দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানোর পথে তারেক রহমান

ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানোর পথে তারেক রহমান
দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের নির্বাসিত জীবন শেষে বাংলাদেশে ফিরে আসা তারেক রহমান

দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের নির্বাসিত জীবন শেষে বাংলাদেশে ফিরে আসা তারেক রহমান এখন দেশের শাসনভার গ্রহণের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, দেশে ফিরে আসার দুই মাস না যেতেই বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন তারেক রহমান। তার বাবা-মা একসময় যেমন দেশ পরিচালনা করেছিলেন, তেমনি তিনিও দেশের নেতৃত্ব দিতে পারেন। জনমত জরিপের পূর্বাভাস সত্যি হলে, বৃহস্পতিবারের নির্বাচন ৬০ বছর বয়সী এই শান্ত স্বভাব নেতার জন্য হবে এক বিস্ময়কর প্রত্যাবর্তন। গত বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন তার দল বিএনপির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

সেই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে তারেক রহমান পান বীরোচিত সংবর্ধনা।হাসিনা বর্তমানে নয়াদিল্লিতে নির্বাসনে। শেখ হাসিনা ও তারেক রহমানের মা বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। তার বাবা জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম নেতা; যিনি ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করেন।তারেক রহমান বলেছেন, তিনি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব এমনভাবে পুনর্গঠন করতে চান, যাতে বিনিয়োগ বাড়ে, 

কিন্তু কোনো একক শক্তির ওপর দেশ অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল না হয়। এটি শেখ হাসিনার নীতির বিপরীত, পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খেলনা ও চামড়াজাত পণ্যের মতো শিল্পে জোর দেওয়ার কথা বলেছেন এবং স্বৈরাচারী প্রবণতা ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দুই মেয়াদে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সীমা প্রস্তাব করেছেন।


আরো পড়ুন , সুষ্ঠু ভোট গণতন্ত্রের উন্নয়নে সুযোগ তৈরি করবে : মির্জা ফখরুল


কার্ডিওলজিস্ট স্ত্রী ও ব্যারিস্টার কন্যাকে নিয়ে ঢাকায় ফেরার পর থেকে ঘটনাপ্রবাহ এত দ্রুত ঘটেছে যে, নিজের সময় কিভাবে কেটেছে তা ভাবারও সুযোগ পাননি বলে জানান তিনি।বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে কন্যা জাইমা রহমানকে পাশে নিয়ে তারেক রহমান রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের বলেন, আমরা দেশে আসার পর প্রতিটি মিনিট কিভাবে কেটেছে, আমি নিজেও জানি না।

দেশে ফেরার পর তারেক রহমান নিজেকে একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন; যিনি শেখ হাসিনার শাসনামলে নিজের পরিবারের ওপর হওয়া নিপীড়নের ঊর্ধ্বে উঠে সামনে তাকাতে চান। ‘প্রতিশোধে কী আসে? প্রতিশোধের কারণে মানুষকে দেশ ছাড়তে হয়। এতে কোনো ভালো কিছু হয় না। এই মুহূর্তে আমাদের দেশের জন্য প্রয়োজন শান্তি ও স্থিতিশীলতা।’শেখ হাসিনার শাসনামলে তারেক রহমান একাধিক মামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হন এবং অনুপস্থিতিতেই কয়েকটি মামলায় দণ্ডিত হন। তিনি সব অভিযোগ বরাবরই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সব মামলায় তিনি খালাস পান।

লন্ডনে বসে তিনি দেখেছেন, কিভাবে একের পর এক নির্বাচনে তার দল কোণঠাসা হয়েছে, শীর্ষ নেতারা কারাগারে গেছেন, কর্মীরা নিখোঁজ হয়েছেন, দলীয় কার্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে।দেশে ফিরে তিনি সংযত ও পরিমিত ভাষায় কথা বলছেন, উসকানিমূলক বক্তব্য এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং সংযম ও সমঝোতার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি ‘রাষ্ট্রের ওপর জনগণের মালিকানা’ ফিরিয়ে আনা এবং প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কথা বলছেন—যা নতুন সূচনার আশায় থাকা বিএনপি সমর্থকদের উজ্জীবিত করেছে। 

বিষয় : ক্ষমতাচ্যুত নির্বাসিত শাসনভার

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানোর পথে তারেক রহমান

প্রকাশের তারিখ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের নির্বাসিত জীবন শেষে বাংলাদেশে ফিরে আসা তারেক রহমান এখন দেশের শাসনভার গ্রহণের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, দেশে ফিরে আসার দুই মাস না যেতেই বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন তারেক রহমান। তার বাবা-মা একসময় যেমন দেশ পরিচালনা করেছিলেন, তেমনি তিনিও দেশের নেতৃত্ব দিতে পারেন। জনমত জরিপের পূর্বাভাস সত্যি হলে, বৃহস্পতিবারের নির্বাচন ৬০ বছর বয়সী এই শান্ত স্বভাব নেতার জন্য হবে এক বিস্ময়কর প্রত্যাবর্তন। গত বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন তার দল বিএনপির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

সেই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে তারেক রহমান পান বীরোচিত সংবর্ধনা।হাসিনা বর্তমানে নয়াদিল্লিতে নির্বাসনে। শেখ হাসিনা ও তারেক রহমানের মা বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। তার বাবা জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম নেতা; যিনি ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করেন।তারেক রহমান বলেছেন, তিনি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব এমনভাবে পুনর্গঠন করতে চান, যাতে বিনিয়োগ বাড়ে, 

কিন্তু কোনো একক শক্তির ওপর দেশ অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল না হয়। এটি শেখ হাসিনার নীতির বিপরীত, পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খেলনা ও চামড়াজাত পণ্যের মতো শিল্পে জোর দেওয়ার কথা বলেছেন এবং স্বৈরাচারী প্রবণতা ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দুই মেয়াদে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সীমা প্রস্তাব করেছেন।


আরো পড়ুন , সুষ্ঠু ভোট গণতন্ত্রের উন্নয়নে সুযোগ তৈরি করবে : মির্জা ফখরুল


কার্ডিওলজিস্ট স্ত্রী ও ব্যারিস্টার কন্যাকে নিয়ে ঢাকায় ফেরার পর থেকে ঘটনাপ্রবাহ এত দ্রুত ঘটেছে যে, নিজের সময় কিভাবে কেটেছে তা ভাবারও সুযোগ পাননি বলে জানান তিনি।বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে কন্যা জাইমা রহমানকে পাশে নিয়ে তারেক রহমান রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের বলেন, আমরা দেশে আসার পর প্রতিটি মিনিট কিভাবে কেটেছে, আমি নিজেও জানি না।

দেশে ফেরার পর তারেক রহমান নিজেকে একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন; যিনি শেখ হাসিনার শাসনামলে নিজের পরিবারের ওপর হওয়া নিপীড়নের ঊর্ধ্বে উঠে সামনে তাকাতে চান। ‘প্রতিশোধে কী আসে? প্রতিশোধের কারণে মানুষকে দেশ ছাড়তে হয়। এতে কোনো ভালো কিছু হয় না। এই মুহূর্তে আমাদের দেশের জন্য প্রয়োজন শান্তি ও স্থিতিশীলতা।’শেখ হাসিনার শাসনামলে তারেক রহমান একাধিক মামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হন এবং অনুপস্থিতিতেই কয়েকটি মামলায় দণ্ডিত হন। তিনি সব অভিযোগ বরাবরই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সব মামলায় তিনি খালাস পান।

লন্ডনে বসে তিনি দেখেছেন, কিভাবে একের পর এক নির্বাচনে তার দল কোণঠাসা হয়েছে, শীর্ষ নেতারা কারাগারে গেছেন, কর্মীরা নিখোঁজ হয়েছেন, দলীয় কার্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে।দেশে ফিরে তিনি সংযত ও পরিমিত ভাষায় কথা বলছেন, উসকানিমূলক বক্তব্য এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং সংযম ও সমঝোতার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি ‘রাষ্ট্রের ওপর জনগণের মালিকানা’ ফিরিয়ে আনা এবং প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কথা বলছেন—যা নতুন সূচনার আশায় থাকা বিএনপি সমর্থকদের উজ্জীবিত করেছে। 


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত