দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

আজকের আবহাওয়া

ঢাকা 1005.1 hPa
29.9° 77%
15mm
চট্টগ্রাম 1006.4 hPa
28° 90%
15mm
রাজশাহী 1001.5 hPa
35.5° 77%
20° 12mm
খুলনা 1004.6 hPa
29.5° 88%
15mm
বরিশাল 1005.1 hPa
28.7° 89%
15mm
সিলেট 1005.9 hPa
26.5° 96%
30° 15mm
রংপুর 1004.2 hPa
29.5° 84%
20° 15mm
ময়মনসিংহ 1005.5 hPa
29° 88%
40° 15mm
Weather

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

গ্রাহকের অর্থ কোথায়? Divine Group-এর প্রকল্প ও সম্পদ

গ্রাহকের অর্থ কোথায়? Divine Group-এর প্রকল্প ও সম্পদ

দেশের আবাসন ও পর্যটন খাতে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসা Divine Group-এর বিভিন্ন প্রকল্প, গ্রাহকের অর্থ ব্যবস্থাপনা, জমির মালিকানা, প্রকল্প বাস্তবায়ন, কর্পোরেট গভর্ন্যান্স, কর-ভ্যাট ও কমপ্লায়েন্স এবং গ্রাহক রিফান্ড নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রস্তুত করা একটি Preliminary Findings, Risk Assessment & Corporate Governance Report-এ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের ওপর প্রাথমিক মূল্যায়নে একাধিক ক্ষেত্রে ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি’ চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনের শুরুতেই স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এতে থাকা প্রতারণা, অর্থ পাচার, অর্থ আত্মসাৎ, রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিগত স্বার্থে অর্থ ব্যবহার কিংবা অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগকে আদালত বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না। বরং এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে নথিপত্র, ব্যাংক রেকর্ড, ভূমি রেকর্ড, আদালতের নথি, অডিট এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।আরও পড়ুন: ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশজুড়ে র‍্যাবের বাড়তি নিরাপত্তাপ্রাথমিক অনুসন্ধানভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, Divine প্রায় ২০০৯ সালে Divine Holdings Limited নামে ব্যবসা শুরু করে। শুরুতে রাজধানীর পূর্বাচল এলাকার ২৬ ও ২৭ নম্বর সেক্টরের কাছাকাছি একটি ভূমি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে প্রকল্পটি বিভিন্ন নামে বাজারজাত করা হয়েছে এবং বর্তমানে সেটি Divine Purbachal City নামে উপস্থাপিত হচ্ছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্বাচল প্রকল্পে প্রায় ৫৫৬ কাঠা জমি গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি রয়েছে। এসব গ্রাহকের প্রায় ৯০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি বা NRB বলে উল্লেখ করা হয়েছে।বিদেশে থাকা গ্রাহকদের বড় অংশের ওপর নির্ভরশীল এই ব্যবসায়িক মডেলকে প্রতিবেদনে একটি ঝুঁকির কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। কারণ, দেশের বাইরে অবস্থানরত ক্রেতাদের পক্ষে প্রকল্পের জমির বাস্তব অবস্থা, মালিকানা, দখল ও উন্নয়নকাজ সরেজমিনে যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।Divine-এর ভূমি প্রকল্পের জমির পরিমাণ নিয়েও প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ বিঘার একটি land project উপস্থাপনের তথ্য রয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৪৫ বিঘা জমি acquisition করা হয়েছে বলে দাবি থাকার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে প্রতিষ্ঠানের নিজস্বভাবে অর্জিত জমির পরিমাণ হয়তো পাঁচ বিঘার বেশি নয়। তবে প্রতিবেদনে এটিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি; বরং ভূমি-সংক্রান্ত নথি দিয়ে বিষয়টি সম্পূর্ণ যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।এক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিল, নামজারি, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, বিক্রয় চুক্তি, জমির মূল্য পরিশোধের রেকর্ড, দখল সংক্রান্ত নথি, মামলা-মোকদ্দমার তথ্য এবং গ্রাহকের কাছে বরাদ্দ দেওয়া জমির তালিকা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। এসব নথিতে ঘোষিত জমি ও আইনগতভাবে অর্জিত জমির মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য পাওয়া গেলে সেটি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের সতর্কসংকেত হতে পারে।আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানদের সৌজন্য সাক্ষাৎপ্রাথমিক প্রতিবেদনে গত প্রায় ১৭ বছরের কার্যক্রম নিয়ে আরও একটি প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, Divine-এর ব্যবসার বড় অংশ ভূমি বিক্রি ও গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল ছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প এলাকায় পর্যাপ্ত site development হয়নি, অবকাঠামো উন্নয়ন সীমিত এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের তুলনায় sales activity বেশি ছিল। ফলে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের কত অংশ প্রকৃত প্রকল্প উন্নয়নে ব্যয় হয়েছে সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। এই প্রশ্নের উত্তর পেতে project-wise accounting এবং প্রতিটি প্রকল্পের আয়-ব্যয়ের পৃথক হিসাব যাচাই করা জরুরি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।Divine-এর ব্যবসার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কক্সবাজারের হোটেল প্রকল্প। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্বাচলের ভূমি ব্যবসার পর কক্সবাজারে একটি পাঁচ তারকা হোটেল প্রকল্পের জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটির প্রাথমিক নাম ছিল Divine Sea Point। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির জন্য ১ হাজার ৩০০টির বেশি শেয়ার বিক্রি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে এবং প্রতি শেয়ারের গড় মূল্য ছিল প্রায় ৬ লাখ টাকা। প্রায় ২০১৭ সাল পর্যন্ত শেয়ার বিক্রির কার্যক্রম চলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে একই প্রকল্প Cox Holiday Inn নামে বাজারজাত করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়।এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে গ্রাহকের কাছ থেকে মোট কত টাকা সংগ্রহ হয়েছে, তার কত অংশ জমি কেনায়, কত অংশ নির্মাণকাজে, কত অংশ প্রকল্প পরিচালনায় এবং কত টাকা রিফান্ড হিসেবে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমানে প্রকল্পটির সম্পদ ও দায় কত সেটিও নির্ভরযোগ্য নথি দিয়ে পুনর্মিলন করা প্রয়োজন।আরও পড়ুন: শিক্ষা সহযোগিতা জোরদারে চীন সফরে শিক্ষামন্ত্রী মিলনCox Holiday Inn প্রকল্পের নির্মাণ অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, করোনা মহামারির সময়ে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। বেজমেন্ট এবং একতলা পর্যন্ত নির্মাণের পর কাজ বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রায় ২০২১ সাল থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পটি কার্যত stalled অবস্থায় থাকার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ফলে পুরোনো নির্মাণ অসম্পূর্ণ থাকার পরও কেন নতুন করে গ্রাহক বা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে—এ প্রশ্ন সামনে এসেছে।Cox Holiday Inn-এর জমির মালিকানা নিয়ে আরও গুরুতর প্রশ্নের কথা বলা হয়েছে। কিছু জমি Divine Holdings Limited-এর নামে, কিছু Divine Hotel and Resort Limited-এর নামে এবং কিছু জমি খাস হতে পারে এমন তথ্য প্রতিবেদনে রয়েছে। এছাড়া কিছু জমি এখনও Power of Attorney-ভিত্তিক হতে পারে এবং সম্পূর্ণ clean title chain প্রস্তুত হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব তথ্য সত্য হলে প্রকল্পটির জন্য বড় ধরনের আইনি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে স্বাধীন সম্পত্তি আইনজীবীর মাধ্যমে root of title, বর্তমান মালিকানা, নামজারি, খতিয়ান, ভূমি কর, দখল, খাস মর্যাদা, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, বন্ধক, মামলা, অধিগ্রহণ নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন যাচাই করার সুপারিশ করা হয়েছে।আরও পড়ুন: আব্দুল্লাহপুরে রাহিমের দাপটে হোটেল সি-গাল ও রাজমনিতে নারী-মাদক সিন্ডিকেটপ্রকল্পের নকশা, নির্মাণ এলাকা ও মার্কেটিং উপস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুমোদিত বা নথিভুক্ত construction area প্রায় ৭৬ হাজার বর্গফুট হলেও marketing presentation-এ প্রায় ১ লাখ বর্গফুট দেখানো হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের মূল্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হিসেবে উপস্থাপনের কথাও উল্লেখ রয়েছে। অনুমোদিত নকশা, স্থাপত্য পরিকল্পনা, structural design, MEP design, BOQ, construction permit ও হালনাগাদ অনুমোদন পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।Divine-এর বিভিন্ন প্রকল্প থেকে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে অন্য সম্পদ কেনা বা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর মধ্যে কুড়িল এলাকায় হাসপাতালের জন্য জমি, প্রায় ২০০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত হাসপাতাল প্রকল্প, সংসদ এলাকার কাছাকাছি হোটেল প্রকল্পের জমি, পূর্বাচলের বিভিন্ন জমি এবং ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অ্যাপার্টমেন্টের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, এসব সম্পদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ SM Habibur Rahman অথবা তাঁর step-brother Hedayat Mowla-এর নামে থাকতে পারে। তবে প্রায় ৯০ শতাংশ identified asset একজনের নামে থাকার যে দাবি করা হয়েছে, সেটি certified property record দিয়ে যাচাই করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এখানেই সামনে এসেছে একটি মৌলিক প্রশ্ন—কোনো সম্পদ যদি গ্রাহক বা প্রকল্পের অর্থ দিয়ে কেনা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা প্রকল্পের নামে নয় কেন? এর উত্তর পেতে source of funds এবং beneficial ownership অনুসন্ধান প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।SM Habibur Rahman-এর বিভিন্ন সম্পত্তির বিপরীতে ব্যাংক ঋণ নেওয়া এবং কয়েকটি ঋণ খেলাপি হওয়ার অভিযোগও প্রতিবেদনে রয়েছে। ব্যাংকগুলোর আইনগত পদক্ষেপ, recovery proceedings এবং কয়েকটি মামলায় judgment হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।সম্মিলিত ব্যাংক দাবির পরিমাণ ১০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলে প্রাথমিক তথ্যের কথা বলা হয়েছে। তবে এসব দাবিও ব্যাংক ঋণের হিসাব, mortgage document, আদালতের রায়, recovery proceedings এবং বর্তমান outstanding-এর মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।আরও পড়ুন: গোবিপ্রবিতে মাসের ব্যবধানে ২ ভিসি পরিবর্তন, নতুন ভিসি ড. মো. সোহেল হাসানব্যবসায়িক আস্থা তৈরিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, SM Habibur Rahman নিজেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্কের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি ব্যবহার করে গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরির চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে রিপোর্টটি নিজেই সতর্ক করেছে এসবকে প্রমাণিত রাজনৈতিক সম্পর্ক বা অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না, যতক্ষণ না নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়।প্রতিবেদনে Divine-এর কথিত business model নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে একটি সম্ভাব্য চিত্র দেখানো হয়েছে project presentation, customer trust, fund collection, fund utilization, project delay, new project বা resale এবং এরপর continued fund collection। অর্থাৎ পুরোনো প্রকল্পের দায় ও কাজ সম্পন্ন করার পরিবর্তে নতুন গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের ওপর ব্যবসার ধারাবাহিকতা নির্ভর করছে কি না সেটিই অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এজন্য গ্রাহকের টাকা কোন ব্যাংক হিসাবে গেছে, কার কাছে স্থানান্তর হয়েছে, কী উদ্দেশ্যে ব্যয় হয়েছে, কোন নথি দিয়ে তা সমর্থিত এবং শেষ পর্যন্ত প্রকৃত সুবিধাভোগী কে প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করার সুপারিশ করা হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে Divine নতুন করে Divine Purbachal City এবং Cox Holiday Inn প্রকল্পকে সামনে নিয়ে বাজারে সক্রিয় হয়। ২০২৫ সাল থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৫ কোটি টাকার hotel share sale এবং প্রায় ২.৫ কোটি টাকা collection হয়েছে বলে তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু একই সময়ে প্রকল্প উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এই হিসাব bank statement, share register ও customer ledger দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।আরও পড়ুন: ঈদে মিলাদুন্নবী ঘিরে জশনে জুলুস ঘিরে চট্টগ্রামে কঠোর নিরাপত্তা, অস্ত্র বহনে নিষেধাজ্ঞাগ্রাহকদের রিফান্ড বা ফেরতযোগ্য অর্থ নিয়েও বড় ধরনের উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে ২০ কোটি টাকার বেশি refund-related issue থাকার দাবি এবং কিছু refund claim প্রায় ১৩ বছর ধরে unresolved থাকার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রাহকের জন্য কত টাকা জমা হয়েছে, কোন প্রকল্পে, কখন দেওয়া হয়েছে, চুক্তি কী ছিল, রিফান্ডের তারিখ কখন, কত টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং কত টাকা বকেয়া—এসব তথ্য নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ customer liability schedule তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে।Divine-এর বিরুদ্ধে ৬০ থেকে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত investor/client fund mismanagement-এর একটি estimate থাকার কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে স্পষ্ট করা হয়েছে এটি কোনো verified liability নয় এবং documentary evidence দিয়ে যাচাই করতে হবে। প্রস্তাবিত reconciliation অনুযায়ী মোট customer collection থেকে বৈধ ভূমি অধিগ্রহণ, নির্মাণ, পরিচালন ব্যয়, রিফান্ড, কর-ভ্যাট এবং যাচাইকৃত প্রকল্প সম্পদের মূল্য বাদ দিয়ে অব্যাখ্যাত অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।Cox Holiday Inn-এর নামে customer money গ্রহণের জন্য একটি proprietorship account ব্যবহারের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সেখানে Cox Holiday Inn একটি proprietorship business এবং সেটি SM Habibur Rahman-এর নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি করা হয়েছে। এখানে প্রশ্ন উঠেছে যদি গ্রাহকের কাছে company share বা ownership বিক্রি করা হয়, তাহলে কেন সেই অর্থ proprietorship account-এ যাবে? কে অর্থ গ্রহণ করছে, কোন entity contract করছে, কে share issue করছে, প্রকল্পের মালিক কে, জমির মালিক কে এবং বিনিয়োগকারীর কাছে আইনগতভাবে দায়ী entity কোনটি এসব বিষয়ে স্পষ্টতা থাকা জরুরি।আরও পড়ুন: অনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়, গঠনমূলক কাজে দল শক্তিশালী করুন: রিজভীDivine-এর বিভিন্ন কোম্পানির Tax, VAT, Trade License এবং অন্যান্য regulatory compliance দীর্ঘদিন সঠিকভাবে maintained হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ২০১৩ সালের পর থেকে compliance gap থাকার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে RJSC filing, আয়কর রিটার্ন, VAT return, trade license, corporate annual return, audited financial statement, bank account status এবং regulatory approval যাচাই করার সুপারিশ করা হয়েছে।প্রতিবেদনটির একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলোসাধারণ management accounting-এর পরিবর্তে Divine-এর ক্ষেত্রে forensic audit বেশি উপযোগী হতে পারে। Cash book, general ledger, customer ledger, bank reconciliation, project accounts, refund ledger, share-sale ledger, construction expense, related-party payment, personal expense, loan liability এবং asset register যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে।গ্রাহকের অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও রিপোর্টে এটিকে সরাসরি ‘money laundering’ হিসেবে ঘোষণা না করার সতর্কতা রয়েছে। বরং Potential Fund Diversion/Misuse of Customer Funds/Related-Party Transaction Risk হিসেবে forensic verification-এর বিষয় হিসেবে দেখানো হয়েছে।প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কর্মীদের বেতন বিলম্ব, sales team-এর বেতন সমস্যা, প্রশিক্ষণের অভাব, HR policy-এর ঘাটতি, শ্রম আইন বাস্তবায়নের প্রশ্ন, unpaid/free work এবং কর্মী হয়রানির অভিযোগও প্রতিবেদনে রয়েছে। Sales team-এর প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মী চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন বলে একটি দাবি উল্লেখ করা হয়েছে। এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বেতন সমস্যা, ব্যবস্থাপনার আচরণ, প্রশিক্ষণের অভাব, HR কাঠামোর দুর্বলতা, অবাস্তব প্রতিশ্রুতি এবং sales support-এর অভাবের কথা বলা হয়েছে। তবে এসব তথ্য payroll, employment contract, attendance, resignation record ও employee complaint দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।আরও পড়ুন: ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ, নিরাপত্তা শঙ্কা নেই: জামায়াতপ্রতিবেদনে Divine-এর corporate governance কাঠামো নিয়েও একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। Board oversight, financial control, segregation of duties, project accounting, customer fund segregation, contract management, tax/VAT compliance, HR, asset ownership, related-party transaction এবং investor reporting বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্বলতার আশঙ্কা চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে Managing Director-কেন্দ্রিক অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগকে বড় governance risk হিসেবে দেখা হয়েছে।প্রাথমিক ঝুঁকি মূল্যায়নে Project Execution, Land Title, Financial Transparency, Customer Refund, Corporate Governance, Accounting Control, Investor Protection, Management Dependency এবং Construction Risk এসব ক্ষেত্রে ‘অত্যন্ত উচ্চ’ ঝুঁকি দেখানো হয়েছে। Regulatory Compliance-কে উচ্চ থেকে অত্যন্ত উচ্চ এবং HR & Employment-কে উচ্চ ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। Related-party transaction ও fund diversion-এর ঝুঁকিও অত্যন্ত উচ্চ বলা হয়েছে, তবে যাচাই সাপেক্ষে।প্রতিবেদনের চূড়ান্ত মূল্যায়নে বলা হয়েছে, নতুন বিনিয়োগ, share purchase বা customer fund collection-এর আগে ব্যাপক independent due diligence প্রয়োজন। এজন্য forensic financial audit, land audit, legal audit, tax/VAT audit এবং project audit করার সুপারিশ করা হয়েছে।আরও পড়ুন: ছয় মাসে সরকার একটি কথাও রাখতে পারেনি: মান্নাDivine Group-কে ঘিরে উঠে আসা প্রশ্নগুলোর ব্যাপ্তি এখন শুধু একটি প্রকল্পের নির্মাণ অগ্রগতি বা গ্রাহকের রিফান্ডে সীমাবদ্ধ নেই। জমির মালিকানা, প্রকল্প অনুমোদন, গ্রাহকের অর্থ কোথায় যাচ্ছে, কোম্পানির নামে সম্পদ কেন নেই, কর্পোরেট কাঠামো কতটা স্বচ্ছ, রিফান্ডের দায় কত এবং নতুন করে অর্থ সংগ্রহের আর্থিক ভিত্তি কী—এসব প্রশ্ন একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত।তবে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো—অভিযোগকে রায় হিসেবে উপস্থাপন না করা। Divine Group বা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে প্রতারক, অর্থ পাচারকারী বা অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করার মতো প্রমাণ এই রিপোর্টে নেই। বরং মূল নথিটিও বলছে, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ভূমির দলিল, customer ledger, আদালতের নথি, tax/VAT record, approved plan, construction BOQ এবং audited financial statement স্বাধীনভাবে যাচাই করাই হবে প্রকৃত সত্য নির্ধারণের ভিত্তি।অতএব এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দীর্ঘদিনের পুরোনো প্রকল্প, অসম্পূর্ণ নির্মাণ, সম্ভাব্য রিফান্ড দায় এবং নতুন করে অর্থ সংগ্রহের মধ্যে বাস্তব আর্থিক ভারসাম্য কোথায়? গ্রাহকদের অর্থ যে উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে, সেই অর্থের প্রতিটি টাকা কি প্রকল্প পর্যন্ত trace করা সম্ভব?

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত আরও ১ হাজার ৭৭

দেশে হামের পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৭৭ শিশু।মঙ্গলবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৮৪৪ শিশু। আর নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৯ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪৩।আরও  পড়ুন, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানদের সৌজন্য সাক্ষাৎস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৯১ শিশু নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়েছে ৯৮৬ শিশু।একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৯০ শিশু। সমান সংখ্যক ৮৯০ শিশুকে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৫১ হাজার ৬৩৮। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৫৭৮ জনের।এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক লাখ ৩২ হাজার ৫৫৪ রোগী। এর মধ্যে এক লাখ ২৭ হাজার ৮১১ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।ক্রমবর্ধমান আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনায় শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সতর্কতা এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দেশের তিন বাহিনীর প্রধান।মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।সাক্ষাৎকালে তিন বাহিনী প্রধান রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান।এ সময় তারা নিজ নিজ বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। আরও  পড়ুন, শিক্ষা সহযোগিতা জোরদারে চীন সফরে শিক্ষামন্ত্রী মিলনপাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা কামনা করেন তারা।জবাবে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন।তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক ও চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নে তার দায়িত্ব পালনকালে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।বঙ্গভবনের এ সৌজন্য সাক্ষাতে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

শিক্ষা সহযোগিতা জোরদারে চীন সফরে শিক্ষামন্ত্রী মিলন

চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।মঙ্গলবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চীনের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। সফর শেষে আগামী ২৯ আগস্ট দেশে ফেরার কথা রয়েছে।শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া।বিমানবন্দরে এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর লি শাওপেং উপস্থিত ছিলেন।আরও  পড়ুন, ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশজুড়ে র‍্যাবের বাড়তি নিরাপত্তাসফরকালে চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে বৈঠক করবেন শিক্ষামন্ত্রী। পাশাপাশি শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন ফোরাম ও সম্মেলনেও অংশ নেবেন তিনি।এ ছাড়া চীনের বিভিন্ন টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করবেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এসব প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের মাধ্যমে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় দুই দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা সংক্রান্ত কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরেরও কথা রয়েছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করাই এ সফরের অন্যতম লক্ষ্য।

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশজুড়ে র‍্যাবের বাড়তি নিরাপত্তা

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র‍্যাব।মঙ্গলবার র‍্যাব সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।র‍্যাব জানিয়েছে, ধর্মীয় এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত টহল জোরদারের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অনুষ্ঠানস্থলে পর্যাপ্ত সংখ্যক র‍্যাব সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হবে বিশেষ বাহিনী।আরও  পড়ুন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের নতুন আইনে বাড়ছে দায়িত্ব ও ক্ষমতা চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ এলাকার সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনা করে আলাদা নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।নাশকতা বা হামলা ঠেকাতে গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি উসকানিমূলক বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে রাখা হচ্ছে বিশেষ নজরদারি।যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় র‍্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াডকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে—এমন গুজব, অপপ্রচার ও উসকানিমূলক তথ্য ঠেকাতে সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে।নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে র‍্যাব।

রাজনীতিরাজনীতি

অনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়, গঠনমূলক কাজে দল শক্তিশালী করুন: রিজভী

অনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়, গঠনমূলক কাজে দল শক্তিশালী করুন: রিজভী

অনৈতিক কর্মকাণ্ডে না জড়িয়ে গঠনমূলক কাজে অংশ নিয়ে বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।সোমবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা ও দোয়া শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ নির্দেশনা দেন তিনি।রিজভী বলেন, দলের মধ্যে দু-একজন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন। তবে দলীয় নাম ব্যবহার করে অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিএনপির চেয়ারম্যান কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাই নেতা-কর্মীদের অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থেকে জনগণের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।আরও  পড়ুন, ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ, নিরাপত্তা শঙ্কা নেই: জামায়াততিনি বলেন, দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সুশৃঙ্খল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করাই এখন অন্যতম দায়িত্ব। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নেতা-কর্মীদের মানুষের সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে হবে।রিজভীর ভাষ্য, বিএনপি জনগণের সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত কর্মসূচিগুলো জনস্বার্থ ও মানবকল্যাণকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে নেতা-কর্মীদের সহযোগিতা করতে হবে এবং জনগণের কাছে সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরতে হবে।স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা যাচাই-বাছাই করে যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দেবেন।এ সময় বিএনপির জনপ্রিয়তা নিয়ে বিভিন্ন জরিপের কথা উল্লেখ করে রিজভী দাবি করেন, জনগণের স্বার্থে কাজ করলে বিএনপির সরকার ব্যর্থ হবে না।

৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ, নিরাপত্তা শঙ্কা নেই: জামায়াত

৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ, নিরাপত্তা শঙ্কা নেই: জামায়াত

আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি ঘিরে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা বা আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন নেই। তবে কর্মসূচির সময়, স্থান ও রুট সম্পর্কে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনে প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।আরও  পড়ুন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করতে না দেওয়ায় এনসিপির প্রতিবাদতিনি জানান, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ শুরু হবে। দেশজুড়ে চারটি ভিন্ন রুটে এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে। যাত্রাপথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচির বিস্তারিত লিখিত রূপরেখাও পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।জামায়াতের এই নেতা বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নই লংমার্চের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবিও তুলে ধরা হবে।বৈঠকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করতে না দেওয়ায় এনসিপির প্রতিবাদ

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করতে না দেওয়ায় এনসিপির প্রতিবাদ

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের পূর্বনির্ধারিত শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাবেশ করতে না দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপি।সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে দলটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুযোগ নেই।তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচিত সরকারও বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী আমলের মতো বিরোধী ও ভিন্নমতের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার পুরোনো চর্চা অব্যাহত রাখছে।এনসিপি নেতারা বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে সোচ্চার কোনো রাজনৈতিক দলকে সভা-সমাবেশ করতে না দেওয়া গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।আরও  পড়ুন, ‘পার্বত্য জেলাকে শাস্তির পোস্টিং বানানো বন্ধ করতে হবে’ : সারজিস আলম শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ ও মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার কোনো অজুহাতেই হরণ করা সমর্থনযোগ্য নয়।তারা আরও বলেন, বিরোধী দলের কর্মসূচি বন্ধে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ব্যবহারের মানসিকতা শাসনব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন এখনো অধরা থাকার প্রমাণ। এ ধরনের দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্র ও সমাজের গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়া ঝুঁকিতে পড়বে।অনতিবিলম্বে এ ধরনের অবস্থান থেকে সরে এসে সব রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে এনসিপি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে প্রশাসন ও পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।দলটির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সব দলের জন্য সমান রাজনৈতিক সুযোগ নিশ্চিত না হলে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে সোচ্চার ভূমিকা পালন করবে এনসিপি।

‘পার্বত্য জেলাকে শাস্তির পোস্টিং বানানো বন্ধ করতে হবে’ : সারজিস আলম

‘পার্বত্য জেলাকে শাস্তির পোস্টিং বানানো বন্ধ করতে হবে’ : সারজিস আলম

পার্বত্য অঞ্চলে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বদলি করে পদায়নের নীতি থেকে সরকারকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।তিনি বলেছেন, দুর্গম ও পিছিয়ে থাকা এলাকায় সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তাদের পদায়নের মাধ্যমে জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে হবে।রোববার সন্ধ্যায় বান্দরবান কে এস আই মিলনায়তনে এনসিপির সমন্বয় সভায় এসব কথা বলেন সারজিস আলম।তিনি অভিযোগ করেন, দেশের কিছু জেলাকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এক ধরনের শাস্তিমূলক বদলির জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। দুর্নীতি বা কোনো অপরাধে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের শাস্তি হিসেবে এসব এলাকায় পাঠানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি।আরও  পড়ুন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে সরকারকে ‘উপযুক্ত জবাব’: ১১ দলের লংমার্চ ৫ সেপ্টেম্বরসারজিস আলম বলেন, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, ভোলা, পঞ্চগড় এবং পার্বত্য তিন জেলাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এমন কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়। অথচ এসব অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন সমতলের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন।তার ভাষ্য, পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ নানা প্রতিকূলতার মধ্যে জীবিকা নির্বাহ করেন। সেখানে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হলে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।এনসিপির এই নেতা বলেন, পার্বত্য এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে হলে প্রশাসনে সৎ, দক্ষ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিতে হবে।সভায় বান্দরবান জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মংসাপ্রু চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ, জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদারসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

সারাবাংলা

গোবিপ্রবিতে মাসের ব্যবধানে ২ ভিসি পরিবর্তন, নতুন ভিসি ড. মো. সোহেল হাসান

গোবিপ্রবিতে মাসের ব্যবধানে ২ ভিসি পরিবর্তন, নতুন ভিসি ড. মো. সোহেল হাসান

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য (ভাইস-চ্যান্সেলর) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ড. মো. সোহেল হাসান। এর আগে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন সহকারী সচিব মো.শাহ আলম সিরাজ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ওই চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পূর্বের প্রজ্ঞাপনের শর্ত অনুযায়ী ড. মো. সোহেল হাসানকে প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলরের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১ (সংশোধিত-২০২৩) এর ১০ (১) ধারা অনুযায়ী ভাইস-চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। আরও  পড়ুন, নাগরপুরে মুক্তিপণ না পেয়ে কলেজছাত্রকে হত্যার পর মাটি চাপা ,গ্রেপ্তার ১শর্তানুযায়ী, উপাচার্য পদে তাঁর নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ হতে আগামী ৪ (চার) বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ এর মধ্যে যে’টি আগে ঘটে, সে সময় পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। নতুন পদে তিনি তাঁর পূর্ববর্তী পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাদি এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাঁকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। তবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যে-কোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করবেন। এর আগে,গত মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখরকে পরিবর্তন করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো: নাজমুস সাদাতকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আজ তাকে পরিবর্তন করে অধ্যাপক ড. মো: সোহেল হাসানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নাগরপুরে মুক্তিপণ না পেয়ে কলেজছাত্রকে হত্যার পর মাটি চাপা ,গ্রেপ্তার ১

নাগরপুরে মুক্তিপণ না পেয়ে কলেজছাত্রকে হত্যার পর মাটি চাপা ,গ্রেপ্তার ১

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় শামিম (২৩) নামের এক পলিটেকনিক কলেজ ছাত্রকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর লাশটি ঘাতকের বাড়ির পাশে মাটি চাপা দেয়া হয়।পুলিশ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে লাশ উদ্বার করে। নিহত শামিম ভাদ্রা ইউনিয়নের পং ভাদ্রা গ্রামের বিল্লাল মল্লিকের ছেলে। তিনি বেসরকারি পলিটেকনিক সাইক ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় পুলিশ ঘাতক অনিককে (২৮) গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত অনিককের কাছ থেকে হত্যাকান্ডের শিকার কলেজ ছাত্র শামিমের সেল ফোন উদ্ধার ও তার দেয়া তথ্য মতে ঘটনাস্থল থেকে মাটি খুঁড়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার ৫ দিন পূর্বে গত (২১আগস্ট) বিকেল থেকে শামিম নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের ২ দিন পর গত (২৩ আগস্ট) নিহতের পিতা বিল্লাল মল্লিক নাগরপুর থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করেন।পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়,গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকাল ৪ টার দিকে ভিকন ভাদ্রা গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে অনিক (২৮) মোবাইল ফোনে শামিমকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে শামিম নিখোঁজ হয়। স্বজনরা সম্ভাব্য জায়গায় খোঁজ নিয়ে ব্যর্থ হলে শামিমের পিতা নাগরপুর থানায় সাধারণ ।আরও  প ড়ুন, রেলগেটে ফুটপাত-সড়ক দখলমুক্ত করতে স্বেচ্ছাসেবক দলের অভিযানডায়রি করেন। শামিমের কল লিষ্টের সূত্র ধরে সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে অনিককে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। আটকের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে শামিমকে গলায় রশি পেচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে তার বাড়ির পাশে মাটি চাপা দেয়ার কথা স্বীকার করে। পুলিশ অনিকের বাড়ি থেকে শামিমের মোবাইল ফোন উদ্বার করে। পরদিন মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে তার দেয়া তথ্য মতে ঘটনাস্থল থেকে শামিমের বস্তা বন্দি অর্ধগলিত লাশ উদ্বার করে।নিহতের পিতা বিল্লাল মল্লিক কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ঘাতক অনিক শামিমের মোবাইল থেকে আমার বাড়িতে ফোন করে দেড় লক্ষ টাকা ৩০ মিনিটের মধ্যে পাঠাতে বলে ফোন বন্ধ করে দেয়। তিনি তার সন্তান হত্যার বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করে। এদিকে সন্তান হারা মা শাহানারা আক্তারের আর্তচিৎকার ও আহাজারীতে গোটা পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। সারাক্ষণ বিলাপ করে যাচ্ছে মা শাহানারা আক্তার।এ বিষয়ে নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং মূল অভিযুক্ত অনিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে অপরাধ স্বীকার করেছে। অনিক মাদকাসক্ত ও মাদক কারবারে জড়িত। নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং ঘটনাটির অধিকতর তদন্ত চলছে।

রেলগেটে ফুটপাত-সড়ক দখলমুক্ত করতে স্বেচ্ছাসেবক দলের অভিযান

রেলগেটে ফুটপাত-সড়ক দখলমুক্ত করতে স্বেচ্ছাসেবক দলের অভিযান

গাজীপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হিসেবে পরিচিত জয়দেবপুর রেলগেট এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে দোকানপাট বসানোর কারণে প্রতিদিনই এ এলাকায় যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। পথচারীদের ফুটপাত ব্যবহার করতে না পারায় অনেককে ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।গাজীপুর সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার রুবেলের উদ্যোগে জয়দেবপুর রেলগেট এলাকার ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানা অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।অভিযানের সময় সড়ক ও ফুটপাতের ওপর অবৈধভাবে স্থাপিত দোকানপাট ও দখল সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জয়দেবপুর রেলগেটের আশপাশের ফুটপাত ও সড়কের বিভিন্ন অংশ দখল করে দোকান বসানো হয়েছে।আরও  পড়ুন, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানদের সৌজন্য সাক্ষাৎ এতে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সড়কের কার্যকর প্রশস্ততা কমে গিয়ে যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে এ এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখা গেলে জয়দেবপুর রেলগেট এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট ও জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসতে পারে।সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগে পরিচালিত এই কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় পথচারী ও বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, ভবিষ্যতে যাতে পুনরায় ফুটপাত ও সড়ক দখল করে দোকান বসানো না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অভিযান সংশ্লিষ্টদের আশা, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখার এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে জয়দেবপুর রেলগেট এলাকায় যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং কিছুটা হলেও গাজীপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দেশের তিন বাহিনীর প্রধান।মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।সাক্ষাৎকালে তিন বাহিনী প্রধান রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান।এ সময় তারা নিজ নিজ বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। আরও  পড়ুন, শিক্ষা সহযোগিতা জোরদারে চীন সফরে শিক্ষামন্ত্রী মিলনপাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা কামনা করেন তারা।জবাবে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন।তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক ও চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নে তার দায়িত্ব পালনকালে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।বঙ্গভবনের এ সৌজন্য সাক্ষাতে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক

গাজা থেকে ঘুড়ি বেলুন ড্রোন পাঠালে অভিযান বাড়াবে ইসরাইল

গাজা থেকে ঘুড়ি বেলুন ড্রোন পাঠালে অভিযান বাড়াবে ইসরাইল

গাজা থেকে ইসরাইলের দিকে ঘুড়ি, ড্রোন ও বেলুন পাঠানো অব্যাহত থাকলে গাজায় সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরাইল।রোববার গাজা সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর এ সতর্কবার্তা দেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ।ইসরাইলি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে গাজা সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় ১০টি ঘুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার বিভিন্ন এলাকায় চারটি ঘুড়ি পাওয়া যায়। রোববার আরও একটি ঘুড়ি গুলি করে নামায় ইসরাইলি সেনারা।ইসরাইলের দাবি, এসব উড়ন্ত বস্তুর পেছনে হামাসের হাত থাকতে পারে। যদিও ঘুড়ি, ড্রোন ও বেলুন পাঠানোর অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে হামাস।ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সাম্প্রতিক ঘটনায় উদ্ধার হওয়া এসব ঘুড়িতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। আরও পড়ুন. সংঘাত থামাতে চায় ইরান চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রতবে ইসরাইলের প্রতিক্রিয়া যাচাই করতেই এগুলো পাঠানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে দেশটির সামরিক বাহিনী।নেতানিয়াহু ও কাটজ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ইসরাইলের দিকে ঘুড়ি, ড্রোন ও বেলুন পাঠানো বন্ধ না হলে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান আরও জোরদার করা হবে।এমনকি যেসব এলাকা থেকে এসব উড়ন্ত বস্তু পাঠানো হচ্ছে, সেসব এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কথাও জানিয়েছে ইসরাইল।এরই মধ্যে কয়েক বছর আগের স্মৃতি ফিরে এসেছে। সে সময় গাজা থেকে আগুন ধরিয়ে দিতে সক্ষম ঘুড়ি ও বেলুন পাঠানো হতো। এতে দক্ষিণ ইসরাইলের কৃষিজমিতে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।তবে হামাস বলছে, এসব ঘুড়ি গাজা থেকে শিশুরাই উড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া শৈশব ফিরে পাওয়ার চেষ্টা থেকেই তারা এসব করেছে বলে দাবি সংগঠনটির।একই সঙ্গে হামাস অভিযোগ করেছে, ঘুড়ি ওড়ানোর ঘটনাকে মধ্য গাজায় বিমান হামলার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরাইল।গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও উদ্ধারকারী সংস্থার দাবি, রোববারের ওই বিমান হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন।ফলে ঘুড়ি, বেলুন ও ড্রোন ঘিরে নতুন করে গাজা-ইসরাইল সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

২৪ আগস্ট ২০২৬

রাজধানী

আব্দুল্লাহপুরে রাহিমের দাপটে হোটেল সি-গাল ও রাজমনিতে নারী-মাদক সিন্ডিকেট

আব্দুল্লাহপুরে রাহিমের দাপটে হোটেল সি-গাল ও রাজমনিতে নারী-মাদক সিন্ডিকেট

উত্তরা পশ্চিম থানাধীন আব্দুল্লাহপুরে দুটি আবাসিক হোটেলকে ঘিরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক ব্যবসা ও দালাল চক্রের তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের অভিযান হলেও কিছু সময় পরই পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে আসে বলে স্থানীয়দের দাবি। রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন আব্দুল্লাহপুর এলাকায় আবাসিক হোটেল সি-গাল ও রাজমনি ঘিরে নারী ও মাদক সিন্ডিকেট এবং দালাল চক্রের তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হোটেল দুটিতে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হোটেল দুটির আশপাশে অপরিচিত মানুষের আনাগোনা বেড়ে যায়। তাদের মধ্যে দালাল ও মাদক কারবারিদের উপস্থিতিও চোখে পড়ে বলে দাবি এলাকাবাসীর। হোটেল দুটির মালিক রাহিম নিজেও একজন মাদক সেবনকারী। তার দালাল চক্র ঘিরে আবাসিক হোটেল দুটিতে বেশ বেপারোয়া। অপরাধের মাত্রা ছাড়িয়ে আবাসিক হোটেল দুটি যেকোন মুহুর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা।আরও পড়ুন: মালিবাগে ‘শিখর’ ও ‘সিটি প্যালেজ’ ঘিরে অভিযোগঅভিযোগ রয়েছে, হোটেল দুটিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন বয়সী নারী ও পুরুষকে হোটেলে নিয়ে আসে। এ কাজে কয়েকজন দালাল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। তারা রাস্তাঘাট, হোটেলের আশপাশ এবং বিভিন্ন পরিবহনকেন্দ্র থেকে সম্ভাব্য গ্রাহক সংগ্রহ করে হোটেলে নিয়ে যায়। এরপর হোটেলের নির্দিষ্ট কক্ষকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, শুধু অনৈতিক কর্মকাণ্ডই নয়, হোটেল দুটির আশপাশে মাদক কারবারিদের আনাগোনাও নিয়মিত। বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সরবরাহ ও কেনাবেচায় একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে সন্ধ্যার পর এলাকাটিতে সাধারণ মানুষের চলাচলেও অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হোটেলগুলোতে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় কিছু লোককে আটক কিংবা জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও অভিযান শেষ হওয়ার কিছু সময় পর পরিস্থিতি আবারও আগের অবস্থায় ফিরে আসে বলে তাদের দাবি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে অভিযান পরিচালনার পরও কীভাবে একই ধরনের কর্মকাণ্ড আবার শুরু হয়?আরও পড়ুন: আব্দুল্লাহপুরের ‘গ্রীন গার্ডেন’: আবাসিক হোটেলের আড়ালে কী চলছে?স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানের খবর আগে থেকেই কোনো কোনো মহলে পৌঁছে যায়। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হোটেলে পৌঁছানোর আগেই সংশ্লিষ্ট অনেকেই সরে পড়ার সুযোগ পায়। তবে এ ধরনের অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আব্দুল্লাহপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকায় আবাসিক হোটেলগুলোতে অতিথি নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সিসিটিভি ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কোনো হোটেলে এসব ব্যবস্থার দুর্বলতা থাকলে অপরাধী চক্র সহজেই সেটিকে নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কয়েকজনের ভাষ্য, আব্দুল্লাহপুর এলাকায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আনাগোনা থাকায় কিছু অসাধু ব্যক্তি হোটেল ব্যবসার আড়ালে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ খোঁজে। এতে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী হোটেল মালিক ও ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে সত্যতা নিশ্চিত করা এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।আরও পড়ুন:  রাজধানীর রামপুরা থানাধীন মালিবাগে হোটেল সবুজ বাংলায় মাসুদের নারী বাণিজ্যআইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো আবাসিক হোটেলে মাদক ব্যবসা, মানব পাচার, অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা অন্য কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে হোটেল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বও রয়েছে অতিথিদের পরিচয় যাচাই ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে হোটেল কর্তৃপক্ষের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে হোটেল সি-গাল ও রাজমনির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে। একইভাবে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বক্তব্যও অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে নেওয়া প্রয়োজন।এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। হোটেল দুটিতে নিয়মিত নজরদারি, অতিথিদের পরিচয় যাচাই, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ এবং মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দালাল চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো এলাকায় অপরাধের অভিযোগ থাকলে কেবল অভিযান নয়, অপরাধের অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক, সরবরাহকারী, দালাল এবং পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করা জরুরি। নেপথ্যের মূল হোতাদের আইনের আওতায় না আনলে অভিযানের পরও একই ধরনের কর্মকাণ্ড পুনরায় শুরু হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।আরও পড়ুন: উত্তরায় পুলিশের নাকের ডগায় গ্রান্ড প্লাজায় সোহেলের অসামাজিক কার্যক্রমআব্দুল্লাহপুরের সি-গাল ও রাজমনি হোটেল ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলো সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করা হবে।সবশেষে প্রশ্ন থেকেই যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যদি সত্যিই হয়ে থাকে, তাহলে অভিযানের কিছু সময় পর কীভাবে একই অভিযোগ আবার সামনে আসে? এর পেছনে কারা রয়েছে, দালাল চক্র কীভাবে কাজ করছে এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে কারা জড়িত এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রয়োজন ধারাবাহিক অনুসন্ধান ও কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ।

১০ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

খেলাধুলা

আলভারেজকে নিয়ে আতলেতিকোয় অস্বস্তি প্রকাশ্যে, সমর্থকদের দুয়োধ্বনি

আলভারেজকে নিয়ে আতলেতিকোয় অস্বস্তি প্রকাশ্যে, সমর্থকদের দুয়োধ্বনি

হুলিয়ান আলভারেজকে ঘিরে আতলেতিকো মাদ্রিদের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এবার প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। নিজেদের মাঠে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্রয়ের পর আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে দুয়োধ্বনি শুনতে হয়েছে সমর্থকদের কাছ থেকে।মাদ্রিদের মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতেই আলভারেজের নাম ঘোষণার সময় গ্যালারি থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করেন আতলেতিকো সমর্থকেরা। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৬ মিনিটে মাঠে নামার পরও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।ম্যাচ শেষে সতীর্থদের সঙ্গে সমর্থকদের অভিবাদন জানাতে না গিয়ে সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে যান আলভারেজ। তবে কোচ দিয়েগো সিমিওনে জানিয়েছেন, এটি আলভারেজের নিজের সিদ্ধান্ত ছিল না। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় ক্লাব কর্তৃপক্ষই তাকে সমর্থকদের সামনে যেতে নিষেধ করেছিল।সিমিওনের ভাষ্য, আতলেতিকোর হয়ে নিজের সেরাটা দেওয়াই তার কাজ। আর আলভারেজকে গ্যালারি থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ক্লাব।আরও  পড়ুন, ভারত সিরিজে আফগানিস্তানের নেতৃত্বে ইব্রাহিম, দলে নবীন-উল-হকবিশ্বকাপ শেষে ক্লাবে ফেরার পর থেকেই আলভারেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জন চলছে। তিনি আতলেতিকো ছাড়তে চান এবং বার্সেলোনা কিংবা আর্সেনালে যোগ দিতে আগ্রহী—এমন খবর প্রকাশের পর থেকেই সমর্থকদের একটি অংশ তার ওপর ক্ষুব্ধ।এদিকে আলভারেজকে দলে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে বার্সেলোনা ও আর্সেনাল। তবে বার্সেলোনার কাছে তাকে বিক্রি করতে অনাগ্রহী আতলেতিকো। এমনকি কাতালান ক্লাবটির প্রায় ১০ কোটি ইউরোর প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে তারা।অন্যদিকে আর্সেনালের সঙ্গে আলোচনায় তুলনামূলকভাবে বেশি আগ্রহী আতলেতিকো। তবে আলভারেজের পছন্দ বার্সেলোনা। যদিও বার্সায় যাওয়ার সম্ভাবনা কঠিন হয়ে পড়ায় আর্সেনালের প্রস্তাব নিয়ে নতুন করে ভাবছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা।দলবদলের সময়সীমা যত ঘনিয়ে আসছে, আলভারেজকে ঘিরে আতলেতিকোর পরিস্থিতিও তত জটিল হয়ে উঠছে।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর