দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

টালমাটাল বাজারে বিশ্বাস পুনর্গঠন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ

টালমাটাল বাজারে বিশ্বাস পুনর্গঠন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ
নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দেশের অর্থনীতিতে জনগণ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা।

নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দেশের অর্থনীতিতে জনগণ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা।অর্থনীতিকে শুধু স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানো নয়, বরং একটি প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই কাঠামোর দিকে এগিয়ে নেওয়া সরকারের প্রধান দায়িত্ব।গতকাল বুধবার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এবং ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার যৌথভাবে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব মন্তব্য করেন। রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইনে ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন : স্বল্প ও মধ্য মেয়াদে নতুন সরকারের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।


আরো পড়ুন , জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স ৬২০ কোটি ডলার ছুঁইছুঁই


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। আরো বক্তব্য দেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) ভাইস চেয়ারম্যান সাদিক আহমেদ, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক মাঈন উদ্দিন, বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক আসিফ ইব্রাহীম,

 বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য মোস্তফা আবিদ খান, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল আমিন, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ প্রমুখ।ফাহমিদা খাতুন বলেন, দেশের অর্থনীতি এখন ধ্বংসের মুখে নয়, তবে এটি প্রবল চাপের মধ্যে রয়েছে। তাঁর মতে, বর্তমান সময়টি নীতিগত পুনর্বিন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ, যেখানে কঠোর সামষ্টিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি।

সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যেখানে আগের অর্থবছরে তা ছিল ৪.২ শতাংশ। শিল্প উৎপাদন ও সেবা খাতে ভোগব্যয় কমেছে এবং নতুন বিনিয়োগে অনীহা দেখা গেছে। যদিও ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪.৫০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, তবু এই গতি দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রেও মিশ্র চিত্র দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৬৬ শতাংশে দাঁড়ালেও মানুষের আয় সেই হারে বাড়েনি। একই সময়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.১২ শতাংশ। ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এখনো চাপের মধ্যে রয়েছে, যা অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিষয় : চ্যালেঞ্জ স্বাভাবিক বিনিয়োগ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


টালমাটাল বাজারে বিশ্বাস পুনর্গঠন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মার্চ ২০২৬

featured Image

নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দেশের অর্থনীতিতে জনগণ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা।অর্থনীতিকে শুধু স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানো নয়, বরং একটি প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই কাঠামোর দিকে এগিয়ে নেওয়া সরকারের প্রধান দায়িত্ব।গতকাল বুধবার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এবং ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার যৌথভাবে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব মন্তব্য করেন। রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইনে ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন : স্বল্প ও মধ্য মেয়াদে নতুন সরকারের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।


আরো পড়ুন , জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স ৬২০ কোটি ডলার ছুঁইছুঁই


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। আরো বক্তব্য দেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) ভাইস চেয়ারম্যান সাদিক আহমেদ, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক মাঈন উদ্দিন, বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক আসিফ ইব্রাহীম,

 বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য মোস্তফা আবিদ খান, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল আমিন, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ প্রমুখ।ফাহমিদা খাতুন বলেন, দেশের অর্থনীতি এখন ধ্বংসের মুখে নয়, তবে এটি প্রবল চাপের মধ্যে রয়েছে। তাঁর মতে, বর্তমান সময়টি নীতিগত পুনর্বিন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ, যেখানে কঠোর সামষ্টিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি।

সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যেখানে আগের অর্থবছরে তা ছিল ৪.২ শতাংশ। শিল্প উৎপাদন ও সেবা খাতে ভোগব্যয় কমেছে এবং নতুন বিনিয়োগে অনীহা দেখা গেছে। যদিও ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪.৫০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, তবু এই গতি দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রেও মিশ্র চিত্র দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৬৬ শতাংশে দাঁড়ালেও মানুষের আয় সেই হারে বাড়েনি। একই সময়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.১২ শতাংশ। ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এখনো চাপের মধ্যে রয়েছে, যা অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত