দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

মব আতঙ্ক ও আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ

কিশোর গ্যাং ও সংঘবদ্ধ অপরাধ / মব আতঙ্ক ও আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। আর এ দায়িত্ব পালনে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুলিশের ওপর হামলা, জনতার হাতে পুলিশ সদস্যদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা, দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন ধরনের চাপ এবং বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা, মনোবল ও স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ কতটা নিশ্চিত হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আরও পড়ুন: পুলিশে একের পর এক রদবদল, অপরাধ দমনে নতুন পরীক্ষাএমন পরিস্থিতিতে পুলিশ সদস্যদের রাতে একা বাইরে বের না হওয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা বা সতর্কতা রয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে যে আলোচনা শোনা যায়, তার প্রকৃত ভিত্তি ও প্রযোজ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। এটি যদি নিরাপত্তাজনিত সতর্কতা হয়ে থাকে, তাহলে এর উদ্দেশ্য ও কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা স্পষ্ট করা জরুরি। আর যদি এমন কোনো নির্দেশনা আনুষ্ঠানিকভাবে জারি না হয়ে থাকে, তাহলে গুজব ও অসমর্থিত তথ্যের ভিত্তিতে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো থেকেও বিরত থাকতে হবে। তবে মূল প্রশ্ন হচ্ছে,পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে অপরাধ দমনে তাদের কার্যক্রম কীভাবে সচল রাখা হবে? অপরাধীরা যদি পুলিশের সক্ষমতা, মনোবল কিংবা দায়িত্ব পালনের সীমাবদ্ধতাকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ পায়, তাহলে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ওপর পড়তে পারে। পুলিশের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো জনতার সহিংসতা বা মব পরিস্থিতি। কোনো ঘটনা ঘটার পর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেওয়া কিংবা দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এসব ঘটনা আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগজনক। কারণ, পুলিশ যদি আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে অতিরিক্ত শঙ্কায় থাকে, তাহলে তা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।অপরাধের অভিযোগ থাকলে তার তদন্ত, অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা এবং আদালতের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি নিজেদের হাতে বিচার তুলে নেয়, তাহলে আইনি প্রক্রিয়া দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। একই সঙ্গে এ ধরনের পরিস্থিতিতে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা হলে ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে পুরো জনগোষ্ঠীকে দায়ী করা যেমন অনুচিত, তেমনি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনার কারণে সব পুলিশ সদস্যকে অকার্যকর হিসেবে বিবেচনা করাও বাস্তবসম্মত নয়। প্রয়োজন হলো, প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।আরও পড়ুন: পুলিশ সংস্কার কতদূর, কী ভাবছে সাধারণ মানুষ?পুলিশকে জনবান্ধব হতে হবে, আবার দায়িত্ব পালনের সময় আইনগত কর্তৃত্বও কার্যকর রাখতে হবে। এ দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা না গেলে একদিকে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা কমতে পারে, অন্যদিকে অপরাধীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে। পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার বিষয়ে যে আলোচনা শোনা যাচ্ছে, সেটি জননিরাপত্তা ও বাহিনীর কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি হয়েছে কি না, হলে সেটি কোন পর্যায়ের সদস্যদের জন্য, কী কারণে এবং কত দিনের জন্য প্রযোজ্য এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।কোনো এলাকায় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার আশঙ্কা থাকলে নিরাপত্তার স্বার্থে এককভাবে চলাচল সীমিত করা কিংবা দলগত টহল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। এ ধরনের ব্যবস্থা দুর্বলতার পরিচয় নয়; বরং ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে নেওয়া একটি নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ হতে পারে। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা যেন অপরাধ দমনের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে অযথা সীমিত না করে, সে বিষয়েও নজর রাখা জরুরি। পুলিশের কাজের বড় একটি অংশই পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো, অপরাধ প্রতিরোধ করা, ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা নেওয়া। রাতের বেলায় অপরাধ সংঘটিত হলে কিংবা কোনো নাগরিক বিপদে পড়লে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। ফলে নিরাপত্তার কারণে একক চলাচল সীমিত করা হলে বিকল্প হিসেবে পর্যাপ্ত জনবল, দ্রুতগামী টহল দল, জরুরি সাড়া প্রদানকারী ইউনিট এবং কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এখানে মূল বিষয়টি পুলিশ একা চলবে, নাকি দলগতভাবে চলবে—তা নয়; বরং পুলিশের দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা, সদস্যদের নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত সেবা পৌঁছানোর নিশ্চয়তা।আরও পড়ুন: ডিএমপির কয়েকটি থানায় দৃশ্যমান পরিবর্তনবিভিন্ন মহলে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় যে, রাজনৈতিক চাপ, প্রশাসনিক জটিলতা, জনতার প্রতিক্রিয়া কিংবা নানা ধরনের প্রভাব পুলিশের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট চক্র পরিকল্পিতভাবে পুলিশের কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে—এমন দাবি প্রমাণ ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। অভিযোগ থাকলে তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। তবে বাস্তবতা হলো, আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর কাজ যদি অনিয়মিত চাপ, পক্ষপাতমূলক নির্দেশনা কিংবা দায়িত্ব পালনে অযৌক্তিক বাধার মুখে পড়ে, তাহলে অপরাধ দমনে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। কোনো অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক প্রভাব, অর্থনৈতিক ক্ষমতা কিংবা ব্যক্তিগত যোগাযোগের কারণে আইন প্রয়োগে ভিন্নতা তৈরি হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বৈষম্যের ধারণা জন্ম নিতে পারে। পুলিশের দায়িত্ব অপরাধের প্রকৃতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া। অপরাধী যে দলেরই হোক, তার পরিচয় বা প্রভাব যেন তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে। একইভাবে নিরপরাধ কাউকে রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে হয়রানি করা থেকেও পুলিশকে বিরত থাকতে হবে। পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করে কোনো মামলা বন্ধ রাখা, অপরাধের তদন্তে বাধা দেওয়া কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তিকে আইনের আওতার বাইরে রাখার অভিযোগ উঠলে সেগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। কারণ, আইনের প্রয়োগে পক্ষপাতের ধারণা তৈরি হলে বাহিনীর প্রতি জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অপরাধীরা নিজেদের প্রভাবকে নিরাপত্তার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ পেতে পারে।আরও পড়ুন: বিএডিসির ডিডি দীপকের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের পাহাড়পুলিশের কার্যক্রম দুর্বল হলে তার সম্ভাব্য প্রভাব শুধু বড় ধরনের অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। পাড়া-মহল্লায় ছিনতাই, চুরি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জমি দখল, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের মতো সমস্যাও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের একাংশের বিরুদ্ধে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারামারি, ছিনতাই কিংবা মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ বিভিন্ন সময় সামনে আসে। তবে কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে পারিবারিক অবহেলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিচ্ছিন্নতা, মাদক, অপরাধী চক্রের প্রভাব এবং সামাজিক প্রতিরোধের দুর্বলতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় শুধু অভিযান চালানো যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি, অপরাধপ্রবণ এলাকায় টহল, অভিযোগের দ্রুত তদন্ত, অপরাধী চক্রের অর্থায়ন ও পৃষ্ঠপোষকতা অনুসন্ধান এবং ঝুঁকিতে থাকা কিশোরদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ।একই সঙ্গে কোনো এলাকায় চাঁদাবাজি বা ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়ার পর যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অপরাধীরা নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে। তাই পুলিশের মাঠপর্যায়ের ইউনিটগুলোকে প্রয়োজনীয় জনবল, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা দিতে হবে। অপরাধ দমনে দৃশ্যমান তৎপরতার পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। অপরাধ ঘটে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে পরিকল্পিত প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশি কার্যকর হতে পারে।আরও পড়ুন: সাংবাদিকতা ও সমাজসেবায় দীর্ঘ পথচলা: শেখ আমিনুর হোসেনের নিরলস কর্মযাত্রাআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা উচিত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা। একজন নাগরিক রাতে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরবেন, ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে নিরাপদে বাসায় যাবেন, শিক্ষার্থী কিংবা শ্রমজীবী মানুষ প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে বের হবেন—এসব ক্ষেত্রে নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা থাকা প্রয়োজন। কোনো নাগরিক ছিনতাই, চাঁদাবাজি, হামলা কিংবা হুমকির শিকার হলে তিনি কোথায় অভিযোগ করবেন, কত দ্রুত পুলিশ সাড়া দেবে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এসব বিষয় জনআস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। থানায় অভিযোগ গ্রহণে অনীহা, তদন্তে অযথা বিলম্ব কিংবা প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনাগ্রহের অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পুলিশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরস্পরবিরোধী বিষয় নয়। বরং একটি নিরাপদ ও কার্যকর পুলিশ বাহিনী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা যাতে অযথা হামলা, ভয়ভীতি কিংবা প্রতিশোধের আশঙ্কায় না থাকেন, তার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার, বেআইনি আটক, হয়রানি কিংবা অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগের অভিযোগেরও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা কঠিন। তাই পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে হবে। নাগরিকদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ, নিয়মিত জনসংযোগ, কমিউনিটি পুলিশিং এবং অপরাধসংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার নিরাপদ ব্যবস্থা এ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।পুলিশের কার্যক্রমকে কার্যকর রাখতে হলে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও আইনভিত্তিক দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারের নীতিগত নির্দেশনা ও প্রশাসনিক তদারকি থাকবে, তবে কোনো ব্যক্তির স্বার্থে তদন্ত পরিচালনা, মামলা প্রভাবিত করা কিংবা অপরাধীকে সুরক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশ জনগণের সেবক এবং আইনের প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী কিংবা অন্য কোনো প্রভাবশালী মহলের প্রতি আনুগত্যের পরিবর্তে সংবিধান ও প্রচলিত আইনের প্রতি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার অর্থ জবাবদিহির বাইরে রাখা নয়। বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণে পেশাগত স্বাধীনতা, আইনসম্মত ক্ষমতা প্রয়োগ, স্বচ্ছতা এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে কার্যকর জবাবদিহি এই চারটি বিষয় একসঙ্গে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।আরও পড়ুন: সত্য ও জনমানুষের কথা বলার প্রত্যয়ে আরও দূর পথপুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। আবার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সদস্য বেআইনি হামলা বা ভয়ভীতির শিকার হলে তার সুরক্ষা ও ন্যায়বিচারও নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ, পুলিশকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি তাকে জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধ দমনে পুলিশকে কার্যকর করতে হলে শুধু কঠোর বক্তব্য বা অভিযান ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ। প্রথমত, অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে ঝুঁকিভিত্তিক টহল ও নজরদারি বাড়াতে হবে। বিশেষ করে রাতে ছিনতাই, চুরি, মাদক পরিবহন ও সংঘবদ্ধ অপরাধের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে টহল পরিকল্পনা সাজানো প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, থানাভিত্তিক জনবল ও যানবাহনের সক্ষমতা পর্যালোচনা করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সদস্য, নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা, সুরক্ষাসামগ্রী এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। মব পরিস্থিতি মোকাবিলা, উত্তেজনাপূর্ণ জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, মানবাধিকার রক্ষা, তথ্য সংগ্রহ এবং আধুনিক অপরাধ তদন্তের দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন। চতুর্থত, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার জন্য টহল দল ও থানার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে। আরও পড়ুন: বনানীতে স্পা-গেস্ট হাউজ ঘিরে ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগকোথাও পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তাঝুঁকি থাকলে তা দ্রুত মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাঠানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। পঞ্চমত, অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে হবে। যাতে সাধারণ মানুষ জানতে পারেন, তার অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ষষ্ঠত, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এতে বাহিনীর অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বাড়বে এবং জনগণের আস্থাও শক্তিশালী হবে। সপ্তমত, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। তবে এ সহযোগিতা যেন কোনো গোষ্ঠীর হাতে আইন প্রয়োগের ক্ষমতা তুলে না দেয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমের দায়িত্ব শুধু অপরাধের ঘটনা প্রকাশ করা নয়; বরং ঘটনার কারণ, প্রশাসনিক পদক্ষেপ, পুলিশের সক্ষমতা এবং নাগরিক নিরাপত্তার ঘাটতিও তথ্যভিত্তিকভাবে তুলে ধরা। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যেমন অনুসন্ধান করতে হবে, তেমনি পুলিশের ওপর হামলা কিংবা দায়িত্ব পালনে বাধার ঘটনাও গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা প্রয়োজন। কোনো নির্দেশনা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পেলে সেটিকে সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া, একাধিক সূত্রে তথ্য যাচাই এবং অভিযোগ ও প্রমাণের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ নীতি। একইভাবে জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়া, গণপিটুনি কিংবা পুলিশকে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অপরাধের বিচার হবে আইন অনুযায়ী; ব্যক্তিগত প্রতিশোধ কিংবা জনতার আবেগের ভিত্তিতে নয়। জনসাধারণকেও অপরাধের তথ্য পুলিশকে জানানো, সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিষয়ে যাচাইহীন গুজব না ছড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। পুলিশের সঙ্গে জনগণের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক তৈরি হলে অপরাধ প্রতিরোধ আরও কার্যকর হতে পারে।আরও পড়ুন: হামলা-হয়রানিতে চ্যালেঞ্জে পুলিশদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে পুলিশকে মাঠপর্যায়ে আরও দক্ষ, প্রশিক্ষিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও নিরাপদ করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা, মব পরিস্থিতি, রাজনৈতিক চাপ কিংবা দায়িত্ব পালনে বাধার অভিযোগ—যে সমস্যাই সামনে আসুক, তার সমাধান হতে হবে আইন, তথ্য ও জবাবদিহির ভিত্তিতে। রাতে পুলিশ সদস্যদের চলাচল নিয়ে যে আলোচনা রয়েছে, তার প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তবে কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা যেন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বকে দুর্বল না করে, সে বিষয়েও নজর রাখতে হবে।পুলিশকে দুর্বল করে নয়, বরং পেশাগত দক্ষতা, নৈতিকতা, জনআস্থা ও জবাবদিহি বাড়িয়েই অপরাধ দমন কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে অপরাধের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।কারণ, কার্যকর পুলিশ বাহিনী ছাড়া নিরাপদ সমাজ গঠন কঠিন। আর পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় তখনই, যখন অপরাধী তার পরিচয় বা প্রভাব নির্বিশেষে আইনের আওতায় আসে এবং সাধারণ নাগরিক নির্ভয়ে নিজের অধিকার ভোগ করতে পারেন। তাই রাষ্ট্র, প্রশাসন, পুলিশ ও জনগণ—সবার সম্মিলিত দায়িত্ব হলো এমন একটি আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে পুলিশ নিরাপদে দায়িত্ব পালন করবে এবং দেশের মানুষ নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা পাবে।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

১৯ অক্টোবর উদ্বোধন হচ্ছে ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যান, থাকছে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’

প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যান এবং সেখানে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ আগামী ১৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধন ও সুধী সমাবেশ শেষে একই দিন উদ্যানটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম। ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর বন্ধ থাকার পর নতুন সাজে নগরবাসীর জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে ঐতিহাসিক এই উদ্যান। জুলাইয়ের শহীদ ও বীর যোদ্ধাদের স্মরণে এখানে নির্মাণ করা হয়েছে বিশেষ ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। এর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি স্মরণ করার সুযোগ পাবেন। আরও পড়ুন,মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া সীমান্তে ১০ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা বিএসএফের, বিজিবির বাধায় ব্যর্থআধুনিকায়নের অংশ হিসেবে উদ্যানে যুক্ত করা হয়েছে হাঁটার পথ, পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটানোর ব্যবস্থা, রেস্তোরাঁ, আধুনিক লাইব্রেরি এবং শিশুদের জন্য নির্ধারিত খেলার জায়গা। পাশাপাশি রয়েছে কৃত্রিম পানির ফোয়ারা ও মনোরম জলধারা। এসব সুবিধার মাধ্যমে উদ্যানটিকে নগরবাসীর অবসর কাটানো ও বিনোদনের একটি আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সচিবালয়সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং পরিবেশকে মনোরম রাখতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কাজ করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রস্তুতি সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র আবদুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্যানটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হলে রাজধানীর বাসিন্দারা নতুন পরিবেশে অবসর কাটানো, হাঁটাচলা ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া সীমান্তে ১০ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা বিএসএফের, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর বা পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি ও স্থানীয় লোকজনের বাধায় পৃথক দুটি পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তে সতর্ক অবস্থান ও টহল জোরদার থাকায় বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের ভারতে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। রোববার, ১১ অক্টোবর ভোরে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রংমহল সীমান্তে ছয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। একই দিন সকালে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে আরও চারজনকে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি জানায়, গাংনীর রংমহল বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় দুই পুরুষ ও দুই নারীসহ মোট ছয়জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। আরও পড়ুন,সাক্ষীর বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য, পলককে থামিয়ে সতর্ক করলেন ট্রাইব্যুনালপরে সকাল ৮টার দিকে বিজিবি সীমান্তে অবস্থান জোরদার করলে বিএসএফের ১১ ব্যাটালিয়নের দীঘলকান্দি ক্যাম্প ওই ব্যক্তিদের ভারতের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। অন্যদিকে, সকাল পৌনে ৮টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ঠোটারপাড়া বিওপির নিয়ন্ত্রণাধীন সীমান্ত এলাকা দিয়ে আরও চারজনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তাঁদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী ছিলেন। বিজিবির তৎপরতায় সকাল ৮টার দিকে বিএসএফের এই প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নিয়মিত টহল কার্যক্রম জোরদার রয়েছে। বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থানের কারণে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং তা বিজিবির নিয়ন্ত্রণে আছে। দুই সীমান্তে পৃথক এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি ও সতর্কতা বজায় রেখেছে বিজিবি।

সাক্ষীর বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য, পলককে থামিয়ে সতর্ক করলেন ট্রাইব্যুনাল

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানি চলাকালে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের মধ্যে বাদানুবাদের ঘটনা ঘটেছে। শুনানির একপর্যায়ে প্রসিকিউশনের উদ্দেশে সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন।’ পরে সাক্ষীর বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য করায় পলককে থামিয়ে কম কথা বলতে সতর্ক করেন ট্রাইব্যুনাল। রোববার, ১১ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে বিচারকাজ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। এদিন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কর্মকর্তা মাহদী আমিন। জবানবন্দির একপর্যায়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের প্রশ্নের উত্তরে সাক্ষী একটি বিষয়কে ‘ভূতাপেক্ষ’ বলে উল্লেখ করেন। আরও পড়ুন,সোমবার থেকে দেশজুড়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রচারণার উদ্যোগএ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পলক প্রসিকিউশনের উদ্দেশে বলেন, তাঁর বিচার চলাকালে ধৈর্য ধরে কথা বলা উচিত। জবাবে প্রসিকিউটর বলেন, আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো আসামি এভাবে কথা বলতে পারেন না। আসামিপক্ষের বক্তব্য থাকলে আইনজীবীদের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে হবে। এ নিয়ে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা তৈরি হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে ট্রাইব্যুনাল পলককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন।’ কথা বলতে চাইলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে বলেও জানান বিচারক। পরে সাক্ষ্যগ্রহণের সময় একটি বক্তব্য বাদ দেওয়ার আবেদনকে কেন্দ্র করে পলক আবারও মন্তব্য করেন। এ পর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘একটু বসতে পারেন, দয়া করে কথা কম বলেন।’ পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে ওই বক্তব্য বাদ দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন পলক। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ এবং হত্যায় সহায়তার ঘটনায় জয় ও পলকের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তবে অভিযোগগুলো বিচারাধীন; আদালতের চূড়ান্ত রায়ে এগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।

সোমবার থেকে দেশজুড়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রচারণার উদ্যোগ

দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে সোমবার, ১২ অক্টোবর। এ কর্মসূচি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জার মাধ্যমে প্রচারণার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে তথ্য সংগ্রহের নামে কেউ অর্থ দাবি করলে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। গত ৮ অক্টোবর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, ১২ অক্টোবর থেকে দেশের সব এলাকায় একযোগে থানা ও পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে। এ জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড থানা তথ্যভাণ্ডারের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। কর্মসূচির প্রচারণা বার্তায় জানানো হয়েছে, সরকারের প্রশিক্ষিত ও পরিচয়পত্রধারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহ করবেন। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে কোন পরিবারের সহায়তা বেশি প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা হবে। তাই পরিবারের প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা তুলে ধরে সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। মসজিদে জুমার নামাজের আগে তিন মিনিটের ঘোষণার মাধ্যমে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। আরও পড়ুন,এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের তিন মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার দাবিপাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেউ টাকা চাইলে তা বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তথ্য দেওয়ার জন্য কোনো অর্থের প্রয়োজন নেই বলেও প্রচারণায় উল্লেখ থাকবে। অন্যদিকে, মন্দির, গির্জা ও বিহারে দুই মিনিটের ঘোষণার মাধ্যমে সঠিক তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হবে। একই সঙ্গে তথ্য সংগ্রহের সময় যেন কোনো বয়স্ক বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বাদ না পড়েন, সে জন্য তাঁদের খোঁজখবর নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কেউ অর্থ দাবি করলে ১০৯৮ নম্বরে জানানোর কথাও প্রচারণার বার্তায় উল্লেখ রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সঠিক তথ্য দেওয়া এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়ে সতর্ক থাকাকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

রাজনীতিরাজনীতি

আইনশৃঙ্খলা ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে সরকারের সমালোচনায় গোলাম পরওয়ার

আইনশৃঙ্খলা ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে সরকারের সমালোচনায় গোলাম পরওয়ার

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ইস্যুতে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর অভিযোগ, সরকার বিভিন্ন অজুহাত তুলে জনগণের যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটের বিষয়টি অস্বীকার করছে। রোববার, ১১ অক্টোবর দুপুরে যশোর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। আগামী ৩১ অক্টোবর খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ায় আয়োজিতব্য লং মার্চের প্রস্তুতি নিয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়। গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে সরকার নতুন নতুন বক্তব্য সামনে আনছে। ১১ দলীয় জোটের লং মার্চের মাধ্যমে পতিত সরকার ফিরে আসবে—এমন বক্তব্যকে তিনি সরকারের নতুন ন্যারেটিভ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে জনগণের যৌক্তিক দাবিকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারি দলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন পদে নিয়োগ এবং সার ডিলার নিয়োগ নিয়েও অভিযোগ তোলেন জামায়াতের এই নেতা। আরও পড়ুন,বন্ধ চিনিকল চালুর দাবি আমির হামজার, সরকারের বিরুদ্ধে দলীয়করণের অভিযোগতাঁর দাবি, যোগ্যতা বিবেচনা না করে দলীয় লোকজনকে বিভিন্ন জায়গায় বসানো হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সভায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়নি। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, খুলনায় পুলিশ সদস্যদের একা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘটনা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয়। অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য না দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আগামী ৩১ অক্টোবরের লং মার্চ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি জানান, সকাল ৮টায় ঢাকার বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে সংক্ষিপ্ত জনসভার মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর পদ্মা সেতু হয়ে প্রায় এক হাজার গাড়ির বহর কুষ্টিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করবে। প্রায় ১২ ঘণ্টার এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেবেন বলে জানান তিনি। লং মার্চের কারণে সাময়িক যাতায়াতের অসুবিধা হতে পারে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্যবসায়ী, পথচারী ও সাধারণ মানুষের কাছে আগাম দুঃখ প্রকাশ করেন জামায়াতের এই নেতা।

বন্ধ চিনিকল চালুর দাবি আমির হামজার, সরকারের বিরুদ্ধে দলীয়করণের অভিযোগ

বন্ধ চিনিকল চালুর দাবি আমির হামজার, সরকারের বিরুদ্ধে দলীয়করণের অভিযোগ

শপথ নেওয়ার পর গত সাড়ে ছয় মাসে সরকারি কোনো অর্থ আত্মসাৎ কিংবা দুর্নীতি করেননি বলে দাবি করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা। একই সময়ে দায়িত্ব পালন করা অন্য সংসদ সদস্যদেরও দুর্নীতিমুক্ত থাকার নিশ্চয়তা দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি দেশের বন্ধ চিনিকলগুলো চালু করে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর দাবি জানিয়েছেন এই সংসদ সদস্য। সম্প্রতি এক বক্তব্যে আমির হামজা বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর থেকে নিজের বিবেক ও সজ্ঞানে তিনি দাবি করছেন, সরকারি অর্থের এক টাকাও দুর্নীতি করেননি। তাঁর পাশে থাকা অন্য সংসদ সদস্যরাও একই নিশ্চয়তা দিতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। আমির হামজা আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৬৮ জন সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকেও একই ধরনের বক্তব্য আসবে। আরও পড়ুন,মক্কা চুক্তি নিয়ে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে: শফিকুর রহমানতবে বাকি ২১২ জন সংসদ সদস্য দুর্নীতি করেননি এমন নিশ্চয়তা দিতে পারলে তাঁরা রাজনীতি ছেড়ে দেবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দেশের চিনি উৎপাদন ও আমদানিনির্ভরতা নিয়েও কথা বলেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের এই সংসদ সদস্য। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন চিনির চাহিদা রয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোতে উৎপাদন কম হওয়ায় চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করতে বিদেশ থেকে চিনি আমদানি করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের বন্ধ চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করা গেলে স্থানীয়ভাবে চিনির উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এতে একদিকে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে চিনির বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হবে। আমির হামজা বলেন, দেশের নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগিয়ে চিনির উৎপাদন বাড়াতে হবে। তাঁর ভাষ্য, চিনিকলগুলোর অধীনে প্রায় ৭২০ বিঘা জমি পড়ে রয়েছে। এত সম্পদ থাকার পরও কেন বিদেশ থেকে চিনি আমদানি করতে হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। এদিকে সার, বীজ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের বিষয়টিও তুলে ধরেন এই সংসদ সদস্য। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের যথেষ্ট মনোযোগ নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে দলীয়করণের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা চলছে বলেও সরকারের সমালোচনা করেন আমির হামজা।

মক্কা চুক্তি নিয়ে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে: শফিকুর রহমান

মক্কা চুক্তি নিয়ে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে: শফিকুর রহমান

মক্কা চুক্তি নিয়ে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। পাশাপাশি বাংলাদেশের শিক্ষা, তৈরি পোশাক খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। রোববার, ১১ অক্টোবর সকালে তুরস্ক সফর ও সৌদি আরবে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরেন শফিকুর রহমান। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন জামায়াত আমির। শফিকুর রহমান বলেন, তুরস্কে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশকে তুলে ধরা। সফরকালে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে বৈঠক ও আলোচনায় বাংলাদেশের শিক্ষা, তৈরি পোশাক খাত এবং মক্কা চুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। আরও পড়ুন,দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষায় নেতা-কর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ বিএনপিরএ সময় বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। জামায়াত আমির বলেন, বিশ্ব এখন অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কোনো ধরনের হামলাই বিশ্বের জন্য কল্যাণকর নয়। আলোচনার পথ ধরেই বিশ্বে শান্তি ফিরিয়ে আনা উচিত। এর আগে গত ৭ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজ’-এ অংশ নিতে দেশটিতে যান শফিকুর রহমান। আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে বাংলাদেশ ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, গবেষক এবং বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সফর শেষে দেশে ফিরে শফিকুর রহমান তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, শিক্ষা, তৈরি পোশাক খাত এবং বিশ্বশান্তির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষায় নেতা-কর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ বিএনপির

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষায় নেতা-কর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ বিএনপির

আসন্ন দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। কোনো মহল যাতে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার কথা জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে দলটি। স্থানীয় পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আরও পড়ুন,নতুন লোগো-ওয়েবসাইট উন্মোচন করল জাগপা, সম্মেলন ২ জানুয়ারিপাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে একটি দুর্গাপূজা পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বৈঠকে মূল আলোচনার বিষয় ছিল আসন্ন দুর্গাপূজা কীভাবে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করা যায়। দেশের গণতান্ত্রিক সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি মহল অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। এসব বিষয়ে দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে, বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়। ব্যাংকিং খাত ও প্রবাসী আয়ের প্রবাহে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা করেন নেতারা।

সারাবাংলা

কালকিনিতে আড়িয়াল খাঁ নদীতে অভিযান, ১ হাজার ৭০০ মিটার অবৈধ জাল উদ্ধার করে পুড়িয়ে ধ্বংস

কালকিনিতে আড়িয়াল খাঁ নদীতে অভিযান, ১ হাজার ৭০০ মিটার অবৈধ জাল উদ্ধার করে পুড়িয়ে ধ্বংস

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় আড়িয়াল খাঁ নদীতে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৭০০ মিটার অবৈধ জাল উদ্ধার করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।রোববার (তারিখ সংযোজনযোগ্য) কালকিনি উপজেলার দৌলতখা ইউনিয়নের সিডিখান এলাকার মিয়ার হাট থেকে জালিয়র হাট পর্যন্ত আড়িয়াল খাঁ নদীতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।আরও পড়ুন,সোনারগাঁয়ে বর্জ্যের বিনিময়ে গাছ উপহার, পরিবেশ রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগঅভিযানে নেতৃত্ব দেন কালকিনি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা প্রণব কুমার। এ সময় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা তাঁকে সহযোগিতা করেন।মা ইলিশের প্রজনন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে নদীতে অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধের লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উদ্ধার করা ১ হাজার ৭০০ মিটার জাল ঘটনাস্থলে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।মা ইলিশ সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সোনারগাঁয়ে বর্জ্যের বিনিময়ে গাছ উপহার, পরিবেশ রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

সোনারগাঁয়ে বর্জ্যের বিনিময়ে গাছ উপহার, পরিবেশ রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

পরিবেশ দূষণ রোধ ও সবুজায়ন কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পরিত্যক্ত বর্জ্যের বিনিময়ে পরিবেশবান্ধব গাছ উপহার দেওয়ার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোনারগাঁ জনকল্যাণ যুব সংস্থার সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বৃক্ষমেলা ও বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচিতে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।রোববার (১১ অক্টোবর) উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের আল-ফোরকান মডেল স্কুল মাঠে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ‘পরিবেশ দূষণকারী পরিত্যক্ত পণ্যের বিনিময়ে পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ উপহার’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এ উদ্যোগে প্লাস্টিকসহ অপচনশীল বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল) চেয়ারম্যান ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম ওয়ালিউর রহমান (আপেল)।আরও পড়ুন,রায়পুরাতে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনসোনারগাঁ জনকল্যাণ যুব সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা ও সনমান্দী হাছান খান উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান মনিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সোনারগাঁ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাসুদ ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ।বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। অন্যদিকে, প্লাস্টিক ও বিভিন্ন অপচনশীল বর্জ্য যত্রতত্র ফেলে রাখার কারণে মাটি, পানি ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এসব বর্জ্যের বিনিময়ে সাধারণ মানুষের হাতে গাছ তুলে দেওয়ার উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক হবে।তারা আরও বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণে শুধু ব্যক্তিগত উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ সমাজ গড়ে তোলা সহজ হবে। এ ধরনের ব্যতিক্রমী কর্মসূচি মানুষকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করার পাশাপাশি পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল করে তুলবে।অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকার যুবসমাজ উপস্থিত ছিলেন।

রায়পুরাতে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

রায়পুরাতে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

 নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার হাসনাবাদ বাজারের ব্যবসায়ী মো. ফেরদৌস ভূঁইয়া তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে লিখিত বক্তব্যে ফেরদৌস ভূঁইয়া বলেন, তিনি প্রায় ৩৫ বছর ধরে হাসনাবাদ বাজারে ব্যবসা করে আসছেন। ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি করিমগঞ্জ আদর্শ হাফিজিয়া মাদ্রাসার সভাপতি, নরসিংদী জেলা এলপিজি গ্যাস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি, নরসিংদী জেলা ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের রায়পুরা উপজেলার মাস্টার এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক জীবনে হাসনাবাদ বাজারে টেলিকম ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে ‘লুমা ইলেকট্রনিক অ্যান্ড মোবাইল বাজার’ নামে দুটি দোকান প্রতিষ্ঠা করেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।আরও পড়ুন,গোপালগঞ্জ জেলা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুব আলী খান – এর জানাযার নামাজ সম্পন্নলিখিত বক্তব্যে ফেরদৌস ভূঁইয়া দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সঠিক নয়। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব, মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে যেসব বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে দাবি করেন তিনি। পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন ফেরদৌস ভূঁইয়া।হাসনাবাদ বাজারে একটি তিনতলা ভবন নির্মাণ নিয়ে বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা হয়েছে। এরপরও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশ করায় তিনি সামাজিক ও মানসিকভাবে বিব্রত হয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদে কোনো ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থাকলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও ব্যাখ্যা প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। নিজের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সুনাম ও সামাজিক অবস্থান অক্ষুণ্ন রাখার প্রত্যাশা জানিয়ে ফেরদৌস ভূঁইয়া তাঁর বক্তব্য যথাযথভাবে প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানান।

গোপালগঞ্জ জেলা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি  মাহবুব আলী খান – এর জানাযার নামাজ সম্পন্ন

গোপালগঞ্জ জেলা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুব আলী খান – এর জানাযার নামাজ সম্পন্ন

গোপালগঞ্জের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুব আলী খান (৭০) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)।শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ১-টার দিকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী মাহবুব আলী খান স্বাধীনতার আগে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। সর্বশেষ ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পান। এর আগে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।আরও পড়ুন,সাতক্ষীরায় প্রীতিভোজের আয়োজনে হামলা, ভাঙচুর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর থেকে মাহবুব আলী খান আত্মগোপনে ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক কন্যা ও এক ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।আজ রোববার (১১-অক্টোবর) বাদ জোহর গোপালগঞ্জের কেন্দ্রীয় ঈদগাঁহ ময়দানে তার জানাজার নামাজ পরান থানাপাড়া মসজিদের ইমাম শিবলী আহমেদ। এতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জেলা আওয়ামী লীগেরসহ-সভাপতি মুন্সি আতিয়ার রহমান, আইন বিষয়ক সম্পাদ এ্যাডভোকেট জুলকদর রহমান, দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হক, সাবেক পৌর কাউন্সিলর এম মাহাবুব আলী সোহেল ও আল-আমিন ইসলামসহ সামাজিক রাজনৈতিক ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেন। জানাযায় প্রায় তিন সহস্রাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। পরে বেদগ্রাম পৌর কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

আন্তর্জাতিক

দিল্লি-চেন্নাইগামী ইন্ডিগোর বিমানে পাওয়ার ব্যাংক থেকে আগুন, হায়দরাবাদে জরুরি অবতরণ

দিল্লি-চেন্নাইগামী ইন্ডিগোর বিমানে পাওয়ার ব্যাংক থেকে আগুন, হায়দরাবাদে জরুরি অবতরণ

ভারতের দিল্লি থেকে চেন্নাইগামী ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে পাওয়ার ব্যাংক থেকে আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। এ পরিস্থিতিতে ফ্লাইটটি ঘুরিয়ে হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। রোববার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বিমান সংস্থা ইন্ডিগো। সংস্থাটি জানায়, দিল্লি থেকে চেন্নাইগামী ইন্ডিগোর ফ্লাইট ৬ই-৬১১৫-এ এক যাত্রীর ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। পরে কেবিন ক্রুরা দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেন। নির্ধারিত নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করে পাইলটরা বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করেন এবং হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করান।আরও পড়ুন,ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের মধ্যেই পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিডিওতে বিমানের ওপরের দিকে লাগেজ রাখার জায়গায় আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এ সময় কয়েকজন যাত্রী ব্যাগ দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। হঠাৎ এমন ঘটনায় বিমানের ভেতরে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন কি না কিংবা বিমানের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায় তারা দুঃখিত। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে জলখাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং নিয়মিত সর্বশেষ তথ্য জানানো হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। বিমান সংস্থাটি আরও বলেছে, যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিমানে পাওয়ার ব্যাংক ও লিথিয়াম ব্যাটারিযুক্ত ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে এ ঘটনা।

৮ ঘন্টা আগে

রাজধানী

মিরপুরে হোটেল নিউ গোল্ডেনে নারী বাণিজ্য ও সোহেলের দাপট

মিরপুরে হোটেল নিউ গোল্ডেনে নারী বাণিজ্য ও সোহেলের দাপট

রাজধানীর মিরপুরের দারুস সালাম থানাধীন মাজার রোড এলাকায় অবস্থিত হোটেল নিউ গোল্ডেন আবাসিককে ঘিরে নারী বাণিজ্য ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। হোটেলটির কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা এবং একাধিকবার সংবাদ প্রকাশের পরও অভিযোগগুলোর বিষয়ে দৃশ্যমান তদন্ত বা কার্যকর পদক্ষেপ হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন হোটেলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সোহেল নামের এক ব্যক্তি। স্থানীয় সূত্রের দাবি, হোটেলটিকে কেন্দ্র করে একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা আগত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং হোটেলের ভেতরে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। সাংবাদিকরা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাঁদেরও ওই চক্রের মুখোমুখি হতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে হোটেলটির প্রকৃত কার্যক্রম সম্পর্কে স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ এবং অভিযোগ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীর-সায়েদাবাদ এলাকায় একাধিক আবাসিক হোটেল ঘিরে অভিযোগসাংবাদিকতার অন্যতম দায়িত্ব হলো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অভিযোগ যাচাই করা, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন প্রকাশ করা। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বাধা, ভয়ভীতি কিংবা প্রভাব বিস্তারের মুখে পড়তে হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও জনস্বার্থে তথ্য অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। হোটেলটির বৈধতা বা অনুমোদন রয়েছে কিনা সেটিও ক্ষতিয়ে দেখা উচিত। গতকাল একটি ভিডিও বার্তায় দেখা যায় একাধিক নারী নিয়ে বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অপরাধ করছে সোহেলসহ সোহেলের দালালচক্র।হোটেল নিউ গোল্ডেনকে ঘিরে তথ্য সংগ্রহের সময় দালালচক্রের মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগও এ কারণে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। হোটেলটিতে কারা যাতায়াত করেন, কী ধরনের সেবা দেওয়া হয়, প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না এবং কোনো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তবে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহের সময় কোনো পক্ষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও আইনগত অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।আরও পড়ুন: মিরপুর মাজার রোডে ‘নিউ গোল্ডেন’ হোটেল ঘিরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সিন্ডিকেটঅভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হোটেলটির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে সোহেল প্রশাসন, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ক্ষমতা প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি দাবি করেন যে স্থানীয় পুলিশ ও মহল্লার লোকজনকে জানিয়ে তিনি এসব কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কেউ ব্যবস্থা নিতে গেলে পরিণতি ভালো হবে না। এ ছাড়া তাঁর বক্তব্য হিসেবে প্রচারিত কথাবার্তায় নিজের প্রভাব সম্পর্কে আরও কঠোর মন্তব্য করার অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য, কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ, অডিও-ভিডিও কিংবা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ রয়েছে। যদি সত্যিই কোনো ব্যক্তি প্রশাসনিক যোগাযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা স্থানীয় প্রভাবের কথা বলে আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পাওয়ার দাবি করেন, তাহলে বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে। আইন সবার জন্য সমান কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পরিচয় ও প্রভাবের কারণে আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না।রাজধানীর আবাসিক হোটেলগুলোতে আইনসম্মত কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। কোনো হোটেলের বিরুদ্ধে নারী শোষণ, মানব পাচার, মাদক সরবরাহ কিংবা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত থাকার নির্দিষ্ট অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।আরও পড়ুন: আব্দুল্লাহপুরের ‘গ্রীন গার্ডেন’: আবাসিক হোটেলের আড়ালে কী চলছে?এ ক্ষেত্রে হোটেলটির নিবন্ধন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন, অতিথিদের তথ্য সংরক্ষণের বিধি, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে আইনসম্মত অনুসন্ধান করা যেতে পারে। তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আর অভিযোগের সত্যতা না মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও আইনগত অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে হবে। দারুস সালাম থানা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য বা সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যোগসাজশের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। আরও পড়ুন: মালিবাগে ‘শিখর’ ও ‘সিটি প্যালেজ’ ঘিরে অভিযোগসাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা দরকার। কোনো পক্ষ যদি ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হুমকি দিয়ে থাকে, তাহলে অভিযোগকারীদের উচিত প্রমাণসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা। সাংবাদিকদেরও নিরাপত্তা বজায় রেখে তথ্য সংগ্রহ, বক্তব্য যাচাই এবং প্রাসঙ্গিক নথি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, মিরপুরের মাজার রোডের হোটেল নিউ গোল্ডেনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা এখন গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বার্থে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট বক্তব্য ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশিত। আরো বিস্তারিত আসছে...

১৫ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৫ জন

খেলাধুলা

টেস্টে হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিক, ২৪০ রানেই অলআউট আফগানিস্তান

টেস্টে হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিক, ২৪০ রানেই অলআউট আফগানিস্তান

আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে দারুণ বোলিং করেছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনেই আফগানিস্তানকে ২৪০ রানে অলআউট করে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পেয়েছে টাইগাররা। বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ তুলে নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। এর মধ্যে রয়েছে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক। রোববার, ১১ অক্টোবর, দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করার সময় আফগানিস্তানের সংগ্রহ ছিল চার উইকেটে ২১১ রান। সেখান থেকে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে দ্রুতই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতেই উইকেট এনে দেন পেসার এবাদত হোসেন। দলীয় ২১৯ রানে ১০৩ বলে ৩২ রান করা ইকরাম আলিখিল বোল্ড হয়ে ফিরে যান সাজঘরে। এরপর বল হাতে ঝড় তোলেন হাসান মাহমুদ। ইনিংসের ৮৩তম ওভারে বোলিংয়ে এসে ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে টানা তিন উইকেট তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। এক ওভারেই ইসমত, কায়েস ও জিয়া-উর-রেহমানকে ফিরিয়ে আফগান ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা দেন এই পেসার। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করা তৃতীয় বোলার হলেন হাসান মাহমুদ। আরও পড়ুন,সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের জবাব গোলেই দিলেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদোএকই সঙ্গে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে প্রথম হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়লেন তিনি। এর আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছিলেন স্পিনার অলক কাপালি ও সোহাগ গাজী। হ্যাটট্রিকের পরও থামেননি হাসান। ইয়ামিন আহমদজাইকে আউট করে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। তবে আফগানিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যেও ব্যতিক্রম ছিলেন অধিনায়ক রহমত শাহ। নিজের অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতক এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ সালিম আউট হলে ২৪০ রানেই গুটিয়ে যায় আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস। বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ পাঁচটি এবং এবাদত হোসেন চারটি উইকেট শিকার করেন। আফগানিস্তানকে দ্রুত অলআউট করে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পাওয়ায় ম্যাচে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এখন দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে টাইগাররা কতটা এগিয়ে যেতে পারে, সেটিই হয়ে উঠেছে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ দিক।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!