জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আবুল কাশেম ফেনী-৩ আসনে নির্বাচন করবেন বলে দলীয় মনোনয়ন দিলেও তিনি সোমবার বিকেল পর্যন্ত কোনো মনোনয়নপত্র জমা দেন নাই। গত রবিবার তার ফেসবুক আইডিতে এনসিপির সকল পদ ও সংসদ সদস্য প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ালেন আবুল কাশেম। তিনি সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে তার নিজের ফেসবুক আইডিতে ঘোষণা দিয়ে এ কথা জানান।
তিনি ফেসবুক আইডিতে উল্লেখ করেন, নীতিগত কারণে এনসিপি থেকে পদত্যাগ ও নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ফেনী-৩ আসনের প্রিয় এলাকাবাসী, আমার সালাম গ্রহণ করবেন। আমি আজ আপনাদের জানাতে চাই, আমি জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি না এবং একইসঙ্গে এই দল থেকে পদত্যাগ করেছি।
আরও পড়ুন, গফরগাঁওয়ে রেললাইন উপড়ে ফেলা, ১৪ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
আবুল কাশেম আরো উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্তটি আমি ব্যক্তিগত ও নীতিগত বিবেচনায় গ্রহণ করেছি। সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপি যে রাজনৈতিক সমঝোতায় যুক্ত হয়েছে, তা আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সে কারণেই পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আমি দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ নয় এবং কোনো ধরনের দ্বন্দ্বের ফলও নয়। মতাদর্শগত ভিন্নতার কারণে আলাদা হওয়াকেই আমি সঠিক ও দায়িত্বশীল পথ বলে মনে করেছি। আমি আপনাদেরই একজন—আপনাদের ভাই, বন্ধু এবং এই এলাকারই সন্তান। এতদিন যারা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন এবং আগ্রহ প্রকাশ করেছেন—সবার প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।
আরও পড়ুন, খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে তারেক রহমান
তিনি আরো বলেন, একইসঙ্গে অনিচ্ছাকৃতভাবে যদি কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকি বা কেউ যদি আমার ওপর মনোক্ষুণ্ন হয়ে থাকেন, তাদের সবার প্রতি আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। সবার প্রতি অনুরোধ থাকবে, আপনারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করবেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে আবুল কাশেম কালের কণ্ঠকে জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টির বর্তমান অবস্থান আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সঙ্গে মানানসই নয়। এই কারণে নিজের অবস্থান থেকে আমি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থিতা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির সব পদ-পদবি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির ফেনী জেলার সদস্য সচিব শাহ ওয়ালি উল্লাহ মানিক কালের কণ্ঠকে জানান, বিষয়টি আমি অবগত নই। তাছাড়া আমরা তার লিখিত কোনো পদত্যাগপত্র এখন পর্যন্ত হাতে পাইনি। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
আপনার মতামত লিখুন