দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

মব আতঙ্ক ও আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ

কিশোর গ্যাং ও সংঘবদ্ধ অপরাধ / মব আতঙ্ক ও আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। আর এ দায়িত্ব পালনে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুলিশের ওপর হামলা, জনতার হাতে পুলিশ সদস্যদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা, দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন ধরনের চাপ এবং বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা, মনোবল ও স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ কতটা নিশ্চিত হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আরও পড়ুন: পুলিশে একের পর এক রদবদল, অপরাধ দমনে নতুন পরীক্ষাএমন পরিস্থিতিতে পুলিশ সদস্যদের রাতে একা বাইরে বের না হওয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা বা সতর্কতা রয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে যে আলোচনা শোনা যায়, তার প্রকৃত ভিত্তি ও প্রযোজ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। এটি যদি নিরাপত্তাজনিত সতর্কতা হয়ে থাকে, তাহলে এর উদ্দেশ্য ও কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা স্পষ্ট করা জরুরি। আর যদি এমন কোনো নির্দেশনা আনুষ্ঠানিকভাবে জারি না হয়ে থাকে, তাহলে গুজব ও অসমর্থিত তথ্যের ভিত্তিতে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো থেকেও বিরত থাকতে হবে। তবে মূল প্রশ্ন হচ্ছে,পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে অপরাধ দমনে তাদের কার্যক্রম কীভাবে সচল রাখা হবে? অপরাধীরা যদি পুলিশের সক্ষমতা, মনোবল কিংবা দায়িত্ব পালনের সীমাবদ্ধতাকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ পায়, তাহলে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ওপর পড়তে পারে। পুলিশের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো জনতার সহিংসতা বা মব পরিস্থিতি। কোনো ঘটনা ঘটার পর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেওয়া কিংবা দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এসব ঘটনা আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগজনক। কারণ, পুলিশ যদি আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে অতিরিক্ত শঙ্কায় থাকে, তাহলে তা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।অপরাধের অভিযোগ থাকলে তার তদন্ত, অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা এবং আদালতের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি নিজেদের হাতে বিচার তুলে নেয়, তাহলে আইনি প্রক্রিয়া দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। একই সঙ্গে এ ধরনের পরিস্থিতিতে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা হলে ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে পুরো জনগোষ্ঠীকে দায়ী করা যেমন অনুচিত, তেমনি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনার কারণে সব পুলিশ সদস্যকে অকার্যকর হিসেবে বিবেচনা করাও বাস্তবসম্মত নয়। প্রয়োজন হলো, প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।আরও পড়ুন: পুলিশ সংস্কার কতদূর, কী ভাবছে সাধারণ মানুষ?পুলিশকে জনবান্ধব হতে হবে, আবার দায়িত্ব পালনের সময় আইনগত কর্তৃত্বও কার্যকর রাখতে হবে। এ দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা না গেলে একদিকে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা কমতে পারে, অন্যদিকে অপরাধীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে। পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার বিষয়ে যে আলোচনা শোনা যাচ্ছে, সেটি জননিরাপত্তা ও বাহিনীর কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি হয়েছে কি না, হলে সেটি কোন পর্যায়ের সদস্যদের জন্য, কী কারণে এবং কত দিনের জন্য প্রযোজ্য এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।কোনো এলাকায় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার আশঙ্কা থাকলে নিরাপত্তার স্বার্থে এককভাবে চলাচল সীমিত করা কিংবা দলগত টহল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। এ ধরনের ব্যবস্থা দুর্বলতার পরিচয় নয়; বরং ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে নেওয়া একটি নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ হতে পারে। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা যেন অপরাধ দমনের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে অযথা সীমিত না করে, সে বিষয়েও নজর রাখা জরুরি। পুলিশের কাজের বড় একটি অংশই পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো, অপরাধ প্রতিরোধ করা, ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা নেওয়া। রাতের বেলায় অপরাধ সংঘটিত হলে কিংবা কোনো নাগরিক বিপদে পড়লে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। ফলে নিরাপত্তার কারণে একক চলাচল সীমিত করা হলে বিকল্প হিসেবে পর্যাপ্ত জনবল, দ্রুতগামী টহল দল, জরুরি সাড়া প্রদানকারী ইউনিট এবং কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এখানে মূল বিষয়টি পুলিশ একা চলবে, নাকি দলগতভাবে চলবে—তা নয়; বরং পুলিশের দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা, সদস্যদের নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত সেবা পৌঁছানোর নিশ্চয়তা।আরও পড়ুন: ডিএমপির কয়েকটি থানায় দৃশ্যমান পরিবর্তনবিভিন্ন মহলে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় যে, রাজনৈতিক চাপ, প্রশাসনিক জটিলতা, জনতার প্রতিক্রিয়া কিংবা নানা ধরনের প্রভাব পুলিশের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট চক্র পরিকল্পিতভাবে পুলিশের কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে—এমন দাবি প্রমাণ ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। অভিযোগ থাকলে তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। তবে বাস্তবতা হলো, আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর কাজ যদি অনিয়মিত চাপ, পক্ষপাতমূলক নির্দেশনা কিংবা দায়িত্ব পালনে অযৌক্তিক বাধার মুখে পড়ে, তাহলে অপরাধ দমনে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। কোনো অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক প্রভাব, অর্থনৈতিক ক্ষমতা কিংবা ব্যক্তিগত যোগাযোগের কারণে আইন প্রয়োগে ভিন্নতা তৈরি হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বৈষম্যের ধারণা জন্ম নিতে পারে। পুলিশের দায়িত্ব অপরাধের প্রকৃতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া। অপরাধী যে দলেরই হোক, তার পরিচয় বা প্রভাব যেন তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে। একইভাবে নিরপরাধ কাউকে রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে হয়রানি করা থেকেও পুলিশকে বিরত থাকতে হবে। পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করে কোনো মামলা বন্ধ রাখা, অপরাধের তদন্তে বাধা দেওয়া কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তিকে আইনের আওতার বাইরে রাখার অভিযোগ উঠলে সেগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। কারণ, আইনের প্রয়োগে পক্ষপাতের ধারণা তৈরি হলে বাহিনীর প্রতি জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অপরাধীরা নিজেদের প্রভাবকে নিরাপত্তার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ পেতে পারে।আরও পড়ুন: বিএডিসির ডিডি দীপকের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের পাহাড়পুলিশের কার্যক্রম দুর্বল হলে তার সম্ভাব্য প্রভাব শুধু বড় ধরনের অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। পাড়া-মহল্লায় ছিনতাই, চুরি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জমি দখল, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের মতো সমস্যাও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের একাংশের বিরুদ্ধে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারামারি, ছিনতাই কিংবা মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ বিভিন্ন সময় সামনে আসে। তবে কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে পারিবারিক অবহেলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিচ্ছিন্নতা, মাদক, অপরাধী চক্রের প্রভাব এবং সামাজিক প্রতিরোধের দুর্বলতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় শুধু অভিযান চালানো যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি, অপরাধপ্রবণ এলাকায় টহল, অভিযোগের দ্রুত তদন্ত, অপরাধী চক্রের অর্থায়ন ও পৃষ্ঠপোষকতা অনুসন্ধান এবং ঝুঁকিতে থাকা কিশোরদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ।একই সঙ্গে কোনো এলাকায় চাঁদাবাজি বা ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়ার পর যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অপরাধীরা নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে। তাই পুলিশের মাঠপর্যায়ের ইউনিটগুলোকে প্রয়োজনীয় জনবল, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা দিতে হবে। অপরাধ দমনে দৃশ্যমান তৎপরতার পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। অপরাধ ঘটে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে পরিকল্পিত প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশি কার্যকর হতে পারে।আরও পড়ুন: সাংবাদিকতা ও সমাজসেবায় দীর্ঘ পথচলা: শেখ আমিনুর হোসেনের নিরলস কর্মযাত্রাআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা উচিত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা। একজন নাগরিক রাতে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরবেন, ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে নিরাপদে বাসায় যাবেন, শিক্ষার্থী কিংবা শ্রমজীবী মানুষ প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে বের হবেন—এসব ক্ষেত্রে নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা থাকা প্রয়োজন। কোনো নাগরিক ছিনতাই, চাঁদাবাজি, হামলা কিংবা হুমকির শিকার হলে তিনি কোথায় অভিযোগ করবেন, কত দ্রুত পুলিশ সাড়া দেবে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এসব বিষয় জনআস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। থানায় অভিযোগ গ্রহণে অনীহা, তদন্তে অযথা বিলম্ব কিংবা প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনাগ্রহের অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পুলিশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরস্পরবিরোধী বিষয় নয়। বরং একটি নিরাপদ ও কার্যকর পুলিশ বাহিনী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা যাতে অযথা হামলা, ভয়ভীতি কিংবা প্রতিশোধের আশঙ্কায় না থাকেন, তার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার, বেআইনি আটক, হয়রানি কিংবা অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগের অভিযোগেরও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা কঠিন। তাই পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে হবে। নাগরিকদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ, নিয়মিত জনসংযোগ, কমিউনিটি পুলিশিং এবং অপরাধসংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার নিরাপদ ব্যবস্থা এ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।পুলিশের কার্যক্রমকে কার্যকর রাখতে হলে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও আইনভিত্তিক দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারের নীতিগত নির্দেশনা ও প্রশাসনিক তদারকি থাকবে, তবে কোনো ব্যক্তির স্বার্থে তদন্ত পরিচালনা, মামলা প্রভাবিত করা কিংবা অপরাধীকে সুরক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশ জনগণের সেবক এবং আইনের প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী কিংবা অন্য কোনো প্রভাবশালী মহলের প্রতি আনুগত্যের পরিবর্তে সংবিধান ও প্রচলিত আইনের প্রতি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার অর্থ জবাবদিহির বাইরে রাখা নয়। বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণে পেশাগত স্বাধীনতা, আইনসম্মত ক্ষমতা প্রয়োগ, স্বচ্ছতা এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে কার্যকর জবাবদিহি এই চারটি বিষয় একসঙ্গে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।আরও পড়ুন: সত্য ও জনমানুষের কথা বলার প্রত্যয়ে আরও দূর পথপুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। আবার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সদস্য বেআইনি হামলা বা ভয়ভীতির শিকার হলে তার সুরক্ষা ও ন্যায়বিচারও নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ, পুলিশকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি তাকে জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধ দমনে পুলিশকে কার্যকর করতে হলে শুধু কঠোর বক্তব্য বা অভিযান ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ। প্রথমত, অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে ঝুঁকিভিত্তিক টহল ও নজরদারি বাড়াতে হবে। বিশেষ করে রাতে ছিনতাই, চুরি, মাদক পরিবহন ও সংঘবদ্ধ অপরাধের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে টহল পরিকল্পনা সাজানো প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, থানাভিত্তিক জনবল ও যানবাহনের সক্ষমতা পর্যালোচনা করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সদস্য, নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা, সুরক্ষাসামগ্রী এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। মব পরিস্থিতি মোকাবিলা, উত্তেজনাপূর্ণ জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, মানবাধিকার রক্ষা, তথ্য সংগ্রহ এবং আধুনিক অপরাধ তদন্তের দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন। চতুর্থত, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার জন্য টহল দল ও থানার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে। আরও পড়ুন: বনানীতে স্পা-গেস্ট হাউজ ঘিরে ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগকোথাও পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তাঝুঁকি থাকলে তা দ্রুত মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাঠানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। পঞ্চমত, অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে হবে। যাতে সাধারণ মানুষ জানতে পারেন, তার অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ষষ্ঠত, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এতে বাহিনীর অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বাড়বে এবং জনগণের আস্থাও শক্তিশালী হবে। সপ্তমত, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। তবে এ সহযোগিতা যেন কোনো গোষ্ঠীর হাতে আইন প্রয়োগের ক্ষমতা তুলে না দেয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমের দায়িত্ব শুধু অপরাধের ঘটনা প্রকাশ করা নয়; বরং ঘটনার কারণ, প্রশাসনিক পদক্ষেপ, পুলিশের সক্ষমতা এবং নাগরিক নিরাপত্তার ঘাটতিও তথ্যভিত্তিকভাবে তুলে ধরা। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যেমন অনুসন্ধান করতে হবে, তেমনি পুলিশের ওপর হামলা কিংবা দায়িত্ব পালনে বাধার ঘটনাও গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা প্রয়োজন। কোনো নির্দেশনা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পেলে সেটিকে সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া, একাধিক সূত্রে তথ্য যাচাই এবং অভিযোগ ও প্রমাণের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ নীতি। একইভাবে জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়া, গণপিটুনি কিংবা পুলিশকে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অপরাধের বিচার হবে আইন অনুযায়ী; ব্যক্তিগত প্রতিশোধ কিংবা জনতার আবেগের ভিত্তিতে নয়। জনসাধারণকেও অপরাধের তথ্য পুলিশকে জানানো, সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিষয়ে যাচাইহীন গুজব না ছড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। পুলিশের সঙ্গে জনগণের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক তৈরি হলে অপরাধ প্রতিরোধ আরও কার্যকর হতে পারে।আরও পড়ুন: হামলা-হয়রানিতে চ্যালেঞ্জে পুলিশদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে পুলিশকে মাঠপর্যায়ে আরও দক্ষ, প্রশিক্ষিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও নিরাপদ করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা, মব পরিস্থিতি, রাজনৈতিক চাপ কিংবা দায়িত্ব পালনে বাধার অভিযোগ—যে সমস্যাই সামনে আসুক, তার সমাধান হতে হবে আইন, তথ্য ও জবাবদিহির ভিত্তিতে। রাতে পুলিশ সদস্যদের চলাচল নিয়ে যে আলোচনা রয়েছে, তার প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তবে কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা যেন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বকে দুর্বল না করে, সে বিষয়েও নজর রাখতে হবে।পুলিশকে দুর্বল করে নয়, বরং পেশাগত দক্ষতা, নৈতিকতা, জনআস্থা ও জবাবদিহি বাড়িয়েই অপরাধ দমন কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে অপরাধের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।কারণ, কার্যকর পুলিশ বাহিনী ছাড়া নিরাপদ সমাজ গঠন কঠিন। আর পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় তখনই, যখন অপরাধী তার পরিচয় বা প্রভাব নির্বিশেষে আইনের আওতায় আসে এবং সাধারণ নাগরিক নির্ভয়ে নিজের অধিকার ভোগ করতে পারেন। তাই রাষ্ট্র, প্রশাসন, পুলিশ ও জনগণ—সবার সম্মিলিত দায়িত্ব হলো এমন একটি আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে পুলিশ নিরাপদে দায়িত্ব পালন করবে এবং দেশের মানুষ নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা পাবে।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

গাজীপুরে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, মাঠে ২ হাজার ৯৩১ কর্মী

গাজীপুরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমে জেলায় ১৮ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কাজে ২ হাজার ৬৬৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ২৬৬ জন সুপারভাইজারসহ মোট ২ হাজার ৯৩১ জন দায়িত্ব পালন করবেন।সোমবার গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রথম পর্যায়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১৩, ২১, ৪১ ও ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নের মোট ১০টি ওয়ার্ডে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এ পর্যায়ে ১০২ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১৩ জন সুপারভাইজার কাজ করছেন। তাঁদের মাধ্যমে ৯৪ হাজার ৪৩৮টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশেষায়িত ট্যাবলেটের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন তথ্যভান্ডারে সংরক্ষণ করা হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশব্যাপী প্রায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য এ তথ্যভান্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা হিসেবে বিতরণের জন্য নির্ধারিত। চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাইয়ে প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। আরও পড়ুন,কালীগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদযাপিতএ পদ্ধতিতে পরিবারগুলোকে পাঁচটি আর্থসামাজিক স্তরে ভাগ করে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী যোগ্য নিম্ন আয়ের নারী পরিবারপ্রধানদের উপকারভোগী হিসেবে নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে।কর্মসূচির আওতায় ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) প্রযুক্তিসংবলিত ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারের টাকাপে পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত এ কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগীরা এটিএম বুথ, পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভাতার অর্থ উত্তোলন বা ব্যবহার করতে পারবেন।তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে পরিচালনার জন্য সাইবার নিরাপত্তা, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) স্থাপনের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।তথ্য সংগ্রহের সময় পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ নারী সদস্যের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবের তথ্য প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্য সদস্যের জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদও কাছে রাখতে হবে।জরিপ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্ট পরিবারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহরিয়ার নজির, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মতিয়ার রহমান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ইলিশায় রিছিল এবং শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বাতিল

রিয়াদ বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার কারণে ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের নির্ধারিত সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আগামী ২১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক জরুরি ভ্রমণ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নম্বর BS381 ও BS382-এর সব ফ্লাইট ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে।এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট রুটের যাত্রীদের আপাতত বিমানবন্দরে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা, আরও পড়ুন, ধর্মীয় পরিচয় নয়, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রীটিকিট পুনরায় বুকিং এবং ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্ট সেলস কাউন্টার অথবা ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ফ্লাইট চলাচলসংক্রান্ত পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য যাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।রিয়াদগামী ও ঢাকা ফেরত আসার পরিকল্পনা করা যাত্রীদের ভ্রমণের আগে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যাঁদের নির্ধারিত তারিখে জরুরি ভ্রমণের প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের টিকিট ও বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা জরুরি।

ধর্মীয় পরিচয় নয়, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের যে অধিকার ও প্রাপ্য রয়েছে, তা নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব।সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়ানোর উদ্যোগসহ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে যেসব কাজ করা সম্ভব হয়েছে, সরকার তা করেছে। আরও কিছু বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা সরকারের সদিচ্ছার প্রতিফলন।দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। একইভাবে ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন।আরও পড়ুন, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের হেলথ কার্ডে অনলাইন নিবন্ধনের নির্দেশপ্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির সংকটময় সময়ে ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়নি।তাই নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয়কে বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি মত দেন।বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর মুসলমান কর্মীদের পাশাপাশি হিন্দু কর্মীরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো পার্থক্য ছিল না।তিনি আরও বলেন, মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করা তাঁর দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতার অংশ।মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন এবং বর্তমানে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন না। তাঁরা সরকারের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান।সভায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাসসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতন উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের হেলথ কার্ডে অনলাইন নিবন্ধনের নির্দেশ

সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের হেলথ কার্ড সংগ্রহের জন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, তাঁদের নির্ভরশীল ব্যক্তি, মুক্তিযোদ্ধা ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অনলাইনে নিবন্ধন এবং প্রোফাইলের তথ্য হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণক অনলাইনে আপলোড করতে হবে। পরিচয় ও তথ্য যাচাই শেষে প্রোফাইল ‘ভেরিফায়েড’ হলে হাসপাতালের নির্ধারিত কক্ষ থেকে হেলথ কার্ড সংগ্রহ করা যাবে।গত ১১ অক্টোবর জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দিয়েছে সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হেলথ কার্ড পেতে প্রথমে হাসপাতালের এইচএসএমএস (HSMS) সফটওয়্যারে অনুমোদিত প্রোফাইলের তথ্য হালনাগাদ করতে হবে। এরপর হেলথ কার্ডের নিবন্ধন ফরম ডাউনলোড করে পূরণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণক আপলোড করতে হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তথ্য যাচাই করে প্রোফাইলের অবস্থা ‘ভেরিফায়েড’ হিসেবে হালনাগাদ করলে যেকোনো কর্মদিবসে নির্ধারিত কক্ষ থেকে কার্ড সংগ্রহ করা যাবে।নতুন রোগীদের নিবন্ধনপ্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। আরও পড়ুন, পলাশ হত্যা মামলা: সাবেক এমপির ছেলে মঈনউদ্দিনকে গ্রেফতার দেখালেন আদালতএ জন্য হাসপাতালের ওয়েবসাইট www.skh.gov.bd-এর ‘আমার প্রোফাইল’ অপশন ব্যবহার করতে হবে। অনলাইনে নিবন্ধনের পর প্রয়োজনীয় প্রমাণক ও মূল কাগজপত্রসহ হাসপাতালের ৪২৪ ও ৪২৫ নম্বর কক্ষে যোগাযোগ করতে হবে। সেখানে নিবন্ধন অনুমোদনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে।বিজ্ঞপ্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ক্ষেত্রে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হাসপাতালের এইচএসএমএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। কোনো রোগী পরপর দুবার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে অনুপস্থিত থাকলে এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল না করলে তাঁর ইউজার আইডি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। ফলে ওই আইডি ব্যবহার করে নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া সম্ভব হবে না।এ ছাড়া পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেখানোর জন্য রিপোর্ট কাউন্টার থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যাবে।নিবন্ধন, প্রোফাইল হালনাগাদ ও অন্যান্য বিষয়ে সহায়তার জন্য হাসপাতালের আইটি তথ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

রাজনীতিরাজনীতি

বাংলাদেশ-স্পেন সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব, স্পেনের রাজাকে জামায়াত আমিরের শুভেচ্ছাপত্র

বাংলাদেশ-স্পেন সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব, স্পেনের রাজাকে জামায়াত আমিরের শুভেচ্ছাপত্র

স্পেনের জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ সময় স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপের উদ্দেশে জামায়াতের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের পাঠানো শুভেচ্ছাপত্র ঢাকায় নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রুর হাতে হস্তান্তর করেন তিনি। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরাটন ঢাকা হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে স্পেন দূতাবাসের আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন। স্পেনের রাজাকে পাঠানো শুভেচ্ছাপত্রে ডা. শফিকুর রহমান দেশটির জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ, রাজপরিবার, সরকার ও স্পেনের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি স্পেনের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। আরও পড়ুন,জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বিচার চেয়ে বাসার সামনে মিছিলশুভেচ্ছাপত্রে বাংলাদেশ ও স্পেনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, সংস্কৃতি, শিক্ষা, অভিবাসন ও পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।চিঠিতে স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবদানের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রবাসীরা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন ও পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন—এ বিষয়টি শুভেচ্ছাবার্তায় স্থান পেয়েছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ ও মোবারক হোসাইন এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন। কূটনৈতিক সৌজন্য বিনিময়ের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও স্পেনের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের প্রত্যাশা তুলে ধরা হয়েছে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বিচার চেয়ে বাসার সামনে মিছিল

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বিচার চেয়ে বাসার সামনে মিছিল

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় তাঁর বাসার সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন একদল আন্দোলনকারী। ‘স্বৈরাচারবিরোধী সাধারণ জনগণ’ ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় ছাত্র-জনতা ও সাধারণ নাগরিকেরা অংশ নেন।বিক্ষোভকারীরা জি এম কাদেরের বাসার সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাঁর বিচার দাবি করেন। এ সময় তাঁদের বহন করা ব্যানারে কারাগারে বন্দি অবস্থায় জি এম কাদেরের প্রতিকৃতি তুলে ধরা হয়।ব্যানারে লেখা ছিল, ‘জুলাইয়ের শহিদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করে ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ; জি এম কাদেরের গ্রেপ্তার চাই’ এবং ‘ফ্যাসিবাদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’।আরও  পড়ুন, ২৩ অক্টোবর থেকে সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগে নামছে এনসিপিবিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরও জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রক্ষা করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, অতীতের তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টি তৎকালীন সরকারকে রাজনৈতিক বৈধতা দেওয়ার ভূমিকা পালন করেছিল। তাঁদের দাবি, নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।কর্মসূচি থেকে বিক্ষোভকারীরা জি এম কাদেরকে আইনের আওতায় এনে অভিযোগ তদন্ত ও বিচারের মুখোমুখি করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।এ বিষয়ে জি এম কাদের বা জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।

২৩ অক্টোবর থেকে সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগে নামছে এনসিপি

২৩ অক্টোবর থেকে সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগে নামছে এনসিপি

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জননিরাপত্তা, নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির প্রতিবাদে সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৩ অক্টোবর থেকে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ করবে দলটি। এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। দলের শীর্ষ নেতারাও এতে অংশ নেবেন। আগামী ৩০ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবেন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এনসিপির নেতাকর্মীরা।রোববার (১১ অক্টোবর) দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে দলের মিডিয়া সেলের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন নাহিদ ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন।আরও  পড়ুন, জ্বালানি সংকটে পোশাকশিল্পের উৎপাদন ব্যয় তিনগুণ বেড়েছে: মামুনুল হকসভায় আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে কাজ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে এনসিপি ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। দলের শীর্ষ নেতারা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার পূজামণ্ডপে যাবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।এদিকে, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির পুনর্গঠন ও দায়িত্ব বণ্টনের কাজ চূড়ান্ত হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। ১৩ অক্টোবরের মধ্যে পুনর্গঠিত কমিটি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আগামী সপ্তাহে আরও ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা তৈরির কাজও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।ঘোষিত কর্মসূচির মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় ইস্যুতে দলীয় অবস্থান তুলে ধরতে চায় এনসিপি।

জ্বালানি সংকটে পোশাকশিল্পের উৎপাদন ব্যয় তিনগুণ বেড়েছে: মামুনুল হক

জ্বালানি সংকটে পোশাকশিল্পের উৎপাদন ব্যয় তিনগুণ বেড়েছে: মামুনুল হক

দেশে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে একের পর এক কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তাঁর দাবি, বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের কারণে তৈরি পোশাকশিল্পে উৎপাদন ব্যয় প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। এ পরিস্থিতি দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রতিযোগিতার সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ২টায় সিলেটের জকিগঞ্জ পৌর শহরের মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জকিগঞ্জ উপজেলা শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।মামুনুল হক বলেন, দেশে জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদনমুখী ও রপ্তানিমুখী শিল্প খাত মারাত্মক চাপে রয়েছে। তৈরি পোশাকশিল্প বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান খাত। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। কিন্তু জ্বালানি সংকটে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে উৎপাদনের পরিমাণ কমছে বলে তিনি দাবি করেন।আরও  পড়ুন, আইনশৃঙ্খলা ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে সরকারের সমালোচনায় গোলাম পরওয়ারসরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, দেশে দলীয়করণ ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষও চাপে পড়ছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অর্থনীতি ও শিল্প খাতে আরও সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।জুলাই আন্দোলন, রাষ্ট্র সংস্কার ও গণভোটের রায় প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন ছিল না; বরং বৈষম্যহীন ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গঠন ছিল এর অন্যতম প্রত্যাশা। এ লক্ষ্য অর্জনে রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।সমাবেশে আগামী জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে সিলেট জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা হাবিব আহমদ শিহাবের নাম ঘোষণা করেন তিনি।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জকিগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শায়খ মোস্তফা আহমদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আফসার জিহাদির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। এ সময় সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা

সবুজ পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়ে জবিতে গ্রীন ভয়েসের নবীনবরণ

সবুজ পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়ে জবিতে গ্রীন ভয়েসের নবীনবরণ

সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ, নদীদূষণ রোধ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) পরিবেশবাদী যুব সংগঠন গ্রীন ভয়েসের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সেমিনার কক্ষে ‘শরতের শুভ্র ছোঁয়ায়, নবীনবরণ সবুজের মায়ায়’ প্রতিপাদ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংগঠনটির জবি শাখা। ‘শরতের শুভ্র ছোঁয়ায়, নবীনবরণ সবুজের মায়ায়’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নদীদূষণ প্রতিরোধ এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে তরুণদের করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। গ্রীন ভয়েস জবি শাখার সভাপতি নাজনীন আক্তার বৃষ্টির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনটির উপদেষ্টা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাজমুন নাহার এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মনিরা জাহান।  অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য রাকিবুজ্জামান লিখন ও তাসনীম আরা রিফা। অনুষ্ঠানে তরুণদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার গুরুত্ব তুলে ধরে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি রাশেদুজ্জামান লিমন বলেন, "পরিবর্তনের সূচনা হোক নিজের ঘর থেকেই। গ্রীন ভয়েস শুধু পরিবেশ নিয়ে কাজ করে না, এটি একটি পরিবেশবাদী যুব আন্দোলন। এখানে কাজের মাধ্যমে তরুণেরা নেতৃত্ব, দক্ষতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা অর্জনের সুযোগ পান।"আরোও পড়ুন,কিশোর গ্যাং থেকে চোর-ছিনতাইকারী কক্সবাজার সদর থানার অভিযানে আটক ২১ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সংগঠনটির উপদেষ্টা ড. নাজমুন নাহার বলেন, "বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো বড় সমস্যা এককভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য সুশাসনের প্রতিটি স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন। পরিবেশ রক্ষায় ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সচেতন করতে হবে। এ লক্ষ্যে স্কুলপর্যায়ে প্রামাণ্যচিত্র ও সচেতনতামূলক ভিডিও তৈরিসহ তরুণদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।" পরিবেশ আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে গ্রীন ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির বলেন, "দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সেই চেতনা থেকেই তরুণদের পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। বুড়িগঙ্গাসহ নদীগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায়ও তরুণদের ভূমিকা রাখতে হবে।" এ সময় পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে গ্রীন ভয়েস জবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. শিমুল মোড়ল বলেন, "গ্রীন ভয়েস শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়; এটি একটি চিন্তা, একটি দায়িত্ব এবং সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়। আমরা চাই, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আরও সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশসচেতন ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে উঠুক।" অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ গ্রীন ভয়েসের সাবেক ও বর্তমান নেতারা অংশ নেন।

কিশোর গ্যাং থেকে চোর-ছিনতাইকারী কক্সবাজার সদর থানার অভিযানে আটক ২১

কিশোর গ্যাং থেকে চোর-ছিনতাইকারী কক্সবাজার সদর থানার অভিযানে আটক ২১

গত ২৪ ঘন্টায় কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ কক্সবাজার পৌরসভা ও ইউনিয়ন এলাকায় চোর/ ছিনতাইকারী গ্রেফতার করার লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করিয়া সর্ব মোট ২১ জন আসামী গ্রেফতার করা হয়। কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে কক্সবাজার পৌরসভা ও ইউনিয়ন এলাকা হইতে ০১ জন মাদক সেবনকারী, ১৯ জন ধর্তব্য অপরাধে, ০১ জন ওয়ারেন্ট মূলে আসামীসহ সর্ব মোট ২১ জন আসামী গ্রেফতার।গ্রেফতারকৃত আসামীদের নাম-ঠিকানাঃ  (ক) মাদক সেবনকারীঃমোঃ রাসিব (২৪), পিতা- শাহ আলম, মাতা-জুসনা বেগম, সাং-বখতিয়ার ঘোনা, ১নং ওয়ার্ড, ঝিলংজা ইউপি, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।(খ) ধর্তব্য অপরাধেঃ আসিফুল আলম (২০), পিতা- বদিউল আলম, মাতা- কমরুন্নাহার, সাং- মাইজপাড়া ৩নং ওয়ার্ড, থানা-ঈদগাহ, জেলা-কক্সবাজার।শফিউল কামাল (২৩), পিতা-আবুল কালাম, মাতা- মৃত তরিকা বেগম, সাং-মাদুয়াখালি, সিকদারপাড়া, থানা- ঈদগাহ, জেলা- কক্সবাজার।তৌহিদুল ঈসলাম (১৯), পিতা- শহীদুল আলম, মাতা-খতিজা বেগম, সাং-১২নং ওয়ার্ড, সৈকতপাড়া, কক্সবাজার পৌরসভা, থানা- কক্সবাজার সদর, জেলা- কক্সবাজার।মোঃ জসিম উদ্দীন (১৯), পিতা- মোরশেদ আলম, মাতা- ছালমা আকতার, সাং-বাদশাঘোনা, ৯নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার।আকিব হাসান (১৯), পিতা- মোঃ রমজান আলী, মাতা- আয়েশা বেগম, সাং- দক্ষিণ রুমালিয়াছড়া, ৭নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, থানা- কক্সবাজার সদর, জেলা- কক্সবাজার।মোঃ সালাহ উদ্দীন (২৩), পিতা- শাহজাহান, মাতা-খতিজা বেগম, সাং-কুতুবপুর, ৬নং ওয়ার্ড, বটতলা, থানা-বেগমগঞ্জ, জেলা- নোয়াখালী।মোঃ শরিফ (২৬), পিতা- আলী আহম্মদ, মাতা-রাজিয়া বেগম, সাং-সমিতিপাড়া, ১নং ওয়ার্ড, পৌরসভা কক্সবাজার, থানা- কক্সবাজার সদর, জেলা- কক্সবাজার।আরো পড়ুন,তিন জেলায় সরাসরি কৃষকের ধান কিনবে সরকারজামাল হোসেন রনি (২০), পিতা- আব্দুর শুক্কুর, মাতা-রশিদা খাতুন, সাং-২নং ওয়ার্ড, কলাতলী, পৌরসভা কক্সবাজার, থানা- কক্সবাজার সদর, জেলা- কক্সবাজার।মোঃ রফিক (৩৫), পিতা-মৃত জমির মাঝি, মাতা- লায়লা বেগম, সাং-চন্দ্রিমা মাঠ, ১নং ওয়ার্ড, ঝিলংঝা,  থানা- কক্সবাজার সদর, জেলা- কক্সবাজার।মোঃ ফয়সাল (২৩), পিতা-মোঃ সিরাজ, মাতা- শামসুর নাহার, সাং-দরিয়ানগর, ১২নং ওয়ার্ড, পৌরসভা কক্সবাজার, থানা- কক্সবাজার সদর, জেলা- কক্সবাজার।হামিদুর রহমান ৥ জুবায়ের (৪০), পিতা-আব্দুল জব্বার, সাং-বৈদ্যঘোনা, থানা- কক্সবাজার সদর, জেলা- কক্সবাজার।ফরিদুল আলম (৩৫), পিতা- নুরুল হক, সাং-নুনিয়ারছড়া পানিরকুপ পাড়া, ২নং ওয়ার্ড, ২নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।আরিফুল ইসলাম (২৪), পিতা-আতাউর রহমান, মাতা-রাশেদা বেগম, সাং-ডরমন্ডল (ধর্মগুল) গ্রাম, থানা-নাসিরনগর, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া।শামছুল আলম (২৭), পিতা-বদরুল আলম, মাতা-মনোয়ারা বেগম, সাং-৬নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।মোঃ ইমন (২০), পিতা-দেলোয়ার হোসেন, মাতা-রুবি আক্তার, সাং- পূর্ব লারপাড়া, ১নং ওয়ার্ড, ঝিলংজা ইউপি, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।তারেকুল ইসলাম (২০), পিতা-শাহ আলম, মাতা-বুলবুল আক্তার, সাং-ঝাউতলা গাড়ির মাঠ, ২নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।আশরাফুল (১৯), পিতা-মোঃ আলা উদ্দিন, মাতা-মিনু আরা বেগম, সাং-উত্তর নুনিয়ারছড়া, ২নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।সুজন হরিজন (২২), পিতা- ভারত হরিজন, মাতা- রেখা হরিজন, সাং- পূর্ব আইবিপি মাঠ, ১০নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, থানা- কক্সবাজার সদর, জেলা- কক্সবাজার।রিয়াজ উদ্দিন রাজু (২০), পিতা- মনির আহম্মদ, মাতা- সালমা খাতুন, সাং- বড় ছনখোলা, ০৫ নং ওয়ার্ড, ০৩ নং ফাসিয়াখালী ইউপি, থানা- লামা, জেলা- বান্দরবান।আরো পড়ুন,কালীগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদযাপিতপিসি/পিআর৯নং আসামী মোঃ রফিক (৩৫) এর বিরুদ্ধেকক্সবাজার সদর থানার ,এফআইআর নং-১৭, তারিখ- ০৭ জুলাই, ২০২৪; জি আর নং-৪৬০, তারিখ- ০৭ জুলাই, ২০২৪; সময়- ২২.৪০ ঘটিকা ধারা- ৩৬(১) সারণির ১৯(ক), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮;  ১০ নং আসামী মোঃ ফয়সাল (২৩),কক্সবাজার সদর থানার ,এফআইআর নং-২১, তারিখ- ১২ ডিসেম্বর, ২০২২; জি আর নং-৭৬২, তারিখ- ১২ ডিসেম্বর, ২০২২; সময়- ২০.১৫ ঘটিকা ধারা- ৯(১)/৩০, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,২০০০ ( সংশোধনী ২০০৩); , (গ) ওয়ারেন্টঃমোঃ আরমান (২1), পিতা-আবদুর রহমান, সাং-ফদনার ডেইল, ১নং ওয়ার্ড, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার। বর্তমান- খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্প, কোরাল বিল্ডিং, ২০২নং, ৬নং ওয়ার্ড, খুরুশকুল ইউপি, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার। কক্সবাজার সদর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মোহাম্মদ আলী জানান আমাদের এই অভিযান চলমান থাকবে। তিনি আরও জানান যে-কোন মূল্যে অপরাধীদের দমন করা। যাতে তারা কোনভাবে অপরাধ সংগঠিত করতে না পারে সব সময় এই বিষয় গুলো নিয়ে তৎপরতা রয়েছে। আপরাধীরা কোন অপরাধ করলে তাদের সাথে সাথে আমরা চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সকল কৌশল আমরা অবলম্বন করছি।অপরাধীরা যতবড় শক্তিশালী হোকনা কেন আমরা তাদের ছাড় দিচ্ছি না। আমরা অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হচ্ছি।তিনি এই বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

কালীগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদযাপিত

কালীগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদযাপিত

গাজীপুরের কালীগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ​সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা কনফারেন্স রুমে গিয়ে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়। ​উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ. টি. এম কামরুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন: ​মো. হাসিবুল হাসান, উপজেলা কৃষি অফিসার, কালীগঞ্জ। ​সোহা তামান্না, উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা। ​আরও পড়ুন,তিন জেলায় সরাসরি কৃষকের ধান কিনবে সরকারউপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। ​অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুচারুভাবে সঞ্চালনা করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মীর তারিন বাশার লিমা। ​আয়োজনে ‘শিশু মেলা স্কুল’-এর শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি পুরো অনুষ্ঠানকে এক আনন্দমুখর পরিবেশ ও ভিন্ন মাত্রা দান করে। ​আলোচনা সভায় বক্তারা কন্যা শিশুদের অধিকার সুরক্ষা, সুশিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং সমাজ থেকে বাল্যবিয়ে রোধে সর্বস্তরে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

তিন জেলায় সরাসরি কৃষকের ধান কিনবে সরকার

তিন জেলায় সরাসরি কৃষকের ধান কিনবে সরকার

 কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ধান কেনাবেচায় মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমিয়ে উৎপাদনকারীদের সরাসরি সরকারি ক্রয় কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দেশের তিনটি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে নতুন এ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্যোগটি কার্যকর ও সফল প্রমাণিত হলে ধাপে ধাপে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সরকারের এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন খাদ্যমন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম। জেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। খাদ্যমন্ত্রী জানান, কৃষকের শ্রমে উৎপাদিত ধানের প্রকৃত মূল্য যাতে কৃষকের হাতেই পৌঁছায়, সেটিই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। প্রচলিত সংগ্রহব্যবস্থায় কৃষকদের যেসব প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়, সেগুলো নিরসন করে সরকারি ক্রয় কার্যক্রমকে আরও সহজ ও কৃষকবান্ধব করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সরবরাহের ক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাব খোলা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং অর্থ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা অনেক কৃষকের জন্য অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প অর্থ পরিশোধব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কৃষকের প্রাপ্য অর্থ সহজে পৌঁছে দিতে বিকাশের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার ব্যবহার করা যায় কি না, সে বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তবে এ পদ্ধতি চালুর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।আরও পড়ুন,সিলেট জেলা পুলিশের কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিতসভায় তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে কৃষকের উৎপাদিত ফসলের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্যের প্রাপ্যতা বজায় রাখা। এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের পেশাগত সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী রাখতে সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত চাল ও গম সংরক্ষণের পাশাপাশি মজুতকৃত খাদ্যশস্যের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস কিংবা বিদেশ থেকে আমদানি যেখান থেকেই খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হোক না কেন, নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। গুণগত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নয়, এমন খাদ্যশস্য সরকারি সংগ্রহব্যবস্থায় গ্রহণ করা যাবে না। খাদ্যশস্যের মান যাচাই, গুদাম ব্যবস্থাপনা এবং বিতরণ কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি। একই সঙ্গে খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিটি কার্যক্রমে নিয়ম অনুসরণ ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। সরকারি খাদ্যশস্য বিতরণব্যবস্থাকে আরও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে প্রতিটি প্যাকেটে নির্ধারিত সিল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন খাদ্যমন্ত্রী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, খাদ্যশস্যের প্যাকেটে নির্দিষ্ট সিল থাকলে বিতরণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও অনিয়মের উৎস শনাক্ত করা সহজ হবে। পাশাপাশি কোনো পর্যায়ে অনিয়ম ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এ ব্যবস্থা সহায়ক হতে পারে। আরও পড়ুন,লামা পৌরসভা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণাখাদ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে সংরক্ষণ ও বিতরণের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। খাদ্যপণ্যে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও সভায় উঠে আসে। খাদ্যমন্ত্রী জানান, খাদ্যের নিরাপত্তা যাচাই কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে ভবিষ্যতে দেশের ৬৪টি জেলায় পরীক্ষার কাজে ব্যবহারের উপযোগী যানবাহন সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্য পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে পরিকল্পনাটির বাস্তবায়নকাল বা নির্দিষ্ট কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে সভায় বিস্তারিত জানানো হয়নি। খাদ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য। কৃষকদের সরকারি সেবা গ্রহণের পথ সহজ করা, সংগৃহীত খাদ্যশস্যের মান বজায় রাখা এবং বিতরণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মু. জসীম উদ্দিন খান এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন। সভায় খাদ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ, মজুত ব্যবস্থাপনা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং বিতরণ কার্যক্রমের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পায়। কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সরকারি সংগ্রহব্যবস্থায় উৎপাদনকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের ফলাফল, কৃষকদের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া কতটা সহজ হয় এবং অর্থ পরিশোধে কতটা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়, তার ওপরই উদ্যোগটির কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করবে।

আন্তর্জাতিক

ডিএসইতে বড় দরপতন, প্রধান সূচক কমেছে ৪৬ পয়েন্ট

ডিএসইতে বড় দরপতন, প্রধান সূচক কমেছে ৪৬ পয়েন্ট

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে প্রধান মূল্যসূচকসহ অন্যান্য সূচক। সোমবার (১২ অক্টোবর) দিন শেষে ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫২ কোটি ৮১ লাখ টাকা।ডিএসইর বাজার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দিনটিতে ৩৮৫টি কোম্পানির ১৬ কোটি ৭৭ লাখ ৯৮ হাজার ১৩৭টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৪৬ দশমিক ১৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪০৪ দশমিক ৮৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএস-৩০ সূচক ৮ দশমিক ৯১ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯৪ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে নেমেছে। এ ছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৯ দশমিক ৬২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭০ দশমিক ৬৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩০৩টির শেয়ারদর কমেছে। বিপরীতে ৪৭টির দর বেড়েছে এবং ৩৫টি কোম্পানির শেয়ারদর অপরিবর্তিত ছিল। আরও পড়ুন,ফ্রান্সের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গুলির ঘটনায় ১৪ বছরের শিক্ষার্থী গ্রেপ্তারঅর্থাৎ দিনটিতে দরপতনের পাল্লাই ছিল ভারী। টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় রয়েছে ইভিন্স টেক্সটাইল, বেক্সিমকো, সোনালী আঁশ, সায়হাম টেক্সটাইল, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, আইপিডিসি, ব্র্যাক ব্যাংক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং ও এমএল ডাইং। অন্যদিকে দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক, জিবিবি পাওয়ার, প্রাইম টেক্সটাইল, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, এমএল ডাইং, বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডস, ২০ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সরকারি ট্রেজারি বন্ড, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও সোনালী আঁশ। তবে দরপতনের শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে এমবিএল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, ফিনিক্স ফাইন্যান্স প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামী মিউচুয়াল ফান্ড, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, আইসিবি এএমসিএল সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, আইসিবি, সিকদার ইন্স্যুরেন্স, বিডি থাই ফুড ও টেকনো ড্রাগস। সব মিলিয়ে সোমবারের লেনদেনে ডিএসইতে শেয়ারদর ও মূল্যসূচকে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে বাজারের এই দরপতনের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে সরবরাহ করা তথ্যে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

১০ ঘন্টা আগে

রাজধানী

দুপুর পর্যন্ত ঢাকায় বৃষ্টির আভাস নেই, রাতে বাড়তে পারে তাপমাত্রা

দুপুর পর্যন্ত ঢাকায় বৃষ্টির আভাস নেই, রাতে বাড়তে পারে তাপমাত্রা

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আজ সোমবার দুপুরের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। দিনের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। তবে রাতে তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।সোমবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময় আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। তবে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।আরও পড়ুন, জীবিকার সুরক্ষা চান ব্যাটারিচালিত যানবাহনের শ্রমিকেরাআবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। ফলে রাতে গরমের অনুভূতি কিছুটা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।এদিকে, সোমবার সকাল ৬টায় রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৬৬ শতাংশ।আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতিতে দিনের বেলায় বাইরে চলাচলের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী সতর্কতা অবলম্বন করা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

১৯ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৫ জন

খেলাধুলা

টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর

টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর

মায সাদাকাত ও শাহিবজাদা ফারহানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৩ উইকেটে ২১৫ রানের বড় সংগ্রহ গড়েছে পাকিস্তান। ঝোড়ো ইনিংস খেলেও মাত্র ৪ রানের জন্য সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তরুণ ব্যাটার মায সাদাকাত।রোববার রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান। শুরুটা ভালো করেন দুই ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান। উদ্বোধনী জুটিতে ৪১ বলে ৫৫ রান যোগ করেন তারা। ফখর জামান ১৭ বলে চারটি বাউন্ডারির সাহায্যে ২২ রান করে আউট হন।এরপর মায সাদাকাতকে নিয়ে শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর চড়াও হন ফারহান। দ্বিতীয় উইকেটে ৪৯ বলে ৮৮ রানের জুটি গড়েন দুজন। নিজের ক্যারিয়ারের ৫০তম ম্যাচে দ্বাদশ ফিফটি তুলে নেন ফারহান। ৪৪ বলে চারটি চার ও পাঁচটি ছক্কায় ৭৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।আরও  পড়ুন, শেষ ম্যাচে ফিলিপাইনের কাছে হার, এশিয়ান কাপের স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশেরশেষ দিকে হাসান নওয়াজকে সঙ্গে নিয়ে রানের গতি আরও বাড়ান সাদাকাত। তৃতীয় উইকেটে ৩১ বলে ৭২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ার পথে ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত ব্যাট করেন তিনি। শেষ বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার চেষ্টা করলেও ক্যাচ তুলে দেন এই তরুণ ব্যাটার। ৫১ বলে ছয়টি চার ও সাতটি ছক্কায় ৯৬ রান করেন তিনি।চলতি মাসেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় সাদাকাতের। এর আগে আগের ম্যাচে ২৯ বলে ৫০ রান করে দলের জয়ে অবদান রেখেছিলেন তিনি। এশিয়ান গেমসে ভারতের বিপক্ষে ১৮ বলে ২৩ রানও করেন এই তরুণ।প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের ২১৫ রান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। এর আগে ২০২১ সালের ১৬ জুলাই নটিংহ্যামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ছয় উইকেটে ২৩২ রান করেছিল পাকিস্তান।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!