দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
আপডেট : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

গাজীপুরে দক্ষিণ বাংলায় হোটেল সিন্ডিকেট নিয়ে নতুন বিতর্ক

গাজীপুরে দক্ষিণ বাংলায় হোটেল সিন্ডিকেট নিয়ে নতুন বিতর্ক
গাজীপুরে দক্ষিণ বাংলা

গাজীপুরের ব্যস্ত ও জনবহুল একটি এলাকায় অবস্থিত “বর্ষা সিনেমা হলের বিল্ডিং হোটেল দক্ষিন বাংলা” ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ| স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ হোটেল দক্ষিণ বাংলার একটি অংশে অবস্থানরত কথিতভাবে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী নারী ও মাদক সিন্ডিকেট, যা এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বাড়িয়ে তুলছে| 

আরো পড়ুন: আইনের শাসন না মবের রাজত্ব?

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই হোটেলটি দীর্ঘদিন ধরে নিপু ও ফারুক নামের দুই ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়ে আসছে| অভিযোগ রয়েছে, তাদের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে উঠেছে, যা বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে এলাকাবাসীর ধারণা| হোটেলটি শুধুমাত্র সাধারণ আবাসিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ নয়| বরং এখানে কথিতভাবে নারী বাণিজ্য ও মাদক সংক্রান্ত অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ উঠেছে| এলাকাবাসীর দাবি, এই চক্রের মাধ্যমে গাজীপুরের বিভিন্ন অলিগলিতে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে|

আরো পড়ুন: ভুল কীটনাশকে এক একর ধান নষ্ট, ক্ষতিপূরণ চান বর্গাচাষী

একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই হোটেলের কারণে আশেপাশে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে| বাইরে থেকে সন্দেহজনক লোকজনের যাতায়াত বাড়ছে| এলাকাবাসীর অভিযোগ আরও গুরুতর হয়ে উঠেছে মব সৃষ্টি ও সামাজিক অরাজকতার প্রসঙ্গে| অভিযোগ রয়েছে, এই কথিত চক্রের কিছু সদস্য বিভিন্ন সময়ে সংঘবদ্ধ হয়ে স্থানীয়ভাবে চাপ সৃষ্টি করে এবং পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলে| এতে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবি করছেন অনেকে| বিশেষ করে তরুণ সমাজের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে|

স্থানীয় সূত্র এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩-৪ মাস আগে বাসন থানা পুলিশ ওই হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে| ওই অভিযানে কিছু অপরাধীদের  গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে জানা যায়| সেই সময়ের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত ও ভাইরাল হয়| তবে পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আবারও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ| তবে জেল বা আইনি প্রক্রিয়া শেষে বের হয়ে আসার পর ওই চক্র পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে| তারা আবারও একই এলাকায় তাদের কথিত নেটওয়ার্ক পুনর্গঠন করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে|

আরো পড়ুন: সিএনজির চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এইচ এস সি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

একাধিক সূত্র বলছে, এই চক্রটি কেবল হোটেলভিত্তিক নয়, বরং গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা একটি বৃহৎ নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করছে| এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে| বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার অভিযোগ ও ঘটনাগুলো প্রকাশ্যে আসলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না| তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাসন থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি| কিন্তু এই ধরনের অভিযোগ ও ঘটনার কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল| বিশেষ করে যুব সমাজের ওপর মাদক ও অপরাধের প্রভাব বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে|

এলাকাবাসী ও সচেতন মহল দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন| তাদের মতে, শুধুমাত্র সাময়িক অভিযান নয়, বরং এই ধরনের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে স্থায়ী ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি| তারা আরও দাবি করেন, হোটেল ও আবাসিক স্থাপনাগুলো নিয়মিত নজরদারির আওতায় আনা উচিত, যাতে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড গড়ে উঠতে না পারে|

আরো পড়ুন: উত্তরায় হোটেল গ্রান্ড প্লাজার কাণ্ড: ফের সক্রিয় নারী চক্র

গাজীপুরের বর্ষা সিনেমা হল বিল্ডিং হোটেলকে কেন্দ্র করে উঠা এসব অভিযোগ বর্তমানে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে| যদিও এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়, তবে পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে শঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে| প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে| এবিষয়ে উপক্ত নিপু ও ফারুকের সাথে এশাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তাদেও বক্তব্য নেওয়া যায়নি| আরো বিস্তারিত আসছে...

বিষয় : গাজীপুর অপরাধ হোটেল দক্ষিণ বাংলা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


গাজীপুরে দক্ষিণ বাংলায় হোটেল সিন্ডিকেট নিয়ে নতুন বিতর্ক

প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

গাজীপুরের ব্যস্ত ও জনবহুল একটি এলাকায় অবস্থিত “বর্ষা সিনেমা হলের বিল্ডিং হোটেল দক্ষিন বাংলা” ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ| স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ হোটেল দক্ষিণ বাংলার একটি অংশে অবস্থানরত কথিতভাবে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী নারী ও মাদক সিন্ডিকেট, যা এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বাড়িয়ে তুলছে| 

আরো পড়ুন: আইনের শাসন না মবের রাজত্ব?

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই হোটেলটি দীর্ঘদিন ধরে নিপু ও ফারুক নামের দুই ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়ে আসছে| অভিযোগ রয়েছে, তাদের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে উঠেছে, যা বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে এলাকাবাসীর ধারণা| হোটেলটি শুধুমাত্র সাধারণ আবাসিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ নয়| বরং এখানে কথিতভাবে নারী বাণিজ্য ও মাদক সংক্রান্ত অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ উঠেছে| এলাকাবাসীর দাবি, এই চক্রের মাধ্যমে গাজীপুরের বিভিন্ন অলিগলিতে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে|

আরো পড়ুন: ভুল কীটনাশকে এক একর ধান নষ্ট, ক্ষতিপূরণ চান বর্গাচাষী

একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই হোটেলের কারণে আশেপাশে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে| বাইরে থেকে সন্দেহজনক লোকজনের যাতায়াত বাড়ছে| এলাকাবাসীর অভিযোগ আরও গুরুতর হয়ে উঠেছে মব সৃষ্টি ও সামাজিক অরাজকতার প্রসঙ্গে| অভিযোগ রয়েছে, এই কথিত চক্রের কিছু সদস্য বিভিন্ন সময়ে সংঘবদ্ধ হয়ে স্থানীয়ভাবে চাপ সৃষ্টি করে এবং পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলে| এতে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবি করছেন অনেকে| বিশেষ করে তরুণ সমাজের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে|

স্থানীয় সূত্র এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩-৪ মাস আগে বাসন থানা পুলিশ ওই হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে| ওই অভিযানে কিছু অপরাধীদের  গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে জানা যায়| সেই সময়ের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত ও ভাইরাল হয়| তবে পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আবারও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ| তবে জেল বা আইনি প্রক্রিয়া শেষে বের হয়ে আসার পর ওই চক্র পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে| তারা আবারও একই এলাকায় তাদের কথিত নেটওয়ার্ক পুনর্গঠন করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে|

আরো পড়ুন: সিএনজির চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এইচ এস সি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

একাধিক সূত্র বলছে, এই চক্রটি কেবল হোটেলভিত্তিক নয়, বরং গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা একটি বৃহৎ নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করছে| এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে| বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার অভিযোগ ও ঘটনাগুলো প্রকাশ্যে আসলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না| তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাসন থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি| কিন্তু এই ধরনের অভিযোগ ও ঘটনার কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল| বিশেষ করে যুব সমাজের ওপর মাদক ও অপরাধের প্রভাব বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে|

এলাকাবাসী ও সচেতন মহল দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন| তাদের মতে, শুধুমাত্র সাময়িক অভিযান নয়, বরং এই ধরনের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে স্থায়ী ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি| তারা আরও দাবি করেন, হোটেল ও আবাসিক স্থাপনাগুলো নিয়মিত নজরদারির আওতায় আনা উচিত, যাতে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড গড়ে উঠতে না পারে|

আরো পড়ুন: উত্তরায় হোটেল গ্রান্ড প্লাজার কাণ্ড: ফের সক্রিয় নারী চক্র

গাজীপুরের বর্ষা সিনেমা হল বিল্ডিং হোটেলকে কেন্দ্র করে উঠা এসব অভিযোগ বর্তমানে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে| যদিও এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়, তবে পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে শঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে| প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে| এবিষয়ে উপক্ত নিপু ও ফারুকের সাথে এশাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তাদেও বক্তব্য নেওয়া যায়নি| আরো বিস্তারিত আসছে...



দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত