রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান যেখানে আধুনিক জীবনযাপন, কূটনৈতিক এলাকা এবং উচ্চমানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি রয়েছে। তবে এই এলাকার মধ্যেই একটি কথিত স্পা সেন্টারকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ও বিতর্কের কথা স্থানীয়দের মুখে শোনা যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, গুলশান ৯৯ রোডের একটি ভবনের চতুর্থ তলায় পরিচালিত একটি স্পা সেন্টার ঘিরে চলছে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই প্রতিষ্ঠানের আড়ালে অবৈধ বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে। স্পা সেন্টারটির মালিক হিসেবে পরিচিত বাহার নামের এক ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কখনো নিজেকে গণমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে পরিচয় দেন, আবার কখনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয়ের কথা উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছেন। যদিও এসব বিষয়ে তার পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট কোনো লিখিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। স্পা সেন্টারটির কার্যক্রম নিয়ে এলাকায় বহুদিন ধরেই আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন মানুষের যাতায়াত এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেখছি এখানে বিভিন্ন সময় অচেনা লোকজন আসাুযাওয়া করে। অনেক সময় গভীর রাত পর্যন্ত লোকজনের আনাগোনা থাকে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। গুলশান তো অভিজাত এলাকা। এখানে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে এলাকার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখলে ভালো হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। ওই স্পা সেন্টারকে ঘিরে একটি দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে সম্ভাব্য গ্রাহকদের ওই স্পা সেন্টারে আনা হয়।
আরও পড়ুন, রমজানে চট্টগ্রামের বাজারে চলছে ‘ভেজাল ঘি’র রমরমা বাণিজ্য
একজন স্থানীয় দোকানদার বলেন, অনেক সময় দেখা যায় কিছু লোকজন বাইরে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছে, পরে লোকজন নিয়ে ভেতরে ঢুকছে। এসব দেখে অনেকেই মনে করেন এখানে কোনো সংগঠিত সিন্ডিকেট কাজ করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এই বিষয়ে স্পা সেন্টারের মালিক হিসেবে পরিচিত বাহার-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। প্রথমদিকে ফোনে তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। পরে সংক্ষিপ্তভাবে তিনি বলেন, আমার প্রতিষ্ঠান বৈধভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। কেউ যদি কোনো অভিযোগ করে থাকে তাহলে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্পা সেন্টারের মালিক হিসেবে পরিচিত বাহারের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন অভিযোগে গুলশান থানায় একাধিক মামলা বা অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে কথিত রয়েছে। তবে এসব মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি আইনবহির্ভূত কার্যক্রমে জড়িত থাকে এবং সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, রাজধানীর অভিজাত এলাকায় অবৈধ ব্যবসা বা অনৈতিক কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেউ যদি নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণসহ অভিযোগ করেন, তাহলে আইন অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন, ফরিদপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত
বিশেষজ্ঞদের মতে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্পা বা ওয়েলনেস সেন্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন, ট্রেড লাইসেন্স, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কোনো প্রতিষ্ঠান এসব নিয়ম না মেনে পরিচালিত হলে তা আইনগত সমস্যার মুখে পড়তে পারে।এবিষয়ে একজন আইনজীবী বলেন, বাংলাদেশে কোনো ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্সসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন থাকা জরুরি। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারে।
একজন বাসিন্দা বলেন, যদি অভিযোগ সত্য হয় তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর যদি না হয় তাহলে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া দরকার। এতে এলাকার মানুষের সন্দেহ দূর হবে। গুলশান এলাকার ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হলে এ ধরনের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করা জরুরি।রাজধানীতে গত কয়েক বছরে স্পা ও ম্যাসাজ সেন্টারের সংখ্যা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো স্বাস্থ্যসেবা বা রিল্যাক্সেশন সেন্টার হিসেবে পরিচালিত হলেও কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, লাইসেন্সবিহীন বা নিয়ম না মানা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যেই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আরও পড়ুন, মহেশপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, অভিযান পরিচালনার সময় দেখা যায় অনেক প্রতিষ্ঠান যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। স্থানীয়দের মতে, গুলশানের আলোচিত স্পা সেন্টারের বিষয়টিও তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা দরকার। তারা মনে করেন, যদি অভিযোগ সত্য হয় তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং যদি অভিযোগ ভিত্তিহীন হয় তাহলে তা স্পষ্ট হওয়া দরকার। সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন। এতে করে অবৈধ কার্যক্রমের সুযোগ কমে আসবে। একজন সমাজ বিশ্লেষক বলেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যদি অবৈধ ব্যবসা গড়ে ওঠে তাহলে তা সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই প্রশাসনের নিয়মিত মনিটরিং প্রয়োজন।
গুলশানের কথিত স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ ও বিতর্ক এখন স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। যদিও অভিযোগগুলোর অনেকটাই এখনো প্রমাণিত নয়, তবুও বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এতে করে একদিকে যেমন আইনের শাসন নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে এলাকার পরিবেশ ও ভাবমূর্তি রক্ষা পাবে।
বিষয় : অভিযান অবৈধ গুলশান স্পা সেন্টার

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান যেখানে আধুনিক জীবনযাপন, কূটনৈতিক এলাকা এবং উচ্চমানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি রয়েছে। তবে এই এলাকার মধ্যেই একটি কথিত স্পা সেন্টারকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ও বিতর্কের কথা স্থানীয়দের মুখে শোনা যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, গুলশান ৯৯ রোডের একটি ভবনের চতুর্থ তলায় পরিচালিত একটি স্পা সেন্টার ঘিরে চলছে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই প্রতিষ্ঠানের আড়ালে অবৈধ বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে। স্পা সেন্টারটির মালিক হিসেবে পরিচিত বাহার নামের এক ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কখনো নিজেকে গণমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে পরিচয় দেন, আবার কখনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয়ের কথা উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছেন। যদিও এসব বিষয়ে তার পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট কোনো লিখিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। স্পা সেন্টারটির কার্যক্রম নিয়ে এলাকায় বহুদিন ধরেই আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন মানুষের যাতায়াত এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেখছি এখানে বিভিন্ন সময় অচেনা লোকজন আসাুযাওয়া করে। অনেক সময় গভীর রাত পর্যন্ত লোকজনের আনাগোনা থাকে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। গুলশান তো অভিজাত এলাকা। এখানে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে এলাকার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখলে ভালো হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। ওই স্পা সেন্টারকে ঘিরে একটি দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে সম্ভাব্য গ্রাহকদের ওই স্পা সেন্টারে আনা হয়।
আরও পড়ুন, রমজানে চট্টগ্রামের বাজারে চলছে ‘ভেজাল ঘি’র রমরমা বাণিজ্য
একজন স্থানীয় দোকানদার বলেন, অনেক সময় দেখা যায় কিছু লোকজন বাইরে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছে, পরে লোকজন নিয়ে ভেতরে ঢুকছে। এসব দেখে অনেকেই মনে করেন এখানে কোনো সংগঠিত সিন্ডিকেট কাজ করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এই বিষয়ে স্পা সেন্টারের মালিক হিসেবে পরিচিত বাহার-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। প্রথমদিকে ফোনে তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। পরে সংক্ষিপ্তভাবে তিনি বলেন, আমার প্রতিষ্ঠান বৈধভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। কেউ যদি কোনো অভিযোগ করে থাকে তাহলে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্পা সেন্টারের মালিক হিসেবে পরিচিত বাহারের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন অভিযোগে গুলশান থানায় একাধিক মামলা বা অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে কথিত রয়েছে। তবে এসব মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি আইনবহির্ভূত কার্যক্রমে জড়িত থাকে এবং সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, রাজধানীর অভিজাত এলাকায় অবৈধ ব্যবসা বা অনৈতিক কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেউ যদি নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণসহ অভিযোগ করেন, তাহলে আইন অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন, ফরিদপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত
বিশেষজ্ঞদের মতে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্পা বা ওয়েলনেস সেন্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন, ট্রেড লাইসেন্স, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কোনো প্রতিষ্ঠান এসব নিয়ম না মেনে পরিচালিত হলে তা আইনগত সমস্যার মুখে পড়তে পারে।এবিষয়ে একজন আইনজীবী বলেন, বাংলাদেশে কোনো ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্সসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন থাকা জরুরি। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারে।
একজন বাসিন্দা বলেন, যদি অভিযোগ সত্য হয় তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর যদি না হয় তাহলে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া দরকার। এতে এলাকার মানুষের সন্দেহ দূর হবে। গুলশান এলাকার ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হলে এ ধরনের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করা জরুরি।রাজধানীতে গত কয়েক বছরে স্পা ও ম্যাসাজ সেন্টারের সংখ্যা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো স্বাস্থ্যসেবা বা রিল্যাক্সেশন সেন্টার হিসেবে পরিচালিত হলেও কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, লাইসেন্সবিহীন বা নিয়ম না মানা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যেই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আরও পড়ুন, মহেশপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, অভিযান পরিচালনার সময় দেখা যায় অনেক প্রতিষ্ঠান যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। স্থানীয়দের মতে, গুলশানের আলোচিত স্পা সেন্টারের বিষয়টিও তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা দরকার। তারা মনে করেন, যদি অভিযোগ সত্য হয় তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং যদি অভিযোগ ভিত্তিহীন হয় তাহলে তা স্পষ্ট হওয়া দরকার। সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন। এতে করে অবৈধ কার্যক্রমের সুযোগ কমে আসবে। একজন সমাজ বিশ্লেষক বলেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যদি অবৈধ ব্যবসা গড়ে ওঠে তাহলে তা সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই প্রশাসনের নিয়মিত মনিটরিং প্রয়োজন।
গুলশানের কথিত স্পা সেন্টারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ ও বিতর্ক এখন স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। যদিও অভিযোগগুলোর অনেকটাই এখনো প্রমাণিত নয়, তবুও বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এতে করে একদিকে যেমন আইনের শাসন নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে এলাকার পরিবেশ ও ভাবমূর্তি রক্ষা পাবে।

আপনার মতামত লিখুন