দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

অপরাধীদের দৌরাত্ম্য, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

অপরাধীদের দৌরাত্ম্য, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

দেশে একের পর এক পুলিশের ওপর হামলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল দুর্বল করার অপচেষ্টা, মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এবং মাদক কারবারের বিস্তার—সব মিলিয়ে জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকা, মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের গতি এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত আইনি সেবা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানীসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ আবাসিক হোটেল, অনুমোদনহীন স্পা সেন্টার, মাদক সংশ্লিষ্ট আস্তানা ও নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সামনে আসছে। এসব অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত ও প্রতিরোধ করা না গেলে অপরাধীদের তৎপরতা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। পুলিশ একটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধী শনাক্ত, জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা, দায়িত্ব পালনে বাধা, বিভিন্ন স্থানে সংঘবদ্ধ বিশৃঙ্খলা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, মাঠপর্যায়ে পুলিশ কতটা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে? অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, জনবল, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে? রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের আন্দোলন ও বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা এবং সংঘর্ষের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। কোনো দাবি বা অধিকার আদায়ের আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও সেই আন্দোলনের আড়ালে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি সম্পদ ভাঙচুর কিংবা সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। পুলিশের দায়িত্ব পালনের সময় তাদের ওপর হামলা হলে শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিরাপত্তাই বিঘ্নিত হয় না, বরং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে সংঘবদ্ধ হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলে সেসব অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। আইনের প্রয়োগ হতে হবে সবার জন্য সমান। পুলিশের ওপর হামলার বিচার যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগেরও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। কারণ জবাবদিহি ও পেশাদারত্বের সমন্বয় ছাড়া একটি বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করা সম্ভব নয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় মব সহিংসতা ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। বিভিন্ন এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা, মারধর, ভাঙচুর, চাঁদাবাজি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সংঘবদ্ধ হওয়ার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা আইনের শাসনের জন্য বড় হুমকি। অপরাধের অভিযোগ থাকলে তদন্ত ও বিচারের দায়িত্ব আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং আদালতের। জনতার হাতে বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের দ্রুত সাড়া, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক পৃষ্ঠপোষক, মাদক সরবরাহকারী এবং অপরাধে অর্থায়নকারীদের শনাক্ত করতে হবে। শুধু কয়েকজন কিশোরকে আটক করে অভিযান শেষ করলে সমস্যার মূল উৎপাটন হবে না। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানীকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, স্পা সেন্টার এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে মাঝেমধ্যে নানা অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অনুমোদন, বৈধ ব্যবসায়িক কাগজপত্র কিংবা নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই পরিচালিত হচ্ছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক সংশ্লিষ্টতা, অসামাজিক কার্যকলাপ এবং অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। প্রশ্ন হচ্ছে, একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে, তাদের ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে কি না, ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার কী, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর কি না এবং আবাসিক অতিথিদের তথ্য সংরক্ষণের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে তো? বিশেষ করে গুলশান ও বনানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস এবং স্পা সেন্টারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পুলিশ, সিটি করপোরেশন, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স প্রদানকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না থাকলে অনিয়ম শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়লে সেগুলো ফাইলবন্দি না রেখে তদন্তের অগ্রগতি নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সুনাম ও অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে হবে।আরও পড়ুন, পুলিশের মাসোহারা বৈধ, সাংবাদিকের উপহার অপরাধ?মাদক অপরাধের বিস্তার শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, পরিবার ও সমাজের নিরাপত্তাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে অনেক সময় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যায়। ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণকে বিচ্ছিন্ন কোনো অভিযান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মাদক কারবারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সরবরাহের উৎস, পরিবহন নেটওয়ার্ক, অর্থের লেনদেন এবং পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করা প্রয়োজন। শুধু খুচরা পর্যায়ের কয়েকজন মাদক বিক্রেতাকে আটক করে অভিযান শেষ করলে বড় চক্রগুলো আড়ালে থেকে যেতে পারে। বিশেষ করে আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, বিনোদনকেন্দ্র এবং সন্দেহজনক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা এলাকার বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ না তুলে প্রমাণভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের চিহ্নিত করাই হবে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ। জনসাধারণের মধ্যে আরেকটি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে থানায় গিয়ে প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপরাধের তথ্য নিয়ে থানায় যোগাযোগ করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সরাসরি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। অবশ্য সব ক্ষেত্রে এমন আচরণ ঘটে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তবে এ ধরনের অভিজ্ঞতা যদি কোনো নাগরিকের হয়ে থাকে, তাহলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। একজন নাগরিক যখন কোনো অপরাধের তথ্য নিয়ে থানায় যান, তখন তিনি দ্রুত সাড়া, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং আইনগত সহায়তা প্রত্যাশা করেন। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পর যদি তাঁকে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে যোগাযোগ করতে হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের প্রতি তাঁর আস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব শুধু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকা নয়, আইন ও বিধি অনুযায়ী নিজের এখতিয়ারের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাও তাঁর দায়িত্ব। কোনো অভিযোগ ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পাঠানোর প্রয়োজন হলে সেটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় পাঠাতে হবে। কিন্তু সেই অজুহাতে জরুরি অপরাধের তথ্য গ্রহণ বা প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব করা উচিত নয়। বিশেষ করে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, নারী ও শিশু নির্যাতন, সংঘবদ্ধ অপরাধ কিংবা কোনো ব্যক্তির তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাঝুঁকির তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। পুলিশের ওপর ধারাবাহিক হামলা এবং দায়িত্ব পালনে বাধার ঘটনা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ধরে রাখার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়; পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব আচরণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করাও গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ, জনবল এবং কার্যকর অপারেশনাল নির্দেশনা দিতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধ দমনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অযৌক্তিক চাপ বা বাধা থাকলে তা দূর করতে হবে। পুলিশকে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে একজন কর্মকর্তা অপরাধের তথ্য পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবেন। আবার কোনো পুলিশ সদস্য দায়িত্বে অবহেলা করলে কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করলে তাঁকেও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মাঠপর্যায়ের ইউনিটগুলোকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং, মাদক কারবার, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান জোরদার করতে হবে। রাজধানীর গুলশান, বনানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম যাচাইয়ে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর লাইসেন্স, নিবন্ধন, ভবনের ব্যবহার, অগ্নিনিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা করতে হবে। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি থানায় নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা থাকা দরকার। অভিযোগ গ্রহণের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হলো, তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না—এসব বিষয়ে অভিযোগকারীকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, সাধারণ মানুষ যদি অপরাধের তথ্য দিয়েও দ্রুত প্রতিকার না পান, তাহলে তাঁরা নিরাপত্তার জন্য কোথায় যাবেন? অপরাধীরা যদি পুলিশের ওপর হামলা করে পার পেয়ে যায়, সংঘবদ্ধভাবে জনজীবন অস্থির করে তোলে এবং বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত না হয়, তাহলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলার নামে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ কিংবা নির্বিচারে গ্রেপ্তার কোনো সমাধান হতে পারে না। অপরাধ দমন করতে হবে আইন মেনে, নিরপেক্ষভাবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে। একই সঙ্গে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের হলেও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সামগ্রিক দায়িত্ব। এ জন্য পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন, বিচার বিভাগ, সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন। অপরাধ দমনে পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ, নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অপরাধের অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে। জনগণ পুলিশের প্রতিপক্ষ নয়; বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণই পুলিশের সবচেয়ে বড় সহযোগী হতে পারে। তাই পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক ফিরিয়ে আনা জরুরি। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি থেকেই যায়—পুলিশের ওপর হামলা, মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা প্রস্তুত? থানায় গিয়ে সাধারণ মানুষ কি সহজে আইনি সেবা পাবেন? গুলশান-বনানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অপরাধের অভিযোগগুলো কি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর শুধু বক্তব্য কিংবা আশ্বাসে নয়, প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপে। কারণ জননিরাপত্তা কোনো বিশেষ শ্রেণির মানুষের অধিকার নয়; এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও আইনগত সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী, পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক করার মধ্য দিয়েই জনগণের নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা সম্ভব।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

বিএনপির প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি। বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন লিউ হাইশিং। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান। সাক্ষাতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেন লিউ হাইশিং। জবাবে প্রধানমন্ত্রীও শি জিনপিং ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংকে শুভেচ্ছা জানান।লিউ হাইশিং বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরের সময় দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে নতুন যুগের যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর আলোকে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত হবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সম্ভাবনার প্রতিও আস্থা প্রকাশ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল। ঐতিহাসিক এই বন্ধুত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা এগিয়ে নেওয়া বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব। আরও পড়ুন,মজুরি বোর্ডের আলোচনায় নির্ধারিত হবে শ্রমিকদের বেতনএ সময় কৃষি উন্নয়নে খাল খনন কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে কৃষক ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বৈঠকে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান লিউ হাইশিং। এ ছাড়া বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর এবং আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বা আরসিইপিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা হয়। আরসিইপিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে চীনের সমর্থনের কথা জানান লিউ হাইশিং। সাক্ষাতে ১৩ লাখ রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ, জনমিতি ও পরিবেশের ওপর সৃষ্ট চাপের বিষয়টি তুলে ধরে সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী। জবাবে লিউ হাইশিং জানান, তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অবহিত করবেন। বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মজুরি বোর্ডের আলোচনায় নির্ধারিত হবে শ্রমিকদের বেতন

পোশাকশ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে চলমান আন্দোলনের বিষয়ে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। একই সঙ্গে শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কেউ নাশকতা কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তালতলা মার্কের পেছনে তালতলা ঝিলের কচুরিপানা পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, শ্রমিকদের বেতন-ভাতার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। শ্রমিক প্রতিনিধি, মালিকপক্ষ, বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) এবং তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মজুরি বোর্ডের আলোচনার ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।আরও পড়ুন,বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা নিয়ে ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাশ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি মহল আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে বলে তথ্য রয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নাম ব্যবহার করে কেউ নাশকতা, বিশৃঙ্খলা কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এদিকে ‘গ্রিন ঢাকা, ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচি সফল করতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নাগরিকবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, সাংবাদিক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। নগরীর বিভিন্ন অসংগতি ও নাগরিক সমস্যার বিষয়ে সাংবাদিকদের তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসব সমস্যা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা নিয়ে ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় এসেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। সফরকালে তিনি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, রাজনৈতিক সংলাপ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান চীনা প্রতিনিধিদলের প্রধান। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহসহ দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, বুধবার সকালে শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে লিউ হাইশিংয়ের দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি।আরও পড়ুন,১৫ দিনের মধ্যে ইউটিলিটি লাইন যাচাইয়ের সিদ্ধান্তপরে বেলা ১১টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।সফরকালে ‘চায়না-বাংলাদেশ পলিটিক্যাল প্লাস’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেবেন চীনা প্রতিনিধিদলের প্রধান। এ ছাড়া বাংলাদেশ-চীন সেন্টার ফর পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজের উদ্বোধনী আয়োজনেও তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বুধবার বিকেলে জাতীয় জাদুঘর ও ঢাকায় চীনা দূতাবাসের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে। সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি। সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে জীবিকাসহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন লিউ হাইশিং। পরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন। সফর শেষে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে তাঁর ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে এ সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা এবং দুই দেশের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

১৫ দিনের মধ্যে ইউটিলিটি লাইন যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করার নির্দেশনা দিয়েছেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ। প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের নির্মাণকাজের প্রতিবন্ধকতা নিরসনে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নগরবাসীর প্রত্যাশার অন্যতম মেগা প্রকল্প। জনভোগান্তি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে। এ জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে থাকা সব জটিলতা জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করা প্রয়োজন। সভায় প্রকল্পের রুট অ্যালাইনমেন্টে বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থার ইউটিলিটি লাইন অপসারণ ও স্থানান্তর, জমি-সংক্রান্ত জটিলতা এবং নির্মাণকাজের অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।আরও পড়ুন, সকালে মিরপুরে সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত নারীসহ ৪  সভায় কমলাপুর আইসিডি-সংলগ্ন বাংলাদেশ রেলওয়ের জমিতে অননুমোদিত ট্রাক স্ট্যান্ডের কারণে কমলাপুর আপ-র‌্যাম্প নির্মাণকাজ ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ অবস্থায় ট্রাক স্ট্যান্ডটি দ্রুত অপসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়। এ ছাড়া আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টিটিপাড়া থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত সব সেবাদানকারী সংস্থার ইউটিলিটি লাইন সরেজমিনে যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রাক্কলন প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সেবাদানকারী সংস্থার প্রতিনিধি, ইউটিলিটি অপসারণ ও প্রতিস্থাপনের কাজে নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইসিবির প্রতিনিধি, প্রকল্প মনিটরিং টিমের আহ্বায়ক, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) এবং প্রকল্প দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নির্মাণকাজের বাধা দূর করে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

রাজনীতিরাজনীতি

দমন-পীড়ন চললে আন্দোলন বিস্তৃত হওয়ার হুঁশিয়ারি

দমন-পীড়ন চললে আন্দোলন বিস্তৃত হওয়ার হুঁশিয়ারি

শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির চলমান আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে জাতীয় শ্রমিক শক্তি। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, সরকারের অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত এবং মজুরি নির্ধারণে কার্যকর উদ্যোগের অভাবেই শ্রমিকদের আন্দোলন বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আগামী তিন দিনের মধ্যে নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনটির নেতারা। এতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি অভিযোগ করেন, মজুরি বোর্ড গঠন ও এর সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকার ও মালিকপক্ষের ভূমিকা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। শ্রমিকেরা বোর্ডের গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে সন্তুষ্ট নন। শিল্প খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। সংগঠনটির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির বলেন, নতুন মজুরি নির্ধারণের দাবিতে তাঁরা আগে থেকেই মজুরি বোর্ড গঠনের আহ্বান জানিয়ে আসছেন।আরও পড়ুন,আমির হামজার আয় ও সম্পদের তথ্য যাচাইয়ের দাবি এ বিষয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। পাশাপাশি আগামী তিন দিনের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণের দাবি জানান। জাতীয় শ্রমিক শক্তির সদস্যসচিব রিয়াজ মোর্শেদ শ্রমিকদের আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বলপ্রয়োগ না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শ্রমিকদের ওপর হামলা বা দমন-পীড়নের পরিবর্তে তাঁদের দাবি শোনার উদ্যোগ নিতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতা-কর্মী ও পুলিশের যৌথ মদদে শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে তাঁরা সতর্ক করেন, দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে।নেতারা বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বাস্তবতা বিবেচনায় শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা জরুরি। সহিংসতা এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সংকট সমাধানে সরকার ও মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

আমির হামজার আয় ও সম্পদের তথ্য যাচাইয়ের দাবি

আমির হামজার আয় ও সম্পদের তথ্য যাচাইয়ের দাবি

কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামা, আয়কর রিটার্ন ও আর্থিক তথ্যে একাধিক অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা মোঃ সিরাজুল ইসলাম। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া আবেদনে সংসদ সদস্যের নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা, কৃষিজমি, আবাসিক প্লট, স্ত্রীর সম্পদ, বাড়িভাড়া, গাড়ি, পারিবারিক ব্যয় ও নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, ২০২৫ সালের ৩০ জুনের আয়কর রিটার্নে আমির হামজার ব্যাংক ব্যালেন্স শূন্য দেখানো হলেও ইসলামী ব্যাংকের কুষ্টিয়া শাখায় একটি হিসাবে ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৭ টাকা জমা ছিল। এ ছাড়া নির্বাচনী হলফনামায় নগদ অর্থ ২ লাখ ৪৫ হাজার ১৭০ টাকা দেখানো হলেও আয়কর রিটার্নে দেখানো হয়েছে ৩৮ লাখ ৪৫ হাজার ১৭০ টাকা। দুই নথিতে পার্থক্য ৩৬ লাখ টাকা। আরও পড়ুন,মালিক-শ্রমিক সরকারের সংলাপ চায় ছাত্রশিবিরআবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কৃষিজমি, স্ত্রীর নামে থাকা জমি, আবাসিক প্লট, গাড়ি ও স্বর্ণের তথ্যেও হলফনামা এবং আয়কর রিটার্নের মধ্যে অমিল রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সম্মানী ও হাসপাতাল থেকে নিয়মিত অর্থ পাওয়ার দাবি করা হলেও এসব আয়ের তথ্য নথিতে উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ আবেদনকারীর। নির্বাচনী ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সিরাজুল ইসলাম। তার দাবি, নির্বাচনের বিভিন্ন খাতে ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য দেওয়ার পর ১০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন পরিচালনার ব্যাংক হিসাব থেকে আরও ৩৮ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। সব মিলিয়ে নির্বাচনী ব্যয় ৭২ লাখ টাকা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এ ব্যয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারী। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, যানবাহন নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ এবং ভূমি ও নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের নথিপত্র পরীক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। সিরাজুল ইসলামের দাবি, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আর্থিক তথ্যের অসংগতি নজরে আসায় তিনি অভিযোগ করেছেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য আমির হামজার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

 মালিক-শ্রমিক সরকারের সংলাপ চায় ছাত্রশিবির

মালিক-শ্রমিক সরকারের সংলাপ চায় ছাত্রশিবির

দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ, কারখানা বন্ধ এবং শ্রমিকদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করাসহ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এসব দাবি জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা, সাভার, মিরপুর, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। আন্দোলনের কারণে ঢাকা, গাজীপুর ও আশুলিয়ার অন্তত ৬৭৯টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে বলে দাবি করেন সংগঠনটির নেতারা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।আরও পড়ুন,বিমানের ছবি দিয়ে রহস্যময় পোস্ট আসিফ মাহমুদেরনেতারা বলেন, তৈরি পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। লাখো শ্রমিকের শ্রমে এ খাত রপ্তানি আয়ের বড় অংশ জোগান দিলেও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি বাড়ানো হয়নি। ২০২৩ সালে নির্ধারিত ১২ হাজার ৫০০ টাকা ন্যূনতম মজুরিতে শ্রমিকদের বর্তমান ব্যয় নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে। বিবৃতিতে শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, অসন্তোষকে রাজনৈতিকভাবে চিহ্নিত করে দমন-পীড়নের পরিবর্তে মালিক, শ্রমিক ও সরকারের মধ্যে কার্যকর সংলাপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা নাশকতার আশঙ্কা থাকলে তা সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলার আহ্বান জানানো হয়। ছাত্রশিবিরের নেতারা অবিলম্বে মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা আহ্বান, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ, গ্রেপ্তার শ্রমিকদের মুক্তি এবং সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। তাঁদের মতে, শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করেই পোশাকশিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

বিমানের ছবি দিয়ে রহস্যময় পোস্ট আসিফ মাহমুদের

বিমানের ছবি দিয়ে রহস্যময় পোস্ট আসিফ মাহমুদের

‘আপা আসবে তাই চলে যাচ্ছি। বিদায় বাংলাদেশ!’ নিজের ফেসবুক পোস্টে এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আসিফ মাহমুদ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা লেখেন তিনি।পোস্টের সঙ্গে বিমানের ভেতরে অবস্থান করা একটি ছবিও যুক্ত করেন আসিফ মাহমুদ। ছবিতে তার সঙ্গে দেখা যায় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনকে। তবে তারা কোথায় যাচ্ছেন, আরও পড়ুন,জনগণের স্বার্থে সবাইকে রাজপথে নামার আহ্বান নাহিদেরসে বিষয়ে পোস্টে কোনো তথ্য উল্লেখ করেননি আসিফ মাহমুদ। ফলে তাদের গন্তব্য নিয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। এদিকে, পোস্টটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে ৬৪ হাজার রিয়্যাকশন পড়েছে। আসিফ মাহমুদের এই পোস্টে ‘আপা আসবে’ মন্তব্যের মাধ্যমে কাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

সারাবাংলা

চন্দ্রগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

চন্দ্রগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং জাতীয় পর্যায়ে নতুন খেলোয়াড় গড়ে তোলার লক্ষ্যে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’ (সিজন-২)। আগামী ৫ নভেম্বর সারাদেশে একযোগে এ প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। এ আয়োজনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতা ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সুষ্ঠু, সুন্দর ও সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের হলরুমে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা কমিটির এ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক নিলুফা ইয়াসমিন নিপা। সভায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, ক্রীড়া শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতা আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ এবং প্রতিযোগিতাটি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় জানানো হয়, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্য থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করা এবং তাদের ক্রীড়াক্ষেত্রে এগিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশের ৬৪টি জেলায় ১০টি ইভেন্টে অনুষ্ঠিত হবে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭ (সিজন-২)-এর উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা। আরও পড়ুন,মাদারীপুরের কালকিনিতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও বয়ঃসন্ধিকাল বিষয়ে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিতএ আয়োজনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের চিহ্নিত করে তাদের ক্রীড়াচর্চার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, আগামী ৫ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশে একযোগে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের এ প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে উপভোগ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন নিপা জানান, কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি প্রজেক্টরের মাধ্যমে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়টির মাঠে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭ (সিজন-২)-এর চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতারও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। তিনি আরও জানান, উপজেলা পর্যায়ে এ আয়োজন সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, ক্রীড়া সংগঠক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সমন্বিত সহযোগিতায় প্রতিযোগিতাটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার প্রত্যাশা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মতো আয়োজন শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে মুঠোফোন ও প্রযুক্তিনির্ভরতা থেকে শিশু-কিশোরদের মাঠমুখী করতে এবং খেলাধুলার মাধ্যমে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি ও দলগত চেতনা বিকাশে এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করে জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে তাদের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম প্রত্যাশা। চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায়ও নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে—এমন প্রত্যাশা করছেন আয়োজক ও ক্রীড়াপ্রেমীরা।

মাদারীপুরের কালকিনিতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও বয়ঃসন্ধিকাল বিষয়ে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

মাদারীপুরের কালকিনিতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও বয়ঃসন্ধিকাল বিষয়ে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

মাদারীপুরের কালকিনিতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও বয়ঃসন্ধিকালীন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন সম্পর্কে ছাত্রীদের সচেতন করতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) কালকিনি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের একটি শ্রেণিকক্ষে প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের কালকিনি উন্নয়ন এলাকার আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক, এর সামাজিক ও শারীরিক প্রভাব এবং বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে ছাত্রীদের অবহিত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিশোর কুমার দাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন কালকিনি থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হোসেন, আরও পড়ুন,গাজীপুরে বাসন থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান, বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্তসহ গ্রেফতার ৯উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হাবিবুল আলম, প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের ঢাকা কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) জুলফিকার পুষ্প, সিনিয়র সহকারী পরিচালক অ্যাডভোকেট শারমিন জাহান, নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন কর্মসূচির বিভাগীয় প্রধান আব্দুস সালাম এবং কর্মসূচি সমন্বয়কারী মাজেদা বেগম। প্রশিকা মস্তফাপুর জোনের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক লক্ষণ চন্দ্র দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কালকিনি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুরেশ চন্দ্র গাইন। এ সময় কালকিনির প্রিন্ট ও ডিজিটাল মিডিয়ার সাংবাদিক, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় আয়োজিত এ সচেতনতামূলক সভায় বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গঠন এবং কিশোরীদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

গাজীপুরে বাসন থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান, বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্তসহ গ্রেফতার ৯

গাজীপুরে বাসন থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান, বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্তসহ গ্রেফতার ৯

পুলিশ আক্রান্ত মামলার এজাহারনামীয় আসামি, সিআর সাজা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও জিএমপি প্রসিকিউশন মামলার আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন মামলার এজাহারনামীয় আসামি, সাজাপ্রাপ্ত মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং জিএমপি প্রসিকিউশন মামলার আসামিসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে বাসন থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মামলার আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) বাসন থানা পুলিশের পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে পুলিশ আক্রান্ত মামলার এজাহারনামীয় আসামি ২ জন, সিআর সাজা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ১ জন এবং জিএমপি প্রসিকিউশন মামলার আসামি ৬ জন রয়েছেন।গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়পুলিশ আক্রান্ত মামলার এজাহারনামীয় আসামি:১। মোঃ শিমুল ইসলাম (২৫), পিতা- মোঃ বাদশা মিয়া, মাতা- মোছাঃ শেফালী বেগম, স্থায়ী ঠিকানা- মহেশপুর কালীবাড়ী, থানা ও জেলা- জামালপুর। বর্তমান ঠিকানা- ভোগড়া বাইপাস, মোঃ জাহিদুল ইসলামের বাসার ভাড়াটিয়া, থানা- বাসন, গাজীপুর মহানগর।২। মোঃ আব্দুল্লাহ ইসলাম (১৯), পিতা- মোঃ ওবাইদুল সাকিদার, মাতা- মোছাঃ রতনা বেগম, সাং- বড় কুতুবপুর, থানা- সারিয়াকান্দি, জেলা- বগুড়া। বর্তমান ঠিকানা- ভোগড়া, বাইপাস, স্কয়ার ফ্যাক্টরির সামনে, থানা- বাসন, গাজীপুর মহানগর।সিআর সাজা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি:৩। মোঃ কামরুজ্জামান সরকার। পিতা- মোঃ নুর মোহাম্মদ। স্থায়ী ঠিকানা- গাজীপুর সদর, গাজীপুর। সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় তিনি ইয়াসিন নিটের প্রোপ্রাইটর হিসেবে পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা- সৈয়দ আলী মটফর রোড, বাড়ি নং- ০৯, ব্লক-বি, ওয়ার্ড নং- ১৭, পলারমাঠ, বটতলা ফ্যাক্টরি, জয়দেবপুর রোড, গাজীপুর।জিএমপি প্রসিকিউশন মামলার আসামি:৪। মোঃ রনি (২৭), পিতা- মৃত শাহজালাল, মাতা- মৃত তাসলিমা, সাং- জাফর বাজার, থানা- তিতাস, জেলা- কুমিল্লা। বর্তমান ঠিকানা- সালনা, মাহাবুবের বাসার ভাড়াটিয়া, থানা- সদর, গাজীপুর মহানগর।৫। মোঃ আছিমুদ্দিন আরিফ (৩৭), পিতা- মোঃ মোগরউদ্দিন, মাতা- মোছাঃ ময়মনা খাতুন, সাং- নড়াইল কান্দাপাড়া, থানা- হালুয়াঘাট, জেলা- ময়মনসিংহ। বর্তমান ঠিকানা- মোগরখাল, ১৫ নম্বর ওয়ার্ড, ৭১ গলি, থানা- বাসন, গাজীপুর মহানগর।আরও পড়ুন,ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি, সাতক্ষীরার কনটেন্ট ক্রিয়েটর মামুন গ্রেপ্তার৬। মোঃ আব্দুল রাজ্জাক (২৭), পিতা- মোঃ সাইদুর রহমান, মাতা- মোছাঃ বুলবুলি বেগম, সাং- দোগাছী, জেলা- জয়পুরহাট। বর্তমান ঠিকানা- চান্দনা, চান্না, রাজ্জাক মাস্টারের বাড়ি, সাধু বাজার, থানা- বাসন, গাজীপুর মহানগর।৭। মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (৩৪), পিতা- মৃত গোলাম হোসেন, মাতা- আঞ্জুয়ারা বেগম, সাং- দারুন লালমা, থানা- গৌরীপুর, জেলা- ময়মনসিংহ। বর্তমান ঠিকানা- ভোগড়া বাইপাস, স্কয়ার ফ্যাক্টরির সামনে, থানা- বাসন, গাজীপুর মহানগর।৮। শ্রী সুশান্ত চন্দ্র পাল (৩৮), পিতা- শ্রী খোকা চন্দ্র পাল, মাতা- মালুতী রানী, সাং- চন্দিপুর, ০৪ নম্বর কুমিতপুর ইউনিয়ন পরিষদ, থানা- পীরগঞ্জ, জেলা- রংপুর। বর্তমান ঠিকানা- মোগরখাল, ১৫ নম্বর ওয়ার্ড, ৭১ গলি, থানা- বাসন, গাজীপুর মহানগর।৯। মোঃ আলী আকবর খান (৪০), পিতা- মৃত আঃ আজিজ খান, মাতা- মোছাঃ আয়শা খাতুন, সাং- গোপশিলেন্দা, থানা- আমিনপুর, জেলা- পাবনা। বর্তমান ঠিকানা- সাধু বাজার, মধ্যপাড়া, থানা- সদর, গাজীপুর মহানগর।বিশেষ অভিযানে পুলিশের তৎপরতা গাজীপুর মহানগরীর শিল্পাঞ্চল ও আবাসিক এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে পুলিশ আক্রান্ত মামলার এজাহারনামীয় আসামি এবং সাজা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারের মাধ্যমে আইনগত কার্যক্রম আরও গতিশীল হচ্ছে। বাসন থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে একসঙ্গে ৯ জনকে গ্রেফতারের ঘটনায় স্থানীয় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের তৎপরতার বিষয়টি সামনে এসেছে। গ্রেফতারকৃত ৯ জনকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

শ্যামনগরে দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে প্রতিবন্ধী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ

শ্যামনগরে দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে প্রতিবন্ধী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ

উপকূলীয় জনপদ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে দুর্যোগ প্রতিরোধী সম্প্রদায় গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘দুর্যোগ প্রতিরোধী সম্প্রদায় স্থাপন (ইডিআরসিএস) প্রকল্প-২’-এর প্রজেক্ট ইনসেপশন মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টায় শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগের ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, প্রস্তুতি জোরদার এবং সম্মিলিতভাবে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওলিউর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিয়ারাজ হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদবীন সফিক, ওসিসি কর্মকর্তা প্রনব বিশ্বাস, শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিপ্লব হোসেন, আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সালেহ বাবু এবং বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। আরও পড়ুন,ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি, সাতক্ষীরার কনটেন্ট ক্রিয়েটর মামুন গ্রেপ্তারসভায় জানানো হয়, নবলোক পরিষদ ও অ্যাক্সেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়নে এবং সিবিএম গ্লোবালের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকল্পটি পরিচালিত হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান কনক বলেন, শ্যামনগর একটি দুর্যোগপ্রবণ উপজেলা। এখানকার দুর্যোগ মোকাবিলার উদ্যোগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত সময়োপযোগী। শুধু দুর্যোগের সময় ত্রাণ ও সহায়তা প্রদান নয়, বরং দুর্যোগের আগেই প্রস্তুতি, সচেতনতা এবং স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি। এ প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর সক্ষমতা তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সভায় বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু অবকাঠামোগত প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। দুর্যোগের সময় নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।আরও পড়ুন,পাটগ্রামের ব্যাঙেরবাড়ি সীমান্তে লাইট বন্ধ করে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের তাই তাঁদের প্রয়োজন ও সক্ষমতাকে বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁরা আরও আশা প্রকাশ করেন, ইডিআরসিএস প্রকল্প-২ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে শ্যামনগরের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে দুর্যোগ সচেতনতা বাড়বে, স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার হবে এবং সামগ্রিকভাবে দুর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের কাছ থেকে নিজেদের দখলে নিয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। এর মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। আগামী দুই বছর আইন প্রণয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হতে পারে ট্রাম্প প্রশাসনকে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাউথ ক্যারোলাইনা ও নর্থ ক্যারোলাইনাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। এর ফলে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা একাধিক সিনেট আসন হাতছাড়া হয়েছে। সাউথ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান সিনেটর ডারলাইন গ্রাহামকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। প্রায় তিন দশক পর এই অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেট নির্বাচনে জয় পেলেন কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। ১৯৯৮ সালের পর সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে আর কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি। এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ে রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর তাঁর বোন ডারলাইন গ্রাহামকে সিনেটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। আরও পড়ুন,ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভপূর্ণ মেয়াদের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও শেষ পর্যন্ত অ্যানি অ্যান্ড্রুজের কাছে পরাজিত হন তিনি। অন্যদিকে নর্থ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও অঙ্গরাজ্যটির সাবেক দুই মেয়াদের গভর্নর রয় কুপার। এই আসনের আগের সিনেটর থম টিলিস পুনর্নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ায় এখন ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি ও তদন্ত চালানোর সুযোগ বাড়বে ডেমোক্র্যাটদের। পাশাপাশি নতুন আইন পাস এবং বিচারক ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রশাসনকে বিরোধী দলের সমর্থন বা সমঝোতার প্রয়োজন হতে পারে। এদিকে অভিশংসন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে একটি সাংবিধানিক বিষয় রয়েছে। প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের অভিযোগ আনতে পারে প্রতিনিধি পরিষদ; আর সিনেটের দায়িত্ব হলো সেই অভিযোগের বিচার করা। সব মিলিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন এনেছে। ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের সম্পর্ক কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাখছেন পর্যবেক্ষকরা।

২৫ মিনিট আগে

রাজধানী

রাজধানীতে বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

রাজধানীতে বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

রাজধানীর মিরপুরে যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী রয়েছেন।বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানার বেড়িবাঁধের নবাবেরবাগ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এক খুদে বার্তায় দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আরও পড়ুন,দোকানপাট খোলা রাখার সময় বাড়াতে মন্ত্রণালয়ে আবেদনতিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। এ ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে দুর্ঘটনায় আর কেউ আহত হননি বলে জানান তিনি। বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। এদিকে, নিহতদের পরিচয় এবং দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

৫ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৬ জন

খেলাধুলা

 মুস্তাফিজকে পেয়ে খুশি মেলবোর্ন কোচ

মুস্তাফিজকে পেয়ে খুশি মেলবোর্ন কোচ

প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) খেলতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। আসন্ন আসরে মেলবোর্ন রেনেগেডসের হয়ে মাঠে নামবেন তিনি। দলের অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার জেসন বেহরেনডর্ফ কাঁধের চোটে পুরো মৌসুম থেকে ছিটকে যাওয়ায় তাঁর বিকল্প হিসেবে মুস্তাফিজকে দলে নিয়েছে মেলবোর্ন রেনেগেডস। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশি এই পেসারের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে মুস্তাফিজের। এখন পর্যন্ত ৩৩১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তাঁর শিকার ৪২৩ উইকেট। তবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম বিগ ব্যাশে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। মেলবোর্ন রেনেগেডসে সতীর্থ হিসেবে মুস্তাফিজ পাচ্ছেন ইংল্যান্ডের জনি বেয়ারস্টো ও নিউজিল্যান্ডের মাইকেল ব্রেসওয়েলকে। নতুন দলে যোগ দিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের এই পেসার।আরও পড়ুন,এনপিএলে বাংলাদেশের ১০ ক্রিকেটারের পারফরম্যান্স ক্লাবের বিবৃতিতে মুস্তাফিজ বলেন, প্রথমবারের মতো বিগ ব্যাশে খেলতে তিনি মুখিয়ে আছেন। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডকে (এমসিজি) নিজের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে পাওয়াকে বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। সতীর্থদের সঙ্গে যোগ দিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান মুস্তাফিজ। তবে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই খেলতে পারবেন না তিনি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএলটি-টোয়েন্টিতে ব্যস্ত থাকায় পার্থ স্কর্চার্সের বিপক্ষে মেলবোর্নের প্রথম ম্যাচে তাঁর খেলা হচ্ছে না। সূচি অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি সিডনি সিক্সার্স এবং ৪ জানুয়ারি মেলবোর্ন স্টার্সের বিপক্ষে এমসিজিতে তাঁর খেলার কথা রয়েছে। দলের কোচ লুক রনকিও মুস্তাফিজকে পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পাওয়ার প্লে ও ডেথ ওভারে তাঁর উইকেট নেওয়ার দক্ষতা দলের বোলিং আক্রমণে বাড়তি শক্তি যোগ করবে বলে মনে করেন তিনি।

আইন আদালত

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনি নোটিশ, ১৫ দিনের মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনি নোটিশ, ১৫ দিনের মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি

পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর দাবি করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহদপ্তর সম্পাদক ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহমুদুর রহমান মিশন ভূঁইয়ার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইয়াছিন আরাফাত (সম্রাট) এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি ঢাকার একটি জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বক্তব্যের একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘এই যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আছে... জায়গায় এ্যানি চৌধুরীর ফোন কল যায় না, যে আমারে টাকা পাঠায়।’আরও পড়ুন, আজ ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে পঙ্গু করার অভিযোগে মামলার বিচার শুরুআইনি নোটিশে বলা হয়েছে, বক্তব্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, মনগড়া ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গত ৩০ অক্টোবর বিভিন্ন গণমাধ্যম, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্যটি প্রচারিত হয়। এতে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত মর্যাদা ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ। তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্য ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় বর্ণিত মানহানির অপরাধের পর্যায়ে পড়ে বলে নোটিশদাতার দাবি। নোটিশ পাওয়ার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার করে পানিসম্পদমন্ত্রীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী উপযুক্ত আদালতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কোনো প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর
লিংক কপি করা হয়েছে!