দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

আজকের আবহাওয়া

ঢাকা 1002.4 hPa
27.2° 95%
540° 15mm
চট্টগ্রাম 1003.5 hPa
27.8° 97%
240° 12mm
রাজশাহী 999.4 hPa
33.2° 84%
240° 12mm
খুলনা 1002.2 hPa
28.4° 97%
540° 15mm
বরিশাল 1001.6 hPa
29.2° 98%
240° 12mm
সিলেট 1003 hPa
26.5° 97%
540° 15mm
রংপুর 1001.5 hPa
28.6° 87%
540° 15mm
ময়মনসিংহ 1002.6 hPa
28° 98%
540° 15mm
Weather

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

উজাড় হচ্ছে লামার সংরক্ষিত বন, রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

উজাড় হচ্ছে লামার সংরক্ষিত বন, রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

বান্দরবানের লামা উপজেলার বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল একসময় ছিল ঘন সবুজে আচ্ছাদিত| পাহাড়ের ঢালে সারি সারি গাছ, জীববৈচিত্রের সমৃদ্ধ আবাসস্থল এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ এই বনাঞ্চল আজ নানা কারণে সংকটের মুখে| স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত অবৈধ গাছ কাটা, জোত পারমিটের অপব্যবহার এবং সংঘবদ্ধ কাঠ পাচারের কারণে প্রতিনিয়ত উজাড় হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল| সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বন রক্ষার দায়িত্বে থাকা একটি অংশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেই উঠেছে এসব অনিয়মে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহযোগিতার অভিযোগ|আরও পড়ুন: প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমস্থানীয় বাসিন্দা, কাঠ ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ অনুযায়ী, লামা বন বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা এম কবির উদ্দিন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এলাকায় কিছু অসাধু কাঠ ব্যবসায়ীকে নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে ওঠে| অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের মাধ্যমে জোত পারমিটের অপব্যবহার, অতিরিক্ত গাছ কাটা এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে কাঠ পাচারের সুযোগ ˆতরি করা হচ্ছে| তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা|স্থানীয়দের দাবি, বন সংরক্ষণ, অবৈধ গাছ কাটা প্রতিরোধ এবং সরকারি বনসম্পদ রক্ষার দায়িত্ব বন বিভাগের হলেও বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে| তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও বন বিভাগের একটি অংশের যোগসাজশে দিনের পর দিন নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে|অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গাছ কাটা, নতুন জোত সৃষ্টি কিংবা জোত বিক্রি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হলেও বাস্তবে বিভিন্ন কৌশলে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে| স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে নিয়ম ভেঙে জোত পারমিট ইস্যু করা হচ্ছে এবং সেই পারমিট ব্যবহার করে অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে|আরও পড়ুন:  অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে করণিক ভুলের স্বীকারোক্তি, তদন্তে কঠোর নির্দেশস্থানীয়দের অভিযোগ, রেঞ্জ কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বনজ সম্পদকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে| এর ফলে পাহাড়ি বনাঞ্চলে আগের তুলনায় অনেক বেশি গাছ নিধনের ঘটনা ঘটছে|আরও পড়ুন: একযোগে ৩৩ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকারজোত পারমিট মূলত নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও নির্দিষ্ট পরিমাণ গাছ পরিবহনের অনুমোদন হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার কথা| কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে একটি পারমিট ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকা থেকে অতিরিক্ত গাছ পরিবহন করা হচ্ছে|নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাঠ ব্যবসায়ী বলেন, বন বিভাগ থেকে যতসংখ্যক জোত পারমিট ইস্যু করা হয়েছে, সেই হিসাব অনুযায়ী যে পরিমাণ কাঠ বাজারে আসার কথা, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি কাঠ প্রতিদিন বিভিন্ন ডিপো ও বাজারে পৌঁছাচ্ছে| তার ভাষ্য, একটি ˆবধ পারমিট দেখিয়ে একাধিক বাগান কিংবা অন্য উৎসের গাছ পরিবহন করা হচ্ছে| ফলে কাগজে-কলমে ˆবধতা থাকলেও বাস্তবে অতিরিক্ত গাছ কাটা এবং পাচারের সুযোগ ˆতরি হচ্ছে|আরও পড়ুন:  সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আবারও আদালতে শুনানিতিনি আরও বলেন, একবার কাঠ গাড়িতে উঠে ডিপো পার হয়ে গেলে পরে কোন কাঠ কোন জোতের সেটা প্রমাণ করা খুব কঠিন হয়ে যায়| এ সুযোগটাই কাজে লাগানো হয়| তার দাবি, বড় ব্যবসায়ীরা সাধারণত প্রশাসনিক জটিলতায় পড়েন না| বরং ছোট ব্যবসায়ীদের কাঠ বেশি জব্দ হয়|এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, লামা বনাঞ্চল থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কাঠ বিভিন্ন স্থানে পাচার হচ্ছে| এসব কাঠের বাজারমূল্য লাখ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়| তাদের দাবি, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা অর্থের বিনিময়ে কাঠ পরিবহনে সহযোগিতা করেন| ফলে নিয়মিতভাবে কাঠবোঝাই ট্রাক ও পিকআপ বিভিন্ন সড়ক দিয়ে বনাঞ্চল থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে|একাধিক বাসিন্দা বলেন, দূর থেকে পাহাড়গুলো এখনও সবুজ দেখালেও ভেতরে প্রবেশ করলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়| বহু এলাকায় বড় বড় গাছ কেটে নেওয়ায় বনভূমির ভেতর ফাঁকা হয়ে গেছে| কোথাও কোথাও শুধু ছোট গাছ ও ঝোপঝাড় রয়ে গেছে|আরও পড়ুন:  তারেক রহমানকে উরসুলা ফন ডের লায়েনের আমন্ত্রণস্থানীয় পরিবেশ সচেতনদের মতে, এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যেই লামার অনেক বনাঞ্চল পরিবেশগত ভারসাম্য হারাবে| এতে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি পাহাড় ধস, ভূমিক্ষয় ও জলবায়ু ঝুঁকিও বাড়বে|সম্প্রতি বনাঞ্চল থেকে কাঠ পরিবহনের সময় একটি ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় আসে বিষয়টি| জানা গেছে, গত ২৩ জুন রূপসীপাড়া এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্পের সদস্যরা সন্দেহজনকভাবে কাঠবোঝাই দুটি গাড়ি আটক করেন| আটকের সময় সেনাসদস্যরা জোতের মালিক হিসেবে পরিচিত শফিককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি দাবি করেন, কাঠগুলো তার নয়|আরও পড়ুন: শিশু ধর্ষণের ঘটনায় এক আসামির মৃত্যুদণ্ডশফিকের ভাষ্য অনুযায়ী, গাছগুলো জহির নামের আরেক ব্যক্তির| তিনি তার জোত পারমিট ব্যবহার করে রূপসীপাড়া এলাকা থেকে কাঠ গাড়িতে তুলেছেন| এই বক্তব্য সামনে আসার পর একটি পারমিট অন্য ব্যক্তি ব্যবহার করতে পারেন কি না সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে আসে| বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সেনাবাহিনীর মাধ্যমে জব্দ হওয়া কাঠের ˆবধতা যাচাই করা হচ্ছে| সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বন আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে|সূত্র জানায়, জব্দকৃত কাঠের উৎস, পারমিটের ˆবধতা এবং পরিবহনের নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এসব বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে| ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত জোতের মালিক শফিক বলেন, নির্ধারিত ডিপো থেকে কাঠ লোড না করাটা তার ভুল হয়েছে| প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যার পর লামা বন বিভাগের কার্যালয়ে বিভিন্ন কাঠ ব্যবসায়ীর যাতায়াত লক্ষ্য করা যায়| এসব ˆবঠকে কাঠ পরিবহনের অনুমতি, জোত পারমিট এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়|আরও পড়ুন: কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ৯, টানা বৃষ্টিতে চরম ঝুঁকিযদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি| এসব ˆবঠককে ঘিরে নানা ধরনের প্রশ্ন ˆতরি হলেও বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন তদন্ত হয়নি| তবে পরিবেশবিদদের মতে, পাহাড়ি বন শুধু কাঠের উৎস নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক প্রতিবেশ ব্যবস্থা| নিয়মবহির্ভূত গাছ কাটার ফলে মাটির উর্বরতা কমে যায়, পাহাড়ের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয় এবং বৃষ্টির সময় ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ে| এছাড়া বন্যপ্রাণীর বিচরণক্ষেত্র ধ্বংস হওয়ায় জীববৈচিত্র্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়|আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে সশস্ত্র হামলা: ৩ যুবককে গুলি করে হত্যা, থমথমে এলাকাস্থানীয়দের মতে, বন উজাড়ের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে লামার পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে| অতীতে বিভিন্ন সময় বন বিভাগের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও কার্যকর তদন্ত কিংবা দৃশ্যমান শাস্তির নজির খুব কম| বন রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহির আওতায় আনা না হলে অবৈধ গাছ কাটা ও কাঠ পাচার বন্ধ করা সম্ভব হবে না| তারা অবৈধ জোত পারমিট ইস্যু, কাঠ পরিবহন এবং বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন| পাশাপাশি বনাঞ্চলে সেনাবাহিনী, বন বিভাগ ও প্রশাসনের যৌথ নজরদারি বাড়ানোরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা|অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লামা সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা এম কবির উদ্দিন বলেন, রূপসীপাড়া এলাকায় বন বিভাগের কোনো কাঠের ডিপো নেই| তার ভাষ্য, গাছ ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে গাড়িতে কাঠ তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন| পরে সেনাবাহিনী গাড়ি দুটি আটক করলে বন বিভাগকে জানানো হয় এবং বন বিভাগ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাঠ জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে|একজনের নামে ইস্যু করা জোত পারমিট অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যার নামে পারমিট ইস্যু করা হয়েছে কেবল তিনিই ওই জোতের কাঠ পরিবহনের অধিকারী| এছাড়া নির্ধারিত ডিপোতে বন বিভাগের সদস্যদের উপস্থিতিতেই কাঠ গাড়িতে তোলার নিয়ম রয়েছে| তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে অবৈধ জোত পারমিট প্রদান কিংবা অর্থের বিনিময়ে অনিয়মে সহযোগিতার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন|আরও পড়ুন: বনানীতে অপহরণের অভিযোগে চাঞ্চল্য তথ্য, উদ্ধার হল শিশুস্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অভিযোগগুলো যেহেতু সরাসরি বন বিভাগের কার্যক্রম ও সরকারি সম্পদ রক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাই বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন| যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে| আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া উচিত| বন রক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে ¯^চ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিয়মিত নজরদারির কোনো বিকল্প নেই বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা|

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত মালয়েশিয়া নিয়ে কোনো চুক্তি নয়

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। সরকারি অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ, চুক্তি কিংবা আর্থিক লেনদেন না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রিক্রুটিং এজেন্ট ও কর্মীদের।বুধবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কেউ যেন এ সংক্রান্ত কোনো যোগাযোগ বা অর্থ লেনদেনে না জড়ান।এছাড়া কর্মী পাঠানো শুরুর আগে মেডিকেল টেস্ট করা বা এ বাবদ আরো পড়ুন , রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে সক্রিয় বাংলাদেশনকোনো অর্থ প্রদান থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।রিক্রুটিং এজেন্টদের জন্যও দেওয়া হয়েছে বিশেষ নির্দেশনা। সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের সঙ্গে চুক্তি করা, পাসপোর্ট সংগ্রহ, মেডিকেল পরীক্ষা এবং অর্থ লেনদেন না করতে বলা হয়েছে।মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে প্রতারণা বা অনিয়ম ঠেকাতেই এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোনো অভিযোগ বা তথ্য জানাতে প্রবাসী কল সেন্টারের নম্বর ১৬১৩৫ এবং বিদেশ থেকে +৮৮০৯৬১০১০২৩০ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।এছাড়া মালয়েশিয়া সংক্রান্ত তথ্যের জন্য মন্ত্রণালয়ের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা মো. হেদায়েতুল ইসলাম মন্ডলের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।সরকার বলছে, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রতারণা এড়াতে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে সক্রিয় বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ, টেকসই ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।বুধবার জাতীয় সংসদে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে অঙ্গীকারবদ্ধ।তিনি বলেন, অতীতেও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সফল কূটনৈতিক উদ্যোগে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হয়েছিল। বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতায় টেকসই সমাধানের পথ অনুসরণ করছে।আরো পড়ুন , মাদকমুক্তমাজ গঠনে ফুলবাড়ীয়ায় প্রশাসনের অভিযান, কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডপ্রধানমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক মানবিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে জাতিসংঘ, দাতা সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিনিধি দল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছে এবং মানবিক সহায়তা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাই, সম্ভাব্য পুনর্বাসন এবং কূটনৈতিক যোগাযোগও চলমান রয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি জটিল আন্তর্জাতিক বিষয়। এর সফল সমাধানের জন্য মিয়ানমার সরকার, সংশ্লিষ্ট পক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।সরকারের প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনের পথ আরও সুগম হবে।

কুসংস্কার নাকি প্রতিশোধ বরিশালে শিয়াল হত্যায় তদন্ত শুরু

বরিশাল নগরীতে সাতটি শিয়াল পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে শুধু শিয়াল হত্যার দৃশ্যই নয়, নিহত শিয়ালের মাংস নিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে নেমেছে বন বিভাগ।ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার বরিশাল নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানখোলা এলাকায়। তবে মঙ্গলবার ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, পাঁচটি মৃত শিয়াল মাটিতে পড়ে রয়েছে। পাশে আরও দুটি শিয়ালের চামড়া ছাড়ানো হচ্ছে। লাঠি হাতে থাকা এক ব্যক্তি দাবি করেন, হাঁস-মুরগি ও ছাগলের ক্ষতি করায় শিয়ালগুলো হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয়দের শিয়ালের মাংস নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শিয়ালের উপদ্রবে গৃহপালিত প্রাণীর ক্ষতি হচ্ছিল। এর জের ধরেই কয়েকজন মিলে শিয়াল নিধনের পরিকল্পনা করেন। অভিযোগ রয়েছে, কুসংস্কারের বশে রোগ নিরাময়ের বিশ্বাস থেকে কেউ কেউ শিয়ালের মাংসও খেয়েছেন।আরো পড়ুন , মাদকমুক্তমাজ গঠনে ফুলবাড়ীয়ায় প্রশাসনের অভিযান, কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডস্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি দল জঙ্গলে অভিযান চালিয়ে শিয়ালগুলোর আস্তানায় হামলা চালায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে সাতটি শিয়াল হত্যা করা হয়। পরে কয়েকটি শিয়াল স্থানীয় বাজারে নিয়ে জবাই করা হয় এবং অবশিষ্ট মাংস ও চামড়া মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।এদিকে বন বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী বন্যপ্রাণী হত্যা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই তদন্ত শেষে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

নকলের দায়ে ৯৫ বহিষ্কার, বন্যায় চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার চতুর্থ দিনে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে সারাদেশে বহিষ্কার হয়েছেন ৯৫ পরীক্ষার্থী। একই দিনে অনুপস্থিত ছিলেন কয়েক হাজার পরীক্ষার্থী। অন্যদিকে বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলার বুধবারের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার অনুষ্ঠিত ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বহিষ্কার হয়েছেন ৮০ পরীক্ষার্থী। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে বহিষ্কার করা হয়েছে ৩ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১২ জনকে। সব মিলিয়ে চতুর্থ দিনে বহিষ্কারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৫।সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৯ লাখ ৬ হাজার ৯২৩ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৮ লাখ ৮৩ হাজার ১৮৮ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২৩ হাজার ৭৩৫ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২ দশমিক ৬২ শতাংশ।বোর্ডভিত্তিক বহিষ্কারের তালিকায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ২০ জন। এরপর দিনাজপুরে ১৮, বরিশাল ও ময়মনসিংহে ১০ জন করে, ঢাকায় ৯, যশোরে ৮, রাজশাহীতে ৭ এবং সিলেটে ২ জন বহিষ্কার হয়েছেন।এদিকে আলিম পরীক্ষার বাংলা দ্বিতীয় পত্রে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৩ পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন। এই পরীক্ষায় অনুপস্থিত আরো পড়ুন , ভারী বৃষ্টির ধাক্কা: চট্টগ্রামের রেলপথ ৫ ফুট উঁচু করার উদ্যোগ : রেল প্রতিমন্ত্রীছিলেন ৪ হাজার ৯৫৮ জন।কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বিজনেস ইংলিশ অ্যান্ড কমিউনিকেশন এবং পদার্থবিজ্ঞান-২ পরীক্ষায় বহিষ্কার হয়েছেন ১২ পরীক্ষার্থী। সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৮১৬ জন।অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলার বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সারাদেশে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা প্রশাসন।

রাজনীতিরাজনীতি

আত্মগোপন শেষে গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ যুব মহিলা লীগ নেত্রী ফরিদা ইলিয়াস

আত্মগোপন শেষে গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ যুব মহিলা লীগ নেত্রী ফরিদা ইলিয়াস

চাঁদপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত যুব মহিলা লীগের জেলা সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ফরিদা ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।বুধবার সকালে চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন উত্তর শ্রীরামদী এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়েজ আহমেদ।পুলিশ জানায়, ফরিদা ইলিয়াস সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলার আসামি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিরা নূরের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. খায়রুল কবির উপস্থিত ছিলেন।আরও  পড়ুন, সংসদ প্রাঙ্গণে মার্কিন স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের নিন্দায় হেফাজত, দিলো কঠোর হুঁশিয়ারিপুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। সম্প্রতি নিজ বাসায় অবস্থান শুরু করলে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।জানা গেছে, ফরিদা ইলিয়াস সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনির অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আত্মগোপনের পরও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন দলীয় কর্মকাণ্ডের ছবি প্রকাশ করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।এদিকে, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে চাঁদপুর সদর মডেল থানা।

সংসদ প্রাঙ্গণে মার্কিন স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের নিন্দায় হেফাজত, দিলো কঠোর হুঁশিয়ারি

সংসদ প্রাঙ্গণে মার্কিন স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের নিন্দায় হেফাজত, দিলো কঠোর হুঁশিয়ারি

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মার্কিন দূতাবাসের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান এই আয়োজনের নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান।হেফাজতের প্রচার সম্পাদক মুফতি কিফায়াতুল্লাহ আজহারীর স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদ ভবন দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় মর্যাদার প্রতীক। সেখানে গান-বাজনা ও পশ্চিমা সংস্কৃতির আদলে অনুষ্ঠান আয়োজনকে তারা অনভিপ্রেত এবং জাতীয় মর্যাদার পরিপন্থী বলে মনে করেন।আরও  পড়ুন, সাভারে ককটেল হামলার প্রতিবাদে মধ্যরাতে রাজধানীতে এনসিপির মশাল মিছিলবিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, এমন আয়োজন দেশের ধর্মীয় অনুভূতি ও জাতীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একই সঙ্গে এ ধরনের অনুষ্ঠানকে ‘সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন’ হিসেবে ব্যাখ্যা করার প্রচেষ্টারও সমালোচনা করেছে সংগঠনটি।হেফাজতের মহাসচিব বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনের মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের আয়োজন থেকে বিরত থাকার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে জাতীয় ঐতিহ্য ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

সাভারে ককটেল হামলার প্রতিবাদে মধ্যরাতে রাজধানীতে এনসিপির মশাল মিছিল

সাভারে ককটেল হামলার প্রতিবাদে মধ্যরাতে রাজধানীতে এনসিপির মশাল মিছিল

সাভারে দলীয় পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীতে মশাল মিছিল করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।সোমবার রাত ১২টার দিকে বাংলামোটরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়। এরপর জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। এ সময় দলের যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবদিন শিশির এবং যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিনসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।আরও  পড়ুন, ফার-রাইট নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য মাহফুজ আলমেরএর আগে সোমবার সাভারে এনসিপির পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দলটির তথ্যমতে, এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হন।এনসিপি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।এদিকে, ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। হামলার কারণ ও দায়ীদের শনাক্তে তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

ফার-রাইট নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য মাহফুজ আলমের

ফার-রাইট নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য মাহফুজ আলমের

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম উগ্র ডানপন্থী বা ফার-রাইট গোষ্ঠীগুলোর রাজনৈতিক ব্যবহার, মব সহিংসতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিস্ফোরক পোস্ট দিয়েছেন।সোমবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে 'খেলা শেষ, খোদা হাফেজ!' শিরোনামে দেওয়া পোস্টে তিনি মাজার, পত্রিকা অফিস ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার তীব্র সমালোচনা করেন।পোস্টে মাহফুজ আলম দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ফার-রাইট গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করা হয়েছে। তার ভাষ্য, নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পর এখন সেই গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার চেষ্টা চলছে।আরও পড়ুন ,অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে মির্জা ফখরুলের শোকতিনি আরও লেখেন, গত দুই বছরে ফার-রাইট গোষ্ঠীগুলোকে পরিকল্পিতভাবে শক্তিশালী করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, এসব গোষ্ঠী অনলাইন ও অফলাইনে মব নৈরাজ্য চালিয়ে জুলাইয়ের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহকে একটি নির্দিষ্ট আদর্শিক কাঠামোয় উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে।মাহফুজ আলম আরও বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ফার-রাইট গুন্ডাতন্ত্র ও ডিজিটাল মবের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছেন। এ কারণে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন।পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, "সামনের দিনগুলো সবার জন্য Reckoning-এর।"তবে মাহফুজ আলমের পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সারাবাংলা

কুসংস্কার নাকি প্রতিশোধ বরিশালে শিয়াল হত্যায় তদন্ত শুরু

কুসংস্কার নাকি প্রতিশোধ বরিশালে শিয়াল হত্যায় তদন্ত শুরু

বরিশাল নগরীতে সাতটি শিয়াল পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে শুধু শিয়াল হত্যার দৃশ্যই নয়, নিহত শিয়ালের মাংস নিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে নেমেছে বন বিভাগ।ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার বরিশাল নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানখোলা এলাকায়। তবে মঙ্গলবার ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, পাঁচটি মৃত শিয়াল মাটিতে পড়ে রয়েছে। পাশে আরও দুটি শিয়ালের চামড়া ছাড়ানো হচ্ছে। লাঠি হাতে থাকা এক ব্যক্তি দাবি করেন, হাঁস-মুরগি ও ছাগলের ক্ষতি করায় শিয়ালগুলো হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয়দের শিয়ালের মাংস নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শিয়ালের উপদ্রবে গৃহপালিত প্রাণীর ক্ষতি হচ্ছিল। এর জের ধরেই কয়েকজন মিলে শিয়াল নিধনের পরিকল্পনা করেন। অভিযোগ রয়েছে, কুসংস্কারের বশে রোগ নিরাময়ের বিশ্বাস থেকে কেউ কেউ শিয়ালের মাংসও খেয়েছেন।আরো পড়ুন , মাদকমুক্তমাজ গঠনে ফুলবাড়ীয়ায় প্রশাসনের অভিযান, কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডস্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি দল জঙ্গলে অভিযান চালিয়ে শিয়ালগুলোর আস্তানায় হামলা চালায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে সাতটি শিয়াল হত্যা করা হয়। পরে কয়েকটি শিয়াল স্থানীয় বাজারে নিয়ে জবাই করা হয় এবং অবশিষ্ট মাংস ও চামড়া মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।এদিকে বন বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী বন্যপ্রাণী হত্যা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই তদন্ত শেষে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

মাদকমুক্তমাজ গঠনে ফুলবাড়ীয়ায় প্রশাসনের অভিযান, কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড

মাদকমুক্তমাজ গঠনে ফুলবাড়ীয়ায় প্রশাসনের অভিযান, কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড

ফুলবাড়ীয়া(ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে উপজেলার রাধাকানাই বাজার এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে মাদক সেবন ও প্রয়োগের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।আরও  পড়ুন, ‘দুইটি ছাগলই নতুন জীবনের স্বপ্ন’ মনিরামপুরে অসহায় পরিবারের মুখে হাসিভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ তাকী তাজওয়ার।উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সমাজে মাদকের বিস্তার রোধ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে সুরক্ষিত রাখতে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।

‘দুইটি ছাগলই নতুন জীবনের স্বপ্ন’ মনিরামপুরে অসহায় পরিবারের মুখে হাসি

‘দুইটি ছাগলই নতুন জীবনের স্বপ্ন’ মনিরামপুরে অসহায় পরিবারের মুখে হাসি

“অনেক দিন পর মনে হচ্ছে, আমাদের ঘরেও হয়তো ভালো দিন আসবে। এই দুইটি ছাগল শুধু পশু নয়, আমার পরিবারের নতুন স্বপ্ন, নতুন ভরসা। যত্ন করে পালন করব, যেন একদিন এগুলোই আমাদের সংসারের অভাব দূর করতে পারে।”কথাগুলো বলছিলেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার জালালপুর গ্রামের হতদরিদ্র সুফিয়া খাতুন। জীবিকার অনিশ্চয়তা আর দারিদ্র্যের দীর্ঘ লড়াইয়ের মাঝে বিনামূল্যে দুইটি ছাগল হাতে পেয়ে তাঁর চোখেমুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি ও আশার আলো। একই অনুভূতির কথা জানান উপজেলার আরেক উপকারভোগী শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “এই সহায়তাকে আমি দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছি। যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে ছাগল পালন করে পরিবারের আয় বাড়াতে চাই।”দারিদ্র্য বিমোচন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যশোরের মনিরামপুরে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ছাগল বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।বিশেষ বরাদ্দ ২০২৫–২০২৬ প্রকল্পের আওতায় মঙ্গলবার  সকালে মনিরামপুর উপজেলার আশ্রয়ন সেবা সংস্থা (এএসএস)-এর কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ১৫টি অসহায় পরিবারের প্রত্যেককে দুইটি করে মোট ৩০টি ছাগল বিতরণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় পর্যায়ক্রমে আরও ১০টি পরিবারের মধ্যে ২০টি ছাগল বিতরণ করা হবে।বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবং আশ্রয়ন সেবা সংস্থা (এএসএস)-এর বাস্তবায়নে আয়োজিত এ কর্মসূচির সভাপতিত্ব করেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সুরাইয়া নার্গিস। প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক এম. নূরুন্নবী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী লাভলী খাতুন।আরও  পড়ুন, নিম্নচাপের প্রভাবে সাগরে ট্রলারডুবি, জীবিত ফিরলেন ১৬ জেলে নিখোঁজ ২ জেলেসভাপতির বক্তব্যে আশ্রয়ন সেবা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সুরাইয়া নার্গিস বলেন, আশ্রয়ন সেবা সংস্থা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সংস্থার মূল লক্ষ্য শুধু অনুদান বিতরণ নয়; বরং মানুষের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা এবং টেকসই জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করা।তিনি বলেন, “একটি পরিবারের হাতে দুইটি ছাগল তুলে দেওয়া মানে শুধু একটি সম্পদ দেওয়া নয়, বরং তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার একটি বাস্তব সুযোগ সৃষ্টি করা। আমরা চাই উপকারভোগীরা এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটাক। ভবিষ্যতে ছাগল থেকে বাচ্চা উৎপাদন, বিক্রয় এবং আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে তারা যেন দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।”তিনি আরও বলেন, “মানুষকে দীর্ঘমেয়াদে সহায়তা করতে হলে দানের সংস্কৃতির চেয়ে সক্ষমতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ কারণেই আশ্রয়ন সেবা সংস্থা বিভিন্ন সময়ে প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, নারী ক্ষমতায়ন এবং আয়বর্ধক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আমাদের বিশ্বাস, আত্মনির্ভরশীল মানুষই একটি শক্তিশালী সমাজ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।”প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক এম. নূরুন্নবী বলেন, একটি রাষ্ট্র তখনই সত্যিকার অর্থে উন্নত হয়, যখন উন্নয়নের সুফল সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়। সমাজের প্রান্তিক মানুষের হাতে উৎপাদনমুখী সম্পদ তুলে দেওয়ার মতো উদ্যোগ দারিদ্র্য হ্রাসে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।আরও  পড়ুন, রাজবাড়ীর কালুখালীতে এইচএসসি পরীক্ষায় অসাধু উপায় অবলম্বন করায় বহিষ্কার ৫ পরীক্ষার্থীতিনি বলেন, “ছাগল বিতরণকে কেউ হয়তো ছোট উদ্যোগ ভাবতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি পরিবারের জন্য হতে পারে অর্থনৈতিক মুক্তির সূচনা। সঠিক পরিচর্যা, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে এই ছোট উদ্যোগই একসময় বড় সম্পদে পরিণত হতে পারে। তাই এই সহায়তাকে শুধু অনুদান হিসেবে নয়, একটি দায়িত্ব ও সম্ভাবনা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।”তিনি আরও বলেন, “দেশের উন্নয়ন কেবল বড় অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার মধ্যেই প্রকৃত উন্নয়ন নিহিত। সরকার, উন্নয়ন সংস্থা এবং সমাজের বিত্তবান মানুষ যদি এ ধরনের মানবিক উদ্যোগে আরও বেশি সম্পৃক্ত হন, তাহলে দারিদ্র্যমুক্ত ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার পথ আরও সুগম হবে।”অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থাকে অসহায় মানুষের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, উপকারভোগী পরিবার এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচি উপকারভোগীদের মাঝে নতুন আশার আলো ছড়িয়ে দেয়। অনেকের মতে, একটি ছোট সহায়তাই পারে একটি পরিবারের ভাগ্য বদলের বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে।

নিম্নচাপের প্রভাবে সাগরে ট্রলারডুবি, জীবিত ফিরলেন ১৬ জেলে নিখোঁজ ২ জেলে

নিম্নচাপের প্রভাবে সাগরে ট্রলারডুবি, জীবিত ফিরলেন ১৬ জেলে নিখোঁজ ২ জেলে

নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল বঙ্গোপসাগরে দুটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে ১৮ জেলের মধ্যে ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন দুই জেলে।মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে তালতলীর ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিখোঁজ জেলেরা হলেন ছোটআমখোলা গ্রামের আবুল কালাম ও শহিদুল। তাদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও স্থানীয় ট্রলার মালিক সমিতি তৎপরতা চালাচ্ছে।জেলেরা জানান, ইলিশ শিকারে যাওয়ার পর হঠাৎ সাগর উত্তাল হয়ে পড়ে। প্রথমে একটি ট্রলার ডুবে গেলে জেলেরা অন্য ট্রলারে আশ্রয় নেন।আরও  পড়ুন, রাজবাড়ীর কালুখালীতে এইচএসসি পরীক্ষায় অসাধু উপায় অবলম্বন করায় বহিষ্কার ৫ পরীক্ষার্থী কিন্তু প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে দ্বিতীয় ট্রলারটিও ডুবে যায়। পরে তারা সাগরে ভাসতে থাকেন।রাত ৩টার দিকে পটুয়াখালীর মহিপুরের একটি মাছ ধরার ট্রলার ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে। বর্তমানে তারা মহিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।তালতলী কোস্টগার্ড জানিয়েছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব হয়নি। আবহাওয়া অনুকূলে এলে নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হবে।এদিকে উপকূলে নিখোঁজ জেলেদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

আন্তর্জাতিক

রুশ হামলা ঠেকাতে ন্যাটোর দ্বারস্থ জেলেনস্কি

রুশ হামলা ঠেকাতে ন্যাটোর দ্বারস্থ জেলেনস্কি

রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে এবার ন্যাটোর কাছে জরুরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাইতে যাচ্ছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে তিনি মিত্র দেশগুলোর প্রতি দ্রুত প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানাবেন।সম্প্রতি এক সপ্তাহেরও কম সময়ে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দুই দফা বড় ধরনের রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে। এসব হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক। এতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।আরো পড়ুন , এক রাতের অপেক্ষা, তারপরই নতুন ঠিকানা কিন্তু ভোরের আগেই মৃত্যুসম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সঙ্গে জেলেনস্কির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। ওই বৈঠকে ইউক্রেনের জন্য অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাশিয়ার ওপর আরও কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরতে পারেন তিনি।এদিকে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, ইউক্রেনকে তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোর এগিয়ে আসা উচিত।তাই তুরস্কের এই ন্যাটো সম্মেলন ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

০৭ জুলাই ২০২৬

রাজধানী

দূষিত শহরের তালিকায় ২৫তম ঢাকা, বাতাসের মান আজ ‘মাঝারি’

দূষিত শহরের তালিকায় ২৫তম ঢাকা, বাতাসের মান আজ ‘মাঝারি’

বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে থাকলেও আজ রাজধানী ঢাকার বাতাসের মান ছিল তুলনামূলকভাবে মাঝারি পর্যায়ে।বুধবার সকালে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা এএকিউআই স্কোর ছিল ৭২। এই স্কোর অনুযায়ী ঢাকার বাতাসের মান ‘মাঝারি’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের জন্য বাতাস গ্রহণযোগ্য হলেও শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘ সময় বাইরে না থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।আরও পড়ুন, ঢামেকে অসুস্থ কারাবন্দির মৃত্যু, ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে মরদেহএকই সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ১৮২ স্কোর নিয়ে শীর্ষে ছিল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা। এরপর রয়েছে কুয়েত সিটি, জোহানেসবার্গ, লাহোর এবং দুবাই।আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, এএকিউআই স্কোর ৫১ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকলে বাতাসের মান মাঝারি ধরা হয়। আর ১০১-এর বেশি হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে।বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বায়ুদূষণের মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত।

১০ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

খেলাধুলা

কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ইনজুরিতে মরক্কোর ভরসা সাইবারি

কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ইনজুরিতে মরক্কোর ভরসা সাইবারি

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় দুশ্চিন্তায় পড়েছে মরক্কো। দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উইঙ্গার ইসমাইল সাইবারির খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।শেষ ষোলোর ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে খেলতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান সাইবারি। তীব্র ব্যথা অনুভব করায় ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই তাকে মাঠ ছাড়তে হয়।এরপর থেকেই চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এই তারকা ফুটবলার। আরও  পড়ুন. আর্জেন্টিনার ম্যাচ ঘিরে বিস্ফোরক দাবি বিশ্বকাপের অভিজ্ঞ রেফারিরযদিও মরক্কো ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তার ইনজুরির মাত্রা জানায়নি, স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর বলছে, হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যাটি গুরুতর হতে পারে।সাইবারির সম্ভাব্য অনুপস্থিতি মরক্কোর জন্য বড় ধাক্কা। আক্রমণভাগে তার গতি, ড্রিবলিং এবং সুযোগ তৈরির দক্ষতা দলের অন্যতম বড় শক্তি।এ কারণে কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি ও দলের মেডিকেল স্টাফ তাকে দ্রুত সুস্থ করে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।ফ্রান্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে সাইবারি খেলতে পারবেন কি না, তা নির্ধারণ হবে ম্যাচের আগে শেষ মুহূর্তের ফিটনেস পরীক্ষার ভিত্তিতে।

আইন আদালত

আজ ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে পঙ্গু করার অভিযোগে মামলার বিচার শুরু

আজ ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে পঙ্গু করার অভিযোগে মামলার বিচার শুরু

যশোরের চৌগাছায় ২০১৬ সালে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে আটকের পর কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা সাজিয়ে গুলি ও নির্যাতনের মাধ্যমে পঙ্গু করার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার আজ শুরু হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাটির সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।আরও পড়ুন, ‘আমি শুধু ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার’: আসামি সোহেলমামলাটি শুনানি করবেন মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার-এর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। মামলার প্রধান আসামি আনিসুর রহমান-সহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম চলবে।প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর চৌগাছা উপজেলা শাখার তৎকালীন সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন এবং সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিন-কে একটি মামলায় আটক করে পুলিশ। অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতে হাজির না করে কয়েকদিন নির্যাতন করা হয়।আরও পড়ুন, শিশু রামিসা হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানি আজপ্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ একটি সাজানো ঘটনা তৈরি করে দুই নেতার পায়ে গুলি করা হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে চিকিৎসার একপর্যায়ে তাদের পা কেটে ফেলতে হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় আরও বলা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অস্ত্র মামলাটি পরবর্তীতে আদালতে ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়।এর আগে গত ২০ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। সে সময় আদালতে উপস্থিত আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। বর্তমানে অভিযুক্তদের মধ্যে আকিকুল ইসলাম, সাজ্জাদুর রহমান এবং জহরুল হক কারাগারে রয়েছেন।আরও পড়ুন, সাইপ্রাসে এস আলমের ভবন জব্দের নির্দেশঅন্যদিকে প্রধান আসামি আনিসুর রহমান, সাবেক ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল এবং এসআই মাজেদুল পলাতক রয়েছেন বলে ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানিয়েছে। উল্লেখ্য, মামলার অভিযোগগুলো প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত অভিযোগ। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায়ের মাধ্যমে অভিযুক্তদের দায়-দায়িত্ব চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর