দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

পুলিশের মাসোহারা বৈধ, সাংবাদিকের উপহার অপরাধ?

বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা / পুলিশের মাসোহারা বৈধ, সাংবাদিকের উপহার অপরাধ?

দেশে চাঁদাবাজি, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে আলোচনা হলেই একটি অদ্ভুত দ্বৈত মানদণ্ড সামনে আসে। পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মাসোহারা গ্রহণ, অপরাধীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ নেওয়া কিংবা অবৈধ কর্মকাণ্ডে নীরব সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ উঠলে অনেক ক্ষেত্রেই তা নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না। কিন্তু কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠলেই তাঁকে চাঁদাবাজ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা দেখা যায়। প্রশ্ন হচ্ছে, অনৈতিকভাবে অর্থ বা সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ যদি অপরাধ হয়, তাহলে সেটি পুলিশ, সাংবাদিক কিংবা অন্য যে পেশার মানুষের বিরুদ্ধেই উঠুক না কেন, একই মানদণ্ডে বিচার হবে না কেন? সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণের কাছে সংবাদ তুলে ধরা, অনিয়ম-দুর্নীতি প্রকাশ করা এবং ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির আওতায় আনাই সাংবাদিকদের অন্যতম দায়িত্ব। অন্যদিকে পুলিশের দায়িত্ব অপরাধ দমন, নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। দুটি পেশার দায়িত্ব আলাদা হলেও উভয়ের কাছেই সততা, পেশাগত নৈতিকতা ও জবাবদিহি প্রত্যাশিত। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যায়, কোনো এলাকায় অবৈধ ব্যবসা, মাদক কারবার, জুয়া, চাঁদাবাজি কিংবা বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠে। কোথাও কোথাও অভিযোগ থাকে, অপরাধী চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সখ্য রয়েছে, নিয়মিত মাসোহারা নেওয়া হয় কিংবা অর্থের বিনিময়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অথচ কোনো সাংবাদিক কোনো ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা কিংবা সামাজিক ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে ব্যক্তিগত সৌজন্য উপহার গ্রহণ করলে অনেক সময় সেটিকেও চাঁদাবাজির অভিযোগের সঙ্গে এক করে দেখা হয়। এখানে একটি মৌলিক পার্থক্য বোঝা প্রয়োজন। কাউকে ভয়ভীতি দেখিয়ে, সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে কিংবা সংবাদ বন্ধ রাখার শর্তে অর্থ আদায় করা অবশ্যই অপরাধ। কিন্তু কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কাউকে উপহার দিলে, সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাঁদাবাজি হয়ে যায় না।আরও পড়ুন,জীবিকার বনেই নিরাপত্তাহীন বনজীবীরা তবে উপহারের বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশ, সংবাদ গোপন কিংবা পেশাগত সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হলে সেটিও সাংবাদিকতার নৈতিকতার পরিপন্থী। প্রশ্ন হচ্ছে, পুলিশের কোনো সদস্য যদি কোনো অপরাধী, ব্যবসায়ী কিংবা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ গ্রহণ করেন, তাহলে সেটিকে কি শুধু সৌজন্য উপহার বলা যাবে? নিশ্চয়ই নয়। একইভাবে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি অর্থ দাবি করেন, ভয় দেখান কিংবা সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অর্থাৎ পেশার পরিচয় কাউকে অপরাধের দায় থেকে মুক্তি দিতে পারে না। বর্তমানে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিককে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, দুর্নীতি, অবৈধ ব্যবসা, মাদক কারবার, দখলবাজি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে সংবাদ প্রকাশের উদ্যোগ নিলেই সংশ্লিষ্ট মহলের কেউ কেউ সাংবাদিককে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো প্রতিবেদনের তথ্য জানতে চাওয়া, বক্তব্য নেওয়া কিংবা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করাকে অনেক সময় ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়। আবার কোথাও ব্যক্তিগত বিরোধ, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব কিংবা সংবাদ প্রকাশের প্রতিশোধ নিতে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলার ঘটনাও ঘটতে পারে। তবে এসব অভিযোগের প্রতিটিই প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে যারা প্রকৃত অর্থেই চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইলিং কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের সঙ্গে জড়িত, তাদের পক্ষেও কোনো অবস্থান নেওয়ার সুযোগ নেই। অপসাংবাদিকতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজকেই সোচ্চার হতে হবে।  আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মাসোহারা গ্রহণের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। কারণ একজন পুলিশ সদস্যের দায়িত্ব অপরাধ দমন করা। তিনি যদি অর্থের বিনিময়ে অপরাধীদের আশ্রয় দেন কিংবা অবৈধ কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেন, তাহলে সেটি শুধু ব্যক্তিগত দুর্নীতি নয়, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বেরও গুরুতর লঙ্ঘন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ব্যবসা, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, জুয়া, অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান কিংবা বিভিন্ন অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও স্থানীয় পর্যায়ে মাসোহারা বাণিজ্যের অভিযোগও শোনা যায়। এসব অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানে পুলিশের নিজস্ব গোয়েন্দা বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।আরও পড়ুন,কসবায় ২২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪৫ মেধাবী শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা কোনো থানার আওতাধীন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও পুলিশ কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, কারা এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কী ভূমিকা পালন করছেন এসব প্রশ্নের জবাবদিহি থাকতে হবে। সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। ব্যক্তিগত সৌজন্য, সামাজিক সম্পর্ক কিংবা কোনো উপলক্ষে স্বেচ্ছায় দেওয়া উপহার এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় এক বিষয় নয়। চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে জবরদস্তি, ভয়ভীতি, হুমকি কিংবা অন্যায় চাপের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে উপহার গ্রহণের ক্ষেত্রেও সাংবাদিকের পেশাগত নিরপেক্ষতা ও স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। কোনো সাংবাদিক যদি অর্থের বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশ করেন, বিজ্ঞাপনকে সংবাদ হিসেবে উপস্থাপন করেন কিংবা অর্থের বিনিময়ে কোনো অপরাধের তথ্য গোপন করেন, তাহলে তা পেশাগত অসততা। আবার কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাঁর অনুসন্ধানী কাজ বন্ধ করার চেষ্টা করাও গ্রহণযোগ্য নয়। পুলিশ অবৈধ হোটেল, মাদক ব্যবসায়ী, গেষ্ট হাউস,  অবৈধ স্পা, কিংবা ফুটপাত থেকে চাঁদা বা মাসোহার নিলে কি বৈধ তা জাতি জানতে চায়।আইনের শাসনের মূলনীতি হচ্ছে, অপরাধের বিচার হবে প্রমাণের ভিত্তিতে, পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়। পুলিশ, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী কিংবা অন্য কোনো পেশার মানুষ কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। পুলিশের বিরুদ্ধে মাসোহারা গ্রহণের অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলেও প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু কোনো পেশার মানুষের বিরুদ্ধে ঢালাও অপবাদ দেওয়া কিংবা কোনো পেশাকে দায়মুক্তি দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সাংবাদিকদের জন্য যেমন পেশাগত নীতিমালা ও স্বচ্ছতা প্রয়োজন, তেমনি পুলিশের জন্যও কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী ঘোষণা করা যাবে না। আবার পদ-পদবি কিংবা পেশাগত পরিচয়ের কারণে কাউকে দায়মুক্তিও দেওয়া যাবে না। সবশেষে প্রশ্ন একটাই—পুলিশের বিরুদ্ধে মাসোহারা গ্রহণের অভিযোগ উঠলে যদি তদন্ত প্রয়োজন হয়, তাহলে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলেও তদন্ত প্রয়োজন। আর সাংবাদিকের স্বেচ্ছায় পাওয়া উপহারকে যদি চাঁদাবাজি বলা হয়, তাহলে পুলিশের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণকে কোনোভাবেই বৈধতা দেওয়ার সুযোগ নেই। অপরাধের বিচার হোক অপরাধের ভিত্তিতে, পেশার পরিচয়ে নয়। সাংবাদিকতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—উভয় ক্ষেত্রেই সততা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হলেই সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরে আসবে। আরও পড়ুন,টেংরাগিরির ১৪ হরিণের মধ্যে এখন বেঁচে আছে মাত্র ৩টিকারণ রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সবার জন্য একই আইন ও একই নৈতিক মানদণ্ড কার্যকর থাকতে হবে। এবিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞেরা বলেন, আইনের দৃষ্টিতে চাঁদাবাজি ও স্বেচ্ছায় দেওয়া উপহার সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি, চাপ সৃষ্টি কিংবা সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হলে তা পরিস্থিতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে দণ্ডবিধির ৩৮৩ ও ৩৮৪ ধারায় চাঁদাবাজির অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কাউকে উপহার বা আর্থিক সহযোগিতা দিলে সেটিকে সরাসরি চাঁদাবাজি বলা যায় না। একইভাবে পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মাসোহারা গ্রহণ, অপরাধীদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নেওয়া কিংবা দায়িত্ব পালনে অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠলে সেটিও তদন্তসাপেক্ষে দুর্নীতি ও অন্যান্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আইনের প্রয়োগে পুলিশ ও সাংবাদিকদের জন্য আলাদা কোনো মানদণ্ড নেই। সাংবাদিক পরিচয় যেমন কাউকে চাঁদাবাজির দায় থেকে রক্ষা করে না, তেমনি পুলিশের পোশাকও কাউকে দুর্নীতির দায়মুক্তি দেয় না। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী ঘোষণা করা যাবে না; নিরপেক্ষ তদন্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের মাধ্যমে অপরাধ প্রমাণ করতে হবে। আমার মতে, পেশাগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি কিংবা কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে এসব অপরাধে পুলিশের শাস্তির বিধান রয়েছে? বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে পুলিশ সদস্যরাও অপরাধ করলে শাস্তির আওতাভুক্ত। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী ঘুষ, অবৈধ সুবিধা গ্রহণ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। দণ্ডবিধির ১৬৬ ধারায় দায়িত্ব পালনে আইন অমান্য করে ক্ষতিসাধনের জন্য সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। ২১৭ ধারায় অপরাধীকে শাস্তি থেকে বাঁচাতে আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থায় চাকরিচ্যুতিও হতে পারে।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নিয়ে অশোভন, শিষ্টাচারবহির্ভূত ও উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের নির্দেশ দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে অধিদপ্তরের আওতাধীন মাদ্রাসাগুলোতে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি কয়েকজন শিক্ষক ফেসবুকের ব্যক্তিগত ওয়াল ও বিভিন্ন গ্রুপে কর্তৃপক্ষের নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তিকর ও উসকানিমূলক মন্তব্য করছেন। এসব পোস্টের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকার মাদ্রাসা শিক্ষকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে এবং অধিদপ্তরের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।আরও পড়ুন,২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২৯ দিন, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভাঅধিদপ্তরের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯’-এর ১০ (ঙ), ১০ (ছ) ও ১০ (ঝ) অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। একই সঙ্গে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬’-এর ১৮ (গ) অনুযায়ী এসব কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য। এ অবস্থায় মাদ্রাসায় কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের পোস্ট ও কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন খানের সই করা বিজ্ঞপ্তিটি দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, সুপার ও ইবতেদায়ি প্রধানের কাছে পাঠানো হয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ মহড়া ‘গার্ডিয়ান শার্ক’ শুরু

দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর যৌথ মহড়া ‘গার্ডিয়ান শার্ক’ শুরু হয়েছে। আগামী ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত এ মহড়া চলবে। এতে খরস্রোতা পানিতে উদ্ধার অভিযান এবং চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র মারা বার্ডের দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, জরুরি পরিস্থিতি ও সংকট মোকাবিলায় দুই বাহিনীর প্রস্তুতি জোরদার করা এবং যৌথভাবে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কৌশল গড়ে তোলাই এ মহড়ার মূল লক্ষ্য। এতে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও কার্যকর পদ্ধতি বিনিময়ের পাশাপাশি বাস্তব পরিস্থিতির আদলে বিভিন্ন অনুশীলনে অংশ নেবেন।আরও পড়ুন,২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২৯ দিন, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভামহড়ার মাধ্যমে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের জীবন রক্ষায় দুই বাহিনীর দক্ষতা ও প্রস্তুতি বাড়বে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এতে আরও বলা হয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তার অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের প্রতিফলন এ যৌথ মহড়া। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর হবে।

২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২৯ দিন, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আগামী বছর সরকারি ছুটি থাকবে মোট ২৯ দিন। এর মধ্যে ১৫ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি। সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।আরও পড়ুন,আন্দোলনের নামে সহিংসতায় জড়িতদের ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীতিনি জানান, ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকায় ১৫ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী বছর সরকারি ছুটির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ দিন। এর আগে সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়।

আন্দোলনের নামে সহিংসতায় জড়িতদের ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এখন আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা করছে, তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বর্তমানে শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো আন্দোলন চলছে না। শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠনের। সেটি ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে। মজুরি বোর্ডের দাবিতে শ্রমিকেরা কখনো সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করেননি। তাঁর ভাষ্য, সাম্প্রতিক ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া মুখোশধারীদের রাজনৈতিক স্লোগান দিতে দেখা গেছে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং গার্মেন্টস শিল্পের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে শ্রমিক নেতারা তাঁদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।আরও পড়ুন,ভূমিকম্প মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীরএর আগে সোমবার সকালে সচিবালয়ে গার্মেন্টস মালিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই বৈঠক শেষে তিনি জানান, সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণের জন্য রোববার (১ নভেম্বর) মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সোমবার বোর্ডের প্রথম সভা হতে পারে অথবা খুব শিগগিরই সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবতার নিরিখে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছেন। শ্রমিকদের সমস্যাগুলো সহানুভূতির সঙ্গে দেখার নির্দেশনা রয়েছে। তাই আলোচনার ভিত্তিতে মজুরি নির্ধারণ করা হবে। এ নিয়ে অসন্তোষের কিছু নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনীতিরাজনীতি

শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা চলছে: রিজভী

শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা চলছে: রিজভী

শ্রমিকদের নানা ধরনের উসকানি দিয়ে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা চলছে এবং এর পেছনে পতিত শক্তি ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ইন্ধন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে সিলেট নগরীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে, যা এখন জনগণের কাছে স্পষ্ট। দেশের রাজনৈতিক বিষয়গুলো সংসদে কিংবা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু সে পথে না গিয়ে লং মার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। এতে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে’—এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি সরকারের বয়স মাত্র আট মাস। এরই মধ্যে সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বাড়াতে কাজ করছে। দেশের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পাশাপাশি বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।আরও পড়ুন,পোশাকশিল্পে অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আহ্বানতিনি বলেন, এসব বিষয় উপেক্ষা করে অপপ্রচারের মাধ্যমে নানা বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। যারা বিপ্লবের কথা বলছেন, তাদের অতীত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিএনপি গণতন্ত্র ও নীতি-আদর্শের জন্য ১৭ বছর প্রকাশ্যে আন্দোলন করেছে। এ আন্দোলনে দলের অনেক নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, রক্ত ঝরেছে। রিজভী আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, সার ও গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে উসকানি ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পরাজিত শক্তি বিদেশ থেকে এবং দেশের ভেতরের কিছু রাজনৈতিক শক্তি নতুন সরকারকে অস্থিতিশীল ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। এদিকে, ঘটনার আগের দিন ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এক দফার আন্দোলনের পথে বিরোধী জোট: নাসীরুদ্দীন

এক দফার আন্দোলনের পথে বিরোধী জোট: নাসীরুদ্দীন

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বিরোধী দলের জোট ভাঙার কোনো সম্ভাবনা নেই। বরং এই জোট ভবিষ্যতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পদত্যাগে বাধ্য করার লক্ষ্য অর্জন না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, তারা এখন এক দফার আন্দোলনের দিকে এগোচ্ছেন। রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় যুবশক্তির সম্মেলন-২০২৬-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, যারা জোট ভেঙে যাওয়া কিংবা শরিকদের মধ্যে দূরত্ব তৈরির গুজব ছড়াচ্ছেন, তাদের ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলোর এই জোট ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধ থাকবে।নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, তারা কোনো সরকার, বিরোধী দল কিংবা বিদেশি পক্ষের কাছ থেকে অর্থ নেন না। আরও পড়ুন,পোশাকশিল্পে অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আহ্বানজনগণের করের টাকায় পড়াশোনা করেছেন এবং বাংলাদেশের মাটি, পানি ও বাতাসের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রয়েছে। তাই দেশের মানুষের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে, অন্য কারও কাছে নয়। বক্তব্যে তিনি বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সমঝোতার অভিযোগও তোলেন। তার দাবি, দুই দলের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে, যা বাংলাদেশের মানুষের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, বিএনপির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্যের বক্তব্যেও আওয়ামী লীগের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে নেতাকর্মীদের মামলা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব বক্তব্যের ভিত্তিতে সরকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আঁতাত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সামনে তাদের নতুন একটি বড় সংগ্রাম শুরু হতে যাচ্ছে। আর সেই সংগ্রামের লক্ষ্য অর্জনে বিরোধী জোট পিছপা হবে না।

পোশাকশিল্পে অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আহ্বান

পোশাকশিল্পে অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আহ্বান

পোশাকশিল্পের চলমান অস্থিরতাকে পুঁজি করে ষড়যন্ত্রকারী ও স্বার্থান্বেষী মহল এ শিল্প ধ্বংসের চেষ্টা করছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। সোমবার ২ নভেম্বর বেলা ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি। পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, পোশাকশিল্পে অস্থিরতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুরের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের মতো উদ্বেগজনক ঘটনাও ঘটছে। তিনি বলেন, কোনো মালিক বা শ্রমিকই শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না।আরও পড়ুন,এনসিপির ক্রীড়া সংগঠনের আহ্বায়ক নাজমুল আবেদীন ফাহিম তাঁর বিশ্বাস, কোনো শ্রমিক এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হবেন না। জামায়াতের আমির আরও বলেন, ষড়যন্ত্রকারী ও স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিরা পরিস্থিতি উসকে দিয়ে পোশাকশিল্প ধ্বংসের চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইতিমধ্যে প্রায় ৬০০টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শীত মৌসুমকে সামনে রেখে পোশাকশিল্পে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়, তা নষ্ট করার পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সেই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ অবস্থায় পোশাকশিল্পের চলমান সংকট মোকাবিলায় মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আন্তরিক ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। পোশাকশিল্পের অস্থিরতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এনসিপির ক্রীড়া সংগঠনের আহ্বায়ক নাজমুল আবেদীন ফাহিম

এনসিপির ক্রীড়া সংগঠনের আহ্বায়ক নাজমুল আবেদীন ফাহিম

জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির নতুন ক্রীড়া সংগঠন ‘ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স’ আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। দেশের ক্রীড়া খাতের উন্নয়ন, অনিয়ম ও ত্রুটি চিহ্নিত করা এবং তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে নতুন এই সংগঠন। সংগঠনটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রিকেট বিশ্লেষক নাজমুল আবেদীন ফাহিম। আর সদস্যসচিব করা হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক পরিচালক ও অর্থ কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলামকে। আগামীকাল সোমবার ২ নভেম্বর রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। আরও পড়ুন,ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপএতে সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকদের যুক্ত করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সংগঠনের কার্যক্রম ও পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এম নাজমুল ইসলাম জানান, এনসিপির ক্রীড়া উইং হিসেবে তাঁরা কাজ শুরু করছেন। শুধু ক্রিকেট নয়, দেশের সব ধরনের খেলাধুলার উন্নয়ন নিয়ে কাজ করবে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স। তিনি বলেন, ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন সমস্যা, অনিয়ম ও ভুলত্রুটি চিহ্নিত করে সেগুলো সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সামনে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি ক্রীড়া খাতের উন্নয়নে তাঁদের পরামর্শ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সংলাপেও বসবেন সংগঠনের নেতারা। এ ছাড়া ভবিষ্যতে তহবিলের ব্যবস্থা হলে নিজেদের উদ্যোগেও ক্রীড়ার উন্নয়নে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান এম নাজমুল ইসলাম। নতুন এই সংগঠনের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে কী ধরনের ভূমিকা রাখা সম্ভব হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

সারাবাংলা

গাজীপুরে কার্তিক হত্যা মামলার দুই আসামি ময়মনসিংহ থেকে গ্রেপ্তার

গাজীপুরে কার্তিক হত্যা মামলার দুই আসামি ময়মনসিংহ থেকে গ্রেপ্তার

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন কুনিয়া পাছর চৌধুরী মার্কেট এলাকায় কার্তিক (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার দুই আসামিকে ময়মনসিংহ থেকে গ্রেপ্তার করেছে গাছা থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থানাধীন মাশাইল বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে গাছা থানা পুলিশের একটি আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. শিমুল মিয়া (২৫) ও মো. জহিরুল ইসলাম ওরফে ফালান (৪৯)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত শিমুল মিয়ার বাড়ি গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানাধীন খুরাইদ এলাকায়। অপর আসামি জহিরুল ইসলাম ওরফে ফালানের বাড়িও একই এলাকায়। তারা গাছা থানাধীন কুনিয়া পাছর চৌধুরী মার্কেট এলাকায় বসবাস করতেন। শিমুল সেখানে ভাসমান অবস্থায় থাকতেন এবং জহিরুল ইসলাম আইনজীবী মামুনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নিহত কার্তিক (৩৫) গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুনিয়া পাছর চৌধুরী মার্কেট এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার পিতার নাম সুশীল চন্দ্র শীল এবং মাতার নাম আলো রানী। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত ২৮ অক্টোবর গাছা থানায় মামলা নম্বর-৪২ দায়ের করা হয়। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে।আরও পড়ুন,কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় কিশোর গ্যাংসহ গ্রেপ্তার ২৫পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে অভিযান চালানো হয়। পরে মাশাইল বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গাছা থানা পুলিশের এসআই মো. সাইফুল আলম ও এসআই মো. সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে এএসআই মো. ইব্রাহিম মিয়াসহ পুলিশের একটি দল অভিযানে অংশ নেয়। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের নিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধারের কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার পেছনের রহস্য এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় কিশোর গ্যাংসহ গ্রেপ্তার ২৫

কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় কিশোর গ্যাংসহ গ্রেপ্তার ২৫

কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকা থেকে ২৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১৫ জন মাদক সেবনকারী, ২ জন ধর্তব্য অপরাধে অভিযুক্ত, ৭ জন ওয়ারেন্টভুক্ত এবং ১ জন নিয়মিত মামলার আসামি রয়েছেন। কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চোর ও ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পৌরসভা ও ইউনিয়ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে মাদক সেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১৫ জন হলেন—মো. আবুর বাশার (৩২), মো. মাবুদ (২৩), সোনা মিয়া (৪৮), সেলিম উল্ল্যাহ (৪৩), সাইমন (২১), আব্দুল জলিল (৪৫), জয়নাল উদ্দিন (২৮), মো. সৈয়দ (৩৮), আব্দুস সোবাহান (৩৬), মুজিব (৩৬), মো. মিজবাহ ওরফে পেট্রো (২৬), আবু তালেব (৪৫), আদিব (১৯), মাসুদ (১৯) এবং মো. নোমান হোসেন (২৫)। তাদের মধ্যে কয়েকজন কক্সবাজার পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ঝিলংজা ইউনিয়নের পূর্ব মোক্তারপুল, পাহাড়তলী, মহেশখালী, রামু এবং মুন্সীগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।আরও পড়ুন,সখীপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে চারজন গ্রেপ্তারধর্তব্য অপরাধে গ্রেপ্তার দুজন হলেন মাহবুব (২০) ও শহিদুল ইসলাম ওরফে সুমন (৩১)। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শহিদুল ইসলাম ওরফে সুমনের বিরুদ্ধে এর আগে দ্রুত বিচার আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় একাধিক মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর কক্সবাজার সদর থানায় দায়ের করা একটি মামলাও রয়েছে। অভিযানে বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন—হোছনে আরা, জাগির হোছাইন, মো. আলমগীর (৩৩), নুরুল আজিম, আনোয়ার ইসলাম সাগর, মো. রুবেল (২৮) ও মো. শাহীন (২৮)। প্তারকৃতদের মধ্যে মো. আলমগীর ও নুরুল আজিমের বিরুদ্ধে সাজাসংক্রান্ত ওয়ারেন্ট রয়েছে বলে পুলিশি তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া নিয়মিত মামলায় মুরশেদ প্রকাশ ইলেক্ট্রিক মোর্শেদ (৬৩) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের এবিসিঘোনা, বহতারের পাহাড় এলাকার বাসিন্দা। কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সখীপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে চারজন গ্রেপ্তার

সখীপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে চারজন গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইলের সখীপুরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। সোমবার (২ নভেম্বর) সখীপুর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল এ অভিযান পরিচালনা করে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—রাকিব হোসেন (২৫), জাহিদ হাসান (৩৫), নুর মোহাম্মদ (৩৫) ও জুলহাস মিয়া (২৮)। গ্রেপ্তার রাকিব হোসেন সখীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গড়গোবিন্দপুর এলাকার মৃত মিন্টু মিয়া ও রিনা আক্তারের ছেলে। জাহিদ হাসান একই পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ময়থাচালা এলাকার শাহিনুর রহমান ও মমতাজ বেগমের ছেলে। নুর মোহাম্মদ ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গড়গোবিন্দপুর এলাকার মোশারফ হোসেন ও আমেনা বেগমের ছেলে।আরও পড়ুন,টঙ্গীতে ১৫ হাজার ইয়াবাসহ দুই নারী গ্রেপ্তারঅপর গ্রেপ্তার ব্যক্তি জুলহাস মিয়ার স্থায়ী ঠিকানা ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সোয়াইতপুর গ্রাম। তিনি নুরুল ইসলাম ও জুলেখা বেগমের ছেলে। বর্তমানে সখীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচাবাজার এলাকায় জনৈক আনোয়ারের বাসায় ভাড়া থাকতেন। সোমবারের এ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তারের পর তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

টঙ্গীতে ১৫ হাজার ইয়াবাসহ দুই নারী গ্রেপ্তার

টঙ্গীতে ১৫ হাজার ইয়াবাসহ দুই নারী গ্রেপ্তার

গাজীপুরের টঙ্গীতে পৃথক দুটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ১৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় দুই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত টঙ্গী পূর্ব থানার পূর্ব আরিচপুরের মদিনাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার নারীরা হলেন নাজমা বেগম (৫৩) ও সোনিয়া আক্তার (৩৫)। তাঁদের একজনের বাড়ি ময়মনসিংহে এবং অন্যজনের বাড়ি নরসিংদীতে। তাঁরা বর্তমানে টঙ্গীর পূর্ব আরিচপুরের মদিনাপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।আরও পড়ুন,২১ মাসে বান্দরবানে চার জেলা প্রশাসক, বারবার বদলিতে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্নমাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, গাজীপুরের উপপরিচালক এমদাদুল ইসলাম মিঠুনের তত্ত্বাবাজার এবং সহকারী পরিচালক শাহীন মাহমুদের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় পূর্ব আরিচপুরের ৩৫ ও ১৪৩ নম্বর বাসায় তল্লাশি করে ১৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে ওই দুই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, গাজীপুরের উপপরিচালক এমদাদুল ইসলাম মিঠুন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে তাঁদের অধিদপ্তরের নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

আন্তর্জাতিক

আপুরেতে বিদ্রোহী ঘাঁটিতে হামলা, নিহত অন্তত ১৯

আপুরেতে বিদ্রোহী ঘাঁটিতে হামলা, নিহত অন্তত ১৯

ভেনেজুয়েলার পশ্চিমাঞ্চলীয় আপুরে রাজ্যে কলম্বিয়ার একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ঘাঁটি লক্ষ্য করে দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো অভিযানে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে এ হামলা চালানো হয়। রবিবার মানবাধিকার সংস্থা এবং অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। ভেনেজুয়েলার সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘ফুন্দা রেদেস’ প্রথমে জানিয়েছিল, অভিযানে নয়জন নিহত হয়েছেন। পরে সংস্থাটি নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে পৌঁছানোর তথ্য জানায়। কলম্বিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠী ফার্ক ২০১৬ সালে দেশটির সরকারের সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন) লাতিন আমেরিকার অন্যতম শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিতি পায়।আরও পড়ুন,হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার তাগিদ দুই দেশের কলম্বিয়ার সরকার দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের বিরুদ্ধে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় ও রসদ দিয়ে সহায়তার অভিযোগ করে আসছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভেনেজুয়েলার অবস্থান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। এদিকে গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে পরিচালিত এক অভিযানে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে দেশটির বাইরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর থেকে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে কারাকাস। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বিদ্রোহীদের ঘাঁটিতে সেনাবাহিনীর এ অভিযান চালানো হলো অভিযানে নিহত ব্যক্তিরা কোন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্য এবং তাদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

৮ ঘন্টা আগে

রাজধানী

দোকানপাট খোলা রাখার সময় বাড়াতে মন্ত্রণালয়ে আবেদন

দোকানপাট খোলা রাখার সময় বাড়াতে মন্ত্রণালয়ে আবেদন

 দেশের সব মার্কেট, বিপণিবিতান ও দোকানপাট রাত ৮টার পরিবর্তে ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি চেয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। সংগঠনটির দাবি, রাত ৮টার মধ্যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা আর্থিক সংকটে পড়ছেন। সোমবার (২ নভেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক লিখিত আবেদনে এ দাবি জানানো হয়। সংগঠনের সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান টিপু আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেন। আবেদনে সংগঠনটি জানায়, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের উদ্যোগকে তারা সমর্থন করে। তবে বর্তমান ব্যবসায়িক পরিস্থিতিতে রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।আরও পড়ুন,আবেরা’ স্পা ঘিরে অভিযোগ, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্নতাদের ভাষ্য, বিভিন্ন মার্কেটে ক্রেতা সংকট ও বিক্রিতে মন্দা দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকান বন্ধ করতে গিয়ে অনেক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছেন। কেউ কেউ ব্যবসা গুটিয়ে নিতেও বাধ্য হচ্ছেন। সংগঠনটির মতে, বিশেষ করে শীতের মৌসুমে সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত অনেক ক্রেতা কেনাকাটা করতে মার্কেটে আসেন। রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ হয়ে গেলে ব্যবসায়ীরা বিক্রির গুরুত্বপূর্ণ সময় হারান। আবেদনে বিনিয়োগের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ বিবেচনায় রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দিয়ে প্রয়োজনীয় সরকারি নির্দেশনা জারির অনুরোধ জানানো হয়েছে। সমিতির নেতাদের দাবি, রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হলে ক্রেতারা কেনাকাটার জন্য বাড়তি সময় পাবেন এবং ব্যবসায়ীদের বিক্রি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

১০ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৬ জন

খেলাধুলা

ওয়ানডেতে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাসের পাতায় নামিবিয়া

ওয়ানডেতে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাসের পাতায় নামিবিয়া

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়েছে নামিবিয়া। পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ ও নির্ধারণী ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো আইসিসির কোনো পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে আফ্রিকার দেশটি। রোববার (১ নভেম্বর) নিজেদের মাঠ উইন্ডহোকে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয় স্বাগতিকরা। আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে এই সাফল্য নামিবিয়া দলের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টসের পর আগে ব্যাট করতে নেমে নামিবিয়ার বোলারদের সামনে সুবিধা করতে পারেনি আয়ারল্যান্ড। পেসার জেজে স্মিথ ও জ্যাক ব্রাসেল মিলে ৭ উইকেট তুলে নিলে মাত্র ১২৯ রানেই গুটিয়ে যায় আইরিশদের ইনিংস।আরও পড়ুন,সিলেটে সিরিজ জয়ের লক্ষ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের, আরও ক্ষুধার্ত দল চান স্যামিসহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনার লরেন স্টিনক্যাম্পের ৪২ রানের কার্যকর ইনিংস জয়কে সহজ করে দেয়। অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমাসও ৩০ রান করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় নামিবিয়া। পুরো সিরিজে ব্যাট ও বল হাতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি পেয়েছেন অধিনায়ক এরাসমাস। পাঁচ ম্যাচে ২৬৩ রান ও ৪ উইকেট নিয়ে সিরিজসেরার পুরস্কার জিতেছেন তিনি। আর নির্ধারণী ম্যাচে ৯ ওভার বল করে ৪ উইকেট নেওয়া জেজে স্মিথ হয়েছেন ম্যাচসেরা। এদিকে আয়ারল্যান্ড ইতোমধ্যে ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে নামিবিয়াকে পেরোতে হবে কোয়ালিফায়ার প্লে-অফের বাধা। তবে পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক সিরিজ জয় বিশ্বকাপের পথে নামিবিয়ার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!