দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

উত্তরায় হোটেল গ্রান্ড প্লাজার কাণ্ড: ফের সক্রিয় নারী চক্র

উত্তরায় হোটেল গ্রান্ড প্লাজার কাণ্ড: ফের সক্রিয় নারী চক্র
উত্তরায় হোটেল গ্রান্ড প্লাজার কাণ্ড: ফের সক্রিয় নারী চক্র

রাজধানীর অভিজাত এলাকা উত্তরা যেখানে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল জীবনের প্রত্যাশা করেন হাজারো পরিবার। কিন্তু সেই উত্তরারই উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ৯ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত ‘গ্রান্ড প্লাজা’ হোটেলকে ঘিরে আবারও সামনে এসেছে ভয়াবহ অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, হোটেলটির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত নারী সিন্ডিকেট নতুন করে সক্রিয় হয়েছে। আর এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন সোহেল, উজ্জল,  ইমরান, রুহুল আমিন জীবন ওরফে শিমুল একাধিক নামের একাধিক ব্যক্তি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ‘গ্রান্ড প্লাজা’ হোটেলটি নতুন নয় এর বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। বরং কিছুদিন নীরব থাকার পর আবারও নতুন কৌশলে শুরু হয়েছে পুরোনো কার্যক্রম। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হোটেলটিকে কেন্দ্র করে বাড়ে সন্দেহজনক যাতায়াত। বিভিন্ন বয়সী নারী ও অচেনা ব্যক্তিদের উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি করছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। একজন বাসিন্দা বলেন, দিনের বেলায় সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও রাত হলেই চিত্র বদলে যায়। এটা কোনো সাধারণ হোটেলের কার্যক্রম না এর পেছনে বড় সিন্ডিকেট রয়েছে। এ বিষয়ে দৈনিক সংবাদ দিগন্তর পক্ষ থেকে উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করা হলে তিনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে বাস্তবে এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অভিযান বা কঠোর ব্যবস্থা চোখে পড়েনি বলে দাবি স্থানীয়দের।

আরও পড়ুন, কালিয়াকৈরে শান্ত-জাকিরের হোটেলের আড়ালে অপরাধ সাম্রাজ্য

অন্য একজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা থানায় জানিয়েছি, সাংবাদিকরা লিখেছেন কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এতে মনে হচ্ছে, কেউ না কেউ এই সিন্ডিকেটকে আড়াল করছে। গ্রান্ড প্লাজা হোটেলের বিরুদ্ধে নারী সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ নিয়ে ইতোমধ্যে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে উঠে এসেছে অবৈধ কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং প্রশাসনের নিষিক্রয়তা। তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেদন প্রকাশের পর কিছুদিন কার্যক্রম কমে এলেও পরে আবার তা আগের চেয়ে আরও সংগঠিতভাবে চালু হয়। সাংবাদিকদের মতে, যেখানে অপরাধের তথ্য বারবার প্রকাশিত হচ্ছে, সেখানে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের নারী সিন্ডিকেট শুধু অনৈতিক কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ থাকে না বরং এটি মাদক, চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য অপরাধের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ে। উত্তরার মতো আবাসিক এলাকায় এই পরিস্থিতি ভয়াবহ সামাজিক প্রভাব ফেলতে পারে। শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ, নারীদের নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক সামাজিক পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে।

আরও পড়ুন, সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনায় মূল হোতাসহ ৭ জন গ্রেপ্তার

এই সিন্ডিকেটের মূল নিয়ন্ত্রক সোহেল, উজ্জল, শিমুল, ইমরান, রুহুল আমিন জীবন। তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে পুরো নেটওয়ার্ক। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবুও অভিযোগের তীর বারবার তাদের দিকেই যাচ্ছে। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের পেছনে প্রভাবশালী মহলের সমর্থন থাকতে পারে, যার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপে বিলম্ব হচ্ছে। উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ৯ নম্বর সেক্টরের গ্রান্ড প্লাজা হোটেলকে ঘিরে যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিছক কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি বৃহত্তর অপরাধচক্রের ইঙ্গিত দেয়। প্রশাসনের আশ্বাস বাস্তবে রূপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। তাই এখনই প্রয়োজন দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ যাতে করে জনমনে আস্থা ফিরে আসে এবং উত্তরা তার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে পায়। প্রতিদিন রাত গভীর হলে হোটেলটির আশপাশে অচেনা ব্যক্তিদের আনাগোনা বেড়ে যায়। বিশেষ করে বিভিন্ন বয়সী নারীদের যাতায়াত এবং সন্দেহজনক অবস্থান স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এলাকাবাসীর মতে, এটি কেবল একটি হোটেলের বিষয় নয়, বরং একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের কার্যক্রম, যা ধীরে ধীরে পুরো এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে।

বিষয় : উত্তরা নারী চক্র হোটেল গ্রান্ড প্লাজা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


উত্তরায় হোটেল গ্রান্ড প্লাজার কাণ্ড: ফের সক্রিয় নারী চক্র

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রাজধানীর অভিজাত এলাকা উত্তরা যেখানে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল জীবনের প্রত্যাশা করেন হাজারো পরিবার। কিন্তু সেই উত্তরারই উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ৯ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত ‘গ্রান্ড প্লাজা’ হোটেলকে ঘিরে আবারও সামনে এসেছে ভয়াবহ অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, হোটেলটির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত নারী সিন্ডিকেট নতুন করে সক্রিয় হয়েছে। আর এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন সোহেল, উজ্জল,  ইমরান, রুহুল আমিন জীবন ওরফে শিমুল একাধিক নামের একাধিক ব্যক্তি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ‘গ্রান্ড প্লাজা’ হোটেলটি নতুন নয় এর বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। বরং কিছুদিন নীরব থাকার পর আবারও নতুন কৌশলে শুরু হয়েছে পুরোনো কার্যক্রম। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হোটেলটিকে কেন্দ্র করে বাড়ে সন্দেহজনক যাতায়াত। বিভিন্ন বয়সী নারী ও অচেনা ব্যক্তিদের উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি করছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। একজন বাসিন্দা বলেন, দিনের বেলায় সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও রাত হলেই চিত্র বদলে যায়। এটা কোনো সাধারণ হোটেলের কার্যক্রম না এর পেছনে বড় সিন্ডিকেট রয়েছে। এ বিষয়ে দৈনিক সংবাদ দিগন্তর পক্ষ থেকে উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করা হলে তিনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে বাস্তবে এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অভিযান বা কঠোর ব্যবস্থা চোখে পড়েনি বলে দাবি স্থানীয়দের।

আরও পড়ুন, কালিয়াকৈরে শান্ত-জাকিরের হোটেলের আড়ালে অপরাধ সাম্রাজ্য

অন্য একজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা থানায় জানিয়েছি, সাংবাদিকরা লিখেছেন কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এতে মনে হচ্ছে, কেউ না কেউ এই সিন্ডিকেটকে আড়াল করছে। গ্রান্ড প্লাজা হোটেলের বিরুদ্ধে নারী সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ নিয়ে ইতোমধ্যে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে উঠে এসেছে অবৈধ কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং প্রশাসনের নিষিক্রয়তা। তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেদন প্রকাশের পর কিছুদিন কার্যক্রম কমে এলেও পরে আবার তা আগের চেয়ে আরও সংগঠিতভাবে চালু হয়। সাংবাদিকদের মতে, যেখানে অপরাধের তথ্য বারবার প্রকাশিত হচ্ছে, সেখানে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের নারী সিন্ডিকেট শুধু অনৈতিক কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ থাকে না বরং এটি মাদক, চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য অপরাধের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ে। উত্তরার মতো আবাসিক এলাকায় এই পরিস্থিতি ভয়াবহ সামাজিক প্রভাব ফেলতে পারে। শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ, নারীদের নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক সামাজিক পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে।

আরও পড়ুন, সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনায় মূল হোতাসহ ৭ জন গ্রেপ্তার

এই সিন্ডিকেটের মূল নিয়ন্ত্রক সোহেল, উজ্জল, শিমুল, ইমরান, রুহুল আমিন জীবন। তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে পুরো নেটওয়ার্ক। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবুও অভিযোগের তীর বারবার তাদের দিকেই যাচ্ছে। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের পেছনে প্রভাবশালী মহলের সমর্থন থাকতে পারে, যার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপে বিলম্ব হচ্ছে। উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ৯ নম্বর সেক্টরের গ্রান্ড প্লাজা হোটেলকে ঘিরে যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিছক কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি বৃহত্তর অপরাধচক্রের ইঙ্গিত দেয়। প্রশাসনের আশ্বাস বাস্তবে রূপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। তাই এখনই প্রয়োজন দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ যাতে করে জনমনে আস্থা ফিরে আসে এবং উত্তরা তার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে পায়। প্রতিদিন রাত গভীর হলে হোটেলটির আশপাশে অচেনা ব্যক্তিদের আনাগোনা বেড়ে যায়। বিশেষ করে বিভিন্ন বয়সী নারীদের যাতায়াত এবং সন্দেহজনক অবস্থান স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এলাকাবাসীর মতে, এটি কেবল একটি হোটেলের বিষয় নয়, বরং একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের কার্যক্রম, যা ধীরে ধীরে পুরো এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত