রাজধানীর বনানীতে মূল্যবান পাথর বিক্রির নামে কোটি টাকার লেনদেনের প্রলোভন এবং চাকরির আশ্বাস দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে মূল্যবান পাথর বিক্রি ও উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছে।
আরও পড়ুন: কৃষকের কল্যাণেই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে: কায়সার কামাল
বনানী থানায় দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযোগকারী মো. জুন্নান আইউবীন সম্প্রতি চাকরির সন্ধানে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন। সেই সূত্র ধরে তার পরিচয় হয় অভিযুক্ত মোশারফিকুর রহমানের সঙ্গে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমদিকে চাকরির বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করা হয়।
অভিযোগকারী দাবি করেন, একপর্যায়ে তাকে বনানীর একটি অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের কাছে থাকা একটি মূল্যবান পাথর বিক্রির বিষয়ে আলোচনা করেন এবং সেটি বিদেশে বিক্রি করলে কয়েক কোটি টাকা লাভ হবে বলে জানান। তারা অভিযোগকারীকে আশ্বস্ত করেন, এই কাজে সহযোগিতা করলে তাকেও মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: দূতাবাসগুলোর সঙ্গে সরাসরি নিরাপত্তা সমন্বয়ের উদ্যোগ বাংলাদেশ পুলিশের
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কথিত ওই মূল্যবান পাথরটি বিদেশে বিক্রি করতে হলে বিভিন্ন ধাপে অর্থের প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়। কখনও বিশেষজ্ঞ দিয়ে পরীক্ষা, কখনও কেমিক্যাল, আবার কখনও বিভিন্ন প্রশাসনিক খরচের কথা বলে অভিযোগকারীর কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে টাকা নেওয়া হয়।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা প্রথমে সীমিত অঙ্কের অর্থ নিলেও পরে ধাপে ধাপে আরও বেশি অর্থ দাবি করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি নিজের সঞ্চয় শেষ করে ব্যাংকে থাকা ৩১ লাখ টাকার একটি ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) ভেঙে তাদের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
আরও পড়ুন: সংসদের দুই টায়ার সরকার ও বিরোধী দল, একটিও অচল হওয়া যাবে না: জামায়াত আমির
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা বারবার আশ্বাস দেন যে অল্প সময়ের মধ্যেই মূল্যবান পাথরটি বিক্রি হবে এবং তখন অভিযোগকারী তার সমস্ত অর্থের পাশাপাশি অতিরিক্ত লাভও পাবেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও পাথর বিক্রির কোনো অগ্রগতি হয়নি।
অভিযোগকারী দাবি করেন, পরে তিনি নিজের টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন অজুহাত দিতে থাকেন। কখনও নতুন ক্রেতার কথা, কখনও বিদেশি কোম্পানির প্রতিনিধি আসার কথা, আবার কখনও কাগজপত্র প্রস্তুতের অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়।
আরও পড়ুন: গুলশান-বনানীতে অবৈধ স্পা সেন্টার কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের চেষ্টা
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও টাকা ফেরত না পাওয়ায় তিনি বিষয়টি নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন। এরপর অভিযুক্তদের অফিসে গিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাদের কাউকে পাননি। অভিযোগকারীর দাবি, পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন অফিসটিও বন্ধ হয়ে গেছে।
এ অবস্থায় প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করে তিনি বনানী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে মোশারফিকুর রহমান ছাড়াও ওমর ফারুক, আব্দুর রহমান এবং আরও অজ্ঞাত কয়েকজন এই ঘটনায় জড়িত বলে তার সন্দেহ।
আরও পড়ুন: আদাবর-তেজগাঁওয়ে র্যাবের অভিযান, কিশোর গ্যাং লিডারসহ আটক ৩
আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূল্যবান পাথর, স্বর্ণ, প্রাচীন মুদ্রা কিংবা গুপ্তধনের মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রতারণার ঘটনা নতুন নয়। প্রতারক চক্রগুলো সাধারণত প্রথমে বিশ্বাস অর্জন করে, পরে অল্প বিনিয়োগে বিপুল লাভের প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ধাপে ধাপে অর্থ আদায় করে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি কোনো মূল্যবান বস্তু বিক্রির আগে নগদ অর্থ দাবি করে কিংবা অস্বাভাবিক মুনাফার প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা উচিত। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া উচিত।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বনানী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি আইন অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা হবে। অভিযোগে উল্লিখিত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে জাল টাকার কারবারে বড় আঘাত, শাহবাগে গ্রেফতার ৪
অন্যদিকে, এই প্রতিবেদনের জন্য অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তারা এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বিষয় : পুলিশ অপরাধ বনানী থানা রাজধানী প্রতারক

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬
রাজধানীর বনানীতে মূল্যবান পাথর বিক্রির নামে কোটি টাকার লেনদেনের প্রলোভন এবং চাকরির আশ্বাস দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে মূল্যবান পাথর বিক্রি ও উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছে।
আরও পড়ুন: কৃষকের কল্যাণেই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে: কায়সার কামাল
বনানী থানায় দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযোগকারী মো. জুন্নান আইউবীন সম্প্রতি চাকরির সন্ধানে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন। সেই সূত্র ধরে তার পরিচয় হয় অভিযুক্ত মোশারফিকুর রহমানের সঙ্গে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমদিকে চাকরির বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করা হয়।
অভিযোগকারী দাবি করেন, একপর্যায়ে তাকে বনানীর একটি অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের কাছে থাকা একটি মূল্যবান পাথর বিক্রির বিষয়ে আলোচনা করেন এবং সেটি বিদেশে বিক্রি করলে কয়েক কোটি টাকা লাভ হবে বলে জানান। তারা অভিযোগকারীকে আশ্বস্ত করেন, এই কাজে সহযোগিতা করলে তাকেও মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: দূতাবাসগুলোর সঙ্গে সরাসরি নিরাপত্তা সমন্বয়ের উদ্যোগ বাংলাদেশ পুলিশের
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কথিত ওই মূল্যবান পাথরটি বিদেশে বিক্রি করতে হলে বিভিন্ন ধাপে অর্থের প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়। কখনও বিশেষজ্ঞ দিয়ে পরীক্ষা, কখনও কেমিক্যাল, আবার কখনও বিভিন্ন প্রশাসনিক খরচের কথা বলে অভিযোগকারীর কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে টাকা নেওয়া হয়।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা প্রথমে সীমিত অঙ্কের অর্থ নিলেও পরে ধাপে ধাপে আরও বেশি অর্থ দাবি করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি নিজের সঞ্চয় শেষ করে ব্যাংকে থাকা ৩১ লাখ টাকার একটি ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) ভেঙে তাদের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
আরও পড়ুন: সংসদের দুই টায়ার সরকার ও বিরোধী দল, একটিও অচল হওয়া যাবে না: জামায়াত আমির
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা বারবার আশ্বাস দেন যে অল্প সময়ের মধ্যেই মূল্যবান পাথরটি বিক্রি হবে এবং তখন অভিযোগকারী তার সমস্ত অর্থের পাশাপাশি অতিরিক্ত লাভও পাবেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও পাথর বিক্রির কোনো অগ্রগতি হয়নি।
অভিযোগকারী দাবি করেন, পরে তিনি নিজের টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন অজুহাত দিতে থাকেন। কখনও নতুন ক্রেতার কথা, কখনও বিদেশি কোম্পানির প্রতিনিধি আসার কথা, আবার কখনও কাগজপত্র প্রস্তুতের অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়।
আরও পড়ুন: গুলশান-বনানীতে অবৈধ স্পা সেন্টার কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের চেষ্টা
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও টাকা ফেরত না পাওয়ায় তিনি বিষয়টি নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন। এরপর অভিযুক্তদের অফিসে গিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাদের কাউকে পাননি। অভিযোগকারীর দাবি, পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন অফিসটিও বন্ধ হয়ে গেছে।
এ অবস্থায় প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করে তিনি বনানী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে মোশারফিকুর রহমান ছাড়াও ওমর ফারুক, আব্দুর রহমান এবং আরও অজ্ঞাত কয়েকজন এই ঘটনায় জড়িত বলে তার সন্দেহ।
আরও পড়ুন: আদাবর-তেজগাঁওয়ে র্যাবের অভিযান, কিশোর গ্যাং লিডারসহ আটক ৩
আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূল্যবান পাথর, স্বর্ণ, প্রাচীন মুদ্রা কিংবা গুপ্তধনের মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রতারণার ঘটনা নতুন নয়। প্রতারক চক্রগুলো সাধারণত প্রথমে বিশ্বাস অর্জন করে, পরে অল্প বিনিয়োগে বিপুল লাভের প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ধাপে ধাপে অর্থ আদায় করে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি কোনো মূল্যবান বস্তু বিক্রির আগে নগদ অর্থ দাবি করে কিংবা অস্বাভাবিক মুনাফার প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা উচিত। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া উচিত।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বনানী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি আইন অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা হবে। অভিযোগে উল্লিখিত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে জাল টাকার কারবারে বড় আঘাত, শাহবাগে গ্রেফতার ৪
অন্যদিকে, এই প্রতিবেদনের জন্য অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তারা এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন