দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

আবেরা’ স্পা ঘিরে অভিযোগ, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন

আবেরা’ স্পা ঘিরে অভিযোগ, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান থানাধীন বাড়িধারার ৫৫, সোহরাওয়ার্দী রোডের একটি ফ্ল্যাটে পরিচালিত ‘আবেরা’ নামের একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে দোলা নামের এক নারী এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। স্পা ব্যবসার আড়ালে সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, গ্রাহকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলার অভিযোগ এবং সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, বাড়ির মালিকের তথ্য, প্রয়োজনীয় অনুমোদনপত্র এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের তথ্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। আবেরা’ স্পা সেন্টারকে কেন্দ্র করে একটি নারীচক্র বিভিন্ন গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের প্রলোভন বা প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে। স্পা সেবার নামে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে পরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় কিংবা অন্য কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো যাচাইকৃত নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর বিস্তারিত বক্তব্য, ভুক্তভোগীর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিশ্চিত করা তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কী ধরনের সেবা দেওয়া হয়, গ্রাহকদের কাছ থেকে কীভাবে অর্থ নেওয়া হয়, সেবার মূল্যতালিকা ও রসিদ সংরক্ষণ করা হয় কি না এবং ব্যবসাটি প্রয়োজনীয় আইনগত অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে কি না এসব বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা। স্পা সেন্টারটিতে সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি সত্য হলে তা এলাকার নিরাপত্তা, আবাসিক পরিবেশ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করে। তবে মাদকদ্রব্যের লেনদেন, সংরক্ষণ কিংবা সরবরাহের মতো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে কি না, আরও পড়ুন,মহেশপুরে বাংলা বাস্তবায়ন ও সচেতনতায় র‍্যালি-আলোচনা সভাতা নির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং আইনগত প্রমাণ দরকার। এ ক্ষেত্রে গুলশান থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে আইনানুগ পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, অনুমোদন এবং অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। বাড়িধারার মতো গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকায় কোনো ফ্ল্যাটে স্পা বা এ ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুমোদন, ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার, ট্রেড লাইসেন্স এবং অন্যান্য বিধিবিধান মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ। ভবনটি কোন ধরনের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত, ফ্ল্যাটে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি রয়েছে কি না এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় নিবন্ধন বা লাইসেন্স আছে কি না এসব প্রশ্নের উত্তর নথিপত্র যাচাই ছাড়া দেওয়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ভবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রবেশপথের ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং প্রতিবেশীদের অভিযোগ থাকলে সেগুলোর নিষ্পত্তির বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে স্পা সেবা দেওয়া হচ্ছে বলেই সেটিকে অবৈধ বা অপরাধমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যা দেওয়া সমীচীন নয়। অভিযোগে যদি গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় কিংবা অন্য কোনো অপরাধের ঘটনা থেকে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তা তদন্ত করা প্রয়োজন।  কোনো ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয়ে থাকলে তাঁর উচিত সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ জানানো এবং প্রাসঙ্গিক তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ করা। গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত যেকোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আইন ও বিধিবিধানের আওতায় থাকা প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে গুলশান থানা পুলিশ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য অপরাধের বিষয়ে তথ্য চাওয়া যেতে পারে। ‘আবেরা’ স্পা সেন্টার, আরও পড়ুন,মহেশপুরে বাংলা বাস্তবায়ন ও সচেতনতায় র‍্যালি-আলোচনা সভাএর পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বলে অভিযোগে উল্লিখিত দোলা নামের নারী, বলেন, ভাই আমি এটি দিয়ে কোনমতে চলি। এখন আগের মত তেমন ব্যবসাও নেই। এসব প্রতিষ্ঠান চালাতে ব্যয়বহুল খরচ। কোনমতে দুই চারটি মেয়েদের রেখে ব্যবসা করি। এছাড়া এাঁ বাড়িধারা এখানে কাষ্টমার আসতে চায়না তেমন এবং বাড়িধারায় ঢুকতে সোসাইটির অনুমতি প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমরা সোসাইটির গার্ডদের সাথে সমন্ময় রেখে লোকজন প্রবেশ করিয়ে থাকি। ‘আবেরা’ নামের একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে গুলশান থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়। তবে অভিযোগ জানানোর পরও সংশ্লিষ্ট স্পা সেন্টারে পুলিশের কোনো দৃশ্যমান অভিযান চোখে পড়েনি। অভিযোগ রয়েছে, ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটিতে স্পা ব্যবসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াত রয়েছে।  প্রশ্ন উঠেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযোগ জানানোর পরও কেন দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না? তবে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট থানার বক্তব্য এবং সম্ভাব্য তদন্তের অগ্রগতি জানা জরুরি। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, বাড়িধারার মতো অভিজাত আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি। তাঁদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে ‘আবেরা’ স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ আমরাও শুনেছি। তাই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং প্রতিষ্ঠানটির বৈধ কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ প্রতারণা, মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধ কিংবা অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের শিকার হলে তাঁকে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণসহ পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করছি। এবিষয়ে দোলা বলেন, ভাই কোনমতে ২-৪ টি মেয়েদের রেখে ব্যবসা করছি। আগের মত ব্যবসা নেই। এখনো থানা পুলিশের পেমেন্ট দিতে পারিনাই। এছাড়া বাড়িধারা সোসাইটির কিছু লোকদের ম্যানেজ করে আমার প্রতিষ্ঠানটি চালাতে হয়। তবে বিষয়টি গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জকে জানানো হয়েছে কিন্তু তিনি এখনো দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়নি। গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ আরো বলেন, এসবের বিষয়ে আমাদের একাধিক মিটিং হয়েছে। আমি চাইলে ও অভিযান বা পদক্ষেপ নিতে পারিনা। কারন সিনিয়রদের নির্দেশনা ছাড়া আমাদের করার কিছুই থাকেনা। তাহলে প্রশ্ন হল- সাধারন স্থানীয় বাসিন্দারা অসমাজিকের মধ্যে থেকেই বসবাস করবে। নাকি তাদের সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা নেই।   

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

বুধবার থেকে বাড়তে পারে বৃষ্টির প্রবণতা

দেশে টানা পাঁচ দিন বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্নব’-এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হতে পারে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এটি বুধবার দুপুর নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।আরও পড়ুন,৬০টি লোকোমোটিভ সংগ্রহের উদ্যোগ বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের আটটি বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিভাগগুলো হলো রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট। এ দিন সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। রাতের তাপমাত্রাও সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। শুক্রবার রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। শনিবারও রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্ধিত পাঁচ দিনের মধ্যে সারা দেশে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা কমে আসতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আবহাওয়ার পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে বলে পূর্বাভাসের সর্বশেষ তথ্যের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

জাপান সফরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে টোকিওতে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। এর আগে স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।পরে তারেক রহমানকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ বৈঠকে বসেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।আরও পড়ুন,টিকিটের চাহিদার তুলনায় অনলাইন সার্ভারে বিপুল চাপ দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন সহযোগিতার মতো বিষয়গুলোও এ সফরের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব পাচ্ছে। শীর্ষ বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথ বিবৃতিতে অংশ নেন। এরপর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সৌজন্যে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক ভোজে অংশ নেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।  বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে শীর্ষ বৈঠকে আলোচিত বিষয় এবং যৌথ বিবৃতিতে নেওয়া সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হলে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও স্পষ্ট হবে।

টিকিটের চাহিদার তুলনায় অনলাইন সার্ভারে বিপুল চাপ

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কেনার পর অন্যের কাছে হস্তান্তর করে চড়া দামে বিক্রি করা ঠেকানো বেশ কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানিয়েছেন, টিকিট কালোবাজারি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং সফটওয়্যারে নতুন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা যুক্ত করা যায় কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে কাজ শুরু হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে জনপ্রিয় ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের যাত্রাপথ কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও যাত্রীদের ভোগান্তি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রেলমন্ত্রী জানান, বিশেষ করে ঈদের মতো পিক সময়ে টিকিটের বিশাল চাহিদা তৈরি হয়। উদাহরণের খাতিরে তিনি বলেন, আরও পড়ুন,৬০টি লোকোমোটিভ সংগ্রহের উদ্যোগপ্রতিদিন মাত্র ৩২ হাজার টিকিটের বিপরীতে ৩৬ থেকে ৩৭ লাখ মানুষ একই সময়ে ওয়েবসাইটে প্রবেশের চেষ্টা করেন, যা সার্ভারে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে। এছাড়া একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ চারটি টিকিট এবং ১০ জন মিলে ৪০টি টিকিট সংগ্রহ করে পরবর্তীতে বেশি দামে হস্তান্তরের প্রবণতা দেখা যায়, যা অনলাইনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা বেশ জটিল। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে অনলাইন টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে ‘আগে প্রবেশকারী আগে কেনার সুযোগ পান’ পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে। অনিয়মের বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত পরিচালনা করা হলেও অনলাইন টিকিট বিক্রি প্রক্রিয়ায় সরাসরি কোনো কারচুপির প্রমাণ মেলেনি। তবে এই ব্যবস্থাটি পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত—এমন দাবি না করে তিনি আশ্বাস দেন যে, পর্যায়ক্রমে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় তদারকির মাধ্যমে বিদ্যমান ত্রুটিগুলো দূর করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

৬০টি লোকোমোটিভ সংগ্রহের উদ্যোগ

বাংলাদেশ রেলওয়ের পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানো এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০২৯ সালের মধ্যে ৬০টি নতুন মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে ৩০টি লোকোমোটিভ সংগ্রহের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদিত হয়েছে এবং অন্য ৩০টি সংগ্রহের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘গ্রীন রেলওয়ে’ প্রকল্পের আওতায় আরও ২০টি মিটারগেজ ইঞ্জিনের সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো উপস্থাপন করা হয়। কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ রেলওয়ের মালবাহী ট্রেন পরিচালনা, মোংলা-ঢাকা রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চালু, অনলাইন টিকিট বিক্রির স্বচ্ছতা এবং রেলের জমি রক্ষা ও আর্থিক সংকট দূরীকরণের মতো একাধিক বিষয়ে বিষদ আলোচনা হয়। আরও পড়ুন,আমার দেশ প্রেসে বোমা হামলাবৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে ইঞ্জিন সংকটের কারণে কনটেইনার, জ্বালানি ও খাদ্যশস্য পরিবহনে কিছুটা বাধা সৃষ্টি হলেও নতুন লোকোমোটিভগুলো যুক্ত হলে রেলওয়ের সার্বিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি সহজ ডটকমের মেয়াদ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হতে চলায় টিকিটিং ব্যবস্থাপনায় নতুন ভেন্ডর নিয়োগে শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করা হবে। বৈঠকে মোংলা-ঢাকা রুটে নতুন ট্রেন চালু, ভাঙ্গা-বরিশাল রেলপথ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বেনাপোল-খুলনা রুটে সকালে নতুন কমিউটার ট্রেন চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কমিটিকে পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রেলওয়ের ইজারাকৃত জমি ও ভূ-সম্পত্তির সঠিক হিসাব রাখা, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন, লেভেল ক্রসিংয়ে জনবল নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় আইনজীবী নিয়োগের মাধ্যমে আদালতে ঝুলে থাকা জমি সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতিরাজনীতি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে মাঠে থাকবে বিএনপি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে মাঠে থাকবে বিএনপি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। আগামী ৫ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে এসব কর্মসূচি পালন করবে দলটি। মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের যৌথসভায় সর্বসম্মতিক্রমে এসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। পরে সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কর্মসূচির বিস্তারিত জানান। কর্মসূচি অনুযায়ী, ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। একই দিন সকাল ১১টায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। এদিন বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হবে।আরও পড়ুন,এলিজা জামানকে বিএনপির মনোনয়ন একই সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগর পর্যায়েও র‍্যালি অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন ৮ নভেম্বর সারা দেশের থানা ও উপজেলা পর্যায়ে র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া ৬ নভেম্বর বিকেল ৩টায় বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে ৫ নভেম্বর শ্রমিক দল, ৯ নভেম্বর কৃষক দল ও জাসাস এবং ১০ নভেম্বর যুবদল আলোচনা সভার আয়োজন করবে। দিবসটি উপলক্ষে ছাত্রদলের উদ্যোগে ৭ নভেম্বর সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং ৮ নভেম্বর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, ওলামা দল এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ করবে।ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে ঢাকাসহ সারা দেশের বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।সব মিলিয়ে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ঘিরে সাত দিনব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে দেশজুড়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে

আইজিপিকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলল ছাত্রশিবির

আইজিপিকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলল ছাত্রশিবির

আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির। বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির। পৃথক বিবৃতিতে সংগঠন দুটি বলেছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত সংবিধান, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। সোমবার ২৭ অক্টোবর দেওয়া বিবৃতিতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব। পুলিশ নাগরিকের সেবক, শাসক নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান হিসেবে আইজিপির দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান তিনি। জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়, অতীতে বিনা বিচারে হত্যা, গুম এবং ক্রসফায়ারের মতো ঘটনার কারণে নাগরিকদের জীবন ও স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আইজিপির বক্তব্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিত রয়েছে বলে দাবি করেন জামায়াত নেতা।আরও পড়ুন,আওয়ামী-বিএনপির চরিত্র এক: জামায়াত এ বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।অন্যদিকে, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহার এবং নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। তাঁদের ভাষ্য, সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ নাগরিকের আইনি সুরক্ষা, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়। অপরাধী নির্ধারণ এবং শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের। পুলিশের দায়িত্ব অপরাধ তদন্ত করা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করা। এর আগে সোমবার সকালে রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের একটি শাখা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘যেখানে ক্রসফায়ার প্রয়োজন হয়, সরকার যদি এলাউ করে, তাহলে আমরা সেটাই করব।’ এ বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার পর পুলিশ সদর দপ্তর ব্যাখ্যা দিয়ে জানায়, মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার বোঝাতে গিয়ে আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি আক্ষরিক অর্থে উল্লেখ করেছেন। আইজিপির বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও মানবাধিকার প্রশ্নে আলোচনা তৈরি হয়েছে। জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে কোনোভাবেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সুযোগ থাকা উচিত নয়।

দাফনে বাধার ঘটনায় ন্যায়বিচারের বার্তা দিলেন নাহিদ ইসলাম

দাফনে বাধার ঘটনায় ন্যায়বিচারের বার্তা দিলেন নাহিদ ইসলাম

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এ সময় তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জানাজা ও দাফনের অধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতি আর দেখতে চান না। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী ৮৭ বছর বয়সে গত শনিবার মারা যান। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন তিনি। মানিক পশারীকে পিরোজপুরে গার্ড অব অনার দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দেয়। জামায়াতের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে পিরোজপুরে দাফন না করার দাবি জানান এবং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেন। পরে শনিবার রাতে পিরোজপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া গ্রামে নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।আরও পড়ুন,আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা এ সময় পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন। ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলাম বলেন, জানাজা পড়া ও মরদেহ দাফন করা প্রত্যেক মানুষের ন্যূনতম মানবিক ও ধর্মীয় অধিকার। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি দেখতে চান না বলেও জানান।তিনি আরও বলেন, অতীতে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে বিভিন্ন ব্যক্তির জানাজা ও মরদেহ নিয়ে বিতর্কিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ক্ষেত্রেও মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের পক্ষে থাকা জরুরি। নাহিদ ইসলাম তাঁর পোস্টে মানবাধিকারকর্মীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, অতীতে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অনেকে নীরব ছিলেন। মানবাধিকারের প্রশ্নে অতীতের হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচারও নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পোস্টের শেষাংশে নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদের বিপরীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরোধিতা করতে গিয়ে মানবিক অধিকার লঙ্ঘন করা উচিত নয়। পিরোজপুরে মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি সব নাগরিকের মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকারের পক্ষে থাকার অঙ্গীকার করেন।

আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা

আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে পুলিশ সদস্যদের ক্রসফায়ার করার বিষয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো: আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খেলাফত মজলিস। সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের জানান, বাংলাদেশে আইনি কিংবা সাংবিধানিকভাবে ‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রকার আইনি বৈধতা নেই। তারা অবিলম্বে আইজিপির এই বক্তব্য প্রত্যাহার এবং তাঁর প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। বিবেচ্য বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনের আশ্রয় লাভ এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। আরও পড়ুন,আওয়ামী-বিএনপির চরিত্র এক: জামায়াতকোনো সরকারি বা নির্বাহী সিদ্ধান্ত বা প্রশাসনিক অনুমতি এই সাংবিধানিক অধিকারকে বাতিল বা স্থগিত করতে পারে না। সরকারের কোনো প্রশাসনিক অনুমোদনই বিচারবহির্ভূত হত্যাকে আইনি ভিত্তি দিতে পারে না। অপরাধ দমনে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা মব জাস্টিস উস্কে দেওয়ার সংস্কৃতি কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। খেলাফত মজলিসের শীর্ষ নেতারা আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে পেশাদার তদন্ত, সঠিক অপরাধী শনাক্তকরণ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রচলিত আদালতে বিচার নিশ্চিত করাই একমাত্র আইনি পথ। বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার বা দুর্নীতি দূর করে বিচারিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করাই প্রশাসনের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত। ক্রসফায়ারের মতো অসাংবিধানিক পদ্ধতির মাধ্যমে মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।

সারাবাংলা

গাজীপুরে ইন্টারন্যাশনাল ক্লাসিক কম্পোজিট কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

গাজীপুরে ইন্টারন্যাশনাল ক্লাসিক কম্পোজিট কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

গাজীপুর মহানগরীর নাওজোড় (কড্ডা) এলাকায় অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ক্লাসিক কম্পোজিট লিমিটেড কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও অসন্তোষের মধ্যে সোমবার (২৬ অক্টোবর) থেকে কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করে নোটিশ টানানো হয়। কারখানা কর্তৃপক্ষের টানানো নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর থেকে এবং রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে শ্রমিকেরা বেআইনিভাবে কাজ বন্ধ রেখে কারখানায় উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন। কারখানার সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে। নোটিশে আরও বলা হয়, কারখানা পুনরায় চালুর অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে খোলার তারিখ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, শ্রমিকদের অভিযোগ,আরও পড়ুন,আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্যে তীব্র বিতর্ককারখানার সুইং সেকশনের এক সিনিয়র অপারেটরকে থাপ্পড় মারার ঘটনায় ইনচার্জের পদত্যাগের দাবিতে তাঁরা কর্মবিরতি পালন করছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারখানার এক সুইং অপারেটর বলেন, “শনিবার দুপুরে সুইং সেকশনের সিনিয়র অপারেটরকে থাপ্পড় মারেন ইনচার্জ। পরে ওই ইনচার্জের পদত্যাগের দাবিতে শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে কর্মবিরতি পালন করেন।” গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, সোমবার থেকে ইন্টারন্যাশনাল ক্লাসিক কম্পোজিট লিমিটেড কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের দাবি, একজন স্টাফকে অব্যাহতি দিতে হবে। এ নিয়ে দুই দিন ধরে শ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন করছেন। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে কারখানায় শিল্প পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্যে তীব্র বিতর্ক

আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্যে তীব্র বিতর্ক

সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজন সাপেক্ষে ‘ক্রসফায়ার’ করার কথা বলে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া তাঁর এই বক্তব্যকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পক্ষে এক চরম বিপজ্জনক বার্তা হিসেবে দেখছে দেশের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার ও নাগরিক সংগঠনগুলো। মানবাধিকার রক্ষাকারীরা অবিলম্বে তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার, সরকারের স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং আইজিপির প্রশাসনিক জবাবদিহি ও অপসারণ দাবি করেছে। এছাড়া একাধিক রাজনৈতিক দলও এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষিত উল্লেখ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), আরও পড়ুন,কুষ্টিয়ায় লংমার্চের স্থান নিয়ে অনিশ্চয়তাঅধিকার এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) একযোগে বিবৃতি দিয়েছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এ ঘটনাকে ‘পেশাগত দেউলিয়াত্ব’ বলে অভিহিত করেছেন এবং আইজিপির প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা ও দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবি জানান। মানবাধিকার সংগঠনগুলো স্পষ্ট করেছে যে, কোনো প্রশাসনিক অনুমতিই আদালতকে এড়িয়ে নাগরিককে হত্যার আইনি ভিত্তি দিতে পারে না। রাজনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, এবি পার্টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই বক্তব্যের কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, অসাংবিধানিক এই ঘোষণা মাঠপর্যায়ে বিচারবহির্ভূত হত্যার সুযোগ তৈরি করবে এবং ফ্যাসিবাদী আমলের গুম ও ক্রসফায়ারের স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পেশাদার তদন্ত ও আদালতে বিচার প্রক্রিয়া বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো পুলিশপ্রধানের দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছে।

কুষ্টিয়ায় লংমার্চের স্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা

কুষ্টিয়ায় লংমার্চের স্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা

জুলাই সনদের বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ঘোষিত আগামী ৩১ অক্টোবরের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ নিয়ে কুষ্টিয়ায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জোটটি কুষ্টিয়া জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে বিশাল এই সমাপনী আয়োজনের স্থান হিসেবে নির্ধারণ করলেও, সেখানে রাজনৈতিক কর্মসূচির বিরোধিতা করে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে মানববন্ধন করেছেন বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। অপরদিকে, জেলা প্রশাসন জিলা স্কুলে পরীক্ষা চলা ও জায়গার সীমাবদ্ধতার কথা ভেবে বড় জনসমাগমের জন্য কুষ্টিয়া স্টেডিয়ামকে বেশি উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য ও মতবিনিময় বৈঠক শেষে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন জানান, আরও পড়ুন,চন্দ্রগঞ্জের যাদৈয়ায় ডাকাতির ঘটনায় প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে প্রাণনাশের হুমকিতে ছাত্রদল নেতা রাকিবসাত দফা দাবি কেবল তাঁদের জোটের নয়, বরং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের দাবি। তিনি জানান, ৩১ অক্টোবর সকালে ঢাকার বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে লংমার্চ শুরু হয়ে বিভিন্ন জেলা অতিক্রম করে কুষ্টিয়ায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হবে। জিলা স্কুল মাঠে সমাবেশের অনুমতি সংক্রান্ত জটিলতার জবাবে তিনি দাবি করেন, জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় কমিশনার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনা করছেন এবং সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে দাঁড়িয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান জানান, বর্তমান শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা বিবেচনা করে জিলা স্কুলের পরিবর্তে কুষ্টিয়া স্টেডিয়ামকে বিকল্প স্থান হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং জেলা পুলিশের পর্যালোচনার পর দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মতবিনিময়কালে স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ ও জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

চন্দ্রগঞ্জের যাদৈয়ায় ডাকাতির ঘটনায় প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে প্রাণনাশের হুমকিতে ছাত্রদল নেতা রাকিব

চন্দ্রগঞ্জের যাদৈয়ায় ডাকাতির ঘটনায় প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে প্রাণনাশের হুমকিতে ছাত্রদল নেতা রাকিব

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার যাদৈয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় গভীর রাতে ডাকাতির চেষ্টার অভিযোগ, স্থানীয়দের ধাওয়া, পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যাওয়া এবং পরে প্রশাসনের অভিযানের সময়ও অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ি থেকে পালানোর ঘটনা ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ডাকাতির ঘটনায় প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার পর চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য আব্দুল্যাহ আল রাকিব প্রাণনাশের হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে, ঘটনায় অভিযুক্ত আলতাফ হোসেনের বারবার পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানামূখী কৌতূহল তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে যাদৈয়া ব্রিজ সংলগ্ন আহাম্মদ উল্যার বাউন্ডারির একটি ভারী লোহার গেট খুলে ডাকাতির চেষ্টা চালায় আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংগবদ্ধ ডাকাত দল। এ সময় ডাকাত দলের অধিকাংশ সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও আলতাফ হোসেন নামের ডাকাত দলের সদস্য স্থানীয়দের ধাওয়ার মুখে পড়েন। একপর্যায়ে সে পাশে থাকা খালে উলঙ্গ অবস্থায় ঝাঁপ দেন এবং পরে সাঁতরে অন্য পাড় দিয়ে পালিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শী রাকিব, ইমন, পিয়াস, সুজন, আবুল বাশার, কাদের, ইউসুফ সহ স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি। উক্ত ঘটনার জেরে আব্দুল্যাহ আল রাকিবসহ স্থানীয়রা প্রশাসনকে নিকটস্থ চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে বিষয়টি অবহিত করেন। এর পর পুলিশ অভিযুক্ত আলতাফ হোসেনের বসতবাড়িতে গেলে সেখান থেকেও সে পালিয়ে যাওয়ার সময় ভেজা লুঙ্গি ও জামা সহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। ঘটনার পর প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য আব্দুল্যাহ আল রাকিবের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।আরও পড়ুন,লামায় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৩ জনের তাঁর অভিযোগ, ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করার পর থেকে তাঁকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি কৌশলে বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। রাকিবের অভিযোগ সত্য হলে, অপরাধের তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার কারণে একজন নাগরিককে হুমকি বা হয়রানির মুখে পড়তে হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে কারা তাঁকে হুমকি দিচ্ছে, তাদের সঙ্গে রাতের ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না এবং তাঁকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগের পক্ষে কী তথ্যপ্রমাণ রয়েছে—এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ঘটনায় রাকিবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার স্থানীয়রা জোর দাবি জানায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি যাদৈয়া ও আশেপাশের এলাকায় এর আগেও একাধিক চুরি-ডাকাতি, চিনতাই সহ নানান আইনশৃংখলা পরিপন্থি ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ঘটনাটি সামনে আসার পর আগের ঘটনাগুলোর সঙ্গে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে।  যাদৈয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকার এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—ডাকাতির চেষ্টার অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় কতটা নিশ্চিত করা গেছে? অভিযুক্ত আলতাফ হোসেনের বাড়ি থেকে ঠিক কী কী আলামত উদ্ধার করা হয়েছে? তিনি এখন কোথায় এবং তাঁকে শনাক্ত বা আটক করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্তে কী অগ্রগতি হয়েছে? সর্বোপরি, প্রশাসনকে সহযোগিতা করার পর রাকিবকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে এবং স্থানীয়দের উদ্বেগও কমতে পারে।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

আন্তর্জাতিক

ক্ষমতা ধরে রাখতে কঠিন পরীক্ষায় নেতানিয়াহু

ক্ষমতা ধরে রাখতে কঠিন পরীক্ষায় নেতানিয়াহু

ইসরায়েলে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হতে পারে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। একই সঙ্গে দেশটির নিরাপত্তানীতি, ফিলিস্তিননীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গতিপথেও পড়তে পারে নির্বাচনের প্রভাব। তবে কোনো দলই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না, তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা এবং এরপর গাজা, লেবানন ও ইরানকে ঘিরে সংঘাতের পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। ফলে নিরাপত্তাব্যবস্থা, যুদ্ধ পরিচালনা এবং সরকারের জবাবদিহির বিষয়গুলো এবারের নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সর্বশেষ জনমত জরিপের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী লিকুদ পার্টির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে রয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী ইয়াশার পার্টি। তবে বিভিন্ন জরিপে ভিন্ন চিত্রও দেখা যাচ্ছে। ইসরায়েলের পার্লামেন্টে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। কিন্তু কোনো পক্ষই এককভাবে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে না। ফলে নির্বাচনের পর সরকার গঠনে জোটের সমীকরণই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।আরও পড়ুন,ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে শর্ত চাপানোর অভিযোগ নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয়, জাতীয় নিরাপত্তা, ৭ অক্টোবরের হামলা মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার জবাবদিহি এবং ইহুদি পুরুষদের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিষয়গুলোও আলোচনায় রয়েছে। নেতানিয়াহুর বিরোধীরা ওই হামলার সময় নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতার জন্য তাঁর সরকারের সমালোচনা করছেন। অন্যদিকে, ইরানকে ঘিরে সংঘাত নেতানিয়াহুর সমর্থকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। ফিলিস্তিন নীতির ক্ষেত্রেও নির্বাচনের ফল তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। নেতানিয়াহু কট্টর ডানপন্থী মিত্রদের নিয়ে আবার ক্ষমতায় ফিরলে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও কঠোর নীতি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। বিরোধীরা ক্ষমতায় এলে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে বিরোধী নেতাদের অনেকেই ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন। সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচন শুধু নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা না-থাকার প্রশ্ন নয়; বরং ইসরায়েলের নিরাপত্তা, ফিলিস্তিননীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভবিষ্যতের সঙ্গেও জড়িত। তবে নির্বাচনের পর জোট গঠনের জটিলতায় চূড়ান্ত সরকার নির্ধারণে কয়েক সপ্তাহও লেগে যেতে পারে।

২ ঘন্টা আগে

রাজধানী

আবেরা’ স্পা ঘিরে অভিযোগ, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন

আবেরা’ স্পা ঘিরে অভিযোগ, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান থানাধীন বাড়িধারার ৫৫, সোহরাওয়ার্দী রোডের একটি ফ্ল্যাটে পরিচালিত ‘আবেরা’ নামের একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে দোলা নামের এক নারী এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। স্পা ব্যবসার আড়ালে সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, গ্রাহকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলার অভিযোগ এবং সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, বাড়ির মালিকের তথ্য, প্রয়োজনীয় অনুমোদনপত্র এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের তথ্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। আবেরা’ স্পা সেন্টারকে কেন্দ্র করে একটি নারীচক্র বিভিন্ন গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের প্রলোভন বা প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে। স্পা সেবার নামে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে পরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় কিংবা অন্য কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো যাচাইকৃত নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর বিস্তারিত বক্তব্য, ভুক্তভোগীর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিশ্চিত করা তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কী ধরনের সেবা দেওয়া হয়, গ্রাহকদের কাছ থেকে কীভাবে অর্থ নেওয়া হয়, সেবার মূল্যতালিকা ও রসিদ সংরক্ষণ করা হয় কি না এবং ব্যবসাটি প্রয়োজনীয় আইনগত অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে কি না এসব বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা। স্পা সেন্টারটিতে সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি সত্য হলে তা এলাকার নিরাপত্তা, আবাসিক পরিবেশ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করে। তবে মাদকদ্রব্যের লেনদেন, সংরক্ষণ কিংবা সরবরাহের মতো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে কি না, আরও পড়ুন,মহেশপুরে বাংলা বাস্তবায়ন ও সচেতনতায় র‍্যালি-আলোচনা সভাতা নির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং আইনগত প্রমাণ দরকার। এ ক্ষেত্রে গুলশান থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে আইনানুগ পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, অনুমোদন এবং অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। বাড়িধারার মতো গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকায় কোনো ফ্ল্যাটে স্পা বা এ ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুমোদন, ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার, ট্রেড লাইসেন্স এবং অন্যান্য বিধিবিধান মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ। ভবনটি কোন ধরনের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত, ফ্ল্যাটে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি রয়েছে কি না এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় নিবন্ধন বা লাইসেন্স আছে কি না এসব প্রশ্নের উত্তর নথিপত্র যাচাই ছাড়া দেওয়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ভবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রবেশপথের ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং প্রতিবেশীদের অভিযোগ থাকলে সেগুলোর নিষ্পত্তির বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে স্পা সেবা দেওয়া হচ্ছে বলেই সেটিকে অবৈধ বা অপরাধমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যা দেওয়া সমীচীন নয়। অভিযোগে যদি গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় কিংবা অন্য কোনো অপরাধের ঘটনা থেকে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তা তদন্ত করা প্রয়োজন।  কোনো ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয়ে থাকলে তাঁর উচিত সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ জানানো এবং প্রাসঙ্গিক তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ করা। গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত যেকোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আইন ও বিধিবিধানের আওতায় থাকা প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে গুলশান থানা পুলিশ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য অপরাধের বিষয়ে তথ্য চাওয়া যেতে পারে। ‘আবেরা’ স্পা সেন্টার, আরও পড়ুন,মহেশপুরে বাংলা বাস্তবায়ন ও সচেতনতায় র‍্যালি-আলোচনা সভাএর পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বলে অভিযোগে উল্লিখিত দোলা নামের নারী, বলেন, ভাই আমি এটি দিয়ে কোনমতে চলি। এখন আগের মত তেমন ব্যবসাও নেই। এসব প্রতিষ্ঠান চালাতে ব্যয়বহুল খরচ। কোনমতে দুই চারটি মেয়েদের রেখে ব্যবসা করি। এছাড়া এাঁ বাড়িধারা এখানে কাষ্টমার আসতে চায়না তেমন এবং বাড়িধারায় ঢুকতে সোসাইটির অনুমতি প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমরা সোসাইটির গার্ডদের সাথে সমন্ময় রেখে লোকজন প্রবেশ করিয়ে থাকি। ‘আবেরা’ নামের একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে গুলশান থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়। তবে অভিযোগ জানানোর পরও সংশ্লিষ্ট স্পা সেন্টারে পুলিশের কোনো দৃশ্যমান অভিযান চোখে পড়েনি। অভিযোগ রয়েছে, ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটিতে স্পা ব্যবসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াত রয়েছে।  প্রশ্ন উঠেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযোগ জানানোর পরও কেন দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না? তবে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট থানার বক্তব্য এবং সম্ভাব্য তদন্তের অগ্রগতি জানা জরুরি। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, বাড়িধারার মতো অভিজাত আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি। তাঁদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে ‘আবেরা’ স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ আমরাও শুনেছি। তাই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং প্রতিষ্ঠানটির বৈধ কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ প্রতারণা, মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধ কিংবা অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের শিকার হলে তাঁকে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণসহ পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করছি। এবিষয়ে দোলা বলেন, ভাই কোনমতে ২-৪ টি মেয়েদের রেখে ব্যবসা করছি। আগের মত ব্যবসা নেই। এখনো থানা পুলিশের পেমেন্ট দিতে পারিনাই। এছাড়া বাড়িধারা সোসাইটির কিছু লোকদের ম্যানেজ করে আমার প্রতিষ্ঠানটি চালাতে হয়। তবে বিষয়টি গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জকে জানানো হয়েছে কিন্তু তিনি এখনো দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়নি। গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ আরো বলেন, এসবের বিষয়ে আমাদের একাধিক মিটিং হয়েছে। আমি চাইলে ও অভিযান বা পদক্ষেপ নিতে পারিনা। কারন সিনিয়রদের নির্দেশনা ছাড়া আমাদের করার কিছুই থাকেনা। তাহলে প্রশ্ন হল- সাধারন স্থানীয় বাসিন্দারা অসমাজিকের মধ্যে থেকেই বসবাস করবে। নাকি তাদের সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা নেই।   

২৫ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৬ জন

খেলাধুলা

ব্যালন ডি’অরে সেরা ক্লাব পিএসজি

ব্যালন ডি’অরে সেরা ক্লাব পিএসজি

বিশ্ব ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ইংল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন ও স্পেনের নারী ফুটবলার অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস। পুরুষ বিভাগে প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার জিতেছেন বায়ার্ন মিউনিখের কেইন। অন্যদিকে নারী বিভাগে নিজের তৃতীয় ব্যালন ডি’অর জিতে নতুন কীর্তি গড়েছেন পুতেয়াস। এবারের পুরস্কার আয়োজনে বিভিন্ন বিভাগে স্প্যানিশ ফুটবলারদের সাফল্য ছিল চোখে পড়ার মতো। লন্ডনে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে পুরুষ বিভাগের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন ৩৩ বছর বয়সী হ্যারি কেইন। ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে এই পুরস্কার জিতলেন তিনি। গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার। ৬৫ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ছিল ৭৩। আরও পড়ুন,বিগ ব্যাশ লিগে মেলবোর্ন রেনেগেডসের হয়ে খেলবেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমানধারাবাহিক গোল করার দক্ষতা এবং দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁর হাতে উঠেছে বর্ষসেরার সম্মান। নারী বিভাগে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন স্পেনের অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস। এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালেও এই পুরস্কার জিতেছিলেন বার্সেলোনার এই তারকা। এবার তৃতীয়বারের মতো সম্মানটি জিতে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন তিনি। গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন পুতেয়াস। স্পেনের হয়ে নেশনস লিগ জয়ের সাফল্যও রয়েছে তাঁর অর্জনের তালিকায়। এদিকে ছেলেদের সেরা স্ট্রাইকারের পুরস্কারও জিতেছেন হ্যারি কেইন। নারী বিভাগে এই সম্মান পেয়েছেন মেক্সিকোর ক্লাব পাচুয়ার স্ট্রাইকার শার্লিন কোরাল। ছেলেদের সেরা ক্লাব নির্বাচিত হয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই—পিএসজি। চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ঘরোয়া লিগে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার এই পুরস্কার জিতেছে ফরাসি ক্লাবটি। গোলকিপার বিভাগেও ছিল স্পেনের দাপট। মেয়েদের সেরা গোলকিপার হয়েছেন কাতা কোল এবং ছেলেদের বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন উনাই সিমোন। মেয়েদের উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচ

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!