বনানীতে রহস্যঘেরা গেস্ট হাউজ, প্রশ্নের পর প্রশ্ন
রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীর ২৭ নম্বর সড়কে অবস্থিত ৮নং ভবনে পরিচালিত “মার্ভেল ইন গেস্ট হাউজ”কে ঘিরে নানা অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র, ভুক্তভোগী এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই গেস্ট হাউজকে কেন্দ্র করে নারী ও মাদক সংশ্লিষ্ট একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।অনুসন্ধানে জানা যায়, এই গেস্ট হাউজটি মূলত আবাসিক সুবিধা প্রদানের কথা থাকলেও বাস্তবে তা ভিন্ন ধরনের কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দাবি করেন, ভবনটিতে নিয়মিত অচেনা ব্যক্তিদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়, যা এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় সন্দেহজনক কার্যক্রম বৃদ্ধি পায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই গেস্ট হাউজে অল্প সময়ের জন্য কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়, যা আবাসিক এলাকার পরিবেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে সামাজিক নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে বলে তাদের অভিমত। তারা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে পূর্বেও বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযোগ জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। কেউ কেউ নিজেদের গণমাধ্যমকর্মী বা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে থাকেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে এসব তথ্য স্নাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তাদের প্রতিষ্ঠান বৈধ এবং নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।আরও পড়ুন, লামা মাতামুহুরি কলেজে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচী নিয়ে উন্মুক্ত বৈঠকএদিকে, গুলশান থানায় পূর্বে দায়ের করা একটি মামলার কথাও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্পা ব্যবসার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছিল। তবে ওই মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় এ ধরনের গেস্ট হাউজ বা স্পা সেন্টারের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ নতুন নয়। তবে এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারি ও নিয়মিত তদারকি না থাকায় এমন প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরও যদি যথাযথ তদন্ত ও ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে তা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ ও পারিবারিক পরিবেশের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।সংশ্লিষ্ট গেস্ট হাউজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তারা আইন মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তারা আরও বলেন, কোনো ধরনের অসত্য তথ্য প্রচার করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সাংবাদিকদের একটি অংশ মনে করছেন, এ ধরনের হুমকি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য হুমকি স্বরূপ| তারা বলেন, যে কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা এবং জনস্বার্থে তা তুলে ধরা সাংবাদিকদের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে ভয়ভীতি প্রদর্শন গ্রহণযোগ্য নয়। তবে স্পা ব্যবসায়ী, নারী সিন্ডিকেট, কথিত সাংবাদিক ও রাজনীতির কয়েকজন ব্যক্তি মিলে পরিচালিত হচ্ছে “মার্ভেল ইন গেস্ট হাউজটি। যাহা একটি ভয়েজ রেকর্ডে প্রমানিত রয়েছে ও তাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাদেরকে পাওয়া যায়নি। কিন্তু আজকাল দেখা যায় সাংবাদিকও নাকি এসব ব্যবসা করছেন। তার মানে এই না তারা আইনের বাইরে। অনুসন্ধান প্রতিবেদনে আগামী পর্বে এসব অপরাধীদের মুখোশ প্রকাশ্যে আনবে দৈনিক সাংবাদ দিগন্ত। আরও পড়ুন, পলাশবাড়ী সূতি মাহমুদ মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি শিক্ষার্থীদের বিদায়-নবীন বরণ ও দো’আ অনুষ্ঠিতআইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা জরুরি। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখা গণমাধ্যমের নৈতিক দায়িত্ব। সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, বনানীর এই গেস্ট হাউজকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এ ধরনের অভিযোগের সুরাহা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তবে গেস্ট হাউজটির নেই কোন সাইনবোর্ড। এরপরও তারা দাবী করেন তাদের বৈধ। অথচ সাইনবোর্ডবিহীন গোপনে চলছে তাদের এসব কারবার। যাতে কোন বোঝার উপায় নেই ভেতরে কি হচ্ছে।আরও পড়ুন, মহেশপুরে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষনের ঘটনায় পলাতক নয়ন আটকগেস্ট হাউজে অনৈতিক কার্যকলাপ কোনোভাবেই কৈধ নয়। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, আবাসিক হোটেল বা গেস্ট হাউজ শুধুমাত্র বৈধ আবাসন সেবা দেওয়ার জন্য অনুমোদিত। এর আড়ালে যদি অসামাজিক বা অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, তবে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ধরনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক, ব্যবস্থাপক ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তাই ব্যবসার নামে কোনো অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা আইনত অপরাধ এবং সামাজিকভাবে নিন্দনীয়। এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।