দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বিনোদন

পরকীয়া জেনেও সংসার ছাড়েননি জিনাত আমান

স্বামীর পরকীয়া এবং ভেঙে যাওয়া দাম্পত্যের নানা সংকটের কথা জানা সত্ত্বেও সংসার ধরে রেখেছিলেন বলিউড অভিনেত্রী জিনাত আমান। একসময় মাজহার খানের সঙ্গে বিয়ের সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল বলেও উপলব্ধি করেছিলেন তিনি। তবু বিচ্ছেদের পথে হাঁটেননি এই অভিনেত্রী। বরং স্বামী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর নিজের কষ্ট ও অভিমান ভুলে তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন জিনাত। সিমি গারেওয়ালের নেওয়া এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছিল জিনাতের দাম্পত্য জীবনের সেই অজানা অধ্যায়। বলিউডের অন্যতম সাহসী অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত জিনাত আমান। অভিনয় ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে প্রচলিত নায়িকার ধারণায় পরিবর্তন এনেছিলেন তিনি। তবে পেশাগত জীবনের সাফল্যের বিপরীতে তাঁর ব্যক্তিজীবন ছিল নানা সংকটে ভরা। বিশেষ করে অভিনেতা ও প্রযোজক মাজহার খানের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য জীবন ছিল কঠিন। সিমি গারেওয়ালের পুরোনো সাক্ষাৎকারে জিনাত জানিয়েছিলেন, বিয়ের প্রথম বছরেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁর সিদ্ধান্তটি হয়তো ভুল ছিল। তখন তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এর মধ্যেই একটি ঘটনা তাঁকে আরও ভেঙে দেয়। তৎকালীন জনপ্রিয় চলচ্চিত্রবিষয়ক পত্রিকা ‘স্টারডাস্ট’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে জিনাত জানতে পারেন, মাজহার অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। বিষয়টি জানার পরও সংসার ভেঙে বেরিয়ে আসেননি তিনি। জিনাত জানিয়েছিলেন, পরিবারের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে নিজেই মাজহারকে বিয়ে করেছিলেন।আরও পড়ুন,প্রথম দিনেই বাজিমাত দৃশ্যম ৩-এর বিশ্বব্যাপী আয় ৯৫ কোটি রুপি তাই সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার পরিবর্তে সংসার টিকিয়ে রাখতে নিজের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। দাম্পত্য কলহ ও স্বামীর প্রতারণার বিষয়টি জানার পরও বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেননি। এরপর মাজহার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বামীর প্রতি নিজের দায়িত্ব থেকে সরে যাননি জিনাত। বরং আগের সব কষ্ট ও অভিমান পাশে রেখে তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। পরবর্তী পাঁচ বছর অসুস্থ স্বামীকে সুস্থ করে তোলাই যেন তাঁর জীবনের অন্যতম প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়ায়। সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে জিনাত জানিয়েছিলেন, মুম্বাইয়ের এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটে বেড়িয়েছেন তিনি। নামী চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশেও গিয়েছেন। শুধু হাসপাতালেই ছোটাছুটি নয়, বাড়িতে অসুস্থ স্বামীর পরিচর্যার কাজও নিজেই শিখে নিয়েছিলেন জিনাত। চিকিৎসার বিভিন্ন বিষয় থেকে রোগীর দৈনন্দিন দেখভাল সবকিছুতেই নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন তিনি। তবে এতকিছুর পরও জীবনের শেষ অধ্যায়ে আরেক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন জিনাত। মাজহারের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা জিনাতের সঞ্চয় ও অর্থ নিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন স্বামীর পাশে থেকে তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব পালন করা এই অভিনেত্রী শেষ পর্যন্ত আর্থিকভাবেও কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়ে যান।

পরকীয়া জেনেও সংসার ছাড়েননি জিনাত আমান