দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

শীতের আগমনী বার্তা, প্রস্তুত হচ্ছে যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড়

শীতের আগমনী বার্তা, প্রস্তুত হচ্ছে যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড়

শীতের হিমেল হাওয়া আর ভোরের কুয়াশার অপেক্ষায় বৃহত্তর যশোরের গাছিরা, রস সংগ্রহ ও খেজুরের গুড় তৈরির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে উঠবে গ্রামবাংলা। শীত আসতে আর বেশি দেরি নেই। প্রকৃতিতে বইতে শুরু করেছে শীতের আগমনী বার্তা। আর শীতের কথা মনে এলেই বাঙালির মনে ভেসে ওঠে খেজুরের রস, টাটকা পাটালি গুড়, ঝোলা গুড় আর খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি নানা রকম পিঠাপুলির ছবি। বিশেষ করে বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড়ের স্বাদ যেন শীতের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়। শীতের মৌসুমে বৃহত্তর যশোরের গ্রামাঞ্চলে খেজুরগাছকে ঘিরে শুরু হয় এক চিরচেনা কর্মযজ্ঞ। গাছিরা খেজুরগাছের পরিচর্যা, গাছের মাথা পরিষ্কার করা এবং রস সংগ্রহের উপযোগী করে তোলার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সন্ধ্যার পর গাছের সঙ্গে বাঁধা হয় মাটির হাঁড়ি, আর রাতভর সেই হাঁড়িতে জমতে থাকে মিষ্টি রস।ভোরের আলো ফোটার আগেই গাছিরা গাছ থেকে হাঁড়ি নামিয়ে সংগ্রহ করেন টাটকা খেজুরের রস। গ্রামের পথ ধরে রস নিয়ে ফেরার সেই দৃশ্য শীতের গ্রামীণ জীবনের এক অনন্য সৌন্দর্য। কোথাও রস পান করার ধুম, কোথাও আবার রস জ্বাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু গুড়।বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের খেজুরের গুড়ের রয়েছে দীর্ঘদিনের সুনাম। ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে খেজুরের রস জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় নানা ধরনের গুড়। এর মধ্যে পাটালি গুড়, ঝোলা গুড় ও দানাদার গুড়ের কদর রয়েছে মানুষের কাছে। রস জ্বাল দেওয়ার সময় ছড়িয়ে পড়া মিষ্টি সুবাস যেন শীতের গ্রামের পরিবেশকে অন্য রকম মায়ায় ভরিয়ে তোলে।আরোও পড়ুন,মব আতঙ্ক ও আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জএই গুড় শুধু একটি খাদ্যপণ্য নয়; এটি এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শীতের সকালে খেজুরের রস, আর পিঠা-পায়েসে খেজুরের গুড়—এ যেন বাঙালির চিরন্তন শীতকালীন উৎসব। শীতের সঙ্গে বাঙালির পিঠাপুলির সম্পর্ক বহু পুরোনো। খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, পাটিসাপটা, পায়েস ও ক্ষীরের স্বাদে মুগ্ধ হন সব বয়সের মানুষ। শহরে বসবাস করা অনেক মানুষও শীতের শুরুতে গ্রামের বাড়ির খাঁটি খেজুরের গুড়ের জন্য অপেক্ষা করেন। এ সময় বাজারে খেজুরের গুড়ের চাহিদা বাড়ে। ফলে গাছি ও গুড় প্রস্তুতকারকদের জন্য এটি হয়ে ওঠে বাড়তি আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌসুম। তবে ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ গুড় নিশ্চিত করতে উৎপাদক ও ক্রেতা—উভয়কেই সচেতন থাকতে হবে। খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরি করা সহজ কাজ নয়। প্রচণ্ড ঠান্ডায় ভোরে উঠে কাজ করা, গাছে ওঠা, রস সংগ্রহ এবং দীর্ঘ সময় ধরে চুলায় রস জ্বাল দেওয়ার প্রতিটি ধাপেই রয়েছে শ্রম ও দক্ষতা। এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু পরিবারের জীবিকা। তাই বৃহত্তর যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড়ের সুনাম ধরে রাখতে গাছিদের যথাযথ মূল্য দেওয়া, নিরাপদ উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং খেজুরগাছ সংরক্ষণ করা জরুরি। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে এই লোকজ ঐতিহ্য তুলে ধরাও সময়ের দাবি।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

সংসদ সচিবালয়ে ১৬ পদে দ্রুত নিয়োগের সুপারিশ

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ১৬টি শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠানোর সুপারিশ করেছে জনবল-সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে গঠিত কমিটি। একই সঙ্গে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শূন্যপদে নিয়োগের জন্য আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সভায় সংসদ সচিবালয়ের সরাসরি নিয়োগযোগ্য শূন্যপদগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির ১৫টি এবং দ্বিতীয় শ্রেণির একটি পদে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার সুপারিশ করা হয়েছে। এসব পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে পিএসসির চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। আরোও পড়ুন,তিন অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানএ ছাড়া আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ৮৬ জনের নিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয়ও সভায় আলোচনায় আসে। সংশ্লিষ্ট পদগুলো সংরক্ষিত রেখে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার সুপারিশ করেছে কমিটি। সভায় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন, দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জনবল ব্যবস্থাপনার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়। কমিটির সভায় সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কাজী রফিকুল ইসলাম, মো. সেলিম রেজা, মো. মাহবুবুল আলম এবং মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার। এ ছাড়া কমিটির সভাপতির বিশেষ আমন্ত্রণে হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) সভায় অংশ নেন। সভায় আরও জানানো হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর গঠিত এ-সংক্রান্ত কমিটিটি ১৪ অক্টোবর ২০২৬ থেকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিন অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রত্যেকের জীবনেই রয়েছে সংগ্রাম, বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার গল্প। কেউ বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে বেছে নিয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, কেউ দুই হাত না থাকলেও প্রতিষ্ঠা করেছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবার কেউ নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে লাগিয়েছেন হাজার হাজার গাছ। সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা এমন তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান। সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন নায়লা শারাফ, মো. আলতাফ হোসেন ও রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের জীবনসংগ্রাম, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এবং মানুষের জন্য পরিচালিত কর্মকাণ্ডের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’ তিনজনের মধ্যে নায়লা শারাফের পথচলাটি বেশ ব্যতিক্রমী। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। আরোও পড়ুন,পল্লবীতে ‘ফোর স্টার’ গ্যাংয়ের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার পিস্তল-ইয়াবাপরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন তিনি। গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন নায়লা। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজেই তৈরি করেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট। অন্যদিকে, নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন জন্ম থেকেই দুই হাতবিহীন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল। নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়টিতে কর্মরত রয়েছেন ১০ জন শিক্ষক। আলতাফ হোসেনের জীবনসংগ্রাম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এ ছাড়া ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল প্রায় তিন দশক ধরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি। পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন এবং সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তাদের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

পল্লবীতে ‘ফোর স্টার’ গ্যাংয়ের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার পিস্তল-ইয়াবা

রাজধানীর পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে কিশোর গ্যাং ‘ফোর স্টার’-এর আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৪। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড তাজা গুলি, দেশীয় অস্ত্র, ২৫ পিস ইয়াবা এবং নগদ ১৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে পল্লবী থানার সিরামিকস ও ১২ নম্বর ঝিলপাড় এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. জুয়েল রানা, মো. সায়মন, মো. রমজান, মো. বিজয়, মো. ফজলে রাব্বি চিকু, মো. আফসার হোসেন জিম, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং মো. মিশন ইসলাম ওরফে মিনহাজুল ইসলাম। তাদের বয়স ১৯ থেকে ২৬ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বয়স ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। এসআরবি-৪ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় ‘ফোর স্টার’ গ্রুপের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্রের মহড়া ও সংঘর্ষের ভিডিও প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল। প্রাথমিক অনুসন্ধানে গ্রুপটির সদস্যদের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ব্ল্যাকমেইলিং এবং মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আরোও পড়ুন,দেশ গঠনে মানবিক ও অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষের প্রয়োজন: প্রধানমন্ত্রীমশিউর, মামুন ও মোক্তার নামের কয়েকজনের হয়ে তারা এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের একপর্যায়ে পল্লবীর ১৭/এ নম্বর সড়কের ২৯ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আফসার হোসেন জিম ও সায়মনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও এক রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তারা গ্রুপটির সক্রিয় অস্ত্রধারী সদস্য হিসেবে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছ থেকে ২৫ পিস ইয়াবা ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি স্থানীয় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আগেও দুটি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার বিজয়, রমজান, ফজলে রাব্বি চিকু ও মিশন ইসলামের বিরুদ্ধে চুরি, দস্যুতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

দেশ গঠনে মানবিক ও অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষের প্রয়োজন: প্রধানমন্ত্রী

দেশ গঠনে অনুপ্রেরণাদায়ী ও মানবিক কাজে যুক্ত মানুষের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের কাজ সমাজের অন্যদেরও ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করবে বলে এমন বক্তব্যের মাধ্যমে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।তবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষাপট, আরও  পড়ুন, এলপিজি ব্যবসায়ীদের দুই দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার, ২৯ অক্টোবর গণশুনানিতিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির নাম-পরিচয় এবং তাঁরা কী ধরনের কাজের জন্য আলোচনায় এসেছেন এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য শিরোনামের সঙ্গে দেওয়া হয়নি।ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরির জন্য প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল সংবাদ, তিন ব্যক্তির পরিচয় এবং তাঁদের কাজের বিবরণ প্রয়োজন।

রাজনীতিরাজনীতি

নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশ

নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশ

জনপ্রশাসনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নাগরিক সেবার মান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটি। রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।\ বৈঠকে কমিটির সভাপতি সাঈদ আহমেদ বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আইনগত, প্রশাসনিক কিংবা বাস্তব কোনো বাধা থাকলে তা কমিটির সামনে তুলে ধরতে হবে। কোনো তথ্য গোপন না করে প্রয়োজনীয় নথি, প্রাসঙ্গিক তথ্য এবং বাস্তব পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করতে হবে। তিনি নাগরিক সেবা সহজ ও দ্রুত করার পাশাপাশি জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। আরোও পড়ুন,নো চাঁদাবাজি, নো দখল, নো সন্ত্রাসী’ বরগুনায় চিফ হুইপতাঁর মতে, ডিজিটাল সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে নাগরিকদের সময়, অর্থ ও শ্রম সাশ্রয় করা সম্ভব। এ জন্য সেবাপ্রদানে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সাঈদ আহমেদ বলেন, সমস্যা সমাধানে প্রচলিত ধ্যানধারণা থেকে বেরিয়ে এসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। সরকারি কর্মচারীরা কোনো দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নন; তাঁরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। পাশাপাশি তিনি কমিটিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে না দেখে সবার সম্মিলিত কাজের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সাঈদ আহমেদ। এতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারীসহ কমিটির সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), শাহজাহান চৌধুরী, আমিরুল ইসলাম খান, ফখর উদ্দিন আহমেদ, রেহেনা আক্তার ও মো. নূরুল ইসলাম অংশ নেন।

‘নো চাঁদাবাজি, নো দখল, নো সন্ত্রাসী’ বরগুনায় চিফ হুইপ

‘নো চাঁদাবাজি, নো দখল, নো সন্ত্রাসী’ বরগুনায় চিফ হুইপ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মণি দাবি করেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে প্রতিদিন দুপুরের খাবারের পেছনে সাড়ে ১০ লাখ টাকা ব্যয় করা হতো, যা বছরে প্রায় ৩৫ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। অন্যদিকে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাত্র ১৫০ টাকায় দুপুরের খাবার খান বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে আট দিনের সফরে বরগুনায় গিয়ে সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ। নূরুল ইসলাম মণি বলেন, যে কার্যালয়ে প্রতিদিন দুপুরের খাবারের জন্য সাড়ে ১০ লাখ টাকা ব্যয় করা হতো বলে তিনি দাবি করছেন, সেখানে তারেক রহমান সাধারণ খাবার খেয়ে জীবনযাপন করছেন। তারেক রহমান কিছুদিন আগে বলেছেন, দেশের একটি পয়সাও তার হাত দিয়ে নষ্ট হবে না। প্রধানমন্ত্রীর জীবনযাপন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, আল্লাহ মানুষের বাহ্যিক অবয়ব নয়, বরং হৃদয় ও ঈমানের ভিত্তিতে বিচার করবেন। তারেক রহমান সাধারণ পোশাক পরেন এবং সাধারণ জীবনযাপন করেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গত পরশু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডেরস ভাজি, কুমড়া ভর্তা ও ডাল দিয়ে দুপুরের খাবার খেয়েছেন বলেও জানান নূরুল ইসলাম মণি। তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের মতো একজন মানুষ প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় বাংলাদেশের ভাগ্য ভালো। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা প্রয়োজন। সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্য তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, সংসদ সদস্যদের কর্মীবান্ধব হতে হবে এবং দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতা-কর্মীদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আরোও পড়ুন,বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুচাঁদাবাজি, দখল ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন নূরুল ইসলাম মণি। তিনি জানান, তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন, কোনো চাঁদাবাজি, দখলদারি কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সুযোগ নেই। এসব ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, বহিষ্কারের বিষয়টি মুখ্য নয়; পরবর্তী সময়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনপ্রিয় ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং সেখানে কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না। ধানের শীষ, নৌকা কিংবা অন্য কোনো প্রতীক ছাড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রতীকের কারণে সামাজিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতীকবিহীন নির্বাচন মানুষের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করবে। বিএনপির রাজনীতি না করেও কোনো জনপ্রিয় ব্যক্তি যাতে নির্বাচিত হতে পারেন, সেই সুযোগও থাকবে। দেশের অতীতের খাদ্যসংকটের প্রসঙ্গ টেনে নূরুল ইসলাম মণি জিয়াউর রহমানের শাসনামলের কথাও উল্লেখ করেন। তার দাবি, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর তিন বছরের মধ্যে খাদ্যসংকট দূর হয়েছিল এবং বাংলাদেশ খাদ্য রপ্তানিও করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতি, সমাজনীতি ও গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তারেক রহমান দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন।

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যু

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যু

বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৮টা ১০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ছেলে ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন। বাবার মৃত্যুর খবর জানিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আবেগঘন পোস্ট দেন তানভীর আহমেদ রবিন। তিনি লেখেন, ‘আমার আব্বু আর নেই। সে তার রবের কাছে চলে গিয়েছেন।’ একই সঙ্গে তিনি বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন এবং মহান আল্লাহর কাছে তার বাবাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করার প্রার্থনা জানান। আরোও পড়ুন,১৪ দিনের দাওয়াতি সফরে যুক্তরাষ্ট্র গেলেন চরমোনাই পীরপরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সালাহউদ্দিন আহমেদের নামাজে জানাজা মঙ্গলবার বাদ জোহর রাজধানীর শ্যামপুর-কদমতলীর লাল মসজিদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে তার পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মহান আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন। আমিন।

১৪ দিনের দাওয়াতি সফরে যুক্তরাষ্ট্র গেলেন চরমোনাই পীর

১৪ দিনের দাওয়াতি সফরে যুক্তরাষ্ট্র গেলেন চরমোনাই পীর

১৪ দিনের দাওয়াতি সফরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, যিনি চরমোনাই পীর হিসেবে পরিচিত।মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানসহ দলের ঊর্ধ্বতন নেতারা।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৪ দিনের সফরে চরমোনাই পীর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটিতে দাওয়াতি সভায় বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।আরও  পড়ুন, দেশে ও বিদেশে নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থ: নাহিদ ইসলামএদিকে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে পড়া প্রবাসী শ্রমিকদের সহায়তার দাবি জানিয়েছে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন।মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা খলিলুর রহমান বলেন, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হামলার কারণে ৬০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে তাঁদের কাছে তথ্য রয়েছে। এতে হাজার হাজার প্রবাসী শ্রমিক ঢাকার বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন। সীমিত আয়ের এসব শ্রমিকের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ফ্লাইট বাতিলের কারণে শ্রমিকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এ পরিস্থিতিতে সরকারের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

সারাবাংলা

বৈচিত্র্যময় প্রতিমা, সম্প্রীতির বার্তা ও উৎসবের রঙে সাতক্ষীরা

বৈচিত্র্যময় প্রতিমা, সম্প্রীতির বার্তা ও উৎসবের রঙে সাতক্ষীরা

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে আনন্দ, আবেগ, বিশ্বাস ও উৎসবের রঙে সেজে ওঠে বাংলার জনপদ। শরতের নীল আকাশ, কাশফুলের দোলা, ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপ। তবে দুর্গোৎসব কেবল একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাংলার সামাজিক সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, শিল্প-সৃজনশীলতা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনারও এক অনন্য প্রকাশ। ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন দৃঢ় করার ক্ষেত্রে এ উৎসবের রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। সারাদেশের মতো সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরাতেও শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। এবার জেলার সাত উপজেলায় ৬১২টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা আয়োজনের তথ্য দিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ। অন্যদিকে, জেলা পুলিশের প্রাথমিক হিসাবে মণ্ডপের সংখ্যা ৬০৯টি। যাচাই-বাছাই শেষে এ সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। সংখ্যাগত এ পার্থক্য নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয় প্রয়োজন হলেও উৎসবকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ, প্রস্তুতি ও প্রত্যাশায় কোনো ঘাটতি নেই। এবারের দুর্গোৎসবের বিশেষ আকর্ষণ প্রতিমা নির্মাণ ও মণ্ডপসজ্জায় ব্যতিক্রমী উপকরণের ব্যবহার। দেশলাই কাঠি, রেশমি সুতা, মুগ ডাল, মুক্তা, সাদা তিল, চুমকি, পাট ও ফাইবারের মতো উপকরণ দিয়ে তৈরি হচ্ছে প্রতিমা ও মণ্ডপের নান্দনিক সাজ। কোথাও তৈরি হচ্ছে প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতার দুর্গাপ্রতিমা, কোথাও প্রতিমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ঝরনার পানি, আবার কোথাও কর্ণফুলী টানেলের আদলে নির্মিত পথ দিয়ে দর্শনার্থীরা প্রতিমা দর্শনের সুযোগ পাবেন। এসব আয়োজন সাতক্ষীরার দুর্গোৎসবকে শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং স্থানীয় শিল্প, কারুশিল্প ও সৃজনশীলতার এক আকর্ষণীয় প্রদর্শনীতে পরিণত করেছে। সৃজনশীলতায় অনন্য সাতক্ষীরার পূজামণ্ডপ: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ব্রহ্মরাজপুর সার্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মন্দিরে প্রতিমার সাজসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে দেড় লাখের বেশি দেশলাই কাঠি ও ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা। সূক্ষ্ম কারুকাজে প্রতিমাকে ভিন্নমাত্রা দিতে আয়োজকদের এ উদ্যোগ দর্শনার্থীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। গত বছর চিন্নিগুঁড়া চাল দিয়ে প্রতিমা সাজানোর পর এবার নতুন উপকরণে শিল্পকর্ম গড়ে তুলেছেন তাঁরা। আরোও পড়ুন,মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে ভারত যাওয়ার চেষ্টা,নারী শিশুসহ ৮ জন আটকএর মধ্য দিয়ে প্রতীয়মান হয়, ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি শিল্পচর্চা ও নতুন কিছু সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষাও দুর্গোৎসবের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠছে। আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা কাছারিপাড়া পূজামণ্ডপে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কেজি মুগ ডাল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা। একই উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গামন্দিরে প্রায় ৩৫ হাজার মুক্তার কারুকাজে সাজানো হয়েছে ১৩টি প্রতিমা। অন্যদিকে, খাজরা ইউনিয়নের ঘুঘুমারি শুরেরাবাদ সার্বজনীন মন্দিরে ফাইবারের প্রতিমার ওপর দিয়ে ঝরনার পানি প্রবাহিত হওয়ার নান্দনিক আয়োজন করা হয়েছে। পানির সংস্পর্শেও প্রতিমাগুলো অক্ষত থাকছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কলারোয়ার মুরারীকাটি পালপাড়ার একটি মণ্ডপে প্রায় ২৫ কেজি সাদা তিল ব্যবহার করে ১৬টি প্রতিমা সাজানো হয়েছে। চার শিল্পী প্রায় ১৫ দিন ধরে পরিশ্রম করে এ কাজ সম্পন্ন করেছেন। একই এলাকার অন্য একটি মণ্ডপে প্রায় ১২ কেজি চুমকি দিয়ে প্রতিমার পোশাক ও অলংকারে আনা হয়েছে ঝলমলে নকশা। পাটকেলঘাটার একটি পূজামণ্ডপে বাংলার ঐতিহ্যবাহী সোনালি আঁশ পাট ও পাটজাত উপকরণ ব্যবহার করে মণ্ডপসজ্জা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিমার সাজে ব্যবহৃত হচ্ছে রেশমি সুতা ও অন্যান্য উপকরণ। শ্যামনগর উপজেলার দক্ষিণ বড়কুপট নদীরপাড় দুর্গামন্দিরে নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতার দুর্গাপ্রতিমা। উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আরপাঙ্গাশিয়া রাসমন্দির প্রাঙ্গণে কর্ণফুলী টানেলের আদলে তৈরি করা হয়েছে একটি পথ, যার মধ্য দিয়ে দর্শনার্থীরা প্রতিমা দর্শন করতে পারবেন। কালীগঞ্জ উপজেলার অমিয়ান বাথুয়াডাঙ্গা সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপে ককশিট বা ফোমশিট দিয়ে প্রতিমা তৈরির উদ্যোগও এবারের উৎসবে বৈচিত্র্য যোগ করেছে।তালা উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপেও প্রতিমা নির্মাণে কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়া ও বৈচিত্র্য দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে। খড়, কাদামাটি, বাঁশসহ নানা উপকরণ ব্যবহার করে দেব-দেবীর রূপ ও পৌরাণিক কাহিনি ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পীরা। দেবহাটা উপজেলার প্রতিমা নির্মাতারাও মাটির কাজ শেষে রং ও তুলির নিপুণ আঁচড়ে প্রতিমাগুলোকে জীবন্ত করে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এসব উদ্যোগের পেছনে রয়েছে প্রতিমাশিল্পীদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, শ্রম, ধৈর্য ও সৃজনশীলতা। প্রতিটি প্রতিমার পেছনে থাকে বহু দিনের পরিকল্পনা, উপকরণ সংগ্রহ এবং নিখুঁত কারুকাজের প্রচেষ্টা। ফলে দুর্গোৎসব স্থানীয় মৃৎশিল্পী, কারিগর, রংমিস্ত্রি, ডেকোরেটর ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখে। এই শিল্প ও শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন করা গেলে উৎসবের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে। আরোও পড়ুন,জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যানের উদ্যোগধর্মীয় উৎসব থেকে সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন: দুর্গোৎসবের মূল তাৎপর্য অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীকী বার্তার মধ্যে নিহিত। দেবী দুর্গার অসুরবধের পৌরাণিক কাহিনি মানুষকে অন্যায়, অবিচার, হিংসা ও অশুভ প্রবণতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর নৈতিক প্রেরণা দেয়। বর্তমান সমাজেও এ বার্তার গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান, মানবিক মূল্যবোধের চর্চা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় দুর্গোৎসবের অন্তর্নিহিত শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।বাংলার ঐতিহ্যে ধর্মীয় উৎসবগুলো বহু ক্ষেত্রেই সামাজিক মিলনমেলার রূপ ধারণ করেছে। দুর্গাপূজার সময় আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ, বন্ধুদের মিলন, নতুন পোশাক পরা, পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ এবং পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে মানুষের সামাজিক সম্পর্ক নতুন করে প্রাণ পায়। সাতক্ষীরার মতো বহুধর্মীয় ও বৈচিত্র্যময় জনপদে এ উৎসব বিভিন্ন ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করে। বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্য প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার রয়েছে, তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটতে পারে প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে পালনের সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে। একজন মানুষের ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা, মানবিক মর্যাদা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অধিকার সবার সমান। তাই দুর্গোৎসব শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আনন্দের বিষয় নয়; এটি সমাজের সব মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধ প্রকাশেরও উপলক্ষ। অসাম্প্রদায়িকতা মানে কারও ধর্মীয় বিশ্বাসকে অস্বীকার করা নয়; বরং নিজের বিশ্বাসে অবিচল থেকে অন্যের বিশ্বাস ও অধিকারকে সম্মান করা। যে সমাজে ভিন্ন ধর্মের মানুষ পরস্পরের আনন্দে অংশ নিতে পারে, বিপদে পাশে দাঁড়ায় এবং ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে অবজ্ঞা করে না, সেই সমাজই প্রকৃত অর্থে সম্প্রীতির সমাজ। আরোও পড়ুন,জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যানের উদ্যোগদুর্গোৎসবের আনন্দকে এ মূল্যবোধের বিকাশে কাজে লাগানো প্রয়োজন।নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব: উৎসবের আনন্দ নির্বিঘ্ন রাখতে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিকল্প নেই। সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ ইতিমধ্যে দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তা প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, মণ্ডপগুলোতে টহল, সিসিটিভি নজরদারি, সাদা পোশাকে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের উপস্থিতি এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকবে। এসব উদ্যোগ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে পূজারী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।তবে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। মণ্ডপ কমিটি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মণ্ডপে পর্যাপ্ত আলো, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, জরুরি বহির্গমনপথ, বৈদ্যুতিক সংযোগের নিরাপত্তা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। শিশু, নারী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী দর্শনার্থীদের সুবিধার দিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে। গুজব, উসকানিমূলক বক্তব্য কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইহীন তথ্য ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটলে উত্তেজিত না হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো এবং যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করা নাগরিক দায়িত্বের অংশ। ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, অন্যের বিশ্বাস নিয়ে বিদ্রূপ না করা এবং যেকোনো ধরনের উসকানি পরিহার করা উৎসবের পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ রাখতে সহায়ক হবে। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ জানিয়েছেন, এবার সাতক্ষীরার ৬১২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি মণ্ডপগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে পূজা আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জেলাবাসীকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। পূজা উদযাপন পরিষদ ও পুলিশের দেওয়া মণ্ডপের সংখ্যায় আপাতত তিনটির পার্থক্য রয়েছে। এ ধরনের তথ্যগত অসামঞ্জস্য দ্রুত যাচাই করে সংশ্লিষ্ট তালিকা সমন্বয় করা প্রয়োজন। এতে নিরাপত্তা পরিকল্পনা, জনবল বণ্টন ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার কাজ আরও কার্যকর হবে। উৎসব ব্যবস্থাপনায় নির্ভুল তথ্য ও আন্তপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ও নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংস্কৃতি, পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির সম্ভাবনা:আরোও পড়ুন,কোস্ট গার্ডের অভিযানে হরিণের মাংস, চামড়া ও মাথা উদ্ধারসাতক্ষীরার দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিমাশিল্প, মণ্ডপসজ্জা ও স্থানীয় ঐতিহ্যের যে বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে, তা সাংস্কৃতিক পর্যটনের সম্ভাবনাও তুলে ধরে। দেশলাই কাঠি, মুগ ডাল, মুক্তা, তিল কিংবা পাটের মতো উপকরণ দিয়ে তৈরি শিল্পকর্ম দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হতে পারে। পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে এসব শিল্পকর্মের পরিচিতি জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা গেলে সাতক্ষীরার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আরও বিস্তৃত পরিসরে পরিচিতি পাবে।এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বিত উদ্যোগ নিতে পারে। মণ্ডপের অবস্থান, যাতায়াতের পথ, দর্শনার্থীদের সুবিধা এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য প্রচার করা যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিমাশিল্পীদের কাজের স্বীকৃতি, তাঁদের ন্যায্য পারিশ্রমিক এবং স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী শিল্প সংরক্ষণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।উৎসবকে কেন্দ্র করে পোশাক, খাবার, পরিবহন, আলোকসজ্জা, সাজসজ্জা ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষও আয় করার সুযোগ পান। ফলে ধর্মীয় উৎসবের সামাজিক গুরুত্বের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। তবে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা যেন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মর্যাদা, পরিবেশের ভারসাম্য কিংবা সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন না ঘটায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। উৎসবের প্রকৃত সৌন্দর্য কেবল আলোকসজ্জা ও ব্যয়ের পরিমাণে নয়; বরং এর সুশৃঙ্খল আয়োজন, শিল্পমান, মানবিকতা ও সামাজিক অংশগ্রহণে নিহিত।সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়:একটি উৎসব তখনই সার্থক হয়ে ওঠে, যখন তার আনন্দ বৃহত্তর সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। দুর্গোৎসবের শিক্ষা যদি মানুষের মধ্যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, দুর্বল ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, নারী-শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলে, তাহলে উৎসবের তাৎপর্য আরও গভীর হবে।আরোও পড়ুন,সীমান্তের ভেতরে পাহাড়ি এলাকায় মিলল ৪৮৪ পিস ভারতীয় শাড়িসাতক্ষীরার ৬১২টি পূজামণ্ডপকে ঘিরে যে আয়োজন, তা শুধু প্রতিমার বৈচিত্র্য কিংবা উৎসবের চাকচিক্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা নয়। প্রতিটি মণ্ডপ হতে পারে মানবিকতা, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার কেন্দ্র। পূজামণ্ডপে আগত দর্শনার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানো, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া গেলে এ আয়োজনের সামাজিক মূল্য আরও বৃদ্ধি পাবে। এ জন্য গণমাধ্যমেরও দায়িত্ব রয়েছে। উৎসবের ইতিবাচক দিক, স্থানীয় শিল্পীদের সৃজনশীলতা, সম্প্রীতির বাস্তব উদাহরণ এবং নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার পাশাপাশি যেকোনো অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনার বিষয়ও দায়িত্বশীলভাবে প্রকাশ করতে হবে। তথ্যের সত্যতা যাচাই, সংবেদনশীল বিষয়ে সতর্কতা এবং সব সম্প্রদায়ের মর্যাদা রক্ষা করে সংবাদ পরিবেশন জনমনে আস্থা তৈরিতে সহায়তা করবে। পরিশেষে বলা যায়, শারদীয় দুর্গোৎসব আনন্দের, আত্মশুদ্ধির, সৃজনশীলতার এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার উৎসব। সাতক্ষীরার বিভিন্ন মণ্ডপে ব্যতিক্রমী প্রতিমা ও নান্দনিক সাজসজ্জা মানুষের মধ্যে যে আগ্রহ তৈরি করেছে, তা জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করছে। কিন্তু উৎসবের সবচেয়ে বড় সাফল্য হবে তখনই, যখন প্রতিটি মানুষ নির্বিঘ্নে নিজের ধর্ম পালন করতে পারবে, অন্যের বিশ্বাসকে সম্মান করবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে। ধর্ম যার যার, উৎসবের আনন্দ ও মানবিক মূল্যবোধ সবার—এই চেতনাকে ধারণ করেই সাতক্ষীরার শারদীয় দুর্গোৎসব হয়ে উঠুক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা মানুষের মন থেকে দূর করুক হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভাজন; প্রতিষ্ঠিত হোক সত্য, ন্যায়, মানবিকতা ও শুভবোধ। আনন্দময় ও শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসবের মধ্য দিয়ে আরও সমৃদ্ধ হোক সাতক্ষীরা, আরও দৃঢ় হোক সম্প্রীতির বন্ধন, এগিয়ে যাক দেশ ও জাতি।

সীমান্তের ভেতরে পাহাড়ি এলাকায় মিলল ৪৮৪ পিস ভারতীয় শাড়ি

সীমান্তের ভেতরে পাহাড়ি এলাকায় মিলল ৪৮৪ পিস ভারতীয় শাড়ি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে ৪৮৪ পিস ভারতীয় শাড়ি জব্দ করা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার ছোটফরিংগা সীমান্ত এলাকার নয়াটিলা মাজারসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ৪৩ বিজিবি রামগড় ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা গেছে, ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের নির্দেশনায় চোরাচালানবিরোধী বিশেষ টহল দল নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করে। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ছোটফরিংগা বিওপির সীমান্ত পিলার ২২০৩/২-আরবি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অভিযান চালানো হয়। আরোও পড়ুন,কোস্ট গার্ডের অভিযানে হরিণের মাংস, চামড়া ও মাথা উদ্ধারএ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ৪৮৪ পিস ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা শাড়িগুলো কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। বিজিবি আরও জানায়, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পণ্যের প্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনগণের সহযোগিতা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছে বাহিনীটি। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ পণ্যের প্রবেশ ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

কোস্ট গার্ডের অভিযানে হরিণের মাংস, চামড়া ও মাথা উদ্ধার

কোস্ট গার্ডের অভিযানে হরিণের মাংস, চামড়া ও মাথা উদ্ধার

বরগুনার পাথরঘাটায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৩৫০ কেজি হরিণের মাংস, তিনটি হরিণের চামড়া ও একটি মাথা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় হরিণের মাংসের অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি পাচারের কাজে ব্যবহৃত একটি কাঠের বোট জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে বরগুনার পাথরঘাটা থানাধীন দক্ষিণ চরদুয়ানীর কালিয়ার খাল এলাকায় অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড স্টেশন পাথরঘাটা। এ সময় এলাকায় সন্দেহজনক একটি কাঠের বোটে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে বোট থেকে প্রায় ৪ লাখ ২৪ হাজার টাকা মূল্যের ৩৫০ কেজি হরিণের মাংস, তিনটি হরিণের চামড়া ও একটি মাথা উদ্ধার করা হয়। আরও পড়ুন,জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যানের উদ্যোগএ ঘটনায় অবৈধভাবে হরিণের মাংসের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে মাংস চোরাচালানে ব্যবহৃত কাঠের বোটটিও জব্দ করা হয়। কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা হরিণের মাংস, চামড়া, মাথা, জব্দ করা বোট এবং আটক ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাথরঘাটা উপজেলা বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, বন্যপ্রাণী হত্যা ও পাচার রোধে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং অবৈধ শিকার ও পাচার বন্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে। বন্যপ্রাণী হত্যা ও পাচার জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি। সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় হরিণ শিকার ও মাংস পাচার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বন বিভাগের নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যানের উদ্যোগ

জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যানের উদ্যোগ

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের এক সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১টায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম। সভায় জঙ্গল সলিমপুরের বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তাসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। আরও  পড়ুন, সোনারগাঁয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে আদালতে মামলা, বিচার দাবি বিশেষ করে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে একটি সুপরিকল্পিত ও বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনার আওতায় সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব ও কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় প্রাধান্য পায়। সভায় অংশগ্রহণকারীরা জঙ্গল সলিমপুরে স্থায়ীভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যক্রম শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি সমন্বিত পরিকল্পনার ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আলোচনায় উঠে আসে, জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়নে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাই নয়, বরং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যে একটি বাস্তবসম্মত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিন, বিপিএম; চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। জঙ্গল সলিমপুরে জননিরাপত্তা জোরদার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা কিংবা বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়ে সভার প্রাপ্ত তথ্যে কিছু জানানো হয়নি।

আন্তর্জাতিক

রিয়াদে হামলার পর সৌদির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রবাসীরা

রিয়াদে হামলার পর সৌদির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রবাসীরা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হামলার খবর ঘিরে দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ বসবাস, উচ্চ বেতনের চাকরি এবং উন্নত জীবনযাপনের সুযোগের জন্য পরিচিত সৌদি আরবের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। একই সঙ্গে দেশটির পর্যটন, আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের হুতিদের হামলায় রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। হামলার পর বিমানবন্দরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার দৃশ্যও সামনে এসেছে। ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সৌদিতে বসবাসরত প্রবাসীরা। দীর্ঘদিন ধরে রিয়াদে বসবাস করা যুক্তরাজ্যের নাগরিক বিলাল বলেন, সৌদি আরবে তাঁর পরিবার নিয়ে জীবন গড়ে উঠেছে। দেশ ছেড়ে যাওয়ার ইচ্ছা না থাকলেও হামলা অব্যাহত থাকলে পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে যুক্তরাজ্যে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তিনি। তাঁর মতে, বেসামরিক স্থাপনায় হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই। রিয়াদে এক দশক ধরে বসবাস করা আরেক ব্রিটিশ নাগরিক মোহাম্মদও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাঁর সন্তানরা সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ভয় পেয়েছে।আরোও পড়ুন,ছিনতাইয়ের আশঙ্কা, ফ্রাঙ্কফুর্ট-দিল্লি ফ্লাইট গেল জয়পুরেস্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং কিছু প্রবাসীর দেশে ফেরার পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে জানান তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, পর্যটন খাত এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি আরবকে বৈশ্বিক ব্যবসা, বিনোদন ও পর্যটনের কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু আঞ্চলিক সংঘাত সেই পরিকল্পনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের বিরোধের শিকড় ২০১৫ সালে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত পর্যন্ত বিস্তৃত। ওই বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে অভিযান শুরু করেছিল। দীর্ঘ সংঘাতে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ ব্যাপক মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো মার্কিন সামরিক সহযোগিতার ওপর নির্ভর করেছে। তবে বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ এবং দেশগুলোর নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে।

৫ ঘন্টা আগে

রাজধানী

মোহাম্মদপুরে ডগ স্কোয়াড নিয়ে যৌথ অভিযান

মোহাম্মদপুরে ডগ স্কোয়াড নিয়ে যৌথ অভিযান

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য প্রতিরোধে ডগ স্কোয়াড নিয়ে যৌথ অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে এ অভিযান শুরু হয়। এতে পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও এসআরবির সদস্যরা অংশ নেন। তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের পুলিশ কর্মকর্তারা অভিযানের বিষয়টি জানিয়েছেন। অভিযানের অংশ হিসেবে মোহাম্মদপুরের লোহার গেট, জেনেভা ক্যাম্প এবং মোহাম্মদপুর থানা-সংলগ্ন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।আরও  পড়ুন, পুরান ঢাকার চকবাজারে গোডাউনের আগুন নিয়ন্ত্রণে, ধোঁয়ায় অসুস্থ ২ ফায়ার ফাইটার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধ করাই এ বিশেষ অভিযানের মূল লক্ষ্য। মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন সমন্বিত উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে অভিযান শেষে কতজনকে আটক করা হয়েছে, কী পরিমাণ মাদক বা অন্যান্য আলামত উদ্ধার হয়েছে—সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

১৬ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৫ জন

খেলাধুলা

কুশাল মেন্ডিসের রেকর্ডে পাকিস্তানকে হারাল শ্রীলঙ্কা

কুশাল মেন্ডিসের রেকর্ডে পাকিস্তানকে হারাল শ্রীলঙ্কা

কুশাল মেন্ডিসের রেকর্ড গড়া ইনিংসে পাকিস্তানের বিপক্ষে দাপুটে জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে স্বাগতিকদের ৮ উইকেটে হারিয়েছে সফরকারীরা। তবে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছিল পাকিস্তান।মঙ্গলবারের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৬৮ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে কুশাল মেন্ডিসের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ১৭ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা। ৪৮ বলে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৮৭ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন মেন্ডিস।এই ইনিংসের মধ্য দিয়ে শ্রীলঙ্কার হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রানের মালিক হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। এর আগে ২ হাজার ৭৮৪ রান নিয়ে শীর্ষে ছিলেন পাথুম নিশাঙ্কা। পাকিস্তানের বিপক্ষে ইনিংসের পর মেন্ডিসের রান দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৯১-এ।আরও  পড়ুন, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ২-০ গোলে হারাল অ্যাতলেটিকোশ্রীলঙ্কার জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন কামিন্দু মেন্ডিসও। ২৭ বলে ৪০ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। এ ছাড়া সিনেথ জয়াবর্ধনে করেন ২৬ বলে ২৮ রান। তাঁদের কার্যকর ব্যাটিংয়ে সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা।এর আগে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৮ উইকেটে ১৮২ রান করেও ৪ উইকেটে হেরে যায় শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তান ২১৫ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে। জবাবে শ্রীলঙ্কা ৭ উইকেটে ১৩৩ রান করতে সক্ষম হয়। ফলে ৮২ রানের জয় নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।শেষ ম্যাচে হারলেও সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয় পাকিস্তান। অন্যদিকে, শেষ ম্যাচের জয় শ্রীলঙ্কার জন্য স্বস্তির পাশাপাশি কুশাল মেন্ডিসের ব্যক্তিগত রেকর্ডের কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকল।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!