দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

আজকের আবহাওয়া

ঢাকা 999.3 hPa
27.3° 97%
15mm
চট্টগ্রাম 1000.5 hPa
26.7° 97%
80° 6mm
রাজশাহী 997.8 hPa
29.5° 96%
20° 15mm
খুলনা 999.1 hPa
29.8° 90%
15mm
বরিশাল 999.5 hPa
28.1° 94%
15mm
সিলেট 999.6 hPa
26.5° 96%
15mm
রংপুর 997.3 hPa
28.1° 95%
20° 15mm
ময়মনসিংহ 998.8 hPa
28° 96%
50° 15mm
Weather

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

উজাড় হচ্ছে লামার সংরক্ষিত বন, রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

উজাড় হচ্ছে লামার সংরক্ষিত বন, রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

বান্দরবানের লামা উপজেলার বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল একসময় ছিল ঘন সবুজে আচ্ছাদিত| পাহাড়ের ঢালে সারি সারি গাছ, জীববৈচিত্রের সমৃদ্ধ আবাসস্থল এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ এই বনাঞ্চল আজ নানা কারণে সংকটের মুখে| স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত অবৈধ গাছ কাটা, জোত পারমিটের অপব্যবহার এবং সংঘবদ্ধ কাঠ পাচারের কারণে প্রতিনিয়ত উজাড় হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল| সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বন রক্ষার দায়িত্বে থাকা একটি অংশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেই উঠেছে এসব অনিয়মে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহযোগিতার অভিযোগ|আরও পড়ুন: প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমস্থানীয় বাসিন্দা, কাঠ ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ অনুযায়ী, লামা বন বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা এম কবির উদ্দিন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এলাকায় কিছু অসাধু কাঠ ব্যবসায়ীকে নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে ওঠে| অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের মাধ্যমে জোত পারমিটের অপব্যবহার, অতিরিক্ত গাছ কাটা এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে কাঠ পাচারের সুযোগ ˆতরি করা হচ্ছে| তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা|স্থানীয়দের দাবি, বন সংরক্ষণ, অবৈধ গাছ কাটা প্রতিরোধ এবং সরকারি বনসম্পদ রক্ষার দায়িত্ব বন বিভাগের হলেও বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে| তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও বন বিভাগের একটি অংশের যোগসাজশে দিনের পর দিন নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে|অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গাছ কাটা, নতুন জোত সৃষ্টি কিংবা জোত বিক্রি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হলেও বাস্তবে বিভিন্ন কৌশলে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে| স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে নিয়ম ভেঙে জোত পারমিট ইস্যু করা হচ্ছে এবং সেই পারমিট ব্যবহার করে অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে|আরও পড়ুন:  অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে করণিক ভুলের স্বীকারোক্তি, তদন্তে কঠোর নির্দেশস্থানীয়দের অভিযোগ, রেঞ্জ কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বনজ সম্পদকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে| এর ফলে পাহাড়ি বনাঞ্চলে আগের তুলনায় অনেক বেশি গাছ নিধনের ঘটনা ঘটছে|আরও পড়ুন: একযোগে ৩৩ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকারজোত পারমিট মূলত নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও নির্দিষ্ট পরিমাণ গাছ পরিবহনের অনুমোদন হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার কথা| কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে একটি পারমিট ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকা থেকে অতিরিক্ত গাছ পরিবহন করা হচ্ছে|নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাঠ ব্যবসায়ী বলেন, বন বিভাগ থেকে যতসংখ্যক জোত পারমিট ইস্যু করা হয়েছে, সেই হিসাব অনুযায়ী যে পরিমাণ কাঠ বাজারে আসার কথা, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি কাঠ প্রতিদিন বিভিন্ন ডিপো ও বাজারে পৌঁছাচ্ছে| তার ভাষ্য, একটি ˆবধ পারমিট দেখিয়ে একাধিক বাগান কিংবা অন্য উৎসের গাছ পরিবহন করা হচ্ছে| ফলে কাগজে-কলমে ˆবধতা থাকলেও বাস্তবে অতিরিক্ত গাছ কাটা এবং পাচারের সুযোগ ˆতরি হচ্ছে|আরও পড়ুন:  সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আবারও আদালতে শুনানিতিনি আরও বলেন, একবার কাঠ গাড়িতে উঠে ডিপো পার হয়ে গেলে পরে কোন কাঠ কোন জোতের সেটা প্রমাণ করা খুব কঠিন হয়ে যায়| এ সুযোগটাই কাজে লাগানো হয়| তার দাবি, বড় ব্যবসায়ীরা সাধারণত প্রশাসনিক জটিলতায় পড়েন না| বরং ছোট ব্যবসায়ীদের কাঠ বেশি জব্দ হয়|এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, লামা বনাঞ্চল থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কাঠ বিভিন্ন স্থানে পাচার হচ্ছে| এসব কাঠের বাজারমূল্য লাখ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়| তাদের দাবি, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা অর্থের বিনিময়ে কাঠ পরিবহনে সহযোগিতা করেন| ফলে নিয়মিতভাবে কাঠবোঝাই ট্রাক ও পিকআপ বিভিন্ন সড়ক দিয়ে বনাঞ্চল থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে|একাধিক বাসিন্দা বলেন, দূর থেকে পাহাড়গুলো এখনও সবুজ দেখালেও ভেতরে প্রবেশ করলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়| বহু এলাকায় বড় বড় গাছ কেটে নেওয়ায় বনভূমির ভেতর ফাঁকা হয়ে গেছে| কোথাও কোথাও শুধু ছোট গাছ ও ঝোপঝাড় রয়ে গেছে|আরও পড়ুন:  তারেক রহমানকে উরসুলা ফন ডের লায়েনের আমন্ত্রণস্থানীয় পরিবেশ সচেতনদের মতে, এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যেই লামার অনেক বনাঞ্চল পরিবেশগত ভারসাম্য হারাবে| এতে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি পাহাড় ধস, ভূমিক্ষয় ও জলবায়ু ঝুঁকিও বাড়বে|সম্প্রতি বনাঞ্চল থেকে কাঠ পরিবহনের সময় একটি ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় আসে বিষয়টি| জানা গেছে, গত ২৩ জুন রূপসীপাড়া এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্পের সদস্যরা সন্দেহজনকভাবে কাঠবোঝাই দুটি গাড়ি আটক করেন| আটকের সময় সেনাসদস্যরা জোতের মালিক হিসেবে পরিচিত শফিককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি দাবি করেন, কাঠগুলো তার নয়|আরও পড়ুন: শিশু ধর্ষণের ঘটনায় এক আসামির মৃত্যুদণ্ডশফিকের ভাষ্য অনুযায়ী, গাছগুলো জহির নামের আরেক ব্যক্তির| তিনি তার জোত পারমিট ব্যবহার করে রূপসীপাড়া এলাকা থেকে কাঠ গাড়িতে তুলেছেন| এই বক্তব্য সামনে আসার পর একটি পারমিট অন্য ব্যক্তি ব্যবহার করতে পারেন কি না সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে আসে| বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সেনাবাহিনীর মাধ্যমে জব্দ হওয়া কাঠের ˆবধতা যাচাই করা হচ্ছে| সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বন আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে|সূত্র জানায়, জব্দকৃত কাঠের উৎস, পারমিটের ˆবধতা এবং পরিবহনের নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এসব বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে| ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত জোতের মালিক শফিক বলেন, নির্ধারিত ডিপো থেকে কাঠ লোড না করাটা তার ভুল হয়েছে| প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যার পর লামা বন বিভাগের কার্যালয়ে বিভিন্ন কাঠ ব্যবসায়ীর যাতায়াত লক্ষ্য করা যায়| এসব ˆবঠকে কাঠ পরিবহনের অনুমতি, জোত পারমিট এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়|আরও পড়ুন: কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ৯, টানা বৃষ্টিতে চরম ঝুঁকিযদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি| এসব ˆবঠককে ঘিরে নানা ধরনের প্রশ্ন ˆতরি হলেও বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন তদন্ত হয়নি| তবে পরিবেশবিদদের মতে, পাহাড়ি বন শুধু কাঠের উৎস নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক প্রতিবেশ ব্যবস্থা| নিয়মবহির্ভূত গাছ কাটার ফলে মাটির উর্বরতা কমে যায়, পাহাড়ের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয় এবং বৃষ্টির সময় ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ে| এছাড়া বন্যপ্রাণীর বিচরণক্ষেত্র ধ্বংস হওয়ায় জীববৈচিত্র্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়|আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে সশস্ত্র হামলা: ৩ যুবককে গুলি করে হত্যা, থমথমে এলাকাস্থানীয়দের মতে, বন উজাড়ের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে লামার পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে| অতীতে বিভিন্ন সময় বন বিভাগের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও কার্যকর তদন্ত কিংবা দৃশ্যমান শাস্তির নজির খুব কম| বন রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহির আওতায় আনা না হলে অবৈধ গাছ কাটা ও কাঠ পাচার বন্ধ করা সম্ভব হবে না| তারা অবৈধ জোত পারমিট ইস্যু, কাঠ পরিবহন এবং বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন| পাশাপাশি বনাঞ্চলে সেনাবাহিনী, বন বিভাগ ও প্রশাসনের যৌথ নজরদারি বাড়ানোরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা|অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লামা সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা এম কবির উদ্দিন বলেন, রূপসীপাড়া এলাকায় বন বিভাগের কোনো কাঠের ডিপো নেই| তার ভাষ্য, গাছ ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে গাড়িতে কাঠ তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন| পরে সেনাবাহিনী গাড়ি দুটি আটক করলে বন বিভাগকে জানানো হয় এবং বন বিভাগ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাঠ জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে|একজনের নামে ইস্যু করা জোত পারমিট অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যার নামে পারমিট ইস্যু করা হয়েছে কেবল তিনিই ওই জোতের কাঠ পরিবহনের অধিকারী| এছাড়া নির্ধারিত ডিপোতে বন বিভাগের সদস্যদের উপস্থিতিতেই কাঠ গাড়িতে তোলার নিয়ম রয়েছে| তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে অবৈধ জোত পারমিট প্রদান কিংবা অর্থের বিনিময়ে অনিয়মে সহযোগিতার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন|আরও পড়ুন: বনানীতে অপহরণের অভিযোগে চাঞ্চল্য তথ্য, উদ্ধার হল শিশুস্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অভিযোগগুলো যেহেতু সরাসরি বন বিভাগের কার্যক্রম ও সরকারি সম্পদ রক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাই বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন| যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে| আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া উচিত| বন রক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে ¯^চ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিয়মিত নজরদারির কোনো বিকল্প নেই বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা|

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

সংসদে অর্থমন্ত্রীর দাবি, এক বছরে শেখ হাসিনার খাবারে ব্যয় ৩৫ কোটি টাকা

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক বছরের খাবার খরচ ৩৫ কোটি টাকা ছিল বলে জাতীয় সংসদে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান (বেলাল)-এর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।অর্থমন্ত্রী বলেন, মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি, বেদী, ব্রোঞ্জ, তামা ও মার্বেল পাথরের স্থাপনা নির্মাণ এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল সময় গণনার বোর্ড স্থাপনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও আরো পড়ুন , ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কাবিভাগের মাধ্যমে মোট ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে।সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান জানতে চান, এসব ব্যয়ের নিরীক্ষা বা তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না এবং অনিয়ম বা অপচয়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি আরও বলেন, মুজিববর্ষের ব্যয় আগের সরকারের ব্যয়ের একটি অংশমাত্র। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক বছরের খাবার খরচও ৩৫ কোটি টাকা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।অর্থমন্ত্রী জানান, বিগত সরকারের বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের তথ্য ধাপে ধাপে যাচাই করা হচ্ছে। সব তথ্য পর্যালোচনা শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা

ঢাকাসহ দেশের ২০ জেলার মানুষের জন্য জরুরি আবহাওয়ার সতর্কতা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। রাতের মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।রোববার দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য রাত ১টা পর্যন্ত দেওয়া বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।আবহাওয়া অফিস বলছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, আরো পড়ুন , চীনের করিডোর প্রস্তাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদেরময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।এ কারণে বিকেল ৪টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত উল্লিখিত অঞ্চলের সব অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।এ অবস্থায় নৌযান চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি খোলা জায়গায় অবস্থান না করা এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

চীনের করিডোর প্রস্তাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

চীন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে যুক্ত করে প্রস্তাবিত ‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর’ বা সিএমবিসি আবারও আলোচনায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর প্রকল্পটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি যেমন বাংলাদেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে, তেমনি এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বড় ধরনের অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও।প্রস্তাবিত এই করিডোরের মাধ্যমে চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরের সঙ্গে মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে চীনের ভারত মহাসাগরে প্রবেশ সহজ হবে। অন্যদিকে আরো পড়ুন , সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারাবাংলাদেশ উন্নত যোগাযোগ, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ পেতে পারে।তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু যোগাযোগ অবকাঠামো তৈরি করলেই অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত হয় না। বর্তমানে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। ফলে শিল্প সক্ষমতা ও রপ্তানি বাড়ানো না গেলে এই করিডোর বাংলাদেশকে আরও বেশি আমদানিনির্ভর বাজারে পরিণত করতে পারে।এদিকে করিডোরের সম্ভাব্য রুট মিয়ানমারের সংঘাতপূর্ণ রাখাইন রাজ্যের মধ্য দিয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকিও বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।তাদের মতে, বাংলাদেশের উচিত জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্পটির সম্ভাব্য অর্থনৈতিক লাভ, ঋণ ঝুঁকি, পরিবেশগত প্রভাব, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক ভারসাম্য গভীরভাবে মূল্যায়নের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া।বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ধাপে ধাপে বাস্তবসম্মত যোগাযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন, রপ্তানিমুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারলেই এই করিডোর বাংলাদেশের জন্য প্রকৃত অর্থে লাভজনক হতে পারে।

সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারা

রাজনীতির এক বর্ষীয়ান অভিভাবককে শেষ বিদায় জানালো দেশ। সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার প্রবেশমুখে।রোববার বাদ আসর অনুষ্ঠিত এ জানাজায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সরকারি দলের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আরো পড়ুন , ২৬ থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও চূড়ান্ত তালিকা প্রিন্ট।আলমগীর এবং বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান মরহুমের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, সততা ও গণতন্ত্রে অবদানের কথা স্মরণ করেন। তারা মহান আল্লাহর কাছে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন এমন একজন রাজনীতিক, যাকে নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ ছিল না। তার কর্মময় জীবন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।জানাজা শেষে সংসদ প্রাঙ্গণের পাশের কবরস্থানে রাষ্ট্রের এই প্রবীণ রাজনীতিককে দাফন করা হয়।এর আগে রোববার ভোরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

রাজনীতিরাজনীতি

বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে স্বেচ্ছাসেবক দলের জরুরি নির্দেশনা

বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে স্বেচ্ছাসেবক দলের জরুরি নির্দেশনা

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের প্রতি জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।শনিবার দলের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার, ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।আরও  পড়ুন, বন্যা মোকাবিলায় এনসিপির জরুরি সহায়তা টিম গঠনএছাড়া দুর্গত মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাবার স্যালাইন বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিশু, নারী, বয়স্ক, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।একই সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকায় পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানি ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান দেশের সব ইউনিটের নেতাকর্মীদের এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

বন্যা মোকাবিলায় এনসিপির জরুরি সহায়তা টিম গঠন

বন্যা মোকাবিলায় এনসিপির জরুরি সহায়তা টিম গঠন

চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ‘ইমার্জেন্সি ক্রাইসিস রেসপন্স টিম’ গঠন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।শুক্রবার দলটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই টিম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ, মানবিক সহায়তা এবং উদ্ধার কার্যক্রমে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে।আরও পড়ুন, আজ ১২ জুলাই: বিএনপির আন্দোলনের মোড় ঘোরানো দিনবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্যাদুর্গত এলাকায় দ্রুত খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং উদ্ধার কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে টিমটি কাজ করবে।এনসিপি জানিয়েছে, টিমে একাধিক সমন্বয়কারী ও স্বেচ্ছাসেবক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবীরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা নিতে পারবেন।দলটির আশা, সমন্বিত এই উদ্যোগ বন্যাকবলিত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে এবং উদ্ধার কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে ভূমিকা রাখবে।

আজ ১২ জুলাই: বিএনপির আন্দোলনের মোড় ঘোরানো দিন

আজ ১২ জুলাই: বিএনপির আন্দোলনের মোড় ঘোরানো দিন

২০২৩ সালের ১২ জুলাই রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশ থেকে ‘এক দফা’ কর্মসূচি ঘোষণার মধ্য দিয়ে যুগপৎ আন্দোলনের নতুন পর্যায়ের সূচনা করে বিএনপি ও তাদের রাজনৈতিক মিত্ররা। সেই ঘটনার তিন বছর পূর্ণ হলো আজ।সেদিন সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে ‘এক দফা’ ঘোষণা করেন। একই দিনে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও রাজধানীর পৃথক স্থানে সমাবেশ করে অভিন্ন দাবির প্রতি সমর্থন জানায়।বিএনপির দাবি, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর ঘোষিত ‘১০ দফা’ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ১২ জুলাইয়ের ‘এক দফা’ আন্দোলন সরকারবিরোধী কর্মসূচিকে নতুন গতি দেয়। আরও পড়ুন, ‘ভোটে অনিয়ম হলে ছাড় দেওয়া হবে না’ : সারজিস আলমদলটির নেতারা মনে করেন, পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।অন্যদিকে সে সময় সরকার ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিএনপির এসব দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।২০২৩ সালের জুলাইজুড়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগও সামনে আসে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২-২৩ সালের আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হিসেবে আলোচিত হয়। বিভিন্ন পক্ষ এর প্রভাব ও গুরুত্ব নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করলেও, ১২ জুলাইয়ের ‘এক দফা’ ঘোষণা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

‘ভোটে অনিয়ম হলে ছাড় দেওয়া হবে না’ : সারজিস আলম

‘ভোটে অনিয়ম হলে ছাড় দেওয়া হবে না’ : সারজিস আলম

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট গণনায় কোনো ধরনের কারচুপি বা অনিয়মের চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।শুক্রবার রাতে রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসনের কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভোটের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে জনগণ তা মেনে নেবে না।আরও পড়ুন, 'জামায়াতে দলীয় লেজুড়বৃত্তির সুযোগ নেই' : গোলাম পরওয়ারসারজিস আলম বলেন, অতীতে প্রশাসনিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে যেভাবে নির্বাচন পরিচালিত হয়েছে, সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের প্রত্যাশার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিষ্ঠান বা প্রশাসনের অংশ কাজ করলে তরুণ প্রজন্ম তার প্রতিবাদ করবে।সমাবেশে এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিকেলে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির মাধ্যমে নগরের আলুপট্টি মোড় থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত পদযাত্রা করেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

সারাবাংলা

বড়বিল ইউনিয়নে গর্ভবতী মায়েদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও এক মাসের ওষুধ প্রদান

বড়বিল ইউনিয়নে গর্ভবতী মায়েদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও এক মাসের ওষুধ প্রদান

রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার ৩ নং বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ইউনিয়নের গর্ভবতী মায়েদের জন্য দুই দিনব্যাপী অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও এক মাসের বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং উন্নয়ন সহায়তা তহবিল (পিবিসি)-এর আওতায় পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে গর্ভবতী মায়েদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরামর্শ এবং বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার গর্ভবতী নারীরা উপকৃত হচ্ছেন।আয়োজক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন চিকিৎসকের সংকট থাকলেও বর্তমানে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।আরও  পড়ুন, বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে খাগড়াছড়িতে তরুণদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব এ কার্যক্রমের আওতায় প্রতি সপ্তাহে রবিবার ও সোমবার চিকিৎসক উপস্থিত থেকে গর্ভবতী মায়েদের সেবা প্রদান করবেন।৩ নং বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. শামসুল হুদা বলেন, “মা ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইউনিয়ন পরিষদ সবসময় গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। গর্ভবতী মায়েদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান কার্যক্রম চলমান থাকবে। ভবিষ্যতেও জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”স্থানীয় বাসিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ ও ওষুধ প্রদানের ফলে অনেক গর্ভবতী মা উপকৃত হবেন এবং নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে খাগড়াছড়িতে তরুণদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে খাগড়াছড়িতে তরুণদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে আলোচনা সভা, মতবিনিময় এবং পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।১২ জুলাই (রোববার) সকালে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এবারের প্রতিপাদ্য ছিল— "তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি"।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের আহ্বায়ক নিটোল মনি চাকমা। জেলা পরিবার পরিকল্পনার উপপরিচালক ফারুক আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডা. চৌধুরী শারমিন হায়দার, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ জহুরুল আলম,আরও  পড়ুন, প্রকৃতির নির্মম ছোবলে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৩ প্রাণহানিসহ দুর্যোগের মুখে প্রায় ৯ লাখ মানুষ ইউএনএফপি এর প্রতিনিধি ডা. শ্রাবস্তী চাকমা এবং জাবারাং কল্যাণ সমিতির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক দয়ানন্দ ত্রিপুরা।বক্তারা বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি তরুণদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। তারা মাতৃস্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা এবং জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।এ সময় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ নিজ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সেবার মানোন্নয়ন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পর্কে মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা তৈরির আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অতিথিরা।

প্রকৃতির নির্মম ছোবলে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৩ প্রাণহানিসহ দুর্যোগের মুখে প্রায় ৯ লাখ মানুষ

প্রকৃতির নির্মম ছোবলে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৩ প্রাণহানিসহ দুর্যোগের মুখে প্রায় ৯ লাখ মানুষ

চট্টগ্রাম বিভাগজুড়ে কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং একের পর এক পাহাড়ধসে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ মানবিক সংকট। বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে, বহু গ্রাম ও জনপদ বিচ্ছিন্ন, হাজারো পরিবার গৃহহীন এবং কৃষি, যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চললেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এই পাঁচ জেলায় চলমান দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৪৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ৩৯ জন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা পৌঁছেছে ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৬১৪ জনে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় দুর্যোগের চিত্র তুলে ধরছে।পাঁচ জেলার মধ্যে প্রাণহানির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কক্সবাজার। সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ২৩ জন, যাদের মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা। চট্টগ্রামে নিহত হয়েছেন ১১ জন, বান্দরবানে ৬ জন এবং রাঙামাটিতে ৩ জন। আহতদের মধ্যে কক্সবাজারে ২৪ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে ২ জন এবং খাগড়াছড়িতে ১ জন রয়েছেন।জনসংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে চট্টগ্রাম জেলা। এখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৬ লাখ ৬২ হাজার ছাড়িয়েছে। কক্সবাজারে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার, খাগড়াছড়িতে ৩৪ হাজারের বেশি, বান্দরবানে ৮ হাজারের বেশি এবং রাঙামাটিতে প্রায় ৪ হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছেন।বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি থেকে মানুষকে নিরাপদে রাখতে পাঁচ জেলায় মোট ১ হাজার ৭২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বর্তমানে ৩৭ হাজার ৫৫ জন নারী, পুরুষ ও শিশু অবস্থান করছেন।আরও পড়ুল, চরফ্যাশনে এইচএসসি কেন্দ্রে হামলা: নকল করতে না পেরে ভাঙচুর, মামলা চট্টগ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন ২২ হাজার ৬০০ জন, বান্দরবানে ৪ হাজার ৭৪৫ জন, রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৮২০ জন, কক্সবাজারে ২ হাজার ৯৭৪ জন এবং খাগড়াছড়িতে ২ হাজার ৯১৬ জন।দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার, জেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা যৌথভাবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এখন পর্যন্ত পাঁচ জেলায় ১ হাজার ৯১ দশমিক ৬ মেট্রিক টন চাল, ৯১ দশমিক ১ লাখ টাকা এবং ৩৪ হাজার ৪৭০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।এছাড়া রান্না করা খাবার, শিশুদের পুষ্টিকর খাদ্য, ডায়াপার, স্যানিটারি ন্যাপকিনসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়মিত দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও উন্নয়ন সংস্থাও ত্রাণ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে।প্রশাসনের তথ্যমতে, ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি বিবেচনায় পাঁচ জেলাতেই পর্যাপ্ত চাল, নগদ অর্থ, শুকনো খাবার ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী মজুদ রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।অতিবৃষ্টি ও বন্যার পানি দীর্ঘসময় জমে থাকায় কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রায় ১৮ হাজার ৯৩৩ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আউশ ধান। পাশাপাশি আমনের বীজতলা, মৌসুমি সবজি, পান বরজ, আদা, হলুদ এবং অন্যান্য অর্থকরী ফসলও ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়েছে।চট্টগ্রাম জেলায় সর্বোচ্চ কৃষি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানেও হাজারো কৃষক উৎপাদন হারিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। প্রবল বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে জাতীয়, আরও পড়ুন, ৫ দিন পর কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু, স্বস্তি ফিরল রেলপথেআঞ্চলিক এবং জেলা সড়কের বিস্তীর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট ২৪১ কিলোমিটারেরও বেশি সড়ক ক্ষতির শিকার হয়েছে।প্রাথমিক সংস্কারে প্রায় ৩৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং স্থায়ী পুনর্নির্মাণে ২১০ কোটিরও বেশি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের প্রাথমিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে। চট্টগ্রাম-ঢাকা রেল চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের একটি অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ওই রুটে ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের কাজ শেষ হলে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। উদ্ধার, বিদ্যুৎ সরবরাহ, ত্রাণ বিতরণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে একাধিক জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাঠ প্রশাসনকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, পানি পুরোপুরি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এজন্য মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও সাধারণ মানুষের তালিকা প্রস্তুত করে পুনর্বাসন ও সহায়তা কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।চট্টগ্রাম বিভাগের সাম্প্রতিক এই দুর্যোগ শুধু প্রাণহানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় এটি কৃষি, অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং মানুষের জীবিকা সব ক্ষেত্রেই গভীর প্রভাব ফেলেছে। লাখো মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সময় লাগবে। তাই তাৎক্ষণিক ত্রাণের পাশাপাশি টেকসই পুনর্বাসন, পাহাড় ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

চরফ্যাশনে এইচএসসি কেন্দ্রে হামলা: নকল করতে না পেরে ভাঙচুর, মামলা

চরফ্যাশনে এইচএসসি কেন্দ্রে হামলা: নকল করতে না পেরে ভাঙচুর, মামলা

ভোলার চরফ্যাশনে নকল করতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ১০০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।শনিবার দিবাগত রাতে ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. মহিউদ্দিন চরফ্যাশন থানায় মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহামুদ আল-ফরিদ ভূঁইয়া।পুলিশ জানায়, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।আরও  পড়ুন, ৫ দিন পর কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু, স্বস্তি ফিরল রেলপথেমামলার এজাহার অনুযায়ী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটি পরীক্ষার এমসিকিউ পর্ব শেষে কয়েকজন পরীক্ষার্থী প্রশ্ন কমন না পড়ার অভিযোগ তুলে নকলের চেষ্টা করেন। দায়িত্বরত শিক্ষকরা বাধা দিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।পরীক্ষা শেষে একদল শিক্ষার্থী কলেজের পকেট গেট ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় পরীক্ষার উত্তরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়।ইটপাটকেলের আঘাতে সাতজন শিক্ষক এবং কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি আহত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা না হলেও জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আন্তর্জাতিক

রমুজে নৌ চলাচল নিয়ে ভিন্ন দাবি তেহরান ও ওয়াশিংটনের

রমুজে নৌ চলাচল নিয়ে ভিন্ন দাবি তেহরান ও ওয়াশিংটনের

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যেই পার্সিয়ান গালফ ওয়াটারওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এই জলপথ দিয়ে ট্রানজিট বা জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অপেক্ষমাণ আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ট্রানজিট অনুমতি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ট্রানজিট সংক্রান্ত সব আবেদন কেবল পার্সিয়ান গালফ ওয়াটারওয়ের নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আরো পড়ুন , ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দফার হামলা, ১৪০ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের দাবিগ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।এছাড়া হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত সর্বশেষ নির্দেশনা ও আপডেট সংস্থাটির এক্সের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক এই জলপথ বৈধভাবে চলাচলকারী সব জাহাজের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। সেন্টকমের ভাষ্য, নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে এবং ইরান এই প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করে না।তবে সামুদ্রিক ট্র্যাকিং সংস্থা ‘মেরিনট্রাফিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ঘোষণার পর আবারও হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা কমে গেছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহন রুটকে ঘিরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

৪ ঘন্টা আগে

রাজধানী

ছাতা মাথায় রেললাইন পার, ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল তরুণের

ছাতা মাথায় রেললাইন পার, ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল তরুণের

রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় ছাতা মাথায় রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় মো. রাকিবুল ইসলাম নামে ২২ বছর বয়সী এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। তিনি পেশায় গার্মেন্টস কর্মী ছিলেন।রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে মাথায় ছাতা দিয়ে রেললাইন পার হচ্ছিলেন রাকিব। এ সময় বিমানবন্দরগামী একটি ট্রেনের ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন। আরও  পড়ুন, টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত ঢাকা, ২৪ ঘণ্টায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতস্থানীয়রা তাকে প্রথমে কুর্মিটোলা হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, রাকিব অনার্স সম্পন্ন করেছিলেন। সম্প্রতি গাজীপুরের একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন। ঘটনার দিন ছিল তার চাকরির দ্বিতীয় দিন। সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনার শিকার হন।ঢামেক পুলিশ ক্যাম্প জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে থানাকে জানানো হয়েছে।

১০ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

খেলাধুলা

মেসির জাদুতে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

মেসির জাদুতে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১-১ সমতায় শেষ হওয়া ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করেছে লিওনেল মেসির দল।ম্যাচের ১০ মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে বিশ্বকাপে ১০টি অ্যাসিস্ট করে ১৯৬৬ সালের পর নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।আর ও  পড়ুন, কোয়ার্টার ফাইনালে শুরুতেই আর্জেন্টিনার বাজিমাতপিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি সুইজারল্যান্ড। ৬৭ মিনিটে রিকার্দো রদ্রিগেসের পাস থেকে ড্যান এনদোয়ে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। তবে ৭২ মিনিটে ভিএআরের সিদ্ধান্তে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলো। এরপর ১০ জন নিয়েই লড়াই চালিয়ে যায় সুইজারল্যান্ড।অতিরিক্ত সময়ের ১১২ মিনিটে মেসির শট ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে আর্জেন্টিনাকে আবারও এগিয়ে দেন হুলিয়ান আলভারেজ। যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে বদলি হিসেবে নেমে লাউতারো মার্তিনেস তৃতীয় গোল করে জয় নিশ্চিত করেন।৩-১ গোলের এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখে আগামী ১৫ জুলাই সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

আইন আদালত

আজ ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে পঙ্গু করার অভিযোগে মামলার বিচার শুরু

আজ ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে পঙ্গু করার অভিযোগে মামলার বিচার শুরু

যশোরের চৌগাছায় ২০১৬ সালে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে আটকের পর কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা সাজিয়ে গুলি ও নির্যাতনের মাধ্যমে পঙ্গু করার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার আজ শুরু হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাটির সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।আরও পড়ুন, ‘আমি শুধু ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার’: আসামি সোহেলমামলাটি শুনানি করবেন মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার-এর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। মামলার প্রধান আসামি আনিসুর রহমান-সহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম চলবে।প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর চৌগাছা উপজেলা শাখার তৎকালীন সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন এবং সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিন-কে একটি মামলায় আটক করে পুলিশ। অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতে হাজির না করে কয়েকদিন নির্যাতন করা হয়।আরও পড়ুন, শিশু রামিসা হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানি আজপ্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ একটি সাজানো ঘটনা তৈরি করে দুই নেতার পায়ে গুলি করা হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে চিকিৎসার একপর্যায়ে তাদের পা কেটে ফেলতে হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় আরও বলা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অস্ত্র মামলাটি পরবর্তীতে আদালতে ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়।এর আগে গত ২০ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। সে সময় আদালতে উপস্থিত আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। বর্তমানে অভিযুক্তদের মধ্যে আকিকুল ইসলাম, সাজ্জাদুর রহমান এবং জহরুল হক কারাগারে রয়েছেন।আরও পড়ুন, সাইপ্রাসে এস আলমের ভবন জব্দের নির্দেশঅন্যদিকে প্রধান আসামি আনিসুর রহমান, সাবেক ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল এবং এসআই মাজেদুল পলাতক রয়েছেন বলে ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানিয়েছে। উল্লেখ্য, মামলার অভিযোগগুলো প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত অভিযোগ। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায়ের মাধ্যমে অভিযুক্তদের দায়-দায়িত্ব চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর