দেশজুড়ে শিল্প খাতে গ্যাসসংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে শিল্প-কারখানা, আবাসিক, পরিবহনসহ প্রায় সব খাতে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল, গার্মেন্টস, সিরামিক, স্টিলসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্পে কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দুটি এলএনজি টার্মিনালের একটি রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে থাকায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এটিকেই চলমান সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তাঁরা।
শিল্পোদ্যোক্তাদের অভিযোগ, গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির কারণে তাঁরা কারখানাগুলোয় পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয় হুমকির মুখে পড়ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে রপ্তানিপণ্য সরবরাহ করতে না পারায় অনেক প্রতিষ্ঠান চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হচ্ছে।পরিস্থিতির কারণে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও অনেক শিল্পোদ্যোক্তা নতুন রপ্তানি কার্যাদেশ গ্রহণ বন্ধ বা কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
পেট্রোবাংলা ও তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের মহেশখালীতে স্থাপিত ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে একটি মেরামতে থাকায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
আরো পড়ুন , এলপি গ্যাসে স্থানীয় ভ্যাট প্রত্যাহার, আমদানি পর্যায়ে ৭.৫% ভ্যাট কার্যকর
দেশে দুটি এলএনজি টার্মিনালের মোট সরবরাহ সক্ষমতা এক হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। দুটি চালু থাকলে দৈনিক গড়ে সাড়ে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি গ্রিডে যোগ হয়। বর্তমানে তা নেমে এসেছে সাড়ে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কিছু বেশি।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় চার হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সেখানে স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ থাকে প্রায় দুই হাজার ৮০০ থেকে তিন হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ নেমে আসে দুই হাজার ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে। ফলে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট।
এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির অপারেশন ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান বলেন, ‘মেরামতে থাকা এলএনজি টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ এরই মধ্যে চালু করা হয়েছে। তবে এর পূর্ণ প্রভাব পেতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা লাগতে পারে। আজ (সোমবার) রাত ১২টা পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। বর্তমানে ধাপে ধাপে গ্যাসের চাপ বাড়ানো হচ্ছে। কিন্তু চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত লাইন ‘প্যাক’ হয়ে গ্যাস এসে ঢাকায় পূর্ণ চাপ তৈরি করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়।’
বিষয় : দেশজুড়ে রক্ষণাবেক্ষণ গ্যাসসংকট

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশজুড়ে শিল্প খাতে গ্যাসসংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে শিল্প-কারখানা, আবাসিক, পরিবহনসহ প্রায় সব খাতে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল, গার্মেন্টস, সিরামিক, স্টিলসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্পে কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দুটি এলএনজি টার্মিনালের একটি রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে থাকায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এটিকেই চলমান সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তাঁরা।
শিল্পোদ্যোক্তাদের অভিযোগ, গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির কারণে তাঁরা কারখানাগুলোয় পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয় হুমকির মুখে পড়ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে রপ্তানিপণ্য সরবরাহ করতে না পারায় অনেক প্রতিষ্ঠান চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হচ্ছে।পরিস্থিতির কারণে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও অনেক শিল্পোদ্যোক্তা নতুন রপ্তানি কার্যাদেশ গ্রহণ বন্ধ বা কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
পেট্রোবাংলা ও তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের মহেশখালীতে স্থাপিত ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে একটি মেরামতে থাকায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
আরো পড়ুন , এলপি গ্যাসে স্থানীয় ভ্যাট প্রত্যাহার, আমদানি পর্যায়ে ৭.৫% ভ্যাট কার্যকর
দেশে দুটি এলএনজি টার্মিনালের মোট সরবরাহ সক্ষমতা এক হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। দুটি চালু থাকলে দৈনিক গড়ে সাড়ে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি গ্রিডে যোগ হয়। বর্তমানে তা নেমে এসেছে সাড়ে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কিছু বেশি।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় চার হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সেখানে স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ থাকে প্রায় দুই হাজার ৮০০ থেকে তিন হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ নেমে আসে দুই হাজার ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে। ফলে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট।
এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির অপারেশন ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান বলেন, ‘মেরামতে থাকা এলএনজি টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ এরই মধ্যে চালু করা হয়েছে। তবে এর পূর্ণ প্রভাব পেতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা লাগতে পারে। আজ (সোমবার) রাত ১২টা পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। বর্তমানে ধাপে ধাপে গ্যাসের চাপ বাড়ানো হচ্ছে। কিন্তু চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত লাইন ‘প্যাক’ হয়ে গ্যাস এসে ঢাকায় পূর্ণ চাপ তৈরি করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়।’

আপনার মতামত লিখুন