কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার শহীদ আলাউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও তার নামে নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগে জানা যায়, বিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম (রুবেল) গত ডিসেম্বর মাসে স্ত্রীর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পাঁচ দিনের ছুটি নেন। কিন্তু এরপর আর কর্মস্থলে ফেরেননি। স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রায় তিন থেকে চার মাস ধরে অনুপস্থিত এবং এ সময়ের মধ্যে ভারতে অবস্থান করছেন। এদিকে, শিক্ষক কর্মস্থলে না থাকলেও ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে তার সরকারি বেতন-ভাতা নিয়মিত উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ের শিক্ষক দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ার ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে, যা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
আরও পড়ুন, কটিয়াদীতে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অনুপস্থিত থাকার পরও হাজিরা খাতায় তাকে উপস্থিত দেখানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দীনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিস বা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে জানানো হয়নি। জানা গেছে, চলতি মাসের ২৮ তারিখে দেশে ফেরার কথা রয়েছে ওই শিক্ষকের। যদিও ছুটির কারণ হিসেবে স্ত্রীর চিকিৎসার কথা বলা হলেও স্থানীয়ভাবে জানা যায়, তার পরিবার নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দীন বলেন, ুফেব্রুয়ারির ৪ তারিখে স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য পাঁচ দিনের ছুটি নিয়ে তিনি ভারতে গেছেন।” তবে বেতন উত্তোলনের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি এবং বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে না জানানোর কারণেও সন্তোষজনক জবাব দেননি। অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, ছুটির সময়কাল ও তথ্য নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে, যা ঘটনাটিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।
আরও পড়ুন, সোনারগাঁয়ে ৬০ পিচ ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
পাকুন্দিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক ভূঁঞা বলেন, পাঁচ দিনের ছুটি নিয়ে এত দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থেকে বেতন তোলার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি রুপম দাস জানান, বিষয়টি জানার পর অভিযুক্ত শিক্ষকের বেতন বন্ধের জন্য ব্যাংকে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম আর না ঘটে।
বিষয় : শিক্ষক ক্ষোভ শিক্ষার্থী বেতন কিশোরগঞ্জ

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার শহীদ আলাউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও তার নামে নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগে জানা যায়, বিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম (রুবেল) গত ডিসেম্বর মাসে স্ত্রীর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পাঁচ দিনের ছুটি নেন। কিন্তু এরপর আর কর্মস্থলে ফেরেননি। স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রায় তিন থেকে চার মাস ধরে অনুপস্থিত এবং এ সময়ের মধ্যে ভারতে অবস্থান করছেন। এদিকে, শিক্ষক কর্মস্থলে না থাকলেও ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে তার সরকারি বেতন-ভাতা নিয়মিত উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ের শিক্ষক দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ার ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে, যা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
আরও পড়ুন, কটিয়াদীতে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অনুপস্থিত থাকার পরও হাজিরা খাতায় তাকে উপস্থিত দেখানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দীনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিস বা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে জানানো হয়নি। জানা গেছে, চলতি মাসের ২৮ তারিখে দেশে ফেরার কথা রয়েছে ওই শিক্ষকের। যদিও ছুটির কারণ হিসেবে স্ত্রীর চিকিৎসার কথা বলা হলেও স্থানীয়ভাবে জানা যায়, তার পরিবার নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দীন বলেন, ুফেব্রুয়ারির ৪ তারিখে স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য পাঁচ দিনের ছুটি নিয়ে তিনি ভারতে গেছেন।” তবে বেতন উত্তোলনের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি এবং বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে না জানানোর কারণেও সন্তোষজনক জবাব দেননি। অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, ছুটির সময়কাল ও তথ্য নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে, যা ঘটনাটিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।
আরও পড়ুন, সোনারগাঁয়ে ৬০ পিচ ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
পাকুন্দিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক ভূঁঞা বলেন, পাঁচ দিনের ছুটি নিয়ে এত দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থেকে বেতন তোলার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি রুপম দাস জানান, বিষয়টি জানার পর অভিযুক্ত শিক্ষকের বেতন বন্ধের জন্য ব্যাংকে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম আর না ঘটে।

আপনার মতামত লিখুন