দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

বনানীতে শহিদের অবৈধ স্পা সেন্টার ঘিরে অন্ধকার জগৎ

বনানীতে শহিদের অবৈধ স্পা সেন্টার ঘিরে অন্ধকার জগৎ
অবৈধ স্পা সেন্টারের দৃশ্য

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানী| কূটনৈতিক মিশন, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় এবং উচ্চবিত্ত আবাসনের জন্য পরিচিত এই এলাকায় একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে| অভিযোগ রয়েছে, বনানীর ২৭ নং রোডে পরিচালিত একটি স্পা সেন্টারের আড়ালে অনৈতিক কার্যক্রম, মাদক লেনদেন এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের তৎপরতা চলছে| একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে|

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনের পাশাপাশি গভীর রাত পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষের অস্বাভাবিক যাতায়াত লক্ষ্য করা যায়| প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সাধারণ স্পা ব্যবসার সীমা অতিক্রম করেছে বলে তাদের সন্দেহ|

আরও পড়ুন: হামলা-হয়রানিতে চ্যালেঞ্জে পুলিশ

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শহিদ ও মিঠু নামে দুই ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে| এরমধ্যে শহিদ স্বৈরাচারী শাসন আমলে বেশ ক্ষমতার দাপটে দেখিয়ে অনেককেই হয়রানী ও মেয়েদেরকে দিয়ে প্রতারনার ফাঁদ পাতিয়েছিলেন এবং স্বৈরাচারী আ.লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের অর্থদাতা হিবেবে তাকে দেখা গিয়েছে| সেগুলো ধামাচাপা বর্তমানের বিএনপির নেতাকর্মীদের পরিচয় দিয়ে চলছে উক্ত অবৈধ স্পা সেন্টারটি| তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি| তবে শহিদ ইতিপূর্বে বলেন, আমি যে ব্যবসা করি তা বনানী থানা পুলিশ সবই জানে| তাই তাদেরকে নিয়ে চিন্তা করিনা| তারা আমাদের কথা শুনে| ফলে অভিযানের কোন ভয় নেই| এসব ব্যবসা করতে গেলে সব কিছুই মেইনটেইন্স করতে হয়|

প্রতিবেশীদের কয়েকজন জানান, প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তির আনাগোনা বাড়তে থাকে| অনেক সময় বিলাসবহুল গাড়ি ও মোটরসাইকেলের সারিও দেখা যায়| তাদের অভিযোগ, এসব কার্যক্রমের কারণে এলাকায় সামাজিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ বাসিন্দারা অ¯^স্তিতে রয়েছেন| 

আরও পড়ুন: বনানীর ২৭ নম্বর রোডের স্পা নিয়ে প্রশ্নের শেষ কোথায়?

একজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেকবার অভিযোগ করা হয়েছে| কিন্তু দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখিনি| আরেকজন ব্যবসায়ী বলেন,  এটি যদি ˆবধ ব্যবসা হয়, তাহলে এত অভিযোগ কেন? 

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, স্পা সেন্টারটিকে ঘিরে মাদক সেবন ও সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে| তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তির নিয়মিত উপস্থিতি দেখা যায়| তবে এই অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি|

আরও পড়ুন:  বনানীতে কোটি টাকার লাভের লোভ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতার ৩

বিশ্লেষকদের মতে, এমন অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা জরুরি| কারণ অভিযোগ সত্য হলে তা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়, বরং পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত| এয়াড়া বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা বনানী থানা পুলিশকে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে| অভিযোগকারীদের ভাষ্য, তারা বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণও দিয়েছেন বলে দাবি করেন| তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি| এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে এলাকার তরুণ সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে| তারা মনে করেন, বনানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সব ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন|

আরও পড়ুন: গুলশান-বনানীতে অবৈধ স্পা সেন্টার কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের চেষ্টা

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যদি অনৈতিক কার্যক্রম বা মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ওঠে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সম্মিলিত অভিযান প্রয়োজন| সংশ্লিষ্ট স্পা সেন্টারের ব্যবসায়িক লাইসেন্স, পরিচালনার অনুমোদন, কর্মীদের পরিচয় এবং কার্যক্রমের ˆবধতা খতিয়ে দেখা হোক| প্রয়োজন হলে পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা যৌথভাবে তদন্ত পরিচালনা করতে পারে| 

আরও পড়ুন:  কম খরচে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ডিএমপির নতুন উদ্যোগ

এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে শহিদ ও মিঠুর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি| প্রতিবেদন প্রকাশের আগে বনানী থানার অফিসার ইনচার্জকে ফোন করে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি| বনানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কোনো প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন| 

বিষয় : স্পা রাজধানী অপরাধ বনানী

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬


বনানীতে শহিদের অবৈধ স্পা সেন্টার ঘিরে অন্ধকার জগৎ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানী| কূটনৈতিক মিশন, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় এবং উচ্চবিত্ত আবাসনের জন্য পরিচিত এই এলাকায় একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে| অভিযোগ রয়েছে, বনানীর ২৭ নং রোডে পরিচালিত একটি স্পা সেন্টারের আড়ালে অনৈতিক কার্যক্রম, মাদক লেনদেন এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের তৎপরতা চলছে| একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে|

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনের পাশাপাশি গভীর রাত পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষের অস্বাভাবিক যাতায়াত লক্ষ্য করা যায়| প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সাধারণ স্পা ব্যবসার সীমা অতিক্রম করেছে বলে তাদের সন্দেহ|

আরও পড়ুন: হামলা-হয়রানিতে চ্যালেঞ্জে পুলিশ

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শহিদ ও মিঠু নামে দুই ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে| এরমধ্যে শহিদ স্বৈরাচারী শাসন আমলে বেশ ক্ষমতার দাপটে দেখিয়ে অনেককেই হয়রানী ও মেয়েদেরকে দিয়ে প্রতারনার ফাঁদ পাতিয়েছিলেন এবং স্বৈরাচারী আ.লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের অর্থদাতা হিবেবে তাকে দেখা গিয়েছে| সেগুলো ধামাচাপা বর্তমানের বিএনপির নেতাকর্মীদের পরিচয় দিয়ে চলছে উক্ত অবৈধ স্পা সেন্টারটি| তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি| তবে শহিদ ইতিপূর্বে বলেন, আমি যে ব্যবসা করি তা বনানী থানা পুলিশ সবই জানে| তাই তাদেরকে নিয়ে চিন্তা করিনা| তারা আমাদের কথা শুনে| ফলে অভিযানের কোন ভয় নেই| এসব ব্যবসা করতে গেলে সব কিছুই মেইনটেইন্স করতে হয়|

প্রতিবেশীদের কয়েকজন জানান, প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তির আনাগোনা বাড়তে থাকে| অনেক সময় বিলাসবহুল গাড়ি ও মোটরসাইকেলের সারিও দেখা যায়| তাদের অভিযোগ, এসব কার্যক্রমের কারণে এলাকায় সামাজিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ বাসিন্দারা অ¯^স্তিতে রয়েছেন| 

আরও পড়ুন: বনানীর ২৭ নম্বর রোডের স্পা নিয়ে প্রশ্নের শেষ কোথায়?

একজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেকবার অভিযোগ করা হয়েছে| কিন্তু দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখিনি| আরেকজন ব্যবসায়ী বলেন,  এটি যদি ˆবধ ব্যবসা হয়, তাহলে এত অভিযোগ কেন? 

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, স্পা সেন্টারটিকে ঘিরে মাদক সেবন ও সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে| তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তির নিয়মিত উপস্থিতি দেখা যায়| তবে এই অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি|

আরও পড়ুন:  বনানীতে কোটি টাকার লাভের লোভ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতার ৩

বিশ্লেষকদের মতে, এমন অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা জরুরি| কারণ অভিযোগ সত্য হলে তা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়, বরং পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত| এয়াড়া বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা বনানী থানা পুলিশকে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে| অভিযোগকারীদের ভাষ্য, তারা বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণও দিয়েছেন বলে দাবি করেন| তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি| এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে এলাকার তরুণ সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে| তারা মনে করেন, বনানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সব ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন|

আরও পড়ুন: গুলশান-বনানীতে অবৈধ স্পা সেন্টার কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের চেষ্টা

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যদি অনৈতিক কার্যক্রম বা মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ওঠে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সম্মিলিত অভিযান প্রয়োজন| সংশ্লিষ্ট স্পা সেন্টারের ব্যবসায়িক লাইসেন্স, পরিচালনার অনুমোদন, কর্মীদের পরিচয় এবং কার্যক্রমের ˆবধতা খতিয়ে দেখা হোক| প্রয়োজন হলে পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা যৌথভাবে তদন্ত পরিচালনা করতে পারে| 

আরও পড়ুন:  কম খরচে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ডিএমপির নতুন উদ্যোগ

এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে শহিদ ও মিঠুর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি| প্রতিবেদন প্রকাশের আগে বনানী থানার অফিসার ইনচার্জকে ফোন করে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি| বনানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কোনো প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন| 



দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত