দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

আজকের আবহাওয়া

ঢাকা 1002.7 hPa
29.3° 76%
20° 3mm
চট্টগ্রাম 1003.2 hPa
30° 78%
3mm
রাজশাহী 1002 hPa
29.4° 86%
60° 3mm
খুলনা 1000.9 hPa
30.8° 78%
40° 3mm
বরিশাল 1001.6 hPa
30° 84%
10° 3mm
সিলেট 1004.6 hPa
29.2° 78%
40° 3mm
রংপুর 1003.4 hPa
29.1° 86%
3mm
ময়মনসিংহ 1003.8 hPa
30.4° 73%
20° 3mm
Weather

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

অনলাইন পোর্টাল ও ফেসবুক পেজ খুলেই  কথিত ‘সাংবাদিক’!

অনলাইন পোর্টাল ও ফেসবুক পেজ খুলেই কথিত ‘সাংবাদিক’!

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ফেসবুক পেজ ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক তথাকথিত সংবাদ প্ল্যাটফর্মের সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে কিছু প্ল্যাটফর্ম প্রকৃত সাংবাদিকতা ও জনস্বার্থের সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও অভিযোগ রয়েছে, একটি অংশ সংবাদ প্রকাশের আড়ালে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি, মানহানি এবং চাঁদা দাবির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এতে শুধু সাধারণ মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নয়, পেশাদার ও মূলধারার সাংবাদিকরাও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।আরও পড়ুন: গ্রাহকের অর্থ কোথায়? Divine Group-এর প্রকল্প ও সম্পদসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি ও পেশাজীবীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউজ, স্পা সেন্টার, রেস্টুরেন্ট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সেক্টরে গিয়ে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তথ্য সংগ্রহের নামে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তাদের কেউ কেউ আবার কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দাবিকৃত অর্থ দিতে রাজি না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক পোস্ট দেওয়া হয়। কখনো একই ধরনের সংবাদ বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে নেওয়া হয়, যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সামাজিক ও ব্যবসায়িকভাবে চাপে পড়ে।সাংবাদিক মহলে এমন একটি ঘটনার কথাও আলোচনা রয়েছে। এক ব্যক্তি কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ভাই, ২৬টি অনলাইনে ও পেজে নিউজ হয়েছে।’ সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এ ধরনের বক্তব্য অনেক সময় আতঙ্ক তৈরি এবং নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে একটি সংবাদ কতটি পেজ বা ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে, সেটিই যে সংবাদটির সত্যতা প্রমাণ কওে এমন ধারণা সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং একই উৎস থেকে যাচাইহীন তথ্য কপি করে অসংখ্য পেজে প্রকাশিত হলে সেটি জনমনে বিভ্রান্তি আরও বাড়াতে পারে। একটি মহল কোনমতে ১৫০০-২০০০ টাকা দিয়ে অনলাইন পোর্টাল খুলেই তিনি সাংবাদিক। অথচ নেই কোন নিবন্ধন।আরও পড়ুন: বনানীতে ফের সক্রিয় অপরাধচক্র, পুলিশের মাসোহারাসাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হলো তথ্যের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া, প্রমাণ সংগ্রহ এবং জনস্বার্থ বিবেচনা করে সংবাদ প্রকাশ করা। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার পর সংবাদ মুছে ফেলা কিংবা অর্থ না দিলে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হলে তা সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থী এবং গুরুতর অপরাধের অভিযোগের জন্ম দিতে পারে। রাজধানীর কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ করেছেন, কোনো কোনো অনলাইন পেজে তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ দাবি করা হয়। অর্থ পরিশোধের পর সেই সংবাদ সরিয়ে ফেলার বা পোস্ট মুছে দেওয়ার কথাও শোনা যায়।এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কারণ কোনো সংবাদ ভুল, অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর প্রমাণিত হলে সংশোধন বা প্রত্যাহারের একটি স্বাভাবিক সম্পাদকীয় প্রক্রিয়া থাকতে পারে। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশ বা মুছে ফেলা হলে সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্টদের মতে, সংবাদ প্রকাশ ও বাণিজ্যিক লেনদেনের মধ্যে স্বচ্ছ সীমারেখা থাকা প্রয়োজন। বিজ্ঞাপন বা বৈধ বাণিজ্যিক চুক্তিকে সংবাদ প্রকাশের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলা যেমন অনৈতিক, তেমনি সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও তদন্তের আওতায় আসা উচিত।আরও পড়ুন:  বনানীতে স্পা-গেস্ট হাউজ ঘিরে ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগঅনিবন্ধিত ও পরিচয়হীন অনলাইন পেজের বিস্তারে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা পেশায় থাকা সংবাদকর্মীরা। কারণ সাধারণ মানুষ অনেক সময় একটি ফেসবুক পেজের নামের সঙ্গে ‘নিউজ’, ‘প্রেস’, ‘মিডিয়া’ বা ‘সাংবাদিক’ শব্দ থাকলেই সেটিকে গণমাধ্যম হিসেবে ধরে নেন। ফলে কে প্রকৃত সাংবাদিক, কে সংবাদমাধ্যমের অনুমোদিত প্রতিনিধি এবং কে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পেজ পরিচালনা করছেন তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। পেশাদার সাংবাদিকদের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ালে পুরো সাংবাদিক সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হলেও সাধারণ মানুষের চোখে তা অনেক সময় ‘সাংবাদিকদের কর্মকাণ্ড’ হিসেবে প্রতিভাত হয়।আরও পড়ুন: বনানীর আবাসিক ভবনে স্পা-গেস্ট হাউজ এখন অন্ধকার জগৎএকজন পেশাদার সাংবাদিক বলেন, ‘আমরা দিনের পর দিন তথ্য সংগ্রহ করি, মানুষের বক্তব্য নিই, নথিপত্র যাচাই করি। কিন্তু কেউ যদি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেন, তাহলে তার দায় শেষ পর্যন্ত আমাদের পেশার ওপর এসে পড়ে। রাজধানীর বিভিন্ন স্পা সেন্টার, আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউজ ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক পরিচয়ে অর্থ দাবির অভিযোগ সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। অভিযোগ রয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কথিত সাংবাদিকরা প্রথমে ভিডিও ধারণ, ছবি তোলা কিংবা তথ্য সংগ্রহের কথা বলেন। এরপর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘বড় নিউজ’ করার কথা বলে চাপ সৃষ্টি করা হয়। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী কখনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড, কখনো মাদক, কখনো অবৈধ ব্যবসা কিংবা প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশের মতো গুরুতর বিষয় সামনে আনা হয়।তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি সত্য কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠান সত্যিই আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের বক্তব্যসহ সংবাদ প্রকাশ করা। আর অভিযোগের আড়ালে যদি অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়, তাহলে সেটি সাংবাদিকতা নয়—বরং সাংবাদিকতার পরিচয়কে অপব্যবহারের অভিযোগ। ফেসবুকভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ দিক হলো যাচাই ছাড়াই ব্যক্তির ছবি, নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা। কোনো অভিযোগের তদন্ত বা বিচার শেষ হওয়ার আগেই কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করলে তার সামাজিক মর্যাদা, ব্যবসা এবং ব্যক্তিগত জীবনে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।বিশেষ করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাদক, যৌন হয়রানি, প্রতারণা, চাঁদাবাজি কিংবা অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে শক্ত প্রমাণ ছাড়া সিদ্ধান্তমূলক ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়। সাংবাদিকতার নীতি অনুযায়ী অভিযোগের পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য নেওয়া, প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় সংবাদ ও অপপ্রচারের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে।আরও পড়ুন: গুম-খুন ও জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকবে প্রধানমন্ত্রীসংশ্লিষ্ট মহলে সবচেয়ে গুরুতর যে অভিযোগটি ঘুরছে, তা হলো কথিত কিছু অনলাইন পেজে অর্থের বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশ বা অপসারণের ঘটনা। যদিও এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ, লেনদেনের নথি, অডিও-ভিডিও বা প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তদন্ত প্রয়োজন। যদি কোনো ব্যক্তি সত্যিই সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করেন, তাহলে ভুক্তভোগীর উচিত বিষয়টি গোপনে অর্থ দিয়ে মিটিয়ে ফেলার পরিবর্তে আইনগতভাবে অভিযোগ করা এবং প্রমাণ সংরক্ষণ করা। কারণ অর্থ প্রদান করে বিষয়টি মিটিয়ে ফেললে এ ধরনের চক্র আরও উৎসাহিত হতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয় যাচাইয়ের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলছেন পেশাজীবীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মতে, কেউ সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদা দাবি করলে বিষয়টি সাংবাদিকতার স্বাধীনতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কিন্তু সেই স্বাধীনতার আড়ালে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের আওতায় আসতে হবে।আরও পড়ুন: অপরাধ দমনে কঠোর গুলশান পুলিশ, স্পা সেন্টারে অভিযানএকই সঙ্গে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। প্রকৃত সাংবাদিকদের হয়রানি বা সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি সাংবাদিক পরিচয়ে কেউ অপরাধ করলে তাকেও পেশাগত পরিচয়ের কারণে ছাড় দেওয়া উচিত নয়।সংশ্লিষ্টদের মতে, অনলাইন গণমাধ্যমের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোনটি নিবন্ধিত বা বৈধভাবে পরিচালিত সংবাদমাধ্যম এবং কোনটি ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজ—এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। একটি ফেসবুক পেজ থাকা আর একটি প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যম পরিচালনা করা এক বিষয় নয়। সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় কাঠামো, দায়িত্বশীল সম্পাদক, প্রকাশনা সংক্রান্ত তথ্য, সাংবাদিকদের পরিচয় এবং সংবাদ প্রকাশের নীতিমালা সম্পর্কে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের উচিত বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়নের পাশাপাশি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের পরিচয় ও নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করা।সাংবাদিক নেতারা বলছেন, কোনো ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রকৃত সাংবাদিকরাই উপকৃত হবেন। কারণ অপরাধীদের কারণে পুরো পেশা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া বন্ধ হবে। তাদের মতে, সংবাদ প্রকাশের নামে অর্থ দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং অর্থের বিনিময়ে সংবাদ মুছে ফেলার মতো অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রকৃত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতাও নিশ্চিত করতে হবে।সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইহীন সংবাদ, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সামাজিক বিরোধ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। একদিকে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে প্রকৃত সাংবাদিকদের ওপরও মানুষের আস্থা কমে যেতে পারে। তাই অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী ঘোষণা না করে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা জরুরি।বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ যেমন কঠোরভাবে তদন্ত করা দরকার, তেমনি কোনো সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিককে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে হয়রানি করাও উচিত নয়। প্রমাণ, নথি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিটি ঘটনা যাচাই করা প্রয়োজন।সবশেষে বলা যায়, প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি অপব্যবহারের ঝুঁকিও বেড়েছে। একটি ফেসবুক পেজের কয়েক হাজার অনুসারী থাকা তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়িত্বশীল গণমাধ্যমে পরিণত করে না। সংবাদ হলো জনস্বার্থের বিষয়; সেটিকে ব্যক্তিগত স্বার্থ, ভয়ভীতি বা অর্থ আদায়ের হাতিয়ার বানানো হলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো সমাজ। তাই অনিবন্ধিত বা পরিচয়হীন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নামে ওঠা চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং একই সঙ্গে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি এখন জোরালো হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে একদিকে সাধারণ মানুষ সুরক্ষা পাবে, অন্যদিকে সাংবাদিকতার পেশার প্রতি মানুষের আস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

প্রাথমিক বৃত্তিতে নতুন হার, ট্যালেন্টপুলে মাসে ৩০০ ও সাধারণে ২২৫ টাকা

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫-এর ফলের ভিত্তিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির অর্থের নতুন হার নির্ধারণ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুল বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ৩০০ টাকা এবং বছরে এককালীন ২২৫ টাকা পাবেন। আর সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মাসে ২২৫ টাকা ও বছরে এককালীন ২২৫ টাকা করে পাবেন।রোববার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে বৃত্তির অর্থের হার ও বিভিন্ন শর্ত জানানো হয়েছে।চিঠি অনুযায়ী, নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী তিন বছর এই হারে বৃত্তির অর্থ দেওয়া হবে। অর্থাৎ নতুন নির্ধারিত হার কার্যকর হবে ২০২৬ সালের শুরু থেকেই।তবে বৃত্তি অব্যাহত রাখতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, সদাচরণ এবং সন্তোষজনকভাবে পড়াশোনা করতে হবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে বৃত্তি স্থগিত বা বাতিল হতে পারে।আরও  পড়ুন, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে শি জিনপিংয়ের চীন সফরের আমন্ত্রণবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ পাবেন। তবে সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি না হলে বৃত্তির অর্থ পাওয়ার যোগ্যতা থাকবে না।বৃত্তির অর্থ সরাসরি শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। জিটুপি বা Government to Person পদ্ধতিতে ইএফটির মাধ্যমে টাকা বিতরণ করা হবে।এজন্য শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতাভুক্ত যেকোনো ব্যাংকে হিসাব খুলে প্রয়োজনীয় তথ্য বিদ্যালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিতে হবে।এদিকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বৃত্তিপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিল ফর্মে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিস্বাক্ষর নিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ উত্তোলন করে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী বৃত্তির সংখ্যা, অর্থের হার, মেয়াদসহ আদেশের যেকোনো শর্ত পরিবর্তন, সংশোধন বা বাতিল করতে পারবে।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে শি জিনপিংয়ের চীন সফরের আমন্ত্রণ

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। রোববার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পক্ষ থেকে এ আমন্ত্রণ জানান তিনি।রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে চীনা রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের বিভিন্ন অগ্রগতি তুলে ধরেন।তিনি জানান, সফরের অংশ হিসেবে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে বাণিজ্যিক চুক্তি এবং মোংলা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন প্রতিষ্ঠায় সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানি প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে পারে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুমানিক এক লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।আরও  পড়ুন, জিসান হত্যা: শেখ হাসিনা-জয়সহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের চার্জশিটবৈঠকে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ, প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের ‘২+২’ কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সংলাপ নিয়েও আলোচনা হয়।এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল, আম ও পেয়ারা রপ্তানি, সৌরশক্তি, বৈদ্যুতিক যানবাহন সংযোজন, চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফর দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও সুগম করবে।বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে বহুমাত্রিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।

জিসান হত্যা: শেখ হাসিনা-জয়সহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের চার্জশিট

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকায় আব্দুর রহমান জিসানকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক কাউছার হুসাইন গত ৮ জুলাই আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মহিউদ্দিন চৌধুরী।মামলায় শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয় ছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ সাবেক কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে।গঙ্গাচড়ায় ঐতিহ্যবাহী তেলের ঘানি ঘুরে দেখলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূতচার্জশিটে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ, সাবেক র‌্যাব মহাপরিচালক হারুন অর রশীদ, সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসানের নামও রয়েছে।মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকায় আন্দোলনকারীদের পানি পান করাচ্ছিলেন আব্দুর রহমান জিসান।এ সময় গুলিতে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।পরে জিসানের বাবা বাবুল মিয়া ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।পুলিশ জানিয়েছে, এ মামলায় আগামী ৬ অক্টোবর চার্জশিট গ্রহণের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

গঙ্গাচড়ায় ঐতিহ্যবাহী তেলের ঘানি ঘুরে দেখলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও কৃষিভিত্তিক কার্যক্রম দেখতে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় গেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পরিদর্শন করেছেন একটি বড় ডেইরি ফার্ম ও স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী তেলের ঘানি।রোববার সকালে গঙ্গাচড়া উপজেলার একটি ডেইরি ফার্মে যান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেখানে উন্নত জাতের প্রায় এক হাজার ২০০ গরু পালনের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন তিনি।এ সময় গরুর পরিচর্যা, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, দুধ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং উন্নত জাতের গরুর প্রজনন কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন ক্রিস্টেনসেন।আরও  পড়ুন, বিমান টিকিটে কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিখামারের অবকাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করেন তিনি। পরে ওই খামারে উৎপাদিত দুধ পান করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।এরপর উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের চন্দনের হাটে গিয়ে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী তেলের ঘানি পরিদর্শন করেন ক্রিস্টেনসেন।ঘানিতে কীভাবে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে তেল উৎপাদন করা হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি এবং পুরো প্রক্রিয়াটি ঘুরে দেখেন।এ সময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী ডিয়েন ডাও এবং মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা।পরে রংপুরের স্থানীয় প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। সফরের পরবর্তী পর্যায়ে লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে গঙ্গাচড়া ত্যাগ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

রাজনীতিরাজনীতি

‘গুমের বিরুদ্ধে আইন বাতিল নয়, বহাল রাখতে হবে’: মিয়া গোলাম পরওয়ার

‘গুমের বিরুদ্ধে আইন বাতিল নয়, বহাল রাখতে হবে’: মিয়া গোলাম পরওয়ার

গুম প্রতিরোধের অর্ডিন্যান্স বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।তিনি অভিযোগ করেছেন, অর্ডিন্যান্স বাতিল করে গুমের ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের হাতে দিলে দেশে আবারও গুমের সুযোগ তৈরি হতে পারে।রোববার আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত পদযাত্রা ও সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।বাংলামোটরে সমাবেশের পর হাজারো মানুষ জাতীয় সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করেন। পরে সংসদ ভবনের সামনে সমাবেশ শেষে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গুমের শিকার সংগ্রামী জনতা, জুলাই যোদ্ধা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা গুম হয়েছেন, তাদের স্বার্থেই গুম প্রতিরোধের অর্ডিন্যান্স বহাল রাখতে হবে।আরও  পড়ুন, মিরাজসহ সব গুমের শিকার ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার দাবি নাহিদ ইসলামেরসমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও সরকার গুম-খুন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকার বিভিন্ন অধ্যাদেশ বাতিলের পাশাপাশি এমন কিছু আইন করছে, যা আগের সরকারের চেয়েও খারাপ বলে তারা মনে করেন।আয়নাঘরে গুমের শিকার ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাশেম আরমান বলেন, দেশে যেন আর কোনোভাবেই গুম ফিরে না আসে, সে জন্য কার্যকর আইন প্রয়োজন।পরে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন জাতীয় কমিটির প্রতিনিধিরা স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেন। তাদের দাবি, গুম প্রতিরোধের আগের অর্ডিন্যান্স বহাল রেখে গুমের বিচার ও তদন্তে কার্যকর ও স্বাধীন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

মিরাজসহ সব গুমের শিকার ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার দাবি নাহিদ ইসলামের

মিরাজসহ সব গুমের শিকার ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার দাবি নাহিদ ইসলামের

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বাগেরহাটের মোংলায় গুমের শিকার মিরাজ শেখসহ ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার সব ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।শনিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে হবে এবং প্রতিটি ঘটনার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে গুমকে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের একটি ভয়াবহ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। বিরোধী দল ও ভিন্নমতের অসংখ্য মানুষ এর শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।‘আয়নাঘর’ নামের কথিত বন্দিশালায় আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, আরও  পড়ুন, মুনাফার আশায় সঞ্চয়পত্র কিনছেন? যে ভুলে কমে যেতে পারে লাভগুম হওয়া স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আকুতি এবং পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষার বেদনার ওপর দাঁড়িয়েই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ এসেছে।তবে বিপ্লব-পরবর্তী সময়েও অনেক পরিবার প্রিয়জনের সন্ধানে অপেক্ষা করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করে মোংলার কারাগারে মিরাজ শেখের গুমের অভিযোগ গভীর উদ্বেগের বলে মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক।গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, গুমের অভিযোগের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের সুস্পষ্ট বিধান রাখতে হবে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের দায়মুক্তির সুযোগ না রেখে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।দেশে যেন আর কখনো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুমের সংস্কৃতি ফিরে না আসে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মুনাফার আশায় সঞ্চয়পত্র কিনছেন? যে ভুলে কমে যেতে পারে লাভ

মুনাফার আশায় সঞ্চয়পত্র কিনছেন? যে ভুলে কমে যেতে পারে লাভ

নিরাপদ বিনিয়োগের কথা ভাবলে অনেকেরই প্রথম পছন্দ সঞ্চয়পত্র। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষের কাছে এটি দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের পাশাপাশি নিয়মিত আয়েরও একটি জনপ্রিয় মাধ্যম।তবে সঞ্চয়পত্র কেনার আগে নিয়ম-কানুন, মেয়াদ, মুনাফা ও কর সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে কাঙ্ক্ষিত লাভ নাও মিলতে পারে। এমনকি প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে পারেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের আগে প্রথমেই যে ভুলটি এড়াতে হবে, তা হলো জরুরি প্রয়োজনে লাগতে পারে এমন টাকা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আটকে রাখা। চিকিৎসা, আপৎকালীন খরচ কিংবা কয়েক মাসের মধ্যে প্রয়োজন হতে পারে এমন অর্থ সঞ্চয়পত্রে না রাখাই ভালো।দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগের সীমা ও বর্তমান নিয়ম না জেনে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করা উচিত নয়। পরিবারের অন্য সদস্যের নামে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও অর্থের উৎস, মালিকানা ও করসংক্রান্ত নিয়ম মানতে হবে।আরও  পড়ুন, অর্থনীতির চাপে বাড়ছে দারিদ্র্য, এক বছরেই ১৪ লাখ নতুন দরিদ্রতৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কর। সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় উৎসে কর প্রযোজ্য। তাই নিজের কর পরিস্থিতি এবং প্রযোজ্য করের নিয়ম না জেনে বিনিয়োগ করলে প্রত্যাশিত মুনাফা কমে যেতে পারে।চতুর্থত, শুধু বেশি মুনাফার হার দেখে স্কিম নির্বাচন করাও ভুল। কারও নিয়মিত আয় প্রয়োজন, আবার কেউ মেয়াদ শেষে একসঙ্গে অর্থ পেতে চান। তাই নিজের আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী সঞ্চয়পত্রের ধরন বেছে নিতে হবে।আর পঞ্চম ভুল হলো, নিজের সব সঞ্চয় এক খাতে বিনিয়োগ করা। জরুরি খরচের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য অর্থ রাখার পাশাপাশি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে ভারসাম্য রাখা জরুরি।তাই সঞ্চয়পত্র কেনার আগে বর্তমান মুনাফার হার, মেয়াদ, বিনিয়োগসীমা, কর এবং আগাম ভাঙানোর নিয়ম ভালোভাবে জেনে নিন। শুধু নিরাপদ মনে হচ্ছে বলেই সব সঞ্চয় এক জায়গায় না রেখে নিজের আর্থিক লক্ষ্য অনুযায়ী পরিকল্পিত বিনিয়োগই হতে পারে বুদ্ধিমানের কাজ।

‘গুম আর কখনো রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের হাতিয়ার হতে পারবে না’ : রিজভী

‘গুম আর কখনো রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের হাতিয়ার হতে পারবে না’ : রিজভী

গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে বিশ্বের সব গুমের শিকার ব্যক্তি, তাদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা ও সংহতি জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।শনিবার এক বাণীতে তিনি বাংলাদেশের বিগত বছরগুলোতে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের সময়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।রিজভী বলেন, গুম শুধু একজন মানুষকে পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ঘটনা নয়; এটি মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও জীবনের অধিকারের ওপর নির্মম আঘাত।বছরের পর বছর প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষা এবং তার ভাগ্য সম্পর্কে অনিশ্চয়তার যন্ত্রণা কোনো পরিবারের বহন করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দাবি, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে গুমকে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও ভিন্নমত স্তব্ধ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আরও  পড়ুন, সংসদে হাসনাতের বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীসহ বহু মানুষ এর শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।রিজভী বলেন, গুমের প্রতিটি ঘটনার সত্য উদঘাটন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অপরিহার্য শর্ত। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না।তিনি আরও বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার, ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও যথাযথ পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।রিজভীর ভাষ্য, এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে রাষ্ট্রের কোনো সংস্থা নাগরিকের বিরুদ্ধে গুমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না এবং আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনী জবাবদিহির আওতায় থাকবে।যারা এখনো নিখোঁজ, তাদের প্রত্যেকের ভাগ্য ও অবস্থান সম্পর্কে সত্য প্রকাশ এবং যারা ফিরে এসেছেন তাদের অভিজ্ঞতার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।একই সঙ্গে যারা আর কখনো ফিরে আসবেন না, তাদের পরিবারকে সত্য, স্বীকৃতি ও বিচার দেওয়ার দাবি জানান বিএনপির এই নেতা।

সারাবাংলা

ধামরাইয়ে খাদ্যগুদামে খাদ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন, অনিয়মে জিরো টলারেন্সের কঠোর হুঁশিয়ারি

ধামরাইয়ে খাদ্যগুদামে খাদ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন, অনিয়মে জিরো টলারেন্সের কঠোর হুঁশিয়ারি

ঢাকার ধামরাইয়ে সরকারি খাদ্য গুদামের সার্বিক পরিস্থিতি, খাদ্যশস্যের মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে পরিদর্শন করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। মন্ত্রীর এই ঝটিকা সফরকে কেন্দ্র করে খাদ্য বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।​পরিদর্শনকালে খাদ্যমন্ত্রী গুদামে সংরক্ষিত খাদ্যের গুণগত মান, বিদ্যমান মজুত পরিস্থিতি, গুদামের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ এবং সরকারি খাদ্য বিতরণ কার্যক্রমের বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে খাদ্যশস্য সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ করা, মজুত ব্যবস্থাপনায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি খাদ্য সহায়তা যেন সঠিকভাবে পৌঁছায় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন।​পরিদর্শন শেষে উপস্থিত কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, সরকারি খাদ্যশস্যের মান ও মজুত ব্যবস্থাপনায় যেকোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা অবহেলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। আরও  পড়ুন, বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে কলেজছাত্র দিগন্ত নিহত, অভিযুক্তদের খুঁজছে পুলিশসাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি আরও জানান, সরকারি খাদ্যশস্যের গুণগত মান বজায় রাখতে এবং প্রয়োজনের সময় সঠিক বিতরণ নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খাদ্যগুদামগুলোতে এ ধরনের নিয়মিত তদারকি ও পরিদর্শন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।​মন্ত্রীর এই ঝটিকা পরিদর্শনকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, মাঠ পর্যায়ে এ ধরনের সরাসরি তদারকি বজায় থাকলে সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও বিতরণে স্বচ্ছতা আসবে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এর প্রকৃত সুফল পাবে।​পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন,  ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ তমিজ উদ্দিন, ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আল মামুন ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় রাজনীতিবিদরাও  উপস্থিত ছিলেন।

বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে কলেজছাত্র দিগন্ত নিহত, অভিযুক্তদের খুঁজছে পুলিশ

বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে কলেজছাত্র দিগন্ত নিহত, অভিযুক্তদের খুঁজছে পুলিশ

গাজীপুরে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হওয়ার পর দিগন্ত নামে গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন তরুণকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।পরিবারের দাবি, দিগন্ত বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হওয়ার পর একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হন। পরে তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।আর ও পড়ুন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে: মীর হেলালআইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থান নির্ণয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও সাক্ষ্যপ্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে চূড়ান্তভাবে দোষী বলা যাবে না। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে: মীর হেলাল

কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে: মীর হেলাল

পরাজিত ও পলাতক শক্তি পারস্পরিক যোগসাজশে নানা ধরনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ভূমি মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নসিমন ভবন প্রাঙ্গণে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সভায় ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, “বিএনপি কোনো অপশক্তির ষড়যন্ত্রের কাছে কখনো মাথানত করবে না। দেশের সব দেশপ্রেমিক ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় বিএনপি প্রস্তুত রয়েছে।” জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে বিএনপি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশ পুনর্গঠনের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।ব্যারিস্টার মীর হেলাল আরও বলেন, “৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পুনর্গঠনের যাত্রা মাত্র শুরু হয়েছে। এই কঠিন বাস্তবতা মোকাবিলা করে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, আরও  পড়ুন, টঙ্গী-ঘোড়াশাল সড়কে প্রাণ গেল বৃদ্ধের, আহত দুই নারীজনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং রাষ্ট্রকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সময়ের পাশাপাশি সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশের স্বার্থে বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবে এবং জনগণের কল্যাণে যেকোনো দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত থাকবে।"চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় সভাপতিত্ব করেন তিনি। সভা সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।এতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, কাজী বেলাল উদ্দিন, শফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, শাহ আলম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আহামেদুল আলম চৌধুরী রাসেল ও শিহাব উদ্দিন মুবিনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।এছাড়া মহানগর বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট মফিজুল হক ভূঁইয়া, আবুল হাশেম, মুজিবুল হক, মো. মহসিন, মো. খোরশেদ আলম, মো. সালাউদ্দিন, কামরুল ইসলামসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সফল করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

টঙ্গী-ঘোড়াশাল সড়কে প্রাণ গেল বৃদ্ধের, আহত দুই নারী

টঙ্গী-ঘোড়াশাল সড়কে প্রাণ গেল বৃদ্ধের, আহত দুই নারী

টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের কালীগঞ্জে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই নারী। দুর্ঘটনার পর দুটি গাড়িই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে।রোববার দুপুর পৌনে ২টার দিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার বাঘের পাড়া এলাকায় ঘটে এ দুর্ঘটনা।নিহত ব্যক্তি হলেন ৬৫ বছর বয়সী মো. হাফিজ শেখ। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরসাদী গ্রামের আ. কাদিরের ছেলে।প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, মীরের বাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন হাফিজ শেখ।আরও  পড়ুন, চন্দ্রা-দুবাই সিএনজি ফিলিং স্টেশনে তীব্র গ্যাস সংকট, দীর্ঘ সারিতে চরম ভোগান্তি অটোরিকশাটি বাঘের পাড়া এলাকা অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।সংঘর্ষের পর অটোরিকশার যাত্রী হাফিজ শেখ ও দুই নারী সড়কের পাশে ছিটকে পড়েন। এ সময় দুটি গাড়িই দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।খবর পেয়ে কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাফিজ শেখকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। আহত দুই নারীকে মুমূর্ষু অবস্থায় কালীগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়।কালীগঞ্জ থানার এসআই জাবেদ হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুটি গাড়িই পালিয়ে গেছে। নিহতের মরদেহ পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক

সবুজ বন এখন গণকবর: নেপালে পরিচয়হীন মরদেহ ঘিরে স্বজনদের আহাজারি

সবুজ বন এখন গণকবর: নেপালে পরিচয়হীন মরদেহ ঘিরে স্বজনদের আহাজারি

নেপালের চিতওয়ান জেলার দেবঘাট বন। কয়েক দিন আগেও ছিল সবুজে ঘেরা নিরিবিলি এক স্থান। এখন সেই বনেই তৈরি হয়েছে অস্থায়ী গণকবর। আকস্মিক বন্যা ও হড়পা বানে উদ্ধার হওয়া পরিচয়হীন মরদেহ একের পর এক দাফন করা হচ্ছে সেখানে।রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নদী ও ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে মরদেহ। কিন্তু অনেক মরদেহ এতটাই পচে গেছে যে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় শনিবার দেবঘাট বনে ৯৬টি পরিচয়হীন মরদেহ দাফন করা হয়েছে। রবিবার আরও শতাধিক মরদেহ দাফনের পরিকল্পনা ছিল।মরদেহ শনাক্তে কাজ করছেন প্রায় ১০০ জন উদ্ধারকর্মী, পুলিশ ও কর্মকর্তা। ছবি ও তথ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি প্রতিটি মরদেহের ডিএনএ নমুনাও নেওয়া হচ্ছে। কবরের অবস্থানও রাখা হচ্ছে নথিভুক্ত। ভবিষ্যতে পরিচয় শনাক্ত হলে দেহাবশেষ উত্তোলনের সুযোগ থাকবে।এ কাজে নেপালের সঙ্গে সহযোগিতা করছে ভারত ও চীন। ভারত ইতোমধ্যে ফরেনসিক দল পাঠিয়েছে।আরও  পড়ুন,বন্যায় সব হারিয়ে এবার ওষুধ-পানির সংকটে নেপালের আশ্রয়শিবিরে হাজারো মানুষএদিকে চিতওয়ানের ভারতপুর হাসপাতালের অস্থায়ী মর্গেও ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মরদেহ রাখা হয়েছে। প্রায় ৫০টি মরদেহ রাখার সক্ষমতার বিপরীতে সেখানে ছিল প্রায় ১২৫টি মরদেহ। উদ্ধার করা অর্ধেকের বেশি মরদেহ শনাক্ত করার মতো অবস্থায় নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ।নিখোঁজ স্বজনের সন্ধানে চিতওয়ান এক্সপো সেন্টারের বাইরে ভিড় করছেন শত শত মানুষ। কারও হাতে ব্যাগ, কারও সঙ্গে লাগেজ—শুধু অপেক্ষা, যদি উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে পাওয়া যায় প্রিয়জনকে।এরই মধ্যে চলছে উদ্ধার অভিযান। নদী ও ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রতিদিনই উদ্ধার হচ্ছে নতুন মরদেহ। আর প্রতিটি মরদেহের সঙ্গে বাড়ছে কোনো না কোনো পরিবারের অপেক্ষা।গত বুধবার হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। এতে শত শত মানুষ নিহত এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো চলছে উদ্ধার অভিযান।

১ ঘন্টা আগে

রাজধানী

বনানীতে মার্ভেল ইন-লাক্সারী গেস্ট হাউজ ঘিরে পুলিশের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

বনানীতে মার্ভেল ইন-লাক্সারী গেস্ট হাউজ ঘিরে পুলিশের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীর ২৭ নম্বর রোড। একদিকে বহুতল ভবন, করপোরেট অফিস ও অভিজাত আবাসিক স্থাপনা, অন্যদিকে এসব ভবনের আড়ালেই গড়ে উঠেছে নানা ধরনের গেস্ট হাউজ ও স্পা-কেন্দ্রিক ব্যবসা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বৈধ আবাসিক সেবার আড়ালে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে চলছে নানা ধরনের অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এর মধ্যে মানব পাচারকারী দালাল চক্র, মাদক সরবরাহ, অসামাজিক কার্যকলাপ এবং কথিত ‘স্পেশাল সার্ভিস’ ঘিরে একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।বনানীর ২৭ নম্বর রোডের মার্ভেল ইন ও একটি লাক্সারী গেস্ট হাউজ ঘিরে নতুন করে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের যাতায়াত রয়েছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে বলেও অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের মাধ্যমেই প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।স্থানীয়দের অভিযোগ, গেস্ট হাউজ ও স্পা-কেন্দ্রিক একটি দালাল চক্র দীর্ঘদিন ধরে তরুণ-তরুণীদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে তরুণীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।আরও পড়ুন:  অনলাইন পোর্টাল ও ফেসবুক পেজ খুলেই কথিত ‘সাংবাদিক’!অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কোনো কোনো ক্ষেত্রে চাকরি, ভালো বেতন, মডেলিং, বিউটি সার্ভিস কিংবা বিভিন্ন ধরনের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীদের ঢাকায় আনা হয়। পরে তাদের একটি চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। মানব পাচারের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত প্রয়োজন। কারণ অভিযোগ সত্য হলে এর সঙ্গে শুধু গেস্ট হাউজ নয়, পরিবহন, দালাল, নিয়োগকারী এবং আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত আরও অনেক ব্যক্তি জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের সামনে অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা বাড়ে। অনেক সময় স্বল্প সময়ের জন্য আসা-যাওয়া করা ব্যক্তিদের দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। গেস্ট হাউজগুলোকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসার অভিযোগও নতুন নয়। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, বিভিন্ন ধরনের মাদক সরবরাহের জন্য কিছু দালাল ও বহিরাগত ব্যক্তি এসব প্রতিষ্ঠানের আশপাশে অবস্থান করে। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে মাদক সরবরাহ করা হয় এবং গেস্ট হাউজের কক্ষগুলোকে কখনো কখনো মাদক সেবনের স্থান হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক তদন্তের তথ্য প্রয়োজন।বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসিক হোটেল বা গেস্ট হাউজে অপরাধ সংঘটিত হলে শুধু প্রতিষ্ঠানটির মালিক নয়, ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অতিথি নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ভূমিকাও তদন্ত করা জরুরি। এসব অভিযোগের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, বনানীর কিছু গেস্ট হাউজ ও স্পা-কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কথিত মাসোহারা নেওয়ার বিনিময়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নীরবতা পালন করা হয়। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।আরও পড়ুন:  গ্রাহকের অর্থ কোথায়? Divine Group-এর প্রকল্প ও সম্পদস্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় এসব প্রতিষ্ঠানে পুলিশের তৎপরতা দেখা গেলেও কথিত মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। আবার অভিযান পরিচালনার আগেই কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে খবর পৌঁছে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ কারণে প্রশ্ন উঠছে অভিযানের তথ্য আগে থেকেই ফাঁস হচ্ছে কি না, নাকি এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্তই হচ্ছে না?অভিযোগকারীদের দাবি, বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। এমনকি অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণও পাঠানো হয়েছে বলে দাবি তাদের। এছাড়া তিনি ফোন ও রিসিভ করেন না। কিন্তু অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপরও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।এ বিষয়ে বনানী থানার বর্তমান ওসির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।আরও পড়ুন: বনানীতে ফের সক্রিয় অপরাধচক্র, পুলিশের মাসোহারাবনানীর ২৭ নম্বর রোডের মার্ভেল ইনকে ঘিরেও রয়েছে নানা অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড চলছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক হিসেবে স্থানীয়ভাবে পায়েলের নাম আলোচনায় রয়েছে। তার অতীত রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, অতীতে গোপালগঞ্জসহ রাজধানীর গুলশান-বনানী এলাকায় তার প্রভাব ছিল। তবে কারও রাজনৈতিক পরিচয় বা অতীত কর্মকাণ্ডের অভিযোগের ভিত্তিতে বর্তমান কোনো অপরাধের সঙ্গে তাকে জড়ানো সমীচীন নয়। মার্ভেল ইন বা এর মালিকের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ সত্য কি না, তা নির্ধারণে প্রয়োজন সরকারি নথি, প্রত্যক্ষ প্রমাণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত। অভিযোগের বিষয়ে পায়েল বা মার্ভেল ইন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে সেটিও প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।অন্যদিকে একই এলাকায় করিম ভিলায় অবস্থিত লাক্সারী গেস্ট হাউজের মালিকানা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। হান্নান, সাকিবসহ প্রায় ছয়জন মালিক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে তাদের প্রকৃত মালিকানা, অংশীদারিত্ব ও ব্যবসায়িক কাঠামো যাচাই করতে প্রয়োজন কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন, ট্রেড লাইসেন্স, ভাড়ার চুক্তি এবং অন্যান্য সরকারি নথি। প্রতিষ্ঠানটির মালিকানার সঙ্গে যুক্ত হান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন। তার বক্তব্যের সারমর্ম হলো পুলিশ যদি তাদের প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালাতে চায়, তাহলে তাদের জানিয়ে আসতে হবে। বনানী থানার পুলিশ ভালোভাবেই জানে বলেও দাবি করেন তিনি। হান্নানের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছেন এবং তাদের ব্যবসা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবগত।তার বক্তব্য থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে প্রতিষ্ঠানটি যদি বৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে, তাহলে তার লাইসেন্স, নিবন্ধন, অতিথি নিবন্ধন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ব্যবসার ধরন আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাচাই করা যেতে পারে।আরও পড়ুন: প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ হচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, আসছে নতুন নীতিমালাস্থানীয় সূত্রের দাবি, গেস্ট হাউজের নামে কিছু কক্ষে কথিত ‘স্পেশাল সার্ভিস’ দেওয়া হয়। এ ধরনের অভিযোগের সঙ্গে নারী সরবরাহকারী দালাল এবং বিভিন্ন মধ্যস্বত্বভোগীর সম্পৃক্ততার কথাও বলা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সম্ভাব্য গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে তাদের নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ডিজিটাল ফরেনসিক, কল রেকর্ড, আর্থিক লেনদেন, সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে।স্থানীয়দের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তরুণ সমাজকে ঘিরে। তাদের মতে, বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় অপরাধী চক্র যদি গেস্ট হাউজ বা স্পা সেন্টারের আড়ালে সক্রিয় থাকে, তাহলে সহজেই তরুণদের এসব কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার তরুণদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বাড়াতে পারে। পরিবারগুলোর মধ্যেও তৈরি হতে পারে নিরাপত্তাহীনতা।আরও পড়ুন: বনানীর আবাসিক ভবনে স্পা-গেস্ট হাউজ এখন অন্ধকার জগৎঅপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযান চালিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত লাইসেন্স যাচাই, অতিথিদের পরিচয় যাচাই, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ, মাদকবিরোধী অভিযান এবং দালাল চক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা।অভিযোগগুলো সত্য হলে এসব প্রতিষ্ঠানে শুধু কয়েকজন কর্মচারী নয়, একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্ক কাজ করতে পারে। সেই নেটওয়ার্কে দালাল, মাদক সরবরাহকারী, পরিবহনকারী, অনলাইন যোগাযোগকারী এবং অর্থ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা থাকতে পারে। তাই শুধু কোনো গেস্ট হাউজে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করলেই তদন্ত শেষ করা উচিত নয়। কে অর্থের জোগান দেয়, কারা নারী বা গ্রাহক সরবরাহ করে, মাদক কোথা থেকে আসে, টাকা কার মাধ্যমে লেনদেন হয় এবং কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি পেছন থেকে সহযোগিতা করছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।আরও পড়ুন: লোডশেডিংয়ে শীর্ষে ঢাকা, সন্ধ্যায় ৫৬৯ মেগাওয়াট ঘাটতির আশঙ্কাবনানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আবাসিক ভবনে পরিচালিত গেস্ট হাউজগুলোর বৈধতা, ট্রেড লাইসেন্স, অগ্নিনিরাপত্তা, অতিথি নিবন্ধন, ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার এবং অন্যান্য আইনগত বিষয় নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। কোনো প্রতিষ্ঠান বৈধ ব্যবসা পরিচালনা করলে তাদেরও নিরাপত্তা ও আইনগত সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। একইভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের আড়ালে অপরাধ পরিচালিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রশাসনের দায়িত্ব।একই সঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে কথিত মাসোহারা গ্রহণের অভিযোগ থাকলে তা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পৃথকভাবে তদন্ত করা উচিত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। কারণ কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে পুরো বাহিনীকে দায়ী করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি অভিযোগ উপেক্ষা করাও জনআস্থার জন্য ক্ষতিকর।বনানীর ২৭ নম্বর রোডে মার্ভেল ইন ও লাক্সারী গেস্ট হাউজকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো এখন আর শুধু স্থানীয় মানুষের আলোচনার বিষয় নয়, এগুলো আইনশৃঙ্খলা, তরুণ সমাজের নিরাপত্তা এবং নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। মানব পাচার, মাদক ব্যবসা কিংবা যৌন শোষণের মতো অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আবার অভিযোগ মিথ্যা হলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অভিযোগমুক্ত করার দায়িত্ব প্রশাসনের।

১৭ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

খেলাধুলা

শাকিলের ৯৭-ও হলো না যথেষ্ট, পাকিস্তানকে উড়িয়ে সিরিজ ইংল্যান্ডের

শাকিলের ৯৭-ও হলো না যথেষ্ট, পাকিস্তানকে উড়িয়ে সিরিজ ইংল্যান্ডের

পারল না পাকিস্তান। ইংলিশ পেসারদের তাণ্ডবে আবারও গুঁড়িয়ে গেল পাকিস্তানের ব্যাটিং। ৩৮৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৯৪ রানেই অলআউট হয়েছে পাকিস্তান। ফলে ১৯৪ রানের জয় নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে ইংল্যান্ড।চতুর্থ দিনের খেলা শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ১৭৭ রান নিয়ে। ড্যান লরেন্সের ৫৪ রানের ইনিংসে ভর করে ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে ২০৮ রান সংগ্রহ করে। এতে পাকিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৮৯ রান।বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। মাত্র ১৭ রানের মধ্যেই হারায় তিন উইকেট। আজান আওয়াইস ৭, আব্দুল্লাহ শফিক শূন্য এবং অধিনায়ক বাবর আজম ফেরেন মাত্র ৬ রান করে।এরপর শান মাসুদ ও সাউদ শাকিল কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। তবে ২৬ রান করে শান ফিরলে আবারও চাপে পড়ে পাকিস্তান।আরও পড়ুন, রোনালদোর রেকর্ড ভাঙার দোরগোড়ায় এমবাপ্পে, ১১ গোল দূরে ইতিহাস দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন মোহাম্মদ রিজওয়ানও।এক প্রান্ত আগলে দুর্দান্ত লড়াই চালিয়ে যান সাউদ শাকিল। ইংলিশ পেসারদের সামলে তুলে নেন ফিফটি। এরপর এগোচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু ৯৭ রানে এসে জশ টাংয়ের বলে আউট হয়ে যান তিনি।শাকিলের ১২২ বলের ইনিংসে ছিল দারুণ সব শট। তবে তার লড়াইও শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে পরাজয় থেকে বাঁচাতে পারেনি।শেষ দিকে খুররাম শাহজাদ, মোহাম্মদ আলি ও মোহাম্মদ আব্বাস কিছু রান যোগ করলেও ১৯৪ রানেই থেমে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।ইংল্যান্ডের হয়ে জশ টাং নেন ৩ উইকেট। ওলি রবিনসন ৪টি এবং জফরা আর্চার নেন ২টি উইকেট।ফলে ১৯৪ রানের বড় জয় নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। তিন ম্যাচের সিরিজে এখন ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ইংলিশরা।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর