দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

আজকের আবহাওয়া

ঢাকা 1002 hPa
27.6° 83%
540° 15mm
চট্টগ্রাম 1002.2 hPa
28.8° 83%
540° 15mm
রাজশাহী 1002.1 hPa
29.5° 84%
540° 15mm
খুলনা 1002 hPa
28° 90%
540° 15mm
বরিশাল 1002.4 hPa
27.3° 93%
540° 15mm
সিলেট 1000.9 hPa
32° 76%
240° 12mm
রংপুর 1001.6 hPa
28.8° 87%
540° 15mm
ময়মনসিংহ 1002 hPa
28° 90%
540° 15mm
Weather

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

এনবিআরের কর্মকর্তা সহিদুল ইসলামের অবৈধ সম্পদের পাহাড়

এনবিআরের কর্মকর্তা সহিদুল ইসলামের অবৈধ সম্পদের পাহাড়

বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের আয়-ব্যয়ের সীমাবদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জনপরিসরে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে রাজস্ব, শুল্ক, কাস্টমস এবং ভ্যাট প্রশাসনের মতো সংবেদনশীল খাতগুলোতে কর্মরত কর্মকর্তাদের সম্পদ বৃদ্ধির ঘটনা প্রায়ই জনমনে প্রশ্নের জন্ম দেয়। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা সহিদুল ইসলামের সম্পদ নিয়ে এমনই এক বিস্তৃত অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য, যার বাজারমূল্য কয়েকশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে পাওয়া নথি, জমির খতিয়ান, ফ্ল্যাট মালিকানার তথ্য, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী ফাহমিদা রাব্বি এবং কয়েকজন নিকট আত্মীয়ের নামে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সম্পদের অস্তিত্ব রয়েছে।আরও পড়ুন: প্রভাবশালী পরিচয়ের আড়ালে বাহারের গুলশানে কথিত স্পা ব্যবসা?বসুন্ধরায় বহুতল ভবন: সম্পদের কেন্দ্রবিন্দুরাজধানীর অভিজাত আবাসিক এলাকা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জি ব্লকে অবস্থিত একটি ১০তলা ভবন অনুসন্ধানের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ‘শেল কবিতা’ নামের এই ভবনটি সহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। প্রতি তলায় দুটি করে প্রায় আড়াই হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট নিয়ে গড়ে ওঠা ভবনটিতে মোট ২০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। স্থানীয় রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও সম্পত্তি মূল্যায়ন সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিটি ফ্ল্যাটের সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। সেই হিসাবে কেবল ভবনের ফ্ল্যাটগুলোর মূল্যই প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছায়। তবে জমির বর্তমান বাজারমূল্য, নির্মাণ ব্যয় এবং এলাকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনায় পুরো ভবনের মূল্য আরও বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।রাজধানীজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ফ্ল্যাট সাম্রাজ্যঅনুসন্ধানে দেখা গেছে, বসুন্ধরার বাইরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী এবং আত্মীয়স্বজনদের নামে আরও অন্তত ৩৩টি ফ্ল্যাট রয়েছে। বাংলামোটরের স্বজন টাওয়ারে সহিদুল ইসলামের নিজ নামে দুটি ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে। একইভাবে ইস্কাটন গার্ডেন রোডের গার্ডেনিয়া টাওয়ারে তার স্ত্রীর নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মূল্য প্রায় চার কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিরপুরের রূপনগর আরামবাগ আবাসিক এলাকায় ফাহমিদা রাব্বির নামে থাকা একটি ছয়তলা ভবনে ১০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। স্থানীয় সম্পত্তি বাজারের হিসাবে ভবনটির মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা।আরও পড়ুন: কক্সবাজারে এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার নিখোঁজের ১৮ ঘন্টা পরমিরপুর ইস্টার্ন হাউজিংয়ে সম্পদের বিস্তারমিরপুর ইস্টার্ন হাউজিং দ্বিতীয় প্রকল্পে আরও একটি ছয়তলা ভবনের তথ্য পাওয়া গেছে, যা প্রথমে সহিদুল ইসলামের স্ত্রীর নামে ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। পরে ভবনটি চার শ্যালকের নামে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মালিকানা কাগজপত্রে কাজী মুক্তাদীর ইবনু মিনান, কাজী মুতামিদ ইবনে মিনান, কাজী মুত্তাকী ইবনে মিনান এবং কাজী মুস্তাকীম ইবনে মিনানের নাম রয়েছে। উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, সহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী এবং এই চার আত্মীয়ের নামে থাকা ৫৩টি ফ্ল্যাট ও দুটি দোকানের সম্মিলিত বাজারমূল্য অন্তত ১৬২ কোটি টাকা হতে পারে।আরও পড়ুন:  নতুন পে-স্কেলে বেতনে বড় উল্লম্ফনের প্রস্তাব, চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষাজমি ও শিল্পকারখানার বিনিয়োগশুধু আবাসিক সম্পত্তিই নয়, শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের জমিতেও বড় ধরনের বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। মিরপুরের আগুন্দা এলাকায় প্রায় ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত স্থাপনায় প্লাস্টিক কারখানা ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। অন্যদিকে গড়ানচটবাড়ি মৌজায় ৩৩ শতাংশ জমির মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা বলে স্থানীয় সম্পত্তি সংশ্লিষ্টরা ধারণা দিয়েছেন।নিউমার্কেট ও আজিজ সুপার মার্কেটে দোকানরাজধানীর দুই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রেও সহিদুল ইসলামের সম্পদের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের একটি দোকান এবং নিউমার্কেটের আরেকটি দোকানের মালিকানা তার নামে রয়েছে বলে নথিতে দেখা যায়। দুটি দোকানের সম্মিলিত বাজারমূল্য চার কোটি টাকারও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।আরও পড়ুন: মশক নিধন শিখতে ফ্লোরিডা নয়, ডোবার পাশেই যথেষ্ট’ : প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যেসাভারে বাংলোবাড়িসাভারের মধুমতি মডেল টাউনে ‘সেঁজুতি’ নামের একটি বাংলোবাড়ি স্থানীয়ভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ৩৫ কাঠা জমির ওপর নির্মিত এই বাড়িটি সহিদুল ইসলামের নামে রয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ আছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িটি অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে এবং সেখানে প্রবেশাধিকার সীমিত। বর্তমান বাজারদরে কেবল জমির মূল্যই প্রায় ১০ কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে।মধুমতিতে আরও বিস্তৃত জমি মালিকানাঅনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, মধুমতি মডেল টাউন এলাকায় সহিদুল ইসলামের মালিকানায় একাধিক প্লট রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহৃত জমি, পশু খামার হিসেবে ব্যবহৃত বড় প্লট এবং ভারী যন্ত্রপাতি সংরক্ষণের জন্য ভাড়া দেওয়া জমি। সব মিলিয়ে প্রায় ৩২০ কাঠা জমির বাজারমূল্য ৯০ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে বিভিন্ন সূত্রের মূল্যায়নে উঠে এসেছে।আরও পড়ুন: চামড়া সংরক্ষণে চাহিদার মাত্র ১৬ শতাংশ লবণ দিয়েছে সরকারপূর্বাচলে জমির পর জমিপূর্বাচল ও আশপাশের এলাকায় সহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর নামে অন্তত ছয়টি প্লটের তথ্য পাওয়া গেছে। ডুমনি, পিতলগঞ্জ, দিঘলিয়া, বাড়িয়াছনি, মুশুরীগ্রাম এবং কামতা মৌজায় অবস্থিত এসব জমির সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৬২ কোটির বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া গাজীপুরের কালীগঞ্জেও তার নামে জমির মালিকানার নথি পাওয়া গেছে।শেয়ারবাজারে বিপুল বিনিয়োগস্থাবর সম্পদের পাশাপাশি অস্থাবর সম্পদের দিক থেকেও সহিদুল পরিবারের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। তথ্য অনুযায়ী, তার স্ত্রী ফাহমিদা রাব্বির নামে একটি বিও অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮০ কোটি টাকার শেয়ার বিনিয়োগ রয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংক হিসাবেও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ জমা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।সন্তানের ব্যবসায়িক কার্যক্রমসহিদুল ইসলামের ছেলে হাসিন ফারহানের নামেও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে।বসুন্ধরার একটি বাণিজ্যিক ভবনে অফিস নিয়ে তিনি আর্কিটেকচার, ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও মার্কেটিং খাতে একাধিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে কয়েক কোটি টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগ পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল।আরও পড়ুন: তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে জিএম কাদেরের শোকসরকারি চাকরি বনাম সম্পদের হিসাবএকাধিক অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত রাজস্ব কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একজন কাস্টমস বা এনবিআর কর্মকর্তার পুরো চাকরিজীবনের বৈধ আয়—বেতন, ভাতা, পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং অন্যান্য সুবিধাসহ মোটামুটি কয়েক কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যয় বাদ দিলে সঞ্চয়ের পরিমাণ খুব বেশি হলে তিন কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে। এই হিসাবের সঙ্গে অনুসন্ধানে উঠে আসা কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদের অঙ্কের ব্যাপক পার্থক্য প্রশ্ন তৈরি করেছে।সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্নসহিদুল ইসলাম কর্মজীবনে এনবিআরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে শুল্ক ও আবগারি বিভাগের সদস্য, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ অন্তর্ভুক্ত। নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তার নামে থাকা অধিকাংশ সম্পদ ২০১০ সালের পর অর্জিত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই সম্পদগুলোর উৎস কী এবং সেগুলো আয়কর নথিতে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে কি না সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টাঅভিযোগ ও সম্পদের উৎস সম্পর্কে বক্তব্য জানার জন্য সহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে হয়েছে।সহিদুল ইসলাম ফোনকল কিংবা বার্তার জবাব দেননি। তার স্ত্রীও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।আরও পড়ুন: ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে খুলেছে অফিস-আদালত, উপস্থিতি কমজবাবদিহির দাবিসুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা বলছেন, সম্পদের উৎস সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি হলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান পরিচালনা করা। তাদের মতে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আর অভিযোগ অসত্য হলে সেটিও স্পষ্টভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরা উচিত। কারণ জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।তদন্তের নতুন পর্যায়?সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে এবং ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা, সম্পদের উৎস যাচাই ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি চলছে। এখন নজর থাকবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো কী ধরনের তদন্ত চালায়, সম্পদের উৎস সম্পর্কে কী ব্যাখ্যা পাওয়া যায় এবং শেষ পর্যন্ত আইনগত প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়। কারণ কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদের এই প্রশ্ন কেবল একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব নয়; এটি রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি, সুশাসন এবং দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থার কার্যকারিতারও একটি বড় পরীক্ষা।আরও পড়ুন:  আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু, ৩ জুনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্টদুর্নীতি প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন ১৩তম ব্যাচের কর্মকর্তার এই পরিমাণ সম্পত্তি অর্জনের ঘটনা প্রমাণ করে যে কাস্টমস বিভাগের ভেতরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কতটা অভাব রয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে এবং অবৈধ সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বাজেয়াপ্ত করা না হলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতির এই মরণব্যাধি থামানো অসম্ভব হয়ে পড়বে ।

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

ফেরিতে ওঠার সময় বাস নদীতে, ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে সুপারিশ দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।শুক্রবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের বাসটি ফেরি করবীতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। তবে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে আগে থেকেই যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ রফিকুল করিমকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। আরো পড়ুন ,শরীরের সব রক্ত দিলেও বাঁচাতে পারলাম না’ ডেঙ্গুতে শিশুমৃত্যুতে বাবার কান্নাএছাড়া বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসির একজন করে প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কমিটিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে করণীয় বিষয়ে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।এছাড়া প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে কমিটির জন্য। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।এদিকে ফেরিতে যানবাহন ওঠানোর আগে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার নিরাপত্তা নীতিমালা কার্যকর থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি না হওয়াকে স্বস্তির বিষয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এমন ঘটনায় ফেরিঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

শরীরের সব রক্ত দিলেও বাঁচাতে পারলাম না’ ডেঙ্গুতে শিশুমৃত্যুতে বাবার কান্না

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেড় বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার শিশু তাইবা। চিকিৎসকদের দাবি, এটি চলতি মৌসুমে হাসপাতালটির প্রথম ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু।তবে শিশুটির মৃত্যুকে ঘিরে উঠেছে চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন। তাইবার বাবা জাহিদুল ইসলামের অভিযোগ, উন্নত চিকিৎসার আশায় মেয়েকে রাজশাহী মেডিকেলে আনা হলেও ভুল চিকিৎসার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।হামের চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার কিছুদিন পর আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে তাইবা। জ্বর ও শারীরিক জটিলতা বাড়তে থাকলে তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রক্ত আরো পড়ুন , বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে তুরস্কের আগ্রহ, সহযোগিতা জোরদারের ইঙ্গিতপরীক্ষায় শিশুটির শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয় এবং আইসিইউতে চিকিৎসা শুরু হয়।হাসপাতাল সূত্র জানায়, কিছুটা সুস্থ হওয়ায় শিশুটিকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানেই হঠাৎ অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে আবার আইসিইউতে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।শিশুটির বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘শরীরের সব রক্ত দিলেও মেয়েকে বাঁচাতে চাইছিলাম। রাতভর রক্তের জন্য দৌড়েছি, তবু আমার একমাত্র সন্তানকে বাঁচাতে পারলাম না।’অন্যদিকে হাসপাতালের আইসিইউর দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, শিশুটির ডেঙ্গু পরীক্ষায় পজিটিভ রিপোর্ট আসে এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে নেগেটিভ হলেও হঠাৎ অবস্থার অবনতি ঘটে।শিশুটির মৃত্যুতে হাসপাতালজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে তুরস্কের আগ্রহ, সহযোগিতা জোরদারের ইঙ্গিত

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প বিকাশে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে এবং এ বিষয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা করেছে।শুক্রবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।হাকান ফিদান বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বকে আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে কাজ করছে আঙ্কারা। তিনি জানান, বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন আরো পড়ুন, পে স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটাতে সরকারি ঘোষণা চান কর্মচারীরাডলার থেকে বাড়িয়ে ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।প্রতিরক্ষা শিল্পের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সহযোগিতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এসময় বাংলাদেশের সংস্কৃতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় সুরক্ষা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বলেও জানান তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে হাকান ফিদান বলেন, গ্লোবাল সাউথের একটি শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবতার এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ সংকটের স্থায়ী ও ন্যায়সঙ্গত সমাধানে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক।এদিকে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচনে বাংলাদেশের বিজয়কে নতুন যুগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।গত বৃহস্পতিবার রাতে তিন দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তার এ সফরকে বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

পে স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটাতে সরকারি ঘোষণা চান কর্মচারীরা

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের আলোচনা ঘিরে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা বিরাজ করছে।বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক বলেছেন, নতুন পে স্কেল নিয়ে বিভিন্ন তথ্য শোনা গেলেও সরকারের কোনো দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে কর্মচারীরা নিশ্চিত হতে পারছেন না, বেতন বৃদ্ধি ৫০ শতাংশ হবে নাকি শতভাগ বাস্তবায়নের দিকে যাবে সরকার।তার মতে, দীর্ঘ ১১ বছর পর বেতন কাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাই এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিবর্তে এককালীন কার্যকর করা হলে কর্মচারীরা বেশি উপকৃত হবেন এবং বাজারে কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধির সুযোগও কমে যাবে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নবম জাতীয় পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী মূল বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।আরও  পড়ুন ,হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ৬১০ তবে পুরো নতুন বেতন কাঠামো একসঙ্গে কার্যকর না করে তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে নতুন বেসিক বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর হতে পারে। পরবর্তী অর্থবছরে অবশিষ্ট অংশ কার্যকর করা হবে। এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছরে বিভিন্ন ভাতা, চিকিৎসা সুবিধা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা যুক্ত করা হবে।অন্যদিকে পেনশনভোগীদের জন্যও সুখবর আসতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশনপ্রাপ্তদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণির পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসাভাতা বৃদ্ধির সুপারিশও করা হয়েছে।আসন্ন বাজেটে এ খাতে ৩০ থেকে ৩৭ হাজার কোটি টাকার বিশেষ থোক বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনার কথাও আলোচনায় রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর।সরকারি চাকরিজীবীরা এখন বাজেট ঘোষণার দিকেই তাকিয়ে আছেন। তাদের প্রত্যাশা, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার দ্রুত সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাবে।

রাজনীতিরাজনীতি

‘বাংলাদেশ ২.০’ গড়তে ৮.৫২ লাখ কোটি টাকার ছায়া বাজেট দিল এনসিপি

‘বাংলাদেশ ২.০’ গড়তে ৮.৫২ লাখ কোটি টাকার ছায়া বাজেট দিল এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ‘বাংলাদেশ ২.০: সংস্কার, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি’ শীর্ষক ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার একটি ছায়া বাজেট ঘোষণা করেছে। রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বাজেট উপস্থাপন করেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।দলটির দাবি, জনকল্যাণ বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য।এনসিপির প্রস্তাব অনুযায়ী, বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক ০৯ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পরবর্তী অর্থবছরে ৬ শতাংশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।রাজস্ব বাড়াতে দলটি বিদ্যুৎ সংযোগের সঙ্গে আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক, টিআইএন-এনআইডি-ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার তথ্য সংযুক্তিকরণ এবং সম্পদ কর চালুর মতো প্রস্তাব দিয়েছে। এনসিপির দাবি, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে অতিরিক্ত ৭৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।কর কাঠামোতেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সাধারণ করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, নারী ও প্রবীণদের জন্য ৪ লাখ ৭৫ হাজার এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ৫ লাখ টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। আরো পড়ুন , বাজেট ঘিরে অর্থনৈতিক সংকটের শঙ্কা : আসিফ মাহমুদএকই সঙ্গে জাকাতকে আয়কর রিবেট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ারও প্রস্তাব রয়েছে।শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৪ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের পাশাপাশি পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এনসিপি। স্বাস্থ্য খাতে জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা, দুরারোগ্য রোগে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি এবং আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নারী উদ্যোক্তা তহবিল, কৃষি ভর্তুকি, ব্যাংক খাত সংস্কার এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এই ছায়া বাজেটে।সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতারা বলেন, এটি কেবল একটি বিকল্প বাজেট নয়; বরং দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও বিনিয়োগবান্ধব ‘বাংলাদেশ ২.০’ গঠনের একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ।

বাজেট ঘিরে অর্থনৈতিক সংকটের শঙ্কা : আসিফ মাহমুদ

বাজেট ঘিরে অর্থনৈতিক সংকটের শঙ্কা : আসিফ মাহমুদ

আসন্ন বাজেটে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ৪২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে, সেটিকে অবাস্তব ও অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘জাতীয় বাজেটে তারুণ্যের অংশীদারত্ব: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় যুবশক্তি।আসিফ মাহমুদ বলেন, এই লক্ষ্য পূরণ না হলে দেশ অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল—আইএমএফের ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা আরও বাড়বে।আরও  পড়ুন, বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীতে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিলতিনি আরও বলেন, বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো কর ফাঁকি দিলেও সাধারণ নাগরিকদের ওপর করের চাপ বাড়ছে। এমনকি গাড়িচালক ও মোটরসাইকেলচালকদেরও অতিরিক্ত কর দিতে হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।এ সময় তিনি আর্থিক খাতের বিভিন্ন নিয়োগ ও সিদ্ধান্ত নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন।আসিফ মাহমুদ সতর্ক করে বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও সংকটে পড়বে।

বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীতে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল

বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীতে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা।বৃহস্পতিবার রাতে বাংলামোটর থেকে শাহবাগ সড়কে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেন দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা। বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব এবং জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।মিছিলের আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, আরও পড়ুন, গুলশানে স্পা সেন্টারে অভিযান: মালিকসহ নারী সিন্ডিকেট গ্রেফতার ও মামলা প্রক্রিয়াধীনদুই বছরের মধ্যে দাম না বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ নতুন করে চাপের মুখে পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান।বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে পরিবহন, কৃষি, শিল্প এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে নতুন করে প্রভাব পড়বে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে।পরে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ মিছিলটি শাহবাগ এলাকায় শেষ হয়।আরও  পড়ুন, যুবদলের নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ, গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন মুখ

গুলশানে স্পা সেন্টারে অভিযান: মালিকসহ নারী সিন্ডিকেট গ্রেফতার ও মামলা প্রক্রিয়াধীন

গুলশানে স্পা সেন্টারে অভিযান: মালিকসহ নারী সিন্ডিকেট গ্রেফতার ও মামলা প্রক্রিয়াধীন

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে স্পা সেন্টারের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলা কথিত অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে মালিকসহ একটি সংঘবদ্ধ নারী সিন্ডিকেটের সদস্যদের গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গুলশান থানার নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে কয়েকটি স্পা সেন্টার থেকে একাধিক ব্যক্তি আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গুলশান এলাকার ৯৯ নম্বর রোডে অবস্থিত বাহার পরিচালিত একটি স্পা সেন্টার এবং গুলশান-২ এলাকার এইচ হোটেলে অবস্থিত রত্না পরিচালিত স্পা সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্পা ব্যবসার আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড, দেহব্যবসা এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ ছিল।স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের অভিযোগ, রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু স্পা সেন্টার স্বাস্থ্যসেবা বা সৌন্দর্যচর্চার নামে পরিচালিত হলেও এর আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে গ্রাহক সংগ্রহ, নারী সরবরাহ এবং অর্থ লেনদেনের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।অভিযান প্রসঙ্গে গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাংবাদিকদের বলেন, “অপরাধীরা দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি আরো পড়ুন ,যুবদলের নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ, গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন মুখসংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে স্পা সেন্টারের আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধ করে আসছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি সাংবাদিকরা তথ্য দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করেছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে অপরাধীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং উক্ত বিষয়টি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।পুলিশের এ বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধ দমনে সংবাদমাধ্যম ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগ ইতিবাচক ফল বয়ে আনছে।তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযানের আগে বেশ কিছুদিন ধরে সন্দেহভাজন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি চালানো হয়। বিভিন্ন অভিযোগ, তথ্য ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযানের সময় স্পা সেন্টারগুলোতে কর্মরত কয়েকজন নারী, ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় অভিযানে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন নথি, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। তদন্তকারীরা এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করছেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কিছু প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগের জন্ম দিলেও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। অনেক সময় সাধারণ মানুষ অভিযোগ করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এই অভিযানের ফলে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বিভিন্ন কথা শুনে আসছিলাম। গভীর রাত পর্যন্ত সন্দেহজনক লোকজনের যাতায়াত ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।”সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্পা, ম্যাসাজ পার্লার ও ওয়েলনেস সেন্টারের নামে বৈধ ব্যবসার পাশাপাশি কিছু প্রতিষ্ঠান অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সময়ে সময়েই অভিযান পরিচালনা করা হলেও নতুন নামে বা নতুন স্থানে আবারও কার্যক্রম শুরু করার অভিযোগ রয়েছে। ফলে আরো পড়ুন , কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণস্থায়ীভাবে এ ধরনের অপরাধ বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা।বিশেষজ্ঞদের মতে, নগর জীবনে স্পা ও ওয়েলনেস সেবা একটি বৈধ ও প্রয়োজনীয় খাত। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এ খাতকে ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় পুরো শিল্পখাতের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই বৈধ প্রতিষ্ঠান ও অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনাকারীদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করে কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন।গণমাধ্যমকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে স্পা সেন্টারের আড়ালে পরিচালিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছিল। এসব প্রতিবেদনের পর প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধি পায় এবং সাম্প্রতিক অভিযানের পথ সুগম হয়। তারা মনে করেন, জনস্বার্থে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা অব্যাহত থাকলে সমাজের বিভিন্ন অপরাধচক্র চিহ্নিত করা সহজ হবে।অভিযানের পর গুলশান এলাকায় অন্যান্য স্পা সেন্টারেও সতর্কতা দেখা গেছে বলে জানা গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের লাইসেন্স, কার্যক্রম ও কর্মীদের তথ্য হালনাগাদ করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিয়মিত তদারকির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, আলামত বিশ্লেষণ এবং তথ্য যাচাই শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি বা সহযোগীদের শনাক্ত করার কাজও চলছে।সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, রাজধানীতে অপরাধ দমনে অভিযানের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত তদারকি এবং তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতার সমন্বয় প্রয়োজন। তাহলেই স্পা সেন্টার বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের আড়ালে সংঘটিত অপরাধ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

সারাবাংলা

বিএসএফের পুশ ইন চেষ্টায় সীমান্তে টানটান উত্তেজনা

বিএসএফের পুশ ইন চেষ্টায় সীমান্তে টানটান উত্তেজনা

বাংলাদেশের একাধিক সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ৬০ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের, অর্থাৎ বিজিবির বাধায় তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে সীমান্তের শূন্যরেখা ও নো ম্যান্স ল্যান্ডে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন এসব মানুষ।লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে গত ২৪ ঘণ্টায় একাধিকবার এই ‘পুশ ইন’ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বিজিবি বলছে, কড়া নজরদারি ও স্থানীয়দের সহায়তায় এসব অনুপ্রবেশ ঠেকানো হয়েছে।লালমনিরহাটের আদিতমারী, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ৩৩ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবির বাধার মুখে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছে।অন্যদিকে, পঞ্চগড় আরো পড়ুন , মাছের ঘেরে কাজ করতে গিয়ে বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল এসএসসি পরীক্ষার্থীরসদর সীমান্তে নারী-শিশুসহ আরও ১০ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা হয়। তবে বিজিবি বলছে, তারা বাংলাদেশি কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে গ্রহণ করা হবে না।নওগাঁর সাপাহার সীমান্তেও ১৭ জনকে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।সবচেয়ে মানবিক সংকটের চিত্র দেখা গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্তে। সেখানে ২৮ জন নারী, পুরুষ ও শিশু কয়েক দিন ধরে নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছেন। ভারী বৃষ্টি ও খাদ্যসংকটের মধ্যেও এখনো তাদের বিষয়ে কোনো সমাধান হয়নি।বিজিবি জানিয়েছে, পতাকা বৈঠকে বিএসএফ কিছু ক্ষেত্রে পুশ ইনের বিষয়টি স্বীকার করেছে। তবে বাংলাদেশ স্পষ্ট জানিয়েছে—আন্তর্জাতিক নিয়ম উপেক্ষা করে কাউকে সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠানো গ্রহণযোগ্য নয়।সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যেই বিজিবি বলছে, দেশের নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষায় তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মাছের ঘেরে কাজ করতে গিয়ে বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল এসএসসি পরীক্ষার্থীর

মাছের ঘেরে কাজ করতে গিয়ে বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল এসএসসি পরীক্ষার্থীর

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন তানভীর খান নামে এক স্কুলছাত্র। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত তানভীর খান ওই এলাকার বাসিন্দা ওয়াসিম খানের ছেলে। তিনি চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন এবং পরিবারের সঙ্গে কৃষিকাজ ও মাছের ঘেরের দেখভালে সহযোগিতা করতেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে বাড়ির পাশের একটি মাছের ঘেরে কাজ করছিলেন তানভীর। এ সময় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রবল বজ্রপাত হলে তিনি সরাসরি বজ্রাঘাতের শিকার হন।গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। আরও পড়ুন , রাতের আঁধারে ট্রাক্টরসহ নদীতে তলিয়ে গেলেন চালক, সকালে মিলল মরদেহ তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক শাহানাজ পারভীন সেতু বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে খোলা মাঠ, মাছের ঘের ও কৃষিজমিতে কাজ করা মানুষেরা বেশি ঝুঁকিতে থাকছেন।আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বজ্রপাতের সময় খোলা স্থানে অবস্থান না করা, বড় গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।তানভীরের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও সহপাঠীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো গ্রাম।আরও  পড়ুন, ঝিনাইদহের এসপি মাহফুজ আফজাল প্রত্যাহার, সদর দপ্তরে সংযুক্ত

রাতের আঁধারে ট্রাক্টরসহ নদীতে তলিয়ে গেলেন চালক, সকালে মিলল মরদেহ

রাতের আঁধারে ট্রাক্টরসহ নদীতে তলিয়ে গেলেন চালক, সকালে মিলল মরদেহ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর তীরে কৃষিকাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তরুণ ট্রাক্টরচালক জয় বিশ্বাস। গভীর রাতে জমি চাষের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক্টরটি নদীতে পড়ে গেলে তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা।শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হওয়া উদ্ধার অভিযানের পর বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের বালুরঘাট গ্রামের পদ্মা নদী থেকে জয় বিশ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহত জয় বিশ্বাস ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের গোলাম আলী বিশ্বাসের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে ভাড়া চালক হিসেবে ট্রাক্টর পরিচালনা করতেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই দিন ধরে বালুরঘাট এলাকার কয়েকটি কৃষিজমিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষাবাদের কাজ করছিলেন জয়। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে পদ্মা নদীর তীরবর্তী একটি জমিতে কাজ করার সময় ট্রাক্টরটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।ঘটনাস্থলে অন্য কোনো শ্রমিক বা কৃষক উপস্থিত না থাকায় দুর্ঘটনার বিষয়টি রাতেই কেউ জানতে পারেনি। আরও  ও পড়ুন, ঝিনাইদহের এসপি মাহফুজ আফজাল প্রত্যাহার, সদর দপ্তরে সংযুক্তশুক্রবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নদীতে ট্রাক্টরের চাকা ও অন্যান্য অংশ ভাসতে দেখে সন্দেহ করেন এবং বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।খবর পেয়ে চরভদ্রাসন ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় ট্রাক্টরসহ জয় বিশ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।চরভদ্রাসন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ওহিদুল ইসলাম জানান, ট্রাক্টরটি নদীর পাড়ে আংশিক তলিয়ে ছিল। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, চালকের তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থা অথবা নদীর পাড়ের মাটি ধসে যাওয়ার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে।চরভদ্রাসন থানার উপপরিদর্শক মোজাম্মেল হক বিশ্বাস জানান, মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। নিহতের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।স্থানীয়দের মতে, পদ্মা নদীর তীরবর্তী জমিগুলোতে কৃষিকাজের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আরও ঘটতে পারে।আরও পড়ুন, যমুনা সেতুতে ঈদ-ফেরত যাত্রীদের ভোগান্তিতে ১০ কিলোমিটার যানজট

ঝিনাইদহের এসপি মাহফুজ আফজাল প্রত্যাহার, সদর দপ্তরে সংযুক্ত

ঝিনাইদহের এসপি মাহফুজ আফজাল প্রত্যাহার, সদর দপ্তরে সংযুক্ত

ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ আফজালকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আদেশ অনুযায়ী, মাহফুজ আফজালকে জেলা পুলিশের কোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে শুক্রবারের মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে যোগদান করতে বলা হয়েছে।তবে প্রত্যাহারের কারণ সম্পর্কে আদেশে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মাহফুজ আফজাল। আরও  পড়ুন , যমুনা সেতুতে ঈদ-ফেরত যাত্রীদের ভোগান্তিতে ১০ কিলোমিটার যানজটতার দায়িত্বকালেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, সামাজিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা এবং সর্বশেষ ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গণপিটুনিতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা।এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। যদিও প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক কারণ জানানো হয়নি, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সঙ্গে এ সিদ্ধান্তের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

আন্তর্জাতিক

এক্সে বিতর্কিত পোস্ট, মাস্ককে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

এক্সে বিতর্কিত পোস্ট, মাস্ককে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের মালিক ইলন মাস্ককে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করার কড়া বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এক্সে মাস্কের বিতর্কিত পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ব্রিটিশ রাজনৈতিক অঙ্গন।ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের এক হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে। ১৮ বছর বয়সী তরুণ হেনরি নোয়াক ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ তাকে সাহায্যের বদলে হাতকড়া পরিয়ে রাখে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে আদালতের শুনানি শেষে প্রকাশিত পুলিশের বডিক্যাম ভিডিওতে ঘটনাটি সামনে এলে দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।এমন পরিস্থিতিতে ইলন মাস্ক এক্সে পোস্ট করে পুলিশের আচরণের সমালোচনা করেন এবং শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের ইঙ্গিত দিয়ে মন্তব্য করেন, পশ্চিমা সমাজে কাউকে বর্ণবাদী বলা যেন খুন বা ধর্ষণের চেয়েও বড় অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।মাস্কের এই মন্তব্যের কড়া জবাব দেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে ইলন মাস্ক ব্রিটিশ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছেন। তবে যুক্তরাজ্য এভাবে পরিচালিত হয় না।স্টারমার আরো পড়ুন , দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: আহত বাংলাদেশির মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২পুলিশের জবাবদিহিতার পক্ষে অবস্থান নিলেও বিক্ষোভের নামে সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিহত হেনরির পরিবারও তাদের সন্তানের মৃত্যুকে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক বিভেদের হাতিয়ার না বানানোর আহ্বান জানিয়েছে।এটি অবশ্য স্টারমার ও মাস্কের প্রথম দ্বন্দ্ব নয়। আগেও একাধিক ইস্যুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবেরদের একজন ইলন মাস্ক।বর্তমানে মাস্কের স্পেসএক্স কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে বড় আইপিওর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন সময়ে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে এই টানাপোড়েন নতুন রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

৩ ঘন্টা আগে

রাজধানী

গুলশানে স্পার আড়ালে ‘অন্ধকার বাণিজ্য’ পুলিশের অভিযানে ২৮ জন গ্রেফতার

গুলশানে স্পার আড়ালে ‘অন্ধকার বাণিজ্য’ পুলিশের অভিযানে ২৮ জন গ্রেফতার

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে স্পা সেন্টারের আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার গুলশান-২ এলাকার দুটি স্পা সেন্টারে অভিযান চালায় গুলশান থানা পুলিশ। অভিযানে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষসহ মোট ২৮ জনকে আটক করা হয়।পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র স্পা ব্যবসার আড়ালে দেহব্যবসাসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।আরও  পড়ুন, মিরপুরের পূরবী সুপার মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসগুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. দাউদ হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যসেবা ও সৌন্দর্যচর্চার আড়ালে অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে দুটি স্পা সেন্টারে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে ২৮ রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে স্পা সেন্টারের আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার গুলশান-২ এলাকার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, রাজধানীর কোনো এলাকায় স্পা সেন্টারের আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি ও পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্তে তদন্ত চলছে

৭ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

খেলাধুলা

বিশ্বকাপের আগে এক নম্বরে আর্জেন্টিনা, তবে সামনে অস্বস্তিকর ইতিহাস

বিশ্বকাপের আগে এক নম্বরে আর্জেন্টিনা, তবে সামনে অস্বস্তিকর ইতিহাস

২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামবে আর্জেন্টিনা। তবে লিওনেল মেসিদের সামনে শুধু প্রতিপক্ষ নয়, অপেক্ষা করছে ইতিহাসের কয়েকটি কঠিন পরিসংখ্যানও।ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল হিসেবে বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, ১৯৯২ সালে ফিফা র‌্যাঙ্কিং চালুর পর এক নম্বর দল হিসেবে কোনো দেশই বিশ্বকাপ জিততে পারেনি।ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সামনে থাকবে ৩০ বছরেরও বেশি পুরোনো এই রেকর্ড ভাঙার সুযোগ।আরও পড়ুন, ১৫৮ রান তাড়ায় নাটকীয় জয়, অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারাল পাকিস্তানশুধু তাই নয়, টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যও রয়েছে আলবিসেলেস্তেদের সামনে। সর্বশেষ ১৯৬২ সালে ব্রাজিল পরপর দুটি বিশ্বকাপ জিতেছিল। এরপর গত ছয় দশকে আর কোনো দল এই কীর্তি গড়তে পারেনি।ইতিহাস আরও বলছে, ১৯৭০ সালের পর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে পরবর্তী বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠলেও কোনো দল শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও ফ্রান্স ফাইনালে উঠলেও শেষ পর্যন্ত রানার্সআপ হয়েছে।এখন প্রশ্ন একটাই— Lionel Messi-এর নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা কি ইতিহাস বদলে নতুন অধ্যায় লিখতে পারবে?আরও  পড়ুন, চেলসির সাবেক রেকর্ড গোলদাতা ববি ট্যাম্বলিংয়ের মৃত্যু

ইভেন্ট

লা লিগা
লা লিগা
ইপিএল
ইপিএল
ফ্রেঞ্চ লিগ
ফ্রেঞ্চ লিগ
ফ্রেঞ্চ ওপেন
ফ্রেঞ্চ ওপেন
উইম্বলডন
উইম্বলডন
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ
বুন্দেসলিগা
বুন্দেসলিগা
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
ইউরোপা লিগ
ইউরোপা লিগ
ইউএস ওপেন
ইউএস ওপেন

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর

অপরাধ

গুলশানে স্পা সেন্টারে অভিযান: মালিকসহ নারী সিন্ডিকেট গ্রেফতার ও মামলা প্রক্রিয়াধীন

গুলশানে স্পা সেন্টারে অভিযান: মালিকসহ নারী সিন্ডিকেট গ্রেফতার ও মামলা প্রক্রিয়াধীন

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে স্পা সেন্টারের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলা কথিত অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে মালিকসহ একটি সংঘবদ্ধ নারী সিন্ডিকেটের সদস্যদের গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গুলশান থানার নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে কয়েকটি স্পা সেন্টার থেকে একাধিক ব্যক্তি আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গুলশান এলাকার ৯৯ নম্বর রোডে অবস্থিত বাহার পরিচালিত একটি স্পা সেন্টার এবং গুলশান-২ এলাকার এইচ হোটেলে অবস্থিত রত্না পরিচালিত স্পা সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্পা ব্যবসার আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড, দেহব্যবসা এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ ছিল।স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের অভিযোগ, রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু স্পা সেন্টার স্বাস্থ্যসেবা বা সৌন্দর্যচর্চার নামে পরিচালিত হলেও এর আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে গ্রাহক সংগ্রহ, নারী সরবরাহ এবং অর্থ লেনদেনের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।অভিযান প্রসঙ্গে গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাংবাদিকদের বলেন, “অপরাধীরা দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি আরো পড়ুন ,যুবদলের নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ, গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন মুখসংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে স্পা সেন্টারের আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধ করে আসছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি সাংবাদিকরা তথ্য দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করেছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে অপরাধীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং উক্ত বিষয়টি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।পুলিশের এ বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধ দমনে সংবাদমাধ্যম ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগ ইতিবাচক ফল বয়ে আনছে।তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযানের আগে বেশ কিছুদিন ধরে সন্দেহভাজন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি চালানো হয়। বিভিন্ন অভিযোগ, তথ্য ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযানের সময় স্পা সেন্টারগুলোতে কর্মরত কয়েকজন নারী, ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় অভিযানে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন নথি, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। তদন্তকারীরা এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করছেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কিছু প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগের জন্ম দিলেও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। অনেক সময় সাধারণ মানুষ অভিযোগ করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এই অভিযানের ফলে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বিভিন্ন কথা শুনে আসছিলাম। গভীর রাত পর্যন্ত সন্দেহজনক লোকজনের যাতায়াত ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।”সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্পা, ম্যাসাজ পার্লার ও ওয়েলনেস সেন্টারের নামে বৈধ ব্যবসার পাশাপাশি কিছু প্রতিষ্ঠান অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সময়ে সময়েই অভিযান পরিচালনা করা হলেও নতুন নামে বা নতুন স্থানে আবারও কার্যক্রম শুরু করার অভিযোগ রয়েছে। ফলে আরো পড়ুন , কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণস্থায়ীভাবে এ ধরনের অপরাধ বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা।বিশেষজ্ঞদের মতে, নগর জীবনে স্পা ও ওয়েলনেস সেবা একটি বৈধ ও প্রয়োজনীয় খাত। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এ খাতকে ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় পুরো শিল্পখাতের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই বৈধ প্রতিষ্ঠান ও অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনাকারীদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করে কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন।গণমাধ্যমকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে স্পা সেন্টারের আড়ালে পরিচালিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছিল। এসব প্রতিবেদনের পর প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধি পায় এবং সাম্প্রতিক অভিযানের পথ সুগম হয়। তারা মনে করেন, জনস্বার্থে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা অব্যাহত থাকলে সমাজের বিভিন্ন অপরাধচক্র চিহ্নিত করা সহজ হবে।অভিযানের পর গুলশান এলাকায় অন্যান্য স্পা সেন্টারেও সতর্কতা দেখা গেছে বলে জানা গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের লাইসেন্স, কার্যক্রম ও কর্মীদের তথ্য হালনাগাদ করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিয়মিত তদারকির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, আলামত বিশ্লেষণ এবং তথ্য যাচাই শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি বা সহযোগীদের শনাক্ত করার কাজও চলছে।সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, রাজধানীতে অপরাধ দমনে অভিযানের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত তদারকি এবং তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতার সমন্বয় প্রয়োজন। তাহলেই স্পা সেন্টার বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের আড়ালে সংঘটিত অপরাধ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

আর্কাইভ

অর্থনীতি

ঈদের পর স্বস্তি সবজির বাজারে, কমেনি মাছ-মাংস-ডিমের দাম

ঈদের পর স্বস্তি সবজির বাজারে, কমেনি মাছ-মাংস-ডিমের দাম

পবিত্র ঈদুল আজহার পর রাজধানীর কাঁচাবাজারে ফিরতে শুরু করেছে কিছুটা স্বস্তি। সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারে এখনো মিলছে না স্বস্তির খবর।রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের আগের তুলনায় বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। যাত্রাবাড়ী বাজারে কাঁকরোল ও করলা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ঢেঁড়শ ও উচ্ছে ৬০ টাকা, ঝিঙে ৬০ টাকা, গোল বেগুন ৬০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ও লতিও মিলছে ৬০ টাকায়। লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়।বিক্রেতাদের দাবি, ঈদের আগে পরিবহন সংকট ও বাড়তি চাহিদার কারণে দাম বেড়েছিল।আরও  পড়ুন , উৎপাদন বাড়াতে বিশেষ তহবিল ঘোষণা বাংলাদেশ ব্যাংকের এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ আসায় বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।তবে মাছের বাজারে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। চাষের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৫০ টাকা, পাঙ্গাস ২২০ টাকা, শিং মাছ ৩৮০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে।ডিমের বাজারেও দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১২০ টাকা এবং দেশি ডিম ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।অন্যদিকে গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।ক্রেতারা বলছেন, সবজির দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছ, মাংস ও ডিমের উচ্চমূল্য এখনো সংসারের ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আমিষ পণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

উৎপাদন বাড়াতে বিশেষ তহবিল ঘোষণা বাংলাদেশ ব্যাংকের

উৎপাদন বাড়াতে বিশেষ তহবিল ঘোষণা বাংলাদেশ ব্যাংকের

দেশের শিল্প খাতে স্থবিরতা কাটিয়ে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বন্ধ ও আংশিক সচল শিল্প পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে জারি করা নীতিমালার নাম ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত–সহায়ক প্রাক্‌-অর্থায়ন স্কিম’।এই স্কিমের আওতায় বড় শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে। সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ, যা বর্তমানে বাজারের স্বাভাবিক ঋণের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে অর্থ নিয়ে ঋণ বিতরণ করবে। এর মাধ্যমে বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণকে লক্ষ্য করা হয়েছে।আরও  পড়ুন, মাসের শুরুতে রেমিট্যান্সে ধীরগতি, তিন দিনে এলো ৪৮৩ মিলিয়ন ডলারনীতিমালায় বলা হয়েছে, শুধুমাত্র সেই প্রতিষ্ঠানগুলোই এই সুবিধা পাবে, যেগুলো আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও কার্যকর মূলধন পেলে আবার চালু হতে সক্ষম। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান সচল থাকলেও পূর্ণ সক্ষমতায় যেতে পারছে না, তারাও অন্তর্ভুক্ত হবে।রপ্তানিমুখী ও প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি দক্ষ প্রতিষ্ঠান যদি বন্ধ কারখানা অধিগ্রহণ বা ইজারা নিয়ে পুনরায় চালু করতে চায়, তারাও এই সুবিধা পাবে।তবে খেলাপি ঋণ, অর্থপাচার বা অনিয়মে জড়িত প্রতিষ্ঠানের জন্য এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।ঋণের অর্থ ব্যবহারে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি ইউটিলিটি বিল ও কাঁচামাল কেনার বাইরে অর্থ ব্যবহার করা যাবে না। পুরোনো ঋণ পরিশোধের জন্য এই অর্থ ব্যবহার নিষিদ্ধ।আরও  পড়ুন, ২৭ মাস পর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, বাড়তি চাপে পড়বেন কোটি কোটি গ্রাহক

মাসের শুরুতে রেমিট্যান্সে ধীরগতি, তিন দিনে এলো ৪৮৩ মিলিয়ন ডলার

চলতি জুন মাসের প্রথম তিন দিনে দেশে ৪৮৩ দশমিক ০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সময়ে প্রবাসী আয় প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান রেমিট্যান্স প্রবাহের সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করেন।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুনের ১ থেকে ৩ তারিখ পর্যন্ত মোট ৪৮৩ দশমিক ০৫ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। এর মধ্যে শুধু ৩ জুন একদিনেই এসেছে ১১৬ দশমিক ৩১ মিলিয়ন ডলার।আরও  পড়ুন, ২৭ মাস পর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, বাড়তি চাপে পড়বেন কোটি কোটি গ্রাহকঅন্যদিকে, গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ৬০৩ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলার। ফলে চলতি বছরের জুনের শুরুতে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।তবে সামগ্রিক চিত্রে রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক রয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৩ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ৩৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে প্রবাসীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় বছরজুড়ে রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে।আরও  পড়ুন, মে মাসে রপ্তানি আয় কমলো ৭ শতাংশ, প্রধান কারণ পোশাক খাতে ধাক্কা

মাসের শুরুতে রেমিট্যান্সে ধীরগতি, তিন দিনে এলো ৪৮৩ মিলিয়ন ডলার

২৭ মাস পর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, বাড়তি চাপে পড়বেন কোটি কোটি গ্রাহক

দীর্ঘ ২৭ মাস পর দেশে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বা বিইআরসি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে।নতুন এই মূল্যহার চলতি জুন মাসের ১ তারিখ থেকেই কার্যকর হবে। গ্রাহক শ্রেণিভেদে বিদ্যুতের দাম ১০ থেকে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, পাইকারি পর্যায়েও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে।আরও  পড়ুন , মে মাসে রপ্তানি আয় কমলো ৭ শতাংশ, প্রধান কারণ পোশাক খাতে ধাক্কাপ্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় পাইকারি মূল্য ৭ টাকা ৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সঞ্চালন মাশুলও বৃদ্ধি করা হয়েছে।সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে আবাসিক গ্রাহকদের ওপর। প্রায় ৪ কোটি ২৬ লাখ আবাসিক গ্রাহকের মধ্যে ১ কোটি ৭৮ লাখের বেশি লাইফলাইন গ্রাহক রয়েছেন। এদের বেশিরভাগই নিম্ন ও সীমিত আয়ের পরিবার।বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে শুধু পরিবারের মাসিক ব্যয়ই বাড়বে না, কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পাবে। এর প্রভাব মূল্যস্ফীতিতেও পড়তে পারে।আরও  পড়ুন ,ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে টানা বিক্ষোভ, সাত দফা দাবিতে মাঠে গ্রাহকরা

২৭ মাস পর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, বাড়তি চাপে পড়বেন কোটি কোটি গ্রাহক

মে মাসে রপ্তানি আয় কমলো ৭ শতাংশ, প্রধান কারণ পোশাক খাতে ধাক্কা

দেশের রপ্তানি আয়ে আবারও পতনের ধারা দেখা দিয়েছে। প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের চালান কমে যাওয়ায় মে মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ শতাংশ কমেছে।রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো বা ইপিবির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসে দেশের মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৪ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার।এর মধ্যে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় এসেছে ৩ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ কম।আরও  পড়ুন , ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে টানা বিক্ষোভ, সাত দফা দাবিতে মাঠে গ্রাহকরাচলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে দেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৩ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার। এ সময়ে সামগ্রিক রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।একই সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি ৩৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়।উল্লেখ্য, টানা আট মাস রপ্তানি আয় কমার পর গত এপ্রিলে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল দেশের রপ্তানি খাত। তবে মে মাসের পরিসংখ্যান সেই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে না পারার ইঙ্গিত দিচ্ছে।আরও  পড়ুন , ব্যাংক খাতে ভয়াবহ চাপ তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়ে ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা

মে মাসে রপ্তানি আয় কমলো ৭ শতাংশ, প্রধান কারণ পোশাক খাতে ধাক্কা

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে টানা বিক্ষোভ, সাত দফা দাবিতে মাঠে গ্রাহকরা

ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর সদস্যরা।বুধবার রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশা এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।তাদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে—চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগ, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানের পুনর্বহাল এবং ব্যাংকের পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।আরও  পড়ুন , ব্যাংক খাতে ভয়াবহ চাপ তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়ে ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকাগ্রাহক ফোরামের নেতারা জানান, এস আলম গ্রুপের দখলকৃত মালিকানা ও দেশে থাকা সম্পদ বিক্রি করে ব্যাংক থেকে লুট হওয়া অর্থ সমন্বয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন, খুরশীদ আলম পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। একই সঙ্গে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও গ্রাহকদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কর্মবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছে।পরে দিলকুশা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের উদ্দেশে রওনা দেন আন্দোলনকারীরা।

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে টানা বিক্ষোভ, সাত দফা দাবিতে মাঠে গ্রাহকরা

লাইফস্টাইললাইফস্টাইল

গরমে প্রাণ জুড়াবে ডাবের পানি কয়েকটি উপাদান মিশলেই পাবেন বেশি উপকার

গরমে প্রাণ জুড়াবে ডাবের পানি কয়েকটি উপাদান মিশলেই পাবেন বেশি উপকার

এই গরমে শরীরকে সতেজ ও পানিশূন্যতামুক্ত রাখতে সবচেয়ে কার্যকর প্রাকৃতিক পানীয়গুলোর একটি হলো ডাবের পানি। পুষ্টিবিদদের মতে, ডাবের পানিতে থাকা পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়াম শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি শরীর ঠান্ডা রাখে, হজমশক্তি উন্নত করে এবং ক্লান্তি দূর করতে ভূমিকা রাখে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডাবের পানির উপকারিতা আরও বাড়াতে এর সঙ্গে কিছু স্বাস্থ্যকর উপাদান যোগ করা যেতে পারে।ডাবের পানির সঙ্গে বিট লবণ মিশালে সোডিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদান যুক্ত হয়, যা শরীরের পানির ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক। অন্যদিকে চিয়া সিডসে থাকা ফাইবার ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরকে দীর্ঘ সময় হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।আরও  পড়ুন, স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে আজই ছাড়ুন ধূমপানলেবুর রস মিশিয়ে পান করলে বাড়ে ভিটামিন সি-এর যোগান। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি হজমেও সহায়তা করে।এছাড়া মধু যোগ করলে পাওয়া যায় প্রাকৃতিক শক্তি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সুবিধা। পুদিনা পাতা মিশিয়ে পান করলে শরীরে আসে বাড়তি সতেজতা এবং হজমের সমস্যাও কমে।তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ডায়াবেটিস বা কিডনিসংক্রান্ত জটিলতা থাকলে নিয়মিত বা অতিরিক্ত ডাবের পানি পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।গরমে সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডাবের পানি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।