দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

পদ্মা নদীতে ব্যারেজ প্রকল্প: ৩৪ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পে মোট ১১৩ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এসব কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সেচ ব্যবস্থা উন্নয়ন, নদী প্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পর্যায়ক্রমে ৭৬.৪ মেগাওয়াট ও ৩৬.৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি সেচ ব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে।আরও পড়ুন, পোস্টাল ব্যালটের কিউআর কোড রিডার ফেরত দিতে বলল নির্বাচন কমিশনরাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় পদ্মা নদীর ওপর এই ব্যারেজ ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ব্যারেজে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডারস্লুইস, ২টি ফিশ পাস, নেভিগেশন লক ও গাইড বাঁধ থাকবে। এতে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ সম্ভব হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় জিডিপিতে শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ অবদান রাখবে এবং বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার প্রত্যক্ষ আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।আরও পড়ুন, এপ্রিলে সড়ক-রেল-নৌপথে ৫৮৬ দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল ৫৬৩ জনেরমোট ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে “পদ্মা ব্যারেজ (প্রথম পর্যায়)” প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে, যেখানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একনেক সভা শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, এটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। এর মাধ্যমে দেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা এবং প্রায় ৭ কোটি মানুষ উপকৃত হবে।পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ পর্যন্ত এবং এটি শতভাগ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের আওতায় বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।আরও পড়ুন, একাধিক লঘুচাপ, উপকূলে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের পর শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা-গঙ্গা নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নদী শুকিয়ে যাওয়া, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এই প্রকল্প সেই সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশনের মতে, পদ্মানির্ভর অঞ্চল দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ ভূখণ্ডজুড়ে বিস্তৃত এবং এখানে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের বসবাস। তাই টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি।

পদ্মা নদীতে ব্যারেজ প্রকল্প: ৩৪ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা