দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁদ

গুলশানে বাহারের স্পা সেন্টার ঘিরে অন্ধকার জগতের অভিযোগ

গুলশানে বাহারের স্পা সেন্টার ঘিরে অন্ধকার জগতের অভিযোগ
বাহারের স্পা সেন্টার ঘিরে অন্ধকার জগতের অভিযোগ

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরেনানা অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ওসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, কথিত এই স্পা সেন্টারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। অভিযোগ রয়েছে, নারী সরবরাহ, মাদক সেবন,কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আনাগোনা এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য প্রতিষ্ঠানটির আশপাশের পরিবেশ দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। তবে দিনের তুলনায় সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় অপরিচিত তরুণ-তরুণীদের আনাগোনা বাড়ে। বিভিন্ন বয়সী নারীদের সেখানে যাতায়াত করতে দেখা যায় বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।

আরও  পড়ুন, বাহরের ৯৯ রোডে স্পা সেন্টার ঘিরে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের অভিযোগ

 তবে এসব স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা স্পা সেন্টারের মালিক বাহার বিভিন্ন সময় নিজেকে ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে উপস্থাপন করে থাকেন এমন অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি নানা ব্যাখ্যা দিয়ে নিজেকে দায়মুক্ত রাখার চেষ্টা করেন। এমনকি তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এমন দাবিও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। তবে অভিযোগকারীদের ভাষ্য, অসুস্থতার কথা বলা হলেও বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ফলে একটি পক্ষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে, নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবেই কথিত এই কর্মকাণ্ডগুলো দীর্ঘদিন ধরে চলার সুযোগ পাচ্ছে। 

আরও  পড়ুন, বনানীতে গেস্ট হাউজ-স্পা, ওসির ভূমিকা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন

স্পা সেন্টারটিকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো নারী পাচার ও নারী সরবরাহ। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় ছবি ও বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে সম্ভাব্য গ্রাহকদের আকৃষ্ট করা হয়। পরে নির্দিষ্ট যোগাযোগ নম্বরের মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়ার কথা বলা হয়। নাম প্রকাশ না করার কয়েকজনের অভিযোগ করে বলেন, , সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এসব বিজ্ঞাপনের আড়ালে একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা বিভিন্ন স্থান থেকে নারীদের এনে নির্দিষ্ট স্থানে সরবরাহ করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাহারের ৯৯ রোডের একটি বাড়ির ৬ষ্ঠ তলায় স্পা সেন্টারকে কেন্দ্র করে মাদক সেবনেরও একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রাতের দিকে সেখানে কিছু তরুণের আনাগোনা দেখা যায় এবং তাদের একটি অংশ কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে বলে সন্দেহ রয়েছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের অপরাধচক্রে জড়িয়ে পড়ার পেছনে মাদক, অবৈধ আড্ডা ও অপরাধীদের সঙ্গে যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে যদি নিয়মিতভাবে অপরাধপ্রবণ তরুণদের আনাগোনা থাকে,

আরও  পড়ুন, মিরপুর-১০-এ উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ

 তাহলে সেটি স্থানীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তবে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। আরেকটি দিক হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেগ্রাহক সংগ্রহ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে নারীদের ছবি ব্যবহার করে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সম্ভাব্য গ্রাহকদের নির্দিষ্ট নম্বর বা অনলাইন অ্যাকাউন্টে যোগাযোগ করতে বলা হয়।যোগাযোগের পর গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। কারও ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ধারণ করে পরবর্তীতে তা প্রকাশের ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করার মতো ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগও রয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি শুধু অবৈধ ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি সাইবার অপরাধের আওতায়ও পড়তে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ প্রমাণের জন্য ডিজিটাল আলামত, ভুক্তভোগীর বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত প্রয়োজন।অভিযোগগুলো যাচাই করতে গিয়ে সাংবাদিকরা নানা ধরনের বাধার মুখে পড়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। 

আরও  পড়ুন , গুলশানে গেস্ট হাউজ-স্পা, পেছনে মিরাজের অজানা সাম্রাজ্য?

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ কিংবা ছবি ও ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া ও বিভিন্ন রকমের ভয়ভীতি দেওয়ার চেষ্টা করেন বাহার এবং তার সহযোগিরা।সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়া হলে সেটি গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে উদ্বেগের বিষয়। কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদেরও পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ এবং কারও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি।গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজাত এলাকায় কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,সিটি করপোরেশন, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিতভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির বৈধ ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে কি না, অনুমোদিত ব্যবসার ধরন কী, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ কি না,

আরও  পড়ুন, গুলশানে গেস্ট হাউজ ও দীর্ঘদিনের স্পা ব্যবসায় কোটিপতি মিরাজ

 ভবনটি সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে কি না এবং মাদক বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।অভিযোগের বিষয়ে স্পা সেন্টারের মালিক বাহারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করেন। দৈনিক সংবাদ দিগন্তের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মালিক ও প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানার সুযোগ রাখা হয়েছে। গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কোনো প্রতিষ্ঠানের আড়ালে যদি সত্যিই অপরাধচক্র পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে তদন্তের মাধ্যমে তা শনাক্ত করা জরুরি। আবার অভিযোগের সত্যতা না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কোনো আবাসিক বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাদক, নারী পাচার, ব্ল্যাকমেইল, কিশোর গ্যাং কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে।অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত,সিসিটিভি ফুটেজ, প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি বলেন, 

আরও  পড়ুন, ধামরাইয়ে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি, দুই ডিলারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা

গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের আড়ালে অপরাধ সংঘটনের সুযোগ দেওয়া হবে না। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের সময় কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হলে বিষয়টি পুলিশকে জানাতে পারেন। একই সঙ্গে অভিযোগকারীদেরও সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।এবিষয়ে নবাগত গুলশান থানার ওসি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এলে তা যাচাই করে দেখা হবে। কোনো স্পা সেন্টার বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আড়ালে মাদক, নারী পাচার, ব্ল্যাকমেইল, কিশোর গ্যাং কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ওসি আরও বলেন, “সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের সময় কোনো বাধার সম্মুখীন হলে বিষয়টি থানাকে জানাতে পারেন। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয় : স্পা সেন্টার কর্মকাণ্ড অন্ধকার জগত অপরাধমূলক বাহার

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


গুলশানে বাহারের স্পা সেন্টার ঘিরে অন্ধকার জগতের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে একটি স্পা সেন্টারকে ঘিরেনানা অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ওসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, কথিত এই স্পা সেন্টারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। অভিযোগ রয়েছে, নারী সরবরাহ, মাদক সেবন,কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আনাগোনা এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য প্রতিষ্ঠানটির আশপাশের পরিবেশ দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। তবে দিনের তুলনায় সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় অপরিচিত তরুণ-তরুণীদের আনাগোনা বাড়ে। বিভিন্ন বয়সী নারীদের সেখানে যাতায়াত করতে দেখা যায় বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।

আরও  পড়ুন, বাহরের ৯৯ রোডে স্পা সেন্টার ঘিরে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের অভিযোগ

 তবে এসব স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা স্পা সেন্টারের মালিক বাহার বিভিন্ন সময় নিজেকে ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে উপস্থাপন করে থাকেন এমন অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি নানা ব্যাখ্যা দিয়ে নিজেকে দায়মুক্ত রাখার চেষ্টা করেন। এমনকি তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এমন দাবিও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। তবে অভিযোগকারীদের ভাষ্য, অসুস্থতার কথা বলা হলেও বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ফলে একটি পক্ষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে, নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবেই কথিত এই কর্মকাণ্ডগুলো দীর্ঘদিন ধরে চলার সুযোগ পাচ্ছে। 

আরও  পড়ুন, বনানীতে গেস্ট হাউজ-স্পা, ওসির ভূমিকা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন

স্পা সেন্টারটিকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো নারী পাচার ও নারী সরবরাহ। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় ছবি ও বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে সম্ভাব্য গ্রাহকদের আকৃষ্ট করা হয়। পরে নির্দিষ্ট যোগাযোগ নম্বরের মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়ার কথা বলা হয়। নাম প্রকাশ না করার কয়েকজনের অভিযোগ করে বলেন, , সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এসব বিজ্ঞাপনের আড়ালে একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা বিভিন্ন স্থান থেকে নারীদের এনে নির্দিষ্ট স্থানে সরবরাহ করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাহারের ৯৯ রোডের একটি বাড়ির ৬ষ্ঠ তলায় স্পা সেন্টারকে কেন্দ্র করে মাদক সেবনেরও একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রাতের দিকে সেখানে কিছু তরুণের আনাগোনা দেখা যায় এবং তাদের একটি অংশ কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে বলে সন্দেহ রয়েছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের অপরাধচক্রে জড়িয়ে পড়ার পেছনে মাদক, অবৈধ আড্ডা ও অপরাধীদের সঙ্গে যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে যদি নিয়মিতভাবে অপরাধপ্রবণ তরুণদের আনাগোনা থাকে,

আরও  পড়ুন, মিরপুর-১০-এ উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ

 তাহলে সেটি স্থানীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তবে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। আরেকটি দিক হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেগ্রাহক সংগ্রহ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে নারীদের ছবি ব্যবহার করে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সম্ভাব্য গ্রাহকদের নির্দিষ্ট নম্বর বা অনলাইন অ্যাকাউন্টে যোগাযোগ করতে বলা হয়।যোগাযোগের পর গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। কারও ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ধারণ করে পরবর্তীতে তা প্রকাশের ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করার মতো ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগও রয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি শুধু অবৈধ ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি সাইবার অপরাধের আওতায়ও পড়তে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ প্রমাণের জন্য ডিজিটাল আলামত, ভুক্তভোগীর বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত প্রয়োজন।অভিযোগগুলো যাচাই করতে গিয়ে সাংবাদিকরা নানা ধরনের বাধার মুখে পড়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। 

আরও  পড়ুন , গুলশানে গেস্ট হাউজ-স্পা, পেছনে মিরাজের অজানা সাম্রাজ্য?

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ কিংবা ছবি ও ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া ও বিভিন্ন রকমের ভয়ভীতি দেওয়ার চেষ্টা করেন বাহার এবং তার সহযোগিরা।সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়া হলে সেটি গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে উদ্বেগের বিষয়। কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদেরও পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ এবং কারও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি।গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজাত এলাকায় কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,সিটি করপোরেশন, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিতভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির বৈধ ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে কি না, অনুমোদিত ব্যবসার ধরন কী, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ কি না,

আরও  পড়ুন, গুলশানে গেস্ট হাউজ ও দীর্ঘদিনের স্পা ব্যবসায় কোটিপতি মিরাজ

 ভবনটি সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে কি না এবং মাদক বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।অভিযোগের বিষয়ে স্পা সেন্টারের মালিক বাহারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করেন। দৈনিক সংবাদ দিগন্তের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মালিক ও প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানার সুযোগ রাখা হয়েছে। গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কোনো প্রতিষ্ঠানের আড়ালে যদি সত্যিই অপরাধচক্র পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে তদন্তের মাধ্যমে তা শনাক্ত করা জরুরি। আবার অভিযোগের সত্যতা না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কোনো আবাসিক বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাদক, নারী পাচার, ব্ল্যাকমেইল, কিশোর গ্যাং কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে।অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত,সিসিটিভি ফুটেজ, প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি বলেন, 

আরও  পড়ুন, ধামরাইয়ে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি, দুই ডিলারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা

গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের আড়ালে অপরাধ সংঘটনের সুযোগ দেওয়া হবে না। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের সময় কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হলে বিষয়টি পুলিশকে জানাতে পারেন। একই সঙ্গে অভিযোগকারীদেরও সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।এবিষয়ে নবাগত গুলশান থানার ওসি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এলে তা যাচাই করে দেখা হবে। কোনো স্পা সেন্টার বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আড়ালে মাদক, নারী পাচার, ব্ল্যাকমেইল, কিশোর গ্যাং কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ওসি আরও বলেন, “সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের সময় কোনো বাধার সম্মুখীন হলে বিষয়টি থানাকে জানাতে পারেন। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
গুলশানে বাহারের স্পা সেন্টার ঘিরে অন্ধকার জগতের অভিযোগ
0:00 0:00
1.0x