দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

আজকের আবহাওয়া

ঢাকা 1007.2 hPa
34.8° 53%
9mm
চট্টগ্রাম 1007.4 hPa
31.7° 74%
100° 9mm
রাজশাহী 1009.7 hPa
33.5° 65%
20° 6mm
খুলনা 1006.9 hPa
29.8° 78%
30° 9mm
বরিশাল 1007.1 hPa
33.3° 59%
9mm
সিলেট 1007.4 hPa
34.5° 61%
9mm
রংপুর 1006.9 hPa
35.1° 58%
9mm
ময়মনসিংহ 1007.9 hPa
33.8° 65%
400° 9mm
Weather

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

গুলশানে গেস্ট হাউজ-স্পা, পেছনে মিরাজের অজানা সাম্রাজ্য?

গুলশানে গেস্ট হাউজ-স্পা, পেছনে মিরাজের অজানা সাম্রাজ্য?

বরগুনার বেতাগী উপজেলার গরিচন্না বাজার এলাকায় জম্ম মিরাজের। তিনি ঢাকার বুকে হোটেল ব্যবসায় অঙ্গনে যিনি ‘মোল্লা মিরাজ’ নামে পরিচিত বলে স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে। প্রায় এক দশক আগে ঢাকায় এসে মিরপুরের একটি আবাসিক হোটেলে ক্লিনারের চাকরি নেওয়া থেকে তার কর্মজীবনের শুরু। সময়ের ব্যবধানে সেই চাকরি থেকে হোটেল, স্পা ও গেস্ট হাউজ ব্যবসায় প্রবেশ এবং পরবর্তীতে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে ফ্ল্যাট, বাড়ি-গাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, মিরাজের বর্তমান জীবনযাপন ও সম্পদের সঙ্গে তার অতীত আর্থিক অবস্থার ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। একসময় সাধারণ কর্মচারী হিসেবে কাজ করলেও বর্তমানে তিনি ভিআইপি স্টাইলে চলাফেরা করেন। তার মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন হোটেল, স্পা ও গেস্ট হাউজকে ঘিরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক, মানবপাচার এবং ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি সূত্রগুলোর। অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।আরও পড়ুন: গুলশানে গেস্ট হাউজ ও দীর্ঘদিনের স্পা ব্যবসায় কোটিপতি মিরাজপ্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ বছর আগে বরগুনা থেকে ঢাকায় আসেন মিরাজ। তখন তার আর্থিক অবস্থা ছিল সাধারণ। রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ক্লিনার হিসেবে চাকরি নেন তিনি। হোটেলকেন্দ্রিক পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে ধীরে ধীরে ব্যবসার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা নেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে নিজেই হোটেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। সময়ের সঙ্গে স্পা ও গেস্ট হাউজ ব্যবসাতেও তার সম্পৃক্ততা বাড়তে থাকে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই বড় অঙ্কের অর্থ ও সম্পদের মালিক হয়েছেন।সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, একজন সাধারণ কর্মচারী থেকে এত অল্প সময়ে কীভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হলেন মিরাজ? তার ব্যবসার মূলধন কোথা থেকে এসেছে, কোন কোন প্রতিষ্ঠানের নামে সম্পদ রয়েছে এবং এসব ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থের উৎস কী এসব বিষয়ে যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।আরও পড়ুন: অপসাংবাদিকতার তাণ্ডব: মূলধারা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বড় সংকটঅভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে রাজধানীর গুলশানে ৩৩ নং রোডে অবৈধ গেস্ট হাউজ ও ৪১ নং রোডে একটি স্পা এবং আর এম সেন্টারে ভিআইপি সেলুন ও স্পেশাল সার্ভিসের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া  একটি ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক মিরাজ। তার নামে বা ঘনিষ্ঠদের নামে আরও সম্পদ রয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়ের অর্থের উৎস এবং আয়কর নথিতে সেগুলোর যথাযথ হিসাব রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাই প্রয়োজন। অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তার সম্পদ ও ব্যবসায়িক লেনদেন যাচাই করা গেলে অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন সাংবাদিক ও স্থানীয়রা।রাজধানীর গুলশানের একটি গেস্ট হাউজ ও স্পা সেন্টারকে ঘিরে মিরাজের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। একই সঙ্গে সেখানে মাদকসেবী, মাদক কারবারি কিংবা মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কথিত আনাগোনা রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে মাদক ব্যবসা বা মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করার মতো আদালতসিদ্ধ তথ্য এই প্রতিবেদকের হাতে নেই। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত জরুরি।আরও পড়ুন: ডেঙ্গু ঠেকাতে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রীস্থানীয়দের প্রশ্ন, আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধিত ও অনুমোদিত কি না? তাদের ট্রেড লাইসেন্স, অগ্নিনিরাপত্তা, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না এ বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন। মিরাজের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার দাবি। কয়েকটি সূত্রের ভাষ্য, হোটেল ও গেস্ট হাউজ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে একটি বড় সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যার মাধ্যমে বিপুল অর্থ লেনদেন হয়।অভিযোগ রয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণী ও তরুণদের রাজধানীতে এনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজে নিয়োগ বা অন্য সুযোগ দেওয়ার কথা বলে তাদের একটি চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে তাদের ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করা হয় বলেও অভিযোগকারীদের দাবি। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো মামলার নথি, তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় এই প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।আরও পড়ুন: অনলাইন পোর্টাল ও ফেসবুক পেজ খুলেই কথিত ‘সাংবাদিক’!মানবপাচারের অভিযোগ সত্য হলে এটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মানবপাচারবিরোধী সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উচিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা।হোটেল ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, মিরাজ রাজধানীর হোটেল অঙ্গনে ‘মোল্লা মিরাজ’ নামে পরিচিত। ব্যবসায়িক যোগাযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন মহলে তার প্রভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে তার সামাজিক ও ব্যবসায়িক প্রভাবও বেড়েছে। বর্তমানে তিনি দামি গাড়িতে চলাফেরা করেন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে এমন কথাও শোনা যায়। মিরাজকে নিয়ে ইতিপূর্বে দৈনিক সংবাদ দিগন্তে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিকদের হুমকি-ধমকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ কিংবা হয়রানির চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করতে ভয়ভীতি বা চাপ প্রয়োগ করা হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগের বিষয়। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো পক্ষ যাতে সংবাদ প্রকাশের কারণে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা।আরও পড়ুন: শিকলে বেঁধে বেল্ট দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ, পরে গৃহবধূর মৃত্যুমিরাজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি বা ভিডিওকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। তবে কার কাছ থেকে কত টাকা আদায় করা হয়েছে বা এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়েছে কি না এমন নির্ভরযোগ্য নথি প্রতিবেদকের হাতে না থাকায় অভিযোগটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। যদি সত্যিই এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে থাকে, তাহলে ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তদন্ত করা সম্ভব। একজন সাধারণ কর্মচারী থেকে কয়েক বছরের ব্যবধানে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠলে স্বাভাবিকভাবেই সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। মিরাজের আয়কর নথি, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, ব্যাংক লেনদেন, সম্পত্তি ক্রয়ের দলিল এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স যাচাই করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। বিশেষ করে তার মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন হোটেল, স্পা ও গেস্ট হাউজগুলোর বৈধতা, অনুমোদন এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠান অন্য কারও নামে পরিচালিত হলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রক কে সেটিও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।আরও পড়ুন: বাঁধনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা, ‘আমরা সবাই বিচার চাই’: পাটওয়ারীরাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে হোটেল, গেস্ট হাউজ ও স্পা ব্যবসার আড়ালে যাতে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতে না পারে, সে বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাদক, মানবপাচার, অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা উচিত। অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্টদেরও আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকা প্রয়োজন।মিরাজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তার কাছ থেকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। দৈনিক সংবাদ দিগন্তের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হচ্ছে, এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক, মানবপাচার, অবৈধ সম্পদ ও ব্ল্যাকমেইলিং সংক্রান্ত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সূত্র ও অভিযোগকারীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। রাজধানীতে একজন সাধারণ কর্মচারী থেকে দ্রুত বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠার অভিযোগ এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘিরে ওঠা গুরুতর অভিযোগগুলো তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে এনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে। তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে মিরাজের বিপুল সম্পদের প্রকৃত উৎস কী এবং তার পরিচালিত হোটেল, স্পা ও গেস্ট হাউজ ব্যবসার আড়ালে আদৌ কোনো অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না।আরও পড়ুন: আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ডিএমপি, দুই দিনে ৩২০৬ মামলাআইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবৈধ ব্যবসা, মাদক, মানবপাচার, ব্ল্যাকমেইলিং কিংবা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা যথাযথভাবে তদন্ত ও প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। গণমাধ্যমে এসব অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে অভিযোগকে সরাসরি প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন না করে ‘অভিযোগ’ বা ‘সূত্রের দাবি’ হিসেবে উল্লেখ করা উচিত।বিশেষজ্ঞরা বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, ব্যবসায়িক নথি, সম্পত্তির দলিল, আয়কর নথি ও আর্থিক লেনদেন যাচাই করলে সম্পদের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়াও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আইন বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিককে ভয়ভীতি বা হুমকি দেওয়া হলে সেটিও আইনগতভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। সংবাদে আপত্তি থাকলে আইনসম্মতভাবে প্রতিবাদ বা প্রতিকার চাওয়া যায়; কিন্তু চাপ প্রয়োগ করে সংবাদ বন্ধের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। তাই মিরাজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন জরুরি।আরও পড়ুন: সকালেই মেঘে ঢাকা রাজধানী, দুপুরের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনাএবিষয়ে মিরাজের পরিচালিত গেস্ট হাউজ ও স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, গুলশান এলাকায় কোনো হোটেল, গেস্ট হাউজ বা স্পা সেন্টারের আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে পুলিশ তা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। আরও পড়ুন: পুলিশে বড় রদবদল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তা বদলিওসি আরও বলেন, গুলশান এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় এর আগে বিভিন্ন স্পা সেন্টারে অভিযান চালিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাদক, মানবপাচার, ব্ল্যাকমেইলিং কিংবা অন্য কোনো অপরাধের সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে তা পুলিশকে জানালে তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

ছিনতাই ঠেকাতে দ্রুত বিচার আইনে কঠোর হচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ। ছিনতাইয়ের মামলায় আসামিদের জামিন ঠেকাতে তৎপর আইনজীবীরা। পাশাপাশি দণ্ডবিধির সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দ্রুত বিচার আইন, ২০০২ প্রয়োগকে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। এ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে একদিকে চলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান, অন্যদিকে আদালতে ছিনতাই মামলার আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকি জানিয়েছেন, ছিনতাই প্রতিরোধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বিচারকরাও এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, ছিনতাইয়ের মামলায় আসামিদের জামিন ঠেকাতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।তবে মামলা শক্তিশালী করতে তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আইনজীবীরা।তাদের মতে, ভাসমান সাক্ষীর পরিবর্তে ঘটনাস্থলের স্থায়ী বাসিন্দাদের সাক্ষী করা গেলে মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় সুবিধা হতে পারে। পাশাপাশি সাক্ষীদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।আরও  পড়ুন, ২৪ সেপ্টেম্বরের পর আর নয়, ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধনের সময়সীমাআইনজীবীদের মতে, সরকারি সাক্ষীদের যাতায়াত খরচ দ্রুত পরিশোধ করা হলে আদালতে সাক্ষীদের উপস্থিতি বাড়বে। এতে দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে মামলার বিচার এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।ছিনতাই প্রতিরোধে দণ্ডবিধির পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দ্রুত বিচার আইন, ২০০২ প্রয়োগের ওপর জোর দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত বিচার ও কার্যকর সাক্ষ্য-প্রমাণ নিশ্চিত করা গেলে ছিনতাইয়ের ঘটনায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ছিনতাইকারী পেশাদার এবং অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। জামিনে বের হয়ে তারা আবার একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে বলে দাবি পুলিশের।এ কারণে ছিনতাইয়ের মামলাগুলো নিয়মিত আইনের পাশাপাশি দ্রুত বিচার আইনেও দেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছিনতাইয়ের শিকার হলে দ্রুত ৯৯৯ নম্বরে কল করার পাশাপাশি থানায় মামলা করা জরুরি।আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারায় চুরি বা চুরির উদ্দেশ্যে আঘাত, আঘাতের চেষ্টা কিংবা অবৈধভাবে আটক করার ঘটনাকে দস্যুতা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।দস্যুতার ঘটনায় বিভিন্ন ধারায় কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। অপরদিকে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দ্রুত বিচার আইন, ২০০২-এর আওতায় ছিনতাইকেও আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।এই আইনে ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

২৪ সেপ্টেম্বরের পর আর নয়, ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধনের সময়সীমা

২০২৭ সালের পবিত্র হজের নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। সৌদি সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হজযাত্রীদের নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের পর নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানো হবে না।২০২৭ সালের পবিত্র হজে যেতে আগ্রহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।চলমান হজ নিবন্ধন কার্যক্রম আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। সৌদি সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।বুধবার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ-২ শাখা থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের পর হজ নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানো হবে না।চলতি বছরের ২৭ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের হজের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।২০২৭ সালের হজে বাংলাদেশের জন্য সৌদি আরব নির্ধারিত কোটা ৭৮ হাজার ৫০০ জন।মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধনের বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।আরও  পড়ুন, অনিবার্য কারণে পেছাল বায়তুল মোকাররমের ইসলামী বইমেলার উদ্বোধনএরপর চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যার ভিত্তিতে সৌদি পর্বের অর্থ প্রেরণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসা আবেদন, টিকাদান এবং হজ প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।হজের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৪ সেপ্টেম্বরের পর নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানো হবে না। তাই হজে গমনেচ্ছুদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সি ও ব্যাংকগুলোকে সময়সীমার মধ্যেই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তি, হজ এজেন্সি, হজ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছে।হজ নিবন্ধন ও হজসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজবিষয়ক ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।তাই ২০২৭ সালের পবিত্র হজে যেতে ইচ্ছুকদের জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

অনিবার্য কারণে পেছাল বায়তুল মোকাররমের ইসলামী বইমেলার উদ্বোধন

অনিবার্য কারণবশত বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব ও দক্ষিণ চত্বরে আয়োজিত মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত শুক্রবারের পরিবর্তে আগামী শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধন।বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব ও দক্ষিণ চত্বরে আয়োজিত মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শুক্রবার সকাল ১০টায় বইমেলার উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল।তবে অনিবার্য কারণবশত সেই সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টায় বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে।আরও  পড়ুন, কেন হারিয়ে যাচ্ছে শিশুরা, সাত মাসে নিখোঁজের জিডি ১৫ হাজারের বেশিইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই বইমেলায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। দেশের খ্যাতনামা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশগ্রহণ করবে।মেলায় পবিত্র কোরআন, হাদিস, সিরাত, ইসলামী সাহিত্য, গবেষণা, ইতিহাস ও সংস্কৃতিবিষয়ক বিভিন্ন বই পাওয়া যাবে। পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের উপযোগী ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষামূলক বইও থাকবে।আয়োজকদের আশা, শুধু বই কেনাবেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এই ইসলামী বইমেলা মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস, ইসলামী জ্ঞানচর্চা এবং নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে ভূমিকা রাখবে। মাসব্যাপী এ আয়োজনে পাঠকরা বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় ও জ্ঞানভিত্তিক বই সংগ্রহের সুযোগ পাবেন।ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, পরিবর্তিত সময়সূচি অনুযায়ী শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।তাহলে শুক্রবার নয়, নতুন সূচি অনুযায়ী শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় বায়তুল মোকাররম চত্বরে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলার উদ্বোধন হবে।

কেন হারিয়ে যাচ্ছে শিশুরা, সাত মাসে নিখোঁজের জিডি ১৫ হাজারের বেশি

অভিমান করে বাড়ি থেকে পালিয়ে ট্রেনে উঠে সাত বছরের অনিক। ঢাকার কমলাপুর থেকে ময়মনসিংহে পৌঁছানোর পর একা শিশুটিকে দেখে স্থানীয়রা খবর দেন শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮-এ। পরে রেলওয়ে পুলিশ ও সমাজকর্মীদের সহায়তায় পরিবারের কাছে ফিরে যায় অনিক।অনিকের মতো অনেক শিশুই নিখোঁজ হওয়ার পর আবার পরিবারের কাছে ফিরে আসে। কিন্তু চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি হয়েছে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নামে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জন উদ্ধার হলেও এখনো সন্ধান মেলেনি ২ হাজার ৩৮ শিশুর।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সি শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ৪৭৪টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো সন্ধান মেলেনি ৬৮ জনের।সবচেয়ে বেশি নিখোঁজের জিডি হয়েছে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিশুদের নিয়ে। এ বয়সি শিশু নিখোঁজের সংখ্যা ১৫ হাজার ২৪৩। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বা তারা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি ১ হাজার ৯৭০ জনের।আরও  পড়ুন, তরুণদের জন্য সুখবর, বিনামূল্যে দুই মাসের এআই প্রশিক্ষণপুলিশ ও শিশু অধিকার সংশ্লিষ্টদের মতে, শিশু নিখোঁজের পেছনে একক কোনো কারণ নেই। অভিমান, পারিবারিক কলহ, পড়াশোনার চাপ, স্বাধীনভাবে থাকার আকাঙ্ক্ষা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অপহরণ ও পাচারের মতো গুরুতর ঘটনাও রয়েছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের মতে, নিখোঁজ শিশুদের একটি বড় অংশ ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সি। তারা অনেক সময় বন্ধুদের সঙ্গে পালিয়ে যায়।শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮-এর তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের শাসন, বাবা-মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে, পারিবারিক ঝগড়া, অভাবসহ বিভিন্ন কারণে শিশু নিখোঁজের ঘটনা ঘটে। মেয়েশিশুদের ক্ষেত্রে পাচার, গৃহশ্রমিক হিসেবে নির্যাতন, অপহরণ কিংবা প্রেমের সম্পর্কের কারণে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও রয়েছে।অন্যদিকে অপরাধবিজ্ঞানীদের মতে, কিছু শিশু অপহরণের শিকার হয়ে ভিক্ষাবৃত্তি কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হয়। পরে তাদের একটি অংশ অপরাধচক্রের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়তে পারে।পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাবে, ২০২৩ সালে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে তা কমে ১৬ হাজার ৪১৪ হলেও ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ৫৫০টিতে।পুলিশ বলছে, অনলাইন জিডি চালুর ফলে নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগ করা সহজ হওয়ায় সংখ্যাটি বেড়েছে। তাই শুধু নিখোঁজের সংখ্যা নয়, একই সঙ্গে কতজন উদ্ধার হয়েছে এবং কতজন এখনো নিখোঁজ—সেটিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

রাজনীতিরাজনীতি

অন্যের কথায় চলার অধ্যায় চিরতরে শেষ’: শফিকুর রহমান

অন্যের কথায় চলার অধ্যায় চিরতরে শেষ’: শফিকুর রহমান

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি আর কোনো দেশের অধীন থেকে পরিচালিত হবে না বলে জাতীয় সংসদে ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা বন্ধ, তিস্তা সংকটের সমাধান এবং গঙ্গা পানিচুক্তি নবায়নে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।বৃহস্পতিবার রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রায় ৪০ মিনিট দেশের পররাষ্ট্রনীতি, সীমান্ত হত্যা, সংবিধান সংস্কার, জুলাই গণহত্যার বিচার, দুর্নীতি এবং শিল্প খাতের সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা।ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আলোচনা ও সৌহার্দ্য থাকবে। তবে বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে প্রয়োজন হলে সমানে সমান অবস্থান নেওয়া হবে। তার দাবি, অন্যের নির্দেশনা অনুযায়ী চলার অধ্যায় শেষ হয়েছে।সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবি জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ফেলানীর মতো আর কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলতে দেখতে চান না তিনি। একই সঙ্গে গঙ্গা পানিচুক্তি নবায়ন ও তিস্তা সংকটের স্থায়ী সমাধানে এখন থেকেই শক্ত অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।বিদেশে পালিয়ে থাকা ব্যক্তিদের নিয়েও বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা।আরও  পড়ুন, কোটালীপাড়ায় সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহকের টাকা সরানোর অভিযোগ তার অভিযোগ, অপরাধ করে দেশত্যাগকারীরা বিদেশ থেকে নানা অপপ্রচারের মাধ্যমে দেশের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান গত ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায়কে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান। ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।সাধারণ পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে গণপরিষদ বা সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সংস্কারের প্রস্তাব দেন বিরোধীদলীয় নেতা। একই সঙ্গে জুলাই গণহত্যার বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার দাবি জানান তিনি।জাতীয় সংসদের সমাপনী বক্তব্যে শফিকুর রহমান শুধু পররাষ্ট্রনীতি নয়, অর্থনীতি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দুর্নীতি দমন নিয়েও সরকারের প্রতি একাধিক প্রস্তাব তুলে ধরেন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদন কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।শফিকুর রহমানের দাবি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানার উৎপাদন কমে গেছে। সময়মতো গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে বিদেশি ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন এবং লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হুমকিতে পড়তে পারে।সংসদ সদস্যদের উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্য দূর করে আনুপাতিক হারে সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক দখলদারি ও অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান।স্বাস্থ্য খাতের সংকট তুলে ধরে নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫-এর সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের জনবল সংকটের কথাও সংসদে উল্লেখ করেন তিনি।

‘শপথের ৬ মিনিটের মধ্যেই জনগণের ওয়াদা ভঙ্গ করেছে সরকার’: মামুনুল হক

‘শপথের ৬ মিনিটের মধ্যেই জনগণের ওয়াদা ভঙ্গ করেছে সরকার’: মামুনুল হক

সরকারের সমালোচনা করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক অভিযোগ করেছেন, নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় বসার আগেই জনগণের সঙ্গে করা ওয়াদা ভঙ্গ করেছে সরকারি দল। তাঁর দাবি, সংসদ নির্বাচনের শপথ নেওয়া হলেও গণভোটের শপথ নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার না করে বারবার সংশোধনেরও সমালোচনা করেন তিনি।বৃহস্পতিবার বিকালে শরীয়তপুর পৌরসভা মিলনায়তনে জেলা খেলাফত মজলিস আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মামুনুল হক।তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।মামুনুল হক বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে জাতির কাছে অঙ্গীকার করার পর নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় বসার আগেই সরকারি দল জনগণের সঙ্গে দেওয়া ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও গণভোটের শপথ না নেওয়ার সমালোচনা করেন তিনি।এ সময় তিনি দাবি করেন, শপথ নেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সরকারি দল জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে।মামুনুল হকের বক্তব্যে মূলত সংবিধান সংস্কার, জুলাই সনদ এবং গণভোটের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলে দীর্ঘ সময়েও আন্দোলনের প্রয়োজন হতো না।আরও  পড়ুন, ইসলামপন্থী অনুষ্ঠানে নারী সাংবাদিকদের পর্দা মানার আহ্বানমামুনুল হক বলেন, আন্দোলনের মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই বিরোধী দল আন্দোলন শুরু করেছে। তাঁর মতে, নির্বাচনের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার না করে বারবার সংশোধন করলে তা স্থায়ী হয় না। আদালতের মাধ্যমে কিংবা পরবর্তী সরকার এসে এসব পরিবর্তন বাতিল করে দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ইসলামী শরিয়া আইনের প্রসঙ্গ তুলে মামুনুল হক বলেন, ইসলামবিরোধী কোনো আইন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলে তৌহিদী জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে।সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শরীয়তপুর জেলা খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা সাব্বির আহাম্মেদ উসমানী।এতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আল্লামা জালাল উদ্দিন আহমদ, মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ হানজালা, ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মুহম্মদ উল্লাহ এবং শরীয়তপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রব হাসেমীসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।সংবিধান সংস্কার, গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি ইসলামবিরোধী আইন বাস্তবায়নের উদ্যোগের বিরোধিতার কথাও জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।

আইনশৃঙ্খলায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আইনশৃঙ্খলায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের নূরুল ইসলাম বুলবুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। খুন, ছিনতাই ও অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশ তৎপরতা জোরদার করেছে।জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকে পুলিশের মনোবল ফিরিয়ে এনে পূর্ণ শক্তিতে কাজ করার উপযোগী করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।এদিকে সংসদে বিডিআর সদস্যদের চাকরিচ্যুতির বিষয়েও তথ্য তুলে ধরেন তিনি। আড়ও পড়ুন,ইসলামপন্থী অনুষ্ঠানে নারী সাংবাদিকদের পর্দা মানার আহ্বানস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিডিআর বিদ্রোহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৬ হাজার ২৮৬ জনকে চাকরিচ্যুত এবং ২ হাজার ৫১০ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের সুযোগ নেই।ঢাকা শহরকে সিসিটিভি মনিটরিংয়ের আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ‘ডেভেলপমেন্ট অব স্মার্ট পুলিশিং ইন ডিএমপি’ প্রকল্পের আওতায় পুরো ঢাকা মহানগরকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।সংসদে দেওয়া তথ্যে আরও জানা গেছে, চলতি সরকারের সময়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে ৬০ হাজার ৫৯৮টি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১৮ হাজার ৪০টি মামলা এবং ১৮ হাজার ৮৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।অন্যদিকে নদীভাঙনের কারণে প্রতিবছর গড়ে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি পরিবার ও ১৫ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হন বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে মোট শ্রমশক্তি ৭ কোটি ১৭ লাখ ১০ হাজার। এর মধ্যে কর্মে নিয়োজিত ৬ কোটি ৯০ লাখ ৯০ হাজার এবং বেকার ২৬ লাখ ২০ হাজার। প্রতিবছর গড়ে ১৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষ নতুন করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছেন বলেও সংসদে জানানো হয়েছে।

ইসলামপন্থী অনুষ্ঠানে নারী সাংবাদিকদের পর্দা মানার আহ্বান

ইসলামপন্থী অনুষ্ঠানে নারী সাংবাদিকদের পর্দা মানার আহ্বান

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও ইসলামপন্থী সংগঠনগুলোর অনুষ্ঠানে সংবাদ সংগ্রহে আসা নারী সাংবাদিকদের পর্দা ও শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। তাঁর এ বক্তব্য ঘিরে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আইএবি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন ফয়জুল করীম।তিনি বলেন, নারী সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই। তারা সংবাদ সংগ্রহ করবেন, এতে দলের কোনো আপত্তি নেই।তবে ইসলামী আন্দোলনের দলীয় কোনো অনুষ্ঠান কিংবা ইসলামপন্থী বিভিন্ন আয়োজনে নারী সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহের জন্য এলে তাদের পর্দা ও শালীনতা বজায় রেখে আসা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।ফয়জুল করীমের ভাষ্য, নারী সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন—এ নিয়ে আপত্তির কিছু নেই।আড়ও পড়ুন,জামায়াতের লং মার্চ ও সংসদীয় বক্তব্যে দ্বিমুখিতা আছে: চরমোনাই পীরতবে ইসলামী আন্দোলনের দলীয় পরিবেশ এবং ইসলামপন্থী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের পোশাক ও পর্দার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।চরমোনাই পীরের এই বক্তব্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে বক্তব্যটির পক্ষে-বিপক্ষে মতামত জানানো হচ্ছে।একদিকে দলটির পক্ষ থেকে এটিকে তাদের নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংগঠনিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রত্যাশা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, নারী সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার এবং পোশাকের বিষয়ে মতপ্রকাশের সীমা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।তবে ফয়জুল করীম তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন, নারী সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই। তাঁর আহ্বান মূলত দলীয় ও ইসলামপন্থী আয়োজনে সংবাদ সংগ্রহের সময় পর্দা ও শালীনতা বজায় রাখার বিষয়ে।এ বক্তব্যকে ঘিরে চলমান বিতর্কে এখন সামনে আসছে সাংবাদিকতার পেশাগত স্বাধীনতা ও বিভিন্ন সংগঠনের নিজস্ব সাংগঠনিক পরিবেশ—দুইয়ের মধ্যে সমন্বয়ের প্রশ্নও।

সারাবাংলা

ভোরের আগুনে মানিকছড়িতে ওষুধের গোডাউনসহ পাঁচ দোকান পুড়ে ছাই

ভোরের আগুনে মানিকছড়িতে ওষুধের গোডাউনসহ পাঁচ দোকান পুড়ে ছাই

খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি ওষুধের গোডাউনসহ পাঁচটি দোকান পুড়ে গেছে। শুক্রবার ভোররাতে উপজেলার ময়ূরখীল ধর্মঘর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।ভোরের নীরবতা ভেঙে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা। মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে এক দোকান থেকে আশপাশের আরও কয়েকটি দোকানে।শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার ময়ূরখীল ধর্মঘর এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, একটি চায়ের দোকানের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত। পরে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের দোকানগুলোতে।আরও  পড়ুন, আবারও খুলল কাপ্তাই বাঁধের ১৬ গেট, বাড়ছে হ্রদের পানিস্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। খবর পেয়ে লক্ষ্মীছড়ি ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।ততক্ষণে আগুনে পুড়ে যায় একটি ওষুধের দোকান, ওষুধের গোডাউন, সার ও কীটনাশকের দোকান এবং দুটি চায়ের দোকানের আসবাবপত্র ও বিভিন্ন মালামাল।আগুনে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।একটি চায়ের দোকানের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হলেও মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের দোকানগুলোতে। স্থানীয়দের চেষ্টা ও পরে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এর আগেই পুড়ে যায় পাঁচটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল।

আবারও খুলল কাপ্তাই বাঁধের ১৬ গেট, বাড়ছে হ্রদের পানি

আবারও খুলল কাপ্তাই বাঁধের ১৬ গেট, বাড়ছে হ্রদের পানি

কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা আবারও বাড়তে থাকায় বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার সকাল থেকে প্রতিটি গেট ছয় ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু হয়েছে। বর্তমানে হ্রদের পানির উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ১০৫ দশমিক ৫১ ফুট এমএসএল।কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় ফের খুলে দেওয়া হয়েছে বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট।শুক্রবার সকাল থেকে প্রতিটি জলকপাট ছয় ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু করে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমানে কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৫১ ফুট এমএসএল। একই সঙ্গে রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গেট খুলে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে।আরও  পড়ুন, কোটালীপাড়ায় সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহকের টাকা সরানোর অভিযোগএর আগে গত ২৯ আগস্ট হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়ে ১০৬ দশমিক ০১ ফুট এমএসএলে পৌঁছালে প্রথম দফায় ১৬টি জলকপাট ছয় ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়। তখন প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হয়েছিল।পরে পানির উচ্চতা আরও বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি বিবেচনায় গেট খোলার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হয়। একপর্যায়ে প্রতিটি গেট তিন ফুট পর্যন্ত খোলা হয়। তখন প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হয়েছিল।পরিস্থিতির উন্নতি হলে গত ৬ সেপ্টেম্বর সবগুলো জলকপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও হ্রদের পানি বাড়তে থাকায় শুক্রবার পুনরায় ১৬টি গেট খুলে দেওয়া হলো।

কোটালীপাড়ায় সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহকের টাকা সরানোর অভিযোগ

কোটালীপাড়ায় সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহকের টাকা সরানোর অভিযোগ

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সোনালী ব্যাংকের ঘাঘর শাখায় এক নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহকের টাকা সরিয়ে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাংক কর্মকর্তা, গ্রাহক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।অভিযোগের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখায়ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আরও  পড়ুন, পুলিশ বক্স নির্মাণের নামে হোটেলে চাঁদাবাজি, কক্সবাজারে গ্রেপ্তার ১গ্রাহকের অর্থ কীভাবে সরানো হলো, এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না এবং প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কত—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।তবে অভিযোগের বিষয়ে ওই কর্মকর্তার বক্তব্য এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানা গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে। গ্রাহকের অর্থ নিয়ে এমন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ বক্স নির্মাণের নামে হোটেলে চাঁদাবাজি, কক্সবাজারে গ্রেপ্তার ১

পুলিশ বক্স নির্মাণের নামে হোটেলে চাঁদাবাজি, কক্সবাজারে গ্রেপ্তার ১

কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় পুলিশ বক্স নির্মাণের কথা বলে বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্ট থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে। নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে চক্রের সদস্যরা অর্থ হাতিয়ে নিত বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিয়াবুল হক নামে চক্রটির এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে ১০টি মোবাইল ফোন ও তিনটি চেকবই।কক্সবাজার পৌরসভার সৈকতপাড়া এলাকা থেকে বুধবার জিয়াবুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।পুলিশ জানায়, গত ২৬ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চক্রটির সদস্যরা কক্সবাজার শহরের বেশ কয়েকটি তারকা হোটেল ও রিসোর্টে যায়। এর মধ্যে সীগাল হোটেল, হোটেল সাম্পান ও হোটেল কক্স টুডেসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, চক্রের সদস্যরা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলত। পর্যটন এলাকার বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী পুলিশ বক্স নির্মাণ করা হবে—এমন কথা বলে এর জন্য অর্থ প্রয়োজন বলে দাবি করত তারা। পরে হোটেল ও রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা আদায় করত।ঘটনার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে ৫ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করা হয়। আরও  পড়ুন, মাওয়া থেকে ফেরার পথে প্রাণ গেল সৌদি প্রবাসীরতদন্তের অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে সৈকতপাড়া এলাকা থেকে জিয়াবুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ বলছে, পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে একটি চক্র হোটেল ও রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় করছিল। গ্রেপ্তার ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া মোবাইল ফোন ও চেকবইয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, গ্রেপ্তার জিয়াবুল হককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্যদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।পর্যটন এলাকার ব্যবসায়ীদেরও অপরিচিত ব্যক্তি বা সংগঠনের নামে অর্থ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিচয় ও দাবির সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা ও অর্থ আদায়ের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে। তদন্তে চক্রটির আরও সদস্যের নাম এবং প্রতারণার পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আন্তর্জাতিক

মোখা দখলে হুথিরা, বাব আল-মান্দাবে বাড়ছে বড় ঝুঁকি

মোখা দখলে হুথিরা, বাব আল-মান্দাবে বাড়ছে বড় ঝুঁকি

ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা দখল করেছে ইরান-সমর্থিত হুথিরা। গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মধ্য দিয়ে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে গোষ্ঠীটি।বৃহস্পতিবার ইয়েমেন সরকারের সমর্থিত বাহিনীকে হটিয়ে শহর ও বন্দর নিয়ন্ত্রণে নেয় হুথিরা। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী কয়েক দিন ধরে মোখায় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র স্থলযুদ্ধ চলছিল। শেষ পর্যন্ত সরকারি বাহিনীকে সরিয়ে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয় হুথিরা।কৌশলগত দিক থেকে মোখার গুরুত্ব অনেক। শহরটি বাব আল-মান্দাব প্রণালি থেকে ৫০ মাইলেরও কম দূরে। লোহিত সাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এই প্রণালি।বিশ্লেষকদের মতে মোখা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ফলে এই নৌপথে চলাচলকারী জাহাজের ওপর চাপ সৃষ্টি করার সক্ষমতা বাড়তে পারে হুথিদের। একই সঙ্গে লোহিত সাগরকেন্দ্রিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব বিস্তারের সুযোগও তৈরি হতে পারে।মোখা দখলের খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের বেশি উঠে যায়।আরও পড়ুন,চীনে মেরামতাধীন কার্গো জাহাজে ভয়াবহ আগুন নিহত ২০ কয়েক মাসের মধ্যে এটি ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের দাম।ইয়েমেনবিষয়ক গবেষকদের মতে মোখা দখল সাম্প্রতিক বছরগুলোর সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড়। হুথিরা আরও দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে বাব আল-মান্দাবের কাছাকাছি এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।তবে হুথিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সমুদ্রপথে নৌ চলাচল নিরাপদ রয়েছে। তাদের দাবি পশ্চিম ইয়েমেনে চলমান সংঘর্ষও শেষ হয়েছে।মোখা আগে ইয়েমেন সরকারের মিত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল তারেক সালেহর বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। হুথিদের অগ্রযাত্রার পর তিনি বাহিনী পুনর্গঠন এবং বিকল্প কমান্ড সেন্টার স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন।এদিকে হুথিরা বলছে ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য। ভূখণ্ড সম্প্রসারণ তাদের উদ্দেশ্য নয়।তবে মোখা দখলের পর ইয়েমেন সংঘাত নতুন মাত্রা পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বাব আল-মান্দাবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

৫০ মিনিট আগে

রাজধানী

গুলশানে নিষিদ্ধ আ.লীগের ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ; গ্রেপ্তার ২

গুলশানে নিষিদ্ধ আ.লীগের ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ; গ্রেপ্তার ২

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে গুলশান এলাকায় হঠাৎ মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ এতে বাধা দেয়। এ সময় মিছিলকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। একপর্যায়ে পুলিশের ওপর ককটেল বিস্ফোরণ ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুই নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে গুলশান থানা পুলিশ।আরও পড়ুন: ছিনতাই ঠেকাতে দ্রুত বিচার আইনে কঠোর হচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরের দিকে গুলশানের নিকেতেন একটি এলাকায় কয়েকজন নেতাকর্মী আকস্মিকভাবে জড়ো হয়ে মিছিল বের করেন। মিছিলটি কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের বাধার মুখে মিছিলকারীদের কয়েকজন পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করেন। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ সময় মিছিলকারীদের কয়েকজন পালিয়ে গেলেও দুইজনকে আটক করা সম্ভব হয়। পরে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। উদ্ধার করা ককটেলগুলো পরীক্ষা ও তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।আরও পড়ুন: অন্যের কথায় চলার অধ্যায় চিরতরে শেষ’: শফিকুর রহমানগুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন বলেন, “আমরা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছি। যারা ঝটিকা মিছিল বের করেছে এবং পুলিশের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুলশান থানা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কেউ নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, নাশকতা কিংবা পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এছাড়া ৫ টি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ঝটিকা মিছিলের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মিছিলের পেছনে কারা ছিল এবং কোথা থেকে ককটেল সংগ্রহ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা চলছে।আরও পড়ুন: আইনশৃঙ্খলায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীআইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীতে আকস্মিক মিছিলের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বিশেষ করে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা বা বিস্ফোরক ব্যবহার করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এর আগে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাও হয়েছে।আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ ক্লোজড চ্যাপ্টার, ভারতে গিয়ে দাফন হয়েছে’: সারজিসগুলশান পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুক্রবারের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুইজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পুলিশের ভাষ্য, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও কূটনৈতিক এলাকা হিসেবে গুলশানে জননিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ধরনের নাশকতা বা সহিংসতার চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৩৬ মিনিট আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

খেলাধুলা

ত্রিদেশীয় সিরিজের পারফরম্যান্সে আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে বড় উত্থান

ত্রিদেশীয় সিরিজের পারফরম্যান্সে আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে বড় উত্থান

ত্রিদেশীয় সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার একাধিক ক্রিকেটার। আইসিসির সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে বড় উন্নতি করেছেন প্রোটিয়া ব্যাটার ও বোলাররা। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছেন ওপেনার কনোর এস্টারহুইজেন—এগিয়েছেন ৬৫ ধাপ।ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যাট হাতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়েছে আইসিসির সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে।ব্যাটারদের তালিকায় ৬৫ ধাপ এগিয়ে ২৫তম স্থানে উঠে এসেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার কনোর এস্টারহুইজেন। সিরিজের পাঁচ ইনিংসে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১২৬ রান।আরেক প্রোটিয়া ব্যাটার লুয়ান-দ্রে প্রিটোরিয়াস এগিয়েছেন ৬১ ধাপ। তিনি যৌথভাবে রয়েছেন ৪৩তম স্থানে।নামিবিয়ার লরেন স্টীনক্যাম্প ৩২ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ৭৩তম এবং তার সতীর্থ ইয়ান ফ্রাইলিংক ৯ ধাপ উন্নতি করে ৮৯তম স্থানে রয়েছেন। নামিবিয়ার অধিনায়ক গেরহার্ড ইরাসমাসও ব্যাটারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৬ ধাপ এগিয়ে ৫৫তম স্থানে উঠেছেন।আরও  পড়ুন, ন্যাশভিলের সঙ্গে ব্যবধান কমানোর সুযোগ হারাল মেসির মায়ামিবোলারদের তালিকাতেও দেখা গেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।ত্রিদেশীয় সিরিজে ১০ উইকেট শিকার করা জিম্বাবুয়ের ব্র্যাড ইভান্স চার ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ২২তম স্থানে। জিম্বাবুয়ের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সিকান্দার রাজা এগিয়েছেন দুই ধাপ, রয়েছেন ২৭তম স্থানে।দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়েনা মাফাকা ১৬ ধাপ উন্নতি করে ৩৮তম এবং বোরন ফরচুন ৩৭ ধাপ এগিয়ে ৭৮তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন।ত্রিদেশীয় সিরিজের পারফরম্যান্সে শুধু ব্যাটার ও বোলাররাই নয়, অলরাউন্ডারদের র‍্যাঙ্কিংয়েও এসেছে পরিবর্তন। নামিবিয়ার অধিনায়ক গেরহার্ড ইরাসমাস চার ধাপ এগিয়ে টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডারদের তালিকায় উঠে এসেছেন অষ্টম স্থানে।টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটারদের র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ভারতের ঈশান কিষাণ। বোলারদের তালিকায় এক নম্বরে রয়েছেন আফগানিস্তানের তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খান।আর অলরাউন্ডারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা।ত্রিদেশীয় সিরিজে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে সামনে র‍্যাঙ্কিংয়ে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটারদের।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর