দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

অভিযোগের পরও কেন বিলম্ব, প্রশ্ন পুলিশের কার্যক্রম

অভিযোগের পরও কেন বিলম্ব, প্রশ্ন পুলিশের কার্যক্রম

দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্ব পুলিশের। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ, অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এসব দায়িত্ব পালনে পুলিশের তৎপরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন মহলে এমন প্রশ্ন উঠছে যে, অপরাধের তথ্য পাওয়ার পরও কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের পরিবর্তে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে অপরাধ প্রতিরোধে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে জনমনে প্রত্যাশা অনেক। কোথাও মাদক বিক্রি, কোথাও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, কোথাও চাঁদাবাজি, আবার কোথাও আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস ও স্পাকেন্দ্রকে ঘিরে নানা অভিযোগ—এসব বিষয়ে নাগরিকেরা পুলিশের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পর যদি দ্রুত পদক্ষেপের পরিবর্তে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়, তাহলে অভিযোগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। একই সঙ্গে অপরাধীরা সুযোগ পেয়ে নিজেদের তৎপরতা অব্যাহত রাখতে পারে—এমন আশঙ্কাও দেখা দেয়। তবে পুলিশের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধীরগতি রয়েছে, কিংবা সব অভিযোগের পর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য ও ঘটনাভিত্তিক যাচাই প্রয়োজন। বাস্তবতা হলো, অপরাধের ধরন, অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা, সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতি, জনবল এবং আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর পদক্ষেপের ধরন নির্ভর করে। তবু জননিরাপত্তার স্বার্থে অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত যাচাই, দায়িত্ব নির্ধারণ এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিশ্চিত করা জরুরি। অপরাধসংক্রান্ত তথ্য দিতে গিয়ে কোনো নাগরিক বা সাংবাদিক যদি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে শুধু ‘সিনিয়রদের জানান’ এমন পরামর্শ পান, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, মাঠপর্যায়ের পুলিশের দায়িত্ব কোথায়? ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া যেন অপরাধ প্রতিরোধের বিকল্প হয়ে না দাঁড়ায়। একজন নাগরিক কোনো এলাকায় মাদক বিক্রি, চাঁদাবাজি, কিংবা অনৈতিক কারবার উপস্থিতি সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য দিলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত তথ্যটি গ্রহণ করা, আরও পড়ুন,আবেরা’ স্পা ঘিরে অভিযোগ, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্নপ্রয়োজনীয় বিবরণ সংগ্রহ করা এবং ঝুঁকি বিবেচনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সার্কেল কর্মকর্তা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, উপকমিশনার কিংবা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। তবে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিষয়টি যাচাই না করে কেবল অন্য দপ্তরে পাঠিয়ে দিলে কার্যকর ফল পাওয়া কঠিন। বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, একটি কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থায় দায়িত্বের স্পষ্ট বণ্টন, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জবাবদিহি এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ প্রয়োজন হলে তা দ্রুত নেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। কিন্তু সাধারণ আইনগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও যদি অপ্রয়োজনীয় অনুমতির অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে অপরাধ প্রতিরোধের গতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর কে ব্যবস্থা নেবেন, কত দ্রুত প্রাথমিক যাচাই হবে এবং পরবর্তী অগ্রগতি কী—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট কর্মপদ্ধতি থাকা প্রয়োজন। অভিযোগকারীকে বারবার বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর পরিবর্তে একটি কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে নাগরিকদের ভোগান্তি কমবে। মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, প্রতারণা এবং বিভিন্ন অনিয়ম জননিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন তদন্ত এবং অপরাধীদের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা প্রয়োজন। মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শুধু খুচরা বিক্রেতা বা মাদক বহনকারীদের গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। মাদকের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা, অর্থায়ন এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্রের ভূমিকা অনুসন্ধান করতে হবে। একই সঙ্গে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ বাড়ানো এবং তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। কিশোর গ্যাংয়ের ক্ষেত্রেও কেবল গ্রেপ্তারনির্ভর ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারামারি, ছিনতাই কিংবা অন্যান্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের পৃষ্ঠপোষকতা, অর্থের উৎস এবং সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে হবে। স্কুল-কলেজ, পরিবার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সামাজিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে প্রতিরোধমূলক কর্মসূচিও চালাতে হবে। চাঁদাবাজির অভিযোগের ক্ষেত্রেও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় ভয়ভীতি বা প্রতিশোধের আশঙ্কায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করতে চান না। তাই অভিযোগকারীর পরিচয় ও নিরাপত্তা রক্ষার ব্যবস্থা, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করার ব্যবস্থা থাকা দরকার। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, ভাড়া করা ফ্ল্যাট ও স্পাকেন্দ্রকে ঘিরে মাঝেমধ্যে নানা ধরনের অভিযোগ সামনে আসে। কোথাও অননুমোদিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম, কোথাও লাইসেন্সসংক্রান্ত অনিয়ম, আবার কোথাও মাদক, মানব পাচার, আরও পড়ুন,শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসবপ্রতারণা কিংবা যৌন শোষণের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। তবে অভিযোগ গুরুতর হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রথমে তার বৈধ কাগজপত্র, ট্রেড লাইসেন্স, ভবন ব্যবহারের অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণের বিষয় যাচাই করা যেতে পারে। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী পুলিশ, স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে মানব পাচার, জোরপূর্বক যৌন শোষণ, মাদক সরবরাহ কিংবা কোনো ব্যক্তিকে আটকে রাখার মতো অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা জরুরি। ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রমাণ সংগ্রহ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বৈধভাবে পরিচালিত হোটেল বা স্পাকেন্দ্রের কর্মীদের অযথা হয়রানি না করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় কতটা কার্যকর? একটি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে একাধিক দপ্তরের কাছে অভিযোগ থাকলে কে তদন্তের নেতৃত্ব দেবে, কে নথিপত্র যাচাই করবে এবং কে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেবে তা নির্ধারিত থাকা প্রয়োজন। সমন্বয়ের অভাবে কোনো অভিযোগ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে জনমনে প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। অপরাধ দমনে পুলিশের সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো আইন প্রয়োগের সময় সংঘবদ্ধ জনতার বাধা বা মব সৃষ্টি। কোনো অভিযান, গ্রেপ্তার কিংবা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের কাজে বাধা দিলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে। কোথাও পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা কিংবা আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে জনতার প্রতিটি সমাবেশকে মব হিসেবে বিবেচনা করা কিংবা পুলিশের প্রতিটি বলপ্রয়োগকে যথার্থ বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কোনো ঘটনার প্রকৃতি, পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, ভিডিওচিত্র এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করতে হবে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং সহিংসভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। আইন প্রয়োগের সময় পুলিশকে পেশাদারত্ব, সংযম এবং আনুপাতিক বলপ্রয়োগের নীতি অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশের বৈধ দায়িত্ব পালনে বাধা, হামলা কিংবা অপরাধীকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত কি না, তা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ার; জনতার শাস্তি দেওয়ার অধিকার নেই। পুলিশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকের অধিকার রক্ষা—দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য সংঘবদ্ধ সহিংসতা মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত জনবল, কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা এবং ঘটনার ভিডিও ও অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণের ব্যবস্থা প্রয়োজন। পাশাপাশি পুলিশের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা অসদাচরণের অভিযোগ উঠলেও তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। এতে পুলিশের প্রতি আস্থা এবং আইন প্রয়োগের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। অপরাধের ঘটনা ঘটার পর থানার পুলিশ যদি প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে নির্দেশের অপেক্ষায় থাকে, তাহলে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ ব্যাহত হতে পারে। তবে সব সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে নেওয়া সম্ভব নয়; কিছু ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন কিংবা বিশেষায়িত সংস্থার সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। তাই কোন ধরনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে এবং কোন ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের অনুমোদন লাগবে, তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা দরকার। থানায় অভিযোগ গ্রহণ, সাধারণ ডায়েরি, মামলা, জরুরি সাড়া এবং তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য কার্যকর মানদণ্ড থাকা প্রয়োজন। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পুলিশ পাঠানো, ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি থানার কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করে অযৌক্তিক বিলম্বের কারণ শনাক্ত করা জরুরি। কোনো অভিযোগের পর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তার কারণ নথিভুক্ত করতে হবে। অভিযোগটি ভিত্তিহীন, এখতিয়ারবহির্ভূত কিংবা অতিরিক্ত তদন্তের প্রয়োজন আছে কি না, আরও পড়ুন,জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হোক জাতীয় অগ্রাধিকার, সম্মিলিত দায়িত্ব হোক বাস্তবায়নের শক্তিতা স্পষ্টভাবে জানানো হলে অভিযোগকারীও বিষয়টি বুঝতে পারবেন। এতে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কমবে এবং পুলিশি সেবায় স্বচ্ছতা বাড়বে। অপরাধ দমনে কার্যকর ফল পেতে সরকারের নীতিগত নির্দেশনা এবং পুলিশ সদর দপ্তরের প্রশাসনিক তদারকি গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু কঠোর নির্দেশ জারি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য জনবল, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, জবাবদিহি এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করতে হবে। প্রথমত, অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত যাচাই ও পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সময়ভিত্তিক কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করা যেতে পারে। জরুরি অভিযোগের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সাড়া এবং অন্যান্য অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রাথমিক যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, থানা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কার্যক্রম মূল্যায়নে শুধু গ্রেপ্তার বা অভিযানের সংখ্যা নয়, অপরাধ প্রতিরোধ, অভিযোগ নিষ্পত্তি, তদন্তের মান এবং নাগরিকের নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে। তৃতীয়ত, মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করতে হবে। স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তথ্যদাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, পুলিশের ওপর হামলা কিংবা আইন প্রয়োগে বাধার ঘটনা এবং পুলিশের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ—উভয় ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা থাকতে হবে। অপরাধী যে-ই হোক, প্রমাণের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পঞ্চমত, হোটেল, গেস্ট হাউস, স্পাকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। নিয়মিত পরিদর্শন, লাইসেন্স যাচাই এবং আইনভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ষষ্ঠত, পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা বা অযৌক্তিক বিলম্বের অভিযোগ জানানোর জন্য সহজলভ্য অভিযোগব্যবস্থা রাখতে হবে। অভিযোগের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা পর্যালোচনার সুযোগ থাকলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।পুলিশের কার্যকারিতা শুধু অভিযান বা গ্রেপ্তারের সংখ্যায় পরিমাপ করা যায় না। একজন নাগরিক বিপদের সময় কত দ্রুত সহায়তা পাচ্ছেন, অভিযোগ জানানোর পর কতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং অপরাধের বিরুদ্ধে আইন কতটা নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা কমে গেলে অপরাধের তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত যাচাই ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে নাগরিকেরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতায় উৎসাহিত হন। এ কারণে পুলিশের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক উন্নয়ন, স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত মতবিনিময় এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির অগ্রগতি জানানো প্রয়োজন। সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও অপরাধসংক্রান্ত তথ্যের নিরপেক্ষ যাচাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং অভিযোগের অগ্রগতি অনুসরণ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আগাম অপরাধী হিসেবে আখ্যায়িত না করে প্রমাণ, নথিপত্র ও আইনগত অবস্থান বিবেচনায় প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। এতে জনস্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাও বজায় থাকবে। মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম প্রতিরোধে পুলিশের সক্রিয়তা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জবাবদিহির বিকল্প নেই। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগের সময় পুলিশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মব সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে হবে। অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর শুধু ‘সিনিয়রদের জানান’ বলে দায়িত্ব শেষ করা কোনো কার্যকর সমাধান হতে পারে না। প্রয়োজন তথ্য গ্রহণ, দ্রুত যাচাই, যথাযথ পদক্ষেপ এবং ফলাফল পর্যবেক্ষণের সমন্বিত ব্যবস্থা। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও মাঠপর্যায়ের পুলিশের কার্যকর উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। সরকার ও পুলিশ সদর দপ্তরের উচিত অপরাধ দমনে বাস্তবভিত্তিক নির্দেশনা, নিয়মিত তদারকি এবং দায়িত্বে অবহেলার ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা। তবে কঠোরতা মানে নির্বিচার বলপ্রয়োগ নয়।  আইনের সীমার মধ্যে দৃঢ়, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণই হওয়া উচিত পুলিশের মূলনীতি। অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা, নিরপরাধ নাগরিককে হয়রানি থেকে রক্ষা করা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই পুলিশের কার্যকারিতা প্রমাণিত হবে। আইন প্রয়োগে অযথা বিলম্ব ও দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দূর করে পেশাদার, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।আরও পড়ুন,বনানীর গেস্ট হাউসের অন্ধকার জগৎ নিয়ে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধএবিষয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেণ, অপরাধ দমনে পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে দায়িত্বশীল, পেশাদার ও তৎপর ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো অপরাধের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর তা অবহেলা করা কিংবা অযথা সময়ক্ষেপণ করা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করতে হবে, তবে এর কারণে আইনগত দায়িত্ব পালনে বিলম্ব করা যাবে না। অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, অবৈধ কর্মকাণ্ড এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ নিয়মিত কাজ করে। এসব অপরাধ নির্মূলে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ অপরাধসংক্রান্ত তথ্য দিলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা এবং তথ্যদাতার নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, পুলিশের আইনানুগ দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, হামলা করা কিংবা সংঘবদ্ধভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। একই সঙ্গে পুলিশকেও দায়িত্ব পালনের সময় আইন, মানবাধিকার ও পেশাগত আচরণবিধি অনুসরণ করতে হবে। কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা বা অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করা। জনসাধারণের বক্তব্য অনুযায়ী তারা বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ চাই, পুলিশ যেন অপরাধের তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। কোনো এলাকায় মাদক বিক্রি, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, চাঁদাবাজি কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ জানালে পুলিশ যদি শুধু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাতে বলে, তাহলে সাধারণ মানুষ হতাশ হন। অপরাধীরা সুযোগ পেলে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়, আর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। আমরা চাই, থানায় অভিযোগ জানালে পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তা যাচাই করবে এবং অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে পুলিশের দায়িত্ব পালনের সময় কেউ যেন সংঘবদ্ধভাবে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশকে যেমন দায়িত্বশীল হতে হবে, তেমনি জনগণকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করতে হবে। আমাদের দাবি, সরকার ও পুলিশ প্রশাসন অপরাধ দমনে কার্যকর নির্দেশনা দিক এবং মাঠপর্যায়ে তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করুক। পুলিশের কোনো সদস্য দায়িত্বে অবহেলা করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আবার পুলিশ আইনানুগ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়লে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাও দিতে হবে। আমরা এমন একটি নিরাপদ সমাজ চাই, যেখানে অপরাধী যে-ই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না এবং সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে বসবাস করতে পারবেন।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় নতুন উদ্যোগ

পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য খাতে লুটপাটের অভিযোগ তুলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, লুটপাট করে স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা সফরকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। রহমান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (আরডিএফ) উদ্যোগে কসবা ও আখাউড়া উপজেলায় মোবাইল হাসপাতালের কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোবাইল হাসপাতালের মাধ্যমে সাধারণ চিকিৎসা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, দাঁতের চিকিৎসা, বিভিন্ন রোগের ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা এবং বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হবে। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আরো পড়ুন,ভাটারার অভিযানে স্বাধীন তদন্তের দাবিস্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা শহরকেন্দ্রিক না রেখে গ্রাম পর্যায়েও পৌঁছে দিতে হবে। মোবাইল হাসপাতালের মতো উদ্যোগ প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। কসবা ও আখাউড়া এলাকায় এ কার্যক্রম চালুর ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাথমিক চিকিৎসা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা পাবেন বলে আশা করছেন আয়োজকেরা। বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণের পরিকল্পনাও রয়েছে এ উদ্যোগে।স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে নিয়মিত সেবা প্রদান এবং প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভাটারার অভিযানে স্বাধীন তদন্তের দাবি

রাজধানীর ভাটারায় পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি-১ আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আটক ৮৫ জনকে মাদক গ্রহণের অভিযোগে সাজা দেওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে। আটক ব্যক্তিদের স্বজনদের অভিযোগ, মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হলেও পরে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁদের দাবি, মাদক গ্রহণের পরীক্ষা ছাড়াই সাজা দেওয়া হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উত্তরা বিভাগের একটি দল বাড়িটিতে অভিযান চালায়। আটক ৮৫ জনের মধ্যে ২৬ জন নারী ছিলেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পুরুষদের এক মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা এবং নারীদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করেন। সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, আসামিরা দোষ স্বীকার করায় তাঁদের সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে সাজাপ্রাপ্তদের স্বজনেরা এ বক্তব্য অস্বীকার করে বলেছেন, তাঁদের মুচলেকার কথা বলে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেছেন, কী প্রমাণের ভিত্তিতে সাজা দেওয়া হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট ভালো বলতে পারবেন।আরো পড়ুন,জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ডিবির জব্দ তালিকায় চারটি মদের বোতল, একটি ইয়াবা বড়ি, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম এবং অল্প পরিমাণ কুশ উদ্ধারের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে অভিযানে আটক প্রত্যেক ব্যক্তি মাদক গ্রহণ করেছিলেন কি না, তা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনেরা।অভিযানের সময় বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে নেওয়া এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের ভিডিও ধারণের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ক্যামেরার মেমোরি কার্ড কোথায় এবং তা জব্দ তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে। আটক ব্যক্তিদের ভিডিও কীভাবে ছড়িয়ে পড়ল, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা। বাড়িটির মালিক পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল জহির। ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে আসার পর তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। এ ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা বলেছেন, দোষ স্বীকারের দাবি থাকলেও অভিযোগের প্রমাণ, সাজা দেওয়ার প্রক্রিয়া এবং আটক ব্যক্তিদের ছবি বা ভিডিও প্রকাশের বৈধতা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পুরো ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।

অপরাধ দমনে অবদানের স্বীকৃতি পেলেন পুলিশ সদস্যরা

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, পিপিএমের সভাপতিত্বে সভা দুটি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত কল্যাণ সভায় জেলার বিভিন্ন ইউনিটের ইনচার্জ ও পুলিশ সদস্যরা তাঁদের সামষ্টিক সমস্যা তুলে ধরেন। এ সময় পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করা হয়। ফতুল্লা থানার এএসআই মো. আব্দুল হামিদ খান জেলার শ্রেষ্ঠ এএসআই, রূপগঞ্জ থানার এসআই রৌশন আলী শ্রেষ্ঠ এসআই, ট্রাফিক শাখার সার্জেন্ট শফিউল আজম শোভন শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক অফিসার এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মো. মফিজুল ইসলাম শ্রেষ্ঠ ডিবি অফিসার নির্বাচিত হন।আরো পড়ুন,জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ক্লু-লেস মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনে অবদানের জন্য বন্দর থানার এসআই মিকাইল হোসেন, ফতুল্লা মডেল থানার এসআই পলাশ বাইন এবং সোনারগাঁও থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিককে পুরস্কৃত করা হয়। বিশেষ পুরস্কার পান বন্দর থানার ওসি মো. জামাল উদ্দিন। অস্ত্র উদ্ধার ও ডাকাত গ্রেপ্তারে অবদানের জন্য পুরস্কৃত হন রূপগঞ্জ থানার ওসি এ. এইচ. এম. সালাউদ্দিন। এ ছাড়া জেলা বিশেষ শাখার এসআই মোহাম্মদ শরীফ হোসেন ও এসআই মো. জামাল উদ্দিন এবং ওয়াচার কনস্টেবল মাহবুব আফ্রাদ, হুমায়ুন কবির ও মো. ইসমাইল খানকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়। দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের বিভিন্ন মামলার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদী পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে মামলাগুলোর অগ্রগতি তুলে ধরেন। সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪, সিআইডি, নৌ-পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

বাংলাদেশের জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং অবকাঠামো খাতে জাপানি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে বাংলাদেশে জেবিআইসির একটি কার্যালয় খোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় জেবিআইসির গভর্নর আমাকাওয়া কাজুহিকোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জেবিআইসির সহযোগিতা ও বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আরো পড়ুন,জাপানের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের মুখোমুখি তারেক রহমানতিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন বিধিবিধান সংস্কার ও সহজীকরণে কাজ করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে তাঁর সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জেবিআইসির অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এসব খাতে সহযোগিতা বাড়লে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। বৈঠকে বাংলাদেশে জেবিআইসির কার্যালয় খোলার প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন সংস্থাটির গভর্নর আমাকাওয়া কাজুহিকো। বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রাজনীতিরাজনীতি

ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় নীতিমালা চায় জামায়াত

ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় নীতিমালা চায় জামায়াত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক হিজাব ও নিকাব পরিহিত নারী শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে কটাক্ষ এবং ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা এমপি। তিনি বলেছেন, এ ধরনের আচরণ নারীর পোশাকের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এমন ঘটনা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও নিন্দনীয়। প্রচার ও মিডিয়া বিভাগীয় সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলু এমপি প্রেরিত এক বিবৃতিতে নূরুন্নিসা সিদ্দীকা জানান, গত ৭ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে ওই শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে কটাক্ষ করার অভিযোগ উঠেছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, শিক্ষার্থীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে হেনস্তা করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়,আরও পড়ুন,ওলামা অ্যালায়েন্সে নতুন দায়িত্বে ইনজিমামুল ও মাহমুদনিজ নিজ ধর্ম পালন এবং পছন্দ অনুযায়ী পোশাক নির্বাচন করা প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রগতিশীলতার নামে হিজাব ও নিকাবের প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণের কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেত্রী। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখনো ফ্যাসিবাদী মানসিকতার চর্চা রয়েছে। এ ধরনের আচরণের জন্য অভিযুক্ত শিক্ষকের নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। বিবৃতিতে সহপাঠীর প্রতি কথিত অন্যায় আচরণের প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন ও প্রতিবাদী অবস্থানের প্রশংসা করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, পোশাকের অধিকার এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগের বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

ওলামা অ্যালায়েন্সে নতুন দায়িত্বে ইনজিমামুল ও মাহমুদ

ওলামা অ্যালায়েন্সে নতুন দায়িত্বে ইনজিমামুল ও মাহমুদ

ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের (এনইউএ) ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব হিসেবে মুফতি ইনজিমামুল ইসলাম এবং ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মুফতি মাহমুদ হাসানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খানের পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর নতুন এ দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সংগঠনের জরুরি কেন্দ্রীয় সাধারণ সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী। সংগঠনের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় সদস্যদের মতামত ও ভোটের ভিত্তিতে মাওলানা সানাউল্লাহ খানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে সদস্যসচিবের পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে উপস্থিত সদস্যদের সর্বোচ্চ ভোটে মুফতি ইনজিমামুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব এবং মুফতি মাহমুদ হাসানকে ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।আরো পড়ুন,সরকারের জবাবদিহি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ হাসনাতের মুফতি ইনজিমামুল ইসলাম বর্তমানে রাহবার অ্যাডভাইজরির শরিয়াহ মজলিশের চেয়ারম্যান এবং রাজধানীর বাইতুর রশিদ জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি গওহরডাঙ্গা মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস এবং জামিয়া রহিমিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে ইফতা সম্পন্ন করেছেন। অন্যদিকে, মুফতি মাহমুদ হাসান যাত্রাবাড়ীর জামিয়া মুহিউস সুন্নাহ মাদরাসায় মুহাদ্দিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি ইসলামিক স্কলারস একাডেমির পরিচালক। তিনি ২০০৮ সালে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া থেকে দাওরায়ে হাদিস এবং পরে জামিয়াতুল আসআদ থেকে ইফতা সম্পন্ন করেন। সভায় আলেম সমাজের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও মূলধারার রাজনীতিতে যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে সংগঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী বর্তমানে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

এনইউএর নেতৃত্বে দায়িত্ব পেলেন দুই মুফতি

এনইউএর নেতৃত্বে দায়িত্ব পেলেন দুই মুফতি

ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মুফতি ইনজিমামুল ইসলাম। একই সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মুফতি মাহমুদ হাসানকে। মঙ্গলবার সংগঠনটির জরুরি কেন্দ্রীয় সাধারণ সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী। সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সদস্যদের মতামত ও ভোটের ভিত্তিতে সংগঠনের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়। এরপর পদটি শূন্য ঘোষণা করে উপস্থিত সদস্যদের সর্বোচ্চ ভোটে মুফতি ইনজিমামুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব এবং মুফতি মাহমুদ হাসানকে ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। আরও পড়ুন,সরকারের জবাবদিহি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ হাসনাতেরনতুন দায়িত্ব পাওয়া মুফতি ইনজিমামুল ইসলাম বর্তমানে রাহবার অ্যাডভাইজরির শরিয়াহ মজলিশের চেয়ারম্যান এবং রাজধানীর বাইতুর রশিদ জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি গওহরডাঙ্গা মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস এবং জামিয়া রহিমিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে ইফতা সম্পন্ন করেছেন। অন্যদিকে, মুফতি মাহমুদ হাসান যাত্রাবাড়ীর জামিয়া মুহিউস সুন্নাহ মাদরাসায় মুহাদ্দিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি ইসলামিক স্কলারস একাডেমির পরিচালক। তিনি ২০০৮ সালে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। পরে জামিয়াতুল আসআদ থেকে ইফতা সম্পন্ন করেন। সভায় আলেম সমাজের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মূলধারার রাজনীতিতে তাঁদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে সংগঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। উল্লেখ্য, জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী বর্তমানে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

সরকারের জবাবদিহি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ হাসনাতের

সরকারের জবাবদিহি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ হাসনাতের

প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের লোকজনের পকেটে সবসময় ফিরতি ফ্লাইটের টিকিট থাকে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর অভিযোগ, সংকট তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তি দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব মন্তব্য করেন তিনি। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আশপাশে লন্ডন থেকে আসা কিছু মানুষ যুক্ত হয়েছেন। তাঁর দাবি, এসব ব্যক্তি নিজেরাও বিশ্বাস করেন, তাঁরা দুই বছরের বেশি সময় ক্ষমতার সঙ্গে থাকতে পারবেন না। সংকট তৈরি হলে তাঁরা আবার বিদেশে ফিরে যাবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তুলে হাসনাত বলেন, সাধারণ মানুষ পাঁচ বছরের প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দিলেও সরকারের আশপাশে থাকা কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে কাজ করছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁরা যতটা সম্ভব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আবার বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করছেন। দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই সংসদ সদস্য। আরও পড়ুন,নির্দোষ আওয়ামী লীগ কর্মীদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগতিনি বলেন, নিরাপত্তার জন্য কোনো প্রতিমন্ত্রীকে অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামতে হলে বুঝতে হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সরকারের যাদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। হাসনাত আবদুল্লাহ সরকারের মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, সালাহউদ্দিন আহমদ মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে সাংবিধানিক শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং নিজের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন না। বিএনপির অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটির ইতিহাসে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের নজির নেই। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খাদ্যাভ্যাস ও ঘুমের সময় নিয়েও কথা বলেন হাসনাত। তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী পর্যাপ্ত ঘুম ও সুষম খাবার গ্রহণ করছেন না, যা তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের ব্যক্তিরা এসব বিষয়কে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরছেন বলেও সমালোচনা করেন তিনি। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যস্ত রেখে তাঁর আশপাশের কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছেন বলে তাঁর আশঙ্কা। তবে সভায় দেওয়া এসব বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সারাবাংলা

লাখাইয়ে ডোবা থেকে যুবকের গলিত মরদেহ উদ্ধার

লাখাইয়ে ডোবা থেকে যুবকের গলিত মরদেহ উদ্ধার

আইফোনের লোভে বন্ধুকে হত্যা গলিত মরদেহ উদ্ধার ৬ দিন পর হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় আইফোন মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার লোভে বন্ধুকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। নিখোঁজের ছয় দিন পর তারেক মিয়া নামে ২২ বছর বয়সী এক যুবকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর রাত আটটার দিকে লাখাই ও নবীগঞ্জ থানা-পুলিশের যৌথ অভিযানে লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত তারেক মিয়া নবীগঞ্জ উপজেলার চৌশতপুর গ্রামের মারফত উল্লাহর ছেলে। অভিযুক্ত সাহেল একই গ্রামের নুরুজ্জামান মিয়ার ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ অক্টোবর নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতে তারেক ও সাহেল লাখাইয়ের ফুলবাড়িয়া গ্রামে আসেন।আরও পড়ুন,ময়মনসিংহে ১৬ কেজি গাঁজাসহ দুই নারী গ্রেপ্তার, বাজারমূল্য ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা সেখানে কাজ করার সময় তারেকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের প্রতি সাহেলের লোভ জন্মায় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ২২ অক্টোবর রাতে তারেককে কৌশলে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে পাশের একটি ডোবায় ফেলে রাখা হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এদিকে তারেক বাড়িতে ফিরে না যাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা নবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই জিডির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত সাহেলকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাহেল হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে ডোবা থেকে তারেকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় আরও বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে। বন্ধুর মোবাইল ফোনের প্রতি লোভ থেকে এমন হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ এলাকায় উদ্বেগ তৈরি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিককে নিয়োগের প্রমাণ

বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিককে নিয়োগের প্রমাণ

 বাংলাদেশসহ অন্তত ২৯টি দেশের নাগরিককে প্রতারণা ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম *দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট*-এর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে নয়া দিগন্ত অনলাইন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মানবাধিকার কমিটির কাছে উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে বিদেশি নাগরিকদের রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগের এ চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়েছে, ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী বিভিন্ন দেশের নাগরিককে প্রলোভন ও জোরজবরদস্তির মাধ্যমে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের বড় একটি অংশ অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল, প্রান্তিক এবং তুলনামূলক কম শিক্ষিত। তদন্ত কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশে সক্রিয় ট্রাভেল এজেন্সি ও স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে এসব ব্যক্তিকে প্রথমে রাশিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁদের রুশ ভাষায় লেখা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরো পড়ুন,লাখাইয়ে ডোবা থেকে যুবকের গলিত মরদেহ উদ্ধারচুক্তির ভাষা ও শর্ত বুঝতে না পারায় অনেকেই পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা করতে পারেননি। পরে তাঁদের ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। কমিশন ৪৮টি দেশের নাগরিকদের বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধান করে বাংলাদেশসহ ২৯টি দেশের নাগরিকদের প্রতারণামূলকভাবে নিয়োগের প্রমাণ পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তালিকায় ভারত, শ্রীলঙ্কা, ব্রাজিল, নাইজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফিলিপাইনসহ আরও কয়েকটি দেশের নাম রয়েছে। প্রতিবেদনে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। কমিশনের মতে, শীতকালে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করে বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানোর ঘটনা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে। কমিশনের চেয়ারম্যান এরিক মোসে বলেছেন, বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে। ২০২৫-২৬ সালের শীতকালে কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ২৫৫ জন ভুক্তভোগী, চিকিৎসক ও নাগরিক সংগঠনের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার মিশন প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে একে ভিত্তিহীন ও ভুয়া তথ্যনির্ভর বলে দাবি করেছে। 

ময়মনসিংহে ১৬ কেজি গাঁজাসহ দুই নারী গ্রেপ্তার, বাজারমূল্য ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা

ময়মনসিংহে ১৬ কেজি গাঁজাসহ দুই নারী গ্রেপ্তার, বাজারমূল্য ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা

ময়মনসিংহ নগরীর মালগুদাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৬ কেজি গাঁজাসহ দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। উদ্ধার করা গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। গ্রেপ্তার নারীরা হলেন মোছা. মিতু আক্তার (২৭) ও ললিতা বেগম (৩৪)। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) রাতে ১১.30 মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ নগরীর মালগুদাম এলাকায় মাদকদ্রব্য উদ্ধারের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করেন      ১ নং পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। ফাঁড়ির ইনচার্জ এর গোপন সংবাদ ভিওিতে অভিযান চালিয়ে  মো. মহিউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে দুই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের হেফাজত থেকে ১৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, প্রতি কেজি গাঁজার আনুমানিক মূল্য ২০ হাজার টাকা হিসাবে উদ্ধার করা মাদকের মোট বাজারমূল্য দাঁড়ায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। আরও পড়ুন,পদ্মার চরের দখল নিয়ে কাকন-কালু বাহিনীর গোলাগুলি, আতঙ্কে জেলে ও কৃষকপুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দুই নারীর নাম মোছা. মিতু আক্তার (২৭) ও ললিতা বেগম (৩৪)। তাঁদের পিতার নাম মৃত কাজী রতন মিয়া এবং মাতার নাম মৃত আলেয়া বেগম। তাঁদের ঠিকানা ময়মনসিংহ নগরীর মালগুদাম এলাকা, থানা কোতোয়ালী, জেলা ময়মনসিংহ। উদ্ধার করা গাঁজার উৎস কোথায়, এর সঙ্গে কোনো সরবরাহকারী চক্র জড়িত কি না কিংবা এ ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, জিজ্ঞাসাবাদে প্রক্রিয়া চলমান বলে জানিয়েছে ১ নং পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুই নারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার করা গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। মামলার অগ্রগতি ও তদন্তের পর এ ঘটনায় আরও তথ্য জানা যেতে পারে। মাদকদ্রব্যের অবৈধ কারবার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সচেতন মহল। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ ১ নং ফাঁড়ি ইনচার্জ মোঃ মহিউদ্দিন আহমেদ।  

পদ্মার চরের দখল নিয়ে কাকন-কালু বাহিনীর গোলাগুলি, আতঙ্কে জেলে ও কৃষক

পদ্মার চরের দখল নিয়ে কাকন-কালু বাহিনীর গোলাগুলি, আতঙ্কে জেলে ও কৃষক

পদ্মা নদীর চরের দখল ও নদীপথে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া ও পাবনার সীমান্তবর্তী এলাকায় কাকন বাহিনী ও কালু বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত থেমে থেমে চলা এ গোলাগুলিতে নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে, চরাঞ্চলের কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার পদ্মা-গড়াই নদীর মোহনা-সংলগ্ন এলাকা এবং পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ডিগ্রির চরের কলাবাগান এলাকায় দুই পক্ষের সদস্যরা অবস্থান নিয়ে গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে ওই এলাকার নদীপথ ও মোহনা-সংলগ্ন স্থানে কালু বাহিনীর প্রভাব ছিল। বর্তমানে ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে কাকন বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে একটি ট্রলারে করে লোকজন নিয়ে এসে ডিগ্রির চর লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে কাকন বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় চরের মাঠে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন কৃষক কাজ করছিলেন। পরে কালু বাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আরও পড়ুন,জনবল সংকটে কসবা মৎস্য অফিস, ব্যাহত হচ্ছে সেবা কার্যক্রমবিকেল ৪টার দিকে আরও দুটি ট্রলারে করে লোকজন ও অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে কাকন বাহিনীর সদস্যরা। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি আরও তীব্র হয়। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় নৌকার মাঝি নয়নের দাবি, দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শতাধিক, এমনকি দেড় শতাধিক গুলির শব্দ শুনেছেন তিনি। তবে গুলির প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গোলাগুলির ঘটনায় পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে এবং নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভয়ে স্থানীয়দের অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজশাহী নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, গোলাগুলির খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে নৌ পুলিশের সদস্যদের পাঠানো হয়। তাঁদের সঙ্গে ঈশ্বরদী থানা-পুলিশের সদস্যরাও ছিলেন। নৌ পুলিশের এসআই শফিউদ্দিন জানান, কারা গুলি চালিয়েছে, তা শনাক্ত করতে গোয়েন্দা দল কাজ করছে। গোলাগুলির ঘটনায় কাউকে অপহরণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে গোলাগুলির ঘটনায় হতাহতের কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। নদীপথ ও চরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এমন সংঘর্ষ স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, গোলাগুলিতে কারা জড়িত এবং এর সঙ্গে জমি বা বালুমহালের বিরোধের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে ইউরোপ

যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে ইউরোপ

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব ও নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তাঁদের আলোচনায় যুদ্ধের অবসান, উত্তেজনা প্রশমন এবং ইউরোপের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ফিনল্যান্ডের সম্প্রচারমাধ্যম ইলের বরাতে রুশ বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নিয়ে স্টাব ও স্টোরে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকদের সঙ্গে আগে আলোচনা করেছিলেন। স্টাবের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা একমত হয়েছিলেন যে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলার উপযুক্ত সময় এসেছে। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনকে পাশ কাটিয়ে দেশটি-সম্পর্কিত কোনো বিষয়ে আলোচনা করে না ফিনল্যান্ড। পুতিনের সঙ্গে কথোপকথনকে ‘খোলামেলা ও গুরুত্বপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেছেন স্টাব। তাঁর মতে, রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ইউক্রেন যুদ্ধের পরিণতি ফিনল্যান্ড, নরওয়ে এবং ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে।আরো পড়ুন,ইসরায়েলের নির্বাচনে নাটকীয় মোড় যুদ্ধ বন্ধে সরাসরি আলোচনা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী স্টোরে বলেন, যুদ্ধে বিপুল প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। এর ফলে মানুষের দুর্ভোগ ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রভাব কয়েক প্রজন্ম ধরে থাকতে পারে। তাই আলোচনায় উত্তেজনা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুই নেতা ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন। পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর স্টাব ও স্টোরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের উদ্যোগ নিয়ে ইউরোপের নেতাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, রাশিয়া শান্তি চায় এমন কোনো প্রমাণ তিনি দেখছেন না। তাঁর মতে, ইউরোপের উচিত বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে ঐক্যবদ্ধ থাকা। ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ন্যায়সংগত ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য রাশিয়ার বৈধ স্বার্থগুলো পুরোপুরি ও নিঃশর্তভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর নীতির কারণে সংঘাত দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলেও দাবি করেছে মস্কো। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মস্কোর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এ সময়ে ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি ইউক্রেনকে সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে শান্তি প্রচেষ্টার মধ্যেও যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে মস্কো ও কিয়েভের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

১ ঘন্টা আগে

রাজধানী

আবেরা’ স্পা ঘিরে অভিযোগ, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন

আবেরা’ স্পা ঘিরে অভিযোগ, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান থানাধীন বাড়িধারার ৫৫, সোহরাওয়ার্দী রোডের একটি ফ্ল্যাটে পরিচালিত ‘আবেরা’ নামের একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে দোলা নামের এক নারী এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। স্পা ব্যবসার আড়ালে সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, গ্রাহকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলার অভিযোগ এবং সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, বাড়ির মালিকের তথ্য, প্রয়োজনীয় অনুমোদনপত্র এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের তথ্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। আবেরা’ স্পা সেন্টারকে কেন্দ্র করে একটি নারীচক্র বিভিন্ন গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের প্রলোভন বা প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে। স্পা সেবার নামে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে পরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় কিংবা অন্য কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো যাচাইকৃত নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর বিস্তারিত বক্তব্য, ভুক্তভোগীর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিশ্চিত করা তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কী ধরনের সেবা দেওয়া হয়, গ্রাহকদের কাছ থেকে কীভাবে অর্থ নেওয়া হয়, সেবার মূল্যতালিকা ও রসিদ সংরক্ষণ করা হয় কি না এবং ব্যবসাটি প্রয়োজনীয় আইনগত অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে কি না এসব বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা। স্পা সেন্টারটিতে সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি সত্য হলে তা এলাকার নিরাপত্তা, আবাসিক পরিবেশ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করে। তবে মাদকদ্রব্যের লেনদেন, সংরক্ষণ কিংবা সরবরাহের মতো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে কি না, আরও পড়ুন,মহেশপুরে বাংলা বাস্তবায়ন ও সচেতনতায় র‍্যালি-আলোচনা সভাতা নির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং আইনগত প্রমাণ দরকার। এ ক্ষেত্রে গুলশান থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে আইনানুগ পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, অনুমোদন এবং অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। বাড়িধারার মতো গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকায় কোনো ফ্ল্যাটে স্পা বা এ ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুমোদন, ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার, ট্রেড লাইসেন্স এবং অন্যান্য বিধিবিধান মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ। ভবনটি কোন ধরনের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত, ফ্ল্যাটে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি রয়েছে কি না এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় নিবন্ধন বা লাইসেন্স আছে কি না এসব প্রশ্নের উত্তর নথিপত্র যাচাই ছাড়া দেওয়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ভবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রবেশপথের ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং প্রতিবেশীদের অভিযোগ থাকলে সেগুলোর নিষ্পত্তির বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে স্পা সেবা দেওয়া হচ্ছে বলেই সেটিকে অবৈধ বা অপরাধমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যা দেওয়া সমীচীন নয়। অভিযোগে যদি গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় কিংবা অন্য কোনো অপরাধের ঘটনা থেকে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তা তদন্ত করা প্রয়োজন।  কোনো ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয়ে থাকলে তাঁর উচিত সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ জানানো এবং প্রাসঙ্গিক তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ করা। গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত যেকোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আইন ও বিধিবিধানের আওতায় থাকা প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে গুলশান থানা পুলিশ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য অপরাধের বিষয়ে তথ্য চাওয়া যেতে পারে। ‘আবেরা’ স্পা সেন্টার, আরও পড়ুন,মহেশপুরে বাংলা বাস্তবায়ন ও সচেতনতায় র‍্যালি-আলোচনা সভাএর পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বলে অভিযোগে উল্লিখিত দোলা নামের নারী, বলেন, ভাই আমি এটি দিয়ে কোনমতে চলি। এখন আগের মত তেমন ব্যবসাও নেই। এসব প্রতিষ্ঠান চালাতে ব্যয়বহুল খরচ। কোনমতে দুই চারটি মেয়েদের রেখে ব্যবসা করি। এছাড়া এাঁ বাড়িধারা এখানে কাষ্টমার আসতে চায়না তেমন এবং বাড়িধারায় ঢুকতে সোসাইটির অনুমতি প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমরা সোসাইটির গার্ডদের সাথে সমন্ময় রেখে লোকজন প্রবেশ করিয়ে থাকি। ‘আবেরা’ নামের একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে গুলশান থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়। তবে অভিযোগ জানানোর পরও সংশ্লিষ্ট স্পা সেন্টারে পুলিশের কোনো দৃশ্যমান অভিযান চোখে পড়েনি। অভিযোগ রয়েছে, ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটিতে স্পা ব্যবসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াত রয়েছে।  প্রশ্ন উঠেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযোগ জানানোর পরও কেন দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না? তবে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট থানার বক্তব্য এবং সম্ভাব্য তদন্তের অগ্রগতি জানা জরুরি। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, বাড়িধারার মতো অভিজাত আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি। তাঁদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে ‘আবেরা’ স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ আমরাও শুনেছি। তাই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং প্রতিষ্ঠানটির বৈধ কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ প্রতারণা, মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধ কিংবা অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের শিকার হলে তাঁকে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণসহ পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করছি। এবিষয়ে দোলা বলেন, ভাই কোনমতে ২-৪ টি মেয়েদের রেখে ব্যবসা করছি। আগের মত ব্যবসা নেই। এখনো থানা পুলিশের পেমেন্ট দিতে পারিনাই। এছাড়া বাড়িধারা সোসাইটির কিছু লোকদের ম্যানেজ করে আমার প্রতিষ্ঠানটি চালাতে হয়। তবে বিষয়টি গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জকে জানানো হয়েছে কিন্তু তিনি এখনো দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়নি। গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ আরো বলেন, এসবের বিষয়ে আমাদের একাধিক মিটিং হয়েছে। আমি চাইলে ও অভিযান বা পদক্ষেপ নিতে পারিনা। কারন সিনিয়রদের নির্দেশনা ছাড়া আমাদের করার কিছুই থাকেনা। তাহলে প্রশ্ন হল- সাধারন স্থানীয় বাসিন্দারা অসমাজিকের মধ্যে থেকেই বসবাস করবে। নাকি তাদের সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা নেই।   

২৫ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৬ জন

খেলাধুলা

মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের বড় লক্ষ্য সিরিজ জয়

মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের বড় লক্ষ্য সিরিজ জয়

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে একাদশে জায়গা হয়নি অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের। আঙুলের চোটের কারণে তাকে ছাড়াই মাঠে নেমেছে টাইগাররা। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকার শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে টিকে থাকতে এই সিরিজ বাংলাদেশের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে থাকা বাংলাদেশকে ফাইনালের সম্ভাবনা জোরালো করতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভালো ফল করতে হবে। তাই ঘরের মাঠে সিরিজের শুরু থেকেই জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে দলটি। মুশফিকুর রহিমের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা। আরও পড়ুন,দুর্দান্ত শুরুর পর দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং ধসআগের দিন শেষ অনুশীলনে আঙুলে চোট পান এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় ঝুঁকি নেয়নি টিম ম্যানেজমেন্ট। তার পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। এই টেস্টে বাংলাদেশ দুই পেসারের সঙ্গে তিনজন বিশেষজ্ঞ স্পিনার নিয়ে বোলিং আক্রমণ সাজিয়েছে। পেস বিভাগে রয়েছেন শরীফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ। আর স্পিনে দায়িত্ব সামলাবেন মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান। এর আগে ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হয়েছিল। এবার নিজেদের মাঠে সিরিজ জিতে নেওয়াই শান্তদের লক্ষ্য। দুই ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে আগামী ৫ নভেম্বর সিলেটে। প্রথম টেস্টে ভালো ফল করে সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চায় বাংলাদেশ।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!