দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হোক জাতীয় অগ্রাধিকার, সম্মিলিত দায়িত্ব হোক বাস্তবায়নের শক্তি

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হোক জাতীয় অগ্রাধিকার, সম্মিলিত দায়িত্ব হোক বাস্তবায়নের শক্তি

‘নিরাপদ সড়ক, সমৃদ্ধ দেশ সবার আগে বাংলাদেশ’ এমন প্রত্যাশাকে সামনে রেখে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সড়কে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান নিয়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। দিবসটি ঘিরে নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি এখনো বাংলাদেশের অন্যতম বড় জননিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন মানুষ, আহত হয়ে অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। মুহূর্তের একটি দুর্ঘটনা একটি পরিবারকে নিঃস্ব করে দিতে পারে, থামিয়ে দিতে পারে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ কিংবা কেড়ে নিতে পারে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে। সড়ক দুর্ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিপর্যয় নয়; এটি দেশের অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। দুর্ঘটনায় প্রাণহানি, চিকিৎসা ব্যয়, কর্মক্ষমতা হারানো এবং পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সংকট জাতীয় উন্নয়নের পথেও বাধা সৃষ্টি করে। তাই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা কোনো আনুষ্ঠানিক দিবসের প্রতিপাদ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আরও পড়ুন,গঙ্গাচড়ায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মাহমুদুল হাসান সবুজসড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, রোড সেফটি সেল, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, চালক, পথচারী, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ নাগরিক সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দিবসের তাৎপর্য ও বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ -জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো সড়ক দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি, ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, প্রচারাভিযান ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে। তবে এসব কর্মসূচির সুফল পেতে হলে সারা বছর ধরে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু চালকদের সচেতন করলেই চলবে না; একই সঙ্গে যানবাহনের ফিটনেস, চালকের যোগ্যতা, সড়কের নকশা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, আইন প্রয়োগ এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার মান উন্নত করতে হবে। দুর্ঘটনার পর তদন্ত ও দায় নির্ধারণের পাশাপাশি দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। দিবসটির প্রতিপাদ্য যে প্রত্যাশার কথা বলে, বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটাতে হলে সড়ক ব্যবহারকারী প্রত্যেককে বুঝতে হবে—সড়ক নিরাপত্তা কারও একার দায়িত্ব নয়, এটি একটি সম্মিলিত সামাজিক অঙ্গীকার। দুর্ঘটনার পেছনে যেসব কারণ - সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনকভাবে ওভারটেকিং, ট্রাফিক আইন অমান্য, অদক্ষ চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এবং চালকের ক্লান্তি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং যাত্রী তোলার জন্য যানবাহনের মধ্যে পাল্লাপাল্লি করার প্রবণতা। অন্যদিকে, অপরিকল্পিত সড়ক নকশা, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, পর্যাপ্ত সড়কবাতির অভাব, অস্পষ্ট সড়কচিহ্ন, ফুটপাত দখল, যত্রতত্র পার্কিং, অনিরাপদ পারাপার এবং মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। অনেক ক্ষেত্রে সড়ক নির্মাণ বা সংস্কারের সময় পথচারী ও সাইকেলচালকদের নিরাপত্তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয় না। কোথাও কোথাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও জনবহুল এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হন। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে অনুমানের পরিবর্তে নিরপেক্ষ তদন্ত, নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। কোন স্থানে, কী কারণে এবং কোন পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে, তা শনাক্ত করা গেলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হবে। আরও পড়ুন,শিবচরে ইয়াবা ও সদরে হেরোইন উদ্ধারজেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি - সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবহন সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করতে পারে জেলা প্রশাসন।জেলার দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া, নিয়মিত সমন্বয় সভা করা এবং গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা জরুরি। বিশেষ করে বাজার, বাসস্ট্যান্ড, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও জনবহুল এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। সড়ক দখল, অবৈধ পার্কিং, অনুমোদনহীন স্ট্যান্ড এবং যত্রতত্র যানবাহন থামানোর কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি নিরসনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রচারাভিযান পরিচালনা এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ শুধু সভা বা নির্দেশনা জারির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব ও আইনের প্রয়োগ - সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা অপরিহার্য। ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশকে বেপরোয়া গাড়ি চালানো, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, অতিরিক্ত গতি, অবৈধ পার্কিং এবং ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করার বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু অভিযান পরিচালনা করাই যথেষ্ট নয়; আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শিথিলতা কিংবা সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে অযৌক্তিক হয়রানি—কোনোটিই গ্রহণযোগ্য নয়। মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে যানবাহনের গতিনিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কতা নিশ্চিত করতে হবে। চালকদের বৈধ কাগজপত্র, লাইসেন্স ও যানবাহনের ফিটনেস যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার, যান চলাচল স্বাভাবিক করা এবং যথাযথ তদন্তের ব্যবস্থা করতে হবে। দুর্ঘটনাকবলিত মানুষকে সাহায্য করার পরিবর্তে ভিড় সৃষ্টি বা ভিডিও ধারণের প্রবণতা বন্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের করণীয় - নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে উন্নত ও ঝুঁকিমুক্ত অবকাঠামোর বিকল্প নেই। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে সড়কের নকশা, নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে হবে।আরও পড়ুন,কসবায় উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বেহাল দশা সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, অপর্যাপ্ত দৃশ্যমানতা, ভাঙা সেতু বা কালভার্ট এবং বিপজ্জনক প্রবেশপথ দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। মহাসড়কে যথাযথ সড়কচিহ্ন, নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড, রোড মার্কিং, প্রতিফলক এবং প্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা নিশ্চিত করতে হবে। জনবহুল এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজারের কাছে নিরাপদ পারাপার এবং উপযুক্ত গতিনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। নির্মাণ বা সংস্কারকাজ চলাকালে বিকল্প চলাচলের পথ, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড এবং নিরাপত্তাবেষ্টনী স্থাপন করতে হবে। কারণ অপর্যাপ্ত সতর্কতার কারণে নির্মাণাধীন সড়কেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ ছাড়া সড়ক নিরাপত্তা নিরীক্ষার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে উন্নয়ন করতে হবে। শুধু নতুন সড়ক নির্মাণ নয়, বিদ্যমান সড়কগুলোকে নিরাপদ রাখা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। রোড সেফটি সেল ও বিআরটিএর কার্যকর ভূমিকা - সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক পরিকল্পনা গ্রহণ, তথ্য বিশ্লেষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম সমন্বয়ে রোড সেফটি সেলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে কোন সড়কে কী ধরনের ঝুঁকি রয়েছে, তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। আরও পড়ুন,লামায় জমি জবরদখলের চেষ্টা ও সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগঅন্যদিকে, বিআরটিএকে চালকের লাইসেন্স প্রদান, যানবাহনের নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ এবং পরিবহনসংক্রান্ত বিধিবিধান বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও কঠোরতা নিশ্চিত করতে হবে। চালকের দক্ষতা যাচাই ছাড়া লাইসেন্স প্রদান, যানবাহনের যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া ফিটনেস সনদ নবায়ন কিংবা অনিয়মের মাধ্যমে সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচলের সুযোগ বন্ধ করতে হবে। পেশাদার চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি, ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঝুঁকি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশল শেখানোর ব্যবস্থা করা জরুরি। একই সঙ্গে পরিবহন মালিকদেরও যানবাহনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকদের উপযুক্ত কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করতে উৎসাহিত করতে হবে। চালক, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের দায়বদ্ধতা - সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চালকদের দায়িত্ব সরাসরি মানুষের জীবন রক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, বিপজ্জনক ওভারটেকিং পরিহার এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে গাড়ি চালানো প্রতিটি চালকের কর্তব্য। ঘুম ঘুম অবস্থায়, অসুস্থ শরীরে কিংবা মাদক গ্রহণ করে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে। দীর্ঘ যাত্রায় পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে এবং যাত্রী তোলার জন্য প্রতিযোগিতা কিংবা নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানোর অতিরিক্ত চাপ পরিহার করতে হবে।পরিবহন মালিকদের ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন সড়কে নামানো বন্ধ করতে হবে। চালকের বৈধ লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি যানবাহনের ব্রেক, টায়ার, হেডলাইট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। শ্রমিক সংগঠনগুলো চালকদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি পেশাগত শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে। ন্যায্য মজুরি, যুক্তিসংগত কর্মঘণ্টা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত হলে চালকদের ওপর অযৌক্তিক চাপ কমবে। সড়ক নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা প্রয়োজন।আরও পড়ুন,বিরোধীদল সরকারের কাজে ঈর্ষান্বিত হয়ে মিডিয়ার সামনে আবোল তাবোল বলছে - এমপি খোকনপথচারী ও শিক্ষার্থীদের সচেতনতা - নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে পথচারীদেরও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। রাস্তা পারাপারে জেব্রা ক্রসিং, ফুটওভারব্রিজ কিংবা নির্ধারিত পারাপারের স্থান ব্যবহার করা জরুরি। চলন্ত যানবাহনের সামনে দিয়ে দৌড়ে রাস্তা পার হওয়া, মোবাইল ফোনে মনোযোগ রেখে হাঁটা এবং ট্রাফিক সিগন্যাল উপেক্ষা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী মানুষের নিরাপদ চলাচলের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং পথচারীবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই সড়ক নিরাপত্তার শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ট্রাফিক আইন, সড়কচিহ্ন, নিরাপদ পারাপার, গণপরিবহনে ওঠানামা এবং মোটরসাইকেলে হেলমেট ব্যবহারের গুরুত্ব নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা যেতে পারে। শিক্ষার্থীরা নিজেরা নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের অন্যদেরও সচেতন করতে পারে। এভাবে সড়ক নিরাপত্তাকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করা সম্ভব। গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের ভূমিকা - সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা শুধু দুর্ঘটনার খবর প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দুর্ঘটনার কারণ, ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের অবস্থা, যানবাহনের ফিটনেস, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করা প্রয়োজন। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের সদস্যদেরও সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।আরও পড়ুন,টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের অভিযানে দুই দুর্ধর্ষ আসামি গ্রেপ্তারএকই সঙ্গে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের প্রতি মানবিক আচরণ, দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো সামাজিক দায়িত্বের অংশ। আনুষ্ঠানিকতা নয়, চাই কার্যকর বাস্তবায়ন - জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে—সচেতনতার বার্তা দেওয়ার পরও কেন সড়কে মানুষের নিরাপত্তা বারবার হুমকির মুখে পড়ছে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে দায় এড়ানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি সংস্থাকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং ব্যর্থতার ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলো চিহ্নিত করা, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধ করা, দক্ষ চালক তৈরি, ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ, নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা—এসব উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক তথ্য প্রকাশ, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং বাস্তব ফলাফল মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। সড়ক নিরাপত্তা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। সরকারকে কার্যকর নেতৃত্ব দিতে হবে, প্রশাসনকে সমন্বয় ও তদারকি করতে হবে, পুলিশকে আইন প্রয়োগ করতে হবে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দায়িত্বশীল হতে হবে এবং চালক ও পথচারীদের নিয়ম মেনে চলতে হবে। জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের অঙ্গীকার হোক—সড়ক সবার জন্য নিরাপদ করা। একটি দুর্ঘটনাও যেন অবহেলা, অনিয়ম কিংবা দায়িত্বহীনতার কারণে না ঘটে, সেই লক্ষ্য সামনে রেখে প্রত্যেককে কাজ করতে হবে। কারণ প্রতিটি প্রাণ অমূল্য, প্রতিটি পরিবার নিরাপত্তার অধিকারী এবং নিরাপদে চলাচল করা প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক প্রত্যাশা। আসুন, দিবস পালনের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করি। সম্মিলিত উদ্যোগ, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং দায়িত্বশীল আচরণের মধ্য দিয়ে গড়ে তুলি এমন বাংলাদেশ, যেখানে সড়কে বেরিয়ে প্রতিটি মানুষ নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারেন। নিরাপদ সড়ক হোক সবার অধিকার, সবার দায়িত্ব—সড়ক দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশ গড়াই হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

২০২৭-২৮ অন্তর্বর্তীকালীন অর্থবছর থেকে শুরু হচ্ছে নতুন অর্থবছর কাঠামো

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ৯ মাস মেয়াদী (জুলাই থেকে মার্চ) অন্তর্বর্তীকালীন অর্থবছর হিসেবে পরিচালনা করা হবে এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত নতুন অর্থবছর কার্যকর হবে। আরও পড়ুন,দুদকের দুই মামলায় কাতারে গ্রেপ্তার সাবেক বিমান বাহিনী প্রধানএই পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), জাতীয় পরিসংখ্যান এবং আইবাস++ ও ভ্যাট ব্যবস্থার মতো তথ্যপ্রযুক্তিগত কাঠামোতেও পরিবর্তন আনতে হবে। রাজউক, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজৈরে ২০০ পিস ইয়াবাসহ ৫ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করল জেলা ডিবি

মাদারীপুর জেলার মাননীয় পুলিশ সুপার জনাব মোঃ ফজলে এলাহী মহোদয়ের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ফোর্সের সমন্বয়ে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান সাড়াঁশি অভিযান পরিচালনা কালে রাজৈর থানা এলাকা হতে ২০০ (দুইশত) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ ০৫ (পাঁচ) জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার।মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ফোর্সসহ মাদকদ্রব্য উদ্ধার বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে ০১। ২১/১০/২০২৬ খ্রি. বিকাল ১৬.২৫ ঘটিকার সময় মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানাধীন মহিষমারি সাকিনস্থ জনৈক রঞ্জিত সরকার এর মুদি দোকানের সামনে পাকা রাস্তার উপর ধৃত আসামী ০১। বলাই সরকার (৩৪), পিতা-মৃত কেশব সরকার, সাং-মহিষমারি, ২। মোঃ মাজেদ শিকদার (৪৮), পিতা-মৃত জমির শিকদার, সাং-পশ্চিম সরমঙ্গল, উভয় থানা-রাজৈর, জেলা-মাদারীপুদ্বয়ের দখল হতে ১৫০ (একশত পশ্চাশ) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়। আরও পড়ুন,নাজমুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক২। ২১/১০/২০২৬ খ্রি. রাত ২১.৫০ ঘটিকার সময় মাদারীপুর জেলার মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানাধীন চৌরাশি সাকিনস্থ জনৈক গৌরঙ্গ বেপারীর বাড়ীর উত্তর পাশে ফাঁকা জায়গায় ধৃত আসামী ১। সুভাষ বেপারী (৩৬), পিতা- বুদ্ধি বেপারী, ২। বাঁধন মন্ডল (২৭), পিতা- অসীম কুমার মন্ডল, ৩। বিদ্যুৎ মন্ডল (২৭), পিতা- বিনয় মন্ডল, সর্বসাং- চৌরাশি কাকইথোপা, থানা- রাজৈর, জেলা- মাদারীপুরদের দখল হতে ৫০ (পশ্চাশ) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়। মোট ২০০ (দুইশত) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ ০৫ (পাঁচ) জন আসামী গ্রেফতার।উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ আমাদের দূরে ঠেলে দিতে পারবে না —মামুনুর রশিদ মামুন

চর আড়ালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আমৃত্যু সভাপতি মরহুম বাচ্চু মিয়ার সন্তান ও আসন্ন  ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবং নরসিংদী জেলা যুবদলের অন্যতম সদস্য মোঃ মামুনুর রশিদ মামুন বলেছেন,“আমার বাবা মরহুম বাচ্চু মিয়া চর আড়ালিয়ায় ঐক্যের সূচনা করেছিলেন। তিনি জীবদ্দশায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলাফেরা করতেন। তাঁর নেতৃত্বে একসময় দলাদলি,হানাহানি ও বিভেদ ভুলে গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর সৃষ্টি করে যাওয়া ঐক্যের চেয়ে বড় মূল্য আমার কাছে আর কিছু নেই।”বুধবার রাতে মামুনুর রশিদের বাড়িতে নিজ জন্মভূমি চর আড়ালিয়া গ্রামের মানুষের সঙ্গে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, “চর আড়ালিয়ার নামে ইউনিয়ন হলেও ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই গ্রামে কখনো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হননি।আরও পড়ুন,ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী সারা জীবন আমরা গ্রামবাসী অর্থ, মেধা ও শ্রম দিয়ে অন্য গ্রামের মানুষকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছি। বিনিময়ে আমরা তেমন কিছুই পাইনি। যা পেয়েছি তা আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার কারণে পেয়েছি।তিনি আরও বলেন, “আমি আপনাদের হয়ে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ আমাদের দূরে ঠেলে দিতে পারবে না। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”সাবেক চেয়ারম্যান ও নরসিংদী জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান সরকারকে নিজেদের নেতা ও অভিভাবক উল্লেখ করে মামুনুর রশিদ মামুন বলেন,সময় হলে আপনারা তাঁর কাছে দাবি উত্থাপন করবেন আগামীতে চর আড়ালিয়া থেকেই চেয়ারম্যান চাই। আশা করি তিনি আমাদের ফিরিয়ে দেবেন না। আমার বিশ্বাস আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে তিনি আমাদের দাবির বাইরে যাবেন না। তাঁর সহযোগিতা নিয়ে আমরা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে চাই ইনশাআল্লাহ।”আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা যুবদলের সহ-কোষাধ্যক্ষ মোরশেদ মিয়া, বিএনপি নেতা ডা. সেন্টু মিয়া, সুরুজ শাহ, দুলাল মিয়া, করিম মিয়া, বিল্লাল মিয়া, নাছির উদ্দিন, আকরাম মিয়া, শাহজালাল, বাবু মিয়াসহ এলাকার সর্বস্তরের জনগণ।

অসুস্থ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরিত

ভূমিমন্ত্রী মো: মিজানুর রহমান মিনু অসুস্থ হয়ে পড়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ/পিজি) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।আরও পড়ুন,সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি এনসিপির বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে তাকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং বর্তমানে সেখানেই তার পরবর্তী চিকিৎসা পরিচালিত হবে।

রাজনীতিরাজনীতি

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের জেরে আরএমপি ও র‍্যাবের যৌথ আইনি পদক্ষেপ

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের জেরে আরএমপি ও র‍্যাবের যৌথ আইনি পদক্ষেপ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরকালে বুলেটপ্রুফ বাসের পরিবর্তে রুয়েটের বাসে যাতায়াত নিয়ে ফেসবুকে ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যকারী আবু বকর সিদ্দিক নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত মঙ্গলবার রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী রুয়েটের বাসের ছবি শেয়ার করে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ পেজে পোস্ট করা হলে মন্তব্যের ঘরে তিনি এই উসকানিমূলক মন্তব্যটি করেন। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে নিরাপত্তার স্বার্থে উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা এবং পুলিশের জরুরি পদক্ষেপে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।আরও পড়ুন,দেশের প্রতিটি সংকটে মানুষের পাশে ছিলেন তারেক রহমান: রিজভীপ্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অপরাধমূলক মন্তব্য করায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) ও র‍্যাব দ্রুত অভিযান চালিয়ে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে এবং পরবর্তীতে থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে। আরএমপির মুখপাত্র জানান, মন্তব্যটি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ ও স্পর্শকাতর হওয়ায় বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিএনপি নেতারা এ ধরনের বক্তব্যের পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা খতিয়ে দেখে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সংখ্যালঘু নির্যাতন ও উগ্রবাদ ছিল আ.লীগের রাষ্ট্রীয় সাজানো নাটক: হাসনাত আব্দুল্লাহ

