কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরোধের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি শেয়ারবাজারে দরপতন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম এক লাফে প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০২ ডলারে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সময়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধির ফলে তেলের দাম মোটের ওপর ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।
আরও পড়ুন, বাংলাদেশে ব্যাংক আলফালাহর কার্যক্রম অধিগ্রহণের পথে ব্যাংক এশিয়া
এদিকে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব শেয়ারবাজারে। বিশেষ করে হংকং, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া-এর বাজারে উল্লেখযোগ্য দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সপ্তাহের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তার কারণে বাজারে এই চাপ তৈরি হয়, যদিও পরবর্তী সময়ে কিছুটা পুনরুদ্ধার দেখা যায়। বাজারের এই অস্থিরতার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সম্ভাব্য নীতিগত ঘোষণাকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ। পাশাপাশি এশিয়ার দেশগুলো বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের উৎস খুঁজতে নীতিগত পরিবর্তন আনছে, যা বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
আরও পড়ুন, লাফিয়ে বাড়ল ফার্নেস তেলের দাম, লিটারে ২৪.৫৯ টাকা বৃদ্ধি
বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে অন্যান্য দেশ থেকে তেল ও গ্যাস আমদানির বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে, যাতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানো যায়। এদিকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মার্কিন ডলারের মান শক্তিশালী হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা স্থবির প্রবৃদ্ধির সঙ্গে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ঘোষণা অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনী (CENTCOM) হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ কার্যকর করতে যাচ্ছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়, যার বড় অংশই এশিয়ার দেশগুলোতে যায়। ফলে এই অঞ্চলের অর্থনীতিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিষয় : অবরোধ বিশ্ববাজার হরমুজ প্রণালি অস্থিরতা

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরোধের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি শেয়ারবাজারে দরপতন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম এক লাফে প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০২ ডলারে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সময়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধির ফলে তেলের দাম মোটের ওপর ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।
আরও পড়ুন, বাংলাদেশে ব্যাংক আলফালাহর কার্যক্রম অধিগ্রহণের পথে ব্যাংক এশিয়া
এদিকে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব শেয়ারবাজারে। বিশেষ করে হংকং, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া-এর বাজারে উল্লেখযোগ্য দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সপ্তাহের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তার কারণে বাজারে এই চাপ তৈরি হয়, যদিও পরবর্তী সময়ে কিছুটা পুনরুদ্ধার দেখা যায়। বাজারের এই অস্থিরতার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সম্ভাব্য নীতিগত ঘোষণাকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ। পাশাপাশি এশিয়ার দেশগুলো বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের উৎস খুঁজতে নীতিগত পরিবর্তন আনছে, যা বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
আরও পড়ুন, লাফিয়ে বাড়ল ফার্নেস তেলের দাম, লিটারে ২৪.৫৯ টাকা বৃদ্ধি
বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে অন্যান্য দেশ থেকে তেল ও গ্যাস আমদানির বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে, যাতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানো যায়। এদিকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মার্কিন ডলারের মান শক্তিশালী হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা স্থবির প্রবৃদ্ধির সঙ্গে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ঘোষণা অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনী (CENTCOM) হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ কার্যকর করতে যাচ্ছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়, যার বড় অংশই এশিয়ার দেশগুলোতে যায়। ফলে এই অঞ্চলের অর্থনীতিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন