দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

ঝুঁকি বাড়ছে ব্যাংকে সামনে তিন বড় চ্যালেঞ্জ

ঝুঁকি বাড়ছে ব্যাংকে সামনে তিন বড় চ্যালেঞ্জ
কিন্তু অর্থনীতির ধমনি হিসেবে বিবেচিত ব্যাংক খাতের অবস্থা মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়।

সমস্যায় জর্জরিত অর্থনীতিসহ দেশের দায়িত্ব নিয়েছে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার। কিন্তু অর্থনীতির ধমনি হিসেবে বিবেচিত ব্যাংক খাতের অবস্থা মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। প্রায় সাড়ে ছয় লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ, ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার ও বিশৃঙ্খল ব্যাংক খাত আড়চোখে তাকাচ্ছে সরকারের দিকে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, খেলাপি ঋণ আদায় ও অর্থপাচার বন্ধ করে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরানোই হবে নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘ সময় ধরে অনিয়ম, দুর্বল তদারকি ও অপরিকল্পিত ঋণ বিতরণের ফলে খাতটি চাপে পড়েছে। এখন টেকসই পুনরুদ্ধারের জন্য কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া বিকল্প নেই বলে মনে করেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান।

তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের ক্ষত চিহ্নিত করার জন্য নতুন করে কমিটি (টাস্কফোর্স) গঠন করা উচিত। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ নিয়ে আলাদা করে চিন্তা করতে হবে বলে মনে করেন এই ব্যাংকার। কারণ নামে-বেনামে যাচাই-বাছাই ছাড়া ঋণ বিতরণের ফলে যে পরিমাণ ঋণ খেলাপি হয়েছে, বিশেষ কোনো উদ্যোগ না নিলে বা শক্ত হাতে ব্যবস্থাপনা করতে না পারলে ব্যাংকিং খাত আরো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর-ভিত্তিক তথ্য বলছে, দেশের ব্যাংকগুলো যত টাকা ঋণ দিয়েছে, তার এক-তৃতীয়াংশের বেশি এখন খেলাপি। মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ কোটি টাকা। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতের বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ তিন হাজার ৮৪০ কোটি টাকা; যার ৩৫.৭৩ শতাংশ এখন খেলাপি।

আরো পড়ুন , সিয়াম সাধনার মাসে দাম বাড়িয়ে মুনাফা লুটের অভিযোগ

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কম করে দেখানোর যে প্রবণতা ছিল, তা এখন হচ্ছে না। ফলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র উঠে আসছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠিত হওয়ার সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা।

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ব্যাংক খাত ছিল অন্যতম ভুক্তভোগী। সুশাসনের অভাব এতটাই যে, স্বাধীনতার পর গত ৫৩ বছরে এ দেশের ব্যাংকিং খাত এত বেশি সমস্যার মুখোমুখি আর কখনো হয়নি।তাই অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা আনার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘শৃঙ্খলা এলে আর ভুয়া ঋণ বিতরণ হবে না। হুন্ডি বন্ধ হবে। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ বাড়বে। ব্যাংকে সুশাসন ফিরলে খেলাপি ঋণও কমবে। এটা ব্যাংক খাতের ক্যান্সারের মতো। খেলাপি ঋণের সমস্যা সমাধানের কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে সরকারকে মূল্যস্ফীতি হ্রাস করতে এবং রাজস্ব বাড়াতে হবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, সুশাসন ফেরাতে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৪টি ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ছয়টি ব্যাংক মার্জ করা হয়েছে। সাড়ে ৫২ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অধ্যাদেশের মাধ্যমে একাধিক আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। তারপরও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি ব্যাংক খাত।

বিষয় : চ্যালেঞ্জ ব্যাংক স্বস্তিদায়ক

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


ঝুঁকি বাড়ছে ব্যাংকে সামনে তিন বড় চ্যালেঞ্জ

প্রকাশের তারিখ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

সমস্যায় জর্জরিত অর্থনীতিসহ দেশের দায়িত্ব নিয়েছে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার। কিন্তু অর্থনীতির ধমনি হিসেবে বিবেচিত ব্যাংক খাতের অবস্থা মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। প্রায় সাড়ে ছয় লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ, ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার ও বিশৃঙ্খল ব্যাংক খাত আড়চোখে তাকাচ্ছে সরকারের দিকে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, খেলাপি ঋণ আদায় ও অর্থপাচার বন্ধ করে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরানোই হবে নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘ সময় ধরে অনিয়ম, দুর্বল তদারকি ও অপরিকল্পিত ঋণ বিতরণের ফলে খাতটি চাপে পড়েছে। এখন টেকসই পুনরুদ্ধারের জন্য কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া বিকল্প নেই বলে মনে করেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান।

তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের ক্ষত চিহ্নিত করার জন্য নতুন করে কমিটি (টাস্কফোর্স) গঠন করা উচিত। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ নিয়ে আলাদা করে চিন্তা করতে হবে বলে মনে করেন এই ব্যাংকার। কারণ নামে-বেনামে যাচাই-বাছাই ছাড়া ঋণ বিতরণের ফলে যে পরিমাণ ঋণ খেলাপি হয়েছে, বিশেষ কোনো উদ্যোগ না নিলে বা শক্ত হাতে ব্যবস্থাপনা করতে না পারলে ব্যাংকিং খাত আরো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর-ভিত্তিক তথ্য বলছে, দেশের ব্যাংকগুলো যত টাকা ঋণ দিয়েছে, তার এক-তৃতীয়াংশের বেশি এখন খেলাপি। মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ কোটি টাকা। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতের বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ তিন হাজার ৮৪০ কোটি টাকা; যার ৩৫.৭৩ শতাংশ এখন খেলাপি।


আরো পড়ুন , সিয়াম সাধনার মাসে দাম বাড়িয়ে মুনাফা লুটের অভিযোগ


ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কম করে দেখানোর যে প্রবণতা ছিল, তা এখন হচ্ছে না। ফলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র উঠে আসছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠিত হওয়ার সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা।

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ব্যাংক খাত ছিল অন্যতম ভুক্তভোগী। সুশাসনের অভাব এতটাই যে, স্বাধীনতার পর গত ৫৩ বছরে এ দেশের ব্যাংকিং খাত এত বেশি সমস্যার মুখোমুখি আর কখনো হয়নি।তাই অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা আনার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘শৃঙ্খলা এলে আর ভুয়া ঋণ বিতরণ হবে না। হুন্ডি বন্ধ হবে। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ বাড়বে। ব্যাংকে সুশাসন ফিরলে খেলাপি ঋণও কমবে। এটা ব্যাংক খাতের ক্যান্সারের মতো। খেলাপি ঋণের সমস্যা সমাধানের কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে সরকারকে মূল্যস্ফীতি হ্রাস করতে এবং রাজস্ব বাড়াতে হবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, সুশাসন ফেরাতে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৪টি ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ছয়টি ব্যাংক মার্জ করা হয়েছে। সাড়ে ৫২ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অধ্যাদেশের মাধ্যমে একাধিক আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। তারপরও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি ব্যাংক খাত।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত