দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

আন্তর্জাতিক

সহ-পাইলটের হামলায় রক্তাক্ত ক্যাপ্টেন খুললেন ককপিটের দরজা

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে সহ-পাইলটের হামলার শিকার ভারতীয় প্রধান পাইলট বা ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার বলেছেন, ‘আমি ওই মানুষগুলোকে মরতে দিতে পারি না।’ ভয়াবহ ঘটনার পর শুক্রবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান তিনি। ঘটনার সময় আহত ও রক্তাক্ত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন ক্যাপ্টেন মাচ্ছার। তার দরজা খোলার পর বিমানের যাত্রী ও অন্য ক্রু সদস্যরা ককপিটে প্রবেশ করে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে কাবু করেন। পরে বিমানটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনালাপে ক্যাপ্টেন মাচ্ছার জানান, হামলার পর তিনি প্রায় সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছিলেন। এ সময় বিমানটি দ্রুত নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে শেষ শক্তি দিয়ে ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করেন তিনি। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, আরও পড়ুন,ইমাম মুয়াজ্জিনদের আধুনিক কৃষিতে সম্পৃক্ত করতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে: কৃষিমন্ত্রীঘটনার সময় বিমানটি অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। ককপিটের দরজা খোলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অন্য পাইলটরা বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে আহত ক্যাপ্টেনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিমানের অধিকাংশ ইসরায়েলি যাত্রীকে পরবর্তীতে বিকল্প ফ্লাইটে গন্তব্যে পাঠানো হয়। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্যাপ্টেন মাচ্ছার ও যাত্রীদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ঘটনার সঙ্গে কোনো দেশের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এদিকে ঘটনার পর ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলগামী ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। হামলার প্রকৃত কারণ ও উদ্দেশ্য এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না তা জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

সহ-পাইলটের হামলায় রক্তাক্ত ক্যাপ্টেন খুললেন ককপিটের দরজা