দেশে এখনো গভীর ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন, আমরা যদি ১২ তারিখের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারি, তবে ১৩ তারিখ থেকেই দেশে জনগণের শাসন কায়েম হবে।” দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে মঞ্চে উঠে উপস্থিত জনতাকে শুভেচ্ছা জানান তারেক রহমান। বিকেল ৩টা ২১ মিনিটে শুরু করা প্রায় ২৪ মিনিটের বক্তব্যে তিনি ফরিদপুরের উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, আগামীতে জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে স্থানীয় নেতাদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে ফরিদপুরকে বিভাগ ঘোষণা এবং একটি আধুনিক সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করা হবে।”
গত ১৭ বছরের শাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ সময় দেশে ছিলাম না। শুনেছিলাম অনেক উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে এসে দেখলাম উন্নয়নের নামে কেবল লুটপাট চলেছে। এখন সময় এসেছে আপনাদের ছিনিয়ে নেওয়া অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান এবং নারীদের ক্ষমতায়ন আমাদের অগ্রাধিকার।” তিনি মাধ্যমিক পর্যন্ত নারী শিক্ষা অবৈতনিক করার ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।
বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল তথাকথিত ‘গুপ্ত দল’ ও তাদের নেতাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা। তারেক রহমান অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ ইসলামের রাজনীতির কথা বললেও নারীদের নিয়ে কলঙ্কিত ও অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করছে। যাদের মা-বোনদের প্রতি সম্মান নেই, তাদের কাছে দেশের অগ্রগতি আশা করা যায় না।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন ওই দলের নৈতিকতা নিয়ে। বলেন, তারা মানুষের বিকাশ নম্বর ও এনআইডি চাচ্ছে, যা অনৈতিক। যারা শুরুই করে অনৈতিকতা দিয়ে, তারা কীভাবে সৎ লোকের শাসন কায়েম করবে?”
আরও পড়ুন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক রেজাউল করিমের পক্ষে পিরোজপুরে নির্বাচনী প্রচারণা
জুলাই বিপ্লবে শহীদ ও আহতদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদদের রক্ত আর গুম-খুনের শিকার পরিবারগুলোর প্রত্যাশা ছিল একটি জবাবদিহিমূলক সরকার। ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে।” দেশ পুনর্গঠনে নতুন স্কুল-কলেজ, কলকারখানা স্থাপন, নদী খনন এবং কৃষকদের জন্য হিমাগার তৈরির মহাপরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোদারেরছ আলী ইছার সভাপতিত্বে এই জনসভায় ফরিদপুরের ১৫টি সংসদীয় আসনের দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, খন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুক, চৌধুরী নায়াব ইউসুফসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
বিষয় : তারেক রহমান

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশে এখনো গভীর ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন, আমরা যদি ১২ তারিখের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারি, তবে ১৩ তারিখ থেকেই দেশে জনগণের শাসন কায়েম হবে।” দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে মঞ্চে উঠে উপস্থিত জনতাকে শুভেচ্ছা জানান তারেক রহমান। বিকেল ৩টা ২১ মিনিটে শুরু করা প্রায় ২৪ মিনিটের বক্তব্যে তিনি ফরিদপুরের উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, আগামীতে জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে স্থানীয় নেতাদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে ফরিদপুরকে বিভাগ ঘোষণা এবং একটি আধুনিক সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করা হবে।”
গত ১৭ বছরের শাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ সময় দেশে ছিলাম না। শুনেছিলাম অনেক উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে এসে দেখলাম উন্নয়নের নামে কেবল লুটপাট চলেছে। এখন সময় এসেছে আপনাদের ছিনিয়ে নেওয়া অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান এবং নারীদের ক্ষমতায়ন আমাদের অগ্রাধিকার।” তিনি মাধ্যমিক পর্যন্ত নারী শিক্ষা অবৈতনিক করার ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।
বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল তথাকথিত ‘গুপ্ত দল’ ও তাদের নেতাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা। তারেক রহমান অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ ইসলামের রাজনীতির কথা বললেও নারীদের নিয়ে কলঙ্কিত ও অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করছে। যাদের মা-বোনদের প্রতি সম্মান নেই, তাদের কাছে দেশের অগ্রগতি আশা করা যায় না।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন ওই দলের নৈতিকতা নিয়ে। বলেন, তারা মানুষের বিকাশ নম্বর ও এনআইডি চাচ্ছে, যা অনৈতিক। যারা শুরুই করে অনৈতিকতা দিয়ে, তারা কীভাবে সৎ লোকের শাসন কায়েম করবে?”
আরও পড়ুন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক রেজাউল করিমের পক্ষে পিরোজপুরে নির্বাচনী প্রচারণা
জুলাই বিপ্লবে শহীদ ও আহতদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদদের রক্ত আর গুম-খুনের শিকার পরিবারগুলোর প্রত্যাশা ছিল একটি জবাবদিহিমূলক সরকার। ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে।” দেশ পুনর্গঠনে নতুন স্কুল-কলেজ, কলকারখানা স্থাপন, নদী খনন এবং কৃষকদের জন্য হিমাগার তৈরির মহাপরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোদারেরছ আলী ইছার সভাপতিত্বে এই জনসভায় ফরিদপুরের ১৫টি সংসদীয় আসনের দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, খন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুক, চৌধুরী নায়াব ইউসুফসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন