ঋতুর পালাবদলে প্রকৃতিতে এখন শীতের আগমনী বার্তা। ভোরের কুয়াশা, হালকা ঠান্ডা বাতাস আর সন্ধ্যার পর শীতের অনুভূতি জানান দিচ্ছে—দরজায় কড়া নাড়ছে শীত। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাত ও ভোরের দিকে আবহাওয়ায় শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে।শরতের শেষভাগে এসে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও ভোর ও রাতে বাড়ছে ঠান্ডার অনুভূতি। ভোরে ঘাসের ডগায় শিশিরের উপস্থিতিও জানান দিচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের। অনেকেই সকালে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় হালকা গরম পোশাক ব্যবহার শুরু করেছেন।গ্রামাঞ্চলে শীতের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি অনুভূত হচ্ছে। ভোরের কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে মাঠ-ঘাট ও সড়ক। সকালে কাজে বের হওয়া শ্রমজীবী মানুষ ও কৃষকদের অনেককে চাদর বা গরম কাপড় জড়িয়ে চলতে দেখা যাচ্ছে। সন্ধ্যার পরও বাতাসে বাড়ছে শীতের পরশ।আরও পড়ুন, গুমের মামলায় জিয়াউল আহসানের পক্ষে ব্রিটিশ আইনজীবীশীতকে ঘিরে এরই মধ্যে বাজারে গরম পোশাকের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। ফুটপাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিপণিবিতানে শীতের পোশাক উঠতে শুরু করেছে। শিশু ও বয়স্কদের জন্য সোয়েটার, জ্যাকেট, চাদর ও কম্বলসহ নানা ধরনের গরম পোশাকের চাহিদা বাড়ছে।শীতের আগমনে প্রকৃতিতেও আসছে পরিবর্তন। খেজুর গাছ প্রস্তুত করছেন গাছিরা। কোথাও কোথাও খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। শীতের পিঠাপুলি, খেজুরের রস ও নানা ধরনের মৌসুমি খাবার ঘিরে গ্রামবাংলায় তৈরি হচ্ছে উৎসবের আবহ।তবে শীত যেমন স্বস্তি নিয়ে আসে, তেমনি দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য হয়ে ওঠে কষ্টের সময়। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রয়োজন হয় গরম কাপড় ও আশ্রয়ের। তাই শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।সব মিলিয়ে প্রকৃতিতে এখন শীতের আগমনী সুর। কুয়াশার চাদর, শিশিরভেজা সকাল আর হিমেল বাতাস জানান দিচ্ছে—আর বেশি দেরি নেই, শীত আসছে আপন মহিমায়।
এক্সক্লুসিভ
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) তিন পার্বত্য জেলার (বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি) দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিচালক (ডিডি) দীপক কুমার দাসের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার ও শতকোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর সংস্থাটির ভেতর ও বাইরে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, সংবাদ প্রকাশের পর দুর্নীতির তথ্য ধামাচাপা দিতে এবং নিজেকে রক্ষা করতে নানা তৎপরতা শুরু করেছেন বিতর্কিত এই কর্মকর্তা। অপরাধের আলামত গোপন করার অংশ হিসেবে তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবহৃত 'এক্স-করোলা' মডেলের একটি বিলাসবহুল গাড়ির মালিকানা দ্রুত পরিবর্তন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএডিসি প্রধান কার্যালয়ের প্রভাবশালী মহলকে ব্যবহার করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিএডিসির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, প্রধান কার্যালয়ের একজন শীর্ষস্থানীয় পরিচালক দীপক কুমার দাসকে সুরক্ষা দিতে পেছন থেকে সরাসরি কলকাঠি নাড়ছেন। নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের সাম্রাজ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দীপক কুমার দাসের অর্জিত অস্বাভাবিক সম্পদের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়, বিএডিসি চেয়ারম্যান এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়া অভিযোগ ও প্রতিবেদন অনুযায়ী তাঁর যেসব সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে: আবাসন ও বিলাসবহুল গাড়ি: চট্টগ্রাম শহরের অভিজাত এলাকায় তাঁর নামে কোটি কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। চলাচলের জন্য তিনি যে এক্স-করোলা গাড়িটি ব্যবহার করতেন, আরও পড়ুন,সাংবাদিকতা ও সমাজসেবায় দীর্ঘ পথচলা: শেখ আমিনুর হোসেনের নিরলস কর্মযাত্রাতা আয়কর ও আইনি ঝামেলা এড়াতে তাঁর নিজস্ব গাড়িচালক হামিম (যাকে ‘ভাগিনা হামিম’ নামে ডাকা হয়)-এর নামে নিবন্ধন করে রাখা হয়েছিল। জমি ও বাণিজ্যিক বিনিয়োগ: বান্দরবানের বালাঘাটা এলাকায় স্ত্রী দীপ্তি দাসের নামে প্রায় ছয় একর মূল্যবান জমি কেনা হয়েছে। এছাড়া বান্দরবান জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি বাদশা মিয়ার মাধ্যমে তিনি বেনামে ২০টি ট্রাক বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিচালনা করছেন বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ রয়েছে। স্বর্ণ ব্যবসা ও শেয়ারে অর্থ ঢালা: অবৈধ উপার্জনের অর্থ সাদা করতে তিনি দেশের একটি বড় স্বর্ণ ব্যবসায়ী চক্রের কাছে ৭ শতাংশ লভ্যাংশের মৌখিক শর্তে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। ব্যাংক ব্যালেন্স ও অন্যান্য সম্পত্তি: তিন পার্বত্য জেলা, চট্টগ্রাম মহানগরী এবং তাঁর নিজ এলাকা মিরসরাইয়ের বিভিন্ন স্থানে তাঁর একাধিক প্লট ও জমির সন্ধান মিলেছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকে তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে কোটি কোটি টাকা জমা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কৃষি ও নার্সারি প্রকল্পে হরিলুট: কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অর্থ আত্মসাৎ দেশের কৃষিখাতের সার্বিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে পার্বত্য অঞ্চলে সরকারের গৃহীত একাধিক মানবকল্যাণকর প্রকল্পে দীপক কুমার দাস ব্যাপক অনিয়ম চালিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ উঠে এসেছে। ১. কাজুবাদামের চারা বিক্রির জালিয়াতি: স্থানীয় পাহাড়ি ও সাধারণ কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য সরকার যে বিপুল পরিমাণ কাজুবাদামের চারা বরাদ্দ দিয়েছিল, তার সিংহভাগই কৃষকদের না দিয়ে গোপন আঁতাতে স্থানীয় নার্সারি মালিকদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়। কৃষকদের খাতায় কেবল নামমাত্র চারা বিতরণের ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করা হতো। ২. নারিকেলের চারা প্রকল্পে ভুয়া লোকসান: নারকেল চারা উৎপাদন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে নথিপত্রে চারা ‘পচে নষ্ট হয়েছে’ কিংবা ‘বিনষ্ট হয়েছে’ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকার সরকারি তহবিল আত্মসাৎ করা হয়েছে। ৩. সরকারি জমি ইজারা বাণিজ্য: খাগড়াছড়িতে বিএডিসির মালিকানাধীন নার্সারি প্রকল্পের প্রায় ১৫ একর সরকারি জমি নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রতি মাসে দুই লাখ টাকায় ব্যক্তিমালিকানায় ইজারা দিয়ে সম্পূর্ণ টাকা নিজের পকেটে পুরেছেন এই কর্মকর্তা। ঘুষের বিনিময়ে বদলি বাতিল ও সরকারি সম্পদের অপব্যবহার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের শেষ সময়ে দীপক কুমার দাসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠায় তাঁকে পার্বত্য অঞ্চল থেকে প্রশাসনিক উদ্দেশ্যে অন্য জেলায় বদলি করা হয়।আরও পড়ুন,গুলশানে বাহারের স্পা সেন্টার ঘিরে রহস্য অনৈতিক কারবার তবে অভিযোগ রয়েছে, বিএডিসির তৎকালীন এক প্রভাবশালী পরিচালকের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তিনি সেই বদলির আদেশ রাতারাতি বাতিল করান। এ ছাড়া বিএডিসি প্রধান কার্যালয় থেকে ইতিপূর্বে যখনই কোনো তদন্ত দল তিন পার্বত্য অঞ্চলের দুর্নীতি অনুসন্ধানে গেছে, তখনই দীপক কুমার দাস ও তাঁর সিন্ডিকেট তদন্ত কর্মকর্তাদের অকাতরে প্রভাবিত করে নিজেদের অনুকূলে প্রতিবেদন বানিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে নিজের চেয়ার ও অবস্থান টিকিয়ে রাখতে তিনি চট্টগ্রাম জোনের এক উর্ধ্বতন উপপরিচালকের শরণাপন্ন হয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, সরকারি জ্বালানি তেল ব্যবহার করে বিএডিসি থেকে তাঁর নামে বরাদ্দ করা সরকারি গাড়িটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহার করার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। অভিযুক্ত ও দুদকের বক্তব্য উত্থাপিত সব চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা যাচাই করতে ডিডি দীপক কুমার দাসের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হয় এবং বিস্তারিত উল্লেখ করে খুদে বার্তা (SMS) পাঠানো হয়। তবে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ জানান, "কৃষি খাতের সংবেদনশীল প্রকল্প ও কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে বা আমাদের কাছে জমা হলে আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্ত চালানো হবে। তদন্তে সত্যতা মিললে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" পার্বত্য অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষক ও বিএডিসির সাধারণ কর্মচারীরা অবিলম্বে দীপক কুমার দাসের সব দুর্নীতির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিভাগীয় ও বিচারিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এবিষয়ে দিপক কুমার দাসের সাথে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায়নি।
অনলাইন জরিপ