দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

অভিযোগের পরও কেন বিলম্ব, প্রশ্ন পুলিশের কার্যক্রম

অভিযোগের পরও কেন বিলম্ব, প্রশ্ন পুলিশের কার্যক্রম

দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্ব পুলিশের। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ, অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এসব দায়িত্ব পালনে পুলিশের তৎপরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন মহলে এমন প্রশ্ন উঠছে যে, অপরাধের তথ্য পাওয়ার পরও কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের পরিবর্তে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে অপরাধ প্রতিরোধে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে জনমনে প্রত্যাশা অনেক। কোথাও মাদক বিক্রি, কোথাও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, কোথাও চাঁদাবাজি, আবার কোথাও আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস ও স্পাকেন্দ্রকে ঘিরে নানা অভিযোগ—এসব বিষয়ে নাগরিকেরা পুলিশের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পর যদি দ্রুত পদক্ষেপের পরিবর্তে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়, তাহলে অভিযোগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। একই সঙ্গে অপরাধীরা সুযোগ পেয়ে নিজেদের তৎপরতা অব্যাহত রাখতে পারে—এমন আশঙ্কাও দেখা দেয়। তবে পুলিশের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধীরগতি রয়েছে, কিংবা সব অভিযোগের পর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য ও ঘটনাভিত্তিক যাচাই প্রয়োজন। বাস্তবতা হলো, অপরাধের ধরন, অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা, সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতি, জনবল এবং আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর পদক্ষেপের ধরন নির্ভর করে। তবু জননিরাপত্তার স্বার্থে অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত যাচাই, দায়িত্ব নির্ধারণ এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিশ্চিত করা জরুরি। অপরাধসংক্রান্ত তথ্য দিতে গিয়ে কোনো নাগরিক বা সাংবাদিক যদি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে শুধু ‘সিনিয়রদের জানান’ এমন পরামর্শ পান, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, মাঠপর্যায়ের পুলিশের দায়িত্ব কোথায়? ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া যেন অপরাধ প্রতিরোধের বিকল্প হয়ে না দাঁড়ায়। একজন নাগরিক কোনো এলাকায় মাদক বিক্রি, চাঁদাবাজি, কিংবা অনৈতিক কারবার উপস্থিতি সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য দিলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত তথ্যটি গ্রহণ করা, আরও পড়ুন,আবেরা’ স্পা ঘিরে অভিযোগ, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্নপ্রয়োজনীয় বিবরণ সংগ্রহ করা এবং ঝুঁকি বিবেচনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সার্কেল কর্মকর্তা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, উপকমিশনার কিংবা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। তবে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিষয়টি যাচাই না করে কেবল অন্য দপ্তরে পাঠিয়ে দিলে কার্যকর ফল পাওয়া কঠিন। বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, একটি কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থায় দায়িত্বের স্পষ্ট বণ্টন, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জবাবদিহি এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ প্রয়োজন হলে তা দ্রুত নেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। কিন্তু সাধারণ আইনগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও যদি অপ্রয়োজনীয় অনুমতির অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে অপরাধ প্রতিরোধের গতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর কে ব্যবস্থা নেবেন, কত দ্রুত প্রাথমিক যাচাই হবে এবং পরবর্তী অগ্রগতি কী—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট কর্মপদ্ধতি থাকা প্রয়োজন। অভিযোগকারীকে বারবার বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর পরিবর্তে একটি কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে নাগরিকদের ভোগান্তি কমবে। মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, প্রতারণা এবং বিভিন্ন অনিয়ম জননিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন তদন্ত এবং অপরাধীদের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা প্রয়োজন। মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শুধু খুচরা বিক্রেতা বা মাদক বহনকারীদের গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। মাদকের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা, অর্থায়ন এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্রের ভূমিকা অনুসন্ধান করতে হবে। একই সঙ্গে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ বাড়ানো এবং তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। কিশোর গ্যাংয়ের ক্ষেত্রেও কেবল গ্রেপ্তারনির্ভর ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারামারি, ছিনতাই কিংবা অন্যান্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের পৃষ্ঠপোষকতা, অর্থের উৎস এবং সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে হবে। স্কুল-কলেজ, পরিবার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সামাজিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে প্রতিরোধমূলক কর্মসূচিও চালাতে হবে। চাঁদাবাজির অভিযোগের ক্ষেত্রেও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় ভয়ভীতি বা প্রতিশোধের আশঙ্কায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করতে চান না। তাই অভিযোগকারীর পরিচয় ও নিরাপত্তা রক্ষার ব্যবস্থা, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করার ব্যবস্থা থাকা দরকার। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, ভাড়া করা ফ্ল্যাট ও স্পাকেন্দ্রকে ঘিরে মাঝেমধ্যে নানা ধরনের অভিযোগ সামনে আসে। কোথাও অননুমোদিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম, কোথাও লাইসেন্সসংক্রান্ত অনিয়ম, আবার কোথাও মাদক, মানব পাচার, আরও পড়ুন,শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসবপ্রতারণা কিংবা যৌন শোষণের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। তবে অভিযোগ গুরুতর হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রথমে তার বৈধ কাগজপত্র, ট্রেড লাইসেন্স, ভবন ব্যবহারের অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণের বিষয় যাচাই করা যেতে পারে। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী পুলিশ, স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে মানব পাচার, জোরপূর্বক যৌন শোষণ, মাদক সরবরাহ কিংবা কোনো ব্যক্তিকে আটকে রাখার মতো অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা জরুরি। ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রমাণ সংগ্রহ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বৈধভাবে পরিচালিত হোটেল বা স্পাকেন্দ্রের কর্মীদের অযথা হয়রানি না করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় কতটা কার্যকর? একটি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে একাধিক দপ্তরের কাছে অভিযোগ থাকলে কে তদন্তের নেতৃত্ব দেবে, কে নথিপত্র যাচাই করবে এবং কে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেবে তা নির্ধারিত থাকা প্রয়োজন। সমন্বয়ের অভাবে কোনো অভিযোগ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে জনমনে প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। অপরাধ দমনে পুলিশের সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো আইন প্রয়োগের সময় সংঘবদ্ধ জনতার বাধা বা মব সৃষ্টি। কোনো অভিযান, গ্রেপ্তার কিংবা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের কাজে বাধা দিলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে। কোথাও পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা কিংবা আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে জনতার প্রতিটি সমাবেশকে মব হিসেবে বিবেচনা করা কিংবা পুলিশের প্রতিটি বলপ্রয়োগকে যথার্থ বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কোনো ঘটনার প্রকৃতি, পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, ভিডিওচিত্র এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করতে হবে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং সহিংসভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। আইন প্রয়োগের সময় পুলিশকে পেশাদারত্ব, সংযম এবং আনুপাতিক বলপ্রয়োগের নীতি অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশের বৈধ দায়িত্ব পালনে বাধা, হামলা কিংবা অপরাধীকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত কি না, তা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ার; জনতার শাস্তি দেওয়ার অধিকার নেই। পুলিশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকের অধিকার রক্ষা—দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য সংঘবদ্ধ সহিংসতা মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত জনবল, কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা এবং ঘটনার ভিডিও ও অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণের ব্যবস্থা প্রয়োজন। পাশাপাশি পুলিশের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা অসদাচরণের অভিযোগ উঠলেও তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। এতে পুলিশের প্রতি আস্থা এবং আইন প্রয়োগের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। অপরাধের ঘটনা ঘটার পর থানার পুলিশ যদি প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে নির্দেশের অপেক্ষায় থাকে, তাহলে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ ব্যাহত হতে পারে। তবে সব সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে নেওয়া সম্ভব নয়; কিছু ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন কিংবা বিশেষায়িত সংস্থার সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। তাই কোন ধরনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে এবং কোন ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের অনুমোদন লাগবে, তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা দরকার। থানায় অভিযোগ গ্রহণ, সাধারণ ডায়েরি, মামলা, জরুরি সাড়া এবং তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য কার্যকর মানদণ্ড থাকা প্রয়োজন। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পুলিশ পাঠানো, ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি থানার কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করে অযৌক্তিক বিলম্বের কারণ শনাক্ত করা জরুরি। কোনো অভিযোগের পর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তার কারণ নথিভুক্ত করতে হবে। অভিযোগটি ভিত্তিহীন, এখতিয়ারবহির্ভূত কিংবা অতিরিক্ত তদন্তের প্রয়োজন আছে কি না, আরও পড়ুন,জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হোক জাতীয় অগ্রাধিকার, সম্মিলিত দায়িত্ব হোক বাস্তবায়নের শক্তিতা স্পষ্টভাবে জানানো হলে অভিযোগকারীও বিষয়টি বুঝতে পারবেন। এতে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কমবে এবং পুলিশি সেবায় স্বচ্ছতা বাড়বে। অপরাধ দমনে কার্যকর ফল পেতে সরকারের নীতিগত নির্দেশনা এবং পুলিশ সদর দপ্তরের প্রশাসনিক তদারকি গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু কঠোর নির্দেশ জারি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য জনবল, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, জবাবদিহি এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করতে হবে। প্রথমত, অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত যাচাই ও পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সময়ভিত্তিক কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করা যেতে পারে। জরুরি অভিযোগের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সাড়া এবং অন্যান্য অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রাথমিক যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, থানা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কার্যক্রম মূল্যায়নে শুধু গ্রেপ্তার বা অভিযানের সংখ্যা নয়, অপরাধ প্রতিরোধ, অভিযোগ নিষ্পত্তি, তদন্তের মান এবং নাগরিকের নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে। তৃতীয়ত, মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করতে হবে। স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তথ্যদাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, পুলিশের ওপর হামলা কিংবা আইন প্রয়োগে বাধার ঘটনা এবং পুলিশের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ—উভয় ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা থাকতে হবে। অপরাধী যে-ই হোক, প্রমাণের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পঞ্চমত, হোটেল, গেস্ট হাউস, স্পাকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। নিয়মিত পরিদর্শন, লাইসেন্স যাচাই এবং আইনভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ষষ্ঠত, পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা বা অযৌক্তিক বিলম্বের অভিযোগ জানানোর জন্য সহজলভ্য অভিযোগব্যবস্থা রাখতে হবে। অভিযোগের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা পর্যালোচনার সুযোগ থাকলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।পুলিশের কার্যকারিতা শুধু অভিযান বা গ্রেপ্তারের সংখ্যায় পরিমাপ করা যায় না। একজন নাগরিক বিপদের সময় কত দ্রুত সহায়তা পাচ্ছেন, অভিযোগ জানানোর পর কতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং অপরাধের বিরুদ্ধে আইন কতটা নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা কমে গেলে অপরাধের তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত যাচাই ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে নাগরিকেরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতায় উৎসাহিত হন। এ কারণে পুলিশের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক উন্নয়ন, স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত মতবিনিময় এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির অগ্রগতি জানানো প্রয়োজন। সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও অপরাধসংক্রান্ত তথ্যের নিরপেক্ষ যাচাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং অভিযোগের অগ্রগতি অনুসরণ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আগাম অপরাধী হিসেবে আখ্যায়িত না করে প্রমাণ, নথিপত্র ও আইনগত অবস্থান বিবেচনায় প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। এতে জনস্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাও বজায় থাকবে। মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম প্রতিরোধে পুলিশের সক্রিয়তা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জবাবদিহির বিকল্প নেই। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগের সময় পুলিশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মব সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে হবে। অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর শুধু ‘সিনিয়রদের জানান’ বলে দায়িত্ব শেষ করা কোনো কার্যকর সমাধান হতে পারে না। প্রয়োজন তথ্য গ্রহণ, দ্রুত যাচাই, যথাযথ পদক্ষেপ এবং ফলাফল পর্যবেক্ষণের সমন্বিত ব্যবস্থা। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও মাঠপর্যায়ের পুলিশের কার্যকর উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। সরকার ও পুলিশ সদর দপ্তরের উচিত অপরাধ দমনে বাস্তবভিত্তিক নির্দেশনা, নিয়মিত তদারকি এবং দায়িত্বে অবহেলার ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা। তবে কঠোরতা মানে নির্বিচার বলপ্রয়োগ নয়।  আইনের সীমার মধ্যে দৃঢ়, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণই হওয়া উচিত পুলিশের মূলনীতি। অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা, নিরপরাধ নাগরিককে হয়রানি থেকে রক্ষা করা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই পুলিশের কার্যকারিতা প্রমাণিত হবে। আইন প্রয়োগে অযথা বিলম্ব ও দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দূর করে পেশাদার, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।আরও পড়ুন,বনানীর গেস্ট হাউসের অন্ধকার জগৎ নিয়ে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধএবিষয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেণ, অপরাধ দমনে পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে দায়িত্বশীল, পেশাদার ও তৎপর ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো অপরাধের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর তা অবহেলা করা কিংবা অযথা সময়ক্ষেপণ করা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করতে হবে, তবে এর কারণে আইনগত দায়িত্ব পালনে বিলম্ব করা যাবে না। অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, অবৈধ কর্মকাণ্ড এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ নিয়মিত কাজ করে। এসব অপরাধ নির্মূলে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ অপরাধসংক্রান্ত তথ্য দিলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা এবং তথ্যদাতার নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, পুলিশের আইনানুগ দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, হামলা করা কিংবা সংঘবদ্ধভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। একই সঙ্গে পুলিশকেও দায়িত্ব পালনের সময় আইন, মানবাধিকার ও পেশাগত আচরণবিধি অনুসরণ করতে হবে। কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা বা অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করা। জনসাধারণের বক্তব্য অনুযায়ী তারা বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ চাই, পুলিশ যেন অপরাধের তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। কোনো এলাকায় মাদক বিক্রি, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, চাঁদাবাজি কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ জানালে পুলিশ যদি শুধু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাতে বলে, তাহলে সাধারণ মানুষ হতাশ হন। অপরাধীরা সুযোগ পেলে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়, আর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। আমরা চাই, থানায় অভিযোগ জানালে পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তা যাচাই করবে এবং অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে পুলিশের দায়িত্ব পালনের সময় কেউ যেন সংঘবদ্ধভাবে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশকে যেমন দায়িত্বশীল হতে হবে, তেমনি জনগণকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করতে হবে। আমাদের দাবি, সরকার ও পুলিশ প্রশাসন অপরাধ দমনে কার্যকর নির্দেশনা দিক এবং মাঠপর্যায়ে তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করুক। পুলিশের কোনো সদস্য দায়িত্বে অবহেলা করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আবার পুলিশ আইনানুগ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়লে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাও দিতে হবে। আমরা এমন একটি নিরাপদ সমাজ চাই, যেখানে অপরাধী যে-ই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না এবং সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে বসবাস করতে পারবেন।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ৬৮ জন নিহত, বাংলাদেশি হতাহতের খবর নেই

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় কোনো বাংলাদেশি নাগরিক হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে মাদ্রিদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় তারা গভীর শোক প্রকাশ করছে। নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে দূতাবাস। দূতাবাস জানায়, দুর্ঘটনার পর থেকে সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।আরও পড়ুন,ডেঙ্গুতে আরও ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৯৮২ জন এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কোনো বাংলাদেশি নাগরিক হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, বুধবার স্পেনে সংঘটিত ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ৬৮ জন নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর হতাহতদের পরিচয় শনাক্ত ও পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।

ডেঙ্গুতে আরও ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৯৮২ জন

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৮২ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০৯ জনে। আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার। বুধবার ২৮ অক্টোবর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন করে ৮১৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে মারা গেছেন ছয়জন। চট্টগ্রাম বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩১৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ বিভাগে মৃত্যু হয়েছে একজনের। খুলনা বিভাগে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১৪ জন। সেখানেও একজনের মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহী বিভাগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১৭ জন এবং এ বিভাগেও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ১৯৪ জন, রংপুর বিভাগে ১১৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮৪ জন এবং সিলেট বিভাগে ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।আরো পড়ুন, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় নতুন উদ্যোগস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৬০৫ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৬ হাজার ২০৫ জন। বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। চলতি বছর এ বিভাগে মারা গেছেন ১৯২ জন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৭৭ জন, চট্টগ্রামে ৪০ জন, ময়মনসিংহে ৩৩ জন, বরিশালে ২৯ জন, রাজশাহীতে ২৮ জন, রংপুরে সাতজন এবং সিলেটে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চলায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।

গুলিস্তানে তিন ঘণ্টার অভিযানে উচ্ছেদ শতাধিক দোকান

 রাজধানীর গুলিস্তানে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করা এবং সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঢাকা ট্রেড সেন্টার ও ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেটসংলগ্ন এলাকায় ডিএসসিসি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যৌথ উদ্যোগে অভিযান চলে। এতে ডিএসসিসির চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, শতাধিক উচ্ছেদকর্মী এবং পুলিশের ছয়টি প্লাটুন অংশ নেয়। অভিযানকালে পে-লোডারসহ ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ফুটপাত ও সড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। পাশাপাশি হকারদের ফেলে যাওয়া বিভিন্ন সরঞ্জাম ও মালামাল জব্দ করা হয়।আরো পড়ুন,মিরপুর-১-এ আড়াই ঘণ্টায় দুই হাজার দোকান উচ্ছেদ, আধা ঘণ্টায়ই ফুটপাত দখল উচ্ছেদ কার্যক্রম সরেজমিনে তদারকি করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হকার নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি জানান, নির্ধারিত হলিডে ও নৈশকালীন মার্কেট ছাড়া মূল সড়কে কোনো হকারকে বসতে দেওয়া হবে না। বিশেষ করে গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক দখলমুক্ত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। উচ্ছেদের পর আবারও দখল করা হলে মালামাল জব্দের পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে বলেও জানান তিনি। অভিযান পরিচালনা করেন ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জোনায়েদ কবীর সোহাগ, সম্পত্তি কর্মকর্তা হাছিবা খান এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম। সিটি করপোরেশন সূত্রে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত থাকলে পথচারীদের চলাচল সহজ হবে এবং যানবাহন চলাচলেও শৃঙ্খলা ফিরতে পারে।

মিরপুর-১-এ আড়াই ঘণ্টায় দুই হাজার দোকান উচ্ছেদ, আধা ঘণ্টায়ই ফুটপাত দখল

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রায় আড়াই ঘণ্টার অভিযানে আনুমানিক দুই হাজার দোকান সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যেই কয়েকজন হকারকে আবারও ফুটপাতে দোকান নিয়ে বসতে দেখা যায়। এতে উচ্ছেদের স্থায়িত্ব, নজরদারি ও হকারদের পুনর্বাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।বিস্তীর্ণ এলাকায় অভিযানবুধবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মিরপুর-১-এর শাহ আলী মাজার এলাকা থেকে শাহ আলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ শপিং কমপ্লেক্স, ছিন্নমূল মার্কেট, ফেয়ার প্লাজা, মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, বাগদাদা ও সনি হল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও ফুটপাত থেকে দোকান সরানো হয়েছে। অভিযানের সময় ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এমন দখল উচ্ছেদে সিটি করপোরেশনের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।তবে অভিযান শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে আবারও ফুটপাতে বসতে দেখা যাওয়ায় উচ্ছেদ-পরবর্তী নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। একদিকে পথচারীদের চলাচলের জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তা, অন্যদিকে ফুটপাতনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা দুটি বিষয়ই সামনে এসেছে।উচ্ছেদের পরও কেন ফিরছেন হকাররা?অভিযানে দোকান সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হলেও পরবর্তী সময়ে একই স্থানে আবার দোকান বসানো ঠেকানো না গেলে উচ্ছেদের সুফল দীর্ঘস্থায়ী করা কঠিন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত তদারকি, দখল প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। হকাররা কেন আবার ফিরে আসছেন, অভিযান শেষে এলাকায় নজরদারির দায়িত্ব কার এবং পুনরায় দখল ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য প্রয়োজন।বিকল্প ব্যবস্থা চান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাউচ্ছেদ অভিযানে দোকান সরিয়ে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ফুটপাতনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থানে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তাঁরা। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া দোকান সরিয়ে দেওয়ায় পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। মো. মিলন নামে এক কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, “আমি কাপড়ের ব্যবসা করি। কিন্তু এখন কী করব, জানি না। আমাদের একটা ব্যবস্থা করে দিয়ে তারপর সরানো উচিত। আমরা কাজ করে খাই।” সাগর নামে এক জুয়েলারি ব্যবসায়ী বলেন, “এত দিন ধরে ব্যবসা করছি। এখন ফুটপাত থেকে তুলে দিচ্ছে। আমরাও উঠে যেতে চাই। তবে তার আগে বিকল্প ব্যবস্থা করা উচিত।” ব্যবসায়ীদের বক্তব্যে জীবিকা হারানোর উদ্বেগ উঠে এসেছে। তবে ফুটপাত দখলের কারণে সাধারণ পথচারীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি।আরো পড়ুন,দেশজুড়ে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা, কমতে পারে তাপমাত্রাডিএনসিসির ঘোষণা: দখলমুক্ত করা হবে সব ফুটপাতঅভিযান প্রসঙ্গে ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন সাংবাদিকদের বলেন, “আজ শুধু ফুটপাত উচ্ছেদের অভিযান নয়। আমি বারবার বলেছি, ঢাকা শহরের যেসব জায়গায় এ ধরনের জঞ্জাল রয়েছে এবং যেগুলো আমার প্রিয় নগরবাসীর হাঁটাচলায় বাধা সৃষ্টি করছে, প্রতিটি জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। প্রতিটি জায়গার ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে।”তাঁর বক্তব্যে নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার বিষয়ে সিটি করপোরেশনের কঠোর অবস্থান প্রতিফলিত হয়েছে। তবে মিরপুর-১-এর মতো ব্যস্ত এলাকায় অভিযান-পরবর্তী নজরদারি কীভাবে চলবে এবং পুনরায় দখল হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ।মালামাল বিক্রির সুযোগ চান হকাররাঅভিযান শেষ হওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে কয়েকজন দোকানিকে আবারও ফুটপাতে বসতে দেখা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফল ব্যবসায়ী বলেন, দোকানের মালামাল বিক্রি না হলে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। অন্তত মালামাল বিক্রির সুযোগ দেওয়া উচিত। ফল ব্যবসায়ীর বক্তব্যে পচনশীল পণ্য নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে পণ্য বিক্রির সুযোগ এবং পথচারীদের জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তার মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনার বিষয়।আরো পড়ুন,ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৭১মিরপুর-১০-এর ঘটনার পরও চ্যালেঞ্জএর আগে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকাতেও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মিরপুর-১-এ নতুন করে অভিযান পরিচালনা নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগকে সামনে এনেছে। তবে উচ্ছেদের পাশাপাশি দখল প্রতিরোধ, নিয়মিত তদারকি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য আইনসম্মত বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে একই স্থানে পুনরায় দোকান বসানোর প্রবণতা ঠেকানো কঠিন হতে পারে।স্থায়ী সমাধান কোথায়?ফুটপাত মূলত পথচারীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য। তাই ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখল হয়ে থাকা কাম্য নয়। একই সঙ্গে ফুটপাতনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও উপেক্ষা করা যায় না।এ অবস্থায় প্রয়োজন উচ্ছেদের পর নিয়মিত নজরদারি, পুনরায় দখল প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর সমন্বয় এবং প্রযোজ্য আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সম্ভাব্য বিকল্প ব্যবস্থার উদ্যোগ।মিরপুর-১-এর ফুটপাত শেষ পর্যন্ত কত দিন দখলমুক্ত থাকে, তা-ই বলে দেবে এই অভিযান নগরবাসীর চলাচলে স্থায়ী স্বস্তি আনতে পারছে, নাকি এটি সাময়িক উচ্ছেদ কার্যক্রম হিসেবেই থেকে যাচ্ছে।

রাজনীতিরাজনীতি

ভোটযুদ্ধকে ভোট উৎসবে পরিণত করতে চায় ইসি

ভোটযুদ্ধকে ভোট উৎসবে পরিণত করতে চায় ইসি

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখছে না নির্বাচন কমিশন। জাতীয় নির্বাচনের মতোই এই উপনির্বাচনকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে উপনির্বাচনের কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল পরিদর্শন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সিইসি জানান, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পুরো নির্বাচনী কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী এবং ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সমাধান করা হয়েছে। আরও পড়ুন,এক বছরের জন্য শ্রমিক অধিকার পরিষদের আংশিক কমিটিনির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, প্রশাসন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও সংস্থাকে দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য শুধু একটি নির্বাচন আয়োজন করা নয়; বরং দেশে ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি গড়ে তোলা। নির্বাচনের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সিইসি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ লোক মোতায়েন করতে হয়, যা অনেক দেশের জন্য অকল্পনীয়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা জরুরি। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ভোটযুদ্ধকে ভোট উৎসবে পরিণত করতে চায়। দেশে এমন একটি নির্বাচনী সংস্কৃতি গড়ে তোলাই কমিশনের লক্ষ্য, যেখানে ভোটাররা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

এক বছরের জন্য শ্রমিক অধিকার পরিষদের আংশিক কমিটি

এক বছরের জন্য শ্রমিক অধিকার পরিষদের আংশিক কমিটি

বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদের এক বছরের জন্য আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে মনজুর মোর্শেদ মামুন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আসাদুজ্জামান নুরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।বুধবার রাতে সংগঠনটির উপদেষ্টা নুরুল হক ও হাসান আল মামুন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কমিটিতে সহসভাপতি করা হয়েছে ইমরান খানকে। আরও পড়ুন,হানিফের মৃত্যুদণ্ড, কুষ্টিয়ার তিন নেতার আমৃত্যু কারাদণ্ডযুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন জাহিদুল ইসলাম এবং দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রুবেল হোসাইন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নবগঠিত আংশিক কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটির নেতারা শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, ন্যায্য দাবি আদায় এবং শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থে সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেবেন এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

হানিফের মৃত্যুদণ্ড, কুষ্টিয়ার তিন নেতার আমৃত্যু কারাদণ্ড

হানিফের মৃত্যুদণ্ড, কুষ্টিয়ার তিন নেতার আমৃত্যু কারাদণ্ড

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই মামলায় অপর তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান। মামলার চার আসামিই পলাতক।আরও পড়ুন,ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন: সুষ্ঠু ভোট হলে জয়ের আশাবাদ দুই প্রার্থীরমামলায় তিনটি অভিযোগমামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্যকে সমর্থন এবং আন্দোলনকারীদের হত্যা ও নির্যাতনে উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয় হানিফের বিরুদ্ধে। দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ওই সভা আয়োজনের পেছনে হানিফের নির্দেশনা ছিল।তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে আসামিদের নির্দেশে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালান। এতে ছয়জন নিহত হন। তাঁরা হলেন আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, বাবুল ফরাজী ও ইউসুফ শেখ।বিচারপ্রক্রিয়াপ্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ মামলার তদন্ত শুরু হয়। ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় এবং ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। ৮ ডিসেম্বর সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। এ মামলায় মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। চলতি বছরের ১০ জুন যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায়ের অপেক্ষায় রাখা হয়েছিল। পরে অতিরিক্ত সাক্ষ্য ও নথিপত্র উপস্থাপন এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ৭ অক্টোবর আবারও রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। এরপর গত মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২ বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন: সুষ্ঠু ভোট হলে জয়ের আশাবাদ দুই প্রার্থীর

ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন: সুষ্ঠু ভোট হলে জয়ের আশাবাদ দুই প্রার্থীর

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে দুই প্রার্থীই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সকাল ৮টা থেকে ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী এলাকার তিনটি উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১৮৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। এর কিছু সময় পর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন।আরও পড়ুন,ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় নীতিমালা চায় জামায়াত ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারলে এবং নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হলে তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, নির্বাচন নিয়ে তাঁর কোনো শঙ্কা নেই। আবহাওয়াজনিত কারণে ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে উল্লেখ করে তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেন। নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী ছাড়াও আরও তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক ঠাকুরগাঁওয়ের বাসিন্দা না হওয়ায় ভোট দিতে পারবেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অপর প্রার্থী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম নিজ ভোটকেন্দ্র বড়গাঁওয়ে ভোট দিয়েছেন। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন।

সারাবাংলা

কটিয়াদীতে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

কটিয়াদীতে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

 কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দৃপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসন এ সভার আয়োজন করে। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট জালাল উদ্দিন।আরও পড়ুন,সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের মাসিক কিট প্যারেড, সরঞ্জাম সংরক্ষণে নির্দেশনা সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খান দিলিপ, সাধারন সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন,পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন,পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সজল সরকার,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম,উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডাঃ সৈয়দ শাহরিয়ার অনিক,উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক মোজাম্মেল হক জোয়ারদারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতর প্রধান এবং আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যবৃন্দ। গরু চুরি বৃদ্ধি, মাদক,লোডশেডিং,যানজট ইত্যাদি বিষয়ে সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়। উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার পাশাপাশি নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে উপস্থিত সকলকে আহবান জানানো হয়। 

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের মাসিক কিট প্যারেড, সরঞ্জাম সংরক্ষণে নির্দেশনা

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের মাসিক কিট প্যারেড, সরঞ্জাম সংরক্ষণে নির্দেশনা

শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সরকারি সরঞ্জামের যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা এবং পুলিশ সদস্যদের পোশাকবিধি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের মাসিক কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্স প্যারেড গ্রাউন্ডে জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও ফোর্সের অংশগ্রহণে এ কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। প্যারেড পরিদর্শন করেন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মিথুন সরকার। প্যারেড পরিদর্শন শেষে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। আরও পড়ুন,সাতক্ষীরায় হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বেকারি ব্যবস্থাপনায় জোর দিল জেলা প্রশাসনএ সময় তিনি পুলিশ সদস্যদের সরকারি ইস্যুকৃত মালামালের যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী। তাই প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে এবং বাংলাদেশ পুলিশের নির্ধারিত ড্রেস রুল অনুসরণ করে মানসম্মত পোশাক পরিধান করতে হবে। এ সময় তিনি পুলিশ সদস্যদের কিট বই যাচাই করে তাঁদের প্রাপ্য সরকারি সরঞ্জামের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করেন। পাশাপাশি নিজ নামে ইস্যুকৃত সরকারি মালামাল কোনো অবস্থাতেই অন্যের কাছে হস্তান্তর না করার বিষয়ে সদস্যদের সতর্ক করেন। পুলিশ সদস্যদের পেশাগত শৃঙ্খলা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং সরকারি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এ ধরনের পরিদর্শন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিট প্যারেডে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সাতক্ষীরায় হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বেকারি ব্যবস্থাপনায় জোর দিল জেলা প্রশাসন

সাতক্ষীরায় হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বেকারি ব্যবস্থাপনায় জোর দিল জেলা প্রশাসন

 সাতক্ষীরায় আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বেকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ। সভায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুল হাসেম, পরিবেশ অধিদপ্তর সাতক্ষীরার সহকারী পরিচালক সৌমেন মৈত্র, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য অফিসার দীপঙ্কর দত্ত, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান তানভীর এবং সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিসের ওয়ারহাউস ইন্সপেক্টর মো. ইলিয়াস বক্তব্য দেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি মো. শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল কালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রেজাউল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ মিহির সাহাসহ জেলার বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, বেকারি ও রিসোর্টের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।আরও পড়ুন,তাহসিফ সাউরির মৃত্যু ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানা দাবি, নিশ্চিত নয় পুলিশ সভায় অংশ নেন লেকভিউয়ের প্রতিনিধি মো. রাজু আহমেদ, পানসী রেস্তোরাঁর মো. আব্দুস সামাদ, হোটেল টাইগার প্লাস ও রয়েল প্লাসের মীর তাজুল ইসলাম রিপন, অরিজিনাল সাগর সুইটসের শেখ মেহেদী হাসান, মাওয়া চাইনিজ রেস্তোরাঁর সৌমেন ঘোষ, ঠিকানা হোটেলের সৈয়দ রাজিব হাসান, জয়হুন ডেইরি ফার্মের মো. আব্দুল কাইয়ুম, অগ্রগতি রিসোর্টের নাহিদ হাসান, হোটেল বৈশাখীর মো. মিজানুর রহমান, শাহিন বেকারির মো. আমানুল ইসলাম, দক্ষিণা রেস্টুরেন্টের কাজী মুনতাসির আহমেদ, কাচ্চি ডাইনের জয়নাল আবেদীন এবং মুজাফফর গার্ডেন অ্যান্ড রিসোর্টের প্রতিনিধি মো. আতিকুল আলম (আতিক)। আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বেকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা, ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ, খাদ্যের নিরাপত্তা এবং পরিবেশ ও অগ্নিনিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং ব্যবসায়ীদের সচেতনতা সেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় জেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বেকারি খাতের ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সভায় সাতক্ষীরা জেলার আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বেকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তাহসিফ সাউরির মৃত্যু ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানা দাবি, নিশ্চিত নয় পুলিশ

তাহসিফ সাউরির মৃত্যু ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানা দাবি, নিশ্চিত নয় পুলিশ

রাজধানীর উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করা বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহের পরিচয় তাঁর পকেটে থাকা আইফোনের সূত্রে শনাক্ত করেছে পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে সমকালকে এ তথ্য জানান নৌ পুলিশের ঢাকা রিজিয়নের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, বুধবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে নদে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় মরদেহটির পরনে সাদা পাজামা ও কালো জামা, হাতে একটি ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের সূত্র ধরেই তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নৌ পুলিশ জানায়, নিহত তাহসিফ সাউরির বয়স আনুমানিক ২৮ বছর। আরও পড়ুন,বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা, দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রীতাঁর বাবার নাম কে এম এনায়েতুর। তিনি রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের ১৪/বি নম্বর সড়কের বাসিন্দা। তাঁর এক আত্মীয়কে খবর দেওয়া হয়েছে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এদিকে, তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনার দেশত্যাগের মুহূর্তের যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটি তিনি ধারণ করেছিলেন। তবে নৌ পুলিশের কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেননি। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

আন্তর্জাতিক

হামলা হলে মার্কিন সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের

হামলা হলে মার্কিন সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা ঠেকানো এবং শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে দেশটির নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পর্ষদের প্রধান মোহসেন রেজাইয়ের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন ভ্যান্স। সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার কাঠামো নির্ধারণে চিঠিটিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। আরও পড়ুন,৩২ বছরের সামরিক অভিজ্ঞতা, তবু দায়িত্ব হারালেন পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তাএ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি আরব দেশকে প্রস্তুত থাকার বার্তাও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সামরিক অভিযান নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, নতুন করে হামলা হলে ইরানও ব্যাপক পরিসরে পাল্টা আঘাত হানবে বলে সতর্ক করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অবকাঠামো। বিশেষ করে ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের উদ্যোগ এবং একই সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির খবর উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি করেছে। তবে চিঠির বিষয়ে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং সামরিক পদক্ষেপের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

২৪ মিনিট আগে

রাজধানী

আবেরা’ স্পা ঘিরে অভিযোগ, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন

আবেরা’ স্পা ঘিরে অভিযোগ, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান থানাধীন বাড়িধারার ৫৫, সোহরাওয়ার্দী রোডের একটি ফ্ল্যাটে পরিচালিত ‘আবেরা’ নামের একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে দোলা নামের এক নারী এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। স্পা ব্যবসার আড়ালে সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, গ্রাহকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলার অভিযোগ এবং সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, বাড়ির মালিকের তথ্য, প্রয়োজনীয় অনুমোদনপত্র এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের তথ্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। আবেরা’ স্পা সেন্টারকে কেন্দ্র করে একটি নারীচক্র বিভিন্ন গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের প্রলোভন বা প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে। স্পা সেবার নামে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে পরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় কিংবা অন্য কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো যাচাইকৃত নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর বিস্তারিত বক্তব্য, ভুক্তভোগীর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিশ্চিত করা তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কী ধরনের সেবা দেওয়া হয়, গ্রাহকদের কাছ থেকে কীভাবে অর্থ নেওয়া হয়, সেবার মূল্যতালিকা ও রসিদ সংরক্ষণ করা হয় কি না এবং ব্যবসাটি প্রয়োজনীয় আইনগত অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে কি না এসব বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা। স্পা সেন্টারটিতে সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি সত্য হলে তা এলাকার নিরাপত্তা, আবাসিক পরিবেশ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করে। তবে মাদকদ্রব্যের লেনদেন, সংরক্ষণ কিংবা সরবরাহের মতো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে কি না, আরও পড়ুন,মহেশপুরে বাংলা বাস্তবায়ন ও সচেতনতায় র‍্যালি-আলোচনা সভাতা নির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং আইনগত প্রমাণ দরকার। এ ক্ষেত্রে গুলশান থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে আইনানুগ পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, অনুমোদন এবং অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। বাড়িধারার মতো গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকায় কোনো ফ্ল্যাটে স্পা বা এ ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুমোদন, ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার, ট্রেড লাইসেন্স এবং অন্যান্য বিধিবিধান মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ। ভবনটি কোন ধরনের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত, ফ্ল্যাটে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি রয়েছে কি না এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় নিবন্ধন বা লাইসেন্স আছে কি না এসব প্রশ্নের উত্তর নথিপত্র যাচাই ছাড়া দেওয়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ভবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রবেশপথের ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং প্রতিবেশীদের অভিযোগ থাকলে সেগুলোর নিষ্পত্তির বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে স্পা সেবা দেওয়া হচ্ছে বলেই সেটিকে অবৈধ বা অপরাধমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যা দেওয়া সমীচীন নয়। অভিযোগে যদি গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় কিংবা অন্য কোনো অপরাধের ঘটনা থেকে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তা তদন্ত করা প্রয়োজন।  কোনো ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয়ে থাকলে তাঁর উচিত সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ জানানো এবং প্রাসঙ্গিক তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ করা। গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত যেকোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আইন ও বিধিবিধানের আওতায় থাকা প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে গুলশান থানা পুলিশ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য অপরাধের বিষয়ে তথ্য চাওয়া যেতে পারে। ‘আবেরা’ স্পা সেন্টার, আরও পড়ুন,মহেশপুরে বাংলা বাস্তবায়ন ও সচেতনতায় র‍্যালি-আলোচনা সভাএর পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বলে অভিযোগে উল্লিখিত দোলা নামের নারী, বলেন, ভাই আমি এটি দিয়ে কোনমতে চলি। এখন আগের মত তেমন ব্যবসাও নেই। এসব প্রতিষ্ঠান চালাতে ব্যয়বহুল খরচ। কোনমতে দুই চারটি মেয়েদের রেখে ব্যবসা করি। এছাড়া এাঁ বাড়িধারা এখানে কাষ্টমার আসতে চায়না তেমন এবং বাড়িধারায় ঢুকতে সোসাইটির অনুমতি প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমরা সোসাইটির গার্ডদের সাথে সমন্ময় রেখে লোকজন প্রবেশ করিয়ে থাকি। ‘আবেরা’ নামের একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে গুলশান থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়। তবে অভিযোগ জানানোর পরও সংশ্লিষ্ট স্পা সেন্টারে পুলিশের কোনো দৃশ্যমান অভিযান চোখে পড়েনি। অভিযোগ রয়েছে, ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটিতে স্পা ব্যবসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াত রয়েছে।  প্রশ্ন উঠেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযোগ জানানোর পরও কেন দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না? তবে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট থানার বক্তব্য এবং সম্ভাব্য তদন্তের অগ্রগতি জানা জরুরি। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, বাড়িধারার মতো অভিজাত আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি। তাঁদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে ‘আবেরা’ স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ আমরাও শুনেছি। তাই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং প্রতিষ্ঠানটির বৈধ কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ প্রতারণা, মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধ কিংবা অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের শিকার হলে তাঁকে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণসহ পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করছি। এবিষয়ে দোলা বলেন, ভাই কোনমতে ২-৪ টি মেয়েদের রেখে ব্যবসা করছি। আগের মত ব্যবসা নেই। এখনো থানা পুলিশের পেমেন্ট দিতে পারিনাই। এছাড়া বাড়িধারা সোসাইটির কিছু লোকদের ম্যানেজ করে আমার প্রতিষ্ঠানটি চালাতে হয়। তবে বিষয়টি গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জকে জানানো হয়েছে কিন্তু তিনি এখনো দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়নি। গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ আরো বলেন, এসবের বিষয়ে আমাদের একাধিক মিটিং হয়েছে। আমি চাইলে ও অভিযান বা পদক্ষেপ নিতে পারিনা। কারন সিনিয়রদের নির্দেশনা ছাড়া আমাদের করার কিছুই থাকেনা। তাহলে প্রশ্ন হল- সাধারন স্থানীয় বাসিন্দারা অসমাজিকের মধ্যে থেকেই বসবাস করবে। নাকি তাদের সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা নেই।   

২৫ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৬ জন

খেলাধুলা

 দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই অলআউট বাংলাদেশ

দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই অলআউট বাংলাদেশ

প্রথম দিন শেষে ৪০০ রান সংগ্রহের লক্ষ্য থাকলেও সেই লক্ষ্যের ধারেকাছেও যেতে পারেনি বাংলাদেশ। ভয়াবহ ব্যাটিং ধসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই শেষ হয়েছে স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস। ৯৭.৪ ওভারে ২৭২ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে আগের দিনের ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। আরও পড়ুন,শুরুতে ধাক্কা, পরে শাদমান-হৃদয়ের প্রতিরোধতবে সাদমান ইসলাম আউট হওয়ার পর দ্রুত ভেঙে পড়ে দলের ব্যাটিং লাইনআপ। বাকি ব্যাটাররা সম্মিলিতভাবে আর মাত্র ৫৯ রান যোগ করতে পারেন। প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ সালাহউদ্দিন ৪০০ রান সংগ্রহের লক্ষ্যের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে সেই লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে থামতে হয় টাইগারদের। সাদমানের বিদায়ের পর একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ফলে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা জাগিয়েও ইনিংস দীর্ঘ করতে পারেনি স্বাগতিকরা।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!