দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

অপরাধীদের দৌরাত্ম্য, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

অপরাধীদের দৌরাত্ম্য, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

দেশে একের পর এক পুলিশের ওপর হামলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল দুর্বল করার অপচেষ্টা, মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এবং মাদক কারবারের বিস্তার—সব মিলিয়ে জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকা, মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের গতি এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত আইনি সেবা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানীসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ আবাসিক হোটেল, অনুমোদনহীন স্পা সেন্টার, মাদক সংশ্লিষ্ট আস্তানা ও নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সামনে আসছে। এসব অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত ও প্রতিরোধ করা না গেলে অপরাধীদের তৎপরতা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। পুলিশ একটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধী শনাক্ত, জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা, দায়িত্ব পালনে বাধা, বিভিন্ন স্থানে সংঘবদ্ধ বিশৃঙ্খলা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, মাঠপর্যায়ে পুলিশ কতটা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে? অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, জনবল, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে? রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের আন্দোলন ও বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা এবং সংঘর্ষের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। কোনো দাবি বা অধিকার আদায়ের আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও সেই আন্দোলনের আড়ালে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি সম্পদ ভাঙচুর কিংবা সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। পুলিশের দায়িত্ব পালনের সময় তাদের ওপর হামলা হলে শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিরাপত্তাই বিঘ্নিত হয় না, বরং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে সংঘবদ্ধ হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলে সেসব অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। আইনের প্রয়োগ হতে হবে সবার জন্য সমান। পুলিশের ওপর হামলার বিচার যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগেরও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। কারণ জবাবদিহি ও পেশাদারত্বের সমন্বয় ছাড়া একটি বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করা সম্ভব নয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় মব সহিংসতা ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। বিভিন্ন এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা, মারধর, ভাঙচুর, চাঁদাবাজি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সংঘবদ্ধ হওয়ার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা আইনের শাসনের জন্য বড় হুমকি। অপরাধের অভিযোগ থাকলে তদন্ত ও বিচারের দায়িত্ব আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং আদালতের। জনতার হাতে বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের দ্রুত সাড়া, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক পৃষ্ঠপোষক, মাদক সরবরাহকারী এবং অপরাধে অর্থায়নকারীদের শনাক্ত করতে হবে। শুধু কয়েকজন কিশোরকে আটক করে অভিযান শেষ করলে সমস্যার মূল উৎপাটন হবে না। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানীকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, স্পা সেন্টার এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে মাঝেমধ্যে নানা অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অনুমোদন, বৈধ ব্যবসায়িক কাগজপত্র কিংবা নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই পরিচালিত হচ্ছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক সংশ্লিষ্টতা, অসামাজিক কার্যকলাপ এবং অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। প্রশ্ন হচ্ছে, একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে, তাদের ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে কি না, ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার কী, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর কি না এবং আবাসিক অতিথিদের তথ্য সংরক্ষণের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে তো? বিশেষ করে গুলশান ও বনানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস এবং স্পা সেন্টারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পুলিশ, সিটি করপোরেশন, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স প্রদানকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না থাকলে অনিয়ম শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়লে সেগুলো ফাইলবন্দি না রেখে তদন্তের অগ্রগতি নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সুনাম ও অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে হবে।আরও পড়ুন, পুলিশের মাসোহারা বৈধ, সাংবাদিকের উপহার অপরাধ?মাদক অপরাধের বিস্তার শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, পরিবার ও সমাজের নিরাপত্তাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে অনেক সময় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যায়। ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণকে বিচ্ছিন্ন কোনো অভিযান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মাদক কারবারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সরবরাহের উৎস, পরিবহন নেটওয়ার্ক, অর্থের লেনদেন এবং পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করা প্রয়োজন। শুধু খুচরা পর্যায়ের কয়েকজন মাদক বিক্রেতাকে আটক করে অভিযান শেষ করলে বড় চক্রগুলো আড়ালে থেকে যেতে পারে। বিশেষ করে আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, বিনোদনকেন্দ্র এবং সন্দেহজনক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা এলাকার বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ না তুলে প্রমাণভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের চিহ্নিত করাই হবে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ। জনসাধারণের মধ্যে আরেকটি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে থানায় গিয়ে প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপরাধের তথ্য নিয়ে থানায় যোগাযোগ করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সরাসরি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। অবশ্য সব ক্ষেত্রে এমন আচরণ ঘটে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তবে এ ধরনের অভিজ্ঞতা যদি কোনো নাগরিকের হয়ে থাকে, তাহলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। একজন নাগরিক যখন কোনো অপরাধের তথ্য নিয়ে থানায় যান, তখন তিনি দ্রুত সাড়া, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং আইনগত সহায়তা প্রত্যাশা করেন। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পর যদি তাঁকে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে যোগাযোগ করতে হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের প্রতি তাঁর আস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব শুধু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকা নয়, আইন ও বিধি অনুযায়ী নিজের এখতিয়ারের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাও তাঁর দায়িত্ব। কোনো অভিযোগ ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পাঠানোর প্রয়োজন হলে সেটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় পাঠাতে হবে। কিন্তু সেই অজুহাতে জরুরি অপরাধের তথ্য গ্রহণ বা প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব করা উচিত নয়। বিশেষ করে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, নারী ও শিশু নির্যাতন, সংঘবদ্ধ অপরাধ কিংবা কোনো ব্যক্তির তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাঝুঁকির তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। পুলিশের ওপর ধারাবাহিক হামলা এবং দায়িত্ব পালনে বাধার ঘটনা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ধরে রাখার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়; পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব আচরণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করাও গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ, জনবল এবং কার্যকর অপারেশনাল নির্দেশনা দিতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধ দমনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অযৌক্তিক চাপ বা বাধা থাকলে তা দূর করতে হবে। পুলিশকে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে একজন কর্মকর্তা অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবেন। আবার কোনো পুলিশ সদস্য দায়িত্বে অবহেলা করলে কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করলে তাঁকেও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মাঠপর্যায়ের ইউনিটগুলোকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং, মাদক কারবার, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান জোরদার করতে হবে। রাজধানীর গুলশান, বনানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম যাচাইয়ে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর লাইসেন্স, নিবন্ধন, ভবনের ব্যবহার, অগ্নিনিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা করতে হবে। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি থানায় নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা থাকা দরকার। অভিযোগ গ্রহণের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হলো, তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না—এসব বিষয়ে অভিযোগকারীকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, সাধারণ মানুষ যদি অপরাধের তথ্য দিয়েও দ্রুত প্রতিকার না পান, তাহলে তাঁরা নিরাপত্তার জন্য কোথায় যাবেন? অপরাধীরা যদি পুলিশের ওপর হামলা করে পার পেয়ে যায়, সংঘবদ্ধভাবে জনজীবন অস্থির করে তোলে এবং বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত না হয়, তাহলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলার নামে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ কিংবা নির্বিচারে গ্রেপ্তার কোনো সমাধান হতে পারে না। অপরাধ দমন করতে হবে আইন মেনে, নিরপেক্ষভাবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে। একই সঙ্গে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের হলেও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সামগ্রিক দায়িত্ব। এ জন্য পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন, বিচার বিভাগ, সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন। অপরাধ দমনে পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ, নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অপরাধের অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে। জনগণ পুলিশের প্রতিপক্ষ নয়; বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণই পুলিশের সবচেয়ে বড় সহযোগী হতে পারে। তাই পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক ফিরিয়ে আনা জরুরি। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি থেকেই যায়—পুলিশের ওপর হামলা, মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা প্রস্তুত? থানায় গিয়ে সাধারণ মানুষ কি সহজে আইনি সেবা পাবেন? গুলশান-বনানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অপরাধের অভিযোগগুলো কি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর শুধু বক্তব্য কিংবা আশ্বাসে নয়, প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপে। কারণ জননিরাপত্তা কোনো বিশেষ শ্রেণির মানুষের অধিকার নয়; এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও আইনগত সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী, পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক করার মধ্য দিয়েই জনগণের নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা সম্ভব।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

ডিসেম্বর থেকেই নবম পে স্কেলে বেতন পেতে পারেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা দিতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এ অর্থ বরাদ্দে অর্থ বিভাগের মৌখিক সম্মতি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বর থেকেই নতুন বেতন স্কেলে বেতন পেতে পারেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্র জানায়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক চীনে অবস্থানকালে অর্থ বিভাগের সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। তাঁর উদ্যোগে ডিসেম্বর থেকে নতুন পে স্কেলে বেতন দেওয়ার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেলে বেতন দিতে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থ ছাড়ে মৌখিক সম্মতি দিয়েছেন অর্থ সচিব। এখন আনুষ্ঠানিকতা শেষে সম্মতিপত্র মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠানো হবে। চলতি মাসের মধ্যেই এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানোর কথা রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ডিসেম্বরেই যেন শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন পে স্কেলে বেতন পান, সে চেষ্টা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বর থেকে নতুন স্কেলে বেতন পাওয়া যাবে। কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে জানুয়ারি থেকে নতুন স্কেলে বেতন দেওয়া হতে পারে। এদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা দিতে অর্থ বিভাগের কাছে ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা চেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। ছয় মাসের বকেয়াসহ ১২ মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য এ অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।আরও পড়ুন, কবে হতে পারে নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, জানাল এনটিআরসিএগত রোববার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ছয় মাসের বকেয়াসহ ১২ মাসের হিসাব বিবরণী মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠায়। পরে ওই বিভাগের পক্ষ থেকে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়। হিসাব বিবরণী অনুযায়ী, বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ অতিরিক্ত ২ হাজার ৫৩১ কোটি ৫৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৫৫ টাকা প্রয়োজন। অন্যদিকে বেসরকারি কলেজগুলোর জন্য প্রয়োজন ৭৩৬ কোটি ৩৫ লাখ ৬৬ হাজার ৪০১ টাকা। দুই খাত মিলিয়ে মোট অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৮৮ লাখ ৯১ হাজার ২৫৬ টাকা। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। তাঁদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রয়োজন। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা খাতের উন্নয়ন, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, কল্যাণ এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়িত হলে শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অনুকূলে অতিরিক্ত ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিতে অর্থ বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

৯ নভেম্বর থেকে সংসদ ভবন এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অষ্টম অধিবেশনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আগামী ৯ নভেম্বর রোববার রাত ১২টা থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। সংসদ অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ৯ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অষ্টম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সের ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে—ময়মনসিংহ রোডের মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরোনো বিমানবন্দর হয়ে বাংলামোটর ক্রসিং পর্যন্ত। বাংলামোটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত। পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রিন রোডের সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত। এ ছাড়া মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ হয়ে আসাদগেট পর্যন্ত এলাকা এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।আরও পড়ুন, কবে হতে পারে নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, জানাল এনটিআরসিএএকই সঙ্গে খামারবাড়ি থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকা এবং নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থিত সব সড়ক ও গলিপথেও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর এসব এলাকায় কোনো ধরনের অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, অন্যান্য ক্ষতিকারক ও দূষণীয় পদার্থ বহন করা যাবে না। পাশাপাশি সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ থাকবে। সংসদের অষ্টম অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ডিএমপির এ নির্দেশনা কার্যকর থাকবে বলে গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী’—বাংলাদেশিদের উদ্দেশে ময়ূখ

বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ভারতীয় সাংবাদিক ও রিপাবলিক বাংলার সাবেক সংবাদ উপস্থাপক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ। বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে তার কোনো বক্তব্য আঘাত দিয়ে থাকলে সে জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি। সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইটিভির জনপ্রিয় টকশো ‘ফ্যাক্টচেক’-এর একটি পর্বে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ। অনুষ্ঠানে উপস্থাপক হারুন উর রশীদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশের মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আব্দুন নূর তুষারও। সেখানে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনীতি এবং সামাজিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনার একপর্যায়ে ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ বলেন, জাতীয়তাবাদী বিশ্বাস থেকে তিনি নিজের অবস্থান নিয়ে লড়াই করছেন। তবে আব্দুন নূর তুষারের বক্তব্য তাকে নতুন করে ভাবিয়েছে।আরও পড়ুন,টেকসই বিনিয়োগে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন তার ভাষ্য, বাংলাদেশের কিছু বিবেচক মানুষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কথা বলা বন্ধ রেখেছিলেন বলে তার মনে হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, তার কোনো কথায় কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিবেচক মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লাগলে সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। ময়ূখ রঞ্জন ঘোষের এই বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতি ও বিভিন্ন ঘটনাবলি নিয়ে অতীতে তার কিছু মন্তব্য সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে এবারের অনুষ্ঠানে তিনি নির্দিষ্ট করে কোন বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন, তা আলোচনার উদ্ধৃত অংশে স্পষ্ট করেননি।

কবে হতে পারে নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, জানাল এনটিআরসিএ

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর নতুন এ পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ। এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা চলছে। আগামী ৯ ডিসেম্বর এ পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এবারের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এত দিন শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করা হতো। পরে পৃথক প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হতো। তবে এবার পরীক্ষা শেষে সরাসরি নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এ কারণে প্রচলিত ধারাবাহিকতায় এটি ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা না হয়ে নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা হিসেবে পরিচিত হবে।আরও পড়ুন, টেকসই বিনিয়োগে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্নএর আগে সর্বশেষ ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রায় চার মাস পর ২০২৪ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত হয় প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে এনটিআরসিএ। এরই মধ্যে পরীক্ষার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ করেছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি পরীক্ষাপদ্ধতি ও নিয়োগসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে ডিসেম্বরেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

রাজনীতিরাজনীতি

মহাখালীর মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় দিলীপ আগরওয়ালা

মহাখালীর মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় দিলীপ আগরওয়ালা

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের স্বত্বাধিকারী ও আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় করা এ মামলায় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. মাসুদূর রহমান দিলীপ আগরওয়ালাকে আদালতে হাজির করে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের ৩৫ থেকে ৪০ জন নেতা-কর্মী মহাখালী বাস টার্মিনালসংলগ্ন এলাকায় একটি মিছিল করেন। আরও পড়ুন,নাহিদ ইসলামকে চুপ থাকার অনুরোধ ছাত্রদল সভাপতিরএ সময় তারা আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে স্লোগান দেন এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। এ ঘটনায় গত ১৮ জুন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করা হয়। পুলিশের দাবি, ওই ঘটনায় অর্থদাতা ও মদদদাতা হিসেবে দিলীপ আগরওয়ালার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পলাতক সহযোগীদের পরিচয়, পরিকল্পনা এবং বিস্ফোরক সরবরাহের উৎস সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে।এর আগে গত ১৯ অক্টোবর বনানীর একটি বাসা থেকে দিলীপ আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। এরপর অর্থ পাচারের অভিযোগে করা মামলায় এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। ২১ অক্টোবর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে শিক্ষার্থী আ. জব্বারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলায় ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ২৭ অক্টোবর রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ২ নভেম্বর দুদকের একটি মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

নাহিদ ইসলামকে চুপ থাকার অনুরোধ ছাত্রদল সভাপতির

নাহিদ ইসলামকে চুপ থাকার অনুরোধ ছাত্রদল সভাপতির

পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানোয় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। একই সঙ্গে দেশের পক্ষে অবস্থান নিতে না পারলে নাহিদ ইসলামকে চুপ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব মন্তব্য করেন ছাত্রদল সভাপতি। স্ট্যাটাসে রাকিবুল ইসলাম রাকিব লেখেন, ‘জামায়াতের বি-টিমের মুখপাত্র নাহিদ ইসলামের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে অধিকাংশ পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। নিজেকে এভাবে জাতির সামনে হাস্যকর হিসেবে উপস্থাপন না করার জন্য নাহিদ ইসলামকে অনুরোধ করছি। লক্ষ লক্ষ পোশাক শ্রমিকের মাঝে কিছুসংখ্যক শ্রমিকও আপনার নির্দেশ পালন করলেন না।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আপনার এ ধরনের অপমান আমাদের মেনে নিতে কষ্ট হয়। জামায়াতকেন্দ্রিক পিছুটান থাকায় দেশের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করতে না পারলে প্রয়োজনে চুপ থাকুন। তারপরও জুলাইয়ের অগ্রসৈনিক হিসেবে নিজের ইমেজকে ভূলুণ্ঠিত করবেন না।’আরও পড়ুন, নাহিদ ইসলামকে ১০ দিনের আইনি নোটিশএর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহত গার্মেন্টস শ্রমিক তৌফিকের গায়েবানা জানাজায় বাধা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় আহত নেতাকর্মীদের দেখতে যান নাহিদ ইসলাম। সেখানে তিনি শ্রমিকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের সঙ্গে আছে। শ্রমিক ভাইবোনদের বলব, আপনারা সতর্ক থাকবেন। আমরা শ্রমিকদের ন্যায্য, অহিংস ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে আছি।’ নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সহিংসতার মাধ্যমে পরিস্থিতি থেকে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলন দমনের চেষ্টা হতে পারে। এসব শক্তির বিরুদ্ধে শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

কারাগারে থাকা দিলীপ আগরওয়ালার বিরুদ্ধে নতুন মামলা

কারাগারে থাকা দিলীপ আগরওয়ালার বিরুদ্ধে নতুন মামলা

এবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের স্বত্বাধিকারী দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় দিলীপ আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. মাসুদূর রহমান। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন। আরও পড়ুন,ট্রাভেল পাস নয় বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তিতে ফেরানোর উদ্যোগউভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের ৩৫ থেকে ৪০ জন নেতা-কর্মী মহাখালী বাস টার্মিনালসংলগ্ন এলাকায় একটি মিছিলে অংশ নেন। এ সময় তারা আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে স্লোগান দেন এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। এ ঘটনায় ২০২৬ সালের ১৮ জুন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করা হয়। পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় অর্থদাতা ও মদদদাতা হিসেবে দিলীপ আগরওয়ালার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পলাতক সহযোগীদের পরিচয়, পরিকল্পনা এবং বিস্ফোরক সরবরাহের উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।উল্লেখ্য, গত ১৯ অক্টোবর রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে দিলীপ আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর চোরাচালান ও অর্থপাচারের অভিযোগে করা মামলায় রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।পরে জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী আ. জব্বারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলায় তাকে ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ২৭ অক্টোবর রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয় তাকে। সর্বশেষ ২ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ট্রাভেল পাস নয় বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তিতে ফেরানোর উদ্যোগ

ট্রাভেল পাস নয় বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তিতে ফেরানোর উদ্যোগ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরতে সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাঁকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংকে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস ইস্যুর সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসরণ করতে হবে। আরও পড়ুন,নাহিদ ইসলামকে ১০ দিনের আইনি নোটিশএদিকে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারকে নিয়ে পরিকল্পিত ত্রিপক্ষীয় করিডোর বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন হুমায়ুন কবির। তাঁর মতে, এই করিডোর চালু হলে পুরো অঞ্চল একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। তিনি বলেন, আঞ্চলিক করিডোরে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। চীনা প্রতিনিধি লিউ হাইশিংয়ের সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এ সফরের মধ্য দিয়ে আগামী দিনে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় এবং কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর ও গতিশীল হবে। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

সারাবাংলা

গঙ্গাচড়ায় বড়বিল উন্মুক্ত লটারিতে ১০ নারী কর্মী নিয়োগ, দায়িত্ব পালন করবেন ৫ বছর

গঙ্গাচড়ায় বড়বিল উন্মুক্ত লটারিতে ১০ নারী কর্মী নিয়োগ, দায়িত্ব পালন করবেন ৫ বছর

‎রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল  ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্পের (আরআরএমপি) আওতায় ১০ জন নারী কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার  (৫ নভেম্বর) বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের বাছাইকৃত ১৮৪ জন নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণে উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে তাঁদের নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত নারী কর্মীরা আগামী পাঁচ বছর বড়বিল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন। ‎নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য, এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা,  রাজনীতিবিদ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে এ লটারি অনুষ্ঠিত হয়। ‎এ সময় বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হুদা   বলেন, ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ড থেকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা ১৮৪ জন নারী প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে কর্মকর্তারা প্রার্থীদের নামের তালিকা তৈরি করে ক্রমিক নম্বর প্রদান করেন। সবার উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে ১০ জন নারীকে নির্বাচিত করা হয়েছে। আমরা একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পেরেছি।আরও পড়ুন, শিশু-কিশোরদের মেধা ও ক্রীড়া বিকাশে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: সাতক্ষীরায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান‎উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বলেন, গঙ্গাচড়া উপজেলার মধ্যে বড়বিল ইউনিয়নে অত্যন্ত সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এ ধরনের স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করার জন্য বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ‎উল্লেখ্য, আরআরএমপি প্রকল্পের আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত ১০ জন নারী কর্মী আগামী পাঁচ বছর বড়বিল ইউনিয়নের কর্ম এলাকায় পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন। এ নিয়োগের মাধ্যমে একদিকে যেমন গ্রামীণ সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে গতি আসবে, অন্যদিকে স্থানীয় নারীদের দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

শিশু-কিশোরদের মেধা ও ক্রীড়া বিকাশে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: সাতক্ষীরায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

শিশু-কিশোরদের মেধা ও ক্রীড়া বিকাশে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: সাতক্ষীরায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে শুরু হয়েছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’ (সিজন-২)। এ উপলক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার নির্বিঘ্ন ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সাতক্ষীরায় এক ভিডিও কনফারেন্সিং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকাল ৩টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মিজ্ কাওছার আজিজ। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি। তিনি বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে এবং পায়রা অবমুক্ত করার মাধ্যমে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় সিজনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ আশরাফুল আলম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রিপন বিশ্বাস, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল হাসেম, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বাসুদেব বসু, জেলা তথ্য অফিসার মো. জাহারুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ, সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাব্লু, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার আলী, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি প্রভাষক ওমর ফারুখ, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মনিরুল ইসলাম মিনি, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুল নাহার এবং সাবেক পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।আরও পড়ুন, বাসন থানা পুলিশের অভিযানে হারিয়ে যাওয়া গুলিভর্তি পিস্তল উদ্ধারআলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস শিশু-কিশোর ও তরুণদের মেধা, মনন এবং ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তারা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এ ধরনের উদ্যোগকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় সিজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্প্রচার যাতে স্বচ্ছন্দ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর, প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সমন্বিতভাবে কাজ করার পাশাপাশি নিজ নিজ দায়িত্ব আন্তরিকতার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান তারা। সভায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্প্রচারের কারিগরি প্রস্তুতি, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিক্ষক, ক্রীড়া সংগঠক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বাসন থানা পুলিশের অভিযানে হারিয়ে যাওয়া গুলিভর্তি পিস্তল উদ্ধার

বাসন থানা পুলিশের অভিযানে হারিয়ে যাওয়া গুলিভর্তি পিস্তল উদ্ধার

গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে হারিয়ে যাওয়া গুলিভর্তি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে বাসন থানার এএসআই (নিরস্ত্র) পারভেজ মল্লিকের গুলিভর্তি পিস্তলটি হারিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই হারিয়ে যাওয়া অস্ত্রটি উদ্ধারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় ৫ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ রাত ১২টা ৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে বাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মোহাঃ হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে।আরও পড়ুন, কোটালীপাড়ায় বিদ্যালয়ের তালা কেটে চুরি, তছনছ লাইব্রেরি কক্ষঅভিযানে অংশগ্রহণ করেন এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ জহুরুল ইসলাম, এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ নাহিদ আল রেজা, এএসআই (নিরস্ত্র) মোঃ সানিউল আলম, ড্রাইভার কনস্টেবল/১০২৭ মোঃ বুলবুল আহমেদ, কনস্টেবল/৩৬৭ মোঃ সোহাগ মিয়া, কনস্টেবল/৭৬৫ মোঃ শাহিন খান এবং কনস্টেবল/১৬৬ মোঃ রিপন মিয়া। পুলিশের দলটি বাসন থানাধীন বারবৈকা মুচিপাড়া, টিএন্ডটি রোডের বিপরীতে জনৈক প্রফেসর মোঃ সিরাজুল ইসলামের চারতলা ভবনের পশ্চিম পাশে একটি পরিত্যক্ত খালি জায়গায় অভিযান চালিয়ে হারিয়ে যাওয়া গুলিভর্তি পিস্তলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। দীর্ঘ কয়েক দিনের অভিযানের পর হারিয়ে যাওয়া গুলিভর্তি পিস্তল উদ্ধার করতে সক্ষম হওয়ায় বাসন থানা পুলিশের এ অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কোটালীপাড়ায় বিদ্যালয়ের তালা কেটে চুরি, তছনছ লাইব্রেরি কক্ষ

কোটালীপাড়ায় বিদ্যালয়ের তালা কেটে চুরি, তছনছ লাইব্রেরি কক্ষ

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ৫০ নম্বর শান্তি কুটির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি কক্ষের দরজার তালা কেটে চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতের কোনো একসময় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, লাইব্রেরি কক্ষে প্রবেশের দরজার তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। কক্ষের ভেতরে থাকা দুটি স্টিলের আলমারি ও একটি ওয়ারড্রব তল্লাশি করা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষকদের পাঁচটি টেবিলের ড্রয়ারের কাগজপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উষা রানী বসু জানান, বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রিতা দাস মাঠ পরিষ্কার করতে এসে লাইব্রেরি কক্ষের দরজার তালা কাটা ও দরজা খোলা দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি সহকারী শিক্ষক অমল হাজরা ও তাঁকে জানান। খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে এসে তিনি কক্ষের ভেতরের মালামাল এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান।আরও পড়ুন, জনবান্ধব পুলিশ গড়তে শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক সুস্থতায় বিশেষ গুরুত্ব চট্টগ্রামের এসপিরপ্রধান শিক্ষক আরও জানান, এ ঘটনায় কিছু নগদ টাকা, বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও শিক্ষা উপকরণ চুরি হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী চুরির ঘটনা সম্পর্কে কোটালীপাড়া থানার পুলিশকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন ভক্ত বলেন, ঘটনাটি জানার পর পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের চুরির ঘটনায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

আন্তর্জাতিক

জর্জিয়ার ইতিহাসে প্রথম নারী ও কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর কেইশা

জর্জিয়ার ইতিহাসে প্রথম নারী ও কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর কেইশা

বাবার কারাবাস ও মায়ের আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে শৈশব কেটেছে তাঁর। সেই প্রতিকূলতা পেরিয়ে আইন পেশায় প্রতিষ্ঠা, বিচারকের দায়িত্ব পালন, আটলান্টার মেয়র এবং হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার দায়িত্ব সামলে এবার যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন কেইশা ল্যান্স বটমস। তাঁর এ জয় মার্কিন রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী রিক জ্যাকসনকে পরাজিত করেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বটমস। এর মধ্য দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে কোনো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হলেন। একই সঙ্গে জর্জিয়ার প্রথম নারী গভর্নরও হতে যাচ্ছেন তিনি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্স তাঁর জয়ের খবর নিশ্চিত করেছে। শৈশব ও শিক্ষাজীবনজর্জিয়ার আটলান্টায় জন্ম নেওয়া বটমস ফ্রেডরিক ডগলাস হাইস্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে ফ্লোরিডা এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক এবং জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে আইনের ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর বাবা প্রয়াত আরঅ্যান্ডবি সংগীতশিল্পী মেজর ল্যান্স। বাবার কারাবাস ও মায়ের আর্থিক টানাপোড়েন তাঁর বেড়ে ওঠায় প্রভাব ফেলেছিল বলে বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন তিনি।আরও পড়ুন,যুদ্ধের দায় নিতে হবে কাউকে: ট্রাম্পের উপদেষ্টারাজনীতিতে আসার আগে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন বটমস। বিচারকের দায়িত্বও পালন করেছেন।২০০৯ সালে আটলান্টা সিটি কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। ২০১৭ সালের মেয়র নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে আটলান্টার ৬০তম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেন। কোভিড-১৯ মহামারি এবং ২০২০ সালের বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি নগর প্রশাসনের নেতৃত্ব দেন। সাশ্রয়ী আবাসন ও বিচারব্যবস্থার সংস্কারে উদ্যোগ নিলেও অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে মেয়রের দায়িত্ব ছাড়েন তিনি।হোয়াইট হাউস থেকে গভর্নর২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে যোগ দিয়ে হোয়াইট হাউসের অফিস অব পাবলিক এনগেজমেন্টের পরিচালক ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালে ওই পদ ছাড়ার পর জর্জিয়ার রাজনীতিতে ফেরেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচারে স্বাস্থ্যসেবা, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, সরকারি কর্মীদের বেতন এবং সাশ্রয়ী আবাসনকে গুরুত্ব দেন। বটমসের এ বিজয়ে জর্জিয়ার গভর্নর পদে দুই দশকের বেশি সময়ের রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটেছে। তাঁর সামনে এখন নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিভক্ত রাজনৈতিক পরিবেশে অঙ্গরাজ্য পরিচালনার চ্যালেঞ্জ।

২ ঘন্টা আগে

রাজধানী

রাজধানীতে বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

রাজধানীতে বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

রাজধানীর মিরপুরে যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী রয়েছেন।বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানার বেড়িবাঁধের নবাবেরবাগ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এক খুদে বার্তায় দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আরও পড়ুন,দোকানপাট খোলা রাখার সময় বাড়াতে মন্ত্রণালয়ে আবেদনতিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। এ ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে দুর্ঘটনায় আর কেউ আহত হননি বলে জানান তিনি। বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। এদিকে, নিহতদের পরিচয় এবং দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

০৪ নভেম্বর ২০২৬

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৬ জন

খেলাধুলা

লিগ-২ শেষ ওমানের বিশ্বকাপযাত্রা নিশ্চিত

লিগ-২ শেষ ওমানের বিশ্বকাপযাত্রা নিশ্চিত

আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ওমান। আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ লিগ-২-এর পয়েন্ট টেবিলে চতুর্থ স্থান নিশ্চিত করে শেষ দল হিসেবে বাছাইপর্বে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে লিগ-২-এর শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ৪২ রানে হারে ওমান। তবে এই পরাজয় তাদের বাছাইপর্বে খেলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ৩৬ ম্যাচে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে থেকে প্রতিযোগিতা শেষ করে তারা। ওমানের সমান ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে নামিবিয়া। তবে নেট রানরেটের হিসাবেই এগিয়ে থেকে বাছাইপর্বে জায়গা করে নেয় ওমান। প্রতিবেদনে ওমানের রানরেট -০.২২৪ উল্লেখ করা হয়েছে। নামিবিয়ার রানরেটও একই দেখানো হয়েছে; ফলে এ ক্ষেত্রে পরিসংখ্যান পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন। আরও পড়ুন,দ্বিতীয় টেস্টে তিন স্পিনার নিয়ে মাঠে বাংলাদেশলিগ-২-এর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ চার দল সরাসরি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছে। ওমানের সঙ্গে এই যোগ্যতা অর্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস। ৩৬ ম্যাচে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে, ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে স্কটল্যান্ড দ্বিতীয় এবং ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে নেদারল্যান্ডস তৃতীয় স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে লিগ-২-এর শেষ চার দল নামিবিয়া, নেপাল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কানাডাকে খেলতে হবে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফ। যৌথ আয়োজক হিসেবে নামিবিয়াও এই প্লে-অফে অংশ নেবে। আগামী বছর ২ অক্টোবর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ১৪ দল নিয়ে ১২টি ভেন্যুতে মোট ৫৭টি ম্যাচ আয়োজনের সূচি রয়েছে।

আইন আদালত

পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। ব্যবসায়ী নাসির ইউ আহমেদের করা মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় তার জামিন বাতিল করে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এদিন বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। অন্যদিকে, পরীমনির আইনজীবী সময়ের আবেদন জানিয়ে আদালতকে বলেন, অ্যালার্জিজনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। পরে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে পরীমনির জামিন বাতিল এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। এর আগে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় পরীমনিসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওই দিনও তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।আরও পড়ুন, হুমায়ূন আহমেদের হাত ধরেই বড় পর্দায় মিমের অভিষেকমামলার তদন্তে ২০২৪ সালে পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০২১ সালের ৬ জুলাই বোট ক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। অন্য দুই আসামি হলেন ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম। মামলার অভিযোগে নাসির উদ্দিন মাহমুদ দাবি করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমনি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা ক্লাবের দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার এবং পরে বসে অ্যালকোহল পান করেন। এ সময় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!