দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

মূলধন সংকটে ২০ ব্যাংক, খেলাপি ঋণে বাড়ছে ঝুঁকি

মূলধন সংকটে ২০ ব্যাংক, খেলাপি ঋণে বাড়ছে ঝুঁকি
মূলধন সংকটে ২০ ব্যাংক, খেলাপি ঋণে বাড়ছে ঝুঁকি

অনিয়ন্ত্রিত ঋণ বিতরণ, দুর্বল তদারকি এবং লাগামহীন ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে দেশের ব্যাংক খাতে মূলধন সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে দেশের ২০টি ব্যাংক বড় ধরনের মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। এসব ব্যাংকের সম্মিলিত মূলধন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা।

যদিও সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে এই সংখ্যা ছিল আরও বেশি। তখন ২৩টি ব্যাংকের মোট মূলধন ঘাটতি ছিল ২ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সামান্য উন্নতি বাস্তব নয়; বরং ঋণ পুনঃতফসিল ও বিশেষ নীতিগত সহায়তার কারণে কাগজে-কলমে কিছুটা স্বস্তির চিত্র দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ব্যাংক খাতের আর্থিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ সূচক ক্যাপিটাল টু রিস্ক ওয়েটেড অ্যাসেটস রেশিও বা সিআরএআর গত ডিসেম্বর শেষে ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে। অথচ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এই হার কমপক্ষে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হওয়া বাধ্যতামূলক।

আরও পড়ুন, চামড়া শিল্পকে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি খাতে রূপ দিতে কাজ করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের সবচেয়ে বড় কারণ লাগামহীন খেলাপি ঋণ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে জনতা ব্যাংক। এছাড়া অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংকেও বড় অঙ্কের ঘাটতি রয়েছে।

আরও পড়ুন, ২০২৬-২৭ বাজেটে ৫০ পণ্যে ভ্যাট-শুল্ক বাড়ানোর উদ্যোগ, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার শঙ্কা

ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। পাশাপাশি সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশেও বড় ধরনের মূলধন সংকট দেখা দিয়েছে। বেসরকারি খাতেও পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক নয়। ন্যাশনাল ব্যাংক, এবি ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক এবং আইএফআইসি ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংকে বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন, কর ফাঁকি ঠেকাতে তামাক শিল্পে কড়া নজরদারি ঘোষণা এনবিআরের

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঋণ পুনঃতফসিলের মাধ্যমে কিছু খেলাপি ঋণ নিয়মিত দেখানো হয়েছে। ফলে এসব ঋণের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণের চাপ কমে সাময়িকভাবে মূলধন ঘাটতিও কিছুটা কমেছে। তবে অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা—কঠোর আইনি ব্যবস্থা ছাড়া খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। অন্যথায় ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমে গিয়ে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিষয় : ব্যাংক ঝুঁকি খেলাপি ঋণ মূলধন সংকট ব্যাংক

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬


মূলধন সংকটে ২০ ব্যাংক, খেলাপি ঋণে বাড়ছে ঝুঁকি

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬

featured Image

অনিয়ন্ত্রিত ঋণ বিতরণ, দুর্বল তদারকি এবং লাগামহীন ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে দেশের ব্যাংক খাতে মূলধন সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে দেশের ২০টি ব্যাংক বড় ধরনের মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। এসব ব্যাংকের সম্মিলিত মূলধন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা।

যদিও সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে এই সংখ্যা ছিল আরও বেশি। তখন ২৩টি ব্যাংকের মোট মূলধন ঘাটতি ছিল ২ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সামান্য উন্নতি বাস্তব নয়; বরং ঋণ পুনঃতফসিল ও বিশেষ নীতিগত সহায়তার কারণে কাগজে-কলমে কিছুটা স্বস্তির চিত্র দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ব্যাংক খাতের আর্থিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ সূচক ক্যাপিটাল টু রিস্ক ওয়েটেড অ্যাসেটস রেশিও বা সিআরএআর গত ডিসেম্বর শেষে ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে। অথচ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এই হার কমপক্ষে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হওয়া বাধ্যতামূলক।

আরও পড়ুন, চামড়া শিল্পকে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি খাতে রূপ দিতে কাজ করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের সবচেয়ে বড় কারণ লাগামহীন খেলাপি ঋণ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে জনতা ব্যাংক। এছাড়া অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংকেও বড় অঙ্কের ঘাটতি রয়েছে।

আরও পড়ুন, ২০২৬-২৭ বাজেটে ৫০ পণ্যে ভ্যাট-শুল্ক বাড়ানোর উদ্যোগ, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার শঙ্কা

ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। পাশাপাশি সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশেও বড় ধরনের মূলধন সংকট দেখা দিয়েছে। বেসরকারি খাতেও পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক নয়। ন্যাশনাল ব্যাংক, এবি ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক এবং আইএফআইসি ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংকে বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন, কর ফাঁকি ঠেকাতে তামাক শিল্পে কড়া নজরদারি ঘোষণা এনবিআরের

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঋণ পুনঃতফসিলের মাধ্যমে কিছু খেলাপি ঋণ নিয়মিত দেখানো হয়েছে। ফলে এসব ঋণের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণের চাপ কমে সাময়িকভাবে মূলধন ঘাটতিও কিছুটা কমেছে। তবে অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা—কঠোর আইনি ব্যবস্থা ছাড়া খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। অন্যথায় ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমে গিয়ে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত