দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

আইনের শাসন না মবের রাজত্ব?

আইনের শাসন না মবের রাজত্ব?
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে এক জটিল মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে| সাম্প্রতিক সময়ে মব সন্ত্রাস, মাদক বিস্তার, কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের প্রসার সমাজে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে| এসব অপরাধ কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং একটি গভীর সামাজিক সংকটের বহিঃপ্রকাশ| ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশের ওপর দায়িত্ব বহুগুণে বেড়ে গেছে| এই বাস্তবতায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন কেবল প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, প্রয়োজন সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট, কঠোর ও বাস্তবভিত্তিক নির্দেশনা এবং সেই সঙ্গে কার্যকর পুলিশ সংস্কার| 

বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশের জন্য শক্ত ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি| কারণ মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় পুলিশ সদস্যরা দ্বিধায় পড়ে যান কোন ক্ষেত্রে কতটা কঠোর হওয়া উচিত, কোথায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে, কিংবা কোনো সিদ্ধান্ত নিলে পরবর্তীতে প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক চাপ আসবে কিনা, এসব প্রশ্ন তাদের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে| ফলে অপরাধ দমনে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপ অনেক সময় বাধাগ্রস্ত হয়| এই সংকট কাটাতে সরকারের পক্ষ থেকে একটি পরিষ্কার বার্তা প্রয়োজন আইন প্রয়োগে কোনো ধরনের আপস করা হবে না এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সৎ ও পেশাদার পুলিশ সদস্যদের পূর্ণ সমর্থন দেওয়া হবে|

আরো পড়ুন: মাঠে মব, কোণঠাসা পুলিশ বাহিনী

মব সন্ত্রাস বর্তমানে সবচেয়ে উদ্বেগজনক প্রবণতাগুলোর একটি| সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়া, ধর্মীয় বা সামাজিক ইস্যুতে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়া কিংবা কোনো অপরাধের ঘটনায় জনতার হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ওঠা এসব কারণে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে| এতে নিরপরাধ মানুষও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন| এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল ইউনিট গঠন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়| এই ইউনিটগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সজ্জিত করতে হবে, যাতে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে| পাশাপাশি গুজব শনাক্ত ও প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি|

মাদক সমস্যা দেশের অপরাধ প্রবণতার অন্যতম প্রধান উৎস| মাদক ব্যবসা এখন অনেক ক্ষেত্রে সংগঠিত অপরাধচক্রের নিয়ন্ত্রণে, যারা অর্থ ও প্রভাবের জোরে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে| মাদকাসক্তি থেকে জন্ম নিচ্ছে চুরি, ছিনতাই, সহিংসতা যা সমাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে| এ অবস্থায় মাদকবিরোধী অভিযানে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা ছাড়া বিকল্প নেই| তবে শুধু ছোটখাটো ব্যবসায়ীদের ধরলেই হবে না; এর পেছনে থাকা বড় সিন্ডিকেটগুলোকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে| সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো, গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা এবং আন্তঃসংস্থার সময় বাড়ানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ|

আরো পড়ুন: দুই মাস পূর্তিতে সরকারের সংবাদ সম্মেলন আজ

কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক ভয়াবহ সংকেত| অনেক কিশোর নানা সামাজিক ও পারিবারিক কারণে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে| তারা দলবদ্ধ হয়ে নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার করছে এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যাচ্ছে| এই সমস্যার সমাধানে কেবল আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সমšি^ত সামাজিক উদ্যোগ| তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এসব গ্যাংকে চিহ্নিত করে নিয়মিত নজরদারির আওতায় আনা জরুরি| স্কুল, কলেজ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমš^য় করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এই প্রবণতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব|

অপরাধ দমনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কার্যক্রম নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়| অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ ওঠে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে| এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ˆতরি হয়| যদি পুলিশ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ না পায়, তাহলে কোনো কঠোর নির্দেশনাই কার্যকর হবে না| তাই প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে এমন পরিবেশ ˆতরি করতে হবে, যেখানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে|

আরো পড়ুন: ফের লোডশেডিং এর কবলে দেশ গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত

তবে রাজধানীকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে মব সন্ত্রাস এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এলাকায় এর প্রভাব বেশি দৃশ্যমান| বিভিন্ন ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, হঠাৎ উত্তেজিত জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে এবং এতে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে| এমন বাস্তবতায় প্রতিটি উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে| তাদেরকে শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বে সীমাবদ্ধ না রেখে, মব নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহারে দক্ষতা এবং মাঠপর্যায়ে আরো দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে হবে|

সরকারি পর্যায় থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন, যাতে ডিসি ও ওসিরা দ্বিধাহীনভাবে আইন প্রয়োগ করতে পারেন| বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত টহল, তথ্য সংগ্রহ এবং স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে সমš^য় বাড়ানো জরুরি| এতে করে মব গঠনের আগেই তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে| তবে বাস্তবতায় প্রায়ই দেখা যায়, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এসব কর্মকর্তাকে নানা ধরনের উচ্চপর্যায়ের তদবির, চাপ এবং অযাচিত নির্দেশনার মুখে পড়তে হয়| অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের কথা না শুনলে হঠাৎ বদলি বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপের আশঙ্কা থাকে| এই পরিস্থিতি শুধু তাদের মনোবল ভেঙে দেয় না, বরং কার্যকর আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও বড় বাধা সৃষ্টি করে| ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যে একটি নেতিবাচক ধারণা ˆতরি হয় যে, পুলিশ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না| এতে জনগণের আস্থার জায়গা দুর্বল হয়ে পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি ˆতরি করতে পারে| এ কারণে প্রয়োজন এমন একটি প্রশাসনিক পরিবেশ, যেখানে ডিসি ও ওসিরা রাজনৈতিক বা প্রভাবমুক্ত থেকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন| তাদের কার্যপরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ ও স্বধীনভাবে কাজ করার নিশ্চয়তা দিতে পারলেই মব সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে বাস্তব অগ্রগতি সম্ভব হবে|

আরো পড়ুন: একাধিক সংকটে অর্থনীতি: অগ্রাধিকার ঠিক করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

এখানেই আসে পুলিশ সংস্কারের প্রশ্ন| বর্তমান যুগের চাহিদা অনুযায়ী পুলিশ বাহিনীকে আধুনিকায়ন করা অত্যন্ত জরুরি| ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত ডেটাবেইস, সিসিটিভি মনিটরিং এসবের মাধ্যমে অপরাধ দমন আরও কার্যকর করা সম্ভব| একই সঙ্গে সাইবার ক্রাইম মোকাবিলায় বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করতে হবে| কারণ এখন অপরাধের একটি বড় অংশ অনলাইনে সংঘটিত হচ্ছে, যা প্রচলিত পদ্ধতিতে মোকাবিলা করা কঠিন| পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাও আধুনিক করা প্রয়োজন| মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা, মব নিয়ন্ত্রণের কৌশল, প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা এসব বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ না থাকলে তারা পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারবেন না| প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কর্মপরিবেশ উন্নত করা এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাও জরুরি, যাতে তারা মনোযোগ দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারেন|

জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানই কার্যকর হতে পারে না| পুলিশের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়| কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে স্বাধীন নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করা যায়| একই সঙ্গে ভালো কাজের  স্বীস্কৃতি ও পুরস্কারের ব্যবস্থাও থাকতে হবে, যাতে সদস্যরা উৎসাহিত হন|

আরো পড়ুন: আইনি বিপাকে তামান্না

জনবান্ধব পুলিশিং এখন সময়ের দাবি| জনগণের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব কমাতে হবে| কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার করলে স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ প্রতিরোধ সহজ হয়| মানুষ যদি পুলিশের ওপর আস্থা রাখতে পারে, তাহলে তারা আন্তঃস্ফূর্তভাবে তথ্য দিতে এগিয়ে আসবে, যা অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে| মাঠপর্যায়ে কাজ করা সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতা বলছে, অনেক সময় অপরাধ সংঘটনের আগেই তথ্য পাওয়া যায়, কিন্তু তা যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয় না| আবার প্রভাবশালী মহলের চাপও একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করে| এতে করে অপরাধীরা সাহস পায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়| সাংবাদিকদের মতে, পুলিশকে যদি স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয় এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা যায়, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব|

জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি| সাধারণ মানুষ যাতে সহজে থানায় যেতে পারে, অভিযোগ জানাতে পারে এবং দ্রুত সেবা পায় এসব নিশ্চিত করতে হবে| অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভুক্তভোগীরা হয়রানির ভয়ে অভিযোগ করতে চান না| এই সংস্কৃতি পরিবর্তন করতে হবে| ভুক্তভোগীদের প্রতি মানবিক আচরণ, দ্রুত তদন্ত এবং বিচার নিশ্চিত করা গেলে আস্থা ধীরে ধীরে ফিরে আসবে|

গণমাধ্যমের সঙ্গে পুলিশের সমন্নয়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ| গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে| সঠিক তথ্য প্রচার এবং গুজব প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম| তাই পুলিশের উচিত গণমাধ্যমের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং তথ্য আদান প্রদান সহজ করা| ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া এখনই প্রয়োজন| প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে| সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, ডিজিটাল মব, এসব নতুন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় বিশেষ দক্ষতা প্রয়োজন| এজন্য প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং জোরদার করা ছাড়া বিকল্প নেই|

আরো পড়ুন: দেশজুড়ে বজ্রবৃষ্টির আভাস, মাঝেমধ্যে শিলাবৃষ্টি

একই সঙ্গে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে| পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করে একটি সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে| কারণ কেবল আইন প্রয়োগ করে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; এটি একটি সমšি^ত সামাজিক ইস্যু| সবশেষে বলা যায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে হলে কঠোর নির্দেশনা, কার্যকর পুলিশ সংস্কার এবং সামাজিক সমš^য় এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে গুরুত্ব দিতে হবে| সরকারের দৃঢ় অবস্থান, পুলিশের পেশাদারিত্ব এবং জনগণের সহযোগিতা এই সমন্নয়ই পারে একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল সমাজ গড়ে তুলতে| এখনই সময় বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার; নতুবা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে এবং এর দায়ভার বহন করতে হবে পুরো সমাজকে|

বিষয় : আইনশৃঙ্খলা পুলিশ মব সন্ত্রাস

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


আইনের শাসন না মবের রাজত্ব?

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে এক জটিল মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে| সাম্প্রতিক সময়ে মব সন্ত্রাস, মাদক বিস্তার, কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের প্রসার সমাজে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে| এসব অপরাধ কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং একটি গভীর সামাজিক সংকটের বহিঃপ্রকাশ| ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশের ওপর দায়িত্ব বহুগুণে বেড়ে গেছে| এই বাস্তবতায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন কেবল প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, প্রয়োজন সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট, কঠোর ও বাস্তবভিত্তিক নির্দেশনা এবং সেই সঙ্গে কার্যকর পুলিশ সংস্কার| 

বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশের জন্য শক্ত ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি| কারণ মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় পুলিশ সদস্যরা দ্বিধায় পড়ে যান কোন ক্ষেত্রে কতটা কঠোর হওয়া উচিত, কোথায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে, কিংবা কোনো সিদ্ধান্ত নিলে পরবর্তীতে প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক চাপ আসবে কিনা, এসব প্রশ্ন তাদের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে| ফলে অপরাধ দমনে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপ অনেক সময় বাধাগ্রস্ত হয়| এই সংকট কাটাতে সরকারের পক্ষ থেকে একটি পরিষ্কার বার্তা প্রয়োজন আইন প্রয়োগে কোনো ধরনের আপস করা হবে না এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সৎ ও পেশাদার পুলিশ সদস্যদের পূর্ণ সমর্থন দেওয়া হবে|

আরো পড়ুন: মাঠে মব, কোণঠাসা পুলিশ বাহিনী

মব সন্ত্রাস বর্তমানে সবচেয়ে উদ্বেগজনক প্রবণতাগুলোর একটি| সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়া, ধর্মীয় বা সামাজিক ইস্যুতে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়া কিংবা কোনো অপরাধের ঘটনায় জনতার হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ওঠা এসব কারণে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে| এতে নিরপরাধ মানুষও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন| এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল ইউনিট গঠন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়| এই ইউনিটগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সজ্জিত করতে হবে, যাতে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে| পাশাপাশি গুজব শনাক্ত ও প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি|

মাদক সমস্যা দেশের অপরাধ প্রবণতার অন্যতম প্রধান উৎস| মাদক ব্যবসা এখন অনেক ক্ষেত্রে সংগঠিত অপরাধচক্রের নিয়ন্ত্রণে, যারা অর্থ ও প্রভাবের জোরে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে| মাদকাসক্তি থেকে জন্ম নিচ্ছে চুরি, ছিনতাই, সহিংসতা যা সমাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে| এ অবস্থায় মাদকবিরোধী অভিযানে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা ছাড়া বিকল্প নেই| তবে শুধু ছোটখাটো ব্যবসায়ীদের ধরলেই হবে না; এর পেছনে থাকা বড় সিন্ডিকেটগুলোকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে| সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো, গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা এবং আন্তঃসংস্থার সময় বাড়ানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ|

আরো পড়ুন: দুই মাস পূর্তিতে সরকারের সংবাদ সম্মেলন আজ

কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক ভয়াবহ সংকেত| অনেক কিশোর নানা সামাজিক ও পারিবারিক কারণে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে| তারা দলবদ্ধ হয়ে নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার করছে এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যাচ্ছে| এই সমস্যার সমাধানে কেবল আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সমšি^ত সামাজিক উদ্যোগ| তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এসব গ্যাংকে চিহ্নিত করে নিয়মিত নজরদারির আওতায় আনা জরুরি| স্কুল, কলেজ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমš^য় করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এই প্রবণতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব|

অপরাধ দমনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কার্যক্রম নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়| অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ ওঠে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে| এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ˆতরি হয়| যদি পুলিশ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ না পায়, তাহলে কোনো কঠোর নির্দেশনাই কার্যকর হবে না| তাই প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে এমন পরিবেশ ˆতরি করতে হবে, যেখানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে|

আরো পড়ুন: ফের লোডশেডিং এর কবলে দেশ গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত

তবে রাজধানীকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে মব সন্ত্রাস এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এলাকায় এর প্রভাব বেশি দৃশ্যমান| বিভিন্ন ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, হঠাৎ উত্তেজিত জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে এবং এতে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে| এমন বাস্তবতায় প্রতিটি উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে| তাদেরকে শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বে সীমাবদ্ধ না রেখে, মব নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহারে দক্ষতা এবং মাঠপর্যায়ে আরো দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে হবে|

সরকারি পর্যায় থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন, যাতে ডিসি ও ওসিরা দ্বিধাহীনভাবে আইন প্রয়োগ করতে পারেন| বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত টহল, তথ্য সংগ্রহ এবং স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে সমš^য় বাড়ানো জরুরি| এতে করে মব গঠনের আগেই তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে| তবে বাস্তবতায় প্রায়ই দেখা যায়, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এসব কর্মকর্তাকে নানা ধরনের উচ্চপর্যায়ের তদবির, চাপ এবং অযাচিত নির্দেশনার মুখে পড়তে হয়| অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের কথা না শুনলে হঠাৎ বদলি বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপের আশঙ্কা থাকে| এই পরিস্থিতি শুধু তাদের মনোবল ভেঙে দেয় না, বরং কার্যকর আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও বড় বাধা সৃষ্টি করে| ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যে একটি নেতিবাচক ধারণা ˆতরি হয় যে, পুলিশ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না| এতে জনগণের আস্থার জায়গা দুর্বল হয়ে পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি ˆতরি করতে পারে| এ কারণে প্রয়োজন এমন একটি প্রশাসনিক পরিবেশ, যেখানে ডিসি ও ওসিরা রাজনৈতিক বা প্রভাবমুক্ত থেকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন| তাদের কার্যপরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ ও স্বধীনভাবে কাজ করার নিশ্চয়তা দিতে পারলেই মব সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে বাস্তব অগ্রগতি সম্ভব হবে|

আরো পড়ুন: একাধিক সংকটে অর্থনীতি: অগ্রাধিকার ঠিক করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

এখানেই আসে পুলিশ সংস্কারের প্রশ্ন| বর্তমান যুগের চাহিদা অনুযায়ী পুলিশ বাহিনীকে আধুনিকায়ন করা অত্যন্ত জরুরি| ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত ডেটাবেইস, সিসিটিভি মনিটরিং এসবের মাধ্যমে অপরাধ দমন আরও কার্যকর করা সম্ভব| একই সঙ্গে সাইবার ক্রাইম মোকাবিলায় বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করতে হবে| কারণ এখন অপরাধের একটি বড় অংশ অনলাইনে সংঘটিত হচ্ছে, যা প্রচলিত পদ্ধতিতে মোকাবিলা করা কঠিন| পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাও আধুনিক করা প্রয়োজন| মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা, মব নিয়ন্ত্রণের কৌশল, প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা এসব বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ না থাকলে তারা পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারবেন না| প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কর্মপরিবেশ উন্নত করা এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাও জরুরি, যাতে তারা মনোযোগ দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারেন|

জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানই কার্যকর হতে পারে না| পুলিশের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়| কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে স্বাধীন নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করা যায়| একই সঙ্গে ভালো কাজের  স্বীস্কৃতি ও পুরস্কারের ব্যবস্থাও থাকতে হবে, যাতে সদস্যরা উৎসাহিত হন|

আরো পড়ুন: আইনি বিপাকে তামান্না

জনবান্ধব পুলিশিং এখন সময়ের দাবি| জনগণের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব কমাতে হবে| কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার করলে স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ প্রতিরোধ সহজ হয়| মানুষ যদি পুলিশের ওপর আস্থা রাখতে পারে, তাহলে তারা আন্তঃস্ফূর্তভাবে তথ্য দিতে এগিয়ে আসবে, যা অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে| মাঠপর্যায়ে কাজ করা সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতা বলছে, অনেক সময় অপরাধ সংঘটনের আগেই তথ্য পাওয়া যায়, কিন্তু তা যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয় না| আবার প্রভাবশালী মহলের চাপও একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করে| এতে করে অপরাধীরা সাহস পায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়| সাংবাদিকদের মতে, পুলিশকে যদি স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয় এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা যায়, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব|

জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি| সাধারণ মানুষ যাতে সহজে থানায় যেতে পারে, অভিযোগ জানাতে পারে এবং দ্রুত সেবা পায় এসব নিশ্চিত করতে হবে| অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভুক্তভোগীরা হয়রানির ভয়ে অভিযোগ করতে চান না| এই সংস্কৃতি পরিবর্তন করতে হবে| ভুক্তভোগীদের প্রতি মানবিক আচরণ, দ্রুত তদন্ত এবং বিচার নিশ্চিত করা গেলে আস্থা ধীরে ধীরে ফিরে আসবে|

গণমাধ্যমের সঙ্গে পুলিশের সমন্নয়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ| গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে| সঠিক তথ্য প্রচার এবং গুজব প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম| তাই পুলিশের উচিত গণমাধ্যমের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং তথ্য আদান প্রদান সহজ করা| ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া এখনই প্রয়োজন| প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে| সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, ডিজিটাল মব, এসব নতুন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় বিশেষ দক্ষতা প্রয়োজন| এজন্য প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং জোরদার করা ছাড়া বিকল্প নেই|

আরো পড়ুন: দেশজুড়ে বজ্রবৃষ্টির আভাস, মাঝেমধ্যে শিলাবৃষ্টি

একই সঙ্গে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে| পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করে একটি সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে| কারণ কেবল আইন প্রয়োগ করে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; এটি একটি সমšি^ত সামাজিক ইস্যু| সবশেষে বলা যায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে হলে কঠোর নির্দেশনা, কার্যকর পুলিশ সংস্কার এবং সামাজিক সমš^য় এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে গুরুত্ব দিতে হবে| সরকারের দৃঢ় অবস্থান, পুলিশের পেশাদারিত্ব এবং জনগণের সহযোগিতা এই সমন্নয়ই পারে একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল সমাজ গড়ে তুলতে| এখনই সময় বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার; নতুবা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে এবং এর দায়ভার বহন করতে হবে পুরো সমাজকে|



দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত