দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

আব্দুল্লাহপুরের ‘গ্রীন গার্ডেন’: আবাসিক হোটেলের আড়ালে কী চলছে?

আব্দুল্লাহপুরের ‘গ্রীন গার্ডেন’: আবাসিক হোটেলের আড়ালে কী চলছে?
গ্রীন গার্ডেন’

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন আব্দুল্লাহপুর এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ উঠছে। স্থানীয়দের ভাষ্য ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘গ্রীন গার্ডেন’ নামে পরিচিত আবাসিক হোটেলটিতে আবাসিক সেবার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং মাদক বেচাকেনা আর অভিযোগ রয়েছে। হোটেলটির মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

আরও পড়ুন:  দারুসসালামে অনুমোদনহীন অনৈতিক কর্মকান্ডে জসিম ও হারুনের দাপট

অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে হোটেলটিকে ঘিরে নানা অনিয়মের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর কিছু সময়ের জন্য কার্যক্রম কমে গেলেও পরবর্তীতে আবারও একই ধরনের কর্মকাণ্ড শুরু হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বারবার একই ধরনের অভিযোগ উঠছে? তবে বাইরে থেকে দেখলে এটি একটি সাধারণ আবাসিক হোটেল। ভবনের সামনে হোটেলের সাইনবোর্ড, অভ্যর্থনা কক্ষ এবং কক্ষ ভাড়ার ব্যবস্থা থাকলেও ভেতরের কার্যক্রম নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে রাতের দিকে অপরিচিত ব্যক্তিদের যাতায়াত, স্বল্প সময়ের জন্য কক্ষ ভাড়া এবং কিছু সন্দেহজনক ব্যক্তির আনাগোনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আর দিনের বেলায় তো রয়েছেই। নারী ও মাদকের দালাল চক্রের তারড়নায় পথচারীদের পড়তে হয় বিপাকে। এসব হোটেল কেন্দ্র করে যেকোন মুহুর্তে ঘটতে পারে বড় কোন অপরাধ।

আরও পড়ুন:  বনানীতে শহিদের অবৈধ স্পা সেন্টার ঘিরে অন্ধকার জগৎ

স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একবার অভিযোগ ওঠা আর দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের অভিযোগ পুনরাবৃত্তি হওয়া এক বিষয় নয়। তাদের প্রশ্ন, যদি অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করে তা পরিষ্কার করা উচিত। আর অভিযোগের সত্যতা থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “হোটেলটি নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা কথা শুনেছি। মাঝে মাঝে মনে হয় কার্যক্রম বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কিন্তু কিছুদিন পর আবার আগের মতো লোকজনের আনাগোনা দেখা যায়। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি থাকলে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া দরকার।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশ হলো, আবাসিক হোটেলের বৈধ ব্যবসার আড়ালে সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদকসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে প্রয়োজন সরেজমিন তদন্ত, বৈধ কাগজপত্র যাচাই, হোটেলের রেজিস্টার পরীক্ষা, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান। 

এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন গ্রীন গার্ডেন হোটেলের বৈধ লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স, আবাসিক হোটেল পরিচালনার অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অতিথিদের রেজিস্টার নিয়মিত পরীক্ষা করা হয় কি না?

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে ১৫ই আগস্ট শিক্ষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো আবাসিক হোটেলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে কি না, সেটি নির্ধারণের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত না করে শুধু সাময়িক অভিযান চালালে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। হোটেলটিকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে মালিকপক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দাবি, এই ব্যবসায় তারা নতুন নন এবং হোটেলের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশাসনও অবগত। হোটেল মালিক জসিম বক্তব্য ঘিরে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যদি হোটেলের সব কার্যক্রম বৈধ হয় এবং প্রশাসন বিষয়টি জানে, তাহলে হোটেলটির বিরুদ্ধে বারবার কেন একই ধরনের অভিযোগ উঠছে এটি পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, যদি কোনো অনিয়ম বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে মালিকপক্ষের ‘প্রশাসন জানে’ এমন বক্তব্য কোনোভাবেই আইনগত দায় থেকে অব্যাহতি দিতে পারে না। একইভাবে, প্রশাসন জানে এমন দাবিও যাচাই ছাড়া সত্য ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

আব্দুল্লাহপুর এলাকাটি উত্তরা পশ্চিম থানার আওতাধীন। ফলে হোটেলটিকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে স্থানীয় থানার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়দের প্রশ্ন, আবাসিক হোটেলগুলোতে নিয়মিত তদারকি করা হয় কি না এবং অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়।

আরও পড়ুন: মান্দারী বাজারের রহমত খালী খাল পরিষ্কারে প্রশাসনের উদ্যোগ, স্বস্তি এলাকাবাসী

একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, কোনো হোটেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে শুধু অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করাই যথেষ্ট নয়। হোটেলটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, কারা মালিক, কারা ব্যবস্থাপনায় রয়েছে, অতিথিদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে কি না, রাতের বেলায় কক্ষ ব্যবহারের ধরন কী এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনের সঙ্গে তা যুক্ত করা জরুরি। 

হোটেলটিকে ঘিরে মাদক বেচাকেনার অভিযোগও গুরুতর। কারণ একটি আবাসিক হোটেল মাদক ব্যবসার জন্য ব্যবহৃত হলে শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের অতিথিরাই নয়, আশপাশের পরিবেশও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। তবে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত অপরিহার্য।  

আরও পড়ুন: দারুস সালামে আবাসিক হোটেলের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

হোটেলটিকে ঘিরে নারী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রেও একইভাবে যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন। আবাসিক হোটেলের নামে যদি কোনো ধরনের যৌন হয়রানি, মানবপাচার, জোরপূর্বক যৌন শোষণ বা অন্য কোনো অপরাধ ঘটে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। 

গ্রীন গার্ডেনকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে প্রশাসনের নজরদারি যদি নিয়মিত থাকে, তাহলে একই ধরনের অভিযোগ বারবার কেন উঠছে? কোনো হোটেল একবার অভিযান বা অভিযোগের পর সাময়িকভাবে কার্যক্রম পরিবর্তন করে আবার একই ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হলে শুধু তাৎক্ষণিক অভিযান যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন ধারাবাহিক নজরদারি ও নিয়মিত পরিদর্শন।  (চলমান..)

বিষয় : অপরাধ আবাসিক হোটেল আব্দুল্লাহপুর গ্রীন গার্ডেন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬


আব্দুল্লাহপুরের ‘গ্রীন গার্ডেন’: আবাসিক হোটেলের আড়ালে কী চলছে?

প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন আব্দুল্লাহপুর এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ উঠছে। স্থানীয়দের ভাষ্য ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘গ্রীন গার্ডেন’ নামে পরিচিত আবাসিক হোটেলটিতে আবাসিক সেবার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং মাদক বেচাকেনা আর অভিযোগ রয়েছে। হোটেলটির মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

আরও পড়ুন:  দারুসসালামে অনুমোদনহীন অনৈতিক কর্মকান্ডে জসিম ও হারুনের দাপট

অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে হোটেলটিকে ঘিরে নানা অনিয়মের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর কিছু সময়ের জন্য কার্যক্রম কমে গেলেও পরবর্তীতে আবারও একই ধরনের কর্মকাণ্ড শুরু হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বারবার একই ধরনের অভিযোগ উঠছে? তবে বাইরে থেকে দেখলে এটি একটি সাধারণ আবাসিক হোটেল। ভবনের সামনে হোটেলের সাইনবোর্ড, অভ্যর্থনা কক্ষ এবং কক্ষ ভাড়ার ব্যবস্থা থাকলেও ভেতরের কার্যক্রম নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে রাতের দিকে অপরিচিত ব্যক্তিদের যাতায়াত, স্বল্প সময়ের জন্য কক্ষ ভাড়া এবং কিছু সন্দেহজনক ব্যক্তির আনাগোনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আর দিনের বেলায় তো রয়েছেই। নারী ও মাদকের দালাল চক্রের তারড়নায় পথচারীদের পড়তে হয় বিপাকে। এসব হোটেল কেন্দ্র করে যেকোন মুহুর্তে ঘটতে পারে বড় কোন অপরাধ।

আরও পড়ুন:  বনানীতে শহিদের অবৈধ স্পা সেন্টার ঘিরে অন্ধকার জগৎ

স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একবার অভিযোগ ওঠা আর দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের অভিযোগ পুনরাবৃত্তি হওয়া এক বিষয় নয়। তাদের প্রশ্ন, যদি অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করে তা পরিষ্কার করা উচিত। আর অভিযোগের সত্যতা থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “হোটেলটি নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা কথা শুনেছি। মাঝে মাঝে মনে হয় কার্যক্রম বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কিন্তু কিছুদিন পর আবার আগের মতো লোকজনের আনাগোনা দেখা যায়। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি থাকলে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া দরকার।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশ হলো, আবাসিক হোটেলের বৈধ ব্যবসার আড়ালে সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদকসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে প্রয়োজন সরেজমিন তদন্ত, বৈধ কাগজপত্র যাচাই, হোটেলের রেজিস্টার পরীক্ষা, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান। 

এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন গ্রীন গার্ডেন হোটেলের বৈধ লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স, আবাসিক হোটেল পরিচালনার অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অতিথিদের রেজিস্টার নিয়মিত পরীক্ষা করা হয় কি না?

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে ১৫ই আগস্ট শিক্ষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো আবাসিক হোটেলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে কি না, সেটি নির্ধারণের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত না করে শুধু সাময়িক অভিযান চালালে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। হোটেলটিকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে মালিকপক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দাবি, এই ব্যবসায় তারা নতুন নন এবং হোটেলের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশাসনও অবগত। হোটেল মালিক জসিম বক্তব্য ঘিরে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যদি হোটেলের সব কার্যক্রম বৈধ হয় এবং প্রশাসন বিষয়টি জানে, তাহলে হোটেলটির বিরুদ্ধে বারবার কেন একই ধরনের অভিযোগ উঠছে এটি পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, যদি কোনো অনিয়ম বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে মালিকপক্ষের ‘প্রশাসন জানে’ এমন বক্তব্য কোনোভাবেই আইনগত দায় থেকে অব্যাহতি দিতে পারে না। একইভাবে, প্রশাসন জানে এমন দাবিও যাচাই ছাড়া সত্য ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

আব্দুল্লাহপুর এলাকাটি উত্তরা পশ্চিম থানার আওতাধীন। ফলে হোটেলটিকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে স্থানীয় থানার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়দের প্রশ্ন, আবাসিক হোটেলগুলোতে নিয়মিত তদারকি করা হয় কি না এবং অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়।

আরও পড়ুন: মান্দারী বাজারের রহমত খালী খাল পরিষ্কারে প্রশাসনের উদ্যোগ, স্বস্তি এলাকাবাসী

একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, কোনো হোটেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে শুধু অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করাই যথেষ্ট নয়। হোটেলটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, কারা মালিক, কারা ব্যবস্থাপনায় রয়েছে, অতিথিদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে কি না, রাতের বেলায় কক্ষ ব্যবহারের ধরন কী এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনের সঙ্গে তা যুক্ত করা জরুরি। 

হোটেলটিকে ঘিরে মাদক বেচাকেনার অভিযোগও গুরুতর। কারণ একটি আবাসিক হোটেল মাদক ব্যবসার জন্য ব্যবহৃত হলে শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের অতিথিরাই নয়, আশপাশের পরিবেশও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। তবে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত অপরিহার্য।  

আরও পড়ুন: দারুস সালামে আবাসিক হোটেলের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

হোটেলটিকে ঘিরে নারী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রেও একইভাবে যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন। আবাসিক হোটেলের নামে যদি কোনো ধরনের যৌন হয়রানি, মানবপাচার, জোরপূর্বক যৌন শোষণ বা অন্য কোনো অপরাধ ঘটে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। 

গ্রীন গার্ডেনকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে প্রশাসনের নজরদারি যদি নিয়মিত থাকে, তাহলে একই ধরনের অভিযোগ বারবার কেন উঠছে? কোনো হোটেল একবার অভিযান বা অভিযোগের পর সাময়িকভাবে কার্যক্রম পরিবর্তন করে আবার একই ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হলে শুধু তাৎক্ষণিক অভিযান যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন ধারাবাহিক নজরদারি ও নিয়মিত পরিদর্শন।  (চলমান..)



দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত