দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

আজকের আবহাওয়া

ঢাকা 1000.7 hPa
31.7° 64%
40° 6mm
চট্টগ্রাম 1001.9 hPa
26.9° 92%
120° 6mm
রাজশাহী 1000.5 hPa
33.4° 66%
50° 6mm
খুলনা 999.2 hPa
29.5° 96%
6mm
বরিশাল 999.9 hPa
28° 93%
6mm
সিলেট 1002.4 hPa
32.5° 61%
40° 6mm
রংপুর 1001.8 hPa
33.4° 60%
20° 6mm
ময়মনসিংহ 1002.1 hPa
32.2° 62%
120° 6mm
Weather

এক্সক্লুসিভএক্সক্লুসিভ

বনানীর আবাসিক ভবনে স্পা-গেস্ট হাউজ এখন অন্ধকার জগৎ

বনানীর আবাসিক ভবনে স্পা-গেস্ট হাউজ এখন অন্ধকার জগৎ

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীতে আবাসিক ভবনকে কেন্দ্র করে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যবসা ও গেস্ট হাউজের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বনানীর ২৭ নং রোডের ৬৫ নং বাড়ির ‘করিম ভিলা’ নামের একটি আবাসিক ভবনে পরিচালিত কয়েকটি পার্লার, সেলুন ও স্পা সেন্টারকে ঘিরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক সরবরাহ এবং কথিত দালালচক্রের তৎপরতার অভিযোগের পাশাপাশি ডেল্টা ডালিয়া নামের একটি বহুতল ভবনের ষষ্ঠ তলায় পরিচালিত ‘লাক্সারি’ গেস্ট হাউজ নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ।আরও পড়ুন: গুলশান ২৬-এ কথিত গেস্ট হাউস সিন্ডিকেটের রহস্যস্থানীয় বাসিন্দা, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাংবাদিকদের মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের বিভিন্ন দিক সামনে এসেছে। তবে অনুসন্ধানে পাওয়া প্রতিটি অভিযোগ স্বাধীনভাবে এবং আইনগতভাবে চূড়ান্তভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে না দেখে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দায়িত্বশীল নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে দুটি বিষয় আবাসিক ভবনে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার বৈধতা এবং এসব প্রতিষ্ঠানে আগত ব্যক্তিদের পরিচয় ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা। স্থানীয়দের প্রশ্ন, আবাসিক ভবনে যদি বৈধ ব্যবসা পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে তার ট্রেড লাইসেন্স, ভবনের ব্যবহার অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, কর্মী গ্রাহকের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অনুমোদন কতটা সঠিকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে?আরও পড়ুন: বনানীতে শৈশবের স্পা সেন্টার ঘিরে নারী ও দালাল সিন্ডিকেটবনানীর ‘করিম ভিলা’ নামের আবাসিক ভবনের কয়েকটি ফ্ল্যাটে দীর্ঘদিন ধরে বিউটি পার্লার, সেলুন ও স্পা-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও অভিযোগ উঠেছে, কিছু প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের আড়ালে ভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতে পারে।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, দিনের তুলনায় সন্ধ্যার পর ভবনটিতে অপরিচিত নারী-পুরুষের চলাচল বেড়ে যায়। গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তির যাতায়াত নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, কোনো ব্যক্তিগত ব্যবসা পরিচালনায় আপত্তি না থাকলেও আবাসিক ভবনের পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং অন্য বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যাতে ব্যাহত না হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।অভিযোগ রয়েছে, কথিত কিছু মধ্যস্থতাকারী বা দালালের মাধ্যমে নির্দিষ্ট গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে তাদের বিভিন্ন পার্লার, সেলুন কিংবা নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটে নেওয়া হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল ফোন ব্যবহার করে যোগাযোগ করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল নথি বা আইনগতভাবে যাচাইকৃত তথ্য প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি।আরও পড়ুন: চট্রগ্রাম গোয়ালপাড়ায় মাদক সম্রাজ্ঞী "আকলিমার" মাদকের হাটমাদকদ্রব্য সরবরাহের অভিযোগও উঠেছে করিম ভিলাকে ঘিরে। অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, ইয়াবা ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সরবরাহের সঙ্গে কথিত একটি চক্র জড়িত থাকতে পারে। ফলে এ অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।অভিযোগ সূত্রে করিম ভিলাকে ঘিরে কথিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সোলেমান ওরফে সাকিব এবং মাসুদ নামের দুই ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করা হলেও স্বাধীনভাবে সেসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের আগে তার বক্তব্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত সোলেমান ওরফে সাকিব এবং মাসুদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য বা অভিযোগের বিষয়ে কোনো নথি পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে।আরও পড়ুন: https://www.youtube.com/watch?v=p5fy5JPIYPUঅভিযোগ সূত্রে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কথাও বলা হয়েছে। তবে এ ধরনের দাবিরও স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের বিষয়টি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে নয়।অভিযোগের বিভিন্ন দিক যাচাই করতে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান চালানো হয়। অনুসন্ধানের সময় কথিত মাদকদ্রব্যের মূল্য নিয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথন রেকর্ড করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কথোপকথনের প্রেক্ষাপট, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়, আর্থিক লেনদেন এবং কথিত মাদকদ্রব্যের অস্তিত্ব আইনগতভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তাই অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে উপস্থাপন করে প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।আরও পড়ুন: https://www.youtube.com/shorts/_rE9ZWrEISUকরিম ভিলার ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি বলে জানা গেছে। ফলে ভবন কর্তৃপক্ষের অবস্থান এই প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি। তবে ভবন কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক-কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে কোনো বক্তব্য, নথি বা ব্যাখ্যা দিলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।এদিকে করিম ভিলাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের পাশাপাশি বনানীর ডেল্টা ডালিয়া নামের একটি বহুতল ভবনের ষষ্ঠ তলায় পরিচালিত ‘লাক্সারি’ গেস্ট হাউজ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে গেস্ট হাউজটির কার্যক্রম, অতিথি নিবন্ধন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ব্যবসায়িক বৈধতা নিয়ে একাধিক বিষয় সামনে আসে। সরেজমিনে গেস্ট হাউজটির বাইরে উল্লেখযোগ্য কোনো স্পষ্ট সাইনবোর্ড চোখে পড়েনি বলে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ষষ্ঠ তলায় গেস্ট হাউজ পরিচালনার কিছু নির্দেশনা দেখা গেলেও অতিথিদের পরিচয় যাচাই ও নিবন্ধন সংক্রান্ত নথি সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানের সময় কয়েকজন অবস্থানরত অতিথির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। তাদের কয়েকজন দাবি করেন, কক্ষ নেওয়ার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র জমা বা পরিচয় নিবন্ধনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। তবে এটি গেস্ট হাউজটির নিয়মিত নীতি কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ কারণে গেস্ট হাউজটির অতিথি নিবন্ধন খাতা, পরিচয়পত্র সংরক্ষণের তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ব্যবসা পরিচালনার বৈধ কাগজপত্র যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।আরও পড়ুন: প্রভার পোস্টে আলোড়নঅনুসন্ধানের সময় একটি কক্ষে এক তরুণী নারী ও চল্লিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ দেখা গেছে বলে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ওই কক্ষে কিছু ট্যাবলেট সদৃশ বস্তু দেখা যায় বলেও জানানো হয়েছে। তবে সেগুলো আদৌ মাদকদ্রব্য কি না, ঘটনাস্থলে বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত করার সুযোগ ছিল না। অন্য একটি কক্ষে একজন নারী ও এনামুল হক নামে পরিচয় দেওয়া এক পুরুষকে অবস্থান করতে দেখা যায়। তারা স্বামী-স্ত্রী নন বলে স্বীকার করেছেন এমন দাবি প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। তবে প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ একই গেস্ট হাউজের কক্ষে অবস্থান করলেই তা কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়। এখানে মূল প্রশ্ন হলো গেস্ট হাউজ কর্তৃপক্ষ অতিথিদের পরিচয় যাচাই করেছে কি না এবং আইন ও ব্যবসায়িক বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করছে কি না।সাংবাদিকরা গেস্ট হাউজটির অন্যান্য কক্ষ ও কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করলে আল-আমিন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে অনুসন্ধানে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করেন এবং সংবাদ প্রকাশ নিয়ে আপত্তি জানান। অনুসন্ধানের সময় তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন, সুজন ও শুভসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাদের কথিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার দাবি করেন।ডেল্টা ডালিয়া ভবনের কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে ভবনে অপরিচিত মানুষের যাতায়াত বেড়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় বিভিন্ন ব্যক্তির চলাচল নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। আবার একজন বাসিন্দার ভাষ্য, “আমরা কারও বৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে নই। কিন্তু আবাসিক ভবনে এমন কোনো কর্মকাণ্ড চললে, যার কারণে বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়, তাহলে প্রশাসনের বিষয়টি দেখা উচিত। গেস্ট হাউজ এবং করিম ভিলাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগটি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে পুলিশ চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স, ব্যবসার অনুমোদন, অতিথি নিবন্ধন খাতা, সিসিটিভি ফুটেজ, কর্মচারীদের পরিচয় এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি যাচাই করতে পারে। শুধু তাই নয় এসব আপরাধীদের যেকোন মুহুর্তে দমন করতে পারে। আরও পড়ুন: দারুসসালামে অনুমোদনহীন অনৈতিক কর্মকান্ডে জসিম ও হারুনের দাপটকোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শুধু অভিযোগ উঠলেই সেটিকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা সাংবাদিকতার নীতি নয়। একইভাবে ব্যবসার আড়ালে যদি সত্যিই মাদক সরবরাহ, মানবপাচার, প্রতারণা কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, তাহলে সেটিও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এ কারণে করিম ভিলা ও লাক্সারি গেস্ট হাউজ দুই ক্ষেত্রেই প্রয়োজন নথি ও প্রমাণভিত্তিক তদন্ত। প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বৈধ কি না, ভবনের ব্যবহার অনুমোদিত কি না, অতিথিদের পরিচয় সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না, সিসিটিভি সচল আছে কি না এবং কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করাই এখন মূল বিষয়।সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আবাসিক ভবনে বেআইনি কোনো কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। করিম ভিলা এবং লাক্সারি গেস্ট হাউজকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের মধ্যে কিছু অভিযোগ গুরুতর হলেও এখন পর্যন্ত সবকটির আইনগত সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কোথাও মাদক পাওয়া গেছে কি না, কথিত দালালচক্র সত্যিই সক্রিয় কি না, কোনো ব্যবসা অনুমোদনহীন কি না কিংবা কোনো ব্যক্তি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কি না এসব প্রশ্নের উত্তর নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।আরও পড়ুন: বনানীতে শহিদের অবৈধ স্পা সেন্টার ঘিরে অন্ধকার জগৎঅন্যদিকে কোনো অভিযোগ সত্য হলে শুধু তদন্তের আশ্বাসে বিষয়টি থেমে থাকা উচিত নয়। প্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি। কারণ বনানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দীর্ঘদিন অনিষ্পন্ন থাকলে তার প্রভাব আশপাশের বাসিন্দাদের ওপর পড়তে পারে। সবশেষে, করিম ভিলা ও ডেল্টা ডালিয়ার ‘লাক্সারি’ গেস্ট হাউজকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ এখন তদন্তের দাবি রাখে। সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যকে চূড়ান্ত রায় হিসেবে নয়, বরং তদন্তের সূত্র হিসেবে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা যেমন জরুরি, তেমনি অভিযোগ অসত্য হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানেরও দায়মুক্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সারাবাংলা

জাতীয়জাতীয়

কিশোরগঞ্জ পাকুন্দিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে তিনি পাকুন্দিয়ায় পৌঁছান।প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সকাল থেকেই পাকুন্দিয়ার বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে ছিল নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ভিড়। ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে সড়কের পাশে অবস্থান নেন। প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে অপেক্ষায় ছিলেন স্থানীয়রা।দিনব্যাপী কিশোরগঞ্জ সফরের অংশ হিসেবে পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে পোনামাছ অবমুক্ত করার কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। আরও  পড়ুন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনে পাকুন্দিয়ার মির্জাপুরে উৎসবের আমেজ, সড়কের পাশে মানুষের ঢলএকই সঙ্গে স্থানীয় মৎস্যচাষিদের মধ্যে পোনা বিতরণ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কথা রয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে মির্জাপুর এলাকায় নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। নির্ধারিত কর্মসূচিস্থলসহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। মানুষের চলাচল ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণেও নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন ব্যবস্থা।প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে পুরো পাকুন্দিয়ায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। সড়কের দুই পাশে অপেক্ষমাণ মানুষের চোখ এখন প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির দিকে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনে পাকুন্দিয়ার মির্জাপুরে উৎসবের আমেজ, সড়কের পাশে মানুষের ঢল

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার মির্জাপুরে সকাল থেকেই বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। নির্ধারিত সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে নেমেছে মানুষের ঢল। প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে ভোর হওয়ার আগেই সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ।দিনব্যাপী কিশোরগঞ্জ সফরের অংশ হিসেবে পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে পোনামাছ অবমুক্ত করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। একই সঙ্গে স্থানীয় মৎস্যচাষিদের মধ্যে পোনা বিতরণ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচিও রয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। অনেকেই বলছেন, জীবনে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীকে কাছ থেকে দেখার সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।আরও  পড়ুন, রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ দাবি মিয়ানমারের, নিরাপত্তা স্থিতিশীল হলে ফেরত নেওয়ার ঘোষণাভোর থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে সড়কের পাশে অবস্থান নেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে জনসমাগম।প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে এলাকায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। যানচলাচল ও সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।সড়কের দুই পাশে অপেক্ষমাণ মানুষের একটাই প্রত্যাশা—দূর থেকে হলেও একবার প্রিয় নেতাকে চোখের দেখা পাওয়া।প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে পাকুন্দিয়ার মির্জাপুরে তাই সকাল থেকেই তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ। এখন অপেক্ষা প্রধানমন্ত্রীর আগমনের।

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ দাবি মিয়ানমারের, নিরাপত্তা স্থিতিশীল হলে ফেরত নেওয়ার ঘোষণা

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের আবারও ‘বাঙালি’ হিসেবে দাবি করেছে মিয়ানমার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাদের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে শুধু তাদেরই ফেরত নেওয়া হবে।শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে মিয়ানমার জানিয়েছে, বাংলাদেশে থাকা যাচাই হওয়া তিন লাখের কিছু বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষকে ফেরত নিতে তারা প্রস্তুত। তবে রোহিঙ্গা নামে কোনো জাতিগোষ্ঠী মিয়ানমারে নেই বলেও দাবি করেছে দেশটি।মিয়ানমারের দাবি, বাংলাদেশের দেওয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকার মধ্যে ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।অন্যদিকে ৪ হাজার ২৪১ জনকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত’ এবং ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেছে মিয়ানমার।আরও পড়ুন, ডেঙ্গুতে চলতি বছর প্রাণহানি ৬৭, একদিনে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ৭৩০২০১৬ ও ২০১৭ সালে আরসার হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের সময় বিপুলসংখ্যক ‘বাঙালি’ বাংলাদেশে পালিয়ে যায় বলে দাবি করেছে মিয়ানমার। দেশটির হিসাবে, ওই সময় ৫ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বাংলাদেশে আসে।তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রত্যাবাসনে আগ্রহ দেখানোর পাশাপাশি রোহিঙ্গা পরিচয় অস্বীকার করে আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে মিয়ানমার।২০১৭ সালে রাখাইনে সামরিক অভিযানের পর প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। আগের ও পরের ঢল মিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ ৮৯ হাজার।২০১৮ ও ২০১৯ সালে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব ও পরিচয়ের প্রশ্নে তা বাস্তবায়িত হয়নি। এবারও বাস্তবে প্রত্যাবাসন শুরু হবে কি না, তা নিয়ে রয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা।

ডেঙ্গুতে চলতি বছর প্রাণহানি ৬৭, একদিনে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ৭৩০

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৭৩০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া দুজনই খুলনা বিভাগের বাসিন্দা। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৬৭ জনে।গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ সময়ে এই বিভাগে নতুন করে ৩৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ১২৩ জন, বরিশালে ১০৭, চট্টগ্রামে ৮৯, ময়মনসিংহে ২৭ এবং রংপুর বিভাগে ১০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।আরও  পড়ুন, প্রথমবার কিশোরগঞ্জে সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে শনিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ৬৭ জনের মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের।এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ১৫ জন, বরিশালে ৮, ময়মনসিংহে ৬ এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ জন মারা গেছেন। রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগে একজন করে মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।হাসপাতালে প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনীতিরাজনীতি

বিএনপিতে নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাসের তোড়জোড়

বিএনপিতে নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাসের তোড়জোড়

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার পর বিএনপিতে শুরু হয়েছে নেতৃত্ব ও দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের আলোচনা। এরই মধ্যে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে একসঙ্গে চার নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।নতুন সদস্যরা হলেন—রুহুল কবির রিজভী, আমানউল্লাহ আমান, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং ফরহাদ হালিম ডোনার।শনিবার বিএনপির গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়াতে দলীয় সিদ্ধান্তে এই চার নেতাকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের যুক্ত করার পর বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে।তবে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে দলের মহাসচিব পদ শূন্য হবে। এ পদে কে আসবেন, তা নিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। রুহুল কবির রিজভীকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার পর তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।আরও  পড়ুন, ‘ছয় মাসের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম, সমাধান পরিকল্পনা আমাদের হাতে’: হাসনাতএদিকে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে মন্ত্রিসভায় সীমিত রদবদলের বিষয়েও আলোচনা চলছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন দায়িত্ব বণ্টনের পাশাপাশি কয়েকজন নতুন মুখকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করা এবং কয়েকজন প্রতিমন্ত্রীকে পূর্ণ মন্ত্রী করার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য হলে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হবে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তার ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিন ও বড় মেয়ে মির্জা শামারুহর নাম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে।সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতা ঘিরে বিএনপির দলীয় নেতৃত্ব, সরকারে দায়িত্ব বণ্টন এবং ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে একাধিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা সামনে এসেছে।

‘ছয় মাসের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম, সমাধান পরিকল্পনা আমাদের হাতে’: হাসনাত

‘ছয় মাসের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম, সমাধান পরিকল্পনা আমাদের হাতে’: হাসনাত

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ছয় মাসের সময়সীমাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা দেওয়ার জন্য ছয় মাসের সময়সীমা দিয়ে চ্যালেঞ্জ করেছেন। সেই চ্যালেঞ্জ তারা গ্রহণ করেছেন এবং সংকট সমাধানে পরিকল্পনাও প্রস্তাব করছেন।হাসনাতের দাবি, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এরই মধ্যে ৩০ দিন, ৬ থেকে ১৮ মাস এবং দীর্ঘমেয়াদি—এই তিন পর্যায়ে মোট ১৫ দফা সমাধান প্রস্তাব দিয়েছেন।তিনি বলেন, এসব প্রস্তাবে ভর্তুকি নীতি, ফুয়েল প্ল্যান, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।আরও  পড়ুন, বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে চার জ্যেষ্ঠ নেতা, রিজভী-আমানসহ নতুন সদস্য মনোনীতসরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী মিলিয়ে ৬২ জনের টিম থাকার পরও বিরোধী দলের প্রস্তাব সরকারের কাছে পৌঁছায়নি—এমন দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর টিমের সক্ষমতা ও যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হাসনাত।বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তার দাবি, এ নীতির মাধ্যমে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে সরাসরি বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে।মহেশখালীর এফএসআরইউতে অগ্নিকাণ্ডের পর রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা নিয়েও স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন এনসিপির এই নেতা।হাসনাত বলেন, ছয় মাসের হিসাব তারা মেনে নিয়েছেন, তবে এই সময়ের ঘড়ি বিরোধী দলের নয়, সরকারের। তার ভাষায়, ছয় মাস পর জনগণ জানতে চাইবে—দেশ অন্ধকারে ছিল সমাধানের অভাবে, নাকি ক্ষমতার অভাবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে চার জ্যেষ্ঠ নেতা, রিজভী-আমানসহ নতুন সদস্য মনোনীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে চার জ্যেষ্ঠ নেতা, রিজভী-আমানসহ নতুন সদস্য মনোনীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে চার জ্যেষ্ঠ নেতাকে সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। দলটির সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপি।নতুন সদস্যরা হলেন—অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম এবং মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।শনিবার বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বার্তায় বলা হয়, আরও  পড়ুন,‘নির্বাচনের পরও দৃশ্যমান সংস্কার হয়নি’ : আসিফ মাহমুদদলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই চার নেতাকে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।বিএনপি আশা প্রকাশ করেছে, নতুন সদস্যরা তাদের অভিজ্ঞতা, মেধা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে দল ও জনগণের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবদান রাখবেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের পরিধি আরও শক্তিশালী হবে।

‘নির্বাচনের পরও দৃশ্যমান সংস্কার হয়নি’ : আসিফ মাহমুদ

‘নির্বাচনের পরও দৃশ্যমান সংস্কার হয়নি’ : আসিফ মাহমুদ

নির্বাচনের পরও দৃশ্যমান সংস্কার হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আয়োজিত এক গণসমাবেশে তিনি সরকারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।সমাবেশে তিনি বলেন, নির্বাচন হলেই সব সমস্যার সমাধান হবে—এমন প্রতিশ্রুতি দীর্ঘদিন জনগণকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার কয়েক মাস পরও গ্যাস, বিদ্যুৎ, নিত্যপণ্যের দাম এবং কর্মসংস্থানের মতো বিষয়ে প্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা যায়নি বলে তার দাবি।আরও  পড়ুন, সাঈদীর মৃত্যুবার্ষিকীতে ডা. শফিকুর রহমান: ‘তিনি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন’আসিফ মাহমুদ চাঁদাবাজি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়েছে এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকদের নির্বাচন অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা হলে একটি সমতাভিত্তিক পরিবেশ তৈরি হতে পারে।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকার বা বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সারাবাংলা

রাঙামাটিতে পিকআপ উল্টে দুই নারীসহ নিহত ৪, আহত ২

রাঙামাটিতে পিকআপ উল্টে দুই নারীসহ নিহত ৪, আহত ২

রাঙামাটির মানিকছড়িতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপ উল্টে দুই নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন।রোববার ভোরে সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের মানিকছড়ি সেনাক্যাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাঙামাটি শহর থেকে কয়েকজন যাত্রী নিয়ে একটি পিকআপ কুতুকছড়ি বাজারের দিকে যাচ্ছিল। পথে মানিকছড়ি এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপটি সড়কের ওপর উল্টে যায়। এতে কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন।পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত আরেকজনকে চট্টগ্রামে পাঠানো হলে পথে তার মৃত্যু হয়।আরও  পড়ুন, গ্যাসের তীব্র সংকটে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষানিহতরা হলেন মেঘরানী চাকমা, শান্তনা চাকমা, শোভা চাকমা ও শান্তি রঞ্জন চাকমা।রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর মোট ছয়জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে তিনজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। গুরুতর আহত একজনকে চট্টগ্রামে রেফার করা হলেও পথেই তার মৃত্যু হয়। অন্য দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।আহতদের মধ্যে পিকআপের চালক জ্ঞান বিকাশ চাকমা ও সুমন চাকমা রয়েছেন।এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে। প্রতিবেদন শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

গ্যাসের তীব্র সংকটে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষা

গ্যাসের তীব্র সংকটে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষা

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। শুধু যানবাহন নয়, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বাসাবাড়ির মানুষ ও মির্জাপুরের গোড়াই শিল্পাঞ্চলের ব্যবসায়ী-শ্রমিকরা।শনিবার মির্জাপুর পৌরসভার বাওয়ার কুমারজানি এলাকায় মা সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাসের চাপ না থাকায় স্টেশনের সামনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন চালক ও শ্রমিকরা।স্থানীয়দের অভিযোগ, টানা ১০ থেকে ১২ দিন ধরে সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ কম। যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্ত থেকে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার মহাসড়কের দুই পাশে রয়েছে ১৫টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন। এসব স্টেশনেই কমবেশি একই পরিস্থিতি।আরও পড়ুন, রূপসায় যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা, এলাকায় আতঙ্কফিলিং স্টেশনগুলোর ব্যবস্থাপকদের দাবি, মাঝেমধ্যে সামান্য গ্যাস পাওয়া গেলেও একটি যানবাহনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকার বেশি গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।এদিকে গ্যাসের চাপ কম থাকায় মির্জাপুরের গোড়াই শিল্পাঞ্চলের অর্ধশতাধিক শিল্পকারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো কারখানায় উৎপাদন প্রায় বন্ধের পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।একই সঙ্গে বাসাবাড়িতেও দেখা দিয়েছে রান্নার সংকট। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনছে, আবার কেউ কেউ লাকড়ি ব্যবহার করে রান্না করছেন।সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে পরিবহন, আবাসিক ও শিল্প—তিন খাতেই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

রূপসায় যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা, এলাকায় আতঙ্ক

রূপসায় যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা, এলাকায় আতঙ্ক

খুলনার রূপসায় জয় ঢালি নামে এক যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের দুর্জনি মহল শহীদের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয় ঢালিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। হামলায় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। বিশেষ করে গলা ও পায়ে একাধিক কোপের চিহ্ন রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় জয় ঢালি পড়ে থাকলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।আরও  পড়ুন, মহেশপুর সীমান্তে নারী শিশুসহ ৪ বাংলাদেশি আটকতবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। হত্যাকাণ্ডের পর হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুর রাজ্জাক মীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর হত্যাকাণ্ডের কারণ, জড়িতদের পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মহেশপুর সীমান্তে নারী শিশুসহ ৪ বাংলাদেশি আটক

মহেশপুর সীমান্তে নারী শিশুসহ ৪ বাংলাদেশি আটক

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় সীমান্তে অভিযান চালিয়ে নারী শিশুসহ ৪ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিজিবি। আটকদের মধ্যে দুইজন নারী,একজন পুরুষ ও একজন শিশু।‎শনিবার দুপুরে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি’র সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমানের পাঠানো প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে শ্যামকুড় বিজিবি’র নায়েব সুবেদার নজরুল ইসলামেরনেতৃত্বে অভিযান চালায় বিজিবি’র টহল দল। আরও  পড়ুন,ভাটিয়ারীতে জাহাজে মাত্রাতিরিক্ত বিষাক্ত গ্যাসেই ৯ শ্রমিকের মৃত্যুএ সময় সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে নারী শিশুসহ ৪ জনকেআটক করা হয়। আটককৃরা অবৈধ ভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন বলে বিজিবি’রপক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।আটক কৃতদেরকে মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি’র এ সহকারী পরিচালক।মহেশপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, আটক নারী ও শিশুদের যশোর জাস্টিস এন্ডকেয়ার সেন্টারে পাঠানো হবে। প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষকে মামলা দায়েরের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

আন্তর্জাতিক

আব্রাহাম লিংকনে নৌসেনাদের সংঘর্ষ নিহত ৭ দাবি তাসনিমের

আব্রাহাম লিংকনে নৌসেনাদের সংঘর্ষ নিহত ৭ দাবি তাসনিমের

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ভেতরে নৌসেনাদের মধ্যে সংঘর্ষে সাতজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন—এমন দাবি করেছে ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ।তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে রণতরীটি ওই অঞ্চলে মোতায়েন থাকায় নৌসেনাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। এমনকি নৌসেনাদের পরিবারের সদস্যরাও দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।এই অসন্তোষ নিয়ে আলোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপারের এক উপদেষ্টা রণতরীটিতে যান বলে জানিয়েছে তাসনিম।প্রতিবেদন অনুযায়ী, নৌসেনাদের এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ওই উপদেষ্টাকে দুয়োধ্বনি দেওয়া হয় এবং তার দিকে পানির বোতল ছুড়ে মারা হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ক্রুদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।আরও পড়ুন. ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীনের ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ইরানতাসনিমের দাবি, সংঘর্ষের সময় ছুরি ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এতে সাতজন নৌসেনা নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পরও রণতরীটির ভেতরে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে দাবি করা হয়েছে।ইরানি সংবাদমাধ্যমটির আরও দাবি, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন টানা ২৬৩ দিন ধরে মোতায়েন রয়েছে এবং বর্তমানে ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে। রণতরীটির অন্যতম দায়িত্ব হিসেবে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর করার কথাও উল্লেখ করেছে তারা।এ ছাড়া টানা ২০৮ দিন সমুদ্রে অবস্থানের দাবি করে তাসনিম বলেছে, আধুনিক সময়ে কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর জন্য এটি দীর্ঘতম একটানা সমুদ্র মোতায়েনের ঘটনা।তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নৌসেনাদের সংঘর্ষে সাতজন নিহত হওয়ার এই দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে নিহতের সংখ্যা ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

১৩ আগস্ট ২০২৬

রাজধানী

সদরঘাটে পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘর্ষ, কাঁচির আঘাতে যুবক নিহত

সদরঘাটে পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘর্ষ, কাঁচির আঘাতে যুবক নিহত

রাজধানীর সদরঘাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মিতুল নামে ২০ বছর বয়সী এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। ঘটনার পর ১০ জনকে আটক করেছে সূত্রাপুর থানা পুলিশ।শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিত্তরঞ্জন এভিনিউয়ের ইস্ট বেঙ্গল মার্কেটের ১৪ তলায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।পুলিশ জানায়, পূর্বের একটি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে আঘাতের ঘটনায় মিতুল গুরুতর আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়।ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।সূত্রাপুর থানার ওসি মো. মতিউর রহমান জানিয়েছেন, নিহত মিতুল কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, আরও  পড়ুন, গ্যাসের তীব্র সংকটে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।মিতুলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।এদিকে ঘটনার পর সদরঘাট এলাকায় বিক্ষোভ করেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা।স্থানীয়দের দাবি, সদরঘাট এলাকায় ফুটপাত ও দোকানপাটের চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ১৩ আগস্টও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। ওই ঘটনার জের ধরেই শনিবারের সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ড বলে দাবি স্থানীয়দের।তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

২ ঘন্টা আগে

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণতন্ত্র যাত্রায় দেশর উন্নয়ন হবে কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

খেলাধুলা

৭ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার লিড ১৫, স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

৭ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার লিড ১৫, স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

ডারউইন টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। চতুর্থ দিনের প্রথম দেড় ঘণ্টাতেই অস্ট্রেলিয়ার তিন ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান এই টাইগার অলরাউন্ডার। তবে ক্যামেরন গ্রিন ও মিচেল স্টার্কের দৃঢ় প্রতিরোধে শেষ পর্যন্ত ইনিংস হার এড়িয়েছে স্বাগতিকরা।রোববার ৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। দিনের সপ্তম ওভারেই আঘাত হানেন মিরাজ। ৭২ বলে ৩০ রান করা অ্যালেক্স ক্যারিকে লিটন দাসের গ্লাভসবন্দি করে গ্রিনের সঙ্গে তার ৫৬ রানের জুটি ভাঙেন তিনি।এরপর মাত্র ৫ রানে বেউ ওয়েবস্টারকে বোল্ড করেন মিরাজ। ১৩ মাস ও ১৩ ইনিংস পর হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া ক্যামেরন গ্রিনকে সঙ্গ দিতে নেমে প্যাট কামিন্সও টিকতে পারেননি।আরও  পড়ুন, মিরাজের ঘূর্ণিতে কাঁপল অস্ট্রেলিয়া, তবু লিড নিয়ে লড়াইয়ে অজিরা ৮ রান করা অজি অধিনায়ককে সাদমান ইসলামের ক্যাচে পরিণত করেন মিরাজ।তাতে ২০৭ রানেই সপ্তম উইকেট হারিয়ে ইনিংস হারের শঙ্কায় পড়ে অস্ট্রেলিয়া।তবে অষ্টম উইকেটে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। ক্যামেরন গ্রিন ও মিচেল স্টার্কের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফেরানোর চেষ্টা করে অস্ট্রেলিয়া।৭৯তম ওভারের শেষ বলে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ৪২৬ রান স্পর্শ করে অস্ট্রেলিয়া। পরের ওভারেই সিঙ্গেল নিয়ে লিড নিশ্চিত করেন গ্রিন।লাঞ্চে যাওয়ার সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২৪৩ রান। বাংলাদেশের বিপক্ষে লিড দাঁড়িয়েছে ১৫ রান।বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করেছিল। জবাবে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ১৯৮ রানে। ফলে ম্যাচের শেষ ভাগে এখনো বাংলাদেশের সামনে জয়ের সুযোগ থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার গ্রিন-স্টার্ক জুটি ম্যাচের উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।

আইন আদালত

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

আছিয়া ধর্ষণ হত্যা মামলার শুনানি শুরু

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে।মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহকর্মী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।আরও পড়ুন. বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতাতবে একই রায়ে অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।এরপর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় আট বছরের এই শিশু।নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১০ জুন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়।এই বিশেষ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন

সকল জেলার খবর