দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

আজকের আবহাওয়া

ঢাকা 1006.7 hPa
27.5° 89%
340° 3mm
চট্টগ্রাম 1008 hPa
26° 96%
340° 3mm
রাজশাহী 1006.1 hPa
29.8° 86%
340° 3mm
খুলনা 1005.8 hPa
27° 93%
340° 3mm
বরিশাল 1006.5 hPa
26° 97%
340° 3mm
সিলেট 1007.2 hPa
28.8° 83%
340° 3mm
রংপুর 1007 hPa
29.6° 79%
340° 3mm
ময়মনসিংহ 1007.4 hPa
28.6° 83%
340° 3mm
Weather

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

Divine Group ঘিরে এবার মামলার হিসাব

Divine Group ঘিরে এবার মামলার হিসাব

Divine Group-এর প্রকল্প, জমির মালিকানা, গ্রাহকের অর্থ ব্যবস্থাপনা, রিফান্ড এবং করপোরেট গভর্ন্যান্স নিয়ে প্রশ্নের পর এবার প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে থাকা মামলা ও আদালতের আদেশ নিয়েও অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে। বিভিন্ন গ্রাহকের করা মামলার পাশাপাশি একটি ব্যাংক-সংক্রান্ত মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সেই পরোয়ানা গুলশান থানায় পৌঁছানোর পরও কেন তা কার্যকর হয়নি এ প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। তবে মামলার সংখ্যা, পরোয়ানার বর্তমান কার্যকারিতা এবং কোনো মামলায় আসামির জামিন বা স্থগিতাদেশ রয়েছে কি না এসব বিষয়ে আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট থানার রেকর্ড দিয়ে পূর্ণাঙ্গ যাচাই জরুরি। সংবাদ দিগন্তের অনুসন্ধানেও এসব নথির সত্যতা ও বর্তমান অবস্থা যাচাইয়ের চেষ্টা চলছে। গুলশানের মত এমন একটি এলাকায় প্রতারনার ফাঁদ গ্রাহকের টাকা লুটেপুটে খাচ্ছে ডিভাইন গ্রুপ।আরও পড়ুন: গ্রাহকের অর্থ কোথায়? Divine Group-এর প্রকল্প ও সম্পদDivine Group-এর ওপর করা প্রাথমিক ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক স্বচ্ছতা, গ্রাহকের রিফান্ড, ব্যাংক দায়, জমির মালিকানা, কর-ভ্যাট ও করপোরেট গভর্ন্যান্স নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে SM Habibur Rahman-এর বিরুদ্ধে ব্যাংক ঋণ খেলাপি, আইনগত পদক্ষেপ এবং ব্যাংকগুলোর recovery চেষ্টার অভিযোগের কথাও উল্লেখ রয়েছে। তবে ওই রিপোর্টও এসব অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন না করে ব্যাংক নথি, আদালতের রেকর্ড ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের মাধ্যমে যাচাইয়ের কথা বলেছে। আরও পড়ুন: অপসাংবাদিকতার তাণ্ডব: মূলধারা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বড় সংকটঅনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, One Bank-এর একটি মামলায় এস এম হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে এবং ওই পরোয়ানা গুলশান থানায় পাঠানো হয়েছে। কিন্তু পরোয়ানা থানায় পৌঁছানোর পর সেটি কার্যকর হয়েছে কি না, হলে কখন হয়েছে, না হলে তার কারণ কী এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো থানায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পৌঁছালে সেটির কার্যকর করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থাকে। তবে কোনো আসামির বিরুদ্ধে পরোয়ানা থাকলেই তিনি গ্রেপ্তারযোগ্য অবস্থায় আছেন এমন সরল সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে পরোয়ানার সর্বশেষ অবস্থা, জামিন, স্থগিতাদেশ, প্রত্যাহার বা অন্য কোনো আদালতের আদেশ আছে কি না তা যাচাই করা প্রয়োজন। সুতরাং এখানে মূল অনুসন্ধানের বিষয় শুধু ‘ওয়ারেন্ট আছে কি না’ নয়; বরং ওয়ারেন্টটি বর্তমানে কার্যকর কি না এবং থাকলে সেটি বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।আরও পড়ুন: চোরাচালান-মাদকপাচার ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে বিজিবিকে রাষ্ট্রপতির নির্দেশএদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, এস এম হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে মোট ৫৪টি মামলা রয়েছে। তবে সংবাদ দিগন্তের হাতে এই মুহূর্তে ৫৪টি মামলার পূর্ণাঙ্গ মামলানম্বর, আদালতের নাম, মামলার ধারা, বাদীর পরিচয় এবং বর্তমান অবস্থার সমন্বিত তালিকা নেই।ফলে ৫৪টি মামলাকে নিশ্চিত সংখ্যা হিসেবে প্রকাশের আগে আদালতের নথি দিয়ে তা যাচাই করা জরুরি। কারণ একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন পর্যায়ের মামলা, আপিল, রিভিশন বা আর্থিক বিরোধের মামলা থাকতে পারে; আবার কোনো মামলা নিষ্পত্তি, খারিজ, স্থগিত কিংবা জামিনের আওতায়ও থাকতে পারে।এ কারণে সংবাদ দিগন্তের অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপে মামলার নম্বর ধরে ধরে যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে। প্রথম পর্বের অনুসন্ধানে যে বিষয়টি সামনে এসেছিল, সেটি হলো Divine Group-এর বিভিন্ন প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকের অর্থ, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং রিফান্ড নিয়ে প্রশ্ন। প্রাথমিক প্রতিবেদনে ২০ কোটি টাকার বেশি refund-related issue থাকার দাবি এবং কিছু গ্রাহকের রিফান্ড দীর্ঘ সময় ধরে অনিষ্পন্ন থাকার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।Divine Group-সংক্রান্ত প্রাথমিক রিপোর্টে এস এম হাবিবুর রহমানের বিভিন্ন সম্পত্তির বিপরীতে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার তথ্যের সঙ্গে একাধিক ঋণ খেলাপির অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে ব্যাংক আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং recovery proceedings চলার দাবিও সেখানে রয়েছে। সম্মিলিত ব্যাংক দাবির পরিমাণ ১০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলে একটি প্রাথমিক অনুমানের কথা বলা হয়েছে।তবে এটিও মনে রাখা জরুরি ব্যাংক ঋণ, ঋণখেলাপি, দেওয়ানি অর্থঋণ মামলা এবং ফৌজদারি মামলা এক বিষয় নয়। কোন মামলায় কী অভিযোগ রয়েছে এবং আদালত কী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তা নথি দেখে আলাদাভাবে নির্ধারণ করতে হবে।আরও পড়ুন: ‘সাংবাদিক আবদুস সালাম সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রতীক’: রিজভীDivine Group-এর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হলো গ্রাহক বা প্রকল্পের অর্থ অন্যত্র ব্যবহারের অভিযোগ। প্রাথমিক ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এ বিষয়টিকে সরাসরি ‘মানি লন্ডারিং’ না বলে Potential Fund Diversion/Misuse of Customer Funds/Related-Party Transaction Risk হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং forensic verification-এর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য শুধু মুখের কথা বা বাজারের গুঞ্জন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন হবে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, গ্রাহকের পেমেন্ট রেকর্ড, প্রকল্পের হিসাব, জমি কেনার দলিল, নির্মাণ ব্যয়, রিফান্ডের হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ স্থানান্তরের নথি। প্রতিবেদনটির ভাষায়, গ্রাহকের টাকা থেকে শুরু করে ব্যাংক হিসাব, অর্থ স্থানান্তর, প্রাপক, ব্যয়ের উদ্দেশ্য, ভাউচার এবং শেষ পর্যন্ত প্রকৃত সুবিধাভোগী পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে।আরও পড়ুন:আইসিসিবিতে ৩ সেপ্টেম্বর শুরু কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬২০২৫ সাল থেকে Divine Purbachal City এবং Cox Holiday Inn প্রকল্পকে সামনে রেখে নতুন করে বাজারে সক্রিয় হওয়ার তথ্যও প্রাথমিক প্রতিবেদনে রয়েছে। সেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৫ কোটি টাকার hotel share sale এবং প্রায় ২.৫ কোটি টাকা collection হওয়ার দাবি উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে প্রকল্প উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব তথ্য ব্যাংক স্টেটমেন্ট, শেয়ার রেজিস্টার ও গ্রাহক লেজার দিয়ে যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে। এখানেই অনুসন্ধানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন পুরোনো প্রকল্পের গ্রাহক, বিনিয়োগকারী ও পাওনাদারদের দায় পরিশোধের আগে নতুন প্রকল্প বা শেয়ারের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে কি না। এটি কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়; তবে একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়নে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।আরও পড়ুন: আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি নাকচCox Holiday Inn প্রকল্পটি নিয়েও দীর্ঘদিনের স্থবিরতার অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়ে basement ও একতলা পর্যন্ত নির্মাণের পর কাজ বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রায় ২০২১ সাল থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পটি কার্যত stalled অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। যদি এই তথ্য নথিপত্রে সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে প্রকল্পের বর্তমান সম্পদ কত, ইতোমধ্যে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, বাকি নির্মাণে কত টাকা লাগবে এবং সেই অর্থের উৎস কী। Cox Holiday Inn-এর জমির মালিকানা নিয়েও প্রাথমিক রিপোর্টে প্রশ্ন রয়েছে। সেখানে কিছু জমি Divine Holdings Limited, কিছু Divine Hotel and Resort Limited-এর নামে এবং কিছু জমি খাস হতে পারে বলে তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু জমি Power of Attorney-ভিত্তিক হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। প্রাথমিক ঝুঁকি মূল্যায়নে Divine Group-এর corporate governance নিয়ে board oversight, financial control, segregation of duties, project accounting, customer fund segregation, contract management, investor reporting এবং related-party transactionসহ একাধিক ক্ষেত্রে দুর্বলতার আশঙ্কা চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে Managing Director-কেন্দ্রিক অতিরিক্ত আর্থিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ থাকায় কোম্পানির সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক নিয়ন্ত্রণে সাধারণত কে টাকা গ্রহণ করবে, কে অনুমোদন দেবে, কে ব্যয় করবে এবং কে হিসাব নিরীক্ষা করবে—এসব দায়িত্ব আলাদা থাকার কথা। সেখানে একই ব্যক্তির হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হলে governance risk তৈরি হতে পারে।আরও পড়ুন: লংমার্চ ঘিরে সিএমপির সঙ্গে জামায়াতের মতবিনিময়এসব অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি মামলা হওয়া মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী বলা আইনগত ও সাংবাদিকতার দিক থেকে সমীচীন নয়। একইভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও তার বর্তমান অবস্থা জামিন, স্থগিতাদেশ, প্রত্যাহার বা অন্য কোনো আদালতের আদেশ যাচাই করা জরুরি। তাই এস এম হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ৫৪টি মামলা রয়েছে এই তথ্যটি বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংবাদ দিগন্ত আদালতের নথির ভিত্তিতে মামলাগুলোর প্রকৃত সংখ্যা ও বর্তমান অবস্থা যাচাই করার চেষ্টা করছে।Divine Group-এর প্রাথমিক ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনের চূড়ান্ত মতামতেও বলা হয়েছে, নতুন বিনিয়োগ বা আর্থিক সম্পর্ক স্থাপনের আগে independent forensic investigation প্রয়োজন। এজন্য forensic financial audit, land audit, legal audit, tax/VAT audit এবং project audit করার সুপারিশ করা হয়েছে।প্রাথমিক রিপোর্টে stakeholder-দের জন্যও নতুন আর্থিক সম্পর্ক স্থাপনের আগে জমির বৈধ মালিকানা, প্রকল্পের অনুমোদন, বাস্তব নির্মাণ অবস্থা, audited financial statement, customer/refund liability, ব্যাংক ও creditor position এবং customer fund-এর source ও utilization যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।আরও পড়ুন: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সংসদে সরকার-বিরোধী দলের টানাপোড়েন ফের উত্তাপDivine Group নিয়ে প্রথম পর্বে উঠে এসেছিল প্রকল্পের অগ্রগতি, জমির মালিকানা, অর্থ ব্যবস্থাপনা ও করপোরেট গভর্ন্যান্সের প্রশ্ন। দ্বিতীয় পর্বে সামনে এসেছে মামলা, ব্যাংক-সংক্রান্ত বিরোধ এবং কথিত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

দেশের ৭ অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

দেশের সাত অঞ্চলের ওপর দিয়ে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।পূর্বাভাস অনুযায়ী, বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।আরও  পড়ুন, আবুল কালাম আজাদ-সাহেদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য ৪ অক্টোবরএ সময় এসব অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।এদিকে, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের আট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে।তবে বৃষ্টির প্রবণতা থাকলেও সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবুল কালাম আজাদ-সাহেদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য ৪ অক্টোবর

দুর্নীতি দমন কমিশন—দুদকের করা মামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণের নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।আগামী ৪ অক্টোবর মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এ আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে এদিন সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি।পরে আদালত আগামী ৪ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেনের আদালতে।আরও পড়ুন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে, অপেক্ষা গেজেটেরদুদকের করা এ মামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এবং রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ করিমসহ মোট ছয়জন আসামি রয়েছেন।মামলাটির অভিযোগ ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।বুধবার সাক্ষ্য গ্রহণ না হওয়ায় মামলার কার্যক্রম আবারও পিছিয়ে গেল। আগামী ৪ অক্টোবর নির্ধারিত দিনে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে মামলাটির পরবর্তী ধাপ এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।এখন নির্ধারিত তারিখে আদালতের কার্যক্রম কীভাবে এগোয়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে, অপেক্ষা গেজেটের

প্রস্তাবিত ৯ম জাতীয় পে স্কেল অনুমোদন করেছে সরকার। এখন অপেক্ষা শুধু গেজেট জারির। নতুন বেতন কাঠামোসংক্রান্ত একাধিক গেজেট চলতি সপ্তাহের মধ্যেই জারি হতে পারে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।বুধবার নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ইনশা আল্লাহ, এ সপ্তাহের মধ্যেই গেজেট হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে একটি নয়, একাধিক গেজেট জারি করা হবে।এর আগে সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী ২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশাবলী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরকারের সুপারিশ তৈরির জন্য একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়। আড়ও পড়ুন,জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ, ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য মাঝিরওই কমিটির প্রতিবেদন মন্ত্রিসভায় বিস্তারিত পর্যালোচনার পর নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন করা হয়েছে।নতুন বেতন কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।অনুমোদিত জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। আর ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।বেতন বৈষম্য কমাতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাতও কমানো হয়েছে। বিদ্যমান ১:১ দশমিক ৯৪৫ অনুপাত কমিয়ে নতুন বেতনস্কেলে তা করা হয়েছে ১:১ দশমিক ৭৮।ফলে নতুন পে স্কেলে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বাড়বে ১৪২ শতাংশ। আর সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন বাড়বে ১০০ শতাংশ।গেজেট জারি হলে নতুন বেতন কাঠামোর বিস্তারিত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া স্পষ্ট হবে।

দেশ গড়ার দায়িত্ব এখন বিএনপির: আমির খসরু

দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন ও নেতাকর্মীদের ত্যাগের পর বিএনপির সামনে এখন দেশ গড়ার দায়িত্ব এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দেশের বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে বিএনপি নেতৃত্ব দিতে সক্ষম বলেও দাবি করেন তিনি।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের পুরাতন রেলস্টেশনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি আয়োজিত র‌্যালিপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।আমির খসরু বলেন, অতীতেও বিভিন্ন সংকটের সময় বিএনপি দেশ পরিচালনায় ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণেও দলটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে তিনি মনে করেন। তবে বিদ্যমান সমস্যা কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, দলীয়ভাবে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হলে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব।দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে আমির খসরু বলেন, দলের অনেক নেতাকর্মী বিভিন্ন সময়ে রাজপথে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। তাদের কেউ কারাবরণ করেছেন, কেউ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আন্দোলনের সময় প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।আরও  পড়ুন, এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: রিজভীসরকারি দায়িত্ব পালনের কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের আগের মতো সময় দিতে পারেন না বলেও জানান আমির খসরু। তার মতে, দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হওয়া জরুরি নয়; রাজনৈতিক পদ-পদবির বাইরেও নাগরিকদের ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের প্রসঙ্গ তুলে আমির খসরু বলেন, তার কাছ থেকে বিএনপি দেশপ্রেম, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব, রাজনৈতিক শৃঙ্খলা এবং উন্নয়ন ও উৎপাদনকেন্দ্রিক রাজনীতির শিক্ষা পেয়েছে। তিনি বলেন, দলের স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার রাজনৈতিক শিক্ষা তারা পেয়েছেন।চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার কথাও বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনে দলটির বহু নেতাকর্মী হতাহত, কারাবন্দি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন আমির খসরু। এসব ত্যাগের পর বিএনপির নেতাকর্মীদের এখন দেশ গঠনের কাজে ভূমিকা রাখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের বাজেট নিয়েও সমাবেশে কথা বলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী। আমির খসরু বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি বেশ কিছু অর্থনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে বড় বাজেট দেওয়াকে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।ঘোষিত বাজেট বাস্তবায়নে সরকার কাজ করবে জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের সমস্যাকে কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সমস্যা হিসেবে না দেখে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পর্যায়ক্রমে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।নির্বাচন ও সরকার গঠনের প্রসঙ্গ টেনে আমির খসরু বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জনগণের প্রত্যাশা বেড়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণ এবং নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন তারা।আরও  পড়ুন, সমাবেশে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিষয়েও কথা বলেন আমির খসরু। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এলাকার মানুষের কাছে তথ্য থাকতে পারে। এ ধরনের তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।একইভাবে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতা করার কথাও বলেন বিএনপির এই নেতা।দেশের উন্নয়ন ও সরকারি কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কার কথাও বক্তব্যে তুলে ধরেন তিনি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান আমির খসরু।চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে সমাবেশ সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান।সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব আবুল হাশেম বক্কর এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য শামসুল আলমসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। সমাবেশ শেষে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নগরে র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

রাজনীতিরাজনীতি

সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস

সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস

দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে বুধবার রাতে ঢাকায় ফেরেন তিনি।রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান মির্জা আব্বাস। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আফরোজা আব্বাস।বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এর আগে গত ১১ মার্চ ইফতারে পানি পান করার সময় হঠাৎ জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। পরে অবস্থার উন্নতি না হলে গভীর রাতে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।আরও  পড়ুন, টিভি চ্যানেল প্রধান ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে শফিকুর রহমানের বৈঠকশারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হয়।দীর্ঘ সময় বিদেশে চিকিৎসা শেষে অবশেষে দেশে ফিরলেন বিএনপির এই প্রবীণ নেতা।রাজনৈতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে মির্জা আব্বাসের। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে তার দেশে ফেরাকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে স্বস্তি।

টিভি চ্যানেল প্রধান ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে শফিকুর রহমানের বৈঠক

টিভি চ্যানেল প্রধান ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে শফিকুর রহমানের বৈঠক

রাজধানীর মিন্টো রোডে টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী ও দেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে পূর্বনির্ধারিত এ বৈঠক শুরু হয়। এর আগে বেলা ১১টার পর থেকেই দেশের প্রথমসারির বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের কর্তাব্যক্তিরা সেখানে আসতে শুরু করেন।বৈঠকে ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রধান নির্বাহী ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা অংশ নেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।বৈঠকের আগে জামায়াত নেতারা জানান, দেশের অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের কাছ থেকে দিকনির্দেশনামূলক মতামত নিতে চান তারা। আড়ও পড়ুন,পাসপোর্টে ঘুষ ও হয়রানির অভিযোগ, উত্তরা অফিসে দুদকের অভিযানপাশাপাশি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিরোধীদলের কাছে গণমাধ্যমের প্রত্যাশা কী—সেটিও জানতে চাওয়া হবে।দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে সাংবাদিকদের মতামত বৈঠকে গুরুত্ব পাবে বলে জানান দলটির নেতারা।তাদের ভাষ্য, দেশের গণমাধ্যমের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল নির্ধারণ করতে চান তারা। এ লক্ষ্যেই টেলিভিশন চ্যানেলের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ মতবিনিময় আয়োজন করা হয়েছে।বৈঠকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং নতুন বাংলাদেশে গণমাধ্যমের প্রত্যাশাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।বৈঠকটি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের অংশ বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশ গড়ার দায়িত্ব এখন বিএনপির: আমির খসরু

দেশ গড়ার দায়িত্ব এখন বিএনপির: আমির খসরু

দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন ও নেতাকর্মীদের ত্যাগের পর বিএনপির সামনে এখন দেশ গড়ার দায়িত্ব এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দেশের বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে বিএনপি নেতৃত্ব দিতে সক্ষম বলেও দাবি করেন তিনি।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের পুরাতন রেলস্টেশনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি আয়োজিত র‌্যালিপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।আমির খসরু বলেন, অতীতেও বিভিন্ন সংকটের সময় বিএনপি দেশ পরিচালনায় ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণেও দলটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে তিনি মনে করেন। তবে বিদ্যমান সমস্যা কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, দলীয়ভাবে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হলে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব।দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে আমির খসরু বলেন, দলের অনেক নেতাকর্মী বিভিন্ন সময়ে রাজপথে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। তাদের কেউ কারাবরণ করেছেন, কেউ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আন্দোলনের সময় প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।আরও  পড়ুন, এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: রিজভীসরকারি দায়িত্ব পালনের কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের আগের মতো সময় দিতে পারেন না বলেও জানান আমির খসরু। তার মতে, দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হওয়া জরুরি নয়; রাজনৈতিক পদ-পদবির বাইরেও নাগরিকদের ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের প্রসঙ্গ তুলে আমির খসরু বলেন, তার কাছ থেকে বিএনপি দেশপ্রেম, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব, রাজনৈতিক শৃঙ্খলা এবং উন্নয়ন ও উৎপাদনকেন্দ্রিক রাজনীতির শিক্ষা পেয়েছে। তিনি বলেন, দলের স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার রাজনৈতিক শিক্ষা তারা পেয়েছেন।চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার কথাও বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনে দলটির বহু নেতাকর্মী হতাহত, কারাবন্দি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন আমির খসরু। এসব ত্যাগের পর বিএনপির নেতাকর্মীদের এখন দেশ গঠনের কাজে ভূমিকা রাখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের বাজেট নিয়েও সমাবেশে কথা বলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী। আমির খসরু বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি বেশ কিছু অর্থনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে বড় বাজেট দেওয়াকে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।ঘোষিত বাজেট বাস্তবায়নে সরকার কাজ করবে জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের সমস্যাকে কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সমস্যা হিসেবে না দেখে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পর্যায়ক্রমে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।নির্বাচন ও সরকার গঠনের প্রসঙ্গ টেনে আমির খসরু বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জনগণের প্রত্যাশা বেড়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণ এবং নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন তারা।আরও  পড়ুন, সমাবেশে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিষয়েও কথা বলেন আমির খসরু। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এলাকার মানুষের কাছে তথ্য থাকতে পারে। এ ধরনের তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।একইভাবে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতা করার কথাও বলেন বিএনপির এই নেতা।দেশের উন্নয়ন ও সরকারি কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কার কথাও বক্তব্যে তুলে ধরেন তিনি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান আমির খসরু।চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে সমাবেশ সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান।সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব আবুল হাশেম বক্কর এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য শামসুল আলমসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। সমাবেশ শেষে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নগরে র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: রিজভী

এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: রিজভী

দেশে চলমান গ্যাস সংকট এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।বুধবার সকালে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর তিনশ ফিট এলাকায় গাছের চারা রোপণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।রুহুল কবির রিজভী বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট শুধু সরকারের কারণে সৃষ্টি হয়নি। এর পেছনে বৈশ্বিক বিভিন্ন কারণ রয়েছে। তবে সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে।বিশেষ করে শিল্পকারখানায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে মিল-কারখানাগুলোর জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বিদ্যমান সংকট ধীরে ধীরে কমে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। আড়ও পড়ুন,প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইসলামের আদর্শ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করছেন: ড. মঈন খানএলএনজি আমদানির প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কিনতে সরকার ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।রিজভী বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হতে দেওয়া হবে না। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া সংকট মোকাবিলায় সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।এদিকে, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি নদী, খাল ও বিল দূষণমুক্ত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন রুহুল কবির রিজভী।তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগালেই পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। দেশের নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাধারগুলোও বিষাক্ত ও দূষণমুক্ত রাখতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি জলাশয় সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

সারাবাংলা

গাজীপুরে মহাসড়কে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য, অতিষ্ঠ নগরবাসী

গাজীপুরে মহাসড়কে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য, অতিষ্ঠ নগরবাসী

গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অটোরিকশার অবাধ চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও সাধারণ মানুষ। মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে অটোরিকশা চলাচল, যত্রতত্র থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা এবং সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকার কারণে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী, বোর্ডবাজার, গাজীপুর চৌরাস্তা, কোনাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে অটোরিকশার সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এসব অটোরিকশার অনেক চালক মহাসড়কের ব্যস্ত অংশে হঠাৎ করে ইউটার্ন নেওয়া, সামনে গিয়ে থেমে পড়া ও বেপরোয়া গতিতে চলাচল করেন। ফলে পেছনে থাকা যানবাহনগুলোকে হঠাৎ ব্রেক করতে হয়।এ ছাড়া অনেক অটোরিকশা মহাসড়কের পাশে নির্ধারিত স্থান ছাড়া যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যাত্রী সংগ্রহ করে। এতে সড়কের স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হয়। বিশেষ করে অফিস শুরু ও ছুটির সময়ে যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থেকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীবাহী যানবাহনকে।আরও  পড়ুন, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ গঙ্গাচড়ায় তিস্তার চরে আগাছানাশক ছিটিয়ে ৫৫ শতক আমনক্ষেত নষ্টস্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কে অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি প্রয়োজন। শুধু অভিযান চালিয়ে কয়েকদিন নিয়ন্ত্রণে রাখলেই হবে না, স্থায়ীভাবে নির্ধারিত রুট ও স্ট্যান্ডের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে মহাসড়কে অটোরিকশা প্রবেশ বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।একাধিক পথচারী বলেন, অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচলের কারণে মহাসড়কে হাঁটাচলাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কখন কোন দিক থেকে অটোরিকশা এসে সামনে পড়ে, তা বোঝা কঠিন। এতে ছোটখাটো দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।সচেতন নাগরিকদের মতে, গাজীপুর একটি শিল্পাঞ্চল হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এসব মহাসড়ক ব্যবহার করেন। তাই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ এবং চালকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে মহাসড়কে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ  গঙ্গাচড়ায় তিস্তার চরে আগাছানাশক ছিটিয়ে ৫৫ শতক আমনক্ষেত নষ্ট

থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ গঙ্গাচড়ায় তিস্তার চরে আগাছানাশক ছিটিয়ে ৫৫ শতক আমনক্ষেত নষ্ট

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা নদীর চরের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে ৫৫ শতক আমনক্ষেতে আগাছানাশক ছিটিয়ে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছেন।ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের চর বাগডোগরা গ্রামে। এ ঘটনায় লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার বৈরাতি গ্রামের রজব আলীর ছেলে সেরাজুল ইসলাম (৩৯) থানায় অভিযোগ করেছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সেরাজুল ইসলামের দাদার নামে রেকর্ডভুক্ত জমি তিস্তা নদীর ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে পরে খাস খতিয়ানভুক্ত হয়। পরবর্তীতে ওই জমি চর হিসেবে জেগে উঠলে সেরাজুল ইসলাম ও তাঁর চাচারা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছেন।সম্প্রতি গঙ্গাচড়া উপজেলার চর বাগডোগরা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে মনোয়ারুল ইসলাম (৪৫) ওই জমির মালিকানা দাবি করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।আরও  পড়ুন, গংগাচড়ায় বিদ্যালয় থেকে তিস্তা মাত্র ৬০ মিটার, আতঙ্কে শিক্ষার্থী-এলাকাবাসী সেরাজুল ইসলামের দাবি, এসব সালিশে তাঁর পক্ষেই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। তবে মনোয়ারুল ইসলাম জমির মালিকানা দাবি থেকে সরে আসেননি।সেরাজুল ইসলামের অভিযোগ, গত ৩১ আগস্ট ভোরে মনোয়ারুল ইসলাম গোপনে বিরোধপূর্ণ ৫৫ শতক জমির আমনক্ষেতে আগাছানাশক ওষুধ স্প্রে করেন। এতে ক্ষেতের ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। পরে তিনি বিষয়টি উল্লেখ করে মনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।স্থানীয় বাসিন্দা চর বাগডোগরা গ্রামের আব্দুস সালাম, আনিছুর রহমান ও ইউনুস আলীসহ কয়েকজন জানান, বিরোধপূর্ণ জমিটি দীর্ঘদিন ধরে সেরাজুল ইসলাম ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছেন।অন্যদিকে, মনোয়ারুল ইসলামও জমিটি নিজের বলে দাবি করে আসছেন। তাঁর পক্ষ থেকেও আমনক্ষেত নষ্ট করার ঘটনায় সেরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে।গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সবুর জানান, উভয় পক্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গংগাচড়ায় বিদ্যালয় থেকে তিস্তা মাত্র ৬০ মিটার, আতঙ্কে শিক্ষার্থী-এলাকাবাসী

গংগাচড়ায় বিদ্যালয় থেকে তিস্তা মাত্র ৬০ মিটার, আতঙ্কে শিক্ষার্থী-এলাকাবাসী

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিলীনের পথে চর বাগডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভাঙনরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে তিস্তা নদীর পাড়ে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।নোহালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আজিজুলপাড়া এলাকায় তিস্তার ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙন অব্যাহত থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।এলাকাবাসী জানান, বর্তমানে তিস্তা নদী থেকে চর বাগডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় ৬০ মিটার। নদীভাঙন যেভাবে দ্রুত এগিয়ে আসছে, তাতে যেকোনো সময় বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যালয়টি রক্ষা করতে এখনই পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ ফেলা ও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা একাধিকবার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে আশ্বাসের পরও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।আরও  পড়ুন, গংগাচড়ায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত এতে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চর বাগডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের জনপদ তিস্তার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিদ্যালয়টি এখন নদীর একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বিদ্যালয়টির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং পুরো এলাকার বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও জনপদ হুমকির মুখে পড়বে।ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা আবু তালেব বলেন, “স্কুলটি রক্ষা করতে এখনই পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ ফেলতে হবে। শুধু আশ্বাস দিয়ে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়। কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি চর বাগডহরা এলাকার বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও জনপদও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।”এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “বাগডহরা চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তিস্তা নদীর ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে—বিষয়টি আমরা জেনেছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”এদিকে অব্যাহত নদীভাঙনে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দিন দিন বাড়ছে। চর বাগডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ এলাকার বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও জনপদ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

গংগাচড়ায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

গংগাচড়ায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ ওঠার পর বুধবার বিদ্যালয়ে গেলে কয়েকজন অভিভাবক তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি পালিয়ে যান।পরে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকদের অফিসকক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে গেলে তাকেও অবরুদ্ধ করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত প্রায় সাত ঘণ্টা তারা অবরুদ্ধ ছিলেন।পরে পুলিশি পাহারায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিদ্যালয়ে থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের বের করে নেওয়া হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে স্থানীয়রা স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিদ্যালয়ের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৩১ আগস্ট ক্লাস চলাকালে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ ওঠে। পরে শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তার অভিভাবকদের জানায়। এরপর থেকে ওই শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেননি। বুধবার সকালে তিনি বিদ্যালয়ে এলে কয়েকজন অভিভাবক তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি পালিয়ে যান।পরে ওই শিক্ষার্থীর বাবা ঘটনাস্থলে আসা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পাওয়ার পর ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।বিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগ করেছে বলে জানা গেছে। আরও  পড়ুন, গ্যাস ডিপোর সামনে বিসিকের বর্জ্যে আগুন, ভয়াবহ দুর্ঘটনার শঙ্কাতাদের দাবি, ওই শিক্ষকের আচরণে মেয়েশিক্ষার্থীরা অস্বস্তি বোধ করত। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানিয়েছে।এদিকে কয়েকজন অভিভাবক দাবি করেছেন, এর আগেও অন্য দুটি বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।গজঘন্টা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বকুল মিয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখি, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সবাইকে আটকে রাখা হয়েছে। পরে সবাইকে বুঝিয়ে পুলিশি পাহারায় তাদের বের করে দেওয়া হয়। আগেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুটি বিদ্যালয়ে শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগের কথা শুনেছি। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তিনি যেন আর শিক্ষকতা পেশায় ফিরতে না পারেন, সে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ ওঠার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমি কখনো চিন্তা করতে পারিনি আমার এই শিক্ষক এ ধরনের কাজ করবেন। বিষয়টি জানার পর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, ‘ওই ছাত্রীর বাবা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিক বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস ছবুর বলেন, ‘উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ফোন করে বিদ্যালয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখার কথা জানানো হয়। পরে পুলিশ সদস্যদের পাঠিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।’

আন্তর্জাতিক

ইরানের জন্য রাশিয়ার গোপন সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প

ইরানের জন্য রাশিয়ার গোপন সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প

ইরানকে শক্তিশালী সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে রাশিয়া গোপনে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে—এমন বিস্ফোরক দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফাইনান্সিয়াল টাইমস।সংবাদমাধ্যমটির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে ‘সি৪৩০’ কোডনামে একটি গোপন প্রকল্পে ইরানের জন্য উচ্চগতির র‍্যামজেট ইঞ্জিন প্রযুক্তি উন্নয়নে সহযোগিতা করছে রাশিয়া।প্রতিবেদনটি রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ চিঠিপত্র, ভ্রমণ নথি এবং সামরিক পেটেন্ট বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফাইনান্সিয়াল টাইমস।নথিপত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রসঅবোরোনএক্সপোর্ট এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনপিও মাশিনোস্ত্রোইয়েনিয়া এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত।প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই রাশিয়ার শীর্ষ সামরিক প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা একাধিকবার ইরান সফর করেন। পরে ইরানের তৈরি র‍্যামজেট ইঞ্জিনের পরীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ত্রুটি দূর করতে রুশ প্রকৌশলীরা পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেন।র‍্যামজেট প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র অনেক বেশি গতিতে উড়তে পারে। আর উচ্চগতির এই ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও প্রতিহত করা বিদ্যমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য তুলনামূলকভাবে কঠিন হতে পারে।ফাইনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের মধ্যেও ২০২৬ সাল পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে প্রকল্প-সংক্রান্ত যোগাযোগ ও নথি আদান-প্রদান অব্যাহত ছিল।আড়ও দেখুন,বিমানবন্দরে ৭৫ লাখ টাকার স্বর্ণসহ দুইজন আটকতবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ইরান এই প্রযুক্তির ফ্লাইট পরীক্ষা চালালেও র‍্যামজেটচালিত কোনো সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আনুষ্ঠানিকভাবে মোতায়েন করা হয়েছে কি না, তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।ইরান ও রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই প্রকল্পকে তাই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাশিয়া এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, রাশিয়া যদি ইরানকে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি সরবরাহ করে থাকে এবং তা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।তবে প্রকল্পটির প্রকৃত অগ্রগতি, প্রযুক্তির সক্ষমতা এবং ভবিষ্যতে তা সামরিকভাবে মোতায়েন হবে কি না—এসব বিষয়ে আরও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে।

১৫ ঘন্টা আগে

রাজধানী

বায়ুদূষণে অস্বস্তি বাড়ছে, দূষিত শহরের তালিকায় ১১ নম্বরে ঢাকা

বায়ুদূষণে অস্বস্তি বাড়ছে, দূষিত শহরের তালিকায় ১১ নম্বরে ঢাকা

বায়ুর মান নিয়ে আবারও অস্বস্তিকর অবস্থানে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। বৃহস্পতিবার সকালে বায়ুমান সূচকে ১০৫ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ১১ নম্বরে উঠে এসেছে ঢাকা।সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের সূচকে উঠে এসেছে এ তথ্য।১০৫ স্কোরের এই বাতাসকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় ভোগা মানুষের জন্য এ ধরনের বাতাসে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।তবে ঢাকার চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা দেখা গেছে মালয়েশিয়ার কুচিং শহরে। ২৭৩ স্কোর নিয়ে দূষিত শহরের তালিকার শীর্ষে রয়েছে শহরটি। এই মাত্রার বাতাসকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।আরও  পড়ুন, টিভি চ্যানেল প্রধান ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে শফিকুর রহমানের বৈঠকতালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা। শহরটির বায়ুমান স্কোর ১৬০। একই স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা।এরপরের অবস্থানগুলোতে রয়েছে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, ভিয়েতনামের হ্যানয় ও চীনের চিংডুসহ আরও কয়েকটি শহর।আইকিউএয়ারের সূচক অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত বায়ুমানকে ভালো, ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত সহনীয় হিসেবে ধরা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ হলে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত হলে অস্বাস্থ্যকর।এ ছাড়া ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি স্কোরকে দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ফলে ঢাকার বর্তমান বায়ুমান সাধারণ মানুষের জন্য তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সংবেদনশীল মানুষের জন্য এটি সতর্ক হওয়ার মতো পরিস্থিতি।

১ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

খেলাধুলা

শেষ মুহূর্তে বালোগুনের নাটকীয় প্রত্যাখ্যান

শেষ মুহূর্তে বালোগুনের নাটকীয় প্রত্যাখ্যান

দলবদলের শেষ দিনে নাটকীয়তার চূড়ান্ত দেখা গেল এভারটনে। ফরাসি ক্লাব মোনাকো থেকে ৪০ মিলিয়ন পাউন্ডে মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনকে দলে ভেড়ানোর সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে ফেলেছিল ইংলিশ ক্লাবটি। কিন্তু চুক্তিপত্রে সই হয়ে যাওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে আচমকাই সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন ২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার।ফিঞ্চ ফার্ম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পর্যায়ে গিয়ে এভারটনের প্রস্তাব থেকে সরে দাঁড়ান বালোগুন। তার এমন সিদ্ধান্তে শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যায় পুরো চুক্তি।ইতালিয়ান ক্লাব ফিওরেন্টিনায় স্ট্রাইকার বেতো চলে যাওয়ার পর আক্রমণভাগ শক্তিশালী করতে বালোগুনকে দলে নেওয়ার উদ্যোগ নেয় এভারটন। এর আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জোশুয়া জার্কজি এবং অ্যাস্টন ভিলার ট্যামি আব্রাহামকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল ক্লাবটি। তবে কোনো পক্ষকেই রাজি করানো সম্ভব হয়নি।ফলে শেষ ভরসা হিসেবে বালোগুনের ওপর নির্ভর করেছিল এভারটন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাঁর সিদ্ধান্ত বদলে যাওয়ায় দলবদলের শেষ দিনে বড় ধাক্কা খেতে হয়েছে মার্সিসাইডের ক্লাবটিকে।আড়ও পড়ুন,থাইল্যান্ডকে ৩৫ রানে হারিয়ে এশিয়া কাপে পাকিস্তানের জয়তবে বালোগুনকে হারানোর হতাশার মধ্যেই এভারটন সমর্থকদের জন্য স্বস্তির খবর হয়ে আসে জ্যাক গ্রিলিশের প্রত্যাবর্তন। ম্যানচেস্টার সিটি থেকে এক মৌসুমের ধারে আবারও এভারটনে যোগ দিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এই ইংলিশ তারকা।২০২৫-২৬ মৌসুমেও ধারে এভারটনের হয়ে খেলেছিলেন গ্রিলিশ। ২০ ম্যাচে করেছিলেন দুই গোল ও ছয়টি অ্যাসিস্ট। যদিও পায়ের চোটের কারণে জানুয়ারিতেই শেষ হয়ে যায় তাঁর মৌসুম। এরপরও গুডিসন পার্কের সমর্থকদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।এভারটনে ফেরার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে গ্রিলিশ বলেন, ফুটবল কিংবা জীবনে ভালোবাসা পেলে সেরাটা দেওয়া সম্ভব। কোচ, সতীর্থ এবং বিশেষ করে সমর্থকদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসার কথাও স্মরণ করেন তিনি।চোট কাটিয়ে সম্প্রতি ম্যানচেস্টার সিটির একাদশেও দেখা গিয়েছিল গ্রিলিশকে। তবে শেষ পর্যন্ত আবারও এভারটনের কোচ ডেভিড ময়েসের অধীনে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।একদিকে বালোগুনের শেষ মুহূর্তের ‘না’, অন্যদিকে গ্রিলিশের প্রত্যাবর্তন—দলবদলের শেষ দিনে এভারটনের জন্য তাই একই সঙ্গে হতাশা ও স্বস্তির গল্প হয়ে থাকল।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর