গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানাধীন চন্দ্রা মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় সাইনবোর্ডবিহীন, নামসর্বস্ব একটি আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি সংগঠিত নারী ও মাদক সিন্ডিকেট এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের| স্থানীয় বাসিন্দা, ভুক্তভোগী এবং একাধিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই চক্রটি কেবল অনৈতিক কর্মকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে মাদক বাণিজ্য, দেহব্যবসা ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়া|
আরো পড়ুন: কালিয়াকৈরে শান্ত-জাকিরের হোটেলের আড়ালে অপরাধ সাম্রাজ্য
অনুসন্ধানে জানা যায়, সিন্ডিকেটটির মূল হোতা হিসেবে এলাকায় পরিচিত শান্ত, বাবুল ও শাজাহান নামের তিন ব্যক্তি| স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছেন| তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা হোটেলগুলো বাইরে থেকে সাধারণ আবাসিক হোটেল মনে হলেও ভেতরে চলে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগত|
স্থানীয় সূত্র জানায়, চন্দ্রা মহাসড়কের ব্যস্ততম অংশের পাশেই এসব হোটেল গড়ে ওঠায় যাতায়াতের সুবিধা কাজে লাগিয়ে সহজেই গ্রাহক টানা হয়| অনেক সময় বাইরের জেলা থেকে আগত ট্রাকচালক, শ্রমিক কিংবা পথচারীদের লক্ষ্য করে এই সিন্ডিকেট কাজ করে| হোটেলে প্রবেশের পর তাদের সামনে নানা ধরনের প্রলোভন উপস্থাপন করা হয়, যা ধীরে ধীরে অপরাধের জালে জড়িয়ে ফেলে|
আরো পড়ুন: সাব-রেজিস্টার জাকির হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদে সাংবাদিকের উপর হামলা
একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, এসব হোটেলে গিয়ে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন| প্রথমে কম টাকার কথা বলে ডেকে নিয়ে পরে বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়| কেউ প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি, এমনকি মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে| কিছুদিন আগে স্থানীয় পুলিশের একটি অভিযানে এই হোটেলগুলোর একটি বন্ধ করে দেওয়া হয়| অভিযানের সময় কয়েকজনকে আটক করা হলেও পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে আবারও কার্যক্রম শুরু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে|
আরো পড়ুন: বনানীতে মার্ভেল ইন হোটেল ঘিরে মিজান ও পায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ
হোটেল মালিকদের দাবি, তারা “সবকিছু ম্যানেজ” করে পুনরায় ব্যবসা শুরু করেছেন| স্থানীয়দের মতে, এই ‘ম্যানেজ’ শব্দটিই এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় যার মাধ্যমে বোঝানো হচ্ছে প্রভাবশালী কোনো মহলের সহায়তা বা দুর্বল নজরদারির সুযোগ|
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের সিন্ডিকেট টিকে থাকার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো ‘ম্যানেজ’ সংস্কৃতি| আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্য, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া থাকলে এ ধরনের অবৈধ ব্যবসা সহজেই পুনরুজ্জীবিত হয়|
আরো পড়ুন: উত্তরায় হোটেল গ্রান্ড প্লাজার কাণ্ড: ফের সক্রিয় নারী চক্র
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখানে অভিযান হয়, আবার সব আগের মতো হয়ে যায়| কিছুদিন চুপ থাকে, তারপর আবার শুরু হয়| আমরা ভয়েও কিছু বলতে পারি না| এই সিন্ডিকেট শুধু নারী ব্যবসাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে বিভিন্ন মাদকের সরবরাহ ও বিপণন| হোটেলগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে মাদক লেনদেনের নিরাপদ স্থান হিসেবে|
একজন স্থানীয় যুবক জানান, রাতে ওই এলাকায় গেলে ভিন্ন এক পরিবেশ দেখা যায়| অচেনা লোকজনের আনাগোনা, মোটরসাইকেলের ভিড় সব মিলিয়ে সন্দেহজনক পরিস্থিতি ˆতরি হয়| এ ধরনের কার্যক্রম শুধু ˆনতিক অবক্ষয়ই নয়, বরং সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি| মাদক ও দেহব্যবসার সঙ্গে জড়িত অপরাধ যেমন চুরি, ছিনতাই, সহিংসতা সবই বেড়ে যায়|
আরো পড়ুন: গাজীপুরে দক্ষিণ বাংলায় হোটেল সিন্ডিকেট নিয়ে নতুন বিতর্ক
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি| পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে বিস্তারিত তথ্য পাঠানো হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি| এই নীরবতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ˆতরি হয়েছে| অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় সিন্ডিকেটটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে|
এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রভাব পড়ছে আশপাশের সাধারণ মানুষের জীবনে| বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে| স্থানীয় পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের ওই এলাকায় যাতায়াত সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছে|
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অপরাধ দমনে শুধু অভিযান চালালেই হবে না; প্রয়োজন ধারাবাহিক নজরদারি ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা| সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা, সম্পদের উৎস তদন্ত এবং নিয়মিত মনিটরিং জরুরি| চন্দ্রা মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা এই নারী ও মাদক সিন্ডিকেট কেবল একটি এলাকার সমস্যা নয়; এটি বৃহত্তর সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি| বারবার অভিযানের পরও যদি একই কার্যক্রম চলতে থাকে, তবে তা আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে|

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানাধীন চন্দ্রা মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় সাইনবোর্ডবিহীন, নামসর্বস্ব একটি আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি সংগঠিত নারী ও মাদক সিন্ডিকেট এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের| স্থানীয় বাসিন্দা, ভুক্তভোগী এবং একাধিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই চক্রটি কেবল অনৈতিক কর্মকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে মাদক বাণিজ্য, দেহব্যবসা ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়া|
আরো পড়ুন: কালিয়াকৈরে শান্ত-জাকিরের হোটেলের আড়ালে অপরাধ সাম্রাজ্য
অনুসন্ধানে জানা যায়, সিন্ডিকেটটির মূল হোতা হিসেবে এলাকায় পরিচিত শান্ত, বাবুল ও শাজাহান নামের তিন ব্যক্তি| স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছেন| তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা হোটেলগুলো বাইরে থেকে সাধারণ আবাসিক হোটেল মনে হলেও ভেতরে চলে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগত|
স্থানীয় সূত্র জানায়, চন্দ্রা মহাসড়কের ব্যস্ততম অংশের পাশেই এসব হোটেল গড়ে ওঠায় যাতায়াতের সুবিধা কাজে লাগিয়ে সহজেই গ্রাহক টানা হয়| অনেক সময় বাইরের জেলা থেকে আগত ট্রাকচালক, শ্রমিক কিংবা পথচারীদের লক্ষ্য করে এই সিন্ডিকেট কাজ করে| হোটেলে প্রবেশের পর তাদের সামনে নানা ধরনের প্রলোভন উপস্থাপন করা হয়, যা ধীরে ধীরে অপরাধের জালে জড়িয়ে ফেলে|
আরো পড়ুন: সাব-রেজিস্টার জাকির হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদে সাংবাদিকের উপর হামলা
একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, এসব হোটেলে গিয়ে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন| প্রথমে কম টাকার কথা বলে ডেকে নিয়ে পরে বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়| কেউ প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি, এমনকি মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে| কিছুদিন আগে স্থানীয় পুলিশের একটি অভিযানে এই হোটেলগুলোর একটি বন্ধ করে দেওয়া হয়| অভিযানের সময় কয়েকজনকে আটক করা হলেও পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে আবারও কার্যক্রম শুরু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে|
আরো পড়ুন: বনানীতে মার্ভেল ইন হোটেল ঘিরে মিজান ও পায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ
হোটেল মালিকদের দাবি, তারা “সবকিছু ম্যানেজ” করে পুনরায় ব্যবসা শুরু করেছেন| স্থানীয়দের মতে, এই ‘ম্যানেজ’ শব্দটিই এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় যার মাধ্যমে বোঝানো হচ্ছে প্রভাবশালী কোনো মহলের সহায়তা বা দুর্বল নজরদারির সুযোগ|
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের সিন্ডিকেট টিকে থাকার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো ‘ম্যানেজ’ সংস্কৃতি| আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্য, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া থাকলে এ ধরনের অবৈধ ব্যবসা সহজেই পুনরুজ্জীবিত হয়|
আরো পড়ুন: উত্তরায় হোটেল গ্রান্ড প্লাজার কাণ্ড: ফের সক্রিয় নারী চক্র
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখানে অভিযান হয়, আবার সব আগের মতো হয়ে যায়| কিছুদিন চুপ থাকে, তারপর আবার শুরু হয়| আমরা ভয়েও কিছু বলতে পারি না| এই সিন্ডিকেট শুধু নারী ব্যবসাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে বিভিন্ন মাদকের সরবরাহ ও বিপণন| হোটেলগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে মাদক লেনদেনের নিরাপদ স্থান হিসেবে|
একজন স্থানীয় যুবক জানান, রাতে ওই এলাকায় গেলে ভিন্ন এক পরিবেশ দেখা যায়| অচেনা লোকজনের আনাগোনা, মোটরসাইকেলের ভিড় সব মিলিয়ে সন্দেহজনক পরিস্থিতি ˆতরি হয়| এ ধরনের কার্যক্রম শুধু ˆনতিক অবক্ষয়ই নয়, বরং সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি| মাদক ও দেহব্যবসার সঙ্গে জড়িত অপরাধ যেমন চুরি, ছিনতাই, সহিংসতা সবই বেড়ে যায়|
আরো পড়ুন: গাজীপুরে দক্ষিণ বাংলায় হোটেল সিন্ডিকেট নিয়ে নতুন বিতর্ক
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি| পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে বিস্তারিত তথ্য পাঠানো হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি| এই নীরবতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ˆতরি হয়েছে| অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় সিন্ডিকেটটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে|
এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রভাব পড়ছে আশপাশের সাধারণ মানুষের জীবনে| বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে| স্থানীয় পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের ওই এলাকায় যাতায়াত সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছে|
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অপরাধ দমনে শুধু অভিযান চালালেই হবে না; প্রয়োজন ধারাবাহিক নজরদারি ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা| সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা, সম্পদের উৎস তদন্ত এবং নিয়মিত মনিটরিং জরুরি| চন্দ্রা মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা এই নারী ও মাদক সিন্ডিকেট কেবল একটি এলাকার সমস্যা নয়; এটি বৃহত্তর সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি| বারবার অভিযানের পরও যদি একই কার্যক্রম চলতে থাকে, তবে তা আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে|

আপনার মতামত লিখুন