ঢাকার ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অঞ্চলগুলোর অন্যতম মালিবাগ। প্রতিদিন হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর এই এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ঘুরপাক খাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মালিবাগ রেলগেট সংলগ্ন হোটেল সবুজ বাংলায় আবাসিক হোটেলের আড়ালে চলছে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড। অভিযোগ রয়েছে, কথিত এসকর্ট সার্ভিস থেকে শুরু করে ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ ভাড়ার মাধ্যমে গড়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক।
প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব প্রকাশের পর স্থানীয়দের কাছ থেকে আরও বেশ কিছু তথ্য ও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, বহু বছর ধরে একই ধরনের অভিযোগ উঠলেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হোটেলটিকে কেন্দ্র করে বিতর্ক আরও বেড়েছে।
আরও পড়ুন: অভিযোগের পাহাড়, তবুও বহাল তবিয়তে হোটেল সবুজ বাংলা!
আরও পড়ুন: আল-আমিনের শাহজাদপুর-মেরুলে হোটেল ব্যবসার আড়ালে কী চলছে?
হোটেল খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি আবাসিক হোটেল পরিচালনার জন্য ট্রেড লাইসেন্স, অগ্নি নিরাপত্তা ছাড়পত্র, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, অতিথি নিবন্ধন ব্যবস্থা, জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণসহ বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে হয়। এসব শর্ত যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এমনকি অভিযোগ রয়েছে, কোনো সংবাদ প্রকাশিত হলে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ বা প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: রাজনৈতিক পরিচয়ে দাপট, উত্তরায় হোটেলজুড়ে অনৈতিক সাম্রাজ্য বিস্তার
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি আবাসিক এলাকায় এ ধরনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে সামাজিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে বসবাসকারী বাসিন্দারা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, অভিযোগগুলো যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে তা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; বরং সামাজিক নিরাপত্তা ও নৈতিকতার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও পড়ুন: নাম বিহীন আবাসিক হোটেল চলছে গাজীপুর চন্দ্রায়,, "শাজাহান, বাবুল, জাকির সিন্ডিকেট "
আরও পড়ুন: কালিয়াকৈর চন্দ্রা মহাসড়কে হোটেলের আড়ালে নারী সিন্ডিকেট
একই সঙ্গে তারা হোটেলটির বৈধতা, পরিচালন পদ্ধতি, অতিথি নিবন্ধন ব্যবস্থা এবং অভিযোগকৃত কার্যক্রমের বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান ও নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। মালিবাগের হোটেল সবুজ বাংলাকে ঘিরে স্থানীয়দের অভিযোগ নতুন নয়। তবে অভিযোগ যতই গুরুতর হোক না কেন, আইনের চোখে তা তদন্ত ও প্রমাণের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তাই জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত, স্বচ্ছতা এবং কার্যকর পদক্ষেপই হতে পারে এ বিতর্কের একমাত্র গ্রহণযোগ্য সমাধান।
বিষয় : রাজধানী মালিবাগ অপরাধ হোটেল আবাসিক হোটেল সবুজ বাংলা

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬
ঢাকার ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অঞ্চলগুলোর অন্যতম মালিবাগ। প্রতিদিন হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর এই এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ঘুরপাক খাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মালিবাগ রেলগেট সংলগ্ন হোটেল সবুজ বাংলায় আবাসিক হোটেলের আড়ালে চলছে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড। অভিযোগ রয়েছে, কথিত এসকর্ট সার্ভিস থেকে শুরু করে ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ ভাড়ার মাধ্যমে গড়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক।
প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব প্রকাশের পর স্থানীয়দের কাছ থেকে আরও বেশ কিছু তথ্য ও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, বহু বছর ধরে একই ধরনের অভিযোগ উঠলেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হোটেলটিকে কেন্দ্র করে বিতর্ক আরও বেড়েছে।
আরও পড়ুন: অভিযোগের পাহাড়, তবুও বহাল তবিয়তে হোটেল সবুজ বাংলা!
আরও পড়ুন: আল-আমিনের শাহজাদপুর-মেরুলে হোটেল ব্যবসার আড়ালে কী চলছে?
হোটেল খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি আবাসিক হোটেল পরিচালনার জন্য ট্রেড লাইসেন্স, অগ্নি নিরাপত্তা ছাড়পত্র, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, অতিথি নিবন্ধন ব্যবস্থা, জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণসহ বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে হয়। এসব শর্ত যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এমনকি অভিযোগ রয়েছে, কোনো সংবাদ প্রকাশিত হলে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ বা প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: রাজনৈতিক পরিচয়ে দাপট, উত্তরায় হোটেলজুড়ে অনৈতিক সাম্রাজ্য বিস্তার
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি আবাসিক এলাকায় এ ধরনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে সামাজিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে বসবাসকারী বাসিন্দারা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, অভিযোগগুলো যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে তা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; বরং সামাজিক নিরাপত্তা ও নৈতিকতার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও পড়ুন: নাম বিহীন আবাসিক হোটেল চলছে গাজীপুর চন্দ্রায়,, "শাজাহান, বাবুল, জাকির সিন্ডিকেট "
আরও পড়ুন: কালিয়াকৈর চন্দ্রা মহাসড়কে হোটেলের আড়ালে নারী সিন্ডিকেট
একই সঙ্গে তারা হোটেলটির বৈধতা, পরিচালন পদ্ধতি, অতিথি নিবন্ধন ব্যবস্থা এবং অভিযোগকৃত কার্যক্রমের বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান ও নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। মালিবাগের হোটেল সবুজ বাংলাকে ঘিরে স্থানীয়দের অভিযোগ নতুন নয়। তবে অভিযোগ যতই গুরুতর হোক না কেন, আইনের চোখে তা তদন্ত ও প্রমাণের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তাই জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত, স্বচ্ছতা এবং কার্যকর পদক্ষেপই হতে পারে এ বিতর্কের একমাত্র গ্রহণযোগ্য সমাধান।

আপনার মতামত লিখুন