দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরায় চিকিৎসককে অপহরণ ‎করে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

সাতক্ষীরায় চিকিৎসককে অপহরণ ‎করে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
অপহরণ ‎করে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

সাতক্ষীরায় হাবিবুর রহমান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে শেখ মেহেদী হাসান নামে এক ব্যবসায়ীকে দোকান থেকে ডেকে নিয়ে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে আটকে রেখে মারধর, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে জোরপূর্বক সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ।‎মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর '২৬) সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলার বিনেরপোতা এলাকার শেখ রজব আলীর ছেলে শেখ মেহেদী হাসান এই অভিযোগ করেন।‎লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তিনি পেশায় একজন ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী পল্লী চিকিৎসক। চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি তিনি বিনেরপোতা মেঘনা মোড়ে ফ্লেক্সিলোড ও বিকাশের ব্যবসা করেন। দোকানে থাকা অবস্থায় গত ৮ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ৮ টার দিকে বিনেরপোতা গ্রামের মোহাম্মদ আলী চৌকিদারেরবিরুদ্ধে ছেলে‎হাবিবুর রহমান তাকে বাইরে ডেকে নেন। পরে মোটরসাইকেলে তুলে সাতক্ষীরা সিটি কলেজের সামনে রসুলপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যান। আগে থেকে ওই বাড়িতে ৭-৮ জন ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর হাবিবুর রহমানের নির্দেশে তাদের কয়েকজন তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে নেওয়া হয়। মানিব্যাগে প্রায় ১৩ হাজার ৮৭০ টাকা ছিল বলে জানান তিনি।‎মেহেদী হাসান আরো বলেন,  মারধরের সময় হাবিবুর রহমানের স্ত্রীকে পাঠানো একটি তালাকের চিঠির বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে ওই তালাকের বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, পোস্ট অফিসে কর্মরত তার ভাবি হাবিবুর রহমানের নামে একটি চিঠি আসার কথা জানালে তিনি শুধু হাবিবুরকে ফোন করে চিঠি আসার বিষয়টি জানিয়েছিলেন।

আরও  পড়ুন, বাসের ধাক্কায় নিহত শিক্ষিকা সড়ক অবরোধে শিক্ষার্থীরা

‎তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, ঘরে আটকে মারধর করার সময় তার বিকাশ ও নগদ হিসাবে থাকা প্রায় ৩৬ হাজার টাকা জোরপূর্বক উত্তোলন করে নেওয়া হয়। পরে আরও দুই দফায় ৭ হাজার ৪০০ টাকা নেয় তারা। পরে ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে তাকে ওই ঘর থেকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়।‎মেহেদী হাসান বলেন, মুক্তি পাওয়ার আশায় তিনি ফাস্ট লিং ওয়াই-ফাই অফিসের মালিক আক্তারের কাছে ৩০ হাজার টাকা ধার চান। পরে রাসেল নামে এক ব্যক্তি ওই অফিস থেকে ৩০ হাজার টাকা নগদ নিয়ে আসেন। এ সময় তার কাছে মাদকদ্রব্য রেখে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করা হয়। একই সাথে তার স্ত্রী চলে যাওয়ার জন্য আমিই দায়ী  এমন বক্তব্যও জোর করে ভিডিও ধারণ করা হয়।‎তিনি আরও বলেন, ৮ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে নিয়ে যাওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ছেড়ে দেওয়ার আগে ভয়ভীতি দেখিয়ে নন-জুডিশিয়াল ৫০ টাকার তিনটি সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করে নেওয়া হয়। এরপর থেকে হাবিবুর রহমান তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন এবং দোকানের কর্মচারীকেও এ বিষয়ে কথা না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।‎মেহেদী হাসান জানান, তাকে দোকান থেকে ডেকে নেওয়ার সময় মিজানুর রহমান, ফেরদৌসুর রহমান ও তার স্ত্রী মোছা. হোসনেয়ারা খাতুন উপস্থিত ছিলেন। তাদের অব্যাহত হুমকিধানকিতে বর্তমানে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।‎লিখিত বক্তব্যে তিনি তার ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি‎সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বিষয় : সহযোগী সংবাদ সম্মেলন অপহরণ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সাতক্ষীরায় চিকিৎসককে অপহরণ ‎করে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সাতক্ষীরায় হাবিবুর রহমান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে শেখ মেহেদী হাসান নামে এক ব্যবসায়ীকে দোকান থেকে ডেকে নিয়ে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে আটকে রেখে মারধর, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে জোরপূর্বক সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ।‎মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর '২৬) সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলার বিনেরপোতা এলাকার শেখ রজব আলীর ছেলে শেখ মেহেদী হাসান এই অভিযোগ করেন।‎লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তিনি পেশায় একজন ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী পল্লী চিকিৎসক। চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি তিনি বিনেরপোতা মেঘনা মোড়ে ফ্লেক্সিলোড ও বিকাশের ব্যবসা করেন। দোকানে থাকা অবস্থায় গত ৮ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ৮ টার দিকে বিনেরপোতা গ্রামের মোহাম্মদ আলী চৌকিদারেরবিরুদ্ধে ছেলে‎হাবিবুর রহমান তাকে বাইরে ডেকে নেন। পরে মোটরসাইকেলে তুলে সাতক্ষীরা সিটি কলেজের সামনে রসুলপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যান। আগে থেকে ওই বাড়িতে ৭-৮ জন ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর হাবিবুর রহমানের নির্দেশে তাদের কয়েকজন তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে নেওয়া হয়। মানিব্যাগে প্রায় ১৩ হাজার ৮৭০ টাকা ছিল বলে জানান তিনি।‎মেহেদী হাসান আরো বলেন,  মারধরের সময় হাবিবুর রহমানের স্ত্রীকে পাঠানো একটি তালাকের চিঠির বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে ওই তালাকের বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, পোস্ট অফিসে কর্মরত তার ভাবি হাবিবুর রহমানের নামে একটি চিঠি আসার কথা জানালে তিনি শুধু হাবিবুরকে ফোন করে চিঠি আসার বিষয়টি জানিয়েছিলেন।

আরও  পড়ুন, বাসের ধাক্কায় নিহত শিক্ষিকা সড়ক অবরোধে শিক্ষার্থীরা

‎তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, ঘরে আটকে মারধর করার সময় তার বিকাশ ও নগদ হিসাবে থাকা প্রায় ৩৬ হাজার টাকা জোরপূর্বক উত্তোলন করে নেওয়া হয়। পরে আরও দুই দফায় ৭ হাজার ৪০০ টাকা নেয় তারা। পরে ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে তাকে ওই ঘর থেকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়।‎মেহেদী হাসান বলেন, মুক্তি পাওয়ার আশায় তিনি ফাস্ট লিং ওয়াই-ফাই অফিসের মালিক আক্তারের কাছে ৩০ হাজার টাকা ধার চান। পরে রাসেল নামে এক ব্যক্তি ওই অফিস থেকে ৩০ হাজার টাকা নগদ নিয়ে আসেন। এ সময় তার কাছে মাদকদ্রব্য রেখে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করা হয়। একই সাথে তার স্ত্রী চলে যাওয়ার জন্য আমিই দায়ী  এমন বক্তব্যও জোর করে ভিডিও ধারণ করা হয়।‎তিনি আরও বলেন, ৮ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে নিয়ে যাওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ছেড়ে দেওয়ার আগে ভয়ভীতি দেখিয়ে নন-জুডিশিয়াল ৫০ টাকার তিনটি সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করে নেওয়া হয়। এরপর থেকে হাবিবুর রহমান তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন এবং দোকানের কর্মচারীকেও এ বিষয়ে কথা না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।‎মেহেদী হাসান জানান, তাকে দোকান থেকে ডেকে নেওয়ার সময় মিজানুর রহমান, ফেরদৌসুর রহমান ও তার স্ত্রী মোছা. হোসনেয়ারা খাতুন উপস্থিত ছিলেন। তাদের অব্যাহত হুমকিধানকিতে বর্তমানে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।‎লিখিত বক্তব্যে তিনি তার ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি‎সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সাতক্ষীরায় চিকিৎসককে অপহরণ ‎করে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
0:00 0:00
1.0x