দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বনানীতে অপহরণের অভিযোগে চাঞ্চল্য তথ্য, উদ্ধার হল শিশু

বনানীতে অপহরণের অভিযোগে চাঞ্চল্য তথ্য, উদ্ধার হল শিশু
উদ্ধার

রাজধানীর বনানী এলাকায় এক যুবককে অপহরণ করে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বনানী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী যুবকের বাবা মো. বরিশ গাজী। অভিযোগে এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

থানায় জমা দেওয়া অভিযোগে মো. বরিশ গাজী উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বনানীর সাততলা বস্তি এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। জীবিকার তাগিদে তিনি বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তার এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করলেও সম্প্রতি একটি ঘটনার পর পুরো পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: পুলিশ সংস্কার কতদূর, কী ভাবছে সাধারণ মানুষ?

অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্ব থেকে পরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের পারিবারিক ও আর্থিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। অভিযোগকারী দাবি করেন, সেই বিরোধের জের ধরেই তার ছেলে আতিফুল ইসলামকে টার্গেট করা হয়।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২২ জুন রাতে বনানী এলাকায় একটি দোকান থেকে আতিফুল ইসলামকে কৌশলে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

অভিযোগকারী দাবি করেন, পরদিন রাতের দিকে একটি মোবাইল ফোন থেকে যোগাযোগ করে জানানো হয় যে তার ছেলে তাদের হেফাজতে রয়েছে। তাকে মুক্ত করতে হলে চার লাখ টাকা দিতে হবে। অন্যথায় ছেলেকে হত্যা করা হতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: গুলশান পুলিশকে বিতর্কিত করতেই মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রথমদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি আটকের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে বিভিন্ন কথোপকথনের একপর্যায়ে স্বীকার করেন যে আতিফুল ইসলাম তাদের কাছে রয়েছে। অভিযোগকারী বলেন, এ সময় তাকে দ্রুত টাকা জোগাড় করার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে বনানী থানার শরণাপন্ন হন ভুক্তভোগীর পরিবার। অভিযোগকারী দাবি করেন, পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করে তার ছেলেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে এরপরও অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে চার লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে মিথ্যা মামলা, মারধর এবং হত্যার মতো পরিণতির ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: প্রশংসা-সমালোচনার কেন্দ্রে থাকা ওসি দাউদ

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার পর থেকে তারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সন্তান ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তারা। তাই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বনানী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ গ্রহণের পর বিষয়টি আইন অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

আইনজীবীরা বলছেন, অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: অপরাধ দমনে নতুন ছকে ডিএমপি

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রায়ই সামনে আসে। তাই এমন ঘটনায় ভুক্তভোগীদের দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়া এবং সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

এদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দিলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

আরও পড়ুন: বাজেটে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত, শিল্প-শিক্ষা-স্টার্টআপে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব

স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

বিষয় : রাজধানী ডিএমপি উদ্ধার গুলশান অপরাধ বনানী বনানী থানা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


বনানীতে অপহরণের অভিযোগে চাঞ্চল্য তথ্য, উদ্ধার হল শিশু

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

রাজধানীর বনানী এলাকায় এক যুবককে অপহরণ করে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বনানী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী যুবকের বাবা মো. বরিশ গাজী। অভিযোগে এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

থানায় জমা দেওয়া অভিযোগে মো. বরিশ গাজী উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বনানীর সাততলা বস্তি এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। জীবিকার তাগিদে তিনি বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তার এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করলেও সম্প্রতি একটি ঘটনার পর পুরো পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: পুলিশ সংস্কার কতদূর, কী ভাবছে সাধারণ মানুষ?

অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্ব থেকে পরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের পারিবারিক ও আর্থিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। অভিযোগকারী দাবি করেন, সেই বিরোধের জের ধরেই তার ছেলে আতিফুল ইসলামকে টার্গেট করা হয়।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২২ জুন রাতে বনানী এলাকায় একটি দোকান থেকে আতিফুল ইসলামকে কৌশলে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

অভিযোগকারী দাবি করেন, পরদিন রাতের দিকে একটি মোবাইল ফোন থেকে যোগাযোগ করে জানানো হয় যে তার ছেলে তাদের হেফাজতে রয়েছে। তাকে মুক্ত করতে হলে চার লাখ টাকা দিতে হবে। অন্যথায় ছেলেকে হত্যা করা হতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: গুলশান পুলিশকে বিতর্কিত করতেই মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রথমদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি আটকের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে বিভিন্ন কথোপকথনের একপর্যায়ে স্বীকার করেন যে আতিফুল ইসলাম তাদের কাছে রয়েছে। অভিযোগকারী বলেন, এ সময় তাকে দ্রুত টাকা জোগাড় করার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে বনানী থানার শরণাপন্ন হন ভুক্তভোগীর পরিবার। অভিযোগকারী দাবি করেন, পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করে তার ছেলেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে এরপরও অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে চার লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে মিথ্যা মামলা, মারধর এবং হত্যার মতো পরিণতির ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: প্রশংসা-সমালোচনার কেন্দ্রে থাকা ওসি দাউদ

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার পর থেকে তারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সন্তান ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তারা। তাই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বনানী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ গ্রহণের পর বিষয়টি আইন অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

আইনজীবীরা বলছেন, অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: অপরাধ দমনে নতুন ছকে ডিএমপি

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রায়ই সামনে আসে। তাই এমন ঘটনায় ভুক্তভোগীদের দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়া এবং সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

এদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দিলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

আরও পড়ুন: বাজেটে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত, শিল্প-শিক্ষা-স্টার্টআপে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব

স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত