দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

নিজের নামে প্রতিষ্ঠান, শেষ পর্যন্ত আদালতেই আটকালেন ট্রাম্প!

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের বিখ্যাত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস’ নিয়ে বড় ধরনের আইনি নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। আদালতের নির্দেশে প্রতিষ্ঠানটির নাম থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম সরিয়ে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।শুক্রবার দেওয়া এক রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ‘কেনেডি সেন্টার’-এর নাম পরিবর্তন করা যাবে না। একই সঙ্গে কেন্দ্রটি সংস্কারের জন্য দুই বছরের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৪ দিনের মধ্যে কেন্দ্রের ভবন, ডিজিটাল সাইনবোর্ড, আনুষ্ঠানিক নথি এবং সব ধরনের পরিচিতি থেকে ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলতে হবে। ফলে কেন্দ্রটি আবার আগের নাম— John F. Kennedy Center for the Performing Arts—এই নামেই ফিরে যাবে।আরও পড়ুন, গাজার ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনার নির্দেশ নেতানিয়াহুরএর আগে রাজধানীর বিভিন্ন স্থাপনার পুনর্নামকরণ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ট্রাম্প এই প্রতিষ্ঠানে নিজের নাম যুক্ত করার পদক্ষেপ নেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি বোর্ডের কয়েকজন ট্রাস্টি পরিবর্তন করে নিজেও ট্রাস্টি হন এবং পরে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর কেন্দ্রটির নাম পরিবর্তন করে ‘দ্য ডোনাল্ড জে ট্রাম্প অ্যান্ড জন এফ কেনেডি মেমোরিয়াল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস’ রাখা হয়।আরও পড়ুন, ট্রাম্পের ছবি কি উঠছে মার্কিন নোটে? নতুন ২৫০ ডলার বিল নিয়ে তোলপাড়তবে এই সিদ্ধান্তের পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেক শিল্পী অনুষ্ঠান বাতিল করেন, টিকিট বিক্রিও কমে যায়। পরে কেন্দ্রটি সংস্কারের নামে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে দুই বছরের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণাও দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করেন বোর্ড সদস্য ও কংগ্রেসওম্যান Joyce Beattyসহ কয়েকজন সাবেক ট্রাস্টি। আদালত তাদের যুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে জানায়— কংগ্রেস যে প্রতিষ্ঠানের নাম নির্ধারণ করেছে, তা বোর্ড এককভাবে বদলাতে পারে না।আরও পড়ুন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ডিএনসিসি-ডিএসসিসির দুই কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্তরায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন Donald Trump। অন্যদিকে বোর্ড জানিয়েছে, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবে। এখন দেখার বিষয়— আপিল আদালতে এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকে, নাকি নতুন করে শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের আরেক দফা রাজনৈতিক বিতর্ক।

নিজের নামে প্রতিষ্ঠান, শেষ পর্যন্ত আদালতেই আটকালেন ট্রাম্প!