দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নাজিরপুরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

নাজিরপুরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
নাজিরপুরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় কর্মরত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসরাতুন্নেছা এশার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি বিধি লঙ্ঘন ও কৃষি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। তিনি ২০২৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নাজিরপুরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। অর্থৎ একজন স্বৈরাসাশক প্রভাব খাটানোর এখনো জনমনে প্রশ্ন।

স্থানীয় কৃষক, কৃষি অফিস সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং জেলা পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের কথা শোনা গেলেও প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে বিষয়গুলো দীর্ঘদিন আলোচনার বাইরে থেকে গেছে। নাজিরপুর উপজেলায় কর্মরত হলেও তিনি পিরোজপুর জেলা শহরে বসবাস করছেন এবং নিয়মিত সরকারি গাড়ি ও সরকারি তেল ব্যবহার করে জেলা শহর থেকে নাজিরপুরে যাতায়াত করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সরকারি যানবাহন ব্যবহারের নীতিমালা লঙ্ঘন করে বরাদ্দকৃত গাড়িটি কার্যত ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক ও সেবাপ্রার্থীরা জানান, নাজিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে প্রায়ই তাকে পাওয়া যায় না। অফিসে খোঁজ নিলে কখনো প্রশিক্ষণ, কখনো মাঠ পরিদর্শনের কথা বলা হলেও এসব তথ্যের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তবে কৃষি কার্যালয়ে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই সময় তিনি অফিসে উপস্থিত ছিলেন না।  অন্যদিকে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তার ছুটি অনুমোদনকারী পিরোজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গত ২৫ জানুয়ারি রবিবার নাজিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কোনো অফিসিয়াল ছুটি অনুমোদনের তথ্য আমাদের কাছে নেই। আমি তার কোনো ছুটি মঞ্জুর করিনি।

সম্প্রত্তি, নাজিরপুর উপজেলায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন কৃষি প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে বিতরণ করা হয়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, নামে-বেনামে বরাদ্দ দেখানো এবং ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারি অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ অপব্যবহার করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তার স্বামী জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থায় (এনএসআই) কর্মরত থাকায় তিনি প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে তার প্রভাব খাটান এমনটাই পুরোনো অভিযোগ। অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসরাতুন্নেছা এশার বিস্তারিত বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, বর্তমানে নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত রয়েছেন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে কথা বলবেন।

আরও পড়ুন, 'সবুজ সুরের সন্ধানে' সিজন-১ এর গ্র্যান্ড ফিনালেতে জায়গা করে নিলেন মিজানুর রহমান

সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় নাজিরপুরসহ পিরোজপুর জেলার সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা দাবি জানিয়েছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইসরাতুন্নেছা এশার যোগদানের পর থেকে নাজিরপুর উপজেলায় কৃষি খাতে বরাদ্দকৃত সব প্রকল্পের অর্থ, ব্যয় ও বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। এবিষয়ে ইসরাতুন্নেছা এশার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এসব মিথ্যা ও ভিক্তিহী। তবে  ইসরাতুন্নেছা এশার স্বামী গণমাধ্যমকর্মীকে প্রকাশ্যে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে বলেন, এসব বিষয় বেশি বারাবারি করলে, আপনাদেও বিরুদ্ধে মামলা করে জেলের ভাত খাইয়ে ছাড়ব। এতে করে সাংবাদিকতার স্বধীনমত প্রকাশ করতে রাষ্ট্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে একজন দুর্ণীতিবাজ কর্মকর্তা। 

বিষয় : অভিযোগ অভিযোগ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


নাজিরপুরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় কর্মরত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসরাতুন্নেছা এশার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি বিধি লঙ্ঘন ও কৃষি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। তিনি ২০২৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নাজিরপুরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। অর্থৎ একজন স্বৈরাসাশক প্রভাব খাটানোর এখনো জনমনে প্রশ্ন।

স্থানীয় কৃষক, কৃষি অফিস সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং জেলা পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের কথা শোনা গেলেও প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে বিষয়গুলো দীর্ঘদিন আলোচনার বাইরে থেকে গেছে। নাজিরপুর উপজেলায় কর্মরত হলেও তিনি পিরোজপুর জেলা শহরে বসবাস করছেন এবং নিয়মিত সরকারি গাড়ি ও সরকারি তেল ব্যবহার করে জেলা শহর থেকে নাজিরপুরে যাতায়াত করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সরকারি যানবাহন ব্যবহারের নীতিমালা লঙ্ঘন করে বরাদ্দকৃত গাড়িটি কার্যত ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক ও সেবাপ্রার্থীরা জানান, নাজিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে প্রায়ই তাকে পাওয়া যায় না। অফিসে খোঁজ নিলে কখনো প্রশিক্ষণ, কখনো মাঠ পরিদর্শনের কথা বলা হলেও এসব তথ্যের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তবে কৃষি কার্যালয়ে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই সময় তিনি অফিসে উপস্থিত ছিলেন না।  অন্যদিকে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তার ছুটি অনুমোদনকারী পিরোজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গত ২৫ জানুয়ারি রবিবার নাজিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কোনো অফিসিয়াল ছুটি অনুমোদনের তথ্য আমাদের কাছে নেই। আমি তার কোনো ছুটি মঞ্জুর করিনি।

সম্প্রত্তি, নাজিরপুর উপজেলায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন কৃষি প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে বিতরণ করা হয়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, নামে-বেনামে বরাদ্দ দেখানো এবং ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারি অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ অপব্যবহার করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তার স্বামী জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থায় (এনএসআই) কর্মরত থাকায় তিনি প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে তার প্রভাব খাটান এমনটাই পুরোনো অভিযোগ। অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসরাতুন্নেছা এশার বিস্তারিত বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, বর্তমানে নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত রয়েছেন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে কথা বলবেন।

আরও পড়ুন, 'সবুজ সুরের সন্ধানে' সিজন-১ এর গ্র্যান্ড ফিনালেতে জায়গা করে নিলেন মিজানুর রহমান

সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় নাজিরপুরসহ পিরোজপুর জেলার সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা দাবি জানিয়েছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইসরাতুন্নেছা এশার যোগদানের পর থেকে নাজিরপুর উপজেলায় কৃষি খাতে বরাদ্দকৃত সব প্রকল্পের অর্থ, ব্যয় ও বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। এবিষয়ে ইসরাতুন্নেছা এশার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এসব মিথ্যা ও ভিক্তিহী। তবে  ইসরাতুন্নেছা এশার স্বামী গণমাধ্যমকর্মীকে প্রকাশ্যে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে বলেন, এসব বিষয় বেশি বারাবারি করলে, আপনাদেও বিরুদ্ধে মামলা করে জেলের ভাত খাইয়ে ছাড়ব। এতে করে সাংবাদিকতার স্বধীনমত প্রকাশ করতে রাষ্ট্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে একজন দুর্ণীতিবাজ কর্মকর্তা। 


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত