“অভিজাত এলাকা গুলশানে অবৈধ স্পা সেন্টারের
বিস্তার শুধু আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতার গল্প নয়, এটি
একটি গভীর সামাজিক ও প্রশাসনিক সংকেত
যেখানে অপরাধীরা প্রকাশ্যে আইনকে
চ্যালেঞ্জ করছে”
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান। কূটনৈতিক জোন, বিদেশি নাগরিক, করপোরেট অফিস আর উচ্চবিত্ত আবাসনের জন্য পরিচিত এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ স্পা সেন্টার ব্যবসা একটি ওপেন সিক্রেট। মাঝে মাঝে পুলিশের অভিযান, গণমাধ্যমে প্রতিবেদন আর প্রশাসনিক তৎপরতায় সাময়িকভাবে এসব স্পা সেন্টার বন্ধ থাকলেও কিছুদিন পরই আবারো নতুন নামে, নতুন কৌশলে এবং আরও সংগঠিতভাবে ফিরছে পুরনো চক্র।
সাম্প্রতিক সময়ে গুলশান থানার আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের একাধিক অভিযানে কয়েকটি অবৈধ স্পা সেন্টার বন্ধ করা হলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই নিয়ন্ত্রণ খুবই সাময়িক। অভিযানের পরপরই মালিকপক্ষ ম্যানেজ করে আবারও টুকিটাকি ব্যবসা চালু করেছে। যদিও আগের মতো পূর্ণমাত্রায় নয়, তবে বিকেল থেকে রাত ৪-৫ টা পর্যন্ত গোপনে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে নিয়মিত। তবে একাধিক স্পা সেন্টারের মালিক বা ব্যবস্থাপক সরাসরি স্বীকার করেছেন, পুলিশের অভিযানে তারা সাময়িক সমস্যায় পড়লেও পুরোপুরি থেমে যাননি।
একজন স্পা সেন্টারের মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভাই, কিছুদিন ঝামেলা ছিল, তবে সেটি ম্যানেজ করে আমরা আবার টুকিটাকি চালু করেছি। পুরো দিন চালাই না। বিকেল থেকে ৪-৫ টা পর্যন্ত কোন মতে ব্যবসা চলে, পরে বন্ধ করে দিতে হয়। আরেকজন আরও স্পষ্ট ভাষায় বলেন, গুলশানের স্পা সেন্টার ব্যবসা নতুন না, এটা বহু পুরনো। এসব বন্ধ করতে কেউ পারবে না। কারণ আমরা পুলিশের চেয়ে কম চালাক না। এই বক্তব্যই স্পষ্ট করে দেয় অবৈধ হলেও এই ব্যবসা পরিচালনাকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেয়েও নিজেদের বেশি শক্তিশালী ও নিরাপদ মনে করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গুলশানের অবৈধ স্পা সেন্টারগুলো শুধু একটি দোকান বা রুমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শক্তিশালী দালাল ও পাহারাদার নেটওয়ার্ক। এই আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার কারণেই অধিকাংশ অভিযানে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে না মূল হোতারা। ধরা পড়ে কখনো কখনো নিম্নস্তরের কর্মচারী, যারা পরে জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। গুলশানের অবৈধ স্পা সেন্টার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে কয়েকটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই সিন্ডিকেটগুলো দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকায় ব্যবসা করে আসছে। কখনো স্পা, কখনো ম্যাসাজ সেন্টার, কখনো আবার বিউটি কেয়ার বা ওয়েলনেস সেন্টারের নাম ব্যবহার করে তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। একজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বলেন, এখানে ২-৩ টা নয়, বড় রাঘব বোয়াল আছে। তারা সামনে আসে না। সব কিছু চলে ম্যানেজার আর দালাল দিয়ে। এই সিন্ডিকেটগুলোর কয়েকজনের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে। কিন্তু মামলা থাকলেও কার্যকর শাস্তির নজির খুবই কম। ফলে এসব সিন্ডিকেট এখন আর তেমন ভয় পায় না। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, গুলশানে অবৈধ স্পা সেন্টার নিয়ে আগেও একাধিক মামলা হয়েছে। কিন্তু তদন্ত, চার্জশিট ও বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় আসামিরা সহজেই বেরিয়ে আসে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, মাঝে মাঝে পুলিশ অভিযান করে, তখন দুই-চারদিন শান্ত থাকে। তারপর আবার আগের মতো সব শুরু হয়। আমরা জানি কোন বিল্ডিংয়ে কী হচ্ছে, কিন্তু কেউ কিছু করতে পারে না। গুলশানের মতো অভিজাত এলাকায় অবৈধ স্পা সেন্টারের বিস্তার শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, এটি সামাজিক ও নৈতিক সংকটও বটে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব স্পা সেন্টারের আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ, মানবপাচার, নারী নির্যাতন ও মাদক লেনদেনের অভিযোগ ওঠে।
আরও পড়ুন, মব সন্ত্রাসে চ্যালেঞ্জের মুখে পুলিশ
এদিকে একজন মানবাধিকার কর্মী বলেন, এই ধরনের অবৈধ ব্যবসা শুধু অনৈতিক নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নারীর শোষণ। কিন্তু আমরা যখন প্রতিবাদ করি, তখন বলা হয় এটা বন্ধ করা সম্ভব না। পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযানের কথা বলা হলেও বাস্তবে কেন এই ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না এমটাই প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, অভিযান হলে তা ধারাবাহিক হতে হবে। একবার অভিযান করে ছেড়ে দিলে হবে না। পাশাপাশি সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। স্পা সেন্টার মালিকদের মুখে আমরা পুলিশের চেয়ে চালাক এই বক্তব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন অপরাধীরা প্রকাশ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তুচ্ছ করে কথা বলে, তখন বুঝতে হবে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব দুর্বল হচ্ছে। এটি শুধু গুলশানের সমস্যা নয়, বরং রাজধানীজুড়ে অবৈধ ব্যবসা ও সিন্ডিকেট সংস্কৃতির প্রতিফলন। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক নজরদারি ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন উঠেছে। কেন বারবার একই এলাকায় একই ধরনের অবৈধ ব্যবসা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে সে প্রশ্নের সুস্পষ্ট জবাব মিলছে না।
এই প্রতিবেদনের অনুসন্ধানে গুলশানের অবৈধ স্পা সেন্টার সিন্ডিকেটের কয়েকজন প্রভাবশালী হোতার নাম, সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অনুসন্ধানের স্বার্থে এবং আরও তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনে এসব নাম এই মুহূর্তে প্রকাশ করা হচ্ছে না। পরবর্তী সংখ্যায় ওই সিন্ডিকেটের নাম, অবস্থান এবং মামলার বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
গুলশানের অবৈধ স্পা সেন্টার ব্যবসা প্রমাণ করে একটি অপরাধ যখন সিন্ডিকেটে পরিণত হয়, তখন তা বন্ধ করা সহজ নয়। পুলিশের অভিযান, প্রশাসনিক তৎপরতা ও গণমাধ্যমের নজরদারি একসঙ্গে না থাকলে এই ধরনের অবৈধ ব্যবসা বারবার মাথাচাড়া দেবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন ধারাবাহিক কঠোরতা, সিন্ডিকেট ভাঙার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সদিচ্ছা এবং দায়বদ্ধতা। নইলে গুলশানের মতো অভিজাত এলাকায় অবৈধ স্পা সেন্টারের এই বেপরোয়া বিস্তার থামানো যাবে না।
বিষয় : অভিযান অবৈধ গুলশান স্পা সেন্টার

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬
“অভিজাত এলাকা গুলশানে অবৈধ স্পা সেন্টারের
বিস্তার শুধু আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতার গল্প নয়, এটি
একটি গভীর সামাজিক ও প্রশাসনিক সংকেত
যেখানে অপরাধীরা প্রকাশ্যে আইনকে
চ্যালেঞ্জ করছে”
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান। কূটনৈতিক জোন, বিদেশি নাগরিক, করপোরেট অফিস আর উচ্চবিত্ত আবাসনের জন্য পরিচিত এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ স্পা সেন্টার ব্যবসা একটি ওপেন সিক্রেট। মাঝে মাঝে পুলিশের অভিযান, গণমাধ্যমে প্রতিবেদন আর প্রশাসনিক তৎপরতায় সাময়িকভাবে এসব স্পা সেন্টার বন্ধ থাকলেও কিছুদিন পরই আবারো নতুন নামে, নতুন কৌশলে এবং আরও সংগঠিতভাবে ফিরছে পুরনো চক্র।
সাম্প্রতিক সময়ে গুলশান থানার আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের একাধিক অভিযানে কয়েকটি অবৈধ স্পা সেন্টার বন্ধ করা হলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই নিয়ন্ত্রণ খুবই সাময়িক। অভিযানের পরপরই মালিকপক্ষ ম্যানেজ করে আবারও টুকিটাকি ব্যবসা চালু করেছে। যদিও আগের মতো পূর্ণমাত্রায় নয়, তবে বিকেল থেকে রাত ৪-৫ টা পর্যন্ত গোপনে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে নিয়মিত। তবে একাধিক স্পা সেন্টারের মালিক বা ব্যবস্থাপক সরাসরি স্বীকার করেছেন, পুলিশের অভিযানে তারা সাময়িক সমস্যায় পড়লেও পুরোপুরি থেমে যাননি।
একজন স্পা সেন্টারের মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভাই, কিছুদিন ঝামেলা ছিল, তবে সেটি ম্যানেজ করে আমরা আবার টুকিটাকি চালু করেছি। পুরো দিন চালাই না। বিকেল থেকে ৪-৫ টা পর্যন্ত কোন মতে ব্যবসা চলে, পরে বন্ধ করে দিতে হয়। আরেকজন আরও স্পষ্ট ভাষায় বলেন, গুলশানের স্পা সেন্টার ব্যবসা নতুন না, এটা বহু পুরনো। এসব বন্ধ করতে কেউ পারবে না। কারণ আমরা পুলিশের চেয়ে কম চালাক না। এই বক্তব্যই স্পষ্ট করে দেয় অবৈধ হলেও এই ব্যবসা পরিচালনাকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেয়েও নিজেদের বেশি শক্তিশালী ও নিরাপদ মনে করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গুলশানের অবৈধ স্পা সেন্টারগুলো শুধু একটি দোকান বা রুমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শক্তিশালী দালাল ও পাহারাদার নেটওয়ার্ক। এই আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার কারণেই অধিকাংশ অভিযানে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে না মূল হোতারা। ধরা পড়ে কখনো কখনো নিম্নস্তরের কর্মচারী, যারা পরে জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। গুলশানের অবৈধ স্পা সেন্টার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে কয়েকটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই সিন্ডিকেটগুলো দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকায় ব্যবসা করে আসছে। কখনো স্পা, কখনো ম্যাসাজ সেন্টার, কখনো আবার বিউটি কেয়ার বা ওয়েলনেস সেন্টারের নাম ব্যবহার করে তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। একজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বলেন, এখানে ২-৩ টা নয়, বড় রাঘব বোয়াল আছে। তারা সামনে আসে না। সব কিছু চলে ম্যানেজার আর দালাল দিয়ে। এই সিন্ডিকেটগুলোর কয়েকজনের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে। কিন্তু মামলা থাকলেও কার্যকর শাস্তির নজির খুবই কম। ফলে এসব সিন্ডিকেট এখন আর তেমন ভয় পায় না। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, গুলশানে অবৈধ স্পা সেন্টার নিয়ে আগেও একাধিক মামলা হয়েছে। কিন্তু তদন্ত, চার্জশিট ও বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় আসামিরা সহজেই বেরিয়ে আসে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, মাঝে মাঝে পুলিশ অভিযান করে, তখন দুই-চারদিন শান্ত থাকে। তারপর আবার আগের মতো সব শুরু হয়। আমরা জানি কোন বিল্ডিংয়ে কী হচ্ছে, কিন্তু কেউ কিছু করতে পারে না। গুলশানের মতো অভিজাত এলাকায় অবৈধ স্পা সেন্টারের বিস্তার শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, এটি সামাজিক ও নৈতিক সংকটও বটে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব স্পা সেন্টারের আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ, মানবপাচার, নারী নির্যাতন ও মাদক লেনদেনের অভিযোগ ওঠে।
আরও পড়ুন, মব সন্ত্রাসে চ্যালেঞ্জের মুখে পুলিশ
এদিকে একজন মানবাধিকার কর্মী বলেন, এই ধরনের অবৈধ ব্যবসা শুধু অনৈতিক নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নারীর শোষণ। কিন্তু আমরা যখন প্রতিবাদ করি, তখন বলা হয় এটা বন্ধ করা সম্ভব না। পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযানের কথা বলা হলেও বাস্তবে কেন এই ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না এমটাই প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, অভিযান হলে তা ধারাবাহিক হতে হবে। একবার অভিযান করে ছেড়ে দিলে হবে না। পাশাপাশি সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। স্পা সেন্টার মালিকদের মুখে আমরা পুলিশের চেয়ে চালাক এই বক্তব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন অপরাধীরা প্রকাশ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তুচ্ছ করে কথা বলে, তখন বুঝতে হবে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব দুর্বল হচ্ছে। এটি শুধু গুলশানের সমস্যা নয়, বরং রাজধানীজুড়ে অবৈধ ব্যবসা ও সিন্ডিকেট সংস্কৃতির প্রতিফলন। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক নজরদারি ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন উঠেছে। কেন বারবার একই এলাকায় একই ধরনের অবৈধ ব্যবসা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে সে প্রশ্নের সুস্পষ্ট জবাব মিলছে না।
এই প্রতিবেদনের অনুসন্ধানে গুলশানের অবৈধ স্পা সেন্টার সিন্ডিকেটের কয়েকজন প্রভাবশালী হোতার নাম, সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অনুসন্ধানের স্বার্থে এবং আরও তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনে এসব নাম এই মুহূর্তে প্রকাশ করা হচ্ছে না। পরবর্তী সংখ্যায় ওই সিন্ডিকেটের নাম, অবস্থান এবং মামলার বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
গুলশানের অবৈধ স্পা সেন্টার ব্যবসা প্রমাণ করে একটি অপরাধ যখন সিন্ডিকেটে পরিণত হয়, তখন তা বন্ধ করা সহজ নয়। পুলিশের অভিযান, প্রশাসনিক তৎপরতা ও গণমাধ্যমের নজরদারি একসঙ্গে না থাকলে এই ধরনের অবৈধ ব্যবসা বারবার মাথাচাড়া দেবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন ধারাবাহিক কঠোরতা, সিন্ডিকেট ভাঙার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সদিচ্ছা এবং দায়বদ্ধতা। নইলে গুলশানের মতো অভিজাত এলাকায় অবৈধ স্পা সেন্টারের এই বেপরোয়া বিস্তার থামানো যাবে না।

আপনার মতামত লিখুন