রাজধানীর মাজার রোড দারুস সালাম ধানাধীন অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত ‘হোটেল নিউ গোল্ডেন’কে ঘিরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে| স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে হোটেলটিতে নানা ধরনের সন্দেহজনক কার্যক্রম চলে আসছে| এসব কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে হোটেল মালিক সোহেলসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে|
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওচিত্রকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে হোটেল নিউ গোল্ডেন| ভিডিওটির সত্যতা ও ধারণের সময় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব না হলেও এতে হোটেলের একটি কক্ষের ভেতরে আপত্তিকর ধরনের কর্মকাণ্ডের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে| তবে ভিডিওটি সামনে আসার পর হোটেলটির কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে|
আরও পড়ুন: মালিবাগে ‘শিখর’ ও ‘সিটি প্যালেজ’ ঘিরে অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দারুসসালাম এলাকার আবাসিক পরিবেশের মধ্যে পরিচালিত হোটেল নিউ গোল্ডেনের ˆবধ অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে| স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই হোটেলটি পরিচালিত হচ্ছে| একটি আবাসিক এলাকায় কোনো হোটেল পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, ট্রেড লাইসেন্স, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, অতিথি নিবন্ধনসহ বিভিন্ন আইনগত ও প্রশাসনিক শর্ত পূরণ করার কথা থাকলেও সেগুলো আদৌ যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি| তবে হোটেলটির বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই ভিতরে কি চলছে|
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দিনের তুলনায় সন্ধ্যার পর হোটেলটির আশপাশে অপরিচিত মানুষের চলাচল বেড়ে যায়| বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষকে ¯^ল্প সময়ের জন্য হোটেলে প্রবেশ ও বের হতে দেখা যায় বলেও তাদের দাবি| এ কারণে আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে নানা ধরনের সন্দেহ ˆতরি হয়েছে| কেউ কেউ বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আনার দাবি জানিয়েছেন|
আরও পড়ুন: আব্দুল্লাহপুরের ‘গ্রীন গার্ডেন’: আবাসিক হোটেলের আড়ালে কী চলছে?
অভিযোগ রয়েছে, হোটেলটিকে কেন্দ্র করে মাদক সরবরাহের একটি চক্রও সক্রিয়| স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, হোটেলে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তির কাছে মাদক পৌঁছে দেওয়ার জন্য বাইরে থেকে লোকজন আসা-যাওয়া করে| তবে এসব অভিযোগের পক্ষে মাদকদ্রব্য উদ্ধার বা মামলা সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য সরকারি নথি এই প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি| ফলে অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন|
স্থানীয়দের অভিযোগের তীর হোটেল মালিক সোহেলের দিকেও| তাদের দাবি, সোহেলের নিয়ন্ত্রণেই হোটেলটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়| জানা গেছে, তার বাড়ি বরিশাল অঞ্চলে| তবে তার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড, হোটেলটির মালিকানা, পরিচালনার ˆবধতা এবং অভিযোগের সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজনও রয়েছে|
অভিযোগের বিষয়ে হোটেল মালিক সোহেলের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনের পরবর্তী সংস্করণে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে| একই সঙ্গে অভিযোগগুলো সত্য হলে কারা এর সঙ্গে জড়িত, কীভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং দীর্ঘদিন ধরে হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে কেন আসেনি এসব প্রশ্নও সামনে এসেছে|
আরও পড়ুন: দারুস সালামে আবাসিক হোটেলের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো আবাসিক হোটেল যদি অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত হয় কিংবা সেখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ ˆতরি হয়, তাহলে শুধু হোটেল কর্তৃপক্ষ নয়, স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতাও প্রশ্নের মুখে পড়ে| বিশেষ করে মাদক, মানবপাচার, যৌন শোষণ বা অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ উঠলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনসহ প্রশাসনের সমšি^তভাবে বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন|
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মতে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না| অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে| ফলে হোটেল নিউ গোল্ডেনের ক্ষেত্রেও অভিযোগের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত, হোটেলের অনুমোদন ও লাইসেন্স যাচাই, অতিথি নিবন্ধন খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা যেতে পারে|
কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বারবার অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদকের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই| বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক ভবন ও জনবসতির কাছাকাছি কোনো স্থাপনায় এ ধরনের অভিযোগ উঠলে তা স্থানীয় পরিবেশ ও জননিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে|
আরও পড়ুন: দারুসসালামে অনুমোদনহীন অনৈতিক কর্মকান্ডে জসিম ও হারুনের দাপট
মাজার রোডে ‘হোটেল নিউ গোল্ডেন’কে ঘিরে ওঠা অভিযোগের পর এখন মূল প্রশ্ন হোটেলটির ˆবধ অনুমোদন রয়েছে কি না, সেখানে অতিথি ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না এবং মাদক বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না|
এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা| একই সঙ্গে হোটেলটির মালিকানা, ট্রেড লাইসেন্স, অগ্নিনিরাপত্তা, ব্যবসায়িক অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করে সত্যতা প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন তারা|
এবিষয়ে দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দুলাল হোসেন বলেন, হোটেল নিউ গোল্ডেনকে ঘিরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সংশ্লিষ্টতার যে অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে, বিষয়টি আমাদের নজরে এলে অবশ্যই যাচাই করে দেখা হবে| কোনো হোটেল বা প্রতিষ্ঠানে অনুমোদন ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা কিংবা মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধের সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে| তিনি আরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সেটির সত্যতা ও উৎসও যাচাই করা প্রয়োজন| ভিডিওতে যেসব কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো সত্য কি না এবং ঘটনাটি আদৌ ওই হোটেলের কি না তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে| কাউকে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধী বলা যাবে না|
আরও পড়ুন: অপরাধ দমনে কঠোর গুলশান পুলিশ, স্পা সেন্টারে অভিযান
ওসি আরও বলেন, “দারুস সালাম থানা এলাকায় মাদক ও অপরাধ দমনে পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম চলছে| কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে| এ ধরনের বিষয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকেও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করছি|

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬
রাজধানীর মাজার রোড দারুস সালাম ধানাধীন অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত ‘হোটেল নিউ গোল্ডেন’কে ঘিরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে| স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে হোটেলটিতে নানা ধরনের সন্দেহজনক কার্যক্রম চলে আসছে| এসব কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে হোটেল মালিক সোহেলসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে|
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওচিত্রকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে হোটেল নিউ গোল্ডেন| ভিডিওটির সত্যতা ও ধারণের সময় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব না হলেও এতে হোটেলের একটি কক্ষের ভেতরে আপত্তিকর ধরনের কর্মকাণ্ডের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে| তবে ভিডিওটি সামনে আসার পর হোটেলটির কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে|
আরও পড়ুন: মালিবাগে ‘শিখর’ ও ‘সিটি প্যালেজ’ ঘিরে অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দারুসসালাম এলাকার আবাসিক পরিবেশের মধ্যে পরিচালিত হোটেল নিউ গোল্ডেনের ˆবধ অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে| স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই হোটেলটি পরিচালিত হচ্ছে| একটি আবাসিক এলাকায় কোনো হোটেল পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, ট্রেড লাইসেন্স, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, অতিথি নিবন্ধনসহ বিভিন্ন আইনগত ও প্রশাসনিক শর্ত পূরণ করার কথা থাকলেও সেগুলো আদৌ যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি| তবে হোটেলটির বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই ভিতরে কি চলছে|
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দিনের তুলনায় সন্ধ্যার পর হোটেলটির আশপাশে অপরিচিত মানুষের চলাচল বেড়ে যায়| বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষকে ¯^ল্প সময়ের জন্য হোটেলে প্রবেশ ও বের হতে দেখা যায় বলেও তাদের দাবি| এ কারণে আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে নানা ধরনের সন্দেহ ˆতরি হয়েছে| কেউ কেউ বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আনার দাবি জানিয়েছেন|
আরও পড়ুন: আব্দুল্লাহপুরের ‘গ্রীন গার্ডেন’: আবাসিক হোটেলের আড়ালে কী চলছে?
অভিযোগ রয়েছে, হোটেলটিকে কেন্দ্র করে মাদক সরবরাহের একটি চক্রও সক্রিয়| স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, হোটেলে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তির কাছে মাদক পৌঁছে দেওয়ার জন্য বাইরে থেকে লোকজন আসা-যাওয়া করে| তবে এসব অভিযোগের পক্ষে মাদকদ্রব্য উদ্ধার বা মামলা সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য সরকারি নথি এই প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি| ফলে অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন|
স্থানীয়দের অভিযোগের তীর হোটেল মালিক সোহেলের দিকেও| তাদের দাবি, সোহেলের নিয়ন্ত্রণেই হোটেলটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়| জানা গেছে, তার বাড়ি বরিশাল অঞ্চলে| তবে তার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড, হোটেলটির মালিকানা, পরিচালনার ˆবধতা এবং অভিযোগের সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজনও রয়েছে|
অভিযোগের বিষয়ে হোটেল মালিক সোহেলের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনের পরবর্তী সংস্করণে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে| একই সঙ্গে অভিযোগগুলো সত্য হলে কারা এর সঙ্গে জড়িত, কীভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং দীর্ঘদিন ধরে হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে কেন আসেনি এসব প্রশ্নও সামনে এসেছে|
আরও পড়ুন: দারুস সালামে আবাসিক হোটেলের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো আবাসিক হোটেল যদি অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত হয় কিংবা সেখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ ˆতরি হয়, তাহলে শুধু হোটেল কর্তৃপক্ষ নয়, স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতাও প্রশ্নের মুখে পড়ে| বিশেষ করে মাদক, মানবপাচার, যৌন শোষণ বা অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ উঠলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনসহ প্রশাসনের সমšি^তভাবে বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন|
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মতে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না| অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে| ফলে হোটেল নিউ গোল্ডেনের ক্ষেত্রেও অভিযোগের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত, হোটেলের অনুমোদন ও লাইসেন্স যাচাই, অতিথি নিবন্ধন খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা যেতে পারে|
কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বারবার অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদকের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই| বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক ভবন ও জনবসতির কাছাকাছি কোনো স্থাপনায় এ ধরনের অভিযোগ উঠলে তা স্থানীয় পরিবেশ ও জননিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে|
আরও পড়ুন: দারুসসালামে অনুমোদনহীন অনৈতিক কর্মকান্ডে জসিম ও হারুনের দাপট
মাজার রোডে ‘হোটেল নিউ গোল্ডেন’কে ঘিরে ওঠা অভিযোগের পর এখন মূল প্রশ্ন হোটেলটির ˆবধ অনুমোদন রয়েছে কি না, সেখানে অতিথি ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না এবং মাদক বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না|
এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা| একই সঙ্গে হোটেলটির মালিকানা, ট্রেড লাইসেন্স, অগ্নিনিরাপত্তা, ব্যবসায়িক অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করে সত্যতা প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন তারা|
এবিষয়ে দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দুলাল হোসেন বলেন, হোটেল নিউ গোল্ডেনকে ঘিরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সংশ্লিষ্টতার যে অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে, বিষয়টি আমাদের নজরে এলে অবশ্যই যাচাই করে দেখা হবে| কোনো হোটেল বা প্রতিষ্ঠানে অনুমোদন ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা কিংবা মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধের সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে| তিনি আরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সেটির সত্যতা ও উৎসও যাচাই করা প্রয়োজন| ভিডিওতে যেসব কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো সত্য কি না এবং ঘটনাটি আদৌ ওই হোটেলের কি না তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে| কাউকে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধী বলা যাবে না|
আরও পড়ুন: অপরাধ দমনে কঠোর গুলশান পুলিশ, স্পা সেন্টারে অভিযান
ওসি আরও বলেন, “দারুস সালাম থানা এলাকায় মাদক ও অপরাধ দমনে পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম চলছে| কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে| এ ধরনের বিষয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকেও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করছি|

আপনার মতামত লিখুন