গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলুন ৯ খাবার
গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের খাদ্যাভ্যাস সরাসরি প্রভাব ফেলে গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর। সামান্য অসতর্কতা থেকেই তৈরি হতে পারে জন্মগত ত্রুটি, কম ওজন নিয়ে জন্ম, এমনকি মিসক্যারেজ বা মৃত সন্তান প্রসবের মতো মারাত্মক ঝুঁকি। তাই বিশেষজ্ঞরা গর্ভাবস্থায় কিছু খাবার সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন।সহায় হেলথের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. তাসনিম জারার পরামর্শ অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় সবচেয়ে আগে এড়িয়ে চলতে হবে বাইরের খোলা খাবার ও স্ট্রিট ফুড। রাস্তার পাশের ফুচকা, চটপটি, শরবত বা লাচ্ছিতে ব্যবহৃত অপরিষ্কার পানি থেকে টাইফয়েড, কলেরা কিংবা হেপাটাইটিস-ই হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এসব রোগ মা ও গর্ভের শিশুর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।আরও পড়ুন, ঈদের ভারী খাবারে বদহজম? মিলতে পারে সহজ সমাধানবিশেষজ্ঞরা অতিরিক্ত ভিটামিন এ-যুক্ত খাবার, বিশেষ করে কলিজা খাওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক করেছেন। অতিরিক্ত ভিটামিন এ শিশুর হার্ট, ফুসফুস কিংবা মেরুদণ্ডের জন্মগত ত্রুটির কারণ হতে পারে। এছাড়া কাঁচা পেঁপে, অতিরিক্ত চা-কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়। অতিরিক্ত ক্যাফেইন শিশুর ওজন কম হওয়া কিংবা গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।আরও পড়ুন, স্ট্রেসে কেন বাড়ে একজিমা ও ব্রণ? জানুন ‘মস্তিষ্ক-ত্বক’ সংযোগগর্ভবতী মায়েদের আধাসিদ্ধ ডিম, কাঁচা বা অপাস্তুরিত দুধ, নরম চিজ, সসেজ-সালামির মতো প্রসেসড মাংস এবং কাঁচা মাছ বা সুশিও এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব খাবারে ক্ষতিকর জীবাণু থেকে যেতে পারে, যা মা ও শিশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।আরও পড়ুন, মাংসের পর এক কাপ চা, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছেন না তো?চিকিৎসকরা বলছেন, গর্ভাবস্থায় শুধু খাবার নয়, ধূমপান, অ্যালকোহল এবং কিছু প্রসাধনী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি। যেকোনো ওষুধ বা খাবার গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য গর্ভাবস্থার পুরো সময়টিতে নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।