১০ বছর ধরে পানিবন্দি সড়ক, স্কুল শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর দুর্ভোগ এমপি মহোদয়ের হস্তক্ষেপে পুনরায় কাজ শুরু। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার তাতুয়াকান্দি ও চৌধুরীগাঁয়ের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান উন্নয়ন কাজকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি, এবং তার দখলকৃত রাস্তার বাউন্ডারি ও গেট ভাঙ্গার ভয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জাতীয় পার্টি নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাতুয়াকান্দি ও চৌধুরীগাঁয়ের সংযোগ সড়কটি প্রায় এক দশক ধরে নিচু হয়ে পড়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটুসমান পানি জমে থাকে। দুই পাশের বাড়িঘর উঁচু হয়ে যাওয়া এবং ফসলি জমি ভরাট করে বসতবাড়ি নির্মাণের ফলে সড়কটি আশপাশের জমির তুলনায় নিচু হয়ে যায়। এতে বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় জমে থেকে মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে। প্রায় ৫ থেকে ৭ বছর আগে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের জন্য স্থানীয়ভাবে একটি ছোট ইটের গাঁথুনির মাধ্যমে সাময়িক ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আশপাশের জমি ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেই ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই রাস্তাটি পানিতে ডুবে থাকে এবং জমে থাকা পানিতে ময়লা-আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ বিভিন্ন রোগের জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় কিন্ডারগার্টেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ শত শত মানুষ চলাচল করেন। ইটের গাঁটুল দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করার সব সময় এখানে জলাদ্ধতা থাকতো কারণ পানি নামার কোন ব্যবস্থা ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দি এই সড়কের কারণে এলাকাবাসী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নারায়ণগঞ্জ- ৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং সোনারগাঁ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে সড়কটি উঁচু করে আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী উন্নয়ন কাজ শুরু হলে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
আরও পড়ুন, মহেশপুরে বিএনপির কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও আগুন
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কাজ শুরু হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতা ইকবাল ঠিকাদারের কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না পেয়ে তিনি কাজ বন্ধ করে দেন এবং ঠিকাদারের একটি ট্রাকভর্তি বালু নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে রাস্তার নির্মাণ কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং এলাকাবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়ে।
এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে স্থানীয় সাংবাদিক পীর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয় এবং তার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। সাংবাদিক পীর মোহাম্মদ বলেন, এলাকাবাসীর স্বার্থে আমি চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করি। কিন্তু এরপর থেকেই আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং থানায় ভিত্তিহীন অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অথচ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও অসংখ্য প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য রয়েছে, যেখানে স্পষ্ট বোঝা যাবে অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।
আরও পড়ুন, পলাশবাড়ীর জমি দখলের প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
তিনি আরও বলেন, আমি আমার বাড়ির বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের সময় রাস্তার জন্য প্রায় চার ফুট জায়গা ছেড়ে দিয়েছি। রাস্তার পাশ দিয়ে তাকালেই বিষয়টি পরিষ্কার বোঝা যাবে। অথচ কিছু স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। ড্রেন নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,এলাকাটিতে ড্রেন ট্রেনের পানি নিষ্কাশন করে ফেলার মত সরকারি কোন খাল নেই । শুধু তাই নয় গ্রামের সবচাইতে বড় রাস্তার পাশ দিয়ে এখনো পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ড্রেন হয়নি।চারপাশে বসতবাড়ি হওয়ায় ড্রেনের পানি নামানোরও কোনো সংযোগ নেই। সেখানে ড্রেন নির্মাণ করা হলে তা স্থায়ী নোংরা পানির গর্তে পরিণত হবে এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে রাস্তার ঠিকাদার জানান, রাস্তার কাজটি পরিকল্পনা অনুযায়ী উঁচু করে আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে পানি জমে না থাকে। তিনি বলেন, রাস্তাটির পরবর্তী অংশের কাজ সম্পন্ন হলে পুরো সড়কের মাঝ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকবে। এতে আর কোনো জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না।
আরও পড়ুন, সোনারগাঁয়ে পিস্তল ও গুলিসহ এক যুবক গ্রেপ্তার
উপজেলা প্রকৌশলী জানান, এলাকাটির দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়েই সড়কটি উঁচু করে আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রাস্তার উচ্চতা বৃদ্ধি করা হলে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে পাশ দিয়ে নেমে যাবে এবং ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে। উন্নয়ন কাজটি সরকারি নীতিমালা মেনে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং কাজ শেষ হলে এলাকাবাসী স্থায়ীভাবে উপকৃত হবেন।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাস্তার বড় একটি অংশ দখল করে ট্রাক ও পিকআপ ভ্যান পার্কিং করে রেখেছেন। প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত রাস্তায় ৫ থেকে ৬ ফুট জায়গা দখল করে পার্কিং করায় সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া পার্কিংকে কেন্দ্র করে অটোরিকশা চালকসহ অনেককে মারধরের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, রাস্তার পাশে অনেকেই নিজ নিজ বাড়ির বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের সময় রাস্তার জন্য জায়গা ছেড়ে দিলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি তা মানেননি। এমনকি তার বাড়ির গেট সরাসরি রাস্তার দিকে খোলা থাকায় চলাচলে আরও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আজহারুল ইসলাম মান্নানের হস্তক্ষেপ এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পুনরায় রাস্তার নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এতে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসী দ্রুত রাস্তার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি চাঁদাবাজি, কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬
১০ বছর ধরে পানিবন্দি সড়ক, স্কুল শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর দুর্ভোগ এমপি মহোদয়ের হস্তক্ষেপে পুনরায় কাজ শুরু। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার তাতুয়াকান্দি ও চৌধুরীগাঁয়ের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান উন্নয়ন কাজকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি, এবং তার দখলকৃত রাস্তার বাউন্ডারি ও গেট ভাঙ্গার ভয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জাতীয় পার্টি নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাতুয়াকান্দি ও চৌধুরীগাঁয়ের সংযোগ সড়কটি প্রায় এক দশক ধরে নিচু হয়ে পড়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটুসমান পানি জমে থাকে। দুই পাশের বাড়িঘর উঁচু হয়ে যাওয়া এবং ফসলি জমি ভরাট করে বসতবাড়ি নির্মাণের ফলে সড়কটি আশপাশের জমির তুলনায় নিচু হয়ে যায়। এতে বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় জমে থেকে মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে। প্রায় ৫ থেকে ৭ বছর আগে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের জন্য স্থানীয়ভাবে একটি ছোট ইটের গাঁথুনির মাধ্যমে সাময়িক ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আশপাশের জমি ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেই ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই রাস্তাটি পানিতে ডুবে থাকে এবং জমে থাকা পানিতে ময়লা-আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ বিভিন্ন রোগের জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় কিন্ডারগার্টেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ শত শত মানুষ চলাচল করেন। ইটের গাঁটুল দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করার সব সময় এখানে জলাদ্ধতা থাকতো কারণ পানি নামার কোন ব্যবস্থা ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দি এই সড়কের কারণে এলাকাবাসী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নারায়ণগঞ্জ- ৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং সোনারগাঁ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে সড়কটি উঁচু করে আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী উন্নয়ন কাজ শুরু হলে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
আরও পড়ুন, মহেশপুরে বিএনপির কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও আগুন
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কাজ শুরু হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতা ইকবাল ঠিকাদারের কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না পেয়ে তিনি কাজ বন্ধ করে দেন এবং ঠিকাদারের একটি ট্রাকভর্তি বালু নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে রাস্তার নির্মাণ কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং এলাকাবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়ে।
এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে স্থানীয় সাংবাদিক পীর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয় এবং তার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। সাংবাদিক পীর মোহাম্মদ বলেন, এলাকাবাসীর স্বার্থে আমি চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করি। কিন্তু এরপর থেকেই আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং থানায় ভিত্তিহীন অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অথচ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও অসংখ্য প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য রয়েছে, যেখানে স্পষ্ট বোঝা যাবে অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।
আরও পড়ুন, পলাশবাড়ীর জমি দখলের প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
তিনি আরও বলেন, আমি আমার বাড়ির বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের সময় রাস্তার জন্য প্রায় চার ফুট জায়গা ছেড়ে দিয়েছি। রাস্তার পাশ দিয়ে তাকালেই বিষয়টি পরিষ্কার বোঝা যাবে। অথচ কিছু স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। ড্রেন নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,এলাকাটিতে ড্রেন ট্রেনের পানি নিষ্কাশন করে ফেলার মত সরকারি কোন খাল নেই । শুধু তাই নয় গ্রামের সবচাইতে বড় রাস্তার পাশ দিয়ে এখনো পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ড্রেন হয়নি।চারপাশে বসতবাড়ি হওয়ায় ড্রেনের পানি নামানোরও কোনো সংযোগ নেই। সেখানে ড্রেন নির্মাণ করা হলে তা স্থায়ী নোংরা পানির গর্তে পরিণত হবে এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে রাস্তার ঠিকাদার জানান, রাস্তার কাজটি পরিকল্পনা অনুযায়ী উঁচু করে আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে পানি জমে না থাকে। তিনি বলেন, রাস্তাটির পরবর্তী অংশের কাজ সম্পন্ন হলে পুরো সড়কের মাঝ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকবে। এতে আর কোনো জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না।
আরও পড়ুন, সোনারগাঁয়ে পিস্তল ও গুলিসহ এক যুবক গ্রেপ্তার
উপজেলা প্রকৌশলী জানান, এলাকাটির দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়েই সড়কটি উঁচু করে আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রাস্তার উচ্চতা বৃদ্ধি করা হলে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে পাশ দিয়ে নেমে যাবে এবং ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে। উন্নয়ন কাজটি সরকারি নীতিমালা মেনে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং কাজ শেষ হলে এলাকাবাসী স্থায়ীভাবে উপকৃত হবেন।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাস্তার বড় একটি অংশ দখল করে ট্রাক ও পিকআপ ভ্যান পার্কিং করে রেখেছেন। প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত রাস্তায় ৫ থেকে ৬ ফুট জায়গা দখল করে পার্কিং করায় সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া পার্কিংকে কেন্দ্র করে অটোরিকশা চালকসহ অনেককে মারধরের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, রাস্তার পাশে অনেকেই নিজ নিজ বাড়ির বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের সময় রাস্তার জন্য জায়গা ছেড়ে দিলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি তা মানেননি। এমনকি তার বাড়ির গেট সরাসরি রাস্তার দিকে খোলা থাকায় চলাচলে আরও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আজহারুল ইসলাম মান্নানের হস্তক্ষেপ এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পুনরায় রাস্তার নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এতে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসী দ্রুত রাস্তার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি চাঁদাবাজি, কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন