গাজীপুর শ্রীপুর উপজেলার সরকারি খাদ্য গুদামে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের এড়িয়ে গোপনে গুদাম ত্যাগ করেন তারা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২৫ জানুয়ারি) জেলা পর্যায় থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল শ্রীপুর খাদ্য গুদামে আসে। দলে ছিলেন কাপাসিয়া উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ মহিবুর রহমান, গাজীপুর সদর উপজেলার কর্মকর্তা নাইয়ানুর সোনিয়া এবং খাদ্য কারিগরি পরিদর্শক সোহেল আহমেদ সুফল।অভিযোগ উঠেছে, তারা গুদামের ভেতরে অবস্থিত একটি কক্ষে কয়েক ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সেখানে আপ্যায়ন গ্রহণ করেন। তদন্তের অগ্রগতি জানতে সাংবাদিকরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও কর্মকর্তারা কোনো বক্তব্য দেননি। এছাড়া সাংবাদিকদের বিভিন্নভাবে বিষয়টি ম্যানেজ করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে হঠাৎ করে তদন্তকারী কর্মকর্তারা গুদামের পেছনের দরজা ব্যবহার করে নীরবে স্থান ত্যাগ করেন। পরে তাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি তারা।স্থানীয়দের অভিযোগ, যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে তাদের সঙ্গেই যদি তদন্ত কর্মকর্তারা এভাবে সময় কাটান ও আপ্যায়ন গ্রহণ করেন, তাহলে তদন্তের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দেয়। এদিকে শ্রীপুর খাদ্য গুদামে আমন ও বোরো মৌসুমে চাল ও ধান সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলাম।অভিযোগপত্রে বলা হয়, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আমন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বোরো সংগ্রহ কার্যক্রমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, আমন সংগ্রহে মিলারদের কাছ থেকে সরাসরি চাল নেওয়ার নিয়ম থাকলেও বাস্তবে পুরনো চাল সংগ্রহ দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে জামানতের ২ শতাংশ অর্থ ও বস্তার টাকা মিলারদের মাধ্যমে না নিয়ে নিজেই পে-অর্ডার ও চেকের মাধ্যমে লেনদেন করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, গুদামে মজুত অধিকাংশ চাল পুরনো হলেও তা নতুন হিসেবে রেকর্ডভুক্ত করা হয়েছে। নতুন বস্তা অন্যত্র বিক্রি করে পুরনো বস্তায় পুরনো চাল ভরে সংরক্ষণের অভিযোগও তোলা হয়েছে। পাশাপাশি সিসিটিভি সচল রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ইচ্ছাকৃতভাবে তা বন্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।আরও পড়ুন, ভোটের সচেতনতায় ইমামদের দায়িত্ব পালন বাধ্যতামূলক : ডিসি মনিরাওএমএস কার্যক্রমে বিতরণ করা চালের প্রতিটি বস্তায় ৫০০ গ্রাম থেকে ২ কেজি পর্যন্ত কম দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বোরো সংগ্রহ সংক্রান্ত অভিযোগে বলা হয়, কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি। কৃষকদের কৃষি কার্ড ও চেক সংগ্রহ করে প্রত্যেককে এক হাজার টাকা দিয়ে বিদায় করা হয় এবং পরে সেগুলো ব্যবহার করে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে এ বিষয়ে প্রমাণ মিলতে পারে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়।অভিযোগকারী জানান, এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে আলোচনা এড়িয়ে যান। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত শ্রীপুর উপজেলার খাদ্য গুদামগুলো থেকে চাল সরবরাহ বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। অভিযোগপত্রের অনুলিপি খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জাতীয় প্রেসক্লাবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান ভূঁইয়ার বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলে তিনি কোন বক্তব্য না দিয়ে সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষিপ্ত হন।