দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

আজকের আবহাওয়া

ঢাকা 1013.1 hPa
31.6° 69%
3mm
চট্টগ্রাম 1011.8 hPa
27.1° 91%
0mm
রাজশাহী 1013.5 hPa
31° 75%
3mm
খুলনা 1013.1 hPa
33° 64%
3mm
বরিশাল 1013 hPa
30.2° 76%
300° 3mm
সিলেট 1012.8 hPa
31.7° 73%
210° 3mm
রংপুর 1013.3 hPa
31.3° 71%
3mm
ময়মনসিংহ 1013.4 hPa
32° 63%
410° 3mm
Weather

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

গুলশানে গেস্ট হাউজ-স্পা, পেছনে মিরাজের অজানা সাম্রাজ্য?

গুলশানে গেস্ট হাউজ-স্পা, পেছনে মিরাজের অজানা সাম্রাজ্য?

বরগুনার বেতাগী উপজেলার গরিচন্না বাজার এলাকায় জম্ম মিরাজের। তিনি ঢাকার বুকে হোটেল ব্যবসায় অঙ্গনে যিনি ‘মোল্লা মিরাজ’ নামে পরিচিত বলে স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে। প্রায় এক দশক আগে ঢাকায় এসে মিরপুরের একটি আবাসিক হোটেলে ক্লিনারের চাকরি নেওয়া থেকে তার কর্মজীবনের শুরু। সময়ের ব্যবধানে সেই চাকরি থেকে হোটেল, স্পা ও গেস্ট হাউজ ব্যবসায় প্রবেশ এবং পরবর্তীতে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে ফ্ল্যাট, বাড়ি-গাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, মিরাজের বর্তমান জীবনযাপন ও সম্পদের সঙ্গে তার অতীত আর্থিক অবস্থার ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। একসময় সাধারণ কর্মচারী হিসেবে কাজ করলেও বর্তমানে তিনি ভিআইপি স্টাইলে চলাফেরা করেন। তার মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন হোটেল, স্পা ও গেস্ট হাউজকে ঘিরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক, মানবপাচার এবং ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি সূত্রগুলোর। অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।আরও পড়ুন: গুলশানে গেস্ট হাউজ ও দীর্ঘদিনের স্পা ব্যবসায় কোটিপতি মিরাজপ্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ বছর আগে বরগুনা থেকে ঢাকায় আসেন মিরাজ। তখন তার আর্থিক অবস্থা ছিল সাধারণ। রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ক্লিনার হিসেবে চাকরি নেন তিনি। হোটেলকেন্দ্রিক পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে ধীরে ধীরে ব্যবসার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা নেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে নিজেই হোটেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। সময়ের সঙ্গে স্পা ও গেস্ট হাউজ ব্যবসাতেও তার সম্পৃক্ততা বাড়তে থাকে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই বড় অঙ্কের অর্থ ও সম্পদের মালিক হয়েছেন।সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, একজন সাধারণ কর্মচারী থেকে এত অল্প সময়ে কীভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হলেন মিরাজ? তার ব্যবসার মূলধন কোথা থেকে এসেছে, কোন কোন প্রতিষ্ঠানের নামে সম্পদ রয়েছে এবং এসব ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থের উৎস কী এসব বিষয়ে যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।আরও পড়ুন: অপসাংবাদিকতার তাণ্ডব: মূলধারা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বড় সংকটঅভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে রাজধানীর গুলশানে ৩৩ নং রোডে অবৈধ গেস্ট হাউজ ও ৪১ নং রোডে একটি স্পা এবং আর এম সেন্টারে ভিআইপি সেলুন ও স্পেশাল সার্ভিসের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া  একটি ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক মিরাজ। তার নামে বা ঘনিষ্ঠদের নামে আরও সম্পদ রয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়ের অর্থের উৎস এবং আয়কর নথিতে সেগুলোর যথাযথ হিসাব রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাই প্রয়োজন। অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তার সম্পদ ও ব্যবসায়িক লেনদেন যাচাই করা গেলে অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন সাংবাদিক ও স্থানীয়রা।রাজধানীর গুলশানের একটি গেস্ট হাউজ ও স্পা সেন্টারকে ঘিরে মিরাজের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। একই সঙ্গে সেখানে মাদকসেবী, মাদক কারবারি কিংবা মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কথিত আনাগোনা রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে মাদক ব্যবসা বা মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করার মতো আদালতসিদ্ধ তথ্য এই প্রতিবেদকের হাতে নেই। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত জরুরি।আরও পড়ুন: ডেঙ্গু ঠেকাতে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রীস্থানীয়দের প্রশ্ন, আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধিত ও অনুমোদিত কি না? তাদের ট্রেড লাইসেন্স, অগ্নিনিরাপত্তা, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না এ বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন। মিরাজের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার দাবি। কয়েকটি সূত্রের ভাষ্য, হোটেল ও গেস্ট হাউজ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে একটি বড় সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যার মাধ্যমে বিপুল অর্থ লেনদেন হয়।অভিযোগ রয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণী ও তরুণদের রাজধানীতে এনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজে নিয়োগ বা অন্য সুযোগ দেওয়ার কথা বলে তাদের একটি চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে তাদের ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করা হয় বলেও অভিযোগকারীদের দাবি। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো মামলার নথি, তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় এই প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।আরও পড়ুন: অনলাইন পোর্টাল ও ফেসবুক পেজ খুলেই কথিত ‘সাংবাদিক’!মানবপাচারের অভিযোগ সত্য হলে এটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মানবপাচারবিরোধী সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উচিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা।হোটেল ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, মিরাজ রাজধানীর হোটেল অঙ্গনে ‘মোল্লা মিরাজ’ নামে পরিচিত। ব্যবসায়িক যোগাযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন মহলে তার প্রভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে তার সামাজিক ও ব্যবসায়িক প্রভাবও বেড়েছে। বর্তমানে তিনি দামি গাড়িতে চলাফেরা করেন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে এমন কথাও শোনা যায়। মিরাজকে নিয়ে ইতিপূর্বে দৈনিক সংবাদ দিগন্তে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিকদের হুমকি-ধমকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ কিংবা হয়রানির চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করতে ভয়ভীতি বা চাপ প্রয়োগ করা হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগের বিষয়। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো পক্ষ যাতে সংবাদ প্রকাশের কারণে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা।আরও পড়ুন: শিকলে বেঁধে বেল্ট দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ, পরে গৃহবধূর মৃত্যুমিরাজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি বা ভিডিওকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। তবে কার কাছ থেকে কত টাকা আদায় করা হয়েছে বা এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়েছে কি না এমন নির্ভরযোগ্য নথি প্রতিবেদকের হাতে না থাকায় অভিযোগটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। যদি সত্যিই এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে থাকে, তাহলে ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তদন্ত করা সম্ভব। একজন সাধারণ কর্মচারী থেকে কয়েক বছরের ব্যবধানে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠলে স্বাভাবিকভাবেই সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। মিরাজের আয়কর নথি, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, ব্যাংক লেনদেন, সম্পত্তি ক্রয়ের দলিল এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স যাচাই করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। বিশেষ করে তার মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন হোটেল, স্পা ও গেস্ট হাউজগুলোর বৈধতা, অনুমোদন এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠান অন্য কারও নামে পরিচালিত হলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রক কে সেটিও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।আরও পড়ুন: বাঁধনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা, ‘আমরা সবাই বিচার চাই’: পাটওয়ারীরাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে হোটেল, গেস্ট হাউজ ও স্পা ব্যবসার আড়ালে যাতে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতে না পারে, সে বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাদক, মানবপাচার, অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা উচিত। অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্টদেরও আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকা প্রয়োজন।মিরাজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তার কাছ থেকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। দৈনিক সংবাদ দিগন্তের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হচ্ছে, এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক, মানবপাচার, অবৈধ সম্পদ ও ব্ল্যাকমেইলিং সংক্রান্ত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সূত্র ও অভিযোগকারীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। রাজধানীতে একজন সাধারণ কর্মচারী থেকে দ্রুত বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠার অভিযোগ এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘিরে ওঠা গুরুতর অভিযোগগুলো তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে এনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে। তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে মিরাজের বিপুল সম্পদের প্রকৃত উৎস কী এবং তার পরিচালিত হোটেল, স্পা ও গেস্ট হাউজ ব্যবসার আড়ালে আদৌ কোনো অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না।আরও পড়ুন: আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ডিএমপি, দুই দিনে ৩২০৬ মামলাআইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবৈধ ব্যবসা, মাদক, মানবপাচার, ব্ল্যাকমেইলিং কিংবা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা যথাযথভাবে তদন্ত ও প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। গণমাধ্যমে এসব অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে অভিযোগকে সরাসরি প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন না করে ‘অভিযোগ’ বা ‘সূত্রের দাবি’ হিসেবে উল্লেখ করা উচিত।বিশেষজ্ঞরা বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, ব্যবসায়িক নথি, সম্পত্তির দলিল, আয়কর নথি ও আর্থিক লেনদেন যাচাই করলে সম্পদের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়াও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আইন বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিককে ভয়ভীতি বা হুমকি দেওয়া হলে সেটিও আইনগতভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। সংবাদে আপত্তি থাকলে আইনসম্মতভাবে প্রতিবাদ বা প্রতিকার চাওয়া যায়; কিন্তু চাপ প্রয়োগ করে সংবাদ বন্ধের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। তাই মিরাজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন জরুরি।আরও পড়ুন: সকালেই মেঘে ঢাকা রাজধানী, দুপুরের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনাএবিষয়ে মিরাজের পরিচালিত গেস্ট হাউজ ও স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, গুলশান এলাকায় কোনো হোটেল, গেস্ট হাউজ বা স্পা সেন্টারের আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে পুলিশ তা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। আরও পড়ুন: পুলিশে বড় রদবদল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তা বদলিওসি আরও বলেন, গুলশান এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় এর আগে বিভিন্ন স্পা সেন্টারে অভিযান চালিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাদক, মানবপাচার, ব্ল্যাকমেইলিং কিংবা অন্য কোনো অপরাধের সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে তা পুলিশকে জানালে তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শেভরনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন শেভরনের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দেন শেভরনের বেস অ্যাসেটস ও উদীয়মান দেশবিষয়ক প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার লা রোসা।সাক্ষাতে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে শেভরনের বিনিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে দেশে থাকা পুরোনো ও বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে আগ্রহের কথা জানায় প্রতিষ্ঠানটি।আরও  পড়ুন, এআই-ডিপফেকের যুগে সাইবার তদন্তে দক্ষ পুলিশ গড়ার তাগিদ আইজিপিরপ্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে নতুন অনুসন্ধান কার্যক্রমে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ংসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এআই-ডিপফেকের যুগে সাইবার তদন্তে দক্ষ পুলিশ গড়ার তাগিদ আইজিপির

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক আইজিপি আলী হোসেন ফকির।রোববার সকালে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজে সাইবার অপরাধ মামলা তদন্ত সংক্রান্ত ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স বা টিওটি কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।আইজিপি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপফেক, এনক্রিপটেড যোগাযোগব্যবস্থা ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মতো প্রযুক্তি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এসব প্রযুক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে।তিনি বলেন, অপরাধীরা প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাইবার প্রতারণা, অনলাইন আর্থিক অপরাধ,আরও  পড়ুন, বেসরকারি চাকরিজীবীদের সুরক্ষায় নতুন সার্ভিস রুলস তৈরির উদ্যোগ তথ্য চুরি, হ্যাকিং, অনলাইন হয়রানি ও ডিজিটাল চাঁদাবাজির মতো অপরাধ করছে।ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় প্রচলিত পুলিশিংয়ের পাশাপাশি তদন্ত পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন আইজিপি।প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই কোর্সের মাধ্যমে শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতাই নয়, অন্য তদন্তকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সক্ষমতাও অর্জন করতে হবে।প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান অন্য তদন্তকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারলে সাইবার মামলা তদন্তে দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তার সংখ্যা বহুগুণ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।এ ধরনের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ নিয়মিত আয়োজন এবং প্রশিক্ষণ উপকরণ ও মডিউল হালনাগাদ রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন আইজিপি।

বেসরকারি চাকরিজীবীদের সুরক্ষায় নতুন সার্ভিস রুলস তৈরির উদ্যোগ

বেসরকারি চাকরিজীবীদের সুরক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে নতুন সার্ভিস রুলস তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।প্রস্তাবিত এই সার্ভিস রুলসে ন্যূনতম বেতন, নিয়মিত বেতন বৃদ্ধি, বিভিন্ন ভাতা, কর্মঘণ্টা, ছুটি ও পদোন্নতির মতো বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।একই সঙ্গে চাকরিজীবীদের আচরণবিধি, দুর্নীতির তদন্ত, শৃঙ্খলা, আইনি সুরক্ষা ও বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।এ ছাড়া শিশুশ্রম প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাকরির সুযোগ, চাকরি স্থায়ীকরণ এবং চাকরি থেকে অপসারণের নিয়মও নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।আরও  পড়ুন, জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীনতুন সার্ভিস রুলসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষতিপূরণ আদায় এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও রাখা হবে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি চাকরিজীবীদের অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এ জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোস্তফা জামানকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, চেম্বার ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন সংগঠনের মতামত নিয়ে খসড়া সার্ভিস রুলস তৈরি করা হবে। পরে তা পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হবে।

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়ে নিউইয়র্কে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অবস্থান করবেন।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সফরে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন ভিশন ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।নিউইয়র্কে অবস্থানকালে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাইডলাইন বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।আরও  পড়ুন, স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, প্রতিটি নাগরিকের অধিকার : জুবাইদা রহমানএসব বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রাথমিক উদ্দেশ্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়া। সাইডলাইনে বিভিন্ন বৈঠক শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত হয়ে থাকে।তিনি জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে কার সঙ্গে বৈঠক হবে, তা চূড়ান্ত হলে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।এদিকে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে বিশেষ সাইডলাইন বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যু বড় গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

রাজনীতিরাজনীতি

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত হবে ১৮ সে

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত হবে ১৮ সে

আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন। এই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা চূড়ান্ত হবে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর।শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী।তিনি জানান, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করবেন। পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর সেই ফরম জমা নেওয়া হবে।এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপনির্বাচনের জন্য বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আসন হিসেবে পরিচিত। তার আসন শূন্য হওয়ায় এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।আরও  পড়ুন, স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে মাঠ গরম, প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যস্ত বিএনপি-জামায়াত-এনসিপিএদিকে বৈঠকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে সারা দেশে ডেঙ্গু সচেতনতা বাড়াতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।রুহুল কবীর রিজভী জানান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে মশারি সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি নামকরা চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে তৈরি ডেঙ্গু সচেতনতামূলক প্রচারপত্র ঢাকাসহ সারা দেশে বিতরণ করা হবে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি গণমাধ্যম, রেডিও ও টেলিভিশনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে।এ ছাড়া স্কুল, মাদরাসা ও হাটবাজারে আবর্জনা ফেলার জন্য বিনের ব্যবস্থা করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিএনপি।

স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে মাঠ গরম, প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যস্ত বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি

স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে মাঠ গরম, প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যস্ত বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন ব্যস্ততা। চলতি বছরের শেষ দিকে ছয় বা সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকারের ভোটযাত্রা শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। এরপর ধাপে ধাপে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের কথা রয়েছে।দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ না থাকলেও মাঠপর্যায়ে নিজেদের সমর্থিত একক প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো।সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জে রয়েছে বিএনপি। ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে দলটির একাধিক নেতা প্রার্থী হতে আগ্রহী। কোথাও কোথাও সমর্থনপ্রত্যাশীর সংখ্যা ৭ থেকে ১৭ জন পর্যন্ত বলে জানা গেছে। ফলে একক প্রার্থী বাছাই এখন দলটির জন্য বড় পরীক্ষা।অন্যদিকে স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আগেভাগেই মাঠ গোছাতে শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, তৃণমূল পর্যায়ে ইতোমধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনগুলোর প্রার্থীও প্রায় চূড়ান্ত বলে জানা গেছে।আরও  পড়ুন, ফ্যাসিস্ট চরিত্রের পুনরাবৃত্তি হলে মানুষ আবারও রুখে দাঁড়াবে: চরমোনাই পীরজাতীয় রাজনীতিতে ১১ দলীয় ঐক্যের অংশীদার হলেও স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপি।ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মহানগর উত্তর শাখার আমির সেলিম উদ্দিনের নামও সামনে এসেছে।অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন তাবিথ আউয়াল, এম এ কাইয়ুম ও শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।ঢাকা দক্ষিণে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং জামায়াতের পক্ষ থেকে ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক বা সাদিক কায়েমের নাম আলোচনায় রয়েছে। বিএনপিতে হাবিব উন নবী খান সোহেল, আব্দুস সালাম ও ইশরাক হোসেনের নাম নিয়ে আলোচনা চলছে।সব মিলিয়ে স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই দলগুলোর মাঠপর্যায়ের তৎপরতা বাড়ছে।

ফ্যাসিস্ট চরিত্রের পুনরাবৃত্তি হলে মানুষ আবারও রুখে দাঁড়াবে: চরমোনাই পীর

ফ্যাসিস্ট চরিত্রের পুনরাবৃত্তি হলে মানুষ আবারও রুখে দাঁড়াবে: চরমোনাই পীর

দেশে আবারও ফ্যাসিস্ট চরিত্রের পুনরাবৃত্তি হলে জনগণ তা মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।শনিবার বিকেলে কুড়িগ্রামের রাজারহাট সমবায় মার্কেট চত্বরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজারহাট উপজেলা শাখার আয়োজনে গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।মুফতি রেজাউল করিম বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সংগ্রাম করতে শিখেছে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে প্রয়োজনে জীবন দেওয়ার মানসিকতাও মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে। দেশে অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হলে জনগণ আবারও রুখে দাঁড়াবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন, ইসলামের নীতি-আদর্শ ছাড়া অন্য কোনো নীতি-আদর্শে শান্তি আসেনি, ভবিষ্যতেও আসবে না। আরও  পড়ুন, ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াত এনসিপি মুখোমুখিদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে জনগণকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অন্যায়, অনিয়ম ও অশান্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।সমাবেশে রাজারহাট উপজেলার ভোটারদের উদ্দেশে চরমোনাই পীর বলেন, বিভিন্ন সময়ে জনগণ বিভিন্ন প্রার্থী ও দলকে ভোট দিয়েছে। এবার ইসলামের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।পরে তিনজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর হাতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রতীক হাতপাখা তুলে দেন মুফতি রেজাউল করিম।সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজারহাট উপজেলা শাখার আমির মাওলানা মো. আব্দুল ওয়াহেদ। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াত এনসিপি মুখোমুখি

ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াত এনসিপি মুখোমুখি

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এবার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একসঙ্গে লড়লেও স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপিকে ছাড় দিতে রাজি নয় জামায়াত। দুই দলই পৃথক মেয়র প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।শুধু ঢাকা নয়, স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচনে আলাদাভাবে অংশ নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১১–দলীয় ঐক্য। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন না হওয়া এবং নিজ নিজ দলের প্রার্থী বাছাইয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।জামায়াতের পক্ষ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মহানগর আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণে ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক, যিনি সাদিক কায়েম নামে পরিচিত, প্রাথমিকভাবে মনোনীত হয়েছেন বলে জানা গেছে।অন্যদিকে ঢাকা উত্তরে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা দক্ষিণে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রার্থী হতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কারও নাম ঘোষণা করেনি এনসিপি।১১–দলীয় ঐক্যের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও ঢাকার দুই সিটিতে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।আড়ও পড়ুন,জামায়াতের বিরুদ্ধে আঁতাতের অভিযোগ রাশেদের এবি পার্টিও ঢাকা ও অন্যান্য সিটি করপোরেশনে প্রার্থী দেওয়ার কথা জানিয়েছে। এলডিপি এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।তবে নির্বাচনী মাঠে আলাদা অবস্থান নিলেও রাজনৈতিক ঐক্য ভাঙছে না ১১ দলের। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস–সংকটসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে দলগুলো আগের মতোই একসঙ্গে কর্মসূচি পালন করবে।জামায়াত নেতারা বলছেন, স্থানীয় পর্যায়ে শরিকদের মধ্যে সমঝোতা করে একক প্রার্থী দেওয়া হলে কেন্দ্র থেকে বাধা থাকবে না। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো আসনে প্রার্থী প্রত্যাহার বা সমঝোতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।এদিকে নির্বাচনে কোনো পক্ষ প্রভাব বিস্তার কিংবা নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে অসহযোগিতার চেষ্টা করলে ১১–দলীয় ঐক্য সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ করবে বলেও জানিয়েছেন নেতারা।অর্থাৎ ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও বৃহত্তর রাজনৈতিক ইস্যুতে জামায়াত, এনসিপিসহ ১১ দলের ঐক্য আপাতত অটুট রাখার কৌশলই নিয়েছে দলগুলো।

সারাবাংলা

মধুপুরে সংস্কারহীন কাঁচা সড়কে ১২ গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে

মধুপুরে সংস্কারহীন কাঁচা সড়কে ১২ গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা গারো অধ্যুষিত এলাকায় যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ টেলকি-কাকড়াগুণী সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে।বর্ষা মৌসুমে হাঁটু সমান কাঁদা আর খানাখন্দে একাকার হয়ে যাওয়ায় ১২টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষেরযাতায়াত এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সড়কটির বেহাল দশার কারণে উৎপাদিত কৃষিপণ্যেরন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লোকসান গুনছেন স্থানীয় কৃষকেরা।সরেজমিনে দেখা যায়, টেলকি থেকে কাকড়াগুণী হয়ে দোখলা ও সাধুপাড়া গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কে সামান্যবৃষ্টিতেই ছোট-বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি পাকা বাসম্প্রসারণ না হওয়ায় অন্তত ১২টি গ্রামের মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী গ্রামবাসীর দাবি, দ্রুতপ্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সড়কটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হোক। এতে যাতায়াতের দুর্ভোগ কমারপাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।কাকড়াগুণী গ্রামের লাজারুশ সিমসাং (৫৫) জানান, এলাকাটি মূলত কৃষিনির্ভর। কিন্তু যাতায়াত ব্যবস্থা সংকটেকৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নেওয়া যায় না। শিশুদের স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হয়। কেউ অসুস্থ হলে ২৫ কিলোমিটারআরও  পড়ুন, গাজীপুর হবে সবার’-মনিরুজ্জামান সরকারের অঙ্গীকারঘুরে মুক্তাগাছার গাবতলি হয়ে মধুপুর হাসপাতালে যেতে হয়। রাস্তার কারণে সঠিক চিকিৎসা পাওয়াও কঠিন হয়েপড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ওয়ালেস মাঝি (৪৫) জানান, এ এলাকায় গারো সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস বেশি।অনুন্নত যোগাযোগের কারণে তারা অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়ছেন। তার মতে, কাকড়াগুণী বাজারথেকে সাধুপাড়া দেড় কিমি, লাজারুশের বাড়ি থেকে দোখলা পর্যন্ত ৩ কিমি এবং টেলকি বাজার পর্যন্ত ৪ কিমিসড়ক দ্রুত পাকাকরণ জরুরি।কৃষক বাবুল মানখিন ও সঞ্জয় সিমসাং ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে ফল বাজারে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়।রাস্তার কারণে পাইকাররা তা বাগান থেকে ৩০ টাকায় কিনছেন। পণ্য পরিবহনে খরচ অনেক বেশি। আমাদেরউৎপাদিত আনারস সারা দেশে গেলেও আমরা লাভের মুখ দেখছি না। বিরাশ নেকলা ও বিনোদিনী মানখিন জানান,কাদার কারণে উপাসনালয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া এই জনপদের মানুষেরভাগ্যোন্নয়ন সম্ভব নয়।মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, লাল মাটির এলাকা হওয়ায় বৃষ্টিতে কাঁচা রাস্তাগুলোকর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। ফলে কৃষিপণ্য পরিবহনের খরচ অনেক বেড়ে যায় এবং কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিতহন। সড়কটি পাকা হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আসবে।টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন বলেন, টেলকি-কাকড়াগুণীসহ স্থানীয় অন্যান্যসড়কের বরাদ্দের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত মেরামত কাজ শুরু করা হবে।

গাজীপুর হবে সবার’-মনিরুজ্জামান সরকারের অঙ্গীকার

গাজীপুর হবে সবার’-মনিরুজ্জামান সরকারের অঙ্গীকার

“উন্নয়ন ও সুশাসনের অঙ্গীকার-গাজীপুর ইউনিয়ন হোক সবার”-এই প্রত্যয় সামনে রেখে আসন্ন ২ নং গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আলহাজ্ব মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান সরকার। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এই প্রার্থী মাদক, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নিজের নির্বাচনী ভাবনা, পারিবারিক পরিচয়, শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং গাজীপুর ইউনিয়ন নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মনিরুজ্জামান সরকার।তিনি বলেন, গাজীপুর ইউনিয়ন শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতির দিক থেকে একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদ। সঠিক পরিকল্পনা ও যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে ইউনিয়নটিকে আরও উন্নত, আধুনিক, বৈষম্যহীন ও নাগরিকবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি।মনিরুজ্জামান সরকার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণ মানুষের সবচেয়ে কাছের সরকারি সেবা কেন্দ্র। জন্মনিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, অবকাঠামো, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং সরকারি বিভিন্ন সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।তিনি বলেন, “মানুষকে সেবা নিতে এসে হয়রানির শিকার হতে হবে-এটা আমি চাই না। ইউনিয়ন পরিষদ হবে মানুষের সেবার জায়গা, মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার জায়গা।”নির্বাচিত হলে দল-মত নির্বিশেষে ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার কথা জানান তিনি। সরকারি বরাদ্দের সুষ্ঠু ব্যবহার, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন এই চেয়ারম্যান প্রার্থী।সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মমোহাম্মদ মনিরুজ্জামান সরকার ১৯৭৬ সালে শ্রীপুর উপজেলার ২ নং গাজীপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সরকার বাড়ির একটি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম আলহাজ্ব সিরাজুল হক চেয়ারম্যান (রিলিফ/গ্রাম সরকার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি (পুলিশ) আলহাজ্ব তুফাজ্জল হোসেন তাঁর চাচা।দেশ-বিদেশে শিক্ষা ও উদ্যোক্তা জীবনগাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে গাজীপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন তিনি। পরে তিতুমীর কলেজে ভর্তি হন। উচ্চশিক্ষার জন্য রাশিয়ায় গিয়ে সেখানকার একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ অনার্স ও এমএ (ইকোনমিক্স) ডিগ্রি অর্জন করেন।শিক্ষাজীবন শেষে রাশিয়াতেই উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনার পর ২০১২ সালে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ডিলারশিপ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। তাঁর ব্যবসায়িক উদ্যোগের মধ্যে মারিয়াম ওয়ালটন এক্সক্লুসিভ, মারিয়াম ইলেকট্রনিক্স ও মারিয়াম ফার্নিচার উল্লেখযোগ্য।আরও  পড়ুন, টেকনাফে ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবার মৃত্যু, ঘটনার পর অভিযুক্ত পলাতকপরবর্তীতে ‘এলিট ফার্নিচার’ নামে একটি ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে দেশের প্রায় ৫০টি জেলায় ডিলারদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি জৈনা বাজার আহমাদিয়া ফিলিং স্টেশনের অংশীদার হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন তিনি।সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয়রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন মনিরুজ্জামান সরকার। তিনি শ্রীপুর উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের গাজীপুর ইউনিয়নের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী গাজীপুর ঈদগাহ মাঠের ক্যাশিয়ার এবং আহম্মদ আলী নূরানী হাফিজিয়া ও এতিমখানা মাদ্রাসার সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।মাদক-দুর্নীতি-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থাননির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম বিষয় হিসেবে মাদক, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত ইউনিয়ন গড়ে তোলার কথা বলেছেন তিনি।মনিরুজ্জামান সরকার মনে করেন, শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই মাদকের বিস্তার ঠেকানো সম্ভব। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, শিক্ষা ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।তিনি বলেন, “মাদক একটি পরিবারকে ধ্বংস করে, একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”‘গাজীপুর হবে সবার’চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার কারণ জানতে চাইলে মনিরুজ্জামান সরকার বলেন, জনপ্রতিনিধির পদ তাঁর কাছে ক্ষমতা বা ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়; এটি মানুষের সেবা করার দায়িত্ব।তিনি বলেন, “আমি মনে করি, একজন চেয়ারম্যানের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো তিনি মানুষের কতটা কাজে আসতে পেরেছেন। জনগণ যদি আমাকে দায়িত্ব দেয়, তাহলে সেই দায়িত্বকে আমানত হিসেবে নিয়ে কাজ করতে চাই।”নির্বাচিত হলে নাগরিক সেবা সহজীকরণ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা, সরকারি সুবিধার সুষ্ঠু বণ্টন এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।গাজীপুর ইউনিয়নবাসীর উদ্দেশে মনিরুজ্জামান সরকার বলেন, “গাজীপুর ইউনিয়ন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়—এই ইউনিয়ন সবার। আমি এমন একটি ইউনিয়ন গড়তে চাই, যেখানে মানুষ তার পরিচয় দিয়ে নয়, নাগরিক অধিকার নিয়ে সেবা পাবে।”তিনি আরও বলেন, “আসুন উন্নয়নের পথে চলি, গাজীপুরকে এগিয়ে তুলি। মাদক, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক ইউনিয়ন গড়ে তুলতে আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন প্রত্যাশা করছি।”

টেকনাফে ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবার মৃত্যু, ঘটনার পর অভিযুক্ত পলাতক

টেকনাফে ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবার মৃত্যু, ঘটনার পর অভিযুক্ত পলাতক

কক্সবাজারের টেকনাফে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলের ছুরিকাঘাতে আবুল কাসেম নামে ৫৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মারা গেছেন।শনিবার বিকেলে হ্নীলা ইউনিয়নের হামজারছড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার সকালে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়নিহত আবুল কাসেম স্থানীয়ভাবে ‘লেডু মিস্ত্রি’ নামে পরিচিত ছিলেন।স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে আবুল কাসেমের সঙ্গে তার ছেলে মো. হারুনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে হারুন ধারালো ছুরি দিয়ে বাবার বুকে ও পেটে একাধিকবার আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।আরও  পড়ুন, গোপালগঞ্জে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিতপরে স্থানীয়রা আহত আবুল কাসেমকে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়।হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আলী ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মো. হারুন পলাতক রয়েছেন।

গোপালগঞ্জে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির জুলাই-২০২৬ মাসের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘স্বচ্ছতা’ সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম বাবর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ। সভায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ জেলার বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সব মহলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।সভায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, অনলাইন জুয়া বন্ধ, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ, আরও  পড়ুন, ‎ময়মনসিংহে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা: মাদক ও সার সংকট নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশমানব পাচার প্রতিরোধ এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ছাড়া জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার এবংজনভোগান্তি সৃষ্টি করে এমন অপরাধের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।সভায় বক্তারা বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একার পক্ষে সম্ভব নয়। প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন দপ্তর ও সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। সভায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করার পাশাপাশি একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও জনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আশাবাদ ট্রাম্পের

ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আশাবাদ ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।তার ধারণা, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামও দ্রুত কমে আসবে বলে দাবি করেছেন তিনি।আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান যতটা সম্ভব যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে জটিল করে তোলার উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ট্রাম্প বলেন, তাঁর মনে হচ্ছে খুব শিগগিরই যুদ্ধ শেষ হবে। এমনকি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পরেই যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি।মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরান যতটা সম্ভব টিকে থাকার চেষ্টা করছে। তবে মানুষ বিষয়টি বুঝতে পারছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।যুদ্ধের অবসান হলে জ্বালানি তেলের বাজারেও বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন ট্রাম্প।আড়ও পড়ুন,মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে ১০ হাজার কর্মী যাবে শূন্য খরচে তাঁর দাবি, সংঘাত শেষ হলে তেলের দাম দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসবে।তবে ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সময়সীমা নেই। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ইরানের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন।বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই প্রভাবিত করছে না, এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেল সরবরাহ ও পরিবহনব্যবস্থায় ঝুঁকি বাড়তে পারে। আর সংঘাতের অবসান হলে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং বাজারের ঝুঁকি কমার কারণে তেলের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।তবে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই যুদ্ধ শেষ হবে—ট্রাম্পের এই বক্তব্য এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা সমঝোতার ভিত্তিতে নয়। ফলে যুদ্ধ কবে এবং কীভাবে শেষ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো রয়েছে।

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানী

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

খেলাধুলা

অভিষেকের ঝড়ে আফগানিস্তানকে উড়িয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারতের দুর্দান্ত শুরু

অভিষেকের ঝড়ে আফগানিস্তানকে উড়িয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারতের দুর্দান্ত শুরু

দিল্লিতে ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন অভিষেক শর্মা। তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দারুণ শুরু করেছে ভারত।আফগানিস্তানের দেওয়া ১৫৭ রানের লক্ষ্য মাত্র ১৩ দশমিক ৪ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ভারতের জয়ের মূল কারিগর অভিষেক শর্মা। মাত্র ৩২ বলে ৮২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন তিনি।এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে আফগানিস্তান। দ্বিতীয় বলেই রহমানউল্লাহ গুরবাজকে ফিরিয়ে দেন চোট কাটিয়ে ফেরা জসপ্রিত বুমরাহ। এরপর অর্শদীপ সিং, অক্ষর প্যাটেল ও বরুণ চক্রবর্তীর কার্যকর বোলিংয়ে একসময় ৭ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৪৩ রান করে আফগানরা।আরও  পড়ুন, রিশাদের ঘূর্ণিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’কে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশসেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। তার ৬৪ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস এবং মোহাম্মদ নবীর ৩৩ রানে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৬ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান।জবাবে শুরুতে সাঞ্জু স্যামসনকে হারালেও ইশান কিশানের সঙ্গে ১২১ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়েন অভিষেক। ৩৩ বলে ৪২ রান করেন কিশান।অন্যদিকে, অভিষেক যেন ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। চার-ছক্কার ঝড়ে মাত্র ৩২ বলেই ৮২ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে মাত্র ১৩ দশমিক ৪ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত।ফলে ৭ উইকেটের বড় জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করল স্বাগতিকরা। বুমরাহ-বরুণের প্রত্যাবর্তন, বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স আর অভিষেকের ব্যাটিং তাণ্ডবে দিল্লির রাতটা পুরোপুরিই হয়ে থাকল ভারতের।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর