কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নের ভাটিবরাটিয়া উত্তরপাড়া গ্রামে ধনু নদীর করাল স্রোত, ঢেউ ও অতিবৃষ্টির কারণে ভয়াবহ নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। গত ৮ থেকে ১০ বছরে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে শতাধিক বসতভিটা, ফসলি জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।বর্তমানে নদী পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো গ্রামই ধনু নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।সিংপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স আরিফ জানান, শুধু গত এক বছরেই প্রায় ৩০টি পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। অনেক পরিবার এখন অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। কেউ কেউ জীবিকার তাগিদে এলাকা ছেড়ে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর, আলীগঞ্জ ও চট্টগ্রামে পাড়ি জমিয়েছে।ভুক্তভোগী আলেমা বলেন, “কয়েক মাস আগে আমার ঘর নদীতে চলে গেছে। এখন আমি চাচা শ্বশুরের বাড়িতে আশ্রিত।”গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা ইসমত আলী জানান, নদীর তীর আশপাশের জমির তুলনায় ৩০ থেকে ৩৫ ফুট উঁচু হওয়ায় প্রবল স্রোতে দ্রুত ভাঙন সৃষ্টি হচ্ছে, যা গ্রামবাসীকে অসহায় করে তুলেছে।
নদীপাড়ের ব্যবসায়ী ফুয়াদ বলেন, “নদী ভাঙতে ভাঙতে প্রায় আধা কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছে। আমার দোকান ছিল আরও দক্ষিণে, সেটিও নদীগর্ভে চলে গেছে।”ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ শুভ বলেন, গ্রামবাসীকে রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ বা জিও-২ ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করা প্রয়োজন।এ বিষয়ে সিংপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভাঙনরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তিনি।বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কিশোরগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, সিংপুর ইউনিয়নে ভাঙনরোধে একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং আগামী জুন মাসের আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভাটিবরাটিয়া গ্রামের ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণে তিনি সংসদেও বিষয়টি উত্থাপন করবেন বলে জানান।এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও এখনো কার্যকর স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে ভাটিবরাটিয়া উত্তরপাড়া গ্রাম।

শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নের ভাটিবরাটিয়া উত্তরপাড়া গ্রামে ধনু নদীর করাল স্রোত, ঢেউ ও অতিবৃষ্টির কারণে ভয়াবহ নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। গত ৮ থেকে ১০ বছরে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে শতাধিক বসতভিটা, ফসলি জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।বর্তমানে নদী পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো গ্রামই ধনু নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।সিংপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স আরিফ জানান, শুধু গত এক বছরেই প্রায় ৩০টি পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। অনেক পরিবার এখন অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। কেউ কেউ জীবিকার তাগিদে এলাকা ছেড়ে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর, আলীগঞ্জ ও চট্টগ্রামে পাড়ি জমিয়েছে।ভুক্তভোগী আলেমা বলেন, “কয়েক মাস আগে আমার ঘর নদীতে চলে গেছে। এখন আমি চাচা শ্বশুরের বাড়িতে আশ্রিত।”গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা ইসমত আলী জানান, নদীর তীর আশপাশের জমির তুলনায় ৩০ থেকে ৩৫ ফুট উঁচু হওয়ায় প্রবল স্রোতে দ্রুত ভাঙন সৃষ্টি হচ্ছে, যা গ্রামবাসীকে অসহায় করে তুলেছে।
নদীপাড়ের ব্যবসায়ী ফুয়াদ বলেন, “নদী ভাঙতে ভাঙতে প্রায় আধা কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছে। আমার দোকান ছিল আরও দক্ষিণে, সেটিও নদীগর্ভে চলে গেছে।”ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ শুভ বলেন, গ্রামবাসীকে রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ বা জিও-২ ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করা প্রয়োজন।এ বিষয়ে সিংপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভাঙনরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তিনি।বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কিশোরগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, সিংপুর ইউনিয়নে ভাঙনরোধে একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং আগামী জুন মাসের আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভাটিবরাটিয়া গ্রামের ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণে তিনি সংসদেও বিষয়টি উত্থাপন করবেন বলে জানান।এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও এখনো কার্যকর স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে ভাটিবরাটিয়া উত্তরপাড়া গ্রাম।

আপনার মতামত লিখুন