রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীর ৬ নম্বর সড়কে স্টার কাবাব সংলগ্ন একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীর দাবি, ওই স্পা সেন্টারে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও মাদক-সংশ্লিষ্ট তৎপরতা পরিচালিত হচ্ছে।
আরোও পড়ুন: বনানীতে শহিদের অবৈধ স্পা সেন্টার ঘিরে অন্ধকার জগৎ
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, দিনের পাশাপাশি রাতেও বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের যাতায়াত বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও নিবিড় নজরদারি প্রয়োজন। যদিও অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "এলাকাটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক দুই ধরনের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই যেকোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আইন অনুযায়ী হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিয়মিত তদারকি করা উচিত। আরেক বাসিন্দার ভাষ্য, আমরা চাই প্রশাসন অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখুক। অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা নিক।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সম্প্রতি স্পা সেন্টারটি চালু হওয়ার পর থেকেই এর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তাদের দাবি, রাত গভীর পর্যন্ত কিছু মানুষের আসা-যাওয়া স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।
আরোও পড়ুন: বনানীর ২৭ নম্বর রোডের স্পা নিয়ে প্রশ্নের শেষ কোথায়?
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অভিযোগের বিষয়গুলো নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ বা তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বশীল এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। কোথাও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী তদন্ত করা হয়। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, "কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলেই সেটি সত্য ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
আরোও পড়ুন: বনানীতে অপহরণের অভিযোগে চাঞ্চল্য তথ্য, উদ্ধার হল শিশু
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান যদি লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে বা আইনবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী ঘোষণা করা আইন ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, রাজধানীতে স্পা, বিউটি সেলুন ও ওয়েলনেস সেন্টারের মতো বৈধ ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে যথাযথ লাইসেন্স, নিয়মিত তদারকি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে একদিকে বৈধ ব্যবসায়ীরা সুরক্ষা পাবেন, অন্যদিকে কোনো অনিয়ম থাকলে তা দ্রুত শনাক্ত করা সহজ হবে।অভিযোগের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে যদি কোনো অনিয়ম না থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও তদন্তের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার সুযোগ পাবে।
আরোও পড়ুন: বনানীতে কোটি টাকার লাভের লোভ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতার ৩
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্পা সেন্টারের মালিক শৈশব বলেন, ভাই আমরা যে ব্যবসা করি তা সকলের জানা। এছাড়া তিনি একেক সময় একেক পরিচয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্পা সেন্টারের আড়ালে প্রকাশ্যেই চালিয়ে আসাছে তার অপরাধের কার্যক্রম। তিনি আবার নিজেকে রাজনৈতিক পরিচয় আবার কখনো ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে থাকেন। তবে সচেতন মহলের মতে, রাজধানীর যেকোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিষয় : স্পা রাজধানী অপরাধ বনানী বনানী থানা

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬
রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীর ৬ নম্বর সড়কে স্টার কাবাব সংলগ্ন একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীর দাবি, ওই স্পা সেন্টারে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও মাদক-সংশ্লিষ্ট তৎপরতা পরিচালিত হচ্ছে।
আরোও পড়ুন: বনানীতে শহিদের অবৈধ স্পা সেন্টার ঘিরে অন্ধকার জগৎ
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, দিনের পাশাপাশি রাতেও বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের যাতায়াত বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও নিবিড় নজরদারি প্রয়োজন। যদিও অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "এলাকাটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক দুই ধরনের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই যেকোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আইন অনুযায়ী হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিয়মিত তদারকি করা উচিত। আরেক বাসিন্দার ভাষ্য, আমরা চাই প্রশাসন অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখুক। অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা নিক।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সম্প্রতি স্পা সেন্টারটি চালু হওয়ার পর থেকেই এর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তাদের দাবি, রাত গভীর পর্যন্ত কিছু মানুষের আসা-যাওয়া স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।
আরোও পড়ুন: বনানীর ২৭ নম্বর রোডের স্পা নিয়ে প্রশ্নের শেষ কোথায়?
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অভিযোগের বিষয়গুলো নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ বা তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বশীল এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। কোথাও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী তদন্ত করা হয়। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, "কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলেই সেটি সত্য ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
আরোও পড়ুন: বনানীতে অপহরণের অভিযোগে চাঞ্চল্য তথ্য, উদ্ধার হল শিশু
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান যদি লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে বা আইনবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী ঘোষণা করা আইন ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, রাজধানীতে স্পা, বিউটি সেলুন ও ওয়েলনেস সেন্টারের মতো বৈধ ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে যথাযথ লাইসেন্স, নিয়মিত তদারকি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে একদিকে বৈধ ব্যবসায়ীরা সুরক্ষা পাবেন, অন্যদিকে কোনো অনিয়ম থাকলে তা দ্রুত শনাক্ত করা সহজ হবে।অভিযোগের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে যদি কোনো অনিয়ম না থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও তদন্তের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার সুযোগ পাবে।
আরোও পড়ুন: বনানীতে কোটি টাকার লাভের লোভ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতার ৩
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্পা সেন্টারের মালিক শৈশব বলেন, ভাই আমরা যে ব্যবসা করি তা সকলের জানা। এছাড়া তিনি একেক সময় একেক পরিচয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্পা সেন্টারের আড়ালে প্রকাশ্যেই চালিয়ে আসাছে তার অপরাধের কার্যক্রম। তিনি আবার নিজেকে রাজনৈতিক পরিচয় আবার কখনো ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে থাকেন। তবে সচেতন মহলের মতে, রাজধানীর যেকোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন