নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় ১১ বছর বয়সী শিশু হোসাইন হত্যা মামলার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ‘জেল খাটার অভিজ্ঞতা কেমন’এমন অদ্ভুত কৌতূহল থেকেই একদল কিশোর পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হোসাইন (১১) তার বাবার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ শহরে ফুল বিক্রি করতো। গত ১৮ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সে নিখোঁজ হয়। পরে তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয়।তদন্তে বেরিয়ে আসে, ফতুল্লা রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়মিত আড্ডা ও মাদকসেবায় লিপ্ত কয়েকজন কিশোর এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
আরও পড়ুন, গঙ্গাচড়ায় ঘরবাড়ি ও কৃষিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, দুশ্চিন্তায় কৃষক
ঘটনার দিন সাইফুল (১৬), তানভীর (১৭) ও ইউনুস (১৫) নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে জেল খাটার অভিজ্ঞতা নেওয়ার উদ্দেশ্যে একটি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা হোসাইনকে প্রলোভন দেখিয়ে ওই পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আরও তিন কিশোর—রাহাত (১৩), হোসাইন (১৪) ও ওমর (১৫) তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। পরে তারা শিশুটির ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করে।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশ এর ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে জড়িত ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারদের মধ্যে ইয়াসিন (১৮) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা অনুযায়ী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পুলিশ জানায়, সাইফুল ও তানভীরকে বরিশাল কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে এবং অন্যদের নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া পলাতক আরও একজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন, নরসিংদীতে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র ও গুলিসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার
গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো চাকু ঘটনাস্থলের পাশের ময়লার স্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।পুলিশ বলছে, কিশোরদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা ও মাদকাসক্তির কারণে এ ধরনের ভয়াবহ ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও সমাজের সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিষয় : নারায়ণগঞ্জ গ্রেফতার হত্যাকাণ্ড

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় ১১ বছর বয়সী শিশু হোসাইন হত্যা মামলার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ‘জেল খাটার অভিজ্ঞতা কেমন’এমন অদ্ভুত কৌতূহল থেকেই একদল কিশোর পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হোসাইন (১১) তার বাবার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ শহরে ফুল বিক্রি করতো। গত ১৮ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সে নিখোঁজ হয়। পরে তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয়।তদন্তে বেরিয়ে আসে, ফতুল্লা রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়মিত আড্ডা ও মাদকসেবায় লিপ্ত কয়েকজন কিশোর এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
আরও পড়ুন, গঙ্গাচড়ায় ঘরবাড়ি ও কৃষিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, দুশ্চিন্তায় কৃষক
ঘটনার দিন সাইফুল (১৬), তানভীর (১৭) ও ইউনুস (১৫) নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে জেল খাটার অভিজ্ঞতা নেওয়ার উদ্দেশ্যে একটি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা হোসাইনকে প্রলোভন দেখিয়ে ওই পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আরও তিন কিশোর—রাহাত (১৩), হোসাইন (১৪) ও ওমর (১৫) তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। পরে তারা শিশুটির ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করে।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশ এর ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে জড়িত ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারদের মধ্যে ইয়াসিন (১৮) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা অনুযায়ী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পুলিশ জানায়, সাইফুল ও তানভীরকে বরিশাল কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে এবং অন্যদের নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া পলাতক আরও একজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন, নরসিংদীতে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র ও গুলিসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার
গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো চাকু ঘটনাস্থলের পাশের ময়লার স্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।পুলিশ বলছে, কিশোরদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা ও মাদকাসক্তির কারণে এ ধরনের ভয়াবহ ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও সমাজের সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন