দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

পুলিশের মাসোহারা বৈধ, সাংবাদিকের উপহার অপরাধ?

বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা / পুলিশের মাসোহারা বৈধ, সাংবাদিকের উপহার অপরাধ?

দেশে চাঁদাবাজি, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে আলোচনা হলেই একটি অদ্ভুত দ্বৈত মানদণ্ড সামনে আসে। পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মাসোহারা গ্রহণ, অপরাধীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ নেওয়া কিংবা অবৈধ কর্মকাণ্ডে নীরব সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ উঠলে অনেক ক্ষেত্রেই তা নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না। কিন্তু কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠলেই তাঁকে চাঁদাবাজ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা দেখা যায়। প্রশ্ন হচ্ছে, অনৈতিকভাবে অর্থ বা সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ যদি অপরাধ হয়, তাহলে সেটি পুলিশ, সাংবাদিক কিংবা অন্য যে পেশার মানুষের বিরুদ্ধেই উঠুক না কেন, একই মানদণ্ডে বিচার হবে না কেন? সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণের কাছে সংবাদ তুলে ধরা, অনিয়ম-দুর্নীতি প্রকাশ করা এবং ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির আওতায় আনাই সাংবাদিকদের অন্যতম দায়িত্ব। অন্যদিকে পুলিশের দায়িত্ব অপরাধ দমন, নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। দুটি পেশার দায়িত্ব আলাদা হলেও উভয়ের কাছেই সততা, পেশাগত নৈতিকতা ও জবাবদিহি প্রত্যাশিত। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যায়, কোনো এলাকায় অবৈধ ব্যবসা, মাদক কারবার, জুয়া, চাঁদাবাজি কিংবা বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠে। কোথাও কোথাও অভিযোগ থাকে, অপরাধী চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সখ্য রয়েছে, নিয়মিত মাসোহারা নেওয়া হয় কিংবা অর্থের বিনিময়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অথচ কোনো সাংবাদিক কোনো ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা কিংবা সামাজিক ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে ব্যক্তিগত সৌজন্য উপহার গ্রহণ করলে অনেক সময় সেটিকেও চাঁদাবাজির অভিযোগের সঙ্গে এক করে দেখা হয়। এখানে একটি মৌলিক পার্থক্য বোঝা প্রয়োজন। কাউকে ভয়ভীতি দেখিয়ে, সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে কিংবা সংবাদ বন্ধ রাখার শর্তে অর্থ আদায় করা অবশ্যই অপরাধ। কিন্তু কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কাউকে উপহার দিলে, সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাঁদাবাজি হয়ে যায় না।আরও পড়ুন,জীবিকার বনেই নিরাপত্তাহীন বনজীবীরা তবে উপহারের বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশ, সংবাদ গোপন কিংবা পেশাগত সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হলে সেটিও সাংবাদিকতার নৈতিকতার পরিপন্থী। প্রশ্ন হচ্ছে, পুলিশের কোনো সদস্য যদি কোনো অপরাধী, ব্যবসায়ী কিংবা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ গ্রহণ করেন, তাহলে সেটিকে কি শুধু সৌজন্য উপহার বলা যাবে? নিশ্চয়ই নয়। একইভাবে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি অর্থ দাবি করেন, ভয় দেখান কিংবা সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অর্থাৎ পেশার পরিচয় কাউকে অপরাধের দায় থেকে মুক্তি দিতে পারে না। বর্তমানে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিককে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, দুর্নীতি, অবৈধ ব্যবসা, মাদক কারবার, দখলবাজি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে সংবাদ প্রকাশের উদ্যোগ নিলেই সংশ্লিষ্ট মহলের কেউ কেউ সাংবাদিককে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো প্রতিবেদনের তথ্য জানতে চাওয়া, বক্তব্য নেওয়া কিংবা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করাকে অনেক সময় ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়। আবার কোথাও ব্যক্তিগত বিরোধ, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব কিংবা সংবাদ প্রকাশের প্রতিশোধ নিতে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলার ঘটনাও ঘটতে পারে। তবে এসব অভিযোগের প্রতিটিই প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে যারা প্রকৃত অর্থেই চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইলিং কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের সঙ্গে জড়িত, তাদের পক্ষেও কোনো অবস্থান নেওয়ার সুযোগ নেই। অপসাংবাদিকতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজকেই সোচ্চার হতে হবে।  আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মাসোহারা গ্রহণের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। কারণ একজন পুলিশ সদস্যের দায়িত্ব অপরাধ দমন করা। তিনি যদি অর্থের বিনিময়ে অপরাধীদের আশ্রয় দেন কিংবা অবৈধ কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেন, তাহলে সেটি শুধু ব্যক্তিগত দুর্নীতি নয়, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বেরও গুরুতর লঙ্ঘন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ব্যবসা, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, জুয়া, অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান কিংবা বিভিন্ন অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও স্থানীয় পর্যায়ে মাসোহারা বাণিজ্যের অভিযোগও শোনা যায়। এসব অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানে পুলিশের নিজস্ব গোয়েন্দা বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।আরও পড়ুন,কসবায় ২২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪৫ মেধাবী শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা কোনো থানার আওতাধীন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও পুলিশ কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, কারা এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কী ভূমিকা পালন করছেন এসব প্রশ্নের জবাবদিহি থাকতে হবে। সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। ব্যক্তিগত সৌজন্য, সামাজিক সম্পর্ক কিংবা কোনো উপলক্ষে স্বেচ্ছায় দেওয়া উপহার এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় এক বিষয় নয়। চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে জবরদস্তি, ভয়ভীতি, হুমকি কিংবা অন্যায় চাপের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে উপহার গ্রহণের ক্ষেত্রেও সাংবাদিকের পেশাগত নিরপেক্ষতা ও স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। কোনো সাংবাদিক যদি অর্থের বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশ করেন, বিজ্ঞাপনকে সংবাদ হিসেবে উপস্থাপন করেন কিংবা অর্থের বিনিময়ে কোনো অপরাধের তথ্য গোপন করেন, তাহলে তা পেশাগত অসততা। আবার কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাঁর অনুসন্ধানী কাজ বন্ধ করার চেষ্টা করাও গ্রহণযোগ্য নয়। পুলিশ অবৈধ হোটেল, মাদক ব্যবসায়ী, গেষ্ট হাউস,  অবৈধ স্পা, কিংবা ফুটপাত থেকে চাঁদা বা মাসোহার নিলে কি বৈধ তা জাতি জানতে চায়।আইনের শাসনের মূলনীতি হচ্ছে, অপরাধের বিচার হবে প্রমাণের ভিত্তিতে, পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়। পুলিশ, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী কিংবা অন্য কোনো পেশার মানুষ কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। পুলিশের বিরুদ্ধে মাসোহারা গ্রহণের অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলেও প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু কোনো পেশার মানুষের বিরুদ্ধে ঢালাও অপবাদ দেওয়া কিংবা কোনো পেশাকে দায়মুক্তি দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সাংবাদিকদের জন্য যেমন পেশাগত নীতিমালা ও স্বচ্ছতা প্রয়োজন, তেমনি পুলিশের জন্যও কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী ঘোষণা করা যাবে না। আবার পদ-পদবি কিংবা পেশাগত পরিচয়ের কারণে কাউকে দায়মুক্তিও দেওয়া যাবে না। সবশেষে প্রশ্ন একটাই—পুলিশের বিরুদ্ধে মাসোহারা গ্রহণের অভিযোগ উঠলে যদি তদন্ত প্রয়োজন হয়, তাহলে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলেও তদন্ত প্রয়োজন। আর সাংবাদিকের স্বেচ্ছায় পাওয়া উপহারকে যদি চাঁদাবাজি বলা হয়, তাহলে পুলিশের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণকে কোনোভাবেই বৈধতা দেওয়ার সুযোগ নেই। অপরাধের বিচার হোক অপরাধের ভিত্তিতে, পেশার পরিচয়ে নয়। সাংবাদিকতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—উভয় ক্ষেত্রেই সততা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হলেই সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরে আসবে। আরও পড়ুন,টেংরাগিরির ১৪ হরিণের মধ্যে এখন বেঁচে আছে মাত্র ৩টিকারণ রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সবার জন্য একই আইন ও একই নৈতিক মানদণ্ড কার্যকর থাকতে হবে। এবিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞেরা বলেন, আইনের দৃষ্টিতে চাঁদাবাজি ও স্বেচ্ছায় দেওয়া উপহার সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি, চাপ সৃষ্টি কিংবা সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হলে তা পরিস্থিতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে দণ্ডবিধির ৩৮৩ ও ৩৮৪ ধারায় চাঁদাবাজির অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কাউকে উপহার বা আর্থিক সহযোগিতা দিলে সেটিকে সরাসরি চাঁদাবাজি বলা যায় না। একইভাবে পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মাসোহারা গ্রহণ, অপরাধীদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নেওয়া কিংবা দায়িত্ব পালনে অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠলে সেটিও তদন্তসাপেক্ষে দুর্নীতি ও অন্যান্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আইনের প্রয়োগে পুলিশ ও সাংবাদিকদের জন্য আলাদা কোনো মানদণ্ড নেই। সাংবাদিক পরিচয় যেমন কাউকে চাঁদাবাজির দায় থেকে রক্ষা করে না, তেমনি পুলিশের পোশাকও কাউকে দুর্নীতির দায়মুক্তি দেয় না। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী ঘোষণা করা যাবে না; নিরপেক্ষ তদন্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের মাধ্যমে অপরাধ প্রমাণ করতে হবে। আমার মতে, পেশাগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি কিংবা কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে এসব অপরাধে পুলিশের শাস্তির বিধান রয়েছে? বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে পুলিশ সদস্যরাও অপরাধ করলে শাস্তির আওতাভুক্ত। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী ঘুষ, অবৈধ সুবিধা গ্রহণ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। দণ্ডবিধির ১৬৬ ধারায় দায়িত্ব পালনে আইন অমান্য করে ক্ষতিসাধনের জন্য সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। ২১৭ ধারায় অপরাধীকে শাস্তি থেকে বাঁচাতে আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থায় চাকরিচ্যুতিও হতে পারে।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

ভূমিকম্প মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণ এবং জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও করণীয় বিষয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি জানিয়েছেন। সভায় প্রধানমন্ত্রী রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলোতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো ভবন চিহ্নিত করা, ভবন নির্মাণে জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুসরণ এবং দুর্যোগের পর দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি।আরও পড়ুন,সংসদের নারী আসনে এলিজা জামানের মনোনয়ন চূড়ান্তপ্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি। এ ছাড়া হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত উদ্ধার সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং উদ্ধারকর্মীদের প্রশিক্ষণ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভূমিকম্পবিষয়ক সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়েও নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজুসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংসদের নারী আসনে এলিজা জামানের মনোনয়ন চূড়ান্ত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এলিজা জামান। সোমবার ২ নভেম্বর সকালে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা-২ অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দীন খানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত ৩২৩ মহিলা আসন-২৩ সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দেন এলিজা জামান। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবর বিকেল চারটা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। আরও পড়ুন,পল্লীবিদ্যুৎ-মৌচাকে শ্রমিক বিক্ষোভ, মোতায়েন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীপরে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন এলিজা জামানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে।এদিকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল রোববার ১ নভেম্বর বিকেল চারটা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এলিজা জামান তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। এ অবস্থায় জাতীয় সংসদ সংরক্ষিত মহিলা আসন নির্বাচন আইন, ২০০৪-এর ১২ ধারার উপধারা ১ অনুযায়ী চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় এলিজা জামানের নাম প্রকাশ করা হয়। অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাঁর নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

পল্লীবিদ্যুৎ-মৌচাকে শ্রমিক বিক্ষোভ, মোতায়েন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন গাজীপুরের পোশাকশ্রমিকরা। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ ও মৌচাক এলাকায় আন্দোলনে নামেন বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় অর্ধশতাধিক যানবাহন ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ওই পথে চলাচলকারী যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।আরও পড়ুন,নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে আশপাশের আবাসিক এলাকাতেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় মৌচাক, পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর ও হরিণহাটিসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানা কর্তৃপক্ষ আবারও বন্ধ ঘোষণা করে। কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, সকালে শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় শ্রমিকরা বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর করেন। তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। শ্রমিকদের বিক্ষোভ, যানবাহন ও দোকানপাটে ভাঙচুর এবং মহাসড়ক অবরোধের ঘটনায় গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে

শ্রমিক আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, ভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে সীমান্তের ওপারের ইশারায় একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা ১১টায় সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাস্তায় আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। শ্রমিক আন্দোলনের নামে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইবে কিংবা আইনের বাইরে গিয়ে কোনো কর্মকাণ্ড চালাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, দেশে কিছু পতিত শক্তির দোসর রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যেসব চেষ্টা হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে প্রকৃত শ্রমিকদের সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, একটি মহল ভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সীমান্তের ওপারের ইশারায় পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকার কোনো শিল্পকারখানা বন্ধ করতে চায় না।আরও পড়ুন,শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মালিক নেতাদের বৈঠক কারণ এসব কারখানার সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের জীবিকা জড়িত। শ্রমিকদের রুটি-রুজির বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সরকার কাজ করছে। ডিসেম্বরের রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। এ মাসে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে এবং থাকবে। কোনো পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দেশে ফিরতে চাইলে দ্রুত ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি। দেশে ফিরলে তাঁদের সঙ্গে আইন অনুযায়ী সুবিচার করা হবে বলেও মন্তব্য করেন। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের পলাতক নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁরা চাইলে দেশে ফিরতে পারেন। তাঁদের ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারকে নিয়ম অনুযায়ী জানানো হয়েছে। ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে পলাতক নেতাকর্মীদের উৎসাহিত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

রাজনীতিরাজনীতি

পোশাকশিল্পে অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আহ্বান

পোশাকশিল্পে অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আহ্বান

পোশাকশিল্পের চলমান অস্থিরতাকে পুঁজি করে ষড়যন্ত্রকারী ও স্বার্থান্বেষী মহল এ শিল্প ধ্বংসের চেষ্টা করছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। সোমবার ২ নভেম্বর বেলা ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি। পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, পোশাকশিল্পে অস্থিরতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুরের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের মতো উদ্বেগজনক ঘটনাও ঘটছে। তিনি বলেন, কোনো মালিক বা শ্রমিকই শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না।আরও পড়ুন,এনসিপির ক্রীড়া সংগঠনের আহ্বায়ক নাজমুল আবেদীন ফাহিম তাঁর বিশ্বাস, কোনো শ্রমিক এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হবেন না। জামায়াতের আমির আরও বলেন, ষড়যন্ত্রকারী ও স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিরা পরিস্থিতি উসকে দিয়ে পোশাকশিল্প ধ্বংসের চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইতিমধ্যে প্রায় ৬০০টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শীত মৌসুমকে সামনে রেখে পোশাকশিল্পে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়, তা নষ্ট করার পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সেই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ অবস্থায় পোশাকশিল্পের চলমান সংকট মোকাবিলায় মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আন্তরিক ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। পোশাকশিল্পের অস্থিরতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এনসিপির ক্রীড়া সংগঠনের আহ্বায়ক নাজমুল আবেদীন ফাহিম

এনসিপির ক্রীড়া সংগঠনের আহ্বায়ক নাজমুল আবেদীন ফাহিম

জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির নতুন ক্রীড়া সংগঠন ‘ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স’ আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। দেশের ক্রীড়া খাতের উন্নয়ন, অনিয়ম ও ত্রুটি চিহ্নিত করা এবং তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে নতুন এই সংগঠন। সংগঠনটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রিকেট বিশ্লেষক নাজমুল আবেদীন ফাহিম। আর সদস্যসচিব করা হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক পরিচালক ও অর্থ কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলামকে। আগামীকাল সোমবার ২ নভেম্বর রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। আরও পড়ুন,ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপএতে সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকদের যুক্ত করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সংগঠনের কার্যক্রম ও পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এম নাজমুল ইসলাম জানান, এনসিপির ক্রীড়া উইং হিসেবে তাঁরা কাজ শুরু করছেন। শুধু ক্রিকেট নয়, দেশের সব ধরনের খেলাধুলার উন্নয়ন নিয়ে কাজ করবে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স। তিনি বলেন, ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন সমস্যা, অনিয়ম ও ভুলত্রুটি চিহ্নিত করে সেগুলো সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সামনে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি ক্রীড়া খাতের উন্নয়নে তাঁদের পরামর্শ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সংলাপেও বসবেন সংগঠনের নেতারা। এ ছাড়া ভবিষ্যতে তহবিলের ব্যবস্থা হলে নিজেদের উদ্যোগেও ক্রীড়ার উন্নয়নে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান এম নাজমুল ইসলাম। নতুন এই সংগঠনের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে কী ধরনের ভূমিকা রাখা সম্ভব হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ

ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, জালিয়াতি, ভোটকেন্দ্রের সামনে মাইকিং করে ভোট চাওয়া এবং বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগর জামায়াত আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রের সামনে মাইকিং করে ধানের শীষে ভোট চাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি কমিশনকে ‘মেরুদণ্ডহীন’ বলে আখ্যা দেন। বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ক্ষমতায় গিয়ে সংবিধানের দোহাই দিয়ে তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, জনগণ শুধু প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্রকাঠামোর পরিবর্তন চেয়েছিল।আরও পড়ুন,ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম খান, সদস্যসচিব জাহাঙ্গীরতাই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম অভিযোগ করেন, পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে বিএনপি প্রশাসনের সহযোগিতায় ভোট কারচুপি করেছে। তিনি দাবি করেন, দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩৮ শতাংশ ভোট পড়লেও ফলাফলে ৬৪ শতাংশ ভোট দেখানো হয়েছে। জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের ভোট কম দেখানোর অভিযোগও করেন তিনি সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং জনগণকে সচেতন করাই জামায়াতের লক্ষ্য। তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনেও কারচুপির অভিযোগ তুলে বিএনপির সমালোচনা করেন।সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পল্টন ও বিজয়নগর এলাকা প্রদক্ষিণ করে।ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম খান, সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম খান, সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান (মিল্টন) এবং সদস্যসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। রোববার (১ নভেম্বর) রাতে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটি গঠনের তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করতে হবে। আগের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার এক মাসের বেশি সময় পর গুরুত্বপূর্ণ এই সাংগঠনিক শাখায় নতুন নেতৃত্ব দিল বিএনপি।আরও পড়ুন,নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে মঈন খানের চিকিৎসানতুন আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম খান যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থীও ছিলেন তিনি। অন্যদিকে নতুন সদস্যসচিব এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন সদ্য বিলুপ্ত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর আমিনুল হক ও মোস্তফা জামানের নেতৃত্বাধীন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছিল।

সারাবাংলা

গাজীপুরের নাওজোর-কড্ডায় পুলিশের গাড়িতে আগুন, সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিককে হেনস্তা

গাজীপুরের নাওজোর-কড্ডায় পুলিশের গাড়িতে আগুন, সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিককে হেনস্তা

গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর-কড্ডা এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন জাতীয় দৈনিক সংবাদ দিগন্ত পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মো. জোবায়ের হোসেন ইফতি।সোমবার (২ নভেম্বর) নাওজোর-কড্ডা এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ ও উত্তেজনার একপর্যায়ে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এতে গাড়িটির বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।এদিকে, ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিক মো. জোবায়ের হোসেন ইফতিকে হেনস্তার শিকার হতে হয়। তবে কারা তাঁকে হেনস্তা করেছে এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।আরও পড়ুন,দক্ষতা ও আত্মকর্মসংস্থানে যুবকদের গুরুত্বারোপসংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততায় এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিককে হেনস্তার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব পালনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

দক্ষতা ও আত্মকর্মসংস্থানে যুবকদের গুরুত্বারোপ

দক্ষতা ও আত্মকর্মসংস্থানে যুবকদের গুরুত্বারোপ

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বগুড়ার শেরপুরে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা, যুব ঋণের চেক ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়। রোববার ১ নভেম্বর সকালে উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শেরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা যুব ও ক্রীড়া কর্মকর্তা জাহিদ হাসান। আলোচনা সভায় প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র আলহাজ জানে আলম খোকা, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কে এম মাহবুবার রহমান হারেজ এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবলু। এ ছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিন্টু, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র স্বাধীন কুমার কুন্ডু, আরও পড়ুন,জেলা গোয়েন্দার অভিযানে ভারতীয় নাসির বিড়ি সিএনজি সহ আটক ১জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আলহাজ শফিকুল আলম তোতা, শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আমিরুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ জুয়েল এবং উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আবু সাঈদসহ স্থানীয় নেতারা। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা। অনুষ্ঠানে তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে যুব ঋণের চেক বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে যুবদের মধ্যে গাছের চারাও বিতরণ করা হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগের মাধ্যমে যুবসমাজ দেশের উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

জেলা গোয়েন্দার অভিযানে ভারতীয় নাসির বিড়ি সিএনজি সহ আটক ১

জেলা গোয়েন্দার অভিযানে ভারতীয় নাসির বিড়ি সিএনজি সহ আটক ১

সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারা বাজার থানাধীন ছাটুরপাড় সাকিনস্ত জনৈক কালামিয়ার বাড়ির পূর্ব পাশের কাচা রাস্তার উপর থেকে একটি সিএনজি ৮ কাটুন ১ লক্ষ ৬৮ হাজার শলাকা ভারতীয় নাসির বিড়ি সহ ১ জনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা ডিবি পুলিশ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ১০ টার দিকে জেলা গোয়েন্দার বিশেষ অভিযানে ভারতীয় নাসির বিড়ি সিএনজি সহ একজনকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় এসআই মুকুল খাঁন, এএসআই মোঃ রৌশন আলী, এএসআই মো: ইসমাইল হোসেন, কনস্টেবল মোশারফ হোসেন সহ দোয়ারা বাজার থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে প্রাপ্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন।আরও পড়ুন,গাজীপুরে পলিথিনে মোড়ানো নবজাতকের মরদেহ উদ্ধারএসময় ভারতীয় নাসির বিড়ি সিএনজিতে অবৈধভাবে নাসির বিড়ি নিয়ে বিক্রয় করার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। ঘটনাস্থলে অবস্থানরত আসামী মোঃ জসিম উদ্দিন (৪৫) সে দোয়ারা বাজার থানার সাটোরপাড় গ্রামের মৃত জহুর আলী ছেলে। অবৈধ নাসির বিড়ি বিক্রির দায়ে তাঁকে গ্রেফতার করেন ডিবি পুলিশ।পরে আসামীর হেফাজতে থাকা ১৬৮০০০ শলাকা ভারতীয় নাসির বিড়ি ও সিএনজি জব্দ করা হয়। উদ্ধার আলামত জব্দকৃত ৮ কাটুক ভারতীয় নাসির বিড়ি মোট শলাকা ১ লক্ষ ৬৮ হাজার সর্বমোট মূল্য অনুমান ৫ লক্ষ ৪ হাজার টাকা।একটি সিএনজি গাড়ি যার মূল্য অনুমান ৫ লক্ষ টাকা উদ্ধারকৃত আলামতের সর্বমোট মূল্য ১০ লক্ষ্য ৪ হাজার টাকা পুলিশ কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট থানায় ১৯৭৪ সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গাজীপুরে পলিথিনে মোড়ানো নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার

গাজীপুরে পলিথিনে মোড়ানো নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার

ক্যাডেট হাউজিংয়ের বিপরীতে নাটা’র দেয়ালসংলগ্ন সড়কে পড়ে ছিল নবজাতকের লাশ, এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি গাজীপুর সদর থানাধীন ক্যাডেট হাউজিংয়ের বিপরীত পাশে নাটা’র দেয়ালসংলগ্ন পায়ে হাঁটার রাস্তা থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় এক অজ্ঞাত নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কে বা কারা নবজাতকটিকে ফেলে রেখে গেছে, তা এখনো জানা যায়নি। এমন হৃদয়বিদারক ও অমানবিক ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্যাডেট হাউজিংয়ের বিপরীত পাশে নাটা’র দেয়ালসংলগ্ন পায়ে হাঁটার রাস্তার পাশে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় নবজাতকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি নজরে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে গাজীপুর সদর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কাজল হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এসআই কাজল হোসেন নবজাতকের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। আরও পড়ুন,ফুটপাত দখলমুক্ত ও হকার পুনর্বাসন: প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগপরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের জন্য মরদেহটি ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে মর্গে পাঠানো হয়েছে। কে বা কারা এমন নিষ্ঠুর কাজ করেছে, কী কারণে নবজাতকটিকে এভাবে ফেলে রাখা হয়েছে এবং শিশুটির জন্মের সঙ্গে কারা জড়িত এসব প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নবজাতকের পরিচয় কিংবা তাকে ফেলে যাওয়ার সঙ্গে জড়িত কারও বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একটি নিষ্পাপ শিশু পৃথিবীর আলো দেখার পর এমন নির্মম পরিণতির শিকার হবে এ ঘটনা সত্যিই অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও মানবিক মূল্যবোধকে নাড়া দেওয়ার মতো। নবজাতকটির কী অপরাধ ছিল? কেন তাকে নিরাপদ আশ্রয় না দিয়ে পলিথিনে মুড়িয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হলো? এমন প্রশ্ন তুলে স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, নবজাতকের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে এ ধরনের অমানবিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সামাজিক সচেতনতা ও মানবিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা প্রয়োজন। এখন এলাকাবাসীর একটাই দাবি নবজাতকের পরিচয় শনাক্ত করে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

আন্তর্জাতিক

নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাট শিবিরে বড় বিভক্তি

নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাট শিবিরে বড় বিভক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে নিজ দলের মনোনীত প্রার্থীকে পাশ কাটিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেন্স। মুসলিম ও প্রগতিশীল নেতা আবদুল আল-সাইয়িদকে ঘিরে দলীয় বিরোধের মধ্যেই রিপাবলিকান প্রার্থীর সঙ্গে প্রকাশ্যে একই মঞ্চে দেখা গেছে তাঁকে। আগামীকাল মঙ্গলবার অঙ্গরাজ্যটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার ডেট্রয়েটের একটি গির্জায় মাইক রজার্সের সঙ্গে উপস্থিত হন হ্যালি স্টিভেন্স। পরে রজার্সের প্রচার দলের মুখপাত্র অ্যাবি রনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তাঁদের একসঙ্গে থাকা একটি ছবি প্রকাশ করেন। এরপরই বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। অথচ পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ওই দিন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়িদের সঙ্গে দলীয় ঐক্যের প্রচারণায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল স্টিভেন্সের। চলতি বছরের শুরুর দিকে দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে স্টিভেন্সকে পরাজিত করে মনোনয়ন নিশ্চিত করেন আল-সাইয়িদ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরও পড়ুন,ফ্লোরিডায় উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় শোক, তদন্তে এনটিএসবিজীবনযাত্রার ব্যয় এবং ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নিয়ে মতপার্থক্য এই বিরোধের অন্যতম কারণ। সম্প্রতি একটি বহিরাগত গোষ্ঠীর রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির জন্য ইসরাইলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক ও আর্থিক সহায়তাকে দায়ী করা হয়। মূল বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলেও বিজ্ঞাপনটি নিয়ে প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নেননি আল-সাইয়িদ। তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের পারস্পরিক বিরোধের চেয়ে ভোটাররা নিজেদের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। আল-সাইয়িদের এই অবস্থানে অসন্তুষ্ট হন স্টিভেন্স। এরপর ডেমোক্র্যাটদের নির্ধারিত ঐক্য কর্মসূচি বর্জন করে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের সঙ্গে অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজ দলের প্রার্থীর পরিবর্তে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থীর সঙ্গে একজন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যানের প্রকাশ্য উপস্থিতি মিশিগানের রাজনীতিতে দলীয় বিভক্তি, ইসরাইল নীতি এবং আদর্শিক মতপার্থক্য নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

১ ঘন্টা আগে

রাজধানী

আবেরা’ স্পা ঘিরে অভিযোগ, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন

আবেরা’ স্পা ঘিরে অভিযোগ, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান থানাধীন বাড়িধারার ৫৫, সোহরাওয়ার্দী রোডের একটি ফ্ল্যাটে পরিচালিত ‘আবেরা’ নামের একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে দোলা নামের এক নারী এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। স্পা ব্যবসার আড়ালে সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, গ্রাহকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলার অভিযোগ এবং সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, বাড়ির মালিকের তথ্য, প্রয়োজনীয় অনুমোদনপত্র এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের তথ্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। আবেরা’ স্পা সেন্টারকে কেন্দ্র করে একটি নারীচক্র বিভিন্ন গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের প্রলোভন বা প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে। স্পা সেবার নামে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে পরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় কিংবা অন্য কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো যাচাইকৃত নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর বিস্তারিত বক্তব্য, ভুক্তভোগীর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিশ্চিত করা তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কী ধরনের সেবা দেওয়া হয়, গ্রাহকদের কাছ থেকে কীভাবে অর্থ নেওয়া হয়, সেবার মূল্যতালিকা ও রসিদ সংরক্ষণ করা হয় কি না এবং ব্যবসাটি প্রয়োজনীয় আইনগত অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে কি না এসব বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা। স্পা সেন্টারটিতে সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি সত্য হলে তা এলাকার নিরাপত্তা, আবাসিক পরিবেশ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করে। তবে মাদকদ্রব্যের লেনদেন, সংরক্ষণ কিংবা সরবরাহের মতো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে কি না, আরও পড়ুন,মহেশপুরে বাংলা বাস্তবায়ন ও সচেতনতায় র‍্যালি-আলোচনা সভাতা নির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং আইনগত প্রমাণ দরকার। এ ক্ষেত্রে গুলশান থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে আইনানুগ পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, অনুমোদন এবং অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। বাড়িধারার মতো গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকায় কোনো ফ্ল্যাটে স্পা বা এ ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুমোদন, ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার, ট্রেড লাইসেন্স এবং অন্যান্য বিধিবিধান মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ। ভবনটি কোন ধরনের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত, ফ্ল্যাটে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি রয়েছে কি না এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় নিবন্ধন বা লাইসেন্স আছে কি না এসব প্রশ্নের উত্তর নথিপত্র যাচাই ছাড়া দেওয়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ভবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রবেশপথের ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং প্রতিবেশীদের অভিযোগ থাকলে সেগুলোর নিষ্পত্তির বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে স্পা সেবা দেওয়া হচ্ছে বলেই সেটিকে অবৈধ বা অপরাধমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যা দেওয়া সমীচীন নয়। অভিযোগে যদি গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় কিংবা অন্য কোনো অপরাধের ঘটনা থেকে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তা তদন্ত করা প্রয়োজন।  কোনো ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয়ে থাকলে তাঁর উচিত সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ জানানো এবং প্রাসঙ্গিক তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ করা। গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত যেকোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আইন ও বিধিবিধানের আওতায় থাকা প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে গুলশান থানা পুলিশ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য অপরাধের বিষয়ে তথ্য চাওয়া যেতে পারে। ‘আবেরা’ স্পা সেন্টার, আরও পড়ুন,মহেশপুরে বাংলা বাস্তবায়ন ও সচেতনতায় র‍্যালি-আলোচনা সভাএর পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বলে অভিযোগে উল্লিখিত দোলা নামের নারী, বলেন, ভাই আমি এটি দিয়ে কোনমতে চলি। এখন আগের মত তেমন ব্যবসাও নেই। এসব প্রতিষ্ঠান চালাতে ব্যয়বহুল খরচ। কোনমতে দুই চারটি মেয়েদের রেখে ব্যবসা করি। এছাড়া এাঁ বাড়িধারা এখানে কাষ্টমার আসতে চায়না তেমন এবং বাড়িধারায় ঢুকতে সোসাইটির অনুমতি প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমরা সোসাইটির গার্ডদের সাথে সমন্ময় রেখে লোকজন প্রবেশ করিয়ে থাকি। ‘আবেরা’ নামের একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে গুলশান থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়। তবে অভিযোগ জানানোর পরও সংশ্লিষ্ট স্পা সেন্টারে পুলিশের কোনো দৃশ্যমান অভিযান চোখে পড়েনি। অভিযোগ রয়েছে, ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটিতে স্পা ব্যবসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াত রয়েছে।  প্রশ্ন উঠেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযোগ জানানোর পরও কেন দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না? তবে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট থানার বক্তব্য এবং সম্ভাব্য তদন্তের অগ্রগতি জানা জরুরি। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, বাড়িধারার মতো অভিজাত আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি। তাঁদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে ‘আবেরা’ স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ আমরাও শুনেছি। তাই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং প্রতিষ্ঠানটির বৈধ কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ প্রতারণা, মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধ কিংবা অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের শিকার হলে তাঁকে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণসহ পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করছি। এবিষয়ে দোলা বলেন, ভাই কোনমতে ২-৪ টি মেয়েদের রেখে ব্যবসা করছি। আগের মত ব্যবসা নেই। এখনো থানা পুলিশের পেমেন্ট দিতে পারিনাই। এছাড়া বাড়িধারা সোসাইটির কিছু লোকদের ম্যানেজ করে আমার প্রতিষ্ঠানটি চালাতে হয়। তবে বিষয়টি গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জকে জানানো হয়েছে কিন্তু তিনি এখনো দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়নি। গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ আরো বলেন, এসবের বিষয়ে আমাদের একাধিক মিটিং হয়েছে। আমি চাইলে ও অভিযান বা পদক্ষেপ নিতে পারিনা। কারন সিনিয়রদের নির্দেশনা ছাড়া আমাদের করার কিছুই থাকেনা। তাহলে প্রশ্ন হল- সাধারন স্থানীয় বাসিন্দারা অসমাজিকের মধ্যে থেকেই বসবাস করবে। নাকি তাদের সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা নেই।   

২৫ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৬ জন

খেলাধুলা

হাভার্টজের এক গোলেই অ্যানফিল্ডে আর্সেনালের উল্লাস

হাভার্টজের এক গোলেই অ্যানফিল্ডে আর্সেনালের উল্লাস

দীর্ঘ ১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের মাঠ অ্যানফিল্ডে জয় পেয়েছে আর্সেনাল। কাই হাভার্টজের একমাত্র গোলে স্বাগতিকদের ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে মিকেল আর্তেতার দল। রোববার (১ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত ম্যাচের ১৬তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন জার্মান ফরোয়ার্ড হাভার্টজ। নিজেদের সীমানায় বলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর ডেকলান রাইসের পাস পেয়ে ডি-বক্সে ঢুকে ডান দিক থেকে নিচু শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। গোলের পর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন হাভার্টজ। তবে ২৪তম মিনিটে সতীর্থের শট পোস্টের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলের নাগাল পাননি তিনি। পিছিয়ে পড়ে আক্রমণ বাড়ায় লিভারপুল। ৩৯তম মিনিটে ফ্লোরিয়ান ভির্টৎসের বাঁকানো ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। বিরতির আগে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারও হেড থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দল আক্রমণ চালালেও আর কোনো গোল হয়নি। আরও পড়ুন,মেসির জোড়া অবদানে পয়েন্ট তালিকায় দুইয়ে মায়ামি৭৩তম মিনিটে ক্রিস্তোস জলিসের জোরালো শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন লিভারপুলের গোলরক্ষক আলিসন। শেষ পর্যন্ত আর্সেনালের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি স্বাগতিকরা। ম্যাচে বলের দখলে এগিয়ে ছিল লিভারপুল। ৫৫ শতাংশের বেশি সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ১৭টি শট নেয় তারা। তবে কোনো শটই লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। অন্যদিকে আর্সেনালের ১০ শটের তিনটি ছিল লক্ষ্যে। অ্যানফিল্ডে আর্সেনালের সর্বশেষ জয় ছিল ২০১২-১৩ মৌসুমে, সেবার তারা জিতেছিল ২-০ গোলে। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও লিভারপুলের মাঠ থেকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে ফিরল দলটি। এই জয়ে ৯ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগের শীর্ষে উঠেছে আর্সেনাল। ২১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ম্যানচেস্টার সিটি এবং ১৯ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে ব্রাইটন। ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ চেলসি। টানা দ্বিতীয় হারের পর ১৫ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে নেমে গেছে লিভারপুল।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!