দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

বনানীতে রকির অবৈধ গেস্ট হাউজ স্পা ঘিরে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

বনানীতে রকির অবৈধ গেস্ট হাউজ স্পা ঘিরে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
বনানীতে রকির অবৈধ গেস্ট হাউজ

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানী যেখানে করপোরেট অফিস, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, কূটনৈতিক আবাসন ও আধুনিক জীবনযাত্রার প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট। সেই বনানীতে নতুনভাবে প্রকাশ্যে আসছে অবৈধ গেস্ট হাউজ ও স্পা সেন্টারের অভিযোগ নতুন করে নগরবাসীর উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা এবং স্থানীয়দের অভিযোগের পরও বনানী থানা পুলিশের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে এই নীরবতার কারণ কী? বনানী একটি বাণিজ্যিক ভবনে নিয়ম বহির্ভূতভাবে গড়ে উঠেছে একাধিক গেস্ট হাউজ ও তথাকথিত স্পা সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠানের আড়ালে অসামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা, ভবনের আশপাশের ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে।

বিশেষ করে ‘রকি’ নামসহ একাধিক নারীচক্রের সক্রিয় উপস্থিতির অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব চক্রের সদস্যরা স্পা ও গেস্ট হাউজের আড়ালে অনৈতিক কার্যক্রম, প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে একাধিক অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে অবৈধ ব্যবসার ধরন, গ্রাহক আনানেওয়ার কৌশল, ভবনের নির্দিষ্ট ফ্লোর ব্যবহার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু এসব সংবাদ প্রকাশের পরও বনানী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান অভিযান, সিলগালা বা আইনি পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি। এতে করে জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সংবাদ প্রকাশ কি শুধুই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ? ডেলটা টাওয়ারের আশপাশের বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই ভবনটিতে সন্দেহজনক যাতায়াত বেড়ে যায়। অচেনা নারী-পুরুষের আনাগোনা, রাতভর চলাচল এবং নিরাপত্তা কর্মীদের রহস্যজনক ভূমিকা এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

আরও পড়ুন, ওমানে নিহত প্রবাসীদের ক্ষতিপূরণ আত্মসাৎ: সবুজ–বুসাইদি চক্রের ভয়াবহ জালিয়াতি

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এটা বনানীর মতো এলাকা। এখানে এমন কর্মকাণ্ড চললে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? আমরা বারবার অভিযোগ জানালেও কোনো পরিবর্তন দেখছি না। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ এসেছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বক্তব্যে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা দাবি করেন, এ ধরনের অবৈধ গেস্ট হাউজ ও স্পা সেন্টার পরিচালনা করতে হলে স্থানীয় থানা পুলিশের ‘ম্যানেজমেন্ট’ ছাড়া সম্ভব নয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এখানে ব্যবসা করতে হলে নিয়ম নয়, আগে থানা সামলাতে হয়। কার সঙ্গে কথা বলতে হবে, কত দিতে হবে সব নির্দিষ্ট। যদিও এসব দাবি যাচাইযোগ্য নয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তবুও প্রশ্ন থেকে যায় এ ধরনের ধারণা কেন তৈরি হচ্ছে?

এ বিষয়ে বনানী থানা পুলিশের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কোনো লিখিত ব্যাখ্যা বা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না আসায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরবতা অনেক সময় তদন্তের স্বার্থে হতে পারে—এ কথা সত্য। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে অভিযোগ থাকলেও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকলে জনআস্থার সংকট তৈরি হয়।

আরও পড়ুন, বনানীতে স্পা আড়ালে মানবপাচার: ছয়জন গ্রেপ্তার, ১২ নারী উদ্ধার

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে স্পা সেন্টার ও গেস্ট হাউজ পরিচালনার জন্য সিটি করপোরেশন, পর্যটন করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুমোদন প্রয়োজন। নির্ধারিত নিয়মের বাইরে কোনো কার্যক্রম হলে তা সরাসরি অবৈধ। বিশেষ করে আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবনে অনুমোদন ছাড়া গেস্ট হাউজ পরিচালনা ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে। একইভাবে স্পা সেন্টারের নামে অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অবৈধ প্রতিষ্ঠান শুধু অনৈতিক কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এগুলো ধীরে ধীরে মাদক, মানবপাচার, চাঁদাবাজি এবং ডিজিটাল অপরাধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। তবে একজন অপরাধ বিশ্লেষক বলেন, আজ স্পা, কাল গেস্ট হাউজ পরশু বড় কোনো অপরাধ। নগর অপরাধ এভাবেই শিকড় গড়ে।

অনেকের মতে, এই নীরবতার পেছনে প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবও দায়ী হতে পারে। সিটি করপোরেশন, রাজউক, পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থার মধ্যে সমন্বয় না থাকলে অবৈধ স্থাপনা বা ব্যবসা দীর্ঘদিন টিকে যায়। প্রশ্ন উঠছে ডেলটা টাওয়ারে এসব প্রতিষ্ঠান কীভাবে ট্রেড লাইসেন্স পাচ্ছে? বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য সেবা কীভাবে বহাল থাকছে? গণমাধ্যম তার দায়িত্ব অনুযায়ী বিষয়টি সামনে এনেছে। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের পরও যদি প্রশাসনিক পদক্ষেপ না আসে, তাহলে গণমাধ্যমও এক ধরনের সীমাবদ্ধতায় পড়ে।

আরও পড়ুন, মিরপুর মডেল থানার আওতায় হোটেল ঢাকা প্যালেসে বেপরোয়া অপরাধ: আতঙ্কে মিরপুরবাসী

একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বলেন, সংবাদ প্রকাশই শেষ কথা নয়। রাষ্ট্রযন্ত্র নড়াচড়া না করলে সাংবাদিকতার প্রভাবও সীমিত হয়ে পড়ে। এই প্রশ্ন এখন সর্বত্র বনানীর ডেলটা টাওয়ারের অবৈধ গেস্ট হাউজ ও স্পা সেন্টার কি কোনো অদৃশ্য ছত্রছায়ায় চলছে, নাকি এটি কেবল প্রশাসনিক গাফিলতির ফল? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য হলে তা যেমন ভয়াবহ, তেমনি মিথ্যা হলেও তা পরিষ্কারভাবে খণ্ডন করা জরুরি।

বনানীতে অবৈধ গেস্ট হাউজ ও স্পা সেন্টার নিয়ে ওঠা অভিযোগ শুধু একটি ভবনের সমস্যা নয় এটি রাজধানীর নগর নিরাপত্তা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও আইন প্রয়োগের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন। সংবাদ প্রকাশের পরও যদি প্রশ্নের উত্তর না আসে, তবে সেই নীরবতাই একসময় বড় অভিযোগে রূপ নেয়। এখন সময় অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা নেওয়া, আর মিথ্যা হলে তা প্রমাণসহ জনগণের সামনে তুলে ধরা। কারণ আইন সবার জন্য সমান এই বিশ্বাসই একটি সভ্য রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।

বিষয় : অবৈধ বনানী স্পা সেন্টার গেস্ট হাউজ প্রশ্নবিদ্ধ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


বনানীতে রকির অবৈধ গেস্ট হাউজ স্পা ঘিরে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

প্রকাশের তারিখ : ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানী যেখানে করপোরেট অফিস, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, কূটনৈতিক আবাসন ও আধুনিক জীবনযাত্রার প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট। সেই বনানীতে নতুনভাবে প্রকাশ্যে আসছে অবৈধ গেস্ট হাউজ ও স্পা সেন্টারের অভিযোগ নতুন করে নগরবাসীর উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা এবং স্থানীয়দের অভিযোগের পরও বনানী থানা পুলিশের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে এই নীরবতার কারণ কী? বনানী একটি বাণিজ্যিক ভবনে নিয়ম বহির্ভূতভাবে গড়ে উঠেছে একাধিক গেস্ট হাউজ ও তথাকথিত স্পা সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠানের আড়ালে অসামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা, ভবনের আশপাশের ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে।

বিশেষ করে ‘রকি’ নামসহ একাধিক নারীচক্রের সক্রিয় উপস্থিতির অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব চক্রের সদস্যরা স্পা ও গেস্ট হাউজের আড়ালে অনৈতিক কার্যক্রম, প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে একাধিক অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে অবৈধ ব্যবসার ধরন, গ্রাহক আনানেওয়ার কৌশল, ভবনের নির্দিষ্ট ফ্লোর ব্যবহার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু এসব সংবাদ প্রকাশের পরও বনানী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান অভিযান, সিলগালা বা আইনি পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি। এতে করে জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সংবাদ প্রকাশ কি শুধুই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ? ডেলটা টাওয়ারের আশপাশের বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই ভবনটিতে সন্দেহজনক যাতায়াত বেড়ে যায়। অচেনা নারী-পুরুষের আনাগোনা, রাতভর চলাচল এবং নিরাপত্তা কর্মীদের রহস্যজনক ভূমিকা এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

আরও পড়ুন, ওমানে নিহত প্রবাসীদের ক্ষতিপূরণ আত্মসাৎ: সবুজ–বুসাইদি চক্রের ভয়াবহ জালিয়াতি

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এটা বনানীর মতো এলাকা। এখানে এমন কর্মকাণ্ড চললে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? আমরা বারবার অভিযোগ জানালেও কোনো পরিবর্তন দেখছি না। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ এসেছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বক্তব্যে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা দাবি করেন, এ ধরনের অবৈধ গেস্ট হাউজ ও স্পা সেন্টার পরিচালনা করতে হলে স্থানীয় থানা পুলিশের ‘ম্যানেজমেন্ট’ ছাড়া সম্ভব নয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এখানে ব্যবসা করতে হলে নিয়ম নয়, আগে থানা সামলাতে হয়। কার সঙ্গে কথা বলতে হবে, কত দিতে হবে সব নির্দিষ্ট। যদিও এসব দাবি যাচাইযোগ্য নয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তবুও প্রশ্ন থেকে যায় এ ধরনের ধারণা কেন তৈরি হচ্ছে?

এ বিষয়ে বনানী থানা পুলিশের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কোনো লিখিত ব্যাখ্যা বা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না আসায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরবতা অনেক সময় তদন্তের স্বার্থে হতে পারে—এ কথা সত্য। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে অভিযোগ থাকলেও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকলে জনআস্থার সংকট তৈরি হয়।

আরও পড়ুন, বনানীতে স্পা আড়ালে মানবপাচার: ছয়জন গ্রেপ্তার, ১২ নারী উদ্ধার

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে স্পা সেন্টার ও গেস্ট হাউজ পরিচালনার জন্য সিটি করপোরেশন, পর্যটন করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুমোদন প্রয়োজন। নির্ধারিত নিয়মের বাইরে কোনো কার্যক্রম হলে তা সরাসরি অবৈধ। বিশেষ করে আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবনে অনুমোদন ছাড়া গেস্ট হাউজ পরিচালনা ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে। একইভাবে স্পা সেন্টারের নামে অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অবৈধ প্রতিষ্ঠান শুধু অনৈতিক কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এগুলো ধীরে ধীরে মাদক, মানবপাচার, চাঁদাবাজি এবং ডিজিটাল অপরাধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। তবে একজন অপরাধ বিশ্লেষক বলেন, আজ স্পা, কাল গেস্ট হাউজ পরশু বড় কোনো অপরাধ। নগর অপরাধ এভাবেই শিকড় গড়ে।

অনেকের মতে, এই নীরবতার পেছনে প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবও দায়ী হতে পারে। সিটি করপোরেশন, রাজউক, পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থার মধ্যে সমন্বয় না থাকলে অবৈধ স্থাপনা বা ব্যবসা দীর্ঘদিন টিকে যায়। প্রশ্ন উঠছে ডেলটা টাওয়ারে এসব প্রতিষ্ঠান কীভাবে ট্রেড লাইসেন্স পাচ্ছে? বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য সেবা কীভাবে বহাল থাকছে? গণমাধ্যম তার দায়িত্ব অনুযায়ী বিষয়টি সামনে এনেছে। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের পরও যদি প্রশাসনিক পদক্ষেপ না আসে, তাহলে গণমাধ্যমও এক ধরনের সীমাবদ্ধতায় পড়ে।

আরও পড়ুন, মিরপুর মডেল থানার আওতায় হোটেল ঢাকা প্যালেসে বেপরোয়া অপরাধ: আতঙ্কে মিরপুরবাসী

একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বলেন, সংবাদ প্রকাশই শেষ কথা নয়। রাষ্ট্রযন্ত্র নড়াচড়া না করলে সাংবাদিকতার প্রভাবও সীমিত হয়ে পড়ে। এই প্রশ্ন এখন সর্বত্র বনানীর ডেলটা টাওয়ারের অবৈধ গেস্ট হাউজ ও স্পা সেন্টার কি কোনো অদৃশ্য ছত্রছায়ায় চলছে, নাকি এটি কেবল প্রশাসনিক গাফিলতির ফল? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য হলে তা যেমন ভয়াবহ, তেমনি মিথ্যা হলেও তা পরিষ্কারভাবে খণ্ডন করা জরুরি।

বনানীতে অবৈধ গেস্ট হাউজ ও স্পা সেন্টার নিয়ে ওঠা অভিযোগ শুধু একটি ভবনের সমস্যা নয় এটি রাজধানীর নগর নিরাপত্তা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও আইন প্রয়োগের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন। সংবাদ প্রকাশের পরও যদি প্রশ্নের উত্তর না আসে, তবে সেই নীরবতাই একসময় বড় অভিযোগে রূপ নেয়। এখন সময় অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা নেওয়া, আর মিথ্যা হলে তা প্রমাণসহ জনগণের সামনে তুলে ধরা। কারণ আইন সবার জন্য সমান এই বিশ্বাসই একটি সভ্য রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত