দেশের আবাসন ও পর্যটন খাতে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসা Divine Group-এর বিভিন্ন প্রকল্প, গ্রাহকের অর্থ ব্যবস্থাপনা, জমির মালিকানা, প্রকল্প বাস্তবায়ন, কর্পোরেট গভর্ন্যান্স, কর-ভ্যাট ও কমপ্লায়েন্স এবং গ্রাহক রিফান্ড নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রস্তুত করা একটি Preliminary Findings, Risk Assessment & Corporate Governance Report-এ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের ওপর প্রাথমিক মূল্যায়নে একাধিক ক্ষেত্রে ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি’ চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনের শুরুতেই স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এতে থাকা প্রতারণা, অর্থ পাচার, অর্থ আত্মসাৎ, রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিগত স্বার্থে অর্থ ব্যবহার কিংবা অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগকে আদালত বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না। বরং এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে নথিপত্র, ব্যাংক রেকর্ড, ভূমি রেকর্ড, আদালতের নথি, অডিট এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, Divine প্রায় ২০০৯ সালে Divine Holdings Limited নামে ব্যবসা শুরু করে। শুরুতে রাজধানীর পূর্বাচল এলাকার ২৬ ও ২৭ নম্বর সেক্টরের কাছাকাছি একটি ভূমি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে প্রকল্পটি বিভিন্ন নামে বাজারজাত করা হয়েছে এবং বর্তমানে সেটি Divine Purbachal City নামে উপস্থাপিত হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্বাচল প্রকল্পে প্রায় ৫৫৬ কাঠা জমি গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি রয়েছে। এসব গ্রাহকের প্রায় ৯০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি বা NRB বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদেশে থাকা গ্রাহকদের বড় অংশের ওপর নির্ভরশীল এই ব্যবসায়িক মডেলকে প্রতিবেদনে একটি ঝুঁকির কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। কারণ, দেশের বাইরে অবস্থানরত ক্রেতাদের পক্ষে প্রকল্পের জমির বাস্তব অবস্থা, মালিকানা, দখল ও উন্নয়নকাজ সরেজমিনে যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
এক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিল, নামজারি, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, বিক্রয় চুক্তি, জমির মূল্য পরিশোধের রেকর্ড, দখল সংক্রান্ত নথি, মামলা-মোকদ্দমার তথ্য এবং গ্রাহকের কাছে বরাদ্দ দেওয়া জমির তালিকা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। এসব নথিতে ঘোষিত জমি ও আইনগতভাবে অর্জিত জমির মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য পাওয়া গেলে সেটি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের সতর্কসংকেত হতে পারে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে গত প্রায় ১৭ বছরের কার্যক্রম নিয়ে আরও একটি প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, Divine-এর ব্যবসার বড় অংশ ভূমি বিক্রি ও গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল ছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প এলাকায় পর্যাপ্ত site development হয়নি, অবকাঠামো উন্নয়ন সীমিত এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের তুলনায় sales activity বেশি ছিল। ফলে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের কত অংশ প্রকৃত প্রকল্প উন্নয়নে ব্যয় হয়েছে সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। এই প্রশ্নের উত্তর পেতে project-wise accounting এবং প্রতিটি প্রকল্পের আয়-ব্যয়ের পৃথক হিসাব যাচাই করা জরুরি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
Divine-এর ব্যবসার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কক্সবাজারের হোটেল প্রকল্প। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্বাচলের ভূমি ব্যবসার পর কক্সবাজারে একটি পাঁচ তারকা হোটেল প্রকল্পের জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটির প্রাথমিক নাম ছিল Divine Sea Point। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির জন্য ১ হাজার ৩০০টির বেশি শেয়ার বিক্রি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে এবং প্রতি শেয়ারের গড় মূল্য ছিল প্রায় ৬ লাখ টাকা। প্রায় ২০১৭ সাল পর্যন্ত শেয়ার বিক্রির কার্যক্রম চলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে একই প্রকল্প Cox Holiday Inn নামে বাজারজাত করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে গ্রাহকের কাছ থেকে মোট কত টাকা সংগ্রহ হয়েছে, তার কত অংশ জমি কেনায়, কত অংশ নির্মাণকাজে, কত অংশ প্রকল্প পরিচালনায় এবং কত টাকা রিফান্ড হিসেবে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমানে প্রকল্পটির সম্পদ ও দায় কত সেটিও নির্ভরযোগ্য নথি দিয়ে পুনর্মিলন করা প্রয়োজন।
Cox Holiday Inn প্রকল্পের নির্মাণ অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, করোনা মহামারির সময়ে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। বেজমেন্ট এবং একতলা পর্যন্ত নির্মাণের পর কাজ বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রায় ২০২১ সাল থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পটি কার্যত stalled অবস্থায় থাকার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ফলে পুরোনো নির্মাণ অসম্পূর্ণ থাকার পরও কেন নতুন করে গ্রাহক বা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে—এ প্রশ্ন সামনে এসেছে।
Cox Holiday Inn-এর জমির মালিকানা নিয়ে আরও গুরুতর প্রশ্নের কথা বলা হয়েছে। কিছু জমি Divine Holdings Limited-এর নামে, কিছু Divine Hotel and Resort Limited-এর নামে এবং কিছু জমি খাস হতে পারে এমন তথ্য প্রতিবেদনে রয়েছে। এছাড়া কিছু জমি এখনও Power of Attorney-ভিত্তিক হতে পারে এবং সম্পূর্ণ clean title chain প্রস্তুত হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব তথ্য সত্য হলে প্রকল্পটির জন্য বড় ধরনের আইনি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে স্বাধীন সম্পত্তি আইনজীবীর মাধ্যমে root of title, বর্তমান মালিকানা, নামজারি, খতিয়ান, ভূমি কর, দখল, খাস মর্যাদা, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, বন্ধক, মামলা, অধিগ্রহণ নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন যাচাই করার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রকল্পের নকশা, নির্মাণ এলাকা ও মার্কেটিং উপস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুমোদিত বা নথিভুক্ত construction area প্রায় ৭৬ হাজার বর্গফুট হলেও marketing presentation-এ প্রায় ১ লাখ বর্গফুট দেখানো হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের মূল্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হিসেবে উপস্থাপনের কথাও উল্লেখ রয়েছে। অনুমোদিত নকশা, স্থাপত্য পরিকল্পনা, structural design, MEP design, BOQ, construction permit ও হালনাগাদ অনুমোদন পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
Divine-এর বিভিন্ন প্রকল্প থেকে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে অন্য সম্পদ কেনা বা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর মধ্যে কুড়িল এলাকায় হাসপাতালের জন্য জমি, প্রায় ২০০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত হাসপাতাল প্রকল্প, সংসদ এলাকার কাছাকাছি হোটেল প্রকল্পের জমি, পূর্বাচলের বিভিন্ন জমি এবং ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অ্যাপার্টমেন্টের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, এসব সম্পদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ SM Habibur Rahman অথবা তাঁর step-brother Hedayat Mowla-এর নামে থাকতে পারে। তবে প্রায় ৯০ শতাংশ identified asset একজনের নামে থাকার যে দাবি করা হয়েছে, সেটি certified property record দিয়ে যাচাই করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এখানেই সামনে এসেছে একটি মৌলিক প্রশ্ন—কোনো সম্পদ যদি গ্রাহক বা প্রকল্পের অর্থ দিয়ে কেনা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা প্রকল্পের নামে নয় কেন? এর উত্তর পেতে source of funds এবং beneficial ownership অনুসন্ধান প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্মিলিত ব্যাংক দাবির পরিমাণ ১০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলে প্রাথমিক তথ্যের কথা বলা হয়েছে। তবে এসব দাবিও ব্যাংক ঋণের হিসাব, mortgage document, আদালতের রায়, recovery proceedings এবং বর্তমান outstanding-এর মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
ব্যবসায়িক আস্থা তৈরিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, SM Habibur Rahman নিজেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্কের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি ব্যবহার করে গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরির চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে রিপোর্টটি নিজেই সতর্ক করেছে এসবকে প্রমাণিত রাজনৈতিক সম্পর্ক বা অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না, যতক্ষণ না নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনে Divine-এর কথিত business model নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে একটি সম্ভাব্য চিত্র দেখানো হয়েছে project presentation, customer trust, fund collection, fund utilization, project delay, new project বা resale এবং এরপর continued fund collection। অর্থাৎ পুরোনো প্রকল্পের দায় ও কাজ সম্পন্ন করার পরিবর্তে নতুন গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের ওপর ব্যবসার ধারাবাহিকতা নির্ভর করছে কি না সেটিই অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এজন্য গ্রাহকের টাকা কোন ব্যাংক হিসাবে গেছে, কার কাছে স্থানান্তর হয়েছে, কী উদ্দেশ্যে ব্যয় হয়েছে, কোন নথি দিয়ে তা সমর্থিত এবং শেষ পর্যন্ত প্রকৃত সুবিধাভোগী কে প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে Divine নতুন করে Divine Purbachal City এবং Cox Holiday Inn প্রকল্পকে সামনে নিয়ে বাজারে সক্রিয় হয়। ২০২৫ সাল থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৫ কোটি টাকার hotel share sale এবং প্রায় ২.৫ কোটি টাকা collection হয়েছে বলে তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু একই সময়ে প্রকল্প উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এই হিসাব bank statement, share register ও customer ledger দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।
গ্রাহকদের রিফান্ড বা ফেরতযোগ্য অর্থ নিয়েও বড় ধরনের উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে ২০ কোটি টাকার বেশি refund-related issue থাকার দাবি এবং কিছু refund claim প্রায় ১৩ বছর ধরে unresolved থাকার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রাহকের জন্য কত টাকা জমা হয়েছে, কোন প্রকল্পে, কখন দেওয়া হয়েছে, চুক্তি কী ছিল, রিফান্ডের তারিখ কখন, কত টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং কত টাকা বকেয়া—এসব তথ্য নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ customer liability schedule তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে।
Cox Holiday Inn-এর নামে customer money গ্রহণের জন্য একটি proprietorship account ব্যবহারের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সেখানে Cox Holiday Inn একটি proprietorship business এবং সেটি SM Habibur Rahman-এর নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি করা হয়েছে। এখানে প্রশ্ন উঠেছে যদি গ্রাহকের কাছে company share বা ownership বিক্রি করা হয়, তাহলে কেন সেই অর্থ proprietorship account-এ যাবে? কে অর্থ গ্রহণ করছে, কোন entity contract করছে, কে share issue করছে, প্রকল্পের মালিক কে, জমির মালিক কে এবং বিনিয়োগকারীর কাছে আইনগতভাবে দায়ী entity কোনটি এসব বিষয়ে স্পষ্টতা থাকা জরুরি।
Divine-এর বিভিন্ন কোম্পানির Tax, VAT, Trade License এবং অন্যান্য regulatory compliance দীর্ঘদিন সঠিকভাবে maintained হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ২০১৩ সালের পর থেকে compliance gap থাকার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে RJSC filing, আয়কর রিটার্ন, VAT return, trade license, corporate annual return, audited financial statement, bank account status এবং regulatory approval যাচাই করার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটির একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলোসাধারণ management accounting-এর পরিবর্তে Divine-এর ক্ষেত্রে forensic audit বেশি উপযোগী হতে পারে। Cash book, general ledger, customer ledger, bank reconciliation, project accounts, refund ledger, share-sale ledger, construction expense, related-party payment, personal expense, loan liability এবং asset register যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে।
গ্রাহকের অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও রিপোর্টে এটিকে সরাসরি ‘money laundering’ হিসেবে ঘোষণা না করার সতর্কতা রয়েছে। বরং Potential Fund Diversion/Misuse of Customer Funds/Related-Party Transaction Risk হিসেবে forensic verification-এর বিষয় হিসেবে দেখানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কর্মীদের বেতন বিলম্ব, sales team-এর বেতন সমস্যা, প্রশিক্ষণের অভাব, HR policy-এর ঘাটতি, শ্রম আইন বাস্তবায়নের প্রশ্ন, unpaid/free work এবং কর্মী হয়রানির অভিযোগও প্রতিবেদনে রয়েছে। Sales team-এর প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মী চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন বলে একটি দাবি উল্লেখ করা হয়েছে। এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বেতন সমস্যা, ব্যবস্থাপনার আচরণ, প্রশিক্ষণের অভাব, HR কাঠামোর দুর্বলতা, অবাস্তব প্রতিশ্রুতি এবং sales support-এর অভাবের কথা বলা হয়েছে। তবে এসব তথ্য payroll, employment contract, attendance, resignation record ও employee complaint দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে Divine-এর corporate governance কাঠামো নিয়েও একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। Board oversight, financial control, segregation of duties, project accounting, customer fund segregation, contract management, tax/VAT compliance, HR, asset ownership, related-party transaction এবং investor reporting বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্বলতার আশঙ্কা চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে Managing Director-কেন্দ্রিক অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগকে বড় governance risk হিসেবে দেখা হয়েছে।
প্রাথমিক ঝুঁকি মূল্যায়নে Project Execution, Land Title, Financial Transparency, Customer Refund, Corporate Governance, Accounting Control, Investor Protection, Management Dependency এবং Construction Risk এসব ক্ষেত্রে ‘অত্যন্ত উচ্চ’ ঝুঁকি দেখানো হয়েছে। Regulatory Compliance-কে উচ্চ থেকে অত্যন্ত উচ্চ এবং HR & Employment-কে উচ্চ ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। Related-party transaction ও fund diversion-এর ঝুঁকিও অত্যন্ত উচ্চ বলা হয়েছে, তবে যাচাই সাপেক্ষে।
প্রতিবেদনের চূড়ান্ত মূল্যায়নে বলা হয়েছে, নতুন বিনিয়োগ, share purchase বা customer fund collection-এর আগে ব্যাপক independent due diligence প্রয়োজন। এজন্য forensic financial audit, land audit, legal audit, tax/VAT audit এবং project audit করার সুপারিশ করা হয়েছে।
Divine Group-কে ঘিরে উঠে আসা প্রশ্নগুলোর ব্যাপ্তি এখন শুধু একটি প্রকল্পের নির্মাণ অগ্রগতি বা গ্রাহকের রিফান্ডে সীমাবদ্ধ নেই। জমির মালিকানা, প্রকল্প অনুমোদন, গ্রাহকের অর্থ কোথায় যাচ্ছে, কোম্পানির নামে সম্পদ কেন নেই, কর্পোরেট কাঠামো কতটা স্বচ্ছ, রিফান্ডের দায় কত এবং নতুন করে অর্থ সংগ্রহের আর্থিক ভিত্তি কী—এসব প্রশ্ন একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তবে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো—অভিযোগকে রায় হিসেবে উপস্থাপন না করা। Divine Group বা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে প্রতারক, অর্থ পাচারকারী বা অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করার মতো প্রমাণ এই রিপোর্টে নেই। বরং মূল নথিটিও বলছে, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ভূমির দলিল, customer ledger, আদালতের নথি, tax/VAT record, approved plan, construction BOQ এবং audited financial statement স্বাধীনভাবে যাচাই করাই হবে প্রকৃত সত্য নির্ধারণের ভিত্তি।
অতএব এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দীর্ঘদিনের পুরোনো প্রকল্প, অসম্পূর্ণ নির্মাণ, সম্ভাব্য রিফান্ড দায় এবং নতুন করে অর্থ সংগ্রহের মধ্যে বাস্তব আর্থিক ভারসাম্য কোথায়? গ্রাহকদের অর্থ যে উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে, সেই অর্থের প্রতিটি টাকা কি প্রকল্প পর্যন্ত trace করা সম্ভব?
বিষয় : প্রকল্প Divine Group কোম্পানি

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬
দেশের আবাসন ও পর্যটন খাতে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসা Divine Group-এর বিভিন্ন প্রকল্প, গ্রাহকের অর্থ ব্যবস্থাপনা, জমির মালিকানা, প্রকল্প বাস্তবায়ন, কর্পোরেট গভর্ন্যান্স, কর-ভ্যাট ও কমপ্লায়েন্স এবং গ্রাহক রিফান্ড নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রস্তুত করা একটি Preliminary Findings, Risk Assessment & Corporate Governance Report-এ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের ওপর প্রাথমিক মূল্যায়নে একাধিক ক্ষেত্রে ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি’ চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনের শুরুতেই স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এতে থাকা প্রতারণা, অর্থ পাচার, অর্থ আত্মসাৎ, রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিগত স্বার্থে অর্থ ব্যবহার কিংবা অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগকে আদালত বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না। বরং এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে নথিপত্র, ব্যাংক রেকর্ড, ভূমি রেকর্ড, আদালতের নথি, অডিট এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, Divine প্রায় ২০০৯ সালে Divine Holdings Limited নামে ব্যবসা শুরু করে। শুরুতে রাজধানীর পূর্বাচল এলাকার ২৬ ও ২৭ নম্বর সেক্টরের কাছাকাছি একটি ভূমি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে প্রকল্পটি বিভিন্ন নামে বাজারজাত করা হয়েছে এবং বর্তমানে সেটি Divine Purbachal City নামে উপস্থাপিত হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্বাচল প্রকল্পে প্রায় ৫৫৬ কাঠা জমি গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি রয়েছে। এসব গ্রাহকের প্রায় ৯০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি বা NRB বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদেশে থাকা গ্রাহকদের বড় অংশের ওপর নির্ভরশীল এই ব্যবসায়িক মডেলকে প্রতিবেদনে একটি ঝুঁকির কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। কারণ, দেশের বাইরে অবস্থানরত ক্রেতাদের পক্ষে প্রকল্পের জমির বাস্তব অবস্থা, মালিকানা, দখল ও উন্নয়নকাজ সরেজমিনে যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
এক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিল, নামজারি, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, বিক্রয় চুক্তি, জমির মূল্য পরিশোধের রেকর্ড, দখল সংক্রান্ত নথি, মামলা-মোকদ্দমার তথ্য এবং গ্রাহকের কাছে বরাদ্দ দেওয়া জমির তালিকা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। এসব নথিতে ঘোষিত জমি ও আইনগতভাবে অর্জিত জমির মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য পাওয়া গেলে সেটি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের সতর্কসংকেত হতে পারে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে গত প্রায় ১৭ বছরের কার্যক্রম নিয়ে আরও একটি প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, Divine-এর ব্যবসার বড় অংশ ভূমি বিক্রি ও গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল ছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প এলাকায় পর্যাপ্ত site development হয়নি, অবকাঠামো উন্নয়ন সীমিত এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের তুলনায় sales activity বেশি ছিল। ফলে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের কত অংশ প্রকৃত প্রকল্প উন্নয়নে ব্যয় হয়েছে সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। এই প্রশ্নের উত্তর পেতে project-wise accounting এবং প্রতিটি প্রকল্পের আয়-ব্যয়ের পৃথক হিসাব যাচাই করা জরুরি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
Divine-এর ব্যবসার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কক্সবাজারের হোটেল প্রকল্প। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্বাচলের ভূমি ব্যবসার পর কক্সবাজারে একটি পাঁচ তারকা হোটেল প্রকল্পের জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটির প্রাথমিক নাম ছিল Divine Sea Point। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির জন্য ১ হাজার ৩০০টির বেশি শেয়ার বিক্রি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে এবং প্রতি শেয়ারের গড় মূল্য ছিল প্রায় ৬ লাখ টাকা। প্রায় ২০১৭ সাল পর্যন্ত শেয়ার বিক্রির কার্যক্রম চলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে একই প্রকল্প Cox Holiday Inn নামে বাজারজাত করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে গ্রাহকের কাছ থেকে মোট কত টাকা সংগ্রহ হয়েছে, তার কত অংশ জমি কেনায়, কত অংশ নির্মাণকাজে, কত অংশ প্রকল্প পরিচালনায় এবং কত টাকা রিফান্ড হিসেবে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমানে প্রকল্পটির সম্পদ ও দায় কত সেটিও নির্ভরযোগ্য নথি দিয়ে পুনর্মিলন করা প্রয়োজন।
Cox Holiday Inn প্রকল্পের নির্মাণ অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, করোনা মহামারির সময়ে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। বেজমেন্ট এবং একতলা পর্যন্ত নির্মাণের পর কাজ বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রায় ২০২১ সাল থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পটি কার্যত stalled অবস্থায় থাকার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ফলে পুরোনো নির্মাণ অসম্পূর্ণ থাকার পরও কেন নতুন করে গ্রাহক বা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে—এ প্রশ্ন সামনে এসেছে।
Cox Holiday Inn-এর জমির মালিকানা নিয়ে আরও গুরুতর প্রশ্নের কথা বলা হয়েছে। কিছু জমি Divine Holdings Limited-এর নামে, কিছু Divine Hotel and Resort Limited-এর নামে এবং কিছু জমি খাস হতে পারে এমন তথ্য প্রতিবেদনে রয়েছে। এছাড়া কিছু জমি এখনও Power of Attorney-ভিত্তিক হতে পারে এবং সম্পূর্ণ clean title chain প্রস্তুত হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব তথ্য সত্য হলে প্রকল্পটির জন্য বড় ধরনের আইনি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে স্বাধীন সম্পত্তি আইনজীবীর মাধ্যমে root of title, বর্তমান মালিকানা, নামজারি, খতিয়ান, ভূমি কর, দখল, খাস মর্যাদা, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, বন্ধক, মামলা, অধিগ্রহণ নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন যাচাই করার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রকল্পের নকশা, নির্মাণ এলাকা ও মার্কেটিং উপস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুমোদিত বা নথিভুক্ত construction area প্রায় ৭৬ হাজার বর্গফুট হলেও marketing presentation-এ প্রায় ১ লাখ বর্গফুট দেখানো হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের মূল্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হিসেবে উপস্থাপনের কথাও উল্লেখ রয়েছে। অনুমোদিত নকশা, স্থাপত্য পরিকল্পনা, structural design, MEP design, BOQ, construction permit ও হালনাগাদ অনুমোদন পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
Divine-এর বিভিন্ন প্রকল্প থেকে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে অন্য সম্পদ কেনা বা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর মধ্যে কুড়িল এলাকায় হাসপাতালের জন্য জমি, প্রায় ২০০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত হাসপাতাল প্রকল্প, সংসদ এলাকার কাছাকাছি হোটেল প্রকল্পের জমি, পূর্বাচলের বিভিন্ন জমি এবং ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অ্যাপার্টমেন্টের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, এসব সম্পদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ SM Habibur Rahman অথবা তাঁর step-brother Hedayat Mowla-এর নামে থাকতে পারে। তবে প্রায় ৯০ শতাংশ identified asset একজনের নামে থাকার যে দাবি করা হয়েছে, সেটি certified property record দিয়ে যাচাই করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এখানেই সামনে এসেছে একটি মৌলিক প্রশ্ন—কোনো সম্পদ যদি গ্রাহক বা প্রকল্পের অর্থ দিয়ে কেনা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা প্রকল্পের নামে নয় কেন? এর উত্তর পেতে source of funds এবং beneficial ownership অনুসন্ধান প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্মিলিত ব্যাংক দাবির পরিমাণ ১০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলে প্রাথমিক তথ্যের কথা বলা হয়েছে। তবে এসব দাবিও ব্যাংক ঋণের হিসাব, mortgage document, আদালতের রায়, recovery proceedings এবং বর্তমান outstanding-এর মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
ব্যবসায়িক আস্থা তৈরিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, SM Habibur Rahman নিজেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্কের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি ব্যবহার করে গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরির চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে রিপোর্টটি নিজেই সতর্ক করেছে এসবকে প্রমাণিত রাজনৈতিক সম্পর্ক বা অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না, যতক্ষণ না নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনে Divine-এর কথিত business model নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে একটি সম্ভাব্য চিত্র দেখানো হয়েছে project presentation, customer trust, fund collection, fund utilization, project delay, new project বা resale এবং এরপর continued fund collection। অর্থাৎ পুরোনো প্রকল্পের দায় ও কাজ সম্পন্ন করার পরিবর্তে নতুন গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের ওপর ব্যবসার ধারাবাহিকতা নির্ভর করছে কি না সেটিই অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এজন্য গ্রাহকের টাকা কোন ব্যাংক হিসাবে গেছে, কার কাছে স্থানান্তর হয়েছে, কী উদ্দেশ্যে ব্যয় হয়েছে, কোন নথি দিয়ে তা সমর্থিত এবং শেষ পর্যন্ত প্রকৃত সুবিধাভোগী কে প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে Divine নতুন করে Divine Purbachal City এবং Cox Holiday Inn প্রকল্পকে সামনে নিয়ে বাজারে সক্রিয় হয়। ২০২৫ সাল থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৫ কোটি টাকার hotel share sale এবং প্রায় ২.৫ কোটি টাকা collection হয়েছে বলে তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু একই সময়ে প্রকল্প উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এই হিসাব bank statement, share register ও customer ledger দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।
গ্রাহকদের রিফান্ড বা ফেরতযোগ্য অর্থ নিয়েও বড় ধরনের উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে ২০ কোটি টাকার বেশি refund-related issue থাকার দাবি এবং কিছু refund claim প্রায় ১৩ বছর ধরে unresolved থাকার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রাহকের জন্য কত টাকা জমা হয়েছে, কোন প্রকল্পে, কখন দেওয়া হয়েছে, চুক্তি কী ছিল, রিফান্ডের তারিখ কখন, কত টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং কত টাকা বকেয়া—এসব তথ্য নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ customer liability schedule তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে।
Cox Holiday Inn-এর নামে customer money গ্রহণের জন্য একটি proprietorship account ব্যবহারের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সেখানে Cox Holiday Inn একটি proprietorship business এবং সেটি SM Habibur Rahman-এর নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি করা হয়েছে। এখানে প্রশ্ন উঠেছে যদি গ্রাহকের কাছে company share বা ownership বিক্রি করা হয়, তাহলে কেন সেই অর্থ proprietorship account-এ যাবে? কে অর্থ গ্রহণ করছে, কোন entity contract করছে, কে share issue করছে, প্রকল্পের মালিক কে, জমির মালিক কে এবং বিনিয়োগকারীর কাছে আইনগতভাবে দায়ী entity কোনটি এসব বিষয়ে স্পষ্টতা থাকা জরুরি।
Divine-এর বিভিন্ন কোম্পানির Tax, VAT, Trade License এবং অন্যান্য regulatory compliance দীর্ঘদিন সঠিকভাবে maintained হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ২০১৩ সালের পর থেকে compliance gap থাকার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে RJSC filing, আয়কর রিটার্ন, VAT return, trade license, corporate annual return, audited financial statement, bank account status এবং regulatory approval যাচাই করার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটির একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলোসাধারণ management accounting-এর পরিবর্তে Divine-এর ক্ষেত্রে forensic audit বেশি উপযোগী হতে পারে। Cash book, general ledger, customer ledger, bank reconciliation, project accounts, refund ledger, share-sale ledger, construction expense, related-party payment, personal expense, loan liability এবং asset register যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে।
গ্রাহকের অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও রিপোর্টে এটিকে সরাসরি ‘money laundering’ হিসেবে ঘোষণা না করার সতর্কতা রয়েছে। বরং Potential Fund Diversion/Misuse of Customer Funds/Related-Party Transaction Risk হিসেবে forensic verification-এর বিষয় হিসেবে দেখানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কর্মীদের বেতন বিলম্ব, sales team-এর বেতন সমস্যা, প্রশিক্ষণের অভাব, HR policy-এর ঘাটতি, শ্রম আইন বাস্তবায়নের প্রশ্ন, unpaid/free work এবং কর্মী হয়রানির অভিযোগও প্রতিবেদনে রয়েছে। Sales team-এর প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মী চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন বলে একটি দাবি উল্লেখ করা হয়েছে। এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বেতন সমস্যা, ব্যবস্থাপনার আচরণ, প্রশিক্ষণের অভাব, HR কাঠামোর দুর্বলতা, অবাস্তব প্রতিশ্রুতি এবং sales support-এর অভাবের কথা বলা হয়েছে। তবে এসব তথ্য payroll, employment contract, attendance, resignation record ও employee complaint দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে Divine-এর corporate governance কাঠামো নিয়েও একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। Board oversight, financial control, segregation of duties, project accounting, customer fund segregation, contract management, tax/VAT compliance, HR, asset ownership, related-party transaction এবং investor reporting বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্বলতার আশঙ্কা চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে Managing Director-কেন্দ্রিক অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগকে বড় governance risk হিসেবে দেখা হয়েছে।
প্রাথমিক ঝুঁকি মূল্যায়নে Project Execution, Land Title, Financial Transparency, Customer Refund, Corporate Governance, Accounting Control, Investor Protection, Management Dependency এবং Construction Risk এসব ক্ষেত্রে ‘অত্যন্ত উচ্চ’ ঝুঁকি দেখানো হয়েছে। Regulatory Compliance-কে উচ্চ থেকে অত্যন্ত উচ্চ এবং HR & Employment-কে উচ্চ ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। Related-party transaction ও fund diversion-এর ঝুঁকিও অত্যন্ত উচ্চ বলা হয়েছে, তবে যাচাই সাপেক্ষে।
প্রতিবেদনের চূড়ান্ত মূল্যায়নে বলা হয়েছে, নতুন বিনিয়োগ, share purchase বা customer fund collection-এর আগে ব্যাপক independent due diligence প্রয়োজন। এজন্য forensic financial audit, land audit, legal audit, tax/VAT audit এবং project audit করার সুপারিশ করা হয়েছে।
Divine Group-কে ঘিরে উঠে আসা প্রশ্নগুলোর ব্যাপ্তি এখন শুধু একটি প্রকল্পের নির্মাণ অগ্রগতি বা গ্রাহকের রিফান্ডে সীমাবদ্ধ নেই। জমির মালিকানা, প্রকল্প অনুমোদন, গ্রাহকের অর্থ কোথায় যাচ্ছে, কোম্পানির নামে সম্পদ কেন নেই, কর্পোরেট কাঠামো কতটা স্বচ্ছ, রিফান্ডের দায় কত এবং নতুন করে অর্থ সংগ্রহের আর্থিক ভিত্তি কী—এসব প্রশ্ন একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তবে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো—অভিযোগকে রায় হিসেবে উপস্থাপন না করা। Divine Group বা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে প্রতারক, অর্থ পাচারকারী বা অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করার মতো প্রমাণ এই রিপোর্টে নেই। বরং মূল নথিটিও বলছে, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ভূমির দলিল, customer ledger, আদালতের নথি, tax/VAT record, approved plan, construction BOQ এবং audited financial statement স্বাধীনভাবে যাচাই করাই হবে প্রকৃত সত্য নির্ধারণের ভিত্তি।
অতএব এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দীর্ঘদিনের পুরোনো প্রকল্প, অসম্পূর্ণ নির্মাণ, সম্ভাব্য রিফান্ড দায় এবং নতুন করে অর্থ সংগ্রহের মধ্যে বাস্তব আর্থিক ভারসাম্য কোথায়? গ্রাহকদের অর্থ যে উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে, সেই অর্থের প্রতিটি টাকা কি প্রকল্প পর্যন্ত trace করা সম্ভব?

আপনার মতামত লিখুন