দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

অভিযোগের পাহাড়, তবুও বহাল তবিয়তে হোটেল সবুজ বাংলা!

অভিযোগের পাহাড়, তবুও বহাল তবিয়তে হোটেল সবুজ বাংলা!
হোটেল সবুজ বাংলা!

রাজধানীর মালিবাগ এলাকায় অবস্থিত হোটেল সবুজ বাংলাকে ঘিরে আবারও উঠেছে নানা অভিযোগ| স্থানীয়দের দাবি, আবাসিক হোটেলের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কথিত ‘এসকর্ট সার্ভিস’ পরিচালিত হচ্ছে এবং দিন-রাত চলে অনৈতিক কর্মকাণ্ড| অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের অবাধ যাতায়াত, ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ ভাড়া এবং অসামাজিক কার্যকলাপের কারণে এলাকার পরিবেশ ক্রমেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে| রামপুরা থানার আওতাধীন মালিবাগের ব্যস্ত এলাকায় অবস্থিত হোটেল সবুজ বাংলা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে| এলাকাবাসীর অভিযোগ, হোটেলটির কার্যক্রম নিয়ে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ করা হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি| ফলে অভিযোগকারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে|

আরো পড়ুন: আল-আমিনের শাহজাদপুর-মেরুলে হোটেল ব্যবসার আড়ালে কী চলছে?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দিনের পাশাপাশি গভীর রাতেও হোটেলটিতে বিভিন্ন ব্যক্তির যাতায়াত লক্ষ্য করা যায়| অনেক ক্ষেত্রে স্বল্প সময়ের জন্য কক্ষ ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে| তাদের মতে, একটি আবাসিক হোটেল হিসেবে যে ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা, বাস্তবে তার বাইরে অনেক কিছুই ঘটছে|

একজন ব্যবসায়ী বলেন, এলাকাটি মূলত আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিশ্র পরিবেশের| কিন্তু হোটেলটিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অভিযোগ শুনে আসছি| বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন| আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “অনেক সময় রাত গভীর পর্যন্ত সন্দেহজনক ব্যক্তিদের যাতায়াত দেখা যায়| এতে পরিবার নিয়ে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ˆতরি হচ্ছে|

আরো পড়ুন: গুলশানে স্পা নেটওয়ার্কের নেপথ্যে কে এই নুর-ইসলাম?

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী তথ্য সংগ্রহে গেলে তাদের নানা ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে| সংশ্লিষ্টদের দাবি, হোটেলের কিছু ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী বা প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন|

সূত্র জানায়, অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে কেউ কেউ সংবাদকর্মীদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ করেন| এমনকি হোটেলের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করলে বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়|

আরো পড়ুন: উত্তরায় পুলিশের নাকের ডগায় গ্রান্ড প্লাজায় সোহেলের অসামাজিক কার্যক্রম

স্থানীয়দের সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো, হোটেলটিতে কথিত ‘এসকর্ট সার্ভিস’ পরিচালনা করা হয়| অভিযোগ অনুযায়ী, মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে গ্রাহক সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট কমিশনের ভিত্তিতে নারী সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়| তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি| ফলে অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়| সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য বের করা প্রয়োজন|

স্থানীয় সূত্রের দাবি, এটি প্রথমবার নয়| অতীতেও হোটেল সবুজ বাংলার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়েছে| কয়েকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধি পেলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে| কোনো একটি অভিযানের পর কিছুদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়| ফলে স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ঘটছে|

আরো পড়ুন: কালুখালী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

সামাজিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আবাসিক হোটেলের আড়ালে যদি কোনো ধরনের অনৈতিক বা বেআইনি কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, তাহলে তা শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্য নয়, সামাজিক পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর| বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা ও পারিবারিক পরিবেশের কাছে এ ধরনের কার্যক্রম নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে| তাদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব| একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করাও সমীচীন নয়|

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত আবাসিক হোটেলগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করা প্রয়োজন| অতিথিদের তথ্য সংরক্ষণ, জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ এবং সন্দেহজনক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অনেক অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব| তারা বলেন, হোটেল ব্যবসা একটি ˆবধ ও গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাত| কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি এই ব্যবসার আড়ালে বেআইনি কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাহলে তা পুরো খাতের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে|

আরো পড়ুন: কক্সবাজার হাসপাতালে ইয়াবা সরবরাহ করতে এসে ধরা দম্পতি, পালাল রোগী

মালিবাগ এলাকার বাসিন্দারা হোটেল সবুজ বাংলার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন| তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এলাকায় স্বস্তি ফিরবে| একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং পর্যটন ও হোটেল খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন| অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে জনমনে থাকা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা|

সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, একটি আবাসিক হোটেল পরিচালনার জন্য সাধারণত ট্রেড লাইসেন্স, অগ্নিনির্বাপণ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সংক্রান্ত অনুমোদন, অতিথিদের তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা, জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকতে হয়| কোনো প্রতিষ্ঠান এসব শর্ত পূরণ না করে পরিচালিত হলে তা তদন্তসাপেক্ষে আইনগত জটিলতার মুখোমুখি হতে পারে|

আরো পড়ুন: রামিসা হত্যা মামলার আসামি সোহেল রানা: গ্রামের নীরব লজ্জা ও অপরাধের পেছনের গল্প

রাজধানীর মালিবাগে অবস্থিত হোটেল সবুজ বাংলাকে ঘিরে ওঠা অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কথিত এসকর্ট সার্ভিস পরিচালনার অভিযোগ নতুন নয় বলে দাবি স্থানীয়দের| তবে অভিযোগ যতই গুরুতর হোক না কেন, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রমাণিত হওয়া প্রয়োজন| আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে, তাহলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পথ সুগম হবে| অন্যদিকে অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও পরিষ্কার হওয়া জরুরি| তাই জন¯^ার্থে ¯^চ্ছ তদন্ত ও কার্যকর নজরদারির বিকল্প নেই|

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


অভিযোগের পাহাড়, তবুও বহাল তবিয়তে হোটেল সবুজ বাংলা!

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image

রাজধানীর মালিবাগ এলাকায় অবস্থিত হোটেল সবুজ বাংলাকে ঘিরে আবারও উঠেছে নানা অভিযোগ| স্থানীয়দের দাবি, আবাসিক হোটেলের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কথিত ‘এসকর্ট সার্ভিস’ পরিচালিত হচ্ছে এবং দিন-রাত চলে অনৈতিক কর্মকাণ্ড| অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের অবাধ যাতায়াত, ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ ভাড়া এবং অসামাজিক কার্যকলাপের কারণে এলাকার পরিবেশ ক্রমেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে| রামপুরা থানার আওতাধীন মালিবাগের ব্যস্ত এলাকায় অবস্থিত হোটেল সবুজ বাংলা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে| এলাকাবাসীর অভিযোগ, হোটেলটির কার্যক্রম নিয়ে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ করা হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি| ফলে অভিযোগকারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে|

আরো পড়ুন: আল-আমিনের শাহজাদপুর-মেরুলে হোটেল ব্যবসার আড়ালে কী চলছে?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দিনের পাশাপাশি গভীর রাতেও হোটেলটিতে বিভিন্ন ব্যক্তির যাতায়াত লক্ষ্য করা যায়| অনেক ক্ষেত্রে স্বল্প সময়ের জন্য কক্ষ ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে| তাদের মতে, একটি আবাসিক হোটেল হিসেবে যে ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা, বাস্তবে তার বাইরে অনেক কিছুই ঘটছে|

একজন ব্যবসায়ী বলেন, এলাকাটি মূলত আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিশ্র পরিবেশের| কিন্তু হোটেলটিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অভিযোগ শুনে আসছি| বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন| আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “অনেক সময় রাত গভীর পর্যন্ত সন্দেহজনক ব্যক্তিদের যাতায়াত দেখা যায়| এতে পরিবার নিয়ে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ˆতরি হচ্ছে|

আরো পড়ুন: গুলশানে স্পা নেটওয়ার্কের নেপথ্যে কে এই নুর-ইসলাম?

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী তথ্য সংগ্রহে গেলে তাদের নানা ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে| সংশ্লিষ্টদের দাবি, হোটেলের কিছু ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী বা প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন|

সূত্র জানায়, অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে কেউ কেউ সংবাদকর্মীদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ করেন| এমনকি হোটেলের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করলে বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়|

আরো পড়ুন: উত্তরায় পুলিশের নাকের ডগায় গ্রান্ড প্লাজায় সোহেলের অসামাজিক কার্যক্রম

স্থানীয়দের সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো, হোটেলটিতে কথিত ‘এসকর্ট সার্ভিস’ পরিচালনা করা হয়| অভিযোগ অনুযায়ী, মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে গ্রাহক সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট কমিশনের ভিত্তিতে নারী সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়| তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি| ফলে অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়| সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য বের করা প্রয়োজন|

স্থানীয় সূত্রের দাবি, এটি প্রথমবার নয়| অতীতেও হোটেল সবুজ বাংলার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়েছে| কয়েকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধি পেলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে| কোনো একটি অভিযানের পর কিছুদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়| ফলে স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ঘটছে|

আরো পড়ুন: কালুখালী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

সামাজিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আবাসিক হোটেলের আড়ালে যদি কোনো ধরনের অনৈতিক বা বেআইনি কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, তাহলে তা শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্য নয়, সামাজিক পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর| বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা ও পারিবারিক পরিবেশের কাছে এ ধরনের কার্যক্রম নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে| তাদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব| একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করাও সমীচীন নয়|

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত আবাসিক হোটেলগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করা প্রয়োজন| অতিথিদের তথ্য সংরক্ষণ, জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ এবং সন্দেহজনক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অনেক অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব| তারা বলেন, হোটেল ব্যবসা একটি ˆবধ ও গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাত| কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি এই ব্যবসার আড়ালে বেআইনি কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাহলে তা পুরো খাতের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে|

আরো পড়ুন: কক্সবাজার হাসপাতালে ইয়াবা সরবরাহ করতে এসে ধরা দম্পতি, পালাল রোগী

মালিবাগ এলাকার বাসিন্দারা হোটেল সবুজ বাংলার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন| তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এলাকায় স্বস্তি ফিরবে| একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং পর্যটন ও হোটেল খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন| অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে জনমনে থাকা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা|

সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, একটি আবাসিক হোটেল পরিচালনার জন্য সাধারণত ট্রেড লাইসেন্স, অগ্নিনির্বাপণ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সংক্রান্ত অনুমোদন, অতিথিদের তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা, জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকতে হয়| কোনো প্রতিষ্ঠান এসব শর্ত পূরণ না করে পরিচালিত হলে তা তদন্তসাপেক্ষে আইনগত জটিলতার মুখোমুখি হতে পারে|

আরো পড়ুন: রামিসা হত্যা মামলার আসামি সোহেল রানা: গ্রামের নীরব লজ্জা ও অপরাধের পেছনের গল্প

রাজধানীর মালিবাগে অবস্থিত হোটেল সবুজ বাংলাকে ঘিরে ওঠা অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কথিত এসকর্ট সার্ভিস পরিচালনার অভিযোগ নতুন নয় বলে দাবি স্থানীয়দের| তবে অভিযোগ যতই গুরুতর হোক না কেন, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রমাণিত হওয়া প্রয়োজন| আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে, তাহলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পথ সুগম হবে| অন্যদিকে অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও পরিষ্কার হওয়া জরুরি| তাই জন¯^ার্থে ¯^চ্ছ তদন্ত ও কার্যকর নজরদারির বিকল্প নেই|



দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত