গাজীপুরের শিল্প ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা টঙ্গীতে অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাকছুদুল আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত একের পর এক চিরুনি অভিযানে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে স্থানীয় অপরাধী চক্র। গত ৪০ দিনের ধারাবাহিক অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ৪১৯ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। পুলিশের এমন সাঁড়াশি অভিযানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে, আর অপরাধীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র আতঙ্ক।
৪০ দিনের অভিযানের খতিয়ান ও পরিসংখ্যান টঙ্গী পূর্ব থানা সূত্রে জানা গেছে, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো, রাতভর টহল এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গত ৪০ দিন ধরে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে গ্রেপ্তার ৪১৯ জনের মধ্যে রয়েছে:
ছিনতাইকারী: বিভিন্ন এলাকায় পথচারীদের কাছ থেকে অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৫৮ জন।
মাদক কারবারি: অবৈধ মাদকের বেচাকেনা ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ৩৬ জন।
পরোয়ানাভুক্ত আসামি: আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) তামিল করে গ্রেপ্তার ১৪২ জন।
অন্যান্য অপরাধী: মারামারি, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার ১৮৩ জন। বিপুল পরিমাণ মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকালে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে এবং তাদের গোপন আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও অপরাধে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে:
৫৭২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট
প্রায় ১৮ কেজি গাঁজা
২২ গ্রাম হেরোইন
১৫ বোতল বিদেশি মদ
বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র (ছুরি, চাপাতি ও রামদা)
ওসি মাকছুদুল আলমের কঠোর হুঁশিয়ারি
আরও পড়ুন,কিশোর গ্যাং-মাদকের বিরুদ্ধে সিএমপি কমিশনারের কঠোর বার্তা
অপরাধীদের উদ্দেশে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাকছুদুল আলম অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “টঙ্গীতে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। অপরাধী যত শক্তিশালী বা প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আসতে হবে। অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানোর সুযোগ নেই।”
পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে থাকা অপরাধীদের বিষয়ে ওসি জানান, “পুলিশি অভিযানের কারণে অনেক চিহ্নিত অপরাধী এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে। তবে আত্মগোপনে থেকেও তারা রেহাই পাবে না। পুলিশের বিশেষ গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে, তাদের অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।” স্বস্তি ফিরছে জনমনে, স্থানীদের প্রত্যাশা ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্পাঞ্চল টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষের যাতায়াত। এখানে ছিনতাই ও মাদকের বিস্তার দীর্ঘদিনের সমস্যা ছিল। সম্প্রতি পুলিশের এই অল-আউট অভিযানে সাধারণ পথচারী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এলাকাবাসীর মতে, পুলিশের এই জিরো টলারেন্স নীতি ও নিয়মিত টহল অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে স্বাভাবিক হয়ে আসবে। অপরাধ দমনে স্থানীয় জনগণ পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তারা। টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এই ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
গাজীপুরের শিল্প ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা টঙ্গীতে অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাকছুদুল আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত একের পর এক চিরুনি অভিযানে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে স্থানীয় অপরাধী চক্র। গত ৪০ দিনের ধারাবাহিক অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ৪১৯ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। পুলিশের এমন সাঁড়াশি অভিযানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে, আর অপরাধীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র আতঙ্ক।
৪০ দিনের অভিযানের খতিয়ান ও পরিসংখ্যান টঙ্গী পূর্ব থানা সূত্রে জানা গেছে, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো, রাতভর টহল এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গত ৪০ দিন ধরে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে গ্রেপ্তার ৪১৯ জনের মধ্যে রয়েছে:
ছিনতাইকারী: বিভিন্ন এলাকায় পথচারীদের কাছ থেকে অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৫৮ জন।
মাদক কারবারি: অবৈধ মাদকের বেচাকেনা ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ৩৬ জন।
পরোয়ানাভুক্ত আসামি: আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) তামিল করে গ্রেপ্তার ১৪২ জন।
অন্যান্য অপরাধী: মারামারি, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার ১৮৩ জন। বিপুল পরিমাণ মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকালে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে এবং তাদের গোপন আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও অপরাধে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে:
৫৭২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট
প্রায় ১৮ কেজি গাঁজা
২২ গ্রাম হেরোইন
১৫ বোতল বিদেশি মদ
বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র (ছুরি, চাপাতি ও রামদা)
ওসি মাকছুদুল আলমের কঠোর হুঁশিয়ারি
আরও পড়ুন,কিশোর গ্যাং-মাদকের বিরুদ্ধে সিএমপি কমিশনারের কঠোর বার্তা
অপরাধীদের উদ্দেশে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাকছুদুল আলম অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “টঙ্গীতে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। অপরাধী যত শক্তিশালী বা প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আসতে হবে। অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানোর সুযোগ নেই।”
পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে থাকা অপরাধীদের বিষয়ে ওসি জানান, “পুলিশি অভিযানের কারণে অনেক চিহ্নিত অপরাধী এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে। তবে আত্মগোপনে থেকেও তারা রেহাই পাবে না। পুলিশের বিশেষ গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে, তাদের অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।” স্বস্তি ফিরছে জনমনে, স্থানীদের প্রত্যাশা ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্পাঞ্চল টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষের যাতায়াত। এখানে ছিনতাই ও মাদকের বিস্তার দীর্ঘদিনের সমস্যা ছিল। সম্প্রতি পুলিশের এই অল-আউট অভিযানে সাধারণ পথচারী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এলাকাবাসীর মতে, পুলিশের এই জিরো টলারেন্স নীতি ও নিয়মিত টহল অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে স্বাভাবিক হয়ে আসবে। অপরাধ দমনে স্থানীয় জনগণ পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তারা। টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এই ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন