দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

পুলিশের মাসোহারা বৈধ, সাংবাদিকের উপহার অপরাধ?

বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা / পুলিশের মাসোহারা বৈধ, সাংবাদিকের উপহার অপরাধ?

দেশে চাঁদাবাজি, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে আলোচনা হলেই একটি অদ্ভুত দ্বৈত মানদণ্ড সামনে আসে। পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মাসোহারা গ্রহণ, অপরাধীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ নেওয়া কিংবা অবৈধ কর্মকাণ্ডে নীরব সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ উঠলে অনেক ক্ষেত্রেই তা নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না। কিন্তু কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠলেই তাঁকে চাঁদাবাজ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা দেখা যায়। প্রশ্ন হচ্ছে, অনৈতিকভাবে অর্থ বা সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ যদি অপরাধ হয়, তাহলে সেটি পুলিশ, সাংবাদিক কিংবা অন্য যে পেশার মানুষের বিরুদ্ধেই উঠুক না কেন, একই মানদণ্ডে বিচার হবে না কেন? সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণের কাছে সংবাদ তুলে ধরা, অনিয়ম-দুর্নীতি প্রকাশ করা এবং ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির আওতায় আনাই সাংবাদিকদের অন্যতম দায়িত্ব। অন্যদিকে পুলিশের দায়িত্ব অপরাধ দমন, নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। দুটি পেশার দায়িত্ব আলাদা হলেও উভয়ের কাছেই সততা, পেশাগত নৈতিকতা ও জবাবদিহি প্রত্যাশিত। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যায়, কোনো এলাকায় অবৈধ ব্যবসা, মাদক কারবার, জুয়া, চাঁদাবাজি কিংবা বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠে। কোথাও কোথাও অভিযোগ থাকে, অপরাধী চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সখ্য রয়েছে, নিয়মিত মাসোহারা নেওয়া হয় কিংবা অর্থের বিনিময়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অথচ কোনো সাংবাদিক কোনো ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা কিংবা সামাজিক ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে ব্যক্তিগত সৌজন্য উপহার গ্রহণ করলে অনেক সময় সেটিকেও চাঁদাবাজির অভিযোগের সঙ্গে এক করে দেখা হয়। এখানে একটি মৌলিক পার্থক্য বোঝা প্রয়োজন। কাউকে ভয়ভীতি দেখিয়ে, সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে কিংবা সংবাদ বন্ধ রাখার শর্তে অর্থ আদায় করা অবশ্যই অপরাধ। কিন্তু কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কাউকে উপহার দিলে, সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাঁদাবাজি হয়ে যায় না।আরও পড়ুন,জীবিকার বনেই নিরাপত্তাহীন বনজীবীরা তবে উপহারের বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশ, সংবাদ গোপন কিংবা পেশাগত সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হলে সেটিও সাংবাদিকতার নৈতিকতার পরিপন্থী। প্রশ্ন হচ্ছে, পুলিশের কোনো সদস্য যদি কোনো অপরাধী, ব্যবসায়ী কিংবা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ গ্রহণ করেন, তাহলে সেটিকে কি শুধু সৌজন্য উপহার বলা যাবে? নিশ্চয়ই নয়। একইভাবে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি অর্থ দাবি করেন, ভয় দেখান কিংবা সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অর্থাৎ পেশার পরিচয় কাউকে অপরাধের দায় থেকে মুক্তি দিতে পারে না। বর্তমানে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিককে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, দুর্নীতি, অবৈধ ব্যবসা, মাদক কারবার, দখলবাজি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে সংবাদ প্রকাশের উদ্যোগ নিলেই সংশ্লিষ্ট মহলের কেউ কেউ সাংবাদিককে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো প্রতিবেদনের তথ্য জানতে চাওয়া, বক্তব্য নেওয়া কিংবা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করাকে অনেক সময় ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়। আবার কোথাও ব্যক্তিগত বিরোধ, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব কিংবা সংবাদ প্রকাশের প্রতিশোধ নিতে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলার ঘটনাও ঘটতে পারে। তবে এসব অভিযোগের প্রতিটিই প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে যারা প্রকৃত অর্থেই চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইলিং কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের সঙ্গে জড়িত, তাদের পক্ষেও কোনো অবস্থান নেওয়ার সুযোগ নেই। অপসাংবাদিকতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজকেই সোচ্চার হতে হবে।  আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মাসোহারা গ্রহণের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। কারণ একজন পুলিশ সদস্যের দায়িত্ব অপরাধ দমন করা। তিনি যদি অর্থের বিনিময়ে অপরাধীদের আশ্রয় দেন কিংবা অবৈধ কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেন, তাহলে সেটি শুধু ব্যক্তিগত দুর্নীতি নয়, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বেরও গুরুতর লঙ্ঘন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ব্যবসা, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, জুয়া, অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান কিংবা বিভিন্ন অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও স্থানীয় পর্যায়ে মাসোহারা বাণিজ্যের অভিযোগও শোনা যায়। এসব অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানে পুলিশের নিজস্ব গোয়েন্দা বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।আরও পড়ুন,কসবায় ২২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪৫ মেধাবী শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা কোনো থানার আওতাধীন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও পুলিশ কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, কারা এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কী ভূমিকা পালন করছেন এসব প্রশ্নের জবাবদিহি থাকতে হবে। সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। ব্যক্তিগত সৌজন্য, সামাজিক সম্পর্ক কিংবা কোনো উপলক্ষে স্বেচ্ছায় দেওয়া উপহার এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় এক বিষয় নয়। চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে জবরদস্তি, ভয়ভীতি, হুমকি কিংবা অন্যায় চাপের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে উপহার গ্রহণের ক্ষেত্রেও সাংবাদিকের পেশাগত নিরপেক্ষতা ও স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। কোনো সাংবাদিক যদি অর্থের বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশ করেন, বিজ্ঞাপনকে সংবাদ হিসেবে উপস্থাপন করেন কিংবা অর্থের বিনিময়ে কোনো অপরাধের তথ্য গোপন করেন, তাহলে তা পেশাগত অসততা। আবার কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাঁর অনুসন্ধানী কাজ বন্ধ করার চেষ্টা করাও গ্রহণযোগ্য নয়। পুলিশ অবৈধ হোটেল, মাদক ব্যবসায়ী, গেষ্ট হাউস,  অবৈধ স্পা, কিংবা ফুটপাত থেকে চাঁদা বা মাসোহার নিলে কি বৈধ তা জাতি জানতে চায়।আইনের শাসনের মূলনীতি হচ্ছে, অপরাধের বিচার হবে প্রমাণের ভিত্তিতে, পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়। পুলিশ, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী কিংবা অন্য কোনো পেশার মানুষ কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। পুলিশের বিরুদ্ধে মাসোহারা গ্রহণের অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলেও প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু কোনো পেশার মানুষের বিরুদ্ধে ঢালাও অপবাদ দেওয়া কিংবা কোনো পেশাকে দায়মুক্তি দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সাংবাদিকদের জন্য যেমন পেশাগত নীতিমালা ও স্বচ্ছতা প্রয়োজন, তেমনি পুলিশের জন্যও কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী ঘোষণা করা যাবে না। আবার পদ-পদবি কিংবা পেশাগত পরিচয়ের কারণে কাউকে দায়মুক্তিও দেওয়া যাবে না। সবশেষে প্রশ্ন একটাই—পুলিশের বিরুদ্ধে মাসোহারা গ্রহণের অভিযোগ উঠলে যদি তদন্ত প্রয়োজন হয়, তাহলে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলেও তদন্ত প্রয়োজন। আর সাংবাদিকের স্বেচ্ছায় পাওয়া উপহারকে যদি চাঁদাবাজি বলা হয়, তাহলে পুলিশের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণকে কোনোভাবেই বৈধতা দেওয়ার সুযোগ নেই। অপরাধের বিচার হোক অপরাধের ভিত্তিতে, পেশার পরিচয়ে নয়। সাংবাদিকতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—উভয় ক্ষেত্রেই সততা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হলেই সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরে আসবে। আরও পড়ুন,টেংরাগিরির ১৪ হরিণের মধ্যে এখন বেঁচে আছে মাত্র ৩টিকারণ রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সবার জন্য একই আইন ও একই নৈতিক মানদণ্ড কার্যকর থাকতে হবে। এবিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞেরা বলেন, আইনের দৃষ্টিতে চাঁদাবাজি ও স্বেচ্ছায় দেওয়া উপহার সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি, চাপ সৃষ্টি কিংবা সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হলে তা পরিস্থিতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে দণ্ডবিধির ৩৮৩ ও ৩৮৪ ধারায় চাঁদাবাজির অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কাউকে উপহার বা আর্থিক সহযোগিতা দিলে সেটিকে সরাসরি চাঁদাবাজি বলা যায় না। একইভাবে পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মাসোহারা গ্রহণ, অপরাধীদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নেওয়া কিংবা দায়িত্ব পালনে অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠলে সেটিও তদন্তসাপেক্ষে দুর্নীতি ও অন্যান্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আইনের প্রয়োগে পুলিশ ও সাংবাদিকদের জন্য আলাদা কোনো মানদণ্ড নেই। সাংবাদিক পরিচয় যেমন কাউকে চাঁদাবাজির দায় থেকে রক্ষা করে না, তেমনি পুলিশের পোশাকও কাউকে দুর্নীতির দায়মুক্তি দেয় না। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী ঘোষণা করা যাবে না; নিরপেক্ষ তদন্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের মাধ্যমে অপরাধ প্রমাণ করতে হবে। আমার মতে, পেশাগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি কিংবা কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে এসব অপরাধে পুলিশের শাস্তির বিধান রয়েছে? বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে পুলিশ সদস্যরাও অপরাধ করলে শাস্তির আওতাভুক্ত। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী ঘুষ, অবৈধ সুবিধা গ্রহণ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। দণ্ডবিধির ১৬৬ ধারায় দায়িত্ব পালনে আইন অমান্য করে ক্ষতিসাধনের জন্য সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। ২১৭ ধারায় অপরাধীকে শাস্তি থেকে বাঁচাতে আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থায় চাকরিচ্যুতিও হতে পারে।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

নবম পে স্কেলে বেতন ও তিন মাসের বকেয়া পেলেন সরকারি চাকরিজীবীরা

নবম পে স্কেল অনুযায়ী বর্ধিত বেতন পেতে শুরু করেছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। রবিবার (১ নভেম্বর) অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে গত তিন মাসের বকেয়া অর্থও পেয়েছেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ। তবে আজ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতন ও বকেয়া পাননি। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যাঁরা ২৫ অক্টোবরের মধ্যে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করতে পেরেছেন, তাঁরাই এদিন বেতন পেয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন নির্ধারণ করতে না পারায় বাকিরা অর্থ পাননি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাঁরাও বেতন ও বকেয়া পাবেন বলে জানা গেছে। রবিবার সকালে অনেক সরকারি কর্মচারী মুঠোফোনে বেতন জমার বার্তা পেয়েছেন। তাঁরা অক্টোবর মাসের নিয়মিত বেতনের পাশাপাশি জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বর্ধিত বেতনের বকেয়া অর্থ পেয়েছেন।আরো পড়ুন,দ্রুত কার্যক্রম শুরুর প্রত্যাশা নতুন মজুরি বোর্ডেরগত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ কাঠামো গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ পাচ্ছেন। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এ হার যথাক্রমে ৭৫ শতাংশে উন্নীত হওয়ার কথা। একই বছরের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামোর শতভাগ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে স্কেল নিয়ে রবিবার ফেসবুকে বার্তা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরাও শিগগিরই পে স্কেলের আওতায় আসছেন।

হাম ও উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ১ হাজার ২৫৪, নতুন রোগী ১ হাজার ৪১৭

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫৪ জনে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪১৭ জন রোগী। রবিবার (১ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে একজন করে মারা গেছেন। চলতি বছরে হাম ও এর উপসর্গে মারা যাওয়া ১ হাজার ২৫৪ জনের মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৫ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।আরো পড়ুন,তাহসিফ হত্যা মামলায় বান্ধবী দিশা গ্রেপ্তার, রিমান্ডে দীপবিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৬৩২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২৬৪ জন, বরিশালে ১২৯ জন, সিলেটে ১২৬ জন, ময়মনসিংহে ৮৯ জন, খুলনায় ৮৯ জন, রংপুরে ৫১ জন এবং রাজশাহীতে ৪১ জন ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ লাখ ৪ হাজার ৭৮৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৯৬ হাজার ১৮৩ জন। এ সময়ে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ১৩ জন। তাঁদের মধ্যে ২৩ হাজার ৯৩৫ জনের হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে। হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু এবং হাসপাতালে রোগী ভর্তির এই পরিসংখ্যান জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

তাহসিফ হত্যা মামলায় বান্ধবী দিশা গ্রেপ্তার, রিমান্ডে দীপ

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বান্ধবী দিশাকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জা নিয়েছেন নৌ পুলিশ ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন। এদিকে একই দিন মধ্যরাত থেকে রিমান্ডে থাকা আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় দীপের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। নৌ পুলিশ ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দীপের সংশ্লিষ্টতার কিছু প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। রিমান্ডে তাঁকে আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাহসিফের পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর সার্বক্ষণিক সঙ্গী দীপকে প্রথমে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত এবং সেসব স্থানে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তথ্য দেন তিনি। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসা থেকে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন তাহসিফ। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।আরো পড়ুন,এক এনআইডিতে সর্বোচ্চ ৫টি অটোরিকশার নিবন্ধনএর আগে দীপ দাবি করেছিলেন, তাহসিফের সঙ্গে একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খাওয়ার পর উত্তরা হাউস বিল্ডিং এলাকায় তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পিবিআই। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মাদক বিক্রির স্থান হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার বিষয়টি দীপ স্বীকার করেছেন। পরে পিবিআই কর্মকর্তারা তাঁকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। শুক্রবার রাতে তাহসিফের বাবা হত্যা মামলা দায়ের করলে দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় দিশার গ্রেপ্তার এবং দীপকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে তদন্তে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

জামায়াত প্রার্থীকে হারিয়ে সংসদ সদস্য হলেন মির্জা ফয়সল

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার ৩১ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ গেজেট প্রকাশ করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন মির্জা ফয়সল আমীন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট। নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, আরও পড়ুন,এক এনআইডিতে সর্বোচ্চ ৫টি অটোরিকশার নিবন্ধনদুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৪০৪। উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় নির্বাচন কমিশন আসনটি শূন্য ঘোষণা করে। এরপর ওই আসনে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই। গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে তার নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হলো।

রাজনীতিরাজনীতি

নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে মঈন খানের চিকিৎসা

নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে মঈন খানের চিকিৎসা

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে তিনি এখনো নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। রবিবার (১ নভেম্বর) বাসসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী বাহাউদ্দীন মিল্টন জানান, ড. মঈনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তবে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে তাঁর চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় হাসপাতালে দর্শনার্থীদের ভিড় না করার অনুরোধ জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। আরও পড়ুন,সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এককএর আগে গত ২১ অক্টোবর রাতে তীব্র শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা নিয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আতিকুর রহমান, জিয়াউল হাসান ও শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রেখে মন্ত্রীর চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী জানিয়েছেন।

মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

রাজধানীর মিরপুরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শ্রমিক পরিচয়ে অংশ নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন। রবিবার (১ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ আন্দোলনে গার্মেন্টসকর্মী হিসেবে নেমেছে। মিরপুরে কথিত শ্রমিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজবুল ইসলাম বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আন্দোলনে আগে থেকেই জামায়াত ও এনসিপি উসকানি দিয়ে আসছিল। তাঁর দাবি, মিরপুর-১০ মেট্রোস্টেশনের নিচে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশ বক্স ভাঙচুরের ঘটনায় গার্মেন্টসকর্মী পরিচয় দেওয়া আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়িত।আরো পড়ুন,গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ জামায়াতেরফেসবুক পোস্টে এনসিপি নেতা সারজিস আলমের একটি পোস্টের স্ক্রিনশটও শেয়ার করেন রাশেদ খাঁন। সেখানে তিনি বর্তমান বিরোধী দল ও আওয়ামী লীগের সাবেক রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে সমন্বয়ের অভিযোগ তুলে ধরেন। রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, সারজিস আলমের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাকর্মীদের উসকে দিয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। তবে শ্রমিক আন্দোলনে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত—এসব বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী একক

সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী একক

সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী এলিজা জামান। আগামীকাল রবিবার ১ নভেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় এবং এলিজা জামান প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। শনিবার ৩১ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে গত মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন খান বিএনপি প্রার্থী এলিজা জামানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আরও পড়ুন,সাত দফা বাস্তবায়নে সরকারকে সময় দিল ১১ দলীয় জোটনির্বাচনী আইন অনুযায়ী কোনো আসনে বৈধ প্রার্থী একজন থাকলে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় তৎকালীন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম জড়ায়। এ ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি পদত্যাগ করেন। পরে সংসদ সচিবালয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে। এরপর নির্বাচন কমিশন সংরক্ষিত নারী আসনটির উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

সাত দফা বাস্তবায়নে সরকারকে সময় দিল ১১ দলীয় জোট

সাত দফা বাস্তবায়নে সরকারকে সময় দিল ১১ দলীয় জোট

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ১১ দলীয় জোটের উত্থাপিত সাত দফা দাবি মানা না হলে তা এক দফার আন্দোলনে রূপ নিতে পারে। তিনি বলেন, ‘সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো।’ জাতির সঙ্গে দ্বিচারিতা ও বিশ্বাসঘাতকতার জন্য সংশ্লিষ্টদের চরম মূল্য দিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা থেকে আসা সহস্রাধিক গাড়ির বহর পৌঁছালে স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে।গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং বাজার সিন্ডিকেট বিলোপসহ সাত দফা দাবিতে এ লংমার্চের আয়োজন করে ১১ দলীয় জোট। সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একদলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে আরেক দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য দেড় হাজার মানুষ জীবন দেয়নি। তারা রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তন চেয়েছিলেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ স্বৈরাচারী বা কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠতে না পারে। তিনি আরও বলেন, একই রাষ্ট্রপতির আদেশে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হয়ে থাকলে একটিকে বৈধ এবং অন্যটিকে অবৈধ বলার সুযোগ নেই। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে জনগণের ম্যান্ডেট উপেক্ষিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আরও পড়ুন,গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ জামায়াতেরজামায়াত আমির বলেন, সাত দফা দাবি পূরণ না হলে আগামীতে এক দফা দাবিতে ঢাকায় সমাবেশের ডাক দেওয়া হতে পারে। এ জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি। জোটের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় কার্যকর, জুলাই গণহত্যার বিচার, তেল-সার-বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা, বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া, চাঁদাবাজি-দুর্নীতি ও দখলদারত্ব বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ খন্দকার একেএম আলী মহসিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও বক্তব্য দেন। সমাপনী বক্তব্যে তিনি লংমার্চ সফল করায় কুষ্টিয়াবাসীকে ধন্যবাদ জানান এবং আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

সারাবাংলা

মাদ্রাসার জমি দখলের অভিযোগ

মাদ্রাসার জমি দখলের অভিযোগ

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কুশমাইল মধ্যপাড়া ইনছানিয়া মাদ্রাসার নামে দান করা জমির একাংশ দখলে থাকার অভিযোগ উঠেছে। ওই জমি দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন মাদ্রাসার সেক্রেটারি মো. খাইরুল ইসলাম। জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৮ সালের ১৬ মার্চ ১৪৪১ নম্বর দলিলের মাধ্যমে কুশমাইল মধ্যপাড়া ইনছানিয়া মাদ্রাসার নামে ১২৪৩ দাগে ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি দান করা হয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, দান করা ওই জমির একাংশ বর্তমানে বেদখল রয়েছে। মাদ্রাসা-সংলগ্ন নিউগী কুশমাইল মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওই জমির একটি অংশ দখলে রেখেছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও পড়ুন,নিরাপদ সড়কের অভ্যাস গড়তে সাতক্ষীরায় শিক্ষার্থীদের সচেতন করছে বিআরটিএআবেদনে আরও বলা হয়, ১৯৭৫ সাল থেকে মাদ্রাসাটিতে দ্বীনি শিক্ষার কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। শুরুতে ৩২ হাত দৈর্ঘ্য ও ৮ হাত প্রস্থের একটি চৌচালা টিনশেড ঘরে মাদ্রাসার কার্যক্রম শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষের সংকট দেখা দিয়েছে। নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের জন্য জায়গার প্রয়োজন হলেও জমির একাংশ বেদখলে থাকায় নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের। এ অবস্থায় জমির কাগজপত্র যাচাই করে সরেজমিনে তদন্তের মাধ্যমে মাদ্রাসার নামে দান করা জমি দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আবেদনকারী। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হিজলায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’-এর ইউনিয়ন পর্যায়ের বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত

হিজলায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’-এর ইউনিয়ন পর্যায়ের বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত

বরিশালের হিজলা উপজেলার মেমানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’-এর ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিভা অন্বেষণ ও যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠান। আজ (রবিবার) দিনব্যাপী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থানীয় উদীয়মান শিশু-কিশোর ও তরুণ ক্রীড়াবিদদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং জাতীয় পর্যায়ের উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ বাছাই পর্বের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে হিজলা উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্লাব থেকে আগত শতাধিক কৃতি খেলোয়াড় ফুটবল, ক্রিকেট, অ্যাথলেটিক্স সহ বিভিন্ন ক্রিয়া প্রতিযোগিতার বাছাই পর্বে অংশ নেন। প্রশিক্ষক ও বিচারকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়, যারা পরবর্তীতে উপজেলা পর্যায়ের মূল প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।আরো পড়ুন, নিরাপদ সড়কের অভ্যাস গড়তে সাতক্ষীরায় শিক্ষার্থীদের সচেতন করছে বিআরটিএঅনুষ্ঠানে মেমানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকবৃন্দ সহ এলাকার স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, "শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। অপসংস্কৃতি ও মাদকের হাত থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস'-এর মতো উদ্যোগ প্রশংসনীয়" বিকেল গড়াতেই বর্ণাঢ্য এই ক্রীড়া যাচাই-বাছাই পর্বের সমাপ্তি ঘটে। পুরো আয়োজন ঘিরে স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ক্রীড়ামোদী অভিভাবকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

নিরাপদ সড়কের অভ্যাস গড়তে সাতক্ষীরায় শিক্ষার্থীদের সচেতন করছে বিআরটিএ

নিরাপদ সড়কের অভ্যাস গড়তে সাতক্ষীরায় শিক্ষার্থীদের সচেতন করছে বিআরটিএ

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সাতক্ষীরায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এরই অংশ হিসেবে শহরের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধবিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১ নভেম্বর) ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সকাল ১২টায় শহরের পলাশপোল আদর্শ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং দুপুর ১টায় শহরতলির সাতক্ষীরা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পৃথকভাবে এসব কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের সড়ক ব্যবহারের মৌলিক নিয়ম, ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নিরাপদে রাস্তা পারাপার, ফুটপাত ব্যবহারের গুরুত্ব এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়ানোর বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। আলোচনায় বক্তারা বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল চালকদের দায়িত্ব নয়; পথচারী, শিক্ষার্থী, যাত্রীসহ সড়ক ব্যবহারকারী প্রত্যেকেরই দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। অসতর্কতা, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। আরও পড়ুন,রিয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ীর ওপর হামলায় তদন্তে পুলিশতাই দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের বিকল্প নেই। বিশেষ করে শৈশব থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বক্তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, রাস্তা পারাপারের সময় নির্ধারিত জেব্রা ক্রসিং, ফুটওভারব্রিজ অথবা নিরাপদ স্থান ব্যবহার করতে হবে। চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে হঠাৎ রাস্তা পার হওয়া কিংবা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে করতে রাস্তা পার হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। রাস্তার পাশে চলাচলের সময় ফুটপাত ব্যবহার করতে হবে। ফুটপাত না থাকলে সড়কের কিনারা দিয়ে সতর্কতার সঙ্গে হাঁটতে হবে। মোটরসাইকেলে চলাচলের ক্ষেত্রে চালক ও আরোহী উভয়ের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার, অতিরিক্ত গতি পরিহার এবং ট্রাফিক সংকেত মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি বাস, ট্রাকসহ বড় যানবাহনের খুব কাছাকাছি দাঁড়ানো এবং চলন্ত যানবাহনে ওঠানামার ঝুঁকি সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের সতর্ক করা হয়। বক্তারা আরও বলেন, নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় শুধু প্রশাসন কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে।আরও পড়ুন,শ্রমিক আন্দোলনে অস্থির গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল শিক্ষার্থীরা নিজেরা ট্রাফিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি পরিবারের সদস্য, সহপাঠী ও প্রতিবেশীদের সচেতন করতে পারলে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন পলাশপোল আদর্শ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোমিনুল ইসলাম শামীম, সহকারী শিক্ষক শামীমুর রহমান ও হেমনার্থ সরকার, সাতক্ষীরা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. বাহাউদ্দিন ফারুকী, অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম এবং বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক মো. ওমর ফারুকসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। কর্মশালা শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, ট্রাফিক আইন ও নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের নির্দেশনাসংবলিত ট্রাফিক সাইন, লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হয়।বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনা কমানো এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে জেলার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

আওয়ামীলীগ  নেতা ছাড়াতে থানায় ছাত্রদল নেতা

আওয়ামীলীগ নেতা ছাড়াতে থানায় ছাত্রদল নেতা

ঢাকা জেলার  শ্রমিকলীগ নেতা হাবিবুর রহমানকে থানা থেকে ছাড়াতে ছাত্রদল নেতা শাওনের ব্যাপক  দৌড়ঝাঁপ।আসামে থানায় থাকা অবস্থায় ব্যাপক তদবির করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে তার শেষ রক্ষা হয়নি।ডেভিল হান্ট  ২৷ এর মামলায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে হাবিবুর রহমানকে। থানায় গিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা হাবিবুর রহমানের পক্ষে তদবির করার,  ভিডিও ঘিরে আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। আসামী  হাবিবুর রহমানক ঢাকা জেলা শ্রমিক লিগের সহ-সভাপতি হিসেবে  দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।  আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ত সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ আনা হয়েছে তার ওপর।  আরও পড়ুন,রিয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ীর ওপর হামলায় তদন্তে পুলিশসাভার পাথালিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শাওনের তদবির করা  তাহলে ওরা রাজনীতিতে  প্রভাব ফেলেছে। ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি তমিজউদ্দিন বলেন, বিষয়টা আমি দেখছি। প্রমাণ পেলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচিত শাওনকে হাবিবুর রহমানের মুক্তির বিষয়ে তৎপর হতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় অবস্থানের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও একজন শ্রমিক লীগ নেতাকে ছাড়িয়ে আনতে ছাত্রদল নেতার এমন তৎপরতা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নীতির বিসর্জনের বহিঃপ্রকাশ।  

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ঘিরে এআইয়ের তথ্যগত ভুল নিয়ে শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ঘিরে এআইয়ের তথ্যগত ভুল নিয়ে শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) চ্যাটবটের ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ভোটারদের ভুল তথ্য দেওয়া, প্রার্থীদের সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর পরিচয় তুলে ধরা এবং বিদেশি অপপ্রচারের দাবি পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে এসব প্রযুক্তি নির্বাচনী তথ্যপরিবেশকে প্রভাবিত করছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে লাখ লাখ ভোটার রাজনৈতিক তথ্য জানতে এআই টুল ব্যবহার করছেন। তবে গবেষকদের আশঙ্কা, নির্ভরযোগ্য তথ্যের পরিবর্তে ভুল উত্তর পেলে ভোটাররা বিভ্রান্ত হতে পারেন। এআই মডেলের কার্যকারিতা মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান ফোরাম এআইয়ের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নির্বাচন-সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তরে চ্যাটবটগুলোর প্রায় ৪০ শতাংশে অন্তত একটি তথ্যগত ভুল ছিল। আটটি এআই মডেল নিয়ে পরিচালিত গবেষণায় প্রার্থীদের পরিচয় ও ভোটদানের নিয়মসংক্রান্ত বিভিন্ন ভুলের তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় বলা হয়, গুগলের জেমিনি ৩.৬ ফ্ল্যাশকে পেনসিলভানিয়ায় ডাকযোগে ভোটের ব্যালট চাওয়ার শেষ সময় জানতে চাইলে সেটি ৩ নভেম্বর বলে জানায়। অথচ আবেদনের সময়সীমা ছিল এর এক সপ্তাহ আগে। আরও পড়ুন,৪০ হাজার বছরের পুরোনো দেহাবশেষ নিয়ে নতুন গবেষণাএকইভাবে, অ্যানথ্রপিকের ক্লড উত্তর ক্যারোলিনার প্রতিনিধি ডন ডেভিসের যোগ্যতা তুলে ধরতে গিয়ে অন্য একজনের পেশাগত পরিচয় যুক্ত করে। গবেষকদের আরেকটি উদ্বেগ, এআই চ্যাটবট বিদেশি অপপ্রচারও পুনরাবৃত্তি করতে পারে। টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনের প্রার্থী জেমস টালারিকোকে ঘিরে যৌন অসদাচরণের একটি ভিত্তিহীন অভিযোগ কয়েকটি এআই প্ল্যাটফর্মের উত্তরে উঠে আসে। নিউজগার্ডের গবেষণায়ও বিদেশি প্রভাব বিস্তারের প্রচারণা ও অসৎ পক্ষের অপতথ্য ছড়ানোর ঝুঁকির বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে এআইয়ের ইতিবাচক ভূমিকার সম্ভাবনাও রয়েছে। ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রধান চ্যাটবটগুলো ভোটযন্ত্রে কারচুপির মতো প্রচলিত নির্বাচনী ষড়যন্ত্রতত্ত্ব প্রত্যাখ্যান করেছে। গবেষকদের মতে, যথাযথভাবে পরিচালিত হলে অপতথ্য মোকাবেলায় এআই সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ভোটারদের এআই চ্যাটবটের দেওয়া তথ্য যাচাই ছাড়া গ্রহণ করা উচিত নয়। ভোটের তারিখ, স্থান ও নিয়মসংক্রান্ত তথ্যের জন্য নির্বাচন কর্তৃপক্ষের নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুসরণ করা জরুরি।

২৯ মিনিট আগে

রাজধানী

আবেরা’ স্পা ঘিরে অভিযোগ, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন

আবেরা’ স্পা ঘিরে অভিযোগ, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান থানাধীন বাড়িধারার ৫৫, সোহরাওয়ার্দী রোডের একটি ফ্ল্যাটে পরিচালিত ‘আবেরা’ নামের একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে দোলা নামের এক নারী এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। স্পা ব্যবসার আড়ালে সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, গ্রাহকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলার অভিযোগ এবং সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, বাড়ির মালিকের তথ্য, প্রয়োজনীয় অনুমোদনপত্র এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের তথ্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। আবেরা’ স্পা সেন্টারকে কেন্দ্র করে একটি নারীচক্র বিভিন্ন গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের প্রলোভন বা প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে। স্পা সেবার নামে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে পরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় কিংবা অন্য কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো যাচাইকৃত নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর বিস্তারিত বক্তব্য, ভুক্তভোগীর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিশ্চিত করা তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কী ধরনের সেবা দেওয়া হয়, গ্রাহকদের কাছ থেকে কীভাবে অর্থ নেওয়া হয়, সেবার মূল্যতালিকা ও রসিদ সংরক্ষণ করা হয় কি না এবং ব্যবসাটি প্রয়োজনীয় আইনগত অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে কি না এসব বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা। স্পা সেন্টারটিতে সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি সত্য হলে তা এলাকার নিরাপত্তা, আবাসিক পরিবেশ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করে। তবে মাদকদ্রব্যের লেনদেন, সংরক্ষণ কিংবা সরবরাহের মতো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে কি না, আরও পড়ুন,মহেশপুরে বাংলা বাস্তবায়ন ও সচেতনতায় র‍্যালি-আলোচনা সভাতা নির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং আইনগত প্রমাণ দরকার। এ ক্ষেত্রে গুলশান থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে আইনানুগ পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, অনুমোদন এবং অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। বাড়িধারার মতো গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকায় কোনো ফ্ল্যাটে স্পা বা এ ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুমোদন, ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার, ট্রেড লাইসেন্স এবং অন্যান্য বিধিবিধান মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ। ভবনটি কোন ধরনের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত, ফ্ল্যাটে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি রয়েছে কি না এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় নিবন্ধন বা লাইসেন্স আছে কি না এসব প্রশ্নের উত্তর নথিপত্র যাচাই ছাড়া দেওয়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ভবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রবেশপথের ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং প্রতিবেশীদের অভিযোগ থাকলে সেগুলোর নিষ্পত্তির বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে স্পা সেবা দেওয়া হচ্ছে বলেই সেটিকে অবৈধ বা অপরাধমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যা দেওয়া সমীচীন নয়। অভিযোগে যদি গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় কিংবা অন্য কোনো অপরাধের ঘটনা থেকে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তা তদন্ত করা প্রয়োজন।  কোনো ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয়ে থাকলে তাঁর উচিত সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ জানানো এবং প্রাসঙ্গিক তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ করা। গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত যেকোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আইন ও বিধিবিধানের আওতায় থাকা প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে গুলশান থানা পুলিশ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য অপরাধের বিষয়ে তথ্য চাওয়া যেতে পারে। ‘আবেরা’ স্পা সেন্টার, আরও পড়ুন,মহেশপুরে বাংলা বাস্তবায়ন ও সচেতনতায় র‍্যালি-আলোচনা সভাএর পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বলে অভিযোগে উল্লিখিত দোলা নামের নারী, বলেন, ভাই আমি এটি দিয়ে কোনমতে চলি। এখন আগের মত তেমন ব্যবসাও নেই। এসব প্রতিষ্ঠান চালাতে ব্যয়বহুল খরচ। কোনমতে দুই চারটি মেয়েদের রেখে ব্যবসা করি। এছাড়া এাঁ বাড়িধারা এখানে কাষ্টমার আসতে চায়না তেমন এবং বাড়িধারায় ঢুকতে সোসাইটির অনুমতি প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমরা সোসাইটির গার্ডদের সাথে সমন্ময় রেখে লোকজন প্রবেশ করিয়ে থাকি। ‘আবেরা’ নামের একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে গুলশান থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়। তবে অভিযোগ জানানোর পরও সংশ্লিষ্ট স্পা সেন্টারে পুলিশের কোনো দৃশ্যমান অভিযান চোখে পড়েনি। অভিযোগ রয়েছে, ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটিতে স্পা ব্যবসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সন্দেহভাজন মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াত রয়েছে।  প্রশ্ন উঠেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযোগ জানানোর পরও কেন দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না? তবে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট থানার বক্তব্য এবং সম্ভাব্য তদন্তের অগ্রগতি জানা জরুরি। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, বাড়িধারার মতো অভিজাত আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি। তাঁদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে ‘আবেরা’ স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ আমরাও শুনেছি। তাই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং প্রতিষ্ঠানটির বৈধ কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ প্রতারণা, মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধ কিংবা অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের শিকার হলে তাঁকে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণসহ পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করছি। এবিষয়ে দোলা বলেন, ভাই কোনমতে ২-৪ টি মেয়েদের রেখে ব্যবসা করছি। আগের মত ব্যবসা নেই। এখনো থানা পুলিশের পেমেন্ট দিতে পারিনাই। এছাড়া বাড়িধারা সোসাইটির কিছু লোকদের ম্যানেজ করে আমার প্রতিষ্ঠানটি চালাতে হয়। তবে বিষয়টি গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জকে জানানো হয়েছে কিন্তু তিনি এখনো দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়নি। গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ আরো বলেন, এসবের বিষয়ে আমাদের একাধিক মিটিং হয়েছে। আমি চাইলে ও অভিযান বা পদক্ষেপ নিতে পারিনা। কারন সিনিয়রদের নির্দেশনা ছাড়া আমাদের করার কিছুই থাকেনা। তাহলে প্রশ্ন হল- সাধারন স্থানীয় বাসিন্দারা অসমাজিকের মধ্যে থেকেই বসবাস করবে। নাকি তাদের সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা নেই।   

২৫ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৬ জন

খেলাধুলা

স্পিনে দুর্বলতা, পরিকল্পনায় ঘাটতি কেন হারল বাংলাদেশ?

স্পিনে দুর্বলতা, পরিকল্পনায় ঘাটতি কেন হারল বাংলাদেশ?

মিরপুর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটে হারের পর বাংলাদেশ দলের ব্যর্থতার কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যাটসম্যানদের স্পিন মোকাবিলায় দুর্বলতা, প্রস্তুতির ঘাটতি, উইকেট তৈরিতে সিদ্ধান্তহীনতা এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিকল্পনা সবকিছুই আলোচনায় এসেছে। ফলে এই হারের দায় শুধু নাজমুল হোসেন ও লিটন দাসদের মতো ক্রিকেটারদের ওপর চাপানো যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত এক বছর ধরে টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতির পথে এগোচ্ছিল বাংলাদেশ। স্পোর্টিং উইকেটে খেলে প্রতিপক্ষের সামনে লড়াই করার মতো রান সংগ্রহ এবং পেসারদের দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনায় সাফল্যের আভাসও মিলেছিল। কিন্তু মিরপুর টেস্টে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি দল। এই ম্যাচে বাংলাদেশের দুই ইনিংসের ২০ উইকেটের মধ্যে ১৬টিই নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা। এতে স্পিনের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতা আবারও স্পষ্ট হয়েছে। অথচ নিজেদের ব্যাটসম্যানদের স্পিন খেলার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থাকার পাশাপাশি স্পিনারদের পারফরম্যান্স নিয়েও সংশয় ছিল। এমন পরিস্থিতিতে মিরপুরে স্পিনসহায়ক উইকেট তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উইকেটের ধরন নির্ধারণে টিম ম্যানেজমেন্ট দীর্ঘ সময় দ্বিধায় ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শেষ মুহূর্তে স্পোর্টিং উইকেটের পরিকল্পনা থেকে সরে স্পিনসহায়ক উইকেট তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পায়নি দল। মিরপুর টেস্টের একাদশে থাকা ছয় ক্রিকেটার তখন সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলছিলেন।আরও পড়ুন,হারমারের ৬ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ধস দেশে ফেরার পর পুরো দল একসঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছে মাত্র দুই দিন। গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজের আগে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও প্রস্তুতির সুযোগ না পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ ছাড়া টেস্ট শুরুর দুই দিন আগে ডোমেস্টিক থ্রি ট্রফির নিলামের আয়োজন, জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে মোহাম্মদ সালাহউদ্দীনকে দায়িত্ব দেওয়া এবং দলের প্রস্তুতি ঘিরে বিসিবির সিদ্ধান্তগুলোও সমালোচনার মুখে পড়েছে।ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্ট জিততে পারলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হতো বাংলাদেশের। গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজের আগে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতিতে আরও সমন্বয় থাকা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা।সব মিলিয়ে মিরপুর টেস্টের হার শুধু ক্রিকেটারদের মাঠের ব্যর্থতার প্রতিফলন নয়; দল নির্বাচন, উইকেট পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও বোর্ডের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিক উন্নতি ধরে রাখতে এসব বিষয় পর্যালোচনা করা জরুরি।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!