুরি বোর্ড গঠনের আহ্বান জানিয়ে আসছেন।আরও পড়ুন,আমির হামজার আয় ও সম্পদের তথ্য যাচাইয়ের দাবি এ বিষয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। পাশাপাশি আগামী তিন দিনের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণের দাবি জানান। জাতীয় শ্রমিক শক্তির সদস্যসচিব রিয়াজ মোর্শেদ শ্রমিকদের আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বলপ্রয়োগ না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শ্রমিকদের ওপর হামলা বা দমন-পীড়নের পরিবর্তে তাঁদের দাবি শোনার উদ্যোগ নিতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতা-কর্মী ও পুলিশের যৌথ মদদে শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে তাঁরা সতর্ক করেন, দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে।নেতারা বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বাস্তবতা বিবেচনায় শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা জরুরি। সহিংসতা এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সংকট সমাধানে সরকার ও মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

আমির হামজার আয় ও সম্পদের তথ্য যাচাইয়ের দাবি

আমির হামজার আয় ও সম্পদের তথ্য যাচাইয়ের দাবি

কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামা, আয়কর রিটার্ন ও আর্থিক তথ্যে একাধিক অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা মোঃ সিরাজুল ইসলাম। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া আবেদনে সংসদ সদস্যের নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা, কৃষিজমি, আবাসিক প্লট, স্ত্রীর সম্পদ, বাড়িভাড়া, গাড়ি, পারিবারিক ব্যয় ও নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, ২০২৫ সালের ৩০ জুনের আয়কর রিটার্নে আমির হামজার ব্যাংক ব্যালেন্স শূন্য দেখানো হলেও ইসলামী ব্যাংকের কুষ্টিয়া শাখায় একটি হিসাবে ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৭ টাকা জমা ছিল। এ ছাড়া নির্বাচনী হলফনামায় নগদ অর্থ ২ লাখ ৪৫ হাজার ১৭০ টাকা দেখানো হলেও আয়কর রিটার্নে দেখানো হয়েছে ৩৮ লাখ ৪৫ হাজার ১৭০ টাকা। দুই নথিতে পার্থক্য ৩৬ লাখ টাকা। আরও পড়ুন,মালিক-শ্রমিক সরকারের সংলাপ চায় ছাত্রশিবিরআবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কৃষিজমি, স্ত্রীর নামে থাকা জমি, আবাসিক প্লট, গাড়ি ও স্বর্ণের তথ্যেও হলফনামা এবং আয়কর রিটার্নের মধ্যে অমিল রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সম্মানী ও হাসপাতাল থেকে নিয়মিত অর্থ পাওয়ার দাবি করা হলেও এসব আয়ের তথ্য নথিতে উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ আবেদনকারীর। নির্বাচনী ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সিরাজুল ইসলাম। তার দাবি, নির্বাচনের বিভিন্ন খাতে ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য দেওয়ার পর ১০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন পরিচালনার ব্যাংক হিসাব থেকে আরও ৩৮ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। সব মিলিয়ে নির্বাচনী ব্যয় ৭২ লাখ টাকা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এ ব্যয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারী। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, যানবাহন নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ এবং ভূমি ও নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের নথিপত্র পরীক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। সিরাজুল ইসলামের দাবি, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আর্থিক তথ্যের অসংগতি নজরে আসায় তিনি অভিযোগ করেছেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য আমির হামজার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

 মালিক-শ্রমিক সরকারের সংলাপ চায় ছাত্রশিবির

মালিক-শ্রমিক সরকারের সংলাপ চায় ছাত্রশিবির

দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ, কারখানা বন্ধ এবং শ্রমিকদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করাসহ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এসব দাবি জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা, সাভার, মিরপুর, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। আন্দোলনের কারণে ঢাকা, গাজীপুর ও আশুলিয়ার অন্তত ৬৭৯টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে বলে দাবি করেন সংগঠনটির নেতারা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।আরও পড়ুন,বিমানের ছবি দিয়ে রহস্যময় পোস্ট আসিফ মাহমুদেরনেতারা বলেন, তৈরি পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। লাখো শ্রমিকের শ্রমে এ খাত রপ্তানি আয়ের বড় অংশ জোগান দিলেও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি বাড়ানো হয়নি। ২০২৩ সালে নির্ধারিত ১২ হাজার ৫০০ টাকা ন্যূনতম মজুরিতে শ্রমিকদের বর্তমান ব্যয় নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে। বিবৃতিতে শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, অসন্তোষকে রাজনৈতিকভাবে চিহ্নিত করে দমন-পীড়নের পরিবর্তে মালিক, শ্রমিক ও সরকারের মধ্যে কার্যকর সংলাপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা নাশকতার আশঙ্কা থাকলে তা সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলার আহ্বান জানানো হয়। ছাত্রশিবিরের নেতারা অবিলম্বে মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা আহ্বান, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ, গ্রেপ্তার শ্রমিকদের মুক্তি এবং সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। তাঁদের মতে, শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করেই পোশাকশিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

বিমানের ছবি দিয়ে রহস্যময় পোস্ট আসিফ মাহমুদের

বিমানের ছবি দিয়ে রহস্যময় পোস্ট আসিফ মাহমুদের

‘আপা আসবে তাই চলে যাচ্ছি। বিদায় বাংলাদেশ!’ নিজের ফেসবুক পোস্টে এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আসিফ মাহমুদ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা লেখেন তিনি।পোস্টের সঙ্গে বিমানের ভেতরে অবস্থান করা একটি ছবিও যুক্ত করেন আসিফ মাহমুদ। ছবিতে তার সঙ্গে দেখা যায় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনকে। তবে তারা কোথায় যাচ্ছেন, আরও পড়ুন,জনগণের স্বার্থে সবাইকে রাজপথে নামার আহ্বান নাহিদেরসে বিষয়ে পোস্টে কোনো তথ্য উল্লেখ করেননি আসিফ মাহমুদ। ফলে তাদের গন্তব্য নিয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। এদিকে, পোস্টটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে ৬৪ হাজার রিয়্যাকশন পড়েছে। আসিফ মাহমুদের এই পোস্টে ‘আপা আসবে’ মন্তব্যের মাধ্যমে কাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

সারাবাংলা

বকশীগঞ্জে শিক্ষকদের বেতন বন্ধ রেখে অর্থ দাবির অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস

বকশীগঞ্জে শিক্ষকদের বেতন বন্ধ রেখে অর্থ দাবির অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস

‎‎জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রাবাজ রশিদা বেগম স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে পকেট কমিটি গঠন এবং শিক্ষকদের বেতন-ভাতা আটকে রেখে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিকার ও সুবিচার চেয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। ‎অভিযোগকারীদের দাবি, অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম তাঁর নিকটাত্মীয়দের নিয়ে একটি পকেট কমিটি গঠন করে সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নিজের ইচ্ছামতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। এ ছাড়া শিক্ষকদের সরকারি অংশের বেতন-ভাতা বিতরণেও স্বেচ্ছাচারিতা করছেন। ‎২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে প্রতিষ্ঠানটির ১৫ জন শিক্ষকের বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে কয়েকজন শিক্ষকের টানা ৯, ৮ ও ৬ মাসের বেতন-ভাতা আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে।আরও পড়ুন, চট্টগ্রামের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের হাতছানি ১২০ কোটি টাকার অনুদানের পরিকল্পনা জাইকার‎অভিযোগকারীদের দাবি, বন্ধ থাকা বেতন-ভাতা ছাড় করার অনুরোধ জানালে অধ্যক্ষ প্রত্যেক শিক্ষকের কাছে তিন লাখ টাকা করে দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকিও দেওয়া হয়। ‎দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা আটকে রাখার কারণে শিক্ষক-কর্মচারীরা আর্থিক সংকটে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষকদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি জানানো হয়েছে। ‎এ বিষয়ে চন্দ্রাবাজ রশিদা বেগম স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ‎উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আজাদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, আগামী সপ্তাহে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।‎

চট্টগ্রামের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের হাতছানি ১২০ কোটি টাকার অনুদানের পরিকল্পনা জাইকার

চট্টগ্রামের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের হাতছানি ১২০ কোটি টাকার অনুদানের পরিকল্পনা জাইকার

চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকট নিরসনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে (চসিক) প্রায় ১২০ কোটি টাকার অনুদান সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। প্রস্তাবিত এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নগরীর বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) চট্টগ্রাম নগর ভবনে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে জাইকার একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এ পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত অনুদানের অর্থায়নে নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে ৫০টির বেশি আধুনিক বর্জ্য পরিবহনকারী যানবাহন এবং ল্যান্ডফিল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশসম্মত পদ্ধতিতে বর্জ্য নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নতুন স্যানিটারি ল্যান্ডফিল স্থাপনেও সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে ১২০ কোটি টাকার অনুদান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অনুমোদন দিয়েছে জাপান সরকার। এর ধারাবাহিকতায় আগামী ডিসেম্বরে জাইকার সদর দপ্তর থেকে একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম সফরে আসার কথা রয়েছে। তাদের সমীক্ষা ও মূল্যায়নের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৈঠকে নগরীর ভবিষ্যৎ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে ফতেয়াবাদ নন্দীরহাট এলাকায় নতুন ল্যান্ডফিল স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে মোট ২৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি অংশে ১৮ একর এবং সংলগ্ন অপর অংশে ১০ একর জমি রয়েছে। এ জমিতেই পরিকল্পিত বর্জ্য নিষ্পত্তি অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।আরও পড়ুন, সখীপুরে শিশুসন্তানসহ ৪ দিন ধরে নিখোঁজ গৃহবধূ!জাইকা বাংলাদেশের সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ হিদেকি ওসাওয়া বৈঠকে জানান, নতুন ল্যান্ডফিল নির্মাণের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) দ্রুত প্রস্তুত করার লক্ষ্যে কারিগরি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে জাইকার বিশেষজ্ঞরা চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্পের নকশা এবং প্রয়োজনীয় কাজের পরিমাণ ও ব্যয়ের প্রাক্কলন (বিওকিউ) তৈরিতে সহযোগিতা করছেন। এ সময় চসিক প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন নগরীর উন্নয়ন কার্যক্রমে জাইকার সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রস্তাবিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সফল করতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি সহযোগিতা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি নতুন ল্যান্ডফিল স্থাপনের উদ্যোগের সঙ্গে নগরীর বিদ্যমান বর্জ্য নিষ্পত্তি কেন্দ্রগুলোর ব্যবস্থাপনা উন্নয়নেও জাইকার সহায়তা প্রত্যাশা করেন চসিক প্রশাসক। তিনি বলেন, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার জন্য আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার বিকল্প নেই। নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি করতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বৈঠকে চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, জাইকা বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. আব্দুল্লাহ বিন হোসেন, জাইকার বিশেষজ্ঞ দলের তাকাতোশি আরাই, হিরোফুমি মিয়োশি, সাতোশি হিগাশিনাকাগাওয়া এবং প্রকৌশলী গোলাম সারওয়ার উপস্থিত ছিলেন। চট্টগ্রাম নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখন গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে আসন্ন সম্ভাব্যতা সমীক্ষা। সমীক্ষায় ইতিবাচক ফলাফল এবং পরবর্তী অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রস্তাবিত জাপানি অনুদানের মাধ্যমে বর্জ্য পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিক নিষ্পত্তি অবকাঠামো গড়ে তোলার পথ সুগম হবে।

সখীপুরে শিশুসন্তানসহ ৪ দিন ধরে নিখোঁজ গৃহবধূ!

সখীপুরে শিশুসন্তানসহ ৪ দিন ধরে নিখোঁজ গৃহবধূ!

টাঙ্গাইলের সখীপুরে চার মাসের শিশুকন্যাকে নিয়ে চার দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন লিজা আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূ। গত রোববার থেকে মা ও শিশুর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় দুই পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। নিখোঁজ লিজা উপজেলার কালিয়ানপাড়া গ্রামের আল-আমিনের স্ত্রী। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান না পেয়ে এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পরেছেন। পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার সময় লিজার সঙ্গে স্বর্ণের চেইন ও নগদ ৫০ হাজার টাকা ছিল। থানায় লিখিত অভিযোগে লিজার শাশুড়ি সাজেদা আক্তার উল্লেখ করেন, ৩১ অক্টোবর রাতে পরিবারের সবাই খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন সকালে নাতনিকে নিতে ঘরের সামনে গিয়ে দেখেন, ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। পরে ঘরে লিজা ও তার শিশুকন্যাকে পাওয়া যায়নি।আরও পড়ুন, গাজীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতির অভিযোগলিজার স্বামী আল-আমিন বলেন, আমি একজন গাড়িচালক। গাড়ি চালানোর সুবাদে বেশিরভাগ সময়ই বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। ঘটনার দিন রাতেও আমি বাড়িতে ছিলাম না। এ ঘটনায় আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি আমার স্ত্রী ও সন্তানকে ফিরে পেতে চাই। অন্যদিকে লিজার বাবা লেবু মিয়া অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন করতেন। নিখোঁজ হওয়ার আগের দিনও তার স্বামী তাকে মারধর করেন। তিনি বলেন, তিন দিন হয়ে গেল, আমার মেয়ে ও নাতনির কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। আমি আমার মেয়ের সন্ধান চাই। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আজহারুল ইসলাম বলেন, গৃহবধূ ও তার শিশুসন্তান নিখোঁজের ঘটনায় থানায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের উদ্ধারে পুলিশ গুরুত্বসহকারে কাজ করছে। প্রয়োজনীয় তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

গাজীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতির অভিযোগ

গাজীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতির অভিযোগ

গাজীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো অফিসে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি অফিসের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা চলাকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি, দাপ্তরিক কাজে ধীরগতি এবং খাদ্যবান্ধব কার্যক্রমের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আজ সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে গাজীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসে সরেজমিনে গিয়ে এক ভিন্ন পরিস্থিতি দেখতে পান এ প্রতিবেদক। অফিস সময়ে সেখানে গিয়ে প্রত্যাশিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সরকারি দপ্তরে সকাল সাড়ে ১০টার সময়ও যদি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন কীভাবে—এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে অফিসে উপস্থিত একজনের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এখনো অফিসে আসেননি। তবে কেন নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য গাজীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল হোসেন সোহেলের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন এ প্রতিবেদক। কিন্তু একাধিকবার ফোন করা সত্ত্বেও তিনি কোনো সাড়া দেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছে দাপ্তরিক বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে তাঁর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় বক্তব্য পাওয়া সাংবাদিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সরকারি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জনসমক্ষে আসা জরুরি। এ প্রতিবেদকের অভিযোগ, শুধু একদিন নয়, এর আগেও একাধিকবার গাজীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে পাওয়া যায়নি। বারবার অফিসে গিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায় সরকারি দপ্তরের নিয়মিত কার্যক্রম ও কর্মঘণ্টা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারি অফিস জনগণের সেবা প্রদানের জায়গা। সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো উপস্থিত থাকা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাওয়া না গেলে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পাশাপাশি সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়।আরও পড়ুন, গাজীপুরে ডিবির পৃথক অভিযানে ২ হাজার ৪৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২অন্যদিকে, গাজীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসকে ঘিরে আরও কিছু গুরুতর অভিযোগের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে ডিলারদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ এবং রাতের আঁধারে খাদ্যপণ্য বিক্রির মতো অনিয়ম ঘটতে পারে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলার, ভুক্তভোগী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন। সরকারি খাদ্যশস্য ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির পণ্য বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনা জরুরি। সরকারি খাদ্যসামগ্রী সাধারণ মানুষের কল্যাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব পণ্য বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, অর্থ লেনদেন কিংবা নিয়মবহির্ভূত বিক্রির ঘটনা ঘটলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। এ অবস্থায় গাজীপুর জেলা প্রশাসকের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এ প্রতিবেদক। একই সঙ্গে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি, অফিস সময় যথাযথভাবে পালন, দাপ্তরিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা এবং ডিলারদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হচ্ছে। প্রয়োজনে আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি যাচাই, হাজিরা খাতা পরীক্ষা, খাদ্যপণ্য বিতরণ ও বিক্রির রেজিস্টার পর্যালোচনা এবং ডিলারদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বিষয়টি তদন্ত করা যেতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি খাদ্যশস্য বিতরণ কার্যক্রমে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। সরকারি দপ্তর কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান নয়; এটি জনগণের অর্থে পরিচালিত একটি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান। তাই নির্ধারিত কর্মঘণ্টায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাজীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে প্রকাশ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল হোসেন সোহেলের বক্তব্যও সংবাদে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বার বার তাকে কল দেওয়া হয়েছে সে ধরে নাই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

আন্তর্জাতিক

ভারতের অনুরোধে সাড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল মালয়েশিয়া

ভারতের অনুরোধে সাড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল মালয়েশিয়া

ইসলামি বক্তা ও ধর্মপ্রচারক ডা. জাকির নায়েককে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি মালয়েশিয়া সরকার। বরং তাঁকে প্রত্যর্পণ না করার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমস। দেশটির পার্লামেন্টে লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০১০ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং ১৯৯২ সালের প্রত্যর্পণ আইন বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জাকির নায়েককে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারত থেকে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদনও পায়নি মালয়েশিয়া। পার্লামেন্ট সদস্য দাতুক ড. আহমাদ মারজুক শারির প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের পক্ষ থেকে সর্বশেষ প্রত্যর্পণ আবেদনের সময় এবং দেশটির দেওয়া তথ্য-প্রমাণ মালয়েশিয়ার আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির শর্ত পূরণ করে কি না, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন।আরও পড়ুন,প্রথম নারী গভর্নর পেতে যাচ্ছে ওহাইও প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত ২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে জাকির নায়েককে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানায়। পরে ২০২০ সালের ২৯ মে কূটনৈতিক নোট পাঠিয়ে আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায় নয়াদিল্লি। গত সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বৈঠকে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর মালয়েশিয়ার বিরোধী দলের নেতারা এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দাবি করেন। দুই নেতার বৈঠকে কোনো সমঝোতা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। অর্থপাচার ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের অভিযোগে ভারত জাকির নায়েককে ফেরত চেয়ে আসছে। তবে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তাঁকে ভারতের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে দেশটির সরকার কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

২ ঘন্টা আগে

রাজধানী

রাজধানীতে বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

রাজধানীতে বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

রাজধানীর মিরপুরে যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী রয়েছেন।বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানার বেড়িবাঁধের নবাবেরবাগ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এক খুদে বার্তায় দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আরও পড়ুন,দোকানপাট খোলা রাখার সময় বাড়াতে মন্ত্রণালয়ে আবেদনতিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। এ ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে দুর্ঘটনায় আর কেউ আহত হননি বলে জানান তিনি। বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। এদিকে, নিহতদের পরিচয় এবং দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

৯ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৬ জন

খেলাধুলা

রেকর্ড গড়ার রাতে বার্সেলোনার বড় জয়

রেকর্ড গড়ার রাতে বার্সেলোনার বড় জয়

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে নতুন কীর্তি গড়েছেন বার্সেলোনার তরুণ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামাল। রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে প্রতিযোগিতাটিতে ২০ বছর বয়সের আগে সর্বোচ্চ গোল করা ফুটবলার হয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে গোল করে এই রেকর্ড গড়েন ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল। স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে ম্যাচের সপ্তম মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে পাঠান এই স্প্যানিশ তারকা। এই গোলের মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইয়ামালের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪টি। এর আগে ১৩ গোল নিয়ে রেকর্ডটি ছিল কিলিয়ান এমবাপ্পের দখলে। তবে পুরো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ক্যারিয়ারে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা এখন ৭২। মাত্র ৩৭ ম্যাচ খেলেই ১৪ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ইয়ামাল। আরও পড়ুন,মুস্তাফিজকে পেয়ে খুশি মেলবোর্ন কোচপ্রতিযোগিতাটিতে বয়সভিত্তিক আরও বেশ কয়েকটি রেকর্ড রয়েছে তাঁর দখলে। ১৬ বছর ৮৩ দিন বয়সে পোর্তোর বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষেক হয় তাঁর। সবচেয়ে কম বয়সে ম্যাচের শুরুর একাদশে খেলার কীর্তিও রয়েছে এই ফরোয়ার্ডের। এ ছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সবচেয়ে কম বয়সে গোল ও অ্যাসিস্ট করা এবং সেমিফাইনালে গোল করার রেকর্ডও রয়েছে ইয়ামালের। অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ম্যাচে ইয়ামালের গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল করেন রাফিনিয়া। শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। এই হারের মধ্য দিয়ে চলতি লিগ পর্বে প্রথমবার পয়েন্ট হারায় অ্যাস্টন ভিলা। অন্যদিকে, জয়ের সুবাদে সাময়িকভাবে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে বার্সেলোনা। চলতি মৌসুমেও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন ইয়ামাল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৫ ম্যাচে ১৩ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও ১১টি গোল করিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি ব্যালন ডি'অর পুরস্কারে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন বার্সেলোনার এই তরুণ তারকা।

আইন আদালত

পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। ব্যবসায়ী নাসির ইউ আহমেদের করা মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় তার জামিন বাতিল করে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এদিন বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। অন্যদিকে, পরীমনির আইনজীবী সময়ের আবেদন জানিয়ে আদালতকে বলেন, অ্যালার্জিজনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। পরে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে পরীমনির জামিন বাতিল এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। এর আগে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় পরীমনিসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওই দিনও তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।আরও পড়ুন, হুমায়ূন আহমেদের হাত ধরেই বড় পর্দায় মিমের অভিষেকমামলার তদন্তে ২০২৪ সালে পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০২১ সালের ৬ জুলাই বোট ক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। অন্য দুই আসামি হলেন ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম। মামলার অভিযোগে নাসির উদ্দিন মাহমুদ দাবি করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমনি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা ক্লাবের দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার এবং পরে বসে অ্যালকোহল পান করেন। এ সময় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!