মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ইরানের সঙ্গে এমন একটি সমঝোতার পথ খুঁজছেন, যাতে দেশীয়ভাবে তার রাজনৈতিক অবস্থান অটুট থাকে—এমনটাই দাবি করেছেন তেহরানভিত্তিক এক বিশ্লেষক।
আরও পড়ুন, গাজা ইস্যুতে ইইউকে সক্রিয় হওয়ার চাপ, স্পেন স্লোভেনিয়ার কড়া বার্তা
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তেহরানের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক আলি আকবর দারেইনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তাৎক্ষণিক কোনও সমঝোতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।তার মতে, চীন সফরের আগে ট্রাম্প একটি কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বলপ্রয়োগের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
আরও পড়ুন, ইরান যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির আশা এক সপ্তাহেই সিদ্ধান্ত
দারেইনি আরও দাবি করেন, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলপন্থী লবির পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে, ইরানের ওপর সামরিক চাপ প্রয়োগ করলে তেহরান নতি স্বীকার করবে। কিন্তু বাস্তবে ইরান কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং কোনও চাপের কাছে নতি স্বীকার করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক তেল রফতানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিলে তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।
আরও পড়ুন, ভারতকে ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ বলল পাকিস্তান সেনাবাহিনী
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং নৌ-অভিযান পরিচালনার পরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়ায় ওয়াশিংটনের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের কঠোর অবস্থান এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে ইরান বারবার জানিয়ে আসছে, তারা কোনও ধরনের সামরিক হুমকি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট কূটনৈতিক সমাধানের দিকে এগোবে, নাকি আরও বড় সামরিক সংঘাতে রূপ নেবে—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিষয় : মধ্যপ্রাচ্য হরমুজ প্রণালী ট্রাম্প

শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ইরানের সঙ্গে এমন একটি সমঝোতার পথ খুঁজছেন, যাতে দেশীয়ভাবে তার রাজনৈতিক অবস্থান অটুট থাকে—এমনটাই দাবি করেছেন তেহরানভিত্তিক এক বিশ্লেষক।
আরও পড়ুন, গাজা ইস্যুতে ইইউকে সক্রিয় হওয়ার চাপ, স্পেন স্লোভেনিয়ার কড়া বার্তা
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তেহরানের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক আলি আকবর দারেইনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তাৎক্ষণিক কোনও সমঝোতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।তার মতে, চীন সফরের আগে ট্রাম্প একটি কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বলপ্রয়োগের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
আরও পড়ুন, ইরান যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির আশা এক সপ্তাহেই সিদ্ধান্ত
দারেইনি আরও দাবি করেন, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলপন্থী লবির পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে, ইরানের ওপর সামরিক চাপ প্রয়োগ করলে তেহরান নতি স্বীকার করবে। কিন্তু বাস্তবে ইরান কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং কোনও চাপের কাছে নতি স্বীকার করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক তেল রফতানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিলে তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।
আরও পড়ুন, ভারতকে ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ বলল পাকিস্তান সেনাবাহিনী
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং নৌ-অভিযান পরিচালনার পরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়ায় ওয়াশিংটনের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের কঠোর অবস্থান এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে ইরান বারবার জানিয়ে আসছে, তারা কোনও ধরনের সামরিক হুমকি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট কূটনৈতিক সমাধানের দিকে এগোবে, নাকি আরও বড় সামরিক সংঘাতে রূপ নেবে—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

আপনার মতামত লিখুন