দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতা, পুনর্গঠন ও বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেছে সরকার। নতুন সরকারের প্রথম বাজেট হওয়ায় এতে সংস্কার, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বার্তা বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার একটি মধ্যমেয়াদি কৌশলগত কাঠামো গ্রহণ করেছে। এর মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্বল ব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে অর্থনীতি এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তবে সঠিক নীতি, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং কার্যকর সংস্কারের মাধ্যমে সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যে কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া এবং উৎপাদন খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন, আমদানি নির্ভরতা কমাতে নতুন উদ্যোগ, ভোজ্যতেল খাতে কর অব্যাহতি
বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ব্যবসা শুরু করতে অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতা, বিভিন্ন দপ্তরে একই তথ্য বারবার জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা এবং সেবা প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা কমিয়ে আনার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এবারের বাজেটের অন্যতম ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে তরুণ উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহায়তা এবং সৃজনশীল খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিকল্পনাকে। প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও সৃজনশীল অর্থনীতিকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন। একইসঙ্গে করপোরেট কর হারে উল্লেখযোগ্য ছাড় না থাকায় কিছু বিনিয়োগকারী হতাশ হতে পারেন।তারপরও সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির সংকট স্বীকার করে সংস্কার ও বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে নতুন সরকারের প্রথম বাজেটকে পরিবর্তনের বার্তা বহনকারী বাজেট হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক।
বিষয় : বাজেট সংকট স্বীকার বিনিয়োগনির্ভর

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতা, পুনর্গঠন ও বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেছে সরকার। নতুন সরকারের প্রথম বাজেট হওয়ায় এতে সংস্কার, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বার্তা বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার একটি মধ্যমেয়াদি কৌশলগত কাঠামো গ্রহণ করেছে। এর মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্বল ব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে অর্থনীতি এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তবে সঠিক নীতি, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং কার্যকর সংস্কারের মাধ্যমে সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যে কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া এবং উৎপাদন খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন, আমদানি নির্ভরতা কমাতে নতুন উদ্যোগ, ভোজ্যতেল খাতে কর অব্যাহতি
বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ব্যবসা শুরু করতে অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতা, বিভিন্ন দপ্তরে একই তথ্য বারবার জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা এবং সেবা প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা কমিয়ে আনার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এবারের বাজেটের অন্যতম ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে তরুণ উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহায়তা এবং সৃজনশীল খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিকল্পনাকে। প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও সৃজনশীল অর্থনীতিকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন। একইসঙ্গে করপোরেট কর হারে উল্লেখযোগ্য ছাড় না থাকায় কিছু বিনিয়োগকারী হতাশ হতে পারেন।তারপরও সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির সংকট স্বীকার করে সংস্কার ও বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে নতুন সরকারের প্রথম বাজেটকে পরিবর্তনের বার্তা বহনকারী বাজেট হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক।

আপনার মতামত লিখুন