দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

দেশে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি দমনে প্রয়োজন ‘অপারেশন  ক্লিন হান্ট’

প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ / দেশে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি দমনে প্রয়োজন ‘অপারেশন ক্লিন হান্ট’

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, সংঘর্ষ, অপহরণ, জমি ও ফ্ল্যাট দখল, মব সৃষ্টি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের নানা ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় দলবদ্ধ হামলা, সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও বাড়ছে উদ্বেগ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিবেশ ঘোলাটে হওয়ার আশঙ্কা এবং অপরাধের সঙ্গে রাজনৈতিক কিংবা প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলের উদ্বেগের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কি আবারও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে? বিশেষ করে আগে পরিচালিত ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’এর আদলে নতুন করে কোনো সমন্বিত অভিযান চালানো প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে শুধু অভিযান চালিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব কি না, নাকি এর সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি, পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, দ্রুত তদন্ত, মামলা নিষ্পত্তি এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।আরও  পড়ুন : সত্য ও জনমানুষের কথা বলার প্রত্যয়ে আরও দূর পথপুলিশ সদরদপ্তরের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মাসভিত্তিক অপরাধের তথ্য রয়েছে। এসব তথ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও হত্যা, সংঘর্ষ, অপহরণ, মব হামলা ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ে উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে। ইধহমষধফবংয চড়ষরপব জুনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, মার্চ থেকে মে এই তিন মাসে দেশে ৯১৫টি হত্যা মামলা রেকর্ড হয়েছে। একই প্রতিবেদনে রাজনৈতিক বিরোধ, অপরাধীচক্রের দ্বন্দ্ব, অবৈধ অস্ত্র এবং দুর্বল আইন প্রয়োগকে সহিংসতার বিভিন্ন কারণ হিসেবে বিশ্লেষকদের বক্তব্যে তুলে ধরা হয়।দেশে এর আগে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর দ্বিতীয় পর্যায়ের অভিযান শুরুর পর ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ২২ হাজার ৪৬৪ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধারের তথ্যও দেওয়া হয়।আরও  পড়ুন, সাভার গেন্ডায় ঢাকা ইন গেস্ট হাউজে জুলহাসের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সিন্ডিকেট এর আগে জানুয়ারির শুরুতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ১৪ হাজার ৫৬৯ জন গ্রেপ্তার এবং ২০১টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের তথ্যও জানানো হয়েছিল।তবে বিশেষ অভিযানের সাফল্য বিচার করতে হলে শুধু গ্রেপ্তারের সংখ্যা দেখলে হবে না। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কতজন প্রকৃত অপরাধী, কতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র হয়েছে, কতজনের বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং অপরাধের পুনরাবৃত্তি কতটা কমেছে—এসব সূচকও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। কারণ ব্যাপক গ্রেপ্তার সাময়িকভাবে অপরাধীদের মধ্যে ভীতি তৈরি করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে অপরাধ কমাতে হলে অপরাধের অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক ভিত্তি ভেঙে দেওয়া প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সক্ষমতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পুলিশের ওপর হামলা, জনবল সংকট, তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা এবং মাঠপর্যায়ে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা থাকলে অপরাধীরা সুযোগ পেতে পারে।আরও  পড়ুন : পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে নরসিংদীতে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিলআগস্টে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি-জুলাই সময়ে সাতটি প্রধান অপরাধের আওতায় ২১ হাজার ৭৫৬টি মামলা হয়েছে, যা আগের ছয় মাসের ২১ হাজার ২২৮টির তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। তবে একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলা সংখ্যা পুরো পরিস্থিতির চিত্র দেয় না কারণ অনেক ভুক্তভোগী থানায় মামলা করেন না কিংবা অভিযোগ সাধারণ ডায়েরি বা লিখিত অভিযোগ হিসেবে থেকে যেতে পারে।সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ সদরদপ্তরের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি সহিংস অপরাধ, কিশোর গ্যাং, সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র এবং ডিজিটাল প্রতারণাকে বড় আইনশৃঙ্খলা চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কমিটি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তিন ধাপের একটি রোডম্যাপের সুপারিশ করেছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মধ্যে দ্রুত পুলিশি সাড়া, গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।  এটি ইঙ্গিত করে যে অপরাধ মোকাবিলায় শুধু ‘বিশেষ অভিযান’ নয়, বরং পুলিশের নিয়মিত কাঠামোকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার যদি নতুন করে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষ বা পরিচয়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং প্রমাণভিত্তিক অপরাধ দমন অভিযান হিসেবে পরিচালিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অভিযানের আওতায় থাকতে পারে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র, অপহরণ, মাদক, কিশোর গ্যাং, সংঘবদ্ধ দখলবাজি, চোরাচালান এবং মব সহিংসতার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীরা। তবে অভিযানের ক্ষেত্রে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়া, প্রমাণ সংগ্রহ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত না হলে দীর্ঘমেয়াদি ফল পাওয়া কঠিন হতে পারে। দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থির হলে তার প্রভাব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর পড়তে পারে।আরও  পড়ুন :অনলাইন পোর্টাল ও ফেসবুক পেজ খুলেই কথিত ‘সাংবাদিক’! রাজনৈতিক বিরোধ যখন স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসা, পরিবহন, বাজার, জমি কিংবা অন্যান্য সম্পদ নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতায় রূপ নেয়, তখন অপরাধীচক্রও সেই সুযোগ নিতে পারে।২০২৬ সালের প্রথমার্ধের রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে ওধিকার-এর প্রতিবেদনে ৪১ জন নিহত এবং ৯৭০ জন আহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা পক্ষকে সামগ্রিকভাবে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করার আগে প্রতিটি ঘটনার পৃথক তদন্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ করা জরুরি। রাজধানীর ফুটপাতের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে আবাসিক এলাকার বাসিন্দা, জমির মালিক, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক কিংবা সাধারণ চাকরিজীবী—সবার কাছেই নিরাপত্তা একটি মৌলিক প্রত্যাশা। চাঁদাবাজির ভয়, জমি দখলের আশঙ্কা, সংঘর্ষে আটকে পড়া কিংবা হঠাৎ মব হামলার আতঙ্ক জনজীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ঢাকায় মাত্র তিন দিনে জমি বিরোধ, দখল, ভাঙচুর ও লুটপাটের চারটি ঘটনার কথা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েকটি ঘটনায় দলবদ্ধভাবে লোকজন বিভিন্ন সম্পত্তিতে প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর ও দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। কোথাও ভারী যন্ত্রপাতিও ব্যবহার করা হয়েছে। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক এক যৌথ বিবৃতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, জমি ও বাড়ি দখল এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা এসব ঘটনার নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।আরও  পড়ুন :তৃণমূলের কাণ্ডারী বকুল: ফরিদপুর বিএনপিতে ফের নেতৃত্বের আশাবাদএমন বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠছে—দেশের মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ফিরিয়ে আনতে সরকারকে কি আরও কঠোর ও সমন্বিত কোনো বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে? আর সেই সম্ভাব্য অভিযানের নাম কি হতে পারে ‘অপারেশন ক্লিন হান্ট’? তবে ‘অপারেশন ক্লিন হান্ট’ নামে বর্তমানে কোনো সরকারি অভিযান ঘোষণা হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। এখানে নামটি একটি সম্ভাব্য বিশেষ অভিযানের ধারণা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।অপরাধের সামগ্রিক চিত্র নিয়ে সরকারি বক্তব্য এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং হত্যা, অপহরণ ও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার মতো কয়েকটি বড় অপরাধ কমেছে।অন্যদিকে পুলিশের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত অপরাধের তথ্য পর্যালোচনা করে সহিংস অপরাধ, কিশোর গ্যাং, সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র এবং ডিজিটাল প্রতারণাকে বড় আইনশৃঙ্খলা চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কমিটি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তিন ধাপের একটি পরিকল্পনাও প্রস্তাব করেছে। অর্থাৎ সামগ্রিক পরিস্থিতির কিছু সূচকে উন্নতি থাকলেও অপরাধের নতুন ধরন এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। কোনো ব্যক্তি অপরাধ করেছেন কি না, তার বিচার করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের আইন ও আদালতের। কিন্তু দলবদ্ধভাবে কাউকে আক্রমণ, মারধর কিংবা শাস্তি দেওয়ার ঘটনা আইনের শাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পুলিশের সাম্প্রতিক পর্যালোচনাতেও মব হামলা, জমি বিরোধ, রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং আধিপত্য বিস্তারকে সহিংসতার বিভিন্ন কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মব তৈরি করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি ভয় সৃষ্টি করতে পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগের ওপর আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।আরও  পড়ুন : Divine Group ঘিরে এবার মামলার হিসাবএদিকে সরকার বলছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, সন্ত্রাসী, সশস্ত্র অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, এসব অপরাধীর তালিকা পুলিশ নিয়মিত হালনাগাদ করছে।বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘অপারেশন ক্লিন হান্ট’ প্রয়োজন রয়েছে। এর আওতায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র, অপহরণ, দখলবাজি এবং মব সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। তবে এমন কোনো অভিযান হলে শুধু গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ানোই যথেষ্ট হবে না। প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত করা, ঘটনার পেছনের সংগঠিত কাঠামো চিহ্নিত করা এবং মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে কার্যকর করার বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো একটি অভিযান সাময়িকভাবে অপরাধীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে হলে অপরাধের মূল কাঠামো ও পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়গুলোও সামনে আনতে হবে।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক পরিবেশের প্রভাবও আলোচনায় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। ২৯ সেপ্টেম্বর আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের অপরাধী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় যেন কোনো অপরাধীকে সুরক্ষা না দেয়।আরও  পড়ুন : বনানীতে গেস্ট হাউজ-স্পা, ওসির ভূমিকা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্নএ ধরনের বক্তব্যের বাস্তব প্রয়োগই এখন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাবশালী কারও সঙ্গে যোগাযোগের কারণে কোনো অপরাধী আইনের বাইরে থেকে গেলে সাধারণ মানুষের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কমিটি অপরাধ মোকাবিলায় গোয়েন্দাভিত্তিক পুলিশিং, দ্রুত পুলিশি সাড়া, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। কমিটি দীর্ঘমেয়াদে সিসিটিভি, উন্নত তদন্তব্যবস্থা, অপরাধের তথ্যভান্ডার এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব করেছে। এ থেকে স্পষ্ট যে অপরাধ দমনের প্রশ্নটি শুধু একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত পুলিশি কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।অন্যদিকে সরকারের দাবি অনুযায়ী সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছু ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি মূল্যায়নে শুধু বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা নয়, সরকারি পরিসংখ্যান, মামলা, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা এবং জনগণের নিরাপত্তাবোধ সবকিছুকে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। যদি সরকার ‘অপারেশন ক্লিন হান্ট’ নামে কোনো বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, আরও  পড়ুন  :চট্রগ্রাম গোয়ালপাড়ায় মাদক সম্রাজ্ঞী "আকলিমার" মাদকের হাটতাহলে সেটি যেন হয় অপরাধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর উদ্যোগ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক অবস্থান বা প্রভাব বিবেচনা না করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।সবশেষে প্রশ্নটি শুধু নতুন একটি অভিযানের নাম নিয়ে নয়। মূল প্রশ্ন হলো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখল, অপহরণ ও মব সহিংসতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কতটা কার্যকরভাবে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে। অপারেশন ক্লিন হান্ট’ হোক কিংবা অন্য কোনো উদ্যোগ—সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটাই, দেশে এমন একটি পরিবেশ ফিরে আসুক যেখানে অপরাধীচক্রের পেশিশক্তির চেয়ে আইনের শক্তি বেশি কার্যকর হবে এবং মানুষ নিজের জীবন, সম্পদ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নিরাপদ বোধ করবে।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ‘জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, টেকসই শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে দেশের শিল্প ও সেবা খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি নীতিগত সহায়তার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এবারের জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয়’। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, রোবোটিক্স, ইন্টারনেট অব থিংস, ডেটা অ্যানালিটিক্স ও ডিজিটাল উৎপাদন ব্যবস্থা বিশ্বব্যাপী শিল্পের ধরন বদলে দিচ্ছে। বাংলাদেশকেও এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।আড়ও পড়ুন,‘বহু বছর পর নানাবাড়ি এলাম’ফেনীতে : প্রধানমন্ত্রীতিনি প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের পাশাপাশি দক্ষ, সৃজনশীল ও অভিযোজনক্ষম মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তির ব্যবহার, কারিগরি ও আইটি শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং তরুণদের প্রযুক্তিগত ও ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রযুক্তি গ্রহণ করলেই উৎপাদনশীলতা বাড়বে না। এর সঙ্গে প্রয়োজন গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং শ্রমিকের সার্বিক কল্যাণ। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং স্টার্টআপগুলোর জন্য প্রযুক্তি ও অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা, প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশকে উৎপাদনশীল, উদ্ভাবনী, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই শিল্প অর্থনীতিতে পরিণত করার আহ্বান জানান।

‘বহু বছর পর নানাবাড়ি এলাম’ফেনীতে : প্রধানমন্ত্রী

নানাবাড়ির স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বহু বছর পর ফেনীতে নানাবাড়ির এলাকায় এসেছেন তিনি। তিনি বলেন, “খুব সম্ভবত ১৯৮৪ সালে এসেছিলাম। এরপর ১৯৯১ সালে এসেছিলাম। দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে, নানাবাড়ির জন্য কাজ করতে হবে।”বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সফরের শুরুতে পরশুরামে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি। প্রকল্পটির অনুমিত ব্যয় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা।প্রকল্প উদ্বোধনের পর স্থানীয় জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, নদী খননের কথা বলা হয়েছিল এবং এখন তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।আরও  পড়ুন, ফুলগাজীতে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণপ্রকল্পটির আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, কিছু রাজনৈতিক দল অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি অতীতের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। এসব বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব রাজনৈতিক মন্তব্য হিসেবে এসেছে।প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেনীতে এটি তাঁর প্রথম সফর। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তিনি বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে সড়কপথে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে ফেনীর পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হন এবং দুপুরে সেখানে পৌঁছান।ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নানা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের গ্রামের বাড়ি। এ কারণে ফেনীর সঙ্গে তাঁর পারিবারিক স্মৃতির সম্পর্ক রয়েছে।

ফুলগাজীতে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ

ফেনীর ফুলগাজীতে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনী সফরের অংশ হিসেবে কলেজ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে কলেজটিতে বৃক্ষরোপণের আয়োজন করা হয়।কর্মসূচির একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার বিষয়ে কথা বলেন। পরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।আরও  পড়ুন, মিষ্টির পদত্যাগ নিয়ে স্পিকারের জরুরি সংবাদ সম্মেলনএর আগে বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী সফরে প্রধানমন্ত্রী ফেনীর পরশুরামে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ, নদী ও জলাধার পুনঃখনন এবং সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসনের বিভিন্ন কাজ রয়েছে।পরশুরামের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীতে যান। সেখানে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণের পর ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রম উদ্বোধনের কর্মসূচি রয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরে আরও কয়েকটি কর্মসূচি রয়েছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমও রয়েছে বলে সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।

মিষ্টির পদত্যাগ নিয়ে স্পিকারের জরুরি সংবাদ সম্মেলন

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের বিষয় নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় সংসদ ভবনের টানেলের নির্ধারিত স্থানে এ সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা জানানো হয়।সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ-১ শাখার পরিচালক মো. মনির হোসেনের পাঠানো বার্তায় জানানো হয়, স্পিকার বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে প্রেস ব্রিফিং করবেন।এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদে গিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। একাধিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছেপরে স্পিকার সাংবাদিকদের জানান, আরও  পড়নি, জ্বালানি, দক্ষ জনশক্তি ও বিনিয়োগে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতিতিনি মিষ্টির পদত্যাগপত্র পেয়েছেন এবং সংবিধানের বিধান অনুযায়ী পদত্যাগপত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর হয়েছে। পদত্যাগের গেজেট প্রকাশের পর বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।মিষ্টির পদত্যাগের আগে তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এ তথ্য প্রকাশ করে।রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর মিষ্টির নাম আলোচনায় আসে। ওই ঘটনায় বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। তবে কারও সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করার কথা জানানো হয়েছে।এদিকে মিষ্টির পদত্যাগের পর তার সংরক্ষিত নারী আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়।

রাজনীতিরাজনীতি

রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা লুটপাট ও ভাঙচুরে আইনি পদক্ষেপ চাইলেন শফিকুর রহমান

রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা লুটপাট ও ভাঙচুরে আইনি পদক্ষেপ চাইলেন শফিকুর রহমান

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ঘটনায় জড়িত বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে শুধু সাংগঠনিক ব্যবস্থা নয় বরং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন রাতের অন্ধকারে রাড্ডা ক্লিনিক দখলের ঘটনায় অবশেষে সরকার ও সরকারি দল সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।আড়ও পড়ুন,‘পদ বাণিজ্যের প্রমাণ দিন’ শিবির ও পাকিস্তান শিবিরকে রাকসু জিএসের চ্যালেঞ্জ তবে এত বড় অপকর্মের জন্য শুধু সাংগঠনিক ব্যবস্থা মোটেই যথেষ্ট নয়। শফিকুর রহমান বলেন যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তার ভাষায় দেশবাসী এ ঘটনায় দৃশ্যমান ও বিশ্বাসযোগ্য আইনি পদক্ষেপ দেখতে চায়। একই সঙ্গে হামলা ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। এদিকে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

‘পদ বাণিজ্যের প্রমাণ দিন’ শিবির ও পাকিস্তান শিবিরকে রাকসু জিএসের চ্যালেঞ্জ

‘পদ বাণিজ্যের প্রমাণ দিন’ শিবির ও পাকিস্তান শিবিরকে রাকসু জিএসের চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের শিবির ও পাকিস্তান শিবিরকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পদ বাণিজ্য নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগের প্রমাণ দিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের ২৪ ঘণ্টার সময় দিয়েছেন।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সালাউদ্দিন আম্মার এ চ্যালেঞ্জ জানান। পোস্টে তিনি অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তিনি টাকার বিনিময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো পদ দিয়েছেন—এমন প্রমাণ দেখাতে হবে।সালাউদ্দিন আম্মার তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘গোটা বাংলাদেশের শিবিরের (সঙ্গে পাকিস্তান শিবিরকেও নিয়েন) প্রতি চ্যালেঞ্জ-০১।’ এরপর তিনি বলেন, টাকার বিনিময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পদ দেওয়ার অভিযোগের প্রমাণ দিতে হবে।আরও  পড়ুন, জামায়াত-আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: উমামা ফাতেমাতিনি আরও উল্লেখ করেন, অভিযোগকারীরা চাইলে নিজেদের গোয়েন্দা বাহিনী, সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। এ জন্য তিনি ২৪ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করে দেন।ফেসবুক পোস্টে রাকসুর জিএস আরও বলেন, সামনে তাঁর পক্ষ থেকে আরও চ্যালেঞ্জ আসছে। একই সঙ্গে অভিযোগের প্রমাণ দিতে সংশ্লিষ্টদের সাহসের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কোনো স্বাধীন তদন্ত বা প্রমাণের তথ্য এই পোস্টে উপস্থাপন করা হয়নি। একইভাবে যাদের উদ্দেশে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন, তাদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এই পোস্টকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ সামনে আসে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

জামায়াত-আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: উমামা ফাতেমা

জামায়াত-আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: উমামা ফাতেমা

জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে তিনি জুলাই আন্দোলনের পর দেশের রাজনীতি, আন্দোলনের নেতৃত্ব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমত তৈরি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়ে নিজের ক্ষোভ ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য নিয়ে একই দিন একাধিক সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।স্ট্যাটাসে উমামা ফাতেমা দাবি করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের ন্যূনতম সম্পর্ক না থাকা অনেক ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে নেতৃত্বে উঠে এসেছেন। তিনি আন্দোলনের সময় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনকে বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর সদস্যদের সমন্বয়ক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও করেন।জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিকাশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ত চরিত্রকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন উমামা। তাঁর দাবি, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে জনমত তৈরি করতে পারে এবং তরুণদের মধ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ‘হিরো’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।আরও  পড়ুন. অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে: চরমোনাই পীর এ ধরনের প্রচেষ্টার মাধ্যমে তরুণদের রাজনৈতিক সম্ভাবনা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে চলে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।মিয়ানমারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়েও মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কীভাবে জনমত ও সামাজিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে, সেটি নিয়ে বাংলাদেশেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন উমামা ফাতেমা। তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে এক ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে এবং এর পেছনে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ভূমিকা রয়েছে।স্ট্যাটাসের শেষ দিকে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে জামায়াতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, দলটি নিজেদের বিরুদ্ধে থাকা ঐতিহাসিক অভিযোগের দায় আড়াল করতে দেশের রাজনীতিকে যেকোনো পর্যায়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত।উমামা ফাতেমা এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর সময়ও সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ২০২৫ সালে সংগঠন ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেছিলেন বলে bdnews24-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে: চরমোনাই পীর

অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে: চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায়নীতি, সততা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি ও মানুষের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে একটি মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।মাহফিলে দেশের চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি, নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানুষের অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন রেজাউল করীম। তিনি ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে নৈতিকতার চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘দেশ খেয়েছে খাজুরেরা, নাম পড়েছে হুজুরের।’ তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে সমাজে ন্যায় ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।আরও  পড়ুন, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ৮১তম জন্মদিন আজচরমোনাই পীর আরও বলেন, ইসলামি দল পরিচয়ে এমন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করা উচিত নয়, যা ইসলামি মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, মুসলমানদের মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকা এবং ধর্মীয় আদর্শ অনুযায়ী ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে আচরণ করা প্রয়োজন।তিনি অন্যায়, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মানুষের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সামঞ্জস্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্যেও রেজাউল করীম দেশের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও সামাজিক অনাচার নিয়ে সমালোচনা করেছেন। ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব অনাচার মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন।

সারাবাংলা

মেট্রোরেল লাইন-১ ও লাইন-৫ নির্মাণে ৪৬ হাজার কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাব

মেট্রোরেল লাইন-১ ও লাইন-৫ নির্মাণে ৪৬ হাজার কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাব

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করতে মেট্রোরেল লাইন-১ ও লাইন-৫-এর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মেট্রোরেলের আটটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রয় প্রস্তাব বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে পাঁচটি প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। বাকি তিনটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে মেট্রোরেল লাইন-১-এর চারটি এবং লাইন-৫-এর একটি প্যাকেজ। লাইন-১-এর আওতায় ডিপো ও পরিচালনাকেন্দ্র নির্মাণ, ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ও স্টেশন তৈরি, রেলপথ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, সংকেত ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে নাড্ডা স্টেশন থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পথ, দুটি সুড়ঙ্গ এবং বিমানবন্দর, টার্মিনাল-৩ ও খিলক্ষেত স্টেশন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা। আড়ও পড়ুন,মেহেরপুরে হেরোইন সেবনের দায়ে দুইজনের ৬ মাসের কারাদণ্ডঅন্যদিকে, লাইন-৫-এর একটি প্যাকেজে প্রায় ২ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়ালপথ ও পাঁচটি উড়াল স্টেশন নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। এ ছাড়া লাইন-১-এর আরও দুটি প্যাকেজ এবং লাইন-৫ উত্তর রুটের ডিপো নির্মাণসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। প্রকল্প দুটি বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার যৌথ অর্থায়নে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড বাস্তবায়ন করছে। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৩ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প দুটির নির্মাণকাজ শেষ করার সময়সীমা রয়েছে। মেট্রোরেল লাইন-১ ও লাইন-৫ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় নতুন সংযোগ তৈরি হবে। তবে প্রকল্পগুলোর সুফল পেতে সময়মতো নির্মাণকাজ শেষ করা এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

মেহেরপুরে হেরোইন সেবনের দায়ে দুইজনের ৬ মাসের কারাদণ্ড

মেহেরপুরে হেরোইন সেবনের দায়ে দুইজনের ৬ মাসের কারাদণ্ড

মেহেরপুরে মাদকবিরোধী মোবাইল কোর্টের অভিযানে হেরোইন সেবনের দায়ে দুইজনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মেহেরপুর সদর থানার গুচ্ছগ্রাম এলাকার রেনুকার লিচুবাগানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মেহেরপুরের মিয়াপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল্লাহর ছেলে মো. মিকাইল ইসলাম (৩১) এবং রামদাসপুর এলাকার মো. শহিদুল ইসলামের ছেলে মো. হুসাইন (২০)।মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার শাকির আহম্মেদের নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর,আড়ও পড়ুন,বাসনের যাযর এলাকায় চোরাই তেলের ব্যবসার অভিযোগ, মোরসালিনকে ঘিরে নানা প্রশ্ন মেহেরপুর জেলা কার্যালয় এ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে এক গ্রাম গলিত হেরোইন উদ্ধার করা হয়।পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদকদ্রব্য সেবনের দায়ে আটক দুজনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেন।অভিযানে মামলার বাদী হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রাশেল আহমেদ ও উপপরিদর্শক মো. রহমত আলী দায়িত্ব পালন করেন।

বাসনের যাযর এলাকায় চোরাই তেলের ব্যবসার অভিযোগ, মোরসালিনকে ঘিরে নানা প্রশ্ন

বাসনের যাযর এলাকায় চোরাই তেলের ব্যবসার অভিযোগ, মোরসালিনকে ঘিরে নানা প্রশ্ন

গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন যাযর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চোরাই তেলের ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে মোরসালিন নামে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করা তেল এনে ওই এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এ ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যাযর এলাকার মহাসড়কসংলগ্ন একটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তেল কেনাবেচার কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন মোরসালিন। অভিযোগ রয়েছে, বৈধ উৎসের পরিবর্তে বিভিন্ন যানবাহন ও অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা তেল সেখানে মজুত ও বিক্রি করা হয়।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, দিনের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় গোপনেও তেল কেনাবেচা করা হয়ে থাকে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আড়ও পড়ুন,মাতামুহুরীতে মিনি কোল্ড স্টোরেজের শুভ উদ্বোধন কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুললতবে প্রশাসনের নাম ব্যবহার বা কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তা পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।এদিকে, এলাকায় এ ধরনের তেল কেনাবেচা হয়ে থাকলে তেলের উৎস, ক্রয়-বিক্রয়ের বৈধ কাগজপত্র, মজুতের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স রয়েছে কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকায় এ ধরনের ব্যবসা পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ থাকলেও বিষয়টি নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে। তাদের মতে, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত বা বিক্রি করা হলে তা শুধু রাজস্ব ক্ষতির কারণ নয়, অগ্নিকাণ্ডসহ জননিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

‘আয়নাবাজি’ নাবিলার ক্যারিয়ার বদলে দেওয়ার ১০ বছর

‘আয়নাবাজি’ নাবিলার ক্যারিয়ার বদলে দেওয়ার ১০ বছর

একটি খুদে বার্তা। আর সেই বার্তাই বদলে দিয়েছিল অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলার ক্যারিয়ার।সময়টা ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল। নাবিলার জন্মদিন। সেদিন কাতারে ছিলেন তিনি। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের ছেড়ে দূরদেশে জন্মদিন কাটছিল তাঁর। মনও ছিল ভীষণ খারাপ।এর মধ্যেই মোবাইলে আসে পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরীর একটি বার্তা। সেখানে লেখা ছিল, ‘জন্মদিনে তোমাকে বেশি কিছু দিতে পারছি না। তবে তোমাকে হৃদি চরিত্রটি দিচ্ছি। তুমি কি এটা গ্রহণ করবে?’বার্তাটি ছিল ‘আয়নাবাজি’ সিনেমায় হৃদি চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব। জন্মদিনের সেই সারপ্রাইজ মুহূর্তেই বদলে দেয় নাবিলার মন। সিনেমায় অভিনয় নিয়ে তখনও তাঁর মধ্যে ছিল দোটানা। কিন্তু অমিতাভ রেজার প্রস্তাব আর ফিরিয়ে দিতে পারেননি। সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হয়ে যান।নাবিলা জানান, প্রস্তাব পেয়ে তিনি ভীষণ আনন্দিত হলেও একই সঙ্গে প্রচণ্ড নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন। আড়ও পড়ুন,দুর্ঘটনায় আহত নুসরাতএরপর শুরু হয় ‘আয়নাবাজি’র শুটিং। এটি ছিল পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরীর প্রথম সিনেমা।২০১৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায় ‘আয়নাবাজি’। প্রথম শো দেখতে বসুন্ধরায় গিয়ে হাউসফুল দর্শক দেখে চমকে উঠেছিলেন নাবিলা। পরে সিনেমাটি দীর্ঘ সময় প্রেক্ষাগৃহে চলে এবং দর্শকের ভালোবাসায় নাবিলা পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘আয়নাবাজি নাবিলা’ নামে।সিনেমাটির মুক্তির ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি প্রথমবারের মতো লাইভে এসে সেই স্মৃতিচারণ করেন তিনি।নাবিলার ভাষায়, ‘আয়নাবাজি’ শুধু তাঁর ক্যারিয়ারই বদলে দেয়নি বরং জীবনকে দেখার দর্শনও বদলে দিয়েছে। নিজের প্রতি তৈরি করেছে আলাদা ভালোবাসা।অভিনেত্রী বলেন, সিনেমাটির মাধ্যমে পাওয়া দর্শকের ভালোবাসা তিনি কখনো ভুলবেন না। একই সঙ্গে তাঁকে আবিষ্কার করার জন্য পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরীকেও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক

তুরস্কে গোপনে সিরিয়া সরকার ও হিজবুল্লাহর বৈঠক

তুরস্কে গোপনে সিরিয়া সরকার ও হিজবুল্লাহর বৈঠক

দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনে তুরস্কে গোপনে বৈঠক করেছেন সিরিয়া সরকারের কর্মকর্তা ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ছয়টি সূত্র বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্রগুলোর মধ্যে রয়েছেন দুই সিরীয় কর্মকর্তা, একজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ লেবাননের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে তুরস্কের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার আমন্ত্রণে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিরিয়ার গোয়েন্দা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সিরিয়ার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারকে সমর্থন করে হিজবুল্লাহ। তবে ২০২৪ সালের শেষ দিকে আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সিরিয়ার নতুন সরকারের সঙ্গে হিজবুল্লাহর সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়। দামেস্কের অভিযোগ ছিল, হিজবুল্লাহ সিরিয়ার ভূখণ্ড ব্যবহার করে লেবাননে অস্ত্র পাচার করছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে সিরিয়ার সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আড়ও পড়ুন,সৌদি নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নয়, হুথিদের কঠোর বার্তা সালমানেরবৈঠকে উভয় পক্ষের নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সূত্রের দাবি, সিরিয়া হিজবুল্লাহকে আশ্বাস দিয়েছে, লেবাননে গোষ্ঠীটিকে নিরস্ত্র করার জন্য তারা সামরিক হস্তক্ষেপ করবে না। বিনিময়ে হিজবুল্লাহকে সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র পাচার বন্ধ এবং সিরিয়ায় থাকা নিজেদের স্লিপার সেল নিষ্ক্রিয় করার আহ্বান জানিয়েছে দামেস্ক। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হয়নি। বৈঠকের আয়োজনের ক্ষেত্রে তুরস্ক সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে বলে রয়টার্সের সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে কোথায় বৈঠকটি হয়েছে এবং এর আগে বা পরে আরও বৈঠক হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স। এদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদন প্রকাশের পর সিরিয়া সরকারের ইংরেজি ভাষার এক্স অ্যাকাউন্ট বৈঠকটি হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। হিজবুল্লাহও এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।

৫ ঘন্টা আগে

রাজধানী

অনলাইন জুয়ায় ঋণগ্রস্ত হওয়ার পর কেরানীগঞ্জে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

অনলাইন জুয়ায় ঋণগ্রস্ত হওয়ার পর কেরানীগঞ্জে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ঢাকার কেরানীগঞ্জে পাপ্পু বর্মন (৩৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে জিনজিরা ইউনিয়নের মালোপাড়া এলাকার নিজ ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পাপ্পু ওই গ্রামের শংকর বর্মনের ছেলে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাপ্পু দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে তিনি একাধিকবার পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকেও ধারদেনা করেছিলেন। এতে ধীরে ধীরে তার ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকে বলে স্থানীয়রা জানান।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অনলাইন জুয়ার কারণে পাপ্পু আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ঋণের চাপ ও আর্থিক সংকটের কারণে হতাশা থেকে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা তাদের। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।আরও  পড়ুন, ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে উত্তেজনা, মিরপুরে চার মামলাপাপ্পুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অনলাইন জুয়ার কারণে তরুণদের একটি অংশ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক নানা সমস্যায় জড়িয়ে পড়ছে।কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুস জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। নিহত যুবক অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

১০ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৫ জন

খেলাধুলা

পাঁচ সেঞ্চুরির ম্যাচে গিলের ২২৩, রেকর্ড গড়ে ভারতের জয়

পাঁচ সেঞ্চুরির ম্যাচে গিলের ২২৩, রেকর্ড গড়ে ভারতের জয়

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ইতিহাস গড়া জয় পেয়েছে ভারত। গুয়াহাটিতে বুধবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে চার শতাধিক রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৩৯ বল হাতে রেখে জয় তুলে নেয় ভারত। ব্যাট হাতে একের পর এক রেকর্ড গড়ে অপরাজিত ২২৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন ভারতীয় অধিনায়ক শুভমান গিল।গিল ১১৭ বলে ২০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এর মধ্য দিয়ে ওয়ানডেতে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি। এর আগে ২০২২ সালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১২৬ বলে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন ঈশান কিষান।২২৩ রানের অপরাজিত ইনিংসটি রান তাড়ায় ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহও। এর আগে এই রেকর্ড ছিল অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের। ২০২৩ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২০১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।গিলের ২২৩ রান লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেও সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। এর আগে এই রেকর্ড ছিল বাংলাদেশের সৌম্য সরকারের। ২০১৯ সালে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ২০৮ রান করেছিলেন সৌম্য।এদিন গিল ১৩৩ বল মোকাবিলা করে ২৬টি চার ও ৮টি ছক্কায় ২২৩ রানে অপরাজিত থাকেন। মাত্র ৬২ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি।আরও  পড়ুন, হৃদয়ের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানকে ১১২ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশেররান তাড়ায় গিলের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে ঝড় তোলেন রোহিত শর্মা। দুজন মিলে ২৬.২ ওভারে ২৫৫ রান যোগ করেন। রোহিত ৭৫ বলে ১০১ রান করে আউট হওয়ার পর বাকি পথটা একাই টেনে নেন গিল। ওয়ানডেতে একাধিক ডাবল সেঞ্চুরি করা মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান এখন গিল। এই তালিকায় তাঁর আগে রয়েছেন রোহিত শর্মা, যার ওয়ানডেতে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি আছে।এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করে। দলের হয়ে সেঞ্চুরি করেন জন ক্যাম্পবেল (১০১), শাই হোপ (১০৪) ও আমির জঙ্গু (১১৪)।চার শতাধিক রান তাড়ায় ভারতের জয়ও বিশেষ রেকর্ড হয়ে থাকল। ওয়ানডে ইতিহাসে ৪০০-এর বেশি রান তাড়া করে এটি মাত্র দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৪ রান তাড়া করে দক্ষিণ আফ্রিকা জয় পেয়েছিল।দুই দলের মোট পাঁচ ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরির কারণেও ম্যাচটি জায়গা করে নিয়েছে রেকর্ড বইয়ে। ওয়ানডে ইতিহাসে একই ম্যাচে পাঁচ ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরি করার ঘটনা এটিই প্রথম।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!