দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হোক জাতীয় অগ্রাধিকার, সম্মিলিত দায়িত্ব হোক বাস্তবায়নের শক্তি

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হোক জাতীয় অগ্রাধিকার, সম্মিলিত দায়িত্ব হোক বাস্তবায়নের শক্তি

‘নিরাপদ সড়ক, সমৃদ্ধ দেশ সবার আগে বাংলাদেশ’ এমন প্রত্যাশাকে সামনে রেখে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সড়কে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান নিয়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। দিবসটি ঘিরে নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি এখনো বাংলাদেশের অন্যতম বড় জননিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন মানুষ, আহত হয়ে অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। মুহূর্তের একটি দুর্ঘটনা একটি পরিবারকে নিঃস্ব করে দিতে পারে, থামিয়ে দিতে পারে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ কিংবা কেড়ে নিতে পারে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে। সড়ক দুর্ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিপর্যয় নয়; এটি দেশের অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। দুর্ঘটনায় প্রাণহানি, চিকিৎসা ব্যয়, কর্মক্ষমতা হারানো এবং পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সংকট জাতীয় উন্নয়নের পথেও বাধা সৃষ্টি করে। তাই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা কোনো আনুষ্ঠানিক দিবসের প্রতিপাদ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আরও পড়ুন,গঙ্গাচড়ায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মাহমুদুল হাসান সবুজসড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, রোড সেফটি সেল, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, চালক, পথচারী, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ নাগরিক সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দিবসের তাৎপর্য ও বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ -জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো সড়ক দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি, ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, প্রচারাভিযান ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে। তবে এসব কর্মসূচির সুফল পেতে হলে সারা বছর ধরে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু চালকদের সচেতন করলেই চলবে না; একই সঙ্গে যানবাহনের ফিটনেস, চালকের যোগ্যতা, সড়কের নকশা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, আইন প্রয়োগ এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার মান উন্নত করতে হবে। দুর্ঘটনার পর তদন্ত ও দায় নির্ধারণের পাশাপাশি দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। দিবসটির প্রতিপাদ্য যে প্রত্যাশার কথা বলে, বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটাতে হলে সড়ক ব্যবহারকারী প্রত্যেককে বুঝতে হবে—সড়ক নিরাপত্তা কারও একার দায়িত্ব নয়, এটি একটি সম্মিলিত সামাজিক অঙ্গীকার। দুর্ঘটনার পেছনে যেসব কারণ - সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনকভাবে ওভারটেকিং, ট্রাফিক আইন অমান্য, অদক্ষ চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এবং চালকের ক্লান্তি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং যাত্রী তোলার জন্য যানবাহনের মধ্যে পাল্লাপাল্লি করার প্রবণতা। অন্যদিকে, অপরিকল্পিত সড়ক নকশা, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, পর্যাপ্ত সড়কবাতির অভাব, অস্পষ্ট সড়কচিহ্ন, ফুটপাত দখল, যত্রতত্র পার্কিং, অনিরাপদ পারাপার এবং মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। অনেক ক্ষেত্রে সড়ক নির্মাণ বা সংস্কারের সময় পথচারী ও সাইকেলচালকদের নিরাপত্তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয় না। কোথাও কোথাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও জনবহুল এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হন। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে অনুমানের পরিবর্তে নিরপেক্ষ তদন্ত, নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। কোন স্থানে, কী কারণে এবং কোন পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে, তা শনাক্ত করা গেলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হবে। আরও পড়ুন,শিবচরে ইয়াবা ও সদরে হেরোইন উদ্ধারজেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি - সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবহন সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করতে পারে জেলা প্রশাসন।জেলার দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া, নিয়মিত সমন্বয় সভা করা এবং গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা জরুরি। বিশেষ করে বাজার, বাসস্ট্যান্ড, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও জনবহুল এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। সড়ক দখল, অবৈধ পার্কিং, অনুমোদনহীন স্ট্যান্ড এবং যত্রতত্র যানবাহন থামানোর কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি নিরসনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রচারাভিযান পরিচালনা এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ শুধু সভা বা নির্দেশনা জারির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব ও আইনের প্রয়োগ - সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা অপরিহার্য। ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশকে বেপরোয়া গাড়ি চালানো, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, অতিরিক্ত গতি, অবৈধ পার্কিং এবং ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করার বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু অভিযান পরিচালনা করাই যথেষ্ট নয়; আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শিথিলতা কিংবা সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে অযৌক্তিক হয়রানি—কোনোটিই গ্রহণযোগ্য নয়। মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে যানবাহনের গতিনিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কতা নিশ্চিত করতে হবে। চালকদের বৈধ কাগজপত্র, লাইসেন্স ও যানবাহনের ফিটনেস যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার, যান চলাচল স্বাভাবিক করা এবং যথাযথ তদন্তের ব্যবস্থা করতে হবে। দুর্ঘটনাকবলিত মানুষকে সাহায্য করার পরিবর্তে ভিড় সৃষ্টি বা ভিডিও ধারণের প্রবণতা বন্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের করণীয় - নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে উন্নত ও ঝুঁকিমুক্ত অবকাঠামোর বিকল্প নেই। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে সড়কের নকশা, নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে হবে।আরও পড়ুন,কসবায় উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বেহাল দশা সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, অপর্যাপ্ত দৃশ্যমানতা, ভাঙা সেতু বা কালভার্ট এবং বিপজ্জনক প্রবেশপথ দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। মহাসড়কে যথাযথ সড়কচিহ্ন, নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড, রোড মার্কিং, প্রতিফলক এবং প্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা নিশ্চিত করতে হবে। জনবহুল এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজারের কাছে নিরাপদ পারাপার এবং উপযুক্ত গতিনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। নির্মাণ বা সংস্কারকাজ চলাকালে বিকল্প চলাচলের পথ, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড এবং নিরাপত্তাবেষ্টনী স্থাপন করতে হবে। কারণ অপর্যাপ্ত সতর্কতার কারণে নির্মাণাধীন সড়কেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ ছাড়া সড়ক নিরাপত্তা নিরীক্ষার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে উন্নয়ন করতে হবে। শুধু নতুন সড়ক নির্মাণ নয়, বিদ্যমান সড়কগুলোকে নিরাপদ রাখা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। রোড সেফটি সেল ও বিআরটিএর কার্যকর ভূমিকা - সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক পরিকল্পনা গ্রহণ, তথ্য বিশ্লেষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম সমন্বয়ে রোড সেফটি সেলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে কোন সড়কে কী ধরনের ঝুঁকি রয়েছে, তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। আরও পড়ুন,লামায় জমি জবরদখলের চেষ্টা ও সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগঅন্যদিকে, বিআরটিএকে চালকের লাইসেন্স প্রদান, যানবাহনের নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ এবং পরিবহনসংক্রান্ত বিধিবিধান বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও কঠোরতা নিশ্চিত করতে হবে। চালকের দক্ষতা যাচাই ছাড়া লাইসেন্স প্রদান, যানবাহনের যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া ফিটনেস সনদ নবায়ন কিংবা অনিয়মের মাধ্যমে সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচলের সুযোগ বন্ধ করতে হবে। পেশাদার চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি, ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঝুঁকি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশল শেখানোর ব্যবস্থা করা জরুরি। একই সঙ্গে পরিবহন মালিকদেরও যানবাহনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকদের উপযুক্ত কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করতে উৎসাহিত করতে হবে। চালক, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের দায়বদ্ধতা - সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চালকদের দায়িত্ব সরাসরি মানুষের জীবন রক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, বিপজ্জনক ওভারটেকিং পরিহার এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে গাড়ি চালানো প্রতিটি চালকের কর্তব্য। ঘুম ঘুম অবস্থায়, অসুস্থ শরীরে কিংবা মাদক গ্রহণ করে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে। দীর্ঘ যাত্রায় পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে এবং যাত্রী তোলার জন্য প্রতিযোগিতা কিংবা নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানোর অতিরিক্ত চাপ পরিহার করতে হবে।পরিবহন মালিকদের ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন সড়কে নামানো বন্ধ করতে হবে। চালকের বৈধ লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি যানবাহনের ব্রেক, টায়ার, হেডলাইট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। শ্রমিক সংগঠনগুলো চালকদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি পেশাগত শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে। ন্যায্য মজুরি, যুক্তিসংগত কর্মঘণ্টা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত হলে চালকদের ওপর অযৌক্তিক চাপ কমবে। সড়ক নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা প্রয়োজন।আরও পড়ুন,বিরোধীদল সরকারের কাজে ঈর্ষান্বিত হয়ে মিডিয়ার সামনে আবোল তাবোল বলছে - এমপি খোকনপথচারী ও শিক্ষার্থীদের সচেতনতা - নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে পথচারীদেরও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। রাস্তা পারাপারে জেব্রা ক্রসিং, ফুটওভারব্রিজ কিংবা নির্ধারিত পারাপারের স্থান ব্যবহার করা জরুরি। চলন্ত যানবাহনের সামনে দিয়ে দৌড়ে রাস্তা পার হওয়া, মোবাইল ফোনে মনোযোগ রেখে হাঁটা এবং ট্রাফিক সিগন্যাল উপেক্ষা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী মানুষের নিরাপদ চলাচলের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং পথচারীবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই সড়ক নিরাপত্তার শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ট্রাফিক আইন, সড়কচিহ্ন, নিরাপদ পারাপার, গণপরিবহনে ওঠানামা এবং মোটরসাইকেলে হেলমেট ব্যবহারের গুরুত্ব নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা যেতে পারে। শিক্ষার্থীরা নিজেরা নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের অন্যদেরও সচেতন করতে পারে। এভাবে সড়ক নিরাপত্তাকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করা সম্ভব। গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের ভূমিকা - সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা শুধু দুর্ঘটনার খবর প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দুর্ঘটনার কারণ, ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের অবস্থা, যানবাহনের ফিটনেস, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করা প্রয়োজন। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের সদস্যদেরও সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।আরও পড়ুন,টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের অভিযানে দুই দুর্ধর্ষ আসামি গ্রেপ্তারএকই সঙ্গে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের প্রতি মানবিক আচরণ, দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো সামাজিক দায়িত্বের অংশ। আনুষ্ঠানিকতা নয়, চাই কার্যকর বাস্তবায়ন - জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে—সচেতনতার বার্তা দেওয়ার পরও কেন সড়কে মানুষের নিরাপত্তা বারবার হুমকির মুখে পড়ছে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে দায় এড়ানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি সংস্থাকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং ব্যর্থতার ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলো চিহ্নিত করা, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধ করা, দক্ষ চালক তৈরি, ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ, নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা—এসব উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক তথ্য প্রকাশ, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং বাস্তব ফলাফল মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। সড়ক নিরাপত্তা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। সরকারকে কার্যকর নেতৃত্ব দিতে হবে, প্রশাসনকে সমন্বয় ও তদারকি করতে হবে, পুলিশকে আইন প্রয়োগ করতে হবে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দায়িত্বশীল হতে হবে এবং চালক ও পথচারীদের নিয়ম মেনে চলতে হবে। জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের অঙ্গীকার হোক—সড়ক সবার জন্য নিরাপদ করা। একটি দুর্ঘটনাও যেন অবহেলা, অনিয়ম কিংবা দায়িত্বহীনতার কারণে না ঘটে, সেই লক্ষ্য সামনে রেখে প্রত্যেককে কাজ করতে হবে। কারণ প্রতিটি প্রাণ অমূল্য, প্রতিটি পরিবার নিরাপত্তার অধিকারী এবং নিরাপদে চলাচল করা প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক প্রত্যাশা। আসুন, দিবস পালনের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করি। সম্মিলিত উদ্যোগ, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং দায়িত্বশীল আচরণের মধ্য দিয়ে গড়ে তুলি এমন বাংলাদেশ, যেখানে সড়কে বেরিয়ে প্রতিটি মানুষ নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারেন। নিরাপদ সড়ক হোক সবার অধিকার, সবার দায়িত্ব—সড়ক দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশ গড়াই হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

হামলার দায় অস্বীকার ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাঝুঁকি ও আকাশপথের বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশের মধ্যপ্রাচ্যগামী যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক বিপর্যয় নেমে এসেছে। গত বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দাম্মামে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন সৌদি ও একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হন। এ ঘটনায় আহত আটজনের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ (জিএসিএ)।সংকটময় পরিস্থিতিতে বেবিচক (বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ) জানিয়েছে, ঢাকা থেকে সৌদিগামী সরাসরি ও বিভিন্ন দেশের ট্রানজিট মিলিয়ে সর্বমোট ১৩৫টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬২টি সরাসরি (বিমান বাংলাদেশ, সৌদিয়া, ইউএস-বাংলা ও রিয়াদ এয়ার) এবং ৭৩টি ট্রানজিট ফ্লাইট (ইন্ডিগো, এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ ইত্যাদি) রয়েছে। এই আকস্মিক ফ্লাইট বাতিলের ফলে ২০ হাজার ৬৭২ জন যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, যাদের বড় অংশই প্রবাসী কর্মী।আরোও পড়ুন,সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির তথ্য নেইহামলার পর দাম্মাম বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্বাভাবিক করা হলেও নতুন করে রুটটি সচল রাখা নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা এই সুনির্দিষ্ট হামলার দায় অস্বীকার করলেও সৌদি আরবের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মুখে ওয়াশিংটন সে দেশে কর্মরত নিজ দেশের কূটনীতিকদের ফেরত যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে সৌদিগামী যাত্রীদের টিকিট বা ভ্রমণের হালনাগাদ তথ্যের জন্য স্ব-স্ব এয়ারলাইনসের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির তথ্য নেই

সৌদি আরবে সাজাপ্রাপ্ত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির বিষয়ে সরকারের কাছে বর্তমানে হালনাগাদ কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে এ কথা বলেন।আরোও পড়ুন,বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা ১৬তমপ্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন। তাঁদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাস প্রতিনিয়ত সার্বিক খোঁজখবর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা যায়, সৌদিতে আটক ও সাজাপ্রাপ্ত বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দিতে এবং সামগ্রিক কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখতে সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা ১৬তম

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা কিছুটা কমলেও বায়ুমান এখনো ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রকাশিত আইকিউএয়ার সূচকে ১৫১ স্কোর নিয়ে বিশ্বের ১২৬টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৬তম।অন্যদিকে, পাকিস্তানের লাহোর শহর ৩৯৮ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকার শীর্ষে রয়েছে, যার বাতাস নাগরিকদের জন্য ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া ২২৮ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ভারতের দিল্লি, আরোও পড়ুন,কূটনীতিক মহলে নজিরবিহীন আলোচনা১৭৮ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে মুম্বাই, ১৭৫ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে সেনেগালের ডাকার এবং ১৭২ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর। আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে ইটভাটা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং বিভিন্ন নির্মাণ সাইটের উন্মুক্ত ধুলাবালি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের ফলে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার ও তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের মতো প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়, যার কারণে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে।

কূটনীতিক মহলে নজিরবিহীন আলোচনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফরকালে টোকিওতে থাকছেন না দেশটির জন্য নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১৫ অক্টোবরের নির্দেশে জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে ঢাকায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। সরকারপ্রধানের কোনো গুরুত্বপূর্ণ দ্বি-পাক্ষিক রাষ্ট্রীয় সফরের ঠিক আগমুহূর্তে সংশ্লিষ্ট দেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে সরিয়ে নেওয়ার এই ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সাবেক ও বর্তমান কূটনীতিকেরা।প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তারেক রহমানের চতুর্থ বিদেশ সফর হতে যাচ্ছে। সফরকালে কূটনৈতিক বিষয় ও সার্বিক প্রশাসনিক সমন্বয়ের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলি) মো. নজরুল ইসলামকে টোকিও পাঠানো হয়েছে।আরোও পড়ুন,দাম্মামগামী ফ্লাইট ২৩-২৫ অক্টোবর স্থগিত তবে সাবেক কূটনীতিকেরা মনে করছেন, নতুন করে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও রাষ্ট্রদূতের মতো এত অল্প সময়ে স্থানীয় বাস্তবতা অনুধাবন করা সম্ভব নয়। জাপানের মতো কূটনৈতিকভাবে সচেতন দেশের কাছে এমন সিদ্ধান্ত দেশের ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।উল্লেখ্য, ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ‘বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) বাস্তবায়নসহ ৩ থেকে ৪টি সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী ২০০৯ সালেও লন্ডনে কর্মরত থাকাকালে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণে ঢাকায় প্রত্যাবর্তনের শিকার হয়েছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ হলে তিনি পুনরায় টোকিওতে নিজের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে ফিরে যেতে পারেন।

রাজনীতিরাজনীতি

ডা: শফিকুর রহমানের শ্রদ্ধা ও বিবৃতি

ডা: শফিকুর রহমানের শ্রদ্ধা ও বিবৃতি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের দ্বাদশ শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাকে স্মরণ করে গভীর শ্রদ্ধা এবং মাগফিরাত কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান। বিবৃতিতে তিনি অধ্যাপক গোলাম আযমকে উপমহাদেশের ইসলামী আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ও মজলুম দাঈ হিসেবে অভিহিত করেন।ডা: শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, অধ্যাপক গোলাম আযম ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস হিসেবে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কাজ করেছেন। আরোও পড়ুন,সাত ইসলামি দলের জোট আলোচনাএছাড়া বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ১৯৮৩ সালে তিনি যে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফর্মুলা’ পেশ করেছিলেন, তা পরবর্তী সময়ে দেশের সংবিধানে যুক্ত হয় এবং এটি আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃতি পায়। ১৯৫৪ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যুক্ত হয়ে তিনি দীর্ঘ সময় পূর্ব পাকিস্তান ও স্বাধীন বাংলাদেশে দলটিকে নেতৃত্ব দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ৯২ বছরের জীবনে রাজনৈতিক ও আদর্শিক কারণে তিনি পাঁচবার কারাভোগের মধ্য দিয়ে নানা জেল-জুলুম সহ্য করেছেন। সর্বশেষ ২০১২ সালে গ্রেফতার হয়ে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে তাঁর অবদান এবং আপসহীন রাজনৈতিক জীবন অনুকরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন বর্তমান জামায়াত প্রধান।

সাত ইসলামি দলের জোট আলোচনা

সাত ইসলামি দলের জোট আলোচনা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটবদ্ধ হয়ে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামি রাজনৈতিক দল যৌথ আলোচনা শুরু করেছে। রাজধানীর খিলগাঁওয়ের আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় আয়োজিত লিয়াজোঁ কমিটির এক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা হয়। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে এই দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঐক্য প্রক্রিয়ায় থাকা দলগুলো হলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। দলগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রেখে ‘সমমনা ইসলামী দল’ নামক একটি অভিন্ন ব্যানারে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে। আরোও পড়ুন,সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে হুশিয়ারিতবে এই জোটে অংশ নেওয়ার জন্য অন্যান্য রাজনৈতিক জোট ত্যাগের শর্ত নিয়ে কিছুটা জটিলতা ও মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। হেফাজতে ইসলামের নেতারা অনুরোধ করেছেন যেন কওমি ঘরানার এই দলগুলো জামায়াতে ইসলামী কিংবা বিএনপির মতো অন্যান্য জোটে না থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে এই ঐক্যে যুক্ত হয়। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এ শর্তে রাজি হয়ে বিএনপির জোট ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি এতে আপত্তি জানিয়েছে। নেজামে ইসলাম পার্টি স্পষ্ট করেছে যে, তারা এই সমমনা ব্যানারে থাকলেও জুলাই সনদ ও গণভোটের দাবিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের সঙ্গেও শরিক থাকবে। জামায়াতে ইসলামী এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করায় কওমি ঘরানার এই দলগুলো নতুন সমীকরণের দিকে এগোচ্ছে। তবে জোটে যুক্ত হওয়ার শর্ত শিথিল করা হবে নাকি বজায় থাকবে, তা নিয়ে দলের ভেতরের ফোরামে আলোচনা চলছে। আগামী ৫ ডিসেম্বরের বৈঠকে নীতিমালার চূড়ান্ত রূপ এবং নির্বাচনে জোটবদ্ধ হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন দলগুলোর শীর্ষ নেতারা।

সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে হুশিয়ারি

সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে হুশিয়ারি

রাঙামাটির পাহাড়ি পর্যটন এলাকা বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেককে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রকৃত ঘটনা জানতে চেয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তার মাধ্যমে তিনি এ বিষয়ে সরকারের প্রতি সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জামায়াত আমির প্রশ্ন তোলেন, আরোও পড়ুন,হাসপাতালে অসুস্থ দুই মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু ও আবদুল মঈন খান‘রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে?’ তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মনগড়া বা ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের পেছনে না দৌঁড়ে সঠিক ও নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই বিষয়ে কার্যকর ও সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। একই পোস্টে তিনি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ‘সাধারণ নাগরিকদের জীবন নিয়ে তামাশা করার অধিকার কারও নেই।’ রাঙামাটি ও সাজেক এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং জনসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অনতিবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সময় থাকতে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।’

হাসপাতালে অসুস্থ দুই মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু ও আবদুল মঈন খান

হাসপাতালে অসুস্থ দুই মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু ও আবদুল মঈন খান

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া দুই মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু ও আবদুল মঈন খানকে দেখতে গেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে তাঁরা পৃথকভাবে হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ এই দুই নেতার শারীরিক পরিস্থিতির বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বুধবার (২১ অক্টোবর) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বৃহস্পতিবার তাঁকে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আরোও পড়ুন,দুর্গাপূজার উপহার বিতরণী অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে ইউএনওর অদ্ভুত বক্তব্যআজ দুপুরে সেখানে গিয়ে তাঁর সার্বিক শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। অন্যদিকে, বুধবার রাতে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী (এলজিআরডি) আবদুল মঈন খানকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। 

সারাবাংলা

কালীগঞ্জে ঘাতক কাভার্ডভ্যানের চাপায় এসআইসহ নিহত ২, আহত ২  ,

কালীগঞ্জে ঘাতক কাভার্ডভ্যানের চাপায় এসআইসহ নিহত ২, আহত ২ ,

মাদকবিরোধী অভিযান শেষে থানায় ফেরার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, পালিয়ে গেছে ঘাতক  গাড়ি গাজীপুরের কালীগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান শেষে থানায় ফেরার পথে দ্রুতগতির বেপরোয়া কাভার্ডভ্যানের চাপায় পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও স্থানীয় এক বিএনপি নেতার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অপর এক পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। পাশাপাশি পুলিশের গাড়িচালকও আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার কালীগঞ্জ-ঘোড়াশাল বাইপাস সড়কে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ঘাতক কাভার্ডভ্যানটি পালিয়ে যায়। গাড়িটি শনাক্ত এবং চালককে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। নিহতরা হলেন কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান (৩০) এবং তুমুলিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মোল্লা (৪৫)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন কালীগঞ্জ থানার আরেক উপপরিদর্শক জাবেদ ওমর (২৮)। তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের গাড়িচালক রাব্বি (২৮) আহত হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। মাদকবিরোধী অভিযান শেষে ফেরার পথে দুর্ঘটনা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত পৌনে ৩টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার তুমুলিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এ সময় চিহ্নিত মাদক কারবারি অহিদ মিয়া (৪৫) কে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার আসামিকে পুলিশের গাড়িতে করে থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। থানায় ফেরার পথে পুলিশের গাড়িটি কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে পৌঁছালে সাময়িকভাবে থামে। এ সময় পুলিশের উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান, উপপরিদর্শক জাবেদ ওমর এবং গাড়িচালক রাব্বি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় রফিকুল ইসলাম মোল্লার সঙ্গে কথা বলছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ঘোড়াশাল অভিমুখে দ্রুতগতিতে ছুটে আসা একটি বেপরোয়া কাভার্ডভ্যান তাঁদের সজোরে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে থাকা চারজন গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনা ঘটিয়েই কাভার্ডভ্যানটি দ্রুত পালিয়ে যায়। আকস্মিক এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রাণ গেল দুজনের দুর্ঘটনার পর পুলিশের সঙ্গে থাকা অন্য সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় আহত চারজনকে উদ্ধার করেন। পরে ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে তাঁদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।আরোও পড়ুন,ডিবি পুলিশের অভিযানে মাদক উদ্ধার সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান ও এসআই জাবেদ ওমরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৬টা ৪৭ মিনিটে এসআই মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়। অপর আহত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই জাবেদ ওমরকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গাড়িচালক রাব্বি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ সদস্যের মৃত্যুতে সহকর্মীদের মধ্যে শোক দায়িত্ব পালন শেষে থানায় ফেরার পথে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুতে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম মোল্লার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। একটি মাদকবিরোধী অভিযান সফলভাবে শেষ করে থানায় ফেরার পথে এমন দুর্ঘটনা সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে গভীর বেদনার সৃষ্টি করেছে। নিহত দুই ব্যক্তির পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। ঘাতক কাভার্ডভ্যান শনাক্তে পুলিশের তৎপরতা কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, মাদকবিরোধী অভিযান শেষে থানায় ফেরার পথেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় পুলিশের একজন উপপরিদর্শক ও স্থানীয় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। অপর এক পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া কাভার্ডভ্যানটি শনাক্ত করার জন্য আশপাশের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গাড়িটির চালককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। নিরাপদ সড়কের দাবি কালীগঞ্জ-ঘোড়াশাল বাইপাস সড়কে দ্রুতগতির যানবাহনের চলাচল এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এ দুর্ঘটনা আবারও সড়কে দায়িত্বশীলভাবে যানবাহন চালানো এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার গুরুত্ব সামনে এনেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, কাভার্ডভ্যানটির পরিচয় এবং চালকের দায় নির্ধারণে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য উদ্‌ঘাটন করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে স্থানীয়রা দোষী চালককে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

ডিবি পুলিশের অভিযানে মাদক উদ্ধার

ডিবি পুলিশের অভিযানে মাদক উদ্ধার

মাদারীপুর জেলার মাননীয় পুলিশ সুপার জনাব মোঃ ফজলে এলাহী মহোদয়ের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ফোর্সের সমন্বয়ে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান সাড়াঁশি অভিযান পরিচালনা কালে মাদারীপুর জেলার মাদারীপুর সদর থানা এলাকা হতে ১৭০ (একশত সত্তর) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ ০১ (এক) জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ফোর্সসহ মাদকদ্রব্য উদ্ধার বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে ২২/১০/২০২৬ খ্রি. রাত ২০.৪৫ ঘটিকার সময় মাদারীপুর জেলার মাদারীপুর সদর থানাধীন পশ্চিম পাঁচখোলা সাকিনস্থ ধৃত আসামী অন্তর মাতুব্বর এর বসত ঘরের সামনে পাকা রাস্তার উপর ধৃত আসামী অন্তর মাতুব্বর (২১), পিতা- মৃত সেলিম মাতুব্বর, আরোও পড়ুন,ঘাতক কাভার্ডভ্যান সনাক্তে পুলিশের তৎপরতাসাং- পশ্চিম পাঁচখোলা, থানা- মাদারীপুর সদর, জেলা- মাদারীপুর এর দখল হতে ১৭০ (একশত সত্তর) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।  উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ঘাতক কাভার্ডভ্যান সনাক্তে পুলিশের তৎপরতা

ঘাতক কাভার্ডভ্যান সনাক্তে পুলিশের তৎপরতা

গাজীপুরের কালীগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান শেষে থানায় ফেরার পথে কাভার্ডভ্যানের চাপায় পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের আরও এক উপপরিদর্শক ও গাড়িচালক আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোররাতে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান (৩০) এবং তুমুলিয়া এলাকার মৃত ওয়াজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে রফিক মোল্লা (৪৫)। তিনি স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। আহতরা হলেন এসআই জাবেদ ওমর (২৮) ও গাড়িচালক রাব্বি (২৮)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত পৌনে ৩টার দিকে তুমুলিয়া এলাকার বাসিন্দা আহিদ মিয়াকে (৪৫) আটক করতে এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। অভিযান শেষে আহিদকে আটক করে পুলিশের গাড়িতে নিয়ে থানার উদ্দেশে রওনা হন তাঁরা। পথে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে পুলিশের গাড়ি থামিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিক মোল্লার সঙ্গে কথা বলছিলেন এসআই মিজানুর রহমান, এসআই জাবেদ ওমর এবং গাড়িচালক রাব্বি। এ সময় ঘোড়াশালমুখী একটি কাভার্ডভ্যান তাঁদের চাপা দিয়ে চলে যায়। আরোও পড়ুন,সাভারে ল্যান্ডফিলের আটশত লিটার তেল পাচারকালে একজন আটক, ট্রাক জব্দপরে পুলিশের অন্য সদস্যরা আহত চারজনকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রফিক মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত এসআই মিজানুর রহমান ও এসআই জাবেদ ওমরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়। আহত এসআই জাবেদ ওমর গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, গাড়িচালক রাব্বি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসআই মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে। এসআই জাবেদ ওমর গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনায় জড়িত কাভার্ডভ্যানটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাভারে ল্যান্ডফিলের আটশত লিটার তেল পাচারকালে একজন আটক, ট্রাক জব্দ

সাভারে ল্যান্ডফিলের আটশত লিটার তেল পাচারকালে একজন আটক, ট্রাক জব্দ

ঢাকার সাভারের আমিন বাজার এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে ময়লার ভাগার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ল্যান্ডফিলে ভেকু পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত ৮'শ লিটার সরকারি তেল পাচারকালে আল-আমিন (৩৪) নামে এক ট্রাক চালককে আটক করা হয়েছে ৷ এসময় তেল ও পাচারের কাজে ব্যবহৃত ট্রাকটি জব্দ করেছে পুলিশ । বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর)  রাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের আমিন বাজার সালেহপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে তেল ভর্তি ট্রাক জব্দ ও চালককে আটক করে পুলিশ । আটককৃত - আল আমিন বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ থানার  ঘটকেরচর গ্রামের মৃত সুলতান হাওলাদারের ছেলে । সে রাজধানীর মিরপুর-১ এর গোদারা ঘাট এলাকায় ভাড়াবাসায় বসবাস করেন । আরোও পড়ুন,অপরাধীদের ধরতে পুলিশের অভিযান শুরুসে সিটি করপোরেশনের আবর্জনাবাহী ড্রাম ট্রাকচালক পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারে আমিন বাজার এলাকায় পুলিশ নিয়মিত তল্লাশি পরিচালনা করছিল । এসময় একটি ট্রাক ৪০টি কন্টিনার বোঝাই করে ৮০০ লিটার ডিজেল নিয়ে রাজধানীর দিকে যাচ্ছিল । পরে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে পাচারকৃত তেল ও ট্রাক জব্দ করে ৷ এঘটনার সঙ্গে জড়িত ট্রাক চালকে আটক  করে পুলিশ । সাভার মডেল থানার আমিন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাকির আল আহসান  জানান, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে তল্লাশির সময় তেল বোঝাই ট্রাক জব্দ করা হয়েছে । এসময় তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত ট্রাক চালকে আটক করা হয়েছে । পরে ওই চালকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তেল পাচারের বিষয়টি স্বীকার করেছে । সে আমিন বাজারের ল্যান্ডফিল থেকে তেল নিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় চোরাই তেল চক্ররের কাছে সরকারি তেল নিয়ে যাচ্ছিলেন ।  এঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা ।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

আন্তর্জাতিক

চীনে ৫.২ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প

চীনে ৫.২ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প

চীনের স্বায়ত্তশাসিত তিব্বত অঞ্চলে আঘাত হানা ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৮ জনে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আরও ৪৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া ভূমিকম্পের তীব্রতায় অন্তত ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি এ তথ্য প্রকাশ করে।যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের নাগকু শহরের প্রায় ১৯০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে অবস্থিত একটি দুর্গম পার্বত্য এলাকায়, আরোও পড়ুন,তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পযা আঞ্চলিক রাজধানী লাসা থেকে ৩৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। ঘটনার পরপরই দুর্গম এলাকাটিতে উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করতে ৩০০ জনেরও বেশি সশস্ত্র পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দৃশ্যচিত্রে ভূকম্পনের সময় রেস্তোরাঁ ও বাসাবাড়ি থেকে আতঙ্কিত মানুষদের রাস্তায় বেরিয়ে আসতে দেখা গেছে। এলাকাটি সম্প্রতি নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিল, যেখানে প্রায় ১,৪০০ জনের মৃত্যু হয়। এর পাশাপাশি, ভারতের জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (এনসিএস) জানায়, চীনের অরুণাচল সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ৫.২ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।

২ ঘন্টা আগে

রাজধানী

৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশি উদ্ধার ও প্রাথমিক তদন্ত

৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশি উদ্ধার ও প্রাথমিক তদন্ত

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু চোর সন্দেহে মো. আলম শেখ (৪১) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সামনে ঘোরাঘুরির সময় রোগীর স্বজনরা তাঁকে সন্দেহ করে পরিচয় ও উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে চায়। সদুত্তর দিতে না পারায় উত্তেজিত জনতা তাঁকে টেনেহিঁচড়ে হাসপাতালের নিচে নিয়ে গণপিটুনি দেয়, যার ফলে বৃহস্পতিবার ভোরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে;আরোও পড়ুন,১ নভেম্বর থেকে ঢাকার ছয় রুটে চালু হচ্ছে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ বাসব্যবস্থা তাঁর বাড়ি নাটোর জেলায়। পুলিশ ইতোমধ্যেই স্বজনদের সংবাদ দিয়েছে এবং তাঁরা ঢাকায় পৌঁছানোর পর তেজগাঁও থানায় আনুষ্ঠানিক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পুলিশ তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোস্তাফিজুর রহমান অয়ন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

২১ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৬ জন

খেলাধুলা

ম্যাচসেরা রত্নায়েক, শানাকা ও আভিস্কার দুর্দান্ত ইনিংস

ম্যাচসেরা রত্নায়েক, শানাকা ও আভিস্কার দুর্দান্ত ইনিংস

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৪২৯ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ গড়েও শেষ রক্ষা হলো না ইংল্যান্ডের। ১ বল বাকি থাকতে ২ উইকেটের অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়ল শ্রীলঙ্কা। জয়ের জন্য শেষ দুই বলে ৬ রানের রোমাঞ্চকর সমীকরণে দাঁড়িয়ে জশ টাংকে দর্শনীয় ছক্কা মেরে শ্রীলঙ্কাকে স্মরণীয় জয় উপহার দেন জানিত লিয়ানাগে (২৭ বলে অপরাজিত ৬১)।এর আগে, ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক মাত্র ১১৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ওয়ানডে ইতিহাসের দ্রুততম দ্বিশতকের বিশ্ব রেকর্ড গড়ে ২০২ রানে অপরাজিত থাকেন। আরোও পড়ুন,৪২৯ রান তাড়া করে শ্রীলঙ্কার ইতিহাসতাঁর এই ঐতিহাসিক ইনিংসের পাশাপাশি জো রুট (৬৯), উইল জ্যাকস (৬৬) ও টম ব্যান্টনের (৫০) ঝোড়ো ইনিংসে ৪ উইকেটে ৪২৯ রানের বিশালাকার স্কোর তোলে ইংল্যান্ড।জবাবে ব্যাট করতে নেমে পবন রত্নায়েকে-র ১০৬ বলে ১৩০ রান এবং ওপেনার আভিস্কা ফার্নান্দো (৯৭) ও দাসুন শানাকার (৯৭) ব্যাটে জয়ের ভিত্তি প্রস্তুত করে শ্রীলঙ্কা। শেষ ওভারে জশ টাং টানা দুই উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে আশার আলো দেখালেও লিয়ানাগের অদম্য দৃঢ়তায় শেষ হাসি হাসে লঙ্কানরা। চমৎকার সেঞ্চুরির সুবাদে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন পবন রত্নায়েকে। উল্লেখ্য, ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ৪৩৪ রান তাড়া করে জয়ের শীর্ষ রেকর্ডটি দক্ষিণ আফ্রিকার (২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে)।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!