সংখ্যালঘু নির্যাতন ও উগ্রবাদ ছিল আ.লীগের রাষ্ট্রীয় সাজানো নাটক: হাসনাত আব্দুল্লাহ

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং ধর্মীয় উগ্রবাদ দুটি বিষয়ই রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট রাজনৈতিক হাতিয়ার ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতার সময় নিজেদের স্বার্থে কৃত্রিমভাবে নাশকতার ঘটনা ঘটিয়ে দায় অন্যান্য পক্ষের ওপর চাপাত। আরও পড়ুন,যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস মামলায় সিআইডির অভিযানএর মাধ্যমে তারা দেশে ও বিদেশে 'আওয়ামী লীগ ছাড়া সংখ্যালঘুরা নিরাপদ নয়' কিংবা 'বাংলাদেশ আফগানিস্তান হয়ে যাবে' এমন ভিত্তিহীন ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করত। ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর পরপর তিন বছর ধরে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হওয়া প্রমাণ করে যে এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ চক্রান্ত থেকে রক্ষার সেরা পরামর্শ: ইশরাক হোসেন

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ চক্রান্ত থেকে রক্ষার সেরা পরামর্শ: ইশরাক হোসেন

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী তাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে এযাবৎকালের সেরা পরামর্শটি দিয়েছেন এবং তিনি একবাক্যে তা মেনে নিয়েছেন। ইসলামী আন্দোলনের মহিলা ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা ও শপথসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, শুরুতে এটিকে শাস্তি মনে হলেও পরবর্তীতে তিনি বুঝতে পারেন একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা ও বিধ্বংসী প্রচারণা চালিয়ে চরিত্র হনন এবং তাকে একঘরে করার বড় ধরনের ষড়যন্ত্র সাজিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে তাকে সেই রাজনৈতিক ঝুঁকি ও চক্রান্ত থেকে রক্ষা করেছেন বলে তিনি প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রীকে জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

প্রধানমন্ত্রীকে জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

জুলাই শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতারা উপস্থিত না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবার সেই অনুষ্ঠানে কেন যাননি, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার। মঙ্গলবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অনুষ্ঠানের দাওয়াতপত্রে সরকারের বিভিন্ন অতিথির নাম উল্লেখ থাকলেও মন্ত্রীর পদমর্যাদার বিরোধীদলীয় নেতার নাম সেখানে ছিল না। এমনকি তিনি কোন পরিচয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবেন, সেটিও উল্লেখ করা হয়নি। গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন তোলেন, বিরোধীদলীয় নেতার নাম ও পরিচয় উল্লেখ না থাকলে তিনি সেখানে কী হিসেবে উপস্থিত হবেন? তাঁকে কি দর্শক সারিতে বসতে হবে?আরও পড়ুন,ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়েই সরকারের যাত্রা শুরু: চিফ হুইপদাওয়াতপত্রে যথাযথ মর্যাদা ও পরিচয় উল্লেখ না থাকার বিষয়টিকেই অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার কারণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। এর আগে সোমবার রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের ফলক উন্মোচন এবং আধুনিকায়ন করা ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাঁদের আত্মত্যাগের কারণে বিরোধী দলের নেতারা আজ বিরোধীদলীয় নেতা ও সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন, সেই শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে তাঁদের থাকা উচিত ছিল। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিরোধী দলের অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যেই দাওয়াতপত্রে বিরোধীদলীয় নেতার নাম ও পরিচয় উল্লেখ না থাকার বিষয়টি সামনে এনে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার।

সারাবাংলা

নরসিংদীতে চোখের সামনে বাবাকে হত্যার চেষ্টা, রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ হারাল ছেলে

নরসিংদীতে চোখের সামনে বাবাকে হত্যার চেষ্টা, রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ হারাল ছেলে

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে চাচাতো ভাইদের হামলায় শাহিন (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাই মোকারম (৫০) ও তাঁর ছেলে রাব্বি মিয়ার (১৬) বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের হাসনাবাদ খলাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহিন ওই এলাকার আওলাদ হোসেনের ছেলে। নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি নিয়ে আওলাদ হোসেন ও তাঁর চাচাতো ভাই মোকারমের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বুধবার বিকেলে বাড়ির পাশে ইটের স্তূপ থেকে ইট নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।আরোও পড়ুন,ইছামতীর দুই পাড়ে উৎসবের ঢল, অধরা দুই বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিলনমেলা একপর্যায়ে মোকারম ও তাঁর ছেলে রাব্বি দা নিয়ে আওলাদ হোসেনের ওপর হামলা করতে এগিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে শাহিন আহত হন। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে খবর পেয়েছি, ইটের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইয়ের হামলায় শাহিন নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা এখন নরসিংদী সদর হাসপাতালে আছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইছামতীর দুই পাড়ে উৎসবের ঢল, অধরা দুই বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিলনমেলা

ইছামতীর দুই পাড়ে উৎসবের ঢল, অধরা দুই বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিলনমেলা

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ইছামতি নদীতে নিজ নিজ সীমানায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। তবে বিজয়া দশমীতে দুই বাংলার মানুষের ঐতিহ্যবাহী মিলনমেলা না হওয়ায় হতাশ হয়েছেন উৎসব দেখতে আসা হাজারো মানুষ। নদীর দুই পাড়ে মানুষের ঢল নামলেও কঠোর সীমান্ত নিরাপত্তার কারণে এবারও দুই দেশের মানুষের অবাধ মেলামেশা ও নৌযানে মিলিত হওয়ার সুযোগ হয়নি।বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী উপলক্ষে সকাল থেকেই বাংলাদেশের সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার টাউনশ্রীপুর এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের টাকি পৌরসভা এলাকার ইছামতি নদীর দুই তীরে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। দুই দেশের বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে আসেন ভক্তরা। দিনভর নদীর দুই পাড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও অধরা থেকে যায় দুই বাংলার মানুষের মিলনমেলার চিরচেনা আনন্দ। স্থানীয় কর্ণ বিশ্বাস, পারুল বিশ্বাস ও সুভাষ ঘোষসহ অনেকে জানান, দেশ বিভাগের আগে থেকেই ইছামতি নদীর দুই তীরে বিজয়া দশমী উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী মিলনমেলার আয়োজন হয়ে আসছে। দেবহাটার টাউনশ্রীপুর থেকে ভারতের টাকি পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ উৎসবে দুই বাংলার মানুষের ব্যাপক সমাগম হতো। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ, কুশল বিনিময় ও ভাবের আদান-প্রদানের পাশাপাশি নদীর দুই পাড়ে বসত নানা ধরনের দোকানপাট। উৎসবটি পরিণত হয়েছিল দুই বাংলার মানুষের সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের প্রতীকে। তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিনের এ ঐতিহ্য শুধু ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং দুই দেশের মানুষের মধ্যে সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কের সেতুবন্ধ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। কিন্তু কয়েক বছর ধরে সীমান্ত নিরাপত্তার কারণে আগের মতো মিলনমেলা হচ্ছে না।আরোও পড়ুন,প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা ফলে নদীর দুই পাড়ে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে উৎসব উপভোগ করলেও একে অপরের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মানুষ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের টাউনশ্রীপুর ও ভারতের টাকির নদীতীরে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়ে। ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাসনাবাদ, টাকি ও হিঙ্গলগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ইছামতি নদীতে আনা হয়। নদীর শূন্যরেখায় ডিঙি নৌকায় লাল পতাকা উড়িয়ে দুই দেশের সীমানা চিহ্নিত করতে দেখা যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সদস্যদের। ভারতের অংশে প্রতিমা বিসর্জন ও নৌযানে মানুষের উপস্থিতি দেখা গেলেও বাংলাদেশের পাড় থেকে কাউকে নৌকা নিয়ে নদীতে নামতে দেওয়া হয়নি। সীমান্তে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহল ও নজরদারি জোরদার করেন। কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেই দুই দেশের মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিমা বিসর্জনের দৃশ্য উপভোগ করেন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটে। সন্ধ্যার পর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। তবে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলেও দর্শনার্থীদের অনেকের মনেই রয়ে যায় অপূর্ণতার অনুভূতি। ইছামতীর বুকে দুই বাংলার মানুষের মিলিত হওয়ার সেই ঐতিহ্যবাহী দৃশ্য দেখতে এসে অনেকে হতাশ হয়ে বাড়ি ফেরেন। তাঁদের প্রত্যাশা, সীমান্তের নিরাপত্তা বজায় রেখেই একদিন আবারও ফিরে আসবে ঐতিহ্যবাহী এ মিলনমেলা, যেখানে নদীর দুই পাড়ের মানুষ উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবেন।এ সময় বাংলাদেশের সীমান্তপাড়ে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর খায়রুল আলম, পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু, দেবহাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বকুল, নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোনায়েম হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা

প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা

সাম্প্রতিক প্রকাশিত "নামজারির নামে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রাজীবপুরের ভূমি কর্মকর্তা সাইফুলের বিরুদ্ধে" শীর্ষক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বানোয়াট সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম, অনলাইন পোর্টাল ও জাতীয় পত্রিকায় আমাকে (মো. সাইফুল ইসলাম, ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা, মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন, রাজীবপুর, কুড়িগ্রাম) হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টায় একটি মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ এবং নামজারি জালিয়াতির যে কতিপয় মনগড়া অভিযোগ আনা হয়েছে, আমি তার তীব্র প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। ​প্রকৃত তথ্য ও সত্যতা: ​১. পুরোপুরি কাল্পনিক ও বানোয়াট অভিযোগ: আমি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ওj সততার সাথে আমার অর্পিত সরকারি দায়িত্ব পালন করে আসছি। আরোও পড়ুন,কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২উক্ত সংবাদে উল্লিখিত ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ বা বিকাশের মাধ্যমে কোনো ধরনের লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ সংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগের কোনো প্রশাসনিক বা বাস্তব সত্যতা নেই। ​২. একটি কুচক্রী  মহলের প্ররোচনায় পড়ে আমার বিরুদ্ধে যিনি লিখিত অভিযোগ  করেন  তিনি তার নিজের ভুল বুঝতে পেরে  প্রত্যাহার করেন উক্ত অভিযোগ পত্রটি এবং সকলের প্রতি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার জন্য অনুরোধ জানান ​৩. নামজারি জালিয়াতির দায়ে বিভ্রান্তি: সরকারি নিয়ম ও আইন মেনেই নামজারিসংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। আইনবহির্ভূত কোনো কাজকে প্রশ্রয় না দেওয়ায় একটি চক্র অসৎ উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।​আমি উক্ত সাংবাদিক ভাইদের নিরপেক্ষ ও সঠিক তথ্য যাচাই ছাড়াই ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সাথে এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, কাল্পনিক ও মানহানিকর সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সর্বসাধারণকে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদে কান না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।

কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২

কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২

কক্সবাজারের হিমছড়ি সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে তিন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুই পর্যটক। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে হিমছড়ির মারিনা রিসোর্টের জাদুঘরসংলগ্ন সৈকতে এ ঘটনা ঘটে। রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও নিখোঁজ পর্যটকদের পরিচয় জানা যায়নি। হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সোলেইমান জানান, আরও পড়ুন,কক্সবাজারে সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৫বিকেলে কয়েকজন পর্যটক সমুদ্রে গোসল করতে নামলে প্রবল স্রোতে ভেসে যান। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁদের কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। ইউএনও মো. জিল্লুর রহমান জানান, সমুদ্রের ঢেউ ও প্রবল স্রোতে পর্যটকেরা ভেসে যান। স্থানীয় লোকজন একজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ আরও দুই পর্যটকের সন্ধানে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তল্লাশি চালাচ্ছেন। এ ঘটনায় সৈকত এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

আন্তর্জাতিক

বাসের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষে মিসরে প্রাণহানি

বাসের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষে মিসরে প্রাণহানি

মিসরের রাজধানী কায়রোর পশ্চিমে পর্যটকবাহী একটি বাসের সঙ্গে বড় ট্রাকের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৪ জন। নিহত ও আহত ব্যক্তিরা দেশি-বিদেশি পর্যটক বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর কায়রো-আসিয়ুত পশ্চিম মরুভূমি মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। মিসরের রাষ্ট্রায়ত্ত দৈনিক আল-আহরাম দুর্ঘটনায় হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে। এএফপির একজন সংবাদদাতার বরাতে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর মহাসড়ক থেকে বাস ও ট্রাকের ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করে কর্তৃপক্ষ। ক্রেনের সাহায্যে দুর্ঘটনাকবলিত বড় বাসটি সরিয়ে নেওয়া হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটির সামনের পুরো অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ইস্পাত, বাসের ধ্বংসাবশেষ ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা যাত্রীদের আসন পড়ে থাকতে দেখা যায়। ট্রাকটির পেছনের অংশেও বাসের ধ্বংসাবশেষ আটকে ছিল। আল-আহরামের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহতদের গিজার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আরও পড়ুন,ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি পরিকল্পনায় বড় চ্যালেঞ্জদুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মিসরে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়মিত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেপরোয়া গাড়ি চালানো, যানবাহনের দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ এবং সড়ক আইন প্রয়োগে শিথিলতাকে প্রায়ই এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মিসরজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ছয় হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর আগেও দেশটিতে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত সেপ্টেম্বরে সিনাই অঞ্চলে বাস দুর্ঘটনায় ১০ জন জর্ডানি পর্যটকসহ মোট ২২ জন নিহত হন। এর আগে আগস্টে উত্তর মিসরে কৃষিশ্রমিক বহনকারী দুটি পিকআপ ট্রাকের সংঘর্ষে অন্তত ১৮ জন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন শিশুও ছিল। সাম্প্রতিক এসব দুর্ঘটনা দেশটির সড়ক নিরাপত্তা ও যানবাহন চলাচলে আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

১৮ ঘন্টা আগে

রাজধানী

১ নভেম্বর থেকে ঢাকার ছয় রুটে চালু হচ্ছে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ বাসব্যবস্থা

১ নভেম্বর থেকে ঢাকার ছয় রুটে চালু হচ্ছে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ বাসব্যবস্থা

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো ও যানজট কমাতে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ পদ্ধতিতে বাস পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ঢাকার ছয়টি প্রধান রুটে পরীক্ষামূলকভাবে বাস চলাচল শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচটি নন-এসি ও একটি এসি রুটে এ কার্যক্রম চালু করা হবে।রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) আয়োজিত এক সভায় বাস চলাচলের রুট, পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, বাসের সংখ্যা ও স্টপেজ নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর দুই মাস পর আরও তিনটি সার্কুলার রুট যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।প্রথম পর্যায়ের ছয়টি রুট হলো গাজীপুর-ঢাকেশ্বরী মন্দির, গাবতলী-ডেমরা, দুয়ারীপাড়া-সদরঘাট, ঘাটারচর-ডেমরা, ঘাটারচর-কাঁচপুর এবং মিরপুর-১২-মাওয়া।পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব রুটে একাধিক পরিবহন প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিত করে যৌথভাবে বাস পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর-ঢাকেশ্বরী মন্দির রুটে বিকাশ পরিবহন, বিকাশ সেবা ট্রান্সপোর্ট ও ডিভাইস পরিবহন দায়িত্ব পালন করবে। গাবতলী-ডেমরা রুটে থাকবে আলিফ এন্টারপ্রাইজ, বৈশাখী পরিবহন ও রইছ পরিবহন।আরও  পড়ুন, ১০০ ফিট সড়কে অবশিষ্ট ১০ ফুট, দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পথচারীরাদুয়ারীপাড়া-সদরঘাট রুটে দিশারী, তানজিল, মেট্রো লিংক ও ট্রান্সসিলভা যৌথভাবে বাস পরিচালনা করবে। ঘাটারচর-ডেমরা এবং ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে দায়িত্বে থাকবে রমজান, মালঞ্চ, মিডলাইন ও রজনীগন্ধা পরিবহন। অন্যদিকে মিরপুর-১২-মাওয়া রুটে বাস চালাবে স্বাধীন, বিহঙ্গ, বিকল্প ও শিকড় পরিবহন।ডিটিসিএর ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম জানিয়েছেন, শিগগিরই এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হবে।নতুন বাসব্যবস্থা কার্যকর করতে বাসস্টপ চিহ্নিত করা, টিকিট কাউন্টার স্থাপন, ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ডিএমপি ও দুই সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিটিসিএ।সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ পদ্ধতি বাস্তবায়িত হলে একই রুটে বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা কমবে, যাত্রী ওঠানামায় শৃঙ্খলা ফিরবে এবং গণপরিবহনে যাত্রীসেবার মান বাড়বে। তবে উদ্যোগটির সফলতা নির্ভর করবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত তদারকি এবং নির্ধারিত নিয়ম কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর।

১৯ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৬ জন

খেলাধুলা

খাভারেস্খেলিয়ার এসিএল চোটের শঙ্কা

খাভারেস্খেলিয়ার এসিএল চোটের শঙ্কা

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনাকে হারিয়ে স্বস্তি পাওয়ার কথা প্যারিস সেন্ট জার্মেই পিএসজির। তবে সেই জয়ের আনন্দের মধ্যেই বড় দুশ্চিন্তায় পড়েছে ফরাসি ক্লাবটি। দলের জর্জিয়ান তারকা খভিচা খাভারেস্খেলিয়ার ডান হাঁটুতে গুরুতর চোট লেগেছে। তার অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট বা এসিএল ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পিএসজির মাঠ পার্ক দে প্রিন্সেসে বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে চোট পান ২৫ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। প্রতিপক্ষের রাইটব্যাক জাভি এসপার্টের সঙ্গে বলের দখল নেওয়ার লড়াইয়ের সময় ডান হাঁটুতে আঘাত পান খাভারেস্খেলিয়া। তীব্র ব্যথায় মাঠে পড়ে যাওয়ার পর সতীর্থ ও চিকিৎসাকর্মীদের সহায়তায় তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। সে সময় নিজের পায়ে ঠিকমতো ভর দিতে পারছিলেন না তিনি। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘এল’ইকিপ’-এর বরাত দিয়ে গোল জানিয়েছে, আরও পড়ুন,জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে কঠিন চাপে বাংলাদেশপ্রাথমিক পরীক্ষায় খাভারেস্খেলিয়ার এসিএল চোটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বুধবারের এমআরআই পরীক্ষায় হাঁটুর আঘাতের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল হাতে না আসা পর্যন্ত চোটের মাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি পিএসজির চিকিৎসক দল। এসিএল ছিঁড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে এই জর্জিয়ান তারকাকে। সে ক্ষেত্রে চলতি মৌসুমের বাকি অংশে তাকে না পাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হবে। খাভারেস্খেলিয়ার অনুপস্থিতি পিএসজির আক্রমণভাগের পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে দলের আক্রমণ সাজাতে কোচ লুইস এনরিকেকে বিকল্প ভাবতে হতে পারে। এখন সবার নজর এমআরআই পরীক্ষার ফলের দিকে। চোটের প্রকৃত অবস্থা জানা গেলেই বোঝা যাবে, কত দিন মাঠের বাইরে থাকতে হবে পিএসজির এই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!