দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

অপরাধীদের দৌরাত্ম্য, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

অপরাধীদের দৌরাত্ম্য, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

দেশে একের পর এক পুলিশের ওপর হামলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল দুর্বল করার অপচেষ্টা, মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এবং মাদক কারবারের বিস্তার—সব মিলিয়ে জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকা, মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের গতি এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত আইনি সেবা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানীসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ আবাসিক হোটেল, অনুমোদনহীন স্পা সেন্টার, মাদক সংশ্লিষ্ট আস্তানা ও নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সামনে আসছে। এসব অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত ও প্রতিরোধ করা না গেলে অপরাধীদের তৎপরতা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। পুলিশ একটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধী শনাক্ত, জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা, দায়িত্ব পালনে বাধা, বিভিন্ন স্থানে সংঘবদ্ধ বিশৃঙ্খলা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, মাঠপর্যায়ে পুলিশ কতটা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে? অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, জনবল, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে? রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের আন্দোলন ও বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা এবং সংঘর্ষের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। কোনো দাবি বা অধিকার আদায়ের আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও সেই আন্দোলনের আড়ালে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি সম্পদ ভাঙচুর কিংবা সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। পুলিশের দায়িত্ব পালনের সময় তাদের ওপর হামলা হলে শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিরাপত্তাই বিঘ্নিত হয় না, বরং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে সংঘবদ্ধ হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলে সেসব অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। আইনের প্রয়োগ হতে হবে সবার জন্য সমান। পুলিশের ওপর হামলার বিচার যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগেরও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। কারণ জবাবদিহি ও পেশাদারত্বের সমন্বয় ছাড়া একটি বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করা সম্ভব নয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় মব সহিংসতা ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। বিভিন্ন এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা, মারধর, ভাঙচুর, চাঁদাবাজি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সংঘবদ্ধ হওয়ার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা আইনের শাসনের জন্য বড় হুমকি। অপরাধের অভিযোগ থাকলে তদন্ত ও বিচারের দায়িত্ব আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং আদালতের। জনতার হাতে বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের দ্রুত সাড়া, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক পৃষ্ঠপোষক, মাদক সরবরাহকারী এবং অপরাধে অর্থায়নকারীদের শনাক্ত করতে হবে। শুধু কয়েকজন কিশোরকে আটক করে অভিযান শেষ করলে সমস্যার মূল উৎপাটন হবে না। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানীকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, স্পা সেন্টার এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে মাঝেমধ্যে নানা অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অনুমোদন, বৈধ ব্যবসায়িক কাগজপত্র কিংবা নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই পরিচালিত হচ্ছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক সংশ্লিষ্টতা, অসামাজিক কার্যকলাপ এবং অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। প্রশ্ন হচ্ছে, একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে, তাদের ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে কি না, ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার কী, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর কি না এবং আবাসিক অতিথিদের তথ্য সংরক্ষণের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে তো? বিশেষ করে গুলশান ও বনানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস এবং স্পা সেন্টারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পুলিশ, সিটি করপোরেশন, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স প্রদানকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না থাকলে অনিয়ম শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়লে সেগুলো ফাইলবন্দি না রেখে তদন্তের অগ্রগতি নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সুনাম ও অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে হবে।আরও পড়ুন, পুলিশের মাসোহারা বৈধ, সাংবাদিকের উপহার অপরাধ?মাদক অপরাধের বিস্তার শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, পরিবার ও সমাজের নিরাপত্তাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে অনেক সময় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যায়। ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণকে বিচ্ছিন্ন কোনো অভিযান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মাদক কারবারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সরবরাহের উৎস, পরিবহন নেটওয়ার্ক, অর্থের লেনদেন এবং পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করা প্রয়োজন। শুধু খুচরা পর্যায়ের কয়েকজন মাদক বিক্রেতাকে আটক করে অভিযান শেষ করলে বড় চক্রগুলো আড়ালে থেকে যেতে পারে। বিশেষ করে আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, বিনোদনকেন্দ্র এবং সন্দেহজনক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা এলাকার বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ না তুলে প্রমাণভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের চিহ্নিত করাই হবে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ। জনসাধারণের মধ্যে আরেকটি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে থানায় গিয়ে প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপরাধের তথ্য নিয়ে থানায় যোগাযোগ করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সরাসরি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। অবশ্য সব ক্ষেত্রে এমন আচরণ ঘটে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তবে এ ধরনের অভিজ্ঞতা যদি কোনো নাগরিকের হয়ে থাকে, তাহলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। একজন নাগরিক যখন কোনো অপরাধের তথ্য নিয়ে থানায় যান, তখন তিনি দ্রুত সাড়া, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং আইনগত সহায়তা প্রত্যাশা করেন। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পর যদি তাঁকে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে যোগাযোগ করতে হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের প্রতি তাঁর আস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব শুধু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকা নয়, আইন ও বিধি অনুযায়ী নিজের এখতিয়ারের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাও তাঁর দায়িত্ব। কোনো অভিযোগ ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পাঠানোর প্রয়োজন হলে সেটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় পাঠাতে হবে। কিন্তু সেই অজুহাতে জরুরি অপরাধের তথ্য গ্রহণ বা প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব করা উচিত নয়। বিশেষ করে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, নারী ও শিশু নির্যাতন, সংঘবদ্ধ অপরাধ কিংবা কোনো ব্যক্তির তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাঝুঁকির তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। পুলিশের ওপর ধারাবাহিক হামলা এবং দায়িত্ব পালনে বাধার ঘটনা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ধরে রাখার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়; পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব আচরণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করাও গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ, জনবল এবং কার্যকর অপারেশনাল নির্দেশনা দিতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধ দমনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অযৌক্তিক চাপ বা বাধা থাকলে তা দূর করতে হবে। পুলিশকে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে একজন কর্মকর্তা অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবেন। আবার কোনো পুলিশ সদস্য দায়িত্বে অবহেলা করলে কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করলে তাঁকেও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মাঠপর্যায়ের ইউনিটগুলোকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং, মাদক কারবার, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান জোরদার করতে হবে। রাজধানীর গুলশান, বনানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম যাচাইয়ে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর লাইসেন্স, নিবন্ধন, ভবনের ব্যবহার, অগ্নিনিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা করতে হবে। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি থানায় নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা থাকা দরকার। অভিযোগ গ্রহণের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হলো, তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না—এসব বিষয়ে অভিযোগকারীকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, সাধারণ মানুষ যদি অপরাধের তথ্য দিয়েও দ্রুত প্রতিকার না পান, তাহলে তাঁরা নিরাপত্তার জন্য কোথায় যাবেন? অপরাধীরা যদি পুলিশের ওপর হামলা করে পার পেয়ে যায়, সংঘবদ্ধভাবে জনজীবন অস্থির করে তোলে এবং বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত না হয়, তাহলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলার নামে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ কিংবা নির্বিচারে গ্রেপ্তার কোনো সমাধান হতে পারে না। অপরাধ দমন করতে হবে আইন মেনে, নিরপেক্ষভাবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে। একই সঙ্গে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের হলেও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সামগ্রিক দায়িত্ব। এ জন্য পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন, বিচার বিভাগ, সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন। অপরাধ দমনে পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ, নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অপরাধের অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে। জনগণ পুলিশের প্রতিপক্ষ নয়; বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণই পুলিশের সবচেয়ে বড় সহযোগী হতে পারে। তাই পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক ফিরিয়ে আনা জরুরি। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি থেকেই যায়—পুলিশের ওপর হামলা, মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা প্রস্তুত? থানায় গিয়ে সাধারণ মানুষ কি সহজে আইনি সেবা পাবেন? গুলশান-বনানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অপরাধের অভিযোগগুলো কি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর শুধু বক্তব্য কিংবা আশ্বাসে নয়, প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপে। কারণ জননিরাপত্তা কোনো বিশেষ শ্রেণির মানুষের অধিকার নয়; এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও আইনগত সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী, পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক করার মধ্য দিয়েই জনগণের নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা সম্ভব।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার যেকোনো মূল্যে রক্ষা করব: প্রধানমন্ত্রী

যেকোনো মূল্যে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (৭ নভেম্বর) ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিএনপির র‍্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে একটি মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মানুষের অধিকার, ভোটাধিকার ও বাক্‌স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে। জনগণ অতীতে তাদের পরাজিত করেছে। কিন্তু আবারও তারা ষড়যন্ত্র নিয়ে মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে, যেকোনো মূল্যে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করা হবে। এটিই হোক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অঙ্গীকার।আরও পড়ুন, শোভাযাত্রায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে হেঁটে নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে প্রধানমন্ত্রীতারেক রহমান আরও বলেন, যত দিন স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ থাকবে, তত দিন এই বিপ্লবের র‍্যালি চলমান থাকবে। দিবসটি উপলক্ষে বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে র‍্যালি শুরু হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা অংশ নেন। র‍্যালিটি কাকরাইল, হেয়ার রোড, ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট ও বিজয় সরণি অতিক্রম করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে একটি ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। র‍্যালিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা।

শোভাযাত্রায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে হেঁটে নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত ঐতিহাসিক সার্বভৌমত্ব শোভাযাত্রায় হেঁটে নেতাকর্মীদের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি উদ্বোধন ও নেতৃত্ব দেন তিনি। বিএনপি ও দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি বড় সমাবেশে রূপ নেয়। এ সময় নেতাকর্মীদের হাতে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শোভাযাত্রার সামনের ও পেছনের অংশ। নয়াপল্টন থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি কাকরাইল, প্রধান বিচারপতির বাসভবনের পাশ দিয়ে হেয়ার রোড, মিন্টো রোড, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে বিকেল পৌনে ৩টা থেকে ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।আরও পড়ুন, গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীরশোভাযাত্রায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণ ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান ও ফরহাদ হালিম ডোনারসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা অংশ নেন। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শোভাযাত্রায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দীর্ঘ ২০ বছর পর দলটি নির্বিঘ্নে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করছে। দিবসটির ইতিহাস ও তাৎপর্য নিয়ে অতীতে অপপ্রচার ও ইতিহাস বিকৃতি হয়েছে বলেও দলটির নেতারা দাবি করেন। নতুন প্রজন্মের কাছে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।

তারেক রহমানের বক্তব্যের পর শুরু বিএনপির শোভাযাত্রা

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে র‍্যালি শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়। এর আগে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড এবং আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে জড়ো হন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাঁদের হাতে ছিল জাতীয় ও দলীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন এবং দলের শীর্ষ নেতাদের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড। এ সময় স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকা। র‍্যালি শুরুর আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। এ সময় দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।আরও পড়ুন,গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীরর‍্যালিটি প্রধান বিচারপতির বাসভবন ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। র‍্যালি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে দলটির পক্ষ থেকে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সড়কের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকেরা। পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ঢাকার পাশাপাশি শনিবার দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরেও র‍্যালি আয়োজন করেছে বিএনপি। আগামীকাল ৮ নভেম্বর থানা ও উপজেলা পর্যায়ে র‍্যালি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

গ্রাম পুলিশের মাসিক বেতন, আনুতোষিক ভাতা ও যাতায়াত ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে গ্রাম পুলিশের সদস্যদের জন্য মাসিক ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা চালুর কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, গ্রাম পুলিশের সদস্যদের মাসিক বেতন ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে। আর গ্রাম পুলিশ প্রধানের মাসিক বেতন ৮ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা বাড়িয়ে ১১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।আরও পড়ুন, ১৫৮ কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যবহার নিয়ে প্রশ্নতিনি আরও জানান, গ্রাম পুলিশের আনুতোষিক ভাতা ৭০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ প্রধানের আনুতোষিক ভাতা ৮০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রাম পুলিশ প্রধানের যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি এখন থেকে গ্রাম পুলিশের সদস্যরা প্রতি মাসে ১৫০ টাকা করে মোবাইল ভাতা পাবেন। সরকারের এ ঘোষণায় গ্রাম পুলিশের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজনীতিরাজনীতি

বিএনপি সব বিপ্লবের সুফল নেয়, পরে আওয়ামী লীগ হতে চায়: হাসনাত আব্দুল্লাহ

বিএনপি সব বিপ্লবের সুফল নেয়, পরে আওয়ামী লীগ হতে চায়: হাসনাত আব্দুল্লাহ

দেশের বিভিন্ন আন্দোলন ও বিপ্লবের সুফল বিএনপি ভোগ করে, পরে দলটি আবার আওয়ামী লীগের মতো আচরণ করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। বিএনপিকে ‘ফেইলড আওয়ামী লীগ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক ব্যর্থতার পেছনে আওয়ামী লীগের বৈশিষ্ট্য ধারণ করার প্রবণতা কাজ করেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বিভিন্ন সময়ে জনগণের অংশগ্রহণে সংঘটিত আন্দোলন ও বিপ্লবের সুবিধা বিএনপি নিয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দলটি আওয়ামী লীগের মতো হতে চেয়েছে। তাঁর ভাষায়, আওয়ামী লীগ কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নাম নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক চরিত্র ও কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের বিষয়। যে দলেরই হোক, কারও মধ্যে এসব বৈশিষ্ট্য থাকলে তিনি আওয়ামী লীগের মতো আচরণ করবেন। তিনি আরও বলেন, ১৯৯০, ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে বিএনপি আওয়ামী লীগকে পথ দেখিয়েছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রকল্প বিএনপি বাস্তবায়নের চেষ্টা করলেও সফল হতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।আরও পড়ুন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দায় নিজেই নেন ইশরাকবিএনপি ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের তুলনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ যেসব রাজনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে চেয়েছে, সেগুলোতে সফল হয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি একই ধরনের উদ্যোগ নিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনব্যবস্থা কলুষিত করার প্রচেষ্টায় বিএনপি সফল হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। বিএনপির রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, দেশের মানুষ বারবার আন্দোলন-সংগ্রামে রক্ত দিয়েছে। ১৯৯০ সালের প্রজন্মের পাশাপাশি সাম্প্রতিক প্রজন্মও রক্ত দিয়েছে। একটি জাতিকে বারবার রক্ত দিতে হলে রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক প্রজন্মকে যেন নতুন করে পরিচয় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নামতে না হয়, সে জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম পরিচয় সংকট ও রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্যে আটকে থাকার পরিবর্তে একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এনসিপির এই সংসদ সদস্য।

কালশীতে ককটেল বিস্ফোরণ তদন্তে নেমেছে পুলিশ

কালশীতে ককটেল বিস্ফোরণ তদন্তে নেমেছে পুলিশ

রাজধানীর মিরপুরের কালশী মোড়ে মোটরসাইকেলে এসে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর বরাতে জানা যায়, নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন ব্যক্তি কালশী মোড়ে আসে। সেখানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিস্ফোরণে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার গণমাধ্যমকে বলেন, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দায় নিজেই নেন ইশরাক

রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দায় নিজেই নেন ইশরাক

সম্প্রতি পিস্তল হাতে কয়েকজনকে ধাওয়া করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় নিজের অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, গেণ্ডারিয়ায় মাদক নির্মূলের অংশ হিসেবে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সেখানে গিয়েছিলেন এবং আত্মরক্ষার প্রয়োজনে নিজের লাইসেন্স করা অস্ত্র কিছু সময়ের জন্য প্রদর্শন করেছিলেন। এ ঘটনায় তিনি কোনো ভুল করেননি বলে দাবি করেছেন।সম্প্রতি দৈনিক যুগান্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইশরাক এসব কথা বলেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘প্রধানমন্ত্রীর সামনেও মাথা উঁচু করে বলে এসেছি।’ এ অবস্থানে আমৃত্যু অটল থাকবেন বলেও জানান তিনি। গত ১৭ অক্টোবর বিকালে গেণ্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় পিস্তল হাতে কয়েকজনকে ধাওয়া করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে এক হাতে হ্যান্ড মাইকের মাউথপিস এবং অন্য হাতে পিস্তল নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে কয়েকজনকে ধাওয়া করতে দেখা যায় তাঁকে।আরও পড়ুন,বাকশালে নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল: রিজভী এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়। ইশরাকের দাবি, ঘটনাস্থলে তিনি আত্মরক্ষার্থে অস্ত্রটি প্রদর্শন করেছিলেন এবং পরে সেটি যথাযথভাবে সুরক্ষিত অবস্থায় রাখেন। তবে ভিডিওতে দেখা দৃশ্য ও তাঁর বক্তব্যের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করা হয়নি।সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কথা বলেন ইশরাক। তাঁকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার যেকোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তাঁর কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অবগত এবং দলের ভেতরে তাঁর প্রতি আস্থা রয়েছে বলেও দাবি করেন।রাজনীতিতে ভুলের প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, সামগ্রিক রাজনৈতিক জীবনে পরিস্থিতি বা বক্তব্যের কারণে অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়ে থাকতে পারে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাটিতে তিনি কোনো ভুল করেননি বলে মনে করেন। নিজের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত দায়ভার নিজেই নেন বলেও জানান তিনি।

বাকশালে নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল: রিজভী

বাকশালে নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহত করার নতুন অঙ্গীকার খুঁজে পেয়েছিল। ওই দিন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তির মধ্য দিয়ে জাতি নতুন করে পথের দিশা পায়। শনিবার (৭ নভেম্বর) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি আইন করে বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে ক্ষমতাকেন্দ্রিক পাল্টাপাল্টি সংঘাত ও রক্তপাতের কারণে দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।আরও পড়ুন,ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আজ দেশ এক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। সে সময় জনগণের প্রত্যাশা ছিল প্রকৃত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের স্বাদ ফিরে পাওয়া। বিএনপির এই নেতা বলেন, তৎকালীন অস্থির পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যে শঙ্কা ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর জাতি নতুন করে আশার দিশা খুঁজে পায় বলে তিনি মনে করেন। রিজভী আরও বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও উৎপাদনে অগ্রগতি অর্জন করে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদার রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পায়। তাঁর নেতৃত্বেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা

যুবসমাজ একটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি: ফয়জুল করীম

যুবসমাজ একটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি: ফয়জুল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, যুবসমাজ একটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। এই শক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হলে নৈতিকতা, আদর্শ ও ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে। দেশ ও জাতির প্রকৃত মুক্তি, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ইসলামী আদর্শের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, রাজনীতি কি খাওয়ার জায়গা, নাকি খেদমতের জায়গা? পোস্টারে লেখা থাকে ‘সেবা করার সুযোগ দিন’, অথচ ক্ষমতায় যাওয়ার পর বলা হয়, এতদিন খেতে পারেননি। যতদিন রাজনীতিকে ব্যবসার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা হবে, ততদিন মানুষের প্রকৃত খেদমত সম্ভব নয়। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে নরসিংদী বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ নরসিংদী জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমসাময়িক রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও দ্বিচারিতার সমালোচনা করে ফয়জুল করীম আরও বলেন, বিগত নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে একটি জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু কিছু মুনাফিকের কারণে সেই আদর্শ ও চরিত্রকে স্থায়ী করা সম্ভব হয়নি।আরও পড়ুন, গঙ্গাচড়ায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিততিনি বলেন, প্রত্যেককে নিজের নীতি, আদর্শ ও চরিত্র ঠিক রাখতে হবে। যে সত্য কথা বলবে, তার পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। আর যে মিথ্যা বলবে কিংবা খারাপ কাজ করবে, সে নিজের শত্রু হলেও তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ নরসিংদী জেলা শাখার সভাপতি মুফতী সাঈদ আহমদ সরকারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতী মনসুর আহমদ সাকী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাওলানা আরিফ বিন মেহের উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নরসিংদী জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব আশরাফ হোসেন ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনির হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নরসিংদী জেলা শাখার সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা আরিফুল ইসলাম মোল্লাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ নরসিংদী জেলা শাখার পূর্ববর্তী কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে মাওলানা মোবারক হোসাইন, সহসভাপতি হিসেবে মাওলানা মাহমুদুল হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাওলানা জহিরুল ইসলামকে নির্বাচিত করা হয়।

গঙ্গাচড়ায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত

গঙ্গাচড়ায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা, দেশাত্মবোধক গান ও পুরস্কার বিতরণী করা হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদের মাল্টিপারপাস হলরুমে এ অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজী। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. জেসমিন আক্তার। স্বাগত বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) হামিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আবতাবুজ্জামান চয়ন। সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজী বলেন, ‘‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। এ দিবস জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে।’’ তিনি বলেন, ‘‘গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’’ অতীতের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা করেন গঙ্গাচড়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বিনোদ চন্দ্র সরকার। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলেমুল বাসার, গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল ইসলাম ও সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান আলী।আরও পড়ুন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে বিশেষ দরবার অনুষ্ঠিতএ ছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আখেরুজ্জামান মিলন, গঙ্গাচড়া সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আখের মিঞা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চাঁদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গঙ্গাচড়া উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মো. ইউনুছ আলী এবং গণমাধ্যমকর্মী আব্দুল মজিদ ও আব্দুল বারী স্বপন। সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও জেসমিন আক্তার বলেন, ‘‘জাতীয় দিবসগুলো ইতিহাস, ঐতিহ্য ও দেশপ্রেমের চেতনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস জানাতে ও দেশ গঠনে উদ্বুদ্ধ করতে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ।’’ অনুষ্ঠানে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা জানানো হয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। দিবস উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়। সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। হাসপাতাল ও এতিমখানায় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। মসজিদ, মন্দির ও গির্জায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে বিশেষ দরবার অনুষ্ঠিত

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে বিশেষ দরবার অনুষ্ঠিত

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) হেডকোয়ার্টার্সে এক বিশেষ দরবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (০৭ নভেম্বর ২০২৬) গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আয়োজিত এ বিশেষ দরবারে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার জনাব মোঃ ইসরাইল হাওলাদার, যিনি বর্তমানে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) জনাব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনারবৃন্দ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জিএমপির আওতাধীন সকল ইউনিটের পুলিশ সদস্যরা। বিশেষ দরবারে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য, পুলিশের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, পেশাগত দায়িত্ববোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।আরও পড়ুন, ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ঐতিহাসিক র‍্যালীতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে মহানগর বিএনপির হাজারও নেতাকর্মীএ সময় পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে পেশাদারিত্ব, সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ দমন, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং জনগণের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে পুলিশি সেবা প্রদান করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। দরবারে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন মতামত, সমস্যা ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিষয়গুলো তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হয়। এ ধরনের বিশেষ দরবারের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অধস্তন পুলিশ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সমন্বয় ও পেশাগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ বিশেষ দরবারে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল। সার্বিকভাবে অনুষ্ঠানটি পুলিশের সাংগঠনিক কার্যক্রম, পেশাগত দায়িত্ববোধ এবং জনসেবামূলক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ঐতিহাসিক র‍্যালীতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে মহানগর বিএনপির হাজারও নেতাকর্মী

৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ঐতিহাসিক র‍্যালীতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে মহানগর বিএনপির হাজারও নেতাকর্মী

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের র‍্যালীতে গাজীপুর মহানগরের হাজার হাজার নেতাকর্মী জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির র‍্যালীতে অংশগ্রহণ করার জন্য বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ গ্রহন করেন। ৭ নভেম্বর সকাল ১১ টা থেকে নগরের ৮ টি থানা ও বিভিন্ন ওয়ার্ড বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আসতে শুরু করেছেন রমনা পার্কে। এতে পুরো রমনা পার্ক গাজীপুর মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে। পুর্ব নিধারিত সময়ে নয়া পল্টনের দলীয় কার্যালয় থেকে পায়ে হেঁটে র‍্যালীতে অংশ গ্রহন করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। র‍্যালী সফল ও স্বার্থক করতে দুপুর আড়াইটায় রমনা পার্ক থেকে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব শওকত হোসেন সরকার ও গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর -২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি নেতৃত্ব দেন।আরও পড়ুন, জাতীয় বিল্পব ও সংহতি দিবসে মহেশপুরে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিতএ সময় উপস্থিত ছিলেন নগরের ৮ টি থানা বিএনপির সভাপতি / সাধারণ সম্পাদক, আহবায়ক, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক, সদস্য সচিব সহ অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ। ১৯৭৫-এর এই দিনে সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার নতুন পথ উন্মোচন করে। বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশের ক্রান্তিকালে তাঁর দৃঢ় নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যায় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয়তাবাদ ও স্বনির্ভরতার পথে। তাই আজকের এই দিনে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। 

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

আন্তর্জাতিক

গোপন তথ্যের জন্য ২ কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

গোপন তথ্যের জন্য ২ কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারলে সর্বোচ্চ ২ কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তথ্যদাতার নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হতে পারে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এ ঘোষণা দেয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট। দেশটির ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ (আরএফজে) কর্মসূচির আওতায় এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন এ প্রস্তাবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, সরঞ্জাম ও ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। তথ্যদাতারা সিগন্যাল, টেলিগ্রাম ও টর ব্রাউজারের মাধ্যমে একাধিক ভাষায় তথ্য পাঠাতে পারবেন। ১৯৮৪ সালে চালু হওয়া আরএফজে কর্মসূচির মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১২৫ জনের বেশি ব্যক্তিকে মোট ২৫ কোটি ডলারেরও বেশি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। আরও পড়ুন,পেনাকে সরিয়ে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট হলেন আলিয়ানাতাদের ভাষ্য, তথ্যদাতাদের দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষায় সহায়তা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তথ্যদাতাদের পরিচয় কঠোরভাবে গোপন রাখা হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁদের এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হতে পারে। এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ডিজিটাল সম্পদ ব্যবহার এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নে সহায়তার অভিযোগে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আটটি ডিজিটাল সম্পদ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ করা হবে এবং মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের লেনদেন নিষিদ্ধ থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, বিশ্বের যেখানেই ইরানি সরকারের অর্থ লেনদেনের ব্যবস্থা থাকুক, তা বন্ধ ও অকার্যকর করতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় কাজ করবে।

৫ ঘন্টা আগে

রাজধানী

কালশীতে ককটেল বিস্ফোরণ তদন্তে নেমেছে পুলিশ

কালশীতে ককটেল বিস্ফোরণ তদন্তে নেমেছে পুলিশ

রাজধানীর মিরপুরের কালশী মোড়ে মোটরসাইকেলে এসে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর বরাতে জানা যায়, নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন ব্যক্তি কালশী মোড়ে আসে। সেখানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিস্ফোরণে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার গণমাধ্যমকে বলেন, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

৮ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৬ জন

খেলাধুলা

মুশফিককে ছাড়িয়ে টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস এখন তাওহিদ হৃদয়ের

মুশফিককে ছাড়িয়ে টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস এখন তাওহিদ হৃদয়ের

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়লেন তাওহিদ হৃদয়। ডাবল সেঞ্চুরি করে তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের পাশে নাম লেখানোর পর এবার সবাইকে ছাড়িয়ে দেশের টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের মালিক হয়েছেন তিনি। এর আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডটি ছিল মুশফিকুর রহিমের দখলে। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২১৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে অক্ষত ছিল এই রেকর্ড। অবশেষে তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটে ভেঙে গেল সেই কীর্তি।আরও পড়ুন, কোচের সঙ্গে বিরোধের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় রোনালদোরএদিন একের পর এক রেকর্ড গড়েছেন হৃদয়। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডটিও নিজের করে নিয়েছেন তিনি। এতদিন এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন মুমিনুল হক। ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মুমিনুল। প্রায় ১৩ বছর পর সেই রেকর্ড ভেঙে দেন হৃদয়। দ্বিতীয় সেশনে মুমিনুলের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার পর তৃতীয় সেশনের শুরুতে মুশফিকুর রহিমের ২১৯ রানের রেকর্ডও টপকে যান তিনি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন তাওহিদ হৃদয়। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত টেস্ট ইনিংসের রেকর্ড এখন এই তরুণ ব্যাটারের দখলে।

আইন আদালত

পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। ব্যবসায়ী নাসির ইউ আহমেদের করা মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় তার জামিন বাতিল করে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এদিন বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। অন্যদিকে, পরীমনির আইনজীবী সময়ের আবেদন জানিয়ে আদালতকে বলেন, অ্যালার্জিজনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। পরে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে পরীমনির জামিন বাতিল এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। এর আগে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় পরীমনিসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওই দিনও তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।আরও পড়ুন, হুমায়ূন আহমেদের হাত ধরেই বড় পর্দায় মিমের অভিষেকমামলার তদন্তে ২০২৪ সালে পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০২১ সালের ৬ জুলাই বোট ক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। অন্য দুই আসামি হলেন ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম। মামলার অভিযোগে নাসির উদ্দিন মাহমুদ দাবি করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমনি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা ক্লাবের দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার এবং পরে বসে অ্যালকোহল পান করেন। এ সময় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!