জননিরাপত্তা জোরদার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতে গাজীপুর মহানগরীকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি), গাজীপুর সিটি করপোরেশন (জিসিসি) এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ফেস রিকগনিশন, অটোমেটিক নাম্বার প্লেট রিকগনিশন (ANPR), আইপি ক্যামেরা এবং কেন্দ্রীয় কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের মাধ্যমে পুরো মহানগরকে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।জিএমপি সূত্র জানায়, প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা। পুলিশ সদর দপ্তরের অনুমোদনের পর এটি বর্তমানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের অপেক্ষায় রয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গাজীপুরে পাইলট প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে পরবর্তীতে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য মহানগরেও একই ধরনের সেফ সিটি ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।প্রকল্পের আওতায় ফেস রিকগনিশন ক্যামেরার মাধ্যমে সন্দেহভাজন বা চিহ্নিত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করা,
আরও পড়ুন, পাঁচবিবিতে চালের ড্রামে মিললো ২০৭ পিস ট্যাপেন্টাডল, মাদক ব্যবসায়ী আটক
ANPR প্রযুক্তির মাধ্যমে যানবাহনের নম্বরপ্লেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও ট্র্যাক করা এবং এআইভিত্তিক ভিডিও অ্যানালিটিক্সের মাধ্যমে অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।এছাড়া একটি কেন্দ্রীয় কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার থেকে সার্বক্ষণিকভাবে মহানগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর মাধ্যমে জরুরি ঘটনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক পুলিশি সাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিশ্বের কয়েকটি শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের কারিগরি সক্ষমতা উপস্থাপন করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছে Huawei, Dahua, NEC, Motorola, UniView এবং HK Vision। প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য ‘প্রুফ অব কনসেপ্ট’ (POC) জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।এদিকে, প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (DPP) পুনর্মূল্যায়নের কাজও চলছে। বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত কারিগরি কমিটি প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত মানদণ্ড, সিস্টেম আর্কিটেকচার এবং যন্ত্রপাতির তালিকা চূড়ান্ত করছে।প্রকল্প বাস্তবায়নে গাজীপুর সিটি করপোরেশন, জিএমপি, বিআরটি ও আইইউটিসহ বিভিন্ন অংশীজন একযোগে কাজ করছে।
আরও পড়ুন, কক্সবাজার জেলা পুলিশ বন্যাদুর্গত অসহায় মানুষের পাশে
স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ফিজিবিলিটি স্টাডি ও জিওলোকেশন সার্ভে ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. তাহেরুল হক চৌহান বলেন, “আমাদের লক্ষ্য গাজীপুর মহানগরের সাধারণ মানুষ, শ্রমিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেফ সিটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শিল্পাঞ্চল হিসেবে গাজীপুর আরও নিরাপদ হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, “সেফ সিটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গাজীপুর দেশের প্রথম আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপদ মহানগরীতে পরিণত হবে। অপরাধ দমনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে এবং নাগরিকরা আরও দ্রুত পুলিশি সেবা পাবেন।”স্থানীয় সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, সরকারের জননিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ প্রকল্প সময়োপযোগী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গাজীপুরবাসী দ্রুত আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুফল ভোগ করতে পারবেন।প্রকল্পটির প্রশাসনিক অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ চূড়ান্ত হলে গাজীপুর মহানগরীতে এর বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিষয় : নজরদারি নিরাপদ স্মার্ট প্রযুক্তি

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬
জননিরাপত্তা জোরদার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতে গাজীপুর মহানগরীকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি), গাজীপুর সিটি করপোরেশন (জিসিসি) এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ফেস রিকগনিশন, অটোমেটিক নাম্বার প্লেট রিকগনিশন (ANPR), আইপি ক্যামেরা এবং কেন্দ্রীয় কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের মাধ্যমে পুরো মহানগরকে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।জিএমপি সূত্র জানায়, প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা। পুলিশ সদর দপ্তরের অনুমোদনের পর এটি বর্তমানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের অপেক্ষায় রয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গাজীপুরে পাইলট প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে পরবর্তীতে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য মহানগরেও একই ধরনের সেফ সিটি ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।প্রকল্পের আওতায় ফেস রিকগনিশন ক্যামেরার মাধ্যমে সন্দেহভাজন বা চিহ্নিত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করা,
আরও পড়ুন, পাঁচবিবিতে চালের ড্রামে মিললো ২০৭ পিস ট্যাপেন্টাডল, মাদক ব্যবসায়ী আটক
ANPR প্রযুক্তির মাধ্যমে যানবাহনের নম্বরপ্লেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও ট্র্যাক করা এবং এআইভিত্তিক ভিডিও অ্যানালিটিক্সের মাধ্যমে অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।এছাড়া একটি কেন্দ্রীয় কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার থেকে সার্বক্ষণিকভাবে মহানগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর মাধ্যমে জরুরি ঘটনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক পুলিশি সাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিশ্বের কয়েকটি শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের কারিগরি সক্ষমতা উপস্থাপন করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছে Huawei, Dahua, NEC, Motorola, UniView এবং HK Vision। প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য ‘প্রুফ অব কনসেপ্ট’ (POC) জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।এদিকে, প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (DPP) পুনর্মূল্যায়নের কাজও চলছে। বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত কারিগরি কমিটি প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত মানদণ্ড, সিস্টেম আর্কিটেকচার এবং যন্ত্রপাতির তালিকা চূড়ান্ত করছে।প্রকল্প বাস্তবায়নে গাজীপুর সিটি করপোরেশন, জিএমপি, বিআরটি ও আইইউটিসহ বিভিন্ন অংশীজন একযোগে কাজ করছে।
আরও পড়ুন, কক্সবাজার জেলা পুলিশ বন্যাদুর্গত অসহায় মানুষের পাশে
স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ফিজিবিলিটি স্টাডি ও জিওলোকেশন সার্ভে ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. তাহেরুল হক চৌহান বলেন, “আমাদের লক্ষ্য গাজীপুর মহানগরের সাধারণ মানুষ, শ্রমিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেফ সিটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শিল্পাঞ্চল হিসেবে গাজীপুর আরও নিরাপদ হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, “সেফ সিটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গাজীপুর দেশের প্রথম আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপদ মহানগরীতে পরিণত হবে। অপরাধ দমনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে এবং নাগরিকরা আরও দ্রুত পুলিশি সেবা পাবেন।”স্থানীয় সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, সরকারের জননিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ প্রকল্প সময়োপযোগী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গাজীপুরবাসী দ্রুত আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুফল ভোগ করতে পারবেন।প্রকল্পটির প্রশাসনিক অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ চূড়ান্ত হলে গাজীপুর মহানগরীতে এর বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন