দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

স্ক্রিনের আড়ালে ‘ভয়ংকর বহুরূপী’ ফাঁদ: অনলাইন প্রতারণায় সর্বস্বান্ত হাজারো মানুষ

স্ক্রিনের আড়ালে ‘ভয়ংকর বহুরূপী’ ফাঁদ: অনলাইন প্রতারণায় সর্বস্বান্ত হাজারো মানুষ
অনলাইন প্রতারণায় সর্বস্বান্ত হাজারো মানুষ

ডিজিটাল প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করেছে, কিন্তু সেই প্রযুক্তির আড়ালেই দ্রুত বিস্তার ঘটছে ভয়ংকর অনলাইন প্রতারণার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ এবং ভুয়া ওয়েবসাইট ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রতিদিন নতুন নতুন কৌশলে মানুষকে প্রতারণার জালে ফেলছে। লোভনীয় অফার, বিদেশে চাকরির প্রলোভন, অনলাইন বিনিয়োগ, রোমান্স স্ক্যাম এবং ফিশিং—সব মিলিয়ে সাইবার অপরাধ এখন দেশের অন্যতম বড় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রাপ্ত মোট সাইবার অভিযোগের মধ্যে ৪৫.৫২ শতাংশই অনলাইন প্রতারণা। অনলাইন হয়রানি ২৯.১৪ শতাংশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং ৬.১৪ শতাংশ। গত এক বছরে সাইবার পুলিশ সেন্টারে প্রায় ১১ হাজার ৫৭০টি অভিযোগ জমা পড়েছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।বর্তমানে সিআইডিতে ২৫৮টি মামলা, ৬৫১টি জিডি এবং ৭২০টি অভিযোগ তদন্তাধীন। একই সময়ে ডিএমপির ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ইউনিট তদন্ত করছে প্রায় ৩ হাজার ৭০০টি জিডি এবং প্রায় ৫০০টি মামলা। ডিবির ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন ভুক্তভোগী সরাসরি অভিযোগ দিচ্ছেন।

আরও  পড়ুন, অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য বড় সুখবর, আসছে ‘এক পদ, এক বেতন’

তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। আগের তুলনায় প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক প্রতারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রতারণা এবং সম্পর্ক তৈরি করে ব্ল্যাকমেইলের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।সম্প্রতি ডিবি একটি চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় চাকরির নামে ভুয়া ওয়েবসাইট, জাল ওয়ার্ক পারমিট, নকল ভিসা অনুমোদনপত্র এবং সরকারি ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি ভুয়া ভেরিফিকেশন পোর্টাল ব্যবহার করে অন্তত ৭২ জনের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।সিআইডি জানিয়েছে, তদন্তের বড় বাধা হচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম থেকে তথ্য সংগ্রহের দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া। মেটা, গুগল, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য পেতে সময় লাগে, যা অনেক ক্ষেত্রে তদন্তকে বিলম্বিত করে।ডিএমপির ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপকমিশনার খালেদা বেগম বলেছেন, অপরাধীরা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করায় তদন্ত সংস্থাকেও নিয়মিত নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হচ্ছে।সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় সিআইডি আধুনিক সাইবার কল সেন্টার স্থাপন, ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, তদন্ত কর্মকর্তাদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের পরিকল্পনা নিয়েছে।

বিষয় : ভয়ংকর অনলাইন প্রতারণা ডিজিটাল প্রযুক্তি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


স্ক্রিনের আড়ালে ‘ভয়ংকর বহুরূপী’ ফাঁদ: অনলাইন প্রতারণায় সর্বস্বান্ত হাজারো মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

ডিজিটাল প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করেছে, কিন্তু সেই প্রযুক্তির আড়ালেই দ্রুত বিস্তার ঘটছে ভয়ংকর অনলাইন প্রতারণার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ এবং ভুয়া ওয়েবসাইট ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রতিদিন নতুন নতুন কৌশলে মানুষকে প্রতারণার জালে ফেলছে। লোভনীয় অফার, বিদেশে চাকরির প্রলোভন, অনলাইন বিনিয়োগ, রোমান্স স্ক্যাম এবং ফিশিং—সব মিলিয়ে সাইবার অপরাধ এখন দেশের অন্যতম বড় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রাপ্ত মোট সাইবার অভিযোগের মধ্যে ৪৫.৫২ শতাংশই অনলাইন প্রতারণা। অনলাইন হয়রানি ২৯.১৪ শতাংশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং ৬.১৪ শতাংশ। গত এক বছরে সাইবার পুলিশ সেন্টারে প্রায় ১১ হাজার ৫৭০টি অভিযোগ জমা পড়েছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।বর্তমানে সিআইডিতে ২৫৮টি মামলা, ৬৫১টি জিডি এবং ৭২০টি অভিযোগ তদন্তাধীন। একই সময়ে ডিএমপির ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ইউনিট তদন্ত করছে প্রায় ৩ হাজার ৭০০টি জিডি এবং প্রায় ৫০০টি মামলা। ডিবির ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন ভুক্তভোগী সরাসরি অভিযোগ দিচ্ছেন।

আরও  পড়ুন, অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য বড় সুখবর, আসছে ‘এক পদ, এক বেতন’

তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। আগের তুলনায় প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক প্রতারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রতারণা এবং সম্পর্ক তৈরি করে ব্ল্যাকমেইলের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।সম্প্রতি ডিবি একটি চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় চাকরির নামে ভুয়া ওয়েবসাইট, জাল ওয়ার্ক পারমিট, নকল ভিসা অনুমোদনপত্র এবং সরকারি ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি ভুয়া ভেরিফিকেশন পোর্টাল ব্যবহার করে অন্তত ৭২ জনের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।সিআইডি জানিয়েছে, তদন্তের বড় বাধা হচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম থেকে তথ্য সংগ্রহের দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া। মেটা, গুগল, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য পেতে সময় লাগে, যা অনেক ক্ষেত্রে তদন্তকে বিলম্বিত করে।ডিএমপির ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপকমিশনার খালেদা বেগম বলেছেন, অপরাধীরা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করায় তদন্ত সংস্থাকেও নিয়মিত নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হচ্ছে।সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় সিআইডি আধুনিক সাইবার কল সেন্টার স্থাপন, ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, তদন্ত কর্মকর্তাদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের পরিকল্পনা নিয়েছে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত