দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা। রাতের মধ্যেই দেশের ১৮ অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।শনিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাত ১টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম কিংবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।এ অবস্থায় এসব এলাকার আরো পড়ুন , জামালপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আকস্মিক ভিসি পরিবর্তন, শুরু আলোচনানদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।অন্যদিকে আবহাওয়া অফিসের ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু স্থানে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।শুধু তাই নয়, দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে জলাবদ্ধতা, দুর্বল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং নৌযান চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, বৃষ্টিপাতের কারণে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। অর্থাৎ ভ্যাপসা গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি মিললেও ঝড়-বৃষ্টির কারণে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে
এক্সক্লুসিভ
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাম্প্রতিক প্রশাসনিক রদবদলে মো. দাউদ হোসেনকে গুলশান থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার পর রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজাত এলাকা গুলশান থানার দায়িত্ব পাওয়াকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে| দীর্ঘদিনের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা, অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান এবং আলোচিত বিভিন্ন মামলার তদন্তে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি ইতোমধ্যেই পুলিশের একটি পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছেন|আরও পড়ুন: সংকট থেকে সাহসিকতায় আপেল মাহমুদের গল্পযশোর জেলার কৃতি সন্তান মো. দাউদ হোসেন কর্মজীবনের শুরু থেকেই দায়িত্বশীল ও পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত| বিভিন্ন সময়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পালন করে তিনি নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন| বিশেষ করে রাজধানীর খিলগাঁও থানা এবং পরবর্তীতে ক্যান্টনমেন্ট থানায় দায়িত্ব পালনকালে তার কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পুলিশের উচ্চপর্যায়েও প্রশংসিত হয়েছে| পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খিলগাঁও থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি মাদক, চুরি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বেশ সক্রিয় ভূমিকা রাখেন| তার নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে একাধিক অপরাধী চক্র ভেঙে দেওয়া হয়| একই সঙ্গে থানাভিত্তিক জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করার ক্ষেত্রেও তিনি কাজ করেছেন| পরবর্তীতে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার দায়িত্ব পাওয়ার পরও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান বজায় রাখেন| বিশেষ করে চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভিন্ন সংবেদনশীল মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারে তার ভূমিকা ব্যাপক আলোচনায় আসে| ˆবষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় সাবেক সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের আইনের আওতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি| আরও পড়ুন: আপেল মাহমুদকে ঘিরে সংবাদ নিয়ে প্রশ্ন, ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারআইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তার এই পদক্ষেপ বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়| তবে এসব কার্যক্রমের কারণে তাকে নানা ধরনের সমালোচনারও মুখোমুখি হতে হয়েছে| সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ও সমর্থকগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাকে নিয়ে একাধিক নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়| বিশেষ করে আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে পোস্ট দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়| কিন্তু এসব প্রচারণা কিংবা সমালোচনাকে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি তার দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন| আরও পড়ুন: পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা মব কালচারআইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর মামলাগুলোতে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার কারণেই তিনি আলোচনায় আসেন| একজন পুলিশ কর্মকর্তার মূল দায়িত্ব আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং সেই জায়গা থেকে তিনি দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা| ক্যান্টনমেন্ট থানায় দায়িত্ব পালনকালে অপরাধ দমনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগেও অংশ নিতে দেখা গেছে তাকে| স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময়, বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করেছেন তিনি|রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান থানা দীর্ঘদিন ধরেই নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ| এখানে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী, কূটনীতিক, বিদেশি নাগরিক এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বসবাস| একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল, দূতাবাস, করপোরেট অফিস এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থাকায় গুলশানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়|সাম্প্রতিক সময়ে গুলশান এলাকায় সাইবার অপরাধ, প্রতারণা, মাদক ব্যবসা, অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ নিয়েও আলোচনা রয়েছে| ফলে এই থানার দায়িত্বে একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তার প্রয়োজন ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা|আরও পড়ুন: আইনের শাসন না মবের রাজত্ব?পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মো. দাউদ হোসেন মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে পছন্দ করেন| তিনি শুধুমাত্র অফিসকেন্দ্রিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম তদারকি করেন| ফলে অধস্তন কর্মকর্তাদের মধ্যেও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক চাপ ˆতরি হয়| তবে সাংবাদিক মহলেও তার কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা রয়েছে| বিভিন্ন অপরাধবিরোধী অভিযানে তথ্যভিত্তিক বক্তব্য প্রদান এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে সমš^য় রেখে কাজ করার কারণে অনেক প্রতিবেদকের কাছেও তিনি পরিচিত মুখ| তবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি বরাবরই আইনি প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন বলে জানা যায়|নগরবাসীর প্রত্যাশা, গুলশান থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি এলাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করবেন| বিশেষ করে অভিজাত এলাকার আড়ালে পরিচালিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, প্রতারণা চক্র, মাদক ব্যবসা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে|আরও পড়ুন: পুলিশ হত্যা, সংস্কার ও জননিরাপত্তা: সংকট উত্তরণের পথ কোথায়?অন্যদিকে অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান সময়ে নগর অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে| ফলে শুধু প্রচলিত পুলিশিং নয়, আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যনির্ভর কার্যক্রমও সমান গুরুত্বপূর্ণ| মো. দাউদ হোসেন তার পূর্ববর্তী দায়িত্বগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত কার্যক্রমে গুরুত্ব দিয়েছেন| গুলশান থানাতেও সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে|এদিকে তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা আলোচনা দেখা গেছে| অনেকেই তাকে একজন দৃঢ়চেতা ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করছেন| আবার কেউ কেউ তার সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোর কথাও তুলে ধরছেন| কারণ গুলশান থানা শুধু একটি সাধারণ থানা নয়, বরং দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর থানা এলাকাগুলোর একটি| পুলিশের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা, সাহসিকতা এবং কর্মদক্ষতার কারণেই তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে| অতীত অভিজ্ঞতা ও অর্জন বিবেচনায় গুলশান থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট মহল|আরও পড়ুন: পেশা নাকি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলমের যুদ্ধ?সব মিলিয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে গুলশান থানায় মো. দাউদ হোসেনের পদায়ন শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক রদবদল নয়; বরং এটি একজন আলোচিত ও অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তার প্রতি কর্তৃপক্ষের আস্থার প্রতিফলন বলেও মনে করছেন অনেকে| এখন সময়ই বলে দেবে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই থানায় দায়িত্ব পালন করে তিনি কতটা সফলতার সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারেন| তবে আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্টদের মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা, পেশাদার মনোভাব এবং অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে গুলশান থানার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে| তবে তার কর্মদক্ষতা আরো কাজে লাগিয়ে সাধারন মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
অনলাইন জরিপ
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের রপ্তানি খাতে ধীরগতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ১১ মাসের মধ্যে ৯ মাসেই রপ্তানি আয় কমেছে, যা বৈদেশিক বাণিজ্য ও অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো বা ইপিবির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে দেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৪০ কোটি ২৮ লাখ ডলার। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ০৯ শতাংশ কম।চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৭৯ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৪ হাজার ৪৯৪ কোটি ডলার। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে রপ্তানি আয় কমেছে ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।আরও পড়ুন, ঈদের পর স্বস্তি সবজির বাজারে, কমেনি মাছ-মাংস-ডিমের দামদেশের প্রচলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের রপ্তানি খাতে ধীরগতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ১১ মাসের মধ্যে ৯ মাসেই রপ্তানি আয় কমেছে, যা বৈদেশিক বাণিজ্য ও অর্থনীতির জন্য নতুনচলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের রপ্তানি খাতে ধীরগতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ১১ মাসের মধ্যে ৯ মাসেই রপ্তানি আয় কমেছে, যা বৈদেশিক বাণিজ্য ও অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ উদ্বেগের কারণধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পেও দেখা গেছে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি। এ খাতের রপ্তানি কমেছে ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। নিটওয়্যার রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং ওভেন পোশাক কমেছে ২ দশমিক ৪২ শতাংশ।তবে আশার খবরও রয়েছে। ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক, পাটপণ্য এবং সাইকেল রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এর মধ্যে সাইকেল রপ্তানি বেড়েছে ২৮ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ।অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সংকট রপ্তানি খাতকে চাপে ফেলছে। তারা টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের পাশাপাশি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।আরও পড়ুন, উৎপাদন বাড়াতে বিশেষ তহবিল ঘোষণা বাংলাদেশ ব্যাংকের
পবিত্র ঈদুল আজহার পর রাজধানীর কাঁচাবাজারে ফিরতে শুরু করেছে কিছুটা স্বস্তি। সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারে এখনো মিলছে না স্বস্তির খবর।রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের আগের তুলনায় বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। যাত্রাবাড়ী বাজারে কাঁকরোল ও করলা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ঢেঁড়শ ও উচ্ছে ৬০ টাকা, ঝিঙে ৬০ টাকা, গোল বেগুন ৬০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ও লতিও মিলছে ৬০ টাকায়। লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়।বিক্রেতাদের দাবি, ঈদের আগে পরিবহন সংকট ও বাড়তি চাহিদার কারণে দাম বেড়েছিল।আরও পড়ুন , উৎপাদন বাড়াতে বিশেষ তহবিল ঘোষণা বাংলাদেশ ব্যাংকের এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ আসায় বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।তবে মাছের বাজারে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। চাষের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৫০ টাকা, পাঙ্গাস ২২০ টাকা, শিং মাছ ৩৮০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে।ডিমের বাজারেও দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১২০ টাকা এবং দেশি ডিম ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।অন্যদিকে গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।ক্রেতারা বলছেন, সবজির দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছ, মাংস ও ডিমের উচ্চমূল্য এখনো সংসারের ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আমিষ পণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
দেশের শিল্প খাতে স্থবিরতা কাটিয়ে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বন্ধ ও আংশিক সচল শিল্প পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে জারি করা নীতিমালার নাম ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত–সহায়ক প্রাক্-অর্থায়ন স্কিম’।এই স্কিমের আওতায় বড় শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে। সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ, যা বর্তমানে বাজারের স্বাভাবিক ঋণের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে অর্থ নিয়ে ঋণ বিতরণ করবে। এর মাধ্যমে বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণকে লক্ষ্য করা হয়েছে।আরও পড়ুন, মাসের শুরুতে রেমিট্যান্সে ধীরগতি, তিন দিনে এলো ৪৮৩ মিলিয়ন ডলারনীতিমালায় বলা হয়েছে, শুধুমাত্র সেই প্রতিষ্ঠানগুলোই এই সুবিধা পাবে, যেগুলো আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও কার্যকর মূলধন পেলে আবার চালু হতে সক্ষম। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান সচল থাকলেও পূর্ণ সক্ষমতায় যেতে পারছে না, তারাও অন্তর্ভুক্ত হবে।রপ্তানিমুখী ও প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি দক্ষ প্রতিষ্ঠান যদি বন্ধ কারখানা অধিগ্রহণ বা ইজারা নিয়ে পুনরায় চালু করতে চায়, তারাও এই সুবিধা পাবে।তবে খেলাপি ঋণ, অর্থপাচার বা অনিয়মে জড়িত প্রতিষ্ঠানের জন্য এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।ঋণের অর্থ ব্যবহারে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি ইউটিলিটি বিল ও কাঁচামাল কেনার বাইরে অর্থ ব্যবহার করা যাবে না। পুরোনো ঋণ পরিশোধের জন্য এই অর্থ ব্যবহার নিষিদ্ধ।আরও পড়ুন, ২৭ মাস পর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, বাড়তি চাপে পড়বেন কোটি কোটি গ্রাহক
চলতি জুন মাসের প্রথম তিন দিনে দেশে ৪৮৩ দশমিক ০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সময়ে প্রবাসী আয় প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান রেমিট্যান্স প্রবাহের সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করেন।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুনের ১ থেকে ৩ তারিখ পর্যন্ত মোট ৪৮৩ দশমিক ০৫ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। এর মধ্যে শুধু ৩ জুন একদিনেই এসেছে ১১৬ দশমিক ৩১ মিলিয়ন ডলার।আরও পড়ুন, ২৭ মাস পর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, বাড়তি চাপে পড়বেন কোটি কোটি গ্রাহকঅন্যদিকে, গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ৬০৩ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলার। ফলে চলতি বছরের জুনের শুরুতে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।তবে সামগ্রিক চিত্রে রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক রয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৩ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ৩৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে প্রবাসীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় বছরজুড়ে রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে।আরও পড়ুন, মে মাসে রপ্তানি আয় কমলো ৭ শতাংশ, প্রধান কারণ পোশাক খাতে ধাক্কা
দীর্ঘ ২৭ মাস পর দেশে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বা বিইআরসি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে।নতুন এই মূল্যহার চলতি জুন মাসের ১ তারিখ থেকেই কার্যকর হবে। গ্রাহক শ্রেণিভেদে বিদ্যুতের দাম ১০ থেকে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, পাইকারি পর্যায়েও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে।আরও পড়ুন , মে মাসে রপ্তানি আয় কমলো ৭ শতাংশ, প্রধান কারণ পোশাক খাতে ধাক্কাপ্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় পাইকারি মূল্য ৭ টাকা ৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সঞ্চালন মাশুলও বৃদ্ধি করা হয়েছে।সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে আবাসিক গ্রাহকদের ওপর। প্রায় ৪ কোটি ২৬ লাখ আবাসিক গ্রাহকের মধ্যে ১ কোটি ৭৮ লাখের বেশি লাইফলাইন গ্রাহক রয়েছেন। এদের বেশিরভাগই নিম্ন ও সীমিত আয়ের পরিবার।বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে শুধু পরিবারের মাসিক ব্যয়ই বাড়বে না, কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পাবে। এর প্রভাব মূল্যস্ফীতিতেও পড়তে পারে।আরও পড়ুন ,ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে টানা বিক্ষোভ, সাত দফা দাবিতে মাঠে গ্রাহকরা
দেশের রপ্তানি আয়ে আবারও পতনের ধারা দেখা দিয়েছে। প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের চালান কমে যাওয়ায় মে মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ শতাংশ কমেছে।রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো বা ইপিবির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসে দেশের মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৪ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার।এর মধ্যে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় এসেছে ৩ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ কম।আরও পড়ুন , ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে টানা বিক্ষোভ, সাত দফা দাবিতে মাঠে গ্রাহকরাচলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে দেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৩ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার। এ সময়ে সামগ্রিক রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।একই সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি ৩৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়।উল্লেখ্য, টানা আট মাস রপ্তানি আয় কমার পর গত এপ্রিলে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল দেশের রপ্তানি খাত। তবে মে মাসের পরিসংখ্যান সেই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে না পারার ইঙ্গিত দিচ্ছে।আরও পড়ুন , ব্যাংক খাতে ভয়াবহ চাপ তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়ে ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা
লাইফস্টাইল
এই গরমে শরীরকে সতেজ ও পানিশূন্যতামুক্ত রাখতে সবচেয়ে কার্যকর প্রাকৃতিক পানীয়গুলোর একটি হলো ডাবের পানি। পুষ্টিবিদদের মতে, ডাবের পানিতে থাকা পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়াম শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি শরীর ঠান্ডা রাখে, হজমশক্তি উন্নত করে এবং ক্লান্তি দূর করতে ভূমিকা রাখে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডাবের পানির উপকারিতা আরও বাড়াতে এর সঙ্গে কিছু স্বাস্থ্যকর উপাদান যোগ করা যেতে পারে।ডাবের পানির সঙ্গে বিট লবণ মিশালে সোডিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদান যুক্ত হয়, যা শরীরের পানির ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক। অন্যদিকে চিয়া সিডসে থাকা ফাইবার ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরকে দীর্ঘ সময় হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।আরও পড়ুন, স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে আজই ছাড়ুন ধূমপানলেবুর রস মিশিয়ে পান করলে বাড়ে ভিটামিন সি-এর যোগান। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি হজমেও সহায়তা করে।এছাড়া মধু যোগ করলে পাওয়া যায় প্রাকৃতিক শক্তি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সুবিধা। পুদিনা পাতা মিশিয়ে পান করলে শরীরে আসে বাড়তি সতেজতা এবং হজমের সমস্যাও কমে।তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ডায়াবেটিস বা কিডনিসংক্রান্ত জটিলতা থাকলে নিয়মিত বা অতিরিক্ত ডাবের পানি পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।গরমে সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডাবের পানি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।