দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

গুলশান ২৬-এ কথিত গেস্ট হাউস সিন্ডিকেটের রহস্য

গুলশান ২৬-এ কথিত গেস্ট হাউস সিন্ডিকেটের রহস্য

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান। কূটনৈতিক এলাকা, আবাসিক ভবন, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কারণে রাজধানীর অন্যতম সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চল। অথচ গুলশান ২৬ নম্বর রোডের ২০/সি বাড়িটির গেস্ট হাউসকে ঘিরে ওঠা নানা অভিযোগ এখন নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে আবাসিক এলাকার ভবনে গেস্ট হাউস পরিচালনার বৈধতা কতটুকু, এসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত ব্যবহার কী, আর সেখানে বাস্তবে কী ধরনের ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে?

আরও পড়ুন: গুলশান ২৬ নাম্বার রোডে গেস্ট হাউসের আড়ালে ‘স্কর্ট সার্ভিস’ ও মাদকের অভিযোগ

আগের অনুসন্ধানে গেস্ট হাউসের আড়ালে কথিত ‘স্কর্ট সার্ভিস’, মাদক সিন্ডিকেটের আনাগোনা, ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ বরাদ্দ এবং মধ্যস্থতাকারী বা দালাল চক্রের তৎপরতার অভিযোগ সামনে আসে। এসব অভিযোগের সবকটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে অনুসন্ধানের সময় সংবাদকর্মীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনা এবং সংশ্লিষ্ট এক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য“এখন ব্যবসার ধরন পাল্টিয়েছি।

কোনো আবাসিক এলাকায় সাইন বোর্ডবিহীন গেস্ট হাউস দেখা গেলেই সেটিকে অবৈধ বলা যায়। একইভাবে শুধু একটি ট্রেড লাইসেন্স থাকলেই কোনো ভবনের ব্যবহার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হয়ে যায় না। ভবনটির অনুমোদিত ব্যবহার, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি, ব্যবসার ধরন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র—সবকিছু মিলিয়েই বৈধতার বিষয়টি নির্ধারিত হয়।

আরও পড়ুন: বনানীতে শৈশবের স্পা সেন্টার ঘিরে নারী ও দালাল সিন্ডিকেট

ভবনটি মূলত কী ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত? সেখানে গেস্ট হাউস পরিচালনার অনুমোদন আছে কি? ব্যবসার ধরন পরিবর্তন করা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে কি? ট্রেড লাইসেন্সে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে? অগ্নিনিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি?

অনুসন্ধানের সময় গেস্ট হাউসের এক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “ভাই, এখন ব্যবসার ধরন পাল্টিয়েছি। এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যই নতুন অনুসন্ধানের দরজা খুলে দিয়েছে। কারণ ব্যবসার ধরন পরিবর্তন একটি সাধারণ বিষয় হলেও, আবাসিক এলাকার কোনো ভবনে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ও ব্যবহারবিধির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।  যদি প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে শুধুই বৈধ আবাসনসেবা দিয়ে থাকে, তাহলে সেই কার্যক্রমের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে আপত্তি থাকার কথা নয়। আবার যদি আগের অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন হয়, তাহলে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও তা পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি কামরুজ্জামানসহ একাধিক পার্টনার রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে গেস্ট হাউসের আড়ালে কথিত ‘স্কর্ট সার্ভিস’, মাদক সিন্ডিকেটের আনাগোনা, ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ বরাদ্দ এবং মধ্যস্থতাকারী বা দালাল চক্রের তৎপরতায় চলছে তাদেও অবৈধ গেষ্ট হাউজটি।

আরও পড়ুন: বনানীর ২৭ নম্বর রোডের স্পা নিয়ে প্রশ্নের শেষ কোথায়?

অনুসন্ধানের সময় সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। গেস্ট হাউসের মতো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তার জন্য কর্মী থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে প্রবেশমুখে একাধিক ব্যক্তি বাধা দিলে কিংবা তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ না দিলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে কী এমন তথ্য রয়েছে, যা বাইরে প্রকাশ পেতে দেওয়া হচ্ছে না? আসলে বাইরে থেকে অনুমান করা খুবই কঠিন ভিতওে কি হচ্ছে।

স্থানীয় পর্যায়ে আরও একটি অভিযোগ রয়েছে, গেস্ট হাউসকেন্দ্রিক কিছু মধ্যস্থতাকারী বা কথিত দালাল বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে। এই অভিযোগও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। কারণ কাউকে দালাল হিসেবে চিহ্নিত করতে হলে তার ভূমিকার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ থাকা জরুরি। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রবেশমুখে নিয়মিতভাবে এমন ব্যক্তিদের উপস্থিতি থাকে কি না, তারা অতিথিদের সঙ্গে কী ধরনের যোগাযোগ করে এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক রয়েছে কি না এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনা যেতে পারে। গেস্ট হাউসকে ঘিরে মাদক সিন্ডিকেটের আড্ডার অভিযোগও সামনে এসেছে। কিন্তু এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ প্রমাণের জন্য প্রয়োজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত। 

আরও পড়ুন: দারুস সালামে আবাসিক হোটেলের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

গুলশানের আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিবেশ। একটি ভবনে যদি দিনের পর দিন অপরিচিত মানুষের যাতায়াত বাড়ে, দিনে বা রাতে অস্বাভাবিক গতিবিধি দেখা যায়, বিভিন্ন গাড়ি স্বল্প সময়ের জন্য আসা-যাওয়া করে অথবা ভবনের সামনে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের অবস্থান দেখা যায় তাহলে আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, কোনো এলাকায় অপরাধের পরিবেশ তৈরি হওয়ার আগে সাধারণত কিছু ছোটখাটো অনিয়ম দেখা দিতে পারে। পরিচয় যাচাই না করা, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের অবাধ যাতায়াত, স্বল্পমেয়াদি কক্ষ ব্যবহার এবং স্থানীয়দের অভিযোগকে গুরুত্ব না দেওয়া এসব বিষয় ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।

আরও পড়ুন: মাদারীপুর সদর থানার অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিসহ আটক ৩

গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো প্রশ্ন তোলা, তথ্য সংগ্রহ করা এবং জনস্বার্থের বিষয় সামনে আনা। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের আগে অভিযোগের পক্ষে যতটা সম্ভব নথি, প্রত্যক্ষ তথ্য, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য সংগ্রহ করা সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। এর পাশাপাশি প্রশ্ন রয়েছে, কক্ষগুলো কীভাবে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, অতিথিদের পরিচয় কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ব্যবসার ধরন কী এবং প্রবেশমুখে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার কারণই বা কী।

আরও পড়ুন: টেকনাফে পুলিশের অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও ৭৯ রাউন্ড গুলিসহ পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

গেস্ট হাউস কর্তৃপক্ষ যদি বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ও কার্যক্রম সম্পর্কে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ তাদের রয়েছে। অন্যদিকে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচিত দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। কারণ গুলশানের মতো আবাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধু ব্যবসা করাই যথেষ্ট নয় আইন, অনুমোদন, নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ সবকিছুর সমন্বয় নিশ্চিত করাও জরুরি।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন বলেন, “গুলশান ২৬ নম্বর রোডের গেস্ট হাউসকে ঘিরে যেসব অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখব। কোনো প্রতিষ্ঠান বৈধ অনুমোদনের বাইরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, মাদক বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যাতে ভিত্তিহীন অভিযোগ না ওঠে, সেটিও আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখব।”

বিষয় : রাজধানী গুলশান অপরাধ গেস্ট হাউস

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


গুলশান ২৬-এ কথিত গেস্ট হাউস সিন্ডিকেটের রহস্য

প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান। কূটনৈতিক এলাকা, আবাসিক ভবন, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কারণে রাজধানীর অন্যতম সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চল। অথচ গুলশান ২৬ নম্বর রোডের ২০/সি বাড়িটির গেস্ট হাউসকে ঘিরে ওঠা নানা অভিযোগ এখন নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে আবাসিক এলাকার ভবনে গেস্ট হাউস পরিচালনার বৈধতা কতটুকু, এসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত ব্যবহার কী, আর সেখানে বাস্তবে কী ধরনের ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে?

আরও পড়ুন: গুলশান ২৬ নাম্বার রোডে গেস্ট হাউসের আড়ালে ‘স্কর্ট সার্ভিস’ ও মাদকের অভিযোগ

আগের অনুসন্ধানে গেস্ট হাউসের আড়ালে কথিত ‘স্কর্ট সার্ভিস’, মাদক সিন্ডিকেটের আনাগোনা, ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ বরাদ্দ এবং মধ্যস্থতাকারী বা দালাল চক্রের তৎপরতার অভিযোগ সামনে আসে। এসব অভিযোগের সবকটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে অনুসন্ধানের সময় সংবাদকর্মীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনা এবং সংশ্লিষ্ট এক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য“এখন ব্যবসার ধরন পাল্টিয়েছি।

কোনো আবাসিক এলাকায় সাইন বোর্ডবিহীন গেস্ট হাউস দেখা গেলেই সেটিকে অবৈধ বলা যায়। একইভাবে শুধু একটি ট্রেড লাইসেন্স থাকলেই কোনো ভবনের ব্যবহার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হয়ে যায় না। ভবনটির অনুমোদিত ব্যবহার, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি, ব্যবসার ধরন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র—সবকিছু মিলিয়েই বৈধতার বিষয়টি নির্ধারিত হয়।

আরও পড়ুন: বনানীতে শৈশবের স্পা সেন্টার ঘিরে নারী ও দালাল সিন্ডিকেট

ভবনটি মূলত কী ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত? সেখানে গেস্ট হাউস পরিচালনার অনুমোদন আছে কি? ব্যবসার ধরন পরিবর্তন করা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে কি? ট্রেড লাইসেন্সে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে? অগ্নিনিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি?

অনুসন্ধানের সময় গেস্ট হাউসের এক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “ভাই, এখন ব্যবসার ধরন পাল্টিয়েছি। এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যই নতুন অনুসন্ধানের দরজা খুলে দিয়েছে। কারণ ব্যবসার ধরন পরিবর্তন একটি সাধারণ বিষয় হলেও, আবাসিক এলাকার কোনো ভবনে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ও ব্যবহারবিধির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।  যদি প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে শুধুই বৈধ আবাসনসেবা দিয়ে থাকে, তাহলে সেই কার্যক্রমের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে আপত্তি থাকার কথা নয়। আবার যদি আগের অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন হয়, তাহলে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও তা পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি কামরুজ্জামানসহ একাধিক পার্টনার রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে গেস্ট হাউসের আড়ালে কথিত ‘স্কর্ট সার্ভিস’, মাদক সিন্ডিকেটের আনাগোনা, ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ বরাদ্দ এবং মধ্যস্থতাকারী বা দালাল চক্রের তৎপরতায় চলছে তাদেও অবৈধ গেষ্ট হাউজটি।

আরও পড়ুন: বনানীর ২৭ নম্বর রোডের স্পা নিয়ে প্রশ্নের শেষ কোথায়?

অনুসন্ধানের সময় সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। গেস্ট হাউসের মতো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তার জন্য কর্মী থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে প্রবেশমুখে একাধিক ব্যক্তি বাধা দিলে কিংবা তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ না দিলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে কী এমন তথ্য রয়েছে, যা বাইরে প্রকাশ পেতে দেওয়া হচ্ছে না? আসলে বাইরে থেকে অনুমান করা খুবই কঠিন ভিতওে কি হচ্ছে।

স্থানীয় পর্যায়ে আরও একটি অভিযোগ রয়েছে, গেস্ট হাউসকেন্দ্রিক কিছু মধ্যস্থতাকারী বা কথিত দালাল বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে। এই অভিযোগও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। কারণ কাউকে দালাল হিসেবে চিহ্নিত করতে হলে তার ভূমিকার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ থাকা জরুরি। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রবেশমুখে নিয়মিতভাবে এমন ব্যক্তিদের উপস্থিতি থাকে কি না, তারা অতিথিদের সঙ্গে কী ধরনের যোগাযোগ করে এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক রয়েছে কি না এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনা যেতে পারে। গেস্ট হাউসকে ঘিরে মাদক সিন্ডিকেটের আড্ডার অভিযোগও সামনে এসেছে। কিন্তু এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ প্রমাণের জন্য প্রয়োজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত। 

আরও পড়ুন: দারুস সালামে আবাসিক হোটেলের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

গুলশানের আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিবেশ। একটি ভবনে যদি দিনের পর দিন অপরিচিত মানুষের যাতায়াত বাড়ে, দিনে বা রাতে অস্বাভাবিক গতিবিধি দেখা যায়, বিভিন্ন গাড়ি স্বল্প সময়ের জন্য আসা-যাওয়া করে অথবা ভবনের সামনে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের অবস্থান দেখা যায় তাহলে আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, কোনো এলাকায় অপরাধের পরিবেশ তৈরি হওয়ার আগে সাধারণত কিছু ছোটখাটো অনিয়ম দেখা দিতে পারে। পরিচয় যাচাই না করা, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের অবাধ যাতায়াত, স্বল্পমেয়াদি কক্ষ ব্যবহার এবং স্থানীয়দের অভিযোগকে গুরুত্ব না দেওয়া এসব বিষয় ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।

আরও পড়ুন: মাদারীপুর সদর থানার অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিসহ আটক ৩

গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো প্রশ্ন তোলা, তথ্য সংগ্রহ করা এবং জনস্বার্থের বিষয় সামনে আনা। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের আগে অভিযোগের পক্ষে যতটা সম্ভব নথি, প্রত্যক্ষ তথ্য, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য সংগ্রহ করা সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। এর পাশাপাশি প্রশ্ন রয়েছে, কক্ষগুলো কীভাবে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, অতিথিদের পরিচয় কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ব্যবসার ধরন কী এবং প্রবেশমুখে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার কারণই বা কী।

আরও পড়ুন: টেকনাফে পুলিশের অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও ৭৯ রাউন্ড গুলিসহ পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

গেস্ট হাউস কর্তৃপক্ষ যদি বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ও কার্যক্রম সম্পর্কে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ তাদের রয়েছে। অন্যদিকে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচিত দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। কারণ গুলশানের মতো আবাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধু ব্যবসা করাই যথেষ্ট নয় আইন, অনুমোদন, নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ সবকিছুর সমন্বয় নিশ্চিত করাও জরুরি।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন বলেন, “গুলশান ২৬ নম্বর রোডের গেস্ট হাউসকে ঘিরে যেসব অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখব। কোনো প্রতিষ্ঠান বৈধ অনুমোদনের বাইরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, মাদক বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যাতে ভিত্তিহীন অভিযোগ না ওঠে, সেটিও আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখব।”



দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত