দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

গুলশান ২৬ নাম্বার রোডে গেস্ট হাউসের আড়ালে ‘স্কর্ট সার্ভিস’ ও মাদকের অভিযোগ

গুলশান ২৬ নাম্বার রোডে গেস্ট হাউসের আড়ালে ‘স্কর্ট সার্ভিস’ ও মাদকের অভিযোগ
গেস্ট হাউসের আড়ালে ‘স্কর্ট সার্ভিস’ ও মাদকের অভিযোগ

 রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের ২৬ নাম্বার রোড| একসময় কূটনৈতিক ও আবাসিক পরিবেশের জন্য পরিচিত এ এলাকার বিভিন্ন ভবনে এখন গেস্ট হাউস, সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট ও আবাসিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিস্তার নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন| এর মধ্যে কয়েকটি গেস্ট হাউসকে ঘিরে ‘স্কর্ট সার্ভিস’, মাদকসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও সামনে এসেছে|স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, কিছু গেস্ট হাউসে দীর্ঘমেয়াদি আবাসনের পরিবর্তে ¯^ল্প সময়ের জন্য কক্ষ ভাড়া দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে| অভিযোগ রয়েছে, ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ বরাদ্দের মাধ্যমে সেখানে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ ˆতরি হচ্ছে| তবে এসব অভিযোগের ¯^াধীন সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন এবং কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অপরাধে জড়িত হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত জরুরি|

আরও  পড়ুন, বনানীতে শৈশবের স্পা সেন্টার ঘিরে নারী ও দালাল সিন্ডিকেট


সম্প্রতি বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গেলে সংবাদকর্মীদের একটি গেস্ট হাউসে প্রবেশের মুখেই বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে| সেখানে গেস্ট হাউসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি সাংবাদিকদের পরিচয় ও প্রবেশের উদ্দেশ্য জানতে চান এবং ভেতরে প্রবেশে বাধা দেন| এতে প্রশ্ন উঠেছে একটি ˆবধ আবাসিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হলে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে এমন বাধা দেওয়ার কারণ কী? গুলশানের ২৬ নং রোডে ২০/সি বাড়িটিতে কামরুজ্জামানের দির্ঘদীনের এমন অনৈতিক কর্মকান্ড আবারো নতুন করে আলোচনায় এসেছে| অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গেস্ট হাউসটির এক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ভাই, এখন ব্যবসার ধরন পাল্টিয়েছি| তবে ব্যবসার ধরন কীভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের সেবা দিচ্ছে, ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয় কি না কিংবা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি|

আরও  পড়ুন,সংবাদ দিগন্তকে আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ভুইয়া

এই বক্তব্যই বরং নতুন প্রশ্ন ˆতরি করেছে| ব্যবসার ধরন পরিবর্তনের অর্থ কী? পূর্বের কার্যক্রম কী ছিল? বর্তমানে কী ধরনের সেবা চালু রয়েছে? এসব পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও এখন খতিয়ে দেখা প্রয়োজন| গুলশানের মতো পরিকল্পিত ও গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকায় কোনো ভবনে গেস্ট হাউস, হোটেল, সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট বা এ ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের বিষয় রয়েছে|একটি ভবনে গেস্ট হাউস পরিচালনা করলেই সেটি ¯^য়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি আবাসিক ভবনে ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন, ব্যবহার অনুমতি, অগ্নিনিরাপত্তা, ট্রেড লাইসেন্স, কর-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও অন্যান্য বিধিবদ্ধ শর্ত পূরণ করা হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ|বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান ˆবধভাবে পরিচালিত হলেও তার ভেতরে যদি মাদক, মানবপাচার, যৌন শোষণ কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কার্যক্রম সংঘটিত হয়, তাহলে সেটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য গুরুতর ঝুঁকি ˆতরি করতে পারে|

আরও  পড়ুন, চট্রগ্রাম গোয়ালপাড়ায় মাদক সম্রাজ্ঞী "আকলিমার" মাদকের হাট
সাধারণত আবাসিক হোটেল বা গেস্ট হাউসে অতিথিদের পরিচয় যাচাই, রেজিস্ট্রেশন এবং অবস্থানের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়| কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান যদি দীর্ঘমেয়াদি বা রাতযাপনের পরিবর্তে মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য কক্ষ বরাদ্দ দেওয়ার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন সেখানে অপরাধ সংঘটনের সম্ভাব্য ঝুঁকি বাড়তে পারে| অবশ্য ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ ভাড়া দেওয়াই অপরাধের প্রমাণ নয়| ব্যবসায়িক বাস্তবতায় বিভিন্ন ধরনের ¯^ল্পমেয়াদি থাকার ব্যবস্থা থাকতে পারে| কিন্তু এর সঙ্গে যদি পরিচয় গোপন রাখা, সন্দেহজনক অতিথি, মাদক লেনদেন, দালালদের তৎপরতা কিংবা অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ যুক্ত|
স্থানীয়দের অভিযোগ, গেস্ট হাউসকেন্দ্রিক কিছু ব্যক্তির আনাগোনা এবং প্রবেশমুখে মধ্যস্থতাকারী বা কথিত দালালদের উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে| সাংবাদিকরা অনুসন্ধানে গেলে তাদের প্রবেশের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা এবং বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে| একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে সাংবাদিক অনুসন্ধান করবেন এটি ¯^াভাবিক গণমাধ্যমীয় দায়িত্ব|  কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান যদি নিয়মিতভাবে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেয়, তাহলে সেটি ¯^চ্ছতার প্রশ্নকে আরও জোরালো করে|

আরও  পড়ুন,গাজীপুরে লাইসেন্স ছাড়া এমএলএম কার্যক্রমের অভিযোগ

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কথিত ‘স্কর্ট সার্ভিস’ পরিচালনার অভিযোগ বিভিন্ন এলাকায় শোনা যায়| অনেক ক্ষেত্রে আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস বা সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্টকে অস্থায়ী মিলনস্থল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও উঠে আসে|গুলশান ২৬ ন¤^র রোডের ২০/সি বাড়িটির সংশ্লিষ্ট গেস্ট হাউসগুলোকে ঘিরে এমন অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে| তবে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করতে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত, ডিজিটাল তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রেজিস্টার ও সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা প্রয়োজন|আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো আবাসিক ভবনে নিয়মবহির্ভূতভাবে অপরিচিত ব্যক্তিদের ঘন ঘন যাতায়াত, পরিচয় যাচাইয়ে দুর্বলতা এবং ¯^ল্পমেয়াদি কক্ষ ব্যবহারের সুযোগ থাকলে সেটি অপরাধীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয়স্থলে পরিণত হতে পারে| এ ধরনের জায়গায় মাদক লেনদেন, প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল, চুরি, মারামারি, নারী ও শিশু পাচারসহ নানা অপরাধের সুযোগ ˆতরি হতে পারে| বিশেষ করে কক্ষ বরাদ্দের ক্ষেত্রে অতিথির পরিচয় যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করলে কোনো অপরাধের পর তদন্তে তথ্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে যায়|বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো ভবনে রাত-বিরাতে অপরিচিত মানুষের আনাগোনা বেড়ে গেলে আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে অ¯^স্তি ˆতরি হয়| একই সঙ্গে রাস্তায় অপরিচিত গাড়ির অবস্থান,

আরও  পড়ুন, হামলা-হয়রানিতে চ্যালেঞ্জে পুলিশ

 সন্দেহজনক ব্যক্তিদের চলাচল এবং ভবনের প্রবেশপথে মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে| তাদের দাবি, কোনো প্রতিষ্ঠান ˆবধভাবে পরিচালিত হলে তার ˆবধতার কাগজপত্র, কার্যক্রম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ¯^চ্ছতা থাকা উচিত|প্রথমত, গেস্ট হাউসটির ট্রেড লাইসেন্স, ভবন ব্যবহারের অনুমোদন এবং ব্যবসার প্রকৃতি যাচাই করা প্রয়োজন| দ্বিতীয়ত, অগ্নিনিরাপত্তা ও অন্যান্য নিরাপত্তা বিধি মানা হচ্ছে কি না তা দেখা দরকার| তৃতীয়ত, অতিথিদের পরিচয় সংরক্ষণ ও রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন|  গুলশান ২৬ ন¤^র রোডে গেস্ট হাউসের আড়ালে কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক সিন্ডিকেট ও ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ বরাদ্দের অভিযোগ নিয়ে এখন কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে| প্রতিষ্ঠানগুলোর ˆবধ অনুমোদন আছে কি না, তাদের ব্যবসার ধরন কী, কক্ষ কীভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়, অতিথিদের পরিচয় যাচাই করা হয় কি না এবং কোনো অপরাধী চক্র এসব স্থাপনাকে ব্যবহার করছে কি না এসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন| 

বিষয় : মাদক গুলশান কার্যক্রম গেস্ট হাউস স্কর্ট সার্ভিস

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬


গুলশান ২৬ নাম্বার রোডে গেস্ট হাউসের আড়ালে ‘স্কর্ট সার্ভিস’ ও মাদকের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

 রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের ২৬ নাম্বার রোড| একসময় কূটনৈতিক ও আবাসিক পরিবেশের জন্য পরিচিত এ এলাকার বিভিন্ন ভবনে এখন গেস্ট হাউস, সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট ও আবাসিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিস্তার নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন| এর মধ্যে কয়েকটি গেস্ট হাউসকে ঘিরে ‘স্কর্ট সার্ভিস’, মাদকসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও সামনে এসেছে|স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, কিছু গেস্ট হাউসে দীর্ঘমেয়াদি আবাসনের পরিবর্তে ¯^ল্প সময়ের জন্য কক্ষ ভাড়া দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে| অভিযোগ রয়েছে, ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ বরাদ্দের মাধ্যমে সেখানে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ ˆতরি হচ্ছে| তবে এসব অভিযোগের ¯^াধীন সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন এবং কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অপরাধে জড়িত হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত জরুরি|

আরও  পড়ুন, বনানীতে শৈশবের স্পা সেন্টার ঘিরে নারী ও দালাল সিন্ডিকেট


সম্প্রতি বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গেলে সংবাদকর্মীদের একটি গেস্ট হাউসে প্রবেশের মুখেই বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে| সেখানে গেস্ট হাউসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি সাংবাদিকদের পরিচয় ও প্রবেশের উদ্দেশ্য জানতে চান এবং ভেতরে প্রবেশে বাধা দেন| এতে প্রশ্ন উঠেছে একটি ˆবধ আবাসিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হলে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে এমন বাধা দেওয়ার কারণ কী? গুলশানের ২৬ নং রোডে ২০/সি বাড়িটিতে কামরুজ্জামানের দির্ঘদীনের এমন অনৈতিক কর্মকান্ড আবারো নতুন করে আলোচনায় এসেছে| অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গেস্ট হাউসটির এক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ভাই, এখন ব্যবসার ধরন পাল্টিয়েছি| তবে ব্যবসার ধরন কীভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের সেবা দিচ্ছে, ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয় কি না কিংবা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি|

আরও  পড়ুন,সংবাদ দিগন্তকে আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ভুইয়া

এই বক্তব্যই বরং নতুন প্রশ্ন ˆতরি করেছে| ব্যবসার ধরন পরিবর্তনের অর্থ কী? পূর্বের কার্যক্রম কী ছিল? বর্তমানে কী ধরনের সেবা চালু রয়েছে? এসব পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও এখন খতিয়ে দেখা প্রয়োজন| গুলশানের মতো পরিকল্পিত ও গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকায় কোনো ভবনে গেস্ট হাউস, হোটেল, সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট বা এ ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের বিষয় রয়েছে|একটি ভবনে গেস্ট হাউস পরিচালনা করলেই সেটি ¯^য়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি আবাসিক ভবনে ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন, ব্যবহার অনুমতি, অগ্নিনিরাপত্তা, ট্রেড লাইসেন্স, কর-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও অন্যান্য বিধিবদ্ধ শর্ত পূরণ করা হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ|বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান ˆবধভাবে পরিচালিত হলেও তার ভেতরে যদি মাদক, মানবপাচার, যৌন শোষণ কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কার্যক্রম সংঘটিত হয়, তাহলে সেটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য গুরুতর ঝুঁকি ˆতরি করতে পারে|

আরও  পড়ুন, চট্রগ্রাম গোয়ালপাড়ায় মাদক সম্রাজ্ঞী "আকলিমার" মাদকের হাট
সাধারণত আবাসিক হোটেল বা গেস্ট হাউসে অতিথিদের পরিচয় যাচাই, রেজিস্ট্রেশন এবং অবস্থানের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়| কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান যদি দীর্ঘমেয়াদি বা রাতযাপনের পরিবর্তে মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য কক্ষ বরাদ্দ দেওয়ার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন সেখানে অপরাধ সংঘটনের সম্ভাব্য ঝুঁকি বাড়তে পারে| অবশ্য ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ ভাড়া দেওয়াই অপরাধের প্রমাণ নয়| ব্যবসায়িক বাস্তবতায় বিভিন্ন ধরনের ¯^ল্পমেয়াদি থাকার ব্যবস্থা থাকতে পারে| কিন্তু এর সঙ্গে যদি পরিচয় গোপন রাখা, সন্দেহজনক অতিথি, মাদক লেনদেন, দালালদের তৎপরতা কিংবা অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ যুক্ত|
স্থানীয়দের অভিযোগ, গেস্ট হাউসকেন্দ্রিক কিছু ব্যক্তির আনাগোনা এবং প্রবেশমুখে মধ্যস্থতাকারী বা কথিত দালালদের উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে| সাংবাদিকরা অনুসন্ধানে গেলে তাদের প্রবেশের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা এবং বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে| একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে সাংবাদিক অনুসন্ধান করবেন এটি ¯^াভাবিক গণমাধ্যমীয় দায়িত্ব|  কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান যদি নিয়মিতভাবে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেয়, তাহলে সেটি ¯^চ্ছতার প্রশ্নকে আরও জোরালো করে|

আরও  পড়ুন,গাজীপুরে লাইসেন্স ছাড়া এমএলএম কার্যক্রমের অভিযোগ

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কথিত ‘স্কর্ট সার্ভিস’ পরিচালনার অভিযোগ বিভিন্ন এলাকায় শোনা যায়| অনেক ক্ষেত্রে আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস বা সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্টকে অস্থায়ী মিলনস্থল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও উঠে আসে|গুলশান ২৬ ন¤^র রোডের ২০/সি বাড়িটির সংশ্লিষ্ট গেস্ট হাউসগুলোকে ঘিরে এমন অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে| তবে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করতে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত, ডিজিটাল তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রেজিস্টার ও সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা প্রয়োজন|আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো আবাসিক ভবনে নিয়মবহির্ভূতভাবে অপরিচিত ব্যক্তিদের ঘন ঘন যাতায়াত, পরিচয় যাচাইয়ে দুর্বলতা এবং ¯^ল্পমেয়াদি কক্ষ ব্যবহারের সুযোগ থাকলে সেটি অপরাধীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয়স্থলে পরিণত হতে পারে| এ ধরনের জায়গায় মাদক লেনদেন, প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল, চুরি, মারামারি, নারী ও শিশু পাচারসহ নানা অপরাধের সুযোগ ˆতরি হতে পারে| বিশেষ করে কক্ষ বরাদ্দের ক্ষেত্রে অতিথির পরিচয় যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করলে কোনো অপরাধের পর তদন্তে তথ্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে যায়|বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো ভবনে রাত-বিরাতে অপরিচিত মানুষের আনাগোনা বেড়ে গেলে আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে অ¯^স্তি ˆতরি হয়| একই সঙ্গে রাস্তায় অপরিচিত গাড়ির অবস্থান,

আরও  পড়ুন, হামলা-হয়রানিতে চ্যালেঞ্জে পুলিশ

 সন্দেহজনক ব্যক্তিদের চলাচল এবং ভবনের প্রবেশপথে মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে| তাদের দাবি, কোনো প্রতিষ্ঠান ˆবধভাবে পরিচালিত হলে তার ˆবধতার কাগজপত্র, কার্যক্রম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ¯^চ্ছতা থাকা উচিত|প্রথমত, গেস্ট হাউসটির ট্রেড লাইসেন্স, ভবন ব্যবহারের অনুমোদন এবং ব্যবসার প্রকৃতি যাচাই করা প্রয়োজন| দ্বিতীয়ত, অগ্নিনিরাপত্তা ও অন্যান্য নিরাপত্তা বিধি মানা হচ্ছে কি না তা দেখা দরকার| তৃতীয়ত, অতিথিদের পরিচয় সংরক্ষণ ও রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন|  গুলশান ২৬ ন¤^র রোডে গেস্ট হাউসের আড়ালে কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক সিন্ডিকেট ও ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ বরাদ্দের অভিযোগ নিয়ে এখন কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে| প্রতিষ্ঠানগুলোর ˆবধ অনুমোদন আছে কি না, তাদের ব্যবসার ধরন কী, কক্ষ কীভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়, অতিথিদের পরিচয় যাচাই করা হয় কি না এবং কোনো অপরাধী চক্র এসব স্থাপনাকে ব্যবহার করছে কি না এসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন| 


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত