জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর পর দেশের বন্দরকেন্দ্রিক আমদানি রফতানি কার্যক্রমে বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলো জ্বালানিনির্ভর ছয় ধরনের সেবার মাশুলে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ সারচার্জ আরোপ করেছে।বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণের ফলে আইসিডিগুলোর পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। এই ব্যয় বিবেচনায় সর্বশেষ পর্যালোচিত মাশুলের ওপর জ্বালানি সারচার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে।বর্ধিত মাশুলের আওতায় রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর ও আইসিডির মধ্যে খালি কনটেইনার পরিবহন বা হাওলেজ চার্জ। পাশাপাশি পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল ও আইসিডির মধ্যে খালি কনটেইনার পরিবহন এবং ওঠানো-নামানোর চার্জও রয়েছে। রফতানি পণ্য কনটেইনারে ভরা ও হ্যান্ডলিং এবং রফতানি কনটেইনারের ভেরিফায়েড গ্রস মাস চার্জেও সারচার্জ আরোপ করা হয়েছে।চট্টগ্রামের ২১টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপো আমদানি ও রফতানি পণ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব ডিপোর কার্যক্রমে প্রায় এক হাজার কনটেইনার পরিবহনকারী ট্রেইলার এবং ২৫০টি বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। প্রতিদিন গড়ে ৭০ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়।তবে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বলছে, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া মাশুল বাড়ানো হলে তা নিয়ে গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন উঠতে পারে।
আড়ও পড়ুন,আগস্টে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ
তাদের মতে, বাড়তি খরচের সবচেয়ে বড় চাপ পড়তে পারে রফতানিকারকদের ওপর।রফতানি খাতের উদ্যোক্তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম নির্ধারণে রফতানিকারকদের সীমিত সুযোগ থাকে। ফলে স্থানীয়ভাবে পরিবহন ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় বাড়লেও সেই অতিরিক্ত খরচ সবসময় বিদেশি ক্রেতার কাছ থেকে আদায় করা সম্ভব হয় না। এতে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে চাপ আরও বাড়তে পারে।জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর থেকে পণ্য পরিবহনেও। প্রতিদিন বড় জাহাজ থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য লাইটার জাহাজে স্থানান্তর করা হয়। এ কাজে এক হাজারের বেশি লাইটার জাহাজ নিয়োজিত রয়েছে।চট্টগ্রাম-ঢাকা নৌপথে একটি লাইটার জাহাজে প্রায় তিন হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হওয়ায় জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।অন্যদিকে বন্দরকেন্দ্রিক কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত অপারেটররাও চলমান চুক্তির দর সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে দরপত্র আহ্বানের সময় ডিজেলের দাম ছিল লিটারপ্রতি ৮০ টাকা। সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধির পর তা দাঁড়িয়েছে ১৩৫ টাকায়।সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে পরিবহন ও বন্দর সেবার ব্যয় সমন্বয় হলে আমদানি পণ্যের মোট খরচ বাড়তে পারে। পাশাপাশি রফতানি পণ্যের ক্ষেত্রেও বাড়তি পরিবহন ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর পর দেশের বন্দরকেন্দ্রিক আমদানি রফতানি কার্যক্রমে বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলো জ্বালানিনির্ভর ছয় ধরনের সেবার মাশুলে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ সারচার্জ আরোপ করেছে।বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণের ফলে আইসিডিগুলোর পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। এই ব্যয় বিবেচনায় সর্বশেষ পর্যালোচিত মাশুলের ওপর জ্বালানি সারচার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে।বর্ধিত মাশুলের আওতায় রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর ও আইসিডির মধ্যে খালি কনটেইনার পরিবহন বা হাওলেজ চার্জ। পাশাপাশি পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল ও আইসিডির মধ্যে খালি কনটেইনার পরিবহন এবং ওঠানো-নামানোর চার্জও রয়েছে। রফতানি পণ্য কনটেইনারে ভরা ও হ্যান্ডলিং এবং রফতানি কনটেইনারের ভেরিফায়েড গ্রস মাস চার্জেও সারচার্জ আরোপ করা হয়েছে।চট্টগ্রামের ২১টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপো আমদানি ও রফতানি পণ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব ডিপোর কার্যক্রমে প্রায় এক হাজার কনটেইনার পরিবহনকারী ট্রেইলার এবং ২৫০টি বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। প্রতিদিন গড়ে ৭০ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়।তবে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বলছে, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া মাশুল বাড়ানো হলে তা নিয়ে গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন উঠতে পারে।
আড়ও পড়ুন,আগস্টে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ
তাদের মতে, বাড়তি খরচের সবচেয়ে বড় চাপ পড়তে পারে রফতানিকারকদের ওপর।রফতানি খাতের উদ্যোক্তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম নির্ধারণে রফতানিকারকদের সীমিত সুযোগ থাকে। ফলে স্থানীয়ভাবে পরিবহন ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় বাড়লেও সেই অতিরিক্ত খরচ সবসময় বিদেশি ক্রেতার কাছ থেকে আদায় করা সম্ভব হয় না। এতে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে চাপ আরও বাড়তে পারে।জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর থেকে পণ্য পরিবহনেও। প্রতিদিন বড় জাহাজ থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য লাইটার জাহাজে স্থানান্তর করা হয়। এ কাজে এক হাজারের বেশি লাইটার জাহাজ নিয়োজিত রয়েছে।চট্টগ্রাম-ঢাকা নৌপথে একটি লাইটার জাহাজে প্রায় তিন হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হওয়ায় জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।অন্যদিকে বন্দরকেন্দ্রিক কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত অপারেটররাও চলমান চুক্তির দর সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে দরপত্র আহ্বানের সময় ডিজেলের দাম ছিল লিটারপ্রতি ৮০ টাকা। সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধির পর তা দাঁড়িয়েছে ১৩৫ টাকায়।সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে পরিবহন ও বন্দর সেবার ব্যয় সমন্বয় হলে আমদানি পণ্যের মোট খরচ বাড়তে পারে। পাশাপাশি রফতানি পণ্যের ক্ষেত্রেও বাড়তি পরিবহন ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন