রাজধানীর অভিজাত গুলশান এলাকার ৯৯ নম্বর রোডে একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে ফের নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটিতে বৈধ স্পা সেবার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক সংশ্লিষ্টতা এবং কিশোর গ্যাংয়ের আনাগোনার মতো বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে। এর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের পর প্রতিষ্ঠানটি কিছুদিন বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি নতুন কৌশলে আবারও কার্যক্রম শুরু করার অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও আবাসিক-ব্যবসায়িক এলাকায় কোনো স্পা সেন্টারের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, ট্রেড লাইসেন্স, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত কার্যক্রমের বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। কিন্তু বাহারের ৯৯ নম্বর রোডের ওই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এসব বিষয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, এর আগে ওই স্পা সেন্টারে অভিযান চালানো হয়েছিল। অভিযানে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাজা হওয়ার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। অভিযানের পর কয়েকদিন প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ ছিল।তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর আবারও ভিন্ন পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আগের মতো প্রকাশ্যে কার্যক্রম পরিচালনার পরিবর্তে এখন যোগাযোগের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। পরিচিত ব্যক্তি কিংবা নির্দিষ্ট যোগাযোগের মাধ্যমে গ্রাহক প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন এমন অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন : বনানীতে গেস্ট হাউজ-স্পা, ওসির ভূমিকা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন
আরও পড়ুন : গুলশানে গেস্ট হাউজ-স্পা, পেছনে মিরাজের অজানা সাম্রাজ্য
একটি স্পা সেন্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা, ট্রেড লাইসেন্স, কর-সংক্রান্ত কাগজপত্র, অগ্নিনিরাপত্তা এবং ভবন ব্যবহারের অনুমোদনসহ সংশ্লিষ্ট সব নথি যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি যে উদ্দেশ্যে অনুমোদন পেয়েছে, বাস্তবে সেই কার্যক্রমই পরিচালনা করছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।স্থানীয়দের প্রশ্ন, আগে যদি অভিযান হয়ে থাকে এবং অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করল? নতুন করে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে কি না এবং প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী চলছে কি না এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।গুলশান থানার আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে বারবার অভিযোগ উঠলে সেটি আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।তাদের মতে, শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো প্রতিষ্ঠানকে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি অভিযোগ পাওয়ার পর তা যাচাই না করাও উচিত নয়। প্রয়োজন হলে সাদা পোশাকে নজরদারি, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, প্রতিষ্ঠানের রেজিস্টার পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি বের করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন :গুলশানে গেস্ট হাউজ ও দীর্ঘদিনের স্পা ব্যবসায় কোটিপতি মিরাজ
অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদক, কিশোর গ্যাং ও অপরাধী চক্রের সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা না থাকলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা জরুরি।স্থানীয়দের দাবি, গুলশানের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অনুমোদনহীন বা অভিযোগযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হোক। পুলিশ, সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, রাজউক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিজ নিজ এখতিয়ার অনুযায়ী নথিপত্র ও কার্যক্রম যাচাই করলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে।
এদিকে ওই স্পা সেন্টারের মালিক বাহার বলেন আমি অনেক পুরানো ব্যবসায়ী এসব বিষয়ে গুলশানের মানুষ জানে এবং আমি একাধিক মামলা খেয়েছি। যাহা গুলশান থানায় রেকর্ড ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া এসব ব্যবসা সম্পর্কে গুলশান থান পুলিশ সব জানে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গুলশানের মতো এলাকায় ব্যবসার আড়ালে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ থাকা উচিত নয়। আবার কোনো বৈধ ব্যবসা যেন কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে হয়রানির শিকার না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। তাই ৯৯ নম্বর রোডের ওই স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, বৈধতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীর অভিজাত গুলশান এলাকার ৯৯ নম্বর রোডে একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে ফের নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটিতে বৈধ স্পা সেবার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক সংশ্লিষ্টতা এবং কিশোর গ্যাংয়ের আনাগোনার মতো বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে। এর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের পর প্রতিষ্ঠানটি কিছুদিন বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি নতুন কৌশলে আবারও কার্যক্রম শুরু করার অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও আবাসিক-ব্যবসায়িক এলাকায় কোনো স্পা সেন্টারের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, ট্রেড লাইসেন্স, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত কার্যক্রমের বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। কিন্তু বাহারের ৯৯ নম্বর রোডের ওই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এসব বিষয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, এর আগে ওই স্পা সেন্টারে অভিযান চালানো হয়েছিল। অভিযানে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাজা হওয়ার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। অভিযানের পর কয়েকদিন প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ ছিল।তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর আবারও ভিন্ন পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আগের মতো প্রকাশ্যে কার্যক্রম পরিচালনার পরিবর্তে এখন যোগাযোগের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। পরিচিত ব্যক্তি কিংবা নির্দিষ্ট যোগাযোগের মাধ্যমে গ্রাহক প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন এমন অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন : বনানীতে গেস্ট হাউজ-স্পা, ওসির ভূমিকা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন
আরও পড়ুন : গুলশানে গেস্ট হাউজ-স্পা, পেছনে মিরাজের অজানা সাম্রাজ্য
একটি স্পা সেন্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা, ট্রেড লাইসেন্স, কর-সংক্রান্ত কাগজপত্র, অগ্নিনিরাপত্তা এবং ভবন ব্যবহারের অনুমোদনসহ সংশ্লিষ্ট সব নথি যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি যে উদ্দেশ্যে অনুমোদন পেয়েছে, বাস্তবে সেই কার্যক্রমই পরিচালনা করছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।স্থানীয়দের প্রশ্ন, আগে যদি অভিযান হয়ে থাকে এবং অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করল? নতুন করে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে কি না এবং প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী চলছে কি না এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।গুলশান থানার আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে বারবার অভিযোগ উঠলে সেটি আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।তাদের মতে, শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো প্রতিষ্ঠানকে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি অভিযোগ পাওয়ার পর তা যাচাই না করাও উচিত নয়। প্রয়োজন হলে সাদা পোশাকে নজরদারি, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, প্রতিষ্ঠানের রেজিস্টার পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি বের করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন :গুলশানে গেস্ট হাউজ ও দীর্ঘদিনের স্পা ব্যবসায় কোটিপতি মিরাজ
অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদক, কিশোর গ্যাং ও অপরাধী চক্রের সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা না থাকলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা জরুরি।স্থানীয়দের দাবি, গুলশানের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অনুমোদনহীন বা অভিযোগযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হোক। পুলিশ, সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, রাজউক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিজ নিজ এখতিয়ার অনুযায়ী নথিপত্র ও কার্যক্রম যাচাই করলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে।
এদিকে ওই স্পা সেন্টারের মালিক বাহার বলেন আমি অনেক পুরানো ব্যবসায়ী এসব বিষয়ে গুলশানের মানুষ জানে এবং আমি একাধিক মামলা খেয়েছি। যাহা গুলশান থানায় রেকর্ড ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া এসব ব্যবসা সম্পর্কে গুলশান থান পুলিশ সব জানে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গুলশানের মতো এলাকায় ব্যবসার আড়ালে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ থাকা উচিত নয়। আবার কোনো বৈধ ব্যবসা যেন কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে হয়রানির শিকার না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। তাই ৯৯ নম্বর রোডের ওই স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, বৈধতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার মতামত লিখুন