রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৯টায় প্রকাশিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। এদিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।বৃহস্পতিবার রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।আরও পড়ুন, হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেন ব্যারিস্টার সুমন দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।শুক্রবারও আট বিভাগেই বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।শনিবার খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে।রোববারও একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করবে। খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এদিনও দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকায় নদী-নালা, নিম্নাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এক্সক্লুসিভ
চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানাধীন ২২ নং এনায়েত বাজার ওয়ার্ডের গোয়ালপাড়া ও সংলগ্ন তুলাতলী বস্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচার অন্যতম আলোচিত স্পট হিসেবে পরিচিত| বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাটির নাম বারবার সামনে এসেছে| তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের ১/২ ঘন্টা পর পরই আবারো পুনরায় বীরদর্পে মাদক বাণিজ্য পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে|স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গোয়ালপাড়া ও তুলাতলীর মাদক সমস্যা কেবল একটি এলাকার বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয় বরং এটি বৃহত্তর সরবরাহ ও পাচার নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে| ফলে শুধু খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেই স্থায়ী সমাধান আসবে না|আরও পড়ুন: বনানীতে স্পা কাণ্ডে প্রশাসনের নীরবতাস্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, গোয়ালপাড়ার আলোচিত মাদক কারবারিদের মধ্যে আকলিমা নামে এক নারীর নাম দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত| তার বিরুদ্ধে ১৮টির বেশি মামলা রয়েছে এবং তিনি ২১ বারের অধিক কারাভোগও করেছেন| তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের বিষয়টি প্রতিবেদকের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি| নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রির পাশাপাশি বস্তির ভেতরে টিনশেডের কয়েকটি ঘরে মাদকসেবনের সুযোগও রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে| একই সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের মাধ্যমে মাদক বিক্রির অভিযোগও উঠেছে| প্রতিবেদকের কাছে থাকা একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি ঘরের সামনে দুই কিশোর পলিথিনে মোড়ানো গাঁজার পুরিয়া ও ইয়াবা সদৃশ ট্যাবলেট নিয়ে অবস্থান করছে ক্রেতাদের অপেক্ষায়|আরও পড়ুন: উজাড় হচ্ছে লামার সংরক্ষিত বন, রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগঅভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আকলিমা বলেন, আগে একাই ব্যবসা করতাম| এখন গোয়ালপাড়ায় অনেকেই মাদক ব্যবসা ও স্পট পরিচালনা করে| আমার অনেক মামলা আছে|তাই এখন শুধু গাঁজা বিক্রি করি|"এছাড়াও তিনি আরও দাবি করেন, "আপনাকে খরচের জন্য মাঝে মাঝে টাকা দেব| পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, দিন-রাত প্রায় সব সময়ই অনেক অপরিচিত মানুষের আনাগোনা দেখা যায়| এতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে|" একজন অভিভাবকের ভাষ্য, "আমাদের সবচেয়ে বড় ভয় হচ্ছে কিশোররা|সহজ টাকার লোভে অনেকেই অপরাধচক্রে জড়িয়ে পড়ছে|একজন রিকশাচালক বলেন, পুলিশ অভিযান চালালে কিছু সময় শান্ত থাকে| ১/২ ঘন্টা পরে আবার আগের মতো হয়ে যায়|" এছাড়াও একজন শিক্ষক বলেন, "মাদক শুধু একজন মানুষকে নয়, পুরো একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেয়| স্থানীয়দের মতে, অপরাধচক্রে কিশোরদের সম্পৃক্ত করা হলে তারা ভবিষ্যতে সংঘবদ্ধ অপরাধের অংশ হয়ে পড়তে পারে| শিশু ও কিশোরদের অপরাধে ব্যবহার তাদের শিক্ষা,মানসিক বিকাশ ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি| গোয়ালপাড়া ও আশপাশের এলাকায় মাদকের প্রভাবে স্থানীয়দের মতে, কিশোর অপরাধ বৃদ্ধি, চুরি, ছিনতাই ও সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ˆতরি, পরিবারে অশান্তি ও অর্থনৈতিক সংকট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার বৃদ্ধি,নারীরা ও সাধারণ পথচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন,স্থানীয় ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ও নতুন প্রজন্ম মাদকের সহজ প্রাপ্যতার ঝুঁকিতে রয়েছে|আরও পড়ুন: গাজীপুরে লাইসেন্স ছাড়া এমএলএম কার্যক্রমের অভিযোগনিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মাদকের অর্থের উৎস শনাক্ত করা, সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে দেওয়া, পাচারকারীদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা অভিযান, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, কিশোরদের পুনর্বাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততা| এসব উদ্যোগ একসঙ্গে বাস্তবায়ন না হলে দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাওয়া কঠিন হতে পারে| সচেতন নাগরিকদের মতে, গোয়ালপাড়া ও তুলাতলীর মতো আলোচিত এলাকায় ধারাবাহিক ও গোয়েন্দা-তথ্যভিত্তিক অভিযান, সন্দেহভাজন অর্থনৈতিক লেনদেনের তদন্ত, কিশোরদের পুনর্বাসন এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি| একই সঙ্গে আইনের শাসন নিশ্চিত করা হলে এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে| আরও পড়ুন: বনানীর ২৭ নম্বর রোডের স্পা নিয়ে প্রশ্নের শেষ কোথায়?গোয়ালপাড়া ও তুলাতলীর মাদক সমস্যাকে কেবল একটি বস্তির সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই| এটি জননিরাপত্তা, কিশোরদের ভবিষ্যৎ, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং নগর নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত| উল্লেখ্য যে, উক্ত বিষয়ে অতি দ্রুত আরও চমকপ্রদ তথ্য নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বক্তব্য সহ থাকছে অনুসন্ধানী ধারাবাহিক প্রতিবেদন -২|
অনলাইন জরিপ