দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

 শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব

ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন / শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব

বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। শরতের স্নিগ্ধ প্রকৃতি, ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, আলোকসজ্জায় সজ্জিত পূজামণ্ডপ এবং ভক্তদের প্রার্থনায় প্রতিবছর দুর্গোৎসব হয়ে ওঠে আনন্দ, আবেগ ও মিলনের এক অনন্য উপলক্ষ। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এ উৎসব মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করার বার্তা দেয়। শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে আয়োজন করা হয় নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। প্রতিমা দর্শন, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি, আরতি এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে উৎসবের পরিবেশ। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে পূজামণ্ডপে ঘুরতে বের হন নানা বয়সী মানুষ। উৎসবকে ঘিরে স্থানীয় বাজার, পোশাকের দোকান, খাবারের দোকান ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও বাড়ে কর্মচাঞ্চল্য। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গা শক্তি, সাহস ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রতীক। পৌরাণিক কাহিনিতে মহিষাসুরের বিরুদ্ধে দেবী দুর্গার বিজয় অশুভ শক্তির পরাজয় এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। এ বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা মানুষকে অন্যায়, অনাচার, হিংসা ও অসত্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রেরণা দেয়। দুর্গোৎসবের ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি রয়েছে মানবিক ও সামাজিক শিক্ষা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, দুর্বল ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় এ উৎসবের অন্যতম বার্তা। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে মানুষের জীবন থেকে অশুভ ও অকল্যাণ দূর হয়ে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠিত হবে। দুর্গাপূজার বিভিন্ন দিন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন ও পূজার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।আরও  পড়ুন, শীতের আগমনী বার্তা, প্রস্তুত হচ্ছে যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড় সপ্তমীতে পূজা-অর্চনা, অষ্টমীতে মহাষ্টমীর বিশেষ পূজা ও অঞ্জলি এবং নবমীতে মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়। এরপর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। তিথি ও স্থানীয় রীতিভেদে বিভিন্ন আয়োজনের সময়সূচিতে পার্থক্য থাকতে পারে। পূজার দিনগুলোতে ভক্তরা নতুন পোশাক পরে মন্দিরে যান এবং দেবীর চরণে ফুল, বেলপাতা ও অন্যান্য উপকরণ নিবেদন করেন। অনেক মণ্ডপে আয়োজন করা হয় ধর্মীয় আলোচনা, প্রসাদ বিতরণ, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসব আয়োজন উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। বিজয়া দশমী দুর্গোৎসবের একটি আবেগঘন অধ্যায়। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবীকে বিদায় জানানোর সময় ভক্তদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি বিষাদের অনুভূতিও কাজ করে। তবে এ বিদায় পরবর্তী বছরের নতুন প্রত্যাশা ও শুভাগমনের অপেক্ষা তৈরি করে। বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সহাবস্থান, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সামাজিক বন্ধন এ দেশের বহুত্ববাদী পরিচয়কে সমৃদ্ধ করেছে। শারদীয় দুর্গাপূজা সেই সম্প্রীতির চর্চাকে আরও দৃশ্যমান করার সুযোগ সৃষ্টি করে। অনেক এলাকায় বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একে অপরের উৎসবে অংশ নেন, শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। পূজামণ্ডপের আয়োজন, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম ও সামাজিক উদ্যোগে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা উৎসবের পরিবেশকে আরও সৌহার্দ্যপূর্ণ করে তোলে। ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও মানুষের মৌলিক চাহিদা, সুখ-দুঃখ ও মানবিক অনুভূতি অভিন্ন। এ উপলব্ধি থেকে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার চর্চা বাড়ানো জরুরি।আরও  পড়ুন, মব আতঙ্ক ও আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভেদ বা বিদ্বেষ নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলাই হওয়া উচিত উৎসবের অন্যতম শিক্ষা। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় শুধু উৎসবের সময় নয়, সারা বছরই দায়িত্বশীল আচরণ, সামাজিক সচেতনতা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বৈষম্য, হয়রানি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বড় ধর্মীয় উৎসবে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। ফলে পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা, যান চলাচল, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, অগ্নিনিরাপত্তা এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পূজা উদ্ধসঢ়;‌যাপন কমিটি এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। প্রতিটি পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ রাখা, বৈদ্যুতিক সংযোগ নিরাপদ রাখা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী দর্শনার্থীদের নিরাপদে চলাচলের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়া উচিত। গুজব, অপতথ্য কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো উসকানিমূলক বক্তব্য উৎসবের পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে পারে। তাই যাচাই না করা তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকা এবং কোনো সন্দেহজনক ঘটনা দেখা গেলে নিজেরা আইন হাতে না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা প্রয়োজন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনের একক দায়িত্ব নয়; পূজামণ্ডপের আয়োজক, দর্শনার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং গণমাধ্যমসহ সবার সচেতন অংশগ্রহণ প্রয়োজন। দায়িত্বশীল আচরণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়েই উৎসবকে আনন্দময় ও নিরাপদ রাখা সম্ভব।আরও  পড়ুন, যাত্রাবাড়ীর-সায়েদাবাদ এলাকায় একাধিক আবাসিক হোটেল ঘিরে অভিযোগ দুর্গাপূজাকে ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়। প্রতিমাশিল্পী, মৃৎশিল্পী, বাঁশ ও কাঠের কারিগর, আলোকসজ্জাকর্মী, পোশাক ব্যবসায়ী, ফুল বিক্রেতা, পরিবহন শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এ উৎসবের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকেন। পূজামণ্ডপ নির্মাণ, প্রতিমা তৈরি, সাজসজ্জা, পোশাক কেনাকাটা ও অতিথি আপ্যায়নের কারণে বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়ে। এতে মৌসুমি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হয়। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী প্রতিমাশিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের সৃজনশীলতা ও শ্রম দুর্গোৎসবের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া দুর্গাপূজার সাংস্কৃতিক আয়োজন বাঙালির লোকজ ঐতিহ্য, সংগীত, নৃত্য, নাটক ও শিল্পচর্চাকে উৎসাহিত করে। নতুন প্রজন্মের কাছে এসব ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রেও উৎসবটির ভূমিকা রয়েছে। তবে উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি অপচয় রোধ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি। উৎসবের প্রকৃত সার্থকতা কেবল আনুষ্ঠানিকতা বা বাহ্যিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের মধ্যেও এর প্রকাশ ঘটে। সমাজের অসচ্ছল মানুষ, অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ ও সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে দুর্গোৎসবের মানবিক তাৎপর্য আরও গভীর হতে পারে। উৎসব উপলক্ষে সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা দরিদ্র মানুষের মধ্যে খাদ্য, পোশাক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করতে পারেন। একই সঙ্গে রক্তদান, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মতো উদ্যোগও সামাজিক কল্যাণে অবদান রাখতে পারে। ধর্মীয় উৎসব মানুষকে আনন্দ দেয়, কিন্তু সেই আনন্দ যেন অন্যের অসুবিধার কারণ না হয়, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন। আরও  পড়ুন, উৎসব মূখর পরিবেশে গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কার্যালয় উদ্বোধনউচ্চ শব্দে মাইক ব্যবহার, যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা, যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি কিংবা পরিবেশদূষণ থেকে বিরত থাকা সবার দায়িত্ব। উৎসবের সৌন্দর্য তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন আনন্দের পাশাপাশি অন্যের অধিকার ও স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতিও সম্মান দেখানো হবে। বাংলাদেশের সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আইনের দৃষ্টিতে সমতার নীতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালন, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং নিরাপদে জীবনযাপনের অধিকার সম্মান করা প্রয়োজন। ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করা রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিক সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। শারদীয় দুর্গাপূজা সেই দায়িত্বের কথা নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়। ভিন্ন বিশ্বাস ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় থাকলে সমাজ আরও শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ হতে পারে। কোনো ধরনের বৈষম্য, বিদ্বেষ বা সহিংসতা যেন মানুষের উৎসবের আনন্দকে ম্লান করতে না পারে, সে বিষয়ে সবার সতর্ক থাকা জরুরি। শারদীয় দুর্গাপূজা বাঙালির ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস, শিল্প-সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের এক সম্মিলিত প্রকাশ। দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা করা হয়, তা বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন ন্যায়, সততা, সহমর্মিতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে। উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি মানুষের জীবনে। ধর্মীয় পরিচয় যেন কখনো মানুষের মধ্যে বিভেদের কারণ না হয়; বরং পারস্পরিক সম্মান ও ভালোবাসার বন্ধন আরও দৃঢ় করুক। শারদীয় দুর্গোৎসবের শিক্ষা হোক অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসা।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

দুর্গাপূজায় সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান স্পিকারের

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। একই সঙ্গে বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ ও সামাজিক সংহতিতে সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রোববার (১৮ অক্টোবর) এক শুভেচ্ছা বার্তায় স্পিকার দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি ভালোবাসা ও শুভকামনা জানান। তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আনন্দ, সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। হাফিজ উদ্দিন আহমদ আশা প্রকাশ করেন, দুর্গাপূজার মধ্য দিয়ে সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য ও অবিচার দূর হবে এবং সাম্য, মৈত্রী ও সৌহার্দ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।আরও পড়ুন,দুর্নীতিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিতের নির্দেশ ভূমিমন্ত্রীর একই সঙ্গে বাংলার চিরায়ত ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন থাকবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। শুভেচ্ছা বার্তায় স্পিকার আরও বলেন, উৎসবের আনন্দ মানুষের জীবনে নতুন প্রেরণা নিয়ে আসুক এবং আগামী দিনগুলো আরও সাফল্যমণ্ডিত ও আনন্দময় হয়ে উঠুক। ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা করেন। তিনি বলেন, সামাজিক সংহতি ও ধর্মীয় সম্প্রীতির চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে একসঙ্গে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ে তুলতে হবে। স্পিকার শারদীয় দুর্গোৎসবের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন। পাশাপাশি উৎসবের অনাবিল আনন্দ সবার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়বে এবং মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

দুর্নীতিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিতের নির্দেশ ভূমিমন্ত্রীর

ভূমিসেবায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি। তিনি বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য একটি আধুনিক, হয়রানিমুক্ত ও জনবান্ধব ভূমিসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। রোববার রাজধানীর ৭১ পুরানা পল্টনে ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ভূমি ভবনে অবস্থিত প্রথম নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্রের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় নতুন এই কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে বিনামূল্যে দ্রুত ভূমিসেবা সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভূমিমন্ত্রী বলেন, ভূমি একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। ভূমির অধিকার রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। অতীতে ভূমিসেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে নানা জটিলতা ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি জমির সেবা পেতে বছরের পর বছর ভূমি অফিসে ঘুরতে হয়েছে। বর্তমান সরকার এসব ভোগান্তি দূর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, ভূমিসেবাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকার কাজ করছে। আরও পড়ুন,সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিটের অনুমোদন দিল দুদকনতুন এই কেন্দ্রে নাগরিকেরা খতিয়ান, নামজারি এবং ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ পাবেন। সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধে কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর উপস্থিতি বরদাশত করা হবে না বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় ভূমিসেবার পুরোনো ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে সেবাকে আরও জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী। তিনি ভূমিসেবায় প্রযুক্তিগত অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। নতুন এই কেন্দ্র চালুর ফলে ভূমিসেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিটের অনুমোদন দিল দুদক

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পেতে জীবনবৃত্তান্তে (সিভি) মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।রোববার (১৮ অক্টোবর) এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দুদকের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২০ মার্চ সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়। এর একটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় নিয়োগ পেতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে। অন্য মামলাটি সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে ২০টি ব্যাংক থেকে ৩৩ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগসংক্রান্ত।দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগের জন্য ২০২৩ সালে জমা দেওয়া সিভিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) ‘অনারারি স্পেশালিস্ট/এক্সপার্ট’ হিসেবে কাজ করার তথ্য উল্লেখ করেন সায়মা ওয়াজেদ। দুদকের দাবি, ওই তথ্য সঠিক ছিল না এবং তা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলেছিল।আরও  পড়ুন,  হেমন্তের শুরুতেই শীতের আভাস, কমতে পারে রাতের তাপমাত্রাতদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অটিজম ও স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যাবিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের দায়িত্ব পালনের সময় তিনি নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতা সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য সিভিতে উল্লেখ করেন, যার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।দুদকের এজাহারে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা কিংবা শিক্ষা ম্যানুয়াল তৈরি ও পর্যালোচনার কাজে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও সায়মা ওয়াজেদ সিভিতে এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার দাবি করেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।দুদক জানিয়েছে, তদন্তের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে চার্জশিট দাখিল ও আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি পৃথক আইনি ধাপ। অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

হেমন্তের শুরুতেই শীতের আভাস, কমতে পারে রাতের তাপমাত্রা

হেমন্তের শুরুতে উত্তরের হাওয়ার আনাগোনা জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। এরই মধ্যে আগামী কয়েক দিন রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রকাশিত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এ অবস্থায় আগামী ৭২ ঘণ্টায় সারাদেশের আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ সময়ে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। অন্যদিকে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে রাত ও ভোরের দিকে আবহাওয়ায় কিছুটা শীতল অনুভূতি দেখা দিতে পারে।আরও  পড়ুন, সাজেক সড়কে পর্যটকবাহী জিপ উল্টে আহত ৭, দুজনের অবস্থা গুরুতরএদিকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, পরবর্তী পাঁচ দিনের মধ্যে আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এ ধরনের আবহাওয়াব্যবস্থার বিকাশের ওপর নির্ভর করে পরবর্তী সময়ে বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।হেমন্তের এই সময়ে রাতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করলেও দেশজুড়ে শীতের প্রকৃত প্রভাব কবে থেকে বাড়বে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ওপর।

রাজনীতিরাজনীতি

ঢাকা-৪ আসনে ২৫ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিল জামায়াত

ঢাকা-৪ আসনে ২৫ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিল জামায়াত

রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ বণ্টনে দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেছেন, দলমত, ধর্মবর্ণ ও জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সব নাগরিকের সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। রোববার ১৮ অক্টোবর রাতে রাজধানীর জুরাইন দোলাইরপাড়ে ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকার দরিদ্র, অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, জামায়াতে ইসলামী বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গঠনে কাজ করছে। রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ বণ্টনে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি, আত্মীয়করণ কিংবা দলীয়করণ থাকা উচিত নয়। নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বেকার, অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে স্বাবলম্বী করে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই চার দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আরোও পড়ুন,হাম ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান রিজভীরএর মধ্যে সমাজ সংস্কার ও সমাজসেবা অন্যতম। জামায়াতের এই সংসদ সদস্যের দাবি, তাঁদের দলের নেতৃত্বে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দের পাশাপাশি দলীয় অর্থায়নেও সমাজের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকাকে আরও এগিয়ে নিতে তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদেও জামায়াতের নেতৃত্ব থেকে প্রতিনিধি নির্বাচনের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শূরা সদস্য মুহাম্মদ আব্দুর রহিম জীবন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আসাদুল্লাহ গালিব শেখ। এ সময় ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মাওলানা জাকির হোসাইনসহ জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মোট ২৫টি পরিবারের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এতে সব মিলিয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।

হাম ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান রিজভীর

হাম ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান রিজভীর

হাম ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া কর্মসূচিগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা তদারকির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, দেশের চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হাম নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থাও করেছে সরকার। তবে শুধু কর্মসূচি গ্রহণ করলেই হবে না, সেগুলো মাঠপর্যায়ে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, আরও পড়ুন,দেশের প্রতিটি সংকটে মানুষের পাশে ছিলেন তারেক রহমান: রিজভীতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা যথাযথভাবে কাজ করছেন কি না, তা সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।রিজভী বলেন, এ ক্ষেত্রে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো সাধারণ মানুষের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা তদারকি করা হলে চলমান সংকট মোকাবিলায় আরও সুফল পাওয়া সম্ভব। এ সময় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন তিনি। রিজভী জানান, দুর্যোগসহ বিভিন্ন সংকটময় পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সংগঠনটি। রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও ফাউন্ডেশন তাদের সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। হাম ও ডেঙ্গুর মতো জনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টি রিজভীর বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে।

দেশের প্রতিটি সংকটে মানুষের পাশে ছিলেন তারেক রহমান: রিজভী

দেশের প্রতিটি সংকটে মানুষের পাশে ছিলেন তারেক রহমান: রিজভী

দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের বাইরে অবস্থান করলেও নানা প্রতিকূলতার মধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের প্রতিটি সংকট ও দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী।রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলানগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতিহা পাঠ শেষে তিনি এসব কথা বলেন। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।রুহুল কবীর রিজভী বলেন, তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন জাতীয় পর্যায় ছাড়িয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে। করোনা মহামারি, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও শীতের প্রকোপসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকটে প্রবাসে থেকেও তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন এবং মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।আরও  পড়ুন, সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার সোমবারতিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের কঠিন সময়েও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন তরুণ ও কিশোরদের বিজ্ঞান ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে অনলাইন সায়েন্স এক্সিবিশনসহ বিভিন্ন ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পরিচালনা করেছে।রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্বের শিকার ব্যক্তিদের কৃত্রিম পা সংযোজন, বৃক্ষরোপণ এবং চিকিৎসাসহায়তা প্রদানের মতো মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পথ সুগম করতে কাজ করছে সংগঠনটি।অনুষ্ঠানে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, পরিচালক ড. মোর্শেদ হাসান খান এবং দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক ও জ্যেষ্ঠ পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ কর্মসূচিতে সংগঠনটির মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার সোমবার

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার সোমবার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার আগামী সোমবার (১৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে।বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত ৩২৩-২৩ নম্বর সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেতে যেসব নারী প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন, তাঁদের সাক্ষাৎকার নির্ধারিত দিনে অনুষ্ঠিত হবে।আরও  পড়ুন,   ইসলামী আন্দোলনের মহিলা ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা ও শপথএতে সংশ্লিষ্ট মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নির্ধারিত সময় ও স্থানে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার এ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছে বিএনপি।সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সারাবাংলা

দেবহাটায় শামীম হত্যা: আদালতে ১৬৪ ধারায় প্রধান আসামির স্বীকারোক্তি

দেবহাটায় শামীম হত্যা: আদালতে ১৬৪ ধারায় প্রধান আসামির স্বীকারোক্তি

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করার পাশাপাশি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্যদের নামও প্রকাশ করেছেন বলে আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক নূসরত জাহানের খাসকামরায় তিনি এ জবানবন্দি দেন। পরে রাত ৮টার দিকে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার ফজলুল হক আমিনী দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের কারী রুহুল আমিনের ছেলে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামে তাঁর চাচাতো ভাই বসির আহম্মেদের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন জানান, শনিবার রাতে বসির আহম্মেদের বাড়ি থেকে ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার সন্ধ্যায় তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি শামীম হত্যা মামলায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।আরোও পড়ুন,১০ বছরে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আটক প্রবাসী স্বামী জবানবন্দি শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালতসংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, জবানবন্দিতে ফজলুল হক দাবি করেন, শামীম নাস্তিক ছিলেন। তাঁকে হত্যার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না; ঘটনাটি ‘এক্সিডেন্টলি’ হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, আপাতত আইনের দৃষ্টিতে তিনি অপরাধী হলেও আল্লাহর দৃষ্টিতে তিনি কী, তা আল্লাহই ভালো জানেন। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের নামও তিনি প্রকাশ করেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে। তবে জবানবন্দিতে দেওয়া বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং অন্যদের বিষয়ে তাঁর সুনির্দিষ্ট বক্তব্য আদালতের নথি থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফজলুল হক আমিনীর চাচাতো ভাই ও কালিগঞ্জের ফরিদপুর গ্রামের বাসিন্দা বসির আহম্মেদ জানান, ফজলুলের জন্ম ফরিদপুর গ্রামে। প্রায় ২৮ বছর আগে তাঁর বাবা কারী রুহুল আমিন পরিবারসহ দেবহাটার দক্ষিণ পারুলিয়ায় বসবাস শুরু করেন। ফজলুল ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বসির আহম্মেদের ভাষ্য অনুযায়ী, শামীম হত্যার পর ফজলুল তাঁর বাড়িতে চলে আসেন। শনিবার রাত ১০টার দিকে স্ত্রী ও সন্তানের জীবন রক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করে আদালতে আত্মসমর্পণের বিষয়ে তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করেন। এ নিয়ে স্থানীয় বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন বসির। তবে তাঁদের মধ্যে পরবর্তী আলোচনা শেষ হওয়ার আগেই রাত সাড়ে ১০টার দিকে এসআরবি সদস্যরা বাড়িতে প্রবেশ করেন। ফজলুলের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর রাত পৌনে ১১টার দিকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের বড় শান্তা গ্রামের মৃত শামছুদ্দিন সানার ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীম দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ বছর ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মহানবীকে কটূক্তি করেছেন এমন অভিযোগসংবলিত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে ঘিরে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যার পর ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে একদল লোক শামীমের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে তাঁকে মারধর করে। পরে তাঁকে কুলিয়ার ডা. এমএ সবুর ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।আরোও পড়ুন,ধর্মীয় পরিচয়ে বৌদ্ধ: ভক্তি ও বিশ্বাসের টানে বাড়ির আঙিনায় শারদীয় দুর্গাপূজা পরদিন ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় একই ব্যক্তির নেতৃত্বে আবারও তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই রাতেই সেখানকার হাসপাতালের ওয়ার্ডে ঢুকে চিকিৎসক, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে শামীমের ওপর তৃতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আব্দুল জলিল বাদী হয়ে গত ১৫ অক্টোবর দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ফজলুল হক আমিনী, পারুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি কামরুল গাজীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর পুলিশ ১৫ অক্টোবর রাতে মোক্তার হোসেন খান এবং ১৬ অক্টোবর সকালে নিজ বাড়ি নাজিরের ঘের এলাকা থেকে আসাদুল্লাহ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে। শামীম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতোমধ্যে প্রধান আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। এখন তদন্তে হত্যাকাণ্ডে কারা কীভাবে জড়িত ছিলেন, সহিংসতার সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল এবং হাসপাতালে হামলার ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল—এসব বিষয় উদ্‌ঘাটন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ধর্মীয় পরিচয়ে বৌদ্ধ:  ভক্তি ও বিশ্বাসের টানে বাড়ির আঙিনায় শারদীয় দুর্গাপূজা

ধর্মীয় পরিচয়ে বৌদ্ধ: ভক্তি ও বিশ্বাসের টানে বাড়ির আঙিনায় শারদীয় দুর্গাপূজা

ধর্মীয় পরিচয়ে বৌদ্ধ, তবে ভক্তি ও বিশ্বাসের টানে বাড়ির আঙিনায় আয়োজন করেছেন শারদীয় দুর্গাপূজা।  খাগড়াছড়ি পৌর শহরের নারিকেল বাগান এলাকায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী চাকমা পরিবারের এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন ঘিরে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। এক বছর আগে পাওয়া দুর্গাপ্রতিমায় এবার পূজার্চনা চলছে। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ আয়োজন। শহরের নারিকেল বাগান এলাকায় জুমলাইন দোকানের পেছনে রিটন চাকমা ও সুপ্তা চাকমা দম্পতির বাড়ির আঙিনায় গড়ে তোলা হয়েছে অস্থায়ী ‘দুর্গেশ্বরী মন্দির’। পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে আয়োজিত এ পূজায় সহযোগিতা করছেন স্থানীয় হিন্দু বাঙালিরা। পূজা উদ্‌যাপন কমিটির তালিকায় মন্দিরটি এবার সাত নম্বরে স্থান পেয়েছে। আয়োজকদের দাবি, জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসন ও সেনা জোন থেকেও মন্দিরের জন্য অনুদান দেওয়া হয়েছে। সুপ্তা চাকমা বলেন, “ধর্ম মানুষকে ভেদাভেদ করে না, বরং শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করে। বৌদ্ধরা দুর্গাপূজা করতে পারবে না, এমন কথা কোথাও লেখা নেই। আমরা দুর্গাপূজা করলেও বৌদ্ধ ধর্ম ত্যাগ করছি না।” মণ্ডপে পৌরোহিত্য করছেন গঞ্জপাড়া শ্মশান মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা সমীর আচার্য। শহরের আনন্দনগর এলাকার বাসিন্দা জুয়েল দে প্রতিমাটি দান করেছেন। যেভাবে শুরু এই ব্যতিক্রমী আয়োজন পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ-ছয় বছর আগে সুপ্তা চাকমা ও সবিতা চাকমার জেঠাতো ভাইয়ের ছেলে নিত্য চাকমাকে ঘিরে দেবী দুর্গার ‘ভর’ হওয়ার ঘটনা নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি হয়। নিত্য বর্তমানে পুলিশ লাইন্স স্কুলে নবম শ্রেণির বাণিজ্য বিভাগে পড়ছে। পরিবারের দাবি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই সে কাদামাটি দিয়ে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করত এবং দেবীর মহিমা বর্ণনা করত। পিতৃহীন নিত্যর বাড়ি পাশের মহাজন পাড়ায়। তার ইচ্ছায় গত বছর ঘরোয়াভাবে দুর্গাপূজা শুরু করেন অভিভাবকেরা। তবে সামাজিক চাপের কারণে সেখানে পূজার আয়োজন প্রত্যাশিতভাবে করা সম্ভব হয়নি। পরে নিত্যর দুই পিসি সবিতা চাকমা ও সুপ্তা চাকমা নিজেদের নারিকেল বাগানের বাড়িতে এবার বড় পরিসরে পূজার আয়োজন করেন। সবিতা চাকমার দাবি,আরোও পড়ুন,১০ বছরে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আটক প্রবাসী স্বামী নিত্যর ওপর দেবীর ভর হওয়ার ঘটনা দেখেই তাঁরা বিশ্বাসী হয়ে ওঠেন।  সুপ্তা চাকমার ভাষ্য, নিত্য কখনো কখনো উপস্থিত না থেকেও বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে বর্ণনা দিতে পারে। এসব ঘটনাকে তাঁরা দেবীর কৃপা হিসেবে দেখেন। নারিকেল আনতে গিয়ে ১০৮ পদ্মফুলের সন্ধান প্রতিমা দানকারী জুয়েল দে গত ১৭ অক্টোবরের একটি ঘটনার বর্ণনা দেন। তাঁর দাবি, বন্ধুদের সঙ্গে কোথাও যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় নিত্য তাঁকে ঘট বসানোর জন্য একটি নারিকেল বাজার থেকে এনে দিতে বলে। মোটরসাইকেলে ওঠার পর সেটি চলছিল না বলে দাবি করেন তিনি। পরে বাজারে গিয়ে একটি নারিকেল পান। জুয়েলের ভাষ্য অনুযায়ী, নারিকেল কেনার সময় দোকানদার তাঁকে জানান, নিত্যর জন্য ১০৮টি পদ্মফুল আলাদা করে রাখা হয়েছে। কিন্তু সেগুলো কীভাবে পাঠাবেন, তা বুঝতে পারছিলেন না। পরে জুয়েল নারিকেল ও পদ্মফুল নিয়ে নিত্যর কাছে পৌঁছালে নিত্য তাঁকে বলে, “আঙ্কেল, আমি জানতাম আপনি আসবেন।” ঘটনাটিকে পরিবারের সদস্যরা অলৌকিক বলে বিশ্বাস করলেও এর কোনো স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি। মহাজন পাড়া রক্ষার দাবিও পরিবারের সবিতা চাকমা, সুপ্তা চাকমা ও বিমলা দেবী নাথের দাবি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মহাজন পাড়ায় সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটলেও নিত্যর অলৌকিক শক্তির কারণে এলাকাটি রক্ষা পেয়েছিল। তাঁদের এ দাবিরও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, লাল-গেরুয়া বসনে দেবী দুর্গার প্রতিমার সামনে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় বসে আছে নিত্য চাকমা। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিন্নতার মধ্যেও বিশ্বাস, পারিবারিক উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় আয়োজিত এ পূজা খাগড়াছড়ি শহরে ব্যতিক্রমী আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা।

১০ বছরে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আটক প্রবাসী স্বামী

১০ বছরে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আটক প্রবাসী স্বামী

অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ; পূবাইলে রেললাইনের পাশে ছুরিকাঘাতে স্ত্রীর মৃত্যু গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলে স্ত্রী হাসনা আক্তারকে ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে আটক হয়েছেন প্রবাসী স্বামী রফিকুল ইসলাম। বিদেশ থেকে পাঠানো প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং স্ত্রীকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে তাঁর এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানাধীন হায়দরাবাদ শুকুন্দিরবাগ এলাকার হান্নান মার্কেটসংলগ্ন মাওরারটেক রেললাইনের কাছে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন রফিকুলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। গুরুতর আহত হাসনাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। আটক রফিকুল ইসলাম নওগাঁ জেলার মান্দা থানার বড়ট্রকাঠের ডাংগা গ্রামের মৃত সিরাজ মণ্ডলের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রফিকুল ও হাসনা সম্পর্কে নানা-নাতনী। প্রায় চার বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। ১০ বছরে ২০ লাখ টাকা পাঠানোর দাবি রফিকুলের দাবি, গত ১০ বছরে বিদেশ থেকে তিনি প্রায় ২০ লাখ টাকা পাঠিয়েছেন। ওই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। পাশাপাশি স্ত্রীকে অন্য জায়গায় বিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। এসব বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানা গেছে।আরও পড়ুন,স্বদেশ আইডিয়াল হাই স্কুল এন্ড কলেজ / মাদ্রাসায় বার্ষিক কুইজ প্রতিযোগিতা ২০২৬ অনুষ্ঠিত তবে তাঁদের বিয়ের সময়কাল, বিদেশে থাকার সময় এবং অর্থ পাঠানোর হিসাব সম্পর্কে আরও যাচাই প্রয়োজন। টাকা আত্মসাৎ কিংবা অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ভাড়া বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, ঘটনার দিন রোববার দুপুরে রফিকুল তাঁর স্ত্রী হাসনাকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন খাইলকুর এলাকার ভাড়া বাসা থেকে পূবাইলের হায়দরাবাদ মাওরারটেক রেললাইন এলাকায় ডেকে নিয়ে যান। পরে রেললাইনের কাছাকাছি নির্জন স্থানে ধারালো ছুরি দিয়ে হাসনার গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসনার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা রফিকুলকে আটক করেন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় হাসনাকে উদ্ধার করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু খবর পেয়ে পূবাইল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রফিকুলকে হেফাজতে নেয়। গুরুতর আহত হাসনাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ‘টাকা নিয়ে অন্যের সঙ্গে সংসার করবে, সহ্য করতে পারব না’ আটক হওয়ার পর রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার বউ আমার টাকা নিয়ে অন্য একজনের সঙ্গে সংসার করবে, এটা আমি সহ্য করতে পারব না। তাকে মেরে আমিও মরে যাব।” তাঁর বক্তব্যে অর্থ লেনদেন ও দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে ক্ষোভের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগ হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ। অর্থ আত্মসাৎ বা অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ সত্য হলেও তা কোনোভাবেই সহিংসতা বা হত্যাকাণ্ডের বৈধতা দেয় না। রেলওয়ে থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর ঘটনাস্থল রেললাইনের কাছাকাছি হওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য পূবাইল থানা-পুলিশ আটক রফিকুল ও মরদেহ সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে থানার (জিআরপি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মামলার অগ্রগতি, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার বিস্তারিত আরও স্পষ্ট হবে।

স্বদেশ আইডিয়াল হাই স্কুল এন্ড কলেজ / মাদ্রাসায় বার্ষিক কুইজ প্রতিযোগিতা ২০২৬ অনুষ্ঠিত

স্বদেশ আইডিয়াল হাই স্কুল এন্ড কলেজ / মাদ্রাসায় বার্ষিক কুইজ প্রতিযোগিতা ২০২৬ অনুষ্ঠিত

তারিখ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, রোজ রবিবার।স্বদেশ আইডিয়াল হাই স্কুল এন্ড কলেজ / মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক কুইজ প্রতিযোগিতা ২০২৬-এ প্রথম পুরস্কার অর্জন করেছে দুইজন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে গৌরব বয়ে এনেছে আমার ছেলে জুনায়েদ আহমেদ জনি। ছেলের এই অসাধারণ সাফল্যে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তার মেধা, পরিশ্রম ও অর্জনের জন্য মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। ভবিষ্যতেও সে যেন পড়াশোনায় আরও ভালো ফলাফল করে এবং জীবনে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে সবার কাছে সেই দোয়া কামনা করছি।আরও পড়ুন,মাদারগঞ্জে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ত্রাণ তহবিল থেকে শাড়ি বিতরণশিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এমন সুন্দর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য স্বদেশ আইডিয়াল হাই স্কুল এন্ড কলেজ / মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন। 

আন্তর্জাতিক

নিরাপত্তা উদ্বেগে রিয়াদের কিংডম সেন্টার বন্ধ

নিরাপত্তা উদ্বেগে রিয়াদের কিংডম সেন্টার বন্ধ

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর অব্যাহত হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের অন্যতম প্রধান স্থাপনা ৯৯ তলাবিশিষ্ট কিংডম সেন্টারের দাপ্তরিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভবনটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে ভবনটির নিচের অংশের বিপণিবিতান খোলা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ভবনের ভাড়াটিয়া ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে পাঠানো ই-মেইল বার্তায় পরিচালনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্দেশিত সময়ে কর্মীদের সশরীরে অফিসে উপস্থিত না হতে অনুরোধ করা হচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে সৌদি আরবে সম্ভাব্য হামলা ও ভ্রমণ নিরাপত্তা নিয়ে নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মিশনের জরুরি নিরাপত্তা বার্তায় বিমানবন্দরে সম্ভাব্য হামলা, আকাশসীমা বন্ধ, ফ্লাইট বাতিল এবং অন্যান্য ভ্রমণ জটিলতার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আরও পড়ুন,হেলিকপ্টার ভূপাতিতের দাবি হুথিদেরবার্তায় আরও জানানো হয়েছে, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে মার্কিন মিশন উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু থাকলেও বিভিন্ন ফ্লাইটের সময়সূচিতে বিলম্ব ও বাতিলের ঘটনা ঘটছে বলে জানানো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিমানযাত্রীদের যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন মিশন। পাশাপাশি সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের পাঠানো জরুরি মোবাইল বার্তা ও নিরাপত্তা সতর্কতা অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিমান চলাচল ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে কিংডম সেন্টার বন্ধের সিদ্ধান্তের সঙ্গে হুথিদের নির্দিষ্ট কোনো হামলার সরাসরি যোগসূত্র স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

৮ ঘন্টা আগে

রাজধানী

১০০ ফিট সড়কে অবশিষ্ট ১০ ফুট, দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পথচারীরা

১০০ ফিট সড়কে অবশিষ্ট ১০ ফুট, দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পথচারীরা

রাজধানীর ভাটারা থানার মাদানী অ্যাভিনিউয়ের ১০০ ফিট সড়কের বড় অংশ দখল করে রেখেছেন হকার ও অবৈধভাবে পার্কিং করা অটোরিকশার চালকরা। সড়কের এক পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে অটোরিকশা, অন্য পাশে মূল সড়কজুড়ে বসানো হয়েছে অস্থায়ী দোকানপাট। এতে সংকুচিত হয়ে পড়েছে যান চলাচলের জায়গা। প্রতিদিন যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন পথচারী, যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটপাত ছাড়িয়ে মূল সড়কের ওপর তিন থেকে চার সারিতে দোকানপাট বসিয়েছেন হকাররা। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৯০ ফুট জায়গা দখল হয়ে থাকায় কোনো কোনো স্থানে যান চলাচলের জন্য মাত্র ১০ ফুট জায়গা অবশিষ্ট রয়েছে। ফলে প্রশস্ত এই সড়ক দিয়ে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।ব্যস্ত সময়ে সড়কটিতে যানবাহনের গতি কমে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে চলন্ত যানবাহনের পাশ দিয়ে কিংবা মূল সড়ক ধরে হাঁটতে হচ্ছে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে মানুষের চলাচল বাড়লে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।সড়কের দুই পাশে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও সংযোগস্থলের কাছেও ব্যক্তিগত গাড়ি, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন যত্রতত্র পার্কিং করে রাখতে দেখা যায়। আরও  পড়ুন, উত্তরায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়াহকারদের দখল ও অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং মিলিয়ে সড়কটির চলাচলযোগ্য জায়গা আরও কমে গেছে। ফলে অল্প দূরত্ব অতিক্রম করতেও অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে যাত্রীদের।১০০ ফিট সড়কসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মো. সিরাজ মিয়া বলেন, ফুটপাত দখলের কারণে মানুষের চলাচলে প্রতিদিনই দুর্ভোগ হচ্ছে। সকাল, দুপুর, বিকেল কিংবা সন্ধ্যা সব সময়ই যানজট লেগে থাকে। ফুটপাত দখল ও অবৈধ অটোরিকশার স্ট্যান্ডের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।এ বিষয়ে ডিএমপির ট্রাফিক গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. তারেক জুবায়ের বলেন, ১০০ ফিট সড়ক দখল করে দোকান বসানোর বিষয়টি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে। দুর্গাপূজার নিরাপত্তা কার্যক্রম শেষ হলে ক্রাইম ডিভিশনের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে পুরো সড়ক দখলমুক্ত করা হবে।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে অবৈধ পার্কিং এবং অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত অবস্থান নিয়ন্ত্রণে এনে পথচারী ও যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

১৫ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৫ জন

খেলাধুলা

চার মিনিটে মেসির জোড়া গোল, ইন্টার মায়ামির দাপুটে জয়

চার মিনিটে মেসির জোড়া গোল, ইন্টার মায়ামির দাপুটে জয়

যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে দলকে ৩-১ ব্যবধানের জয় এনে দিয়েছেন তিনি। এই জয়ে এমএলএসে চলতি মৌসুমে মেসির গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫-এ।বাংলাদেশ সময় রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে আটলান্টা ইউনাইটেডের মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে এগিয়ে যায় ইন্টার মায়ামি। মেক্সিকান স্ট্রাইকার জার্মান বেরতেরামে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ়ভাবে নিজেদের হাতে নেয় মায়ামি।ম্যাচের ৫৬তম মিনিটে ডান দিক থেকে বল নিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ঢুকে বেরতেরামের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করেন মেসি। এরপর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচু শটে জালে বল পাঠান আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।চার মিনিট পর আবারও গোল করেন মেসি। এবার লুইস সুয়ারেজের বাড়ানো বলে পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে গিয়ে প্রতিপক্ষের আরেক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।আরও  পড়ুন, জিম্বাবুয়ের কাছে বড় হার, ফাইনালে উঠতে কঠিন সমীকরণের সামনে বাংলাদেশ  মেসির জোড়া গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইন্টার মায়ামি।ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করেন আটলান্টার সাবেক মায়ামি ফরোয়ার্ড ফাফা পিকো। তবে তাতে ম্যাচের ফল বদলায়নি। ৩-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মায়ামি।এই জোড়া গোলের মাধ্যমে এমএলএসের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসি নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন। ২৫ গোল নিয়ে তিনি প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতা। পাশাপাশি তাঁর অ্যাসিস্টসংখ্যা ১৫-তে পৌঁছেছে, যা লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির সন হিউং-মিনের সঙ্গে যৌথভাবে লিগে সর্বোচ্চ। এমএলএসের ইতিহাসে টানা তিন মৌসুমে অন্তত ১৫টি করে অ্যাসিস্ট করা প্রথম খেলোয়াড়ও হয়েছেন মেসি।এ জয়ের মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয় জয় পেয়েছে ইন্টার মায়ামি। প্লে-অফ নিশ্চিত করা দলটি ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষস্থানীয় দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, আটলান্টা ইউনাইটেডের প্লে-অফে জায়গা করে নেওয়ার লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।পরবর্তী ম্যাচে নিউইয়র্ক রেড বুলসের মুখোমুখি হবে ইন্টার মায়ামি। মেসির এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে মৌসুমের শেষ পর্যায়ে দলটির আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সমর্থকেরা।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!