দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : বুধবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬

ঢাকা-১৫ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের শঙ্কা

স্থানীয় প্রভাব বনাম জাতীয় পরিচিতি—মিল্টন না শফিকুর, কার দিকে ঝুঁকছে ভোট

স্থানীয় প্রভাব বনাম জাতীয় পরিচিতি—মিল্টন না শফিকুর, কার দিকে ঝুঁকছে ভোট
স্থানীয় প্রভাব বনাম জাতীয় পরিচিতি

রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত নির্বাচনী আসন ঢাকা-১৫। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই আসনে ভোটের মাঠে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান—এই দুই প্রার্থীর মধ্যে মূল লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শেষ পর্যন্ত কার দিকে যাবে জনগণের রায়—তা নিয়ে চলছে নানামুখী হিসাব-নিকাশ।সরজমিনে দেখা গেছে, অন্যান্য আসনের মতো ঢাকা-১৫ আসনেও নির্বাচনী আবহ ক্রমেই গাঢ় হচ্ছে। প্রার্থীরা নিয়মিত গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চায়ের দোকান, অলিগলি, বাজার কিংবা আবাসিক এলাকাগুলোতে এখন একটাই আলোচনা কে জিতবে ঢাকা-১৫?

জাতীয় দৈনিক সংবাদ দিগন্ত ,এর  একটি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এ আসনের প্রায় ৭৩ শতাংশ ভোটার মনে করছেন বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এগিয়ে রয়েছেন। অপরদিকে, ২২ শতাংশ ভোটারের মতে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান ভোটের দৌড়ে এগিয়ে। তবে উভয় পক্ষেরই শক্ত অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আশঙ্কা করছেন অধিকাংশ ভোটার।আসনের রাজনৈতিক বাস্তবতা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪, ১৩, ১৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৫ আসনটি আগারগাঁও, তালতলা, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, কাফরুল ও মিরপুরের অংশবিশেষ নিয়ে বিস্তৃত। দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমীর প্রার্থী হতে পারেন এমন ধারণায় অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয় দলটি।

অন্যদিকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তবে স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকায় এলাকাবাসীর কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি একজন পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন।শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মনিপুর, পীরেরবাগসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভোটার ও প্রচারকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই প্রার্থীর প্রচারণা কৌশলে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। ডা. শফিকুর রহমান তার জাতীয় পরিচিতি ও জামায়াতের সুসংগঠিত দলীয় কাঠামোর ওপর ভর করে এগোচ্ছেন। বিপরীতে মিল্টনের মূল শক্তি হিসেবে কাজ করছে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, নিয়মিত উপস্থিতি এবং মাঠপর্যায়ের সরব তৎপরতা।চ্যালেঞ্জ থেকে মুক্ত নন কেউই। ডা. শফিকুর রহমান এর আগে ঢাকা ও সিলেটের বিভিন্ন আসন থেকে চারবার জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিলেও জয় পাননি। অন্যদিকে মিল্টনের সামনে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এসব সমস্যা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।এই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন মামুন হাসানসহ একাধিক নেতা। নির্বাচনে তারা কতটা সক্রিয়ভাবে মিল্টনের পক্ষে কাজ করবেন—তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তবে দলীয় সূত্র বলছে, মামুন হাসান শিগগিরই মিল্টনের পক্ষে প্রচারণায় নামবেন, যা ভোটের সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।ভোটার ও প্রার্থীর প্রোফাইল নির্বাচন কমিশনের হলফনামা অনুযায়ী, ৬৭ বছর বয়সী ডা. শফিকুর রহমান পেশায় চিকিৎসক। অন্যদিকে ৫৬ বছর বয়সী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

আরও পড়ুন, নির্বাচনী মাঠে দলীয় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন ডিসি-এসপিরা : জামায়াত

ঢাকা-১৫ আসনে মোট নিবন্ধিত ভোটার ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৫০৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭০০ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮০৬ জন। নারী-পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ, প্রথমবারের ভোটার, পোশাক শ্রমিক ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর বসবাস এই আসনে ভোটের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছেন কাজীপাড়ার নাজমুল হক। তিনি বলেন, আগে ভোট দিতে পারিনি। এবার ভোট দেবো। তাই ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্ত নিতে চাই।তরুণ ভোটার শারমিন সুমি বলেন, ুকোনো দল করি না। সুষ্ঠু ভোট হলে কাজকর্ম দেখে ভোট দেবো।অনলাইন ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা অনলাইন প্রচারণাতেও দুই পক্ষ সক্রিয়। মিল্টনের টিম গান, রিলস ও ফটোকার্ডের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াত ডিজিটাল কৌশলে সংগঠিত বার্তা ছড়িয়ে নিজেদের সমর্থনের পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করছে।আয়ের ক্ষেত্রেও দুই প্রার্থীর মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। ডা. শফিকুর রহমানের বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা, আর মিল্টনের ঘোষিত আয় ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। স্থায়ী ঠিকানার দিক থেকেও মিল্টন জন্ম ও বেড়ে ওঠায় মিরপুরের সন্তান, যা স্থানীয়ভাবে তাকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

মামলা ও অতীত অভিজ্ঞতা

মামলা সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়, ডা. শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে করা ৩৪টি মামলার মধ্যে ৩২টিতে তিনি খালাস পেয়েছেন এবং দু’টিতে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ রয়েছে। অপরদিকে মিল্টনের বিরুদ্ধে ৫০টি মামলার কথা উল্লেখ থাকলেও অধিকাংশই খালাস ও অব্যাহতির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল ইসলামের ভাষায়, এবার মানুষ ভোট দিতে মুখিয়ে আছে। তাই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না কে জিতবে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা-১৫ আসনে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা, ভোটার উপস্থিতি এবং তরুণদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করবে।সব মিলিয়ে ঢাকা-১৫ আসনে ভোটের মাঠ এখন উন্মুক্ত। স্থানীয় জনপ্রিয়তা বনাম জাতীয় পরিচিতির এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় কার—তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোটের দিন পর্যন্ত।

বিষয় : ভোট লড়াই

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


স্থানীয় প্রভাব বনাম জাতীয় পরিচিতি—মিল্টন না শফিকুর, কার দিকে ঝুঁকছে ভোট

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত নির্বাচনী আসন ঢাকা-১৫। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই আসনে ভোটের মাঠে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান—এই দুই প্রার্থীর মধ্যে মূল লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শেষ পর্যন্ত কার দিকে যাবে জনগণের রায়—তা নিয়ে চলছে নানামুখী হিসাব-নিকাশ।সরজমিনে দেখা গেছে, অন্যান্য আসনের মতো ঢাকা-১৫ আসনেও নির্বাচনী আবহ ক্রমেই গাঢ় হচ্ছে। প্রার্থীরা নিয়মিত গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চায়ের দোকান, অলিগলি, বাজার কিংবা আবাসিক এলাকাগুলোতে এখন একটাই আলোচনা কে জিতবে ঢাকা-১৫?

জাতীয় দৈনিক সংবাদ দিগন্ত ,এর  একটি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এ আসনের প্রায় ৭৩ শতাংশ ভোটার মনে করছেন বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এগিয়ে রয়েছেন। অপরদিকে, ২২ শতাংশ ভোটারের মতে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান ভোটের দৌড়ে এগিয়ে। তবে উভয় পক্ষেরই শক্ত অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আশঙ্কা করছেন অধিকাংশ ভোটার।আসনের রাজনৈতিক বাস্তবতা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪, ১৩, ১৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৫ আসনটি আগারগাঁও, তালতলা, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, কাফরুল ও মিরপুরের অংশবিশেষ নিয়ে বিস্তৃত। দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমীর প্রার্থী হতে পারেন এমন ধারণায় অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয় দলটি।

অন্যদিকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তবে স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকায় এলাকাবাসীর কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি একজন পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন।শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মনিপুর, পীরেরবাগসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভোটার ও প্রচারকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই প্রার্থীর প্রচারণা কৌশলে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। ডা. শফিকুর রহমান তার জাতীয় পরিচিতি ও জামায়াতের সুসংগঠিত দলীয় কাঠামোর ওপর ভর করে এগোচ্ছেন। বিপরীতে মিল্টনের মূল শক্তি হিসেবে কাজ করছে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, নিয়মিত উপস্থিতি এবং মাঠপর্যায়ের সরব তৎপরতা।চ্যালেঞ্জ থেকে মুক্ত নন কেউই। ডা. শফিকুর রহমান এর আগে ঢাকা ও সিলেটের বিভিন্ন আসন থেকে চারবার জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিলেও জয় পাননি। অন্যদিকে মিল্টনের সামনে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এসব সমস্যা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।এই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন মামুন হাসানসহ একাধিক নেতা। নির্বাচনে তারা কতটা সক্রিয়ভাবে মিল্টনের পক্ষে কাজ করবেন—তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তবে দলীয় সূত্র বলছে, মামুন হাসান শিগগিরই মিল্টনের পক্ষে প্রচারণায় নামবেন, যা ভোটের সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।ভোটার ও প্রার্থীর প্রোফাইল নির্বাচন কমিশনের হলফনামা অনুযায়ী, ৬৭ বছর বয়সী ডা. শফিকুর রহমান পেশায় চিকিৎসক। অন্যদিকে ৫৬ বছর বয়সী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

আরও পড়ুন, নির্বাচনী মাঠে দলীয় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন ডিসি-এসপিরা : জামায়াত

ঢাকা-১৫ আসনে মোট নিবন্ধিত ভোটার ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৫০৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭০০ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮০৬ জন। নারী-পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ, প্রথমবারের ভোটার, পোশাক শ্রমিক ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর বসবাস এই আসনে ভোটের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছেন কাজীপাড়ার নাজমুল হক। তিনি বলেন, আগে ভোট দিতে পারিনি। এবার ভোট দেবো। তাই ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্ত নিতে চাই।তরুণ ভোটার শারমিন সুমি বলেন, ুকোনো দল করি না। সুষ্ঠু ভোট হলে কাজকর্ম দেখে ভোট দেবো।অনলাইন ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা অনলাইন প্রচারণাতেও দুই পক্ষ সক্রিয়। মিল্টনের টিম গান, রিলস ও ফটোকার্ডের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াত ডিজিটাল কৌশলে সংগঠিত বার্তা ছড়িয়ে নিজেদের সমর্থনের পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করছে।আয়ের ক্ষেত্রেও দুই প্রার্থীর মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। ডা. শফিকুর রহমানের বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা, আর মিল্টনের ঘোষিত আয় ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। স্থায়ী ঠিকানার দিক থেকেও মিল্টন জন্ম ও বেড়ে ওঠায় মিরপুরের সন্তান, যা স্থানীয়ভাবে তাকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

মামলা ও অতীত অভিজ্ঞতা

মামলা সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়, ডা. শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে করা ৩৪টি মামলার মধ্যে ৩২টিতে তিনি খালাস পেয়েছেন এবং দু’টিতে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ রয়েছে। অপরদিকে মিল্টনের বিরুদ্ধে ৫০টি মামলার কথা উল্লেখ থাকলেও অধিকাংশই খালাস ও অব্যাহতির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল ইসলামের ভাষায়, এবার মানুষ ভোট দিতে মুখিয়ে আছে। তাই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না কে জিতবে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা-১৫ আসনে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা, ভোটার উপস্থিতি এবং তরুণদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করবে।সব মিলিয়ে ঢাকা-১৫ আসনে ভোটের মাঠ এখন উন্মুক্ত। স্থানীয় জনপ্রিয়তা বনাম জাতীয় পরিচিতির এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় কার—তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোটের দিন পর্যন্ত।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত