দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

অপরাধীদের দৌরাত্ম্য, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

অপরাধীদের দৌরাত্ম্য, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

দেশে একের পর এক পুলিশের ওপর হামলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল দুর্বল করার অপচেষ্টা, মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এবং মাদক কারবারের বিস্তার—সব মিলিয়ে জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকা, মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের গতি এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত আইনি সেবা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানীসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ আবাসিক হোটেল, অনুমোদনহীন স্পা সেন্টার, মাদক সংশ্লিষ্ট আস্তানা ও নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সামনে আসছে। এসব অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত ও প্রতিরোধ করা না গেলে অপরাধীদের তৎপরতা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। পুলিশ একটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধী শনাক্ত, জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা, দায়িত্ব পালনে বাধা, বিভিন্ন স্থানে সংঘবদ্ধ বিশৃঙ্খলা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, মাঠপর্যায়ে পুলিশ কতটা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে? অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, জনবল, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে? রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের আন্দোলন ও বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা এবং সংঘর্ষের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। কোনো দাবি বা অধিকার আদায়ের আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও সেই আন্দোলনের আড়ালে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি সম্পদ ভাঙচুর কিংবা সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। পুলিশের দায়িত্ব পালনের সময় তাদের ওপর হামলা হলে শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিরাপত্তাই বিঘ্নিত হয় না, বরং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে সংঘবদ্ধ হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলে সেসব অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। আইনের প্রয়োগ হতে হবে সবার জন্য সমান। পুলিশের ওপর হামলার বিচার যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগেরও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। কারণ জবাবদিহি ও পেশাদারত্বের সমন্বয় ছাড়া একটি বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করা সম্ভব নয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় মব সহিংসতা ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। বিভিন্ন এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা, মারধর, ভাঙচুর, চাঁদাবাজি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সংঘবদ্ধ হওয়ার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা আইনের শাসনের জন্য বড় হুমকি। অপরাধের অভিযোগ থাকলে তদন্ত ও বিচারের দায়িত্ব আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং আদালতের। জনতার হাতে বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের দ্রুত সাড়া, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক পৃষ্ঠপোষক, মাদক সরবরাহকারী এবং অপরাধে অর্থায়নকারীদের শনাক্ত করতে হবে। শুধু কয়েকজন কিশোরকে আটক করে অভিযান শেষ করলে সমস্যার মূল উৎপাটন হবে না। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানীকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, স্পা সেন্টার এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে মাঝেমধ্যে নানা অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অনুমোদন, বৈধ ব্যবসায়িক কাগজপত্র কিংবা নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই পরিচালিত হচ্ছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক সংশ্লিষ্টতা, অসামাজিক কার্যকলাপ এবং অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। প্রশ্ন হচ্ছে, একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে, তাদের ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে কি না, ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার কী, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর কি না এবং আবাসিক অতিথিদের তথ্য সংরক্ষণের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে তো? বিশেষ করে গুলশান ও বনানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস এবং স্পা সেন্টারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পুলিশ, সিটি করপোরেশন, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স প্রদানকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না থাকলে অনিয়ম শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়লে সেগুলো ফাইলবন্দি না রেখে তদন্তের অগ্রগতি নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সুনাম ও অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে হবে।আরও পড়ুন, পুলিশের মাসোহারা বৈধ, সাংবাদিকের উপহার অপরাধ?মাদক অপরাধের বিস্তার শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, পরিবার ও সমাজের নিরাপত্তাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে অনেক সময় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যায়। ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণকে বিচ্ছিন্ন কোনো অভিযান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মাদক কারবারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সরবরাহের উৎস, পরিবহন নেটওয়ার্ক, অর্থের লেনদেন এবং পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করা প্রয়োজন। শুধু খুচরা পর্যায়ের কয়েকজন মাদক বিক্রেতাকে আটক করে অভিযান শেষ করলে বড় চক্রগুলো আড়ালে থেকে যেতে পারে। বিশেষ করে আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, বিনোদনকেন্দ্র এবং সন্দেহজনক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা এলাকার বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ না তুলে প্রমাণভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের চিহ্নিত করাই হবে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ। জনসাধারণের মধ্যে আরেকটি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে থানায় গিয়ে প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপরাধের তথ্য নিয়ে থানায় যোগাযোগ করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সরাসরি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। অবশ্য সব ক্ষেত্রে এমন আচরণ ঘটে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তবে এ ধরনের অভিজ্ঞতা যদি কোনো নাগরিকের হয়ে থাকে, তাহলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। একজন নাগরিক যখন কোনো অপরাধের তথ্য নিয়ে থানায় যান, তখন তিনি দ্রুত সাড়া, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং আইনগত সহায়তা প্রত্যাশা করেন। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পর যদি তাঁকে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে যোগাযোগ করতে হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের প্রতি তাঁর আস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব শুধু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকা নয়, আইন ও বিধি অনুযায়ী নিজের এখতিয়ারের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাও তাঁর দায়িত্ব। কোনো অভিযোগ ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পাঠানোর প্রয়োজন হলে সেটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় পাঠাতে হবে। কিন্তু সেই অজুহাতে জরুরি অপরাধের তথ্য গ্রহণ বা প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব করা উচিত নয়। বিশেষ করে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, নারী ও শিশু নির্যাতন, সংঘবদ্ধ অপরাধ কিংবা কোনো ব্যক্তির তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাঝুঁকির তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। পুলিশের ওপর ধারাবাহিক হামলা এবং দায়িত্ব পালনে বাধার ঘটনা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ধরে রাখার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়; পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব আচরণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করাও গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ, জনবল এবং কার্যকর অপারেশনাল নির্দেশনা দিতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধ দমনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অযৌক্তিক চাপ বা বাধা থাকলে তা দূর করতে হবে। পুলিশকে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে একজন কর্মকর্তা অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবেন। আবার কোনো পুলিশ সদস্য দায়িত্বে অবহেলা করলে কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করলে তাঁকেও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মাঠপর্যায়ের ইউনিটগুলোকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং, মাদক কারবার, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান জোরদার করতে হবে। রাজধানীর গুলশান, বনানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম যাচাইয়ে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর লাইসেন্স, নিবন্ধন, ভবনের ব্যবহার, অগ্নিনিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা করতে হবে। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি থানায় নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা থাকা দরকার। অভিযোগ গ্রহণের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হলো, তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না—এসব বিষয়ে অভিযোগকারীকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, সাধারণ মানুষ যদি অপরাধের তথ্য দিয়েও দ্রুত প্রতিকার না পান, তাহলে তাঁরা নিরাপত্তার জন্য কোথায় যাবেন? অপরাধীরা যদি পুলিশের ওপর হামলা করে পার পেয়ে যায়, সংঘবদ্ধভাবে জনজীবন অস্থির করে তোলে এবং বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত না হয়, তাহলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলার নামে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ কিংবা নির্বিচারে গ্রেপ্তার কোনো সমাধান হতে পারে না। অপরাধ দমন করতে হবে আইন মেনে, নিরপেক্ষভাবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে। একই সঙ্গে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের হলেও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সামগ্রিক দায়িত্ব। এ জন্য পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন, বিচার বিভাগ, সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন। অপরাধ দমনে পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ, নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অপরাধের অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে। জনগণ পুলিশের প্রতিপক্ষ নয়; বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণই পুলিশের সবচেয়ে বড় সহযোগী হতে পারে। তাই পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক ফিরিয়ে আনা জরুরি। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি থেকেই যায়—পুলিশের ওপর হামলা, মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা প্রস্তুত? থানায় গিয়ে সাধারণ মানুষ কি সহজে আইনি সেবা পাবেন? গুলশান-বনানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অপরাধের অভিযোগগুলো কি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর শুধু বক্তব্য কিংবা আশ্বাসে নয়, প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপে। কারণ জননিরাপত্তা কোনো বিশেষ শ্রেণির মানুষের অধিকার নয়; এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও আইনগত সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী, পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক করার মধ্য দিয়েই জনগণের নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা সম্ভব।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

বড়দিন উদযাপনে ৩ কোটি টাকা অনুদানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে ৩ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ জন্য খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ২ কোটি টাকা অনুদান চাওয়া হলেও আবেদনের চেয়ে এক কোটি টাকা বেশি বরাদ্দের অনুমোদন দিয়েছেন সরকারপ্রধান। গত সোমবার (২ নভেম্বর) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এ-সংক্রান্ত সারসংক্ষেপে প্রধানমন্ত্রী তিন কোটি টাকা অনুদানের বিষয়ে অনুমোদন দেন। আগামী ২৫ ডিসেম্বর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘শুভ বড়দিন ২০২৬’ উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বিশেষ অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।আরও পড়ুন, দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতুসহ তিন মেগা প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীরমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ও সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বিশেষ আর্থিক সহায়তা চাওয়া হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো সারসংক্ষেপে চলতি বছর বড়দিন উদযাপনের জন্য দুই কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল। প্রস্তাবিত অর্থ খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়ার অনুমোদন চাওয়া হয়। তবে প্রস্তাব পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই কোটি টাকার পরিবর্তে তিন কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার নির্দেশ দেন। ফলে আবেদনের তুলনায় অতিরিক্ত এক কোটি টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এএসআই নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, প্রাথমিকভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ২ হাজার প্রার্থী

ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) অব পুলিশ নিয়োগ-২০২৬-এর লিখিত ও মনস্তত্ত্ব পরীক্ষা এবং বুদ্ধিমত্তা ও মৌখিক পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। প্রকাশিত ফলাফলে প্রাথমিকভাবে ২ হাজার প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের তালিকাও। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের রিক্রুটমেন্ট ও প্ল্যানিং-২ শাখা থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লিখিত ও মনস্তত্ত্ব পরীক্ষা এবং বুদ্ধিমত্তা ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে জেলাভিত্তিক শূন্যপদের বিপরীতে ২ হাজার প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।আরও পড়ুন, পুলিশের সাত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়নপ্রাথমিকভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের পরবর্তী ধাপে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। ঢাকার রাজারবাগে অবস্থিত কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে এ স্বাস্থ্য পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার তারিখ ও সময়সূচি পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে প্রার্থীদের নির্ধারিত মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জানানো হবে। চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীরা বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা থেকে নিজেদের ফলাফল দেখতে পারবেন।

দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতুসহ তিন মেগা প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এসব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। বৈঠকে জানানো হয়, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলমান রয়েছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর সেতু দুটির অবস্থান, নকশা ও সম্ভাব্য ব্যয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ওয়াই-আকৃতিতে নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রস্তাবিত এ সেতু বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে। পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।আরও পড়ুন, পুলিশের সাত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়নঅন্যদিকে, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হতে পারে। বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনাও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ব্যারেজের ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি কৃষি, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

পুলিশের সাত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন

বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ইউনিটে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) পুলিশ কমিশনারসহ আরও দুই ডিআইজিকে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এসআরবির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. আহসান হাবীব পলাশকে পুলিশ অধিদপ্তরে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদকে এসআরবির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি মো. সাইয়েদুর রহমানকে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি করা হয়েছে।আরও পড়ুন, ৭ নভেম্বর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচির নির্দেশ মাউশিরএ ছাড়া শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসিম উদ্দিনকে পুলিশ টেলিকম সংস্থা, রাজারবাগে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। অন্যদিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বর্তমান কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদারকে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি দিয়ে শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। জিএমপির নতুন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাইদ। একই প্রজ্ঞাপনে রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি মীর আশরাফ আলীকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌহিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের এ রদবদলের ফলে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক দায়িত্বে পরিবর্তন আসছে।

রাজনীতিরাজনীতি

জনগণের স্বার্থে সবাইকে রাজপথে নামার আহ্বান নাহিদের

জনগণের স্বার্থে সবাইকে রাজপথে নামার আহ্বান নাহিদের

শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, সরকারের সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবেই শ্রমিকদের আন্দোলনের এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কোনো ন্যায্য আন্দোলনকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে সরকার দায় এড়াতে পারে না। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পাবনা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এনসিপির পাবনা জেলা শাখা আয়োজিত সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিকল্পনা বিষয়ক মতবিনিময় সভার আগে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনে ফ্যাসিস্টদের অনুপ্রবেশ কিংবা নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে। এটি সরকারের গোয়েন্দা তৎপরতার ব্যর্থতা। তাঁর অভিযোগ, সরকার বিরোধী দল দমনে গোয়েন্দা সংস্থার শক্তি ব্যবহার করছে। অথচ দেশের শত্রু এবং জনগণকে হত্যার পর ভারতে পালিয়ে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো গোয়েন্দা তথ্য জাতির সামনে প্রকাশ করা হয়নি।আরও পড়ুন, জনগণের অধিকার ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: শফিকুর রহমানতিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ৫০০টি আন্দোলন মোকাবিলা করেছে। জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারলেই কেবল আন্দোলন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু বর্তমান সরকারের ওপর জনগণের আস্থা নেই বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, সরকার ৭০ শতাংশ জনগণের রায়ের সঙ্গে বেইমানি করেছে এবং নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও নির্বাচনি ইশতেহারের অঙ্গীকারও ভঙ্গ করেছে। এলপিজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, গত সোমবার আবারও সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। আগে খোলাবাজারে ১ হাজার ৮০০ টাকার সিলিন্ডার ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। নতুন মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ওপর আরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। রাজপথেই সরকারের কর্মকাণ্ডের জবাব দিতে হবে। সভায় এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

জনগণের অধিকার ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: শফিকুর রহমান

জনগণের অধিকার ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: শফিকুর রহমান

জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান যেভাবে লড়াই করেছেন, জামায়াতে ইসলামীও একইভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের কারামুক্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের প্রত্যেকটি অধিকার আদায়ের জন্য তাঁরা লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করছেন। যত দিন পর্যন্ত জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরে না আসবে, তত দিন এ লড়াই অব্যাহত থাকবে। মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের সাহসিকতার প্রশংসা করে জামায়াত আমির বলেন, তাঁর সহকর্মী প্রমাণ করেছেন, তাঁরা কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় পান না। তাঁদের ভয় শুধু মহান আল্লাহকে। এই সাহসিকতা সবার মধ্যে থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।আরও পড়ুন,রিমান্ডে চোখ বাঁধার অভিযোগ জামায়াত নেতারবিরোধী দলকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থতা, অযোগ্যতা ও অদক্ষতা আড়াল করতে বিরোধী দলকে অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। বিরোধী দলকে মোকাবিলায় যাদের ব্যবহার করার চেষ্টা হচ্ছে, একসময় তারাই পালিয়ে যাবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। উল্লেখ্য, বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। গত ১ নভেম্বর হাইকোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। পরে মঙ্গলবার সকালে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। তাঁর কারামুক্তিকে কেন্দ্র করেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রিমান্ডে চোখ বাঁধার অভিযোগ জামায়াত নেতার

রিমান্ডে চোখ বাঁধার অভিযোগ জামায়াত নেতার

কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে পুলিশের রিমান্ডে নেওয়া এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় চোখ বেঁধে জামায়াতের বিষয়ে প্রশ্ন করার অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা আখতারুজ্জামান। একই সঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার তিন নভেম্বর সকালে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর কারাফটকে সাংবাদিকদের কাছে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছেন। এক মাসের কষ্টের পরও সবার সামনে দাঁড়াতে পেরে তিনি সন্তুষ্ট। তবে তাকে কেন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল, রিমান্ডে নিয়ে কেন চোখ বেঁধে রাখা হয়েছিল এবং জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কেন প্রশ্ন করা হয়েছিল এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। আরও পড়ুন,প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শপথআখতারুজ্জামানের অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তথ্য নেওয়া গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ সময় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ভাবার আহ্বান জানান তিনি। মুক্তির পর নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা বলেন, তারা সত্য ও ন্যায়ের রাজনীতি করেন। সত্যের রাজনীতি কখনো পরাজিত হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, জনগণের পাশে থাকা এবং জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত রাখতে চান। এ জন্য সবার কাছে দোয়া চান তিনি। আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে আখতারুজ্জামান বলেন, তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। তবে পরবর্তী বক্তব্য ও কর্মসূচির বিষয়ে জামায়াতের আমিরের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবেন তিনি।এ সময় কারাফটকে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জামায়াতের এই নেতা।

প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শপথ

প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শপথ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামান শপথ গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে তারা শপথ নেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্যকে শপথবাক্য পাঠ করান। সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন। আরও পড়ুন,শেখ হাসিনাকে ঘিরে অস্থিরতার চেষ্টা চলতে পারেএ ছাড়া জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ, অন্যান্য হুইপ, সংসদ সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের তৃতীয় তফসিল এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৫ অনুযায়ী স্পিকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণ শেষে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী দুই সংসদ সদস্য সংসদ সচিবের কক্ষে রাখা শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। নতুন দুই সংসদ সদস্যের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রমে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পালনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।

সারাবাংলা

অভিযানে গিয়ে গুলিভর্তি পিস্তল হারালেন এএসআই, সন্ধানদাতাকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার

অভিযানে গিয়ে গুলিভর্তি পিস্তল হারালেন এএসআই, সন্ধানদাতাকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার

গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) বাসন থানার এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) গুলিভর্তি পিস্তল হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে দুই ব্যক্তিকে আটকের পর থানায় ফেরার সময় অস্ত্রটি হারানোর বিষয়টি বুঝতে পারেন তিনি। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। হারানো পিস্তলটির সন্ধান দিতে কিংবা উদ্ধারে সহায়তা করতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে ওসি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অস্ত্র হারানো পুলিশ সদস্যের নাম পারভেজ মল্লিক। এএসআই পারভেজ মল্লিক জানান, গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে উনিশে টাওয়ারের উত্তর দিকে অভিযান চালিয়ে মদসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেন তাঁরা। পরে আটক ব্যক্তিদের গাড়িতে তোলার সময় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। ওই সময় তাঁর সঙ্গে পিস্তলটি ছিল বলে দাবি করেন তিনি।আরও পড়ুন, বরগুনায় ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার, পলাতক জামাতাতিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের নিয়ে থানায় ফেরার পর খেয়াল করেন, তাঁর সঙ্গে থাকা পিস্তলটি আর নেই। তবে ঠিক কোথায় বা কীভাবে অস্ত্রটি হারিয়ে গেছে, তা নিশ্চিত হতে পারেননি। পারভেজ মল্লিক আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। অভিযানের সময় পুলিশের অন্য সদস্যরাও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তিনি হোন্ডা মোবাইল-২-এর দায়িত্বে ছিলেন এবং নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। হারানো পিস্তলটিতে এক রাউন্ড গুলি ছিল। এ বিষয়ে বাসন থানার ওসি হারুনুর রশিদ বলেন, মাদক মামলার আসামি ধরতে গিয়ে তাঁদের এক এএসআইয়ের পিস্তল হারিয়ে গেছে। এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে। কেউ হারানো অস্ত্রটির সন্ধান দিতে বা উদ্ধারে সহায়তা করতে পারলে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।

বরগুনায় ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার, পলাতক জামাতা

বরগুনায় ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার, পলাতক জামাতা

বরগুনার আমতলীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে ৪ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের জামাতা মো. সবুজ মৃধা (৩২) পালিয়ে যান। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য ১৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। সোমবার ০২ নভেম্বর দিবাগত রাত ১২টা ২৫ মিনিটে আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের পূর্ব চুনাখালী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মোছা. কহিনুর (৪০) ও তার স্বামী মো. সেলিম প্যাদা (৫৫)। পলাতক সবুজ মৃধা তাদের জামাতা। তিনি আমড়াগাছিয়া এলাকার শাহানুর মৃধার ছেলে। বরগুনা জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলা পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম-সেবা-এর নির্দেশনায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এসআই (নিরস্ত্র) বিকাশ কর্মকারের নেতৃত্বে একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে নারী পুলিশ সদস্য রুমা আক্তারের সহায়তায় কহিনুরকে এবং অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের সহায়তায় সেলিম প্যাদাকে আটক করা হয়। তবে এ সময় কৌশলে তাদের জামাতা সবুজ মৃধা পালিয়ে যান।আরও পড়ুন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার মো. আশিক সাঈদপরে স্থানীয় নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে কহিনুরের দেহ তল্লাশি করে তার পরিহিত কাপড়ের ভেতর থেকে ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির রান্নাঘরে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে খাকি কসটেপ ও পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় আরও ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে ৪ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, পলাতক সবুজ মৃধা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারি দামে ইয়াবা সংগ্রহ করে শ্বশুর-শাশুড়ির বাড়িতে মজুত রাখতেন। পরে অটোরিকশাযোগে বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার কহিনুর ও সেলিম প্যাদা এবং পলাতক সবুজ মৃধার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী আমতলী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার মো. আশিক সাঈদ

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার মো. আশিক সাঈদ

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদ। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। নতুন কর্মস্থলে যোগদানের আগে মো. আশিক সাঈদ রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার এবং পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ পুলিশের একজন অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি পেশাগত জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশি প্রশাসনে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।আরও পড়ুন, পুলিশি সেবায় হয়রানি নয়, অভিযোগ শুনেই ব্যবস্থা নিতে হবে: সিএমপি কমিশনারএদিকে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল গাজীপুর মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, যানজট নিরসন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নতুন কমিশনারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, তাঁর নেতৃত্বে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি জনবান্ধব পুলিশিং, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে নতুন এই নেতৃত্ব।

সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলায় ১২ জন গ্রেপ্তার

সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলায় ১২ জন গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে সন্ত্রাসবিরোধী মামলা,বৈষম্যবিরোধী মামলা, চুরি মামলা, মাদকসেবী এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে সোনারগাঁ থানা পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান পিপিএমের নির্দেশনায় এবং সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক পিপিএমের নেতৃত্বে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।গ্রেপ্তারদের মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় তিনজন, বৈষম্যবিরোধী মামলায় দুজন, মাদকসেবী পাঁচজন, চুরি মামলায় একজন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় একজন রয়েছেন বৈষম্যবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার দুজন হলেন—সোনারগাঁ সরকারি ডিগ্রি কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে উল্লেখিত কাফুরদী এলাকার ফাহিম প্রধান (২৫) এবং সোনারগাঁ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি হিসেবে উল্লেখিত হাতকোপা এলাকার আবুল কাশেম মোল্লা (৬৫)। আরও পড়ুন, দেলদুয়ারের বাবুপুরে গ্রামবাসীর চাঁদায় কেনা জমিতে মাঠ করে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীসন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার তিনজন হলেন জামপুর ইউনিয়নের কলতাপাড়া এলাকার হযরত আলী (৬৪), কাঁচপুর ইউনিয়নের সেনপাড়া এলাকার মো. শাহ আলম (৪৩) এবং শরীয়তপুরের সখিপুরের বাসিন্দা ও ঢাকার মুগদা এলাকায় বসবাসকারী মো. ইসমাইল হোসেন সিরাজী (৩৮)। তার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানা যুবলীগের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য উল্লেখ করেছে পুলিশ। এ ছাড়া মাদকসেবী হিসেবে গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন—মেঘনাঘাট এলাকার মো. করিম সাহ (৩০), মিহাদুল (২২), তাতুয়াকান্দি এলাকার মো. রানা, ফ্রেশ কোম্পানি এলাকার মো. ফয়সাল এবং নাইম (২২)।চুরি মামলায় পটুয়াখালীর দশমিনা এলাকার মফিজুল গাজী (২২) এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় চাঁদপুরের কচুয়া এলাকার সাদ্দাম হোসেন (৩৯) গ্রেপ্তার হয়েছেন।পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ১২ জনকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।সোনারগাঁ থানা পুলিশ জানিয়েছে, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলকে বছরে ৪০০ কোটি ডলারের সহায়তা বন্ধ করছেন ট্রাম্প

ইসরায়েলকে বছরে ৪০০ কোটি ডলারের সহায়তা বন্ধ করছেন ট্রাম্প

ইসরায়েলকে প্রতিবছর দেওয়া প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের মার্কিন আর্থিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এ সহায়তা বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কয়েক মাস আগেই সমঝোতা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। তাঁর দাবি, ইসরায়েল বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী। ফলে দেশটির আর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বার্ষিক আর্থিক সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। ট্রাম্পের এ ঘোষণার পেছনে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরায়েলকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক সমালোচনার অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সহায়তার কঠোর সমালোচনা করে আসছেন। তাঁর নির্বাচনি প্রচারেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।আরও পড়ুন, সৌদির আভা বিমানবন্দর ও খামিস মুশাইত ঘাঁটিতে হামলার দাবি হুতিদেরট্রাম্পের আশঙ্কা, ইসরায়েলকে প্রতিবছর বিপুল অর্থ সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে। তাই সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়ে এ ধরনের রাজনৈতিক সমালোচনার সুযোগ কমাতে চাইছেন তিনি। এ ছাড়া ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ম্যাগা আন্দোলনের সমর্থকদের একটি অংশও বিদেশি রাষ্ট্রকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করে আসছে। তাদের মতে, মার্কিন করদাতাদের অর্থ দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও নাগরিকদের প্রয়োজন পূরণে ব্যয় করা উচিত। ট্রাম্পও সহায়তা বন্ধের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যয় করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। তবে ঘোষণাটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল দীর্ঘদিনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

২৪ মিনিট আগে

রাজধানী

দোকানপাট খোলা রাখার সময় বাড়াতে মন্ত্রণালয়ে আবেদন

দোকানপাট খোলা রাখার সময় বাড়াতে মন্ত্রণালয়ে আবেদন

 দেশের সব মার্কেট, বিপণিবিতান ও দোকানপাট রাত ৮টার পরিবর্তে ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি চেয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। সংগঠনটির দাবি, রাত ৮টার মধ্যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা আর্থিক সংকটে পড়ছেন। সোমবার (২ নভেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক লিখিত আবেদনে এ দাবি জানানো হয়। সংগঠনের সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান টিপু আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেন। আবেদনে সংগঠনটি জানায়, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের উদ্যোগকে তারা সমর্থন করে। তবে বর্তমান ব্যবসায়িক পরিস্থিতিতে রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।আরও পড়ুন,আবেরা’ স্পা ঘিরে অভিযোগ, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্নতাদের ভাষ্য, বিভিন্ন মার্কেটে ক্রেতা সংকট ও বিক্রিতে মন্দা দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকান বন্ধ করতে গিয়ে অনেক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছেন। কেউ কেউ ব্যবসা গুটিয়ে নিতেও বাধ্য হচ্ছেন। সংগঠনটির মতে, বিশেষ করে শীতের মৌসুমে সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত অনেক ক্রেতা কেনাকাটা করতে মার্কেটে আসেন। রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ হয়ে গেলে ব্যবসায়ীরা বিক্রির গুরুত্বপূর্ণ সময় হারান। আবেদনে বিনিয়োগের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ বিবেচনায় রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দিয়ে প্রয়োজনীয় সরকারি নির্দেশনা জারির অনুরোধ জানানো হয়েছে। সমিতির নেতাদের দাবি, রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হলে ক্রেতারা কেনাকাটার জন্য বাড়তি সময় পাবেন এবং ব্যবসায়ীদের বিক্রি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

০২ নভেম্বর ২০২৬

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৬ জন

খেলাধুলা

এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্সে বাংলাদেশের স্কোয়াড ঘোষণা

এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্সে বাংলাদেশের স্কোয়াড ঘোষণা

এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্স টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ১৯ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘোষিত দলে জায়গা পেয়েছেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সাব্বির রহমান। এ ছাড়া জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতা থাকা বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারও রয়েছেন এই স্কোয়াডে। আগামী ১৯ নভেম্বর কাতারে শুরু হবে এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্সের এবারের আসর। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ‘এ’ দল খেলবে ‘এ’ গ্রুপে। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ‘এ’, আফগানিস্তান ‘এ’ ও হংকং। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে। আগামী ২৬ ও ২৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে শেষ চারের লড়াই। তরুণ ও উদীয়মান ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই প্রতিযোগিতাকে।আরও পড়ুন, ইডেন পার্কে ম্যাচের আগেই কিউই শিবিরে দুঃসংবাদবাংলাদেশ ‘এ’ দলের ঘোষিত ১৯ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াডে রয়েছেন নাঈম শেখ, মাহমুদুল হাসান জয়, ইফতেখার হোসেন ইফতি, শাহাদাত হোসেন দিপু, ইয়াসির আলী চৌধুরী, সাব্বির রহমান, মোহাম্মদ পারভেজ হোসেন ইমন, ইরফান শুক্কুর, সামিউন বসির রাতুল, রকিবুল হাসান, রুবেল, রিপন মন্ডল, ইকবাল হোসেন ইমন, চৌধুরী মো. রিজওয়ান, মো. সাইফউদ্দিন, মো. জাকির হাসান, আফিফ হোসেন ধ্রুব, এস এম মেহেরব ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। এই দল নিয়ে এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্সে ভালো করার প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে অভিজ্ঞ ও তরুণ ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে গঠিত স্কোয়াডটি টুর্নামেন্টে কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

আইন আদালত

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনি নোটিশ, ১৫ দিনের মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনি নোটিশ, ১৫ দিনের মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি

পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর দাবি করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহদপ্তর সম্পাদক ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহমুদুর রহমান মিশন ভূঁইয়ার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইয়াছিন আরাফাত (সম্রাট) এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি ঢাকার একটি জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বক্তব্যের একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘এই যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আছে... জায়গায় এ্যানি চৌধুরীর ফোন কল যায় না, যে আমারে টাকা পাঠায়।’আরও পড়ুন, আজ ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে পঙ্গু করার অভিযোগে মামলার বিচার শুরুআইনি নোটিশে বলা হয়েছে, বক্তব্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, মনগড়া ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গত ৩০ অক্টোবর বিভিন্ন গণমাধ্যম, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্যটি প্রচারিত হয়। এতে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত মর্যাদা ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ। তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্য ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় বর্ণিত মানহানির অপরাধের পর্যায়ে পড়ে বলে নোটিশদাতার দাবি। নোটিশ পাওয়ার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার করে পানিসম্পদমন্ত্রীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী উপযুক্ত আদালতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কোনো প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!