ক্রাইম রিপোর্টার ইমাম হোসাইন ইমাম , চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত ও ইপিজেড এলাকায় গড়ে উঠেছে অবৈধ নারী সরবরাহ ও নানাবিধ অপরাধের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। হোটেল ব্যবসার আড়ালে অসহায় নারীদের টার্গেট করে এই অন্ধকার সাম্রাজ্য পরিচালনার মূল হোতা হিসেবে উঠেছে সমুদ্র বিলাস আবাসিক হোটেলের স্টাফ মো. আনোয়ার হোসেনের নাম। ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তৃতীয় পর্বে বেরিয়ে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনুসন্ধানে জানা যায়, নোয়াখালী জেলার বাসিন্দা মো. আনোয়ার পতেঙ্গার স্যান্ডি গেট ও হোটেল স্ট্রবেরি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। পতেঙ্গা ও ইপিজেড এলাকা হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে আসা সহজ-সরল ও অসহায় নারীদের টার্গেট করে এই চক্রটি। পরে বিভিন্ন প্রলোভন ও কৌশলে তাদেরকে অনৈতিক কার্যকলাপে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। লাইফস্টাইলে আমূল পরিবর্তন ও প্রশাসনের নাম ভাঙানোর অভিযোগ: স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, হোটেল স্টাফ হিসেবে কাজ শুরু করার পর থেকেই আনোয়ারের জীবনযাত্রায় রাতারাতি বড় ধরণের পরিবর্তন আসে। বর্তমানে তিনি দামি মোটরসাইকেল নিয়ে চলাফেরা করেন এবং প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালান। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনের সাথে সখ্য গড়ে তোলার অপচেষ্টা এবং মাঝেমধ্যে ওয়াকিটকি হাতে এলাকায় মহড়া দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহারের বার্তা দিতে এসব কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও প্রায়ই তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে থাকেন।
আরও পড়ুন,হিজলায় ১ নং হরিনাথপুর ইউনিয়ন মহিলা দলের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত
হোয়াটসঅ্যাপে ছবি পাঠিয়ে দরদাম: অনুসন্ধানী প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি চাঞ্চল্যকর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, খদ্দের সেজে কেউ যোগাযোগ করলেই হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন তরুণী ও নারীর ছবি পাঠিয়ে চলে আর্থিক লেনদেন ও দরকষাকষির গোপন কার্যক্রম। সাংবাদিকের প্রশ্নে আনোয়ারের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য: এ বিষয়ে অনুসন্ধানী দল থেকে সংবাদকর্মী পরিচয় দিয়ে মুঠোফোনে মো. আনোয়ারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, "আমাকে কেউ চেনে না, আপনারা নিউজ করে আমাকে একটু মানুষের কাছে পরিচিত করে দিন, যাতে মানুষ আমাকে চেনে। আমিও চাই মানুষ আমাকে চিনুক।" এ সময় তিনি নিজেকে প্রভাবশালী চক্রের সাথে যুক্ত দাবি করে ঔদ্ধত্য দেখান এবং প্রতিবেদককে জানান যে তাদের মতো অনেক সাংবাদিকই এসব হোটেলে নিয়মিত আসা-যাওয়া করেন। পতেঙ্গা এলাকার মতো একটি জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হোটেল ব্যবসার আড়ালে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও নারী পাচার চক্রের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬
ক্রাইম রিপোর্টার ইমাম হোসাইন ইমাম , চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত ও ইপিজেড এলাকায় গড়ে উঠেছে অবৈধ নারী সরবরাহ ও নানাবিধ অপরাধের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। হোটেল ব্যবসার আড়ালে অসহায় নারীদের টার্গেট করে এই অন্ধকার সাম্রাজ্য পরিচালনার মূল হোতা হিসেবে উঠেছে সমুদ্র বিলাস আবাসিক হোটেলের স্টাফ মো. আনোয়ার হোসেনের নাম। ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তৃতীয় পর্বে বেরিয়ে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনুসন্ধানে জানা যায়, নোয়াখালী জেলার বাসিন্দা মো. আনোয়ার পতেঙ্গার স্যান্ডি গেট ও হোটেল স্ট্রবেরি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। পতেঙ্গা ও ইপিজেড এলাকা হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে আসা সহজ-সরল ও অসহায় নারীদের টার্গেট করে এই চক্রটি। পরে বিভিন্ন প্রলোভন ও কৌশলে তাদেরকে অনৈতিক কার্যকলাপে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। লাইফস্টাইলে আমূল পরিবর্তন ও প্রশাসনের নাম ভাঙানোর অভিযোগ: স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, হোটেল স্টাফ হিসেবে কাজ শুরু করার পর থেকেই আনোয়ারের জীবনযাত্রায় রাতারাতি বড় ধরণের পরিবর্তন আসে। বর্তমানে তিনি দামি মোটরসাইকেল নিয়ে চলাফেরা করেন এবং প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালান। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনের সাথে সখ্য গড়ে তোলার অপচেষ্টা এবং মাঝেমধ্যে ওয়াকিটকি হাতে এলাকায় মহড়া দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহারের বার্তা দিতে এসব কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও প্রায়ই তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে থাকেন।
আরও পড়ুন,হিজলায় ১ নং হরিনাথপুর ইউনিয়ন মহিলা দলের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত
হোয়াটসঅ্যাপে ছবি পাঠিয়ে দরদাম: অনুসন্ধানী প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি চাঞ্চল্যকর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, খদ্দের সেজে কেউ যোগাযোগ করলেই হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন তরুণী ও নারীর ছবি পাঠিয়ে চলে আর্থিক লেনদেন ও দরকষাকষির গোপন কার্যক্রম। সাংবাদিকের প্রশ্নে আনোয়ারের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য: এ বিষয়ে অনুসন্ধানী দল থেকে সংবাদকর্মী পরিচয় দিয়ে মুঠোফোনে মো. আনোয়ারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, "আমাকে কেউ চেনে না, আপনারা নিউজ করে আমাকে একটু মানুষের কাছে পরিচিত করে দিন, যাতে মানুষ আমাকে চেনে। আমিও চাই মানুষ আমাকে চিনুক।" এ সময় তিনি নিজেকে প্রভাবশালী চক্রের সাথে যুক্ত দাবি করে ঔদ্ধত্য দেখান এবং প্রতিবেদককে জানান যে তাদের মতো অনেক সাংবাদিকই এসব হোটেলে নিয়মিত আসা-যাওয়া করেন। পতেঙ্গা এলাকার মতো একটি জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হোটেল ব্যবসার আড়ালে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও নারী পাচার চক্রের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন